× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
South Korea will provide a budget of Tk 650 crore
hear-news
player
google_news print-icon

৮৫০ কোটি টাকা বাজেটসহায়তা দেবে দক্ষিণ কোরিয়া

৮৫০-কোটি-টাকা-বাজেটসহায়তা-দেবে-দক্ষিণ-কোরিয়া
এ ঋণের বাৎসরিক সুদের হার হবে ০.০৫ শতাংশ। ১৫ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ (এই সময়ে ঋণের আসল বা সুদ পরিশোধ করতে হবে না) মোট ৪০ বছরের মধ্যে এই ঋণ ফেরত দিতে হবে।

বাজেটসহায়তার অংশ হিসেবে বাংলাদেশকে ১০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিতে যাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ ৮৫০ কোটি টাকার বেশি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) সোমবার এ বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে একটি ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

এতে স্বাক্ষর করেন ইআরডির এশিয়া, জেইসি ও এফঅ্যান্ডএফ অনুবিভাগ প্রধান মো. শাহ্‌রিয়ার কাদের ছিদ্দিকী; দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের পক্ষে সই করেন কোরিয়া এক্সিম ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর কিম টে-সো।

বলা হয়েছে, অর্থ বিভাগ কর্তৃক ‘প্রোগ্রাম লোন ফর সাসটেইনেবল ইকোনমিক রিকভারি প্রোগ্রাম (সাবপ্রোগ্রাম-১)’ এর আওতায় এই ঋণ পাবে বাংলাদেশ।

দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ড (ইডিসিএফ) হতে বাংলাদেশকে এ ঋণ দেয়া হচ্ছে।

এ ঋণের বাৎসরিক সুদের হার হবে ০.০৫ শতাংশ। ১৫ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ (এই সময়ে ঋণের আসল বা সুদ পরিশোধ করতে হবে না) মোট ৪০ বছরের মধ্যে এই ঋণ ফেরত দিতে হবে।

ইআরডি জানায়, এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের ঘাটতি বাজেটের জন্য বৈচিত্র্যময় উৎস সৃষ্টি হবে।

প্রোগ্রামের আওতায় ইসলামিক ব্যাংকগুলোকে সরকারের ঋণ গ্রহণ কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্তি করা, ডিজিটালাইজেশনসহ উন্নত কর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কর ফাঁকি রোধ করা, ভ্যাট আদায় নিশ্চিত করা, কর দাতার সংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে আয়করের পরিমাণ বাড়ানো, দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে উন্নত কর সেবা প্রদান, উইথহোল্ডিং করের জন্য ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে উন্নত ব্যবস্থাপনা, করোনার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের সহায়তা এবং অর্থনীতির গতি পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

কোরিয়া সরকার কোরিয়া এক্সিম ব্যাংকের মাধ্যমে ১৯৯৩ সাল থেকে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক ও অবকাঠামো উন্নয়ন এবং তথ্যপ্রযুক্তির প্রসারে নমনীয় ঋণসহায়তা দিয়ে আসছে।

আরও পড়ুন:
প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নে জাপানের ৩৯ কোটি টাকা অনুদান
করোনা: আরও আড়াই কোটি ডলার দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
বাজেট কাগজে বড়, বাস্তবে ছোট
বাইসাইকেল রপ্তানিতে মিলবে নগদ সহায়তা
‘নতুন সিলেট’ গড়তে ৮৩৯ কোটি টাকার বাজেট

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Imports are more than exports by 455 billion dollars

রপ্তানির চেয়ে আমদানি বেশি ৪.৫৫ বিলিয়ন ডলার

রপ্তানির চেয়ে আমদানি বেশি ৪.৫৫ বিলিয়ন ডলার
‘এই ধারা অব্যাহত থাকবে’ এমন আশঙ্কার কথা জানিয়ে অর্থনীতির বিশ্লেষক বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, গত বছরের মতো এবারও বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতির মুখে পড়বে বাংলাদেশ।

নানা পদক্ষেপের পরও আমদানি ব্যয় খুব একটা কমছে না। এখনও প্রতি মাসে পণ্য আমদানিতে ৬ বিলিয়ন (৬০০ কোটি) ডলারের বেশি খরচ করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। আর এ কারণে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি বেড়েই চলেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক রোববার বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যের (ব্যালান্স অফ পেমেন্ট) হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যায়, গত ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৫৫ কোটি ৫০ লাখ (৪.৫৫ বিলিয়ন) ডলার। অর্থাৎ এই দুই মাসে বাংলাদেশ রপ্তানির চেয়ে ৪ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি পণ্য আমদানি করেছে।

গত ২০২১-২২ অর্থবছরের এই দুই মাসে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৪ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে ১২ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ১৭ শতাংশ বেশি। ২০২১-২২ অর্থবছরের এই দুই মাসে ১০ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছিল।

অন্যদিকে জুলাই-আগস্ট সময়ে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে ৮ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার আয় করেছেন রপ্তানিকারকরা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ২৪ শতাংশ বেশি। গত বছরের এই দুই মাসে পণ্য রপ্তানি থেকে ৬ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার আয় হয়েছিল।

এ হিসাবেই অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে পণ্য বাণিজ্যে সার্বিক ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলার।

তবে অর্থবছরের তৃতীয় মাস সেপ্টেম্বরে রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধিতে ১৩ মাস পর হোঁচট খেয়েছে। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) ২৫ দশমিক ৩১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও সেপ্টেম্বরে ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

রপ্তানির চেয়ে আমদানি বেশি ৪.৫৫ বিলিয়ন ডলার

২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে আগের বছরের জুলাইয়ের চেয়ে রপ্তানি আয় কমেছিল ৬ দশমিক শূন্য এক শতাংশ। এর পর থেকে এক বছরের বেশি সময় ধরে রপ্তানি আয়ে বড় প্রবৃদ্ধি হচ্ছিল। ৩৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে ২০২১-২২ অর্থবছর শেষ হয়।

‘এই ধারা অব্যাহত থাকবে’ এমন আশঙ্কার কথা জানিয়ে অর্থনীতির বিশ্লেষক বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, গত বছরের মতো এবারও বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতির মুখে পড়বে বাংলাদেশ।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমদানি ব্যয় কমাতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক নানা ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। তার ফলও পাওয়া যাচ্ছে। আমদানির উল্লম্ফন কিছুটা কমেছে। কিন্তু খারাপ খবর হচ্ছে, রপ্তানি আয়ও কমতে শুরু করেছে। ১৩ মাস পর সেপ্টেম্বরে রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে।’

‘রপ্তানি আয়ের এই নেতিবাচক ধারা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে’ জানিয়ে আহসান মনসুর বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের পোশাকের প্রধান দুই বাজার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় তারা পোশাক কেনা কমিয়ে দিয়েছে। তাদের এখন খাদ্যের পেছনেই অনেক বেশি খরচ করতে হচ্ছে। সে কারণে আমাদের রপ্তানি আয় কমছে। বিশ্বব্যাংক-আইএমএফসহ বিভিন্ন সংস্থা বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কা করছে। এ অবস্থায় আগামী দিন আমাদের রপ্তানি আয়ে সুখবর নেই বলেই মনে হচ্ছে।’

গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে দেশে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। এর পর থেকেই আমদানিতে জোয়ার বইতে শুরু করে। আর তাতে আমদানি-রপ্তানির মধ্যে ব্যবধানও চূড়ায় উঠতে থাকে।

শেষ পর্যন্ত পণ্য বাণিজ্যে ৩৩ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড ঘাটতি নিয়ে ২০২১-২২ অর্থবছর শেষ হয়। এর আগে কখনই এত বিশাল বাণিজ্য ঘাটতির মুখে পড়েনি দেশ।

২০২০-২১ অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল ২৩ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার।

সেবা বাণিজ্যেও ঘাটতি

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে সেবা খাতের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে এই ঘাটতি ছিল ৪৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

মূলত বিমা, ভ্রমণ ইত্যাদি খাতের আয়-ব্যয় হিসাব করে সেবা খাতের বাণিজ্য ঘাটতি পরিমাপ করা হয়।

লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতি ১.৫ বিলিয়ন ডলার

বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ায় বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে (ব্যালান্স অফ পেমেন্ট) ঘাটতিও বেড়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচকে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের একই সময়ে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলার।

আমদানি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ১৮ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল ঘাটতি নিয়ে শেষ হয়েছিল ২০২১-২২ অর্থবছর। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই কোনো অর্থবছরে ব্যালান্স অফ পেমেন্টে এত বড় ঘাটতি দেখা যায়নি।

আগের অর্থবছর অর্থাৎ ২০২০-২১ অর্থবছরে এই সূচকে ৪ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন (৪৫৭ কোটি ৫০ লাখ) ডলার ঘাটতি ছিল।

রপ্তানির চেয়ে আমদানি বেশি ৪.৫৫ বিলিয়ন ডলার

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, গত বছরের আগস্ট মাস থেকে আমদানি ব্যয় বাড়তে শুরু করে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে ব্যালান্স অফ পেমেন্টে ঘাটতি। ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে অর্থাৎ জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ২৩১ কোটি ৪০ লাখ (২.৩১ বিলিয়ন) ডলার। চার মাস শেষে (জুলাই-অক্টোবর) তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৭৭ কোটি ডলার। এভাবে প্রতি মাসেই বেড়েছে ব্যালান্স অফ পেমেন্টের ঘাটতি।

‘ওই ঘাটতি দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল’ মন্তব্য করে আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘আমদানিতে এখনও যে গতি রয়েছে, সেটা যদি অব্যাহত থাকে। রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স যদি কমে যায় তাহলে গতবারের মতো এবারও ব্যালান্স অফ পেমেন্টে বড় ঘাটতি নিয়ে অর্থবছল শেষ হবে।’

বেশ কয়েক বছর পর ২০২০-২১ অর্থবছরে লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতিতে পড়ে বাংলাদেশ। প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি নিয়ে শেষ হয়েছিল ওই বছর।

তার আগে ৯ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলারের বড় উদ্বৃত্ত নিয়ে ২০১৯-২০ অর্থবছর শেষ হয়েছিল। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে উদ্বৃত্ত ছিল ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার।

রেমিট্যান্স বেড়েছে ১২.২৫ শতাংশ

গত ২০২১-২২ অর্থবছরে ২১ দশমিক শূন্য তিন বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা ছিল আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৫ দশমিক ১২ শতাংশ কম।

তবে এবার এই সূচকে উল্লম্ফন নিয়ে অর্থবছর শুরু হয়েছিল। অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ৪ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১২ দশমিক ২৫ শতাংশ বেশি।

গত বছরের এই দুই মাসে ৩ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স দেশে এসেছিল।

রপ্তানির চেয়ে আমদানি বেশি ৪.৫৫ বিলিয়ন ডলার

তবে সেপ্টেম্বর মাসের তথ্য হতাশাজনক। রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংক রেমিট্যান্সের হালাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, গত সদ্য শেষ হওয়া সেপ্টেম্বরে বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী প্রবাসীরা ১৫৩ কোটি ৯৫ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের সেপ্টেম্বরের চেয়ে ১০ দশমিক ৮৪ শতাংশ কম এবং গত সাত মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে ১৭২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার এসেছিল।

২০২০-২১ অর্থবছরে ২৪ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

সামগ্রিক লেনদেনে ঘাটতি ২.৩৬ বিলিয়ন ডলার

সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যেও (ওভারঅল ব্যালেন্স) ঘাটতির মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাইয়-আগস্ট সময়ে এই ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার।

গত অর্থবছরের একই সময়ে এই সূচকে ২২ কোটি ১০ লাখ ডলারের উদ্বৃত্ত ছিল। তবে অর্থবছর শেষ হয়েছিল গত ৫ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি নিয়ে।

২০২০-২১ অর্থবছরে ওভারঅল ব্যালেন্সে ৯ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলার উদ্বৃত্ত ছিল।

আর্থিক হিসাবেও ঘাটতি

জুলাই-আগস্ট মাসে আর্থিক হিসাবে (ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্ট) ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে অবশ্য ১ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলারের উদ্বৃত্ত ছিল।

১৩ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলারের বড় উদ্বৃত্ত নিয়ে ২০২১-২২ অর্থবছর শেষ হয়েছিল। তার আগের অর্থবছরের ১৪ দশমিক শূন্য ৬ বিলিয়ন ডলারের উদ্বৃত্ত ছিল।

করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিবিসহ অন্য দাতা দেশ ও সংস্থার কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত ঋণসহায়তা পাওয়ায় গত আর্থিক হিসাবে বড় উদ্বৃত্ত ছিল বলে জানান আহসান মনসুর।

নিয়মিত আমদানি-রপ্তানিসহ অন্যান্য আয়-ব্যয় চলতি হিসাবের অন্তর্ভুক্ত। এই হিসাব উদ্বৃত্ত থাকার অর্থ হলো নিয়মিত লেনদেনে দেশকে কোনো ঋণ করতে হচ্ছে না। আর ঘাটতি থাকলে সরকারকে ঋণ নিয়ে তা পূরণ করতে হয়।

আরও পড়ুন:
বিলাস পণ্যের আমদানিতে লাগাম
রপ্তানির চেয়ে আমদানি বেশি ২ লাখ কোটি টাকা
আমদানির জোয়ারে বাণিজ্য ঘাটতি চূড়ায়
লেনদেন ভারসাম্যে বড় ঘাটতিতে বাংলাদেশ
আমদানির জোয়ারে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে তিন গুণ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Remittance shock and export earnings stumbling reserve

রেমিট্যান্সে ধাক্কা ও রপ্তানি আয়ে হোঁচট, কমছে রিজার্ভ

রেমিট্যান্সে ধাক্কা ও রপ্তানি আয়ে হোঁচট, কমছে রিজার্ভ
দুই সূচকে নেতিবাচক ধারার কারণে বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ নেমেছে ৩৬ বিলিয়ন ডলারের ঘরে। রোববার দিন শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৬ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার।

দেশের অর্থনীতিতে একদিনে দুটি দুঃসংবাদ। সাত মাস পর সবচেয়ে কম রেমিট্যান্স এসেছে গত সেপ্টেম্বরে। অন্যদিকে ১৩ মাস পর রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধিতে লেগেছে হোঁচট।

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২৫ দশমিক ৩১ শতাংশ। তবে সেপ্টেম্বরে ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

এই দুই সূচকে নেতিবাচক ধারার কারণে বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ নেমেছে ৩৬ বিলিয়ন ডলারের ঘরে। রোববার দিন শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৬ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) রোববার সকালে রপ্তানি আয়ের তথ্য প্রকাশ করে। আর বিকেলে রেমিট্যান্সের তথ্য জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক।

সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স কমেছে ১১ শতাংশ

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, গত সেপ্টেম্বরে বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী প্রবাসীরা ১৫৩ কোটি ৯৫ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের সেপ্টেম্বরের চেয়ে ১০ দশমিক ৮৪ শতাংশ কম। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে ১৭২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার এসেছিল।

তবে চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) হিসাবে রেমিট্যান্সপ্রবাহে এখনও প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। এই তিন মাসে ৫৬৭ কোটি ২৭ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেশি।

রেমিট্যান্সে ধাক্কা ও রপ্তানি আয়ে হোঁচট, কমছে রিজার্ভ

২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে ৫৪০ কোটি ৮৩ লাখ ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ২০৯ কোটি ৬৯ লাখ ১০ হাজার (২.১ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠান প্রবাসীরা, যা ছিল গত ১৪ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। আর গত বছরের জুলাইয়ের চেয়ে ছিল ১২ শতাংশ বেশি।

পরের মাস আগস্টে আসে ২০৩ কোটি ৭৮ (২.০৪ বিলিয়ন) ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১২ দশমিক ৬০ শতাংশ। এই দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) মোট রেমিট্যান্স এসেছিল ৪১৩ কোটি ৪১ লাখ (৪.১৩ বিলিয়ন) ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে যা ছিল ১২ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি।

২০২১-২২ অর্থবছরে প্রবাসী আয়ে মন্দা দেখা দেয়। পুরো অর্থবছরে ২ হাজার ১০৩ কোটি (২১.০৩ বিলিয়ন) ডলার এসেছিল। আগের অর্থবছরের (২০২০-২১) চেয়ে কমেছিল ১৫ দশমিক ১২ শতাংশ। তবে চলতি অর্থবছরে ঘুরে দাঁড়ায় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক। শুরু থেকেই ঊর্ধ্বগতি লক্ষ করা যাচ্ছিল। তবে ফের হোঁচট খেয়েছে গত মাসে।

২০২০-২১ অর্থবছরে করোনা মহামারির মধ্যেও অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, যা ছিল আগের অর্থবছরের (২০১৯-২০) চেয়ে ৩৬ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২২-২৩ অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে আশা করা হয়েছে, রেমিট্যান্স ঊর্ধ্বমুখী হবে এবং চলতি অর্থবছরে গত বছরের চেয়ে ১৫ শতাংশ বেশি আসবে।

রেমিট্যান্সে ধাক্কা ও রপ্তানি আয়ে হোঁচট, কমছে রিজার্ভ

রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধিতে হোঁচট

রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধিতে ১৩ মাস পর হোঁচট খেয়েছে বাংলাদেশ।

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ২৫ দশমিক ৩১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও সেপ্টেম্বরে ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে আগের বছরের জুলাইয়ের চেয়ে রপ্তানি আয় কমেছিল ৬ দশমিক শূন্য এক শতাংশ।

এর পর থেকে এক বছরের বেশি সময় ধরে রপ্তানি আয়ে বড় প্রবৃদ্ধি হচ্ছিল। ৩৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে ২০২১-২২ অর্থবছর শেষ হয়।

আরও পড়ুন:
রেমিট্যান্সে ডলারের দর কমল ৫০ পয়সা
আড়াই মাসেই ৫ বিলিয়ন রেমিট্যান্স
দুই মাসে রেকর্ড আড়াই বিলিয়ন ডলার বিক্রি
ডলারের চাপ সামাল দিচ্ছে বিপুল রেমিট্যান্স
রেমিট্যান্স ২ বিলিয়ন ছাড়াচ্ছে আগস্টেও

মন্তব্য

বাংলাদেশ
VAT exemption on edible oil for another 3 months

ভোজ্যতেলে ভ্যাটমুক্ত সুবিধা আরও ৩ মাস

ভোজ্যতেলে ভ্যাটমুক্ত সুবিধা আরও ৩ মাস ভোজ্যতেলে ভ্যাট মওকুফের মেয়াদ বাড়তে পারে। ছবি: নিউজবাংলা
বর্তমানে ভোজ্যতেলের আমদানি পর্যায়ে ৫ শতাংশ ছাড়া আর কোনো স্তরে ভ্যাট নেই। এ সুবিধাটি দুই দফা পর্যন্ত বাড়ানো হয়। সর্বশেষ মেয়াদ ছিল ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এরপর আরও তিন দিন পেরিয়ে গেছে। এর মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ঘোষণা না আসায় বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

ছয় মাস ধরে চলা ভোজ্যতেলে উৎপাদন ও ব্যবসায় পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট মওকুফের মেয়াদ আবারও বাড়তে পারে।

ভোজ্যতেলের দাম যেন নতুন করে না বাড়ে, তাই ভ্যাট প্রত্যাহারের সুবিধা আরও তিন মাস বহাল রাখতে পারে বলে বাণিজ্য ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

আগামী জুন পর্যন্ত এই সুবিধা বাড়াতে গত ২০ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে এনবিআরে চিঠি দেয়া হয়। এতে বলা হয়, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত (কাঁচামাল) সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম কমলেও ডলারের দাম বাড়ার কারণে দেশীয় বাজারে পণ্যটির মূল্য কমানো সম্ভব হচ্ছে না।

‘তাই স্থানীয় বাজারে ভোজ্যতেলের মূল্য এবং সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে ভ্যাট অব্যাহতির বর্তমান মেয়াদ ১ অক্টোবর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত পুনরায় বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।’

এনবিআরের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবটি পেয়েছি। শিগগিরই এ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে।’

বর্তমানে ভোজ্যতেলের আমদানি পর্যায়ে ৫ শতাংশ ছাড়া আর কোনো স্তরে ভ্যাট নেই। এ সুবিধাটি দুই দফা পর্যন্ত বাড়ানো হয়। সর্বশেষ মেয়াদ ছিল ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এরপর আরও তিন দিন পেরিয়ে গেছে। এর মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ঘোষণা না আসায় বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

ভোজ্যতেল উৎপাদক ও বিপণনকারী কোম্পানি সিটি গ্রুপের পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভ্যাট মওকুফ সুবিধার মেয়াদ অব্যাহতি না রাখা হলে ভোজ্যতেল আমদানিতে শুল্ক-করহার বেড়ে যাবে। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বাজারে। সে জন্য আমাদের দাবি হচ্ছে, বর্তমান যে সুবিধা রয়েছে তার মেয়াদ আগামী বাজেট পর্যন্ত বহাল রাখা হোক।’

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের পর গত মার্চ থেকে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত ভোজ্যতেলের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ বাজারেও দামে প্রভাব পড়ে।

ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ কিছুটা কমাতে গত ১৪ মার্চ এনবিআর প্রজ্ঞাপন জারি করে সয়াবিন ও পাম তেলের উৎপাদন পর্যায়ে ১৫ শতাংশ এবং ব্যবসা পর্যায়ে ৫ শতাংশ ভ্যাট মওকুফ করে।

এর দুদিন পর ভোজ্যতেলের আমদানি পর্যায়ে আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়। তখন এর মেয়াদ ঠিক করা হয় ৩০ জুন পর্যন্ত।

পরে ৩ জুলাই আরেকটি প্রজ্ঞাপনে ভ্যাট মওকুফ সুবিধার মেয়াদ বাড়িয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর করা হয়। যার মেয়াদ শেষ হয় গত শুক্রবার।

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমা অব্যাহত রয়েছে। উৎপাদন বৃদ্ধি, রপ্তানিকারক দেশগুলোতে মজুত বেড়ে যাওয়ায় এমন দরপতন হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কমোডিটি এক্সচেঞ্জ শিকাগো বোর্ড অফ ট্রেডে গত ২৮ জুলাই সয়াবিন তেলের দর উঠেছিল টনপ্রতি ১ হাজার ৪৫১ ডলার। বর্তমানে টনপ্রতি দাম ১ হাজার ২০০ ডলার।

আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিনের চেয়ে বেশি কমেছে পাম তেলের দাম।

তবে দেশের বাজারে এই দাম কমার সুফল পাওয়া যায়নি ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতনের কারণে। গত কয়েক মাসে ৮৪ টাকার ডলারের দর এখন ১০৬ টাকা।

বর্তমানে প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দর নির্ধারিত আছে ১৯২ টাকা আর প্রতি লিটার পাম তেলের দাম ঠিক করে দেয়া হয়েছে ১৩২ টাকা।

দেশের ব্যবসায়ীরা মূলত মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে পরিশোধিত আকারে পাম অয়েল আমদানি করেন।

আর অপরিশোধিত সয়াবিন তেল আমদানি করে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল থেকে। বছরে ২১ লাখ টন ভোজ্যতেল আমদানি হয়। এ ছাড়া মাড়াই করে পাওয়া যায় আরও তিন লাখ টন সয়াবিন।

আরও পড়ুন:
১ কোটি ৬৫ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কিনছে সরকার
দাম বাড়ানোর পর বাড়ছে সয়াবিনের সরবরাহ
সয়াবিনের দাম লিটারে বাড়ল ৭ টাকা
ভোজ্যতেলের দাম বাড়াতে সেই পুরোনো কৌশল
১ লাখ ২৫ হাজার টন সয়াবিন তেল কিনছে টিসিবি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Rice of OMS and oil of TCB open market company Silgala

ওএমএসের চাল ও টিসিবির তেল খোলা বাজারে, প্রতিষ্ঠান সিলগালা

ওএমএসের চাল ও টিসিবির তেল খোলা বাজারে, প্রতিষ্ঠান সিলগালা নওগাঁয় টিসিবির তেল এবং ওএমএসের চাল খোলাবাজারে বিক্রির অপরাধে একটি প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা
ভোক্তা অধিদপ্তর জানায়, সরাইল এলাকায় মুসা স্টোরে টিসিবির সয়াবিন তেল এবং প্রায় ১০ বস্তা ওএমএসের চাল বিক্রির অপরাধে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়।

নওগাঁ সদরে টিসিবির তেল এবং ওএমএসের চাল খোলাবাজারে বিক্রির অপরাধে একটি প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হয়েছে। আরও চারটি প্রতিষ্ঠানে ভিন্ন অপরাধে ৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নওগাঁ সদরের শিকারপুর ও সরাইল এলাকায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ যৌথ অভিযান চালায়।

ভোক্তা অধিদপ্তরের নওগাঁ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. শামীম হোসেন ও জেলার নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা চিন্ময় প্রামানিক অভিযান পরিচালনা করেন।

শামীম হোসেন বলেন, শিকারপুর বাজারে অপরিষ্কার পরিবেশে খাদ্য তৈরি, আয়োডিনবিহীন খোলা লবণ ব্যবহার, অবৈধ যৌন উত্তেজক সিরাপ এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির দায়ে চারটি প্রতিষ্ঠানকে আট হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

তিনি জানান, সরাইল এলাকায় মুসা স্টোরে টিসিবির সয়াবিন তেল এবং প্রায় ১০ বস্তা ওএমএসের চাল বিক্রির অপরাধে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়।

অভিযানে নওগাঁ পুলিশ লাইনসের একটি দল অংশ নেয়।

আরও পড়ুন:
‘আম-লিচুর’ জুসে ক্ষতিকর কেমিক্যাল, কারখানা সিলগালা
উপজেলা আ. লীগ সভাপতির অবৈধ ক্লিনিক সিলগালা
দুই জেলায় ৮ ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা, জরিমানা
ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক সিলগালা
মৃত ডাক্তারের নামে রোগ পরীক্ষার রিপোর্ট

মন্তব্য

বাংলাদেশ
War hit export earnings fell 625 percent in September

রপ্তানি আয়ে যুদ্ধের ধাক্কা, সেপ্টেম্বরে কমেছে ৬.২৫ শতাংশ

রপ্তানি আয়ে যুদ্ধের ধাক্কা, সেপ্টেম্বরে কমেছে ৬.২৫ শতাংশ রপ্তানির বিভিন্ন খাত। ফাইল ছবি
পোশাক রপ্তানিকারক ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের পোশাকের প্রধান দুই বাজার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় তারা পোশাক কেনা কমিয়ে দিয়েছে। তাদের এখন খাদ্যের পেছনেই অনেক বেশি খরচ করতে হচ্ছে। সে কারণেই রপ্তানি আয় কমছে।

যেমনটা আশঙ্কা করা হচ্ছিল, তেমনটিই ঘটতে শুরু করেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কার প্রভাবে কমতে শুরু করেছে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়।

সদ্য সমাপ্ত সেপ্টেম্বর মাসে বিভিন্ন দেশে ৩৯০ কোটি ৫০ লাখ (৩.৯০ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। এই অঙ্ক গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসের চেয়ে ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ কম। আর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্র চেয়ে ৭ দশমিক শূন্য দুই শতাংশ কম।

এ বছরের সেপ্টেম্বরে পণ্য রপ্তানি থেকে ৪ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্য ধরেছিল সরকার।

গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে আয় হয়েছিল ৪ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলার।

দীর্ঘদিন পর পণ্য রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখল বাংলাদেশ।

পোশাক রপ্তানিকারক ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের পোশাকের প্রধান দুই বাজার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় তারা পোশাক কেনা কমিয়ে দিয়েছে। তাদের এখন খাদ্যের পেছনেই অনেক বেশি খরচ করতে হচ্ছে। সে কারণেই রপ্তানি আয় কমছে।

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম প্রন্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) হিসাবে এখনও প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে বাংলাদেশ।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) রোববার প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা ১২ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করছেন, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৩ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেশি। আর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি দশমিক ৬২ শতাংশ।

১৩ মাস পর নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি

১৩ মাস পর রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধিতে হোঁচট খেলো বাংলাদেশ। ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে আগের বছরের জুলাইয়ের চেয়ে রপ্তান আয় কমেছিল ৬ দশমিক শূন্য এক শতাংশ।

এর পর থেকে এক বছরের বেশি সময় ধরে রপ্তানি আয়ে বড় প্রবৃদ্ধি হচ্ছিল। ৩৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে ২০২১-২২ অর্থবছর শেষ হয়েছিল।

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২৫ দশমিক ৩১ শতাংশ।

কিন্তু সেপ্টেম্বর মাসে এসে ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সেপ্টেম্বর মাসে রপ্তানি আয়ে যে ধাক্কা লেগেছে, তা মূলত তৈরি পোশাক রপ্তানি কমার কারণে হয়েছে। গত মাসে ৩১৬ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় ৭ দশমিক ৫২ শতাংশ কম। গত মাসে ওভেন ও নিট উভয় ধরনের পোশাক রপ্তানিই হ্রাস পেয়েছে।

চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর পোশাক রপ্তানিতে ১৩ দশমিক ৩৮ শতাংশের বেশি, পাট ও পাটজাত দ্রব্যে ১৫ দশমিক ৭১ শতাংশ, প্লাস্টিক পণ্যে ৫৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ ও চামড়াজাত পণ্যে ২০ দশমিক ৮৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

অন্যদিকে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় কম আয় হয়েছে একাধিক পণ্যে। কৃষিপণ্যে ১৭ দশমিক ৯৮ শতাংশ, কেমিক্যাল পণ্যে ২৩ দশমিক ২৮ শতাংশ ও কাচঁজাত পণ্যে ৫২ দশমিক ৭৯ শতাংশ কম আয় হয়েছে।

পোশাক শিল্পমালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি এবং বাংলাদেশ চেম্বারের বর্তমান সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী (পারভেজ) নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের পোশাকের প্রধান দুই বাজার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় তারা পোশাক কেনা কমিয়ে দিয়েছে। তাদের এখন খাদ্যের পেছনেই অনেক বেশি খরচ করতে হচ্ছে। সে কারণেই আমাদের রপ্তানি আয় কমছে। বিশ্বব্যাংক-আইএমএফসহ বিভিন্ন সংস্থা বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কা করছে। এ অবস্থায় আগামী দিন আমাদের রপ্তানি আয়ে সুখবর নেই বলেই মনে হচ্ছে।’

বিজিএমইএ পরিচালক ও মুখপাত্র মহিউদ্দিন রুবেল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সেপ্টেম্বর থেকে যে প্রবৃদ্ধিতে মন্দা হবে, সে বিষয়ে ইতোমধ্যে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিজিএমইএ। যা সেপ্টেম্বরের রপ্তানি পরিসংখ্যানে স্পষ্টতই প্রতিফলিত হয়েছে। কোভিড পরবর্তীতে বিশ্বব্যাপী খুচরা বাজার বিভিন্ন সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে, কনটেইনারের অপ্রতুলতা এবং সাপ্লাই চেইন সংকট, কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি এবং পরবর্তীতে বিশ্ব অর্থনীতিতে পূর্বাভাষ অনুযায়ী মন্দার আবির্ভাব যার কারণে খুচরা বিক্রয়ে ধ্বস নেমেছে, ক্রেতাদের পোশাকের চাহিদা হ্রাস পাচ্ছে, প্রভৃতি সংকটে শিল্প বিপযর্স্ত।

তিনি বলেন, ‘ক্রেতারা তাদের ইনভেন্টরি এবং সাপ্লাই চেইনকে নিজেদের জন্য লাভজনক রাখতে সতর্কতামূলক পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করেছে, এমনকি তাদের মধ্যে কেউ কেউ উৎপাদন এবং অর্ডার পযর্ন্ত আটকে রেখেছে।’

মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে শিল্পের জন্য একটি বিপর্যয়কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যদিও আমরা টেকসই উন্নয়ন এবং প্রতিযোগী সক্ষমতায় আমাদের শক্তি আমরা দেখিয়েছি, তারপরও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ২০২২ সালের শেষ ত্রৈমাসিকের জন্য আশাব্যাঞ্জক কিছু অনুমান করা কঠিন করে তোলে।’

এর আগে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশ প্রবৃদ্ধিতে প্রথম হয়। ইউরোস্ট্যাট প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে ১ হাজার ২২৩ কোটি বা ১২.২৩ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করে ইইউ অঞ্চলে চীন প্রথমে রয়েছে। একই সময়ে ১ হাজার ১৩১ কোটি বা ১১.৩১ বিলিয়ন ডলার পোশাক রপ্তানি করে বাংলাদেশ দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। তবে প্রবৃদ্ধির দিক দিয়ে বাংলাদেশ সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে। যেখানে সারা বিশ্ব থেকে ইউরোপে পোশাক রপ্তানি ২৫ শতাংশ বেড়েছে, সেখানে শুধু বাংলাদেশ থেকেই বেড়েছে ৪৪ দশমিক ৬০ শতাংশ। আগের বছর একই সময়ে বাংলাদেশ ইউরোপের বাজারে পোশাক রপ্তানি করেছিল ৭৮২ কোটি বা ৭.৮২ বিলিয়ন ডলার।

আরও পড়ুন:
লক্ষ্যের চেয়েও বেশি রপ্তানি, অর্থনীতির চাপ কাটার আশা
মাঠ পর্যায়েও আমলাতন্ত্রের পরিবর্তন চান সালমান
ইউরোপে বাংলাদেশের পোশাকের দাপট
এবার চীনে রপ্তানি বাড়ার হাতছানি
বাংলাদেশের বড় রপ্তানি বাজার হতে যাচ্ছে ভারত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Organization of youth training bootcamps to solve climate problems

জলবায়ু সমস্যার সমাধানে তরুণদের প্রশিক্ষণ বুটক্যাম্পের আয়োজন  

জলবায়ু সমস্যার সমাধানে তরুণদের প্রশিক্ষণ বুটক্যাম্পের আয়োজন  
ইমাজেন ভেঞ্চারস ইয়ুথ চ্যালেঞ্জ বুটক্যাম্প ২০২২ এ উদ্যোগটি যুবকদের সামাজিক প্রভাবকে অনুঘটক করতে এবং মানবতা ও পৃথিবীর জন্য আরও সুন্দর ও স্থিতিশীল ভবিষ্যৎ তৈরি করতে সাহায্য করবে। এটি তরুণদের পরিবর্তনকারী হতে এবং তাদের সমাজে, দেশে এমনকি সারা বিশ্বে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে উৎসাহিত করবে।  

ইউনিসেফ বাংলাদেশ, জেনারেশন আনলিমিটেড, জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট, বাংলদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম, ইন্টারন্যাশনাল লেবর অর্গানাইজেশন (আইএলও) এবং টেকনোভেশন গার্লস বাংলাদেশের আয়োজনে ইমাজেন ভেঞ্চারস ইয়ুথ চ্যালেঞ্জ বুটক্যাম্প ২০২২ শেষ হয়েছে।

শনিবার রাজধানীর হোটেল বেঙ্গল ব্লুবেরীতে ঢাকা বিভাগের জন্য আয়োজিত তিন দিনের এই বুটক্যাম্প শেষ হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

অক্টোবর মাস জুড়ে বাংলাদেশের আরও ৫ টি বিভাগে ৬টি বুটক্যাম্প আয়োজন করা হবে। প্রথম ধাপে ঢাকা বিভাগের অনলাইনে মূল্যায়নের পর বিবেচিত ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণ, যারা জলবায়ু পরিবর্তনের সমাধান প্রকল্পে কাজ করতে আগ্রহী তাদের আইডিয়াগুলো নিয়ে বুটক্যাম্পে আলোচনা করা হয়েছে।

৩ দিনের এই বুটক্যাম্পে ১২টি দল তাদের প্রকল্পগুলো উপস্থাপন করে। তাদের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করে কীভাবে তাদের নিজ জেলায় জলবায়ুর সমস্যার সমাধান করবে, সেগুলো আলোচনা করেছে। প্রশিক্ষকরা তরুণ অংশগ্রহণকারীদের সংযুক্ত করতে, সাফল্য এবং ব্যর্থতা পাড়ি দিতে এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা বিকাশ করতে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন।

ঢাকা বিভাগ থেকে ৫টি বিজয়ী দল তাদের প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সীড মানি পেয়েছে। অন্যান্য বিভাগ থেকে আরও বুটক্যাম্প বিজয়ীদের জন্যও অনুরূপ পদ্ধতি গ্রহণ করা হবে। মোট ২০টি দল সীড মানি পাবে এবং বাংলাদেশের ৬টি বিভাগে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের জন্য নির্বাচিত হবে।

ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি শেলডন ইয়েট বলেন, ‘ঢাকায় ১১টি জলবায়ু চ্যাম্পিয়ন দলের সাথে দেখা একটি অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা ছিল। একসাথে তারা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রশমিত করার জন্য অর্থপূর্ণ সমাধান তৈরি করছে। বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন হওয়া সত্ত্বেও অল্প সংখ্যক কিশোর এবং যুবক বিশ্বাস করে যে তারা একটি পার্থক্য আনতে পারে।’

বাংলাদেশে আইএলও-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর তুওমো পাউটিয়াইনেন বলেন, ‘জনসংখ্যার ৩০ শতাংশেরও বেশি অংশ নিয়ে, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের তরুণদের চালিকাশক্তির আসনে বসাতে হবে। এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লব এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো উদীয়মান চ্যালেঞ্জের পরিপ্রেক্ষিতে কাজের ভবিষ্যতের জন্য তাদের প্রস্তুত করা এবং উৎপাদনশীল শ্রমবাজারের সম্পৃক্ততার জন্য কার্যকর পথ তৈরি করা অপরিহার্য।’

‘আমি এটা দেখে আনন্দিত যে, জেনারেশন আনলিমিটেড প্রোগ্রাম ইমাজেন ভেঞ্চারস ইয়ুথ চ্যালেঞ্জ বুটক্যাম্প ২০২২ এর মাধ্যমে তরুণদের উদ্যোক্তা মানসিকতা এবং সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে, তাদেরকে সমস্যা সংজ্ঞায়িত করতে, সমালোচনামূলকভাবে চিন্তা করতে, প্রভাবশালী ব্যবসায়িক মডেল তৈরি করতে দলে কাজ করতে সক্ষম করে।’

জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের চেয়ারম্যান করভি রাকসান্দ বলেছেন, ‘আমাদের ভবিষ্যত নির্ভর করে আমরা কীভাবে আজ জলবায়ু পরিবর্তনকে মোকাবেলা করি। ইমাজেন ভেঞ্চারস ইয়ুথ চ্যালেঞ্জ বুটক্যাম্প ২০২২ এর অংশ হিসাবে, যুবকদের তাদের অঞ্চলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করার জন্য জলবায়ু-স্মার্ট এন্টারপ্রাইজ সলিউশন ডিজাইনে একত্রিত এবং সমর্থন করা হবে। এটি তাদের বিশ্বে এবং দেশে অবদান রাখার উপায়গুলো ভাবতে অনুপ্রাণিত করবে।’

ইমাজেন ভেঞ্চারস ইয়ুথ চ্যালেঞ্জ বুটক্যাম্প ২০২২ এ উদ্যোগটি যুবকদের সামাজিক প্রভাবকে অনুঘটক করতে এবং মানবতা ও পৃথিবীর জন্য আরও সুন্দর ও স্থিতিশীল ভবিষ্যৎ তৈরি করতে সাহায্য করবে। এটি তরুণদের পরিবর্তনকারী হতে এবং তাদের সমাজে, দেশে এমনকি সারা বিশ্বে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে উৎসাহিত করবে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
BSEC Committee on Capital Market Stability Fund Audit

পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা তহবিল নিরীক্ষায় বিএসইসির কমিটি

পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা তহবিল নিরীক্ষায় বিএসইসির কমিটি
সংস্থাটির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিষয়টি তেমন কিছুই না। তহবিলের এক বছর হয়ে গেছে। তাই তাদের পারফরম্যান্স খতিয়ে দেখতে চাইছি। আমাদের বিবেচনায় তারা ভালো কাজ করছে।‘

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা আনতে গঠিত পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা তহবিলের কার্যক্রম নিরীক্ষার জন্য দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিএসইসি)।

রোববার বাংলাদেশ বিএসইসি এই নির্দেশনা জারি করেছে।

পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা আনতে বিভিন্ন কোম্পানির অবণ্টিত লভ্যাংশের অর্থ দিয়ে ২০২১ সালে কাজ শুরু করে এই তহবিল।

এটির শুরুতে যে আইন করা হয়, সে সময় বলা হয়, বিএসইসি চাইলে বা প্রয়োজন মনে করলে সিএমএসএফের কার্যক্রম খতিয়ে দেখতে পারবে।

‘ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড রুলস, ২০২১’-এর ১৩ নম্বর ধারায় বলা আছে, যদি বিএসইসির তৈরি করে দেয়া কমিটি কোনো তথ্য জানতে চায় তাহলে অবশ্যই বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফান্ডের কর্মকর্তাদের সেসব তথ্য লিখিতভাবে জানাতে হবে।

রোববার বিএসইসির সেই চিঠিতে বলা হয়েছে, ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডের কার্যক্রম খতিয়ে দেখা দরকার হয়ে পড়েছে।

এই খতিয়ে দেখতে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এরা হলেন বিএসইসির উপপরিচালক সিরাজুল ইসলাম ও বিএসইসির সহকারী পরিচালক মিনহাজ বিন সেলিম।

কমিটিকে ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

খতিয়ে দেখার প্রয়োজন কেন পড়ল- এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে জানি না। আপনি কমিশনার শামসুদ্দিন স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।’

তবে বিএসইসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদের মোবাইল ফোনে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

পরে সংস্থাটির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিষয়টি তেমন কিছুই না। তহবিলের এক বছর হয়ে গেছে। তাই তাদের পারফরম্যান্স খতিয়ে দেখতে চাইছি। আমাদের বিবেচনায় তারা ভালো কাজ করছে।’

তহবিলটি কী, কত টাকা জমা

২০২১ সালের শুরুর দিকে ‘পুঁজিবাজার স্থিতিশীল তহবিল’ নামে বিশেষ এই তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেয়। এর উদ্দেশ্য তারল্য সংকটে ভুগতে থাকা পুঁজিবাজারে বিভিন্ন কোম্পানির বিপুল পরিমাণ অবণ্টিত অর্থ বিনিয়োগে আনা।

২০২১ সালের জুলাইয়ে ‘ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড রুলস, ২০২১’ গেজেট প্রকাশ হয়।সেই বছরের আগস্ট থেকে কাজ শুরু করে তহবিল। এরপর অবণ্টিত লভ্যাংশের টাকা তহবিলে জমা দিতে বলা হয় কোম্পানিগুলোকে।

চলতি বছরের ৩১ জুলাই কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর অবণ্টিত লভ্যাংশ জমা দেয়ার সময়সীমা শেষ হয়েছে। কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও নগদ অর্থ ও শেয়ার জমাদানে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো তহবিলে উল্লেখযোগ্য অর্থ জমা দেয়নি।

ফান্ড গঠনের এক বছরের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও মোট ফান্ডের মাত্র ১ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা জমা হয়েছে। যদিও ধারণা করা হচ্ছিল, প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা পাওয়া যাবে।

অবণ্টিত দাবিহীন লভ্যাংশ কী?

কোম্পানিগুলো লভ্যাংশ ঘোষণার পর তা তাদের ডিভিডেন্ড অ্যাকাউন্ট থেকে বিনিয়োগকারীদের নামে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

নগদ লভ্যাংশ সরাসরি বিনিয়োগকারীদের ব্যাংক হিসাবে জমা হয়। স্টক লভ্যাংশ জমা হয় তাদের বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) অ্যাকাউন্টে।

যাদের নামে শেয়ার, তারা কেউ মারা গেলে, বিদেশে চলে গেলে কিংবা দীর্ঘদিন খোঁজ না রাখলে তাদের ব্যাংক হিসাব বন্ধ বা অকার্যকর হয়ে যায়। বিও হিসাবের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে।

এমন ক্ষেত্রে লভ্যাংশের টাকা বা শেয়ার বিনিয়োগকারীর ব্যাংক বা বিও অ্যাকাউন্টে জমা না হয়ে কোম্পানির কাছে ফেরত যায়।

বিনিয়োগকারীর মৃত্যুর পর অনেক সময় তথ্য বা কাগজপত্রের অভাবে তার মনোনীত উত্তরাধিকারও সেই টাকা বা শেয়ার আর দাবি করেন না।

এর বাইরেও আইনি জটিলতা বা অন্য কারণে লভ্যাংশ বিনিয়োগকারীর হাতে পৌঁছায় না অনেক সময়। তখন কোম্পানি ওই সব লভ্যাংশ ‘সাসপেন্ডেড’ হিসাবে জমা দেখিয়ে চূড়ান্ত আর্থিক বিবরণী তৈরি করে।

আরও পড়ুন:
লভ্যাংশ ঘোষণায় মনোস্পুলের শেয়ারে হুলুস্থুল
সোমবার থেকে ১০ দিনের বিনিয়োগকারী সপ্তাহ
ক্রেতা নেই শেয়ারের, ২০০ কোম্পানিতে লেনদেন ৪০ কোটি
পুঁজিবাজারের নিয়ে বিএমবিএ-বিআইসিএমের সমঝোতা
২৩৮ কোটিতে সিএসইর অংশীদার হচ্ছে বসুন্ধরা

মন্তব্য

p
উপরে