ডিএসইর শেয়ারহোল্ডার পরিচালক হলেন শরীফ আনোয়ার হোসেন

player
ডিএসইর শেয়ারহোল্ডার পরিচালক হলেন শরীফ আনোয়ার হোসেন

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) শেয়ারহোল্ডার পরিচালক শরীফ আনোয়ার হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচনে ২৫৯ জন ভোটারের মধ্যে ১৭৪ জন ভোটার ভোট দেন। এদের মধ্যে শরীফ আনোয়ার হোসেন পেয়েছেন ৯৭টি। নিটকতম প্রতিদ্বন্দ্বী রশিদ ইনভেস্টমেন্ট সার্ভিসেসের আহমদ রশিদ লালী পেয়েছেন ৭৬টি ভোট।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) শেয়ারহোল্ডার পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন শহীদুল্লাহ সিকিউরিটিজ লিমিটেডের শরীফ আনোয়ার হোসেন।

রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) পরিচালনা পর্ষদের একটি পদে শেয়ারহোল্ডার পরিচালক নির্বাচনে ভোট হয়।

ভোট শেষে নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. আব্দুস সামাদ ও সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচনে ২৫৯ জন ভোটারের মধ্যে ১৭৪ জন ভোটার ভোট দেন। এদের মধ্যে শরীফ আনোয়ার হোসেন পেয়েছেন ৯৭টি। নিটকতম প্রতিদ্বন্দ্বী রশিদ ইনভেস্টমেন্ট সার্ভিসেসের আহমদ রশিদ লালী পেয়েছেন ৭৬টি ভোট।

ডিএসইর শেয়ারহোল্ডার পরিচালক পদে নির্বাচন পরিচালনার জন্য ১৭ নভেম্বর ৩ সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয় ৷ কমিশনের অপর দুই সদস্য ছিলেন ডিএসইর শেয়ারহোল্ডার প্রতিনিধি মোঃ রফিকুল ইসলাম ও হারুনুর রশিদ৷

গত ২৪ নভেম্বর তফসিল ঘোষণা করা হয়। ৯ ডিসেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ তারিখ এবং ১৫ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ৷ এতে দুই জন প্রার্থিতা জমা দেন।

মো. শহীদুল্লাহ সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ আনোয়ার ১৯৮৪ সাল থেকেই পুঁজিবাজারের সাথে যুক্ত৷ তিনি ২০১৩ সালে প্রথমবারের মতো ডিএসইর পরিচালক নির্বাচিত হন।

২০১৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ডিমিউচুয়ালাইজড ডিএসইর শেয়ারহোল্ডার পরিচালক নির্বাচিত হন তিনি। ২০০৯ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ডিএসই ট্রেক হোল্ডারস ক্লাবের (প্রাক্তন মেম্বার্স ক্লাব) প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি ডিসেম্বর পর্যন্ত ডিএসই ব্রোকার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) এর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন শরীফ।

আরও পড়ুন:
মার্জিন ঋণের নতুন নিয়মে বেক্সিমকোসহ ৫ কোম্পানিতে সুবিধা
আবার বড় পতন, বৈঠকের পর ১২ দিনেই পড়ল ৪২৭ পয়েন্ট
‘১০ হাজার টাকার আইপিও আবেদনে’ তারল্য সংকট
শেয়ার কিনুন, ঘুরে দাঁড়াবে পুঁজিবাজার: বিএসইসি চেয়ারম্যান
ইস্টার্ন লুব্রিকেন্ট: ১৬০% লভ্যাংশেও আশা পূরণ নিয়ে প্রশ্ন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বছরের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন লেনদেন পুঁজিবাজারে

বছরের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন লেনদেন পুঁজিবাজারে

প্রতীকী ছবি

বিনিয়োগকারী মশিউর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত করোনার নতুন সংক্রমণ নিয়ে নির্দেশনা আসছে। আক্রান্তের সংখ্যাও অন্য সময়ের তুলনায় বেশি। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শঙ্কা আছে।’

পুঁজিবাজারে নতুন বছরের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন লেনদেন হয়েছে বুধবার। কমেছে সূচকও। সূচকে ছিল উত্থান-পতনের জোয়ার। শেয়ার কেনাবেচায় যেন ইঁদুর-বেড়ালের খেলা চলেছে।

এদিন লেনদেন শুরু হয় ৭ হাজার ৩২ পয়েন্ট দিয়ে। শুরুর ১০ মিনিটে সূচক ৪০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ৭ হাজার ৭২ পয়েন্ট। কিন্তু সেখান থেকে সূচক ৭ হাজার ৩৩ পয়েন্টে নামতে সময় নিয়েছে মাত্র ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট।

আবার শেয়ার কেনার আগ্রহে সূচকে উত্থান দেখা যায়। বেলা ১১টা ৩৬ মিনিটে সূচক পৌঁছে ৭ হাজার ৫২ পয়েন্টে। দুপুর ১২টা ৮ মিনিটে সেখান থেকে ১৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ৭ হাজার ৩৮ পয়েন্ট। ১২টা ৫৩ মিনিট পর্যন্ত সূচক পতন থেকে উত্থানে ফেরার পর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত আগের দিনের তুলনায় সূচক দশমিক ১৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৩২ পয়েন্ট।

এ নিয়ে টানা ১০ কর্মদিবস ৭ হাজারে স্থির রয়েছে ডিএসইর প্রধান সূচক- ডিএসইএক্স। গত ১৩ জানুয়ারি থেকে ৭ হাজারে অবস্থান করছে এই সূচক।

অন্যদিকে সূচকের পতন হলেও নতুন বছরে উত্থানের পুঁজিবাজারে হাজার কোটি টাকার লেনদেনও অব্যাহত আছে। বুধবার লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ১১৫ কোটি টাকা। নতুন বছরের ১৯ কর্মদিবসের মধ্যে বুধবার দ্বিতীয় সর্বনিম্ন লেনদেন হয়েছে। এর আগে ২ জানুয়ারি লেনদেন হয়েছিল ৮৯৪ কোটি টাকা।

বিনিয়োগকারীদের শেয়ার কেনাবেচা নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতাই সূচক পড়ে যাওয়ার কারণ ধরা হচ্ছে।

বিনিয়োগকারী মশিউর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত করোনার নতুন সংক্রমণ নিয়ে নির্দেশনা আসছে। আক্রান্তের সংখ্যাও অন্য সময়ের তুলনায় বেশি। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শঙ্কা আছে।

‘যদিও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি আগেই জানিয়েছে যে সংক্রমণ বাড়লে ব্যাংকের সময়ের সঙ্গে সমন্বয় করে পুঁজিবাজারে লেনদেনের সময় নির্ধারণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে পুঁজিবাজারের লেনদেন বন্ধ করে দেয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। তার পরও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক আছে মন্দার সময়ে বিনিয়োগ ফিরে পাওয়া নিয়ে।

বুধবার খাতভিত্তিক লেনদেনে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে ছিল নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। লেনদেনে এ খাতের ৮১ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে। তার পরই আছে বস্ত্র খাত, যার লেনদেন হওয়া ৫৫ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে।

ব্যাংক খাতে ২৫ শতাংশ ও মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ৩৩ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে বুধবার।

এদিন লেনদেন হওয়া ৩৮১টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৫৮টির, কমেছে ১৫৭টির। দর অপরিবর্তিত আছে ৬৬টি কোম্পানির।

যেসব কোম্পানির দর কমায় সূচকের পতন

বুধবার সূচক পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা ছিল মেঘনা পেট্রোলিয়ামের, দশমিক ১৭ পয়েন্ট। এদিন কোম্পানিটির শেয়ারদর কমেছে ৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

বার্জার পেইন্টের শেয়ারদর ১ দশমিক ১১ শতাংশ কমায় সূচক কমেছে দশমিক ১ পয়েন্ট।

লিন্ডে বিডির শেয়ারদর ২ দশমিক ৮৮ শতাংশ কমায় সূচক কমেছে দশমিক শূন্য ৯ পয়েন্ট। ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর শেয়ারদর দশমিক ২১ শতাংশ কমায় সূচক কমেছে দশমিক শূন্য ৮ পয়েন্ট।

এ ছাড়া এদিন সূচক কমায় ভূমিকা ছিল ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন, সোনালী পেপার, বসুন্ধরা পেপার, ব্র্যাক ব্যাংক, হাইডেলবার্গ সিমেন্ট ও ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের।

তবে সূচক পতনের পাশাপাশি বুধবার যেসব কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছিল তাদের ভূমিকা ছিল সূচক উত্থানে। এ তালিকায় শীর্ষ দশে রয়েছে আইসিবি, স্কয়ার ফার্মা, এমজেএল বাংলাদেশ, ম্যারিকো, স্কয়ার টেক্সটাইল, মালেক স্পিনিং, মতিন স্পিনিং, আরএকে সিরামিক, গ্রামীণফোন ও রেনেটা।

লেনদেনে সেরা ১০

লেনদেনে সেরা দশের তালিকার শীর্ষে ছিল বেক্সিমকো লিমিটেড। কোম্পানিটির ৮৩ কোটি ১৩ লাখ টাকার ৫৪ লাখ ১ হাজার ৮২০টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে এদিন।

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৬০ কোটি ৭২ লাখ টাকার। শেয়ার হাতবদল হয়েছে ৫০ লাখ ৩২ হাজার ৮৮৭টি।

মতিন স্পিনিংয়ের ৩১ কোটি ২৩ লাখ টাকার, আরএকে সিরামিকের ২৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকার, ওরিয়ন ফার্মার ২৭ কোটি ৪০ লাখ টাকার ও এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের ২৭ কোটি ২২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

এ ছাড়া এ তালিকায় ছিল জিপিএইচ ইস্পাত, অগ্নি সিস্টেমস, পাওয়ার গ্রিড ও সোনালী পেপার।

দর বৃদ্ধির ১০ কোম্পানি

এদিন সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ দর বেড়েছে তিনটি কোম্পানির। এর মধ্যে সদ্য তালিকাভুক্ত ইউনিয়ন ব্যাংক রয়েছে। এ ছাড়া নতুন লেনদেনে আসা বিডি থাই ফুড ও ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্সের এদিন ৯ শতাংশের বেশি শেয়ারদর বেড়েছে।

ইউনিয়ন ব্যাংক ছাড়া ১০ শতাংশ শেয়ারদর বৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানির তালিকায় আছে কুইন সাউথ টেক্সটাইল ও অগ্নি সিস্টেমস।

এ ছাড়া ফনিক্স ফিন্যান্সের শেয়ারদর বেড়েছে ৯ দশমিক ৯১ শতাংশ। একই হারে দর বেড়েছে বিডি থাই ফুডের। ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর বেড়েছে ৯ দশমিক ৯০ শতাংশ। মালেক স্পিনিংয়ের শেয়ারদর বেড়েছে ৯ দশমিক ৮১ শতাংশ এবং ইয়াকিন পলিমারের ৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

এ ছাড়া তাল্লু স্পিনিংয়ের শেয়ারদর বেড়েছে ৯ দশমিক ১৮ শতাংশ ও মতিন স্পিনিংয়ের শেয়ারদর বেড়েছে ৮ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

দরপতনের ১০ কোম্পানি

বুধবার সবচেয়ে বেশি ৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ দর হারিয়েছে এপেক্স ফুটওয়্যারের শেয়ার। দরপতনের কারণে ৩৭৭ টাকা ১০ পয়সার শেয়ার পৌঁছেছে ৩৪৪ টাকা ৩০ পয়সায়।

মেঘনা পেট্রোলিয়ামের শেয়ারদর কমেছে ৬ দশমিক ৮৮ ও ওরিয়ন ইনফিউশনের ৫ দশমিক ৪০ শতাংশ।

৫ শতাংশের বেশি শেয়ারদর কমেছে আরও দুটি কোম্পানির, শমরিতা হসপিটালের ৫ দশমিক ২৮ ও তমিজউদ্দিন টেক্সটাইলের ৫ দশমিক ১৪ শতাংশ।

এপেক্স ফুডের শেয়ারদর কমেছে ৪ দশমিক ৯৮, বসুন্ধরা পেপারের ৪ দশমিক ৬৬, জি মিনি সি ফুডের ৪ দশমিক ৪৫ ও ন্যাশনাল টি কোম্পানির ৪ দশমিক ২০ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
মার্জিন ঋণের নতুন নিয়মে বেক্সিমকোসহ ৫ কোম্পানিতে সুবিধা
আবার বড় পতন, বৈঠকের পর ১২ দিনেই পড়ল ৪২৭ পয়েন্ট
‘১০ হাজার টাকার আইপিও আবেদনে’ তারল্য সংকট
শেয়ার কিনুন, ঘুরে দাঁড়াবে পুঁজিবাজার: বিএসইসি চেয়ারম্যান
ইস্টার্ন লুব্রিকেন্ট: ১৬০% লভ্যাংশেও আশা পূরণ নিয়ে প্রশ্ন

শেয়ার করুন

ক্রান্তিকালে শ্যামপুর সুগার মিলের শেয়ারে উত্থান-পতন

ক্রান্তিকালে শ্যামপুর সুগার মিলের শেয়ারে উত্থান-পতন

বন্ধ শ্যামপুর সুগার মিলের অফিসগুলো ঘিরে বাড়ছে আগাছা। ছবি: নিউজবাংলা

কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহসান হাবিব বলেন, সুগার মিলের উৎপাদন অনেক আগে থেকেই বন্ধ। তবে ২০২০ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে কারখানার কার্যক্রম একেবারে নেই বললেই চলে। এখন কোম্পানির শেয়ারের দর ৭৫ টাকা কীভাবে হয়?

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের শ্যামপুর সুগার মিল এক বছরের বেশি সময় ধরে উৎপাদনে নেই। অথচ এ সময়েই সর্বোচ্চ দরে লেনদেন হয়েছে কোম্পানিটির শেয়ার।

কারখানার করুণ অবস্থাতেও শেয়ারের প্রতি আগ্রহ দেখা গেছে বিনিয়োগকারীদের। সুগার মিলের উৎপাদন বন্ধ থাকার সংবাদ জেনেও বেশি দরে শেয়ার কেনার প্রবণতা জন্ম দিয়েছে নানা প্রশ্নের। শেয়ারের চলতি দর নিয়েও বিস্মিত কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিজে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সরকারি মালিকানাধীন এ কারখানার যন্ত্রপাতি, লোকবল সরিয়ে নেয়া হচ্ছে অন্য মিলগুলোতে। বদলির অপেক্ষায় অনেক কর্মকর্তা ও কর্মচারী। এই সময়েই সর্বোচ্চ দরে লেনদেন হয়েছে কোম্পানিটির শেয়ার। বন্ধ মিলের ভেতরে বাড়ছে আগাছা, পরিত্যক্ত পড়ে আছে অব্যবহৃত যানবাহন। বকেয়া বেতন আদায়ে মাঝে মাঝে আন্দোলন করেন কারখানার অবশিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

ক্রান্তিকালে শ্যামপুর সুগার মিলের শেয়ারে উত্থান-পতন
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর বন্দরে ১৯৬৪ সালে নির্মাণ হয় শ্যামপুর সুগার মিল। ছবি: নিউজবাংলা

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে সুগার মিলটির উৎপাদন বন্ধের একটি নোটিশ দেয়া হয়। বলা হয়, কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ শিল্প মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুসারে ২০২০-২১ সালের জন্য আখ প্রক্রিয়াজাতকরণ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

খারাপ অবস্থাতেই তখন ১৪১ টাকায় উঠেছিল শ্যামপুর সুগার মিলের শেয়ার দর। যদিও ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে এই সর্বোচ্চ দরের পর আর উত্থান হয়নি। এখন ক্রমাগত কমছে শেয়ার দর। সর্বশেষ মঙ্গলবার প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৭৫ টাকায়।

শেয়ার দর নিয়ে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহসান হাবিব নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কোম্পানির উৎপাদন বর্তমানে পুরোদমে বন্ধ। তারপরও ৭৫ টাকা শেয়ার দর কীভাবে হয়?

‘সুগার মিলের উৎপাদন অনেক আগে থেকেই বন্ধ। ২০২০ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে কারখানার কার্যক্রম একেবারে নেই বললেই চলে। বর্তমানে কর্মচারী, কর্মকর্তাসহ ৪৪৩ জন কাজ করছেন। তাদের মধ্যে ১০৬ জন কারখানায় কর্মরত। অন্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বদলি করে জয়পুরহাট ও ঠাকুরগাঁওয়ের সুগার মিলে পাঠানো হয়েছে। কারখানার অব্যবহৃত ট্রাক, ট্রাক্টরসহ অন্যান্য যানবাহন আশপাশের কারখানায় পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে।’

সুগার মিলটির ক্রান্তিকালের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে আখ মাড়াই বন্ধ ঘোষণার পর ৮ মাস এখানে কারও বেতন হয়নি। অন্য কারখানায় পদ না থাকায় সেখানে বদলিও করা যাচ্ছে না। ফলে যারা এখানে কর্মরত তারা পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।’

মিল কর্তৃপক্ষ জানায়, পুঁজিবাজারে ১৯৯৬ সালে তালিকাভুক্ত শ্যামপুর সুগার মিল এখন বন্ধ থাকলেও তা আধুনিকায়ন করে ফের চালুর কথা বলছেন সরকারের অনেকে। এমনকি মিলের নিজস্ব জায়গায় আলুর কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ, কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা স্থাপন, ফিলিং স্টেশন ও এলপি গ্যাস স্টেশন নির্মাণ, মিনারেল ওয়াটার প্ল্যান্ট স্থাপন, বিনোদন কেন্দ্র ও রিসোর্ট নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রস্তাব বিবেচনাধীন।

শেয়ার মার্কেট পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কোম্পানিটির গত বছর প্রথম প্রান্তিকে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ২১ টাকা ৬২ পয়সা। তার আগের বছর একই সময়ে লোকসান ছিল ২৫ টাকা ১৫ পয়সা।

সুগার মিলটির সম্পদের বিপরীতে শেয়ারের দায় ১ হাজার ১৩৬ টাকা। আগের বছর জুলাই-সেপ্টেম্বরে দায় ছিল ১ হাজার ১১৪ টাকা।

কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৫১ শতাংশ আছে সরকারের হাতে। আর ১ দশমিক ৯৩ শতাংশ শেয়ার আছে প্রাতিষ্ঠানিক। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে আছে ৪৭ দশমিক ০৭ শতাংশ শেয়ার।

ক্রান্তিকালে শ্যামপুর সুগার মিলের শেয়ারে উত্থান-পতন
কারখানার অব্যবহৃত ট্রাক, ট্রাক্টরসহ অন্যান্য যানবাহন দীর্ঘদিনের অবহেলায় অচলপ্রায়। ছবি: নিউজবাংলা

রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর বন্দরে ১৯৬৪ সালে নির্মাণ হয় শ্যামপুর সুগার মিল। ১১১ দশমিক ৪৫ একর জমির ওপর নির্মিত এই মিলে আনুষ্ঠানিকভাবে মাড়াই শুরু হয় ১৯৬৭ সালে।

কারখানাটিতে দৈনিক আখ মাড়াইয়ের সক্ষমতা রাখা হয় ১ হাজার ১৬ টন। বার্ষিক উৎপাদনক্ষমতা ধরা হয় ১০ হাজার ১৬১ টন। বছরে মিলের মেশিন চালু থাকে তিন মাস।

চালুর পর লাভের মুখ দেখলেও ২০০০ সালের পর থেকে টানা লোকসানের মুখে পড়ে মিলটি। প্রায় চার শ’ কোটি টাকা লোকসানের মুখে গত বছর মিলটি বন্ধ করে দেয় সরকার। দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকায় চিনিকলের যন্ত্রপাতি প্রায় নষ্টের উপক্রম। বিকল হয়ে পড়ে আছে আখ পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রাক্টরগুলো।

আরও পড়ুন:
মার্জিন ঋণের নতুন নিয়মে বেক্সিমকোসহ ৫ কোম্পানিতে সুবিধা
আবার বড় পতন, বৈঠকের পর ১২ দিনেই পড়ল ৪২৭ পয়েন্ট
‘১০ হাজার টাকার আইপিও আবেদনে’ তারল্য সংকট
শেয়ার কিনুন, ঘুরে দাঁড়াবে পুঁজিবাজার: বিএসইসি চেয়ারম্যান
ইস্টার্ন লুব্রিকেন্ট: ১৬০% লভ্যাংশেও আশা পূরণ নিয়ে প্রশ্ন

শেয়ার করুন

বস্ত্র-প্রকৌশল খাতের টানে ঘুরল সূচক

বস্ত্র-প্রকৌশল খাতের টানে ঘুরল সূচক

সূচক উত্থানে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা ছিল বস্ত্র খাতের কোম্পানিগুলোর দর বৃদ্ধি। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

সূচক উত্থানে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা ছিল বস্ত্র খাতের কোম্পানিগুলোর দর বৃদ্ধি। লেনদেনে এদিন ৭২ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। পাশাপাশি দর বৃদ্ধিতে ছিল প্রকৌশল খাতের কোম্পানিগুলো। লেনদেনে এ খাতের ৫০ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। সিমেন্ট খাতে তালিকাভুক্ত সাতটি কোম্পানির মধ্যে ৫৭ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে।

চলতি সপ্তাহের তৃতীয় কর্মদিবসে ঘুরে দাঁড়াল পুঁজিবাজারের সূচক। সপ্তাহের প্রথম দুদিন টানা সূচকের পতন চাঙ্গা পুঁজিবাজারে কুয়াশার আবরণ দিতে শুরু করেছিল। সেখান থেকে মঙ্গলবার তালিকাভুক্ত বস্ত্র ও প্রকৌশল খাতের শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের বাড়তি আগ্রহে ঘুরল সূচক।

এদিন লেনদেন শুরুর পৌনে এক ঘণ্টায় সূচকের যে উত্থান হয়েছিল তাতে বলা মুশকিল ছিল শেয়ার কেনার বদলে পরবর্তীতে বিক্রিতে মনোযোগ দেবে বিনিয়োগকারীরা। এই সময়ে আগের দিনের তুলনায় ৫৯ পয়েন্ট বাড়ে ডিএসইএক্স সূচক।

বেলা পৌনে ১১টার পর মূলত উত্থানের ধারা কমতে শুরু করে, যা লেনদেনের শেষ সময় পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। ফলে দিন শেষে ১৩ পয়েন্ট উত্থানে শেষ হয়েছে লেনদেন। টানা ৯ কর্মদিবসে ৭ হাজার পয়েন্টে স্থির থেকে মঙ্গলবার সূচক দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৩২ পয়েন্টে।

চলতি সপ্তাহের রোববার ডিএসইর এই প্রধান সূচক ৭ হাজার ১০৫ পয়েন্ট থেকে ৩২ দশমকি ৬৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছিল ৭ হাজার ৭৩ পয়েন্টে। তারপর দিন সোমবারও সূচক কমেছিল ৫৩ দশমিক ৭৫ পয়েন্ট। সপ্তাহের দুদিন সূচক কমেছে ৮৬ দশমিক ৭১ পয়েন্ট।

এদিন সূচক উত্থানে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা ছিল বস্ত্র খাতের কোম্পানিগুলোর দর বৃদ্ধি। লেনদেনে এদিন ৭২ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। পাশাপাশি দর বৃদ্ধিতে ছিল প্রকৌশল খাতের কোম্পানিগুলো। লেনদেনে এ খাতের ৫০ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। সিমেন্ট খাতে তালিকাভুক্ত সাতটি কোম্পানির মধ্যে ৫৭ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে।

মঙ্গলবার স্বল্প মূলধনি কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৭.৪১ শতাংশ শেয়ার দর বেড়েছিল ন্যাশনাল টি কোম্পানির। এ ছাড়া, এইচআর টেক্সটাইলের ৪.৩৪ শতাংশ আর স্টাইল ক্রাফটের ৪.১৪ শতাংশ শেয়ার দর বেড়েছে।

লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ১৬৪টি কোম্পানির আর দর হারিয়েছে ১৬২টি কোম্পানির। লেনদেন হয়েছে মোট ১ হাজার ১১৭ কোটি টাকা। হাজার কোটি টাকা লেনদেনেও ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে ডিএসই। চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি থেকে যে হাজার কোটি টাকা লেনদেনে সূচনা হয়েছে সেটি ১৫ কর্মদিবস ধরে অব্যাহত আছে।

পুঁজিবাজারে এসএমই কোম্পানিগুলোকে নিয়ে গঠন করা আলাদা বোর্ডে মঙ্গলবার লেনদেন হয়েছে ৪৬ লাখ টাকা। লেনদেনে ৩টি কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে , কমেছে একটি কোম্পানির। এই বোর্ডের প্রধান সূচক ডিএসএমইএক্স ১৩ দশমিক ৩১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮৮ দশমিক ০৯ পয়েন্টে।

যেসব কোম্পানির দর বৃদ্ধিতে সূচক বেড়েছে

মঙ্গলবার সূচক বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা ছিল আইসিবির ১১ দশমিক ৭৩ পয়েন্ট। এদিন কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়েছে ৫.৮৫ শতাংশ। এ ছাড়া, ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিসের শেয়ার দর দশমিক ৪৭ শতাংশ বাড়ায় সূচক বেড়েছে ৩.০২ পয়েন্ট।

হাইডেনবার্গ সিমেন্টের সূচক বৃদ্ধিতে অবদান ছিল ২.৯৫ পয়েন্ট। স্কয়ার টেক্সটাইলের ২.৪৮ পয়েন্ট। বেক্সিমকো লিমিটেডের ২.৪৫ পয়েন্ট।

এ ছাড়া, সূচক বৃদ্ধিতে ভূমিকা ছিল ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন, ইসলামী ব্যাংক, বসুন্ধরা পেপার মিলস, বিএসআরএম স্টিল ও বিএসআরএম লিমিটেড।

অপরদিকে শেয়ারের দর পতনে সূচক কমাতে সহায়ক ছিল বৃটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, গ্রামীনফোন, বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল, ব্র্যাক ব্যাংক, লিন্ডে বিডি, সোনালী পেপার, বেক্সিমকো ফার্মা, বিকনফার্মা, রেনেটা ও ইউনিক হোটেল।

দর বৃদ্ধির ১০ কোম্পানি

মঙ্গলবার দিনের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ শেয়ার দর বেড়েছে নতুন তালিকাভুক্ত বিডি থাই ফুডের। প্রথম দিনের লেনদেন কোম্পানির শেয়ারের কোনো বিক্রেতা ছিল না। শেয়ার কেনার জন্য আগ্রহী থাকলেও এদিন মাত্র ২৩৪টি শেয়ার হাতবতল হয়েছে।

এ ছাড়া, ১০ শতাংশ শেয়ার দর বেড়েছে আর ও একটি কোম্পানি স্কয়ার টেক্সটাইলের। দর বৃদ্ধিতে ৬৩ টাকার শেয়ার পৌঁছেছে ৬৯ টাকা ৯০ পয়সায়।

এদিন ৯ শতাংশের বেশি শেয়ার দর বেড়েছে চারটি কোম্পানির। এগুলো হচ্ছে মতিন স্পিনিং, ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স, কুইন সাউথ টেক্সটাইল ও মালেক স্পিনিং।

হাইডেনবার্গ সিমেন্টের শেয়ার দর বেড়েছে ৮.৭১ শতাংশ।

সাত শতাংশের বেশি শেয়ার দর বেড়েছে তিনটি কোম্পানির। এর মধ্যে আছে ন্যাশনাল টি কোম্পানি, হামিদ ফেব্রিক্স ও বসুন্ধরা পেপার মিলস।

দর পতনের ১০ কোম্পানি

দিনের সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে পদ্মা লাইফ ইন্স্যুরেন্স ৫.৪৭ শতাংশ। এতে ৮৪ টাকার শেয়ার পৌঁছেছে ৭৯ টাকা ৪০ পয়সায়।

দেশ গার্মেন্টসের শেয়ার দর কমেছে ৫.৩০ শতাংশ। ফার কেমিক্যালের শেয়ার দর কমেছে ৫ শতাংশ।

৪ শতাংশের বেশি শেয়ার দর কমেছে দুটি কোম্পানির। এপেক্সফুড ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির।

তিন শতাংশের বেশি শেয়ার দর কমেছে আটটি কোম্পানির। এর মধ্যে আছে ফারইস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স, জিল বাংলা সুগার, অলেম্পিক এক্সেসরিস, দুলামিয়া কটন, এএমসিএল (প্রাণ), শ্যামপুর সুগার, ফুওয়া সিরামিক, সোনালী পেপার ও অনালিমা ইয়ার্ড।

লেনদেনে সেরা ১০

সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকো লিমিটেডের ৮৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। এদিন কোম্পানিটির ৫৬ লাখ ৫৮ হাজার ২২০টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে। বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানির ৪৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

এ ছাড়া ফরচুন সুজের ৩৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকা শেয়ার লেনদেন হয়েছে। স্কয়ার টেক্সটাইলের ৩৪ কোটি ৩১ লাখ টাকার, বৃটিশ আমেরিকান ট্যোবাকোর ২৫ কোটি ১৩ লাখ টাকার, পাওয়ার গ্রিডের ২৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

ওরিয়ন ফার্মার ২২ কোটি ৫৬ লাখ টাকার, এপেক্স ফুটওয়ারের ২১ কোটি ৮১ লাখ টাকার, এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের ২০ কোটি ১৪ লাখ টাক ও এসিআই কোম্পানির ১৯ কোটি ১৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

আরও পড়ুন:
মার্জিন ঋণের নতুন নিয়মে বেক্সিমকোসহ ৫ কোম্পানিতে সুবিধা
আবার বড় পতন, বৈঠকের পর ১২ দিনেই পড়ল ৪২৭ পয়েন্ট
‘১০ হাজার টাকার আইপিও আবেদনে’ তারল্য সংকট
শেয়ার কিনুন, ঘুরে দাঁড়াবে পুঁজিবাজার: বিএসইসি চেয়ারম্যান
ইস্টার্ন লুব্রিকেন্ট: ১৬০% লভ্যাংশেও আশা পূরণ নিয়ে প্রশ্ন

শেয়ার করুন

তামহা সিকিউরিটিজের ব্যাংক হিসাব বন্ধ

তামহা সিকিউরিটিজের ব্যাংক হিসাব বন্ধ

প্রতীকী ছবি

গত বছরের ২৮ নভেম্বর প্রতিষ্ঠানটি নিজ থেকেই শেয়ার লেনদেন বন্ধ করে দেয়। এরপর গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে একই বছরের ৯ ডিসেম্বর এক বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ তামহা সিকিউরিটিজের লেনদেন স্থগিত করে।

তামহা সিকিউরিটিজের সব ধরনের ব্যাংক লেনদেন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে এ বিষয়ে অনুরোধ জানালে গত ৫ জানুয়ারি এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এ নির্দেশনার ফলে তামহা সিকিউরিটিজ তাদের ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা উত্তোলন বা স্থানান্তর করতে পারবে না। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হারুনুর রশিদ একাধিক ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন পরিচালনা করতেন। এর মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ও মার্কেন্টাইল ব্যাংক ছিল অন্যতম।

গত বছরের ২৮ নভেম্বর প্রতিষ্ঠানটি নিজ থেকেই শেয়ার লেনদেন বন্ধ করে দেয়। এরপর গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে একই বছরের ৯ ডিসেম্বর এক বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ তামহা সিকিউরিটিজের লেনদেন স্থগিত করে।

বিএসইসি নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম বলেন, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনা করে ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে বন্ধ এবং সেখানে লেনদেনও হচ্ছে না। এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠানের কেউ যাতে লেনদেন করতে না পারে সে জন্যই ব্যাংক হিসাব বন্ধের অনুরোধ জানানো হয়েছিল।

যাদের বিও হিসাবে তামহা সিকিউরিটিজের শেয়ার আছে সেগুলো স্থানান্তরের জন্য ডিএসইর পক্ষ থেকে নোটিশ করা হয়। তাতে বলা হয়, বিনিয়োগকারীদের বৃহৎ স্বার্থে প্রতিষ্ঠানটির লেনদেন ও ডিপোজিটরি পার্টিসিপেন্ট (ডিপি) কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় দুই হাজার বিও হিসাব ছিল। আর মালিকানায় ছিলেন ডেল্টা হাসপাতালের মনোরোগ বিভাগের ডাক্তার মো. হারুনুর রশীদ। তিনিই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তামহা সিকিউরিটিজের মাধ্যমে গত দেড় বছরের বেশি সময়ে তিনটি ব্রোকারেজ হাউসের লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে। তার মধ্যে ২০২০ সালের জুনে ২০ কোটি টাকা আত্মসাতে ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ ও ২০২১ সালের জুনে ৬৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বানকো সিকিউরিটিজের লেনদেন স্থগিত করে ডিএসই।

আরও পড়ুন:
মার্জিন ঋণের নতুন নিয়মে বেক্সিমকোসহ ৫ কোম্পানিতে সুবিধা
আবার বড় পতন, বৈঠকের পর ১২ দিনেই পড়ল ৪২৭ পয়েন্ট
‘১০ হাজার টাকার আইপিও আবেদনে’ তারল্য সংকট
শেয়ার কিনুন, ঘুরে দাঁড়াবে পুঁজিবাজার: বিএসইসি চেয়ারম্যান
ইস্টার্ন লুব্রিকেন্ট: ১৬০% লভ্যাংশেও আশা পূরণ নিয়ে প্রশ্ন

শেয়ার করুন

চাঙা পুঁজিবাজারে হঠাৎ উল্টো দৌড়

চাঙা পুঁজিবাজারে হঠাৎ উল্টো দৌড়

নতুন বছরের শুরু থেকে সূচক ও লেনদেনের যে গতি সেটি যেন ভিন্ন সুর তুলছে। সোমবারও কমেছে সূচক। ফাইল ছবি।

গত বছরের শেষ প্রান্তিকে পুঁজিবাজারে ভাটার টান দেখা গেলেও একেবারে শেষ সপ্তাহ থেকে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। নতুন বছরের প্রথম পাঁচ কর্মদিবস টানা সূচক বৃদ্ধির পাশাপাশি লেনদেনেও আসে গতি। এই অবস্থা চালু থাকে তিন সপ্তাহ। ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে কেবল দুদিন সূচকের পতন দেখে বিনিয়োগকারীরা। আর নতুন বছরের দ্বিতীয় কর্মদিবসে লেনদেন ১ হাজার কোটি টাকার ঘর ছাড়িয়ে যাওয়ার পর সেটি আর কমেনি। তবে নতুন সপ্তাহের প্রথম দুদিনে ৮৫ পয়েন্ট সূচকের পতনের পাশাপাশি লেনদেন গতি হারানোয় বিনিয়োগকারীদের মনে আবার সংশোধনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

হঠাৎ উল্টো পথে পুঁজিবাজার। নতুন বছরের শুরু থেকে সূচক ও লেনদেনের যে গতি, সেটি যেন চলতি সপ্তাহের শুরু থেকে ভিন্ন সুর তুলছে। রোববারের পথ ধরে সোমবারও কমেছে সূচক। তবে হাজার কোটি টাকা লেনদেন আস্থার জায়গায় চিড় ধরাতে নারাজ বিশ্লেষকরা।

রোববার পুঁজিবাজারে সূচক কমেছিল ৩২ পয়েন্ট। পরদিন সোমবার কমে আরও বেশি। লেনদেন শুরুর ৮ মিনিটে আগের দিনের তুলনায় ২৮ পয়েন্ট সূচকের বৃদ্ধি দিনটি শুভক্ষণের আভাস দিয়েছিল। কিন্তু ৮ মিনিট পরই শেয়ার বিক্রির চাপ আসতে থাকে পুঁজিবাজার। শেষ পর্যন্ত ৫৩ পয়েন্ট হারিয়ে শেষ হয় লেনদেন।

চলতি বছর এই প্রথম পরপর দুই দিন সূচক কমল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে। গত বছরের শেষ প্রান্তিকে পুঁজিবাজারে ভাটার টান দেখা গেলেও একেবারে শেষ সপ্তাহ থেকে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। নতুন বছরের প্রথম পাঁচ কর্মদিবস টানা সূচক বৃদ্ধির পাশাপাশি লেনদেনেও আসে গতি। এই অবস্থা চালু থাকে তিন সপ্তাহ। ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে কেবল দুদিন সূচকের পতন দেখে বিনিয়োগকারীরা। আর নতুন বছরের দ্বিতীয় কর্মদিবসে লেনদেন ১ হাজার কোটি টাকার ঘর ছাড়িয়ে যাওয়ার পর সেটি আর কমেনি।

তবে নতুন সপ্তাহের প্রথম দুই দিনে ৮৫ পয়েন্ট সূচকের পতনের পাশাপাশি লেনদেন গতি হারানোয় বিনিয়োগকারীদের মনে আবার সংশোধনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিক্রয়চাপে কেবল ৭১টি কোম্পানি দর বৃদ্ধির তালিকায় নাম তুলতে পেরেছে। বিপরীতে দর হারিয়েছে ২৭০টি কোম্পানি। অপরিবর্তিত ছির ৩৯টির দর।

চাঙা পুঁজিবাজারে হঠাৎ উল্টো দৌড়
চলতি বছর প্রথমবারের মতো পর পর দুই দিন দরপতন দেখল পুঁজিবাজার

সূচকের পাশাপাশি পতন হয়েছে লেনদেনেও। হাতবদল হয়েছে ১ হাজার ২১১ কোটি টাকার শেয়ার। আগের দিন লেনদেন ছিল ১ হাজার ৪৮২ কোটি টাকা। এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে ২৭১ কোটি টাকা।

প্রধান সব খাতেই ঘটেছে দরপতন। এর মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ৯৬ শতাংশ, প্রকৌশল খাতের ৮৮ শতাংশ, সাধারণ বিমা খাতের ৯৫ শতাংশ আর ব্যাংক খাতের ৬৩ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারদর কমে গেছে।

পুঁজিবাজারের দর পতনের কারণ সম্পর্কে আবু আহমেদ বলেন, ‘প্রতিদিনই ওমিক্রনের আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। সরকারের পক্ষ থেকেও নতুন নতুন নির্দেশনা আসছে। জনসমাগমের বিষয়েও কড়াকড়ি করা হয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীরাও এ বিষয়ে সচেতন। অনেকেই এখন ঘরে বসে লেনদেন করছে। এর কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।’

তিনি বলেন, ‘নতুন বছরের শুরুতে লেনদেন হাজার কোটি টাকার ঘরেই হচ্ছে। এটি আশার বিষয়। আর সূচক যে পরিমাণ কমছে তাতে বাজার কারেকশন হচ্ছে, এটি ভালো। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের এ মুহূর্তে বাজারে সক্রিয় থাকা জরুরি। তারা সক্রিয় থাকলে কারেকশন হলেও বাজার ঘুরে দাঁড়াবে।’

যেসব কোম্পানির দর পতনে সূচকের পতন

সোমবার সূচক পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা ছিল বিবিধ খাতের বেক্সিমকো লিমিটেডের ১৩ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট। এদিন কোম্পানিটির শেয়ারদর কমেছে ৪ দশমিক ১৭ শতাংশ।

চাঙা পুঁজিবাজারে হঠাৎ উল্টো দৌড়
দরপতনে প্রধান ভূমিকায় ছিল এই ১০ কোম্পানি

সূচক পতনে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল বেক্সিমকো ফার্মা, যার শেয়ারদর ২ দশমিক ৯১ শতাংশ কমায় সূচক কমেছে ৬ দশমিক শূন্য ৮ পয়েন্ট।

তৃতীয় অবস্থানে থাকা ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারদর দশমিক ৭৬ শতাংশ কমায় সূচক কমেছে ৫ দশমিক ৭৪ পয়েন্ট।

এ ছাড়া আইসিবি, রবি, যমুনা অয়েল ও বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের শেয়ারদর কমায় সোমবার সূচক কমেছে ১৪ দশমিক ৪৫ পয়েন্ট। ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশনের শেয়ারদর দশমিক ৬৩ শতাংশ কমায় সূচক কমেছে ২ দশমিক ১৪ পয়েন্ট, আর তিতাস গ্যাসের ১ দশমিক ৮৩ শতাংশ দর কমায় সূচক কমেছে ১ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট।

এদিন ডেল্টা লাইফের শেয়ারদর ৩ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ কমায় সূচক কমেছে ১ দশমিক ৬৩ পয়েন্ট। সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানিই সূচক ফেলেছে ৪৫ দশমিক ২৪ পয়েন্ট।

সূচক পতনের দিনে দর বৃদ্ধির মাধ্যমে সূচককে উত্থানের দিকে নেয়ার প্রচেষ্টায় ছিল ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, বিকন ফার্মা, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিলিভার কনজ্যুমার, সোনালী পেপার, কহিনূর কেমিক্যাল, রেকিট বেনকিনজার, রেনাটা, বার্জার পেইন্টস ও হাইডেলবার্গ সিমেন্ট।

চাঙা পুঁজিবাজারে হঠাৎ উল্টো দৌড়
এই ১০টি কোম্পানির কারণে সূচকের আরও বড় দরপতন ঠেকানো গেছে

এর মধ্যে বিএটিবিসি একাই সূচকে যোগ করেছে ১১ দশমিক ৪৮ পয়েন্ট। অন্য ৯টি যোগ করেছে ১৮ দশমিক ৯১ পয়েন্ট। সব মিলিয়ে ১০ কোম্পানি যোগ করেছে ৩০ দশমিক ৩৯ পয়েন্ট।

দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০

দর বৃদ্ধি পাওয়া দুটি কোম্পানিই ছিল নতুন তালিকাভুক্ত। এর মধ্যে লেনদেন শুরুর প্রথম দিন বিডি থাই ফুডের শেয়ার দর বেড়েছে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ। দর বৃদ্ধিতে ১০ টাকার শেয়ার পৌছেছে ১১ টাকায়।

দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স, যার দর বেড়েছে ৯.৬৫ শতাংশ।

গত ১৩ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার থেকে পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু করেছে। সাত কর্মদিবসে প্রতিদিনই সর্বোচ্চ পরিমাণে বেড়ে ১০ টাকার শেয়ার পৌঁছেছে ১৯ টাকা ৩০ পয়সায়।

আট শতাংশের বেশি শেয়ার দর বেড়েছে এপেক্স ফুটওয়্যারের। কোম্পানিটির শেয়ারদরে যোগ হয়েছে ৮.৭৩ শতাংশ। ন্যাশনাল টি কোম্পানির দর বেড়েছে ৭.৪৩ শতাংশ। পঞ্চম অবস্থানে থাকা কোহিনূর ক্যামিক্যালের দর বেড়েছে ৬.৯২ শতাংশ।

চাঙা পুঁজিবাজারে হঠাৎ উল্টো দৌড়
বুধবার লেনদেনের সেরা ছিল যেসব খাত

আরও দুটি কোম্পানির শেয়ার দর ছয় শতাংশের বেশি বেড়েছে। এর মধ্যে আরামিট সিমেন্টের দর ৬.৫৫ শতাংশ ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের দর ৬.৫৪ শতাংশ বেড়েছে।

পাঁচ শতাংশের বেশি দর বেড়েছে ‍দুটি কোম্পানির। এর মধ্যে সোনারগাঁও টেক্সটাইলের দর ৫.৯১ শতাংশ ও দেশ গার্মেন্টেসের দর বেড়েছে ৫.৮৯ শতাংশ।

ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ার দর বেড়েছে ৪.৯২ শতাংশ। ১০৩ টাকা ২০ পয়সার শেয়ার দিন শেষে হয়েছে ১০৮ টাকা ৩০ পয়সা।

দর পতনের ১০ কোম্পানি

একমি পেস্টিসাইডের শেয়ার দর সোমবার সবচেয়ে বেশি শেয়ার দর কমেছে ৭.৩২ শতাংশ। এদিন আরও দুটি কোম্পানির শেয়ার দর সাত শতাংশের বেশি কমেছে। এর মধ্যে আছে যমুনা অয়েল, যার শেয়ার দর কমেছে ৭.২১ শতাংশ ও গোল্ডেনসনের দর কমেছে ৭.১০ শতাংশ।

ফু ওয়াং সিরামিকসের দর কমেছে ৬.৪৩ শতাংশ। ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার ১৮ লাখ ১৬ হাজার ৪৬৭টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের দর ৬.০৪ শতাংশ, জিবিবি পাওয়ারের দর ৬.০২ শতাংশ, ফু ওয়াং ফুডসের দর কমেছে ৫.৮৫ শতাংশ।

দেশবন্ধু পলিমারের দর কমেছে ৫.৮৩ শতাংশ।

এছাড়া কাশেম ইন্ডাস্ট্রিজের দর ৪.৭৭ শতাংশ, অ্যাকটিভ ফাইন কেমিক্যালের দর ৪.৪৯ শতাংশ আর লুবরেফ বাংলাদেশের দর কমেছে ৪.৩৮ শতাংশ।

লেনদেনে সেরা ১০ কোম্পানি

লেনদেনে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, যার ১১৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকায় ৯১ লাখ ২৬ হাজার ১২৪টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বেক্সিমকো লিমিটেডে লেনদেন হয়েছে ৯৮ কোটি ১২ লাখ টাকা। শেয়ার হাতবদল হয়েছে ৬৩ কোটি ৫৭ লাখ ১৫টি।

তৃতীয় অবস্থানে থাকা পাওয়ার গ্রিডে লেনদেন হয়েছে ৩৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, চতুর্থ অবস্থানে থাকা বৃটিশ আমেরিকান ট্যোবাকোয় লেনদেন হয়েছে ৩২ কোটি ৩২ লাখ টাকা।

এছাড়া ফুওয়াং ফুডসে ৩২ কোটি ২৫ লাখ টাকা, এপেক্স ফুটওয়্যারে ২৬ কোটি ১৪ লাখ টাকা, এশিয়ান ইন্স্যুরেন্সে ২১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানিতে ২০ কোটি ৬ লাখ টাকা, ফরচুন সুজে ১৯ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, লিনডে বিডিতে ১৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, এসিআই লিমিটেডে লেনদেন হয়েছে ১৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকার শেয়ার।

আরও পড়ুন:
মার্জিন ঋণের নতুন নিয়মে বেক্সিমকোসহ ৫ কোম্পানিতে সুবিধা
আবার বড় পতন, বৈঠকের পর ১২ দিনেই পড়ল ৪২৭ পয়েন্ট
‘১০ হাজার টাকার আইপিও আবেদনে’ তারল্য সংকট
শেয়ার কিনুন, ঘুরে দাঁড়াবে পুঁজিবাজার: বিএসইসি চেয়ারম্যান
ইস্টার্ন লুব্রিকেন্ট: ১৬০% লভ্যাংশেও আশা পূরণ নিয়ে প্রশ্ন

শেয়ার করুন

লেনদেন শুরুর আগে মুনাফার খবর দিল বিডি থাই ফুড

লেনদেন শুরুর আগে মুনাফার খবর দিল বিডি থাই ফুড

সোমবার দশ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বা ১ টাকা বাড়ার সুযোগ থাকবে। যদিও সবার জন্য শেয়ার বরাদ্দ দেয়ার আগে নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার দর প্রথম দুদিন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির বিধান ছিল।

প্রাথমিক গণ প্রস্তাবের (আইপিও) কার্যক্রম শেষ করে সোমবার থেকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন শুরু করবে বিডি থাই ফুড অ্যান্ড বেভারেজ। তার একদিন আগে রোববার কোম্পানিটি মুনাফার খবর দিলো ডিএসই’র ওয়েবসাইটে।

কোম্পানিটির পক্ষ থেকে দেয়া আর্থিক বিবরণীতে অর্থবছরের ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর ’২১) শেয়ারপ্রতি মুনাফা ১১ শতাংশ বেড়েছে বলে জানানো হয়েছে।

গত বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ৩১ পয়সা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে তা ছিল ২৮ পয়সা। এই সময়ে কোম্পানিটির মুনাফা বেড়েছে ৩ পয়সা।

কোম্পানিটির দ্বিতীয় প্রান্তিকে অক্টোবর-ডিসেম্বর ’২১ ইপিএস হয়েছে ১৬ পয়সা। আগের অর্থবছরে একই সময়ে মুনাফা হয়েছিল ২০ পয়সা।

আইপিও আবেদন করলেই শেয়ার পাওয়া যাবে- নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির এমন নির্দেশনা কার্যকর ছিল কোম্পানিটির ক্ষেত্রে। ফলে আবেদনকারীরা ১০ হাজার টাকার বিপরীতে শেয়ার পেয়েছেন ২৬টি। আর প্রবাসী আবেদনকারীরা পেয়েছেন ২০টি করে।

সোমবার দশ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বা ১ টাকা বাড়ার সুযোগ থাকবে। যদিও সবার জন্য শেয়ার বরাদ্দ দেয়ার আগে নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার দর প্রথম দুদিন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির বিধান ছিল।

গত বছরের ৬ মে এক নির্দেশনায় বিএসইসি জানায়, নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার দর লেনদেনের প্রথম দিন ৫০ শতাংশের পরিবর্তে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বৃদ্ধির সুযোগ থাকবে।

বিডি ফুড পুঁজিবাজার থেকে ১৫ কোটি টাকা তুলেছে। এজন্য ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ১ কোটি ৫০ লাখ শেয়ার ছেড়েছে কোম্পানিটি। উত্তোলন করা টাকা যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম কেনা, দালানকোঠা নির্মাণ, ভূমি উন্নয়ন এবং প্রাথমিক গণপ্রস্তাব খাতে ব্যয় করবে প্রতিষ্ঠানটি।

বিডি ফুডের আইপিও অনুমোদন শর্তে বলা হয়েছে, কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ৬৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। কোম্পানির যেসব উদ্যোক্তা পরিচালকের কাছে পরিশোধিত মূলধনের শেয়ার আছে তারা আগামী তিন বছর কোনো শেয়ার কেনাবেচা করতে পারবে না। তবে যেদিন কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু করবে সেদিন থেকে সেটি গণনা করা হবে।

২০২০ সালের ৩০ জুন বিডি ফুডের সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী পুনর্মূল্যায়ন ছাড়া শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভি) ১২ টাকা ৮২ পয়সা। পুনর্মূল্যায়নসহ এটি দাঁড়ায় ১৪ টাকা ২৩ পয়সা।

আরও পড়ুন:
মার্জিন ঋণের নতুন নিয়মে বেক্সিমকোসহ ৫ কোম্পানিতে সুবিধা
আবার বড় পতন, বৈঠকের পর ১২ দিনেই পড়ল ৪২৭ পয়েন্ট
‘১০ হাজার টাকার আইপিও আবেদনে’ তারল্য সংকট
শেয়ার কিনুন, ঘুরে দাঁড়াবে পুঁজিবাজার: বিএসইসি চেয়ারম্যান
ইস্টার্ন লুব্রিকেন্ট: ১৬০% লভ্যাংশেও আশা পূরণ নিয়ে প্রশ্ন

শেয়ার করুন

বিমার উত্থানেও সূচকের পতন

বিমার উত্থানেও সূচকের পতন

ব্রোকারেজ হাউসে লেনদেন দেখছেন বিনিয়োগকারীরা। ছবি: নিউজবাংলা

এদিন প্রায় সব খাতেই দরপতন হয়েছে। তবে ব্যতিক্রম ছিল সাধারণ বিমা খাত। এই খাতের ৯৫ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে। কমেনি একটিরও। ৫ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারদর ছিল অপরিবর্তিত।

বিমা খাতে উত্থানের পরও নতুন বছরে ১৬ কর্মদিবসে তৃতীয় দিনের মতো সূচকের পতন হয়েছে। এর মধ্যে সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে পতন দেখল দুই দিন।

আগের সপ্তাহের পাঁচটি কর্মদিবসের প্রতিদিন সূচক অল্প অল্প করে বাড়ার সুখস্মৃতি নিয়ে নতুন সপ্তাহের রোববার প্রথম কর্মদিবসে লেনদেনের শুরুতেই সূচক বাড়ে ২৮ পয়েন্ট। তবে ৫ মিনিট পর থেকেই সূচক পড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত আগের দিনের চেয়ে ৩২ পয়েন্ট কমে শেষ হয় লেনদেন।

সূচক পতনের দিনে ১০২টি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে ২৪৮টির। আগের দিনের দামেই লেনদেন শেষ করেছে ২৮টি কোম্পানি।

চলতি বছর প্রথমবারের মতো সূচক কমে গত ৯ জানুয়ারি, ৫৫ পয়েন্ট। এরপর দ্বিতীয়বারের মতো সূচক কমে ১২ জানুয়ারি। সেদিন পতন হয় ৫৩ পয়েন্ট। বাকি প্রতিদিনই সূচক বেড়েছে। সব মিলিয়ে ১৬ দিনে সূচকে যোগ হয়েছে ৩১৬ দশমিক ৩৪ পয়েন্ট।

বিমার উত্থানেও সূচকের পতন
রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের চিত্র

সূচক পতনের দিন কমেছে লেনদেনও। দিন শেষে হাতবদল হয়েছে ১ হাজার ৪৮২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৬০১ কোটি ২০ লাখ ২৬ হাজার টাকা। আগের দিনের তুলনায় লেনদেন কমেছে ১২১ কোটি টাকা।

তবে গত ১৪ কর্মদিবস ধরে টানা ১ হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে। গত বছরের শেষ প্রান্তিকে বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়ার পর এ বিষয়টি নিষ্ক্রিয়দের আবার শেয়ার কেনায় আগ্রহী হয়ে ওঠার প্রমাণ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

এদিন প্রায় সব খাতেই দরপতন হয়েছে। তবে ব্যতিক্রম ছিল সাধারণ বিমা খাত। এই খাতের ৯৫ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে। কমেনি একটিরও। ৫ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারদর ছিল অপরিবর্তিত।

খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের ৫০ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে। এর বাইরে ব্যাংক, আর্থিক, বস্ত্র, প্রকৌশল, ওষুধ ও রসায়নের মতো প্রধান খাতগুলোয় কমেছে সিংগভাগ শেয়ারের দর।

যেসব কোম্পানির দর কমায় সূচকের পতন

রোববার সূচক পতনের সবচেয়ে বেশি ভূমিকা ছিল ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজের কারণে। শেয়ারদর ১ দশমিক ২৫ শতাংশ কমায় সূচক কমেছে ৯ দশমিক শূন্য ৪ পয়েন্ট।

বিমার উত্থানেও সূচকের পতন
সূচক যত পড়েছে, তার চেয়ে বেশি কমিয়েছে এই ১০টি কোম্পানি

টেলিযোগাযোগ খাতে রবির দর কমেছে ১ দশমিক ৭৯ শতাংশ, সূচক থেকে হারিয়ে ৮ দশমিক শূন্য ৪ পয়েন্ট।

লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশের শেয়ারদর ২ দশমিক ৬ শতাংশ কমায় সূচক কমেছে ৫ দশমিক শূন্য ৯ পয়েন্ট।

এ ছাড়া স্কয়ারফার্মা ৪ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট, বেক্সিমকো লিমিটেড ৪ দশমিক ২৩ পয়েন্ট ও ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির ৩ দশমিক ১৮ পয়েন্ট, পদ্মা অয়েল ৩ দশমিক ১৭ পয়েন্ট, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন ২ দশমিক ৭৪ পয়েন্ট, ব্র্যাক ব্যাংক ২ দশমিক ৪৪ পয়েন্ট ও এসিআই লিমিটেডের কারণে সূচক কমেছে ১ দশমিক ৭৮ পয়েন্ট।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক ফেলেছে ৪৪ দশমিক ১৮ পয়েন্ট।

এর বিপরীতে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানির শেয়ারদর ২ দশমিক ৬৯ শতাংশ বাড়ার পর সূচকে যোগ হয়েছে ২০ দশমিক ৬১ পয়েন্ট।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা গ্রামীণফোন সূচক বাড়িয়েছে ৪ দশমিক ৪৪ পয়েন্ট। শেয়ারদর বেড়েছে শূন্য দশমিক ৪২ পয়েন্ট।

এ ছাড়া বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল, রেনিটা, বিকন ফার্মা, লিনডে বিডি, বেক্সিমকো ফার্মা, সোনালী পেপার, বার্জার পেইন্টস ও ইউনিলিভার কনজ্যুমার সূচকে বেশ কিছু পয়েন্ট যোগ করেছে।

বিমার উত্থানেও সূচকের পতন
সার্বিকভাবে সূচকের পতন হলেও এই ১০টি কোম্পানি বেশ ভালো পয়েন্ট যোগ করেছে

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক বাড়িয়েছে ৪৬ পয়েন্ট।

দর বৃদ্ধির ১০ কোম্পানি

দর বৃদ্ধিতে সবচেয়ে এগিয়ে ছিল সদ্য তালিকাভুক্ত ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স। ১৭ জানুয়ারি লেনদেনে আসা ১০ টাকা অভিতিহ মূল্যেই প্রতিটি শেয়ার দিনের সর্বোচ্চ দরে লেনদেন হয়ে ১৭ টাকা ৬০ পয়সায় পৌঁছেছে।

এর পরই ছিল মালিকানা বদল হতে যাওয়া ফু ওয়াং ফুডসের। মিনোরি বাংলাদেশ এই কোম্পানিটির মালিকানায় আসতে অনুমোদন দেয়ার খবরে শেয়ারদর বেড়েছে ৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ।

এ ছাড়া এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ ও এপেক্স ফুটওয়্যারের শেয়ারদর ৮ দশমিক ৭২ শতাংশ বেড়েছে।

পঞ্চম অবস্থানে ছিল বিডি ল্যাম্পস, যার দর ২২১ টাকা ৪০ পয়সা থেকে ৮ দশমিক ৬২ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ২৪০ টাকা ৫০ পয়সা।

বিমার উত্থানেও সূচকের পতন
রোববার সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে এই ছয়টি খাতে

এ ছাড়া ইয়াকিন পলিমারের দর ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ, ফু ওয়াং সিরামিকসের দর ৮ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ, জেমিনি সি ফুডের দর ৭ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ ও আরএকে সিরামিকসের দর ৬ দশমিক ৯২ শতাংশ বেড়েছে।

দর বৃদ্ধির সেরা দশের শেষ অবস্থানে ছিল বিমা খাতের গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স, যার দর ৪৯ টাকা ৮০ পয়সা থেকে ৬ দশমিক ৮২ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৫৩ টাকা ২০ পয়সা।

দরপতনের শীর্ষ ১০

এই তালিকার শীর্ষে ছিল মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ। জেড ক্যাটাগরির এই কোম্পানিটির শেয়ারদর কমেছে ৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

এদিন ৬ শতাংশের বেশি শেয়ারদর বেড়েছে আরও দুটি কোম্পানির। এর মধ্যে গ্লোবাল হ্যাভি কেমিক্যালসের দর ৬ দশমিক ৪৫ শতাংশ ও তমিজউদ্দিন টেক্সটাইলের দর কমেছে ৬ দশমিক ২৮ শতাংশ।

লভ্যাংশ ঘোষণার পর উড়তে থাকা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন দর হারিয়েছে ৫ দশমিক ৮৯ শতাংশ। আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ দর হারিয়েছে ৫ দশমিক ৬২ শতাংশ।

তিন বছর পর লভ্যাংশ ঘোষণা করা তাল্লু স্পিনিং প্রতি বছরই লোকসান দেখানো ও লভ্যাংশ না দেয়ার সিদ্ধান্ত জানানোর পর দুই দিনেই দর হারিয়েছে ৪০ শতাংশের মতো। ১৪ টাকা ৩০ পয়সা থেকে নেমে এসেছে ১০ টাকা ১০ পয়সায়। এর মধ্যে আজ কমেছে ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ বা ৬০ পয়সা।

মিথুন নিটিংয়ের শেয়ারদর ১০ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ কমে হয়েছে ১৩ টাকা ৮০ পয়সা।

এ ছাড়া শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের দর ৫ দশমিক ১২ শতাংশ, কেয়া কসমেটিকসের দর ৫ দশমিক ১৯ শতাংশ কমেছে।

লেনদেনে সেরা ১০

দর হারালেও লেনদেনে সেরা ছিল রোববার বেক্সিমকো লিমিটেড। কোম্পানিটির ১৫৬ কোটি ৩০ লাখ টাকার ৯৭ লাখ ৪২ হাজার ৪টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

বিমার উত্থানেও সূচকের পতন
বিমা ছাড়া প্রধান সব খাতেই দরপতন দেখেছে বিনিয়োগকারীরা

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনে ৬৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা, পাওয়ার গ্রিডের ৫৬ কোটি ৭ লাখ টাকা, এশিয়া ইন্স্যুরেন্সে ৩৭ কোটি ১৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

এপেক্স ফুটওয়্যারে ৩৬ কোটি ১৪ লাখ টাকার ১০ লাখ ৩৬ হাজার ১৮৫টি শেয়ার, সোনালী পেপারে ৩৫ কোটি ১৩ লাখ টাকার ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৫৮১টি শেয়ার, সাইফ পাওয়ারটেকের ৩৪ কোটি ১৭ লাখ টাকার ৭৬ লাখ ৯৩ হাজার ৬৪টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

এ ছাড়া ফরচুন সুজে ৩৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোয় ৩২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, লিন্ডে বিডিতে ২৯ কোটি ১৮ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে।

আরও পড়ুন:
মার্জিন ঋণের নতুন নিয়মে বেক্সিমকোসহ ৫ কোম্পানিতে সুবিধা
আবার বড় পতন, বৈঠকের পর ১২ দিনেই পড়ল ৪২৭ পয়েন্ট
‘১০ হাজার টাকার আইপিও আবেদনে’ তারল্য সংকট
শেয়ার কিনুন, ঘুরে দাঁড়াবে পুঁজিবাজার: বিএসইসি চেয়ারম্যান
ইস্টার্ন লুব্রিকেন্ট: ১৬০% লভ্যাংশেও আশা পূরণ নিয়ে প্রশ্ন

শেয়ার করুন