ভিকারুননিসার বিজ্ঞানে সবাই জিপিএ ফাইভ

player
ভিকারুননিসার বিজ্ঞানে সবাই জিপিএ ফাইভ

এসএসসির ফল পাওয়া ভিকারুননিসা শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

অধ্যক্ষ জানান, ভিকারুননিসার ব্যবসা বিভাগে পাস করেছে ১৪৫ জন; মানবিকে ৫০ জন। বাকি ১ হাজার ৪৩৮ ছাত্রী বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে এবার এসএসসিতে পাস করেছে ১ হাজার ৯৬৩ জন ছাত্রী। তাদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের ১ হাজার ৪৩৮ জনের সবাই জিপিএ ফাইভ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটিতে এবার এসএসসিতে পাসের হার ৯৯.৭৫ শতাংশ।

ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ কামরুন নাহার বৃহস্পতিবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের ফল জানান।

তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১ হাজার ৬৩৩ জন জিপিএ ফাইভ পেয়েছে। শিক্ষার্থী অনুপাতে জিপিএ ফাইভের হার ৮৩.১৯ শতাংশ।

এবার ভিকারুননিসার ৫ জন শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করলেও পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। এদের মধ্যে দুজন পড়ালেখা করতে বিদেশে গেছে।

অধ্যক্ষ জানান, প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা বিভাগে পাস করেছে ১৪৫ জন; মানবিকে ৫০ জন। বাকি ১ হাজার ৪৩৮ ছাত্রী বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। পরীক্ষায় অংশ নেয়া কোনো শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়নি এবার।

কামরুন নাহার বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীরা অনেক ভালো, অনলাইন ক্লাসও কখনো বন্ধ হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘করোনায় অনেক শিক্ষার্থী আগের মতো পড়াশোনা করতে পারেনি। আমার মনে হয়েছে এবার পরীক্ষা দিতে গিয়ে অনেকের হাত কেঁপেছে। দীর্ঘদিন করোনার কারণে পরীক্ষা না থাকায় শিক্ষার্থীরা কিছুটা অনভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিল, যার কিছুটা প্রভাবও পরীক্ষায় পড়েছে। তা ছাড়া আরও ভালো ফলাফল হতো।’

সকালে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুপুরের পর ঢাকঢোল বাজিয়ে উল্লাস করে ভিকারুননিসার ছাত্রীরা।

আরও পড়ুন:
সিলেটের চমকে অভাবনীয় সুনামগঞ্জ
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে
মাদ্রাসায় পাস ৯৩.২২%, জিপিএ ৫ বেড়ে দ্বিগুণ
মানসিক অবস্থা বুঝে পাঠ দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
এসএসসি-সমমানের ফল পুনর্নিরীক্ষা শুরু শুক্রবার

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সরিয়ে দেয়া হচ্ছে শাবি উপাচার্যকে?

সরিয়ে দেয়া হচ্ছে শাবি উপাচার্যকে?

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় দফায় নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। ফাইল ছবি

ইউজিসির এক সদস্য নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে সরিয়ে দেয়ার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আভাস পাওয়া গেছে। তাকে অপসারণ করা হবে নাকি পদত্যাগ করতে বলা হবে, সে বিষয়টি মহামান্য রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার।’

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে সরিয়ে দিতে সরকারের তৎপরতা শুরু হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সূত্রে এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে নিউজবাংলা।

তবে মন্ত্রণালয় থেকে সম্ভাব্য নতুন উপাচার্যের কোনো তালিকা ইউজিসিতে পাঠানো হয়নি। মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা আভাস দিয়েছেন, সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে উপাচার্যকে পদত্যাগ করতে বলা হতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙাতে গিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সাবেক অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালের কথাতেও তেমন ইঙ্গিত ছিল।

বিষয়টি নিশ্চিত হতে নীতি নির্ধারক পর্যায়ে যোগাযোগ করে নিউজবাংলা। ইউজিসির একজন সদস্য নিজের নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে সরিয়ে দেয়ার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আভাস পাওয়া গেছে। তাকে অপসারণ করা হবে নাকি পদত্যাগ করতে বলা হবে, সে বিষয়টি মহামান্য রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার।’

এ ক্ষেত্রে ইউজিসির বিশেষ কোনো ভূমিকা রাখার সুযোগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি। বলেন, ‘শাবিপ্রবিতে নতুন উপাচার্য নিয়োগে সরকার সিদ্ধান্ত নিলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তিন জনের একটি তালিকা মঞ্জুরি কমিশনে আসার কথা। তবে এমন কোনো তালিকা আমরা এখনও পাইনি। উপাচার্য নিয়োগের যে তালিকা পাঠানো হয় সেখানে ইউজিসি শুধু মতামত প্রদান করে। এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো প্রস্তাব আসেনি।’

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, ‘উপাচার্যকে সরানো হবে কিনা, সেটি মহামান্য রাষ্ট্রপতির বিষয়। আমি সেটি নিয়ে কথা বলতে চাই না।’

সরিয়ে দেয়া হচ্ছে শাবি উপাচার্যকে?
উপাচার্যের পদত্যাগ চেয়ে অনশনে শাবি শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

শাবিপ্রবির উপাচার্যকে সরিয়ে দিতে পূর্বসূরীদের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে।

মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে তাকে পদত্যাগ করতে বলা হতে পারে। তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিলে তা গ্রহণ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি।’

উপাচার্যের বিদায়কে সম্মানজনক করতেই এ পথ বেছে নেয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কবে নাগাদ তা বাস্তবায়ন করা হবে, তার কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, যে কোনো সময় আসতে পারে এমন ঘোষণা।

একজন উপাচার্যকে কোন প্রক্রিয়ায় অপসারণ করা যায়, তা জানতে চাওয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সচিব ড. ফেরদৌস জামানের কাছে।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘এটা নিয়োগপত্রেই বলা থাকে: আচার্য্য যে কোনো সময় চাইলে তাকে অপসারণ করতে পারেন। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, উপাচার্যদের বিদায়কে সম্মানজনক করা কিংবা একজন উপাচার্যকে অসম্মান করতে না চাইলে, তখন পদত্যাগ করতে বলা হয়। তিনি পদত্যাগপত্র পাঠালে সেটি আচার্য্য গ্রহণ করেন।’

তিনি বলেন, ‘তবে আচার্য্য চাইলে যে কোনো সময় যে কোনো উপাচার্যকে রিমুভ করতে পারেন।’

সরিয়ে দেয়া হচ্ছে শাবি উপাচার্যকে?
উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনকারীদের পাশে অধ্যাপক জাফর ইকবাল ও তার স্ত্রী অধ্যাপক ইয়াসমিন হক। ছবি: নিউজবাংলা

কে হচ্ছেন নতুন উপাচার্য

শাবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে সরিয়ে নেয়া হতে পারে এমন আলোচনা বৃহস্পতিবার থেকে চাউর হয়েছে ক্যাম্পাসে। পরবর্তী উপাচার্য কে হতে পারেন, তা নিয়ে চলছে আলোচনা। যদিও এ বিষয়ে শিক্ষকদের কেউই প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাননি।

অনশন ভাঙানোর সময় মুহাম্মদ জাফর ইকবালও আশ্বাস দেন, শিক্ষার্থীদের দাবি সরকার মেনে নেবে। সরকারের উচ্চ মহল থেকে তাকে এই আশ্বাস দেয়া হয়েছে বলে জানান জাফর ইকবাল।

এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর থেকেই কাউকে উপাচার্যের দায়িত্ব দেয়া হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। পরবর্তী উপাচার্য হিসেবে দুজনের নাম আলোচিতও হচ্ছে। তারা হলেন: বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ও গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম এবং শাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ড. তুলসী কুমার দাস।

এ দুজনের মধ্য থেকে একজনকে পরবর্তী উপাচার্যের দায়িত্ব দেয়া হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে নিয়োগ দেয়ার আগেও উপাচার্য হিসেবে এ দুজনের নাম আলোচিত হয়েছিল।

তবে এমন কিছু জানেন না জানিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে অধ্যাপক তুলসী কুমার দাস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ রকম কিছু আমি শুনিনি। বর্তমান উপাচার্যকে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে কী না তাও আমার জানা নেই।’

সরিয়ে দেয়া হচ্ছে শাবি উপাচার্যকে?
শাবির ফটকে উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের অবরোধ। ছবি: নিউজবাংলা

উপাচার্যের দায়িত্ব দিলে গ্রহণ করবেন কী না এমন প্রশ্নের জবাবে তুলসী দাস বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ সরকারের বিষয়। এ বিষয়ে আমার কিছুই বলার নেই।’

নতুন উপাচার্য নিয়োগের বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলামও। তিনি বলেন, ‘একজন উপাচার্য দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি চলে যাবেন বলে কিছু আমি শুনিনি। নতুন উপাচার্যের ব্যাপারে কোনো আলোচনাও আমি শুনিনি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে সরিয়ে নেয়া হতে পারে বা তিনি পদত্যাগ করতে পারেন এমন আলোচনা রয়েছে। তাকে সম্মানজনকভাবে সরানোর পথ হয়তো খোঁজা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষককেই উপাচার্যের দায়িত্ব দেয়াটা ভালো। বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে সবকিছু জানা থাকলে তার পক্ষে পরিচালনা করাটা সহজ।’

ওই শিক্ষক বলেন, ‘উপাচার্য হিসেবে যে দুজন শিক্ষকের নাম শোনা যাচ্ছে, তারা শিক্ষকদের আওয়ামীপন্থি একটি প্যানেলের নেতা। যদিও আনোয়ারুল হক ট্রেজারারের দায়িত্ব নেয়ার পর আর সরাসরি কোনো বলয়ের সাথে যুক্ত নন। তবে আগে এই প্যানেলে সক্রিয় ছিলেন। একটি বলয়ের নেতা হওয়ায় তাদের পক্ষে সার্বজনীন হয়ে ওঠা কতোটা সম্ভব হবে এবং অন্য প্যানেলের শিক্ষকরাইবা কতোটা মেনে নেবেন এ নিয়ে সন্দেহ আছে।’

কে নতুন উপাচার্য হতে পারেন, এটি এখনকার আলোচ্য বিষয় নয় বলে উল্লেখ করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অন্যতম মুখপাত্র মোহাইমিনুল বাশার রাজ বলেন, ‘আমরা চাই উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ। তাকে আর একদিনও আমরা ক্যাম্পাসে দেখতে চাই না। এই দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।’

সরিয়ে দেয়া হচ্ছে শাবি উপাচার্যকে?

২০১৭ সালের আগস্টে প্রথম দফায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদ। এর আগে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। ২০২১ সালের ৩০ জুন উপাচার্য পদে তাকে তিন বছরের জন্য পুনর্নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি।

৫০ বছরে মাত্র একবারই উপাচার্য অপসারণ

উপাচার্য নিয়োগ বা অপসারণের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত হলেও অপসারণের নজির খুব একটা নেই। দেশের ৫০ বছরে ইতিহাসে একজন উপাচার্যকে অপসারণ করা হয়েছিল।

সেটাও তিন দশক আগের কথা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীনকে ১৯৯২ সালে তৎকালিন বিএনপি সরকারের আমলে ছাত্র শিবিরের আন্দোলনের মুখে অপসারণ করেন রাষ্ট্রপতি।

তবে পদত্যাগের উদাহরণের সংখ্যাটাও নেহাত কম নয়। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ শাসনের গত ১৩ বছরে পাঁচ জন উপাচার্য পদত্যাগ করেছেন। তাদের সবাই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেছেন।

২০০৮-এ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার গঠনের পরপরই উপাচার্য বিরোধী আন্দোলনে মুখর হয়ে ওঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তখন ছাত্র আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ওই সময়ের উপাচার্য এস এম এ ফায়েজ।

২০১২ সালে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে খুন হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মী জুবায়ের আহমেদ। সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য শরীফ এনামুল কবিরের বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলেন শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে এ আন্দোলনে যুক্ত হন শিক্ষক-কর্মচারীরাও। সম্মিলিত আন্দোলনের মুখে এক পর্যায়ে শরীফ এনামুল কবির পদত্যাগ করে উপাচার্য প্যানেল নির্বাচন ডাকেন।

উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনে সর্বোচ্চ সংখ্যক ভোট পেলেও তাকে আর নিয়োগ দেননি রাষ্ট্রপতি। সে সময় নিয়োগ পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন।

সরিয়ে দেয়া হচ্ছে শাবি উপাচার্যকে?
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার। ছবি: ফেসবুক

বছর না গড়াতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় আবারও উত্তাল হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। সে সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রায় সবপন্থি শিক্ষক মিলে গড়ে তোলেন আন্দোলনে। এক পর্যায়ে ২০১৪ সালের ৩০ নভেম্বর পদত্যাগ করেন অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন।

২০১৯ সালে শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকার’ বলে গালি দেয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাপক আন্দোলনের মুখে পড়েন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য এস এম ইমামুল হক। ব্যাপক আন্দোলনের মুখে ওই বছরের ১১ এপ্রিল ছুটিতে যান তিনি। ২৭ মে চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি ছুটিতেই ছিলেন।

২০১৯ সালেই আইন বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করার ঘটনায় উপাচার্য খোন্দকার নাসির উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের মুখে ওই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন তিনি।

শাবিতে আন্দোলনের শুরু যেভাবে

শাবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের শুরু ১৩ জানুয়ারি। রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদ লিজার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন হলের কয়েক শ ছাত্রী।

১৬ জানুয়ারি বিকেলে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি ভবনে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করেন। তখন শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করে উপাচার্যকে মুক্ত করে পুলিশ। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। পুলিশ সে সময় সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট ছোড়ে। শিক্ষার্থীরাও ইট-পাটকেল ছোড়ে। এ ঘটনায় পুলিশ, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ অর্ধশত আহত হন।

সরিয়ে দেয়া হচ্ছে শাবি উপাচার্যকে?

সে রাতেই বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীরা তা উপেক্ষা করে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন নামেন।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, উপাচার্যই পুলিশ ডেকে তাদের ওপর হামলার নির্দেশ দেন। এ কারণে তারা উপাচার্যের পদত্যাগ চান। বাসভবনের সামনে অবস্থানের কারণে গত ১৭ জানুয়ারি থেকেই অবরুদ্ধ ছিলেন উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদ।

১৯ জানুয়ারি বেলা ৩টা থেকে উপাচার্যের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরণ অনশনে বসেন ২৪ শিক্ষার্থী।

দাবি আদায়ে সাবেক অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালের আশ্বাসে ২৬ জানুয়ারি অনশন ভাঙ্গেন শিক্ষার্থীরা।

আরও পড়ুন:
সিলেটের চমকে অভাবনীয় সুনামগঞ্জ
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে
মাদ্রাসায় পাস ৯৩.২২%, জিপিএ ৫ বেড়ে দ্বিগুণ
মানসিক অবস্থা বুঝে পাঠ দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
এসএসসি-সমমানের ফল পুনর্নিরীক্ষা শুরু শুক্রবার

শেয়ার করুন

৪৪তম বিসিএসের আবেদন ২ মার্চ পর্যন্ত

৪৪তম বিসিএসের আবেদন ২ মার্চ পর্যন্ত

ফাইল ছবি

গত বছরের ৩০ নভেম্বর ৪৪তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। তখন আবেদনের শেষ সময় নির্ধারণ করা ছিল ৩১ জানুয়ারি।

৪৪তম বিসিএসের আবেদনের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। ৩১ জানুয়ারির পরিবর্তে এতে আবেদন করা যাবে আগামী ২ মার্চ পর্যন্ত।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) এ তথ্য জানিয়েছে।

গত বছরের ৩০ নভেম্বর ৪৪তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। তখন আবেদনের শেষ সময় নির্ধারণ করা ছিল ৩১ জানুয়ারি।

নতুন করে আবেদনের সময় জানানোর পাশাপাশি এই বিসিএসের প্রিলিমিনারির জন্য ২৭ মে দিন ধার্য করেছে পিএসসি।

৪৪তম বিসিএসে সবচেয়ে বেশি নিয়োগ হবে শিক্ষা ক্যাডারে। এ ক্যাডারে ৭৭৬ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা রয়েছে।

এ ছাড়া প্রশাসন ক্যাডারে ২৫০, পুলিশে ৫০, পররাষ্ট্রে ১০, আনসারে ১৪, অর্থ মন্ত্রণালয়ে সহকারী মহাহিসাবরক্ষক (নিরীক্ষা ও হিসাব) পদে ৩০, সহকারী কর কমিশনার পদে ১১, সহকারী নিবন্ধক (সমবায়) পদে ৮ ও সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট/ট্রাফিক (রেলওয়ে) নিবন্ধক পদে ৭ জনকে নিয়োগ দেয়া হবে।

একই সঙ্গে তথ্য মন্ত্রণালয়ে সহকারী পরিচালক বা তথ্য কর্মকর্তা বা গবেষণা কর্মকর্তা পদে ১, সহকারী পরিচালক (অনুষ্ঠান) পদে ৭, সহকারী বার্তা নিয়ন্ত্রক পদে ২, সহকারী পোস্টমাস্টার পদে ২৩, সহকারী নিয়ন্ত্রক (বাণিজ্য) পদে ৬, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (পরিবার পরিকল্পনা) ২৭ জন এবং ৩ জন সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক নেয়া হবে।

প্রফেশনাল ক্যাডারে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী পদে ১, সহকারী যন্ত্র প্রকৌশলী পদে ৮, সহকারী সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী পদে ৬, সহকারী সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক পদে ১, সহকারী বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী পদে ২ (তথ্য) ও সহকারী বন সংরক্ষক পদে ৫ জনকে নিয়োগ দেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
সিলেটের চমকে অভাবনীয় সুনামগঞ্জ
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে
মাদ্রাসায় পাস ৯৩.২২%, জিপিএ ৫ বেড়ে দ্বিগুণ
মানসিক অবস্থা বুঝে পাঠ দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
এসএসসি-সমমানের ফল পুনর্নিরীক্ষা শুরু শুক্রবার

শেয়ার করুন

বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গায় আমার পরিবারের জমি নেই: দীপু মনি

বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গায় আমার পরিবারের জমি নেই: দীপু মনি

নিজ বাসায় বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। ছবি: নিউজবাংলা

মন্ত্রী বলেন, ‘চাঁদপুরে আমার ক্রয়সূত্রে কোনো জমি নেই। পৈতৃক সূত্রে থাকতে পারে। আমার কাছে যা তথ্য-প্রমাণ আছে, তা থেকে বলতে পারি আমার বড় ভাই অধিগ্রহণের আগেই বিক্রি করে দেন।’

চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত জায়গায় নিজ পরিবারের কারও জমি নেই বলে দাবি করেছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানী হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে তার পরিবার ও স্বজনদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে এ দাবি করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘চাঁদপুরে আমার ক্রয়সূত্রে কোনো জমি নেই। পৈতৃক সূত্রে থাকতে পারে। আমার কাছে যা তথ্য-প্রমাণ আছে, তা থেকে বলতে পারি আমার বড় ভাই অধিগ্রহণের আগেই বিক্রি করে দেন।

‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই জায়গায় আমার বা পরিবারের কারও জমি নেই। রাজনৈতিক কোনো সহকর্মীর জমি থাকতে পারে।’

অভিযোগ উঠেছে, জেলা শহর থেকে চার কিলোমিটার দক্ষিণে লক্ষ্মীপুর গ্রামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য যে জমি অধিগ্রহণ হয়েছে সেখানে মৌজা দরের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি দাম দেখিয়ে জমি দলিল করেছেন কয়েকজন। এ কারসাজিতে জড়িতদের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর নিকটাত্মীয়ও রয়েছেন।

গণমাধ্যমে এ নিয়ে প্রকাশিত তথ্যকে উদ্দেশ্যমূলক বলেও মন্তব্য করেন দীপু মনি।

তিনি বলেন, ‘আমার পরিবারের কেউ কোনো ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নয়। তবে অন্য কেউ দুর্নীতি করেছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা উচিত এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া উচিত।’

দলীয় এক সংসদ সদস্যের প্রতি ইঙ্গিত করে দীপু মনি বলেন, ‘তার প্রতি গণমাধ্যমে আমি কোনো কথা বলতে চাই না। যা বলার দলীয় ফোরামে বলবো।

‘শিক্ষা মন্ত্রণালয় তদন্ত করলে প্রশ্ন দেখা দেবে। তাই অন্য কেউ তদন্ত করলে ভালো হয়। আমিও চাই তদন্ত হোক।’

তিনি বলেন, ‘চাঁদপুর শহর, ভাঙনের কারণে অনেক ছোট ও অনেক ঘনবসতিপূর্ণ। আমরা জানি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কোনো সমস্যা হলে হাইওয়ে বন্ধ হয়ে যায়। সেই বিবেচনায় আমরা জমিটি পছন্দ করি।

‘এ ছাড়াও আমরা যখন জমি পছন্দ করি তখন এর সঙ্গে প্রশাসনের লোকজনও জড়িত ছিলেন। এই জমির সঙ্গে টেকসই বাঁধ রয়েছে। জায়গাটি নিয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ও ছাড়পত্র দিয়েছিল।’

চাঁদপুর মেডিক্যাল কলেজের বিষয়েও একই সমস্যার কথা অনেকে জানিয়েছেন বলে জানান দীপু মনি। তিনি বলেন, ‘আসলে যখনই কোনো বড় প্রকল্প শুরু হচ্ছে তখনই এমন বাধা আসছে।’

আরও পড়ুন:
সিলেটের চমকে অভাবনীয় সুনামগঞ্জ
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে
মাদ্রাসায় পাস ৯৩.২২%, জিপিএ ৫ বেড়ে দ্বিগুণ
মানসিক অবস্থা বুঝে পাঠ দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
এসএসসি-সমমানের ফল পুনর্নিরীক্ষা শুরু শুক্রবার

শেয়ার করুন

উত্তাল শাবি আজ সুনসান

উত্তাল শাবি আজ সুনসান

শাবির সুনসান ক্যাম্পাস। ছবি: নিউজবাংলা

শায়লা ইয়াসমিন নামে এক ছাত্রী বলেন, ‘এতদিন তো মিছিল-স্লোগানে ছিলাম। উত্তেজনা শঙ্কা ছিল। কিন্তু আজ অনেকটা রিল্যাক্স। আজ অনেক দিন পর ভালো করে ঘুমিয়েছি। বিকেলে হল থেকে বেরিয়ে এখানে আড্ডা দিতে এসেছি।’

ভলিবল মাঠে ফুটবল খেলছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। আয়েশী ভঙ্গিতে বল নিয়ে ছোটাছুটি করছেন তারা। কাছাকাছি এগোতেই মাঠের বাইরে থাকা এক শিক্ষার্থী বললেন, ‘এখানে আজ থেকে ফুটবল প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। প্রতিযোগিতার নাম- ফরিদবিরোধী ফুটবল টুর্নামেন্ট।’

স্রেফ কৌতুক করে এমন নাম দেয়া হয়তো। তবে এতেও প্রকাশ পেল উপাচার্যের বিরুদ্ধে ক্ষোভ।

ফরিদ মানে ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার পর্যন্ত আন্দোলনে উত্তাল ছিল ক্যাম্পাস। তবে বৃহস্পতিবার বিকেলে গিয়ে দেখা যায় অনেকটাই সুনসান ক্যাম্পাস।

গত ১৩ জানুয়ারি এক প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনে নামেন শাবি সিরাজুন্নেছা হলের ছাত্রীরা। ১৬ জানুয়ারি ছাত্রীদের আন্দোলন চলাকালে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করে উপাচার্যকে মুক্ত করে পুলিশ।

ওই দিনই বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা ও ১৭ জানুয়ারির মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেন উপাচার্য। রাত থেকেই উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। তাদের মিছিল-স্লোগান, গান-কবিতা চলে অবিরাম। বুধবার থেকে অনশন শুরু করেন তাদের কয়েকজন।

অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও অধ্যাপক ইয়াসমিন হক বুধবার সকালে আন্দোলনকারীদের অনশন ভাঙানোর পর ক্যাম্পাস ফিরতে শুরু করে আগের রূপে।

পরিবর্তনটা টের পাওয়া যায় ক্যাম্পাসে প্রবেশের শুরুতেই। ফটকের পাশের যাত্রীছাউনিতে এতদিন ছিল বিপুলসংখ্যক পুলিশ। সেখানে দেখা গেল দু-একজন ছাত্রকে আড্ডা দিতে।

উত্তাল শাবি আজ সুনসান

পুলিশের গাড়ির প্রবেশ ঠেকাতে আন্দোলন শুরুর দিনে ফটক বন্ধ করে দেন শিক্ষার্থীরা। বালুর বস্তা স্তূপ করে তৈরি করা হয় প্রতিবন্ধকতা। ফলে ক্যাম্পাসে ঢুকতে হয়েছে ফটেকের পাশের সরু পথ দিয়ে হেঁটে।

বৃহস্পতিবার ১১ দিন পর প্রথম খোলা পাওয়া গেল ফটক। গাড়ি, রিকশা, বাইক সবই চলছে নির্বিঘ্নে।

মূল ক্যাম্পাসে যাওয়ার আগেই হাতের ডান পাশে উপাচার্যের বাসভবন। সেখানে অনশনকারী শিক্ষার্থী নেই, নেই উপাচার্যের ভবনের সামনে তাদের বসানো ব্যারিকেড।

নিরাপত্তাকর্মীরা জানালেন, উপাচার্য বাসায় আছেন। সারা দিন ঘর থেকে বের হননি। তবে তিনি প্রশাসনিক কাজ করেছেন। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিতে সই করেছেন।

গোল চত্বরে দেখা গেল দু-একজন শিক্ষার্থী আড্ডা দিচ্ছেন। হাঁটাহাঁটি করছেন কয়েকজন।

আড্ডায় থাকা ছাত্রী শায়লা ইয়াসমিন বলেন, ‘এতদিন তো মিছিল-স্লোগানে ছিলাম। উত্তেজনা শঙ্কা ছিল। কিন্তু আজ অনেকটা রিল্যাক্স। আজ অনেক দিন পর ভালো করে ঘুমিয়েছি। বিকেলে হল থেকে বেরিয়ে এখানে আড্ডা দিতে এসেছি।’

অনশন করে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ২০ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ১৯ জনই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন।

উত্তাল শাবি আজ সুনসান

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী সাব্বির আহমদ বলেন, ‘কেবল রবিন নামে একজনের টিউমার অপারেশন হওয়ায় তিনি হাসপাতালে ভর্তি আছেন। বাকিরা হাসপাতাল থেকে আজ ছাড়া পেয়েছেন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনে গিয়ে দেখা যায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিস করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা সমিতির সাধারণ সম্পাদক তাজিম উদ্দিন বলেন, ‘আজ থেকে আমরা অফিস করেছি। গত কয়েক দিন ক্যাম্পাসে এলেও অফিসে প্রবেশ করতে পারিনি।’

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র মোহাইমিনুল বাশার রাজ বলেন, ‘উপাচার্যের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। আজ রাতে আমরা মুক্ত আলোচনা করব। প্রতিদিনই কিছু কর্মসূচি থাকবে।’

আরও পড়ুন:
সিলেটের চমকে অভাবনীয় সুনামগঞ্জ
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে
মাদ্রাসায় পাস ৯৩.২২%, জিপিএ ৫ বেড়ে দ্বিগুণ
মানসিক অবস্থা বুঝে পাঠ দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
এসএসসি-সমমানের ফল পুনর্নিরীক্ষা শুরু শুক্রবার

শেয়ার করুন

দুর্নীতিতে ডুবছে ন্যাশনাল বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়

দুর্নীতিতে ডুবছে ন্যাশনাল বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়

রাজধানীর মিরপুরে ন্যাশনাল বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশ পথ। ছবি: নিউজবাংলা

ন্যাশনাল বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ ও সম্মানীতে আছে অনিয়ম আর ছলচাতুরি। বিদ্যালয়ের জায়গায় তৈরি করা হয়েছে অসংখ্য দোকান। কাগজে-কলমে কম দেখিয়ে অবৈধভাবে কয়েক গুণ বেশি জমিতে দোকান বরাদ্দের মাধ্যমে চলছে ভাড়া-বাণিজ্য। আর এসব অনিয়ম-দুর্নীতির কেন্দ্রে বসে আছেন প্রধান শিক্ষক। বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির যোগসাজশেরও অভিযোগ রয়েছে।

অনিয়ম আর দুর্নীতি অনেকটাই নিয়মে পরিণত করেছে রাজধানীর মিরপুরের ন্যাশনাল বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ে। শিক্ষকদের নিয়ে ক্লাস-বাণিজ্য চলে খোলামেলা। শিক্ষক এমপিওভুক্তিতেও হয় অর্থের লেনদেন। আর এসব অনিয়ম ঘেঁটে যে কেন্দ্রীয় চরিত্র পাওয়া যায়, তিনি প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক আহমাদ হোসাইন। তার সঙ্গে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির যোগসাজশেরও অভিযোগ রয়েছে।

ঐতিহ্যবাহী ন্যাশনাল বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ে কম বেতনের খণ্ডকালীন শিক্ষকদের সম্মানীতেও আছে অনিয়ম আর ছলচাতুরি। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের জায়গায় তৈরি করা হয়েছে অসংখ্য দোকান। কাগজে-কলমে আয়তন কম দেখিয়ে অবৈধভাবে তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি জমিতে দোকান বরাদ্দের মাধ্যমে বছরের পর বছর চলছে ভাড়া-বাণিজ্য।

সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, লেখাপড়া দেখভালের চেয়ে এসব কাজ নিয়েই প্রধান শিক্ষক আহমাদ হোসাইনের বেশি ব্যস্ততা। ম্যানেজিং কমিটির সঙ্গে আঁতাত করে ঐতিহ্যবাহী স্কুলটিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছেন তিনি। অনিয়মকে নিয়ম বানাতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যতটা তৎপর, ঠিক ততটাই উদাসীন শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া আর প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি রক্ষার উদ্যোগে।

ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাউশি ও জেলা শিক্ষা অফিসে অভিযোগ করা হয়েছে। কিন্তু কোনো মাধ্যম থেকেই কার্যত কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এমনকি অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রধান শিক্ষক বা ব্যবস্থাপনা কমিটির সার্বিক কার্যক্রম খতিয়ে দেখার উদ্যোগটুকুও নেয়া হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এসব অভিযোগের তীর বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটিকে ঘিরে; যার নেপথ্যে কলাকাঠি নাড়ছেন প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক।

প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকদের কয়েকজন জানান, বিদ্যালয়টি পরিচালনার ক্ষেত্রে একদিকে প্রধান শিক্ষক ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন, অন্যদিকে তথাকথিত নির্বাচিত ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যক্রমেও রাখছেন স্বেচ্ছাচারী ভূমিকা। দিনের পর দিন প্রধান শিক্ষকের এমন কর্মকাণ্ডে বিদ্যালয় ও ব্যবস্থাপনা কমিটি বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হলেও অজ্ঞাত কারণে চুপ থাকছেন দায়িত্বশীলরা।

ব্যবস্থাপনা কমিটি নিশ্চুপ থাকার নেপথ্য কারণও অনুসন্ধান করা হয়েছে। তাতে উঠে এসেছে আরেক তথ্য। জানা গেছে, এ কমিটির নেতৃত্বে রয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি পরিবার।

তথাকথিত নির্বাচন ও সমাঝোতার মাধ্যমে ওই পরিবারের লোকজনই ঘুরেফিরে ব্যবস্থাপনা কমিটির দায়িত্বে আসছে। আর এতে সব রকম সহায়তা দিচ্ছেন প্রধান শিক্ষক। এসব অনিয়ম-দুর্নীতিতে প্রধান শিক্ষক ও ব্যবস্থাপনা কমিটি একে অন্যের সহযোগী। ফলে কেউ কারও বিরুদ্ধে টুঁ শব্দটুকুও করে না।

এসব অনিয়ম-অব্যবস্থাপনার প্রভাব পড়েছে সার্বিক শিক্ষাদানেও। দিন দিন শিক্ষার্থী কমতে থাকায় বিদ্যালয়টি এখন পরিচালন সংকটে পড়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, নিয়োগ পরীক্ষায় খাতা টেম্পারিংয়ের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক পদটি বাগিয়ে নেন আহমাদ হোসাইন। এরপর ‘বিশেষ কায়দায়’ ধর্ম শিক্ষক থেকে বাংলার শিক্ষক হয়ে নিজেকে অন্তর্ভুক্ত করান এমপিওভুক্তির তালিকায়। এর পরই বিদ্যালয় পরিচালনায় তার স্বেচ্ছাচারিতা শুরু হয়। চালিয়ে যেতে থাকেন একের পর এক অনিয়ম।

এসব বিষয়ে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাউশি ও জেলা শিক্ষা অফিসে অভিযোগ করা হয়েছে। সেসব অভিযোগের অনুলিপি নিউজবাংলার হাতেও এসেছে। কিন্তু কোনো মাধ্যম থেকেই এখন পর্যন্ত কার্যত কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এমনকি এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রধান শিক্ষক বা ব্যবস্থাপনা কমিটির সার্বিক কার্যক্রম খতিয়ে দেখার উদ্যোগটুকুও নেয়া হয়নি।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আহমাদ হোসাইন এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক বলে উড়িয়ে দেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৪ সালে ন্যাশনাল বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অবসরে গেলে কপাল খুলে যায় আহমাদ হোসাইনের। তিনি যখন প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের চেয়ারে বসেন, তখন তিনি ছিলেন একজন নন-এমপিওভুক্ত ধর্ম শিক্ষক।

এরপর ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক চেয়ে একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা গ্রহণের অন্তত ১৫ দিন আগে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের বাধ্যবাধকতা থাকলেও এ ক্ষেত্রে সেটি হয়নি। প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির মেয়াদ ছিল মাত্র চার দিন।

অভিযোগ রয়েছে, নিয়োগ পরীক্ষায় খাতা টেম্পারিংয়ের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক পদটি বাগিয়ে নেন আহমাদ হোসাইন। এরপর ‘বিশেষ কায়দায়’ ধর্ম শিক্ষক থেকে বাংলার শিক্ষক হয়ে নিজেকে অন্তর্ভুক্ত করান এমপিওভুক্তির তালিকায়। এর পরই বিদ্যালয় পরিচালনায় তার স্বেচ্ছাচারিতা শুরু হয়। চালিয়ে যেতে থাকেন একের পর এক অনিয়ম।

প্রধান শিক্ষক হওয়ার নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আহমাদ হোসাইন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নিয়োগ পরীক্ষায় খাতা টেম্পারিংয়ের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আর এমপিওভুক্তির বিষয়ে যে দুর্নীতির কথা বলা হচ্ছে, সেখানে আমার কোনো হাত নেই। কারণ এমপিও করে মাউশি আঞ্চলিক অফিস।’

এ বিষয়ে মাউশির পরিচালক (বিদ্যালয়) বেলাল হোসাইন বলেন, ‘অভিযোগগুলো গুরুতর। আমি অবশ্যই খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেব।’

বিদ্যালয় পরিচালনায় প্রধান শিক্ষকের অনিয়মের অভিযোগের তালিকা বেশ দীর্ঘ। তিনি চান বিদ্যালয়ে ঘন ঘন শিক্ষক নিয়োগ হোক। আর কর্মরত খণ্ডকালীন শিক্ষকরা চলে যাক। উদ্দেশ্য, নতুন করে শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগের নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া। করোনার মধ্যে কিছুদিন আগে স্কুলের খণ্ডকালীন কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষিকার পাওনা পরিশোধ না করেই জোরপূর্বক স্কুল থেকে বের করে দেন তিনি।

প্রধান শিক্ষক আহমাদ হোসাইন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নিয়মের বাইরে গিয়ে আমি কিছু করিনি। আর দোকান বরাদ্দের বিষয়ের আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক খণ্ডকালীন শিক্ষক বলেন, ‘তার (প্রধান শিক্ষক) চাপের কারণে তিনজন শিক্ষক প্রতিষ্ঠান ছেড়ে চলে গেছেন। বাকি যারা ছিলেন তাদের ক্লাস-রুটিনে রাখা হয় না। ২০১৮ সাল থেকে আমাদের কোনো ক্লাস দেয়া হয় না। এমনকি খণ্ডকালীন শিক্ষক-শিক্ষিকাদের তিন-চার মাস পর পর এক মাসের বেতন দেয়া হয়। এসএসসি কোচিং এবং মডেল টেস্টের নামেও পরীক্ষার্থীদের থেকে টাকা নেয়ার অভিযোগ রয়েছে এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে আহমাদ হোসাইন দাবি করেন, নিয়মের বাইরে গিয়ে তিনি কিছু করেননি। নিয়মের ভেতরেই সবকিছু করা হয়েছে।

স্কুলের জায়গা কম বরাদ্দ দেখিয়ে বেশি ভোগ করতে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। সরেজমিন অনুসন্ধানে এর সত্যতাও মিলেছে। দেখা গেছে, স্কুলের সঙ্গে পূর্ণিমা রেস্তোরাঁ হোটেলটি কার্যকরী পরিষদ ৯ ফুট প্রস্থ ও ২০ ফুট দৈর্ঘ্য হিসেবে বিক্রি করেছে। কিন্তু সেখানে দখল দেয়া হয়েছে প্রায় পাঁচ কাঠা জায়গা। অথচ এ বাড়তি বরাদ্দের টাকা বিদ্যালয়ের তহবিলে যায়নি কখনই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘দোকান বরাদ্দের বিষয়ের আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।’ কারা সংশ্লিষ্ট এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এটা আমি বলতে যাব কেন?’

সরাসরি না বললেও প্রধান শিক্ষকের বক্তব্যে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির দিকেই উঠেছে অভিযোগের তীর।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য গৌরাঙ্গ মোহন রায় বলেন, ‘আপনি প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেন। এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই।’

আরও পড়ুন:
সিলেটের চমকে অভাবনীয় সুনামগঞ্জ
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে
মাদ্রাসায় পাস ৯৩.২২%, জিপিএ ৫ বেড়ে দ্বিগুণ
মানসিক অবস্থা বুঝে পাঠ দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
এসএসসি-সমমানের ফল পুনর্নিরীক্ষা শুরু শুক্রবার

শেয়ার করুন

ঢাবির হলে অসুস্থ শিক্ষার্থীকে ‘নির্যাতন’

ঢাবির হলে অসুস্থ শিক্ষার্থীকে ‘নির্যাতন’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হল। ছবি: সংগৃহীত

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ছাত্রলীগ কর্মী ইয়ামিম। ওই শিক্ষার্থীর খোঁজ-খবর নেয়ার জন্যই গেস্ট রুমে ডেকে আনা হয়েছিল। অসুস্থ শিক্ষার্থীকে লাইটের দিকে তাকিয়ে বাধ্য করা হয়েছিল কি না, জানতে চাইলে ইয়ামিম বলেন, ‘আমরা লাইটে তাকিয়ে থাকতে বলেছি, কিন্তু আমরাই তো আবার তাকে পাঠিয়ে দিয়েছি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলে গেস্টরুমে অসুস্থ এক শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে হল ছাত্রলীগের ছয় কর্মীর বিরুদ্ধে। এতে সেই শিক্ষার্থীর অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ায় তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে ইসিজি করিয়ে আবার হলে নিয়ে আসা হয়েছে।

বুধবার রাত ১০টায় বিজয় একাত্তর হলের টিভি রুমে এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।

ছাত্রলীগের নির্যাতনের শিকার আখতারুল ইসলাম লিটন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি জানান, অসুস্থতার কারণে গেস্ট রুমে যেতে পারছিলেন না। পরে ডেকে নিয়ে গেস্ট রুমে লাইটের দিকে দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে থাকতে বাধ্য করা হয়। পরে আরও আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।

এ ঘটনায় জড়িতদের বিচার চেয়ে লিটন বৃহস্পতিবার সকালে হল প্রাধ্যক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন লিটন। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করবেন বলে জানিয়েছেন প্রাধ্যক্ষ আবদুল বাছির।

লিখিত অভিযোগে লিটন যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন সেই ছাত্রলীগ কর্মীরা হলেন, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের কামরুজ্জামান রাজু, মনোবিজ্ঞান বিভাগের ওমর ফারুক শুভ, সমাজকল্যাণ বিভাগের ইয়ামিম ইসলাম, ইতিহাস বিভাগের হৃদয় আহমেদ কাজল, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাইফুল ইসলাম, লোক প্রশাসন বিভাগের সাইফুল ইসলাম রোমান।

তারা বিজয় একাত্তর হল ছাত্রলীগের শীর্ষ পদ প্রত্যাশী আবু ইউনুস এবং রবিউল হাসান রানার ছোট ভাই বলে পরিচিত। রবিউল ও ইউনুস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের অনুসারী।

অভিযোগপত্রে লিটন লিখেছেন, ‘গতকাল রাতে আমি অসুস্থ থাকা স্বত্ত্বেও অভিযুক্তরা জোরপূর্বক গেস্টরুমে ডেকে নিয়ে আমাকে লাইটের দিকে তাকিয়ে থাকতে বলে। এতে আমি চেতনা হারিয়ে ফেলি। পরে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছি। এখন আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

এ বিষয়ে কথা বলতে বুধবার রাতেই লিটনকে ফোন দেয়া হলে অসুস্থ আছেন জানিয়ে পরে কথা বলবেন বলে জানান। সকালে ফোন দেয়া হলে রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক শিক্ষার্থী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাত নয়টায় আমাদের গেস্টরুম শুরু হয়। হলে অবস্থান করা স্বত্ত্বেও গেস্টরুমে উপস্থিত হয়নি এরকম কেউ আছে কি না দেখার জন্য বড় ভাইয়েরা আমাদের এক বন্ধুকে গণরুমে পাঠায়। অসুস্থ হওয়ায় লিটন সেখানে শুয়ে ছিল।

‘বড় ভাইদের নির্দেশ মোতাবেক তাকে গেস্টরুমে নিয়ে আসা হয়। ছুটি না নিয়ে কেন অনুপস্থিত ছিল সেটি জানতে চেয়ে উপস্থিত বড় ভাইয়েরা তাকে বকা দেয়। এসময় পাশে থাকা রাজু (কামরুজ্জামান রাজু) ভাই বলে উঠেন, এই কুত্তার বাচ্চা, তোকেতো আমি আজকেও কলা ভবনের সামনে দেখেছি। অসুস্থ হওয়ার ভান ধরছিস কেন?’

ওই শিক্ষার্থী আরও বলেন, ‘বড় ভাইদের মতে গেস্টরুমে টুপিওয়ালা সুয়েটার পরা যাবে না, কিন্তু লিটন অসুস্থ হওয়ায় সেটি পরে আসায় তাকে আরও বাজে ভাষায় গালাগাল করা হয়। এরপর শাস্তি স্বরূপ রাজু ভাই লিটনকে এক ঘণ্টা লাইটের দিকে তাকিয়ে থাকতে বলে।

‘প্রায় পাঁচ মিনিট তাকিয়ে থাকার পর কাজল (হৃদয় আহমেদ কাজল) ভাই তাকে ছুটি দিয়ে রুমে পাঠিয়ে দেয়৷ কিছুক্ষণ পর খবর আসলো লিটন অসুস্থ হয়ে গেছে। তার বুকে ব্যথা শুরু হয়েছে। এরপর গেস্টরুম থেকে আমাদের ছুটি দিয়ে বড় ভাইয়েরাই তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।’

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ছাত্রলীগ কর্মী ইয়ামিম বলেন, ‘তার খোঁজ নেয়ার জন্যই আমরা তাকে গেস্টরুমে ডেকে এনেছি। গেস্টরুমে টুপিওয়ালা হুডি পরার নিয়ম না থাকায় আমরা তাকে টুপি খুলতে বলেছি। কারণ, তার সাথে আমরা কথা বলছি, কিন্তু তাকে ভালোভাবে দেখা যাচ্ছে না।’

লাইটে তাকিয়ে থাকার নির্দেশের ব্যাপারে ইয়ামিম বলেন, ‘আমরা লাইটে তাকিয়ে থাকতে বলেছি, কিন্তু আমরাই তো আবার তাকে পাঠিয়ে দিয়েছি।’

তবে এ ঘটনা অস্বীকার করেছেন ছাত্রলীগের অপরকর্মী রাজু। তিনি বলেন, ‘আমাকে ফাঁসানোর জন্য এগুলো বলা হচ্ছে। ছোট ভাইদের অনেকেই বাড়ি থাকায় আমরা গেস্টরুমই করি না।’

এ ঘটনা শুনে বুধবার মধ্যরাতেই হলে ছুটে আসেন বিজয় একাত্তর হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবদুল বাছির। তিনি অসুস্থ শিক্ষার্থীকে দেখতে গণরুমে যান। এ সময় তিনি ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দকে তিরষ্কারও করেন।

বাছির বলেন, ‘এত রাতে বিজয় একাত্তর হলে আসতে হয়েছে, বিষয়টা খুবই দুঃখজনক। ছাত্রলীগের প্রতি আহ্বান থাকবে সব কিছুতে ইতিবাচক ভুমিকা রাখার।’

প্রাধ্যক্ষ জানান, এ বিষয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে। সেই আলোকে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদেরকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া হবে।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগেন সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঘটনাটি আমরা খতিয়ে দেখব। সংগঠনের নাম ব্যবহার করে কেউ যদি কোনো শিক্ষার্থীর সঙ্গে অসম্মানজনক ব্যবহার করে সেক্ষেত্রে আমরা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব।’

আরও পড়ুন:
সিলেটের চমকে অভাবনীয় সুনামগঞ্জ
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে
মাদ্রাসায় পাস ৯৩.২২%, জিপিএ ৫ বেড়ে দ্বিগুণ
মানসিক অবস্থা বুঝে পাঠ দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
এসএসসি-সমমানের ফল পুনর্নিরীক্ষা শুরু শুক্রবার

শেয়ার করুন

জাবিতে পরীক্ষার দাবিতে মানববন্ধন

জাবিতে পরীক্ষার দাবিতে মানববন্ধন

স্নাতক চতুর্থ বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন। ছবি: নিউজবাংলা

শিক্ষার্থী নুর হোসেন বলেন, ‘পাঁচ বছরেও অনার্স শেষ করতে পারিনি। এখনও তৃতীয় বর্ষের রেজাল্ট পাইনি। আমরা চাই ফেব্রুয়ারির মধ্যেই আমাদের পরীক্ষা শেষ করে বিসিএস পরীক্ষায় বসতে।’ 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক চতুর্থ বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে নেয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনের সড়কে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ৪৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ায় ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা করেছে সরকার। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও একই ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ অবস্থায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে বন্ধ রয়েছে সব অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম। এতে বিপাকে পড়েছেন চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা জানান, ফেব্রুয়ারির মধ্যে তাদের চতুর্থ বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষ করে বিসিএস পরীক্ষায় বসার সুযোগ করে দিতে হবে। পরবর্তী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে সিন্ডিকেট মিটিংয়ে পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

এ ছাড়া একই ব্যাচের বিগত পরীক্ষাগুলোর রেজাল্ট দ্রুত প্রকাশ ও করোনার বন্ধে স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলো নেয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। অন্যথায় তারা আরও কঠোর কর্মসূচির ডাক দেবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন।

শিক্ষার্থী নুর হোসেন বলেন, পাঁচ বছরেও অনার্স শেষ করতে পারিনি।এখনও তৃতীয় বর্ষের রেজাল্ট পাইনি। আমরা চাই ফেব্রুয়ারির মধ্যেই আমাদের পরীক্ষা শেষ করে বিসিএস পরীক্ষায় বসতে।

মানববন্ধন শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বরাবর স্মারকলিপি দেন শিক্ষর্থীরা। উপাচার্যের পক্ষে স্মারকলিপি নেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ। এ সময় কয়েকজন সহকারী প্রক্টর উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
সিলেটের চমকে অভাবনীয় সুনামগঞ্জ
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে
মাদ্রাসায় পাস ৯৩.২২%, জিপিএ ৫ বেড়ে দ্বিগুণ
মানসিক অবস্থা বুঝে পাঠ দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
এসএসসি-সমমানের ফল পুনর্নিরীক্ষা শুরু শুক্রবার

শেয়ার করুন