মিনিকেট: ধান নেই, চাল আছে

player
মিনিকেট: ধান নেই, চাল আছে

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের একটি গবেষক দল সম্প্রতি দেশের ১০টি জেলা থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে, দেশে মিনিকেট নামে কোনো ধান নেই। ধান যেহেতু নেই, এ নামে কোনো চালেরও অস্তিত্ব আসলে নেই। কোন কোন জাতের সরু ধানকে রাইস মিলে চকচকে করে পলিশ করে মিনিকেট নামে বাজারজাত করা হচ্ছে, সেটিও তারা শনাক্ত করেছে। বাজারে ‘মিনিকেট’ নামটা কোথা থেকে এলো, খোঁজার চেষ্টা করেছে নিউজবাংলা।

বাজারে ‘মিনিকেট’ নামে যে চাল বিক্রি হয়, সেগুলো কোনোটাই মিনিকেট নয়। কারণ এ নামে কোনো ধান নেই। ভিন্ন ভিন্ন ধানের সরু চালকে বাজারে ‘মিনিকেট’ নাম দিয়ে বিক্রি করেন পরিবেশকরা। কেননা ‘মিনিকেট’ শব্দটি ক্রেতাদের কাছে জনপ্রিয়।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের একটি গবেষক দল দেশের ১০টি জেলা থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। তাদের গবেষণা সমীক্ষার প্রতিবেদনে এটি বলা হয়েছে।

দেশে প্রায় আড়াই দশক ধরে ‘মিনিকেট’ নামে চাল বাজারজাত হচ্ছে। বাজারে চালু ধারণা হলো, এটি একটি বিশেষ জাতের চাল, যা দেখতে চিকন, ফর্সা এবং চকচকে। ফলে অনেক ভোক্তা বাড়তি খরচ দিয়ে হলেও কিনে খেয়েছেন মিনিকেট নামের চিকন চাল।

গবেষক দলের ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ‘বাস্তবতা হলো- বিশ্বের কোথাও মিনিকেট নামে কোনো ধান নেই। বিজ্ঞানীরা এ নামে কোনো ধান আবিষ্কার করেননি। দেশেও মিনিকেট নামে কোনো ধানের অস্তিত্ব নেই। তাই এ জাতের ধান উৎপাদনও হয় না। যেখানে ধান হিসেবে মিনিকেটের অস্তিত্বই নেই, সেখানে একই নামে চাল থাকার প্রশ্ন ওঠে না।’

গবেষণা প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, বাজারে মিনিকেট নামে যে চাল পাওয়া যাচ্ছে বা বিক্রি হচ্ছে, তা আদৌ মিনিকেট নয়। মূলত বিআর-২৬, বিআর-২৮, বিআর-৩৩, ব্রি-৪৩, ৪৮ থেকে ৯৮ পর্যন্ত উদ্ভাবিত বিভিন্ন জাতের ধান এবং কল্যাণী, স্বর্ণা, গুটিস্বর্ণা, লাল স্বর্ণা, আইআর-৫০, জাম্বু ও কাজললতা ধানের চালকে মিনিকেট চাল হিসেবে চালানো হচ্ছে। এসব ধানের চালকে মিল পর্যায়ে গ্রেডিং ও মিক্সড গ্রেডিংয়ের মাধ্যমে পলিশ করে চকচকে করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিনিকেট কোনো জাত নয়, এটি একটি ব্র্যান্ড নাম। এ নামে বিভিন্ন চালকে ব্র্যান্ডিং করছেন অটোরাইস মিলাররা। তা করা হচ্ছে সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে বেশি ক্রেতা টানতে এবং বাড়তি মুনাফা করতে।

গবেষণা প্রতিবেদনের এ তথ্যের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হয় দেশে চাল প্রস্তুতকারক ব্যবসায়ীদের সবচেয়ে বড় সংগঠন বাংলাদেশ অটোরাইস মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম খোরশেদ আলম খানের কাছে। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটি সত্য- মিনিকেট নামে কোনো ধান নেই।’

তিনি বলেন, ‘আসলে নাজিরশাইল (নাজিরশাহী), জিরাশাইল, শম্পা কাটারিসহ ব্রির বিভিন্ন জাতের ধানকে স্থানীয় পর্যায়ের মিলগুলো প্রসেস করে যে চাল পায়, তাকেই মিনিকেট বলে চালান মিলাররা।’

মিনিকেট: ধান নেই, চাল আছে

এটি করার কারণ জানতে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মানুষের রুচিবোধে অনেক পরিবর্তন এসেছে। দেশে শক্তিশালী মধ্যবিত্ত শ্রেণি গড়ে উঠেছে। তারা মোটা চালের পরিবর্তে চিকন চালে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। বেড়েছে চিকন চালের চাহিদা। কিন্তু এর সীমাবদ্ধতা আছে। চালকে প্রসেস করে মিনিকেট করা হচ্ছে। এখন এই চাল ভোক্তারা খাবেন কি খাবেন না– সে সিদ্ধান্ত ভোক্তাকেই নিতে হবে।’

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিট কর্তৃক পরিচালিত এ সমীক্ষাটি চালানো হয় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের ১০টি জেলায়। এ সমীক্ষাটি তত্ত্বাবধান করেন খাদ্য সচিব ড. নাজমানারা খানুম। গবেষক দল মাঠপর্যায়ে প্রান্তিক কৃষক, খামার মালিক, মিলার, মিল শ্রমিক, বিক্রেতা, ভোক্তা, কৃষিবিদ সবার সঙ্গে কথা বলেছে। দেশে কত জাতের ধান এবং কোন এলাকায় কোন জাতের ধান বেশি উৎপাদন হয়, সেগুলো কোথায় যায় এবং কী হয় সবদিক খতিয়ে দেখেছে গবেষক দল।

এভাবে মাঠপর্যায় থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে গবেষক দল একমত হয়েছে, দেশে মিনিকেট নামে আদতে কোনো ধান নেই।

প্রতিবেদনের ফলাফলে বলা হয়, মিনিকেট চাল নিয়ে দেশে যা হচ্ছে, তার পুরোটাই মিথ্যা প্রচারণা। ভোক্তারা সেটি বুঝতেও পারছেন না। বাজারজাতকারীরা ভোক্তাকে অন্ধকারে রেখে প্রচলিত মিথ্যাকেই বাস্তবে ব্যাপক মাত্রায় বিশ্বাসযোগ্যতায় রূপ দিতে সক্ষম হয়েছেন। এতে মিনিকেট চালের ব্যবসা চলছে রমরমা। প্রতি কেজি চালে দিতে হচ্ছে বাড়তি দাম। এতে পকেট কাটা যাচ্ছে ক্রেতার। অথচ ওই চালের ভাত খেয়ে ভোক্তার উপকার তো হচ্ছে না, বরং আরও ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

দেশে মোট ১৯ হাজার ৭৩৪টি চালকল আছে। এর মধ্যে ছোট পরিসরে আন্তজেলা বাণিজ্য পরিচালনাকারী সহস্রাধিক চালকল বিভিন্ন চিকন জাতের ধানকে চাল বানিয়ে মিনিকেট ব্র্যান্ড নাম দিয়ে বাজারে ছাড়ে। এ বাণিজ্যে অটোরাইস মিলারদের দাপট এখন দেশব্যাপী। এখন মিলারদের নামেও মিনিকেট ব্র্যান্ডিং হচ্ছে। বিশেষ করে রশিদ, মোজাম্মেল, বিশ্বাস, সাকি, ডলফিন, জোড়া কবুতরসহ আরও অনেক ব্র্যান্ড বাজারে মিনিকেট চাল সরবরাহ করে আসছে।

চাল পরিচিত হবে ধানের নামে

খাদ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া ওই গবেষণা প্রতিবেদন জোরালোভাবে বলেছে, যেহেতু মিনিকেট চাল অস্তিত্বহীন, তাই এ নামে চাল বাজারজাতকরণও অবৈধ। এ ধরনের ব্র্যান্ডিং দেশে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ ও বন্ধ করতে হবে।

মিনিকেট নাম ব্যবহার বন্ধ হলে চিকন চালের বিকল্প কীভাবে পূরণ করা হবে তারও একটা সমাধান প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক উৎসের মাধ্যমেই চাল চিকন করার ওপর জোর দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কৃষকের সরাসরি উৎপাদিত ‍চিকন ধানকেই চাল বানিয়ে এই ধানের নামেই তা ব্র্যান্ডিং করতে হবে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) কর্তৃক আবিষ্কৃত অন্তত ১৫টি প্রিমিয়াম কোয়ালিটির ধানবীজ (চিকন) সারা দেশে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করতে হবে। মাঠপর্যায়ে ওই সব ধানের উৎপাদন বাড়ানোরও ব্যাপক কর্মসূচি নিতে হবে। এ জন্য বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের (বিএডিসি) উন্নত মানের ধানবীজ সরবরাহের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

সুপারিশে দাবি করা হয়, এ প্রক্রিয়ায় আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশে চিকন ধানের ব্যাপক মাত্রায় উৎপাদন সম্ভব হবে এবং চাহিদা অনুযায়ী চিকন চালের শতভাগ পূরণ করা সম্ভব হবে।

সুপারিশে মাঠের উৎপাদিত ধান মিলপর্যায়ে কোন মাত্রায় ছাঁটা হবে, সে বিষয়েও একটি নীতিমালা এবং তা বাস্তবায়নে মিলগুলোয় পরিদর্শন ও উৎপাদন তদারকি বাড়ানোর কথা বলা হয়।

মিনিকেট: ধান নেই, চাল আছে

এর পাশাপাশি চাল আকারে বাজারজাতের ক্ষেত্রে প্রত্যেক মিলার বা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য সব বস্তায় ধানের জাত বা নাম লেখা বাধ্যতামূলক করার সুপারিশও করা হয়।

সরকারের দায়িত্বশীলরা যা বলছেন

এ গবেষণার তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এখন সরকারও জোরালোভাবে দাবি করছে মিনিকেট নামে ধান যেহেতু নেই, এ নামে চাল হওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।

এ প্রসঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘মূলত চিকন বা সরু জিরাশাইল, শম্পা কাটারি ধান থেকে পাওয়া চালকে মিনিকেট বলা হচ্ছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত বিআর-২৮, বিআর-২৯ ধান থেকে উৎপাদিত চালকেও মিনিকেট বলে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে। আর আমরাও মিনিকেটই খুঁজছি।’

খাদ্য সচিব ড. নাজমানারা খানুম এ প্রসঙ্গে নিউজবাংলাকে বলেন, “‘মিনিকেট’ আদৌ কোনো ধান-চালের নাম নয়। এটা একটা ব্র্যান্ড নেম। বিভিন্ন জাতের ধান কেটে যে চালই উৎপাদন করা হচ্ছে, সে চালকেই মিলাররা নাম দিচ্ছে মিনিকেট।”

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীর এ প্রসঙ্গে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিআর-২৬, বিআর-২৮, বিআর-৩৩, ব্রি-৪৩, ৪৩, ৪৮ থেকে ৯৮ পর্যন্ত বিভিন্ন জাতের হাইব্রিড ধান রয়েছে। দেশে ৩ কোটি ৮৪ লাখ টনের যে ধান উৎপাদন হয়, তার উল্লেখযোগ্য অংশ হচ্ছে এই হাইব্রিড ধান। কিন্তু এত এত ধান মাঠে উৎপাদন হলেও তা আমরা বাজারে দেখতে পাই না। আবার যা দেখছি, তা তো মাঠে ফলাতে দেখছি না। অর্থাৎ বিষয়টি এখানেই স্পষ্ট যে ব্রি উদ্ভাবিত মাঠপর্যায়ের ধানকে সংগ্রহের পর মিলপর্যায়ে প্রসেস করে পাওয়া চালকে মিনিকেট বলে বাজারে ছাড়া হচ্ছে।’

ব্রির ফলিত গবেষণা বিভাগের প্রধান গবেষক ড. মো. হুমায়ূন কবীর নিউজবাংলাকে জানান, মিনিকেট চালের ব্র্যান্ডিং বন্ধে করণীয় অনেক কিছু আছে। তবে সময় বেশি লাগলেও সবচেয়ে সহজ সমাধান হলো ব্রির আবিষ্কৃত অন্তত ১৫টি প্রিমিয়াম কোয়ালিটির ধানবীজ (চিকন) সারা দেশে মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে দেয়া। কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যমে ওই সব ধানের উৎপাদন বাড়ানোর ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নেয়া।’

মিনিকেট নামটা এলো কোথা থেকে

মিনিকেট নামে যদি কোনো ধান না-ই থেকে থাকে, তাহলে চালের বাজারে ‘মিনিকেট’ শব্দটা এলো কোথা থেকে? কারা দিল এ নাম?

দেশে ধান-চাল নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন স্তরের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে নানা রকম তথ্য পাওয়া যায়। তবে মোটাদাগে সংখ্যাগরিষ্ঠদের বক্তব্য হলো মূলত স্থানীয় কৃষক ও মিলাররাই দেশে ‘মিনিকেট’ নামটির প্রচলন শুরু করে।

মিনিকেট: ধান নেই, চাল আছে

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ অটোরাইস মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম খোরশেদ আলম খান নিউজবাংলাকে বলেন, “মিনিকেট হলো মূলত চালের একটা ‘নিক নেম’। ভালো মানের চালকে আলাদাভাবে ব্র্যান্ডিং করতে স্থানীয় পর্যায়ের কিছু কৃষক ও মিল বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ১৯৯০ সাল থেকে এই মিনিকেট নাম ব্যবহার করে আসছে। বিশেষ করে ভারতের চিকন ধান হিসেবে পরিচিত ‘শতাব্দী’ ধানের বীজ কোনো একভাবে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ার পর স্থানীয় উৎপাদন শুরু হলে ওই চালের পরিচিতি গড়ে উঠেছিল ‘মিনিকেট’ নামে।”

ব্রির ফলিত গবেষণা বিভাগের প্রধান গবেষক ড. মো. হুমায়ূন কবীর নিউজবাংলাকে বলেন, “১৯৯৫ সালের দিকে ভারতে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়। কৃষকদের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য ওই সময় সে দেশের ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট তাদের নতুন উদ্ভাবিত ‘শতাব্দী’ জাতের ধানবীজ ছোট ছোট প্যাকেটে করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে বিতরণ শুরু করে। ওই কর্মসূচিতে ধানবীজের সঙ্গে বালাইনাশকসহ আরও কিছু কৃষি উপকরণ (কিট) দেয়া হতো। এ কারণে প্যাকেটটির নাম রাখা হয় ‘মিনি কিটস’। এই প্যাকেটগুলো কোনো একভাবে বাংলাদেশের কৃষকদের হাতেও এসেছিল। আর এখানে কৃষকদের মুখে মুখে ‘মিনি কিটস’ হয়ে দাঁড়ায় ‘মিনিকেট’। ‘শতাব্দী’ ধান থেকে উৎপাদিত চাল বাজারে আসতে থাকে ‘মিনিকেট’ নামে।”

ডেনমার্কভিত্তিক প্রবাসী বাংলাদেশি খাদ্য গবেষক ড. মো. নাহিদুল ইসলামের সাম্প্রতিক এক গবেষণাতেও একই কথা বলা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, ‘মিনিকেট’ শব্দটা এসেছে ইংরেজি শব্দ ‘মিনি’ ও ‘কিট’ থেকে। মিনিকেট আদতে কোনো ধানের ভ্যারাইটি নয়। এটি হচ্ছে এক ধরনের কর্মসূচি, যেখানে ভারত সরকার মিনি প্যাকেট অর্থাৎ দুই কেজি ধানের বীজের প্যাকেট কৃষকদের উপহার হিসেবে দিত। নতুন কোনো ধানের জাত আবিষ্কৃত হলে সেটা কৃষকদের মধ্যে জনপ্রিয় করতে এই পদ্ধতির ভূমিকা অপরিহার্য।

ওই সময় অবৈধভাবে সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারত থেকে কিছু ধানের জাত বাংলাদেশে এসেছে। তখন ধানের মূল নামের পরিবর্তে ভারতীয় প্রোগ্রামের নামানুসারে বাংলাদেশে ‘মিনিকেট’ নামের প্রচলন শুরু হয়ে থাকতে পারে।

এই খাদ্য গবেষকের মতে, বাজারে ব্রাউন ও মোটা চালের চাহিদা অনেক কম থাকার কারণে এই মোটা চালকে ঘষেমেজে চকচকে ও স্লিম করতে মিল মালিকদের অতিরিক্ত দুটি যন্ত্র কিনতে হয়। বর্তমানে যেসব চাল মিনিকেট নামে বিক্রি হচ্ছে, তা মূলত যেকোনো দেশীয় জাতের চাল।

মিনিকেট স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর

ব্রির ফলিত গবেষণা বিভাগের প্রধান গবেষক ড. মো. হুমায়ূন কবীর জানান, কেমিক্যাল মিশ্রণ ও অতিরিক্ত ছাঁটাইয়ের কারণে মিনিকেট চালে শুধু শর্করা ছাড়া অন্যান্য পুষ্টিগুণ বলে আর কিছুই থাকে না। এ প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত চাল মানবশরীরের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘প্রাকৃতিক চালে নানা মাত্রিক পুষ্টিকর উপাদান থাকে, যার সিংহভাগই থাকে চালের উপরিভাগে। ছাঁটাই প্রক্রিয়ায় এটি ঝরে যায়। ভাত খাব অথচ এর আসল উপাদান থেকে বঞ্চিত হব, সেটি আমরা চাই না। জিংক ও আয়রন যদি চালে না থাকে, তাহলে আমাদের শরীরের যে ক্ষতি হবে, তার আর্থিক মূল্য অনেক।’

গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত ছাঁটাইয়ের ফলে মিনিকেট নামে এই চালে ভিটামিন, মিনারেল, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, প্রোটিন, আঁশ– এসবের কিছুই থাকে না। শুধু থাকে কার্বোহাইড্রেট। এই চালের ভাতে অভ্যস্তদের নানা রকম অপুষ্টিজনিত রোগবালাই হওয়ার ঝুঁকি থাকে। পলিশ করার কারণে মিনিকেট চালে শর্করার পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ১ দশমিক ১৭ শতাংশ বেড়ে যায়। শর্করার পরিমাণ বাড়লে গ্লাইসিমিক ইনডেক্স বেড়ে যায়।

মিনিকেট: ধান নেই, চাল আছে

চাল থেকে প্রোটিন বা আমিষও পাওয়া যায়। প্রতি ১০০ গ্রাম চালে আমিষ থাকে প্রায় ৬-৭ শতাংশের মতো। কিন্তু কলে ছাঁটার কারণে ১-২ শতাংশ প্রোটিন নষ্ট হয়ে যায়। সবচেয়ে ক্ষতিকর হলো ফ্যাট বা অয়েল কমে যাওয়া। অয়েল কমে যায় ৬২ শতাংশ, ক্রুড ফাইবার কমে ৪০ শতাংশ এবং অ্যাশ কমে ১১৮ শতাংশ। এ ছাড়া ভিটামিন বি-১, বি-৬ প্রায় ৮০ শতাংশ নষ্ট হয়ে যায়।

থিতু হচ্ছে মিনিকেটের বাজার

নানামুখী সমালোচনার মুখে বাজারে মিনিকেট চালের আধিপত্য আর থাকছে না। বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্তে আসতে যাচ্ছে সরকারও। আদালতও এ ব্যাপারে আদেশ দিয়েছে।

পুষ্টিগুণ নষ্ট করে বিভিন্ন অটোরাইস মিলে চাল ছেঁটে বাজারজাত এবং বিক্রি বন্ধ কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে গত ২১ নভেম্বর রুল জারি করে হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে চাল কেটে বা ছেঁটে পুষ্টিগুণ নষ্ট করে বাজারজাত বা বিক্রি বন্ধে গাইডলাইন তৈরির নির্দেশ কেন দেয়া হবে না তাও জানতে চেয়েছে আদালত। যারা এ কাজটি করছেন, হাইকোর্ট তাদের তালিকা পাঠাতেও মন্ত্রণালয়কে বলেছে।

এ ছাড়া চালের বস্তার ওপর ধানের জাতের নাম লেখা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেয়ার কথা জানিয়েছেন খাদ্য সচিব মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম।

তিনি নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন, এ বিষয়ে শিগগিরই একটি নীতিমালা করা হচ্ছে। সচিব জানান, সাধারণভাবে ধানের সর্বোচ্চ ৮ শতাংশ ছাঁটাই করা যায়, নীতিমালা তৈরি ও তা মানতে বাধ্য করার মাধ্যমে চালের পলিশিং ও ওভার পলিশিং বন্ধ করা হবে। তা করা গেলে স্বাভাবিক নিয়মেই মিনিকেট ব্র্যান্ডিংয়ে ভাটা পড়বে।

বাংলাদেশ অটোরাইস মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম খোরশেদ আলম খান জানান, ‘এতেও মিনিকেটের বাজারজাত বন্ধ হবে না। কারণ তখন হয়তো বাধ্যবাধকতার কারণে ধানের নাম উল্লেখ করল, কিন্তু পাশেই লিখে দিল মিনিকেট। তাই ধান যেহেতু নেই, তাই এর বাজারজাত বন্ধ করতে হলে বস্তার গায়ে মিনিকেট লেখাই বন্ধ করতে হবে। কারণ মিলপর্যায়ে কোন কোন ধান মিক্সড করে মিনিকেট সরবরাহ করছে, তা মনিটরিংয়ের সক্ষমতা সরকারের নেই।’

আরও পড়ুন:
চাল ছেঁটে মিনিকেট নামে বিক্রি বন্ধ নয় কেন, প্রশ্ন হাইকোর্টের
সরকারি চালসহ ধরা, দৌড়ে পালালেন ইউপি সদস্য
ভিজিডির ৩৩ বস্তা চাল জব্দ, আটক ১
নারীদের ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের বিশেষ উদ্যোগ
ফুলপুরে সরকারি চাল জব্দ: ব্যবসায়ীকে আসামি করে মামলা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আলু মালয়েশিয়ায় গেলেও লোকসানে কৃষক

আলু মালয়েশিয়ায় গেলেও লোকসানে কৃষক

রংপুর থেকে আগাম জাতের গ্রানুলা আলু মালয়েশিয়ায় রপ্তানি শুরু হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

রংপুরে মাত্র সাড়ে চার টাকা কেজি দরে এবার আলু বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে প্রতি ২৫ শতক জমিতে গড়ে ১৬ হাজার টাকা করে লোকসান গুনছেন কৃষকরা। এ হিসাবে চলতি মৌসুমে শুধু আগাম আলুতেই প্রায় ১০ কোটি টাকা গচ্ছা যাবে প্রান্তিক আলু চাষিদের।

এবার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আলু চাষ হচ্ছে রংপুরে। আগাম জাতের এই গ্রানুলা আলু মালয়েশিয়ায় রপ্তানিও শুরু হয়েছে। এরপরও লোকসানের মুখে ওই অঞ্চলের কৃষকরা। উৎপাদন খরচের অর্ধেকও উঠে না আসার শঙ্কায় তারা।

চাষিরা জানান, গ্রানুলা জাতের আগাম আলু চাষ করে বিগত বছরগুলোর ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চেয়েছিলেন তারা। কিন্তু মাত্র সাড়ে চার টাকা কেজি দরে এবার আলু বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে প্রতি ২৫ শতক জমিতে গড়ে ১৬ হাজার টাকা করে লোকসান গুনছেন তারা।

এই হিসাবে চলতি মৌসুমে শুধু আগাম আলুতেই প্রায় ১০ কোটি টাকা গচ্ছা যাবে প্রান্তিক আলু চাষিদের।

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি অফিসের সূত্র মতে, ওই অঞ্চলে এবার আগাম জাতের আলু চাষ হয়েছে ১১ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে। সেই আলু আরও ২০ দিন আগ থেকেই তুলছেন চাষিরা। ঢাকা-চট্টগ্রামের রপ্তানীকারকরাও আলু সংগ্রহ শুরু করেছেন।

মুন্সিগঞ্জের ওয়াদুদ ট্রেডার্সের কর্ণধার আব্দুল লতিফ বলেন, ‘এই অঞ্চলের আলুর মান ভালো। আমরা আশাবাদী এই আলু নিয়ে। রংপুরে আগাম আলু, তাই চাহিদা অনুযায়ী সংগ্রহ করা হচ্ছে। আশা করছি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আলু ক্রয় করে তা মালয়েশিয়ায় পাঠাতে পারব।’

আলু মালয়েশিয়ায় গেলেও লোকসানে কৃষক
আলু বিদেশে রপ্তানি হলেও লোকসান গুনছেন ওই অঞ্চলের কৃষকেরা। ছবি: নিউজবাংলা

ওয়াদুদ ট্রেডার্সের পক্ষে রংপুরের ভুড়ারঘাট এলাকায় আলু কিনছেন হাসান আলী। তিনি জানান, ১৪ টনের ২০০টি ট্রাক চট্টগ্রাম বন্দরে পাঠাতে হবে ২১ জানুয়ারির মধ্যে।

হাসান বলেন, ‘সরাসরি জমি থেকে আমরা আলু কিনছি। আলুর সাইজ সর্বনিম্ন ৭০ গ্রাম। সাড়ে চার টাকা কেজি দরে কিনে দুই কেজির প্যাকেট করে পাঁচটি প্যাকেট একসঙ্গে করা হচ্ছে। এ জন্য ১৭ নারী আর ১২ জন পুরুষ শ্রমিক মোকামে কাজ করছেন।’

রংপুর সদরের ভুরাড়ঘাট এলাকার আলু চাষি হাশেম আলী জানান, স্থানীয় হিসেবে ২৫ শতকে এক দোন জমি। এই পরিমাণ জমি ভাড়া নিয়ে আলু আবাদ করতে কম হলেও ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু বর্তমানে তাদের এক দোন জমির আলু মাত্র ৫ থেকে ৭ হাজার টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘বাজারে আলুর দাম নাই। ইম্পোর্টাররা এসে বড় আলুটা নিয়ে যাচ্ছে। তাই ছোট আলুগুলোকে আরও কম দামে বিক্রি করতে হবে।’

আলু মালয়েশিয়ায় গেলেও লোকসানে কৃষক
আলু রপ্তানি ও দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহের জন্য প্যাকেটজাত করা হচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা

একই এলাকার জাহাঙ্গীর আলম বিটুল বলেন, ‘আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হইতেছি। এটা পোষানোর জন্য হয়তো জমি বন্ধক রাখতে হবে। নয়তো গরু ছাগল বিক্রি করা লাগবে। না হলে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ধার শোধ করা লাগবে। ঋণ করে আলু চাষ করছি। আবার ঋণ করেই শোধ করতে হবে।’

রংপুরের দর্শনা মাঞ্জাই এলাকার আহাম্মদ আলী জানান, এক দোন জমিতে রোপণের সময় আলু লাগে ১৬০ কেজি। আর তিন ধরনের ৬ বস্তা সার ছাড়াও কীটনাশক লাগে ৫-৬ ধরনের।

তিনি বলেন, ‘এবার তো সব জিনিসের দাম বেশি। আমরা খুব কষ্ট করে আলু চাষ করছি। আলু ভালো হইছে। সরকারের কাছে অনুরোধ, আমরা পথে বসতে চাই না। বিদেশোত আলু বেশি করে পাঠাক, দাম যেন বেশি হয়। তাহলে কিছু লাভবান হতে পারব।’

রংপুরের মাহিগঞ্জ সরেয়ারতল এলাকার আলু চাষি রোস্তম আলী জানান, গত বছর ৩ একর জমিতে আলু চাষ করে তার ২ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। তার পরও এবার আলু চাষ করেছেন তিনি।

রোস্তম বলেন, ‘গত বছর এই সময়- যে আলুর দাম ছিল ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি; সেই আলু এখন সাড়ে চার থেকে ৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মনে হচ্ছে কেউই পুঁজি উঠিয়ে আনতে পারবে না।’

দাম কম কেন

কৃষিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আলু নিয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা না থাকা, রপ্তানিযোগ্য ও শিল্পনির্ভর জাত উদ্ভাবন না করা, গুনগত মান পরীক্ষায় পর্যাপ্ত ল্যাব না থাকা, কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে রপ্তানি না হওয়ার জন্যই আলুর দাম কম।

এ ছাড়া বেসরকারি পর্যায়ে বীজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চাষিদের পরিকল্পনাহীনভাবে আলু চাষে উদ্বুদ্ধ করছে। চাহিদার চেয়ে বেশি উৎপাদন ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাব থাকায়ও ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষক।

রংপুর কৃষি বিপণন অফিস এবং কৃষি অফিসে ওই অঞ্চলের পাঁচ জেলায় (রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট ও নীলফামারী) আলুর চাহিদা কত মেট্রিকটন তার সঠিক হিসাব নেই।

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি অফিসের অতিরিক্ত উপপরিচালক মাহবুবার রহমান বলেন, ‘গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে এই অঞ্চলে ৯৭ হাজার ৩১৫ হেক্টর জমিতে ২ কোটি ২৬ লাখ ৪ হাজার ৫৯৬ মেট্রিকটন আলু উৎপাদন হয়েছে। এ বছরও একই পরিমাণ জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

কৃষি বিভাগ বলছে, সব ঠিকঠাক থাকলে এবারও উৎপাদনে লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

এদিকে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, গত বছরের আলু এখনও বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে আছে। এর মাঝেই নতুন আলু আসায় এর দাম কম। চাহিদার চেয়ে উৎপাদন বেশি হওয়ায় দিনে দিনে কদর এবং এর দাম কমে যাচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অন্যান্য বছর সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, রাশিয়ায় আলু রপ্তানি হলেও করোনার সময় তা সম্ভব হয়নি। এবার এখন পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় রপ্তানি করতে রংপুরের আলু কেনা হচ্ছে।

বিপণন বিভাগের বক্তব্য

দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আলু চাষ হচ্ছে রংপুর আঞ্চলে। অথচ আলুর বিক্রি নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো ছক নেই এই অঞ্চলের বিপণন কেন্দ্রের।

কেন্দ্রের উপপরিচালক আনোয়ারুল হক বলেন, ‘ইমপোর্ট এক্সপোর্ট আমাদের এখানে না থাকায় বিদেশে কী পরিমাণ আলু রপ্তানি হবে সেই তথ্য আমাদের কাছে নেই। আছে কেন্দ্রের কাছে। তবে আলু সংরক্ষণ নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা আছে। আমরা মাচাং পদ্ধতিতে আলু সংরক্ষণের জন্য কাজ করছি।’

তিনি জানান, সংরক্ষণের জন্য হাতে নেয়া একটি প্রকল্প এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায়। এটি চালু হলে আলু চাষিরা ভরা মৌসুমে মাচাং পদ্ধতিতে আলু সংরক্ষণ করতে পারবেন। ফলে ভরা মৌসুমে কম দামে আলু বিক্রি করতে হবে না। সময় নিয়ে দাম দেখে কৃষকরা বিক্রি করবেন।

চেম্বারের প্রস্তাব

রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মোস্তফা সারোয়ার টিটু বলেন, ‘ধানের পরই আলুর আবাদ হচ্ছে রংপুরে। ৯৫টি হিমাগার রয়েছে বিভাগে। এরপরও জায়গা সংকুলান হয় না। এ জন্য আলু উৎপাদন নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্তে আসতে হবে। কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে তাদের ভর্তুকির আওতায় আনতে হবে।’

এ ছাড়া বিদেশে রপ্তানির জন্য দ্রুত পরীক্ষণ ল্যাবও দরকার বলে মনে করেন তিনি। কারণ গুনগত মান ঠিক থাকলে বিদেশে আরও বেশি আলু রপ্তানি হবে। দাম পাবেন চাষিরাও।

আরও পড়ুন:
চাল ছেঁটে মিনিকেট নামে বিক্রি বন্ধ নয় কেন, প্রশ্ন হাইকোর্টের
সরকারি চালসহ ধরা, দৌড়ে পালালেন ইউপি সদস্য
ভিজিডির ৩৩ বস্তা চাল জব্দ, আটক ১
নারীদের ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের বিশেষ উদ্যোগ
ফুলপুরে সরকারি চাল জব্দ: ব্যবসায়ীকে আসামি করে মামলা

শেয়ার করুন

দেশে চা উৎপাদনে নতুন রেকর্ড

দেশে চা উৎপাদনে নতুন রেকর্ড

১৬৭টি চা বাগান রয়েছে দেশে। ছবি: সংগৃহীত

চা বোর্ড সূত্র মতে, ২০২১ সালের শুধু অক্টোবর মাসেই দেশে ১ কোটি ৪৫ লাখ কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। অতীতে এক মাসে এত বিপুল পরিমাণ চা আর কখনো উৎপাদিত হয়নি।

করোনাকালেও দেশে রেকর্ড পরিমাণ চা উৎপাদিত হয়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১ সালে দেশের ১৬৭টি চা বাগানে ৯ কোটি ৬৫ লাখ ৬ হাজার কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। যা ২০২০ সালের চেয়ে ১ কোটি ১ লাখ ১২ হাজার কেজি বেশি।

এবার উত্তরাঞ্চলে সমতলের চা বাগান ও ক্ষুদ্র চা চাষ থেকে ১ কোটি ৪৫ লাখ ৪০ হাজার কেজি চা জাতীয় উৎপাদনে যুক্ত হয়েছে। যা আগের বছরের তুলনায় ৪১ শতাংশ বেশি।

বুধবার বাংলাদেশ চা বোর্ডের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

অনুকূল আবহাওয়া, সরকারের আর্থিক প্রণোদনা, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও চা বোর্ডের নিয়মিত তদারকি, বাগানমালিক ও শ্রমিকদের নিরলস প্রচেষ্টায় দেশে রেকর্ড পরিমাণ চা উৎপাদিত হয়েছে বলে জানায় চা বোর্ড।

চা বোর্ড সূত্র মতে, ২০২১ সালের শুধু অক্টোবর মাসেই দেশে ১ কোটি ৪৫ লাখ কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। অতীতে এক মাসে এত বিপুল পরিমাণ চা আর কখনো উৎপাদিত হয়নি।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. আশরাফুল ইসলাম এনডিসি পিএসসি বলেন, ‘প্রতি বছর চা উৎপাদনে বাংলাদেশ নতুন নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করছে। কোভিড পরিস্থিতিতেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় গত বছর দেশের সব চা বাগানের সার্বিক কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল। মহামারিতেও উৎপাদনের এ ধারাবাহিকতা থেকে এটাই প্রতিয়মান, চা শিল্পের সক্ষমতা অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।’

তিনি জানান, উত্তরাঞ্চলে চা চাষীদের ‘ক্যামেলিয়া খোলা আকাশ স্কুলে’র মাধ্যমে চা আবাদ বিষয়ে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং আধুনিক প্রযুক্তি সরবরাহ করায় তারা এবার ৪১ শতাংশ বেশি চা উৎপাদন করেছে।

২০২০ সালে দেশে ৮ কোটি ৬৩ লাখ ৯৪ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়েছিল। এ ছাড়া ২০১৯ সালে দেশে রেকর্ড ৯ কোটি ৬০ লাখ ৬৯ হাজার কেজি চা উৎপাদিত হয়েছিল।

আরও পড়ুন:
চাল ছেঁটে মিনিকেট নামে বিক্রি বন্ধ নয় কেন, প্রশ্ন হাইকোর্টের
সরকারি চালসহ ধরা, দৌড়ে পালালেন ইউপি সদস্য
ভিজিডির ৩৩ বস্তা চাল জব্দ, আটক ১
নারীদের ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের বিশেষ উদ্যোগ
ফুলপুরে সরকারি চাল জব্দ: ব্যবসায়ীকে আসামি করে মামলা

শেয়ার করুন

পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে ট্রাকে চাঁদাবাজি বন্ধ চান কৃষিমন্ত্রী

পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে ট্রাকে চাঁদাবাজি বন্ধ চান কৃষিমন্ত্রী

কৃষিপণ্য গ্রাম থেকে ঢাকায় আনতে বেশ কয়েক জায়গায় চাঁদা দিতে হয়। ছবি: সংগৃহীত

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘দিনাজপুরে কিংবা ঈশ্বরদী কিংবা সাতক্ষীরায় ফসল হলো, চাষী মাঠ পর্যায়ে বিক্রি করে ১৫ টাকা পাচ্ছে প্রতি কেজিতে, ঢাকায় এসে সেটা কেন ৪০-৪৫ টাকা হবে? এটা হলো মধ্যস্বত্বভোগী বা ফড়িয়া। সারা পৃথিবীতেই মধ্যস্বত্বভোগী আছে। এর বাহিরে আরও কিছু আছে অপ্রত্যাশিত। বিভিন্ন জায়গায় ট্রাক বা গাড়িতে তাদের এক্সট্রা খরচ করতে হয়।’

কৃষিপণ্যে মধ্যস্বত্বভোগী বা ফড়িয়া ছাড়াও গ্রাম থেকে ঢাকায় আসার পথে নানা ধরনের চাঁদা দিতে হয়। ফলে রাজধানীতে এসে বেড়ে যায় পণ্যের দাম।

পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে রাজধানীতে আসা কৃষিপণ্যের ট্রাকে চাঁদাবাজি বন্ধে জেলা প্রশাসকদের সহযোগিতা চেয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক।

ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে বুধবার জেলা প্রশাসক সম্মেলনে অংশ নেয়ার পর সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

সম্মেলনে জেলা প্রশাসকদের কি নির্দেশ দেয়া হয়েছে জানতে চাইলে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘শুরুতে আমরা যেটা বলার চেষ্টা করেছি, বাংলাদেশ সব সময় খাদ্য ঘাটতির দেশ ছিল, যদিও আমাদের জলবায়ু উৎপাদনের উপযোগী। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা আধুনিক কৃষিতে যেতে পারিনি।

‘দিনাজপুরে কিংবা ঈশ্বরদী কিংবা সাতক্ষীরায় ফসল হলো, চাষী মাঠ পর্যায়ে বিক্রি করে ১৫ টাকা পাচ্ছে প্রতি কেজিতে, ঢাকায় এসে সেটা কেন ৪০-৪৫ টাকা হবে? এটা হলো মধ্যস্বত্বভোগী বা ফড়িয়া। সারা পৃথিবীতেই মধ্যস্বত্বভোগী আছে। এর বাহিরে আরও কিছু আছে অপ্রত্যাশিত। বিভিন্ন জায়গায় ট্রাক বা গাড়িতে তাদের এক্সট্রা খরচ করতে হয়।’

তিনি বলেন, ‘এটাকে কীভাবে কমানো যায়, এখানে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছি। আমরা বলেছি, এটা কতটুকু? প্রত্যেক ডিসিরাই বলেছেন তারা দায়িত্ব নেবেন। কেবিনেট সচিব বলেছেন তারা একটি স্টাডি আমাদের সাথে করাবেন। একটা ট্রাক ঈশ্বরদী বা দিনাজপুর থেকে যে এলো, এটি ঢাকায় এসে অ্যাকচুয়ালি কত দাম পেলো।

‘ট্রাকের খরচ বা কোথাও চাঁদাবাজির স্বীকার যদি তারা হয়ে থাকে তাহলে কতটাকা কোথায় দিলো, সেটা আমরা বের করি। বের করে তারপর আমরা চেষ্টা করবো জাতীয় পর্যায়ে একটি ব্যবস্থা নিতে, যাতে এটি বন্ধ করা যায়। এ বিষয়টি আজ তুলে ধরেছি আর ডিসিদের সহযোগিতা চেয়েছি।’

বিদেশে কৃষিপণ্য রপ্তানি করতে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে যাওয়ার জন্য ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট করে, যেমন আমের পোকামাকড়। আমরা একটি উদ্যোগ নিয়েছি আন্তর্জাতিক মানের ল্যাব স্থাপনের। সেখান থেকে তারা একটি সার্টিফিকেট দেবে।

‘পূর্বাচলে প্রধানমন্ত্রী ২ একর জমি দিয়েছেন। সেখানে আমরা ল্যাবরেটরি এবং প্যাকিং হাউজ করছি, এর মাধ্যমে আমাদের বিভিন্ন পণ্য বিদেশে নিতে পারি। আমরা নেদারল্যান্ড গিয়েছিলাম। তাদের সাথে আমাদের একটি সমঝোতা হচ্ছে। টেকনোলজিক্যাল সাপোর্ট দিবে, সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে সহযোগিতা করবে।’

আরও পড়ুন:
চাল ছেঁটে মিনিকেট নামে বিক্রি বন্ধ নয় কেন, প্রশ্ন হাইকোর্টের
সরকারি চালসহ ধরা, দৌড়ে পালালেন ইউপি সদস্য
ভিজিডির ৩৩ বস্তা চাল জব্দ, আটক ১
নারীদের ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের বিশেষ উদ্যোগ
ফুলপুরে সরকারি চাল জব্দ: ব্যবসায়ীকে আসামি করে মামলা

শেয়ার করুন

ঠাকুরগাঁওয়ে কমেছে গমের চাষ, লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত

ঠাকুরগাঁওয়ে কমেছে গমের চাষ, লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত

গম চাষি গণি মিয়ার অভিযোগ, ‘সরকারিভাবে গম সংগ্রহের সময় কৃষকরা সরকারি গোডাউনে দিতে পারে না। সরকার গমের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করলেও সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের জন্য আমরা এর সুফল পাই না। তাই গম চাষে আগ্রহ তেমন নাই।’

ঠাকুরগাঁওয়ের যেসব জমি আগে ভরে থাকত গমে, এখন সেসব জায়গায় চাষ হচ্ছে ভুট্টা, মরিচ ও আলু। কৃষকরা বলছেন, লাভ কম হওয়ায় তারা গম চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

কৃষি বিভাগ বলছে, এ অবস্থা এবারই প্রথম নয়। পাঁচ থেকে ছয় বছর ধরে গম চাষে কৃষকদের আগ্রহ কম দেখা যাচ্ছে।

সারা দেশে উৎপাদিত গমের পাঁচ ভাগের এক ভাগ হতো এই জেলায়। তবে উৎপাদন খরচ না ওঠায় কৃষকরা অন্য আবাদে ঝুঁকছেন। এ কারণে গমের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হচ্ছে।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় বছরে ঠাকুরগাঁওয়ে গম চাষের জমি কমেছে ২২ হাজার ৬২৮ হেক্টর।

ঠাকুরগাঁওয়ে কমেছে গমের চাষ, লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু হোসেন নিউজবাংলাকে জানান, এ বছর জেলায় ৪৭ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। আবাদ হয়েছে ৪৫ হাজার ১৯২ হেক্টর জমিতে।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার লাহিড়ী বাজার গ্রামের হাশেম আলী বলেন, ‘আমি গত বছর এক বিঘা জমিতে ২৫ মণ গম পেয়েছিলাম। প্রতি মণ গম বিক্রি করি ৯০০ থেকে ১ হাজার ৫০ টাকায়। এতে এক বিঘায় লাভ পেয়েছি ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা।

‘এত পরিশ্রমের পর এই লাভে পোষায় না। যদি প্রতি কাঠায় এই লাভ হতো তাহলে ঠিক ছিল। এভাবে আর কত দিন চাষ করা যায়?’

সদর উপজেলার এক গম চাষি গণি মিয়ার অভিযোগ, ‘সরকারিভাবে গম সংগ্রহের সময় কৃষকরা সরকারি গোডাউনে দিতে পারে না। সরকার গমের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করলেও সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের জন্য আমরা এর সুফল পাই না। তাই গম চাষে আগ্রহ তেমন নাই।’

বাজারে ভালো গমের বীজ না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন গাঙ্গর এলাকার নূর ইসলাম।

কৃষি কর্মকর্তা আবু হোসেন বলেন, ‘আমরা কৃষকদের বীজ, সারের বিষয়টি মনিটরিংয়ের মধ্যে রেখেছি। তাদের সঙ্গে মাঠপর্যায়ে গিয়ে কথা বলছি, প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। নানাভাবে তাদের আগ্রহ ধরে রাখার চেষ্টা করছি।’

গম উৎপাদন কমে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ডিলাররা।

বিএডিসি চুক্তিবদ্ধ বীজ ডিলার ও ঠাকুরগাঁও শহরের মা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. রফিকুজ্জামান বলেন, ‘গমের বীজ গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার কম বিক্রি হচ্ছে। যে ফসলে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন, সেই ফসলই বেশি আবাদ করছেন। এতে আমরা ডিলাররা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
চাল ছেঁটে মিনিকেট নামে বিক্রি বন্ধ নয় কেন, প্রশ্ন হাইকোর্টের
সরকারি চালসহ ধরা, দৌড়ে পালালেন ইউপি সদস্য
ভিজিডির ৩৩ বস্তা চাল জব্দ, আটক ১
নারীদের ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের বিশেষ উদ্যোগ
ফুলপুরে সরকারি চাল জব্দ: ব্যবসায়ীকে আসামি করে মামলা

শেয়ার করুন

দার্জিলিংয়ের ‘সাদকি’ কমলা নীলফামারীতে

দার্জিলিংয়ের ‘সাদকি’ কমলা নীলফামারীতে

বাগানে সাদকি কমলার গাছ ধরে ছেলেকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন লেবু মিয়া। ছবি: নিউজবাংলা

দার্জিলিংয়ের পাহাড়ি এলাকার সাদকি কমলার চাষ করছেন নীলফামারীর লেবু মিয়া। এই কমলার সুখ্যাতি আছে বিভিন্ন দেশে।

‘দেখতে যেমন সুন্দর ও ঝকঝকে, তেমনি খেতেও সুস্বাদু’, নীলফামারীর ‘সাদকি’ কমলার বাগানে ঘুরতে এসে এমন বর্ণনা দিচ্ছিলেন অতুল রায়।

মঙ্গলবার সদর উপজেলার রানগর ইউনিয়নের বাহালিপাড়া এলাকা থেকে কচুকাটা বাজার এলাকার লেবু মিয়ার এই কমলার বাগান দেখতে এসেছিলেন তিনি।

দার্জিলিংয়ের পাহাড়ি এলাকার সাদকি কমলার চাষ করছেন লেবু মিয়া। এই কমলার সুখ্যাতি আছে বিভিন্ন দেশে।

নিউজবাংলাকে অতুল রায় বলেন, ‘ভাবতাম আমাদের দেশে এই ফল চাষ সম্ভব না। কিন্তু এ অসম্ভবও বাংলাদেশে সম্ভব হয়েছে।’

লেবু মিয়ার বাগানে বাগানে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে আছেন তার ছেলে আশেকে রসুল মামুন ওরফে এ আর মামুন। দার্জিলিংয়ের পাহাড়ি এলাকার এই কমলা দেশের মাটিতে চাষ করে সাফল্য দেখিয়েছেন বাবা ও ছেলে।

শুধু সাদকি কমলাই নয়, চায়না কমলা, সাউথ আফ্রিকান মাল্টা, ভিয়েতনাম মাল্টা, বারি মাল্টা, লিচু, আম, বরই (কূল), কাজুবাদাম, বারোমাসি আমলকি, ত্বীনফল, চেরিফল, আপেল আবাদেও সফল তারা।

সম্প্রতি ১৬ শতাংশ জমিতে মামুনের বাগানে গিয়ে দেখা গেছে, পুষ্টিসমৃদ্ধ সাদকি কমলায় ভরে গেছে ৬০টি গাছ। তিন থেকে সাড়ে তিন বছর বয়সী একটি গাছে কমলা ধরেছে অনন্ত ৪০কেজি। যা ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে বাগানেই। এ ছাড়া ৬০০টি কমলার চারা রাখা হয়েছে চার বিঘা এলাকা জুড়ে।

মামুন বলেন, ‘২০১৩ সালে বাবাকে নিয়ে ভারতের দার্জিলিং যাই। সেখান থেকে দুটি সাদকি কমলার চারা নিয়ে এসে নার্সারিতে লাগাই। পর্যায়ক্রমে বেশ কিছু চারা তৈরি হয়। এখন ৬০টি পরিপূর্ণ গাছে কমলা হচ্ছে। ২০১৭ সাল থেকে কমলা হচ্ছে এ
কমলা বাগানে।’

তিনি জানান, ২০০১ সালে এক বিঘা জমিতে নার্সারি শুরু করেন তার বাবা লেবু মিয়া। বিভিন্ন প্রজাতির চারা উৎপাদন শুরু করেন তিনি। বর্তমানে ৪৫ বিঘা জমির নার্সারিতে চাষ করছেন নানা ফল। জমির ১৩ বিঘা নিজের আর বাকি ৩২ বিঘা ভাড়ায় নেয়া হয়েছে।

স্থানীয় রমজান আলী বলেন, ‘মামুন ভাইয়ের বাগানে গেলে মনটা ভরে যায়। চেষ্টা করে সফল হইছেন তিনি। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ তার বাগানের কমলা নিয়ে যাচ্ছেন। চারা নিয়ে যাচ্ছেন বাগান করতে। নীলফামারী এখন কমলার জেলায় পরিচিতি লাভ করছে।’

নার্সারি মালিক লেবু মিয়া জানান, তার বাগানে কমলার দুটি গাছ লাগানোর এক বছর পর ফল দেয়া শুরু করে। গাছের সংখ্যা পরে বাড়ানো হয়। আগে দুজন কাজ করলেও এখন ২৫ জন কাজ করছেন পুরো নার্সারিতে।

তিনি বলেন, ‘এখন ভারত নয় নীলফামারীর সমতল ভূমিতে কমলা আবাদ হচ্ছে। অনেক ভালো মানের কমলা উৎপাদন হচ্ছে। যারা বাগান করতে চান আমার বাগানে দেখে যেতে পারেন।’

ছেলে মামুন বলেন, ‘দেশের ৬৪ জেলায় সাদকি কমলার চারা যাচ্ছে আমাদের বাগান থেকে। বাস-ট্রেন এমনকি কুরিয়ারেও পাঠানো হচ্ছে চারা। বিভিন্ন সময়ে এ বাগান পরিদর্শন করেছেন সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

‘সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক সাদকি কমলার খবর পেয়ে আমাকে ফোন করেছিলেন। বাগান পরিদর্শনে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নীলফামারীর উপ-পরিচালক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘এ জেলার মাটি লেবু জাতীয় ফল চাষের জন্য উপযোগী। এখানে আবহাওয়া ও মাটি অনুকূল থাকায় প্রচুর মাল্টা ও কমলার চাষ হচ্ছে।’

নিউজবাংলার প্রতিবেদককে তিনি বলেন, ‘সম্ভবনাময় সাদকি কমলার চাষ বাণিজ্যিকভাবে ছড়িয়ে দিতে পারলে অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হবে আমাদের কৃষকরা। অন্যদিকে পুষ্টি চাহিদা পুরণেও এ ফল ভূমিকা রাখবে।’

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নীলফামারীর চিলাহাটিতে আব্দুল্লাহ, সোনারায়ে রিয়াসাত, পঞ্চপুকুরে মনিরুজ্জামান বাণিজ্যিকভাবে বিভিন্ন প্রজাতির কমলা চাষ করছেন।

আরও পড়ুন:
চাল ছেঁটে মিনিকেট নামে বিক্রি বন্ধ নয় কেন, প্রশ্ন হাইকোর্টের
সরকারি চালসহ ধরা, দৌড়ে পালালেন ইউপি সদস্য
ভিজিডির ৩৩ বস্তা চাল জব্দ, আটক ১
নারীদের ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের বিশেষ উদ্যোগ
ফুলপুরে সরকারি চাল জব্দ: ব্যবসায়ীকে আসামি করে মামলা

শেয়ার করুন

তিস্তার পানি গড়াবে ৫৩ হাজার হেক্টর জমিতে

তিস্তার পানি গড়াবে ৫৩ হাজার হেক্টর জমিতে

২০০৩ সালে সেচ কার্যক্রম শুরু করে তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প। ৭৬০ কিলোমিটার নালা থেকে এই সেচ সুবিধা দেয়া হয় কৃষকদের। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৮৪ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেয়া সম্ভব হলেও সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে তা এখনও সম্ভব হয়নি।

৫৩ হাজার হেক্টর জমিতে তিস্তার সেচ দেয়া হচ্ছে চলতি বোরো মৌসুমে। এর মাধ্যমে এবার তিন জেলার ৫ লাখ ১২ হাজার কৃষক সেচসুবিধা পাচ্ছেন।

এবারই সবচেয়ে বেশি এলাকায় সেচ দিচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। সুবিধাভোগীর হিসেবে এবার অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে।

তিস্তা সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে ৮৪ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেয়া সম্ভব হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে এর আগে সেচ প্রদানে ব্যাঘাত ঘটেছে।

সূত্র মতে, ২০১৬ সালে ১০ হাজার, ২০১৭ সালে ৮ হাজার, ২০১৮ সালে ৩৫ হাজার, ২০১৯ সালে ৪০ হাজার, ২০২০ সালে ৪১ হাজার এবং ২০২১ সালে ৫৩ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেয়া হয়।

গত মৌসুমে নির্ধারণ করা লক্ষ্যমাত্রা এবারও ঠিক রেখে ৫৩ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা ইতিমধ্যে শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বছরে প্রতি বিঘা জমিতে সেচের জন্য ১৬০ টাকা নেয়া হয় কৃষকদের কাছ থেকে এবং একর প্রতি (তিন বিঘা) নেয়া হয় ৪৮০ টাকা।

নীলফামারী, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার ১২ উপজেলার ২৪২টি পানি ব্যবস্থাপনা সমিতির সহযোগিতায় প্রস্তাবিত এলাকায় পর্যায়ক্রমে সেচ দেয়া হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, ২০০৩ সালে সেচ কার্যক্রম শুরু করে তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প। টারশিয়ারি ও সেকেন্ডারি মিলে ৭৬০ কিলোমিটার নালা থেকে এই সেচ সুবিধা দেয়া হয় কৃষকদের।

পানি ব্যবস্থাপনা সমিতি কিশোরগঞ্জ উপজেলার সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সেচ পাম্প বা শ্যালো মেশিন দিয়ে বোরো আবাদে যেখানে ১০ হাজার টাকা খরচ হয়, সেখানে তিস্তা সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে তা মাত্র ৪৮০ টাকায় সম্ভব।’

পানির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে আমরা পানি ব্যবস্থাপনা সমিতির সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি। কোথাও কম বা বেশি নয়। যেখানে যতটুকু পানি প্রয়োজন সেখানে ঠিক ততটুকু পানি দিতে প্রস্তুত আমরা।

জাহাঙ্গীর জানান, সেচ সুবিধা ভালো পেতে গত মৌসুমে তারা জানুয়ারির প্রথম দিকেই বোরো আবাদ শুরু করেছিলেন। এবারও তা-ই হয়েছে। আগামী এপ্রিল পর্যন্ত তিস্তার সেচ সুবিধা পাওয়ার আশা তাদের।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া বিভাগের কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রাফিউল বারী শামীম বলেন, ‘পানির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে আমরা পানি ব্যবস্থাপনা সমিতির সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি। কোথাও কম বা বেশি নয়। যেখানে যতটুকু পানি প্রয়োজন, সেখানে ঠিক ততটুকু পানি দিতে প্রস্তুত আমরা।’

তিনি বলেন, সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে অতীতে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যাঘাত ঘটলেও এবার তা হবে না। প্রকল্প এলাকার ২৪২টি সমিতির সঙ্গে আলোচনা করেই রোটেশন অনুযায়ী পানি দেয়া হবে।

জলঢাকা উপজেলা পানি ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা তিস্তার পানি দিয়েই বোরো আবাদ করি। খরচ কম। সময়মতো পানিও পাওয়া যায়।’

কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রাফিউল বারী শামীম বলেন, ‘তিস্তা ব্যারাজ রিজার্ভারে বর্তমানে ১৫ হাজার কিউসেক পানি রয়েছে, যা দিয়ে নির্ধারিত এলাকাগুলোতে পানি দেয়া সম্ভব। নদীতে ফেব্রুয়ারির দিকে পানি কমতে থাকে। তারপরও রোটেশন অনুযায়ী দিলে সমস্যা হয় না।’

তিনি জানান, সমস্যা এড়াতেই কৃষকদের জানুয়ারির প্রথম থেকেই বোরো আবাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আশফাউদৌলা জানান, এবারের চেয়ে আগামী বছর আরও বেশি এলাকায় পানি দেয়ার চেষ্টা করবে পানি উন্নয়ন বোর্ড। সে অনুযায়ী পরিকল্পনায়ও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘মৌসুমজুড়ে সেচ প্রকল্প এলাকায় মনিটর করবেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা কর্মচারীরা। বিশেষ করে, কেউ যেন পাইপিং করে পানি নিতে না পারেন। এটা করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
চাল ছেঁটে মিনিকেট নামে বিক্রি বন্ধ নয় কেন, প্রশ্ন হাইকোর্টের
সরকারি চালসহ ধরা, দৌড়ে পালালেন ইউপি সদস্য
ভিজিডির ৩৩ বস্তা চাল জব্দ, আটক ১
নারীদের ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের বিশেষ উদ্যোগ
ফুলপুরে সরকারি চাল জব্দ: ব্যবসায়ীকে আসামি করে মামলা

শেয়ার করুন

নাসার মহাকাশচারীদের খাবার চাষ নীলফামারীতে

নাসার মহাকাশচারীদের খাবার চাষ নীলফামারীতে

উত্তরের জেলা নীলফামারীতে চাষাবাদ হচ্ছে ইউরোপের ফসল কিনোয়া। ছবি: নিউজবাংলা

কিনোয়া দানাদার শস্য। এতে প্রচুর অ্যামাইনো অ্যাসিড, ফাইবার, ভিটামিন, মিনারেল, পটাশিয়াম ও আয়রন থাকার কারণে নাসার মহাকাশচারীরা এটি খেয়ে থাকেন।

সারা বিশ্বে সুপারফুড হিসেবে পরিচিত ‘কিনোয়া’ আবাদ হচ্ছে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে। এখানকার মাগুড়া ইউনিয়নের দুই কৃষক এক বিঘা জমিতে এটি চাষ করছেন এবার।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা তুষার কান্তি রায় এই দানাদার ফসল আবাদে পথ দেখাচ্ছেন কৃষকদের।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, কিনোয়া দানাদার শস্য। এতে প্রচুর অ্যামাইনো অ্যাসিড, ফাইবার, ভিটামিন, মিনারেল, পটাশিয়াম ও আয়রন থাকায় নাসার মহাকাশচারীরা এটি খেয়ে থাকেন।

গ্লাইসেন ইনডেক্স কম থাকায় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি উপকারী। এতে প্রোটিন আছে ১৪-১৮ শতাংশ। ওজন কমানোয় এটি সহযোগিতা করে। সবজি হিসেবেও এটি সুস্বাদু। পোলাও, খিচুড়ি হিসেবে খাওয়া যায়। আবার সালাদ, স্যান্ডউইচেও ব্যবহার করা যায়। রান্না করলে এটি পরিমাণে চার গুণ বৃদ্ধি পায়। পেটে দীর্ঘ সময় থাকে। স্থানীয়ভাবে চাষ হওয়া কাউনের বিকল্প হিসেবে কিনোয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কিনোয়ার বীজ শস্য হিসেবে খাওয়া হয়। দক্ষিণ আমেরিকা থেকে এটির চাষ ছড়িয়ে পড়েছে। ১৯৮৩ সাল থেকে এটি যুক্তরাষ্ট্রে চাষ হচ্ছে। ইউরোপের কয়েকটি দেশেও এর বাণিজ্যিক চাষ হয়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক উঁচুতে পাহাড়ি অঞ্চলে এটি চাষ হলেও বাংলাদেশের জলবায়ুর উপযোগী জাত তৈরি করেছেন স্থানীয় বিজ্ঞানীরা।

গবেষণা করে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. পরিমল কান্তি বিশ্বাস এই কিনোয়ার দেশে চাষযোগ্য প্রকরণ উদ্ভাবন করেছেন, যা কৃষকদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জসহ কয়েকটি উপজেলায় এর আবাদ শুরু হয়েছে।

মাগুড়া ইউনিয়নের মাস্টারপাড়া গ্রামের কৃষক শাহজাহান আলী ১২ শতক এবং পাশের গ্রামের কৃষক বিহারী রায় ২০ শতক জমিতে কিনোয়া আবাদ করেছেন।

কৃষক শাহজাহান আলী বলেন, ‘এটা অনেক দামি ফসল। এর আগে কখনও এদিকে চাষ হয়নি। এক বিঘা জমিতে আবাদ শেষে লাখ টাকারও বেশি লাভ পাওয়া যাবে আশা করি।’

আরেক কৃষক বিহারী রায় বলেন, ‘কৃষি অফিসার উৎসাহ দিয়েছেন এই ফসল আবাদের জন্য। বীজ এনে দিয়েছেন। সেটি লাগিয়েছি। দামি ফসল এটি।’

বিঘাপ্রতি অন্তত পাঁচ মণ ফলন হতে পারে কিনোয়ার। ৭৫ থেকে ৮০ দিনের মধ্যে ঘরে ফসল তোলা যাবে। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো খরচ করতে হয়নি আবাদে।

কিশোরগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা তুষার কান্তি রায় জানান, এই ফসল উদ্ভাবনের পর যে চার-পাঁচটি উপজেলায় আবাদ হচ্ছে, তার মধ্যে কিশোরগঞ্জ একটি।

বীজ এনে কৃষককে উদ্বুদ্ধ করে এখানে আবাদ শুরু করা হয়েছে দুই কৃষককে দিয়ে।

তিনি বলেন, ‘এটি পুরোপুরি নতুন শস্য। চাহিদা রয়েছে অনেক। সুপারশপে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত কেজিতে বিক্রি হয়। আগামী দিনে এক একর জমিতে কিনোয়া আবাদের লক্ষ্য রয়েছে।’

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. পরিমল কান্তি বিশ্বাস জানান, ধনী-গরিব সবার জন্য এই ফসল উদ্ভাবন করা হয়েছে, যাতে পুষ্টি চাহিদা পূরণে সহায়ক হয়।

তিনি বলেন, এই ফসল উৎপাদনের পর বাজারজাত করা নিয়েও প্রস্তাব তৈরি করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
চাল ছেঁটে মিনিকেট নামে বিক্রি বন্ধ নয় কেন, প্রশ্ন হাইকোর্টের
সরকারি চালসহ ধরা, দৌড়ে পালালেন ইউপি সদস্য
ভিজিডির ৩৩ বস্তা চাল জব্দ, আটক ১
নারীদের ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের বিশেষ উদ্যোগ
ফুলপুরে সরকারি চাল জব্দ: ব্যবসায়ীকে আসামি করে মামলা

শেয়ার করুন