‘মহুয়ার মামলায় গাফিলতি হলে গণ-আদালত গঠনের হুঁশিয়ারি’

player
‘মহুয়ার মামলায় গাফিলতি হলে গণ-আদালত গঠনের হুঁশিয়ারি’

গাড়িচাপায় বিজিবির অবসরপ্রাপ্ত সদস্য মনোরঞ্জন হাজং গুরুতর আহতের ঘটনার প্রতিবাদে রোববার বিকেলে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা। ছবি: নিউজবাংলা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, ‘প্রান্তিক হাজং জনগোষ্ঠী বলেই কি মহুয়ার প্রতি এই আচরণ করা হচ্ছে? বিচারপতি একজন এলিট, সমাজের ওপরতলার বাসিন্দা। হাজংরা তলানিতে থাকেন বলে তারা বিচার পান না। এটি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কাঠামোর একটি বৈষম্য। এই বৈষম্যের ফলে রাষ্ট্রীয়ভাবে গরিব, আদিবাসী, প্রান্তিক গোষ্ঠীর বিচারের জায়গাটি বন্ধ করা হচ্ছে।’

রাজধানীতে গাড়িচাপায় বিজিবির অবসরপ্রাপ্ত সদস্য মনোরঞ্জন হাজং গুরুতর আহতের ঘটনায় করা মামলার নিষ্পত্তিতে কোনো ধরনের গাফিলতি হলে শাহবাগে গণ-আদালত গঠনের হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে।

রোববার বিকেলে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে লেখক ও প্রকাশক রবিন আহসান এ হুঁশিয়ারি দেন।

আদিবাসী মনোরঞ্জন হাজংয়ের জন্য ন্যায়বিচারের দাবিতে ‘নিপীড়নের বিরুদ্ধে শাহবাগ’ ব্যানারে এ মানববন্ধন হয়। রবিন আহসান মানববন্ধনের সঞ্চালক ছিলেন।

রবিন আহসান বলেন, পুলিশ তার বাহিনীর একজন সদস্যের মামলা নিতে ১৫ দিন সময় নিয়েছে। কী অপদার্থ একটি রাষ্ট্র তারা গড়ে তুলেছে। এই লজ্জা আপনারা কোথায় রাখবেন? রবিন আহসান পুলিশ সদস্যদের মহুয়া সার্জেন্টের পক্ষে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

গত ২ ডিসেম্বর রাতে রাজধানীর বনানীতে গাড়িচাপায় মারাত্মক জখম হন বিজিবির অবসরপ্রাপ্ত সদস্য মনোরঞ্জন হাজং। তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট মহুয়া হাজংয়ের বাবা।

‘মহুয়ার মামলায় গাফিলতি হলে গণ-আদালত গঠনের হুঁশিয়ারি’

বাবা মনোরঞ্জন হাজংয়ের সঙ্গে ট্রাফিক সার্জেন্ট মহুয়া হাজং। ছবি: সংগৃহীত

যে গাড়িটিকে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করা হচ্ছে, তা চালাচ্ছিলেন একজন বিচারপতির ছেলে সাঈদ হাসান।

মনোরঞ্জন হাজং আহত হওয়ার ঘটনায় তার মেয়ে সার্জেন্ট মহুয়া বনানী থানায় মামলা করতে গেলে তা তাৎক্ষণিকভাবে নেয়া হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা হলে ঘটনার দুই সপ্তাহ পর গত বৃহস্পতিবার মামলাটি নেয় পুলিশ।

সড়ক পরিবহন আইনের এই মামলায় গাড়ির চালকসহ অজ্ঞাতপরিচয় তিনজনকে আসামি করা হয়।

অন্যদিকে মামলার দুই দিন আগেই নেয়া হয় অভিযুক্ত গাড়িচালকের জিডি। সেখানে বিচারপতির ছেলে সাঈদ হাসান দুর্ঘটনার জন্য উল্টো দায়ী করেছেন মনোরঞ্জন হাজংকে।

দুর্ঘটনায় আহত মনোরঞ্জন হাজংয়ের ডান পা কেটে ফেলতে হয়েছে। বাম পাও ক্ষতিগ্রস্ত। তাকে প্রথমে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) ভর্তি করা হলেও পরে বারডেমে স্থানান্তর করা হয়। তিনি সেখানে আইসিইউতে আছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, ‘প্রান্তিক হাজং জনগোষ্ঠী বলেই কি মহুয়ার প্রতি এই আচরণ করা হচ্ছে? বিচারপতি একজন এলিট, সমাজের ওপরতলার বাসিন্দা। হাজংরা তলানিতে থাকেন বলে তারা বিচার পান না। এটি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কাঠামোর একটি বৈষম্য। এই বৈষম্যের ফলে রাষ্ট্রীয়ভাবে গরিব, আদিবাসী, প্রান্তিক গোষ্ঠীর বিচারের জায়গাটি বন্ধ করা হচ্ছে।’

এই অধ্যাপক বলেন, ‘আইন সবার জন্য একই হওয়া উচিত। আমরা চাই এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার বিভাগীয় তদন্ত হতে হবে এবং ঘটনার এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হতে হবে যেন মানুষ মনে করে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের একটি আদালত আছে, বিচারব্যবস্থা আছে, যার থেকে মানুষ ন্যায়বিচার পাবে।’

ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক দীপক শীল বলেন, সার্জেন্ট মহুয়ার বাবা বিজিবির সাবেক সৈন্য মনোরঞ্জনের ডান পা কাটা গেছে, বাম পায়ের অবস্থাও ভালো নয়। তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন, কিন্তু অপরাধী বিচারপতির ছেলে হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা তো দূরের কথা, মামলাই নেয়া হচ্ছে না। আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করব।

দীপায়ন খীসা নামে একজন হাজং অধিবাসী বলেন, রাষ্ট্রীয় সাধারণ নিয়ম যিনি অন্যায় করবেন তিনি গ্রেপ্তার হবেন এবং বিচারের মুখোমুখি হবেন। কিন্তু সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্র তার মামলা নিতে গড়িমসি করেছে। আসলে ক্ষমতার কাঠামোয় সমস্যা। যার বিরুদ্ধে মামলা তিনি ক্ষমতার উচ্চপদে আছেন আর অভিযোগকারীরা প্রান্তিক জনগোষ্ঠী তাই তাদের প্রতি এই অবহেলা।

মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে ‘নিপীড়নের বিরুদ্ধে শাহবাগ’ আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক আকরাম হোসেন, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মাসুম বক্তব্য রাখেন।

আরও পড়ুন:
সার্জেন্ট মহুয়ার মামলায় নজর রাখছে ডিবি
সেই সার্জেন্টের বাবার বিরুদ্ধে জিডি বিচারপতির ছেলের
অবশেষে সেই সার্জেন্টের মামলা নিল বনানী থানা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কেন পুলিশের দিকে টাকা ছুড়েছিলেন চীনা নাগরিক?

কেন পুলিশের দিকে টাকা ছুড়েছিলেন চীনা নাগরিক?

রাজধানীতে ট্রাফিক পুলিশের দিকে এক চীনা নাগরিকের টাকা ছুড়ে মারার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে ফেসবুকে। ছবি: ভিডিও থেকে নেয়া

চীনা নাগরিকের চিৎকার ও টাকা ছুড়ে মারার দৃশ্যটি মোবাইল ফোনে ভিডিও করেন স্যাম আহমেদ নামে এক ব্যক্তি। এরপর তিনি ভিডিওটি বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট করেন। তবে নিউজবাংলার পক্ষ থেকে স্যামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, পুলিশের টাকা দাবির অভিযোগ তুললেও বিষয়টি তিনি নিজে দেখেননি বা কারও কাছ থেকে শোনেননি। ধারণা থেকেই তিনি অভিযোগটি তুলেছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্প্রতি একটি ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, রাজধানীতে এক চীনা নাগরিক ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়েছেন। এক পর্যায়ে ‘তুমি টাকা চাও, এই নাও টাকা’ বলে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যের দিকে টাকা ছুড়ে মারেন তিনি।

কী ঘটেছিল, কেন ওই বিদেশি ক্ষুব্ধ হয়ে পুলিশের দিকে টাকা ছুড়ে মারেন- সেসব প্রশ্নের জবাব খুঁজেছে নিউজবাংলা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘটনাটি মঙ্গলবার বিকেলের। আর ঘটনাস্থল মহাখালী রাওয়া ক্লাব সংলগ্ন ফ্লাইওভারের নিচে ট্রাফিক পুলিশ বক্সের পাশে।

ঘটনাস্থল ঘুরে দেখা যায়, রাওয়া ক্লাবের পাশ দিয়ে একটি সড়ক গেছে মহাখালী ডিওএইচএসের দিকে। ডিওএইচএস থেকে আসা গাড়িগুলো যাওয়ার জন্য এই পয়েন্টে জাহাঙ্গীর গেট থেকে আসা গাড়ির সারিকে কিছু সময় পর পর সিগন্যাল দিয়ে থামানো হয়।

এই সিগন্যালে যান নিয়ন্ত্রণ ও গাড়ির কাগজপত্র পরীক্ষা করতে পুলিশের একাধিক সদস্য নিয়োজিত। পাশেই রয়েছে শেরে বাংলানগর ট্রাফিকের পুলিশ বক্স।

প্রত্যক্ষদর্শীরা নিউজবাংলাকে জানান, মঙ্গলবার বিকেলে নিয়মিত চেকের অংশ হিসেবে একটি প্রাইভেটকার থামান কনস্টেবল রুহুল আমিন খান। চালকের কাছ থেকে গাড়ির কাগজ নিয়ে যাচাই করতে নিয়ে যান পাশেই দায়িত্বপালনরত টিএসআই হারুন অর রশীদ সরকারের কাছে।

গাড়ি থামিয়ে চালকের কাছ থেকে কাগজ নেয়া, যাচাই করার জন্য টিএসআইয়ের কাছে যাওয়া এবং সেগুলো ফেরত দেয়া পর্যন্ত কিছুটা সময় লেগেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন পথচারী বলেন, ‘এর মাঝেই হঠাৎ গাড়ি থেকে নেমে আসেন একজন বিদেশি। তিনি তাড়া দিচ্ছিলেন। তার চালককে কাগজগুলো ফিরিয়ে দিয়ে যেন যেতে দেয়া হয়। তবে ‍পুলিশ কাগজপত্র চেক করতে সময় নিচ্ছিল।’

এই পথচারী বলেন, ‘আমি একটু দূরে দাঁড়িয়ে ছিলাম। কী কথা হচ্ছিল তা বোঝা যাচ্ছিল না। বিদেশি ভদ্রলোক যখন চিৎকার শুরু করেন, আমরা এগিয়ে গেলাম। গিয়ে দেখি, উনি পুলিশের সঙ্গে রাগারাগি করছেন। এক পর্যায়ে টাকা ছুড়ে দেন পুলিশের দিকে।’

চীনা নাগরিকের ওই চিৎকার ও টাকা ছুড়ে মারার দৃশ্যটি মোবাইল ফোনে ভিডিও করেন স্যাম আহমেদ নামে একজন ব্যক্তি। এরপর তিনি ভিডিওটি বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট করেন।

স্যাম পোস্টের বিবরণে লিখেন, “গতকাল রাওয়া ক্লাব এর সামনে এই সাদা রঙের গাড়িতে থাকা বিদেশিদের দেখে ট্রাফিক পুলিশের মাথা নষ্ট হয়ে যায়৷ সব কাগজপত্র ঠিক থাকা সত্ত্বেও ড্রাইভারকে লেইম একটা অজুহাত দেখিয়ে যখন টাকা দাবি করলো তখন বিদেশি ভদ্রলোকটি পুলিশকে অনুরোধ করে বলেন, ‘HE IS A POOR MAN PLEASE DON DO THIS’. কে শোনে কার কথা টাকা দিতেই হবে না হলে কাগজপত্র দেবে না মামলা ছাড়া। অতঃপর বিদেশি ভদ্রলোকটি পুলিশের মুখে টাকা ছুড়ে মেরে ড্রাইভারকে বাঁচিয়ে নেয় পুলিশের হাত থেকে।”

তবে নিউজবাংলার পক্ষ থেকে স্যামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, পোস্টে তিনি পুলিশের টাকা দাবির অভিযোগ তুললেও বিষয়টি তিনি নিজে দেখেননি বা কারও কাছ থেকে শোনেননি। ধারণা থেকেই তিনি টাকা দাবির অভিযোগ তুলেছেন।

স্যাম বলেন, ‘টাকা না চাইলে তো চাইনিজ লোকটা টাকা ছুড়ে মারতো না।’

চীনা নাগরিকের ক্ষেপে যাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘ট্রাফিক পুলিশ ড্রাইভারকে পাশে থাকা বক্সে যাওয়ার জন্য বলছিল। কিন্তু চাইনিজ নাগরিক তার ড্রাইভারকে দ্রুত ছাড়িয়ে নিতে চাইছিলেন। তার হয়ত তাড়া ছিল, সেজন্য ক্ষেপেছেন মনে হয়।’

স্যাম পরে তার তার পোস্টগুলো সরিয়ে নেন। তবে এর আগেই ভিডিওটি ডাউনলোড করে আরও অনেকে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন।

ঘটনাস্থলের ১০ গজের মধ্যে ছিলেন সিগারেট বিক্রেতা ফজলুল হক। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুলিশ কোনো টাকা চায়নি। কাগজ দেখতেছিল। বিদেশি হুদাই চিল্লাইছে। ‍উল্টা উনি পুলিশের সাথে খারাপ ব্যবহার করছে।’

চীনা নাগরিক যে প্রাইভেটকারে ছিলেন তার চালক রফিকুল ইসলামের সঙ্গেও কথা বলেছে নিউজবাংলা। পুরো বিষয়টি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে দাবি করে রফিক বলেন, ‘ছোট একটা ঘটনা, এটারে অন্যরা এতো বড় বানাইছে। একটা ভুল বোঝাবুঝি হইছে। এই বাইরে কিছু হয় নাই।’

নিউজবাংলার অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই চীনা নাগরিক ঢাকার একটি বায়িং হাউজে কর্মরত।

ঘটনা নিয়ে যা বলছে ট্রাফিক পুলিশ

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিউজবাংলাকে বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি নজরে আসতেই তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে ওই দিনই দায়িত্বে থাকা কনস্টেবল রুহুল আমিন খান ও টিএসআই হারুন অর রশীদ সরকারকে ট্রাফিক পশ্চিম বিভাগের উপ কমিশনারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

তবে এখন পর্যন্ত ট্রাফিক পুলিশের দায় পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ট্রাফিক তেজগাঁও বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-শেরে বাংলানগর জোন) শোভন চন্দ্র হোড় প্রাইভেটকার চালকের বরাত দিয়ে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ট্রাফিক পুলিশ নরমালি গাড়ি থামিয়ে কাগজ চেক করছিল। ওই ফরেইনার যে গাড়িতে ছিলেন সেটা থামান একজন কনস্টেবল। থামিয়ে চালকের কাছ থেকে কাগজগুলো নেন।

‘এরপর কাগজগুলো যাচাই করার জন্য ওখানে দায়িত্বে থাকা টিএসআই এর কাছে নিয়ে যান। টিএসআই হারুন অর রশীদ তখন অন্য আরেকটি গাড়ির কাগজ চেক করছিলেন। যে কারণে ওই গাড়ির কাগজটি চেক করতে দেরি হয়। আর তখনই গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন চীনা নাগরিক। চিৎকার শুরু করেন। টাকা ছুড়ে মারেন।’

গাড়ি চালকের কাছে কোনো টাকা চাওয়া হয়নি বলে জানান শোভন চন্দ্র হোড়। তিনি বলেন, ‘টাকা চাইলে চালকের কাছে চাইত। কিন্তু চালক বলছে তার কাছে কোনো টাকা চাওয়া হয়নি। চীনা নাগরিকের কোনো একটি মিটিং ছিল। চেকিংয়ের কারণে তার হয়তো দেরি হচ্ছিল। যে কারণে তিনি উত্তেজিত হয়ে যান। ভেবেছেন টাকার জন্য আটকে রাখছে। যেটা মোটেও ঠিক না। একটি গাড়ি থামানো থেকে শুরু করে চেক করে কাগজগুলো ব্যাক করতে একটা সময় প্রয়োজন হয়। সেই সময়টুকু চীনা নাগরিক দিতে চাননি।’

তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) সাহেদ আল মাসুদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা ঘটনাটি জানার পরই তদন্ত শুরু করি। প্রতিটি পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। আমাদের দুই সদস্যের কোনো অপরাধ পাইনি। এরপরেও তদন্তের স্বার্থে তাদেরকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে ডিসি কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়েছে।

‘এছাড়া গাড়ি চালক ও চীনা নাগরিকের সঙ্গেও আমাদের কথা হয়েছে। চালকের কাছে আমাদের ট্রাফিক সদস্যরা কোনো টাকা দাবি করেননি। এমনকি চীনা নাগরিকের সঙ্গেও আমাদের সদস্যদের কোনো কথা হয়নি। উনি ধারণা করেছিলেন, টাকার জন্য হয়ত আটকিয়েছে। এই ধারণা থেকে তিনি এমন আচরণ করেছেন।’

এমন আচরণের জন্য চীনা ওই নাগরিক ক্ষমা চেয়েছেন বলে জানান সাহেদ আল মাসুদ। তিনি বলেন, ‘ফোনে ওই চীনা নাগরিকের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি এমন আচরণের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। তার প্রতিক্রিয়া এভাবে ভাইরাল হয়ে যাবে এমনটি বুঝতে পারনেনি এবং এ ধরনের কোনো ইনটেনশন তার ছিল না বলেও জানিয়েছেন।’

আরও পড়ুন:
সার্জেন্ট মহুয়ার মামলায় নজর রাখছে ডিবি
সেই সার্জেন্টের বাবার বিরুদ্ধে জিডি বিচারপতির ছেলের
অবশেষে সেই সার্জেন্টের মামলা নিল বনানী থানা

শেয়ার করুন

‘অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে’ যুবকের মৃত্যু

‘অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে’ যুবকের মৃত্যু

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। ফাইল ছবি

ইয়াসিনের শ্যালিকা স্বর্ণা বলেন, ‘আমার দুলাভাই ও আপুর মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়। পরে তিনি অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে অচেতন হয়ে পড়েন।’

রাজধানীর খিলগাঁওতে ‘অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে’ এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে তার স্বজনেরা। ওই যুবকের নাম মোহাম্মদ ইয়াসিন।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২ টায় অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে জানান।

ইয়াসিনের শ্যালিকা স্বর্ণা বলেন, ‘আমার দুলাভাই ও আপুর মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়। পরে তিনি অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। আমরা তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিলে ডাক্তার তাকে মৃত বলে জানান।’

স্বর্ণা আরও জানান, ইয়াসিন খিলগাঁও এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। তিনি একটি গ্যারেজে কাজ করতেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘মরদেহটি মর্গে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
সার্জেন্ট মহুয়ার মামলায় নজর রাখছে ডিবি
সেই সার্জেন্টের বাবার বিরুদ্ধে জিডি বিচারপতির ছেলের
অবশেষে সেই সার্জেন্টের মামলা নিল বনানী থানা

শেয়ার করুন

ভাড়া নিয়ে তর্ক, পিটিয়ে রাস্তায় ফেলার পর যাত্রীর মৃত্যু

ভাড়া নিয়ে তর্ক, পিটিয়ে রাস্তায় ফেলার পর যাত্রীর মৃত্যু

গ্রিনবাংলা পরিবহনের বাসে ভাড়া নিয়ে তর্কাতর্কি হয়। বাসটি জব্দ করার পাশাপাশি চালক ও তার সহকারীকে থানায় নিয়েছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

বাসে ইরফানের সঙ্গে ছিলেন আব্দুল কাদের। তিনি জানান, সকালে ডেমরা থেকে নবাবপুরের কর্মস্থলে যেতে গ্রিনবাংলা পরিবহনে উঠেন তারা। টিকাটুলির জয়কালী মন্দিরের সামনে আসার পর ভাড়া নিয়ে ইরফানের সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক হয় ভাড়া তুলতে থাকা সহকারীর। এক পর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হলে ইরফানকে কিল, ঘুষি দিয়ে ধাক্কা দিয়ে বাস থেকে নিচে ফেলে দেয়া হয়।

রাজধানীতে ভাড়া নিয়ে তর্কাতর্কির পর এক যাত্রীকে বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে ধেয়ার পর তার মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার নাম ইরফান আহমেদ।

এই ঘটনায় সন্দেহভাজনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা।

পুলিশ বাসটি জব্দ করার পাশাপাশি চালক ও তার সহকারীকেও থানায় নিয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে ওয়ারীর টিকাটুলির জয়কালী মন্দিরের সামনে সেই যাত্রীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়ার আগে কিল, ঘুষিও দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন নিহতের সঙ্গী।

আহত ইরফানকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এলে দুপুরের দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

বাসে ইরফানের সঙ্গে ছিলেন আব্দুল কাদের। তিনি জানান, সকালে ডেমরা থেকে নবাবপুরের কর্মস্থলে যেতে গ্রিনবাংলা পরিবহনে উঠেন তারা। টিকাটুলির জয়কালী মন্দিরের সামনে আসার পর ভাড়া নিয়ে ইরফানের সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক হয় ভাড়া তুলতে থাকা সহকারীর।

এক পর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হলে ইরফানকে কিল, ঘুষি দিয়ে ধাক্কা দিয়ে বাস থেকে নিচে ফেলে দেয়া হয় বলে অভিযোগ করেন কাদের। বলেন, ‘গুরুতর অবস্থায় টিকাটুলি সালাউদ্দিন হাসপাতাল নিয়ে যাই। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে আসার পর চিকিৎসক তাকে মৃত বলে জানান।’

এই ঘটনায় বাসে চালকের সহকারী মোজাম্মেল হোসেনকে স্থানীয় লোকজন আটক করে পুলিশে দেয় বলেও জানান কাদের।

নিহতের ভাই এনাম আহমেদ জানান, ইরফান নবাবপুর এলাকায় একটি ইলেকট্রিক দোকানে চাকরি করেন। তাদের বাড়ি ডেমরার দেউল্লা বামৈল এলাকায়।

ইরফান এক কন্যা সন্তানের জনক ছিলেন।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ (পরিদর্শক) বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘টিকাটুলি এলাকায় বাস থেকে ফেলে দেয়া এক ব্যক্তিকে আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল নিয়ে আসলে চিকিৎসক মৃত বলে জানান। এই ঘটনায় হেলপারকে ওয়ারী পুলিশ আটক করেছে।’

ওয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কবির হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কন্ডাক্টরের সঙ্গে ঝামেলাটা হয়েছিল। আমরা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সেই বাসের ড্রাইভার ও হেলপারকে থানায় এনেছি। বাসটাও জব্দ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সার্জেন্ট মহুয়ার মামলায় নজর রাখছে ডিবি
সেই সার্জেন্টের বাবার বিরুদ্ধে জিডি বিচারপতির ছেলের
অবশেষে সেই সার্জেন্টের মামলা নিল বনানী থানা

শেয়ার করুন

রাস্তায় সাইড না দেয়া নিয়ে বিরোধে বাইকযাত্রীকে পিটিয়ে হত্যা

রাস্তায় সাইড না দেয়া নিয়ে বিরোধে বাইকযাত্রীকে পিটিয়ে হত্যা

মোটরসাইকেলকে সাইড না দেয়ায় একটি পিকনিকের বাসের গতিরোধ করেন নিহত সুফিয়ান ও তার বন্ধু। সেখানে ঝগড়ার পর বাসটি ছেড়ে যাওয়ার পর যাত্রীরা আবার গালাগাল করে। পরে সুফিয়ান চিটাগাং রোড ফর অ্যাকটিভ হাসপাতালের সামনে মোটরসাইকেল দিয়ে বাসটি আবার আটকান। সেখানে বাসের চালক, সহকারী ও পিকনিক যাত্রীর সঙ্গে ঝগড়া হয়। পরে সুফিয়ান ও তার বন্ধুকে বেধড়ক পেটানো হয়।

নারায়ণগঞ্জে মোটরসাইকেলকে বাসের সাইড না দেয়া নিয়ে পিকনিক যাত্রীদের সঙ্গে তর্কাতর্কির জেরে একজনকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহতের নাম মোহাম্মদ সুফিয়ান।

বুধবার রাত ১১টার দিকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের মামাতো ভাই আব্দুল্লাহ জানান, গত রাতে পল্টনে তার এক আত্মীয়ের দোকান থেকে বন্ধু অনিককে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে সিদ্ধিরগঞ্জ যাচ্ছিলেন সুফিয়ান। শনির আখড়া এলাকায় সাইড না দেয়ায় একটি পিকনিকের বাসের গতিরোধ করেন তারা। সে সময় বাসচালক ও তার সহযোগীর সঙ্গে সুফিয়ানের তর্কবিতর্ক হয়।

এরপর বাসটি ছেড়ে যায়। সে সময় বাসে থাকা পিকনিকের লোকজন তাদের আবার গালাগাল করলে সুফিয়ান চিটাগাং রোড ফর অ্যাকটিভ হাসপাতালের সামনে মোটরসাইকেল দিয়ে বাসটি আবার আটকান। সেখানে বাসের চালক, সহকারী ও পিকনিক যাত্রীর সঙ্গে ঝগড়া হয়।

পরে বাসের স্টাফ ও পিকনিকের লোকজন সুফিয়ান ও অনিককে বেধড়ক মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় সুফিয়ানকে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে আসা হয়।

এ ঘটনায় গাড়িটি জব্দের পাশাপাশি চালক ও সহকারীকে আটক করেছে পুলিশ।

সুফিয়ানের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার সাইনবোর্ড পশ্চিমপাড়া পুকুরপাড় গ্রামে। তিনি ডেকোরেটর ব্যবসায়ী ছিলেন। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি বড়। তার দেড় বছর বয়সী একটি ছেলে আছে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ (পরিদর্শক) বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে মারধরের শিকার হয়ে এক যুবককে হাসপাতালে নিয়ে আসার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ মেডিক্যাল মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সার্জেন্ট মহুয়ার মামলায় নজর রাখছে ডিবি
সেই সার্জেন্টের বাবার বিরুদ্ধে জিডি বিচারপতির ছেলের
অবশেষে সেই সার্জেন্টের মামলা নিল বনানী থানা

শেয়ার করুন

ব্লগার নাজিম হত্যা: মেজর জিয়াসহ পাঁচজনের নামে পরোয়ানা

ব্লগার নাজিম হত্যা: মেজর জিয়াসহ পাঁচজনের নামে পরোয়ানা

চাকরিচ্যুত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক সোমবার পুলিশের দেয়া অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে পরোয়ানা জারি করেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ব্লগার নাজিমুদ্দিন সামাদ হত্যা মামলায় আনসার আল ইসলামের সামরিক শাখার প্রধান চাকরিচ্যুত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।

ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান সোমবার পুলিশের দেয়া অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে এই পরোয়ানা জারি করেন।

বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম ছারোয়ার খান জাকির নিউজবাংলাকে বলেন, ‘১৭ জানুয়ারি আদালত ৯ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করে। পলাতক থাকায় মেজর জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। ২৩ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ধার্য করা হয়েছে।’

পরোয়ানা জারি হওয়া অপর চার আসামি হলেন- আকরাম হোসেন, মো. ওয়ালিউল্লাহ, সাব্বিরুল হক চৌধুরী ও জুনেদ আহাম্মেদ।

অপর চার আসামি রশিদুন নবী ভূইয়া, মোজাম্মেল হুসাইন, আরাফাত রহমান ও শেখ আব্দুল্লাহ কারাগারে রয়েছেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

২০১৬ সালের ৬ এপ্রিল রাতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস শেষে পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ায় মেসে ফেরার পথে লক্ষ্মীবাজারের একরামপুর মোড়ে খুন হন ব্লগার নাজিমুদ্দিন। এ ঘটনায় পরদিন সূত্রাপুর থানার এসআই নুরুল ইসলাম মামলা করেন। ২০২০ সালের ২০ আগস্ট বহিষ্কৃত মেজর সৈয়দ মো. জিয়াউল হক জিয়াসহ ৯ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট।

আরও পড়ুন:
সার্জেন্ট মহুয়ার মামলায় নজর রাখছে ডিবি
সেই সার্জেন্টের বাবার বিরুদ্ধে জিডি বিচারপতির ছেলের
অবশেষে সেই সার্জেন্টের মামলা নিল বনানী থানা

শেয়ার করুন

শাবিতে হামলা: জগন্নাথে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

শাবিতে হামলা: জগন্নাথে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

শাবি শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ মিছিল করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল। ছবি: নিউজবাংলা

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নম্বর গেট থেকে বৃহস্পতিবার দুপুরে মিছিল বের হয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান হিমেল মিছিলে নেতৃত্ব দেন। রায়সাহেব বাজারে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ছাত্রদল নেতারা।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নম্বর গেট থেকে মিছিল বের হয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান হিমেল মিছিলে নেতৃত্ব দেন। রায়সাহেব বাজারে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ছাত্রদল নেতারা।

শাবি ক্যাম্পাসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ ও পুলিশের যৌথ হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন তারা।

মিছিল-সমাবেশে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদল নেতা সাইফুল হক তাজ, নাহিদ চৌধুরী, রফিকুল ইসলাম রফিক, নাছিম উদ্দিন ও ওয়াহিদুজ্জামান তুহিন।

আরও পড়ুন:
সার্জেন্ট মহুয়ার মামলায় নজর রাখছে ডিবি
সেই সার্জেন্টের বাবার বিরুদ্ধে জিডি বিচারপতির ছেলের
অবশেষে সেই সার্জেন্টের মামলা নিল বনানী থানা

শেয়ার করুন

যাবজ্জীবন দণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনা চান এসআই হায়াতুল

যাবজ্জীবন দণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনা চান এসআই হায়াতুল

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ভবন। ছবি: নিউজবাংলা

প্রায় দুই যুগ আগের আলোচিত এই মামলায় পুলিশের প্রয়াত এসি আকরামসহ ১৩ আসামি হাইকোর্টে খালাস পান। একমাত্র দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন এসআই হায়াতুল ইসলাম ঠাকুর।

ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির ছাত্র শাহীন রেজা রুবেল হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদন করেছেন পুলিশ থেকে বহিষ্কৃত উপপরিদর্শক (এসআই) হায়াতুল ইসলাম ঠাকুর।

রিভিউ আবেদনটি বৃহস্পতিবার বিচারক মো. নূরুজ্জামানের নেতৃত্বে বেঞ্চে উঠলে শুনানির জন্য ২৭ জানুয়ারি তারিখ নির্ধারণ করে দেয়া হয়।

রায় পুনর্বিবেচনার জন্য আসামিপক্ষে আবেদন করেছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী।

প্রায় দুই যুগ আগের আলোচিত এই মামলায় পুলিশের প্রয়াত এসি আকরামসহ ১৩ আসামি হাইকোর্টে খালাস পান। একমাত্র দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন এসআই হায়াতুল ইসলাম ঠাকুর।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির ছাত্র রুবেলকে ১৯৯৮ সালের ২৩ জুলাই ডিবির এসআই হায়াতুল ইসলাম ঠাকুরের নেতৃত্বে একটি দল আটক করে। পরে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় করা মামলার রায়ে বিচারিক আদালত ২০০২ সালের ১৭ জুন এসি আকরামসহ ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং মুকুলি বেগম নামের এক আসামিকে এক বছরের কারাদণ্ড দেন।

বিচারিক আদালতের এ রায়ের বিরুদ্ধে ২০০২ সালে হাইকোর্টে আপিল করেন আসামিপক্ষ।

আপিলের শুনানি শেষে হাইকোর্টের রায়ে এসি আকরাম, মুকুলি বেগমসহ ১৩ আসামিকে খালাস দেয়। আর আসামি হায়াতুল ইসলামের যাবজ্জীবন সাজা বহাল রাখা হয়।

হাইকোর্টের রায়ের পর ২০১১ সালের ৯ মে রাতে কারাগার থেকে মুক্তি পান এসি আকরাম।

খালাসপ্রাপ্ত অন্যরা হলেন আমিনুল ইসলাম, আমীর আহমেদ তারেক, নুরুল আলম, আবদুল করিম, নুরুজ্জামান, রাতুল পারভেজ, মীর ফারুক, মংশেওয়েন, আবুল কালাম আজাদ, কামরুল হাসান, জাকির হোসেন ও মুকুলি বেগম।

এরপর রাষ্ট্রপক্ষ এসি আকরামের খালাসের বিরুদ্ধে এবং হায়াতুল ঠাকুর তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করেন। রাষ্ট্রপক্ষের লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে ২০১৫ সালের ৩০ আগস্ট এসি আকরামকে সাত দিনের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয় আপিল বিভাগ।

আপিল শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ২৮ মার্চ তৎকালীন ডিবির সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. আকরাম হোসেনসহ ১৩ আসামির খালাসের রায় বহাল রাখে আপিল বিভাগ। এর মধ্যে গত বছরের ১৬ জুলাই এসি আকরামের মৃত্যু হয়েছে।

তবে আপিল খারিজ করে এসআই হায়াতুল ইসলাম ঠাকুরের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখে সর্বোচ্চ আদালত। আপিল বিভাগের সেই রায়ের রিভিউ চেয়ে আবেদন করেছেন হায়াতুল ইসলাম।

আরও পড়ুন:
সার্জেন্ট মহুয়ার মামলায় নজর রাখছে ডিবি
সেই সার্জেন্টের বাবার বিরুদ্ধে জিডি বিচারপতির ছেলের
অবশেষে সেই সার্জেন্টের মামলা নিল বনানী থানা

শেয়ার করুন