× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Approval of draft prisoner exchange agreement with Maldives
hear-news
player
print-icon

মালদ্বীপের সঙ্গে বন্দি বিনিময় চুক্তির খসড়া অনুমোদন

মালদ্বীপের-সঙ্গে-বন্দি-বিনিময়-চুক্তির-খসড়া-অনুমোদন
প্রতীকী ছবি
মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘এই চুক্তির ফলে দুই দেশ চাইলে তাদের নাগরিকদের নিজ দেশে ফিরিয়ে আনতে পারবেন। বাংলাদেশি বন্দিদের দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে এই চুক্তিটি আনা হয়েছে।’

মালদ্বীপের কারাগারে থাকা সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের দেশে ফিরিয়ে আনার পথ সুগম করতে দেশটির সঙ্গে বন্দি বিনিময় চুক্তি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

সচিবালয়ে রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ সংক্রান্ত একটি চুক্তির খসড়ায় অনুমোদন দেয়া হয়।

গণভবন থেকে বৈঠকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন সরকারপ্রধান।

বৈঠক শেষে ব্রিফ করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

ওই সময় তিনি বলেন, ‘এই চুক্তির ফলে দুই দেশ চাইলে তাদের নাগরিকদের নিজ দেশে ফিরিয়ে আনতে পারবেন। বাংলাদেশি বন্দিদের দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে এই চুক্তিটি আনা হয়েছে। মালদ্বীপে আমাদের বেশ কিছু প্রিজনার আছে। তাদের ব্যাপারে এবং মালদ্বীপেরও অনেকে এখানে পড়াশোনা করে।

‘তারা যদি কোনো ওফেন্সে (অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড) জড়িত হয় বা কারাগারে যায়, প্রয়োজন হলে তাদের ওই দেশে নিয়ে যাওয়া। এটার জন্য বন্দি বিনিময় চুক্তি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ থেকে নিয়ে আসা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এখানে তিনটি বিষয় আছে। একটি হলো মালদ্বীপে যদি বাংলাদেশি কোনো বন্দি থাকে তাহলে মালদ্বীপ বাংলাদেশকে অনুরোধ করতে পারে যে, তুমি তোমার বন্দিকে নিয়ে যাও। আবার বাংলাদেশও বলতে পারে আমার বন্দিরা আছে, দিয়ে দাও।

‘আবার যে বন্দি আছে, সে নিজেও আবেদন করতে পারে আমাকে আমার দেশে পাঠিয়ে দাও। এই বিষয়গুলো হ্যান্ডেল করার জন্য আমরা আশা করছি যে প্রধানমন্ত্রীর সফরেই এ চুক্তি হবে।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘সব ধরনের সাজার ক্ষেত্রেই এটা প্রযোজ্য হবে। মালদ্বীপের কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত ৪৩ জন এবং ৪০ জন বিচারাধীন অবস্থায় বন্দি। মালদ্বীপের কোনো বন্দি বাংলাদেশের কারাগারে নেই।

‘বন্দিরা এখানে আসতে পারবে মানে এই নয় যে, মাফ পেয়ে যাবে। এখানেও তাকে সাজা খাটতে হবে। ট্রান্সফার হবে জেল টু জেল।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন মালদ্বীপ সফরে এই চুক্তি সই হতে পারে বলে ধারণা দেন মন্ত্রিপরিষদ। আগামী ২২ ও ২৩ ডিসেম্বর মালদ্বীপ সফরের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

আরও পড়ুন:
পর্যটনে মালদ্বীপের চেয়ে কেন পিছিয়ে বাংলাদেশ
মালদ্বীপে ‘সুদিনের অপেক্ষায়’ বাংলাদেশি কর্মীরা
নতুন উচ্চতায় বাংলাদেশ-মালদ্বীপ সম্পর্ক
বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসক নিতে চায় মালদ্বীপ
৩ দিনের সফরে ঢাকায় মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Air Astra is going to Sylhet or Chittagong without going to Shahjalal

শাহজালালে না পেরে সিলেট বা চট্টগ্রাম যাচ্ছে এয়ার অ্যাস্ট্রা

শাহজালালে না পেরে সিলেট বা চট্টগ্রাম যাচ্ছে এয়ার অ্যাস্ট্রা ফ্লাইটের অপেক্ষায় থাকা বেসরকারি এয়ারলাইনস এয়ার অ্যাস্ট্রা। ছবি: নিউজবাংলা
এয়ার অ্যাস্ট্রার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান আসিফ বলেন, ‘বেবিচক আমাদের বলেছে, এই মুহূর্তে শাহজালালে ওভারনাইট পার্কিংয়ের সুযোগ নেই। আমাদের অন্য কোনো বিমানবন্দরে রাতে পার্কিং করতে বলেছে। আমরা সে অনুযায়ী সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে রাতে পার্কিংয়ের সব ব্যবস্থা করেছি।’

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বেস স্থাপনের অনুমতি পাচ্ছে না ফ্লাইটের অপেক্ষায় থাকা বেসরকারি এয়ারলাইনস এয়ার অ্যাস্ট্রা। বিকল্প হিসেবে সিলেট বা চট্টগ্রাম থেকে ফ্লাইট পরিচালনা করার পরিকল্পনা নিয়েছে তারা। এ নিয়ে চূড়ান্ত প্রস্তুতিও শুরু করেছে এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) বলছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণ কাজ চলমান থাকায় এই মুহূর্তে এই বিমানবন্দরে নতুন করে কোনো এয়ারলাইনসকে জায়গা দেয়ার সুযোগ নেই। টার্মিনালের নির্মাণ কাজ শেষ হলে এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হবে।

এদিকে এয়ার অ্যাস্ট্রা বলছে, আগামী সেপ্টেম্বরের প্রথমার্ধে তাদের প্রথম উড়োজাহাজটি দেশে পৌঁছাতে পারে। এটিআর সেভেনটি টু মডেলের এই উড়োজাহাজটি বেবিচকের এয়ারওর্দিনেস সার্টিফিকেট (এওসি) পাওয়ার পর এটি দিয়েই যাত্রা শুরু করবে এয়ারলাইনসটি।

এয়ার অ্যাস্ট্রার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান আসিফ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের প্রথম উড়োজাহাজটি যুক্তরাজ্যে পেইন্টিংয়ের কাজ শেষে বুলগেরিয়ায় এসেছে। আমরা সেখান থেকেই উড়োজাহাজটি ডেলিভারি নেব। বুলগেরিয়া থেকে আমরা আশা করছি সেপ্টেম্বরের প্রথমার্থের কোনো এক সময়ে এটি ঢাকায় এসে পৌঁছাবে। এরপর এটি এয়ারওর্দিনেস সার্টিফিকেট (এওসি) পাবে। এরপর থেকেই আমরা অভ্যন্তরীণ গন্তব্যে ফ্লাইট শুরু করব।

‘বেবিচক আমাদের বলেছে, এই মুহূর্তে শাহজালালে ওভারনাইট পার্কিংয়ের সুযোগ নেই। আমাদের অন্য কোনো বিমানবন্দরে রাতে পার্কিং করতে বলেছে। আমরা সে অনুযায়ী সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে রাতে পার্কিংয়ের সব ব্যবস্থা করেছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা অপারেশন শুরুর পর সকালে সিলেট বা চট্টগ্রাম থেকে ফ্লাইট ঢাকায় নিয়ে আসব এবং সারাদিন এখান থেকে অপারেট করে রাতে আবার সিলেট বা চট্টগ্রামে ফ্লাইট নিয়ে গিয়ে সেখানে রাত্রিকালীন পার্কিং করব।’

এয়ার অ্যাস্ট্রার যাত্রা শুরু করলে দেশে ফ্লাইট পরিচালনায় থাকা বেসরকারি এয়ারলাইনসের সংখ্যা হবে তিন। এর ফলে এভিয়েশন খাতে অপারেটরদের মধ্যে প্রতিযোগিতা আরও বাড়বে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বেবিচকের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো এয়ারলাইনস ফ্লাইট শুরুর পর প্রথম এক বছর আবশ্যিকভাবে তাদের অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এক বছর পর আন্তর্জাতিক গন্তব্যে উড়ালের অনুমতি চাইতে পারে এয়ারলাইনস।

গত ২৫ বছরে দেশে ১০টি বেসরকারি এয়ারলাইনস যাত্রা শুরু করলেও এখন টিকে আছে মাত্র দুটি। এ সময়ের মধ্যে একে একে পাখা গুটিয়েছে অ্যারো বেঙ্গল, এয়ার পারাবত, রয়্যাল বেঙ্গল, এয়ার বাংলাদেশ, জিএমজি এয়ারলাইনস, বেস্ট এয়ার, ইউনাইটেড এয়ার ও রিজেন্ট এয়ার।

সর্বশেষ করোনার মধ্যে গত বছরের মার্চ থেকে ফ্লাইট বন্ধ রেখেছে আরেকটি এয়ারলাইনস রিজেন্ট এয়ার। কয়েক দফা চালুর কথা বললেও আর ফ্লাইটে ফেরেনি এয়ারলাইনসটি। বন্ধ হয়ে যাওয়া এয়ারলাইনসগুলোর মধ্যে জিএমজি, রিজেন্ট ও ইউনাইটেড আন্তর্জাতিক ফ্লাইটও চালাত।

দেশে বর্তমানে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ছাড়া ফ্লাইটে রয়েছে বেসরকারি এয়ারলাইনস ইউএস বাংলা ও নভোএয়ার।

বেবিচক চেয়ারম্যান এম মফিদুর রহমান বলেন, ‘নতুন দুটি এয়ারলাইনসকে ঢাকার বাইরে থেকে অপারেশন শুরু করতে বলা হয়েছে। ঢাকায় আমাদের স্থান খুব লিমিটেড। এজন্য আমরা বলে দিয়েছি যদি চালু করতে হয় তাহলে ঢাকার বাইরে থেকে আপনারা অপারেশন শুরু করেন। তারা সেভাবেই তাদের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

‘থার্ড টার্মিনাল হওয়ার পর নতুন পার্কিং হবে, তখন তারা ঢাকা থেকে অপারেট করতে পারবে। এখনও প্রক্রিয়া চলছে।’

শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পায় ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর। সে সময় এর নির্মাণব্যয় ধরা হয়েছিল ১৩ হাজার ৬১০ কোটি টাকা। পরে আরও ৭ হাজার ৭৮৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা বাড়িয়ে প্রকল্পের আকার দাঁড়ায় প্রায় ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পটির নির্মাণ শুরু হয়। বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রাক্কলন অনুযায়ী ২০২৩ সালের জুনের আগেই চালু করা যাবে এই টার্মিনাল।

এ হিসাবে এয়ার অ্যাস্ট্রা যদি ঢাকায় বেস স্থাপন করে ফ্লাইট পরিচালনা করতে চায় তাদের অপেক্ষা করতে হবে অন্তত ১০ মাস।

আরও পড়ুন:
আসছে আরও দুই বেসরকারি এয়ারলাইনস
শর্তে তালা খোলা হলো ইউনাইটেড এয়ার কার্যালয়ের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Attacks on reporting on corruption are an attempt to stifle media TIB

সাংবাদিকদের ওপর হামলা কণ্ঠরোধের অপপ্রয়াস: টিআইবি

সাংবাদিকদের ওপর হামলা কণ্ঠরোধের অপপ্রয়াস: টিআইবি
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘দুর্নীতির তথ্য উদঘাটন ও প্রকাশের জন্য সাংবাদিকদের ওপর ধারাবাহিক হামলা কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এতে স্পষ্ট যে দুর্নীতিবাজরা কতটা বেপরোয়া, ক্ষমতাধর এবং সংঘবদ্ধ। তারা কোনো না কোনো প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় তারা সুরক্ষা ও দায়মুক্তি পেয়ে থাকে।’

দেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম-দুর্নীতির সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা ধারাবাহিকভাবে হামলার শিকার হওয়ার উল্লেখ করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে টিআইবি বলেছে, ক্ষমতার অপব্যবহার, হামলা ও বিচারহীনতার মাধ্যমে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের চলমান প্রক্রিয়া শঙ্কাজনক অপপ্রয়াসের অব্যাহত প্রবণতা। এসব ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কিছু পদক্ষেপ নেয়া হলেও বাস্তবিক অর্থে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিচার শেষ হয় না। এটা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকের সুরক্ষা নিশ্চিতে সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

সংগঠনটি অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রতিটি ঘটনায় অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাংবাদিকদের সুরক্ষায় বিশেষ আইনের দাবি জানিয়েছে।

বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘অর্থ পাচারসহ নানামুখী দুর্নীতির কারণে দেশের মানুষ বহুমুখী সংকট মোকাবিলা করছে। সেই সময়টাতে দুর্নীতির তথ্য উদঘাটন ও প্রকাশের জন্য সাংবাদিকদের ওপর ধারাবাহিক হামলা কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।’

‘সম্প্রতি চিকিৎসা খাতসহ বিভিন্ন জনসেবা প্রদানকারী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি-অনিয়মের তথ্য সংগ্রহকালে বেশ কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেল ও পত্রিকার সাংবাদিকদের ওপর নৃশংস হামলা হয়েছে। এতে স্পষ্ট যে দুর্নীতিবাজরা কতটা বেপরোয়া, ক্ষমতাধর এবং সংঘবদ্ধ। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তো বটেই, রাষ্ট্রীয় কোনো কর্তৃপক্ষকেই তারা পরোয়া করে না। তারা কোনো না কোনো প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় তারা সুরক্ষা ও দায়মুক্তি পেয়ে থাকে।’

আইন ও শালিস কেন্দ্রের তথ্যসূত্রের উল্লেখ করে ড. জামান বলেন, ‘এ বছরের শুরু থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত অন্তত ১১৯ জন সাংবাদিক নানামুখী হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩৮ জনের ওপর পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে হামলা হয়েছে। আর ১৯ জন প্রকাশিত সংবাদের দায়ে মামলার শিকার হয়েছেন।

‘বিশেষ করে, সম্প্রতি স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিন ধরে বিরাজমান অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহকালে ঢাকা ও বরিশালে অন্তত তিনজন টেলিভিশন সাংবাদিকের ওপর সংঘবদ্ধ ভয়াবহ হামলা হয়েছে। আমরা মনে করি, এসব ঘটনা মুক্ত সাংবাদিকতার সাংবিধানিক অঙ্গীকারকে পদদলিত করছে।’

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘বিশ্ব দায়মুক্তি সূচক-২০২১ অনুযায়ী সাংবাদিকদের নিরাপত্তাহীনতায় বাংলাদেশের দশম অবস্থান দেশে সাংবাদিকতার প্রকট ঝুঁকির দৃষ্টান্ত। বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচক-২০২২ অনুযায়ী ১০ ধাপ পিছিয়ে ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের ১৬২তম অবস্থানও প্রমাণ করে যে সাংবাদিকতা এদেশে ধারাবাহিকভাবেই কঠিন হয়ে উঠছে।’

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘সাংবাদিকদের সুরক্ষায় অবিলম্বে বিশেষ আইন প্রণয়ন এবং তা কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ২০১৮ সালে জাতিসংঘের ইউনিভার্সাল পিরিওডিক রিভিউর (ইউপিআর) অধীনে বাংলাদেশের তৃতীয় পর্যালোচনার সময় সরকার সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সম্পর্কিত যে আটটি সুপারিশ সমর্থন করেছিল, সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন করতে হবে।

‘অন্যথায় একথা বলা মোটেও অযৌক্তিক হবে না যে, দেশে স্বাধীন সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং মুক্ত গণমাধ্যমের প্রচার থাকলেও বাস্তবে প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক উভয় পদ্ধতিতেই গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের সর্বাত্মক অপচেষ্টা চলছে।’

আরও পড়ুন:
টিআইবির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার পক্ষে তথ্যমন্ত্রী
টিকা সাফল্য, কেনায় স্বচ্ছতার ঘাটতি: টিআইবি
গণমাধ্যম কর্মী বিল নিয়ে টিআইবির বিবৃতিতে ক্ষেপেছেন হাছান
মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগে স্বচ্ছতা চায় টিআইবি-টিআইএম
টিআইবি রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত হয়: তথ্যমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Diesel will last 18 days on 30 petrol octane

ডিজেলে ৩০ ও পেট্রল-অকটেনে চলবে ১৮ দিন

ডিজেলে ৩০ ও পেট্রল-অকটেনে চলবে ১৮ দিন
দেশে উৎপাদন হলেও পেট্রল ও অকটেনের নাম বাড়ানোর বিষয়ে বিপিসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘ক্রুডের কারণে পেট্রল ও অকটেনের দাম বাড়ে। সুতরাং পেট্রল ও অকটেনের দাম কৌশলগত কারণে বাড়াতে হয়েছে।’

দেশে বর্তমানে ৩০ দিনের ডিজেল মজুত রয়েছে। আর ১৮ দিনের পেট্রল ও ৩২ দিনের জেট ফুয়েল রয়েছে। এছাড়া দেশে যে অকটেন মজুত রয়েছে, তা দিয়ে ১৮ থেকে ১৯ দিনে চাহিদা মেটানো সম্ভব।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান এ বি এম আজাদ এ তথ্য জানিয়েছেন।

তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বাড়ানোর পর বিপিসির ২০১৪ সালের পর থেকে মুনাফায় থাকা, বিভিন্ন ব্যাংকে তাদের বিপুল পরিমাণ স্থায়ী আমানতের বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর এ নিয়ে তুমুল আলোচনার মধ্যে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে নিজ কার্যালয়ে বুধবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে আসেন বিপিসির চেয়ারম্যান।

গত ৫ আগস্ট মধ্যরাত থেকে সরকার ডিজেল ও কেরোসিনের দর লিটারে ৩৪ টাকা বাড়িয়ে ১১৪ টাকা নির্ধারণ করে। অকটেন প্রতি লিটার ৮৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ ও পেট্রল ৮৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এই দাম বাড়ানোর ব্যাখ্যায় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার কারণে বিপিসির বিপুল পরিমাণ লোকসান হচ্ছিল। গত কয়েক মাসে লোকসান ৮ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ায় দাম বাড়ানোর বিকল্প নেই।

আরও পড়ুন: সাত বছরের মুনাফা ও স্থায়ী আমানতের ব্যাখ্যা দিল বিপিসি

দেশে উৎপাদন হলেও পেট্রল ও অকটেনের নাম বাড়ানোর বিষয়ে বিপিসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘ক্রুডের কারণে পেট্রল ও অকটেনের দাম বাড়ে। সুতরাং পেট্রল ও অকটেনের দাম কৌশলগত কারণে বাড়াতে হয়েছে।’

বর্তমানে দেশে ৩০ দিনের ডিজেল এবং ১৮ দিনের পেট্রল ও অকটেন মজুত আছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
সাত বছরের মুনাফা ও স্থায়ী আমানতের ব্যাখ্যা দিল বিপিসি
বিপিসির আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন সিপিডির
বিপুল বকেয়া, বিমানকে তেল দেবে না বিপিসি
‘জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি রাজনৈতিক, আমলাদের দায় নেই’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The goods went to Meghalaya through Tamabil from Calcutta

কলকাতা থেকে তামাবিল দিয়ে পণ্য গেল মেঘালয়ে

কলকাতা থেকে তামাবিল দিয়ে পণ্য গেল মেঘালয়ে
কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনার মোহাম্মদ আকবর হোসেন জানান, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে হয়ে যাওয়া ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন দ্যা ইউজ অফ চট্টগ্রাম অ্যান্ড মোংলা পোর্ট ফর মুভমেন্ট অফ গুডস টু অ্যান্ড ফ্রম ইন্ডিয়া (এসিএমপি)’ চুক্তির আওতায় বুধবার পরীক্ষামূলকভাবে এদেশের বন্দর ও সড়ক ব্যবহার করা হয়েছে।

ট্রানজিট চুক্তির আওতায় ভারতের কলকাতা থেকে বাংলাদেশ হয়ে মেঘালয়ে গেছে পণ্যবাহী ট্রাক।

ভারতীয় পণ্য নিয়ে ট্রাকটি বুধবার দুপুরে সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে মেঘালয় প্রবেশ করে। এটি গত ১ আগস্ট কলকাতা থেকে জাহাজে করে মোংলা বন্দরে আসে।

প্রথমবারের মতো ভারতীয় পণ্য পরিবহনে বাংলাদেশের স্থলবন্দর ব্যবহার করা হলো। এই চালানে ছিল ইলেক্ট্রো স্টিল কাস্টিং লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ৭০ প্যাকেজের ১৬ দশমিক ৩৮০ টন লোহার পাইপবাহী কন্টেইনার।

এই ট্রানজিট পর্যবেক্ষণে তামাবিল স্থলবন্দরে দুপুরে এসেছিলেন সিলেটের কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনার মোহাম্মদ আকবর হোসেন, সিলেটে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাই কমিশনার নীরজ কুমার জয়সওয়াল ও গৌহাটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের সহকারী হাই কমিশনার এবং মিশন প্রধান শাহ মোহাম্মদ তানভীর মনসুর এবং বন্দর কর্মকর্তারা।

কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনার মোহাম্মদ আকবর হোসেন জানান, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে হয়ে যাওয়া ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন দ্যা ইউজ অফ চট্টগ্রাম অ্যান্ড মোংলা পোর্ট ফর মুভমেন্ট অফ গুডস টু অ্যান্ড ফ্রম ইন্ডিয়া (এসিএমপি)’ চুক্তির আওতায় বুধবার পরীক্ষামূলকভাবে এদেশের বন্দর ও সড়ক ব্যবহার করা হয়েছে।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, গত ১ আগস্ট ভারতের কলকাতা বন্দর থেকে পণ্য নিয়ে একটি জাহাজ ছেড়ে আসার পর রোববার সকালে মোংলা বন্দরে নোঙর করে। সোমবার দুপুরে খালাসের পর দুটি কন্টেইনারের একটি ভারতের মেঘালয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে বুধবার সকালে সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দরে আসে। আরেকটি কন্টেইনার কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের আসামে যাওয়ার কথা রয়েছে।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে পণ্য সরবরাহ করতে দুই দেশের মধ্যে ২০১৮ সালের অক্টোবরে চুক্তিটি হয়। প্রথম পরীক্ষামূলক চলাচল হয়েছিল ২০২০ সালের জুলাইয়ে। তখন কলকাতা বন্দর থেকে পণ্যবাহী নৌযান চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়।

সেখান থেকে স্থলপথে পণ্য আগরতলা নেয়া হয়েছিল। তখনকার পণ্য ছিল ডাল ও রড। কিন্তু করোনা মহামারিসহ নানা জটিলতায় গত চার বছরে এই চুক্তির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। পরে ভারতের পক্ষ থেকে চারটি রুটে ট্রায়াল রানের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল।

আপাতত দুটি স্থলবন্দর দিয়ে ট্রান্সশিপমেন্ট দিতে রাজি হয় বাংলাদেশ। তার পরিপ্রেক্ষিতেই মোংলা বন্দর ব্যবহার বিষয়ক চুক্তি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নে চারটি ট্রায়াল রানের প্রথমটি শুরু করেছে কলকাতা বন্দর। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথম ট্রায়ালে ভারতের কলকাতা থেকে বাংলাদেশি নৌযান (কার্গো) ‘এমভি রিশাদ রায়হান’ পণ্যবোঝাই দুটি কন্টেইনার নিয়ে মোংলা বন্দরে আসে।

কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনার মোহাম্মদ আকবর হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পাদিত এসিএমপি ট্রানজিট চুক্তির আওতায় বাংলাদেশি বন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে একটি অনন্য মাইলফলক সৃষ্টি হলো। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।’

সিলেটে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাই কমিশনার নীরজ কুমার জয়সওয়াল জানান, ‘ভারত-বাংলাদেশ প্রটোকল রুটে অভ্যন্তরীণ নৌপথ ব্যবহার করে ব্যবসায়িক গতি বাড়ানোর লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনীতি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে আরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

‘২০২২ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত ১৩তম ভারত-বাংলাদেশ জয়েন্ট গ্রুপ অফ কাস্টমস (জেএসসি) বৈঠকের পর ট্রায়াল রান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। তারই প্রথম ট্রায়ালের পণ্য মোংলা বন্দর দিয়ে খালাসের পর তামাবিল দিয়ে মেঘালয়ে পাঠানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
আশুরায় বন্ধ বাংলাবান্ধা বন্দর
দুবাইফেরত যাত্রীর ব্যাগে স্বর্ণ, ১৯ আইফোন
বিমানবন্দরে ৩২ হাজার ডলারসহ আটক ১
মোংলায় নিলামে ১১৫ গাড়ি, বিড হবে অনলাইনেও
আশুগঞ্জ বন্দরে জেটি সংকট, জাহাজের জট

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Charge sheet in Calcutta court against PK

পি কের বিরুদ্ধে কলকাতার আদালতে চার্জশিট

পি কের বিরুদ্ধে কলকাতার আদালতে চার্জশিট
ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট পি কে হালদারসহ ৬ জনকে পশ্চিমবঙ্গের অশোকনগর থেকে ১৪ মে গ্রেপ্তার করে। দুই দফায় ১৩ দিন ইডি হেফাজত শেষে প্রায় ৩ মাস সময় ধরে হেফাজতে রয়েছে পি কে হালদার জালিয়াত চক্র।

বাংলাদেশের এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা জালিয়াতির হোতা পি কে হালদারসহ ৬ জনকে ৪৩ দিন জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার আদালত।

বুধবার পি কে হালদারসহ ৬ জনকে কলকাতার ব্যাংকশাল কোর্টের বিশেষ সিবিআই আদালতে তোলা হলে বিচারক জীবন কুমার সাধু এই নির্দেশ দেন। ২২ সেপ্টেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।

ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট-ইডির পক্ষে আইনজীবী অরিজিৎ চক্রবর্তী পি কে হালদারসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে সাড়ে ৪ হাজার পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন।

ইডির আইনজীবী অরিজিৎ চক্রবর্তী সাংবাদিকদের বলেন, ‘১৫ জুলাই যে অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়েছে তা নিয়ে আসামি পক্ষের আইনজীবী তেমন উচ্চবাচ্য করেননি। দুপক্ষের আইনজীবীদের সওয়াল-জবাব শুনে ১৫ মিনিটের মধ্যে রায় দেন বিচারপতি জীবন কুমার সাধু।’

পি কে হালদারের ৮৮টি ব্যাংক একাউন্ট ও ৪৪টি সম্পত্তির নথি আগেই আদালতে জমা দিয়েছিল ইডি।

বাংলাদেশের ব্যাংক জালিয়াতি মামলার মূল হোতা পি কে হালদারসহ ৬ জনকে বাংলাদেশ সরকারের অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট পশ্চিমবঙ্গের অশোকনগর থেকে ১৪ মে গ্রেপ্তার করে। দুই দফায় ১৩ দিন ইডি হেফাজত শেষে প্রায় ৩ মাস সময় ধরে হেফাজতে রয়েছে পি কে হালদার জালিয়াত চক্র।

আরও পড়ুন:
পি কে হালদারের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র
পি কে হালদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ১৬ আগস্ট
জেরায় বাংলাদেশ-ভারতের একাধিক প্রভাবশালীর নাম বলেছেন পি কে
পি কে হালদার ফের ১৪ দিনের জেল হেফাজতে
পাচারের টাকা বৈধ করার সুযোগ পাবেন না পি কে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
BPC explained seven years of profit and fixed deposits

সাত বছরের মুনাফা ও স্থায়ী আমানতের ব্যাখ্যা দিল বিপিসি

সাত বছরের মুনাফা ও স্থায়ী আমানতের ব্যাখ্যা দিল বিপিসি অলঙ্করণ: মামুম হোসাইন/নিউজবাংলা
‘১৯৯৯-২০০০ অর্থবছর থেকে ২০১৩-১৪ অর্থবছর পর্যন্ত জ্বালানি খাতে ক্রমাগত লোকসান গুনতে হয়। যার পরিমাণ প্রায় ৫৩ হাজার ৫ কোটি টাকা। ফলে ভর্তুকি হিসেবে সরকার বিভিন্ন সময় বিপিসিকে ৪৪ হাজার ৮৭৭ কোটি টাকা দেয়। ফলে সাত বছরে মুনাফা করলেও ওই সময়ে আরও ৮ হাজার ১২৭ কোটি টাকার ঘাটতি ছিল, যা পরে বিপিসির মুনাফার সঙ্গে সমন্বয় করা হয়।’

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন-বিপিসি ব্যাংকে রাখা স্থায়ী আমানত ভেঙে জ্বালানি আমদানি করছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এ বি এম আজাদ। বলেছেন, ডিজেলের দর লিটারে ৩৪ টাকা বাড়ানোর পরও তাদের লোকসান হচ্ছে।

২০১৪ সাল থেকে টানা সাত বছর বিপিসির যে পরিমাণ মুনাফা হয়েছে, তার আগের ১৪ বছরে এর চেয়ে বেশি লোকসান ছিল বলেও জানিয়েছেন তিনি। বলেছেন, মুনাফার টাকায় আগের লোকসান সমন্বয় করা হয়েছে।

তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বাড়ানোর পর বিপিসির ২০১৪ সালের পর থেকে মুনাফায় থাকা, বিভিন্ন ব্যাংকে তাদের বিপুল পরিমাণ স্থায়ী আমানতের বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর এ নিয়ে তুমুল আলোচনার মধ্যে বুধবার বিকেলে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন বিপিসির চেয়ারম্যান।

গত ৫ আগস্ট মধ্যরাত থেকে সরকার ডিজেল ও কেরোসিনের দর লিটারে ৩৪ টাকা বাড়িয়ে ১১৪ টাকা নির্ধারণ করে। অকটেন প্রতি লিটার ৮৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ ও পেট্রল ৮৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এই দাম বাড়ানোর ব্যাখ্যায় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার কারণে বিপিসির বিপুল পরিমাণ লোকসান হচ্ছিল। গত কয়েক মাসে লোকসান ৮ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ায় দাম বাড়ানোর বিকল্প নেই।

এরপর একটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশ হয় ২০১৪ সাল থেকে গত বছর পর্যন্ত মুনাফা ও করসহ লাভ হয় ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি।

এই সংবাদ প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষ প্রশ্ন করতে থাকে, আগের মুনাফা থেকে বর্তমানের লোকসান সমন্বয় করা হলো না কেন।

অন্য একটি জাতীয় দৈনিক জানায়, সরকারি সংস্থার মধ্যে বিপিসির ব্যাংকে স্থায়ী আমানত সবচেয়ে বেশি। তাহলে তারা কেন লোকসানের কথা বলছে।

এই দুটি বিষয়েই ব্যাখ্যা দেন বিপিসির চেয়ারম্যান।

সাত বছরের মুনাফা ও স্থায়ী আমানতের ব্যাখ্যা দিল বিপিসি
বিপিসি চেয়ারম্যান এ বি এম আজাদ। ছবি:সংগৃহীত

তিনি জানান, ২০১৪ সাল থেকে সাত বছর মুনাফা করলেও এর আগের ১৪ বছর টানা লোকসান দিতে হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘১৯৯৯-২০০০ অর্থবছর থেকে ২০১৩-১৪ অর্থবছর পর্যন্ত জ্বালানি খাতে ক্রমাগত লোকসান গুনতে হয়। যার পরিমাণ প্রায় ৫৩ হাজার ৫ কোটি টাকা। ফলে ভর্তুকি হিসেবে সরকার বিভিন্ন সময় বিপিসিকে ৪৪ হাজার ৮৭৭ কোটি টাকা দেয়। ফলে সাত বছরে মুনাফা করলেও ওই সময়ে আরও ৮ হাজার ১২৭ কোটি টাকার ঘাটতি ছিল, যা পরে বিপিসির মুনাফার সঙ্গে সমন্বয় করা হয়।’

ব্যাংকে স্থায়ী আমানতের বিষয়ে এ বি এম আজাদ বলেন, ‘বর্তমানে প্রায় সব ফিক্সড ডিপোজিট ভেঙে বিপিসিকে আমদানি ব্যয় মেটাতে হচ্ছে।’

তেলের আমদানি ব্যয় কত

এ বিষয়েও একটি হিসাব দিয়ে বিপিসি চেয়ারম্যান জানান, বর্তমান দরে ডিজেল বিক্রি করে তাদের লিটারে লোকসান হচ্ছে ৬ টাকা। তবে অকটেনে মুনাফা হচ্ছে ২৫ টাকা।

তিনি জানান, আগস্টের প্রথম সপ্তাহে প্রতি লিটার ডিজেলে ১২০ টাকা খরচ হচ্ছে বিপিসির।

বিপিসি প্রধান বলেন, ‘২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে আমাদের প্রতি ব্যারেল ডিজেল কেনার খরচ পড়ত প্রতি ব্যারেলে ৯৬ দশমিক ৯৫ ডলার। প্রতি লিটারে আমরা যখন এটাকে কস্টিং করি, প্রতি লিটার পরে ৮৩ টাকা ৬ পয়সা। ওই সময়ে বিপিসি বিক্রয় করত ৮০ টাকা করে। সেখানে লিটারে ৩ টাকার মতো লোকসান ছিল।’

‘ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক বাজারে যখন প্রতি ব্যারেল ১০৮ ডলার ৫৫ সেন্ট, সেটাকে টাকায় প্রতি লিটারে কনভার্ট করলে হয় ৮৯ টাকা ৮৫ পয়সা। তখনও বিপিসি বিক্রি করেছে ৮০ টাকা লিটার। যে কারণে ওই মাসে ৯ টাকার মতো লোকসান গুনতে হয়েছে।

‘এ ফর্মুলায় গত জুলাই মাসে প্রতি ব্যারেল মূল্য ছিল ১৩৯ দশমিক ৪৩ ডলার, টাকায় প্রতি লিটারে কনভার্ট করলে খরচ পড়ত ১২২ টাকা ১৩ পয়সা। তখনও ওই তেল বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকায়। এভাবে তেলের দাম বাড়তে বাড়তে জুলাই মাসে প্রতি লিটারে লোকসান এসে দাঁড়িয়েছিল ৪২ টাকা ১৩ পয়সা।’

এফডিআর উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে

ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ স্থায়ী আমানত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বার্থে করা হয়েছে বলে জানান বিপিসি চেয়ারম্যান। জানান, তারা জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৩৪ হাজার ২৬১ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে ১১টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন।

এর মধ্যে আছে ইস্টার্ন রিফাইনারির পরিশোধন ক্ষমতা বাড়ানো। এতে ব্যয় হবে ১৯ হাজার কোটি টাকার বেশি। এটি বিপিসির নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করতে বিপিসির মুনাফার একটি অংশ এফডিআর করা হয়। বিপিসি তার অর্থ কোনো না কোনো ব্যাংকের হিসাবের বিপরীতে রাখতে হয়। প্রকল্পের যে অর্থগুলো, সেগুলো প্রকল্পের নামে এফডিআর খুলে রাখা হয়।’

জ্বালানির দর বৃদ্ধি এই উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বাড়ানো হয়নি বলেও জানান তিনি।

দেশে উৎপাদন হলেও পেট্রল ও অকটেনের নাম বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ক্রুডের কারণে পেট্রল ও অকটেনের দাম বাড়ে। সুতরাং পেট্রল ও অকটেনের দাম কৌশলগত কারণে বাড়াতে হয়েছে।’

বর্তমানে দেশে ৩০ দিনের ডিজেল এবং ১৮ দিনের পেট্রল ও অকটেন মজুত আছে বলেও জানান বিপিসি চেয়ারম্যান।

আরও পড়ুন:
বিপিসির আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন সিপিডির
বিপুল বকেয়া, বিমানকে তেল দেবে না বিপিসি
‘জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি রাজনৈতিক, আমলাদের দায় নেই’
জেটি সংকট, তেলবাহী জাহাজ নিয়ে বিপাকে বিপিসি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Beating Dr Sajjad Ultimatum for interns strike

ডা. সাজ্জাদকে মারধর: ইন্টার্নদের কর্মবিরতির আল্টিমেটাম

ডা. সাজ্জাদকে মারধর: ইন্টার্নদের কর্মবিরতির আল্টিমেটাম বুধবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানববন্ধন করে ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ। ছবি: নিউজবাংলা
ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. মহিউদ্দিন জিলানী বলেন, ‘আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করেছি। তিনি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা চাই আজকের মধ্যেই দোষীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হোক। অন্যথায় বৃহস্পতিবার থেকে আমরা কর্মবিরতি পালন করব।’

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক সাজ্জাদ হোসেনকে মারধরের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ।

বুধবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের শনাক্ত করে বিচারের দাবি জানানো হয়। অন্যথায় ইন্টার্ন চিকিৎসকরা বৃহস্পতিবার থেকে কর্মবিরতিতে যাবেন বলে হুশিয়ারি দেয়া হয়।

মানববন্ধনে পরিষদের সদস্যরা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘মানুষের গায়ে হাত তোলার কে দিল অধিকার’, ‘জিরো টলারেন্স ফর ভায়োলেন্স’ ইত্যাদি লেখা সংবলিত প্লাকার্ড প্রদর্শন করা হয়।

এর আগে সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সঙ্গে আলোচনা করেন পরিষদের নেতারা। এ সময় উপাচার্য হামলাকারীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার আশ্বাস দেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

মানববন্ধনে ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. মহিউদ্দিন জিলানী বলেন, ‘শুধু ডা. সাজ্জাদ নন, অনেকের সঙ্গেই এরকম ঘটনা ঘটে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করেছি। তিনি এই ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা চাই আজকের মধ্যেই দোষীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হোক। অন্যথায় বৃহস্পতিবার থেকে আমরা কর্মবিরতি পালন করব।’

‘কিছু ছাত্রের জন্য পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বদনাম হচ্ছে। আমরা এসব বিপথগামী শিক্ষার্থীর বিচার দাবিতে মানববন্ধন করছি।’

চিকিৎসক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. মারুফ উল আহসান বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। শহীদ মিনারে অনেকেই পরিবার, বন্ধুবান্ধব নিয়ে আসেন, আড্ডা দেন। আজ সাজ্জাদ ডাক্তার হওয়ার কারণে হয়তো আমরা প্রতিবাদ করছি, কিন্তু অনেকেই তো সেটা করতে পারে না।’

পরিষদের সদস্য জাকিউল ইসলাম ফুয়াদ বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে মিটিং করেছি। আমাদের ডিরেক্টর, প্রিন্সিপালসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সঙ্গে আলোচনা করেছি। আমরা বলেছি, আপনারা সিসিটিভি ফুটেজ দেখেন, দোষীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনেন। তা না হলে ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।’

থানায় জিডি

এদিকে মারধরের ঘটনার বিস্তারিত উল্লেখ করে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন মারধরের শিকার সাজ্জাদ হোসেন। শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক রাজু মুন্সীকে এই ঘটনার বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

জিডির বিষয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মওদুত হাওলাদার বলেন, ‘ভুক্তভোগী জিডি করেছেন। ঘটনাস্থলে সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় আমরা আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো চেক করছি। এখন পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত করা যায়নি। আজকের মধ্যেই সব ক্যামেরার ফুটেজ চেক করা শেষ হবে।’

আরও পড়ুন:
শহীদ মিনারে মারধর: ইন্টার্ন চিকিৎসকদের আলটিমেটাম
শহীদ মিনারে ঢাকা মেডিক্যালের ইন্টার্ন চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগ

মন্তব্য

p
উপরে