মানবদেহে নতুন পেশির সন্ধান

player
মানবদেহে নতুন পেশির সন্ধান

কানের ঠিক সামনের দিকে (লাল অংশ) নতুন পেশির অবস্থান চিহ্নিত করেছেন বিজ্ঞানীরা। গ্রাফিক্স: সংগৃহীত

গবেষক দলের সদস্য ক্রিস্টফ টুর্প বলেন, ‘গত ১০০ বছরের শারীরবিদ্যার গবেষণায় নতুন আর কিছু উন্মোচনের বাকি নেই বলে মনে করা হয়ে থাকে। তবে আমাদের এ আবিষ্কারটি নতুন প্রজাতির মেরুদণ্ডী কোনো প্রাণী আবিষ্কারের চেয়ে কোনো অংশে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।’

পৃথিবীর সীমা ছাড়িয়ে এখন ভিনগ্রহেও প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজছে মানুষ। অথচ মানুষের দেহের ভেতরেই বহু রহস্যের সুরাহা এখনও বাকি।

বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি মানবদেহে নতুন এক পেশি খুঁজে পেয়েছেন যার অস্তিত্ব এতদিন ছিল অজানা। চোয়ালের পেছনের দিকে এই পেশির অবস্থান। ম্যাসিটার পেশির অন্তর্গত এ পেশিটি নিচের চোয়ালকে নড়াতে ও খাবার চিবুতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আধুনিক শারীরবিদ্যার বইগুলোতে বলা আছে, ম্যাসিটার পেশির দুটি স্তর আছে। একটি গভীর এবং আরেকটি অগভীর। তবে কিছু প্রাচীন বইয়ে পেশির তৃতীয় আরেকটি স্তরের কথা বলা হয়েছে, যেটি এর অবস্থানের সঙ্গে একেবারেই বেমানান।

আর সেই ‘তৃতীয় স্তরটি’ নতুন করে যাচাই করেছেন সুইজারল্যান্ডের একদল বিজ্ঞানী। তাদের গবেষণার ফল গত ২ ডিসেম্বর অ্যানালস অফ অ্যানাটমি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণায় ফরমালডিহাইডে সংরক্ষিত ১২টি মৃতদেহের মাথায় বিস্তর কাটাছেঁড়া করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ১৬টি নতুন মৃতদেহের সিটি স্ক্যান ও একটি জীবন্ত দেহের এমআরআই করেছেন বিজ্ঞানীরা।

আর এসব পরীক্ষার মাধ্যমে ম্যাসিটার পেশির অন্তর্গত, তবে ‘শারীরবৃত্তিকভাবে আলাদা’ একটি তৃতীয় স্তরকে চিহ্নিত করা গেছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, চোয়ালের হাড়ের মতো দেখতে জায়গা যেটাকে ‘চিক বোন’ বলা হয়, সেই জাইগোম্যাটিক অস্থি থেকে শুরু হয় পেশির এই অতি-গভীর স্তরটি। কানের ঠিক সামনের দিকেই এর অবস্থান। এরপর এটি চলে গেছে নিচের চোয়ালের ত্রিভুজাকৃতির করোনয়েড প্রসেসের দিকে।

ইউনিভার্সিটি অফ বাসেলের বায়োমেডিসিন বিভাগের শিক্ষক সিলভিয়া মেজুই এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ম্যাসিটার পেশির এই গভীর অংশটি বৈশিষ্ট্য ও কার্যপ্রণালির দিক থেকে অন্য দুটি স্তর থেকে স্পষ্টতই আলাদা।’

গবেষক দল তাদের নিবন্ধে লিখেছেন, পেশির আঁশের বিন্যাস দেখে বোঝা যায়, এই পেশিটি করোনয়েড প্রসেসের ‘প্রসারণ ও সংকোচনের’ মাধ্যমে নিচের চোয়ালকে স্থিতিশীলতা দেয়।

মেজুইয়ের মতে, চোয়ালের হাড়কে পেছনের দিকে টেনে রাখা ম্যাসিটার পেশির অংশেই নতুন এই পেশিস্তরের অবস্থান।
বাসেল ইউনিভার্সিটি সেন্টার ফর ডেন্টাল মেডিসিনের অধ্যাপক ও চিকিৎসক ইয়েনস ক্রিস্টফ টুর্প বলেন, ‘গত ১০০ বছরের শারীরবিদ্যার গবেষণায় নতুন আর কিছু উন্মোচনের বাকি নেই বলে মনে করা হয়ে থাকে। তবে আমাদের এ আবিষ্কারটি নতুন প্রজাতির মেরুদণ্ডী কোনো প্রাণী আবিষ্কারের চেয়ে কোনো অংশে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।’

গবেষণাপত্রে নতুন এ পেশির নাম দেয়া হয়েছে ‘মাসকুলাস ম্যাসিটার পারস করোনিডি’, এর অর্থ দাঁড়ায়- ম্যাসিটারের করোনয়েড অংশ।

গবেষকদের দাবি, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এ আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নতুন এ পেশিস্তর সম্বন্ধে চিকিৎসকেরা অবগত থাকলে চোয়ালের ওই অংশে অস্ত্রোপচার আরও নিখুঁত হবে। এ ছাড়া চোয়ালের হাড়কে খুলির সঙ্গে সংযোগকারী জয়েন্টের চিকিৎসা আরও ভালোভাবে করা যাবে।

আরও পড়ুন:
হাজার বছর পর ফিরে এলো তারা
ভায়াগ্রায় কমে আলঝেইমার্স
কল্পনার সবকিছু স্পর্শের ক্ষমতা পাচ্ছে মানুষ  
বার্ধক্য রুখে দিতে আসছে টিকা
অ্যাজমা কমায় ব্রেন টিউমারের ঝুঁকি!

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পৃথিবীর পাশ দিয়ে ছুটে যাবে ১ কিলোমিটারের গ্রহাণু

পৃথিবীর পাশ দিয়ে ছুটে যাবে ১ কিলোমিটারের গ্রহাণু

১৯৯৪ সালে সিডিং অবজারভেটরি থেকে মহাকাশের দিকে নজর রাখার সময় গ্রহাণু ৭৪৮২ (১৯৯৪ পিসি১) গ্রহাণুটি জোতির্বিজ্ঞানী রবার্ট ম্যাকনাগেট খুঁজে পান। ছবি: সংগৃহীত

ধুমকেতুর আঘাতে পৃথিবী ধ্বংস হওয়া নিয়ে নেটফ্লিক্সে ‘ডোন্ট লুক আপ’ নামের একটি চলচ্চিত্র ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এবার এমন কোনো আশঙ্কা নেই।

মানুষের সাপেক্ষে মহাবিশ্বের মহাজাগতিক বস্তুগুলো খুব দ্রুত চলে। কিন্তু দূরত্বের কারণে আমাদের কাছে সবকিছু স্থির মনে হয়। আমরা সূর্যের দিকে তাকাই, চাঁদের দিকে তাকাই, কিন্তু আমরা তাদের কক্ষপথে দ্রুতগতিতে ছুটে চলা টের পাই না। গ্রহাণুর বিষয়টি আলাদা। এ ক্ষেত্রে আমরা মহাজাগতিক কোনো বস্তুকে দ্রুতগতিতে ছুটতে দেখি।

আজ ১৮ জানুয়ারি পৃথিবীর মানুষ এমন একটি সুযোগ আবারও পেতে যাচ্ছে।

১ হাজার ৫২ মিটার দীর্ঘ গ্রহাণু ৭৪৮২ (১৯৯৪ পিসি১) আজ রাত ৯টা ৩১ মিনিটে (ইউনিভার্সাল টাইম) ১২ লাখ ৩০ হাজার মাইল দূর দিয়ে পৃথিবীকে অতিক্রম করবে, যা চাঁদের থেকে পৃথিবীর দূরত্বের পাঁচ গুণ।

সম্প্রতি উৎক্ষেপিত জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ যেই লাজারিয়ান অঞ্চলে অবস্থান করবে, ঠিক সেখান দিয়েই অতিক্রম করবে গ্রহাণুটি।

ধুমকেতুর আঘাতে পৃথিবী ধ্বংস হওয়া নিয়ে নেটফ্লিক্সে ‘ডোন্ট লুক আপ’ নামের একটি চলচ্চিত্র ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এবার এমন কোনো আশঙ্কা নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের প্ল্যানেটারি ডিফেন্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে গ্রহাণু ৭৪৮২ (১৯৯৪ পিসি১) এমন কোনো ঘটনাই ঘটাবে না। এটি পৃথিবী বা জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ কোনোটিরই ক্ষতি করবে না।

১৯৯৪ সালের ৯ জুন সিডিং অবজারভেটরি থেকে মহাকাশের দিকে নজর রাখার সময় গ্রহাণু ৭৪৮২ (১৯৯৪ পিসি১) গ্রহাণুটি জোতির্বিজ্ঞানী রবার্ট ম্যাকনাগেট খুঁজে পান।

আরও পড়ুন:
হাজার বছর পর ফিরে এলো তারা
ভায়াগ্রায় কমে আলঝেইমার্স
কল্পনার সবকিছু স্পর্শের ক্ষমতা পাচ্ছে মানুষ  
বার্ধক্য রুখে দিতে আসছে টিকা
অ্যাজমা কমায় ব্রেন টিউমারের ঝুঁকি!

শেয়ার করুন

সাগরতলে ১০ লাখ আগ্নেয়গিরি

সাগরতলে ১০ লাখ আগ্নেয়গিরি

সমুদ্রতলের আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের পর কী পরিস্থিতি হয়, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মাঝেই বিতর্ক আছে। ছবি: সংগৃহীত

গ্লোবাল ফাউন্ডেশন ফর ওশানিক এক্সপ্লোরেশন গ্রুপের মতে, আগ্নেয়গিরিসংক্রান্ত ঘটনাগুলোর চার ভাগের তিন ভাগই ঘটে সমুদ্রের তলদেশে।

হুঙ্গা-টোঙ্গা-হুঙ্গা-হা’আপায় আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র টোঙ্গাতে সুনামি আঘাত হেনেছে। এমনকি জাপানের শিকোকু দ্বীপের দক্ষিণ উপকূলের কোচি প্রশাসনিক অঞ্চলে আঘাত হেনেছে মৃদু সুনামি, কিন্তু ঠিক কী কারণে সাগরতলের হুঙ্গা-টোঙ্গা-হুঙ্গা-হা’আপায়ের অগ্ন্যুৎপাতে সুনামির সৃষ্টি হলো?

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জানুয়ারির ১৫ তারিখে হওয়া হুঙ্গা-টোঙ্গা-হুঙ্গা-হা’আপায়ের অগ্ন্যুৎপাত ঠিক কী কারণে সুনামির জন্ম দিল তা স্পষ্ট নয়।

আগ্নেয়গিরি বিশারদ ও বিজ্ঞানবিষয়ক সাংবাদিক রবিন জর্জ এন্ড্রুসের মতে, এটি কি অগ্ন্যুৎপাতে সৃষ্ট বিস্ফোরণের কারণে হয়েছে নাকি আগ্নেয়গিরির কোনো ধসে পানির স্থানচ্যুতি হয়েছে অথবা দুটির কারণেই হয়েছে। তা এখনও স্পষ্ট নয়।

তবে এন্ড্রুর মতে, হা’আপায়ে এ ধরনের বিস্ফোরণ হাজার বছরে একবারই হয়।

আসলে সমুদ্রতলের আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের পর কী পরিস্থিতি হয়, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মাঝেই বিতর্ক আছে।

হুঙ্গা-টোঙ্গা-হুঙ্গা-হা’আপায়ের মতো সাগরতলে প্রায় ১০ লাখ আগ্নেয়গিরি আছে।

এসব আগ্নেয়গিরি শুধু লাভাই উদগিরণ করে না, ব্যাপক পরিমাণে আগ্নেয়গিরির ছাইও তৈরি করে।

গ্লোবাল ফাউন্ডেশন ফর ওশানিক এক্সপ্লোরেশন গ্রুপের মতে, আগ্নেয়গিরিসংক্রান্ত ঘটনাগুলোর চার ভাগের তিন ভাগই ঘটে সমুদ্রের তলদেশে।

পানির নিচের আগ্নেয়গিরির কারণে সমুদ্র পর্বতও তৈরি হয়।

এদিকে হুঙ্গা-টোঙ্গা-হুঙ্গা হা’আপাই আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে বিভিন্ন দেশে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। উপকূলীয় এলাকা থেকে জনগণকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড।

তবে বড় আকারের সুনামি শুধু টোঙ্গাতেই আঘাত হেনেছে। এতে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার কারণে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও জানা সম্ভব হচ্ছে না।

আরও পড়ুন:
হাজার বছর পর ফিরে এলো তারা
ভায়াগ্রায় কমে আলঝেইমার্স
কল্পনার সবকিছু স্পর্শের ক্ষমতা পাচ্ছে মানুষ  
বার্ধক্য রুখে দিতে আসছে টিকা
অ্যাজমা কমায় ব্রেন টিউমারের ঝুঁকি!

শেয়ার করুন

পৌষে বিরল শিলাবৃষ্টি দেখল দেশ

পৌষে বিরল শিলাবৃষ্টি দেখল দেশ

বৃষ্টির সঙ্গে পড়া শিলা। ছবি: নিউজবাংলা

আবহাওয়াবিদ শাহিনুল ইসলাম বলেন, ‘ভূমি থেকে ওপরে উঠতে থাকলে তাপমাত্রা প্রতি কিলোমিটারে ৫-৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে যেতে পারে। সাধারণত পাঁচ-ছয় কিলোমিটারের মধ্যে মাইনাস তাপমাত্রা শুরু হয়। এই অবস্থায় বায়ুতে থাকা পানি ওই শীতল বায়ুর সংস্পর্শে বরফ জমাট বাঁধতে শুরু করে। একপর্যায়ে বরফখণ্ডগুলো ওজনের কারণে বায়ুপ্রবাহ থেকে আলাদা হয়ে বৃষ্টির সঙ্গে নিচের দিকে পড়তে থাকে।’

পৌষের শেষ দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও বগুড়ায় শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে ফসলের। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, দেশে সাধারণত বৈশাখ মাসে বৃষ্টির সঙ্গে শিলা পড়লেও পৌষের শীতে এ ঘটনা বিরল, তবে অস্বাভাবিক নয়।

আবহাওয়াবিদ শাহিনুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘ঝড়ো আর সংকটপূর্ণ আবহাওয়ায় যখন শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহ ওপরের দিকে উঠতে থাকে, তখন জলীয় বাষ্প তাপ হারিয়ে মেঘে রূপান্তরিত হয়। সেই মেঘ যখন পরিবেশগত কারণে আরও ওপরে ওঠে, তখন তৈরি হয় শিলা বা বরফখণ্ড। একে বলা হয় পরিচালন প্রক্রিয়া। এই ধাপে মেঘের অগ্রভাগ ১০-১৪ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে।

‘ভূমি থেকে ওপরে উঠতে থাকলে তাপমাত্রা প্রতি কিলোমিটারে ৫-৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে যেতে পারে। সাধারণত পাঁচ-ছয় কিলোমিটারের মধ্যে মাইনাস তাপমাত্রা শুরু হয়। এই অবস্থায় বায়ুতে থাকা পানি ওই শীতল বায়ুর সংস্পর্শে বরফ জমাট বাঁধতে শুরু করে। একপর্যায়ে বরফখণ্ডগুলো ওজনের কারণে বায়ুপ্রবাহ থেকে আলাদা হয়ে বৃষ্টির সঙ্গে নিচের দিকে পড়তে থাকে। ওই দুই জেলার আবহাওয়ায় এমনটা ঘটে থাকতে পারে।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বুধবার রাতে শিলাবৃষ্টি হয়। এতে সরিষা, পেঁয়াজ, মসুরসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলায় শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এতে বোরো বীজতলা ২৪ হেক্টর, আলু ৫ হেক্টর, গম ৫১ হেক্টর, সরিষা ৩৬৫ হেক্টর, ডালজাতীয় ফসল ১২ হেক্টর, পেঁয়াজ ১৫৮ হেক্টর, শাকসবজি ১৬৮ হেক্টর, স্ট্রবেরি এক হেক্টরসহ সব মিলিয়ে ৮২১ হেক্টর জমিতে ক্ষতি হয়েছে। আগামীতে ক্ষতিগ্রস্তরা প্রণোদনায় অগ্রাধিকার পাবেন।'

শিলাবৃষ্টি হয়েছে বগুড়ায়ও। সদর উপজেলার পাশাপশি শিবগঞ্জ, গাবতলী, সারিয়াকান্দি ও সোনাতলায় বুধবার রাতে বৃষ্টির সঙ্গে শিলা পড়েছে।

আবহাওয়া অফিসের সহকারী পর্যবেক্ষক আশিকুর রহমান জানান, দুই দফায় বৃষ্টি হয়েছে ১৬ মিলিমিটার। প্রথমে রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত ১৫ মিলিমিটার। পরে আবার রাত ৩টা থেকে ৩টা ৪৪ মিনিট পর্যন্ত এক মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। দুবারই বৃষ্টির সঙ্গে শিলা পড়েছে। এতে সরিষা ও আলু আবাদে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

আরও পড়ুন:
হাজার বছর পর ফিরে এলো তারা
ভায়াগ্রায় কমে আলঝেইমার্স
কল্পনার সবকিছু স্পর্শের ক্ষমতা পাচ্ছে মানুষ  
বার্ধক্য রুখে দিতে আসছে টিকা
অ্যাজমা কমায় ব্রেন টিউমারের ঝুঁকি!

শেয়ার করুন

শূকরের মস্তিষ্ককোষ সারাতে পারে মৃগীরোগ

শূকরের মস্তিষ্ককোষ সারাতে পারে মৃগীরোগ

সামুদ্রিক শৈবালের সংস্পর্শে এসে তার মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ক্রোনাট এখন সুস্থ। ছবি: সংগৃহীত

২০২০ সালে সার্জনরা সি লায়নের মস্তিষ্কে একটি পরীক্ষামূলক অস্ত্রোপচার চালান। যেখানে একটি স্বাস্থ্যবান শূকরের মস্তিষ্ক থেকে কোষ সংগ্রহ করে ক্রোনাটের মস্তিষ্কে স্থাপন করা হয়।

ক্রোনাট নামের এক সি লায়ন তার জীবনের দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু করেছে। আর এর অবদান পুরোটাই আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের।

ডেইলিমেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার সান লুইস ওবিসপো কাউন্টির বিচে একটি সি লায়ন পাওয়া যায়। তার নাম রাখা হয় ক্রোনাট।

বিষাক্ত সামুদ্রিক শৈবালের সংস্পর্শে এসে তার মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সি লায়নটি মৃগীরোগে আক্রান্ত হয়। ফলে প্রায়ই তার খিঁচুনি হতো।

২০২০ সালে সার্জনরা তার মস্তিষ্কে একটি পরীক্ষামূলক অস্ত্রোপচার চালান। যেখানে একটি স্বাস্থ্যবান শূকরের মস্তিষ্ক থেকে কোষ সংগ্রহ করে ক্রোনাটের মস্তিষ্কে স্থাপন করা হয়।

সার্জারির এক বছরের বেশি সময় পর ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরো সায়েন্টিস্ট স্কট বারবারান ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকে জানান, ক্রোনাটের এখন আর খিঁচুনি হয় না। সে খাবারের আগ্রহও ফিরে পেয়েছে। তার ওজনও স্বাভাবিক অবস্থায় চলে এসেছে।

গবেষকরা একই চিকিৎসাপদ্ধতি এখন মানুষের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার চিন্তাভাবনা করছেন।

উটাহ ইউনিভার্সিটির ফার্মাকোলজি ও টক্সিকোলজির প্রফেসর কারেন উইলসন এই চিকিৎসাপদ্ধতিকে খুবই আশাব্যঞ্জক হিসেবে মনে করছেন।

তিনি বলেন, যেসব মৃগীরোগী ওষুধে উপকার পাচ্ছেন না, তাদের জন্য এই চিকিৎসাপদ্ধতি আশীর্বাদ হতে পারে।

মৃগী মূলত একটি নিউরোলজিক্যাল বা স্নায়বিক রোগ। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে খিঁচুনি হয়। মস্তিষ্কে আঘাত, স্ট্রোক, মস্তিষ্কে টিউমার বা সংক্রমণ, জন্মগত ত্রুটি প্রভৃতিকে এ রোগের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশ্বে প্রায় ৫ কোটি মানুষ এ রোগে আক্রান্ত।

আরও পড়ুন:
হাজার বছর পর ফিরে এলো তারা
ভায়াগ্রায় কমে আলঝেইমার্স
কল্পনার সবকিছু স্পর্শের ক্ষমতা পাচ্ছে মানুষ  
বার্ধক্য রুখে দিতে আসছে টিকা
অ্যাজমা কমায় ব্রেন টিউমারের ঝুঁকি!

শেয়ার করুন

যে প্রজাতির ছাগল বিলুপ্ত হয়েছিল দুইবার

যে প্রজাতির ছাগল বিলুপ্ত হয়েছিল দুইবার

বুকার্ডোর মৃত্যুর পর তার শরীরের কোষ মাইনাস ১৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় তরল নাইট্রোজেনে ডুবিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

গল্পের শুরুটা ১৯৯৯ সালের। সে বছর বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয় পৃথিবীতে আর একটি মাত্র বুকার্ডো বেঁচে আছে। বিজ্ঞানিরা তার নাম রাখে সিলিয়া, শেষ বুকার্ডো হওয়ায় এর গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য আলবার্তো ফার্নান্দেজ নামের একজন বন্যপ্রাণী চিকিৎসক তার গলায় একটি রেডিও বেঁধে দেন।

প্রাণীজগতের কোনো প্রজাতি কি দুইবার বিলুপ্ত হতে পারে? সে কী করে সম্ভব? অথচ এই ঘটনাটিই ঘটেছে পাহাড়ি ছাগল হিসেবে পরিচিত বুকার্ডোর ক্ষেত্রে।

গল্পের শুরুটা ১৯৯৯ সালের। সে বছর বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয় পৃথিবীতে আর একটি মাত্র বুকার্ডো বেঁচে আছে। বিজ্ঞানিরা তার নাম রাখে সিলিয়া, শেষ বুকার্ডো হওয়ায় এর গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য আলবার্তো ফার্নান্দেজ নামের একজন বন্যপ্রাণী চিকিৎসক তার গলায় একটি রেডিও বেঁধে দেন।

এর ঠিক ৯ মাস পর ২০০০ সালের জানুয়ারিতে গাছের নিচে চাপা পড়ে মারা যায়।

বুকার্ডোর মৃত্যুর পর তার শরীরের কোষ মাইনাস ১৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় তরল নাইট্রোজেনে ডুবিয়ে সংরক্ষণ করা হয়।

পরবর্তী সময়ে জোশ ফ্লোচ নামের ফ্রাঙ্কো-স্প্যানিশ বিজ্ঞানীদের দল মরে যাওয়া বুকার্ডোকে পুনরায় পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়।

এটা খুব একটা সহজ কাজ ছিল না। প্রথম ক্লোন করা ভেড়া ডলিকে যেভাবে ক্লোন করা হয়েছিল। সেই কৌশলেই বিজ্ঞানীরা বুকার্ডো প্রজাতিকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছিলেন।

তারা সিলিয়ার কোষ থেকে সংগ্রহ করা নিউক্লিয়াস সংগ্রহ করে ৫৭টি স্যারোগেট প্রজাতির ছাগলের মাতৃগর্ভের ভ্রূণে স্থাপন করে। যার মধ্যে কেবল ৭টি ছাগল গর্ভবতী হয়। এর মধ্যে ৬টি ছাগলের গর্ভপাত হয়। শুধু একটি ছাগল সেলিয়ার ক্লোনকে জন্ম দিতে সক্ষম হয়।

পৃথিবীতে আবারও ফিরে আসে বুকার্ডো প্রজাতির ছাগল। যা ছিল বিলুপ্ত কোনো প্রজাতিকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টায় প্রথম সফলতা। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেলিয়ার ক্লোনটি মাত্র ১০ মিনিট বেঁচেছিল। পৃথিবীর একমাত্র প্রজাতি হিসেবে দুবার বিলুপ্ত হয় বুকার্ডো।

বিজ্ঞানীরা আবারও ২০১৩ সালে সিলিয়ার কোষগুলো পরীক্ষা করার জন্য তহবিল পেয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে সেলিয়াকে পুনরায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেননি তারা।

বুকার্ডো স্পেনে পাইরেনিয়ান আইবেক্স বা পর্বত ছাগল নামে পরিচিত ছিল। দেশটির পাইরেনিয়ান পর্বতমালায় এদের দেখতে পাওয়া যেত।

আরও পড়ুন:
হাজার বছর পর ফিরে এলো তারা
ভায়াগ্রায় কমে আলঝেইমার্স
কল্পনার সবকিছু স্পর্শের ক্ষমতা পাচ্ছে মানুষ  
বার্ধক্য রুখে দিতে আসছে টিকা
অ্যাজমা কমায় ব্রেন টিউমারের ঝুঁকি!

শেয়ার করুন

বাতাসে ৫ মিনিটেই কুপোকাত করোনা

বাতাসে ৫ মিনিটেই কুপোকাত করোনা

সামাজিক দূরত্ব আর মাস্ক পরিধান ছাড়া করোনা আক্রান্ত ঠেকানো সম্ভব না। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

গবেষক দলের জোনাথন রিড বলেন, ‘করোনা প্রশ্নে বায়ু চলাচল আছে এমন বাসস্থানের দিকে জোর দিচ্ছেন অনেকে। তাদের বিশ্বাস, করোনা বায়ুবাহিত এবং আলো-বাতাস চলাচল কম এমন জায়গায় ভাইরাসটি বেশি ছড়ায়। বিষয়টা যে একেবারে ভুল, তা নয়। তবে সংক্রমণের ঝুঁকি তখনই বেশি থাকবে, যখন আপনি আক্রান্ত ব্যক্তির কাছাকাছি থাকবেন।’

বাতাসে ২০ মিনিট ভেসে থাকলে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ক্ষমতা ৯০ শতাংশ কমে যায়। আর এটি সিংহভাগ ক্ষমতা হারায় প্রথম ৫ মিনিটে।

ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব ব্রিস্টল-এর অ্যারোসল রিসার্চ সেন্টার সম্প্রতি এমনটা দাবি করেছে। সংক্রমণ থেকে বাঁচতে তাই সামাজিক দূরত্ব ও মাস্ক ব্যবহারে জোর দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাতাসে সংক্রমণ ক্ষমতা কমে গেলেও, এ অবস্থায় ভাইরাসটি বেঁচে থাকে অন্তত ৩ ঘণ্টা।

গবেষক দলের প্রধান ও ইউনিভার্সিটি অব ব্রিস্টলের অ্যারোসল রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক জোনাথন রিড বলেন, ‘করোনা প্রশ্নে বায়ু চলাচল আছে এমন বাসস্থানের দিকে জোর দিচ্ছেন অনেকে। তাদের বিশ্বাস, করোনা বায়ুবাহিত; আলো-বাতাস চলাচল কম এমন জায়গায় ভাইরাসটি বেশি ছড়ায়।

বিষয়টি যে একেবারে ভুল তা কিন্তু নয়। তবে সংক্রমণের ঝুঁকি তখনই বেশি থাকবে, যখন আপনি আক্রান্ত ব্যক্তির কাছাকাছি থাকবেন। আপনি যত দূরে থাকবেন তত নিরাপদ থাকবেন।’

গবেষণা প্রক্রিয়া

বাতাসে ভাইরাসটি কতক্ষণ বাঁচে, তা জানতে বিশেষ একটি পরীক্ষা চালিয়েছেন গবেষকরা। গোল্ডবার্ড নামে একটি পরিত্যক্ত জাহাজে বদ্ধ পরিবেশে করোনার ভাইরাস স্প্রে করেন তারা। তারপর জাহাজটিকে দোলানো হয়, যেন ড্রপলেটের ভাইরাস ভালো করে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এই পরীক্ষায় গবেষকরা দেখেন, ক্ষমতা হারাতে হারাতে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে করোনার এই নতুন ভাইরাসটি। যদিও হাঁচি-কাশির সঙ্গে বের হওয়া ড্রপলেটে এই ভাইরাসের কী অবস্থা হয় তা জানা যায়নি।

পরবর্তীতে গবেষকরা একটি যন্ত্রের সাহায্যে অতিক্ষুদ্র ও ভাইরাসবাহী কণা সংগ্রহ করে তা দুটি বৈদ্যুতিক বৃত্তের ভেতর ৫ সেকেন্ড থেকে ২০ মিনিট পর্যন্ত ভাসতে দেন। এ সময় তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এবং আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মির পরিমাণ একই রাখা হয়।

জোনাথন রিড বলেন, ‘এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা এটা বুঝতে সক্ষম হয়েছি যে হাঁচির সঙ্গে বের হওয়া ড্রপলেট কীভাবে ভাইরাস ছড়াতে সাহায্য করে।’

এই পরীক্ষায় থেকে এটা বোঝা যায়, ভাইরাসের কণাগুলো ফুসফুসের তুলনামূলক আর্দ্র ও কার্বন-ডাই অক্সাইডসমৃদ্ধ এলাকা থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে ভাইরাসগুলোতে থাকা পানি দ্রুত শুকিয়ে যেতে থাকে। কার্বন-ডাই-অক্সাইডের নিম্নস্তরে চলে আসে। আর এই সময়ে দ্রুত বেড়ে যায় হাইড্রোজেনের মাত্রা। আর এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে ক্ষমতা হারায় করোনাভাইরাস।

আরও পড়ুন:
হাজার বছর পর ফিরে এলো তারা
ভায়াগ্রায় কমে আলঝেইমার্স
কল্পনার সবকিছু স্পর্শের ক্ষমতা পাচ্ছে মানুষ  
বার্ধক্য রুখে দিতে আসছে টিকা
অ্যাজমা কমায় ব্রেন টিউমারের ঝুঁকি!

শেয়ার করুন

করোনায় বাড়ছে শিশুর ডায়াবেটিস

করোনায় বাড়ছে শিশুর ডায়াবেটিস

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় এক শিশুর করোনা শনাক্তের পরীক্ষা চলছে। ছবি: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস

গবেষণা বলছে, করোনা আর ডায়াবেটিসের মধ্যে সম্পর্ক বেশ জটিল। কিন্তু দুটি রোগের একে অন্যের সঙ্গে সম্পর্ক থাকতে পারে। এর কারণ হিসেবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, করোনার ভাইরাস সাধারণত অগ্ন্যাশয়ের কোষকে আক্রান্ত করে। আর এতে শরীরে ইনসুলিনের স্বাভাবিক সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটে।    

করোনায় আক্রান্ত শিশুদের অনেকে পরবর্তীতে টাইপ-২ বা ১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) শুক্রবার প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে এ তথ্য জানিয়েছে।

সিডিসির বরাতে ফোর্বস নিউজে বলা হয়েছে, করোনা মহামারিতে ইউরোপে টাইপ-১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়ছে। আগের গবেষণায় করোনা-পরবর্তীতে প্রাপ্তবয়স্কদের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার প্রমাণ মিলেছিল।

গবেষণাটি চালায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য খাত নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান- আইকিউভিআইএ। এতে সহায়তা করে রোগীদের তথ্য নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান হেলথ ভ্যারাইটি।

গবেষণায় আইকিউভিআইএ সংগ্রহ করে ১৭ মিলিয়ন শিশুর নমুনা। আর হেলথ ভ্যারাইটি নেয় ৯ লাখ নমুনা।

আইকিউভিআইএ বলছে, করোনা সংক্রমণ থেকে সেরে ওঠার ৩০ দিনের মধ্যে শিশুদের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রায় তিন গুণ বেড়ে যায়। আর যারা করোনায় আক্রান্ত হয়নি, কিন্তু শ্বাসতন্ত্রে জটিলতায় ভুগছে, তাদের চেয়ে করোনায় আক্রান্ত শিশুদের ডায়াবেটিসের ঝুঁকি দ্বিগুণের বেশি।

আর হেলথ ভ্যারাইটির তথ্য বলছে, করোনা আক্রান্ত প্রতি একশ' শিশুর মধ্যে ৩১টির দেহে ডায়াবেটিস শনাক্ত হয়েছে।

গবেষণা বলছে, করোনা ও ডায়াবেটিসের মধ্যে সম্পর্ক বেশ জটিল। কিন্তু দুটি রোগের একে অন্যের সঙ্গে সম্পর্ক থাকতে পারে। এর কারণ হিসেবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, করোনা ভাইরাস সাধারণত অগ্ন্যাশয়ের কোষকে আক্রান্ত করে। আর এতে শরীরে ইনসুলিনের স্বাভাবিক সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটে।

গবেষক দলের প্রধান শারন সেদাহ শুক্রবার নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ‘করোনার পর টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত শিশুরা দীর্ঘমেয়াদে ভুগবে কি না কিংবা সময়ের সঙ্গে ইনসুলিন সরবরাহ স্বাভাবিক হবে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’

আরও পড়ুন:
হাজার বছর পর ফিরে এলো তারা
ভায়াগ্রায় কমে আলঝেইমার্স
কল্পনার সবকিছু স্পর্শের ক্ষমতা পাচ্ছে মানুষ  
বার্ধক্য রুখে দিতে আসছে টিকা
অ্যাজমা কমায় ব্রেন টিউমারের ঝুঁকি!

শেয়ার করুন