লিলি নিকলস ঢাকায় কানাডার নতুন হাইকমিশনার

player
লিলি নিকলস ঢাকায় কানাডার নতুন হাইকমিশনার

লিলি নিকলস বর্তমান হাইকমিশনার বেনোয়েট প্রিফনটেইনের স্থলাভিষিক্ত হবেন। ছবি: সংগৃহীত

কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেলেনি জলি শুক্রবার এক বার্তায় জানান, লিলি নিকলস বর্তমান হাইকমিশনার বেনোয়েট প্রিফনটেইনের স্থলাভিষিক্ত হবেন। তিনি এখন ভারতের ব্যাঙ্গালুরুতে অবস্থিত কানাডীয় মিশনের কনস্যুল জেনারেল পদে কর্মরত আছেন। শিগগিরই তিনি বাংলাদেশে নতুন দায়িত্বে যোগ দিবেন।

লিলি নিকলসকে বাংলাদেশে নতুন হাইকমিশনার পদে নিয়োগ দিয়েছে কানাডা সরকার। এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেলেনি জলি শুক্রবার এক বার্তায় প্রথমে এ তথ্য প্রকাশ করেন। লিলি নিকলস বর্তমান হাইকমিশনার বেনোয়েট প্রিফনটেইনের স্থলাভিষিক্ত হবেন।

তিনি এখন ভারতের ব্যাঙ্গালুরুতে অবস্থিত কানাডীয় মিশনের কনস্যুল জেনারেল পদে কর্মরত আছেন। শিগগিরই তিনি বাংলাদেশে নতুন দায়িত্বে যোগ দিবেন।

৩০ বছরের আর্ন্তজাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই কূটনীতিক দীর্ঘদিন জাতিসংঘের অর্থনীতিবিদ হিসেবে সেন্ট্রাল আমেরিকা এবং নিউইয়র্কে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি ১৯৯৯ সালে জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ হিসেবে কানাডার আর্ন্তজাতিক উন্নয়ন সংস্থায় (সিডা) যোগ দেন।

২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত তিনি সিডার সিনিয়র অ্যানালিস্ট পদে, ২০০৫ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত কানাডার পক্ষে কিউবায় প্রধান উন্নয়ন কর্মকর্তার পদে, ২০০৭ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তান-পাকিস্তান টাস্কফোর্সের পরিকল্পনা পরিচালক পদে এবং ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পরিচালক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

কূটনীতিক লিলি নিকলস ১৯৯৮ সালে লন্ডন স্কুল অব ইকোনমি অ্যান্ড পলিটিকেল সায়েন্স থেকে আর্ন্তজাতিক সম্পর্ক বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রী লাভ করেন।

তার আগে তিনি ১৯৮৯ সালে ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আর্ন্তজাতিক রাজনৈতিক অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী এবং ১৯৮৭ সালে কার্লটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান এবং সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

আরও পড়ুন:
নকল মসজিদ বানিয়ে কানাডায় সেনা প্রশিক্ষণ!
সেনাপ্রধানের সঙ্গে কানাডার হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ
বঙ্গবন্ধু ভারতেরও নায়ক: ভারতের সহকারী হাইকমিশনার

শেয়ার করুন

মন্তব্য

জন্মনিবন্ধনের ভুলে টিকা পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা

জন্মনিবন্ধনের ভুলে টিকা পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা

রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে করোনার টিকা নিচ্ছে শিক্ষার্থীরা। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

‘সরকার থেকে বলা হয়েছিল জন্মনিবন্ধন সনদ ছাড়াও স্কুলের পরিচয়পত্র দিয়ে টিকা দেয়া হবে। কিন্তু জন্মনিবন্ধন সনদে ভুল থাকায় আমার ছেলেকে আজ টিকা দেয়া হয়নি।’

করোনার টিকা ছাড়া স্কুল ক্লাস নয়- সরকারের এমন ঘোষণার পর স্কুলে গিয়েও সবাই টিকা নিতে পারছে না। জন্মনিবন্ধন সনদে ভুলের কারণে এমনটি ঘটছে। স্কুল থেকে জন্মনিবন্ধন সনদ ঠিক করে আনতে বলা হচ্ছে। কিন্তু এটা দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ব্যাপার।

এই জটিলতা যেন না হয়, সে জন্য সরকারের আরও একটি সিদ্ধান্ত ছিল যে যাদের জন্মনিবন্ধন সনদ নেই বা সেখানে কোনো ভুল আছে, তারা বিকল্প ব্যবস্থায় টিকা পাবে।

কিন্তু রাজধানীর কয়েকটি টিকাকেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, স্কুলগুলো সরকারের নির্দেশনা মানছে না। জন্মনিবন্ধন সনদে ভুল এবং ডিজিট কম থাকায় টিকা নিতে পারছে না সব শিশু।

মঙ্গলবার রাজধানীর খিলগাঁও মডেল কলেজ কেন্দ্রে মতিঝিল সরকারি বালক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র আশিক আব্দুল্লাহকে নিয়ে টিকা দিতে যান তার বাবা আবু আব্দুল্লাহ। তিনি অভিযোগ করেন, জন্মনিবন্ধন সনদ ১৬ ডিজিটের হওয়ায় টিকা দেয়া হয়নি।

তিনি বলেন, ‘সরকার থেকে বলা হয়েছিল জন্মনিবন্ধন সনদ ছাড়াও স্কুলের পরিচয়পত্র দিয়ে টিকা দেয়া হবে। কিন্তু জন্মনিবন্ধন সনদে ভুল থাকায় আমার ছেলেকে আজ টিকা দেয়া হয়নি।’

একই অভিযোগ করলেন আলী আহমদ উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী তাবাসুম বিনতে হদ্রির মা আফরোজা বেগম।

তিনি বলেন, ‘টিকা দিতে আসলে কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক বললেন, আমার মেয়ের জন্মনিবন্ধনের সনদে ভুল আছে। তাই টিকা দেয়া যাবে না।’

ভিকারুননিসা টিকাকেন্দ্রেও একই সমস্যায় পড়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পাশেই উইলস লিটল স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র আরাফাত ইসলামও টিকা পায়নি। তার বাবা মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘স্কুল কর্তৃপক্ষ বলেছে জন্মসনদ ঠিক করে আনতে। তাই আজ টিকা দেয়া হলো না।’

শিক্ষা কর্মকর্তা বললেন দুঃখজনক

তবে শিক্ষার্থীরা সমস্যায় পড়লেও এর কিছুই জানেন না ঢাকা জেলার শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মজিদ।

তিনি বলেন, ‘সরকার থেকে সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে, জন্মনিবন্ধন সনদ ছাড়াও পরিচয়পত্র দিয়ে টিকা দেয়া যাবে। এ জন্য অবশ্যই প্রতিষ্ঠানপ্রধানের প্রত্যয়নপত্র লাগবে। কোনো শিক্ষার্থীর যদি জন্মনিবন্ধন সনদ না থাকে অথবা ভুল থাকে তাহলে সে অবশ্যই প্রতিষ্ঠানপ্রধানের প্রত্যয়ন নিয়ে টিকা গ্রহণ করতে পারবে।’

কিন্তু টিকা তো তারা দিতে পারছে না- এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘কেউ যদি এ নির্দেশনা না মেনে থাকেন তাহলে তা অবশ্যই দুঃখজনক।’

মন্ত্রীর যে ঘোষণা ছিল

গত ১০ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেছিলেন, ‘শিক্ষার্থীদের টিকা নিতে কোনো নিবন্ধন লাগবে না। পরিচয়পত্র দিয়েই টিকা দিতে পারবে। পরিচয় বলতে স্কুলের পরিচয়পত্র বা আইডি কার্ড।’

মন্ত্রী সেদিন বলেন, ‘কেবিনেটের একটি সিদ্ধান্ত আছে, ১৩ তারিখের পর টিকা ছাড়া কেউ স্কুলে যেতে পারবে না। ৩১ জানুয়ারির মধ্যে সবার টিকা দেয়া হয়ে যাবে। এর মধ্যে যারা প্রথম ডোজ নিয়েছে তারা ক্লাসে আসবে। না নেয়ারা অনলাইনে বা বিকল্প মাধ্যমে ক্লাস করবে।’

টিকাকেন্দ্রে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না

স্কুলশিক্ষার্থীদের রাজধানী ঢাকায় মোট নয়টি কেন্দ্রে টিকা দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে খিলগাঁও মডেল কলেজ, মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের বাইরে শিক্ষার্থীদের লম্বা লাইন দেখা যায়।

লাইনে দাঁড়ানো শিক্ষার্থীদের অনেককেই নিদিষ্ট দূরত্ব বজায় না রেখেই খোশগল্পে মাততে দেখা যায়। এ সময় অনেকের মুখেই ছিল না মাস্ক। বলা যায়, টিকা কেন্দ্রের বাইরে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বালাই ছিল না।

তবে ভিন্ন চিত্র দেখা যায় রাজধানীর ভিকারুননিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে। এ কেন্দ্রে তাপমাত্রা মেপে শিক্ষার্থীদের প্রবেশ করাতে দেখা যায়। নিদিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখার ক্ষেত্রেও স্কুল কর্তৃপক্ষের চেষ্টা দেখা গেছে।

কতজন টিকা পেয়েছে

দেশের ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের ৬৪ শতাংশ করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার প্রথম ডোজ পেয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

সোমবার সংসদে তিনি এ তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী যে শিক্ষার্থীরা আছে, এই বিশাল শিক্ষার্থীর সংখ্যা হচ্ছে ১ কোটি ১৬ লাখ ২৩ হাজার ৩২২। এদের মধ্যে আমরা গতকাল (রোববার) পর্যন্ত ৭৭ লাখ ১৮ হাজার ৩৩৭ জনকে অর্থাৎ ৬৪ দশমিক ০৪ শতাংশ শিক্ষার্থীকে প্রথম ডোজ টিকা দিতে সক্ষম হয়েছি।

গত ১ নভেম্বর পাঠদান কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা দেয়া শুরু হয়। শিক্ষার্থীদের দেয়া হচ্ছে ফাইজারের টিকা।

রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকা দেয়ার কার্যক্রম উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ও শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর ২০২০ সালের ১৭ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। এর প্রায় দেড় বছর পর গত ১২ সেপ্টেম্বর স্কুল-কলেজে ক্লাস শুরু হয়। তবে প্রতিদিন সব শ্রেণিতে ক্লাস হচ্ছে না।

আরও পড়ুন:
নকল মসজিদ বানিয়ে কানাডায় সেনা প্রশিক্ষণ!
সেনাপ্রধানের সঙ্গে কানাডার হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ
বঙ্গবন্ধু ভারতেরও নায়ক: ভারতের সহকারী হাইকমিশনার

শেয়ার করুন

স্থানীয় সরকারের আয় বাড়াতে ডিসিদের প্রস্তাব চায় সরকার

স্থানীয় সরকারের আয় বাড়াতে ডিসিদের প্রস্তাব চায় সরকার

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। ফাইল ছবি

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের আয় বাড়াতে হবে এবং তাদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। কথায় এসেছে তাদের কিছু কর্মী লাগবে। ইউনিয়ন পরিষদে আরও লোকবল লাগবে, এটি করতে গেলে তাদের আয় বাড়াতে হবে।’

স্থানীয় সরকারের আয় বাড়াতে করণীয় ঠিক করতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কাছে প্রস্তাব চেয়েছে সরকার।

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মঙ্গলবার জেলা প্রশাসক সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের আয় বাড়াতে হবে এবং তাদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। কথায় এসেছে তাদের কিছু কর্মী লাগবে। ইউনিয়ন পরিষদে আরও লোকবল লাগবে, এটি করতে গেলে তাদের আয় বাড়াতে হবে।

‘আয় বাড়ানোর জন্য এখানে কিছু নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এখানে ইউনিয়ন পরিষদের যে আয়ের উৎস, একেক জায়গায় একেক রকম।’

তিনি বলেন, ‘সব জায়গার সম্ভাবনা এক রকম না। পার্বত্য চট্টগ্রামের কথা যদি বলি তাহলে সেখানকার জনগণের আয়, সেখানে ঘনত্ব কম এবং মানুষের আয়ও কম। সেখানে হয়তো আমাদের ভর্তুকি দিতে হবে।

‘আবার অনেক ইউনিয়নে শিল্পকারখানা আছে, সেখানে আয় বেশি হবে। যেখানে আয় নেই সেখানে আয় বৃদ্ধি করার জন্য কী দরকার সরকারকে তারা যেন তা জানায়, তাহলে সরকার সেখানে থেকে সেই প্রকল্পগুলো নেবে আয় বাড়ানোর জন্য।’

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘জেলা প্রশাসকরা তাদের মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতাগুলো তুলে ধরেছেন, কিছু কিছু প্রস্তাবও এসেছে। সেখানে আমাদের ইউনিয়ন পরিষদকে শক্তিশালী করার জন্য কী ব্যবস্থাপনা হাতে নেয়া যায় সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমাদের পৌরসভাকে শক্তিশালী করা এবং গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন করার জন্য সেখানে আলোচনা হয়েছে।

‘পার্বত্য চট্টগ্রামের কিছু কিছু সমস্যা আছে, সেখানে অবকাঠামো নির্মাণে স্বাভাবিক জায়গার চেয়ে বেশি ব্যয় হয়। সেগুলোর জন্য আরো বেশি বরাদ্দ দেয়ার কথা হয়েছে। এগুলো যৌক্তিকতার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির জন্য বলা হয়েছে।’

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সকালে এ কথাগুলো বলেছেন। আমিও আমার বক্তব্যে গুরুত্ব দিয়েছি। আমি বলেছি জনপ্রতিনিধি এবং সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন পেশাজীবী সবাই মিলে সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশের জন্য একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

‘এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকদের অত্যন্ত আন্তরিক বলে পরিলক্ষিত হয়েছে। সবাই মিলে কাজ করলে, আমাদের লক্ষ্য উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা, আমরা আমাদের লক্ষ্যে দ্রুত পৌঁছাতে পারব।’

স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করা বলতে মূলত তাদের আয় বৃদ্ধির বিষয়টিকে বোঝানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘এখানে শক্তিশালী অর্থ হলো তাদের আয় বাড়ানো। আমি একটি বিষয় পরিষ্কার করেছি। জনগণের আয় বাড়ানো সরকারের দায়িত্ব। জনগণের আয় বাড়লে সেখান থেকে একটি সংখ্যা সরকার নেবে রাজস্ব আকারে। সেটা সকলের কল্যাণে ব্যবহার করা হবে।

‘সেখানে জেলা প্রশাসকসহ তাদের স্ব স্ব এলাকায় যে সম্ভাবনা আছে সেগুলো আমাদের যেন জানান। আর মাঠ পর্যায়ে জেলা প্রশাসকদের যারা কাজ করেন, তাদের অভিজ্ঞতা আছে, যেহেতু তারা সাধারণ মানুষের সঙ্গে মেশেন, মানুষের কী সমস্যা আর কাজ করতে গিয়ে কী অসুবিধা হয় সবগুলো চিহ্নিত করবেন। সেগুলো গ্রহণ করে আমরা কাজ করার চেষ্টা করব।’

মাঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃত্বের দ্বন্দ্বের কারণে কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী তাজুল বলেন, ‘সব জায়গায় একই রকম সমস্যা হয় এটা বলা যাবে না। অনেক জায়গায় ইউএনও এবং উপজেলা চেয়ারম্যান একসঙ্গে অনেক ভালোভাবে কাজ করছেন। আবার কোথাও সমস্যা হয়।

‘ক্ষেত্রবিশেষে যেখানে যেখানে জটিলতা আছে, সেখানে কাজ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ছিল, আর আমি নিজেও এটাকে গুরুত্ব দিয়েছি। আমাদের সবাইকে বিশ্বাস করতে হবে। এখানে কোনো বিতর্ক করার সুযোগ নেই। সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এগুলো নিয়েও আলোচনা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘দেশটা পরিচালিত হয় রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে। রাজনীতিতে নীতি তৈরি করা, আইন তৈরি করা, জনগণের দাবি আদায় করা, প্রশাসনিক কর্মকতাদের অধিকার আদায় করা সবার জন্যই রাজনীতি প্রয়োজন। রাজনীতির সঙ্গে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। কোথাও কোথাও ব্যক্তিগতভাবে সমস্যা তৈরি হলে এটাকে অবশ্যই রাষ্ট্র বিবেচনা করবে।

‘এই অঙ্গীকার রাষ্ট্রের আছে এবং আমরাও অঙ্গীকারবদ্ধ। আমাদের প্রশাসকরা যারা দূর-দূরান্তে বিভিন্ন জায়গায় যাবেন তারা যেন শান্তিপূর্ণভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, এ জন্য রাষ্ট্র অঙ্গীকারবদ্ধ।’

আরও পড়ুন:
নকল মসজিদ বানিয়ে কানাডায় সেনা প্রশিক্ষণ!
সেনাপ্রধানের সঙ্গে কানাডার হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ
বঙ্গবন্ধু ভারতেরও নায়ক: ভারতের সহকারী হাইকমিশনার

শেয়ার করুন

দোতলা উপহারের ঘরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘না’

দোতলা উপহারের ঘরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘না’

বিনা মূল্যের প্রত্যেকটি বাড়িতে রয়েছে দুটি করে শয়ন কক্ষ, একটি রান্নাঘর, একটি টয়লেট ও একটি লম্বা বারান্দা। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব আহমদ কায়কাউস বলেন, ‘বহুতল ভবন করা মানে এখানে ৫০ বছর থাকবে। আমাদের ছিন্নমূল পরিবার যেগুলো আছে, তাদেরকে আশ্রয়ণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে এইভাবে যে এখান থেকে পরবর্তীতে তার উত্তরণ ঘটবে। সে জন্য আমরা স্থায়ী অবকাঠামোতে যাইনি।’

ভূমিহীনদের বিনা টাকার ঘর দিতে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্পের জন্য তৈরি ঘর দ্বিতল করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন জেলা প্রশাসকরা। প্রস্তাবটি নাকচ করে দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে চলমান ডিসি সম্মেলনের প্রথম দিনের দ্বিতীয় কার্য অধিবেশনে মঙ্গলবার আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর দ্বিতল করার প্রস্তাব তোলেন ডিসিরা। প্রস্তাবটি নাকচ হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সম্পর্কিত এ কার্য অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব আহমদ কায়কাউস।

পরে মুখ্যসচিব আহমদ কায়কাউস সাংবাদিকদের বলেন, ‘ডিসিদের পক্ষে একটা প্রস্তাব ছিল, এটা বহুতল ভবন করা যায় কি না। বহুতল ভবন হলে সেটা স্থায়ী হবে, আপনারা সবাই বুঝতে পারেন। কিন্তু আমরা কেন করি না, সেটা হচ্ছে একটা বহুতল ভবন করতে গেলে যে পরিমাণ টাকার প্রয়োজন হবে… প্রধানমন্ত্রীর যে প্রত্যাশা বা নির্দেশনা সেটা হচ্ছে বাংলাদেশে মুজিববর্ষে কেউ ভূমিহীন গৃহহীন থাকবে না।

‘বহুতল ভবন করা মানে এখানে ৫০ বছর থাকবে। আমাদের ছিন্নমূল পরিবার যেগুলো আছে, তাদেরকে আশ্রয়ণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে এইভাবে যে এখান থেকে পরবর্তীতে তার উত্তরণ ঘটবে। সে জন্য আমরা স্থায়ী অবকাঠামোতে যাইনি।’

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব বলেন, ‘এ রকম অনেকগুলো প্রস্তাবনা আসে। সেগুলো নিয়ে আমরা তাদেরকে ব্যাখা করে বলি যে এটা সঠিক না।’

তাহলে এ প্রস্তাবটি কি গ্রহণ করা হচ্ছে না, জানতে চাইলে কায়কাউস বলেন, ‘না, গ্রহণ করছি না।’

মুজিববর্ষে কোনো মানুষ গৃহহীন থাকবে না বলে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। লক্ষ্যমাত্রার আওতায় ধাপে ধাপে লাখো মানুষকে জমিসহ বিনা মূল্যে বাড়ি নির্মাণ করে দিচ্ছে সরকার। কারা কারা এখনও গৃহহীন তাদের খুঁজে বের করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি বাড়িতে দুটি করে বেডরুম, একটি রান্নাঘর, একটি টয়লেট ও একটি বারান্দা থাকবে।

প্রতিটি বাড়ির নির্মাণে খরচ হচ্ছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে এ প্রকল্পে খরচ হয়েছে ২ হাজার ২৩৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন:
নকল মসজিদ বানিয়ে কানাডায় সেনা প্রশিক্ষণ!
সেনাপ্রধানের সঙ্গে কানাডার হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ
বঙ্গবন্ধু ভারতেরও নায়ক: ভারতের সহকারী হাইকমিশনার

শেয়ার করুন

নাইকো মামলায় খালেদার অভিযোগ শুনানি আবার পেছাল

নাইকো মামলায় খালেদার অভিযোগ শুনানি আবার পেছাল

প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী আদেশে দণ্ড স্থগিতের পর ২০২০ সালের ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল থেকে গুলশানের বাসভবনে ফেরেন বেগম খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

মঙ্গলবার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের ২ নম্বর ভবনে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এর বিচারক শেখ হাফিজুর রহমানের আদালতে মামলাটিতে খালেদা জিয়ার অব্যাহতির শুনানির তারিখ ছিল।

নাইকো দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষে অভিযোগ শুনানির তারিখ আবারও পিছিয়ে দিয়েছে আদালত।

আদালত নতুন তারিখ দিয়েছে আগামী ৮ মার্চ।

মঙ্গলবার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের ২ নম্বর ভবনে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এর বিচারক শেখ হাফিজুর রহমানের আদালতে মামলাটিতে খালেদা জিয়ার অব্যাহতির শুনানির তারিখ ছিল।

খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় আদালতে হাজির হতে পারেননি।

আর খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার জন্য জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আইনজীবীদের মহাসমাবেশ রয়েছে জানিয়ে শুনানি পেছানোর জন্য সময় চান তার আইনজীবী মাসুদ আহম্মেদ তালুকদার।

আদালত সময় আবেদন গ্রহণ করে আগামী ৮ মার্চ শুনানির জন্য পরের তারিখ দিয়েছে বলে নিউজবাংলাকে জানান খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী জিয়া উদ্দিন জিয়া।

২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলা তদন্তের পর ২০০৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়।

মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন মুখ্যসচিব কামাল উদ্দীন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সিএম ইউসুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, বাগেরহাটের সাবেক সংসদ সদস্য এমএএইচ সেলিম, নাইকোর দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।

এর মধ্যে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন মারা যাওয়ায় তাদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

দুদকের করা অন্য দুই মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত খালেদা জিয়াকে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রাখা হয়। সেখান থেকে পরে চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায়ই সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্তি পেয়ে তিনি গুলশানের বাসায় যান।

পরে চিকিৎসার জন্য তাকে নেয়া হয় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে। সেখানেই এখন তার চিকিৎসা চলছে।

২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম তেজগাঁও থানায় খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা করেন। কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠান নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতিসাধনের অভিযোগে এই মামলাটি করা হয়।

আরও পড়ুন:
নকল মসজিদ বানিয়ে কানাডায় সেনা প্রশিক্ষণ!
সেনাপ্রধানের সঙ্গে কানাডার হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ
বঙ্গবন্ধু ভারতেরও নায়ক: ভারতের সহকারী হাইকমিশনার

শেয়ার করুন

ফের ভার্চুয়ালে ফিরছে সুপ্রিম কোর্ট

ফের ভার্চুয়ালে ফিরছে সুপ্রিম কোর্ট

প্রধান বিচারপতির নির্দেশক্রমে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন থেকে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বলা হয়েছে, করোনা সংক্রমণজনিত পরিস্থিতিতে বুধবার হতে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সকল বেঞ্চে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। একইভাবে চলবে আপিল বিভাগও।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সশরীরে কার্যক্রমে ফেরার মাস-দুয়েকের মধ্যে আবার ভার্চুয়াল কার্যক্রমে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের সব কাজ ভার্চুয়ালি চলবে।

প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নির্দেশক্রমে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন থেকে মঙ্গলবার বিকেলে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনা সংক্রমণজনিত পরিস্থিতিতে বুধবার হতে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সকল বেঞ্চে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

আপিল বিভাগও ভার্চুয়ালি পরিচালনা করতে পৃথক একটি বিজ্ঞপ্তিতে জারি করা হয়েছে।

এর আগে সকালে আপিল বিভাগে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী জানান, করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় আবার ভার্চুয়ালি আদালত পরিচালনার জন্য ভাবা হচ্ছে।

আগাম জামিনের পথ খোলা রেখে ভার্চুয়ালের পক্ষে বার

করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় উচ্চ আদালতে ফের ভার্চুয়ালি পরিচালনার পক্ষে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতিও। তবে আগাম জামিনের পথ খোলা রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘আমাদের অনেকজন বিচারপতি, অনেক আইনজীবী আক্রান্ত হয়েছেন। এ ছাড়া, অ্যাটর্নি জেনারেল সাহেবও আক্রান্ত হয়েছেন। সমিতির অনেক সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে মাননীয় প্রধান বিচারপতি আজকে বলেছেন, আমাদের ভার্চুয়ালি যেতে হবে। এই ক্ষেত্রে সমিতির সদস্যদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।’

‘আমরা সমিতির পক্ষ থেকে প্রধান বিচারপতিকে যেটা বলেছি, এই অবস্থায় আদালত কীভাবে খোলা রাখা হবে সেটা সম্পূর্ণ সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসনের বিষয়। সুতরাং এটার সিদ্ধান্ত সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন স্বাধীনভাবে নেবে। আমাদের সহযোগিতার বিষয়ে আমরা যেটা বলেছি, বর্তমানে যেভাবে শারীরিকভাবে উপস্থিতিতে আদালতের বিভিন্ন ক্ষমতা প্রয়োগ করে থাকেন। তার যেন কোনোটাই খর্ব করা না হয়।’

ভার্চুয়াল কোর্টে একটা পর্যায়ে আগাম জামিন শুনানি স্থগিত ছিল। এটা যেন এবার না হয় প্রধান বিচারপতির কাছে সে দাবি করা হয়েছে বলে জানান আইনজীবী নেতা রুহুল কুদ্দুস।

তিনি বলেন, ‘আগাম জামিনসহ বর্তমানে শারীরিক উপস্থিতিতে যেভাবে আদালতের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, সেভাবেই যেন পরিচালিত হয়। দ্বিতীয়ত হচ্ছে আদালতের যে সময়সীমা সেটা অর্থাৎ পূর্ণাঙ্গ সময়সীমা যেন বিচার কাজে ব্যবহার করা হয়। আমরা এটা প্রধান বিচারপতিকে বলেছি।’

আরও পড়ুন:
নকল মসজিদ বানিয়ে কানাডায় সেনা প্রশিক্ষণ!
সেনাপ্রধানের সঙ্গে কানাডার হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ
বঙ্গবন্ধু ভারতেরও নায়ক: ভারতের সহকারী হাইকমিশনার

শেয়ার করুন

সরকারি প্রকল্প: ডিসিদের ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকারের ‘না’

সরকারি প্রকল্প: ডিসিদের ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকারের ‘না’

ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শুরু হয়েছে ডিসি সম্মেলন। ছবি: পিআইডি

এই প্রস্তাব নাকচ করে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, এই কমিটি গঠনের প্রয়োজন নেই। সরকারি একটি প্রকল্পের সার্বিক বাস্তবায়ন বিষয়ে পরিবীক্ষণ ক্ষমতা অলরেডি আইনিভাবেই দেয়া আছে। ডিসিরা তাদের সেই আইনি ক্ষমতা প্রয়োগ করতেই পারেন।

স্থানীয়ভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকদের সংযুক্ত করে কমিটি গঠনে জেলা প্রশাসকদের দেয়া প্রস্তাবকে নাকচ করে দিয়েছে সরকার।

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মঙ্গলবার ডিসি সম্মেলনে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত বিষয়াদির আলোচনা পর্বে এই প্রস্তাব নাকচ হয়ে যায়।

স্থানীয়ভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নে নিজেদের সংযুক্ত করে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন জেলা প্রশাসকরা।

এই প্রস্তাব নাকচ করে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, এই কমিটি গঠনের প্রয়োজন নেই। সরকারি একটি প্রকল্পের সার্বিক বাস্তবায়ন বিষয়ে পরিবীক্ষণ ক্ষমতা অলরেডি আইনিভাবেই দেয়া আছে। ডিসিরা তাদের সেই আইনি ক্ষমতা প্রয়োগ করতেই পারেন।

‘তা ছাড়া যে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রশাসকদের সঙ্গে আলোচনা করেই করে থাকেন। কোনো ক্ষেত্রে এর ব্যত্যয় হলে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক মন্ত্রণালয়কে জানালে সে বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে জেলা প্রশাসকদের এম এ মান্নান বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়ন গুণগতমান রক্ষা ও সময়মতো বাস্তবায়নে সরকারের গুরুত্ব সর্বাধিক। এ লক্ষ্যে আগামী দিনে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) দাপ্তরিক কার্যালয় সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়া হবে। প্রাথমিকভাবে বিভাগীয় জেলা শহরগুলোতে আইএমইডি অফিস স্থাপন করা হবে। পর্যায়ক্রমে তা সারা দেশে নিয়ে যাওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান জানান, মাঠপর্যায়ে যারা কাজ করেন তাদের গুরুত্ব আছে। তারা কিছু প্রস্তাব দিয়েছেন। সেগুলো সাধারণভাবে আলোচনা হয়েছে। যেগুলো গ্রহণযোগ্য তা গ্রহণ করা হয়েছে। বাকি প্রস্তাবগুলো সাধারণ আলোচনা হিসেবেই গণ্য হবে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রস্তাবিত কমিটিতে ডিসিদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি প্রত্যাখ্যান বিষয়েও কথা বলেন মসিউর রহমান।

তিনি বলেন, দেশে এমন কোনো প্রকল্প গ্রহণ করা হয় না, যেখানে কোনো জনকল্যাণ নেই। ছোট-বড় সব প্রকল্প গ্রহণ করার আগে স্থানীয়ভাবে মতামত গ্রহণ করা হয়। সেখানে জেলা প্রশাসকসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তাদের মতামত দেন। তাই কমিটি গঠন বিষয়ে আলোচনায় কোনো গুরুত্ব পায়নি। যেহেতু একটি প্রস্তাব উঠেছে, তাই ভবিষ্যতে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমরা আরও বেশি করে স্থানীয় পর্যায়ে সম্পৃক্ত হওয়ার চেষ্টা করব।’

জেলা প্রশাসক সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে অভ্যন্তরীণ সম্পদ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ, অর্থ বিভাগ, পরিসংখ্যান বিভাগ এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত বিষয়াদিকে সামনে রেখে নানা ইস্যুতে আলোচনা হয়।

সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনের ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন।

ডিসি সম্মেলন মোট অধিবেশন হবে ২৫টি। এর মধ্যে কার্য অধিবেশন রয়েছে ২১টি। এতে ৫৫টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থা অংশ নিচ্ছে।

এসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে সম্মেলনে ২৬৩টি প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। বেশিসংখ্যক প্রস্তাব ভূমি মন্ত্রণালয়ের, ১৮টি। এ ছাড়া সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ১৬টি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ১৪টি, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ১২টি এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের ১০টি প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে।

মাঠপর্যায়ের কর্ম সম্পাদনে জেলা প্রশাসকরা যেসব আইনগত, প্রশাসনিক, আর্থিক কিংবা অন্যান্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছেন, সেসবের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জেলায় বিদ্যমান সম্ভাবনা সম্মেলনের মাধ্যমে সরাসরি তুলে ধরা হবে। এরপর সম্মিলিত আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাব্য সুযোগগুলো কাজে লাগানোর উপায় খুঁজে বের করা হবে।

আরও পড়ুন:
নকল মসজিদ বানিয়ে কানাডায় সেনা প্রশিক্ষণ!
সেনাপ্রধানের সঙ্গে কানাডার হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ
বঙ্গবন্ধু ভারতেরও নায়ক: ভারতের সহকারী হাইকমিশনার

শেয়ার করুন

উন্নয়নে জনপ্রতিনিধি-আমলার সমন্বয় চান প্রধানমন্ত্রী

উন্নয়নে জনপ্রতিনিধি-আমলার সমন্বয় চান প্রধানমন্ত্রী

ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: নিউজবাংলা

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের কিছু নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি থাকে জনগণের কাছে। এই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন, তবে অবশ্যই আমি এটা বলব, প্রতিশ্রুতি আসলে যথাযথ কি না, সেটা বিবেচনায় নিয়ে সে ধরনের পরিকল্পনা নেয়া।

দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সংসদ সদস্যসহ স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পরিবেশ-প্রতিবেশের ক্ষতি হবে- এমন প্রকল্প গ্রহণ না করার পরামর্শ দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, দুর্নীতি হচ্ছে কি না তা তদারকিতেও ডিসিদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০২২-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। গণভবন প্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন সরকারপ্রধান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি, সংসদ সদস্য, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা মেয়র, সিটি করপোরেশন- সবাইকে নিয়ে সমন্বিতভাবে উন্নয়ন পরিকল্পনা করি, প্রকল্প গ্রহণ করি, বাস্তবায়ন করি এবং বাস্তবায়ন যথাযথভাবে হচ্ছে কি না, সেটা যদি আমরা নজর দিই, আমাদের যে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছি, সেটাও যদি যথাযথভাবে আমরা বাস্তবায়ন করি, তাহলে অবশ্যই খুব বেশি দিন লাগবে না। আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে মর্যাদা পেয়েছি, উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে টিকে থেকে আমরা দেশকে উন্নত করতে পারব।’

চলমান উন্নয়ন প্রকল্প প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের যেসব প্রকল্প চলমান আছে, আমাদের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এসব প্রকল্প গ্রহণ করে এবং সে প্রকল্প বিভিন্ন এলাকায় বাস্তবায়ন হয়। কিন্তু এই প্রকল্পগুলো যথাযথভাবে গ্রহণ করা এবং তার প্রয়োজনীয়তা সাপেক্ষে এবং সেগুলো বাস্তবায়নে কোনো অনিয়ম হচ্ছে কি না, দুর্নীতি হচ্ছে কি না বা মানসম্মত হচ্ছে কি না, সে বিষয়ের ওপর নজরদারির ব্যবস্থা আপনাদের অবশ্যই নিতে হবে।’

জনপ্রতিনিধিরা যেসব নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে আমলাদের আন্তরিক থাকতে হবে বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘তাদের কিছু নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি থাকে জনগণের কাছে। এই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন, তবে অবশ্যই আমি এটা বলব, প্রতিশ্রুতি আসলে যথাযথ কি না, সেটা বিবেচনায় নিয়ে সেই ধরনের পরিকল্পনা নেয়া।

‘অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প পরিহার করতে হবে। আর প্রকল্প যেটা নিতে হবে সেটা যেন যথাযথ ও মানুষের সেবামূলক হয় এবং মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অবদান রাখতে পারে, সেদিকে লক্ষ্য রেখে কিন্তু করতে হবে। একটা কিছু করার জন্য করা, সেটা যেন না হয়। সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে।’

জেলা-উপজেলা পর্যায়ে মাস্টারপ্ল্যান তৈরির ওপর জোর দিয়েছেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ‘যদি আমরা পরিকল্পিতভাবে কাজ করি, তাহলে আমাদের কোনো সমস্যা থাকে না। একটা জেলার অধীন উপজেলা, একেবারে ওয়ার্ড পর্যন্ত উন্নয়নটা- এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক কিন্তু বিরাট অবদান রাখতে পারেন। সে ক্ষেত্রে সংসদ থেকে শুরু করে সব জনপ্রতিনিধিকে নিয়ে বসে আলোচনা করে কাজ করা যায়, সেটা আরও বেশি কার্যকর হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নয়নের নামে পরিবেশ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, প্রতিবেশ যেন নষ্ট না হয়, জীববৈচিত্র্য যেন নষ্ট না হয়, সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।’

জেলা প্রশাসকদের অর্পিত দায়িত্ব পালনে আন্তরিক হওয়ার তাগিদ দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমি সরকারে আসার পর সবার বেতন-ভাতা বাড়িয়ে দিয়েছি, সেটা মনে রেখেই আপনারা আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন- সেটাই আমি আশা করি।’

এ প্রসঙ্গে জাতির পিতার আদর্শকে সামনে এনে শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ ‍মুজিবুর রহমান নিজেকে একজন জনগণের খাদেম বা সেবক হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলেন। আমিও তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে নিজেকে জনগণের একজন সেবক মনে করি। ক্ষমতায় আসা, প্রধানমন্ত্রী হওয়া মানে জনগণের জন্য কাজ করার একটা সুযোগ পাওয়া। যে লক্ষ্য স্থির করেছি, তা বাস্তবায়নে আপনাদের সহযোগিতা একান্তভাবে প্রয়োজন।’

বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হওয়ার বিষয়টি সামনে এনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেছে এবং আমাদের সামনের দিকে অনেক এগিয়ে যেতে হবে। কারণ বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়তে হবে।’

দেশের অগ্রযাত্রায় করোনাভাইরাস মহামারি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিবছর জেলা প্রশাসক সম্মেলন করতাম। কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারি আমাদের এমন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে যে পর পর দুবার জেলা প্রশাসক সম্মেলন করা সম্ভব হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়ন করেছি। এখন আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ২০৪১ বাস্তবায়ন করা।’

সামষ্টিক অর্থনীতির সব সূচকে বাংলাদেশ উন্নতি করেছেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, বাংলাদেশের একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না, দরিদ্র থাকবে না, ভূমিহীন থাকবে না।’

সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে

করোনাভাইরাস মহামারির শঙ্কা নিয়ে জেলা প্রশাসক সম্মেলনেও সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাসের একটা নতুন ভ্যারিয়েন্ট এসে গেছে। এটা আরও বেশি দ্রুত ছড়াচ্ছে। এ বিষয়ে সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।’

ডিসিদের প্রতি নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ‘জেলা প্রশাসকদের বলব, স্ব-স্ব প্রশাসনে নির্দেশ দিয়ে দেবেন, প্রত্যেকে যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে। কারণ এই ভ্যারিয়েন্টটা আসলে এমনি মনে হয় খুব বেশি ক্ষতি করবে না। আসলে এটা অনেক ক্ষতি করতে পারে।’

ইতিমধ্যে মৃতের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা যেন আর না বাড়তে পারে, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।’

বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ ভিক্ষা করবে, এটা লজ্জার

বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ, গণহত্যার শিকার হওয়া কোনো পরিবারের সদস্য ভিক্ষা করে খাবে তা স্বাধীন দেশের জন্য লজ্জার বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সব থেকে আগে এই কাজটি করতে হবে। আমি আর কখনও দেখতে চাই না কোনাে শহীদ পরিবার, জাতির পিতার চিঠি যার হাতে সে ভিক্ষা করে খাবে। এটা যেন না হয়। আমি সবাইকে আহ্বান জানাব- এ বিষয়টি আপনারা ভালোভাবে দেখবেন।’

‘মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ ভিক্ষা করবে, এটা আমাদের জন্য মোটেও সম্মানজনক নয়’ উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘আপনাদের এটাও দেখতে হবে, কোথাও কোনো জায়গায় কোনো মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, শহীদ পরিবার, বা গণহত্যার শিকার পরিবারের কেউ এ ধরনের দুর্ভোগ পোহাচ্ছে কি না। কারণ এটা অন্তত আমার জন্য খুবই লজ্জাজনক, আমি মনে করি। জানি না, অন্যরা কী ভাববে। কিন্তু আমি নিজে মনে করি, এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক।’

ঝরে পড়া ঠেকাতে স্কুল ফিডিং

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঝরে পড়া ঠেকাতে স্কুল ফিডিং ব্যবস্থার ওপরে জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আর এ ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘কারও কাছে হাত পেতে অনুদান আর নিতে চাই না। কিন্তু আমাদের যদি একটু উদ্যোগ নেয়া যায়, স্বতঃপ্রণোদিত স্কুল ফিডিং কর্মসূচি আমরা করতে পারি।’

পরীক্ষামূলকভাবে এ ব্যবস্থায় সফলতা এসেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তবে এটা নির্ভর করে আমাদের প্রশাসনে যারা আছেন, অর্থাৎ জেলা বা উপজেলা বা ইউনিয়নে যারা আছেন, বা আমাদের জনপ্রতিনিধিরা, স্থানীয় বিত্তশালীরা সমন্বিতভাবে কিন্তু কাজটি করা যেতে পারে। এই উদ্যোগ নেয়ার ফলে আমরা দেখেছি, ঝরে পড়াটা কমে যায়।’

উন্নয়নে যোগাযোগের কোনো বিকল্প নেই

অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরকারের নেয়া টেকসই মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে দেশের অর্থনীতিতে যথেষ্ট অবদান রাখবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘যে কোনো উন্নয়নের ক্ষেত্রে যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। আজ আমরা শতভাগ বিদ্যুৎ দিতে সক্ষম হয়েছি। যোগাযোগের ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রকল্প হাতে নিয়েছি। রাজধানী যানজট মুক্ত করতে বেশকিছু প্রকল্প হাতে নিয়েছি। তা ছাড়া কর্ণফুলী টানেল, হয়তো এই অঞ্চলে আমরাই প্রথম তৈরি করছি। কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। আশা করি খুব তাড়াতাড়ি শেষ হবে। পাশাপাশি রাজধানীতে মেট্রোরেল পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে। বাকি কাজগুলোও আমরা করতে পারব।’

উত্তরবঙ্গের সঙ্গে আরও দ্রুত যোগাযোগে আলাদা রেললাইন নির্মাণ করা হচ্ছে বলে জানান সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, ‘আমাদের পদ্মা সেতু নির্মাণও প্রায় শেষ পর্যায়ে। যার ফলে আমাদের দক্ষিণাঞ্চলে যোগাযোগ হবে। রাজধানীর সঙ্গে উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের সংযোগ করা, সেই ব্যবস্থা আমরা করে দিচ্ছি। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। তাই সারা দেশে সেতু ও সড়ক নির্মাণ করে আমরা যোগাযোগব্যবস্থাকে উন্নত করছি।’

বিশ্বব্যাংক অলাভজনক বলায় বিএনপি দেশে রেল বন্ধ করে দিতে চেয়েছিল জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সরকারে এসে আবার রেল নিয়ে আলাদা মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করি। আলাদা মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করে রেলকে আলাদাভাবে গুরুত্ব দিয়ে, বাজেট দিয়ে রেলপথ উন্নয়নের ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি আমরা।’

একই সঙ্গে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে পর দেশে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সংখ্যা আরও বাড়ানো হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন আমরা কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মর্যাদায় করে দেব। আমাদের সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক বিমানবন্দর হিসেবে উন্নত করব।’

গ্রামে নিশ্চিত করতে হবে নাগরিক সেবা

জেলা প্রশাসকদের প্রতি নির্দেশনা দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘আপনারা কাজ করেন মাঠপর্যায়ে। প্রতিটি জেলার দায়িত্ব আপনাদের। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং তাদের স্বাবলম্বী করার জন্য আমাদের যে ব্যাপক পল্লী উন্নয়ন কাজ আমরা নিয়েছি, সেগুলোকে সব থেকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছি। কারণ দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে আমাদের তৃণমূলের মানুষের জীবনমান উন্নত করতে হবে। সেখানে আমাদের সব থেকে বেশি উন্নয়ন করতে হবে। সেটাই হচ্ছে আমি সব সময় বিশ্বাস করি।’

প্রতিটি ইউনিয়নের সঙ্গে ওয়ার্ড, ওয়ার্ড থেকে গ্রাম পর্যায়ে উন্নয়নের জন্য রাস্তা নির্মাণ থেকে শুরু করে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করে দেয়ার কথাও জানান শেখ হাসিনা।

সব ধরনের নাগরিক সুবিধা যেন প্রান্তিক মানুষ পেতে পারে সেজন্য সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই কাজগুলো যাতে সঠিকভাবে চলে, সেটা দেখতে হবে আমাদের জেলা প্রশাসনকে। কারণ পল্লী উন্নয়ন আমরা সব থেকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকি। বাজেট যেটা আমরা করে দিচ্ছি সেখানেও কিন্তু আমরা জেলা ভিত্তিক বাজেট করে দিচ্ছি। প্রতিটি জেলার কী কী চাহিদা, সেটাকে আমরা বিশেষ বিবেচনায় নিয়ে থাকি। তা ছাড়া কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমার জেন্ডারভিত্তিক বাজেটও তৈরি করছি।’

গ্রামে সব নাগরিক ‍সুবিধা পৌঁছে দেয়া সরকারের অঙ্গীকার জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাতে শহরমুখী হওয়ার প্রবণতা কমে যাবে। গ্রামে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। একেকটা জেলার সার্বিক উন্নয়ন করা আপনাদের (জেলা প্রশাসক) কর্তব্য বলে আমি মনে করি।’

সবাইকে ই-টেন্ডারে আসতে হবে

ই-টেন্ডার বাস্তবায়ন করা যুগান্তকারী উদ্যোগ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন আর টেন্ডার বাক্স নিয়ে মারামারি, কাটাকাটি, গোলাগুলি, বোমাবাজি হচ্ছে না- এটাই বড় কথা। এবং এখনও যদি কোনো মন্ত্রণালয় বাকি থাকে, তাদেরকে আমি বলব, এই ই-টেন্ডারিং পদ্ধতি গ্রহণ করতে।’

জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ের সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকদের সক্রিয় ভূমিকা অব্যাহত রাখতে হবে। সরকারি সেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষ যেন কোনোভাবে হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।’

সুশাসন সুসংহত করতে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদেক্ষপ বাস্তবায়ন ও দুর্নীতি প্রতিরোধে জেলা প্রশাসকদের আরও আন্তরিকভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘মানুষের কল্যাণে আপনাদের সব ধরনের ভয়-ভীতি, প্রলোভনের ঊর্ধ্বে থেকে আইনানুগ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
নকল মসজিদ বানিয়ে কানাডায় সেনা প্রশিক্ষণ!
সেনাপ্রধানের সঙ্গে কানাডার হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ
বঙ্গবন্ধু ভারতেরও নায়ক: ভারতের সহকারী হাইকমিশনার

শেয়ার করুন