গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে যুবক আটক

player
গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে যুবক আটক

এ ভবনের তৃতীয় তলায় গৃহবধূর ওপর হামলা করেন অভিযুক্ত। ছবি: নিউজবাংলা

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফিরোজ কবির বলেন, ‘হত্যার সঠিক কারণ জানা যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বশত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তারপরও বিস্তারিত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

পাবনার ঈশ্বরদীতে এক গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। আহত হয়েছেন ওই নারীর স্বামী।

এ ঘটনায় সুমন আলী নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা। ৩০ বছর বয়সী সুমনের বাড়ি উপজেলার সরাইকান্দি গ্রামে।

উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের মুনশিদপুর গ্রামে মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

ওই গৃহবধূর নাম শারমিন শিলা। ৩২ বছরের শারমিন গ্রামের রানাউর রহমানের স্ত্রী।

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফিরোজ কবির নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়দের বরাতে তিনি বলেন, ‘তিনতলা বাড়ির তৃতীয় তলায় থাকতেন শারমিন-রানাউর দম্পতি। সকালে শারমিন ঘরের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। পাশের ঘরে তার স্বামী ঘুমাচ্ছিলেন। আর তার শ্বশুর-শাশুড়ি হাঁটতে বের হন।

বাড়ির প্রধান দরজা খোলা ছিল। এ সময় অভিযুক্ত সুমন বাড়িতে ঢুকে শারমিনকে ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। তার চিৎকার শুনে রানাউর স্ত্রীকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তাকেও আঘাত করেন হামলাকারী।

এ সময় দুইজনের ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে হামলাকারী সুমনকে ছাদ থেকে নিচে ফেলে দেন রানাউর। পরে এলাকাবাসী তাকে আহত অবস্থায় আটক করে ও পুলিশে খবর দেয়। এর মধ্যে ঘটনাস্থলেই মারা যান গৃহবধূ শারমিন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুমনকে আটক ও গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে।

আহত রানাউর রহমানকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে এবং সুমনকে পুলিশি পাহাড়ায় ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘হত্যার সঠিক কারণ জানা যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বশত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তারপরও বিস্তারিত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

‘মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

শাবি উপাচার্য ভবনের অবরোধ প্রত্যাহার

শাবি উপাচার্য ভবনের অবরোধ প্রত্যাহার

বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র মোহাইমিনুল বাশার রাজ বলেন, ‘আমাদের ৫ দাবির মধ্যে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অর্থদানের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৫ সাবেক শাবি শিক্ষার্থীর জামিন মঞ্জুর হয়েছে। অজ্ঞাতনামা শিক্ষার্থীদের নামে করা মামলা প্রত্যাহার হয়েছে। অনশনকারী শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা খরচ মিটিয়ে দেয়া হয়েছে। ১৬ জানুয়ারি উপাচার্যের মদদে সংঘটিত পুলিশি হামলায় গুরুতর আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়া হবে বলে আশ্বাস দেয়া হয়েছে।

অনশন ভাঙার পর এবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালের উপাচার্যকে বাসভবন অবরুদ্ধ করে রাখার কর্মসূচি থেকে সরে এসেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। সংবাদ সম্মেলন করে বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এই সিদ্ধান্ত জানান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র মোহাইমিনুল বাশার রাজ।

তিনি বলেন, ‘জাফর স্যার এবং ইয়াসমিন ম্যামের অনুরোধে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক এবং উপাচার্যের বাসভবনের সামনে থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

‘আমাদের ৫ দাবির মধ্যে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অর্থদানের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৫ সাবেক শাবি শিক্ষার্থীর জামিন মঞ্জুর হয়েছে। অজ্ঞাতনামা শিক্ষার্থীদের নামে করা মামলা প্রত্যাহার হয়েছে। অনশনকারী শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা খরচ মিটিয়ে দেয়া হয়েছে। ১৬ জানুয়ারি উপাচার্যের মদদে সংঘটিত পুলিশি হামলায় গুরুতর আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়া হবে বলে আশ্বাস দেয়া হয়েছে।

রাজ আরও বলেন, ‘আমাদের মূল দাবি উপাচার্য ফরিদ উদ্দিনকে প্রত্যাহার এবং ছাত্র উপদেষ্টা ও প্রক্টোরিয়াল বডির অপসারণের বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে জাফর স্যার এবং ইয়াসমিন ম্যাম শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এই দাবি পূরণে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করার দায়িত্ব নিয়েছেন। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের সব আবাসিক হল যা বর্তমানে শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্যোগে সচল আছে, সেগুলোও পুরোদমে চালু হবে বলে জানিয়েছেন।’

উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে জানিয়ে রাজ বলেন, ‘উপাচার্য ফরিদ উদ্দিনের আহমদের বাসার সামনে যে মানব প্রাচীর আছে, তা তুলে নেয়া হবে।’

আন্দোলনের শুরু যেভাবে

শাবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের শুরু ১৩ জানুয়ারি। রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদ লিজার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন হলের কয়েক শ ছাত্রী।

১৬ জানুয়ারি বিকেলে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি ভবনে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করেন। তখন শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করে উপাচার্যকে মুক্ত করে পুলিশ। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। পুলিশ সে সময় সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট ছোড়ে। শিক্ষার্থীরাও ইট-পাটকেল ছোড়ে। এ ঘটনায় পুলিশ, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ অর্ধশত আহত হন।

সে রাতেই বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীরা তা উপেক্ষা করে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে তার পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন নামেন।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, উপাচার্যই পুলিশ ডেকে তাদের ওপর হামলার নির্দেশ দেন। এ কারণে তারা উপাচার্যের পদত্যাগ চান।

বাসভবনের সামনে অবস্থানের কারণে গত ১৭ জানুয়ারি থেকেই অবরুদ্ধ ছিলেন উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদ।

১৯ জানুয়ারি বেলা ৩টা থেকে উপাচার্যের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরণ অনশনে বসেন ২৪ শিক্ষার্থী।

তাদের মধ্যে একজনের বাবা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় তিনি অনশন শুরুর পরদিনই বাড়ি চলে যান। ২৩ জানুয়ারি আরও চারজন ও ২৪ জানুয়ারি একজন শিক্ষার্থী অনশনে যোগ দেন।

এর মাঝে উপাচার্য ইস্যুতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ২২ জানুয়ারি গভীর রাতে ভার্চুয়ালি বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী। বৈঠকে উপাচার্যের পদত্যাগের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না এলেও দাবিগুলো লিখিতভাবে জমা দেয়ার পরামর্শ দেন তিনি। সেই সঙ্গে অনশন ভাঙার অনুরোধও জানান শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

তবে বৈঠকের পর শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের মূল দাবি উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগ। এই দাবি না মানা পর্যন্ত তারা আন্দোলন থেকে সরবেন না, অনশনও চালিয়ে যাবেন।

২৩ জানুয়ারি রাতে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনের পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। ২৮ ঘণ্টা পর সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় চালু করেন তারা।

শেয়ার করুন

মেয়েকে গুম, বাবার যাবজ্জীবন

মেয়েকে গুম, বাবার যাবজ্জীবন

আদালত প্রাঙ্গণে যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত লুৎফর রহমান।

মামলা সূত্রে জানা যায়, পীরগাছা উপজেলার মকরমপুর গ্রামের লুৎফর রহমানের মেয়ে রাবেয়া খাতুন ভালোবেসে বিয়ে করেন একই এলাকার আব্দুর রশীদ নামে এক যুবককে। এই বিয়ে কেন্দ্র করেই শুরু হয় দুই পরিবারের মধ্যে শত্রুতা।

নিজের মেয়েকে অপহরণ ও গুমের মামলায় বাবা লুৎফর রহমানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছে রংপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত-২।

বুধবার ওই আদালতের বিচারক মো. রোকনুজ্জামান রায়টি ঘোষণা করেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, পীরগাছা উপজেলার মকরমপুর গ্রামের লুৎফর রহমানের মেয়ে রাবেয়া খাতুন ভালোবেসে বিয়ে করেন একই এলাকার আব্দুর রশীদ নামে এক যুবককে।

এ নিয়ে রাবেয়ার পরিবারের সঙ্গে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে রাবেয়ার ভাশুর হোসেন আলী হত্যার শিকার হন।

এ ঘটনায় রাবেয়ার বাবাসহ তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়। মামলায় লুৎফর রহমানসহ অন্য আসামিরা নিম্ন আদালতে খালাস পান।

কিন্তু হত্যাকাণ্ডের একমাত্র চাক্ষুস সাক্ষী ছিলেন ৩৫ বছরের রাবেয়া খাতুন। এ ঘটনার পর রাবেয়া খাতুন অনেকবার তার বাবা লুৎফর রহমানকে হুমকি দেন, তিনি বিষয়টি উচ্চ আদালতে সাক্ষ্য দেবেন।

এর জের ধরে নিজের মেয়েকেই হত্যার পরিকল্পনা করেন লুৎফর রহমান।

২০০৩ সালের ২০ এপ্রিল মেয়ে রাবেয়াকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার জন্য পীরগাছা চৌধুরানী বাজারে ঢাকা বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে যান লুৎফর। সেখানে তার বেশ কয়েকজন সহযোগীও ছিলেন। কিন্তু রাবেয়া বিষয়টি বুঝতে পেরে চিৎকার শুরু করলে লুৎফর তাকে আবারও বাড়িতে নিয়ে যান।

একই বছরের ২৭ মে থেকে রাবেয়া নিখোঁজ হন। পরে তার ছেলে রাঙ্গা মিয়া পীরগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। সেটি আদালতে পাঠায় পুলিশ। আদালত সাধারণ ডায়েরিটিকে তদন্ত করে এজাহার হিসেবে রেকর্ড করার নির্দেশ দেন।

পরে পুলিশ তদন্ত শেষে লুৎফর রহমানসহ ১০ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। এর মধ্যে এক আসামি মারা যান। মামলায় ১৪ সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা শেষে আসামি লুৎফর রহমানকে দোষি সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। অন্য আসামিদের খালাস দেয় আদালত।

সরকারপক্ষের আইনজীবী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত-২-এর বিশেষ পিপি জাহাঙ্গীর হোসেন তুহিন বলেন, দীর্ঘদিন পর চাঞ্চল্যকর একটি মামলার রায় হয়েছে। রায়ে প্রধান অভিযুক্ত সাজা পেলেও অন্য আসামিরা খালাস পেয়েছেন।

বাদীর সঙ্গে আলোচনাসাপেক্ষে রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

কাদের মির্জার বিরুদ্ধে ৭ প্রার্থীর যত অভিযোগ

কাদের মির্জার বিরুদ্ধে ৭ প্রার্থীর যত অভিযোগ

বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জা। ছবি: নিউজবাংলা

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ‘আব্দুল কাদের মির্জা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তার অনুসারী জনবিচ্ছিন্ন প্রার্থীদের নির্বাচিত করতে সাতটি ইউনিয়নে হীনচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি ইতোমধ্যে তার সন্ত্রাসীদের দিয়ে এবং সশরীরে বিভিন্ন ইউনিয়নের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে উপস্থিত হয়ে আমাদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন।’

নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জার বিরুদ্ধে ইউপি নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাত ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী বুধবার দুপুরে একসঙ্গে নোয়াখালীর পুলিশ সুপার কার্যালয় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এই লিখিত অভিযোগ দেন।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ‘আব্দুল কাদের মির্জা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তার অনুসারী জনবিচ্ছিন্ন প্রার্থীদের অবৈধভাবে নির্বাচিত করতে সাতটি ইউনিয়নে হীনচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি ইতোমধ্যে তার সন্ত্রাসীদের দিয়ে এবং সশরীরে বিভিন্ন ইউনিয়নের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে উপস্থিত হয়ে আমাদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। মোবাইল ফোনেও অনেককে হুমকি দিচ্ছেন। এতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।’

আরও বলা হয়, ‘তিনি নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে পৌরসভার সরকারি গাড়িতে তার সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের নিয়ে বিভিন্ন গণসংযোগে উসকানিমূলক বক্তব্য রাখছেন। এতে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দাঙ্গা-হাঙ্গামাসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংগঠিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই অবস্থায় আব্দুল কাদের মির্জার এমন উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধসহ তার অনুসারীদের কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা জরুরি।

লিখিত অভিযোগ দেয়া প্রার্থীরা হলেন ২ নম্বর চরপার্বতী ইউপির চেয়ারম্যান প্রার্থী মাহবুবুর রশীদ মঞ্জু, মুছাপুর ইউপির চেয়ারম্যান প্রার্থী নজরুল ইসলাম চৌধুরী শাহীন, ৮ নম্বর চরএলাহী ইউপির প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাক, ৬ নম্বর রামপুর ইউপির প্রার্থী সিরাজিস সালেকীন রিমন, ৩ নম্বর চরহাজারী ইউপিতে নুরুজ্জামান স্বপন, ৫ নম্বর চরফকিরা ইউপির প্রার্থী জায়দল হক কচি ও ১ নম্বর সিরাজপুর ইউপির প্রার্থী মাঈন উদ্দিন মামুন।

অভিযোগের বিষয়ে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জা বলেন, ‘আমি কোনো সন্ত্রাসী নিয়ে চলি না। আমার দলের নেতাকর্মী আমার সঙ্গে থাকে। অবাধ-সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন করার জন্য প্রশাসন আমার থেকে যে সহযোগিতা চায়, সে সহযোগিতা করব।’

নোয়াখালী জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, অভিযোগ করার বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে এখনও অভিযোগপত্র আমার হাতে আসেনি।’

শেয়ার করুন

সাত জেলায় বিয়ে করে অভিনব প্রতারণা, যুবক গ্রেপ্তার

সাত জেলায় বিয়ে করে অভিনব প্রতারণা, যুবক গ্রেপ্তার

প্রতারণার অভিযোগে আটক শাকিল আজাদ। ছবি: নিউজবাংলা

অভিযুক্ত শাকিল আজাদ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে প্রথমেই নিম্ন আয়ের পরিবার খোঁজেন। পরে সেই পরিবারের মেয়েকে বিয়ে করে শুরু করেন আসল প্রতারণা।

প্রতারণার মাধ্যম হিসেবে বিয়েকেই বেছে নিয়েছিলেন অভিযুক্ত যুবক। যেখানে বিয়ে করেন, সেখানেই নিজেকে কাতার প্রবাসী পরিচয় দেন। পরে এলাকার বেকার যুবকদের কাতারে নেয়ার কথা বলে হাতিয়ে নেন টাকা-পয়সা।

এভাবে একে একে সাত জেলায় সাতটি বিয়ে করেন ২৯ বছর বয়সী শাকিল আজাদ। তার বাড়ি কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায়।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করলে মঙ্গলবার গভীর রাতে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকা থেকে শাকিলকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এ সময় তার কাছ থেকে সাতটি পাসপোর্টও জব্দ করা হয়।

বুধবার বেলা ১টার দিকে কুমিল্লা র‌্যাব-১১-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মেজর সাকিব জানান, গ্রেপ্তার শাকিল আজাদ প্রতারণার মাধ্যমে এখন পর্যন্ত কুমিল্লা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, রংপুর, নীলফামারী ও ফরিদপুরে বিয়ে করেছেন।

প্রথমে তিনি বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ওই এলাকার নিম্ন আয়ের পরিবার খোঁজেন। পরে সেই পরিবারের মেয়েকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ির এলাকার বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসায় দান-খয়রাত করেন। নিজেকে পরিচয় দেন কাতার প্রবাসী হিসেবে।

এভাবে শ্বশুরবাড়ির এলাকার বেকার যুবকদের কাতার নেয়ার কথা বলে টাকা-পয়সা হাতিয়ে উধাও হয়ে যান। পরে প্রতারণার শিকার বেকার যুবকরা তার শ্বশুরবাড়ি গিয়ে টাকার জন্য চাপ দেন।

এসব ঘটনায় একদিকে কন্যাকে নিয়ে দুশ্চিন্তা, অন্যদিকে টাকা ফেরত দেয়ার জন্য এলাকার যুবকদের চাপে অসহ্য হয়ে উঠত ওই পরিবারের মানুষদের জীবন।

২০১৮ সালে আজাদ চতুর্থ বিয়েটি করেন খুলনায়। ওই এলাকা থেকে তিনি বেশ কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে উধাও হন। পরে এলাকাবাসীর রোষানলে পড়ে ওই পরিবারটি এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়।

১৫ দিন আগে আজাদের চতুর্থ স্ত্রী কুমিল্লার র‌্যাব অফিসে একটি অভিযোগ করেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

কমান্ডার সাকিব আরও জানান, বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইতিপূর্বে আজাদের পাসপোর্টটি বাতিল করেছে। বর্তমানে তিনি ছদ্মবেশে চট্টগ্রামে একটি বেকারি খুলে ব্যবসা করছিলেন।

শাকিলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বরুড়া থানায় হস্তান্তর করা হবে।

শেয়ার করুন

নির্মাণকাজ ও বৃষ্টিতে টঙ্গীতে যানজট চরমে

নির্মাণকাজ ও বৃষ্টিতে টঙ্গীতে যানজট চরমে

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গীতে থমকে থাকা যানবাহন। ছবি: নিউজবাংলা

বলাকা পরিবহনের যাত্রী রেজাউল করিম বলেন, ‘বিকেল ৪টায় টঙ্গীর চেরাগআলী থেকে উত্তরার রাজলক্ষ্মীর উদ্দেশে রওনা দিই। পথের দূরত্ব মাত্র ১০ মিনিটের। অথচ টঙ্গী ব্রিজ পার হতেই সময় লেগেছে দেড় ঘণ্টা। সড়কের বিভিন্ন স্থান কাদায় মাখামাখি হওয়ায় হেঁটে যাওয়ারও উপায় নেই।’

বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের নির্মাণকাজের জন্য এমনিতেই তীব্র যানজটের মুখে পড়তে হয় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী এলাকা ব্যবহার করা যাত্রীদের। সেই ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে বুধবার সকাল থেকে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টিতে।

খানাখন্দে ভরা রাস্তায় বৃষ্টির পানি জমায় যান চলাচল করছে ধীরগতিতে। আর এতেই দেখা দিয়েছে তীব্র জট। অনেকে বিকল্প রাস্তায় যাচ্ছেন গন্তব্যে।

পরিস্থিতি দেখতে সকাল থেকেই ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গীতে অবস্থান নেন নিউজবাংলার প্রতিবেদক।

দেখা যায় গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টিতে বেলা ১১টা থেকে থেমে থেমে যান চলাচল করছিল। কিন্তু বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোগান্তি বাড়তে থাকে।

ঢাকামুখী লেন বন্ধ থাকায় টঙ্গী-কালিগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের পুবাইল পর্যন্ত গাড়ির দীর্ঘ সারি। অনেক যাত্রীকে হেঁটে গন্তব্যে রওনা দিতে দেখা গেছে।

বলাকা পরিবহনের যাত্রী রেজাউল করিম বলেন, ‘বিকেল ৪টায় টঙ্গীর চেরাগআলী থেকে উত্তরার রাজলক্ষ্মীর উদ্দেশে রওনা দিই। পথের দূরত্ব মাত্র ১০ মিনিটের। অথচ টঙ্গী ব্রিজ পার হতেই সময় লেগেছে দেড় ঘণ্টা। সড়কের বিভিন্ন স্থান কাদায় মাখামাখি হওয়ায় হেঁটে যাওয়ারও উপায় নেই।’

মিলগেট এলাকায় যানজটে পড়ে গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ করে বসে ছিলেন পিকআপ চালক ওসমান। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘কলেজগেট থেকে মিলগেট আসতেই সময় লেগেছে এক ঘণ্টার বেশি। প্রায় ২০ মিনিট একই জায়গায় বসে আছি।’

ট্রাফিক পুলিশ ও পরিবহনসংশ্লিষ্টরা বলছে, মহাসড়কে বিআরটির নির্মাণকাজের কারণে যানজট এই পথের যাত্রীদের নিত্যদিনের সঙ্গী। বৃষ্টি হলে যানজট আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।

যানজটের কারণে হেঁটে যাওয়ারও উপায় থাকে না। সড়কের বিভিন্ন জায়গায় খানাখন্দে পানি জমে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। পুরো সড়ক কর্দমাক্ত হওয়ার ধীরগতিতে চলছে যানবাহন।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উপকমিশনার (দক্ষিণ) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনে বিআরটি প্রজেক্টের কাজ চলার কারণে রাস্তা সরু হয়ে গেছে। তা ছাড়া বৃষ্টিতে গাড়ি চলার গতি কমে যাওয়ায় ঢাকামুখী চাপ বেড়েছে। এতে উত্তরার যানজট টঙ্গীর চেরাগআলী পর্যন্ত পৌঁছেছে। ডিএমপির ট্রাফিক উত্তর বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত গাড়ি ঢাকায় প্রবেশের চেষ্টা করছি।’

ট্রাফিক পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘শীত মৌসুমে যানজট আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে। তবে বর্ষার আগে যদি বিআরটির নির্মাণকাজ শেষ করা না যায়, তাহলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত চরম ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে চলাচলকারীদের।

শেয়ার করুন

টিকা নিতে বাইকে রওনা ৩ স্কুলছাত্রের, বাসচাপায় নিহত ২

টিকা নিতে বাইকে রওনা ৩ স্কুলছাত্রের, বাসচাপায় নিহত ২

ফাইল ছবি/ নিউজবাংলা

করোনার টিকা নিতে ওই তিন বন্ধু স্কুলের সামনে জড়ো হয়। সেখান থেকে মোটরসাইকেলে করে রওনা দেয় গৌরনদী সদরের টিকাকেন্দ্রের দিকে। সে সময় বরগুনা থেকে চট্টগ্রামগামী একটি বাস মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়।

করোনার টিকা নিতে মোটরসাইকেলে করে রওনা দিয়েছিল বরিশালের গৌরনদীর একটি মাধ্যমিক স্কুলের নবম শ্রেণির তিন ছাত্র। ওই স্কুলের সামনেই বাসচাপায় প্রাণ হারায় দুইজন। আরেকজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের গৌরনদীর বার্থী তাঁরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে বুধবার সকালে এই দুর্ঘটনা হয়।

নিহত কিশোররা হলেন ওই স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র অন্তর মৃধা ও রেদওয়ান ফকির। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন তাদের সহপাঠী মো. শান্ত।

গৌরনদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ বেলাল হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়দের বরাতে তিনি জানান, করোনার টিকা নিতে ওই তিন বন্ধু স্কুলের সামনে জড়ো হয়। সেখান থেকে মোটরসাইকেলে করে রওনা দেয় গৌরনদী সদরের এবি সিদ্দিক ডায়গনস্টিক সেন্টারের দিকে। সে সময় বরগুনার পাথরঘাটা থেকে চট্টগ্রামগামী বলেশ্বর পরিবহনের একটি বাস স্কুলের সামনেই মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়।

স্থানীয় লোকজন আহতদের নিয়ে যান বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। পথেই মৃত্যু হয় অন্তরের।

ওসি শেখ বেলাল জানান, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় নেয়ার পথে মারা যান রেদোয়ানও।

দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বাসটি আটকে ভাঙচুর চালায়। এতে প্রায় এক ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। হাইওয়ে থানা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

হাইওয়ে থানার ওসি জানান, হতাহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। পাওয়া যায়নি বাসচালক ও হেলপারকে।

শেয়ার করুন

‘নৌকার বিরুদ্ধে কাজ করলে এলাকায় থাইকেন না’

‘নৌকার বিরুদ্ধে কাজ করলে এলাকায় থাইকেন না’

ইউনিয়নের রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রলয় কুমার সাহা বলেন, ‘আমি প্রশিক্ষণে আছি। অভিযোগ দিয়ে থাকলে সেটা অফিসে থাকতে পারে। তবে আমি এই বিষয়ে অবগত নই।’

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার একটি ইউনিয়নে ‘বিদ্রোহী প্রার্থীর’ কর্মী-সমর্থকদের এলাকায় না থাকার হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে।

তবে নৌকার প্রার্থী বলছেন, তিনি এ ধরনের কোনো কথাই বলেননি।

নারান্দী ইউনিয়নের শালংকা গ্রামে ২১ জানুয়ারি উঠান বৈঠক করেন ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম। এ সময় তার দেয়া বক্তব্য পরদিন ‘সত্যের সন্ধান’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে পোস্ট হয়।

ভিডিওতে প্রার্থীকে বলতে শোনা যায়, ‘মুখে জয় বাংলা বলবেন, আর কাজ করবেন নৌকার বিরুদ্ধে, আমি লালু, ভুলু ও শাকিলকে বলে দিতে চাই- আগামীকালের পর এলাকায় থাইকেন না।’

যাদেরকে এলাকায় না থাকার হুমকি দেয়া হয়েছে তাদের একজন শাকিল রেজা। তিনি নারান্দী ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শফিক গত নির্বাচনে যখন চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছিলেন তখন আমি, লালু আর কালু দিনরাত পরিশ্রম করে তাকে চেয়ারম্যান বানিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে অসহায়দের কাছ থেকে ঘর দেবেন বলে টাকাপয়সা নিয়েছেন।

‘আমরা সেগুলোর প্রতিবাদ করেছি। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ আছে। তাই এবারের নির্বাচনে আমরা তার সঙ্গে নাই। আর এ জন্যই তিনি গ্রামে এসে আমাদেরকেই হুমকি দিচ্ছেন।’

স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. মুছলেহ উদ্দিন উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তিনি দল থেকে মনোনয়ন না পেয়ে আনারস প্রতীকে নির্বাচন করছেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘পুরো ইউনিয়নে ঘুরে নৌকার প্রার্থী বুঝতে পেরেছেন তার কোনো জনসমর্থন নাই। নির্বাচনে নিশ্চিত ভরাডুবি জেনে রাজনৈতিক প্রভাব এবং পেশিশক্তি ব্যবহারের এমন হীন তৎপরতায় জড়িয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘শফিক প্রতিনিয়ত আমার কর্মী-সমর্থকদের বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। আমার প্রচারে বাধা দিচ্ছেন। এ বিষয়ে আমি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি।’

আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শফিকুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই ধরনের বক্তব্য আমি দেইনি। আপনি খোঁজ নিয়ে দেখেন তারা এখনো নিজেদের এলাকায় অবস্থান করছেন। আমি বলেছি আপনারা আওয়ামী লীগ করবেন আবার দলের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে নির্বাচন করবেন এমনটা ঠিক না।’

পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাখাওয়াৎ হোসেন নিউজবাংলাকে জানান, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কোনো প্রার্থীর পক্ষ থেকে অভিযোগ পেয়েছেন কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘অভিযোগ দিয়ে থাকলে সেটা আমার কাছে নয় দেবেন ওই ইউনিয়নের রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে।’

ইউনিয়নের রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রলয় কুমার সাহা বলেন, ‘আমি প্রশিক্ষণে আছি। অভিযোগ দিয়ে থাকলে সেটা অফিসে থাকতে পারে। তবে আমি এই বিষয়ে অবগত নই।’

আগামী ৩১ জানুয়ারি ষষ্ঠ ধাপে জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদে প্রথমবারের মতো ভোট হবে ইভিএমে।

শেয়ার করুন