পতন থামার লক্ষণও নেই

player
পতন থামার লক্ষণও নেই

ব্রোকারেজ হাউসের স্ক্রিনে তাকিয়ে বিনিয়োগকারীরা। ছবি: সাইফুল ইসলাম

লেনদেনে ৮২টি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ২৬১টির দর। লেনদেন হয়েছে ৮০১ কোটি টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৭৬৭ কোটি টাকা। বস্ত্র খাতের ৭৭ শতাংশ, ওষুধ ও রসায়ন খাতে ৯৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ আর প্রকৌশল খাতের ৭৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ কোম্পানির দর কমেছে। বিপরীতে চাঙ্গা ছিল বিমা খাত। সাধারণ বিমার ৮৭ দশমিক ১৮ শতাংশ আর জীবন বিমা খাতের ৭৬ দশমিক ৯২ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে।

এক দিন সূচক বাড়ার পর আবারও ধারাবাহিক পতনের বৃত্তে যাচ্ছে পুঁজিবাজার। গত ১১ কর্মদিবসে সূচক বেড়েছে মাত্র দুই দিন। আর সূচক কমেছে বাকি ৯ দিন।

সপ্তাহের প্রথম দুই দিনে ১৩০ পয়েন্ট সূচক পতনের পর মঙ্গলবার বেড়েছিল ২০ পয়েন্ট। এরপর আবার দুই দিন পড়ল সূচক।

বুধবার উত্থানের আলো নিভে গিয়ে সূচকের পতন হয় ২ পয়েন্ট। শেষ কর্মদিবস বৃহস্পতিবার পড়েছে আরও ৫১ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট।

ফলে চলতি সপ্তাহের পাঁচ দিনের লেনদেনে সূচক কমেছে ১৮৩ পয়েন্ট। বিপরীতে সূচক বেড়েছে মাত্র ২০ পয়েন্ট।

এ অবস্থা যে শুধু চলতি সপ্তাহের, তা নয়। এর আগের কয়েক সপ্তাহেও সূচক পতনের এ ধারা অব্যাহত ছিল।

অথচ পুঁজিবাজার নিয়ে চলতি সপ্তাহে আশান্বিত হওয়ার মতো দুটি ঘটনা ছিল। এর একটি হলো পুঁজিবাজারে নজরদারি বাড়াতে বিএসইসিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ছয় নির্দেশনা, অন্যদিকে পুঁজিবাজারে ভালো কোম্পানির সংখ্যা বাড়াতে ডিএসইর পক্ষ থেকে দেশের খ্যাতনামা অর্ধশত কোম্পানির সঙ্গে বৈঠক।

পতন থামার লক্ষণও নেই
বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের চিত্র

আবার সুকুকের মাধ্যমে বেক্সিমকো লিমিটেড তাদের প্রত্যাশিত ৩ হাজার কোটি টাকা উত্তোলন শেষ করেছে। এখন সেটি লেনদেন শুরু হওয়ার অপেক্ষায়। সুকুক বন্ডের বেশির ভাগ কিনেছে ব্যাংক। ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা থেকে বন্ড বাইরে না থাকার কারণে তাদের শেয়ার বিক্রি করে এই বিনিয়োগে যেতে হয়েছে। ফলে বিক্রয়চাপ ছিল, যেটি এখন আর নেই।

বুধবার বেক্সিমকো লিমিটেডের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করার পর কোম্পানিটির শেয়ারদর কমেছে ৩ দশমিক ২৬ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার ৮২টি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ২৬১টির দর। লেনদেন হয়েছে ৮০১ কোটি টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৭৬৭ কোটি টাকা।

পতন থামার লক্ষণও নেই
সূচক পতনে প্রভাব রাখা ১০ কোম্পানি

বস্ত্র খাতের ৭৭ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারের দর হারিয়েছে। ওষুধ ও রসায়ন খাতের ৯৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ আর প্রকৌশল খাতের ৭৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে।

বিপরীতে চাঙ্গা ছিল বিমা খাত। সাধারণ বিমা খাতের ৮৭ দশমিক ১৮ শতাংশ আর জীবন বিমা খাতের ৭৬ দশমিক ৯২ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার সূচক পতনের সবচেয়ে বেশি ভূমিকা ছিল বেক্সিমকো লিমিটেডের। কোম্পানিটির কারণে সূচক কমেছে ৬ দশমিক ৮৫ শতাংশ। এ ছাড়া টেলিকম খাতের রবির দর ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ দরপতনে সূচক কমেছে ৪ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ।

ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ, লিবরা ইনফিউশন, বিএটিবিসি, আইসিবি, ইউনিলিভার কনজ্যুমার, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন, বিকন ফার্মা ও বিএসআরএম লিমিটেডের দরপতনেও সূচক কমেছে সবচেয়ে বেশি।

পতন থামার লক্ষণও নেই
এই ১০ কোম্পানি সূচকে কিছু পয়েন্ট যোগ করেছে

দর বৃদ্ধির ১০ কোম্পানি

বৃহস্পতিবার লেনদেনে সবচেয়ে বেশি শেয়ারদর বেড়েছে লোকসানি স্বল্প মূলধনি সাভার রিফ্যাক্টরিজের ৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ। ৪২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা লেনদেনে ২০ হাজার ৬৯টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে। শেয়ারদর ১৯৯ টাকা ১০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ২১৯ টাকা।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ঢাকা ডাইংয়ের দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ। শেয়ারদর ১৯ টাকা ১০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ২১ টাকা। ২ কোটি ৯৮ লাখ টাকার ১৪ লাখ ৫৭ হাজার ৪৭৬টি শেয়ার এদিন হাতবদল হয়েছে।

মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজের দর বেড়েছে ৭ দশমিক ১৭ শতাংশ। ২ কোটি ৬৫ লাখ টাকার মোট ৯ লাখ ৮ হাজার ৯৩৬টি শেয়ার এদিন হাতবদল হয়েছে।

এশিয়া প্যাসিফিক ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির দরও ৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে। ৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকার ১০ লাখ ৫৫ হাজার ৮৭৭টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

পতন থামার লক্ষণও নেই
বিমা ছাড়া অন্য কোনো খাতে এক শ কোটি টাকার লেনদেন হয়নি

এ ছাড়া এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের ৬ দশমিক ৬২ শতাংশ, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সের ৬ দশমিক ৫০, প্রভাতী ইন্স্যুরেন্সের ৫ দশমিক ২৭, পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের দর বেড়েছে ৫ দশমিক ১৮ শতাংশ।

সোনারগাঁও ইন্স্যুরেন্স, শ্যামপুর সুগার, আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারদর বেড়েছে ৪ শতাংশের বেশি।

আরও আটটি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ৩ শতাংশের বেশি। ২২টি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ২ শতাংশের বেশি।

দরপতনের ১০ কোম্পানি

এই তালিকার শীর্ষে ছিল লোকসানি ব্রাদাস পিপি ওভেন কোম্পানি। কোম্পানিটির দর কমেছে ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ। ১ কোটি ৪২ লাখ টাকার মোট ১১ লাখ ৬৬ হাজার ১০২টি শেয়ার এদিন হাতবদল হয়েছে।

ইমাম বাটনের দর কমেছে ৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ। ২৫ টাকা ৫০ পয়সা প্রতিটি শেয়ার হয়েছে ২৩ টাকা ৬০ পয়সা। ২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা লেনদেনে ১০ হাজার ৭৪১টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

তৃতীয় অবস্থানে থাকা স্বল্প মূলধনি এপেক্স ফুটওয়্যারের দর কমেছে ৭ দশমিক ৩১ শতাংশ। ১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৪২ হাজার ৫১৫টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

প্রিমিয়ার লিজিংয়ের দর ৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ। লিবরা ইনফিউশন ও রেকিড বেনজিনজারের ৬ দশমিক ১৯ শতাংশ, বিচ হ্যাচারির দর ৬ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ কমেছে।

৫ শতাংশের বেশি শেয়ারদর বেড়েছে চারটি কোম্পানির। এর মধ্যে এমআই সিমেন্টের দর ৫ দশমিক ৩১ শতাংশ, দেশ গার্মেন্টসের দর ৫ দশমিক ৬৬, মেঘনা পেটের দর ৫ দশমিক ৩১ এবং জিকিউ বলপেনের দর কমেছে ৫ দশমিক ১৪ শতাংশ।

পতন থামার লক্ষণও নেই
প্রায় সব খাতই দরপতন দেখেছে

লেনদেনে এগিয়ে থাকা ১০ কোম্পানি

বৃহস্পতিবার লেনদেনে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে ছিল ফরচুন সুজ, যার ৫৪ কোটি ২০ লাখ টাকার ৫৫ লাখ ১৫ হাজার ৭৫৯টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

এর পরই ছিল বেক্সিমকো লিমিটেড, যার ৪৪ কোটি ৬২ লাখ টাকার ২৯ লাখ ৭ হাজার ৯৭০টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

বিকন ফার্মার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩২ কোটি ৬০ লাখ টাকা। শেয়ার হাতবদল হয়েছে ১৩ লাখ ৯৩ হাজার ১৩৬টি।

এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের ২৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। এ ছাড়া ব্যাংক খাতের ওয়ান ব্যাংকের ২৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। ২ কোটি ২ লাখ ৫২ হাজার ৪০৫টি শেয়ার এদিন হাতবদল হয়েছে।

দর বৃদ্ধিতে সোনালী পেপারের শেয়ারপ্রতি যোগ হয়েছে ১২ টাকা ৮০ পয়সা। এতে ৮৪০ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৮৫৩ টাকা ৫০ পয়সা। এদিন কোম্পানিটির ২২ কোটি ১২ লাখ টাকার ২ লাখ ৬১ হাজার ৩৬৮টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

জেনেক্স ইনফোসিসের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা। সাইফ পাওয়ারটেকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি ১০ লাখ টাকা। সেনাকল্যাণ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১০ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। জিএসপি ফাইন্যান্সের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন:
ফের সূচকের পতন
আট মাসে সর্বনিম্ন লেনদেন
পুঁজিবাজার কারসাজি ঠেকাতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ৬ নির্দেশনা
ভারতের পুঁজিবাজারে বড় পতন
৮ দিনের ৭ দিনই পতন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

লেনদেন শুরুর আগে মুনাফার খবর দিল বিডি থাই ফুড

লেনদেন শুরুর আগে মুনাফার খবর দিল বিডি থাই ফুড

সোমবার দশ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বা ১ টাকা বাড়ার সুযোগ থাকবে। যদিও সবার জন্য শেয়ার বরাদ্দ দেয়ার আগে নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার দর প্রথম দুদিন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির বিধান ছিল।

প্রাথমিক গণ প্রস্তাবের (আইপিও) কার্যক্রম শেষ করে সোমবার থেকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন শুরু করবে বিডি থাই ফুড অ্যান্ড বেভারেজ। তার একদিন আগে রোববার কোম্পানিটি মুনাফার খবর দিলো ডিএসই’র ওয়েবসাইটে।

কোম্পানিটির পক্ষ থেকে দেয়া আর্থিক বিবরণীতে অর্থবছরের ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর ’২১) শেয়ারপ্রতি মুনাফা ১১ শতাংশ বেড়েছে বলে জানানো হয়েছে।

গত বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ৩১ পয়সা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে তা ছিল ২৮ পয়সা। এই সময়ে কোম্পানিটির মুনাফা বেড়েছে ৩ পয়সা।

কোম্পানিটির দ্বিতীয় প্রান্তিকে অক্টোবর-ডিসেম্বর ’২১ ইপিএস হয়েছে ১৬ পয়সা। আগের অর্থবছরে একই সময়ে মুনাফা হয়েছিল ২০ পয়সা।

আইপিও আবেদন করলেই শেয়ার পাওয়া যাবে- নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির এমন নির্দেশনা কার্যকর ছিল কোম্পানিটির ক্ষেত্রে। ফলে আবেদনকারীরা ১০ হাজার টাকার বিপরীতে শেয়ার পেয়েছেন ২৬টি। আর প্রবাসী আবেদনকারীরা পেয়েছেন ২০টি করে।

সোমবার দশ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বা ১ টাকা বাড়ার সুযোগ থাকবে। যদিও সবার জন্য শেয়ার বরাদ্দ দেয়ার আগে নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার দর প্রথম দুদিন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির বিধান ছিল।

গত বছরের ৬ মে এক নির্দেশনায় বিএসইসি জানায়, নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার দর লেনদেনের প্রথম দিন ৫০ শতাংশের পরিবর্তে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বৃদ্ধির সুযোগ থাকবে।

বিডি ফুড পুঁজিবাজার থেকে ১৫ কোটি টাকা তুলেছে। এজন্য ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ১ কোটি ৫০ লাখ শেয়ার ছেড়েছে কোম্পানিটি। উত্তোলন করা টাকা যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম কেনা, দালানকোঠা নির্মাণ, ভূমি উন্নয়ন এবং প্রাথমিক গণপ্রস্তাব খাতে ব্যয় করবে প্রতিষ্ঠানটি।

বিডি ফুডের আইপিও অনুমোদন শর্তে বলা হয়েছে, কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ৬৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। কোম্পানির যেসব উদ্যোক্তা পরিচালকের কাছে পরিশোধিত মূলধনের শেয়ার আছে তারা আগামী তিন বছর কোনো শেয়ার কেনাবেচা করতে পারবে না। তবে যেদিন কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু করবে সেদিন থেকে সেটি গণনা করা হবে।

২০২০ সালের ৩০ জুন বিডি ফুডের সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী পুনর্মূল্যায়ন ছাড়া শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভি) ১২ টাকা ৮২ পয়সা। পুনর্মূল্যায়নসহ এটি দাঁড়ায় ১৪ টাকা ২৩ পয়সা।

আরও পড়ুন:
ফের সূচকের পতন
আট মাসে সর্বনিম্ন লেনদেন
পুঁজিবাজার কারসাজি ঠেকাতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ৬ নির্দেশনা
ভারতের পুঁজিবাজারে বড় পতন
৮ দিনের ৭ দিনই পতন

শেয়ার করুন

বিমার উত্থানেও সূচকের পতন

বিমার উত্থানেও সূচকের পতন

ব্রোকারেজ হাউসে লেনদেন দেখছেন বিনিয়োগকারীরা। ছবি: নিউজবাংলা

এদিন প্রায় সব খাতেই দরপতন হয়েছে। তবে ব্যতিক্রম ছিল সাধারণ বিমা খাত। এই খাতের ৯৫ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে। কমেনি একটিরও। ৫ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারদর ছিল অপরিবর্তিত।

বিমা খাতে উত্থানের পরও নতুন বছরে ১৬ কর্মদিবসে তৃতীয় দিনের মতো সূচকের পতন হয়েছে। এর মধ্যে সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে পতন দেখল দুই দিন।

আগের সপ্তাহের পাঁচটি কর্মদিবসের প্রতিদিন সূচক অল্প অল্প করে বাড়ার সুখস্মৃতি নিয়ে নতুন সপ্তাহের রোববার প্রথম কর্মদিবসে লেনদেনের শুরুতেই সূচক বাড়ে ২৮ পয়েন্ট। তবে ৫ মিনিট পর থেকেই সূচক পড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত আগের দিনের চেয়ে ৩২ পয়েন্ট কমে শেষ হয় লেনদেন।

সূচক পতনের দিনে ১০২টি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে ২৪৮টির। আগের দিনের দামেই লেনদেন শেষ করেছে ২৮টি কোম্পানি।

চলতি বছর প্রথমবারের মতো সূচক কমে গত ৯ জানুয়ারি, ৫৫ পয়েন্ট। এরপর দ্বিতীয়বারের মতো সূচক কমে ১২ জানুয়ারি। সেদিন পতন হয় ৫৩ পয়েন্ট। বাকি প্রতিদিনই সূচক বেড়েছে। সব মিলিয়ে ১৬ দিনে সূচকে যোগ হয়েছে ৩১৬ দশমিক ৩৪ পয়েন্ট।

বিমার উত্থানেও সূচকের পতন
রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের চিত্র

সূচক পতনের দিন কমেছে লেনদেনও। দিন শেষে হাতবদল হয়েছে ১ হাজার ৪৮২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৬০১ কোটি ২০ লাখ ২৬ হাজার টাকা। আগের দিনের তুলনায় লেনদেন কমেছে ১২১ কোটি টাকা।

তবে গত ১৪ কর্মদিবস ধরে টানা ১ হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে। গত বছরের শেষ প্রান্তিকে বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়ার পর এ বিষয়টি নিষ্ক্রিয়দের আবার শেয়ার কেনায় আগ্রহী হয়ে ওঠার প্রমাণ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

এদিন প্রায় সব খাতেই দরপতন হয়েছে। তবে ব্যতিক্রম ছিল সাধারণ বিমা খাত। এই খাতের ৯৫ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে। কমেনি একটিরও। ৫ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারদর ছিল অপরিবর্তিত।

খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের ৫০ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে। এর বাইরে ব্যাংক, আর্থিক, বস্ত্র, প্রকৌশল, ওষুধ ও রসায়নের মতো প্রধান খাতগুলোয় কমেছে সিংগভাগ শেয়ারের দর।

যেসব কোম্পানির দর কমায় সূচকের পতন

রোববার সূচক পতনের সবচেয়ে বেশি ভূমিকা ছিল ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজের কারণে। শেয়ারদর ১ দশমিক ২৫ শতাংশ কমায় সূচক কমেছে ৯ দশমিক শূন্য ৪ পয়েন্ট।

বিমার উত্থানেও সূচকের পতন
সূচক যত পড়েছে, তার চেয়ে বেশি কমিয়েছে এই ১০টি কোম্পানি

টেলিযোগাযোগ খাতে রবির দর কমেছে ১ দশমিক ৭৯ শতাংশ, সূচক থেকে হারিয়ে ৮ দশমিক শূন্য ৪ পয়েন্ট।

লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশের শেয়ারদর ২ দশমিক ৬ শতাংশ কমায় সূচক কমেছে ৫ দশমিক শূন্য ৯ পয়েন্ট।

এ ছাড়া স্কয়ারফার্মা ৪ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট, বেক্সিমকো লিমিটেড ৪ দশমিক ২৩ পয়েন্ট ও ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির ৩ দশমিক ১৮ পয়েন্ট, পদ্মা অয়েল ৩ দশমিক ১৭ পয়েন্ট, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন ২ দশমিক ৭৪ পয়েন্ট, ব্র্যাক ব্যাংক ২ দশমিক ৪৪ পয়েন্ট ও এসিআই লিমিটেডের কারণে সূচক কমেছে ১ দশমিক ৭৮ পয়েন্ট।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক ফেলেছে ৪৪ দশমিক ১৮ পয়েন্ট।

এর বিপরীতে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানির শেয়ারদর ২ দশমিক ৬৯ শতাংশ বাড়ার পর সূচকে যোগ হয়েছে ২০ দশমিক ৬১ পয়েন্ট।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা গ্রামীণফোন সূচক বাড়িয়েছে ৪ দশমিক ৪৪ পয়েন্ট। শেয়ারদর বেড়েছে শূন্য দশমিক ৪২ পয়েন্ট।

এ ছাড়া বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল, রেনিটা, বিকন ফার্মা, লিনডে বিডি, বেক্সিমকো ফার্মা, সোনালী পেপার, বার্জার পেইন্টস ও ইউনিলিভার কনজ্যুমার সূচকে বেশ কিছু পয়েন্ট যোগ করেছে।

বিমার উত্থানেও সূচকের পতন
সার্বিকভাবে সূচকের পতন হলেও এই ১০টি কোম্পানি বেশ ভালো পয়েন্ট যোগ করেছে

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক বাড়িয়েছে ৪৬ পয়েন্ট।

দর বৃদ্ধির ১০ কোম্পানি

দর বৃদ্ধিতে সবচেয়ে এগিয়ে ছিল সদ্য তালিকাভুক্ত ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স। ১৭ জানুয়ারি লেনদেনে আসা ১০ টাকা অভিতিহ মূল্যেই প্রতিটি শেয়ার দিনের সর্বোচ্চ দরে লেনদেন হয়ে ১৭ টাকা ৬০ পয়সায় পৌঁছেছে।

এর পরই ছিল মালিকানা বদল হতে যাওয়া ফু ওয়াং ফুডসের। মিনোরি বাংলাদেশ এই কোম্পানিটির মালিকানায় আসতে অনুমোদন দেয়ার খবরে শেয়ারদর বেড়েছে ৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ।

এ ছাড়া এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ ও এপেক্স ফুটওয়্যারের শেয়ারদর ৮ দশমিক ৭২ শতাংশ বেড়েছে।

পঞ্চম অবস্থানে ছিল বিডি ল্যাম্পস, যার দর ২২১ টাকা ৪০ পয়সা থেকে ৮ দশমিক ৬২ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ২৪০ টাকা ৫০ পয়সা।

বিমার উত্থানেও সূচকের পতন
রোববার সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে এই ছয়টি খাতে

এ ছাড়া ইয়াকিন পলিমারের দর ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ, ফু ওয়াং সিরামিকসের দর ৮ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ, জেমিনি সি ফুডের দর ৭ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ ও আরএকে সিরামিকসের দর ৬ দশমিক ৯২ শতাংশ বেড়েছে।

দর বৃদ্ধির সেরা দশের শেষ অবস্থানে ছিল বিমা খাতের গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স, যার দর ৪৯ টাকা ৮০ পয়সা থেকে ৬ দশমিক ৮২ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৫৩ টাকা ২০ পয়সা।

দরপতনের শীর্ষ ১০

এই তালিকার শীর্ষে ছিল মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ। জেড ক্যাটাগরির এই কোম্পানিটির শেয়ারদর কমেছে ৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

এদিন ৬ শতাংশের বেশি শেয়ারদর বেড়েছে আরও দুটি কোম্পানির। এর মধ্যে গ্লোবাল হ্যাভি কেমিক্যালসের দর ৬ দশমিক ৪৫ শতাংশ ও তমিজউদ্দিন টেক্সটাইলের দর কমেছে ৬ দশমিক ২৮ শতাংশ।

লভ্যাংশ ঘোষণার পর উড়তে থাকা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন দর হারিয়েছে ৫ দশমিক ৮৯ শতাংশ। আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ দর হারিয়েছে ৫ দশমিক ৬২ শতাংশ।

তিন বছর পর লভ্যাংশ ঘোষণা করা তাল্লু স্পিনিং প্রতি বছরই লোকসান দেখানো ও লভ্যাংশ না দেয়ার সিদ্ধান্ত জানানোর পর দুই দিনেই দর হারিয়েছে ৪০ শতাংশের মতো। ১৪ টাকা ৩০ পয়সা থেকে নেমে এসেছে ১০ টাকা ১০ পয়সায়। এর মধ্যে আজ কমেছে ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ বা ৬০ পয়সা।

মিথুন নিটিংয়ের শেয়ারদর ১০ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ কমে হয়েছে ১৩ টাকা ৮০ পয়সা।

এ ছাড়া শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের দর ৫ দশমিক ১২ শতাংশ, কেয়া কসমেটিকসের দর ৫ দশমিক ১৯ শতাংশ কমেছে।

লেনদেনে সেরা ১০

দর হারালেও লেনদেনে সেরা ছিল রোববার বেক্সিমকো লিমিটেড। কোম্পানিটির ১৫৬ কোটি ৩০ লাখ টাকার ৯৭ লাখ ৪২ হাজার ৪টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

বিমার উত্থানেও সূচকের পতন
বিমা ছাড়া প্রধান সব খাতেই দরপতন দেখেছে বিনিয়োগকারীরা

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনে ৬৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা, পাওয়ার গ্রিডের ৫৬ কোটি ৭ লাখ টাকা, এশিয়া ইন্স্যুরেন্সে ৩৭ কোটি ১৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

এপেক্স ফুটওয়্যারে ৩৬ কোটি ১৪ লাখ টাকার ১০ লাখ ৩৬ হাজার ১৮৫টি শেয়ার, সোনালী পেপারে ৩৫ কোটি ১৩ লাখ টাকার ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৫৮১টি শেয়ার, সাইফ পাওয়ারটেকের ৩৪ কোটি ১৭ লাখ টাকার ৭৬ লাখ ৯৩ হাজার ৬৪টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

এ ছাড়া ফরচুন সুজে ৩৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোয় ৩২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, লিন্ডে বিডিতে ২৯ কোটি ১৮ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ফের সূচকের পতন
আট মাসে সর্বনিম্ন লেনদেন
পুঁজিবাজার কারসাজি ঠেকাতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ৬ নির্দেশনা
ভারতের পুঁজিবাজারে বড় পতন
৮ দিনের ৭ দিনই পতন

শেয়ার করুন

ডেল্টা লাইফে জটিলতা: বিপুল আইনি খরচ

ডেল্টা লাইফে জটিলতা: বিপুল আইনি খরচ

ডেলটা লাইফ ইনস্যুরেন্স ভবন। ফাইল ছবি

যেসব মামলায় ডেল্টা লাইফ কোনো পক্ষ নয়, সেসব মামলার খরচ দেখিয়ে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। শুধু প্রশাসকের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) বিরুদ্ধে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের করা রিটে আইনজীবীদের বিল বাবদ ৮৮ লাখ ৪৩ হাজার ৫০০ টাকা কোম্পানি তুলে নিয়েছে। এটা তুলেছে গত বছরের ২১ ডিসেম্বর থেকে গত ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত ২৩ দিনে। 

প্রশাসক নিয়োগের পর থেকে বিভিন্ন খাতে ২ কোটি ৭৮ লাখ ৩৮ হাজার ৯১৪ টাকা আইনবহির্ভূতভাবে খরচের অভিযোগ উঠেছে ডেল্টা লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানির বিরুদ্ধে। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রশাসক থাকবে না কি না, এ-সংক্রান্ত মামলা চালাতে গিয়ে ২৩ দিনে শুধু আইনজীবীদের বিল দেখিয়ে উত্তোলন করা হয়েছে ৮৮ লাখ টাকা।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত জীবন বিমা খাতের কোম্পানিটি গত ১১ মাস ধরে প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। কোম্পানিটি প্রশাসকের মাধ্যমে চলবে এমন আদেশ এসেছে গত ১৬ জানুয়ারি।

আদেশে বলা হয়, ১০ জানুয়ারি চেম্বার আদালত হাইকোর্টের প্রশাসক নিয়োগ অবৈধ রায়টি স্থগিত করে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠায়। আপিল বিভাগ শুনানি নিয়ে আগামীকাল রোববার পর্যন্ত রায় স্থগিত রাখতে বলেছে।

প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অভিযোগ, যেসব মামলায় ডেল্টা লাইফ কোনো পক্ষ নয়, সেসব মামলার খরচ দেখিয়ে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। শুধু প্রশাসকের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) বিরুদ্ধে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের করা রিটে আইনজীবীদের বিল বাবদ ৮৮ লাখ ৪৩ হাজার ৫০০ টাকা কোম্পানি তুলে নিয়েছে। এটা তুলেছে গত বছরের ২১ ডিসেম্বর থেকে গত ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত ২৩ দিনে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৬ জানুয়ারি প্রশাসককে অবৈধ ঘোষণার রায় দেয়ার পর বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ আদালতে সিএমপি করলে ১০ জানুয়ারি শুনানি হয়। পরে প্রশাসকও একটি সিএমপি করেন। যার শুনানি না হলেও শুনানি বাবদ ১২ জানুয়ারি তুলে নেয়া হয় ২৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকা।

অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়সহ নানা অনিয়মের অভিযোগে গত বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরিচালনা পর্ষদ বরখাস্ত করে চার মাসের জন্য প্রশাসক নিয়োগ দেয় বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ।

কোম্পানির কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও আর্থিক অনিয়ম খতিয়ে দেখতে বিশেষ নিরীক্ষা করার দায়িত্ব দিয়ে আইডিআরএর সাবেক সদস্য সুলতান-উল-আবেদীন মোল্লাকে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়।

সংস্থাটির চেয়ারম্যান এম মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ আনার কয়েক দিন পর ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পর্ষদ সাসপেন্ড করে বিমা নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

সুলতান-উল-আবেদীন মোল্লা প্রশাসক নিয়োগ পেলে দুদক থেকে মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেন। অবশ্য তার এ উদ্যোগের বিরুদ্ধে কোম্পানির সাবেক পর্ষদ সদস্যরা উচ্চ আদালতে রিট করেন।

রিটের পর উচ্চ আদালত নির্দেশ দেয়, প্রশাসক সুলতান-উল-আবেদীন মোল্লাকে যেসব বিষয়ে নজরদারি করার দায়িত্ব দিয়েছে তিনি যেন সেটাই করেন।

প্রশাসক নিয়োগের পর ডেল্টা লাইফে টাকা আত্মসাতের সঙ্গে কোম্পানির ডিএমডি ও সিওও মঞ্জুরে মাওলা, লিগ্যাল কনসালট্যান্ট আবদুল ফাত্তাহ, কনসালট্যান্ট (লিগ্যাল ডিপার্টমেন্ট) মাহবুব আলম খান, সিএফও ফারহান উদ্দিন জড়িত বলে নাম আসে।

এ ছাড়া কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ স্থগিত করার পর কোম্পানিতে মাস্ক বিতরণ, সম্মেলন, শেয়ার বিক্রি, ইউনিয়ন ব্যাংকে ৫০ কোটি টাকার এফডিআর ও বাখরাবাদ (গ্রুপ কমিশন বাণিজ্য) কেলেঙ্কারি এবং আইনি খরচের নামে বিপুল পরিমাণ টাকা ব্যয়ের অভিযোগ ওঠে। এর সঙ্গে দুই প্রশাসক সুলতান-উল-আবেদীন মোল্লা ও রফিকুল ইসলাম জড়িত বলেও উল্লেখ করা হয়।

বিষয়টি নিয়ে সুলতান-উল-আবেদীন মোল্লা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কোম্পানির পক্ষ থেকে কেউ এ ধরনের অভিযোগ করতে পারেন না। কারণ এটি এখন প্রশাসকের নিয়ন্ত্রণে আছে। আইনি কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে যেসব কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো আমার দায়িত্ব পালন সময়ে হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘আমার সময় অভিযোগ উঠেছিল, আমি বার্ষিক সম্মেলনের নামে বিশাল বাজেট নির্ধারণ করেছিলাম। সেখানে কিছু ব্যয়ও করা হয়েছিল। পরে সে সম্মেলন হয়েছে। ফলে আমার সময়ে যে খরচ হয়েছিল সেটি সমন্বয় হয়েছে।

‘ডেল্টা লাইফের পরিচালনা পর্ষদের কেউ এখন কোম্পানির দায়িত্বে নেই। ফলে তাদের প্রশাসক নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করাটাই স্বাভাবিক। এগুলো তারই অংশ।’

ডেল্টা লাইফে বর্তমানে প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন আইডিআরের আরেক সাবেক সদস্য (প্রশাসন) মো. কুদ্দুস খান।

তাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে গত বছরের অক্টোবরে। তার আগে প্রশাসকের দায়িত্বে ছিলেন সরকারের সাবেক যুগ্ম সচিব মো. রফিকুল ইসলাম।

আরও পড়ুন:
ফের সূচকের পতন
আট মাসে সর্বনিম্ন লেনদেন
পুঁজিবাজার কারসাজি ঠেকাতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ৬ নির্দেশনা
ভারতের পুঁজিবাজারে বড় পতন
৮ দিনের ৭ দিনই পতন

শেয়ার করুন

সুকুক লেনদেনে বাধা উচ্চহারে কমিশন

সুকুক লেনদেনে বাধা উচ্চহারে কমিশন

পুঁজিবাজারে অনুমোদন পাওয়া প্রথম সুকুক বন্ডে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ২০০ মেগাওয়াটের আর পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৩০ মেগাওয়াটের সৌর বিদ্যুৎ করছে বেক্সিমকো লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বেক্সি পাওয়ার। ফাইল ছবি

সুকুক বা বন্ড কেনার ক্ষেত্রে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ নির্ধারিত লেনদেনের মাশুল ৫০ টাকা, অগ্রিম কর দিতে হয় আড়াই টাকা ও বাকি সাড়ে ২২ টাকা ব্রোকারেজ হাউসের কমিশন। মোট সাড়ে ৭৪ টাকা দিতে হয় কমিশন। এক লাখ টাকা পর্যন্ত বন্ড কেনাবেচার ক্ষেত্রে এই হারে কমিশন দিতে হবে। এই নীতির কারণে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের পক্ষে কম পরিমাণে বন্ড কেনা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় মুনাফার নিশ্চয়তার পরও বেক্সিমকোর আনা ইসলামি গ্রিন সুকুক বন্ডে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ নেই বললেই চলে। বন্ডটি পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরুর পর হাতবদল হচ্ছে খুবই কম। চাহিদা না থাকায় দ্বিতীয় দিনই তা নেমে গেছে অভিহিত মূল্যের নিচে। ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যের বন্ড এখন পাওয়া যাচ্ছে ৯০ টাকা ৫০ পয়সায়।

বন্ডটি বছরে ন্যূনতম ৯ শতাংশ মুনাফা দেবে, যেভাবে ব্যাংকে টাকা রাখলে এখন পাওয়া যায় ৬ শতাংশের কম। মুনাফার হার আরও বেশি হতে পারে, আর বছর শেষে বন্ডে বিনিয়োগের বিপরীতে ২৫ শতাংশ কম দামে শেয়ার পাওয়ার সুযোগের কারণে মুনাফার হার ১৬ থেকে ১৭ শতাংশ বা তার চেয়ে বেশিও হতে পারে।

এত আকর্ষণীয় মুনাফার সুযোগ থাকার পরও বিনিয়োগকারীদের অনাগ্রহ কেন?- প্রাপ্ত তথ্য বলছে, বন্ডটি নিয়ে ধারণার অভাবের পাশাপাশি কারণ হিসেবে আছে এটি কেনাবেচায় মাত্রাতিরিক্ত মাশুলও।

এমনিতে শেয়ার কেনাবেচায় ১০০ টাকার বিপরীতে সর্বনিম্ন ২০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৫০ পয়সা পর্যন্ত কমিশন কাটে ব্রোকারেজ হাউস। তবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মাশুল, অগ্রিম কর আর ব্রোকারেজ হাউসের কমিশন মিলে সুকুক বন্ডে লাগতে পারে এর চেয়ে বহুগুণ।

সুকুক বা বন্ড কেনার ক্ষেত্রে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ নির্ধারিত লেনদেন মাশুল ৫০ টাকা, অগ্রিম কর দিতে হয় আড়াই টাকা ও বাকি সাড়ে ২২ টাকা ব্রোকারেজ হাউসের কমিশন। মোট সাড়ে ৭৪ টাকা দিতে হয় কমিশন। একই হারে কমিশন দিতে হবে সুকুক বিক্রি করার ক্ষেত্রেও।

এক শ টাকা থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত বন্ড কিনলে সব মিলিয়ে কমিশন কাটা হচ্ছে সাড়ে ৭৪ টাকা। আর সেই একটি সুকুক বিক্রি করলেও একই হারে কমিশন দিতে হচ্ছে।

অর্থাৎ বড় অঙ্কের কিনলে কমিশনের চাপ বেশি বোধ না হলেও কেউ যদি কম টাকার কিনতে চান, তার কমিশন বেশি পড়ে যাচ্ছে।

ব্রোকারেজ হাউসগুলোর ট্রেডারদের বক্তব্য, পুঁজিবাজারে যে বন্ডগুলো আছে সেগুলোর অভিহিত মূল্য ৫ হাজার টাকা। আর বন্ডে যারা বিনিয়োগ করেন, তারা ডে ট্রেডিংয়ের উদ্দেশ্যে বা অল্প টাকায় বিনিয়োগ করে না। তারা বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করে থাকেন। কিন্তু সুকুকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ থাকায় বিষয়টি ভিন্ন হতে পারত। এখানে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ করার সুযোগ থাকা উচিত ছিল।

একাধিক ব্রোকারেজ হাউসের তথ্য বলছে, সুকুক আসার পর কেউ ১০টি, কেউ ৫০টি বন্ড কেনার অর্ডার দিতে গিয়ে কমিশনের কথা জেনে পিছিয়ে এসেছে।

কেউ যদি বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করেন, তাহলে তাকে কমিশনের কারণে একসঙ্গে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বন্ড বিক্রি করতে হবে। কিন্তু সে ক্ষেত্রে ক্রেতা পাওয়া কঠিন।

অথচ যেকোনো কোম্পানির শেয়ার একটি করেও কেনাবেচা করা যায় এবং সে ক্ষেত্রে কমিশন হয় প্রতি ১০০ টাকায় ২০ বা ৫০ পয়সা হিসাবেই।

এ কারণে প্রথম দিন অভিহিত মূল্যের চেয়ে বেশি টাকায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বন্ড কেনার আদেশ এলেও পরের দিনগুলোতে ক্রয়াদেশ ক্রমেই কমছে।

গত ১৩ জানুয়ারি লেনদেন শুরুর প্রথম দিন সর্বোচ্চ দর উঠে ১১০ টাকা। দিন শেষে দর দাঁড়ায় ১০১ টাকা। সেদিন হাতবদল হয় ৩২ লাখ ৩২ হাজার ৭৭২টি বন্ড।

দ্বিতীয় কর্মদিবস ১৬ জানুয়ারিতেই অভিহিত মূল্যের নিচে নেমে আসে বন্ড। সেই সঙ্গে কমে চাহিদা। লেনদেন হয় ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৮০৪টিতে।

লেনদেন শুরুর ঠিক এক সপ্তাহ পর ২০ জানুয়ারি হাতবদল হয়েছে ২ লাখ ৮৪ হাজার ৭৬৪টি বন্ড।

কমিশনের নীতির কারণে সুকুক বন্ড লেনদেনে ধীরগতির এই বিষয়টি নজরে এসেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনেরও (বিএসইসি)।

সংস্থাটির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বন্ডের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আগ থেকেই একটি চার্জ নির্ধারণ করা আছে। সেটি সুকুকের ক্ষেত্রেও কার্যকর হচ্ছে। তবে অন্যান্য বন্ডের তুলনায় সুকুকে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী বেশি। কিন্তু কমিশন বা চার্জ বেশি হওয়ায় আগ্রহ হারাচ্ছে। সেটি আমাদের নজরে এসেছে।

‘চার্জ নির্ধারণে বিএসইসি’র কিছু করার নেই। ডিএসই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে বিষয়টি দ্রুত সমাধানে ডিএসইকে এরই মধ্যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আশা করি এ সমস্যা থাকবে না।’

ডিএসইর উপমহাব্যবস্থাপক শফিকুর রহমান বলেন, সুকুকের কমিশনের বিষয়টি সমাধানে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

সুকুক বন্ড বিনিয়োগকারীদের বছরে ৯ শতাংশ ন্যূনতম মুনাফা দেয়ার পাশাপাশি আরও নানা সুযোগের কথা উল্লেখ আছে। বলা হয়েছে, বেক্সিমকো লিমিটেডের লভ্যাংশ ১০ শতাংশের বেশি হলে যতটুকু বেশি হবে, তার ১০ শতাংশ যোগ হবে সুকুকের লভ্যাংশে।

২০২১ সালের জন্য বেক্সিমকো লিমিটেড বিনিয়োগকারীদের ৩৫ শতাংশ হারে নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। আগামীতেও যদি একই হারে লভ্যাংশ দেয়, তাহলে এই ৩৫ শতাংশে ১০ শতাংশের অতিরিক্ত ২৫ শতাংশের ১০ শতাংশ হিসেবে আড়াই শতাংশ সুকুরের লভ্যাংশে যোগ হবে। অর্থাৎ তখন বন্ডধারীরা সাড়ে ১১ শতাংশ লভ্যাংশ পাবেন।

সুকুকের এই লভ্যাংশ করমুক্ত রাখার বিষয়েও আলোচনা চলছে। এমনিতে লভ্যাংশের ওপর ১০ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ কর কাটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। সুকুকে সেটি না কাটা হলে প্রকৃত মুনাফা বেশি হবে।

আবার প্রতিবছর বিনিয়োগকারীরা ২০ শতাংশ টাকা তুলে নিতে পারবেন অথবা তিনি চাইলে বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ার নিতে পারবেন।

এখানেই রয়েছে বাড়তি মুনাফার সুযোগ। কারণ এই শেয়ার পাওয়া যাবে ২৫ শতাংশ কম দামে। রেকর্ড ডেটের আগের দুই সপ্তাহের ভরিত গড় হিসাব করে এই শেয়ার দেয়া হবে।

অর্থাৎ শেয়ার মূল্য ১০০ টাকা হলে বিনিয়োগকারী পাবেন ৭৫ টাকায়, শেয়ার মূল্য ২০০ হলে পাবেন ১৫০ টাকায়, আর শেয়ার মূল্য ৩০০ হলে পাবেন ২২৫ টাকায়, শেয়ার মূল্য ৪০০ টাকা হলে তিনি পাবেন ৩০০ টাকায়। এভাবে যে শেয়ার তিনি পাবেন, তাতে ৩৩ শতাংশ মুনাফা করার সুযোগ আছে। সব মিলিয়ে এক লাখ টাকায় ৫ বছরে ন্যূনতম ৭৮ হাজার টাকা মুনাফা পাবেন তিনি।

সুকুক হলো ইসলামিক শরিয়াহ নীতিমালা মেনে পরিচালিত বন্ড বা আর্থিক পণ্য। প্রচলিত বন্ডের সুদের পরিমাণ নির্ধারিত থাকে, কিন্তু তার বিপরীতে কোনো সম্পদের ব্যাকআপ থাকে না। তবে সুকুক নির্দিষ্ট সম্পদ বা প্রকল্পের বিপরীতে গঠিত হয়। ওই সম্পদ ও প্রকল্পের আয়ই আনুপাতিক হারে পেয়ে থাকেন সুকুক ইউনিটধারীরা।

সুদবিহীন সুকুক বন্ডের ৩ হাজার কোটি টাকার বেশির ভাগ অংশই দুটি সৌরচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিনিয়োগ করবেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো লিমিটেড।

আরও পড়ুন:
ফের সূচকের পতন
আট মাসে সর্বনিম্ন লেনদেন
পুঁজিবাজার কারসাজি ঠেকাতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ৬ নির্দেশনা
ভারতের পুঁজিবাজারে বড় পতন
৮ দিনের ৭ দিনই পতন

শেয়ার করুন

জেএমআই হসপিটালের নিলামের ব্যাখ্যা দিল ডিএসই

জেএমআই হসপিটালের নিলামের ব্যাখ্যা দিল ডিএসই

ব্রোকারেজ হাউসে লেনদেনে চোখ বিনিয়োগকারীদের। ফাইল ছবি

জেএমআই হসপিটালের বিডিংয়ে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দ ছিল ১৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। বিডিং শুরুর ৫ মিনিটের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে ১৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকার বেশি শেয়ার কেনার প্রস্তাব জমা হওয়ায় এই সময়ের পর আবেদনকারীরা শেয়ার পাননি।

বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে পুঁজিবাজার থেকে টাকা উত্তোলনে শেয়ারপ্রতি দর নির্ধারণে নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে জেএমআই হসপিটাল রিকুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির। এতে শেয়ারপ্রতি দর নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ টাকা। এই নিলাম নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।

দর নির্ধারণের কয়েক মিনিটের মধ্যে শেয়ার শেষ হয়ে যাওয়া নিয়ে আলোচনার পর বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।

গত ৯ থেকে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত জেএমআই হসপিটালের বিডিং অনুষ্ঠিত হয়। তবে এই বিডিং শুরু হওয়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়।

ডিএসইর পাঠানো এক বার্তায় বলা হয়েছে, কোম্পানিটির নিলাম সম্পর্কিত বিষয় আলোচনায় আসার পর ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়।

ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ আইনকানুন ও ইলেকট্রনিক সাবস্ক্রিপশন সিস্টেম (ইএসএস) সফটওয়্যারের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে জানিয়েছে, বর্তমান বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে বিডিং বা নিলামে শেয়ারের সর্বোচ্চ মূল্য কত হবে, তা নিলামের আগেই নির্ধারণ করা যায়।

বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে কাট অফ প্রাইসে যদি যোগ্য বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দকৃত কোটার তুলনায় আবেদন বেশি হয়, তাহলে টাইম স্টাম্পিংয়ের মাধ্যমে বরাদ্দ দেয়া হয়।

জেএমআই হসপিটালের বিডিংয়ে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দ ছিল ১৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এই টাকার শেয়ার পেতে ৩৮৫ যোগ্য বিনিয়োগকারী ১৩৯ কোটি ৭৯ লাখ ২১ হাজার ৪০০ টাকার দর প্রস্তাব করেন। বিডিং শুরুর ৫ মিনিটের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে ১৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকার বেশি শেয়ার কেনার প্রস্তাব জমা হওয়ায় এই সময়ের পর আবেদনকারীদের কেউ শেয়ার পাননি।

ডিএসইর বার্তায় বলা হয়, শেয়ার বরাদ্দ পাওয়ার জন্য বিনিয়োগকারীদের মাঝে আগে বিড করার প্রবণতা দেখা যায়। যখন বিড করা হয় তখন বিডিং সম্পর্কিত কোনো তথ্য পাওয়া যায় না।

বিডিং শেষ হওয়ার পর ব্যাংক রিকনসিলিয়েশন পাওয়ার পর কাট অফ প্রাইস ডিসকভারি করার সময় বিডিং সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া যায়।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ প্রতিটি বিডিং ইএসএসের মাধ্যমে অত্যন্ত সতর্কতা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালনা করা হয় বলে জানানো হয়।

এই সফটওয়্যার চালুর পর ডিএসই ৬৭টি কোম্পানির বিডিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে।

২০২০ সালের ১৬ নভেম্বর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি কোম্পানিটি বিডিংয়ের অনুমোদন দেয়। পুঁজিবাজার থেকে কোম্পানিটি ৭৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। উত্তোলন করা টাকায় কোম্পানিটি জমি কেনা, ভবন তৈরি, মেশিনারিজ কেনা ও ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করবে।

আরও পড়ুন:
ফের সূচকের পতন
আট মাসে সর্বনিম্ন লেনদেন
পুঁজিবাজার কারসাজি ঠেকাতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ৬ নির্দেশনা
ভারতের পুঁজিবাজারে বড় পতন
৮ দিনের ৭ দিনই পতন

শেয়ার করুন

পাঁচ শর্তে ফু-ওয়াং ফুডসের মালিকানা বদল

পাঁচ শর্তে ফু-ওয়াং ফুডসের মালিকানা বদল

ফু-ওয়াং ফুডসের মালিকানা বদলের অনুমোদন দিয়েছে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। ছবি: সংগৃহীত

চিঠিতে বলা হয়, ফু-ওয়াং ফুডসের ৮৪ লাখ ৪২ হাজার ৭২৬টি শেয়ার মিনোরি বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে কমিশন অনুমোদন দিয়েছে। যা মোট শেয়ারের ৭ দশমিক ৬১ শতাংশ। এ পরিমাণ শেয়ার নেয়া হয়েছে ফু-ওয়াং ফুডসের পরিচালক আরিফ আহমেদ চৌধুরী, আফসানা তারান্নুম ও লুবাবা তাবাসসুমের কাছ থেকে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত খাদ্য ও আনুষাঙ্গিক খাতের ফু-ওয়াং ফুডসের মালিকানা বদল হচ্ছে। এর অনুমোদনও দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

কমিশনের নিয়মিত সভায় বৃহস্পতিবার মিনোরি বাংলাদেশকে কোম্পানিটির মালিকানা নিতে অনুমোদন দেয়া হয়।

এর আগে পুঁজিবাজারের একই খাতের এমারেল্ড অয়েল চালু করার মাধ্যমে নিজেদের কর্তৃত্ব দেখিয়েছি মিনোরি বাংলাদেশ। তবে ফু-ওয়াং ফুডসের মালিকানা পেতে পাঁচ শর্ত পূরণ করতে হবে মিনোরিকে।

ফু-ওয়াং ফুডসের ৭ দশমিক ৬১ শতাংশ শেয়ার হস্তান্তরের জন্য কোম্পানিটির তিন পরিচালকসহ মিনোরি বাংলাদেশের সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেয়া হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, ফু-ওয়াং ফুডসের ৮৪ লাখ ৪২ হাজার ৭২৬টি শেয়ার মিনোরি বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে কমিশন অনুমোদন দিয়েছে। যা মোট শেয়ারের ৭ দশমিক ৬১ শতাংশ। এ পরিমাণ শেয়ার নেয়া হয়েছে ফু-ওয়াং ফুডসের পরিচালক আরিফ আহমেদ চৌধুরী, আফসানা তারান্নুম ও লুবাবা তাবাসসুমের কাছ থেকে।

ডিপোজিটার (ব্যবহারিক) প্রবিধান ২০০৩ এর বিধি ৪২ এবং সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) উপ-বিধি ১১.৬ (মিলিত লেনদেন) এর অধীনে শেয়ার ক্রয় চুক্তি (এসপিএ) অনুসারে প্রতিটি শেয়ার ১০ টাকা মূল্যে হস্তান্তর হয়েছে। ফলে হস্তান্তরিত শেয়ারের মূল্য হবে ৮ কোটি ৪৪ লাখ ২৭ হাজার ২৬ টাকা।

এক্সচেঞ্জের ট্রেডিং সিস্টেমের বাইরে এই শেয়ার হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্নের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

শেয়ারের মালিকানা নেয়ার জন্য মিনোরি বাংলাদেশকে দেয়া পাঁচ শর্তের মধ্যে আছে, মালিকানা নেয়ার পর মিনোরি বাংলাদেশকে প্রযোজ্য উৎসে কর জমা দেয়ার জন্য প্রবিধানের বিধি-বিধান অনুযায়ী ঘোষণা দিতে হবে।

শেয়ার হস্তান্তরের পর মিনোরি বাংলাদেশ শেয়ারের বিপরীতে এক বা একাধিক মনোনীত প্রতিনিধি বা পরিচালক নিয়োগ করবে।

ফু-ওয়াং ফুডের দায় দেনা নিয়মিত পরিশোধ ও কোম্পানিটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য কমপক্ষে ২০ কোটি টাকার শেয়ার মানি ডিপোজিট হিসেবে রাখবে।

এই টাকা আলাদা একটি ব্যাংক হিসাবে রাখতে হবে। যা দিয়ে ব্যাংকের দায় দেনা নিয়মিত পরিশোধ, জমি অধিগ্রহণ, কার্যকরি মূলধন ও উৎপাদন সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য ব্যবহার করা যাবে।

৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের শর্ত পূরণের জন্য শেয়ার মানি ডিপোজিটের শেয়ারের অর্থের বিপরীতে মূলধন বাড়ানোর ক্ষেত্রে কমিশনের সম্মতি নিতে হবে।

এ বিষয়ে বিএসইসির কমিশনার অধ্যাপক ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বিএসইসির পক্ষ থেকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। মিনোরি বাংলাদেশের সঙ্গে তারা একটি চুক্তি করেছে। সেখানে ফু-ওয়াং ফুডস তাদের সাড়ে ৮ কোটি টাকা সমপরিমাণের শেয়ার বিক্রি করবে মিনোরি বাংলাদেশের কাছে।

‘এর আগে মিনোরি বাংলাদেশের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে আরেক কোম্পানি এমারেল্ড অয়েল উৎপাদনে ফিরেছে। ফলে তাদের প্রতি আমাদের আস্থা আছে। আর ফু-ওয়াং ফুড পরিচালনার জন্য মিনোরি বাংলাদেশকে বেশ কিছু শর্ত দেয়া হয়েছে, তাদের সেগুলো পরিপালন করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
ফের সূচকের পতন
আট মাসে সর্বনিম্ন লেনদেন
পুঁজিবাজার কারসাজি ঠেকাতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ৬ নির্দেশনা
ভারতের পুঁজিবাজারে বড় পতন
৮ দিনের ৭ দিনই পতন

শেয়ার করুন

আসছে আরও তিন ব্রোকারেজ হাউস

আসছে আরও তিন ব্রোকারেজ হাউস

ব্রোকারেজ হাউজে লেনদেন দেখছেন বিনিয়োগকারীরা। ছবি: নিউজবাংলা

গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর নতুন ৫৫টি ব্রোকারেজ হাউস বা ট্রেককে (ট্রেডিং রাইট এনটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট) লাইসেন্স দেয় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এদের একটি সাকিব আল হাসানের মোনার্ক। এটি আগামী সপ্তাহে কার্যক্রম শুরু করবে। বাকিগুলো কবে কার্যক্রম শুরু করবে, সে বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়।

পুঁজিবাজারে শেয়ার কেনাবেচায় ব্যবসার জন্য অনুমোদন দেয়া হয়েছে আরও তিনটি ব্রোকারেজ হাউসকে। এগুলো হচ্ছে এসকিউ ওয়্যার অ্যান্ড ক্যাবল কোম্পানি, ফারিহা নিট টেক্স ও গিবসন সিকিউরিটিজ।

সম্প্রতি নতুন ট্রেক বা ব্রোকারেজ হাউসের অনুমোদনসংক্রান্ত চিঠি ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর পাঠানো হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিএসইসি নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানগুলো যেন দ্রুত বাণিজ্যিক কার্যক্রমে আসতে পারে, এ জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।’

গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর নতুন ৫৫টি ব্রোকারেজ হাউস বা ট্রেককে (ট্রেডিং রাইট এনটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট) লাইসেন্স দেয় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এদের একটি সাকিব আল হাসানের মোনার্ক। এটি আগামী সপ্তাহে কার্যক্রম শুরু করবে। বাকিগুলো কবে কার্যক্রম শুরু করবে, সে বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়।

এর আগের নতুন করে ট্রেক বা ব্রোকারেজ হাউসের সার্টিফিকেট পেতে ৬৬টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করে। এখান থেকে ডিএসই ১৫টি প্রতিষ্ঠানের আবেদন বাতিল করে ৫১টি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দিতে বিএসইসির কাছে পাঠায়। পরে আরও ৪টি প্রতিষ্ঠান যুক্ত করে ১৮ মে ৩০টি, ২১ জুন ২৬টি ও ২৬ আগস্ট ৯টি ব্রোকারেজ হাউসকে অনুমোদন দেয়া হয়।

নতুন স্টেকহোল্ডারদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে লাইসেন্স বিতরণ করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম।

নতুন তিনটি অনুমোদন পাওয়ায় এখন এ তালিকা বেড়ে হয়েছে ৫৮টি। এতে ডিএসইর সদস্যভুক্ত ব্রোকারেজ হাউস বা ট্রেকের সংখ্যা দাঁড়াবে ২৮৩টিতে।

আরও পড়ুন:
ফের সূচকের পতন
আট মাসে সর্বনিম্ন লেনদেন
পুঁজিবাজার কারসাজি ঠেকাতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ৬ নির্দেশনা
ভারতের পুঁজিবাজারে বড় পতন
৮ দিনের ৭ দিনই পতন

শেয়ার করুন