টাঙ্গাইল-৭: ঘাঁটিতে আ.লীগের প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল

player
টাঙ্গাইল-৭: ঘাঁটিতে আ.লীগের প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল

টাঙ্গাইলের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী খান আহমেদ শুভর মনোনয়ন বাতিল করেছে রিটার্নিং কর্মকর্তা।

এই আসনটি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০০১‌ সাল থেকে সবগুলো নির্বাচনেই এই আসনে জিতেছেন আওয়ামী লীগের একাব্বর হোসেন। গত ১৬ নভেম্বর এ আসনের সংসদ সদস্য একাব্বর হোসেন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ৩০ নভেম্বর এই আসনটি শূন্য ঘোষণা করে তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যের মৃত্যুতে শূন্য ঘোষিত টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীসহ ৪ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। জাতীয় পার্টির একজনসহ তিন জনকে বৈধ প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।

যাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে তারা হলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী খান আহমেদ শুভ, অনিবন্ধিত বাংলাদেশ বৈরাবরি পার্টির পীর সৈয়দ আলমগীর হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল ইসলাম ও আরজু মিয়া।

যাদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে তারা হলেন জাতীয় পার্টির জহিরুল ইসলাম জহির, বাংলাদেশের ওয়ার্কাস পার্টির গোলাম নওজেব চৌধুরী ও বাংলাদেশ কংগ্রেস পার্টির রুপা রায় চৌধুরী।

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য একাব্বর হোসেনের মৃত্যুতে শূন্য ঘোষিত আসনে উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে সাতজন মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তা সোমবার সন্ধ্যায় তাদের মনোনয়নপত্র বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, খেলাপি ঋণের জামিনদার হওয়ায় খান আহমেদ শুভর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া এক শতাংশ ভোটার তালিকায় গড়মিল থাকায় পীর সৈয়দ আলমগীর হোসেন, নুরুল ইসলাম ও আরজু মিয়ার মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এএইচএম কামরুল হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে তারা আপিল করার সুযোগ পাবেন।’

এই উপনির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে ময়মনসিংহ আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা শাহেদুন্নবী চৌধুরী।

গত ১৬ নভেম্বর এ আসনের সংসদ সদস্য একাব্বর হোসেন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ৩০ নভেম্বর এই আসনটি শূন্য ঘোষণা করে তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

আগামী ১৬ জানুয়ারি আসনটিতে ভোট হবে।

এই আসনটি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০০১‌ সাল থেকে সবগুলো নির্বাচনেই এই আসনে জিতেছেন আওয়ামী লীগের একাব্বর হোসেন।

আরও পড়ুন:
ভোটের অপেক্ষায় সিরাজগঞ্জ-৬ আসন
সিরাজগঞ্জ-৬: নৌকা-লাঙ্গলের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা
অস্ত্র মামলায় কারাবন্দি টিনু চকবাজারের কাউন্সিলর
সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে নৌকা পেলেন কবিতা
গোদাগাড়ীতে উপনির্বাচন: স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভোট বর্জন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থককে কুপিয়ে হত্যা

পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থককে কুপিয়ে হত্যা

নিহত মেহেদি হাসান স্বপন। ছবি: নিউজবাংলা

শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম শনিবার সকালে বলেন, ‘রাতে দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত একজন মারা গেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি। তবে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হবে। এলাকার পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।’

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থককে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।

ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর শুক্রবার রাতে তার মৃত্যু হয়।

নিহত ৩০ বছর বয়সী ওই যুবকের নাম মেহেদি হাসান স্বপন। তার বাড়ি উপজেলার সারুটিয়া ইউনিয়নের সারুটিয়া গ্রামের তালতলা পাড়ায়।

শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, সারুটিয়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান মামুদ। এই ইউনিয়নে ৫ জানুয়ায়ারি পঞ্চম ধাপের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন পরাজিত বিদ্রোহী প্রার্থী জুলফিকার কাইছার টিপু। নিহত মেহেদি হাসান জুলফিকারের সমর্থক ছিলেন।

নিহতের বোনজামাই লিমন হোসেনের অভিযোগ, বর্তমান চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান মামুদের লোকজন তাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে।

তিনি বলেন, ‘আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান মামুদের লোকজন মেহেদি হাসানকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। বাড়ির পাশের রাস্তায় নিয়ে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়।

‘খবর পেয়ে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতে ফরিদপুরে পাঠানো হয়। সেখানে নেয়ার পরপরই তার মৃত্যু হয়।’

নিউজবাংলাকে শনিবার ১১টার দিকে মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘নিহত মেহেদি হাসান শুক্রবার রাতে আমার দলে যোগ দিয়েছে। যারা কুপিয়েছে তারাও আমার লোক। তবে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জেরে তারা মেহেদিকে কুপিয়েছে। এর পেছনে রাজনৈতিক কোনো কারণ নেই।’

শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম শনিবার সকালে বলেন, ‘রাতে দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত একজন মারা গেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি। তবে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হবে। এলাকার পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।’

আরও পড়ুন:
ভোটের অপেক্ষায় সিরাজগঞ্জ-৬ আসন
সিরাজগঞ্জ-৬: নৌকা-লাঙ্গলের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা
অস্ত্র মামলায় কারাবন্দি টিনু চকবাজারের কাউন্সিলর
সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে নৌকা পেলেন কবিতা
গোদাগাড়ীতে উপনির্বাচন: স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভোট বর্জন

শেয়ার করুন

‘ভোটারের কাছে প্রার্থী খাটো কী, লম্বা কী?’

‘ভোটারের কাছে প্রার্থী খাটো কী, লম্বা কী?’

নির্বাচনি প্রচারে মোশারফ হোসেন মশু। ছবি: নিউজবাংলা

স্থানীয় লিটন মিয়া বলেন, ‘হামগো ভোটারের কাছে প্রার্থী খাটো কী, লম্বা কী? সাইজ দেহি তো ভোট দিবাইন নই। যোগ্য দেখিয়া ভোটটা দিমু।’

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ষষ্ঠ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোশারফ হোসেন মশু। এলাকায় তাকে নিয়ে চলছে বেশ আলোচনা।

এই আলোচনার কারণ ২৬ বছর বয়সী মশুর উচ্চতা। ২৮ ইঞ্চির পর তার উচ্চতা আর বাড়েনি বলে জানান মশু।

তার বাড়ি ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাগভান্ডার কদমতলা গ্রামে। নির্দিষ্ট কোনো পেশা নেই মশুর। যখন যে কাজ পান তাই করেন। সদর ইউনিয়নে আগামী ৩১ জানুয়ারির ভোটে তিনি ভ্যানগাড়ি প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

স্থানীয়রা বলছেন, তারা মশুকে উচ্চতা দিয়ে নয়, মাপতে চান যোগ্যতা দিয়ে।

স্থানীয় লিটন মিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হামগো ভোটারের কাছে প্রার্থী খাটো কী, লম্বা কী? সাইজ দেহি তো ভোট দিবাইন নই। যোগ্য দেখিয়া ভোটটা দিমু।’

‘ভোটারের কাছে প্রার্থী খাটো কী, লম্বা কী?’

একই কথা বলেন রেশমা বেগম। তার কথা, ‘লম্বা-ভুড়িওয়ালা মানুষক তো ভোট দিয়া দেখছি। এবার খাটো মানুষ দাঁড়াইছে তাতে কী হইছে? যোগ্য ব্যক্তি দেহি ভোট দেমো (দেবো)।’

লিপি বেগম জানান, মশুর মা বেঁচে নেই। এতিম, দরিদ্র ছেলে। স্থানীয়রাই তাকে ভালোবেসে প্রার্থী করেছে। নির্বাচনি পোস্টার, লিফলেটসহ সব খরচ এলাকার মানুষই দিচ্ছে।

মো. তালেব বলেন, ‘একজন দরিদ্রের কষ্ট অন্য দরিদ্রই ভালো বোঝেন। তাই আমরা মশুকে মেম্বার প্রার্থী করেছি। এখন মানুষ যাকে ভালোবাসবে তাকেই ভোট দেবে।’

‘ভোটারের কাছে প্রার্থী খাটো কী, লম্বা কী?’

ভোটে দাঁড়ানোর বিষয়ে মশু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি নির্বাচন করব এমন চিন্তা ছিল না। এলাকার মানুষই আমাকে ভোটে দাঁড় করিয়েছে। নির্বাচিত হলে জনসেবার মাধ্যমে সাধারণ ভোটারদের আস্থার প্রতিদান দিতে চাই।’

মিশুকে হেয় না করে অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের মতোই দেখছেন বলে জানান সদস্য পদে দাঁড়ানো আরেক প্রার্থী আব্দুল মোত্তালেব।

তিনি বলেন, ‘আমরা অন্য প্রার্থীরা তাকে হেয় বা ছোট করে না দেখে প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবেই দেখছি। এখন ভোটাররা যাকে ভালবাসে ও যোগ্য মনে করে তাকেই ভোট দেবে।’

ভূরুঙ্গামারী উপজেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘প্রতিটি নাগরিকের নির্বাচনে অংশ নেয়ার সমান অধিকার আছে। সবাই বিধি অনুযায়ী নির্বাচনি প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। কোথাও আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয়নি।’

আরও পড়ুন:
ভোটের অপেক্ষায় সিরাজগঞ্জ-৬ আসন
সিরাজগঞ্জ-৬: নৌকা-লাঙ্গলের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা
অস্ত্র মামলায় কারাবন্দি টিনু চকবাজারের কাউন্সিলর
সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে নৌকা পেলেন কবিতা
গোদাগাড়ীতে উপনির্বাচন: স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভোট বর্জন

শেয়ার করুন

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা অনলাইনে, খোলা হল

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা অনলাইনে, খোলা হল

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: নিউজবাংলা

অধ্যাপক ড. তাহের জানান, সভায় নেয়া সিদ্ধান্তের মধ্যে চলমান সশরীরে শিক্ষা কার্যক্রম আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ সময় শিক্ষা কার্যক্রম স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনলাইনে চলবে। একই সঙ্গে প্রথম বর্ষের রেজিস্ট্রেশন ও শূন্য আসনে ভর্তিও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকারি নির্দেশনা মেনে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সশরীরে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) কর্তৃপক্ষ। এ সময় অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে আবাসিক হলগুলো খোলা থাকবে।

অনলাইনে অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিল মিটিং শেষে শুক্রবার রাত ৯টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের।

তিনি বলেন, মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনের পর এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

অধ্যাপক ড. তাহের জানান, সভায় নেয়া সিদ্ধান্তের মধ্যে চলমান সশরীরে শিক্ষা কার্যক্রম আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ সময় শিক্ষা কার্যক্রম যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনলাইনে চলবে। একই সঙ্গে প্রথম বর্ষের রেজিস্ট্রেশন ও শূন্য আসনে ভর্তিও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবে।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসগুলো যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সীমিত পরিসরে চলবে। তবে জরুরি সেবা যথারীতি চালু থাকবে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জনসমাগম না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

অনলাইনে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী। এ যুক্ত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হুমায়ন কবির, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান, রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধানসহ অনেকে।

করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় শুক্রবার থেকে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ দেয় সরকার। এ দিন সংক্রমণ রোধে পাঁচটি জরুরি নির্দেশনা জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

আরও পড়ুন:
ভোটের অপেক্ষায় সিরাজগঞ্জ-৬ আসন
সিরাজগঞ্জ-৬: নৌকা-লাঙ্গলের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা
অস্ত্র মামলায় কারাবন্দি টিনু চকবাজারের কাউন্সিলর
সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে নৌকা পেলেন কবিতা
গোদাগাড়ীতে উপনির্বাচন: স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভোট বর্জন

শেয়ার করুন

নাব্যসংকটে পদ্মা-যমুনার কার্গো জাহাজ

নাব্যসংকটে পদ্মা-যমুনার কার্গো জাহাজ

মানিকগঞ্জের শিবালয়ের অন্বয়পুর এলাকায় নোঙর করে রাখা জাহাজ। ছবি: নিউজবাংলা

পদ্মা-যমুনায় নাব্যসংকটের কারণে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বিভিন্ন বন্দর থেকে ছেড়ে আসা পণ্যবাহী জাহাজগুলোকে। প্রায় শতাধিক কার্গো জাহাজ নোঙর করে রাখা হয়েছে মানিকগঞ্জ এলাকায়। ভোগান্তিতে পড়েছেন জাহাজচালক ও ব্যবসায়ীরা।

চট্টগ্রাম, খুলনা ও মোংলা বন্দর থেকে কার্গো জাহাজে করে সার, চিনি ও জ্বালানি তেল আসছে বাঘাবাড়ি, নগরবাড়ি, পাবনাসহ উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য।

তবে নাব্যসংকটের কারণে মানিকগঞ্জের শিবালয়ের অন্বয়পুর এলাকায় জাহাজগুলোকে নোঙর করতে বাধ্য হচ্ছেন চালকরা।

পরে সপ্তাহ কিংবা তারও বেশি সময় অপেক্ষার পর অন্য কোনো উপায় না দেখে অর্ধেক মাল আনলোড করে যেতে হচ্ছে গন্তব্যে।

মা-বাবার দোয়া কার্গো জাহাজের চালক মো. ইয়ামিন শেখ বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকে সার নিয়া বাঘাবাড়ি যাইতেসিলাম। পাঁচ দিন সময় লাগছে মানিকগঞ্জ আসতে। নদীতে পানি কম থাকায় জাহাজ চরে ঠেইকা যায়। যার কারণে আরিচা ঘাটের কাছে নোঙর করসি। এইখানেও ৫-৬ দিন অপেক্ষা করসি। মনে হয় আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হবে।’

অন্বয়পুরে আটকে থাকা এমভি পূর্ণিমা কার্গো জাহাজের চালক মো. নাঈম শেখ বলেন, ‘মালবোঝাই সব জাহাজ এইখানে নোঙর করে। এরপর সিরিয়াল অনুযায়ী ভোটগেট বা ট্রলারের মাধ্যমে অর্ধেক মাল পাঠানোর পর বাকি অর্ধেক মাল নিয়ে উত্তরাঞ্চলের দিকে রওনা দেই। তা না হলে জাহাজ চরে আটকা পড়ব। কারণ ওই দিকের খারি (জাহাজ যাতায়াতের জায়গা) খুব ছোট।’

নাব্যসংকটে পদ্মা-যমুনার কার্গো জাহাজ

উত্তরাঞ্চলের ব্যবসায়ী সুলাল বড়ুয়া বলেন, ‘সরকার যদি এই নদীগুলোর নাব্যসংকট দূর করে বা ড্রেজিং করে তাহলে আমরা সরাসরি মালামাল নিয়ে নগরবাড়ি যেতে পারব। এতে উত্তরাঞ্চলের ব্যবসায়ী ও কৃষকদের সুবিধা হবে।’

শিবালয়ের সার্বে কোম্পানির স্কোর্ট অফিসার মোহাম্মদ শরিফ জানান, বাঘাবাড়ি, নগরবাড়ি এবং উত্তরাঞ্চলের জন্য বিভিন্ন মালামাল নিয়ে চট্টগ্রাম, মোংলা, খুলনা থেকে নিয়মিত মালবাহী কার্গো জাহাজ যায়।

বর্তমানে আরিচা-পাটুরিয়ার বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৭০টির মতো জাহাজ নোঙর করে আছে এবং আরও জাহাজ পথিমধ্যে আছে।

প্রতিটি জাহাজে ৮০০ থেকে ১২০০ টন মাল থাকে। কিন্তু নদীতে নাব্যতার কারণে এই জাহাজগুলো সরাসরি তাদের গন্তব্যস্থলে যেতে পারে না।

নাব্যসংকটে পদ্মা-যমুনার কার্গো জাহাজ

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জাহাজের চালক জানান, নাব্যসংকটের কারণে শিবালয়ের অন্বয়পুরে জাহাজ নোঙর করলে বিআইডব্লিউসির লোকজন গিয়ে মালামালের কাগজপত্র দেখেন। কাগজপত্র ঠিক থাকলেও প্রতিটি জাহাজ থেকে ১ হাজার করে টাকা দিতে হয়। তা না দিলে ঝামেলার মুখে পড়তে হয়।

তা ছাড়া চট্টগ্রাম থেকে আসতেও বিভিন্ন জায়গায় নিয়মিত চাঁদা দিতে হয়।

তবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের আরিচা কার্যালয়ের ড্রেজিং বিভাগের (এসিও) বেলায়েত হোসাইন টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘নদীতে নাব্যসংকটের সমস্যা আছে ঠিকই। কিন্তু নোঙর করা জাহাজগুলো এই নৌরুটের না। ফলে সমস্যা হচ্ছে। কারণ এই মৌসুমে এত বড় জাহাজ আরিচা চ্যানেলে চলতে পারবে না। বিশেষ করে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সমস্যা বেশি হয়।’

আরও পড়ুন:
ভোটের অপেক্ষায় সিরাজগঞ্জ-৬ আসন
সিরাজগঞ্জ-৬: নৌকা-লাঙ্গলের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা
অস্ত্র মামলায় কারাবন্দি টিনু চকবাজারের কাউন্সিলর
সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে নৌকা পেলেন কবিতা
গোদাগাড়ীতে উপনির্বাচন: স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভোট বর্জন

শেয়ার করুন

সুমিত্রা-রুপাদের স্বপ্ন কেড়ে নিল সিকদারের বাগানবাড়ি

সুমিত্রা-রুপাদের স্বপ্ন কেড়ে নিল সিকদারের বাগানবাড়ি

সিকদার রিয়েল এস্টেট একটি পরিবারকে উচ্ছেদ করে এই বাগান বাড়ি তৈরি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ছবি: নিউজবাংলা

বাপ-দাদার ভিটেমাটি থাকতেও দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সুমিত্রা রানী ও তার স্বজনরা। তাদের অভিযোগ, প্রভাবশালী এক পরিবারের শখের বাগানবাড়ি বানাতে গিয়ে উচ্ছেদ করা হয় ওই পরিবারটিকে।

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ডিঙ্গামানিক মৌজার মধুপুর গ্রাম। এই গ্রামেই অন্তত ৩০ একর জমির ওপর ২০০৯ সালে একটি বাগানবাড়ি গড়ে তোলার কাজ শুরু করে প্রয়াত ব্যবসায়ী জয়নুল হক সিকদারের পরিবার।

পুকুরের মধ্যে আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন চারতলা ভবন, হরিণের খামার, দুটি পুকুরের সংযোগস্থলে সেতু আর নানা প্রজাতির গাছপালা দিয়ে সাজানো হয় বাগানবাড়িটি।

অভিযোগ উঠেছে, এই বাগানবাড়ি বানাতে গিয়েই একটি হিন্দু পরিবারকে জোর করে উচ্ছেদ করেছে সিকদার রিয়েল এস্টেট। তবে উচ্ছেদের বিষয়টি অস্বীকার করছে ওই প্রতিষ্ঠান।

সুমিত্রার দাবি, ওই বাগানবাড়ির মধ্যেই তাদের ৪১ শতাংশ জমি; ছিল বাড়িও। ২০১৮ সালে ওই বাড়ি থেকে জোর করে তাড়িয়ে দেয়া হয় সুমিত্রা ও তার স্বজনদের। নির্মাণ করা হয় সীমানাপ্রাচীর আর বিশাল ফটক।

সুমিত্রার বাবা অমূল্য চরন দে ওই জমির মালিক ছিলেন। তার মৃত্যুর পর বিআরএস জরিপে সুমিত্রার ভাই রতন কুমার দে ও জগদীস চন্দ্র দে’র নামে ওই জমির মালিকানা হয়। দুটি টিনের ঘরে পরিবারটি বসবাস করত।

সুমিত্রা-রুপাদের স্বপ্ন কেড়ে নিল সিকদারের বাগানবাড়ি
সুমিত্রাদের টিনের ঘর

২০০৯ সালে রতন কুমার দে ও ২০১৩ সালে তার স্ত্রী ঝর্না রানী দে তিন শিশুকন্যা রেখে মারা যান। এরপর সুমিত্রা ও তার ভাই জগদীশ দে ওই শিশুদের লালনপালনের দায়িত্ব নেন।

ভিটেমাটি হারানোর পর নানা রোগ-শোক ভর করে জগদীশের শরীরেও। ২০২০ সালে তিনিও মারা যান।

সংসারে উপার্জনক্ষম ব্যক্তি না থাকায় এবং বাড়ি থেকে বিতাড়িত হওয়ায় ভাইয়ের তিন কিশোরী কন্যা নিয়ে বিপাকে পরেন সুমিত্রা। আশ্রয় নেন পাশের ডিঙ্গামানিক গ্রামের কাদির শেখের পরিত্যক্ত রান্না ঘরে।

সুমিত্রা-রুপাদের স্বপ্ন কেড়ে নিল সিকদারের বাগানবাড়ি
উচ্ছেদের বর্ণনা দেন সুমিত্রা

সেই দিনের স্মৃতি মনে করে সুমিত্রা বলেন, ‘আমি পাট লইতাছিলাম। পাট লওয়া শ্যাষ কইরা ৩টা সাড়ে ৩টার দিকে বাড়ি গেলে বাড়িতে ঢুকতে দেয় নাই। সিকদারের ছেলেরা দাঁড়াইয়া থাইক্যা বাউন্ডারি দিসে। কইছিলাম, ঘরে খাওনদাওন, কাপড়চোপড় আছে, এগুলো আনতে দেন। কিন্তু দেয় নাই। পরনের ময়লা কাপড় লইয়া, তিনডা মাইয়ারে লইয়া মাথা গোঁজার লিগ্যা মানুষের দ্বারে দ্বারে যাই। কিন্তু সিকদারগো ভয়ে কেউই আমাগো রাখতে সাহস পায় না। পরে এই বাড়ির রান্দোন ঘরে থাকি।’

তিনি বলেন, ‘এই শোকে আমার ভাইডাও মইরা গেল। একটা মাইয়া যেই বেতন পায় হেইয়া দিয়াই কোনোরকম চলি।’

সুমিত্রা জানান, নিজের বাড়ির ভিটায় ফিরে যাওয়াই এখন তাদের স্বপ্ন।

রতন দে’র মেয়ে রুপা রানী দে বলেন, ‘সিকদারের ছেলেরা বাড়ি এলেই গোলাগুলি করত, আরও অনেক কাজ করত। ভয়ে আমরা বাড়ি থেকে অন্য জায়গায় গিয়ে থাকতাম। মা-বাবা নাই, কাকাও মারা গেছে, এখন শুধু পিসিই বেঁচে আছেন। জমি আর আমাদের জন্য চিন্তা করতে করতে তার শরীরও ভালো নেই।’

রুপা জানান, মহিলা অধিদপ্তরের একটা প্রজেক্টে কাজ করে তিনি ৮ হাজার টাকা বেতন পান। তা দিয়ে ঘর ভাড়া, তিন বোনের পড়ার খরচ, পোশাক, খাওয়া কোনোটাই পুরোপুরি করা সম্ভব হয় না। সব সময়ই নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন তারা।

তিনি আরও জানান, মন্ত্রী এনামুল হক শামীম তাদের একবার দেখতে গিয়েছিলেন। ভিটেমাটি ফিরিয়ে দেয়ার বিষয়ে তিনি আশ্বাসও দিয়েছেন।

এদিকে সিকদার রিয়েল স্টেটের প্রকৌশলী ও ব্যবস্থাপক সানোয়ার হোসেন বলেন, ‘সুমিত্রারা এখানে বসবাস করতেন। এখনও তাদের দুটি ঘর আছে। আমাদের নিরাপত্তার জন্যই বাউন্ডারি দেয়া হয়েছে। তাদের উচ্ছেদ করা হয়নি। তারা চলে গেছেন। তাদের যদি কোনো কাগজপত্র থাকে এবং সেটা যদি তারা দেখাতে পারেন তাহলে যেভাবে মীমাংসা করতে চান, সেভাবেই মীমাংসা করা হবে।’

জমির মালিকানা জানতে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গেলে ভূমি কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন মোল্লা নথিপত্র দেখে জানান, দাবি করা জমিটির মালিক হচ্ছেন অমূল্য চন্দ্র দের দুই ছেলে রতন কুমার দে ও জগদীস চন্দ্র দে। ভাইদের এই জমির খাজনা বাংলা ১৪২৫ সন পর্যন্ত পরিশোধ করেছেন সুমিত্রা রানি দে।

আরও পড়ুন:
ভোটের অপেক্ষায় সিরাজগঞ্জ-৬ আসন
সিরাজগঞ্জ-৬: নৌকা-লাঙ্গলের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা
অস্ত্র মামলায় কারাবন্দি টিনু চকবাজারের কাউন্সিলর
সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে নৌকা পেলেন কবিতা
গোদাগাড়ীতে উপনির্বাচন: স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভোট বর্জন

শেয়ার করুন

আর্থ কালভার্ট অকেজো, দুর্ভোগে ৪ ইউনিয়নের মানুষ

আর্থ কালভার্ট অকেজো, দুর্ভোগে ৪ ইউনিয়নের মানুষ

নীলফামারীতে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে ‘আর্থ কালভার্ট’। ছবি: নিউজবাংলা

ডোমার উপজেলা প্রকৌশলী মোস্তাক আহমেদ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে একটি প্রকল্প তৈরি করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন হয়ে আসলে সেখানে নতুন করে কালভার্ট নির্মাণ শুরু হবে।

চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার হরিণচড়া ইউনিয়নের আর্থ কালভার্ট।

এই পথে প্রতিদিনই যাতায়াত করেন ডোমার উপজেলার হরিণচড়া, সোনারায় এবং নীলফামারী সদর উপজেলার লক্ষ্মীচাপ ও চওড়া বড়গাছা ইউনিয়নের প্রায় দশ হাজার মানুষ।

তাই কালভার্টটি অকেজো হয়ে পড়ায় চার ইউনিয়নের প্রায় দশ হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।

শুকনো সময়ে হেঁটে কিংবা বাইসাইকেল ব্যবহার করে চলাচল করা গেলেও বৃষ্টি হলে একেবারে চলাচলের অযোগ্য হয়ে উঠে এ কালভার্ট।

হরিণচড়া ইউনিয়নের হরিহারা গ্রামের বাঁশেরপুল নামক স্থানে অবস্থিত এই আর্থ কালভার্ট।

কালভার্ট ব্যবহার করতে না পারায় নীলফামারী-ডোমার প্রধান সড়কে মালামাল নিয়ে চলাচলকারী ভ্যান, পিকআপ কিংবা ট্রাকগুলোকে চার কিলোমিটার ঘুরে উঠতে হচ্ছে।

এ ছাড়া ভেঙে দেবে যাওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পথচারীরা।

ভ্যানচালক নূর হোসেন জানান, খালি ভ্যান নিয়ে কালভার্টের উপর দিয়ে আসাও কষ্টকর। এমনভাবে দেবে গেছে ভ্যান নামালে উল্টে পড়ার উপক্রম হয়। কোনো রকমে অন্যের সাহায্য নিয়ে ভ্যান নামিয়ে উঠাতে হয়।

আর্থ কালভার্ট অকেজো, দুর্ভোগে ৪ ইউনিয়নের মানুষ

সোনারায় ইউনিয়নের ডুগডুগি এলাকার বাসিন্দা রমজান আলী নিউজবাংলাকে জানান, ২০১৭ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় কালভার্টটি। আগে চলাচল করা গেলেও ভেঙে দেবে যাওয়ায় এখন আর চলাচল করা যায় না। হাঁটা ছাড়া কোনো উপায় নেই।

স্থানীয় বাসিন্দা পরেশ দাস বলেন, ‘একটু দূরেই স্কুল। বৃষ্টি হলে জমাট হয়ে থাকে পানি। শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারে না।’

হরিণচড়া বাজারে যাতায়াতকারীদের যেন বিড়ম্বনার শেষ নেই।

স্থানীয়রা জানান, কলমদার নদীর ওপরে অবস্থিত কালভার্টটি। সম্প্রতি নদী খনন হওয়ায় পানি নিষ্কাশনের গতিবৃদ্ধি পায়। কিছুদিন আগে নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে কালভার্টটি দেবে ভেঙে যায়। এরপর থেকে এটি চলাচলের জন্য ঝুঁকি হয়ে দাঁড়ায়।

ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম জানান, কালভার্টটি ভেঙে পড়ায় ব্যবসায়ীদের অনেক দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। মালামাল আনা নেয়া কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক সময় ঝুঁকি নিয়ে ভ্যানে মালামাল নিয়ে আসা হলেও কালভার্ট অতিক্রম করতে না পারায় ভ্যান উল্টে যায়। দ্রুত এটি সংস্কার কিংবা নতুন ভাবে তৈরি করা দরকার।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ জনদুর্ভোগের কথা শিকার করেন।

তিনি বলেন, এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হয়েছে। দ্রুত সেখানে নতুন কালভার্ট স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

নতুন করে এটি তৈরির জন্য উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরে জানানো হয়েছে।

ডোমার উপজেলা প্রকৌশলী মোস্তাক আহমেদ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে একটি প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন হয়ে আসলে সেখানে নতুন কালভার্ট নির্মাণ করা হবে।

আরও পড়ুন:
ভোটের অপেক্ষায় সিরাজগঞ্জ-৬ আসন
সিরাজগঞ্জ-৬: নৌকা-লাঙ্গলের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা
অস্ত্র মামলায় কারাবন্দি টিনু চকবাজারের কাউন্সিলর
সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে নৌকা পেলেন কবিতা
গোদাগাড়ীতে উপনির্বাচন: স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভোট বর্জন

শেয়ার করুন

সরকারি প্রহরী নিয়ে জমি দখলে ইউপি চেয়ারম্যান!

সরকারি প্রহরী নিয়ে জমি দখলে ইউপি চেয়ারম্যান!

সরকারি প্রহরী নিয়ে করা হচ্ছে ভবন নির্মাণের কাজ। ছবি: নিউজবাংলা

বালিয়াডাঙ্গি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় সরকারি প্রহরীকে নিয়ে অন্যের জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে নবনির্বাচিত এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত সোহেল রানা উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে সম্প্রতি শপথ গ্রহণ করেন। নির্বাচনে বিরোধী সমর্থকদের দমন নিপীড়নের জন্যই তিনি এ কাজ করেছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

দখল করে যে স্থানে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে, সে জমির কিছু কাগজপত্র দেখিয়ে এর মালিকানা দাবি করছেন মজিবর রহমান নামের সাবেক এক ইউপি সদস্য। জমি দখলের বিষয়ে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি অভিযোগপত্র দিয়েছেন।

শুক্রবার দুপুরে দুওসুও ইউনিয়নের সমির উদ্দিন কলেজের সামনের রাস্তার পাশের ওই জমিতে দেখা যায়, ইউনিয়নে কর্মরত ৯ জন প্রহরী পাহারা বসিয়ে একটি ভবন নির্মাণের কাজ করাচ্ছেন চেয়ারম্যান সোহেল।

কথা হয় উপস্থিত প্রহরী শরিফুল ইসলামের সঙ্গে। ভবন নির্মাণের স্থানে পাহারা দেয়ায় কারণ জানতে চাইলে তিনি চেয়ারম্যানের আদেশের একটি কাগজ দেখান।

তিনি বলেন, ‘গত চার দিন ধরে আমরা এই ভবন নির্মাণের কাজ দেখাশোনা করছি। ইউনিয়নের সব প্রহরীকে এখানে থাকার আদেশ দিয়েছেন চেয়ারম্যান। কেউ বাধা দিতে আসলে আমাদেরকে প্রতিহত করার নির্দেশনা দেয়া আছে।’

চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরিত কাগজে লেখা রয়েছে, খতিয়ান নম্বর ২৮৪, দাগ নম্বর ৮৭৮৮, ১৩ শতক জমির মধ্যে ২ শতক জমিতে ঘর নির্মাণের কাজে ইউনিয়নের সব গ্রাম পুলিশকে আইন শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের জন্যে বলা হলো।

ইউনিয়নের সব প্রহরী এনে এভাবে ব্যক্তিগত কাজ করার ব্যাপারটি বেআইনি বলে মনে করেন দুওসুও ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম।

জমির মালিকানা দাবি করা মজিবর রহমান বলেন, ‘আমি এবার ইউপি নির্বাচনে সোহেলের বিরোধী প্রার্থী আনারস মার্কার মোকলেসুরের নির্বাচন করেছিলাম। তখন থেকেই তিনি আমার ওপর ক্ষিপ্ত। নির্বাচনে জেতার পরেই আমাকে হুমকি দিয়েছিলেন। এখন শপথ গ্রহণের পরপরই আমার জমি দখলে ব্যস্ত হয়ে গেছেন নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান।’

মজিবরের অভিযোগের বিষয়ে চেয়ারম্যান সোহেল বলেন, ‘জমিটা আমি নিজের জন্যে দখল করছি না। আমার ভাগনি জামাই সৈয়দ আলী এই জমির মালিক। এক পক্ষের লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে মজিবরের সঙ্গে আলোচনায় বসতে একটি নোটিশ পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি আমার নোটিশ গ্রহণ করেননি। বরং তিনি বলেছেন, আমাকে নাকি চেয়ারম্যান হিসেবে মানেন না। তাই সৈয়দ আলীর হক বুঝিয়ে দিতে আমি তাকে জমি দখল করে দিচ্ছি।’

এদিকে চেয়াম্যানের পাঠানো কোন নোটিশ পাননি বলে জানান সাবেক ইউপি সদস্য ও জমির মালিকানা দাবি করা মজিবর রহমান।

ইউনিয়ন পরিষদ ও পুরো এলাকা ফাঁকা করে প্রহরীদের ব্যবহার করা নিয়ে প্রশ্ন করলে চেয়ারম্যান সোহেল বলেন, ‘আমি মনে করেছি সেখানে আইন শৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে। তাই পাহারা বসানো হয়েছে।’

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় জমির মালিক দাবিদার চেয়ারম্যান সোহেলের ভাগনি জামাই সৈয়দ আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ক্রয় সূত্রে এই জমির মালিক আমি। কিন্তু মজিবর রহমান আমার জমিতেই আমাকে কাজ করতে দিচ্ছিলেন না। চেয়ারম্যান আমার আত্মীয়। সেই সঙ্গে আমি তার ইউনিয়নের একজন নাগরিক। তাই আমি তার কাছে সাহায্য চেয়েছি।’

এ বিষয়ে বালিয়াডাঙ্গি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আরও পড়ুন:
ভোটের অপেক্ষায় সিরাজগঞ্জ-৬ আসন
সিরাজগঞ্জ-৬: নৌকা-লাঙ্গলের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা
অস্ত্র মামলায় কারাবন্দি টিনু চকবাজারের কাউন্সিলর
সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে নৌকা পেলেন কবিতা
গোদাগাড়ীতে উপনির্বাচন: স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভোট বর্জন

শেয়ার করুন