এইচএসসির দশম দিনে অনুপস্থিত ১৮ হাজার, বহিষ্কার ৯

player
এইচএসসির দশম দিনে অনুপস্থিত ১৮ হাজার, বহিষ্কার ৯

ফাইল ছবি

সকালের পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল ১৩ হাজার ১৯৮ জন। বিকেলের পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল ৫ হাজার ১৩৯ জন।

এইচএসসি পরীক্ষার দশম দিনে দেশের ৯টি শিক্ষাবোর্ডে সাড়ে আঠারো হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। একই সঙ্গে পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে ৯ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

রোববার পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

এদিন সকালের পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল ১৩ হাজার ১৯৮ জন। বিকেলের পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল ৫ হাজার ১৩৯ জন।

পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র পরীক্ষা ছিল সকালে। এতে ঢাকা শিক্ষাবোর্ডে অনুপস্থিত ছিল ৩ হাজার ১৫৫ জন, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৯৩৮ জন, রাজশাহী বোর্ডে ১৮৪৩ জন, বরিশাল বোর্ডে ৮৮৫ জন, সিলেট বোর্ডে ১০৯৪ জন, দিনাজপুর বোর্ডে ১৫০১ জন, কুমিল্লা বোর্ডে ১৩৫২ জন, ময়মনসিংহ বোর্ডে ৮২০জন এবং যশোর বোর্ডে ১৬১০ জন।

বিকেলে সম্পন্ন হয় ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা প্রথমপত্র পরীক্ষা। এতে ঢাকা শিক্ষাবোর্ডে অনুপস্থিত ছিল ১৫৮৯ জন, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৬১২ জন, রাজশাহী বোর্ডে ৫২৩ জন, বরিশাল বোর্ডে ৩৭১ জন, সিলেট বোর্ডে ১৮৮ জন, দিনাজপুর বোর্ডে ৪৩৮ জন, কুমিল্লা বোর্ডে ৮৪২ জন, ময়মনসিংহ বোর্ডে ১৭৪ জন এবং যশোর বোর্ডে ৪০২ জন।

সাধারণত প্রতি বছরের এপ্রিলে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হলেও এ বছর করোনা মহামারির কারণে এই পাবলিক পরীক্ষা ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নেয়ার ঘোষণা দেয় সরকার।

এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিতে নিবন্ধন করেছে ১৩ লাখ ৯৯ হাজার ৬৯০ শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে ছাত্র ৭ লাখ ২৯ হাজার ৭৩৮ জন এবং ছাত্রী ৬ লাখ ৬৯ হাজার ৯৫২ জন।

সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষার জন্য নিবন্ধন করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ১৭ জন। এদের মধ্যে ছাত্র ৫ লাখ ৬৩ হাজার ১১৩ জন এবং ছাত্রী ৫ লাখ ৭৪ হাজার ৯০৪ জন।

মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে আলিমের জন্য নিবন্ধন করেছে ১ লাখ ১৩ হাজার ১৪৪ জন। এদের মধ্যে ছাত্র ৬১ হাজার ৭৩৮ জন এবং ছাত্রী ৫১ হাজার ৪০৬ জন।

এইচএসসি (বিএম/ভোকেশনাল) পরীক্ষার জন্য নিবন্ধন করেছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫২৯ জন। এদের মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ৪ হাজার ৮২৭ জন এবং ছাত্রী ৪৩ হাজার ৬৪২ জন।

দেশে ৯ হাজার ১৮৩টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ২ হাজার ৬২১টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা হচ্ছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। দেড় বছর পর ১২ সেপ্টেম্বর খুলে দেয়া হয় প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।

আরও পড়ুন:
এইচএসসি: এক দিনে অনুপস্থিত ১৭ হাজার
এইচএসসি: সপ্তম দিনে অনুপস্থিত সাড়ে ৩ হাজারের বেশি
এইচএসসির ষষ্ঠ দিনে অনুপস্থিত সাড়ে ১৭ হাজার
এইচএসসির অনুপস্থিতি বাড়ছেই
এইচএসসি: এক কেন্দ্রে ভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

অডিও ক্লিপে ফের সমালোচনায় শাবি ভিসি

অডিও ক্লিপে ফের সমালোচনায় শাবি ভিসি

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্রী জানান, এই অডিও ক্লিপের বক্তব্যেই বোঝা যায় উপাচার্য কতটা নিচু মানসিকতার। তিনি মেয়েদের প্রতি কী ধারণা পোষণ করেন। মানুষ বুঝতে পারবে আমরা কেন তার পদত্যাগ চাই।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগের দাবিতে চলা আন্দোলনে ঘি ঢেলেছে ফাঁস হওয়া একটি অডিও ক্লিপ। ইতোমধ্যে তা ভাইরাল। এতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করতে শোনা যায় এক ব্যক্তিকে।

যারা এই অডিওটি ফাঁস করেছেন তাদের দাবি, এটি উপাচার্য ফরিদ উদ্দিনের। ছাত্রীদের রাতে বাইরে থাকা নিয়ে কটাক্ষ করছেন উপাচার্য।

বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্রীর সঙ্গে কথা হয় নিউজবাংলার। তারা জানিয়েছেন, অডিওটি উপাচার্য ফরিদ উদ্দিনের, তবে এটি ২০১৯ সালের।

তারা জানান, হলের গেট রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার দাবিতে ২০১৯ সালে ছাত্রীরা আন্দোলন করেছিলেন। তখন আন্দোলনকারী ছাত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে এসব মন্তব্য করেছিলেন উপাচার্য।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্রী জানান, এই অডিও ক্লিপের বক্তব্য শুনেই বোঝা যায়, উপাচার্য কতটা নিচু মানসিকতার। তিনি মেয়েদের প্রতি কী ধারণা পোষণ করেন। তার এই বক্তব্য সবখানে ছড়িয়ে পড়া দরকার। এতে মানুষ বুঝতে পারবে আমরা কেন তার পদত্যাগ চাই।

এই ক্লিপের বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। আন্দোলনকারীরা তাকে বাসভবনে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন। ফোনে যোগাযোগের একাধিক চেষ্টা করা হলেও রিসিভ করেননি তিনি।

নিউজবাংলার হাতে আসা ওই ক্লিপে সম্পাদনা করে অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের ছবিও যুক্ত করা রয়েছে। উপাচার্য ফরিদ উদ্দিনের কণ্ঠের সঙ্গে মিল রয়েছে এই ক্লিপের।

অডিওতে শোনা যায়, ‘যারা এই ধরনের দাবি তুলেছে, যে বিশ্ববিদ্যালয় সারারাত খোলা রাখতে হবে, এইটা একটা জঘন্য রকম দাবি। আমরা মুখ দেখাইতে পারতাম না। এখানে আমাদের ছাত্রনেতা বলছে যে, জাহাঙ্গীরনগরের মেয়েদেরকে সহজে কেউ বউ হিসেবে চায় না। কারণ সারারাত এরা ঘোরাফেরা করে। বাট আমি চাই না যে আমাদের যারা এতো ভালো ভালো স্টুডেন্ট, যারা এতো সুন্দর, এতো সুন্দর ডিপার্টমেন্টগুলো, বিখ্যাত সব শিক্ষক... তারা যাদেরকে গ্র্যাজুয়েট করবে, এরকম একটা কালিমা লেপুক তাদের মধ্যে।

‘ওই জায়গাটা কেউ চায় না, কোনো গার্ডিয়ানও চান না কিন্তু। এখন আমরা যদি কোনো মেয়েকে বলি তোমার বাবা-মা কাউকে ফোন করব... তখন তোমরাই তো এতে বাধা দিবা... না না না এইটা হবে না, দেখ হয়রানি করতেছে। কিন্তু এইটা তো প্রত্যেকের নৈতিক দায়িত্ব। তোমাদেরও নৈতিক দায়িত্ব যে, এই মেয়ে কেন রাতের বেলা সোয়া দশটা পর্যন্ত স্যাররে সময় দিসে?’

ওই ক্লিপে আরও শোনা যায়, ‘আমি মাঝে মাঝে ঢাকা থেকে যখন আসি, রাতে ১২টা-১টা বেজে যায়। আমি দেখি যে আমাদের ওয়ান কিলোমিটার রাস্তা দিয়া ছেলে-মেয়ে হাত ধরাধরি করে কনসালটিং করতাছে। একটা অঘটন ঘটে গেলে দায়-দায়িত্ব ভাইস চ্যান্সেলরকে নিতে হবে। যত দোষ, নন্দ ঘোষ। ভাইস চ্যান্সেলর দায়ী সে জন্য।’

বিষয়টি নিয়ে সুলতানা ইয়াসমিন নামের এক ছাত্রী বলেন, ‘এটি উপাচার্যেরই কণ্ঠ। ছাত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে সে দিন তিনি এসব কথা বলেছিলেন।

‘২০১৭ সালে আমরা বিশ্ববিদ্যলয়ের ছাত্রী হল ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার দাবিতে আন্দোলনে নামি। কারণ রাতে আমাদের অনেককে ল্যাবে যেতে হয়। টিউশনি থাকে। ৭টার মধ্যে হলে ফেরা সম্ভব হয় না।’

ইয়াসমিন আরও বলেন, ‘টানা ১৯ দিন আন্দোলন করার পর উপাচার্য তার কার্যালয়ে আমাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। সেদিন এই কথাগুলো বলেছিলেন।’

এদিকে শাবি উপাচার্য ফরিদ উদ্দিনের পদত্যাগের জন্য বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এ সময়ের মধ্যে দাবি না মানা হলে আমরণ অনশনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

আন্দোলনকারি শিক্ষার্থীদের পক্ষে মোহাইমিনুল বাশার মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘোষণা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘ভিসি পদত্যাগ না করলে আমরা বুধবার দুপুর ১২টা থেকে আমরণ অনশনে বসব। এর আগ পর্যন্ত আমরা এই অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাব। আমাদের এই আন্দোলন বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়েছে... আমরা আশা করছি শিক্ষার্থীদের এই ক্ষোভ আঁচ করতে পেরে উপাচার্য দ্রুত পদত্যাগ করবেন’

এই আন্দোলন নিয়ে বিভিন্ন গুজব ছড়ানো হচ্ছে জানিয়ে বাশার বলেন, ‘গুজবে যেন কেউ বিভ্রান্ত না হয় এই আহ্বান জানাই।’

এর আগে শিক্ষার্থীদের আলোচনার প্রস্তাব দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির নেতারা। তবে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন তারা।শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের আন্দোলনে যারা সংহতি প্রকাশ করবেন কেবল তাদের সঙ্গেই আলোচনা করা হবে।

শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশের করা মামলা প্রত্যাহারে মঙ্গলবার রাত ১০টা পর্যন্ত সময়ও বেঁধে দেন তারা। তবে এ বিষয়ে তারা রাতে আর কিছু জানাননি।

পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হান্নান সোমবার রাতে বাদী হয়ে সিলেটের জালালাবাদ থানায় এই মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় দুই-তিন শ শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

তিন দফা দাবিতে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রোববার সন্ধ্যায় পুলিশের সংঘর্ষ হয়। অবরুদ্ধ উপাচার্যকে মুক্ত করতে গিয়ে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করলে এই সংঘাত বাধে। এতে পুলিশ, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন।

এ ঘটনার পর তিন দফা দাবির একটি অর্থ্যাৎ বেগম সিরাজুন্নেসা হলের প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবি মেনে নেয়া হয়। রোববার রাতেই প্রভোস্ট জাফরিন আহমেদ লিজা পদত্যাগ করেন।

এরপর শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে নতুন বিক্ষোভ শুরু করেন। তাদের অভিযোগ, উপাচার্যের নির্দেশে পুলিশ তাদের ওপর হামলা ও গুলি করে।

তবে পুলিশের করা মামলার এজাহারে বলা হয়, রোববার আইআইসিটি ভবনে অবরুদ্ধ উপাচার্যকে উদ্ধার করতে গেলে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ২০০ থেকে ৩০০ ‘উচ্ছৃঙ্খল’শিক্ষার্থী পুলিশের কাজে বাধা দেয়।

সরকারি আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে ইটপাটকেল ছোড়ে। এ ছাড়া পুলিশকে লক্ষ্য করে শিক্ষার্থীরা গুলি ছোড়ে, ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।

এই মামলায় কাউকে হয়রানি করা হবে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম নাদেল।

মঙ্গলবার দুপুরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেবে না। এ ছাড়া একটি মামলা হলেও কাউকে হয়রানি করা হবে না।’

এসময় আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করতে গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে যাতে সমাধানে পৌঁছা যায় সেই পথ খোলা রাখার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান নাদেল।

সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার আজবাহার আলী শেখও জানিয়েছেন, ‘কোনো ঘটনা ঘটলে মামলা করাটা আমাদের রুটিন কাজ। এ জন্য কোনো শিক্ষার্থীকে হয়রানি করা হবে না।’

আরও পড়ুন:
এইচএসসি: এক দিনে অনুপস্থিত ১৭ হাজার
এইচএসসি: সপ্তম দিনে অনুপস্থিত সাড়ে ৩ হাজারের বেশি
এইচএসসির ষষ্ঠ দিনে অনুপস্থিত সাড়ে ১৭ হাজার
এইচএসসির অনুপস্থিতি বাড়ছেই
এইচএসসি: এক কেন্দ্রে ভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা

শেয়ার করুন

ভিসির পদত্যাগের দাবিতে অনশনের ডাক

ভিসির পদত্যাগের দাবিতে অনশনের ডাক

তিন দফা দাবিতে শাবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হলেও রোববার ক্যাম্পাসে পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষের ঘটনার পর আন্দোলনের মোড় ঘুরে যায়। শিক্ষার্থীরা এরপর উপাচার্যের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে রোববার রাত থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন।

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগের জন্য বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এ সময়ের মধ্যে দাবি না মানা হলে আমরণ অনশনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

আন্দোলনকারি শিক্ষার্থীদের পক্ষে মোহাইমিনুল বাশার মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘোষণা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘ভিসি পদত্যাগ না করলে আমরা বুধবার দুপুর ১২টা থেকে আমরণ অনশনে বসব। এর আগ পর্যন্ত আমরা এই অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাব। আমাদের এই আন্দোলন বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়েছে... আমরা আশা করছি শিক্ষার্থীদের এই ক্ষোভ আঁচ করতে পেরে উপাচার্য দ্রুত পদত্যাগ করবেন।’

এই আন্দোলন নিয়ে বিভিন্ন গুজব ছড়ানো হচ্ছে জানিয়ে বাশার বলেন, ‘গুজবে যেন কেউ বিভ্রান্ত না হয় এই আহ্বান জানাই।’

এর আগে শিক্ষার্থীদের আলোচনার প্রস্তাব দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির নেতারা। তবে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন তারা।

শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের আন্দোলনে যারা সংহতি প্রকাশ করবেন কেবল তাদের সঙ্গেই আলোচনা করা হবে।

শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশের করা মামলা প্রত্যাহারে মঙ্গলবার রাত ১০টা পর্যন্ত সময়ও বেঁধে দেন তারা।

তবে এ বিষয়ে তারা রাতে আর কিছু জানাননি।

পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হান্নান সোমবার রাতে বাদী হয়ে সিলেটের জালালাবাদ থানায় এই মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় দুই-তিন শ শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

তিন দফা দাবিতে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রোববার সন্ধ্যায় পুলিশের সংঘর্ষ হয়। অবরুদ্ধ উপাচার্যকে মুক্ত করতে গিয়ে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করলে এই সংঘাত বাধে। এতে পুলিশ, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন।

ভিসির পদত্যাগের দাবিতে অনশনের ডাক

এ ঘটনার পর তিন দফা দাবির একটি অর্থ্যাৎ বেগম সিরাজুন্নেসা হলের প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবি মেনে নেয়া হয়। রোববার রাতেই প্রভোস্ট জাফরিন আহমেদ লিজা পদত্যাগ করেন।

এরপর শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে ফের বিক্ষোভ শুরু করেন।

তাদের অভিযোগ, উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের নির্দেশে পুলিশ তাদের ওপর হামলা ও গুলি করে।

তবে পুলিশের করা মামলার এজাহারে বলা হয়, রোববার আইআইসিটি ভবনে অবরুদ্ধ উপাচার্যকে উদ্ধার করতে গেলে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ২০০ থেকে ৩০০ ‘উচ্ছৃঙ্খল’ শিক্ষার্থী পুলিশের কাজে বাধা দেয়।

সরকারি আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে ইটপাটকেল ছোড়ে। এ ছাড়া পুলিশকে লক্ষ্য করে শিক্ষার্থীরা গুলি ছোড়ে ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।

তবে এই মামলায় কাউকে হয়রানি করা হবে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম নাদেল।

মঙ্গলবার দুপুরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেবে না। এ ছাড়া একটি মামলা হলেও কাউকে হয়রানি করা হবে না।’

আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করতে গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে যাতে সমাধানে পৌঁছা যায় সেই পথ খোলা রাখার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান নাদেলেরও।

সিলেট মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার আজবাহার আলী শেখও জানিয়েছেন, ‘কোনো ঘটনা ঘটলে মামলা করাটা আমাদের রুটিন কাজ। এ জন্য কোনো শিক্ষার্থীকে হয়রানি করা হবে না।’

আরও পড়ুন:
এইচএসসি: এক দিনে অনুপস্থিত ১৭ হাজার
এইচএসসি: সপ্তম দিনে অনুপস্থিত সাড়ে ৩ হাজারের বেশি
এইচএসসির ষষ্ঠ দিনে অনুপস্থিত সাড়ে ১৭ হাজার
এইচএসসির অনুপস্থিতি বাড়ছেই
এইচএসসি: এক কেন্দ্রে ভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা

শেয়ার করুন

ঢাবির হলে ছাত্রলীগ নেতা পরিচয়ধারী ‘অস্ত্র’সহ আটক

ঢাবির হলে ছাত্রলীগ নেতা পরিচয়ধারী ‘অস্ত্র’সহ আটক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার দ্য সূর্যসেন হল থেকে আটক আল আমিন। ছবি: সংগৃহীত

মঙ্গলবার রাতে মাস্টার দ্য সূর্যসেন হলে অভিযান চালায় প্রক্টরিয়াল টিম। ওই কক্ষ থেকে আল আমিন নামের সাবেক এক ছাত্রকে আটক করা হয়। একইসঙ্গে উদ্ধার করা হয় একটি খেলনা পিস্তল ও হকি স্টিক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার দ্য সূর্যসেন হল থেকে অস্ত্রসহ এক ছাত্রলীগ নেতা পরিচয়ধারী একজনকে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম। তবে পুলিশ বলেছে উদ্ধার করা অস্ত্রটি খেলনা পিস্তল।

আটক আল আমিন খান হলে নিজেকে ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান জয়ের অনুসারী হিসেবে পরিচয় দিতেন। তবে হল ছাত্রলীগে তার কোনো পদ নেই।

মঙ্গলবার রাতে হল প্রশাসনের সহযোগিতায় হলটির ১০২ নম্বর কক্ষে অভিযান চালানো হয়। এই কক্ষেই থাকতেন আল আমিন। ওই কক্ষ থেকে একটি পিস্তল ছাড়াও হকি স্টিক ও একটি এসএস পাইপ উদ্ধার করা হয়।

আটকের বিষয়টি হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মকবুল হোসেন ভুঁইয়া নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে খবর পেয়েছিলাম। পরে সেই কক্ষে অভিযান চালিয়ে আমরা এসব উদ্ধার করি। তবে আটক শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব নেই। সে হলের ওই কক্ষে অবৈধভাবে অবস্থান করতো। পরে তাকে প্রক্টরিয়াল টিমের কাছে সোপর্দ করা হয়। প্রক্টরিয়াল বডি তাকে থানায় নিয়ে যায়।’

হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশকে একটি লিখিত অভিযোগও দেয়া হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, আল আমিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে হলের দোকানিদের পিস্তল দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ওই কক্ষে অভিযান চালানো হয়। এ সময় কক্ষটি থেকে একটি পিস্তল, একটি হকিস্টিক এবং পাইপ উদ্ধার করা হয়।

অভিযানের সময় উপস্থিত থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক বদরুজ্জামান ভূঁইয়া কাঞ্চন রাত ১২টার দিকে বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ওই কক্ষে অভিযান চালিয়ে আমরা এসব উদ্ধার করি। তবে আল আমিন দাবি করেছে এটি খেলনা পিস্তল। আমরা তাকে থানায় সোপর্দ করার পর থানা পুলিশও অস্ত্রটি পরীক্ষা করে একই কথা বলেছে। বর্তমানে সে থানাতেই আছে।’

শাহবাগ থানার ওসি মওদুদ হাওলাদার বলেন, ‘প্রক্টরিয়াল টিম একজনকে নিয়ে এসেছে। তবে তার কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র হিসেবে উদ্ধার করা পিস্তলটি একটি খেলনা। আমরা তাকে হেফাজতে রেখেছি। আপাতত ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। পরবর্তীতে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রক্টর স্যারের সঙ্গে কথা বলে আইনগত ব্যবস্থা নেব।

জানা যায়, আল আমিন ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে ফিন্যান্স বিভাগে প্রথম বর্ষে ভর্তি হন। ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের এই শিক্ষার্থী প্রথম বর্ষে পুনরায় ভর্তি হন। এরপর ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষেও তিনি পুনরায় ভর্তির আবেদন করলে তা গ্রহণ করা হয়নি।

আরও পড়ুন:
এইচএসসি: এক দিনে অনুপস্থিত ১৭ হাজার
এইচএসসি: সপ্তম দিনে অনুপস্থিত সাড়ে ৩ হাজারের বেশি
এইচএসসির ষষ্ঠ দিনে অনুপস্থিত সাড়ে ১৭ হাজার
এইচএসসির অনুপস্থিতি বাড়ছেই
এইচএসসি: এক কেন্দ্রে ভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা

শেয়ার করুন

আট শিক্ষকের করোনায় স্কুল বন্ধ

আট শিক্ষকের করোনায় স্কুল বন্ধ

পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত স্কুল বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ছবি: নিউজবাংলা

স্কুলের প্রধান শিক্ষক শম্পা রানী জানান, প্রথমে করোনায় আক্রান্ত হন তিনি নিজেই। পরে নমুনা পরীক্ষা করালে বাসায় তার স্বামীরও করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। এরপর তিনি স্কুলের অন্য শিক্ষকদেরও নমুনা পরীক্ষা করতে বলেন। বাকিদের পরীক্ষা করা হলে আরও সাত শিক্ষকের করোনা ধরা পড়ে।

কুমিল্লার লাকসামে একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ আট শিক্ষকের করোনা শনাক্তের পর স্কুলটি বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

করোনায় সংক্রমিতদের সবাই উপজেলার পশ্চিমগাঁও মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।

শিক্ষকদের করোনায় শনাক্তের খবরে স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা আতঙ্কে রয়েছেন।

এ ঘটনায় লাকসাম উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন পরিস্থিতি বিবেচনায় অনির্দিষ্টকালের জন্য স্কুলটি বন্ধ ঘোষণা করেছেন।

নিউজবাংলাকে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক শম্পা রানী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

করোনায় আক্রান্ত অন্যরা হলেন সহকারী শিক্ষক মো. শাহ আলম, মো. একরামুল হক খন্দকার, শিক্ষক মন্টু চন্দ্র ঘোষ, উম্মে কুলসুম, বিলকিছ নাসরিন, কামরুন্নাহার ও রুবিনা ইসলাম।

প্রধান শিক্ষক শম্পা রানী জানান, প্রথমে করোনায় আক্রান্ত হন তিনি নিজেই। পরে নমুনা পরীক্ষা করালে বাসায় তার স্বামীরও করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। এরপর তিনি স্কুলের অন্য শিক্ষকদেরও নমুনা পরীক্ষা করতে বলেন। বাকিদের পরীক্ষা করা হলে আরও সাত শিক্ষকের করোনা ধরা পড়ে।

নিউজবাংলাকে লাকসাম উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্কুল বন্ধ করে দিয়েছি। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত স্কুল বন্ধ থাকবে।

‘আমরা স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের খোঁজখবর রাখছি। কারও মধ্যে কোনো ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে তাদের করোনা পরীক্ষা করা হবে। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এ সময় স্কুুলের অন্যান্য কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নাজিয়া বিনতে আলম বলেন, ‘স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের মাধ্যমে তাদের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সব শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।’

আরও পড়ুন:
এইচএসসি: এক দিনে অনুপস্থিত ১৭ হাজার
এইচএসসি: সপ্তম দিনে অনুপস্থিত সাড়ে ৩ হাজারের বেশি
এইচএসসির ষষ্ঠ দিনে অনুপস্থিত সাড়ে ১৭ হাজার
এইচএসসির অনুপস্থিতি বাড়ছেই
এইচএসসি: এক কেন্দ্রে ভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা

শেয়ার করুন

শাবির মাঠেই রান্না-খাওয়া শিক্ষার্থীদের

শাবির মাঠেই রান্না-খাওয়া শিক্ষার্থীদের

শাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের মাঠে রান্নার আয়োজন করেছেন। ছবি: নিউজবাংলা

বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বরের সামনের খোলা মাঠে রাতে মাটির চুলা তৈরি করে বড় হাঁড়িতে রান্না হয়েছে। মাঠে বসেই শিক্ষার্থীদের কেউ পেঁয়াজ-মরিচ-সবজি কেটেছেন। কেউ লাকড়ি জোগার করছেন। তবে রান্নার জন্য আনা হয়েছে বাবুর্চি।

বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ, হল ছাড়ার নির্দেশনার পর সোমবার থেকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে হলের ক্যান্টিন। মঙ্গলবার থেকে বন্ধ হয়ে গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ক্যাফেটেরিয়াও।

তবে হল ছাড়ার নির্দেশনা না মেনে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে আছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। রাতের খাবারের ব্যবস্থা না থাকায় মাঠেই চুলা জ্বালিয়ে তারা রান্না করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বরের সামনের খোলা মাঠে হয় রান্নার এই আয়োজন। খাওয়ার আয়োজনও মাঠেই।

ওই মাঠে রাত সাড়ে ৯টার দিকে গিয়ে দেখা যায়, মাটির চুলা তৈরি করে বড় বড় হাঁড়িতে রান্না করা হচ্ছে। মাঠে বসেই শিক্ষার্থীদের কেউ পেঁয়াজ-মরিচ, কেউবা সবজি কাটছেন। কেউ লাকড়ি জোগাড় করছেন।

তবে রান্নার জন্য আনা হয়েছে বাবুর্চি।

শাবির মাঠেই রান্না-খাওয়া শিক্ষার্থীদের

রান্নার তদারকিতে থাকা অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মাহফুজ আহমদ বলেন, ‘আমাদের হলের ক্যান্টিন বন্ধ, আশপাশের রেস্টুরেন্টও বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। এখন আমরা খাওয়া নিয়ে সমস্যা পড়েছি।

‘তাই আমরা নিজেরা চাঁদা তুলে ও বড় ভাইদের সহযোগিতায় এখানে রান্নার আয়োজন করেছি। এখানেই সবাই খাব। আন্দোলন যতদিন চলবে এভাবে রান্নার আয়োজনও থাকবে।’

এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ২টি ছাত্রী হল ও ৩টি ছাত্র হল রয়েছে। এগুলোতে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী থাকেন। তবে হল ছাড়ার নির্দেশনার পর অর্ধেক শিক্ষার্থীই ক্যাম্পাস ছেড়ে গেছেন। আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের জন্য ক্যাম্পাসে হাজারখানেক শিক্ষার্থী রয়ে গেছেন।

শাবির মাঠেই রান্না-খাওয়া শিক্ষার্থীদের

বেগম সিরাজুন্নেসা হলের প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে বৃহস্পতিবার থেকে আন্দোলনে নামেন ওই হলের ছাত্রীরা। তারা রোববার উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদকে অবরুদ্ধ করলে পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করে উপাচার্যকে মুক্ত করে।

এ সময় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়। এরপর থেকে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন শিক্ষার্থীরা।

আরও পড়ুন:
এইচএসসি: এক দিনে অনুপস্থিত ১৭ হাজার
এইচএসসি: সপ্তম দিনে অনুপস্থিত সাড়ে ৩ হাজারের বেশি
এইচএসসির ষষ্ঠ দিনে অনুপস্থিত সাড়ে ১৭ হাজার
এইচএসসির অনুপস্থিতি বাড়ছেই
এইচএসসি: এক কেন্দ্রে ভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা

শেয়ার করুন

শাবিতে হামলা: ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ চলছেই

শাবিতে হামলা: ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ চলছেই

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার সংলগ্ন সড়কে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টায় মানবন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী রাজু বড়ুয়া বলেন, ‘শাবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। শিক্ষার্থীদের দাবি না মেনে উল্টো হামলা চালিয়েছে। এমন অযোগ্য ব্যক্তি ভিসি থাকতে পারেন না, তার অপসারণ চাই।’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ‌‌‌‌‌‌‌‌হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবারও বিক্ষোভ হয়েছে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে। কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। দাবি জানান, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগের।

মানববন্ধনে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী রাজু বড়ুয়া বলেন, ‘শাবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। শিক্ষার্থীদের দাবি না মেনে উল্টো হামলা চালিয়েছে। এমন অযোগ্য ব্যক্তি ভিসি থাকতে পারেন না, তার অপসারণ চাই।’

শাবিতে হামলা: ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ চলছেই
শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগ চান কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। ছবি: নিউজবাংলা

প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘আমাদের মতো শিক্ষার্থীরা হাসপাতালের বেডে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে। এটা দেখে যদি বিবেক জাগ্রত না হয়, তাহলে বুঝতে হবে আমাদের বিবেক ঘুমিয়ে রয়েছে।

‘আজকে তাদের ওপর হামলা, কালকে আমাদের ওপর- এভাবে দিন দিন শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা বেড়ে চলছে। আমাদের দাবি একটাই, উপাচার্যের পদত্যাগ চাই।’

প্রতিবাদে উত্তাল ছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। মানববন্ধনে পুলিশি হামলার বিচার, ক্যাম্পাস বন্ধের ঘোষণা প্রত্যাহার ও উপাচার্যের অপসারণ দাবি করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারসংলগ্ন সড়কে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টায় মানববন্ধন শুরু হয়। পরে একটি মিছিল ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে আবার শহীদ মিনারে আসে।

নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী খালিদ মাহমুদ তন্ময় বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের কোনো নিরাপত্তা নেই। যেকোনো সময় সন্ত্রাসীরা হামলা চালাচ্ছে।

‘শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিতে আন্দোলন করলে তা দমাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুলিশ দিয়ে হামলা চালিয়েছে। শিক্ষার্থীদের মুখ বন্ধ করতে নানা ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভিন্নমত চর্চার কোনো সুযোগ দেয়া হচ্ছে না।’

ইতিহাস বিভাগের ৪৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আলী হোসেন বলেন, ‘আমরা এই বিক্ষোভের মাধ্যমে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করছি। শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা জানাচ্ছি।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে জেলা প্রেস ক্লাবের সামনে। সোমবার সন্ধ্যায় এই কর্মসূচিতে যোগ দেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী।

শাবিতে হামলা: ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ চলছেই
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনে সাবেক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।

প্রেক্ষাপট

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে গত বৃহস্পতিবার থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। রোববার আন্দোলনের চতুর্থ দিনে এসে তা সহিংসতায় রূপ নেয়।

এদিন বিকেলে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করলে সন্ধ্যায় অ্যাকশনে যায় পুলিশ। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে রীতিমতো রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ক্যাম্পাস। লাঠিচার্জ, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল ছুড়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে পুলিশ, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন।

শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় সন্ধ্যার পর থেকে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকের সামনে অবস্থা নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাদের অভিযোগ, ভিসির নির্দেশেই পুলিশ হামলা ও গুলি চালিয়েছে।

এই বিক্ষোভের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ও হল ছাড়ার নির্দেশনা আসে। এরপর উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগ দাবিতে রোববার রাত থেকেই আন্দোলন শুরু করেন আন্দোলনকারীরা।

এ সময় বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরাও এসে যোগ দেন এই বিক্ষোভে। তারা উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগ দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।

সোমবার আন্দোলন চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। এতে মঙ্গলবার সকালে ক্যাম্পাসে এসেও কার্যালয়ে প্রবেশ করতে পারেননি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের নিজ নিজ ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। আর পুলিশ প্রহরায় বাসভবনেই অবস্থান করছেন উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

আরও পড়ুন:
এইচএসসি: এক দিনে অনুপস্থিত ১৭ হাজার
এইচএসসি: সপ্তম দিনে অনুপস্থিত সাড়ে ৩ হাজারের বেশি
এইচএসসির ষষ্ঠ দিনে অনুপস্থিত সাড়ে ১৭ হাজার
এইচএসসির অনুপস্থিতি বাড়ছেই
এইচএসসি: এক কেন্দ্রে ভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা

শেয়ার করুন

যেসব শর্তে ৩৮ হাজার শিক্ষক নিয়োগ

যেসব শর্তে ৩৮ হাজার শিক্ষক নিয়োগ

শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় বসেছেন প্রার্থীরা। ফাইল ছবি

গত বছরের ৩০ মার্চ তৃতীয় ধাপে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ৫৪ হাজার ৩০৪ জন শিক্ষক নিয়োগে তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এনটিআরসিএ। এর মধ্যে এমপিওভুক্ত পদ ২৬ হাজার ৮৩৮টি।

প্রাথমিক সুপারিশপ্রাপ্ত ৩৮ হাজার প্রার্থীকে পুলিশ ভেরিফিকেশন চলমান রেখেই বেসরকারি স্কুল-কলেজে শিক্ষক পদে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। এটি কার্যকর করতে ইতোমধ্যে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষকে (এনটিআরসিএ) চিঠি দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

তবে এ নিয়োগ কার্যকর করতে কয়েকটি শর্ত দেয়া জুড়ে দেয়া হচ্ছে।

এনটিআরসিএ সচিব মো. ওবাইদুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, পুলিশ ভেরিফিকেশন চলমান রেখেই শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি শর্ত থাকবে।

শর্তগুলো হলো:

১. নিয়োগের সুপারিশপ্রাপ্ত কোনো শিক্ষকের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির দেয়া ভেরিফিকেশনে কোনো আপত্তি উত্থাপিত হলে অবিলম্বে ওই সুপারিশপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হবে।

২. প্রার্থীর পুলিশ ভেরিফিকেশনে বিরূপ মন্তব্য পাওয়া গেলে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ থেকে তা মন্ত্রণালয়কে জানাতে হবে।

৩. বিরূপ মন্তব্য-সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে অব্যাহতি দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জানাতে হবে।

আগের দিন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক-২) ফৌজিয়া জাফরীন বলেন, ‘কোনো ব্যক্তিকে নিয়োগের পর যদি তার বিরুদ্ধে পুলিশ ভেরিফিকেশনে আপত্তিকর কিছু আসে তবে তাদের নিয়োগ বাতিল হবে। মূলত যে কারণে ভেরিফিকেশন করা হয়ে থাকে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য এনটিআরসিএকে নির্দেশনা দেয়া হবে।’

গত বছরের ৩০ মার্চ তৃতীয় ধাপে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ৫৪ হাজার ৩০৪ জন শিক্ষক নিয়োগে তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এনটিআরসিএ।

গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৫৪ হাজার ৩০৪টি শূন্যপদের মধ্যে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে ৩১ হাজার ১০১টি পদ রয়েছে। এর মধ্যে এমপিওভুক্ত পদ ২৬ হাজার ৮৩৮টি। মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে শূন্যপদ ২০ হাজার ৯৯৬টি।

এর মধ্যে ১৯ হাজার ১৫৪টি এমপিওভুক্ত। আর ২ হাজার ২০৭টি এমপিও পদ রিট মামলায় অংশ নেয়াদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়।

৫১ হাজার ৭৬১টি পদে সুপারিশ করার কথা থাকলেও গত বছরের ১৫ জুলাই সুপারিশ করা হয়েছে ৩৮ হাজার ২৮৬ জন প্রার্থীকে। তাদের মধ্যে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ৩৪ হাজার ৬১০ জন এবং ননএমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ৩ হাজার ৬৭৬ জন।

আর ৮ হাজার ৪৪৮টি পদে কোনো আবেদন না পাওয়ায় এবং ৬ হাজার ৭৭৭টি নারী কোটায় প্রার্থী না পাওয়ায় ১৫ হাজার ৩২৫টি পদে ফল দেয়নি এনটিআরসি।

আরও পড়ুন:
এইচএসসি: এক দিনে অনুপস্থিত ১৭ হাজার
এইচএসসি: সপ্তম দিনে অনুপস্থিত সাড়ে ৩ হাজারের বেশি
এইচএসসির ষষ্ঠ দিনে অনুপস্থিত সাড়ে ১৭ হাজার
এইচএসসির অনুপস্থিতি বাড়ছেই
এইচএসসি: এক কেন্দ্রে ভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা

শেয়ার করুন