ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি নির্বাচন

নীল ও সাদা দলের প্যানেল চূড়ান্ত

player
নীল ও সাদা দলের প্যানেল চূড়ান্ত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ছবি: নিউজবাংলা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে প্যানেল চূড়ান্ত করে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন নীল দল এবং বিএনপি-জামায়াতপন্থি শিক্ষকদের সাদা দল। এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না বামপন্থি শিক্ষকদের গোলাপি দল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির ২০২২ সালের কার্যকর পরিষদ নির্বাচন আগামী ৩০ ডিসেম্বর। এদিন সকাল ১০টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব ভবনে ভোট গ্রহণ হবে। ভোট গণনা শেষে সেদিনই ফল ঘোষণা হবে।

নির্বাচনে এরই মধ্যেই প্যানেল চূড়ান্ত করে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন নীল দল এবং বিএনপি-জামায়াতপন্থি শিক্ষকদের সাদা দল। এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না বামপন্থি শিক্ষকদের গোলাপি দল।

করোনার কারণ দেখিয়ে সাদা দল ২০২১ সালে সমিতির নির্বাচন বর্জন করায় তখন নিরঙ্কুশ জয় পায় নীল দল।

নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন ছিল রোববার। সোমবার সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সুযোগ থাকলেও কেউ প্রত্যাহার না করায় চূড়ান্ত হয়েছে দুই দলের প্যানেল।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির ১৫টি পদে নির্বাচন হয়। এবার নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে আছেন রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. তোফায়েল আহমদ চৌধুরী।

তোফায়েল আহমদ নিউজবাংলাকে জানান, এবারের নির্বাচনে ১৫ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩০ জন। তাদের মাঝে দুটি ভাগ হয়েছে। একটি নীল দল আরেকটি সাদা দল।

গোলাপি দলের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নীল ও সাদা দল ছাড়া অন্য কোনো কাগজ জমা হয়নি।

তিনি আরও জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষক এ নির্বাচনে ভোটার। এমনকি যারা ছুটিতে আছেন, তারাও চাইলে ভোট দিতে পারবেন। তবে যেসব শিক্ষক চুক্তিভিত্তিক,পার্টটাইম এবং অনারারি হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নেন, তারা ভোট দিতে পারবেন না।

নীল দলের প্যানেল থেকে এবারও সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সমিতির বর্তমান সভাপতি ও আইন অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন মো. রহমত উল্লাহ। একই প্যানেলে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মো. নিজামুল হক ভূঁইয়া।

নীল দল থেকে সহসভাপতি পদে অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাবিতা রিজওয়ানা রহমান, যুগ্ম সম্পাদক পদে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আবদুর রহিম এবং কোষাধ্যক্ষ পদে ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আকরাম হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এ ছাড়া ১০টি সদস্য পদে নীল দলের মনোনয়ন পেয়েছেন ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন মুহাম্মাদ আবদুল মঈন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন সাদেকা হালিম, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জিনাত হুদা, টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের অধ্যাপক এ জে এম শফিউল আলম ভূঁইয়া, ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ফিরোজা ইয়াসমীন, তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক মো. নাসিরউদ্দিন মুন্সী, ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফিরোজ আহমেদ, রোবোটিকস অ্যান্ড মেকাট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক লাফিফা জামাল, গণিত বিভাগের অধ্যাপক চন্দ্রনাথ পোদ্দার ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ইসতিয়াক মঈন সৈয়দ।

সাদা দলের প্যানেল থেকে সভাপতি পদে লড়বেন প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইয়ারুল কবীর এবং সাধারণ সম্পাদক পদে রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক আবদুস সালাম।

এ প্যানেল থেকে সহসভাপতি পদে প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মামুন আহমেদ, যুগ্ম সম্পাদক পদে দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. দাউদ খান এবং কোষাধ্যক্ষ পদে অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আল-আমিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

১০টি সদস্য পদে সাদা দলের মনোনয়ন পেয়েছেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান, ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আশেকুল আলম রানা, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ, মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক এ বি এম শহিদুল ইসলাম, তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক এস এম মোস্তফা আল মামুন, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক মো. আবদুল মজিদ, ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) অধ্যাপক মো. মহিউদ্দিন এবং মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সৈয়দ তানভীর রহমান।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

প্রধানমন্ত্রীর এপিএস পরিচয় দেয়া শেখর কারাগারে

প্রধানমন্ত্রীর এপিএস পরিচয় দেয়া শেখর কারাগারে

প্রতারণার অভিযোগে বুধবার গ্রেপ্তার করা হয় চন্দ্র শেখর মিস্ত্রীকে। ছবি: সংগৃহীত

গত ২০ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিফ কম্পট্রোলার পরিচয়ে চন্দ্র শেখর ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের অধ্যক্ষকে ফোন করে নিজের ভাগ্নেকে ভর্তির জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। এ ঘটনায় একটি মামলা হয়।

প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এপিএস এবং সেনাবাহিনী ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার চন্দ্র শেখর মিস্ত্রীকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

ঢাকা মহানগর হাকিম মামুনুর রশিদ তার রিমান্ড ও জামিন আবেদন নাকচ করে বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন।

এদিন আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) সাদিকুল ইসলাম আসামিকে আদালতে হাজির করে তাকে পাঁচ দিন হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেন।

আসামির পক্ষে আইনজীবী মনোয়ার হোসেন তাপস রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হয়।
মোহাম্মদপুর থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক মো. শরীফুল ইসলাম এ তথ্য নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে বুধবার তেজগাঁও থানার নাজনীনবাগ এলাকা থেকে চন্দ্র শেখরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে চাকরিপ্রার্থীর সিভি, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরির বিজ্ঞপ্তি, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের বদলির আবেদন, সরকারি স্কুল-কলেজের ভর্তির আবেদন, সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নাম, মোবাইল নম্বর, একাধিক সিল, ছয়টি মোবাইল ফোন, চারটি ডেবিট কার্ড ও বিভিন্ন ব্যাংকের চেক জব্দ করা হয়।

জানা যায়, চন্দ্র শেখর প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এপিএস এবং সেনাবাহিনী ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ নানা মিথ্যা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির আশ্বাস দিয়ে মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতেন।

অভিযোগ, এ ছাড়া স্কুল-কলেজে ভর্তি ও বদলি, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে পাঠানো, গণভবন এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রবেশ পাস ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দেয়ার কথা বলে শতাধিক লোকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন তিনি।

সর্বশেষ গত ২০ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিফ কম্পট্রোলার পরিচয়ে চন্দ্র শেখর ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের অধ্যক্ষকে ফোন করে নিজের ভাগ্নেকে ভর্তির জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। এ ঘটনায় কলেজের জনসংযোগ কর্মকর্তা আমীমুল ইহসান মোহাম্মদপুর থানায় প্রতারণার অভিযোগে একটি মামলা করেন।

শেয়ার করুন

খাল উদ্ধারে বিলম্বিত অভিযান কেন?

খাল উদ্ধারে বিলম্বিত অভিযান কেন?

রাজধানীর বছিলায় লাউতলা খাল উদ্ধারে বৃহস্পতিবার অভিযান চালায় ডিএনসিসি। ছবি: নিউজবাংলা

মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি কোনো কিছুর ভেতরেই ভালো কিছু খুঁজে পায় না। আওয়ামী লীগ ও সরকারের বিরোধিতা করতে গিয়ে বিএনপি এখন রাষ্ট্রের বিরোধিতা করা শুরু করেছে। এটা তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের প্রমাণ।’

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বছিলার লাউতলা খালটি অস্তিত্ব হারিয়েছিল অনেক আগেই। খালটি দখল করে গড়ে তোলা হয়েছিল ট্রাক স্ট্যান্ড। গড়ে উঠেছে একাধিক সুউচ্চ ভবন। এ ছাড়া ছিল গরুর খামার, বস্তি, দোকান, রিকশা ও অটোরিকশার গ্যারেজ, গাড়ি মেরামতের ওয়ার্কশপ। এভাবে একের পর এক স্থাপনার আড়ালে সুবিধাবাদী দখলদাররা পুরো খাল গিলে ফেলেছিল।

অবশেষে লাউতলা খালটি অস্তিত্ব ফিরে পাচ্ছে। উচ্ছেদ করা হচ্ছে একের পর এক অবৈধ স্থাপনা।

২৩ জানুয়ারি শুরু হওয়া উদ্ধার অভিযানের পঞ্চম দিনে বৃহস্পতিবারও বুলডোজার চালিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। চলমান অভিযানে ইতিমধ্যে খালের আনুমানিক ৫০০ মিটার জায়গা উদ্ধার হয়েছে।

প্রশ্ন উঠেছে, প্রায় দুবছর আগে দায়িত্ব পেলেও ডিএনসিসি এত বিলম্বে অভিযান শুরু করেছে কেন। আগের দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান ঢাকা ওয়াসার পক্ষ থেকেই বা কেন কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এই প্রশ্নের জবাবে ডিএনসিসি বলছে, এতদিন তারা খালটির দায়িত্ব পায়নি। দায়িত্ব পাওয়ার পরই খালটির জমি উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করা হয়েছে। তবে পর্যাপ্ত জনবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে পুরোদমে উদ্ধার অভিযান চালাতে বেগ পেতে হচ্ছে।

খাল উদ্ধারে বিলম্বিত অভিযান কেন?
বছিলার লাউতলা খালের জমি দখলমুক্ত করার পর চলছে খননকাজ। ছবি: নিউজবাংলা

ঢাকা ওয়াসা বলছে, এই খাল জেলা প্রশাসনের আওতাধীন ছিল। তারা ছিল তত্ত্বাবধানকারী। ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর খাল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের দায়িত্বকালে ক্যাপাসিটি বা লজিস্টিক সাপোর্ট না থাকায় খালটি উদ্ধারে অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি।

লাউতলা খাল দখল করা ট্রাক স্ট্যান্ড ইতিমধ্যে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। খালের জমি দখল করে গড়ে তোলা আশপাশের সব স্থাপনাও উচ্ছেদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি খালটির খননকাজও চলছে।

ডিএনসিসি তিনটি ভারী খনন যন্ত্র দিয়ে খাল খননকাজ চালাচ্ছে। লাউতলা খালের সংযোগস্থল রামচন্দ্রপুর খালে জমে থাকা আবর্জনা পরিষ্কার করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, একদিকে ডিএনসিসির উচ্ছেদ অভিযান চলছে, অন্যদিকে বস্তির বাসিন্দারা ঘরের বিভিন্ন সামগ্রী সরিয়ে নিতে দৌড়ঝাঁপ করছেন। বস্তিবাসী ও স্থানীয় অন্যান্য বাসিন্দার অভিযোগ, এই উচ্ছেদ অভিযানের বিষয়ে তাদেরকে আগেভাগে কিছুই জানানো হয়নি। এতে করে তারা ঘরের জিনিসপত্র সরানোর সুযোগটুকুও পাননি।

সংলগ্ন বস্তির বাসিন্দা চম্পা বেগম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা তো কারও জায়গা দখল করি নাই। আমরা ভাড়া থাকি। যারা দখল করছে তাদের শাস্তি দিক। আমাদের কেন হয়রানি করা হচ্ছে? তারা আগে থেকে জানালে আমরা অন্য কোথাও বাসা ভাড়া নিতাম। এখন দেখেন কী ঝামেলায় পড়ছি! এখন কোথায় বাসা ভাড়া নিব, কই যাব তা নিয়ে খুব ঝামেলায় পড়েছি।’

লাউতলা খালের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ডিএনসিসি অভিযান শুরু করে ২৩ জানুয়ারি সকালে। এদিন ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘অবৈধ দখলদারদের নামে কোনো নোটিশ ইস্যু করা হবে না; বিনা নোটিশেই তাদের উচ্ছেদ করা হবে।’

স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘এই খাল বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের ভেতর দিয়ে চলে গেছিল। তারপর আস্তে আস্তে এটা ভরাট করে ট্রাকশ্রমিকেরা স্টেশন বানাইছে। ২৩ তারিখ উচ্ছেদ অভিযান শুরুর পর তারা ট্রাক স্টেশন সরাইছে। খাল উদ্ধার করে সরকার একটি ভালো কাজ করছে।’

ঘটনাস্থলে থাকা ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাপস শীল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও ঢাকা জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এই উচ্ছেদ অভিযান চলছে। আগে এখানে ট্রাক স্ট্যান্ড ছিল, এটাই এখন খাল হবে। খালের অন্যান্য জায়গার স্থাপনা উচ্ছেদেও আমরা নিয়মিত অভিযানের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। মেয়র স্যারের নির্দেশনায় খালগুলো পুনরুদ্ধার করতে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

ঢাকা উত্তর সিটির ৫ নম্বর অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মোতাকাব্বির আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আজ (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত আনুমানিক ৫০০ মিটারের মতো জায়গা আমরা উদ্ধার করেছি। এখানে এক অংশে ১০ তলাবিশিষ্ট দুটি আবাসিক ভবন রয়েছে। দুটি ভবনই খালের জায়গা আংশিক দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে। ডিমারকেশন চলছে। আগামী সপ্তাহে আমরা সেখানে যাব।’

উচ্ছেদ অভিযানটা এতদিন পর কেন- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহরের খালগুলো অতিসম্প্রতি সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। উচ্ছেদ অভিযানে বিলম্ব কেন সে ব্যাপারে আগের কর্তৃপক্ষই ভালো বলতে পারবে।

‘আমাদের নজরে যখন এসেছে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সারভেয়ার, সিটি করপোরেশনের সারভেয়ারসহ বেশ কিছু বডি মিলিয়ে এখানে যৌথ তদন্ত করা হয়। আমরা আশা করছি খাল দ্রুতই আগের চেহারা ফিরে যাবে।’

খাল উদ্ধারে বিলম্বিত অভিযান কেন?
বৃহস্পতিবার অভিযানকালে খালের জমিতে গড়ে তোলা বস্তির বাসিন্দারা জিনিসপত্র সরাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ছবি: নিউজবাংলা

ডিএনসিসির আওতাভুক্ত এলাকার সব খালই পুনরুদ্ধারে অভিযান চলবে কি না এমন প্রশ্নে মোতাকাব্বির আহমেদ বলেন, ‘আমাদের জনবল সংকট রয়েছে। আর্থিক কিছু বিষয় তো আছেই। তবে আমরা পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যাব। যতগুলো খাল আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে তার প্রতিটি আমরা দখলমুক্ত করব।’

দখলদাররা বাধা দিচ্ছে কি না জানতে চাইলে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘দু-একটি বাধা এসেছে। প্রথম দিন কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে অভিযানে সশরীরে বাধা সৃষ্টি করেছে, অবৈধ স্থাপনা ভাঙতে দেয়নি- এমনটা হয়নি। হয়তো মেয়র স্যার পেয়েছেন।’

ঢাকা ওয়াসা কেন খাল উদ্ধার করতে পারেনি এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিষ্ঠানটির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. তারেক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের আওতায় ১৯৮৮ সালে খালগুলো তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব ঢাকা ওয়াসাকে দেয়া হয়। আর সিটি করপোরেশনের কাছে আমরা খাল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা হস্তান্তর করেছি ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর। মাঝের সময়টুকুতে ওয়াসা খাল উদ্ধার করতে না পারার বড় কারণ ক্যাপাসিটি বা লজিস্টিক সাপোর্ট না থাকা।’

মঙ্গলবার বছিলা রামচন্দ্রপুর খালে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, সব খাল উদ্ধার করে ঢাকাকে ইতালির ভেনিসের মতো দৃষ্টিনন্দন করে গড়ে তোলা হবে। ঢাকা শহরে এখনও ৫৩টি খালের অস্তিত্ব রয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব দিলে এসব খাল উদ্ধার সহজ হবে। সে উদ্দেশ্যেই রাজধানীর কিছু খাল ঢাকা ওয়াসা থেকে দুই সিটি করপোরেশনে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

শেয়ার করুন

পপুলার লাইফের সাবেক চেয়ারম্যানের মৃত্যু নিয়ে পাল্টা অভিযোগ

পপুলার লাইফের সাবেক চেয়ারম্যানের মৃত্যু নিয়ে পাল্টা অভিযোগ

হত্যা মামলাটি সাজানো ও হয়রানিমূলক উল্লেখ করে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সাবেক চেয়ারম্যান হাসান আহমেদের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস ও তাদের সন্তানরা। ছবি: নিউজবাংলা

গত ২৪ জানুয়ারি হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সাবেক চেয়ারম্যান হাসান আহমেদের মৃত্যু হয়। হাসান আহমেদের ভাই কবির আহমেদ অভিযোগ করেন, গৃহবন্দি অবস্থায় নির্যাতনে তার ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। এমন অভিযোগে মামলা করেন তিনি। যেখানে আসামি করা হয়েছে হাসান আহমেদের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসসহ তার পরিবারের আট সদস্যকে।

দেশের জীবন বিমা খাতের প্রতিষ্ঠান পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সাবেক চেয়ারম্যান হাসান আহমেদের মৃত্যু নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করা হয়েছে।

গত ২৪ জানুয়ারি হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়। হাসান আহমেদের ভাই কবির আহমেদ অভিযোগ করেন, গৃহবন্দি অবস্থায় নির্যাতনে তার ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। এমন অভিযোগে মামলা করেছেন তিনি। যেখানে আসামি করা হয়েছে হাসান আহমেদের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসসহ তার পরিবারের আট সদস্যকে।

মামলাটিকে সাজানো ও হয়রানিমূলক উল্লেখ করে বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন অভিযুক্তরা।

তারা বলছেন, পপুলার লাইফে দীর্ঘ সময় হাসান আহমেদ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করলেও প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে চিকিৎসা বাবদ কোনো সহযোগিতা দেয়া হয়নি। এমনকি যেদিন হাসান আহমেদ মারা যান, সেদিন পপুলার লাইফের পক্ষ থেকে জানাজাসহ শোকসন্তপ্ত পরিবারের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি। জানাজায় প্রতিষ্ঠানের কেউ অংশগ্রহণ করেননি বলেও অভিযোগ করেন জান্নাতুল ফেরদৌস।

এমন অবস্থায় হয়রানিমূলক মামলায় পুলিশি ঝামেলা থেকে মুক্ত থাকতে সংবাদ সম্মেলনে সহযোগিতা চেয়েছে পরিবারটি।

পরিবারের এমন অভিযোগে যোগাযোগ করা হলে পপুলার লাইফের পক্ষ থেকে নথিপত্র উপস্থাপন করে বলা হয়, ‘বোর্ডসভায় হাসান আহমেদ ব্রেইন স্ট্রোক ও হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ অবস্থায় কোম্পানির ভাইস চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়া হয়।’

এবং সেই বোর্ডসভায় হাসান আহমেদের যাবতীয় চিকিৎসার খরচ পপুলার লাইফের পক্ষ থেকে বহন করা হবে বলেও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এমন সিদ্ধান্তের পরও তার পরিবার সহযোগিতা নিতে অস্বীকার করে এবং ভালো হসপিটালে চিকিৎসা না করিয়ে ঘরে রেখেছে বলে জানানো হয়।

বিষয়টি জান্নাতুল ফেরদৌসের নজরে এলে তিনি বলেন, ‘আমাকে কোনো সহযোগিতা করা হয়নি। বরং হাসপাতালের বিল যখন ১০ লাখ টাকা হলো, তখন পপুলার লাইফের পক্ষ থেকে বলা হলো এত বিল দেয়া সম্ভব নয়। হাসান আহমেদের সন্তানদের প্রাপ্ত পাওয়া থেকে বঞ্চিত করার জন্য উল্টো মামলা করে এখন হয়রানি করা হচ্ছে।’

পপুলার লাইফে হাসান আহমেদের ৪০ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৪টি শেয়ার আছে। সেখান থেকে গত ১১ অক্টোবর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে তার স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসকে ১ লাখ ৭৫ হাজার শেয়ার উপহার হিসেবে দেয়ার কথা জানানো হয়। সেদিন কোম্পানিটির শেয়ারদর ৮৯ টাকা ৪০ পয়সা হিসাবে ১ লাখ ৭৫ হাজার শেয়ারের বাজারমূল্য আসে ১ কোটি ৫৬ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।

কিন্তু এটিও অস্বীকার করেছেন জান্নাতুল ফেরদৌস। তিনি বলেন, ‘আমাকে কেউ শেয়ার দেয়নি। আর আমি শেয়ার বিক্রি করে কোনো টাকা পায়নি। সে শেয়ার কারা নিয়েছে, কাদের কাছে আছে সেটিও আমি জানি না।’

গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির কাছে শেয়ারগুলো উপহার হিসেবে দেয়ার অনুমোদন চেয়ে চিঠি দেন হাসান আহমেদ। তার আগে বিএসইসি আরেক চিঠিতে পপুলার লাইফকে জানায়, উদ্যোক্তা পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করে অতিরিক্ত অংশ হস্তান্তরযোগ্য। বর্তমানে কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৩০ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ শেয়ার আছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে।

পপুলার লাইফের সাবেক চেয়ারম্যান হাসান আহমেদের মৃত্যুতে তার ভাই কবির আহমেদ গত ২৫ জানুয়ারি পল্টন থানায় মামলা করেন। মামলা নম্বর ৫৫।

যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযোগকারীর বড় ভাই হাসান আহমেদকে গৃহবন্দি অবস্থায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। আর মৃত্যুর জন্য স্ত্রীসহ দায়ী করা হয়েছে তার মা পারবিন আকিল, বোন রুনা লাইলাসহ এরশাদ, চাঁদনী নূর, মেহমুদ রেজা, ফাহিম ফারুক, শাহরুখ খান সাজিদকে।

জান্নাতুল ফেরদৌস সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘তার স্বামী স্ট্রোকের (মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ) রোগী ছিলেন। তাকে পান্থপথের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। অসুস্থতার কারণে তিনি দাঁড়াতে পারতেন না। হুইলচেয়ারে চলাফেরা করতেন। তার মৃত্যুর পর সম্পত্তি আত্মসাতের জন্য হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে হাসান আহমেদের তিন সন্তানসহ অভিযুক্তরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলন শেষে বৃহস্পতিবার কবির হোসেনের সেলফোনে কয়েকবার কল করা হয়। এতে সাড়া না দেয়ায় খুদেবার্তা পাঠানো হয়। কিন্তু তাতেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন

৩০ স্বর্ণের বারসহ যাত্রী এবং বিমানকর্মী আটক

৩০ স্বর্ণের বারসহ যাত্রী এবং বিমানকর্মী আটক

৩০টি স্বর্ণের বারসহ আটক যাত্রী কামাল উদ্দিন এবং বিমানকর্মী ইব্রাহিম খলিল। ছবি: নিউজবাংলা

এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, ‘জব্দ করা ৩০টি স্বর্ণের বারের ওজন ৩ কেজি ৪৮০ গ্রাম। রিয়াদ থেকে ঢাকায় আসা ফ্লাইট বিজি-৪০৪০ থেকে জব্দ করা হয় স্বর্ণের বারগুলো। আটক যাত্রীর নাম কামাল উদ্দিন এবং বিমানকর্মী ইব্রাহিম খলিল নিরাপত্তার দায়িত্বে আছেন।’

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৩০টি স্বর্ণের বারসহ এক যাত্রী এবং বিমানকর্মীকে আটক করেছে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ।

বৃহস্পতিবার বিকেলে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জিয়াউল হক নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘জব্দ করা ৩০টি স্বর্ণের বারের ওজন ৩ কেজি ৪৮০ গ্রাম। রিয়াদ থেকে ঢাকায় আসা ফ্লাইট বিজি-৪০৪০ থেকে জব্দ করা হয় স্বর্ণের বারগুলো। আটক যাত্রীর নাম কামাল উদ্দিন এবং বিমানকর্মী ইব্রাহিম খলিল নিরাপত্তার দায়িত্বে আছেন।’

বৃহস্পতিবার বিকেলে সৌদি আরবের রিয়াদ থেকে বিমানটি আসে। বিকেল ৪টায় তাদের আটক করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জিয়াউল হক আরও বলেন, ‘আজ বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে সৌদি আরবের রিয়াদ থেকে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট বিজি ৪০৪০ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এসময় বাংলাদেশ বিমানের নিরাপত্তাকর্মী ইব্রাহীম খলিলকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখে আটক করে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ। পরবর্তীতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন যে তার কাছে গোল্ডবার রয়েছে।

‘এ সময় তিনি নিজ হাতে তার জ্যাকেটের পকেট থেকে ৩ কেজি ৪৮০ গ্রাম ওজনের ৩০টি গোল্ডবারসহ একটি ছোট ব্যাগ বের করে দেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এরপর বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে এই গোল্ড বহনকারী যাত্রীর পরিচয় নিশ্চিত হয় বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ এবং যাত্রী কামাল উদ্দিনকেও আটক করা হয়। আটককৃত নিরাপত্তাকর্মী জানান, এই গোল্ডবার পাচার করতে পারলে প্রতিটি গোল্ডবারের জন্য তিনি সাড়ে ছয় হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা পাওয়ার কথা।’

আটক দুই জনের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় নিয়মিত আইনে মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জিয়াউল হক।

শেয়ার করুন

মেট্রোরেলে যুক্ত উত্তরা-মতিঝিল

মেট্রোরেলে যুক্ত উত্তরা-মতিঝিল

শেষ ভায়াডাক্ট বসানোর মধ্যে দিয়ে উত্তরা-মতিঝিল যুক্ত হলো মেট্রোরেলে। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাছে ৫৮২ ও ৫৮৩ নম্বর পিয়ারের মধ্যে ভায়াডাক্টের শেষ অংশটি বসানো হয়। ভায়াডাক্ট পিয়ারগুলোর ওপর কংক্রিটের কাঠামো বসিয়ে সংযুক্ত করা হয়। তার ওপরেই বসানো হয় রেললাইন।

উত্তরা থেকে মতিঝিল এখন মেট্রোরেলের একটি পথ। শেষ ভায়াডাক্ট বসানোর মধ্য দিয়ে রেলপথটি ২০ দশমিক ১০ কিলোমিটারের একটি পথে পরিণত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাছে ৫৮২ ও ৫৮৩ নম্বর পিয়ারের মধ্যে ভায়াডাক্টের শেষ অংশটি বসানো হয়।

ভায়াডাক্ট পিয়ারগুলোর উপরে কংক্রিটের কাঠামো বসিয়ে সংযুক্ত করা হয়। তার ওপরেই বসানো হয় রেললাইন।

প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন সিদ্দিক এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে ভায়াডাক্ট বসানোর কাজ শেষের ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, ২০১৭ সালের ১ আগস্ট প্রকল্পটির প্রথম পর্যায়ে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ শুরু হয়। ওই অংশে গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ভায়াডাক্ট বসানোর কাজ শেষ হয়।

২০১৮ সালের ১ আগস্ট আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ৮ দশমিক ৩৭ কিলোমিটার মেট্রোরেলের দ্বিতল সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ২০২২ সালের ২৭ জানুয়ারি এ অংশের সর্বশেষ সেগমেন্ট যুক্ত করে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত পুরো ২০ দশমিক ১০ কিলোমিটার মেট্রোরেলের ভায়াডাক্ট বসানোর কাজ শেষ হলো।

সিদ্দিক বলেন, ‘সব ঠিক থাকলে আগামী ডিসেম্বরে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত অংশে ট্রেন চলাচল শুরু করা যাবে। এরপর ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত যাবে ট্রেন।’

২০১৬ সালে উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে মতিঝিল পর্যন্ত দেশের প্রথম মেট্রোরেল ব্যবস্থা এমআরটি-৬ লাইনের নির্মাণকাজ শুরু হয়।

গত বছরের ২৯ আগস্ট প্রথমবারের মতো মেট্রোরেলের ভায়াডাক্টের ওপর পরীক্ষামূলক ট্রেন চালানো হয়। সেদিন ৬টি বগি নিয়ে দিয়াবাড়ি ডিপো থেকে মিরপুর ১২ নম্বর স্টেশন পর্যন্ত গিয়ে আবার ডিপোতে ফিরে যায় ট্রেন। এরপর থেকে নিয়মিতই পরীক্ষামূলক যাত্রা চলছে।

ঢাকা মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ হচ্ছে ৮টি প্যাকেজের আওতায়। এর মধ্যে ৩ থেকে ৬ পর্যন্ত চারটি প্যাকেজের আওতায় ভায়াডাক্ট ও স্টেশন নির্মাণের কাজ চলে।

ঢাকার প্রথম মেট্রোরেল লাইনের জন্য ২৪ সেট ট্রেন তৈরি করে দিচ্ছে জাপানের কাওয়াসাকি-মিতসুবিশি কনসোর্টিয়াম। দুই পাশে দুটি ইঞ্জিন আর চারটি কোচের সমন্বয়ে ট্রেনের সেটগুলো জাপানেই তৈরি হচ্ছে।

শেয়ার করুন

র‌্যাব নিয়ে ইইউ পার্লামেন্ট সদস্যের চিঠি ‘ব্যক্তিগত’

র‌্যাব নিয়ে ইইউ পার্লামেন্ট সদস্যের চিঠি ‘ব্যক্তিগত’

ডিআরইউর বৃহস্পতিবারের মিট দ্য প্রেসে ইইউর দূত চার্লস হোয়াইটলি। ছবি: নিউজবাংলা

ইইউর দূত বলেন, ‘র‌্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। এ বিষয়ে সঠিক তথ্যও আমার কাছে নেই, তবে ইইউর পার্লামেন্টের একজন সদস্য যে চিঠি দিয়েছেন, সেটি তার ব্যক্তিগত মতামত। এর সঙ্গে ইইউর কোনো সম্পর্ক নেই।’

র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন পার্লামেন্টের একজন সদস্য যে চিঠি দিয়েছেন, তার সঙ্গে ইইউর কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত জোটটির দূত চার্লস হোয়াইটলি।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) বৃহস্পতিবার মিট দ্য প্রেসে এ কথা জানান তিনি।

বিচারবহিভূর্ত হত্যা ও গুমের অভিযোগে র‌্যাবের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ইইউর কাছে চিঠি পাঠান ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য ইভান স্টেফানেক।

স্লোভাকিয়ার এ নাগরিক ইইউর পররাষ্ট্র এবং নিরাপত্তা নীতিবিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি এবং ইউরোপীয় কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোসেপ বরেল ফন্টেলেসের কাছে গত ২০ জানুয়ারি চিঠিটি পাঠান।

ওই চিঠির বিষয়ে দূত বলেন, ‘র‌্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। এ বিষয়ে সঠিক তথ্যও আমার কাছে নেই, তবে ইইউর পার্লামেন্টের একজন সদস্য যে চিঠি দিয়েছেন, সেটি তার ব্যক্তিগত মতামত। এর সঙ্গে ইইউর কোনো সম্পর্ক নেই।’

দূত জানান, বাংলাদেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন, নির্বাচন কমিশন গঠনসহ এ প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) পর্যবেক্ষণ করছে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ২০২৩ সালে যে জাতীয় নির্বাচন হবে, সেদিকে গভীরভাবে নজর রাখা হচ্ছে। নির্বাচন সবসময় আগ্রহের একটা জায়গা। এ বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে। নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রতিটি ঘটনাই আমরা পর্যবেক্ষণ করছি।

‘পরবর্তী নির্বাচন কমিশন গঠনসহ এ প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে সরকারের পদক্ষেপ আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। বাংলাদেশ সরকার ও অন্যদের সঙ্গে ইইউর গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সারা বিশ্বে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে থাকে।’

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে হোয়াইটলি বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আমরা অনেক কাজ করেছি; এখনও করছি, তবে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের জন্য করছে, তা সত্যিই অকল্পনীয়।’

ডিআরইউ সভাপতি নজরুল ইসলাম মিঠু মিট দ্য প্রেসে সভাপতিত্ব করেন। ওই সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম হাসিবসহ ডিআরইউ নেতারা।

শেয়ার করুন

প্লট দুর্নীতির মামলা: বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ৩ এপ্রিল

প্লট দুর্নীতির মামলা: বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ৩ এপ্রিল

সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। ফাইল ছবি

এস কে সিনহার নামে করা মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ ছিল বৃহস্পতিবার। আজ তদন্ত সংস্থা দুদক প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কেএম ইমরুল কায়েশ প্রতিবেদন জমার নতুন তারিখ ঠিক করেন।

ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্লট বরাদ্দ নেয়া ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে করা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার (এস কে সিনহা) বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ পিছিয়ে ৩ এপ্রিল ঠিক করেছে আদালত।

মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ ছিল বৃহস্পতিবার। আজ তদন্ত সংস্থা দুদক প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কেএম ইমরুল কায়েশ প্রতিবেদন জমার নতুন এ তারিখ ঠিক করেন।

আদালতে দুদকের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা মো. জুলফিকার নিউজবাংলাকে বিষয়টি জানিয়েছেন।

এর আগে গত বছরের ১০ অক্টোবর দুদকের উপপরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান বাদী হয়ে কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে (ঢাকা-১) মামলাটি করেন।

মামলায় ৭ কোটি ১৪ লাখ ৫ হাজার ৮৬৫ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, এস কে সিনহা ভাইয়ের নামে অবৈধভাবে বরাদ্দ নেয়া প্লটটি ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে পূর্বাচল থেকে উত্তরার ৪ নম্বর সেক্টরে স্থানান্তর করেন। পরবর্তী সময়ে রাজউক থেকে অনুমোদনও করান। আর প্লটের সম্পূর্ণ অর্থ (৭৫ লাখ টাকা) নিজেই পরিশোধ করেন। পরে ওই প্লটে ৯ তলা ভবন নির্মাণ করেন তিনি।

দুদকের অনুসন্ধানকালে প্রকৌশলীর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, উত্তরা আবাসিক এলাকায় ভবন নির্মাণে ব্যয় হয় ৬ কোটি ৩১ লাখ ৫ হাজার ৮৬৫ টাকা। এ ছাড়া প্লটের মূল্য হিসেবে রাজউকে পরিশোধ করা হয় ৭৫ লাখ টাকা।

মামলার এজাহারে বলা হয়, এস কে সিনহা ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভাই ও নিজের আত্মীয়ের নামে-বেনামে সম্পদ অর্জন করেছেন, যার কোনো বৈধ উৎস নেই। এগুলো তার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।

চার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের মামলায় গত বছরের ৯ নভেম্বর আলাদা দুই ধারায় এস কে সিনহাকে ১১ বছরের কারাদণ্ড দেয় ঢাকার একটি আদালত।

শেয়ার করুন