পর্যটনকেন্দ্রে ভিড়, রাজনৈতিক সমাবেশে ওমিক্রন ছড়ানোর শঙ্কা

player
পর্যটনকেন্দ্রে ভিড়, রাজনৈতিক সমাবেশে ওমিক্রন ছড়ানোর শঙ্কা

সম্প্রতি পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে বেড়েছে ভিড়। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কক্সবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে মানুষ মাস্ক না পরেই ভিড় করছেন। রাজনৈতিক সমাবেশেও মাস্ক পরছে না মানুষ। এতে করোনা সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

স্বাস্থ্যবিধি না মেনে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ভিড় এবং রাজনৈতিক সমাবেশের কারণে দেশে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

সচিবালয়ে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কক্সবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে মানুষ মাস্ক না পরেই ভিড় করছেন, রাজনৈতিক সমাবেশেও মাস্ক পরছে না মানুষ। এতে করোনা সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

‘ওমিক্রন বিশ্বের ৯০টি দেশে ছড়িয়ে গেছে। আমাদের দেশেও ধরা পড়েছে, কিন্তু মানুষ মাস্ক পরে না এবং স্বাস্থ্যবিধিও মানছে না। এজন্য ওমিক্রন বাড়ার আশঙ্কা করছে সরকার। সারা দেশের মানুষ যাতে আগের মত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে এজন্য জেলা প্রশাসক এবং সিভিল সার্জনদের চিঠি দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।’

দেশে করোনার সংক্রমণ কমে আসায় জীবন যাত্রা প্রায় স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। এর মধ্যে বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ উদযাপনে ১৬ ও ১৭ ডিসেম্বর জাতীয়ভাবে অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করে সরকার। এতে ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ অংশ নেন।

এ ছাড়া, ১৮ ডিসেম্বর বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে র‌্যালি করে ক্ষমতাশীন দল আওয়ামী লীগ। পরের দিন র‌্যালি করে বিএনপি। সরকারিভাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধির কড়াকড়ি থাকলেও রাজনৈতিক কর্মসূচিগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা দেখা যায়নি।

অন্যদিকে, ১৬ ডিসেম্বরের সঙ্গে সাপ্তাহিত ছুটি যোগ হয়ে তিন দিনের ছুটি পায় চাকরীজীবীরা। ছুটিতে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতসহ বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ছুটে গেছেন অগণিত মানুষ। এক্ষেত্রেও স্বাস্থ্যবিধি ছিল উপেক্ষিত।

ছুটির সময় উৎসবে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস বলেছেন, ‘ছুটির সময়কালীন উৎসব বিশ্বব্যাপী করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ বাড়াবে। সেই সঙ্গে প্রাণহানির সংখ্যাকে বাড়িয়ে দিতে পারে উৎসবে যোগ দেয়া বহু মানুষের সংস্পর্শ।’

মানুষকে উৎসবে অংশ নেয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে টেড্রোস গেব্রিয়েসুস বলেন, ‘জীবন হারানোর চেয়ে একটি উৎসবের আয়োজন বাতিল করা অনেক ভালো সিদ্ধান্ত।’

কোভিডের জন্য দায়ী করোনাভাইরাস সার্স কভ টু-এর নতুন ধরন ‘ওমিক্রন’ নিয়ে উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বে। দেশেও অন্তত দুই জনের দেহে এই ভাইরাস ধরা পড়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

আফ্রিকা মহাদেশের দক্ষিণের দেশ বতসোয়ানায় প্রথম শনাক্ত হওয়া এই ভ্যারিয়েন্টের শুরুতে নাম ছিল ‘বি.১.১.৫২৯’। পরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর নাম দেয় ‘ওমিক্রন’।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্পাইক প্রোটিনে ৩০ বারের বেশি মিউটেশনের মধ্য দিয়ে সার্স কভ টু ভাইরাসের নতুন ধরনটি তৈরি হয়েছে। সামগ্রিকভাবে এই ধরনটির মিউটেশন হয়েছে ৫০ বারের বেশি।

অত্যন্ত সংক্রামক ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের চেয়েও ওমিক্রনের মিউটেশন হয়েছে চার গুণ বেশি। ফলে এটি দ্রুত মানুষকে আক্রান্ত করতে সক্ষম বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

একই সঙ্গে তারা বলছেন, ভাইরাস দ্রুত সংক্রমিত হওয়া মানেই সেটি অন্য ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় বেশি প্রাণঘাতী, এমনটি বলার সময় এখনও আসেনি। ‘ওমিক্রন’ নিয়ে গবেষণা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

বুস্টারর ডোজ: আপডেট হচ্ছে সুরক্ষা অ্যাপ

সর্ব সাধারণের জন্য করোনা টিকার বুস্টার ডোজ দিতে সুরক্ষা অ্যাপ আপডেট করা হচ্ছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এখন সীমিত আকারে দেয়া হচ্ছে ফ্রন্টলাইনারদেরকে। টিকা গ্রহণের কার্ড নিয়ে ষাটোর্ধ্ব ও ফ্রন্টলাইনাররা টিকা দিতে পারবেন।

‘৬০ বছরের ওপরে যাদের বয়স এবং ফ্রন্ট লাইনাররা এখন থেকেই তাদের দুই ডোজের টিকার কার্ড নিয়ে গেলে বুস্টার ডোজ দিতে পারবে। এ মাসের শেষের দিকে অ্যাপসের মাধ্যমে তা শুরু হবে আগেরগুলোর মতো। এখন তা নিয়ে কাজ করছে আইসিটি মন্ত্রণালয়।’

আগের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে করোনা নিয়ন্ত্রণের ধারা অব্যাহত রাখার পরিকল্পনার কথাও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ কোভিড নিয়ন্ত্রণে সফলতার উদাহরণ হয়েছে। এখন যে সংক্রমণ কমে গেছে এটা ধরে রাখতে হবে। সব হাসপাতালে এখন অক্সিজেন সাপোর্ট আছে।

‘১২ থেকে ১৩ কোটি মানুষকে টিকা দেয়ার টার্গেট সরকারের। এখন পর্যন্ত দেয়া হয়েছে ৩৫ ভাগ মানুষকে। এ পর্যন্ত করোনা টিকার প্রথম ডোজ ৭ কোটি ও দ্বিতীয় ডোজ সাড়ে ৪ কোটি মানুষকে দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ করোনা টিকার প্রথম ডোজ দেয়া হয়েছে ৬০ শতাংশ মানুষকে। দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছে ৩৫ শতাংশ মানুষকে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মালদ্বীপ সফরের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বুধবার মালে যাবেন সরকারপ্রধান। এই সফরে মালদ্বীপে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী পাঠানোর বিষয়ে চুক্তি সই হতে পারে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

আরও পড়ুন:
সব জেলায় বুস্টার ডোজ ‘আগামী সপ্তাহে’
সেই ভেরোনিকাকে দিয়েই বুস্টার ডোজে বাংলাদেশ
ওমিক্রন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সতর্কতা
আইসোলেশনে জাতিসংঘের মহাসচিব
ওমিক্রন ঠেকাতে দর্শনা চেকপোস্টে বাড়তি সতর্কতা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

চট্টগ্রামে ৭ জনের দেহে ‘ওমিক্রন’

চট্টগ্রামে ৭ জনের দেহে ‘ওমিক্রন’

চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: নিউজবাংলা

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গৌতম বুদ্ধ দাশ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে ওমিক্রন শনাক্তের কিটে ৭ ব্যক্তির দেহে ওমিক্রনের অস্তিত্ব মিলেছে। তবে শতভাগ নিশ্চিতের জন্য নমুনাগুলো জিনোম সিকোয়েন্সিং করতে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। রোববার ফল পাওয়া যাবে। আমরা ৯০ ভাগ নিশ্চিত তারা ওমিক্রনে আক্রান্ত।’

চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় ৭ জনের শরীরে করোনার ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ল্যাবে ওমিক্রন শনাক্তের কিটে নমুনা পরীক্ষায় এর অস্তিত্ব মেলে। ঢাকায় জিনোম সিকোয়েন্সিং পরীক্ষার পর এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গৌতম বুদ্ধ দাশ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে ওমিক্রন শনাক্তের কিটে ৭ ব্যক্তির দেহে ওমিক্রনের অস্তিত্ব মিলেছে। তবে শতভাগ নিশ্চিতের জন্য নমুনাগুলো জিনোম সিকোয়েন্সিং করতে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। রোববার ফল পাওয়া যাবে। আমরা ৯০ ভাগ নিশ্চিত তারা ওমিক্রনে আক্রান্ত।’

সিভাসুর মাইক্রো বায়োলজি ও ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও কোভিড-১৯ ল্যাবের টিম লিড ড. ইফতেখার আহমেদ রানা বলেন, ‘বিশেষ কিটে ৩৭টি নমুনা পরীক্ষায় চট্টগ্রামে ৭ জনের দেহে ওমিক্রনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। আক্রান্ত ৭ ব্যক্তিই মৃদু উপসর্গ নিয়ে নমুনা দিতে এসেছিলেন।

‘তাদের হালকা সর্দি-কাশি থাকলেও শরীরের তাপমাত্রা ৯৯-১০০ ডিগ্রির মতো ছিল। জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে, তাদের দেহে ওমিক্রনের অস্তিত্ব আছে কি না।’

এদিকে সিভাসুতে ওমিক্রন শনাক্তে গত ডিসেম্বরে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আনা হয় বিশেষ ধরনের ১০০টি কিট। যার মাধ্যমে ৩-৫ ঘণ্টার মধ্যে ওমিক্রনের উপস্থিতি জানা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন:
সব জেলায় বুস্টার ডোজ ‘আগামী সপ্তাহে’
সেই ভেরোনিকাকে দিয়েই বুস্টার ডোজে বাংলাদেশ
ওমিক্রন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সতর্কতা
আইসোলেশনে জাতিসংঘের মহাসচিব
ওমিক্রন ঠেকাতে দর্শনা চেকপোস্টে বাড়তি সতর্কতা

শেয়ার করুন

সিঙ্গেল ডোজের জনসনের টিকা ঢাকায়

সিঙ্গেল ডোজের জনসনের টিকা ঢাকায়

স্বাস্থ্য অধিদপ্তররের টিকা কমিটির সদস্য সচিব ডা. শামসুল হক বলেন, ‘আজ সকালে একটি বিশেষ ফ্লাইটে দেশে প্রথমবারের মতো জনসনের ৩ লাখ ৩৬ হাজার ডোজ করোনা টিকা এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে এই টিকা এসেছে কোভ্যাক্সের মাধ্যমে। অন্যান্য টিকা করোনা প্রতিরোধে দুই ডোজ দেয়ার প্রয়োজন হলেও এই টিকা এক ডোজ দিতে হয়।’

প্রথমবারের মতো জনসন অ্যান্ড জনসনের সিঙ্গেল ডোজের ৩ লাখ ৩৬ হাজার টিকা দেশে এসেছে। কোভ্যাক্সের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র এই টিকা দিয়েছে বাংলাদেশকে। বৃহস্পতিবার সকালে একটি বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এই টিকার চালান এসে পৌঁছেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টিকা কমিটির সদস্য সচিব ডা. শামসুল হক বৃহস্পতিবার দুপুরে নিউজবাংলাকে এসব তথ্য জানান। এর আগে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সাহায্য সংস্থা ইউএসএইড তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুকে জনসনের এই টিকা পাঠানোর উল্লেখ করে একটি পোস্ট দেয়।

ডা. শামসুল হক বলেন, ‘আজ সকালে একটি বিশেষ ফ্লাইটে দেশে প্রথমবারের মতো জনসনের ৩ লাখ ৩৬ হাজার ডোজ করোনা টিকা এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে এই টিকা এসেছে কোভ্যাক্সের মাধ্যমে। ‘এই টিকা সংরক্ষণ ও পরিবহন অনেকটা সহজ। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তেমন জটিলতা নেই। অন্যান্য টিকা করোনা প্রতিরোধে দুই ডোজ দেয়ার প্রয়োজন হলেও এই টিকা মাত্র এক ডোজ দিতে হয়।’

আরও পড়ুন:
সব জেলায় বুস্টার ডোজ ‘আগামী সপ্তাহে’
সেই ভেরোনিকাকে দিয়েই বুস্টার ডোজে বাংলাদেশ
ওমিক্রন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সতর্কতা
আইসোলেশনে জাতিসংঘের মহাসচিব
ওমিক্রন ঠেকাতে দর্শনা চেকপোস্টে বাড়তি সতর্কতা

শেয়ার করুন

তৃতীয় ঢেউয়ের দ্বারপ্রান্তে করোনা

তৃতীয় ঢেউয়ের দ্বারপ্রান্তে করোনা

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা করোনায় আক্রান্ত রোগী। ছবি: সাইফুল ইসলাম

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা অনুযায়ী টানা ১৪ দিন সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের বেশি হলে করোনার পরবর্তী ঢেউ ধরে নিতে হবে। বৃহস্পতিবার টানা ১৩ দিন সংক্রমণের হার পাওয়া গেল ৫-এর বেশি। আরেক দিন এই হারে রোগী পাওয়া গেলেই করোনার তৃতীয় ঢেউ ধরে নিতে হবে।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় শাটডাউন নামে বিধিনিষেধ চলাকালে যে হারে সংক্রমণ হতো, সেই স্মৃতি ফিরে এসেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১০ হাজার ৮৮৮ জনের দেহে ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে, যা গত ১০ আগস্টের পর সর্বোচ্চ।

শাটডাউন চলাকালে সেদিন দেশে ২৪ ঘণ্টায় ১১ হাজার ১৬৪ জনের দেহে সংক্রমণ ধরা পড়েছিল। সেই দিনটি ছিল শাটডাউনের শেষ দিন। এর পরদিন থেকে বিধিনিষেধ শিথিল করা হতে থাকে।

বেশ কয়েক মাস পর দেশের ৬৪ জেলাতেই রোগী পাওয়া গেল।

বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক বিবৃতিতে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমণ, সংক্রমণের হার ও মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়।

এতে জানানো হয়, বুধবার সকাল থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত দেশে করোনার পরীক্ষা হয়েছে ৪১ হাজার ২৯৯ জনের। এদের মধ্যে ২৬.৩৭ শতাংশের দেহে সংক্রমণ ধরা পড়েছে।

২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণের হার শাটডাউনের সময়কালের ৫ আগস্টের পর সর্বোচ্চ। সেদিন ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণের হার ছিল ২৭.১২ শতাংশ।

এ নিয়ে টানা ১৩ দিন ৫ শতাংশের বেশি সংক্রমণ ধরা পড়ল। বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার নীতিমালা অনুযায়ী আর এক দিন ৫ শতাংশের বেশি সংক্রমণ পাওয়া গেলেই দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউ ধরে নিতে হবে।

গত ৪ অক্টোবর করোনার দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসার পর তৃতীয় ঢেউয়ের প্রাথমিক লক্ষণ ধরা পড়ে গত ৯ জানুয়ারি। সেদিন সংক্রমণের হার ৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। এরপর ১৩ দিনে তা পাঁচ গুণ বাড়ল।

বুধবার সকাল থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত দেশে করোনার পরীক্ষা হয়েছে ৪১ হাজার ২৯৯ জনের। এদের মধ্যে ২৬.৩৭ শতাংশের দেহে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণের হার শাটডাউনের সময়কালের ৫ আগস্টের পর সর্বোচ্চ। সেদিন ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণের হার ছিল ২৭.১২ শতাংশ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা অনুযায়ী টানা ১৪ দিন সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের বেশি হলে করোনার পরবর্তী ঢেউ ধরে নিতে হবে।

রোগী বাড়লেও মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৪ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, আগের দিন যা ছিল ১২ জন।

করোনার প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ে মৃত্যুর হার তুলনামূলক বেশি হলেও তৃতীয় ঢেউয়ের আগে আগে এই হার বেশ কম।

এখন পর্যন্ত ভাইরাসটিতে ২৮ হাজার ১৭৬ জনের মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়েছে।

এখন পর্যন্ত ভাইরাসটিতে সংক্রমিত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে ১৬ লাখ ৫৩ হাজার ১৮২ জন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৫৪ হাজার ৮৪৫ জন।

প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ের মতোই তৃতীয় ঢেউয়েও রোগী বেশি পাওয়া যাচ্ছে ঢাকা বিভাগে। গত ২৪ ঘণ্টায় যত রোগী পাওয়া গেছে, তার ৭০ শতাংশের মতোই পাওয়া গেছে এই বিভাগে।

পৌনে ১১ হাজার রোগীর মধ্যে ৭ হাজার ৩৭৯ জনই এই বিভাগের।

আরও পড়ুন:
সব জেলায় বুস্টার ডোজ ‘আগামী সপ্তাহে’
সেই ভেরোনিকাকে দিয়েই বুস্টার ডোজে বাংলাদেশ
ওমিক্রন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সতর্কতা
আইসোলেশনে জাতিসংঘের মহাসচিব
ওমিক্রন ঠেকাতে দর্শনা চেকপোস্টে বাড়তি সতর্কতা

শেয়ার করুন

স্ত্রীসহ করোনামুক্ত মির্জা ফখরুল

স্ত্রীসহ করোনামুক্ত মির্জা ফখরুল

স্ত্রীর সঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

তাদের কন্যা মির্জা সাফারুহ বৃহস্পতিবার বিকেলে নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘গতকাল করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। আজকে দুপুরে রিপোর্ট এসেছে। রিপোর্ট নেগেটিভ।’

আক্রান্ত হওয়ার ৯ দিনের মধ্যে করোনাভাইরাসমুক্ত হলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও তার স্ত্রী রাহাত আরা বেগম।

তাদের কন্যা মির্জা সাফারুহ বৃহস্পতিবার বিকেলে নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘গতকাল করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। আজকে দুপুরে রিপোর্ট এসেছে। রিপোর্ট নেগেটিভ।’

মির্জা ফখরুল ও তার স্ত্রীর করোনামুক্তির তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খানও।

তিনি বলেন, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, তার স্ত্রী রাহাত আরা এবং তার বাসার অন্যরা করোনা পজেটিভ হয়েছিলেন। সবশেষ পরীক্ষার রিপোর্টে সবাই নেগেটিভ এসেছেন।

গত ১১ জানুয়ারি মির্জা ফখরুল ও তার স্ত্রীর করোনা আক্রান্তের খবর আসে। তখন থেকেই রাজধানীর উত্তরায় নিজ বাসায় আইসোলেশনে ছিলেন তারা।

করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আগে সবশেষ গত ৮ জানুয়ারি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের ব্যানারে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে কয়েক হাজার নেতা-কর্মীর এক সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ফখরুল।

বিএনপির শীর্ষস্থানীয় অনেক নেতাই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। গত বছরের ১০ এপ্রিল দলচির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এই ভাইরাসে আক্রান্ত হন। গুলশানের বাসায় ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে রেখে চিকিৎসকরা তার চিকিৎসা দেন। করোনা পরবর্তী জটিলতায় তাকে ভর্তি করা হয় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে।

এ ছাড়া, গত বছর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসুর মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান কামাল ইবনে ইউসুফ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা এবং দলের স্থায়ী কমিটি থেকে অবসর নেয়া সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মাহবুবুর রহমান সস্ত্রীক করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন।

বিএনপি চেয়ারপারসনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা চিকিৎসার মাধ্যমে সেরে উঠলেও করোনায় মারা যান দলের ভাইস চেয়ারম্য্যান কামাল ইবনে ইউসুফ, কেন্দ্রীয় নেতা খুররম খান চৌধুরী, খন্দকার আহাদ আহমেদ, আবদুল আউয়াল খান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসানসহ বেশকিছু নেতা।

আরও পড়ুন:
সব জেলায় বুস্টার ডোজ ‘আগামী সপ্তাহে’
সেই ভেরোনিকাকে দিয়েই বুস্টার ডোজে বাংলাদেশ
ওমিক্রন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সতর্কতা
আইসোলেশনে জাতিসংঘের মহাসচিব
ওমিক্রন ঠেকাতে দর্শনা চেকপোস্টে বাড়তি সতর্কতা

শেয়ার করুন

স্বাস্থ্যবিধি মানাতে ডিসিদের কঠোর হওয়ার নির্দেশ

স্বাস্থ্যবিধি মানাতে ডিসিদের কঠোর হওয়ার নির্দেশ

করোনার সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে ডিসিদের আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘কোভিড বাড়ছে, সরকার আতঙ্কিত না হলেও চিন্তিত। করোনা নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু বিধিনিষেধ দেয়া হয়েছে। যারা স্বাস্থ্যবিধি মানবে না তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলেছি। আগে যে ধরনের সহযোগিতা উনাদের কাছ থেকে পেয়েছি, সে ধরনের সহযোগিতা আগামীতেও পাব বলে আশা করছি।’

করোনাভাইরাসের ক্রমবর্ধমান সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারের ১১ দফা নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকদের আইনি ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার সকালে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের তৃতীয় দিনের প্রথম অধিবেশনে অংশগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘কোভিড বাড়ছে, সরকার আতঙ্কিত না হলেও চিন্তিত। করোনা নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু বিধিনিষেধ দেয়া হয়েছে। যারা স্বাস্থ্যবিধি মানবে না তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলেছি। আগে যে ধরনের সহযোগিতা উনাদের কাছ থেকে পেয়েছি, সে ধরনের সহযোগিতা আগামীতেও পাব বলে আশা করছি।

‘অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হতে হলে আমাদের অবশ্যই করোনা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। করোনা নিয়ন্ত্রণে ছিল, করোনা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা আমাদের রাখতে হবে। পাশাপাশি ভ্যাকসিনের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। ভ্যাকসিন কার্যক্রমেও ডিসিরা সহযোগিতা করছেন।’

অল্প সময়ের মধ্যে দেশের সব মানুষকে টিকার আওতায় আনতে জেলা প্রশাসকদের সহযোগিতা চেয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ইতিমধ্যে ১৫ কোটি ডোজ দেয়া হয়ে গেছে। সরকারের হাতে এখনও ৯ কোটি ডোজ টিকা রয়েছে। টার্গেট ১২ কোটি মানুষের ভ্যাকসিনেশন করতে যে টিকা লাগবে, সে টিকা সরকারের হাতে রয়েছে। এটি বিরাট বিষয়। অনেক দেশে এই পরিমাণ টিকা নাই। মজুত টিকা দিয়ে মাধ্যমে ১২ কোটি মানুষকে দ্বিতীয় দ্বিতীয় ডোজ দেয়া সম্ভব হবে।

এরই মধ্যে ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে টিকার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, এক মাসের মধ্যে ১ কোটি ২৫ লাখ শিক্ষার্থীকে করোনার টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী ভ্যাকসিনেশন কমপ্লিট। যারা বাকি রয়েছে তাদেরও দ্রুত টিকার আওতায় আনা সম্ভব হবে।

ডিসিরা কোনো দাবি জানিয়েছে কি না- এমন প্রশ্নে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জেলাপর্যায়ে প্রতিটি জেলায় হাসপাতাল নির্মাণে জেলা প্রশাসকদের একটি দাবি ছিল। সেই বিষয়ে আমরা কাজ করছি। ইতিমধ্যে জেলা পর্যায়ে হাসপাতালগুলোর নির্মাণ কাজ চলমান।

‘কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আটটি হাসপাতাল উদ্বোধন করেছেন, যার একেকটি সাড়ে ৪০০ বেডের। এখানে ক্যানসার কিডনি ও হার্টের রোগের চিকিৎসা হবে। সামনেও এমন হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা আমরা হাতে নিয়েছি।’

নদী দূষণে জড়িত শিল্প-কারখানার দিকে নজর দিতেও ডিসিদের আহ্বান জানিয়েছেন বলেন জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, নদী ও পানি দূষণ হওয়ার কারণে স্বাস্থ্যহানি হচ্ছে। এই পানি যারা ব্যবহার করছে, তারা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এই বিষয়ে নজর দিতে হবে।

আরও পড়ুন:
সব জেলায় বুস্টার ডোজ ‘আগামী সপ্তাহে’
সেই ভেরোনিকাকে দিয়েই বুস্টার ডোজে বাংলাদেশ
ওমিক্রন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সতর্কতা
আইসোলেশনে জাতিসংঘের মহাসচিব
ওমিক্রন ঠেকাতে দর্শনা চেকপোস্টে বাড়তি সতর্কতা

শেয়ার করুন

করোনা সংক্রমণ থামাতে ৫ সুপারিশ

করোনা সংক্রমণ থামাতে ৫ সুপারিশ

সরকারকে বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণসহ পাঁচ পরামর্শ দিয়েছে করোনা নিয়ন্ত্রণে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। ফাইল ছবি

সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণ জনগণকে বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণের সুপারিশ করেছে জাতীয় পরামর্শক কমিটি।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকারকে পাঁচ পরামর্শ দিয়েছে জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। এতে বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণসহ করোনা নিয়ন্ত্রণে বেশকিছু পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

কারিগরি কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মাে. সহিদুল্লা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার রাতে এ তথ্য জানা গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, করোনা সংক্রমণ প্রতিদিন বাড়ছে। এ বিষয়ে কমিটির সদস্যদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা শেষে ৫ দফা সুপারিশ করা হয়েছে।

সুপারিশগুলো হচ্ছে- কোভিড-১৯ পজিটিভ রোগীরা লক্ষণ প্রকাশের ১০ দিন পর্যন্ত আইসোলেশনে থাকবেন। কোভিড-১৯ নিশ্চিত রোগীর সংস্পর্শে এসেছেন এমন ব্যক্তি, যাদের কোনো উপসর্গ নেই, তাদের কোয়ারেন্টিনের প্রয়োজন নেই। তবে আঁটোসাঁটো মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করতে হবে।

বিমানবন্দরসহ সব পোর্ট অব এন্ট্রিতে সরকারি স্বাস্থ্য নির্দেশনা যথাযথভাবে পালনের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে নজরদারি বাড়াতে হবে।

সব সরকারি হাসপাতালে সার্বক্ষণিক কোভিড-১৯ ও নন-কোভিড সব রোগীর জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।

মন্ত্রিপরিষদের জারি করা প্রজ্ঞাপন বাস্তবায়নের জন্য অংশীদের যেমন- পরিবহন মালিক সমিতি, দোকান মালিক সমিতি, রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির নেতাদেরসহ সবাইকে সম্পৃক্ত করে পদক্ষেপ নিতে হবে।

সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণ জনগণকে বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণের সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া জনপ্রতিনিধি ও ধর্মীয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণকে সঠিকভাবে মাস্ক পরা ও অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধকরণের সুপারিশ করা হয়।

আরও পড়ুন:
সব জেলায় বুস্টার ডোজ ‘আগামী সপ্তাহে’
সেই ভেরোনিকাকে দিয়েই বুস্টার ডোজে বাংলাদেশ
ওমিক্রন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সতর্কতা
আইসোলেশনে জাতিসংঘের মহাসচিব
ওমিক্রন ঠেকাতে দর্শনা চেকপোস্টে বাড়তি সতর্কতা

শেয়ার করুন

‘শাটডাউন’ পরিস্থিতি, তবু লকডাউন নয়

‘শাটডাউন’ পরিস্থিতি, তবু লকডাউন নয়

আইইডিসিআর পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে, আমরা বিষয়টি নজরে রাখছি। এখন পর্যন্ত লকডাউনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। শুধু করোনা শনাক্ত হার বা সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় না। জীবিকা ও অর্থনীতির বিষয়টিও আমাদের মাথায় রাখতে হয়।’

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ক্রমাগত বাড়ছে। বুধবার সকাল পর্যন্ত পূববর্তী ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হার ২৫ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। সংক্রমণের এই হার গত ৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এমন মাত্রায় সংক্রমণ দেখা দেয়ার পর গত বছরের জুলাইয়ে দেশে শাটডাউন ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার লকডাউনের কথাও এখনই ভাবছে না।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের শঙ্কা, এখনই যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। তারা বলছেন, সংক্রমণের এই হার দুই সপ্তাহ অব্যাবহ থাকলে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। ভেঙে পড়তে পারে হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা।

সরকারও পরিস্থিতির ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চলমান বিধি-নিষেধ কার্যকরে ক্রমশ কঠোরতা আরোপ করা হচ্ছে। তবে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এখনই লকাডাউনের মতো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না সরকার।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, দেশে করোনা সংক্রমণের মাত্রা বিবেচনায় উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে ১২টি জেলা। সপ্তাহখানেক আগেও রেড জোনে ছিল দুটি জেলা-রাঙ্গামাটি ও ঢাকা। কয়েকদিনের মধ্যে নতুন করে ১০টি জেলা উচ্চ ঝুঁকিতে প্রবেশ করেছে।

গত ৯ দিনে সংক্রমণের হার ২০ শতাংশ বেড়েছে। ওমিক্রন নিয়ন্ত্রণে ১১ দফা সুপারিশ ও নির্দেশনা না মানা এবং সব ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করার পরও সংক্রমণ পরিস্থিতির ক্রমেই অবনতি হচ্ছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সাড়ে ৯ হাজার মানুষের শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়েছে। নমুনা পরীক্ষা বিচেনায় শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ২৫ দশমিক ১১ শতাংশ। এ সময়ে করোনা সংক্রমণে মারা গেছেন ১২জন।

‘শাটডাউন’ পরিস্থিতি, তবু লকডাউন নয়

দেশে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৬ লাখ ৪২ হাজার ২৫৪ জনের দেহে। তাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৮ হাজার ১৭৬ জনের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত সাত দিনে দেশজুড়ে করোনা শনাক্তের সংখ্যা ছিল ৩৪ হাজার ৪০৫ জন। এটা পূর্ববর্তী সাত দিনের (৩-৯ জানুয়ারি) চেয়ে ২৩ হাজার ৯৩১ জন বেশি। এই সময়ে শনাক্ত বেড়েছে ২২৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত এক সপ্তাহে মৃত্যু হয়েছে ৫৭ জনের, যা পূর্ববর্তী সপ্তাহের চেয়ে ৩৭ জন বেশি।

ঢাকাকে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জেলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অধিদপ্তরের হিসাবে, গত কয়েক দিন ধরে সারাদেশে মোট করোনা আক্রান্তের ৮০ শতাংশের কাছাকাছি রোগী পাওয়া গেছে ঢাকায়।

দেশে করোনা সংক্রমণ গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ২ শতাংশের নিচে ছিল। ১১ জানুয়ারি শনাক্ত হার ৫ ছাড়িয়ে যায়। গত ৯ দিনে শনাক্ত ২০ শতাংশ বেড়ে বুধবার তা ২৫ দশমিক ১১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

‘শাটডাউন’ পরিস্থিতি, তবু লকডাউন নয়

এমন পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল গত বছরের আগস্টে। সংক্রমণ ২০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তখন শাটডাউনের সুপারিশ করে করোনা নিয়ন্ত্রণে গঠিত জাতীয় টেকনিক্যাল কমিটি।

এবার সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়তে থাকলেও এখনই শাটডাউনের চিন্তা করছে না স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের। কেননা সংক্রমণের তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যাটা অনেক কম। সে সময় দিনে করোনায় শতাধিক মানুষের মৃত্যুর সংবাদ এলেও এবার সংখ্যাটা ১০ থেকে ১২ জনে সীমাবদ্ধ রয়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে লকডাউনের পরিকল্পনা আছে কি না জানতে চাইলে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে, আমরা বিষয়টি নজরে রাখছি। এখন পর্যন্ত লকডাউনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।

‘সব পরিস্থিতি বিবেচনা করে লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। শুধু করোনা শনাক্তের হার বা সংক্রমণ ও মৃত্যুর বিষয় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় না। জীবিকা ও অর্থনীতির বিষয়টিও আমাদের মাথায় রাখতে হয়।’

আগামীতে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে লকডাউন দেয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি না করার অনুরোধ জানান তিনি।

আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ‘দিন দিন সংক্রমণ বাড়ছেই। তা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এখনই দিনে ৩০ থেকে ৫০ হাজার শনাক্ত ধরা পড়তে পারে, যদি যথেষ্ট পরিমাণে টেস্ট করা হয়।’

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ লেলিন চৌধুরী বলেন, ‘দেশে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন ধরা পড়ার পর ধারণা করো হয়েছিল তা প্রতিরোধে সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। তা হয়নি। দ্রুততার সঙ্গে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। করণীয় নির্ধারণে সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে। অন্য দেশে যখন ওমিক্রমের সংক্রমণ ক্রমে বাড়ছে তখনও দেশে নানা ধরনের মেলা ও নির্বাচন চলতে দেখেছি। এই সময়ের মধ্যে দেশে ওমিক্রন ও ডেল্টা বেড়েছে। ফলে দেশে সংক্রমণ ২৫ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে।

করোনার সার্বিক পরিস্থিতি সব অর্থেই ভয় জাগাচ্ছে। এ ছাড়া ওমিক্রনের বিস্তার রোধে সরকার যে ১১ দফা বিধিনিষেধ দিয়েছে তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। ফলে কিছুদিনের মধ্যে হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়বে। চিকিৎসকের ওপরও বাড়তি চাপ পড়বে। চাপ বাড়বে। এমনকি হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। তাই টিকার পরিসর বাড়াতে হবে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবির বলেন, ‘জনগণ সচেতন না হলে, তারা স্বাস্থ্যবিধি না মানলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। তবে কয়েক দিনের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি বাস্তবায়নে কঠোর হবে সরকার।’

আরও পড়ুন:
সব জেলায় বুস্টার ডোজ ‘আগামী সপ্তাহে’
সেই ভেরোনিকাকে দিয়েই বুস্টার ডোজে বাংলাদেশ
ওমিক্রন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সতর্কতা
আইসোলেশনে জাতিসংঘের মহাসচিব
ওমিক্রন ঠেকাতে দর্শনা চেকপোস্টে বাড়তি সতর্কতা

শেয়ার করুন