বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটক পেরোলেই মারণফাঁদ

player
বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটক পেরোলেই মারণফাঁদ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বাস,ট্রাকসহ বিভিন্ন বাহনের জটলা লেগে থাকে প্রতিনিয়ত। ছবি: নিউজবাংলা

কাউন্সিলর মো. আব্দুর রহমান মিয়াজী বলেন, ‘ওয়াসার কাজ চলছে, সেটা শেষ হলে আমরা রাস্তায় গতিরোধক বসানোর কাজ শুরু করব। বাসস্ট্যান্ডের অনুমোদন নেই। তবে তাদের সরানো যায়নি।'

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) প্রধান ফটক পার হলেই ব্যস্ত সড়ক। পাশেই অবৈধ বাসস্ট্যান্ড। এ সড়কে অবিরাম ছুটছে যানবাহন। অথচ শিক্ষার্থীদের রাস্তা পারাপারে সেখানে নেই নিরাপদব্যবস্থা।

শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হওয়া শিক্ষার্থীরা দফায় দফায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানালেও সুরাহা হয়নি। সিটি করপোরেশন ও পুলিশ প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে উদাসীন। ফুট ওভারব্রিজ, জেব্রা ক্রসিং অথবা গতিরোধকের ব্যবস্থা না হওয়ায় নাখোশ তারা।

জগন্নাথ ক্যাম্পাসের ঠিক প্রধান ফটকের সামনে মিলেছে বেশ কয়েকটি রাস্তা। পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজার, গুলিস্তান, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালসহ শ্যামবাজার ও ইসলামপুরমুখী গাড়ি চলাচল করে এই পথেই। এখানে বাসসহ বিভিন্ন গাড়ির বেপরোয়া গতির কারণে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।

গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে দিনের অধিকাংশ সময়ই থাকে যানজট। তখন যানবাহনের গতি কমলেও মিনিবাস, রিকশা ও সিএনজি অটোরিকশার জটলায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায় অনেকটাই।

মূল ফটকের পাশেই ভিক্টর ক্লাসিক, সাভার পরিবহন, তানজিল, বিহঙ্গ, আজমেরী গ্লোরী, সদরঘাটের ৭ নম্বর বাসযাত্রী উঠানো-নামানোর কাজ করে। এতে রাস্তা পারাপারে দুর্ভোগ পোহাতে হয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।

শিক্ষার্থী আহনাফ ফাইয়াজ বলেন, ‘সকালে যখন ক্যাম্পাসে আসি, তখন দেখি কারো না কারো গায়ে রিকশার চাকা লাগছেই। প্রধান ফটকের সামনেই চার রাস্তার মোড়। শিক্ষার্থীরা একেকজন একেক দিকে যান। ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকসংলগ্ন সড়কে ন্যূনতম নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই।’

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মালিহা আফরিন বলেন, ‘আবাসিক হল না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই ক্যাম্পাসের আশপাশে থাকেন। ঝুঁকি নিয়েই তাদের প্রতিদিন যাতায়াত করতে হয়। ছাত্রীদের রাস্তা পার হতে বেশি সমস্যা হয়।’

পরিসংখ্যান বিভাগের অমিত পাল বলেন, ‘যাতায়াতে এই রাস্তার বিকল্প নেই। এখানে যেকোনো সময়ই শিক্ষার্থীরা দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন।’

গত ১৮ অক্টোবর বাহাদুর শাহ পরিবহনের একটি মিনিবাস রিকশা আরোহী জবির দুই সহকারী প্রক্টরকে ধাক্কা দেয়। এতে দুজনই রাস্তায় পড়ে যান এবং রিকশাচালক গুরুতর আহত হন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সড়কে গতিরোধক বসাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিটি করপোরেশনকে একাধিক চিঠি দেয়া হয়েছে। কাউন্সিলর আব্দুর রহমান মিয়াজির সঙ্গেও কথা বলেছি। কিন্তু এখনও সমাধান হয়নি।

‘ক্যাম্পাসের সামনে বাসস্ট্যান্ডের অনুমতি নেই। সেটা সরানোর জন্যও বলেছি। আশ্বাস দিলেও কেউ ব্যবস্থা নেন না।’

স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আব্দুর রহমান মিয়াজী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওয়াসার কাজ চলছে, সেটা শেষ হলে আমরা রাস্তায় গতিরোধক বসানোর কাজ শুরু করব।’

বাসস্ট্যান্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বাসস্ট্যান্ডের অনুমোদন নেই। রায়সাহেব বাজার মোড় পর্যন্ত ইউটার্নের অনুমোদন আছে শুধু। বাহাদুর শাহ পরিবহন সরানোর জন্য আমি অনেকবার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তাদের সরানো যায়নি।

‘বাসের ব্যাপারগুলো তো বিআরটিএ দেখে। আর বাসস্ট্যান্ডের বিষয় সিটি করপোরেশনের হলেও আমরা তা সরাতে অনেক চেষ্টা করেও সফলতা পাইনি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের চলাচলের নিরাপত্তায় দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রক্টরকে বিষয়গুলো নিয়ে পুলিশের সঙ্গে আলাপ করতে বলব।’

আরও পড়ুন:
সড়কে সাবরিনার মৃত্যু: বিচার দাবিতে জবিতে মানববন্ধন
বিশ্বসেরা র‌্যাংকিংয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৩ গবেষক

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

দক্ষিণখানে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ফাইল ছবি

বিকেলে নির্মাণাধীন ভবনের পঞ্চম তলায় কাজ করছিলেন আলাউদ্দিন। এসময় অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে যান তিনি।

রাজধানীর দক্ষিণখানে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে আলাউদ্দিন নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার বেলা ৩টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

আলাউদ্দিনের সহকর্মী শহিদুল ইসলাম জানান, বিকেল ৩টার দিকে নির্মাণাধীন ভবনের পঞ্চম তলায় কাজ করছিলেন আলাউদ্দিন। এসময় অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে যান তিনি।

তিনি জানান, আহত আলাউদ্দিনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসার পর চিকিৎসক পৌনে ৬টায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আলাউদ্দিন নওগাঁ জেলার সাপাহার থানার কমল ডাঙ্গা গ্রামের মাহবুব হোসেনের ছেলে।

ঢামেক পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সড়কে সাবরিনার মৃত্যু: বিচার দাবিতে জবিতে মানববন্ধন
বিশ্বসেরা র‌্যাংকিংয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৩ গবেষক

শেয়ার করুন

কলাবাগানে ১৬ একর জমি অবমুক্ত হচ্ছে ৭০ বছর পর

কলাবাগানে ১৬ একর জমি অবমুক্ত হচ্ছে ৭০ বছর পর

বুধবার সচিবালয়ে আন্তমন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী। ছবি: নিউজবাংলা

ভূমি মন্ত্রণালয় জানায়, কলাবাগানে অধিগ্রহণ করা ও অধিগ্রহণের জন্য নির্দেশিত কিন্তু ব্যক্তির নামে রেকর্ডকৃত কিংবা দখলে থাকা প্রায় ১৬ একর জমি পূর্বতন মালিকের অনুকূলে শিগগির অবমুক্ত করা হবে।

রাজধানীর কলাবাগান এলাকায় দীর্ঘ ৭০ বছর পর অবমুক্ত হচ্ছে প্রায় ১৬ একর জমি। ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ওই জমি অবমুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন।

ধানমন্ডি মৌজায় অধিগ্রহণ করা এই জমির জটিলতা নিরসনে বুধবার সচিবালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের এক আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এ নির্দেশ দেয়া হয়।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার জনগণের সরকার। জনগণের ন্যায়সংগত অধিকার বা স্বার্থ সংরক্ষণ করা এই সরকারের অঙ্গীকার। জনস্বার্থ বিবেচনায় ইতিপূর্বে খাসমহালসংক্রান্ত জটিলতা, যা দীর্ঘদিন ধরে অনিষ্পন্ন ছিল তা আজ নিষ্পন্ন করা হয়েছে।’

অবমুক্ত প্রক্রিয়া যেন স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয় এবং টাউট-দালালরা যেন কোনো ধরনের হয়রানি করতে না পারে, সেদিকে দৃষ্টি রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও নির্দেশ দেন তিনি।

ভূমি মন্ত্রণালয় জানায়, কলাবাগানে অধিগ্রহণ করা ও অধিগ্রহণের জন্য নির্দেশিত কিন্তু ব্যক্তির নামে রেকর্ডকৃত কিংবা দখলে থাকা প্রায় ১৬ একর জমি পূর্বতন মালিকের অনুকূলে শিগগির অবমুক্ত করা হবে।

আইনি জটিলতা থাকায় এসব জমির মালিক কিংবা তাদের ওয়ারিশগণ ৭০ বছর ধরে জমির খাজনা খারিজ বা হস্তান্তর করতে পারছেন না। এ কারণে তারা তাদের ভূসম্পদের আনুষ্ঠানিক কিংবা অর্থনৈতিকভাবে ফলপ্রসূ ব্যবহারও করতে পারছিলেন না। অবমুক্তির ফলে তাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হবে বলে মনে করছে মন্ত্রণালয়।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসভবন নির্মাণের জন্য ১৯৪৮-৪৯ সালে গণপূর্ত বিভাগের (তৎকালীন সিঅ্যান্ডবি) অনুকূলে রাজধানীর ধানমন্ডিসহ আটটি মৌজায় মোট ৪৭২ দশমিক ৬৪ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৫৩ সালে গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে অধিগ্রহণ চূড়ান্ত হয় এবং জমির দখল হস্তান্তর করা হয়।

অধিগ্রহণ পাওয়া সংস্থা মৌজার সিএস ৬৭ নম্বর দাগের ১৬ দশমিক ৮৭ একর জমির মধ্যে ১৬ দশমিক শূন্য ৬ একর জমিতে কখনও দখলে যায়নি। এর ফলে এতদিন জমির পূর্ব মালিক ও তাদের ওয়ারিশরা এই জমিতে বহুতল আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের মাধ্যমে ভোগদখল করে আসছেন। ১৯৬৮ সালে সরকার ভূমি মালিকদের উচ্ছেদ নোটিশ করলে তারা এর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের রায় পান।

ভূমি মন্ত্রণালয় জানায়, ১৪ দশমিক ৪৬ একর জমি সিএস, এসএ, আরএস ও মহানগর জরিপে ব্যক্তির নামে এবং ২ দশমিক ৮৬৫৪ একর জমি সিটি জরিপে গণপূর্ত বিভাগের নামে রেকর্ড হয়। তবে এই জমির কিছু অংশ ব্যক্তির দখলে এবং কিছু অংশ গণপূর্ত বিভাগের দখলে আছে। এ জন্য ৭০ বছর ধরেই জমির মালিকরা এই জমির খাজনা খারিজ বা হস্তান্তর করতে পারছেন না।

জটিলতা নিরসনে ২০১৮ সালে স্থানীয় সংসদ সদস্যের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন করেন ভূমির আগের মালিকরা। প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসনের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি মন্ত্রিপরিষদে উত্থাপন হয়। মন্ত্রিপরিষদ জটিলতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেয়।

নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১ মার্চ ভূমি সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান চার সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেন। কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বুধবারের আন্তমন্ত্রণালয় সভায় ভূমিমন্ত্রী ব্যক্তির নামে রেকর্ডকৃত ও দখলে থাকা ১৪ দশমিক ৪৬ একর জমি আগের মালিকের অনুকূলে অবমুক্ত করার সিদ্ধান্ত দেন। এ ছাড়া সিটি জরিপে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নামে রেকর্ডকৃত ২ দশমিক ৮৬৫৪ একর জমির মধ্যে গণপূর্ত বিভাগের দখলে থাকা অংশ ব্যতীত অবশিষ্ট জমি অবমুক্ত করারও নির্দেশ দেন ভূমিমন্ত্রী।

আরও পড়ুন:
সড়কে সাবরিনার মৃত্যু: বিচার দাবিতে জবিতে মানববন্ধন
বিশ্বসেরা র‌্যাংকিংয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৩ গবেষক

শেয়ার করুন

প্রশ্নফাঁস চক্রের হোতা সাবেক সেনাসদস্য, জড়িত শিক্ষক-জনপ্রতিনিধি

প্রশ্নফাঁস চক্রের হোতা সাবেক সেনাসদস্য, জড়িত শিক্ষক-জনপ্রতিনিধি

প্রশ্ন ফাঁসের হোতা সাবেক সেনাসদস্য নোমান সিদ্দীকিসহ গ্রেপ্তার ১০ জনকে দুই দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান জোনের উপপুলিশ কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, ‘প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনার মাস্টারমাইন্ড সাবেক সেনা ওয়ারেন্ট অফিসার নোমান সিদ্দীকি। তিনি একসময় র‍্যাবে কর্মরত ছিলেন। ২০১৪ সালে তিনি স্বেচ্ছায় অবসর নেয়ার পর প্রশ্ন ফাঁসে জড়িয়ে পড়েন। সেখান থেকে তিনি মোটা অঙ্কের টাকা উপার্জন করেছেন।’

প্রতিরক্ষা মহাহিসাব নিরীক্ষকের কার্যালয়ের আওতাধীন ডিফেন্স ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্টে অডিটর পদে নিয়োগের প্রশ্ন ফাঁসের হোতা সাবেক সেনাসদস্য নোমান সিদ্দীকি। প্রশ্ন ফাঁস, সমাধান, উত্তর বিতরণ পুরো কাজটি নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি।

আট বছর ধরে এই সেনাসদস্য বিভিন্ন সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত ছিলেন। তার চক্রে রয়েছেন শিক্ষক-জনপ্রতিনিধিসহ নানা পেশার মানুষ। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় করা দুই মামলার তদন্তে এমনই সব তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান জোনের উপপুলিশ কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, ‘প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনার মাস্টারমাইন্ড সাবেক সেনা ওয়ারেন্ট অফিসার নোমান সিদ্দীকি। তিনি একসময় র‍্যাবে কর্মরত ছিলেন। ২০১৪ সালে তিনি স্বেচ্ছায় অবসর নেয়ার পর প্রশ্ন ফাঁসে জড়িয়ে পড়েন। সেখান থেকে তিনি মোটা অঙ্কের টাকা উপার্জন করেছেন।’

একই সঙ্গে তার আত্মীয়স্বজনেরও চাকরির ব্যবস্থা করেছেন ফাঁস করা প্রশ্ন দিয়ে। সম্প্রতি তিনি তার চক্রে আরও একাধিক সদস্যকে যুক্ত করেন। এর মধ্যে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষকও রয়েছে। তাকেসহ আরও একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।

তিনি জানান, আট বছরে নোমান অনেক ব্যক্তিকে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন দিয়ে চাকরির ব্যবস্থা করেছেন। চাকরি পেয়েছেন এমন ব্যক্তিদের তালিকা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া নোমান আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য দিচ্ছেন। তদন্তের স্বার্থে এখনই তাদের নাম প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। তার দেয়া তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গ্রেপ্তার ১০ জনকে দুই দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সোমবার হওয়া দুই মামলায় আবারও রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

জানা গেছে, এ ঘটনায় পলাতক এনটিআরসিএতে শিক্ষক হিসেবে নিবন্ধন পাওয়া ফারুকের সঙ্গে পূর্বপরিচয় ছিল মাহবুবা নাসরীন রূপার। তিনি বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান। একই সঙ্গে ইডেন কলেজের সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রী। বিভিন্ন সময়ে রাজনীতিতে সময় পার করে দেয়ার কারণে তার সরকারি চাকরির বয়স শেষ হয়ে যাচ্ছিল। তদবির-বাণিজ্য করেও কামিয়েছেন মোটা অঙ্কের টাকা। সম্প্রতি তিনি সরকারি চাকরির জন্য বিভিন্ন স্থানে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন।

একপর্যায়ে ফারুকের মাধ্যমে পরিচয় নোমান সিদ্দীকির সঙ্গে। সেই সূত্র ধরে আরও কিছু পরীক্ষার্থী সংগ্রহ করেন রূপা। ওই সব পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে নেয়া হয় ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা। সর্বমোট ১৮ পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে নেয়া টাকা বিকাশ ও রকেটে লেনদেনের বিষয়টি অস্বাভাবিক হওয়ায় নজরে আসে গোয়েন্দাদের। এরপর তারা নজরদারি শুরু করলে প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি বেরিয়ে আসে। এরপর ২১ জানুয়ারি কাফরুল থানার সেনপাড়া পর্বতার ৪৯৮/৪ ভবনের এ/২ ফ্ল্যাটে অভিযান চালানো হয়।

এ সময় সেখান থেকে নোমান সিদ্দীকিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর পর তার বাসা ও দেহ তল্লাশি করে চারটি মোবাইল ফোন সেট ও একটি ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার করা হয়। পরে সেখান থেকে ছয় পাতা অডিটর নিয়োগ পরীক্ষার ২০২২-এর পার্ট-১-এর এমসিকিউ প্রশ্নপত্রের ফটোকপি পাওয়া যায়। একই সঙ্গে একই পরীক্ষার আট প্রার্থীর নামের তালিকা উদ্ধার করা হয়। ওই প্রার্থীরা হচ্ছেন ফারদিন ইসলাম, লুৎফর রহমান, আমিনুল ইসলাম, সেলিম মাতবর, আহাদ খান, পারুল বালা, আকলিমা খাতুন ও মোরশেদ।

একই সময় গ্রেপ্তার মাহমুদুল হাসান আজাদের দেহ তল্লাশি করে মফিজুর রহমান, পল্লব কুমার, হাসিবুল হাসান, সুরুজ আহম্মেদ নামে আরও চারজনের প্রবেশপত্র ও হাতে লেখা উত্তরপত্র উদ্ধার করা হয়। একই অভিযানে নাইমুর রহমান তানজীর ও শহিদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করলে তাদের কাছ থেকেও ফাঁস হওয়া প্রশ্নের উত্তরপত্র ও বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধার করা হয়।

এ সময় তাদের কাছ থেকে একাধিক বিকাশ ও রকেটের নম্বর উদ্ধার করা হয়। সেখানে লাখ লাখ টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে গুলশান জোনের এডিসি রেজাউল হক জানান, নোমান পুরো কাজটি সমন্বয় করতেন। আজাদ অডিটর হিসেবে চাকরি করতেন। তাকে বছরখানেক আগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসে তার সম্পৃক্ততা দীর্ঘদিনের। তানজীর নোমানের ভাগ্নে। আর গ্রেপ্তার শহীদুল্লাহ ছাত্র।

রেজাউল হক বলেন, ‘আজাদ অনেক বাকপটু। তিনি এমনভাবে চাকরিপ্রত্যাশী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে ডিল করতেন, যেন তিনিই চাকরি দিচ্ছেন। আজাদের মূল যোগাযোগটা ছিল নোমানের সঙ্গে।’

চক্রের প্রধান আসামি নোমানের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি থানার চরআলগিয়া গ্রামে। তার বাবার নাম মো. আবু তাহের মিয়া। প্রশ্নফাঁসের টাকায় তিনি ঢাকায় ও তার গ্রামের বাড়িতে অঢেল সম্পত্তির মালিক বনে গেছেন। এ বিষয়গুলোও তদন্তে তুলে ধরা হবে। এ ঘটনায় তার ছাপাখানার কেউ জড়িত আছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

গ্রেপ্তারদের কাছ থেকেও কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

২১ জানুয়ারি নোমান সিদ্দীকির বাসায় অভিযান শেষে পুলিশ বিজি প্রেস স্কুলে অভিযান চালায়। সেখান থেকে পরীক্ষারত অবস্থায় ভাইস চেয়ারম্যান রূপাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের মেসেঞ্জার থেকে হিরণ খান নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথোপকথনের প্রমাণ পাওয়া যায়। সেখানে প্রশ্নফাঁস নিয়ে তাদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা হয়। এমনকি ফাঁস হওয়া প্রশ্নে কিছু উত্তরও পাওয়া যায়।

এরপর পুলিশ রূপার দেয়া তথ্যমতে রমনা থানার আওতাধীন ৫৫/১ নিউ শাহীন হোটেলের ২৪ নম্বর রুমে অভিযান চালায়। সেখান থেকে মো. আল আমীন আজাদ রনি, মো. রাকিবুল হাসান, মো. হাসিবুল হাসান ও নাহিদ হাসানকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে অত্যাধুনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়।

ডিভাইসের মাধ্যমে পরীক্ষা কেন্দ্রে অবস্থান করা পরীক্ষার্থীদের কাছে ফাঁস হওয়া প্রশ্নের সমাধান পাঠানো হচ্ছিল। একই সঙ্গে তাদের কাছ থেকেও একাধিক বিকাশ ও রকেটের সিম উদ্ধার করা হয়। ওই সব সিম দিয়েও মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়।

গুলশান জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার খলিলুর রহমান জানান, রমনার হোটেল থেকে গ্রেপ্তারদের নামে রমনা থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। ওই মামলায় আসামি পাঁচজন। এ ছাড়া পলাতক হিসেবে আরও একাধিক ব্যক্তির নামে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এসব বিষয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আসা করা হচ্ছে, এ মামলায় প্রশ্নফাঁসের রাঘববোয়ালদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, ২১ জানুয়ারি শুক্রবার দুপুর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত রাজধানীর মিরপুর, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ও রমনার বিভিন্ন এলাকায় আলাদা দুটি অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির গোয়েন্দা গুলশান বিভাগ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছয়টি ইয়ার ডিভাইস, ছয়টি মাস্টার কার্ড, মোবাইল সিম হোল্ডার, পাঁচটি ব্যাংকের চেক, সাতটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, ১০টি স্মার্টফোন, ছয়টি ফিচার মোবাইল ফোন, ১৮টি প্রবেশপত্র ও চলমান পরীক্ষার ফাঁস হওয়া তিন সেট প্রশ্নপত্র জব্দ করা হয়।

আরও পড়ুন:
সড়কে সাবরিনার মৃত্যু: বিচার দাবিতে জবিতে মানববন্ধন
বিশ্বসেরা র‌্যাংকিংয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৩ গবেষক

শেয়ার করুন

যে কারণে স্থগিত ‘বিবেকবান নাগরিক সমাজের’ লংমার্চ

যে কারণে স্থগিত ‘বিবেকবান নাগরিক সমাজের’ লংমার্চ

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিবেকবান নাগরিক সমাজের সমাবেশ। ছবি: নিউজবাংলা

বিবেকবান নাগরিক সমাজের অন্যতম সংগঠক ও রাষ্ট্রচিন্তার সমন্বয়ক দিদারুল আলম ভূঁইয়া বলেন, ‘আমাদের সর্বজনশ্রদ্ধেয় অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালের কমিটমেন্টে শিক্ষার্থীরা অনশন ভাঙতে সম্মত হওয়ায় আমাদের কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। যদি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয় তাহলে আমরা অভিভাবকরা আবার মাঠে নামব।’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ ও শিক্ষার্থীদের দাবির সমর্থনে ঢাকা থেকে সিলেট অভিমুখে লংমার্চের ডাক দিয়েও তা স্থগিত করেছে ‘বিবেকবান নাগরিক সমাজ’। এর পরিবর্তে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়েছে।

বিবেকবান নাগরিক সমাজের সংগঠকরা বলছেন, শিক্ষার্থীরা অনশন ভেঙে ফেলায় লংমার্চের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা হয়েছে। আপাতত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন তারা।

পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হন বিবেকবান নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। এর ১০ মিনিট আগেই শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে খবর আসে, অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালের আশ্বাসে অনশন ভেঙেছেন শিক্ষার্থীরা।

এরপর তাৎক্ষণিক লংমার্চ স্থগিত করা হয় বলে জানান বিবেকবান নাগরিক সমাজের মুখপাত্র এহসান মাহমুদ।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘ঢাকা থেকে সিলেটে লংমার্চের জন্য আমরা প্রায় ৩৫ জনের মতো প্রস্তুত ছিলাম। আমাদের লক্ষ্য ছিল ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্ধার করা এবং উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করা। যখন দেখলাম ওটা আর হবে না, তখন প্রোগ্রাম একটু সংকোচন করে এখানেই একটি প্রতিবাদ সমাবেশ করি।’

যে দুই দাবিতে লংমার্চের ঘোষণা দেয়া হয়েছিল, তা না মানা সত্ত্বেও কর্মসূচি স্থগিত কেন, এমন প্রশ্নে এহসান বলেন, ‘জাফর ইকবাল স্যার বলেছেন, তার সঙ্গে আমাদের প্রতিনিধিদের কথা হয়েছে যে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে আশ্বাস দেয়া হয়েছে দাবিগুলো পর্যায়ক্রমে মেনে নেয়া হবে।’

কর্মসূচির অন্যতম আয়োজক ও রাষ্ট্রচিন্তার সমন্বয়ক দিদারুল আলম ভূঁইয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যেহেতু সিলেটে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনশন ভেঙেছেন, এ জন্য আমরা সেখানকার পরিস্থিতি কয়েক দিন পর্যবেক্ষণ করতে চাই। এরপর আমরা আরও কর্মসূচি দিতে পারি।

‘আমাদের সর্বজনশ্রদ্ধেয় অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালের কমিটমেন্টে শিক্ষার্থীরা অনশন ভাঙতে সম্মত হওয়ায় আমাদের কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। যদি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয় তাহলে আমরা অভিভাবকরা আবার মাঠে নামব।’

সমাবেশে কবি ও লেখক রাহুল রাহা বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের বাহিনীরা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে আসছে। রাষ্ট্রের টাকায় এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চলে। আমাদের টাকায় জনগণের টাকায় ভিসি বেতন পান। আমাদের সন্তানদের সেখানে পাঠানো হয় আপনি তাদের নিরাপত্তা দেবেন, তাদের শিক্ষা দেবেন।

‘আপনি প্রশাসনের লোক এনে তাদের ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করবেন পেটোয়া বাহিনী দিয়ে, ছাত্রলীগ লেলিয়ে দিয়ে আপনি আপনার গদি রক্ষা করবেন এই পরিস্থিতির বিষয়ে আমাদেরকে জবাব দিতে হবে। আমরা সামনের দিনগুলোতে ছেড়ে দেব না।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনি কেন আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এভাবে ধ্বংস করছেন। কেন আজকে আমাদের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এমন পরিস্থিতি? কেন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অপদার্থদের ভিসি হিসেবে নিয়োগ দিচ্ছেন?’

সমাবেশে বেশ কিছু দাবি জানিয়েছে বিবেকবান নাগরিক সমাজ। এর মধ্যে সাড়ে ৩০০ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার করা, কারাগারে থাকা সাবেক শিক্ষার্থীদের মুক্তি দেয়া, উপাচার্যকে অপসারণ করা, ক্যাম্পাস নিরাপদ করা।

দাবিগুলো না মানা হলে পরবর্তী কর্মসূচি দেয়া হবে বলে সংগঠনটি থেকে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সড়কে সাবরিনার মৃত্যু: বিচার দাবিতে জবিতে মানববন্ধন
বিশ্বসেরা র‌্যাংকিংয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৩ গবেষক

শেয়ার করুন

হ্যামারের ভেতর স্বর্ণের ৪৪ বার

হ্যামারের ভেতর স্বর্ণের ৪৪ বার

হ্যামারের ভেতর থেকে বের করা স্বর্ণের বার। ছবি: সংগৃহীত

কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসা যাত্রীর ব্যাগেজে থাকা দুটি হ্যামারের দুই প্রান্তের লোহার অংশটুকু ফাঁকা করতেই বের হয়ে আসে স্বর্ণের বারগুলো। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনায় বারগুলো জব্দ করা হয়েছে। ওই যাত্রীর প্যান্টের পকেট থেকেও পাঁচটি স্বর্ণের চুড়ি পাওয়া যায়।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসা এক যাত্রীর সঙ্গে করে নিয়ে আসা দুটি হ্যামার ভেঙে ৪৪টি স্বর্ণের বার পেয়েছেন ঢাকা কাস্টম হাউসের গোয়েন্দারা।

কাস্টমস গোয়েন্দারা জানান, মঙ্গলবার রাত ৯টা ১০ মিনিটে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে জি৯৫১০ ফ্লাইটে করে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান আতাউর রহমান নামে এক যাত্রী। তার বাড়ি হবিগঞ্জে।

কর্মকর্তারা জানান, ওই যাত্রীর ব্যাগেজে থাকা দুটি হ্যামারের দুই প্রান্তের লোহার অংশটুকু ফাঁকা করতেই বের হয়ে আসে স্বর্ণের বারগুলো। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনায় বারগুলো জব্দ করা হয়েছে। আতাউরের প্যান্টের পকেট থেকেও পাঁচটি স্বর্ণের চুড়ি পাওয়া যায়।

ঢাকা কাস্টম হাউসের সার্ভিল্যান্স অফিসার প্রিভেন্টিভ মো. তরিকুল জানান, ইমিগ্রেশন শেষ করে গ্রিন চ্যানেল পেরোনোর সময় আতাউরের সঙ্গে থাকা ব্যাগেজগুলো স্ক্যানিং করা হয়। এ সময় যাত্রীর আনা কার্টনজাতীয় ব্যাগের ভেতর দুটি বড় হ্যামারের মধ্যে স্বর্ণের অস্তিত্বের ইমেজ পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধির উপস্থিতিতে যাত্রীর ব্যাগেজে থাকা হ্যামার কেটে ৪৪টি গোল্ড বার এবং যাত্রীর প্যান্টের ভেতর থেকেও কিছু স্বর্ণালংকার পাওয়া যায়।

কাস্টসম কর্মকর্তারা জানান, সব মিলিয়ে মোট স্বর্ণের ওজন দাঁড়ায় ৫ দশমিক ১৮০ কেজি। জব্দকৃত স্বর্ণের আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

করবহির্ভূত স্বর্ণ আনার কারণে আতাউরকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে কাস্টমস আইন ও ফোজদারি মামলার প্রস্তুতি চলছে।

আরও পড়ুন:
সড়কে সাবরিনার মৃত্যু: বিচার দাবিতে জবিতে মানববন্ধন
বিশ্বসেরা র‌্যাংকিংয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৩ গবেষক

শেয়ার করুন

আজমেরী বাস চালাচ্ছিলেন হেলপার, ছিলেন মাদকাসক্ত: র‍্যাব

আজমেরী বাস চালাচ্ছিলেন হেলপার, ছিলেন মাদকাসক্ত: র‍্যাব

র‌্যাব-৩-এর একটি দল মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর পল্টন ও মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর থেকে আজমেরী গ্লোরী পরিবহনের দুই বাসের চালক মো. মনির হোসেন ও ইমরানকে গ্রেপ্তার করে।

রাজধানীর মগবাজারে দুই বাসের রেষারেষির মাঝে চাপা পড়ে নিহতের ঘটনায় আজমেরী গ্লোরী পরিবহনের দুই বাসের চালককে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

তারা প্রতিযোগিতা করতে গিয়েই রাকিবুল হাসান নামে ১৪ বছর বয়সী ওই কিশোরের মৃত্যু হয়।

দুই বাসের একটি চালাচ্ছিলেন মো. ইমরান। তার বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকলেও অন্য বাসে চালাচ্ছিলেন চালকের সহকারী। তার বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বুধবার দুপুরে এসব তথ্য জানান লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি জানান, ২০ জানুয়ারি মগবাজার মোড়ে বিকেল ৫টার দিকে আজমেরী গ্লোরী পরিবহনের দুটি বাসের মাঝে চাপা পড়ে আহত হন রাকিবুল হাসান। ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

দুর্ঘটনার পর চালকরা বাস রেখে পালিয়ে যান। ভুক্তভোগী মাস্ক বিক্রি করছিল। তার মাস্ক বিক্রির আয়ে পরিবারটি চলে।

নিহতের পরিবার সড়ক ও পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৯৮ ও ১০৫ ধারায় সেদিনই রমনা থানায় মামলা করে। র‌্যাব জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে।

র‌্যাব-৩-এর একটি দল মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর পল্টন ও মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর থেকে আজমেরী গ্লোরী পরিবহনের দুই বাসের চালক মো. মনির হোসেন ও ইমরানকে গ্রেপ্তার করে।

মনিরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে র‍্যাব জানায়, তিনি পাঁচ বছর মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত ছিলেন। তিন মাস আগে তিনি দেশে আসেন। ভোলায় বাড়ি মনির প্রায় এক মাস আগে আজমেরী গ্লোরী গাড়ির চালকের সঙ্গে দৈনিক ৪০০-৫০০ টাকা মজুরিতে সহকারীর কাজ শুরু করেন। তিনি মাঝেমধ্যে বাসটি নিজেও চালাতেন।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজনই জানান, মগবাজার মোড়ের সিগন্যাল ছেড়ে দিলে পরের স্টপেজে আগে যেতে তারা একে অন্যের চেয়ে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালাতে শুরু করে। তখন দুই গাড়ির মাঝে পড়ে রাকিবুল মারা যায়।

চালক ইমরান জানান, তিনি তিন বছর আগে বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স পান।

বাসটি তিনি নিজে দৈনিক ভাড়ায় নিয়ে চালাতেন।

কমান্ডার মঈন বলেন, ‘গ্রেপ্তার ইমরান মাদকাসক্ত। তার বিরুদ্ধে মাদকাসক্তির কারণে ২০২১ সালে কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে।’

তাদের দুজনকে থানায় হস্তান্তর করা হবে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
সড়কে সাবরিনার মৃত্যু: বিচার দাবিতে জবিতে মানববন্ধন
বিশ্বসেরা র‌্যাংকিংয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৩ গবেষক

শেয়ার করুন

ডিএনসিসি কাউন্সিলের নামে মামলা: তদন্ত শেষের নির্দেশ

ডিএনসিসি কাউন্সিলের নামে মামলা: তদন্ত শেষের নির্দেশ

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমিন উদ্দিন মানিক বলেন, ‘আসামিপক্ষের আইনজীবী আদালতে বলেন, তারা এ জামিন আবেদনটি আর চালাতে চান না। এরপর আদালত নন প্রসিকিউশন করে তদন্ত যত দ্রুত সম্ভব বা ৬ মাসের মধ্যে শেষ করতে দুদককে নির্দেশ দেয়।’

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজীবের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলার তদন্ত ছয় মাসের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার এ আদেশ দেয়।

আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শিউলি খানম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শাহীন আহমেদ।

পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমিন উদ্দিন মানিক বলেন, ‘আসামিপক্ষের আইনজীবী আদালতে বলেন, তারা এ জামিন আবেদনটি আর চালাতে চান না। এরপর আদালত নন প্রসিকিউশন করে তদন্ত যত দ্রুত সম্ভব বা ৬ মাসের মধ্যে শেষ করতে দুদককে নির্দেশ দেয়।’

শুদ্ধি অভিযানের সময় ২০১৯ সালের ১৯ অক্টোবর রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার ‘সুলতান’ খ্যাত ডিএনসিসির ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৎকালীন কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজীবকে আটক করে র‌্যাব।

পরে একই বছরের ৬ নভেম্বর দুদকের সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী বাদী হয়ে ২৬ কোটি ১৬ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে রাজীবের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

এজাহারে বলা হয়, কাউন্সিলর রাজীবের নামে স্থাবর-অস্থাবর মিলে ২৬ কোটি ১৬ লাখ ৩৫ হাজার ৯০৫ টাকার সম্পদ পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, কাউন্সিলর থাকাকালে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে ওই পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেছেন। এসব সম্পদের বৈধ উৎস খুঁজে পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন:
সড়কে সাবরিনার মৃত্যু: বিচার দাবিতে জবিতে মানববন্ধন
বিশ্বসেরা র‌্যাংকিংয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৩ গবেষক

শেয়ার করুন