সিলেট আওয়ামী লীগে কামরানের অভাব ঘোচাবে কে

player
সিলেট আওয়ামী লীগে কামরানের অভাব ঘোচাবে কে

সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন এখনও বছর দেড়েক বাকি। এখন থেকেই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন (বাঁ থেকৈ) সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন, সহ-সভাপতি আসাদ উদ্দিন আহমদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজাদুর রহমান আজাদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক আরমান আহমদ শিপুলু। ছবি: সংগৃহীত

সিলেট সিটির আগের সবকটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে কামরান ছিলেন অনেকটা ‘অটো চয়েস’। এবার কামরান নেই। ফলে আওয়ামী লীগকে খুঁজতে হচ্ছে নতুন প্রার্থী। তুমুল জনপ্রিয় কামরানের উৎকৃষ্ট বিকল্প কে হতে পারেন তা নিয়ে দলীয় ফোরামেও চলছে আলোচনা।

২০০৮ সাল। সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায়। বদরউদ্দিন আহমদ কামরান তখন কারাবন্দি। দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। তবু তখন সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিপুল ভোটে মেয়র নির্বাচিত হন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের তৎকালীন এই সভাপতি।

এর আগের নির্বাচনগুলোতেও কামরানের এই জনপ্রিয়তার প্রমাণ মিলেছে। ১৯৭২ সালে ছাত্রাবস্থায়ই নির্বাচিত হয়েছিলেন জনপ্রতিনিধি।

কেন কামরান এত জনপ্রিয়? ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্ন করা হয়েছিল সেবার কামরানের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব প্রয়াত সাংবাদিক মহিউদ্দিন শীরুকে।

জবাবে শীরু বলেছিলেন, ‘কামরানকে কেউ আগে সালাম দিতে পারে না। তিনিই সবাইকে আগে সালাম দেন। সিলেটের লোকজন রাস্তাঘাটের উন্নয়নের চাইতে ভালো ব্যবহার ও সম্মান চান। কামরান সবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেন এবং সবাইকে সম্মান দেখান। এ কারণে সিলেটবাসীও তাকে পছন্দ করেন।’

এই ‘ভালো ব্যবহার’ দিয়েই টানা প্রায় ১৭ বছর সিলেট সিটি করপোরেশন, পৌরসভার মেয়র ও চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন কামরান।

‘এই শহরের প্রিয় নাম, বদরউদ্দিন আহমদ কামরান’, সমর্থকরা এমন স্লোগানও দিতেন। যদিও ২০১৩ ও ২০১৮ সালে সবশেষ দুটি সিটি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে হারতে হয় কামরানকে।

তবে ভোটের মারপ্যাঁচে হেরে গেলেও কামরান যে নগরবাসীর কাছে ‘প্রিয় নাম’ হয়েই ছিলেন তা আরেকবার বোঝা যায় তার মৃত্যুর পর।

গত বছরের ১৫ জুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান কামরান। তার মৃত্যু খবর দলমত-নির্বিশেষে সিলেটের সব মানুষকেই শোকাহত করে। করোনার ঝুঁকি উপেক্ষা করে তার জানাজায় নামে মানুষের ঢল।

কামরানের মৃত্যুর দেড় বছর পেরিয়েছে। সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের বাকি বছর দেড়েক। তবে এরই মধ্যে সিলেটে শুরু হয়েছে নির্বাচনি আলোচনা। বিশেষত সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগে কামরানের বিকল্প কে হতে পারেন এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। দলটির একাধিক নেতাই সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হতে আগ্রহী।

সিলেট সিটির আগের সবকটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে কামরান ছিলেন অনেকটা ‘অটো চয়েস’। এবার কামরান নেই। ফলে আওয়ামী লীগকে খুঁজতে হচ্ছে নতুন প্রার্থী। তুমুল জনপ্রিয় কামরানের উৎকৃষ্ট বিকল্প কে হতে পারেন তা নিয়ে দলীয় ফোরামেও চলছে আলোচনা।

তবে এখন পর্যন্ত কামরানের কোনো বিকল্প তৈরি হয়নি বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম নাদেল।

ক্ষমতাসীন দলে সিলেটের এই নেতা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কামরান ভাইয়ের মাঠ পর্যায়ে যে গ্রহণযোগ্যতা ছিল, তা অন্য কারো নেই। তার কোনো বিকল্প নেই। তিনি দীর্ঘদিন জনপ্রিতিনিধি থেকে এ গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছেন, অন্য কারও পক্ষে রাতারাতি এটা করা সম্ভবও নয়।’

কামরানের বিকল্প নেই, তবু সিটি নির্বাচনের জন্য যোগ্য প্রার্থী খুঁজছে আওয়ামী লীগ। এমনটাই জানালেন নাদেল।

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রার্থী সংকট আছে। তবে দলীয় হাইকমান্ডে এ ব্যাপারে চিন্তাভাবনা চলছে। বিভিন্ন জরিপে যিনি এগিয়ে আছেন তাকেই দল থেকে প্রার্থিতা দেয়া হবে।’

সবশেষ ২০১৮ সালের ৩০ জুলাই সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সে নির্বাচনে কামরানকে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

দলীয় কোন্দল থাকলেও এবারও বিএনপি থেকে মেয়র পদে আরিফুল হক চৌধুরীর মনোনয়ন পাওয়া অনেকটাই নিশ্চিত বলে ধরা হচ্ছে। নগরে তার জনপ্রিয়তাও রয়েছে। ফলে আরিফের যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী খুঁজতে হচ্ছে আওয়ামী লীগকে।

নির্বাচনের এখনও বছর দেড়েক বাকি থাকলেও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে এখনই মাঠে নেমে পড়েছেন দলটির অনেক নেতা। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে নিজেদের মাঠ প্রস্তুত করার কাজ করে যাচ্ছেন তারা।

আগামী সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে ইতোমধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ এবং বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের ছেলে ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. আরমান আহমদ শিপলু।

এদের মধ্যে শিপলু ছাড়া বাকি তিনজনই গত সিটি নির্বাচনেও দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন।

সিলেট আওয়ামী লীগে কামরানের অভাব ঘোচাবে কে
প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা এবং সিলেটের সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান

দলীয় সূত্র জানায়, ২০১৮ সালে মেয়র প্রার্থী হিসেবে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কাছে পাঁচ নেতার নাম প্রস্তাব করে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ। তারা ছিলেন- মহানগরের তৎকালীন সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরান, সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল আলওয়ার আলাওর, অধ্যাপক জাকির হোসেন ও তৎকালীন শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আজাদুর রহমান আজাদ। তবে দল থেকে বদরউদ্দিন আহমদ কামরানকে মনোনয়ন দেয়া হয়।

মেয়র পদে প্রার্থী হতে আগ্রহের কথা জানিয়ে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন বলেন, ‘গত নির্বাচনের সময় আমি মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক ছিলাম। তখনও দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলাম। এবার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বৃহত্তর পরিসরে কাজ করছি। প্রধানমন্ত্রী চাইলে আমি জনগণের সেবা করতে চাই।’

এই নির্বাচনে কামরানের অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সংগঠন নেতা বানায়। কামরান ভাইকে সংগঠনই তৈরি করেছিল। দায়িত্ব পেলে আমিও এই সুযোগ কাজে লাগাতে চাই।’

বর্তমান মেয়রের বিরুদ্ধে জনবিরোধী কাজের অভিযোগ এনে জাকির বলেন, ‘তিনি জনবিরোধী কাজ করছেন। পানির বিল বাড়িয়ে দিয়েছেন, গাছ কাটছেন। প্রকল্পবাজি করছেন। জনগণ এখন পরিবর্তন চায়। জনবান্ধব, পরিবেশবান্ধব মেয়র চায়।’

গত নির্বাচনেও মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সহসভাপতি আসাদ উদ্দিন আহমদ। এবারও মেয়র পদে লড়তে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

আসাদ উদ্দিন বলেন, ‘এবারও দলের মনোনয়ন চাইব। আমি সর্বাত্মকভাবে প্রস্তুত আছি। দলের মূল্যায়ন করলে আমি সফল হতে পারব।’

নগরের সব শ্রেণির মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক আছে জানিয়ে আসাদ বলেন, ‘নগরের বর্ধিত অংশের সঙ্গেও আমার ভালো যোগাযোগ আছে। নিয়মিতই আমি এসব এলাকায় যাতায়াত করছি।’

আগামী নির্বাচনে কামরানের অভাব সম্পর্কে আসাদ বলেন, ‘কামরান আমাদের প্রবীণ নেতা, জনপ্রিয় নেতা। তার অভাব তো সকলেই অনুভব করবে। আমরাও করি। তবে নির্বাচনে এর প্রভাব ফেলবে না।’

আগামী সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে কামরানপুত্র আরমান আহমদ শিপলুর নামও আলোচিত হচ্ছে। কামরান বেঁচে থাকতেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন শিপলু। এখন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন।

শিপলু বলেন, ‘আমি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। সিলেটের মানুষের সঙ্গে আমার পরিবারের আত্মার সম্পর্ক। আমার বাবা সিলেটের মাটি ও মানুষের নেতা ছিলেন। আজীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কর্মী ছিলেন। আমিও বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আমার বাবার মতো সিলেটের মানুষের সুখে-দুঃখে কাছে থাকার চেষ্টা করছি। সুযোগ পেলে আমি মানুষের জন্য কাজ করে যাব।’

গত নির্বাচনেও মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজাদুর রহমান আজাদ। নগরের ২০নং ওয়ার্ডের টানা চারবারের কাউন্সিলর। এবারও আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তার নাম আলোচিত হচ্ছে।

আজাদ বর্তমানে যুক্তরাজ্যে রয়েছেন। যুক্তরাজ্য যাওয়ার আগে তিনি বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে নগরবাসীর সেবায় নিয়োজিত রয়েছি। আশা করছি সবকিছু বিবেচনা করে দল এবার আমাকে মূল্যায়ন করবে।’

আরও পড়ুন:
বিদ্রোহী হওয়ায় আ.লীগ থেকে ২৫ জনকে বহিষ্কারের সুপারিশ
আবার প্রধানমন্ত্রী হবেন শেখ হাসিনা, ঘোষণা আ.লীগ নেতার
শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখা ইমানি দায়িত্ব: আ.লীগের ধর্ম সম্পাদক
ধানমন্ডিতে গিয়ে শেষ হলো আ. লীগের বিজয় শোভাযাত্রা
ইউপির বিভক্তি জাতীয় নির্বাচনে পড়ার শঙ্কা আ.লীগে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘ধর্ষণের শিকার’ শিশুটি পড়ার সুযোগ পেল না মাদ্রাসাতেও

‘ধর্ষণের শিকার’ শিশুটি পড়ার সুযোগ পেল না মাদ্রাসাতেও

শিশুর মা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভর্তির তিন দিন পর আমার মেয়েকে মাদ্রাসার গেটের বাইরে বের করে দেয়া হয়। তারপর গেট লাগিয়ে দেয়। মেয়েটা গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে তখন কাঁদছিল। পরে পরিচালক আমাকে ডাকল।’

রাজশাহী নগরীতে ‘ধর্ষণের শিকার’ হওয়ায় মাদ্রাসা থেকে শিশু শিক্ষার্থীকে বের করে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বলছে, অন্য অভিভাবকদের আপত্তির কারণে শিশুটির ভর্তি বাতিল করা হয়েছে।

শিশুটির বয়স ৮। দুই বছর আগে তাকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়। সেই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় প্রতিবেশী এক কিশোরকে, যে এখন আছে কারাগারে।

নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মাসুদ পারভেজ এ তথ্য জানিয়েছেন।

ওই শিশুর বাবা অটোরিকশাচালক। নগরীতে রেলের জমির বস্তিতে একটি ঘরে তিনি পরিবার নিয়ে থাকেন।

এজাহারসূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ২০ মার্চ বাড়ির পাশের নির্জন স্থানে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করে ওই কিশোর। এর ভিডিও ধারণ করে সে। ঘটনা জানাজানি হলে শিশুটির মা থানায় মামলা করেন। পরদিন ওই ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

শিশুর মা নিউজবাংলাকে জানান, চলতি মাসের শুরুতে নগরীর হড়গ্রাম মুন্সিপাড়া এলাকার উম্মাহাতুল মুমিনীন মহিলা মাদ্রাসায় মেয়েকে ভর্তি করিয়েছিলেন। আবাসনের ব্যবস্থা আছে বলে তিনি ভেবেছিলেন, মেয়ে এখানে নিরাপদে থাকবে।

মায়ের অভিযোগ, ভর্তির তিন দিন পরই শিশুটিকে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। ফেরত দেয়া হয়েছে ভর্তি ও আবাসিকের জন্য জমা দেয়া টাকাও।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভর্তির তিন দিন পর আমার মেয়েকে মাদ্রাসার গেটের বাইরে বের করে দেয়া হয়। তারপর গেট লাগিয়ে দেয়। মেয়েটা গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে তখন কাঁদছিল। পরে পরিচালক আমাকে ডাকল।

‘আমাকে বলল, “আপনার মেয়েকে নিয়ে গিয়ে অন্য কোথাও ভর্তি করেন।” আমি বললাম, আমার মেয়ের কোনো সমস্যা? তখন বললেন, “না, দূরে কোথাও ভর্তি করেন।” আমি কাঁদতে কাঁদতে বললাম, আপনার মেয়ের সঙ্গে যদি এ ধরনের ঘটনা ঘটে, তাহলে আপনি কী করবেন? তখন কোনো কথা বলছে না সে (মাদ্রাসা পরিচালক)।

‘আমাকে টাকাটা ফেরত দিয়ে মেয়েকে বের করে দিল। আমার মেয়ের কোনো সমস্যা দেখাতে পারছে না, খালি বলছে- “দূরে কোথাও ভর্তি করেন।”’

শিশুটির মা আরও বলেন, ‘মেয়েটাকে নিয়ে আমি ভুক্তভোগী হচ্ছি। সমাজের কাছে এত লাঞ্ছনা শুনতে আমার খুবই খারাপ লাগছে। মেয়েটাকে সবাই খারাপ চোখে দেখছে। ছোট সেটাও কেউ বুঝছে না। ওই ঘটনাটাই তুলে ধরছে সবাই।’

মেয়েকে অন্য একটা স্কুলে ভর্তি করিয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ওখানেও যদি কেউ কিছু বলে, আবার যদি বের করে দেয়, এই ভয় পাচ্ছি। এখন আমি একটা সুষ্ঠু বিচার চাই। যে আমার মেয়ের ক্ষতি করেছে তার যেন শাস্তি হয়।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা মো. হাবিবুল্লাহ বলেন, ‘মেয়েটার ব্যাপারে অন্য শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা এসে অভিযোগ করে আমাকে বলেছিল যে, তার সমস্যা আছে। আমি নাকি যাকে তাকে ভর্তি নিয়ে নিচ্ছি। অভিভাবকদের আপত্তি থাকায় এই মেয়েটার ভর্তি বাতিল করতে হয়েছে। টাকাও ফেরত দেয়া হয়েছে।’

ধর্ষণের সেই মামলার বিষয়ে কাশিয়াডাঙ্গা থানার ওসি মাসুদ বলেন, ‘শিশুটার মায়ের করা মামলাটা তদন্তাধীন। তদন্ত চলাকালে বেশি কিছু বলব না। তবে প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। এখন ডিএনএ টেস্ট করা হবে। তারপর অভিযোগপত্র জমা দেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
বিদ্রোহী হওয়ায় আ.লীগ থেকে ২৫ জনকে বহিষ্কারের সুপারিশ
আবার প্রধানমন্ত্রী হবেন শেখ হাসিনা, ঘোষণা আ.লীগ নেতার
শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখা ইমানি দায়িত্ব: আ.লীগের ধর্ম সম্পাদক
ধানমন্ডিতে গিয়ে শেষ হলো আ. লীগের বিজয় শোভাযাত্রা
ইউপির বিভক্তি জাতীয় নির্বাচনে পড়ার শঙ্কা আ.লীগে

শেয়ার করুন

রেলের মাইলেজ প্রশ্নে সরকারকে আলটিমেটাম

রেলের মাইলেজ প্রশ্নে সরকারকে আলটিমেটাম

চট্টগ্রামে রানিং স্টাফদের জরুরি সভা। ছবি: নিউজবাংলা

রানিং স্টাফ কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান মুজিব বলেন, ‘গত নভেম্বর থেকে মাইলেজ নীতি নিয়ে আলোচনা চলছে। কিন্তু এখনও সমাধান মেলেনি। মাইলেজ পদ্ধতি রেলওয়ে কর্মচারীদের দাবি নয়, অধিকার। এ অধিকারের জন্য আমরা লড়ছি৷ এক সপ্তাহের মধ্যে যদি আমাদের অধিকার ফিরিয়ে দেয়া না হয়, তবে ৩১ জানুয়ারি থেকে কোনো ট্রেন চলবে না।’

মাইলেজ জটিলতা নিরসনে সরকারকে আলটিমেটাম দিয়েছেন রেলওয়ে কর্মচারীরা। তারা বলছেন, সমস্যার সমাধান না হলে ৩১ জানুয়ারি থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হবে।

রানিং স্টাফদের জরুরি সভায় বৃহস্পতিবার এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বিকেলে নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রানিং স্টাফ কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান মুজিব।

তিনি বলেন, ‘গত নভেম্বর থেকে মাইলেজ নীতি নিয়ে আলোচনা চলছে। কিন্তু এখনও সমাধান মেলেনি। মাইলেজ পদ্ধতি রেলওয়ে কর্মচারীদের দাবি নয়, অধিকার। এ অধিকারের জন্য আমরা লড়ছি৷ এক সপ্তাহের মধ্যে যদি আমাদের অধিকার ফিরিয়ে দেয়া না হয়, তবে ৩১ জানুয়ারি থেকে কোনো ট্রেন চলবে না।’

চলন্ত ট্রেনে দায়িত্ব পালনকারী ট্রেনচালক (লোকোমাস্টার), গার্ড ও টিকিট চেকার (টিটি), গার্ড (ট্রেন পরিচালক) ও টিটিইদের (ট্রাভেলিং টিকিট এক্সামিনার) বলা হয় রানিং স্টাফ।

রেলওয়ে রানিং স্টাফদের যে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়, ব্রিটিশ শাসনামল থেকে তা মাইলেজ নামে পরিচিত। এই সুবিধায় প্রতি ৮ ঘণ্টার জন্য এক দিনের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ পেয়ে থাকেন তারা।

রেলওয়ের ১৮৬২ সালের আইন অনুযায়ী ট্রেনচালক, সহচালক, পরিচালক ও টিকিট চেকাররা বিশেষ এই আর্থিক সুবিধা পেয়ে আসছেন। কিন্তু এতে বিপত্তি বাধে গত বছরের ৩ নভেম্বর।

এদিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শামীম বানু শান্তি স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, চলন্ত ট্রেনে দৈনিক ১০০ কিলোমিটার কিংবা তার চেয়েও বেশি দূরত্ব পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করলেও ওই দিনের বেতনের ৭৫ শতাংশের বেশি মাইলেজ ভাতা পাবেন না সংশ্লিষ্ট রানিং স্টাফ। আর মাস শেষে এই মাইলেজ মূল বেতনের বেশি হবে না।

এই প্রজ্ঞাপন জারির পর ৪ নভেম্বর ট্রেন চলাচল বন্ধ রেখে বিক্ষোভ করেন লোকোমাস্টাররা। পরে কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে তারা কাজে যোগ দেন।

বাংলাদেশ রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক আব্দুল বারি বলেন, “মাইলেজ হলো ‘পার্ট অফ পে’। এটি ব্রিটিশ আমল থেকে চালু। এ জটিলতা নিরসনে আমরা মন্ত্রী ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছি। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করেছি। কিন্তু আমাদের কথা কেউ রাখেনি। তাই আন্দোলনে যাচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
বিদ্রোহী হওয়ায় আ.লীগ থেকে ২৫ জনকে বহিষ্কারের সুপারিশ
আবার প্রধানমন্ত্রী হবেন শেখ হাসিনা, ঘোষণা আ.লীগ নেতার
শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখা ইমানি দায়িত্ব: আ.লীগের ধর্ম সম্পাদক
ধানমন্ডিতে গিয়ে শেষ হলো আ. লীগের বিজয় শোভাযাত্রা
ইউপির বিভক্তি জাতীয় নির্বাচনে পড়ার শঙ্কা আ.লীগে

শেয়ার করুন

কারখানা ব্যবস্থাপককে ‘তুলে নিয়ে মারধর’

কারখানা ব্যবস্থাপককে ‘তুলে নিয়ে মারধর’

সুরুজের অভিযোগ, পাশাপাশি হওয়ায় তার কারখানার ডাইং চলাকালে আগুনের ফুলকি থেকে পাশের কারখানায় আগুন লাগে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর করে ওই কারখানার লোকজন। ওই কারখানার পরিচালক বিষয়টি স্বীকার করে জানান, আগুন লাগায় ক্ষুব্ধ হয়ে তার লোকজন সুরুজকে মারধর করে।

গাজীপুরের টঙ্গীতে কারখানায় আগুন লাগিয়ে দেয়ার অভিযোগ তুলে পাশের কারখানার ব্যবস্থাপককে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

থানায় এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বিসিক এলাকার আরবাগ ওয়্যার হাউজ সলিউশন লিমিটেড নামের কারখানার ব্যবস্থাপক সুরুজ মিয়া।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে টঙ্গীর বিসিক পানির ট্যাংকি এলাকার কারখানায় নিয়ে তাকে মারধর করেন ব্লু ফ্যাশন লিমিটেড কারখানার পরিচালক মো. মহিউদ্দিন এবং তার ছেলে মেহেদী হাসান।

মহিউদ্দিন টঙ্গী বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদকও। তিনি অবশ্য ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তবে আগুন লাগার ঘটনায় তিনি সুরুজের নামে পাল্টা অভিযোগ দিয়েছেন থানায়।

সুরুজের অভিযোগ, পাশাপাশি কারখানা হওয়ায় বৃহস্পতিবার দুপুরে তার কারখানার ডাইং চলাকালে আগুনের ফুলকি থেকে গিয়ে পড়ে ব্লু ফ্যাশনের কারখানায়। এতে আগুন লেগে যায়। তখনই ফায়ার সার্ভিস গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রনে নেয়। তবে ওই কারখানার কয়েকজন আগুন লাগানোর অভিযোগ তুলে তাকে তুলে নিয়ে যায়।

সুরুজ বলেন, ‘আমাকে তাদের কারখানার ভেতরে আটকে রেখে মারধর করে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ও আশপাশের লোকজন গিয়ে আমাকে উদ্ধার করে।’

এ বিষয়ে ব্লু ফ্যাশনের পরিচালক মহিউদ্দিন বলেন, ‘দুই কারখানার মাঝখানে চার ফিট করে আট ফিট জায়গা খালি রাখা হয়েছিল। আরবাগ ওয়্যার হাউজ কর্তৃপক্ষ সেই জায়গায় ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করছিল। সেখান থেকে আগুনের সুত্রপাত হয়ে আমার কারখানার বেশ কিছু মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

‘ওই কারখানার ব্যবস্থাপক নিজেদের ভুল স্বীকার না করে মিথ্যে কথা বলায় আমি রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি। পরে তাকে আমি একটি থাপ্পড় দিলে আমার কারখানার অন্যান্য শ্রমিকরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে কিল-ঘুষি দেয়। এ ঘটনায় আমরাও থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছি।’

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (দক্ষিণ) হাসিবুল আলম জানান, দুই পক্ষই থানায় অভিযোগ দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
বিদ্রোহী হওয়ায় আ.লীগ থেকে ২৫ জনকে বহিষ্কারের সুপারিশ
আবার প্রধানমন্ত্রী হবেন শেখ হাসিনা, ঘোষণা আ.লীগ নেতার
শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখা ইমানি দায়িত্ব: আ.লীগের ধর্ম সম্পাদক
ধানমন্ডিতে গিয়ে শেষ হলো আ. লীগের বিজয় শোভাযাত্রা
ইউপির বিভক্তি জাতীয় নির্বাচনে পড়ার শঙ্কা আ.লীগে

শেয়ার করুন

ধর্ষণের পর হত্যা, আসামির মৃত্যুদণ্ড

ধর্ষণের পর হত্যা, আসামির মৃত্যুদণ্ড

২০১৭ সালের ২৯ মার্চ সীতাকুণ্ডের কুমিরা এলাকায় বাড়ির পাশের পাহাড়ে কাঠ কাটতে যান ওই নারী। পরদিন ভোরে সেখানে পাওয়া যায় তার রক্তাক্ত মরদেহ।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে গৃহবধূকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে আসামির ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে আসামিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মামলার অন্য দুই আসামিকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক জামিউল হায়দার বৃহস্পতিবার দুপুরে এ রায় দেন।

নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নিখিল কুমার নাথ।

দণ্ড পাওয়া আসামি হলেন জসিম উদ্দিন।

২০১৭ সালের ২৯ মার্চ সীতাকুণ্ডের কুমিরা এলাকায় বাড়ির পাশের পাহাড়ে কাঠ কাটতে যান ওই নারী। পরদিন ভোরে সেখানে পাওয়া যায় তার রক্তাক্ত মরদেহ।

ময়নাতদন্তে জানা যায়, ধর্ষণের পর ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছিল তাকে।

মরদেহ উদ্ধারের দিনই নিহতের মেয়ে মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়।

১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষে আদালত জসিমকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।

আরও পড়ুন:
বিদ্রোহী হওয়ায় আ.লীগ থেকে ২৫ জনকে বহিষ্কারের সুপারিশ
আবার প্রধানমন্ত্রী হবেন শেখ হাসিনা, ঘোষণা আ.লীগ নেতার
শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখা ইমানি দায়িত্ব: আ.লীগের ধর্ম সম্পাদক
ধানমন্ডিতে গিয়ে শেষ হলো আ. লীগের বিজয় শোভাযাত্রা
ইউপির বিভক্তি জাতীয় নির্বাচনে পড়ার শঙ্কা আ.লীগে

শেয়ার করুন

ছাত্রীদের ‘যৌন হয়রানি’, স্কুলের প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার

ছাত্রীদের ‘যৌন হয়রানি’, স্কুলের প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার

ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগে গ্রেপ্তার প্রধান শিক্ষক ননী গোপাল। ছবি: নিউজবাংলা

ওই স্কুলের একাধিক ছাত্রী ও তাদের অভিভাবক প্রধান শিক্ষক ননী গোপাল হালদারের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন। স্কুলে যাওয়া বন্ধও করে দিয়েছে বেশ কয়েকজন।

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে স্কুলছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে প্রধান শিক্ষককে।

থানায় বুধবার রাতে ওই স্কুলের এক ছাত্রীর বাবার করা মামলায় বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্রেপ্তার করা হয় ননী গোপাল হালদার নামের ওই শিক্ষককে।

ননী চন্দনতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

মোড়েলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) তুহিন মণ্ডল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মোড়েলগঞ্জ উপজেলার জিউধরা ইউনিয়নের বটতলা এলাকা থেকে ননীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ওই স্কুলের একাধিক ছাত্রী ও তাদের অভিভাবক প্রধান শিক্ষক ননী গোপাল হালদারের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন। স্কুলে যাওয়া বন্ধও করে দিয়েছে বেশ কয়েকজন।

এ নিয়ে প্রতিবেদনও হয় নিউজবাংলায়

স্কুলের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ২৬ জন, তাদের মধ্যে ছাত্রী ১৬ জন। কয়েক দিন হলো ক্লাসে আসছে চার-পাঁচ ছাত্রী।

পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রী নিউজবাংলাকে বলে, ‘স্যার গেলে আমাগো ধরে। আর কত কিছু কয়। হেই জন্য যাই না।’

এক অভিভাবক জানান, যৌন হয়রানির বিষয়টি স্কুলের বাংলা শিক্ষক ময়না রাণী শিকদারকে জানালে তিনি ছাত্রীদের বলেন, ‘ওতে কী হয়? স্যার তো তোমাদের একটু আদর করতেই পারেন।’

তবে ময়না বলেন, ‘আমার কাছে কখনও কোনো ছাত্রী এমন অভিযোগ করেনি।’

গত ৫ জানুয়ারি এক ছাত্রী তার নানা-নানিকে বিষয়টি জানায়। তারা ১১ জানুয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে ননী গোপালের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন। এরপর বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়। সে সময় আরও কয়েকজন ছাত্রী তাদের পরিবারকে একই অভিযোগ জানায়।

ইউএনওর কাছে অভিযোগের পরও কোনো বিচার পাননি বলে অভিযোগ অভিভাবকদের।

এ বিষয়ে ইউএনও জাহাঙ্গীর আলম নিউজবাংলাকে বুধবার বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়ে বিষয়টি দেখার জন্য শিক্ষা কর্মকর্তাকে বলা হয়েছিল। আমাকে ওই কর্মকর্তা জানান, অভিযোগ মিথ্যা ছিল। তাই প্রত্যাহার করা হয়েছে।

‘তবে আমি জানতে পেরেছি যে ঘটনা সত্য। দ্রুতই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।’

আরও পড়ুন:
বিদ্রোহী হওয়ায় আ.লীগ থেকে ২৫ জনকে বহিষ্কারের সুপারিশ
আবার প্রধানমন্ত্রী হবেন শেখ হাসিনা, ঘোষণা আ.লীগ নেতার
শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখা ইমানি দায়িত্ব: আ.লীগের ধর্ম সম্পাদক
ধানমন্ডিতে গিয়ে শেষ হলো আ. লীগের বিজয় শোভাযাত্রা
ইউপির বিভক্তি জাতীয় নির্বাচনে পড়ার শঙ্কা আ.লীগে

শেয়ার করুন

সড়কে ২ এএসআই নিহতের ঘটনা তদন্তে কমিটি

সড়কে ২ এএসআই নিহতের ঘটনা তদন্তে কমিটি

গাড়ি খাদে পড়ে নিহত হয়েছেন সোনারগাঁ থানার দুজন এসআই। ছবি: নিউজবাংলা

কমিটি প্রধান জানান, দুর্ঘটনার ঘটনার সময় পালিয়ে যাওয়া মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পুলিশের গাড়ি খাদে পড়ে দুই উপপরিদর্শক (এএসআই) নিহতের ঘটনা তদন্তে কমিটি করেছে জেলা পুলিশ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের এই কমিটি হয়। ৭ কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন তদন্ত কমিটির প্রধান নিজেই।

তিনি জানান, জেলা গোয়েন্দা শাখার খ-অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসএম শাহরিয়ার হাসান ও নারায়ণগঞ্জ ডিএসবি ডিআইও-২ হুমায়ুন কবির খান এই কমিটিতে আছেন।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা ঘটনার সার্বিক বিষয়ে তদন্ত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জেলা সুপারের কাছে প্রতিবেদন জমা দিব। পাশাপাশি ঘটনার সময় পালিয়ে যাওয়া মাদক কারবারিকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

সোনারগাঁ উপজেলার দত্তপাড়া এলাকায় সোমবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন সোনারগাঁ থানার দুই উপপরিদর্শক শরিফুল ইসলাম ও কাজী সালেহ আহম্মেদ। তাদের মধ্যে শরিফুলের বাড়ি গোপালগঞ্জের চরভাটপাড়া গ্রামে ও সালেহর বাড়ি ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার মুনসুরাবাদ গ্রামে।

জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) জায়েদুল আলম নিউজবাংলাকে জানান, রোববার সোনারগাঁয়ের মোগড়াপাড়া এলাকায় একটি প্রাইভেট কার থেকে ৪২ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে থানায় নিয়ে তাদের নামে মামলা দেয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে এসপি জানান, সেই মামলার কাজে সোমবার বিকেলে আসামিকে নিয়ে আদালতে যাওয়ার পথে দত্তপাড়া এলাকায় একটি গাড়ি পুলিশের গাড়িটি ওভারটেক করতে নেয়। সেটিকে জায়গা করে দিতে গিয়ে পুলিশের গাড়িটি পাশের পুকুরে পড়ে তলিয়ে যায়।

স্থানীয়রা পুকুর থেকে শরিফুল ও সালেহকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন:
বিদ্রোহী হওয়ায় আ.লীগ থেকে ২৫ জনকে বহিষ্কারের সুপারিশ
আবার প্রধানমন্ত্রী হবেন শেখ হাসিনা, ঘোষণা আ.লীগ নেতার
শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখা ইমানি দায়িত্ব: আ.লীগের ধর্ম সম্পাদক
ধানমন্ডিতে গিয়ে শেষ হলো আ. লীগের বিজয় শোভাযাত্রা
ইউপির বিভক্তি জাতীয় নির্বাচনে পড়ার শঙ্কা আ.লীগে

শেয়ার করুন

‘জমির বিরোধে’ সংঘর্ষে বৃদ্ধ নিহত

‘জমির বিরোধে’ সংঘর্ষে বৃদ্ধ নিহত

গোপালগঞ্জে সংঘর্ষে নিহত বৃদ্ধের স্বজনদের আর্তনাদ। ছবি: নিউজবাংলা

ভাতিজা বিপিন শিকদার নিউজবাংলাকে জানান, মন্দিরের দেয়া জমি তার চাচার। তবে মন্দির কমিটিতে চাচাকে না রাখায় তাদের সঙ্গে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের বিরোধ চলছিল।

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় দুপক্ষের সংঘর্ষে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন পাঁচ গ্রামবাসী।

অভিযোগ উঠেছে, মন্দিরের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের লোকজন ও ওই বৃদ্ধের লোকজনের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়।

টুঙ্গিপাড়ার কাকুইবুনিয়া গ্রামে বৃহস্পতিবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম সুলতান মাহমুদ।

নিহত বৃদ্ধের নাম সুবল শিকদার।

তার ভাতিজা বিপিন শিকদার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার কাকা সুবল শিকদার এই মন্দিরে জায়গা দান করেন, কিন্তু ভাইস চেয়ারম্যান ও তার লোকজন প্রভাব খাটিয়ে মন্দির কমিটিতে আমার কাকাকে রাখেননি। এটা নিয়ে অনেক দিন ধরে বিরোধ চলছিল।’

স্থানীয়দের বরাতে ওসি জানান, বেলা ৩টার দিকে টুঙ্গিপাড়া তফসিল অফিসের লোকজন কাকুইবুনিয়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের জমির বিষয়টি তদন্ত করতে ঘটনাস্থলে যায়। কাজ শেষে তারা ফিরে যাওয়ার পর পরই সুবল শিকদার ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অসীম বিশ্বাসের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।

ওসি আরও জানান, ঘটনাস্থলেই নিহত হন সুবল। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে সদর হাসপাতাল মর্গে।

আরও পড়ুন:
বিদ্রোহী হওয়ায় আ.লীগ থেকে ২৫ জনকে বহিষ্কারের সুপারিশ
আবার প্রধানমন্ত্রী হবেন শেখ হাসিনা, ঘোষণা আ.লীগ নেতার
শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখা ইমানি দায়িত্ব: আ.লীগের ধর্ম সম্পাদক
ধানমন্ডিতে গিয়ে শেষ হলো আ. লীগের বিজয় শোভাযাত্রা
ইউপির বিভক্তি জাতীয় নির্বাচনে পড়ার শঙ্কা আ.লীগে

শেয়ার করুন