রাষ্ট্রপতির সংলাপ: সার্চ কমিটির জন্য নাম দেয়নি ন্যাপ

player
রাষ্ট্রপতির সংলাপ: সার্চ কমিটির জন্য নাম দেয়নি ন্যাপ

রোববার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সংলাপ থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন কার্যকরী সভাপতি আইভি আহমেদ। ছবি: নিউজবাংলা

ন্যাপের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘আজকে সংলাপের বিষয় ছিল নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে। সার্চ কমিটি গঠন নিয়ে সংলাপ ছিল না। নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে যে বির্তক সেটি নিরসন করতে আইন প্রণয়ন করতে হবে। আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়ে সময় পাচ্ছি না, এক ধরনের কথা। আর আইনের উদ্যোগ না দিয়ে সময় পাচ্ছি না, এটা আরেক ধরণের কথা। আমরা মনে করি আইন প্রণয়নে এখনই উদ্যোগ নেয়া উচিত।’

নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে রাজনৈতিকদলগুলোর সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সংলাপে সার্চ কমিটির কোনো নাম প্রস্তাব করেনি ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)।

রোববার প্রায় এক ঘণ্টা বঙ্গভবনে সংলাপ শেষে বের হয়ে এমন তথ্য জানিয়েছে দলটির কার্যকরী সভাপতি আইভি আহমেদ।

তিনি বলেছেন, ‘রাষ্ট্রপতি সার্চ কমিটি গঠনে কোনো নাম চাননি। তাই আমরাও কোনো নাম প্রস্তাব করিনি।’

এর আগে বিকেল ৪টায় আইভি আহমেদের নেতৃত্বে মোট সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বঙ্গভবনে সংলাপে যায়।

দলের অন্য সদস্যরা হলেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান, কাজী সিদ্দিকুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক আহমেদ খান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক পার্থ সারথি চক্রবর্তী ও সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কৃষি অনিল চক্রবর্তী।

এর আগে ২০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সঙ্গে সংলাপের মধ্য দিয়ে সোমবার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ইসি গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপ শুরু হয়।

সংলাপ শেষে বেরিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ন্যাপের কার্যকরী সভাপতি বলেন, ‘সার্চ কমিটি গঠনের আমাদের কাছে কোনো নামও চায়নি। তাই আমরাও কোনো নাম প্রস্তাব করিনি। সার্চ কমিটি নিয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো কথা হয়নি। আমরা মনে করি সীমিত সময়ের মধ্যে সার্চ কমিটি করা সম্ভব নয়।’

এই সময় দলটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘আজকে সংলাপের বিষয় ছিল নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে। সার্চ কমিটি গঠন নিয়ে সংলাপ ছিল না। নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে যে বির্তক সেটি নিরসন করতে আইন প্রণয়ন করতে হবে। আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়ে সময় পাচ্ছি না, এক ধরনের কথা। আর আইনের উদ্যোগ না দিয়ে সময় পাচ্ছি না, এটা আরেক ধরণের কথা। আমরা মনে করি আইন প্রণয়নে এখনই উদ্যোগ নেয়া উচিত।’

আপনার কি তাহলে সার্চ কমিটির বিপক্ষে জানতে চাইলে আইভি আহমেদ বলেন, ‘আমরা বলছি, আইন করতে হবে। সার্চ কমিটির পক্ষে না বিপক্ষে সেই বিষয়টি সংলাপে আসেনি।’

সার্চ কমিটি হলে ন্যাপ সেটি মানবে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘যখন হবে তখন বোঝা যাবে।’

এ সময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, সংলাপে নির্বাচন কমিশন আইন প্রণয়নের প্রস্তাব দিয়েছে ন্যাপ।

ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন আইন করার জন্য আমরা বলেছি।’

বিকল্প কোনো প্রস্তাব দিয়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে ভোটাধিকারের জন্য আমরা সবাই ভোটকেন্দ্রে যেতে পারি। সেখানে যেন কোনো মন্ত্রী-এমপি প্রভাব খাটাতে না পারে। এই ধরনের প্রস্তাবগুলো আমরা দিয়েছি।’

আইন ছাড়া নির্বাচন কমিশন গঠন হলে ন্যাপ সেটি মেনে নিবে কি না জানতে চাইলে আইভি আহমেদ বলেন, ‘এটা যখন কমিশন গঠন হবে, তখনকার বিষয়। তখন ইসি কী ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে, জনগণ ভোট দিতে যেতে পারছে কি না, ভোট কেন্দ্রের পরিবেশ ঠিক রাখতে পারছে কি না, সেটার ওপর নির্ভর করছে।’

আপনাদের প্রস্তাবের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি কী বলেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মহানাম্য রাষ্ট্রপতি বলেছেন, আপনারা আমার ক্ষমতা সম্পর্কে জানেন। ফলে আমি আমার ক্ষমতার মধ্যে থেকে জনগণের যে দাবি, আপনাদের যে দাবি তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল।’

আইভি আহমেদ বলেন, ‘এখন উনি কতটুকু করবেন, সেটা আমরা ভবিষ্যতে দেখব, বুঝব। এর আগে তো কিছু বলব না।’

লিখিত বক্তব্যে আইভি আহমেদ বলেন, ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতি, ২০১১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত হওয়ার পর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মরহুম জিল্লুর রহমান সার্চ কমিটি গঠন করে। ২০১৩ সালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিব উদ্দিনের অধীনে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং দ্বিতীয়বার ২০১৬ সালে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ সাহেবের সংলাপের পর সার্চ কমিটি গঠন হয়।

‘২০১৮ সালে একই পদ্ধতিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ.কে.এম নুরুল হুদার অধীনের জাতীয় নির্বাচন এবং এরপরের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। প্রায় প্রতিটি নির্বাচনে যথেচ্ছ টাকার ব্যবহার, অস্ত্রের মহড়া, ভোটকেন্দ্রের বুথ দখল ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচন কমিশন এসব অঘটনের প্রতিকারের বিষয়ে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন।’

লিখিত প্রস্তাবে বলা হয়েছে,

# পবিত্র সংবিধানকে যথাযথ অনুসরণ করা প্রয়োজন। সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদে একটি আইনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠনের নির্দেশনা দেয়া আছে। নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও কার্যকরভাবে গড়ে তুলতে আমরা সংবিধান অনুযায়ী আইন করার জোর দাবি জানাচ্ছি।

# নির্বাচন কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে যোগ্য, দক্ষ, নির্মোহ, সৎ জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীদের নিয়োগ দিতে হবে।

# নির্বাচনে ধর্মের অপব্যবহারকারী, যথেচ্ছ টাকা ও অস্ত্র এবং পেশীশক্তি ব্যবহারকারীদের তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার শাস্তিদানের ব্যবস্থা নিতে হবে।

# নির্বাচনে মন্ত্রী-এমপিদের অযাচিত হস্তক্ষেপ ও প্রচারণায় অংশ নেয়া বন্ধ করতে হবে। নির্বাচনকালীন মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নিতে হবে।

# নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও অধিকতর শক্তিশালী করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ থাকতে হবে। কমিশনকে নির্বাচনকালীন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের রদবদল প্রয়োজনে শাস্তি প্রদানের ক্ষমতা ও সাংবিধানিক আইন প্রয়োগের নিশ্চয়তা দিতে হবে।

# নির্বাচন কমিশনের কৃতকর্ম ও ব্যর্থতার জন্য জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা থাকতে হবে।

# স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী ব্যক্তি ও রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নির্বাচন কমিশনে ফেরেশতা বসিয়েও লাভ নেই: রুমিন

নির্বাচন কমিশনে ফেরেশতা বসিয়েও লাভ নেই: রুমিন

রুমিন ফারহানা। ফাইল ছবি

‘একটি বিষয় পরিষ্কার, নির্বাচন কমিশনে যদি পাঁচজন ফেরেশতাও নিয়োগ করা হয় তার পরও কিছু যায় আসে না। যদি না নির্বাচনকালীন সরকারটি নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ হয়। খুব সঠিকভাবে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ বিষয়টি বুঝতে পেরেছিল বলেই তারা নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে কোনো আন্দোলন করেনি। তাদের আন্দোলন ছিল নিরপেক্ষ সরকার যাতে বহাল করা হয় সে জন্য।’

নির্বাচন কমিশনে ফেরেশতা বসিয়েও কোনো লাভ নেই বলে মনে করেন বিএনপির সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

রোববার সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

রুমিন বলেন, ‘বাংলাদেশের যে রাজনৈতিক বাস্তবতা, তাতে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো নির্বাচনকালীন সরকারটি কেমন হবে। আজ সংসদে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে নির্বাচন কমিশন গঠন আইন নিয়ে।

‘একটি বিষয় পরিষ্কার, নির্বাচন কমিশনে যদি পাঁচজন ফেরেশতাও নিয়োগ করা হয় তার পরও কিছু যায় আসে না। যদি না নির্বাচনকালীন সরকারটি নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ হয়। খুব সঠিকভাবে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ বিষয়টি বুঝতে পেরেছিল বলেই তারা নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে কোনো আন্দোলন করেনি। তাদের আন্দোলন ছিল নিরপেক্ষ সরকার যাতে বহাল করা হয় সে জন্য।’

নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে সংবিধানে আইনের কথা বলা থাকলেও স্বাধীনতার ৫০ বছরেও এ আইনটি হয়নি। আগামী ফেব্রুয়ারিতে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়ার আগে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতি যখন বিভিন্ন দলের সঙ্গে সংলাপ করেন, তখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয় এই আইনের বিষয়টি নিয়ে। এরই মধ্যে এই আইনের একটি বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপন হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতির আগের দুই সংলাপে বিএনপি অংশ নিলেও এবার তারা এই আলোচনা বর্জন করেছে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নিলেও দলটি নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে ফিরে গেছে।

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আজ যখন পাশার দান উল্টে গেছে, আওয়ামী লীগ যখন ভোট ছাড়া ক্ষমতায় আছে দীর্ঘ ১৩ বছর, তখন তারা অবলীলায় বলতে পারে নির্বাচিত সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। সেই নির্বাচন কেমন হয় সেটা আমরা ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে দেখেছি।’

র‌্যাব শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও বিচারবহির্ভূত হত্যা নিয়েও কথা বলেন বিএনপির এই সংসদ সদস্য। বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশের বীভৎস মানবাধিকার পরিস্থিতি দেশের অভ্যন্তরে ও আন্তর্জাতিক মহলের সামনে নিয়ে এসেছে। বিএনপিসহ বহু বিরোধী দলের মানুষকে শুধু সরকারের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য জীবন দিতে হয়েছে।

‘জনগণের করের টাকায় চলা একটি রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে দলীয় ক্যাডারের মতো ব্যবহার করে তাতে কর্মরত বহু মানুষ এবং তাদের পরিবারে সংকট তৈরি করেছে এই সরকার। এ দেশের মানবাধিকার সংস্থা, নাগরিক সমাজ, রাজনৈতিক দলগুলো বছরের পর বছর রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, গায়েবি মামলা ইত্যাদি বর্বরতার কথা বলেছে। কিন্তু তাতে কিছু আসে-যায়নি সরকারের।’

তিনি বলেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ মন্ত্রীরা কড়া ভাষায় প্রথমে আমেরিকাকে আক্রমণ করলেও তাদের গলার স্বর এখন যথেষ্ট নিচু। এখন নিজেদের সমস্যা খতিয়ে দেখার বিষয়ে আলাপ হচ্ছে, প্রয়োজনে লবিস্ট ফার্ম নিয়োগের কথাও হচ্ছে। পত্রিকায় দেখলাম সংসদীয় স্থায়ী কমিটি এ বিষয়ে সরকারকে পরামর্শও দিয়েছে। মজার বিষয় হলো, ল ফার্ম নিয়োগ কোনো নতুন বিষয় নয়। জনগণের করের টাকায় দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকায় লবিস্ট ফার্ম পুষছে সরকার।’

বিএনপি নেত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশকে মার্কিন লবিং শিখিয়েছে আওয়ামী লীগ। দেশ-বিদেশে কোনো সংকটে পড়লেই সরকার নতুন ইস্যু বানিয়ে সেটা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। এবার যেমন বিএনপি লবিস্ট নিয়োগ করেছে, টাকা পাচার করেছে ইত্যাদি তথ্য তুলে ধরা হচ্ছে।’

এখন ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটছে না কেন- সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলে রুমিন বলেন, ‘আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার পর এখন আর র‌্যাব সন্ত্রাসীদের নিয়ে গভীর রাতে অস্ত্র উদ্ধারে যাচ্ছে না। কিংবা গোপন সংবাদ পেয়ে কোনো সন্ত্রাসীকে ধরতে গিয়ে আগে থেকে ওতপেতে থাকা সন্ত্রাসীরা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলিও ছুড়ছে না।

‘তারপর পালিয়ে যেতে গিয়ে মারাও যাচ্ছে না কোনো মানুষ। ঠিক যেন সন্ত্রাসীরা সাধু হয়ে গিয়ে র‌্যাবকে গুলি করা বন্ধ করেছিল সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহাকে হত্যার পর পরই।’

টেকনাফের কাউন্সিলর যুবলীগ নেতা একরামুল হককে ক্রসফায়ারের নামে গুলি করে হত্যার সময় মোবাইল ফোনে কল রেকর্ড ফাঁস হওয়ার তিন বছর পরও কেন তার স্বজনরা মামলা করতে পারেননি, সেই প্রশ্নও তোলেন রুমিন। বলেন, ‘আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর কাছে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করছি।’

শেয়ার করুন

বিএনপিকে বন্ধুই ভাবতে চাই না: মান্না

বিএনপিকে বন্ধুই ভাবতে চাই না: মান্না

রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে শহীদ আসাদ স্মরণে এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন জাতীয় ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। ছবি: নিউজবাংলা

‘যখন জাতীয় ঐক্যের কথা বলে বিএনপি, তখন খুব ভালো লাগে। আমি বিএনপি নেতাদের বলি, শুধু বক্তৃতার সময় এ কথা বলেন। কই আমাদের তো ফোন করে একবার বলেন না, আসেন একটু বসি, আলাপ-আলোচনা করি।’

গত জাতীয় নির্বাচনের আগে জোট করলেও এখন বিএনপিকে আর বন্ধু ভাবতে রাজি নন জাতীয় ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। বিএনপির সেই জোট ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’ অকার্যকর হয়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি নেতাদের উপস্থিতিতেই তিনি এই মন্তব্য করেন।

রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে শহীদ আসাদ স্মরণে এক আলোচনা সভায় মান্না এ কথা বলেন।

শহীদ আসাদ পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা খায়রুল কবির খোকন, সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন।

মান্না বলেন, ‘আমি বিএনপিকে বন্ধুই ভাবতে চাই না। …তবে বিএনপির সঙ্গে কেন, কারও সঙ্গে আমার কোনো শত্রুতা নেই।’

উপস্থিত বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় যাবে বলে তারা আশা করে। তারা বলুক, আগামীতে দেশ কল্যাণরাষ্ট্র হবে।

‘শহীদ আসাদ দিবসের অনুষ্ঠানে এসে যদি নাই বলতে পারি যে ক্ষমতায় গেলে আমি দেশ বদলাব, তাহলে রাজনীতি রাজনীতি তা করছি কেন?’

২০০৭ সালে মান্না আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হলেও সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ‘সংস্কারপন্থি’ হিসেবে পরিচিত হয়ে দলে অবস্থান হারান। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়নও পাননি। পরের বছর দলের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বাদ পড়ার পর দলের সঙ্গে সম্পর্কচ্যুতি হয় তার।

এরপর আওয়ামী লীগের কট্টর সমালোচক হয়ে ওঠেন মান্না। গঠন করেন নাগরিক ঐক্য নামে সংগঠন। এক যুগেও সংগঠনটি বিকশিত হতে পারেনি। তবে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার পর তিনি জোটের প্রধান নেতাদের একজন হিসেবে পরিগণিত হন।

তবে সেই নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্ট প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে পারেনি, মান্না নিজেও জিততে পারেননি। ভোটের পর এই জোট অকার্যকর হয়ে যায়।

বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে মান্না বলেন, ‘যখন জাতীয় ঐক্যের কথা বলে বিএনপি, তখন খুব ভালো লাগে। আমি বিএনপি নেতাদের বলি, শুধু বক্তৃতার সময় এ কথা বলেন। কই আমাদের তো ফোন করে একবার বলেন না, আসেন একটু বসি, আলাপ-আলোচনা করি।’

গণ-অভ্যুত্থান না হওয়ায় আক্ষেপ

পাকিস্তান আমলে ১৯৬৯ সালের মতো গণ-অভ্যুত্থান পরিস্থিতি তৈরি কেন হচ্ছে না- এ নিয়ে আক্ষেপও করেন মান্না। বলেন, ‘১৯৬৯-এ আসাদের মৃত্যুতে লাখো মানুষ জড়ো হয়েছিল। এখনও তো মানুষ মারা যাচ্ছে, এখন কেন ’৬৯ আবার জাগে না? সেই সময় থেকে এখন রাজনৈতিক কর্মী অনেক বেশি, তার পরও কেন অভ্যুত্থান হচ্ছে না?’

শাবি ভিসি কেন পদত্যাগ করবেন না

নাগরিক ঐক্যের নেতা বলেন, ‘শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শেখ হাসিনার পদত্যাগ চায়নি, সরকারের পদত্যাগ চায়নি। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির পদত্যাগ চেয়েছে। ভিসি পদত্যাগ করবেন না কেন?

“ভিসি বলছেন, ‘আমি পদত্যাগ করতে পারি যদি সরকার আমাকে বলে।’ অর্থাৎ কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির ক্ষমতা নেই সরকারের অনুমতি ব্যতিরেকে এমনকি পদত্যাগ করবে।”

গণ অধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নুর, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, শহীদ আসাদের ছোট ভাই এম নুরুজ্জামানও এ সময় বক্তব্য রাখেন।

শেয়ার করুন

সিইসি-ইসি বিল: আদালতে প্রশ্ন তোলার সুযোগ থাকছে না

সিইসি-ইসি বিল: আদালতে প্রশ্ন তোলার সুযোগ থাকছে না

জাতীয় সংসদ ভবনে অধিবেশনে সদস্যরা। ফাইল ছবি

বিলটিতে বলা হয়েছে, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগদানের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ইতিপূর্বে গঠিত অনুসন্ধান কমিটির ও তৎকর্তৃক সম্পাদিত কার্যাবলি এবং উক্ত অনুসন্ধান কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনারের নিয়োগ বৈধ ছিল বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত বিষয়ে কোনো আদালতে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।’

সংসদে উত্থাপিত প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিলে সার্চ কমিটির কাজ নিয়ে আদালতে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। পাশাপাশি বিলটিতে আগের সব সার্চ কমিটিকে বৈধতা দেয়া হয়েছে।

সংসদ অধিবেশনে রোববার বিএনপির আপত্তির মুখে বিলটি উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। পরে বিলটি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে। সাত দিনের মধ্যে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেবে স্থায়ী কমিটি।

বিলটি সংসদে উত্থাপনের জন্য আইনমন্ত্রী আনিসুল হক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর অনুমতি চাইলে আপত্তি জানান বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ। যদিও তার আপত্তি সংসদে টেকেনি।

আইন করার উদ্দেশ্য তুলে ধরে সংসদে দেয়া বক্তব্যে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘প্রস্তাবিত বিলটি আইনে পরিণত হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হবে, গণতন্ত্র সুসংহত ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করবে এবং জনস্বার্থ সমুন্নত হবে, আশা করা যায়।’

বিলটিতে বলা হয়েছে, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগদানের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ইতিপূর্বে গঠিত অনুসন্ধান কমিটির ও তৎকর্তৃক সম্পাদিত কার্যাবলি এবং উক্ত অনুসন্ধান কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনারের নিয়োগ বৈধ ছিল বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত বিষয়ে কোনো আদালতে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।’

বিলে সার্চ কমিটির কাজ সুনির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এ কমিটি স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার নীতি অনুসরণ করে দায়িত্ব পালন করবে। আইনে বেঁধে দেয়া যোগ্যতা, অযোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও সুনাম বিবেচনা করে কমিটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করবে।

সার্চ কমিটি সিইসি ও কমিশনারদের প্রতি পদের জন্য দুজন করে ব্যক্তির নাম সুপারিশ করবে। কমিটি গঠনের ১০ কার্যদিবসের মধ্যে সুপারিশ রাষ্ট্রপতির কাছে দেবে বলে বিলে নির্দিষ্ট করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, সার্চ কমিটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার পদে যোগ্যদের অনুসন্ধানের জন্য রাজনৈতিক দল এবং পেশাজীবী সংগঠনের কাছ থেকে নাম আহ্বান করতে পারবে।

সার্চ কমিটিতে থাকতে পারবেন যারা

উত্থাপন করা বিলে বলা হয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতি ছয় সদস্যের একটি সার্চ কমিটি গঠন করবেন। এর সভাপতি হবেন প্রধান বিচারপতি মনোনীত আপিল বিভাগের একজন বিচারক।

সদস্য হিসেবে থাকবেন- প্রধান বিচারপতির মনোনীত হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারক, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, সরকারি কমিশনের চেয়ারম্যান এবং রাষ্ট্রপতি মনোনীত দুজন বিশিষ্ট নাগরিক। তিনজন সদস্যের উপস্থিতিতে কমিটির সভার কোরাম গঠন হবে। কমিটির কাজে সাচিবিক সহায়তা দেবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

কারা হতে পারবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার

প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার হিসেবে কাকে নিয়োগ দেয়া হবে তাও নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে বিলে। এতে বলা হয়েছে, এই দুই পদে নিয়োগ পাওয়াদের অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে, ন্যূনতম ৫০ বছর বয়স হতে হবে এবং কোনো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি, বিচার বিভাগীয়, আধা সরকারি বা বেসরকারি পদে তার অন্যূন ২০ বছর কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

যোগ্যতার পাশাপাশি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের অযোগ্যতাও নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। বিলে মোট ছয়টি অযোগ্যতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এগুলো হলো আদালত অপ্রকৃতিস্থ ঘোষণা করলে, দেউলিয়া হওয়ার পর দায় থেকে অব্যাহতি না পেলে, কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব নিলে কিংবা বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা বা স্বীকার করলে, নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে অন্যূন দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) অ্যাক্ট-১৯৭৩ বা বাংলাদেশ কোলাবরেটরস (স্পেশাল ট্রাইব্যুনালস) অর্ডার-১৯৭২-এর অধীনে কোনো অপরাধের জন্য দণ্ডিত হলে এবং আইনের দ্বারা পদাধিকারীকে অযোগ্য ঘোষণা করছে না- এমন পদ ব্যতীত প্রজাতন্ত্রের কর্মে লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকলে।

শেয়ার করুন

‘ব্লক চেইন’ পদ্ধতিতে বিতর্কমুক্ত নির্বাচন হতে পারে: জাকের পার্টি

‘ব্লক চেইন’ পদ্ধতিতে বিতর্কমুক্ত নির্বাচন হতে পারে: জাকের পার্টি

রাজধানী বনানীতে জাকের পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শনিবার সংবাদ সন্মেলনে জাকের পার্টি চেয়ারম্যান মোস্তফা আমীর ফয়সল। ছবি: সংগৃহীত

মোস্তফা আমীর ফয়সল বলেন, ‘ব্লক চেইন প্রযুক্তি প্রচলিত সব প্রযুক্তির সেরা। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ভোট হলে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হবে না।’

‘ব্লক চেইন’ পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচনে ভোটের ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন জাকের পার্টি চেয়ারম্যান মোস্তফা আমীর ফয়সল।

রাজধানী বনানীতে জাকের পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শনিবার এক সংবাদ সন্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।

মোস্তফা আমীর ফয়সল বলেন, ‘ব্লক চেইন প্রযুক্তি প্রচলিত সব প্রযুক্তির সেরা। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ভোট হলে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হবে না।’

‘ব্লক চেইন’ পদ্ধতির ব্যাখায় বলা হয়, ব্লক চেইন হলো ব্লকের তৈরি শিকল। এটি প্রধানত একটি লেনদেনের প্রযুক্তি। যেখানে এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির কাছে অর্থ সরাসরি স্থানান্তর করা সম্ভব।

এ সময় অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতিধারা আরও জোরদার ও গতিশীল করতে অর্থনৈতিক অঙ্গরাজ্য গঠনের প্রস্তাব তুলে ধরেন জাকের পার্টির চেয়ার‌ম্যান।

সংবাদ সম্মেলনে মোস্তফা আমীর ফয়সল বলেন, ‘ব্লক চেইন-এর মত সর্বাধুনিক প্রযুক্তির বাস্তবায়ন এবং ই-ভোটিং এর মাধ্যমে ঘরে বসে ভোটের প্রস্তাবনা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় আমরা দিয়েছি। এ প্রস্তাবনায় রাষ্ট্রপতি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলের সদস্য ভোটারদের নাম, আইডি কার্ড এবং স্ব স্ব দলের সমর্থক ভোটারদের ভোটারের নাম, আইডি কার্ড, স্বাক্ষর এবং ছবিযুক্ত ডাটাবেজ তৈরি করতে হবে। এ ডাটাবেজ নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হবে।

‘তা হলে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর যে সংরক্ষিত ভোট আছে তার প্রমাণ নির্বাচনের আগেই নির্বাচন কমিশনে থাকবে। এরপর নির্বাচন কমিশন এ ডাটাবেজ একটি অ্যাপের মাধ্যেমে দেশবাসীর কাছে উম্মুক্ত করে দেবে।’

সংবাদ সম্মেলনে জাকের পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান সায়েম আমীর ফয়সল, জাকের পার্টির মহিলা ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ফারাহ আমীর ফয়সল এবং জাকের পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব শামীম হায়দার উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জাকের পার্টি চেয়ারম্যান স্টার্টআপ ইকুইটি ফান্ড, বয়স্কদের জন্য পেনশন ফান্ড, আয়ের গড় হিসাবের প্রচলিত ধারার অসামঞ্জস্য এবং সঞ্চয়কারীদের সঞ্চয়কে বিনিয়োগের আরো বড় খাত তৈরির অপরিহার্যতা তুলে ধরেন।

শেয়ার করুন

৪০ দিন পর প্রকাশ্যে মুরাদ

৪০ দিন পর প্রকাশ্যে মুরাদ

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে চাচার জানাজায় অংশ নিয়েছেন প্রতিমন্ত্রীর পদ হারানো মুরাদ হাসান। ছবি: নিউজবাংলা

প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের পর তিনি কানাডার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। তবে কোভিড প্রটোকল না মানায় তাকে দেশটিতে ঢুকতে দেয়া হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে ১২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকায় ফেরেন তিনি। এরপর তার আর সন্ধান মেলেনি। গুঞ্জন রটে, রাজধানীর উত্তরার একটি ভবনে ওঠেন তিনি। তবে তার অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি।

কানাডায় প্রবেশে ব্যর্থ হয়ে দেশে ফেরার প্রায় ৪০ দিন পর প্রকাশ্যে দেখা গেল তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর পদ হারানো ডা. মুরাদ হাসানকে।

চাচার জানাজায় অংশ নিতে শনিবার বেলা ২টার দিকে জামালপুরের সরিষাবাড়ীর তারাকান্দি গ্রামের বাড়িতে যান তিনি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ভাই বিচারপতি মাহমুদুল হাসান তালুকদার।

গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে নেতা-কর্মী ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন মুরাদ হাসান। পরে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিনুর রহমান তালুকদারের জানাজায় অংশ নেন।

মন্ত্রিত্ব হারানোর পর এই প্রথম মুরাদ হাসান তার নিজ নির্বাচনি এলাকায় এলেন।

গত ১ ডিসেম্বর এক ফেসবুক লাইভে মুরাদ হাসান খালেদা জিয়ার নাতনি জাইমা রহমানকে নিয়ে অসৌজন্যমূলক বক্তব্য দেন। বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। এরপর চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহির সঙ্গে তার অশোভন কথোপকথনের অডিও ভাইরাল হলে শুরু হয় নতুন বিতর্ক।

এমন পরিস্থিতিতে মুরাদকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মুরাদের পদত্যাগের পর তার এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করে উল্লাস করেন আওয়ামী লীগের কিছু নেতা-কর্মী ও স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, মুরাদ তার অনুসারীদের মাধ্যমে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। এ ছাড়া তার বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে খোদ আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা বিব্রত ছিলেন। তাকে নির্বাচনি এলাকায় ঢুকতে না দেয়ার ঘোষণাও দেন দলের কিছু নেতা-কর্মী।

প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের পর তিনি কানাডার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। তবে কোভিড প্রটোকল না মানায় তাকে দেশটিতে ঢুকতে দেয়া হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে ১২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকায় ফেরেন তিনি। ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সেদিন সংবাদকর্মীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে বেরিয়ে যান মুরাদ।

৪০ দিন পর প্রকাশ্যে মুরাদ
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মুরাদ হাসান। ফাইল ছবি


এরপর তার আর সন্ধান মেলেনি। গুঞ্জন রটে, রাজধানীর উত্তরার একটি ভবনে ওঠেন তিনি। তবে তার অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি। এর ৪০ দিন পর শনিবার তাকে নিজ সংসদীয় এলাকায় দেখা গেছে।

চাচার জানাজা শেষে মুরাদ হাসান বলেন, ‘দেশের এমন কোনো জায়গা নেই, যেখানে কোনো রাজাকার জন্মগ্রহণ করেনি। কিন্তু জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার আওনা ইউনিয়নে একটি রাজাকারও জন্মগ্রহণ করেনি। এটা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ঘাঁটি এবং সেই মাটি পবিত্র।’

বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিনুর রহমান তালুকদারকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

আ.লীগকে সমর্থন করে লাভ কী, প্রশ্ন চুন্নুর

আ.লীগকে সমর্থন করে লাভ কী, প্রশ্ন চুন্নুর

মুন্সিগঞ্জে মুক্তিযুদ্ধ মিলনায়তনে শনিবার জেলা জাতীয় পার্টির মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন দলটির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। ছবি: নিউজবাংলা

জাপা মহাসচিব বলেন, ‘দলের প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ অনেক আশা করে তিনবার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দল আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় এনেছিলেন। কী লাভ হয়েছে দেশের? কী লাভ হয়েছে জাতীয় পার্টির?’

আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিয়ে জাতীয় পার্টির কী লাভ হয়েছে, এমন প্রশ্ন তুলেছেন দলটির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু।

আক্ষেপের সুরে তিনি বলেছেন, ‘অনেক আশা করে তিন-তিনবার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দল আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিয়ে ক্ষমতায় এনেছিলেন, কিন্তু কী লাভ হয়েছে জাতীয় পার্টির।’

মুন্সিগঞ্জে মুক্তিযুদ্ধ মিলনায়তনে শনিবার জেলা জাতীয় পার্টির মতবিনিময় সভায় তিনি এমন প্রশ্ন রাখেন।

আগামী সংসদ নির্বাচন নিয়ে পরিকল্পনার কথা নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব।

চুন্নু জানান, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে যোগ্য প্রার্থী দেবেন তারা। সেই প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ দ্রুত শুরু করবেন।

আগামীতে জাতীয় পার্টি কোনো জোটে যাবে কি না প্রশ্নে নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘উপমহাদেশের রাজনীতিতে নির্বাচনকালীন জোট হয়। আমাদের দেশেও হয়, হয়েছে। নির্বাচনকালীন জোট এক কথা, ক্ষমতায় যাওয়া আরেক কথা।

‘নির্বাচনকালীন জোট হবে কি না, সেটা সময়ই বলবে। আমরা এখন জোটের কোনো চিন্তা করছি না। যদি জোট হয়, তবে সেটা জি এম কাদেরের নেতৃত্বে হতে পারে। অন্য কারও নেতৃত্বে জোট হবে, সেই চিন্তা আমাদের মাথায় নেই।’

জাপা মহাসচিব বলেন, ‘মুন্সিগঞ্জে এসেছি নেতা-কর্মীদের কথা শুনতে, তাদের মতামত নিয়েই জেলা কমিটি করতে দলের চেয়ারম্যানকে সুপারিশ করব।

‘দলের প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ অনেক আশা করে তিনবার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দল আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় এনেছিলেন। কী লাভ হয়েছে দেশের? কী লাভ হয়েছে জাতীয় পার্টির?’

পরক্ষণেই তিনি বলেন, ‘লাভ হয়েছে তাদের, যারা কানাডায় বেগমপাড়া বানিয়েছেন, যারা লাখ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছেন।’

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আজ সামান্য ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও তারা বিনা ভোটে চেয়ারম্যান হতে চায়, লাঙ্গলের প্রার্থীকে তারা মাঠে দেখতে চায় না। এর জবাব একদিন আওয়ামী লীগকে দিতেই হবে।’

দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে চুন্নু বলেন, ‘সংগঠনের কোনো বিকল্প নেই। ক্ষমতায় যেতে চাইলে জনগণের পাশে থাকতে হবে, তাদের পার্টির সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে।’

জাতীয় পার্টির প্রতিটি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

মুন্সিগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব আব্দুল বাতেন মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম ও মীর আবদুস সবুর আসুদ।

শেয়ার করুন

শপথ নিলেন সংসদ সদস্য শুভ

শপথ নিলেন সংসদ সদস্য শুভ

জাতীয় সংসদ ভবনে শনিবার বিকেলে খান আহমেদ শুভকে শপথবাক্য পড়ান স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

১৬ জানুয়ারি টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী খান আহমেদ শুভ ৮৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির জহিরুল হক জহিরকে পরাজিত করেন।

সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন টাঙ্গাইল-৭ আসনে উপনির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগের প্রার্থী খান আহমেদ শুভ।

জাতীয় সংসদ ভবনে শপথকক্ষে শনিবার বিকেলে শপথ নেন তিনি।

নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্যকে শপথবাক্য পড়ান জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

সংসদ সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব তন্দ্রা শিকদারের সঞ্চালনায় শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম। এ সময় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

শপথ শেষে রীতি অনুযায়ী শপথ বইয়ে সই করেন খান আহমেদ শুভ।

১৬ জানুয়ারি টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী খান আহমেদ শুভ ৮৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির জহিরুল হক জহিরকে পরাজিত করেন।

গত বছরের ১৬ নভেম্বর এ আসনের সংসদ সদস্য একাব্বর হোসেন মারা যান। এর পরই নির্বাচন কমিশন আসনটি শূন্য ঘোষণা করে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে।

শেয়ার করুন