টালমাটাল আর্থিক প্রতিষ্ঠান

player
টালমাটাল আর্থিক প্রতিষ্ঠান

অনিয়ম, দুর্নীতি ও আস্থার সংকটের কারণে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা অনেকটা টালমাটাল। ছবি: সংগৃহীত

কয়েক মাস ধরে নানা অনিয়মে টালমাটাল ব্যাংকবহির্ভূত বেশ কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান। অনেক প্রতিষ্ঠানে আমানত রেখে সময়মতো অর্থ ফেরত পাচ্ছেন না গ্রাহক। ব্যাংক বা বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠান টাকা রাখলেও তা যথাসময়ে ফেরত দিতে পারছে না অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান।

স্বস্তিতে নেই ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান। মূলত অনিয়ম, দুর্নীতি এবং আস্থার সংকটেই এই অবস্থা। এক মাসে আমানত এবং ঋণ স্থিতি বাড়লেও অন্য মাসেই পরিস্থিতি ভিন্ন। উচ্চ সুদ কিংবা নানা ছাড় দেবার পরও প্রতিষ্ঠানগুলো পাচ্ছে না কাঙ্ক্ষিত আমানত।

কয়েক মাস ধরে নানা অনিয়মে টালমাটাল ব্যাংকবহির্ভূত বেশ কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান। ইতিমধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠানে আমানত রেখে সময়মতো অর্থ ফেরত পাচ্ছেন না গ্রাহক। শুধু গ্রাহকই নয়, ব্যাংক বা বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠান টাকা রাখলেও তা যথাসময়ে তাদের ফেরত দিতে পারছে না অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান। আমানত না বাড়ায়, দায় পরিশোধেও স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।

চলতি বছরের ৯ মাস শেষে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট আমানত দাঁড়িয়েছে ৪২ হাজার ৯৪১ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে আমানতের পরিমাণ ছিল ৪৩ হাজার ৪৭৩ কোটি টাকা। আমানত কমেছে ৫৩২ কোটি টাকা। আর গত বছরের ডিসেম্বর শেষে আমানতের পরিমাণ ছিল ৪৩ হাজার ৫৪০ কোটি টাকা।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আমানত কমার পাশাপাশি ঋণ স্থিতি বাড়ছে অত্যন্ত ধীরগতিতে। সেপ্টেম্বর শেষে বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ ৫৬ হাজার ৬১৮ কোটি টাকা। গত বছরের সেপ্টেম্বর শেষে পরিমাণ ছিল ৫৫ হাজার ৯৩১ কোটি টাকা। গত বছরের ডিসেম্বর শেষে ঋণ স্থিতি ছিল ৫৬ হাজার ৫৪৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ গত বছরের সঙ্গে তুলনা করলে ঋণ কিছুটা বেড়েছে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘করোনার বছরে ঋণ পরিশোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনেক ছাড় দিয়েছিল। কিন্তু এসব বিশেষ সুবিধা বন্ধ হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এ ছাড়া দুর্নীতির কারণে অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবস্থা নাজুক। টাকা ফেরত দিতে পারছে না। ফলে গ্রাহক আস্থার সংকটে পড়েছেন।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমানতকারীরা কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ করেছেন। তারা বলছেন, সময়মতো আমানত ফেরত দিতে পারছে না তারা। ফলে নতুন করে অনেকে এসব প্রতিষ্ঠানে টাকা রাখতে ভরসা পাচ্ছেন না। সাধারণ আমানতকারীদের পাশাপাশি বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক কিংবা আরেক আর্থিক প্রতিষ্ঠানও এসব প্রতিষ্ঠানে আগের মতো আর টাকা রাখছে না। আবার নানা অনিয়মের মাধ্যমে বিতরণ করা ঋণও সময়মতো ফেরত আসছে না। যে কারণে উচ্চ সুদের অফার করেও আশানুরূপ আমানত পাচ্ছে না আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো।’

আমানতের প্রায় ৯৩ শতাংশই রাজধানীতে

বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২১ সালের প্রথম প্রান্তিক (জানুয়ারি-মার্চ) শেষে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে আমানতের পরিমাণ ছিল ৪৩ হাজার ৩৫ কোটি টাকা, যা জুনে কমে হয় ৪২ হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা, তিন মাস আগের তুলনায় যা ২৮২ কোটি টাকা কম। তবে সেপ্টেম্বরে আবার আমানত সামান্য বেড়ে ৪২ হাজার ৯৪১ কোটি টাকায় ওঠে।

গত ৯ মাসে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মেয়াদি আমানত কমে ৪২ হাজার ২৮৮ কোটি টাকায় নেমেছে, ডিসেম্বরে যা ছিল ৪২ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা। অন্যান্য আমানত ৭ কোটি টাকা বেড়ে হয়েছে ২৭৮ কোটি টাকা।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শাখার বেশির ভাগই ঢাকায়, যে কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের মোট আমানতের ৩৯ হাজার ৯২৩ কোটি টাকা বা ৯২ দশমিক ৯৭ শতাংশ এসেছে ঢাকা বিভাগ থেকে।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ চট্টগ্রাম বিভাগের আমানত রয়েছে ১ হাজার ৮৫৪ কোটি টাকা।

রাজশাহী বিভাগ থেকে ৪৬২ কোটি, খুলনা থেকে ৩১০ কোটি, সিলেট থেকে ১৯৯ কোটি, ময়মনসিংহ থেকে ৭৯ কোটি এবং বরিশাল থেকে ৫১ কোটি ও রংপুর বিভাগ থেকে এসেছে ৫৬ কোটি টাকা করে।

এ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর আমানতের বড় একটি অংশের জোগানদাতা হলো ব্যাংক। করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে ব্যাংকের মতো নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে (এনবিএফআই) তারল্য সহায়তা দিতে বেশ কিছু নীতি-সহায়তা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ছাড়া বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো যাতে এনবিএফআই থেকে আমানত তুলে না নেয়, সে জন্যও ব্যাংকগুলোকে দফায় দফায় নির্দেশনা দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ঋণ বিতরণও ঢাকায় বেশি

আমানতের পাশাপাশি লিজিং কোম্পানিগুলোর ঋণ বিতরণও ঢাকায় বেশি।

২০২১ সালের মার্চের শেষে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণের পরিমাণ ছিল ৫৬ হাজার ৯৫১ কোটি টাকা। তা জুনে কিছুটা বেড়ে হয় ৫৬ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা। কিন্তু সেপ্টেম্বরে ঋণ কমে ৫৬ হাজার ৬১৮ কোটি টাকায় নামে।

সবচেয়ে বেশি ঋণ গেছে শিল্প খাতে, প্রায় ৩৯ দশমিক ৬৬ শতাংশ। ব্যবসা ও বাণিজ্য খাতে ২৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ, ভোক্তাঋণ ১৭ দশমিক ৪১ শতাংশ, নির্মাণ খাতে ৯ দশমিক ০৮ শতাংশ, কৃষিতে শূন্য দশমিক ৭৩ শতাংশ এবং অন্যান্য খাতে ৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ ঋণ বিতরণ করেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো।

আমানতের মতো ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে শীর্ষ অবস্থানে আছে রাজধানী। ৮৪ দশমিক ০৯ শতাংশ ঋণই রাজধানী ঢাকার ভেতরের শাখাগুলোতে রয়েছে। এর পরই চট্টগ্রামে ১০ দশমিক ২৮ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, আগে অনেক ঋণের সুদের হার ১৬ থেকে ১৭ শতাংশ ছিল। ব্যাংকের ঋণের সুদ ৯ শতাংশ নির্দিষ্ট করে দেয়ার পর আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণের সুদও কমেছে। করোনাভাইরাসের কারণে সরকারঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের একটি বড় অংশ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে বিতরণ করা হচ্ছে। এ জন্য মহামারিতে এসব প্রতিষ্ঠানের ঋণ বিতরণ বেড়েছে।

বেশির ভাগ শাখা শহরাঞ্চলে

বর্তমানে সারা দেশে এনবিএফআইগুলোর শাখা রয়েছে ৮২৩টি। এর মধ্যে শহরাঞ্চলে ৬৮২ এবং গ্রামাঞ্চলে ২৬৩টি শাখা রয়েছে।

এর মধ্যে চারটি সরকারি এনবিএফআইয়ের শাখা রয়েছে ৫৮টি। বেসরকারি ৩০টি এনবিএফআইয়ের শাখা রয়েছে ২৪৬টি। কর্মসংস্থান ব্যাংক ও আনসার ভিডিপি উন্নয়ন বাংকের ৫১৭টি শাখা রয়েছে।

বিভাগের হিসাবে এসব প্রতিষ্ঠানের ঢাকায় ৩০২টি, চট্টগ্রামে ১৪৬, খুলনায় ৮০, রাজশাহীতে ৮৬, বরিশালে ৪৩, সিলেটে ৫৩, রংপুরে ৫৭ ও ময়মনসিংহে ৫৬টি শাখা রয়েছে।

ব্যাংকের মতো সব ধরনের লেনদেনের লাইসেন্স না থাকলেও বেশ কিছু এনবিএফআই মেয়াদি আমানত নিতে পারে। এ ধরনের এনবিএফআইগুলো নন-ব্যাংক ডিপোজিটরি করপোরেশন হিসেবে বিবেচিত হয়।

অনিয়মের কারণে আস্থার সংকট

বর্তমানে দেশে চারটি সরকারি ও ৩০টি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ঋণের নামে প্রচুর অর্থ বের করার ঘটনা ঘটেছে। এ কারণে এ খাতের আর্থিক ভিত অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েছে।

২০১৯ সালে পিপলস লিজিং অবসায়নের উদ্যোগের পর এ খাতের অবস্থা বেশি খারাপ হয়েছে। এর কিছুদিনের মধ্যে আবার এনআরবি গ্লোবাল ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের সাবেক এমডি প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দখল করে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের বিষয়টি সামনে আসে।

এ ছাড়া ইন্টারন্যাশনাল লিজিং ও বিআইএফসিতে চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়েছেন আদালত। অত্যন্ত নাজুক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ তদারকিতে রেখেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশেষ করে মন্দ ঋণ এ খাতের পরিস্থিতিকে এমনভাবে প্রভাবিত করেছে, এটি গত এক দশকে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় আছে।

সব মিলিয়ে বেশির ভাগ আর্থিক প্রতিষ্ঠান এখন টাকার সংকটে পড়েছে। ক্রমেই এ খাতের প্রতি আস্থা কমায় আমানত কমছে।

আরও পড়ুন:
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রোব-বুধবার
৮৩ শতাংশ আয় বাড়ল ডিবিএইচের
আয় বাড়ল আইপিডিসিরও
বিদেশ যেতে অনুমতি লাগবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রধানদেরও
আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ পরিশোধে আরও ছাড়

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সেন্ট মার্টিন নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসায় ক্যাপ্রিও

সেন্ট মার্টিন নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসায় ক্যাপ্রিও

হলিউডে দীর্ঘ মেয়াদে সফলতার সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি অস্কারজয়ী অভিনেতা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও একজন পরিবেশকর্মীও। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় দেশটির একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনকে রক্ষায় ও টেকসই সামুদ্রিক সম্পদ আহরণের জন্য সেন্ট মার্টিন এলাকার ১ হাজার ৭৪৩ বর্গকিলোমিটারকে সেন্ট মার্টিন প্রটেক্টেড এরিয়া ঘোষণা করেছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, সমুদ্রের প্রায় ২৫ শতাংশ প্রজাতির বসবাস প্রবাল প্রাচীরে। তাই সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রবাল প্রাচীরকে গুরুত্ব দেয়ার বিকল্প নেই। সামুদ্রিক দূষণ ও সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে প্রবাল প্রাচীরগুলো হুমকির মুখে পড়ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা ইতিমধ্যে প্রবাল প্রাচীরের সুরক্ষায় বিভিন্ন কাজ শুরু করেছে।

এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় দেশটির একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনকে রক্ষায় ও টেকসই সামুদ্রিক সম্পদ আহরণের জন্য সেন্ট মার্টিন এলাকার ১ হাজার ৭৪৩ বর্গকিলোমিটারকে সেন্ট মার্টিন প্রটেক্টেড এরিয়া ঘোষণা করেছে।

আর এই সিদ্ধান্তকেই সাধুবাদ জানিয়েছেন লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও। তিনি এক টুইটবার্তায় লেখেন, সেন্ট মার্টিন দ্বীপের আশপাশে নতুন প্রতিষ্ঠিত সামুদ্রিক সুরক্ষিত অঞ্চল ঘোষণা করায় বাংলাদেশ সরকার, স্থানীয় সম্প্রদায় ও এনজিওগুলোকে ধন্যবাদ। এটি জীববৈচিত্র্যের অসাধারণ সম্প্রদায়কে রক্ষা করবে এবং যেটি বাংলাদেশের প্রবাল দ্বীপের প্রাণীদের মূল আবাসস্থল হবে।

উল্লেখ্য, হলিউডে দীর্ঘ মেয়াদে সফলতার সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি অস্কারজয়ী অভিনেতা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও একজন পরিবেশকর্মীও।

আরও পড়ুন:
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রোব-বুধবার
৮৩ শতাংশ আয় বাড়ল ডিবিএইচের
আয় বাড়ল আইপিডিসিরও
বিদেশ যেতে অনুমতি লাগবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রধানদেরও
আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ পরিশোধে আরও ছাড়

শেয়ার করুন

নাব্যসংকটে পদ্মা-যমুনার কার্গো জাহাজ

নাব্যসংকটে পদ্মা-যমুনার কার্গো জাহাজ

মানিকগঞ্জের শিবালয়ের অন্বয়পুর এলাকায় নোঙর করে রাখা জাহাজ। ছবি: নিউজবাংলা

পদ্মা-যমুনায় নাব্যসংকটের কারণে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বিভিন্ন বন্দর থেকে ছেড়ে আসা পণ্যবাহী জাহাজগুলোকে। প্রায় শতাধিক কার্গো জাহাজ নোঙর করে রাখা হয়েছে মানিকগঞ্জ এলাকায়। ভোগান্তিতে পড়েছেন জাহাজচালক ও ব্যবসায়ীরা।

চট্টগ্রাম, খুলনা ও মোংলা বন্দর থেকে কার্গো জাহাজে করে সার, চিনি ও জ্বালানি তেল আসছে বাঘাবাড়ি, নগরবাড়ি, পাবনাসহ উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য।

তবে নাব্যসংকটের কারণে মানিকগঞ্জের শিবালয়ের অন্বয়পুর এলাকায় জাহাজগুলোকে নোঙর করতে বাধ্য হচ্ছেন চালকরা।

পরে সপ্তাহ কিংবা তারও বেশি সময় অপেক্ষার পর অন্য কোনো উপায় না দেখে অর্ধেক মাল আনলোড করে যেতে হচ্ছে গন্তব্যে।

মা-বাবার দোয়া কার্গো জাহাজের চালক মো. ইয়ামিন শেখ বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকে সার নিয়া বাঘাবাড়ি যাইতেসিলাম। পাঁচ দিন সময় লাগছে মানিকগঞ্জ আসতে। নদীতে পানি কম থাকায় জাহাজ চরে ঠেইকা যায়। যার কারণে আরিচা ঘাটের কাছে নোঙর করসি। এইখানেও ৫-৬ দিন অপেক্ষা করসি। মনে হয় আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হবে।’

অন্বয়পুরে আটকে থাকা এমভি পূর্ণিমা কার্গো জাহাজের চালক মো. নাঈম শেখ বলেন, ‘মালবোঝাই সব জাহাজ এইখানে নোঙর করে। এরপর সিরিয়াল অনুযায়ী ভোটগেট বা ট্রলারের মাধ্যমে অর্ধেক মাল পাঠানোর পর বাকি অর্ধেক মাল নিয়ে উত্তরাঞ্চলের দিকে রওনা দেই। তা না হলে জাহাজ চরে আটকা পড়ব। কারণ ওই দিকের খারি (জাহাজ যাতায়াতের জায়গা) খুব ছোট।’

নাব্যসংকটে পদ্মা-যমুনার কার্গো জাহাজ

উত্তরাঞ্চলের ব্যবসায়ী সুলাল বড়ুয়া বলেন, ‘সরকার যদি এই নদীগুলোর নাব্যসংকট দূর করে বা ড্রেজিং করে তাহলে আমরা সরাসরি মালামাল নিয়ে নগরবাড়ি যেতে পারব। এতে উত্তরাঞ্চলের ব্যবসায়ী ও কৃষকদের সুবিধা হবে।’

শিবালয়ের সার্বে কোম্পানির স্কোর্ট অফিসার মোহাম্মদ শরিফ জানান, বাঘাবাড়ি, নগরবাড়ি এবং উত্তরাঞ্চলের জন্য বিভিন্ন মালামাল নিয়ে চট্টগ্রাম, মোংলা, খুলনা থেকে নিয়মিত মালবাহী কার্গো জাহাজ যায়।

বর্তমানে আরিচা-পাটুরিয়ার বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৭০টির মতো জাহাজ নোঙর করে আছে এবং আরও জাহাজ পথিমধ্যে আছে।

প্রতিটি জাহাজে ৮০০ থেকে ১২০০ টন মাল থাকে। কিন্তু নদীতে নাব্যতার কারণে এই জাহাজগুলো সরাসরি তাদের গন্তব্যস্থলে যেতে পারে না।

নাব্যসংকটে পদ্মা-যমুনার কার্গো জাহাজ

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জাহাজের চালক জানান, নাব্যসংকটের কারণে শিবালয়ের অন্বয়পুরে জাহাজ নোঙর করলে বিআইডব্লিউসির লোকজন গিয়ে মালামালের কাগজপত্র দেখেন। কাগজপত্র ঠিক থাকলেও প্রতিটি জাহাজ থেকে ১ হাজার করে টাকা দিতে হয়। তা না দিলে ঝামেলার মুখে পড়তে হয়।

তা ছাড়া চট্টগ্রাম থেকে আসতেও বিভিন্ন জায়গায় নিয়মিত চাঁদা দিতে হয়।

তবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের আরিচা কার্যালয়ের ড্রেজিং বিভাগের (এসিও) বেলায়েত হোসাইন টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘নদীতে নাব্যসংকটের সমস্যা আছে ঠিকই। কিন্তু নোঙর করা জাহাজগুলো এই নৌরুটের না। ফলে সমস্যা হচ্ছে। কারণ এই মৌসুমে এত বড় জাহাজ আরিচা চ্যানেলে চলতে পারবে না। বিশেষ করে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সমস্যা বেশি হয়।’

আরও পড়ুন:
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রোব-বুধবার
৮৩ শতাংশ আয় বাড়ল ডিবিএইচের
আয় বাড়ল আইপিডিসিরও
বিদেশ যেতে অনুমতি লাগবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রধানদেরও
আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ পরিশোধে আরও ছাড়

শেয়ার করুন

সুকুক লেনদেনে বাধা উচ্চহারে কমিশন

সুকুক লেনদেনে বাধা উচ্চহারে কমিশন

পুঁজিবাজারে অনুমোদন পাওয়া প্রথম সুকুক বন্ডে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ২০০ মেগাওয়াটের আর পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৩০ মেগাওয়াটের সৌর বিদ্যুৎ করছে বেক্সিমকো লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বেক্সি পাওয়ার। ফাইল ছবি

সুকুক বা বন্ড কেনার ক্ষেত্রে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ নির্ধারিত লেনদেনের মাশুল ৫০ টাকা, অগ্রিম কর দিতে হয় আড়াই টাকা ও বাকি সাড়ে ২২ টাকা ব্রোকারেজ হাউসের কমিশন। মোট সাড়ে ৭৪ টাকা দিতে হয় কমিশন। এক লাখ টাকা পর্যন্ত বন্ড কেনাবেচার ক্ষেত্রে এই হারে কমিশন দিতে হবে। এই নীতির কারণে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের পক্ষে কম পরিমাণে বন্ড কেনা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় মুনাফার নিশ্চয়তার পরও বেক্সিমকোর আনা ইসলামি গ্রিন সুকুক বন্ডে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ নেই বললেই চলে। বন্ডটি পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরুর পর হাতবদল হচ্ছে খুবই কম। চাহিদা না থাকায় দ্বিতীয় দিনই তা নেমে গেছে অভিহিত মূল্যের নিচে। ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যের বন্ড এখন পাওয়া যাচ্ছে ৯০ টাকা ৫০ পয়সায়।

বন্ডটি বছরে ন্যূনতম ৯ শতাংশ মুনাফা দেবে, যেভাবে ব্যাংকে টাকা রাখলে এখন পাওয়া যায় ৬ শতাংশের কম। মুনাফার হার আরও বেশি হতে পারে, আর বছর শেষে বন্ডে বিনিয়োগের বিপরীতে ২৫ শতাংশ কম দামে শেয়ার পাওয়ার সুযোগের কারণে মুনাফার হার ১৬ থেকে ১৭ শতাংশ বা তার চেয়ে বেশিও হতে পারে।

এত আকর্ষণীয় মুনাফার সুযোগ থাকার পরও বিনিয়োগকারীদের অনাগ্রহ কেন?- প্রাপ্ত তথ্য বলছে, বন্ডটি নিয়ে ধারণার অভাবের পাশাপাশি কারণ হিসেবে আছে এটি কেনাবেচায় মাত্রাতিরিক্ত মাশুলও।

এমনিতে শেয়ার কেনাবেচায় ১০০ টাকার বিপরীতে সর্বনিম্ন ২০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৫০ পয়সা পর্যন্ত কমিশন কাটে ব্রোকারেজ হাউস। তবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মাশুল, অগ্রিম কর আর ব্রোকারেজ হাউসের কমিশন মিলে সুকুক বন্ডে লাগতে পারে এর চেয়ে বহুগুণ।

সুকুক বা বন্ড কেনার ক্ষেত্রে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ নির্ধারিত লেনদেন মাশুল ৫০ টাকা, অগ্রিম কর দিতে হয় আড়াই টাকা ও বাকি সাড়ে ২২ টাকা ব্রোকারেজ হাউসের কমিশন। মোট সাড়ে ৭৪ টাকা দিতে হয় কমিশন। একই হারে কমিশন দিতে হবে সুকুক বিক্রি করার ক্ষেত্রেও।

এক শ টাকা থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত বন্ড কিনলে সব মিলিয়ে কমিশন কাটা হচ্ছে সাড়ে ৭৪ টাকা। আর সেই একটি সুকুক বিক্রি করলেও একই হারে কমিশন দিতে হচ্ছে।

অর্থাৎ বড় অঙ্কের কিনলে কমিশনের চাপ বেশি বোধ না হলেও কেউ যদি কম টাকার কিনতে চান, তার কমিশন বেশি পড়ে যাচ্ছে।

ব্রোকারেজ হাউসগুলোর ট্রেডারদের বক্তব্য, পুঁজিবাজারে যে বন্ডগুলো আছে সেগুলোর অভিহিত মূল্য ৫ হাজার টাকা। আর বন্ডে যারা বিনিয়োগ করেন, তারা ডে ট্রেডিংয়ের উদ্দেশ্যে বা অল্প টাকায় বিনিয়োগ করে না। তারা বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করে থাকেন। কিন্তু সুকুকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ থাকায় বিষয়টি ভিন্ন হতে পারত। এখানে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ করার সুযোগ থাকা উচিত ছিল।

একাধিক ব্রোকারেজ হাউসের তথ্য বলছে, সুকুক আসার পর কেউ ১০টি, কেউ ৫০টি বন্ড কেনার অর্ডার দিতে গিয়ে কমিশনের কথা জেনে পিছিয়ে এসেছে।

কেউ যদি বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করেন, তাহলে তাকে কমিশনের কারণে একসঙ্গে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বন্ড বিক্রি করতে হবে। কিন্তু সে ক্ষেত্রে ক্রেতা পাওয়া কঠিন।

অথচ যেকোনো কোম্পানির শেয়ার একটি করেও কেনাবেচা করা যায় এবং সে ক্ষেত্রে কমিশন হয় প্রতি ১০০ টাকায় ২০ বা ৫০ পয়সা হিসাবেই।

এ কারণে প্রথম দিন অভিহিত মূল্যের চেয়ে বেশি টাকায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বন্ড কেনার আদেশ এলেও পরের দিনগুলোতে ক্রয়াদেশ ক্রমেই কমছে।

গত ১৩ জানুয়ারি লেনদেন শুরুর প্রথম দিন সর্বোচ্চ দর উঠে ১১০ টাকা। দিন শেষে দর দাঁড়ায় ১০১ টাকা। সেদিন হাতবদল হয় ৩২ লাখ ৩২ হাজার ৭৭২টি বন্ড।

দ্বিতীয় কর্মদিবস ১৬ জানুয়ারিতেই অভিহিত মূল্যের নিচে নেমে আসে বন্ড। সেই সঙ্গে কমে চাহিদা। লেনদেন হয় ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৮০৪টিতে।

লেনদেন শুরুর ঠিক এক সপ্তাহ পর ২০ জানুয়ারি হাতবদল হয়েছে ২ লাখ ৮৪ হাজার ৭৬৪টি বন্ড।

কমিশনের নীতির কারণে সুকুক বন্ড লেনদেনে ধীরগতির এই বিষয়টি নজরে এসেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনেরও (বিএসইসি)।

সংস্থাটির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বন্ডের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আগ থেকেই একটি চার্জ নির্ধারণ করা আছে। সেটি সুকুকের ক্ষেত্রেও কার্যকর হচ্ছে। তবে অন্যান্য বন্ডের তুলনায় সুকুকে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী বেশি। কিন্তু কমিশন বা চার্জ বেশি হওয়ায় আগ্রহ হারাচ্ছে। সেটি আমাদের নজরে এসেছে।

‘চার্জ নির্ধারণে বিএসইসি’র কিছু করার নেই। ডিএসই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে বিষয়টি দ্রুত সমাধানে ডিএসইকে এরই মধ্যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আশা করি এ সমস্যা থাকবে না।’

ডিএসইর উপমহাব্যবস্থাপক শফিকুর রহমান বলেন, সুকুকের কমিশনের বিষয়টি সমাধানে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

সুকুক বন্ড বিনিয়োগকারীদের বছরে ৯ শতাংশ ন্যূনতম মুনাফা দেয়ার পাশাপাশি আরও নানা সুযোগের কথা উল্লেখ আছে। বলা হয়েছে, বেক্সিমকো লিমিটেডের লভ্যাংশ ১০ শতাংশের বেশি হলে যতটুকু বেশি হবে, তার ১০ শতাংশ যোগ হবে সুকুকের লভ্যাংশে।

২০২১ সালের জন্য বেক্সিমকো লিমিটেড বিনিয়োগকারীদের ৩৫ শতাংশ হারে নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। আগামীতেও যদি একই হারে লভ্যাংশ দেয়, তাহলে এই ৩৫ শতাংশে ১০ শতাংশের অতিরিক্ত ২৫ শতাংশের ১০ শতাংশ হিসেবে আড়াই শতাংশ সুকুরের লভ্যাংশে যোগ হবে। অর্থাৎ তখন বন্ডধারীরা সাড়ে ১১ শতাংশ লভ্যাংশ পাবেন।

সুকুকের এই লভ্যাংশ করমুক্ত রাখার বিষয়েও আলোচনা চলছে। এমনিতে লভ্যাংশের ওপর ১০ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ কর কাটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। সুকুকে সেটি না কাটা হলে প্রকৃত মুনাফা বেশি হবে।

আবার প্রতিবছর বিনিয়োগকারীরা ২০ শতাংশ টাকা তুলে নিতে পারবেন অথবা তিনি চাইলে বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ার নিতে পারবেন।

এখানেই রয়েছে বাড়তি মুনাফার সুযোগ। কারণ এই শেয়ার পাওয়া যাবে ২৫ শতাংশ কম দামে। রেকর্ড ডেটের আগের দুই সপ্তাহের ভরিত গড় হিসাব করে এই শেয়ার দেয়া হবে।

অর্থাৎ শেয়ার মূল্য ১০০ টাকা হলে বিনিয়োগকারী পাবেন ৭৫ টাকায়, শেয়ার মূল্য ২০০ হলে পাবেন ১৫০ টাকায়, আর শেয়ার মূল্য ৩০০ হলে পাবেন ২২৫ টাকায়, শেয়ার মূল্য ৪০০ টাকা হলে তিনি পাবেন ৩০০ টাকায়। এভাবে যে শেয়ার তিনি পাবেন, তাতে ৩৩ শতাংশ মুনাফা করার সুযোগ আছে। সব মিলিয়ে এক লাখ টাকায় ৫ বছরে ন্যূনতম ৭৮ হাজার টাকা মুনাফা পাবেন তিনি।

সুকুক হলো ইসলামিক শরিয়াহ নীতিমালা মেনে পরিচালিত বন্ড বা আর্থিক পণ্য। প্রচলিত বন্ডের সুদের পরিমাণ নির্ধারিত থাকে, কিন্তু তার বিপরীতে কোনো সম্পদের ব্যাকআপ থাকে না। তবে সুকুক নির্দিষ্ট সম্পদ বা প্রকল্পের বিপরীতে গঠিত হয়। ওই সম্পদ ও প্রকল্পের আয়ই আনুপাতিক হারে পেয়ে থাকেন সুকুক ইউনিটধারীরা।

সুদবিহীন সুকুক বন্ডের ৩ হাজার কোটি টাকার বেশির ভাগ অংশই দুটি সৌরচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিনিয়োগ করবেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো লিমিটেড।

আরও পড়ুন:
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রোব-বুধবার
৮৩ শতাংশ আয় বাড়ল ডিবিএইচের
আয় বাড়ল আইপিডিসিরও
বিদেশ যেতে অনুমতি লাগবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রধানদেরও
আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ পরিশোধে আরও ছাড়

শেয়ার করুন

সুমিত্রা-রুপাদের স্বপ্ন কেড়ে নিল সিকদারের বাগানবাড়ি

সুমিত্রা-রুপাদের স্বপ্ন কেড়ে নিল সিকদারের বাগানবাড়ি

সিকদার রিয়েল এস্টেট একটি পরিবারকে উচ্ছেদ করে এই বাগান বাড়ি তৈরি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ছবি: নিউজবাংলা

বাপ-দাদার ভিটেমাটি থাকতেও দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সুমিত্রা রানী ও তার স্বজনরা। তাদের অভিযোগ, প্রভাবশালী এক পরিবারের শখের বাগানবাড়ি বানাতে গিয়ে উচ্ছেদ করা হয় ওই পরিবারটিকে।

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ডিঙ্গামানিক মৌজার মধুপুর গ্রাম। এই গ্রামেই অন্তত ৩০ একর জমির ওপর ২০০৯ সালে একটি বাগানবাড়ি গড়ে তোলার কাজ শুরু করে প্রয়াত ব্যবসায়ী জয়নুল হক সিকদারের পরিবার।

পুকুরের মধ্যে আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন চারতলা ভবন, হরিণের খামার, দুটি পুকুরের সংযোগস্থলে সেতু আর নানা প্রজাতির গাছপালা দিয়ে সাজানো হয় বাগানবাড়িটি।

অভিযোগ উঠেছে, এই বাগানবাড়ি বানাতে গিয়েই একটি হিন্দু পরিবারকে জোর করে উচ্ছেদ করেছে সিকদার রিয়েল এস্টেট। তবে উচ্ছেদের বিষয়টি অস্বীকার করছে ওই প্রতিষ্ঠান।

সুমিত্রার দাবি, ওই বাগানবাড়ির মধ্যেই তাদের ৪১ শতাংশ জমি; ছিল বাড়িও। ২০১৮ সালে ওই বাড়ি থেকে জোর করে তাড়িয়ে দেয়া হয় সুমিত্রা ও তার স্বজনদের। নির্মাণ করা হয় সীমানাপ্রাচীর আর বিশাল ফটক।

সুমিত্রার বাবা অমূল্য চরন দে ওই জমির মালিক ছিলেন। তার মৃত্যুর পর বিআরএস জরিপে সুমিত্রার ভাই রতন কুমার দে ও জগদীস চন্দ্র দে’র নামে ওই জমির মালিকানা হয়। দুটি টিনের ঘরে পরিবারটি বসবাস করত।

সুমিত্রা-রুপাদের স্বপ্ন কেড়ে নিল সিকদারের বাগানবাড়ি
সুমিত্রাদের টিনের ঘর

২০০৯ সালে রতন কুমার দে ও ২০১৩ সালে তার স্ত্রী ঝর্না রানী দে তিন শিশুকন্যা রেখে মারা যান। এরপর সুমিত্রা ও তার ভাই জগদীশ দে ওই শিশুদের লালনপালনের দায়িত্ব নেন।

ভিটেমাটি হারানোর পর নানা রোগ-শোক ভর করে জগদীশের শরীরেও। ২০২০ সালে তিনিও মারা যান।

সংসারে উপার্জনক্ষম ব্যক্তি না থাকায় এবং বাড়ি থেকে বিতাড়িত হওয়ায় ভাইয়ের তিন কিশোরী কন্যা নিয়ে বিপাকে পরেন সুমিত্রা। আশ্রয় নেন পাশের ডিঙ্গামানিক গ্রামের কাদির শেখের পরিত্যক্ত রান্না ঘরে।

সুমিত্রা-রুপাদের স্বপ্ন কেড়ে নিল সিকদারের বাগানবাড়ি
উচ্ছেদের বর্ণনা দেন সুমিত্রা

সেই দিনের স্মৃতি মনে করে সুমিত্রা বলেন, ‘আমি পাট লইতাছিলাম। পাট লওয়া শ্যাষ কইরা ৩টা সাড়ে ৩টার দিকে বাড়ি গেলে বাড়িতে ঢুকতে দেয় নাই। সিকদারের ছেলেরা দাঁড়াইয়া থাইক্যা বাউন্ডারি দিসে। কইছিলাম, ঘরে খাওনদাওন, কাপড়চোপড় আছে, এগুলো আনতে দেন। কিন্তু দেয় নাই। পরনের ময়লা কাপড় লইয়া, তিনডা মাইয়ারে লইয়া মাথা গোঁজার লিগ্যা মানুষের দ্বারে দ্বারে যাই। কিন্তু সিকদারগো ভয়ে কেউই আমাগো রাখতে সাহস পায় না। পরে এই বাড়ির রান্দোন ঘরে থাকি।’

তিনি বলেন, ‘এই শোকে আমার ভাইডাও মইরা গেল। একটা মাইয়া যেই বেতন পায় হেইয়া দিয়াই কোনোরকম চলি।’

সুমিত্রা জানান, নিজের বাড়ির ভিটায় ফিরে যাওয়াই এখন তাদের স্বপ্ন।

রতন দে’র মেয়ে রুপা রানী দে বলেন, ‘সিকদারের ছেলেরা বাড়ি এলেই গোলাগুলি করত, আরও অনেক কাজ করত। ভয়ে আমরা বাড়ি থেকে অন্য জায়গায় গিয়ে থাকতাম। মা-বাবা নাই, কাকাও মারা গেছে, এখন শুধু পিসিই বেঁচে আছেন। জমি আর আমাদের জন্য চিন্তা করতে করতে তার শরীরও ভালো নেই।’

রুপা জানান, মহিলা অধিদপ্তরের একটা প্রজেক্টে কাজ করে তিনি ৮ হাজার টাকা বেতন পান। তা দিয়ে ঘর ভাড়া, তিন বোনের পড়ার খরচ, পোশাক, খাওয়া কোনোটাই পুরোপুরি করা সম্ভব হয় না। সব সময়ই নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন তারা।

তিনি আরও জানান, মন্ত্রী এনামুল হক শামীম তাদের একবার দেখতে গিয়েছিলেন। ভিটেমাটি ফিরিয়ে দেয়ার বিষয়ে তিনি আশ্বাসও দিয়েছেন।

এদিকে সিকদার রিয়েল স্টেটের প্রকৌশলী ও ব্যবস্থাপক সানোয়ার হোসেন বলেন, ‘সুমিত্রারা এখানে বসবাস করতেন। এখনও তাদের দুটি ঘর আছে। আমাদের নিরাপত্তার জন্যই বাউন্ডারি দেয়া হয়েছে। তাদের উচ্ছেদ করা হয়নি। তারা চলে গেছেন। তাদের যদি কোনো কাগজপত্র থাকে এবং সেটা যদি তারা দেখাতে পারেন তাহলে যেভাবে মীমাংসা করতে চান, সেভাবেই মীমাংসা করা হবে।’

জমির মালিকানা জানতে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গেলে ভূমি কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন মোল্লা নথিপত্র দেখে জানান, দাবি করা জমিটির মালিক হচ্ছেন অমূল্য চন্দ্র দের দুই ছেলে রতন কুমার দে ও জগদীস চন্দ্র দে। ভাইদের এই জমির খাজনা বাংলা ১৪২৫ সন পর্যন্ত পরিশোধ করেছেন সুমিত্রা রানি দে।

আরও পড়ুন:
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রোব-বুধবার
৮৩ শতাংশ আয় বাড়ল ডিবিএইচের
আয় বাড়ল আইপিডিসিরও
বিদেশ যেতে অনুমতি লাগবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রধানদেরও
আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ পরিশোধে আরও ছাড়

শেয়ার করুন

নিরাপদ হয়নি কর্মক্ষেত্র

নিরাপদ হয়নি কর্মক্ষেত্র

নির্মাণক্ষেত্রগুলোতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন শ্রমিকরা। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ লেবার স্টাডিজ (বিলস) পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, দেশে সবচেয়ে বেশি শ্রমিকের প্রাণহানি ঘটেছে পরিবহন, নির্মাণ ও কৃষি খাতে। ১০ বছরে শুধু নির্মাণ খাতে কাজ করতে গিয়ে নিহত হয়েছেন ১ হাজার ১০২ জন শ্রমিক।

অনেক দুর্ঘটনা, মৃত্যু- তারপরও নিরাপদ হয়নি কর্মক্ষেত্র। বকেয়া বেতন কিংবা শ্রম-অধিকার প্রশ্নে এখনও বঞ্চিত শ্রমিক। নিশ্চিত হচ্ছে না ন্যূনতম জীবনমান। কর্মক্ষেত্রে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ খাত নির্মাণশিল্প। গত ১০ বছরে এই খাতে নিহত হয়েছে ১ হাজার ১০২ জন শ্রমিক।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ লেবার স্টাডিজ (বিলস) পরিসংখ্যানে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় ২০২১ সালে ১ হাজার ৫৩ জন নিহত হওয়ার তথ্য দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বলেছে, দেশে সবচেয়ে বেশি শ্রমিকের প্রাণহানি ঘটেছে পরিবহন, নির্মাণ ও কৃষি এই তিন খাতে।

প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন নির্মাণ শ্রমিকরা। রাজধানীসহ দেশজুড়ে গড়ে উঠছে বিপুলসংখ্যক বহুতল ভবন। এসব ভবন নির্মাণে শ্রমিকদের দুর্ঘটনা এড়াতে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের কোনো ধরনের জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয় না।

বহুতল ভবনে নির্মাণ শ্রমিকরা অরক্ষিত অবস্থায় কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এমনকি এসব দুর্ঘটনা থেকে পথচারীরাও রেহাই পাচ্ছেন না। ফলে নির্মাণ শ্রমিকদের পাশাপাশি আশপাশের মানুষ ও ভবনের নিচের পথচারীরা নিরাপত্তাহীনতায় থাকেন। কেউ কেউ মারাত্মকভাবে আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করছেন।

মালিকদের অবহেলা, শ্রমিকদের সচেতনতার অভাব এবং শ্রম আইনের সঠিক বাস্তবায়ন না হওয়া এবং এ আইনের দুর্বলতার কারণে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

১০ বছরে নিহত ১ হাজার ১০২ জন

২০১১ সাল থেকে ২০২১ সাল এই ১০ বছরে নির্মাণ খাতে নিহত হয়েছেন ১ হাজার ১০২ জন শ্রমিক।

২০২১ সালে নির্মাণ খাতে ১৫৪ জন শ্রমিক নিহত হন।

এর আগের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, নির্মাণ খাতে ২০১১ সালে ১১১ জন, ২০১২ সালে ১১৩ জন, ২০১৩ সালে ৯৫ জন, ২০১৪ সালে ১০২ জন, ২০১৫ সালে ৬১ জন, ২০১৬ সালে ৮৫ জন এবং ২০১৭ সালে ১৩৪ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন।

২০১৮ সালে সর্বোচ্চ ১৬১ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন।

২০১৯ সালে নিহত হয়েছেন ৯৪৫ জন শ্রমিক। এরপর ১৫৬ জন শ্রমিক প্রাণ হারান।

২০২০ সালে কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ৭২৯ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। নির্মাণ খাতে ৮৪ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়।

জাতীয় বিল্ডিং কোডে কর্মকালীন একজন শ্রমিকের কী কী নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে তার বিস্তারিত উল্লেখ থাকলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তা মানা হয় না। ২০১৪ সালের জাতীয় ভবন নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী কাজের সময় কাজের শ্রমিকের মাথায় হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক করা হয়। যারা কংক্রিটের কাজে যুক্ত, তাদের হাতে গ্লাভস ও চোখের জন্য ক্ষতিকর কাজে চশমা পরিধান করতে হবে। ওয়েল্ডার ও গ্যাস কাটার ব্যবহারের সময় রক্ষামূলক সরঞ্জাম যেমন গ্লাভস, নিরাপত্তা বুট, অ্যাপ্রন ব্যবহার করতে হবে।

ভবনের ওপরে কাজ করার সময় শ্রমিকদের নিরাপত্তায় বেল্ট ব্যবহারও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে এর কোনোটিই বাস্তবে দেখা যায় না।

দুর্ঘটনার কারণ

বিলস বলছে, নির্মাণকাজে ভালো সিঁড়ির অভাব ও সিঁড়িতে পর্যাপ্ত আলোর অভাব, এলোমেলোভাবে রড, বালু ও ইট রাখা, কর্মক্ষেত্রে নেট না থাকা অথবা নাজুক নেটের ব্যবহার, কপিকলের ব্যবস্থা না থাকা, হেলমেট, গ্লাভসের ব্যবস্থা না করা, খালি পায়ে কাজ করা, অসাবধানতা ও অসচেতনভাবে আবদ্ধ স্থানে প্রবেশ, প্রচণ্ড রোদে কাজ করা, ত্রুটিপূর্ণ যন্ত্রপাতির ব্যবহার, বিশ্রাম কম; দুর্বল মাচা, দেয়াল বা মাটি চাপা পড়া, ঝুলন্ত অবস্থায় কাজের সময় বেল্ট ব্যবহার না করা, ভালো জুতা বা বুট ব্যবহার না করা, আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব ও ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক লাইনের কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে।

এ ছাড়া ওপর থেকে পড়ে শ্রমিকের অঙ্গহানি ও মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। মাটিচাপা পড়ে, মাটি বহনকারী গাড়ি দুর্ঘটনা, অগ্নিদগ্ধ হওয়া, বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা, চোখে আঘাত লাগা বা অন্ধ হয়ে যাওয়া, মাথায় আঘাত পাওয়া, হাত-পা কেটে বা ভেঙে যাওয়া ও আবদ্ধ গ্যাসেও মৃত্যুর হার বাড়ছে।

শ্রম আইন অনুযায়ী, কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিয়োগকারীর। শ্রমিকের ব্যক্তিগত সুরক্ষা যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও ব্যবহার নিশ্চিত করা ছাড়া নিয়োগকারী কাউকে কাজে নিয়োগ করতে পারবেন না।

আইনে এমন বাধ্যবাধকতা থাকলেও রাজধানীর একাধিক নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শন করে দেখা গেছে, গামবুট, হেলমেট, নিরাপত্তা বেল্টসহ নিরাপত্তা উপকরণ ছাড়াই কাজ করছেন শ্রমিকরা।

সংশ্লিষ্টরা যা বলেন

ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন বাংলাদেশের (ইনসাব) সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এ নির্মাণ সেক্টরে ৩৭ লক্ষাধিক পেশাজীবী জড়িত। শ্রমিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে শ্রম আইনে মালিক, শ্রমিক ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিদের নিয়ে ‘শিল্প স্বাস্থ্য সেফটি কমিটি’ গঠন করতে বলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে একটি কমিটি থাকলেও তৃণমূল পর্যায়ে এই কমিটি নেই। ফলে শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শ্রমিকদের নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বা মালিক পক্ষকে চাপ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

বিলসের পরিচালক কোহিনূর মাহমুদ বলেন, নির্মাণ খাতের বড় বড় ফার্ম কিছুটা নীতিমালা মেনে চলে। কিন্তু ছোট কিংবা ব্যক্তিমালিকানাধীন ভবনগুলো এই নীতিমালা মানতে চায় না। এ জন্য ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। পরিদর্শনের জন্য তাদের পর্যাপ্ত ক্ষমতা দিতে হবে। প্রয়োজনে আইন প্রয়োগ করবে। না হলে এসব ঘটনা এড়ানো যাবে না।

আরও পড়ুন:
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রোব-বুধবার
৮৩ শতাংশ আয় বাড়ল ডিবিএইচের
আয় বাড়ল আইপিডিসিরও
বিদেশ যেতে অনুমতি লাগবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রধানদেরও
আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ পরিশোধে আরও ছাড়

শেয়ার করুন

মা-বাবা হলেন প্রিয়াঙ্কা-নিক

মা-বাবা হলেন প্রিয়াঙ্কা-নিক

মা-বাবা হয়েছেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া-নিক জোনাস। ছবি: সংগ্রহীত

সন্তানের জন্য সবার কাছে আশীর্বাদ চেয়েছেন তারকা দম্পতি। সেই সঙ্গে অনুরোধ করেছেন, আপাতত তাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বাড়তি কৌতূহল দেখানো যেন বন্ধ করেন সবাই।

বিচ্ছেদ নিয়ে কত কথাই না হলো কিছুদিন আগে। প্রিয়াঙ্কা চোপড়া আর নিকের বিচ্ছেদের জল্পনায় পাকাপাকি দাড়ি টানলেন দম্পতি। নিন্দুকদের মুখ বন্ধ করে খুশির খবর দিলেন ‘নিকিয়াঙ্কা’।

মা-বাবা হয়েছেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া-নিক জোনাস। শুক্রবার মধ্যরাতে নিজের ইনস্টাগ্রামে মা হওয়ার কথা জানান অভিনেত্রী।

জানিয়েছেন, সারোগেসির মাধ্যমে সন্তান এসেছে নিকিয়াঙ্কার কোলে। সারোগেসি হলো অন্যের গর্ভে সন্তান বড় করা এবং জন্ম দেয়া। অর্থাৎ প্রিয়াঙ্কা-নিকের সন্তান অন্য কোনো নারীর গর্ভে বড় হয়েছে এবং জন্ম দিয়েছে।

সন্তানের জন্য সবার কাছে আশীর্বাদ চেয়েছেন তারকা দম্পতি। একই সঙ্গে অনুরোধ করেছেন, আপাতত তাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বাড়তি কৌতূহল দেখানো যেন বন্ধ করেন সবাই।

প্রিয়াঙ্কার নামের পাশ থেকে জোনাস পদবি তুলে দিতেই জল্পনায় মেতে উঠেছিল আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। ছড়িয়েছিল নিক-প্রিয়াঙ্কার বিচ্ছেদের গুঞ্জনও। তার মধ্যেই মাতৃত্বের ইঙ্গিত দিয়েছেন অভিনেত্রী, কিন্তু কেউ বুঝতে পারেনি।

গত বছর বিয়ের তিন বছর উদযাপন করেছেন তারকা দম্পতি। নিকের চেয়ে ১০ বছরের বড় প্রিয়াঙ্কা; প্রণয় থেকে পরিণয়, প্রতি ক্ষেত্রেই ছিল সমালোচনা। সব কিছু ছাপিয়ে নিকিয়াঙ্কা যেন আবারও প্রমাণ করে দিলেন, বয়স নিছকই সংখ্যামাত্র। চাইলে যে কোনো বয়সেই সুখটা উপভোগ করা যায়।

আরও পড়ুন:
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রোব-বুধবার
৮৩ শতাংশ আয় বাড়ল ডিবিএইচের
আয় বাড়ল আইপিডিসিরও
বিদেশ যেতে অনুমতি লাগবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রধানদেরও
আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ পরিশোধে আরও ছাড়

শেয়ার করুন

হয়ে গেল পরী-রাজের হলুদ, বিয়ে আজ

হয়ে গেল পরী-রাজের হলুদ, বিয়ে আজ

হলুদ শাড়িতে পরীমনি এবং সাদা-হলুদ পায়জামা-পাঞ্জাবিতে সেজেছেন শরিফুল ইসলাম রাজ। ছবি: নিউজবাংলা

পরিচালক গিয়াসউদ্দিন সেলিম বলেন, ‘এখন আসলে কিছু আনুষ্ঠানিকতা হচ্ছে। তখন (১৭ অক্টোবর) তো কোনো আয়োজন করা হয়নি। তাই কাছের মানুষ এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এ আয়োজন।’ এরই মধ্যে হলুদের কিছু ছবি প্রকাশ পেয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

শুক্রবার রাতে হলুদ সন্ধ্যা হয়ে গেল অভিনয়শিল্পী দম্পতি পরীমনি ও শরিফুল ইসলাম রাজের। শনিবার হবে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পরিচালক গিয়াসউদ্দিন সেলিম।

পাঠক, হয়তো ভাবছেন, এখন আবার হলুদ-বিয়ে কিসের! সবাইকে চমকে দিয়ে সম্প্রতি মা হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন পরীমনি। বাবার নামে বলেছেন শরিফুল ইসলাম রাজের নাম। রাজও জানিয়েছেন, তাদের বিয়ে হয়েছে ১৭ অক্টোবর। তাহলে এখন আবার কিসের হলুদ-বিয়ে!

গিয়াসউদ্দিন সেলিম বলেন, ‘এখন আসলে কিছু আনুষ্ঠানিকতা হচ্ছে। তখন (১৭ অক্টোবর) তো কোনো আয়োজন করা হয়নি। তাই কাছের মানুষ এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এ আয়োজন।’

এরই মধ্যে হলুদের কিছু ছবি প্রকাশ পেয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। হলুদ শাড়িতে পরীমনি এবং সাদা-হলুদ পায়জামা-পাঞ্জাবিতে সেজেছিলেন রাজ। হলুদ ফুলে সাজানো হয়েছিল ঘরের দেয়াল।

আয়োজনে আমন্ত্রিত ছিলেন নির্মাতা গিয়াসউদ্দিন সেলিম, চয়নিকা চৌধুরী, রেদওয়ান রনি। কিছু অপরিচিত মুখও দেখা গেছে ফেসবুকে প্রকাশ পাওয়া ছবিতে। ধারণা করা হচ্ছে তারাই হয়তো পরিবারের সদস্য। এ ব্যাপারে তেমন কিছু বলতে চাননি সেলিম।

তিনি বলেছেন, ‘এ আয়োজনের মাধ্যমে পরী-রাজের পরিবারের সদস্যদের দেখা হওয়ার সুযোগ হয়েছে।’

সেলিমের পরিচালনায় গুণিন ওয়েব ফিল্মে প্রথমবার এক সঙ্গে কাজ করেন রাজ-পরী। পরী শিগগিরই মা নামের একটি সিনেমার শুটিংয়ে অংশ নেবেন।

আরও পড়ুন:
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রোব-বুধবার
৮৩ শতাংশ আয় বাড়ল ডিবিএইচের
আয় বাড়ল আইপিডিসিরও
বিদেশ যেতে অনুমতি লাগবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রধানদেরও
আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ পরিশোধে আরও ছাড়

শেয়ার করুন