সেই ভেরোনিকাকে দিয়েই বুস্টার ডোজে বাংলাদেশ

player
সেই ভেরোনিকাকে দিয়েই বুস্টার ডোজে বাংলাদেশ

রাজধানীর মহাখালীর বিসিপিএসে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার বুস্টার ডোজ দেয়া হচ্ছে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র নার্স রুনু ভেরোনিকা কস্তাকে। ছবি: নিউজবাংলা

প্রথমেই বুস্টার ডোজ দেয়া হয় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র নার্স রুনু ভেরোনিকা কস্তাকে। এরপর ষাটোর্ধ্ব ৬০ ব্যক্তিকে এই ডোজ দেয়া হয়। এর মধ্যে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও শুরু হলো করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার বুস্টার ডোজ। এই ধাপও শুরু হলো দেশে প্রথম কোভিড-১৯ টিকা নেয়া কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র নার্স রুনু ভেরোনিকা কস্তাকে দিয়ে।

রাজধানীর মহাখালীতে বাংলাদেশ কলেজ অফ ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএসএ) প্রতিষ্ঠানে রোববার দুপুর ১২টার দিকে টিকার বুস্টার ডোজ দেয়ার কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

প্রথমেই এই ডোজ দেয়া হয় রুনু ভেরোনিকাকে। এরপর ষাটোর্ধ্ব ৬০ ব্যক্তিকে এই ডোজ দেয়া হয়। এর মধ্যে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম।

বুস্টার ডোজ নেয়া সবাই করোনা মোকাবিলায় সম্মুখসারির যোদ্ধা চিকিৎসক, নার্স, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গণমাধ্যমকর্মী।

সরকার থেকে বলা হয়েছে, পর্যায়ক্রমে বুস্টার ডোজের আওতা বাড়ানো হবে। শুরুতেই এই ডোজ দেয়া হবে যারা বেশি ঝুঁকিতে আছেন তাদের। অর্থাৎ বয়স্কদের। দেশে বুস্টার ডোজ হিসেবে ফাইজারের টিকা দেয়া হচ্ছে।

বুস্টার ডোজ শুরুর অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘আমরা অ্যাস্ট্রাজেনেকা, সিনোফার্ম, মডার্নাসহ বেশ কয়েকটি ভ্যাকসিন দিয়েছি, কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রোটোকল অনুযায়ী এক্ষেত্রে সবাইকে ফাইজারের টিকা দেয়া হবে। অ্যাপসের কাজ শেষ হলে এসএমসের মাধ্যমে যে যে কেন্দ্রে টিকা নিয়েছেন, সে কেন্দ্রেই বুস্টার যাতে নিতে পারেন সবাই, সেই কাজ চলছে।’

জাহিদ মালেকের দাবি, টিকার ফলে দেশ নিরাপদে আছে। মৃত্যুর সংখ্যা এক ডিজিটেই আছে। গতকাল এক শতাংশের দিকে এসেছে, যা এত জনবহুল দেশে খুবই বিরল।

তিনি বলেন, ‘বুস্টার ডোজ সংক্রান্ত সুরক্ষা অ্যাপের আপডেট কাজ এখনও সম্পন্ন হয়নি। তবে এই মুহূর্তে টিকা কার্ডের মাধ্যমে চলবে। সেই সঙ্গে স্বাভাবিক টিকা কার্যক্রমও চলমান থাকবে।’

আরও পড়ুন:
কোভ্যাক্স থেকে এলো টিকার সবচেয়ে বড় চালান
ওমিক্রন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সতর্কতা
আইসোলেশনে জাতিসংঘের মহাসচিব
ওমিক্রন ঠেকাতে দর্শনা চেকপোস্টে বাড়তি সতর্কতা
ওমিক্রনে ঝুঁকি দেখছেন না ফাউসি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সব রেকর্ড ভেঙে দুই সপ্তাহ পর কমবে সংক্রমণ

সব রেকর্ড ভেঙে দুই সপ্তাহ পর কমবে সংক্রমণ

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আগামী দুই সপ্তাহে সংক্রমণের বিবেচনায় সব রেকর্ড ছাপিয়ে যেতে পারে। ফাইল ছবি

বিএসএমএমইউর সাবেক উপাচার্য ও বিশিষ্ট ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতি চলবে আরও দুই সপ্তাহ। এরপর এক সপ্তাহ সমান্তরাল থাকবে। তারপর নিম্নমুখী হবে সংক্রমণ।’ আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট রোগতত্ত্ববিদ ড. মুশতাক হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশেও দু-এক দিনের মধ্যে শনাক্তের আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। নমুনা পরীক্ষা বাড়ানো গেলে আক্রান্ত ও শনাক্তের হার আরও বাড়তে পারে।’

দেশে করোনাভাইরাসের উদ্বেগজনক পরিস্থিতি আরও দুই সপ্তাহ চলবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এই সময়ে সংক্রমণের বিবেচনায় অতীতের সব রেকর্ড ছাপিয়ে যাবে। এরপর ধীরে ধীরে নিচে নেমে আসবে সংক্রমণের হার।

দেশে দুই বছর ধরে জিন পরিবর্তন করে একাধিক নামে ও রূপে এসেছে করোনাভাইরাস। এবার ডেল্টা ও ওমিক্রনের একযোগে সংক্রমণের ফলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সংক্রমণরোধে সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে প্রশাসনের তেমন তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। সরকারের নেয়া উদ্যোগ তেমন কাজে আসছে না। এতে সার্বিকভাবে করোনা নিয়ন্ত্রণ ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। এরই মধ্যে দিনে করোনা শনাক্ত ১৬ হাজার ছাড়িয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, দেশে ২০২০ সালের ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের সংবাদ দেয় অধিদপ্তর। ওই বছরের শেষ দিকে সংক্রমণের প্রথম ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসে। গত বছরের এপ্রিল থেকে জুন-জুলাই পর্যন্ত করোনার ডেল্টা ধরন ব্যাপক আকার ধারণ করে। এর প্রভাবে দ্বিতীয় ঢেউ আসে। বছরের শেষ কয়েক মাস পরিস্থিতি কিছুটা শিথিল ছিল। কিন্তু এ বছরের শুরু থেকে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের প্রভাবে করোনার বিস্তার আবারও বাড়তে শুরু করে। এতে করোনার তৃতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে।

এখন ঘরে-বাইরে অবস্থানকারী সব ধরনের মানুষের শরীরে ভাইরাসটি শনাক্ত হচ্ছে। এর পরও হাট-বাজার, মেলা, বাস-ট্রেন কোনোখানেই কোনো ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সর্বশেষ বুধবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৪৯ হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষা করে ১৫ হাজার ৫২৭ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এ সময় আরও ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন রোগীদের নিয়ে দেশে মোট করোনা শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১৭ লাখ ৩১ হাজার ৫২৪ জনে দাঁড়িয়েছে। তাদের মধ্যে ২৮ হাজার ২৭৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বিশিষ্ট ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘করোনার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের তেমন প্রস্তুতি নেই বললেই চলে। এই মুহূর্তে শুধু টিকা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আর হাসপাতাল প্রস্তুতির কথা বলছে। আসলে সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। যদিও এই স্বাস্থ্যবিধি মানানোর দায়িত্ব সরকারের একার নয়, এর সঙ্গে জনগণকে সম্পৃক্ত করা জরুরি। কিন্তু সরকার নির্দেশনা দিলেও প্রশাসনের তেমন তৎপরতা নেই।

সংক্রমণ আরও কিছুদিন বাড়বে জানিয়ে এই বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, ‘এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতি চলবে আরও দুই সপ্তাহ। এরপর এক সপ্তাহ সমান্তরাল থাকবে। তারপর নিম্নমুখী হবে সংক্রমণ।’

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্যোগ এবং সাধারণ মানুষ কী করবে, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, মানুষের উচিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। সঠিক নিয়ম মেনে মাস্ক পরা। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারিভাবে হাসপাতাল প্রস্তুত রাখতে হবে। টিকা কার্যক্রমে গতি বাড়াতে হবে।

হাসপাতালে রোগীদের অক্সিজেন নিশ্চিত করতে হবে। নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা আরও বাড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে দৈনিক টেস্টের সংখ্যা অবশ্যই এক লাখ হলে ভালো হতো। টেস্ট কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে জনবল নিয়োগ দিতে হবে।

জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, ‘বাংলাদেশে ওমিক্রন প্রথম শনাক্তের ঘোষণা আসে ১১ ডিসেম্বর। ওই মাসেই আইসিডিডিআরবির ল্যাবে পরীক্ষা করা শুধু ঢাকা শহরের ৭৭ জন করোনা রোগীর মধ্যে পাঁচজনের শরীরে ওমিক্রন শনাক্ত করা হয়েছিল। অন্যরা ছিলেন ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত। এর পর থেকে দুই ধরনের আধিপত্য ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। সংক্রমণ পরিস্থিতি ফের উদ্বেগ ছড়াচ্ছে।

ওমিক্রন দাপটের মধ্যে রেকর্ডসংখ্যক রোগী বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) একটি গবেষণা পরিচালনা করে। সেখানে বলা হয়, খোদ ঢাকা শহরেই করোনার তিনটি সাব-টাইপ রয়েছে। গবেষণায় পরীক্ষিত নমুনার মধ্যে ২৮ শতাংশ করোনায় আক্রান্ত। আর আক্রান্তদের মধ্যে ওমিক্রন ছিল ৬৯ শতাংশের দেহে।

অন্যদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি করোনা রোগীদের ৮৫ শতাংশই টিকা নেননি। এমনকি করোনায় মারা যাওয়াদের বেশির ভাগেরও টিকা নেয়া ছিল না। ইতোমধ্যে সরকারি হাসপাতালের ২৫ শতাংশ শয্যায় রোগী ভর্তি রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের সামাজিক সংক্রমণ ঘটেছে। উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা ৮০ শতাংশই পজিটিভ আসছে। যাদের বেশির ভাগই করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনে আক্রান্ত। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয় যে প্রস্তুতি নিলেও তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

সরকারের রোগতত্ত্ব ও রোগ নিয়ন্ত্রণ গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট রোগতত্ত্ববিদ ড. মুশতাক হোসেন বলেন, সারা বিশ্বেই ওমিক্রনের প্রভাবে করোনা শনাক্তের সব রেকর্ড ভেঙে গেছে। বাংলাদেশেও দু-এক দিনের মধ্যে শনাক্তের আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। নমুনা পরীক্ষা বাড়ানো গেলে আক্রান্ত ও শনাক্তের হার আরও বাড়বে। যারা আক্রান্ত হচ্ছে, তাদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। চিকিৎসা সুবিধা বাড়াতে হবে। পরীক্ষা করার সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, এখন ৫০ হাজার নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে। সেখানে ১৫ হাজার শনাক্ত হচ্ছে। ১ লাখ ৫০ থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার রোগী শনাক্ত হবে। করোনা আক্রান্তদের সরকার ফলোআপের ব্যবস্থার আওতায় আনবে। মেডিসিনের মাধ্যমে অসুস্থদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা। সুনির্দিষ্টভাবে আইসোলেশন সেন্টার করতে হবে, যেখানে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।

যেসব স্থানে মানুষের উপচেপড়া ভিড় হচ্ছে, সেখানে করোনা টেস্টের ব্যবস্থা রাখা উচিত। যেমন বাণিজ্য মেলা, গণপরিবহন, শপিংমল। এসব জায়গায় বিনা মূল্যে অ্যান্টিজেন টেস্ট করতে হবে। আধা ঘণ্টার মধ্যেই ফলাফল নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে মানুষ আগ্রহী হবে। যেটা করোনা মোকাবিলায় করণীয় নির্ণয়ে সহায়ক হবে।

আরও পড়ুন:
কোভ্যাক্স থেকে এলো টিকার সবচেয়ে বড় চালান
ওমিক্রন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সতর্কতা
আইসোলেশনে জাতিসংঘের মহাসচিব
ওমিক্রন ঠেকাতে দর্শনা চেকপোস্টে বাড়তি সতর্কতা
ওমিক্রনে ঝুঁকি দেখছেন না ফাউসি

শেয়ার করুন

মোট মৃত্যুর ৬৭ শতাংশ‌ই অসংক্রামক রোগে

মোট মৃত্যুর ৬৭ শতাংশ‌ই অসংক্রামক রোগে

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন এক রোগী। ছবি: সাইফুল ইসলাম

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে ২০ শতাংশ মানুষ উচ্চ রক্তচাপ, ১০ শতাংশ ডায়াবেটিস ও ২০ লাখ মানুষ ক্যানসারে ভোগে।’

দেশে অসংক্রামক রোগে মৃত্যু বাড়ছে। মোট মৃত্যুর ৬৭ শতাংশই অসংক্রামক রোগে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে জাতীয় অসংক্রামক রোগ (এনসিডি) কনফারেন্সের প্রথম দিনে বুধবার সন্ধ্যায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এনসিডি বাংলাদেশের জন্য ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যঝুঁকি ও উদ্বেগের কারণ হচ্ছে। ৬৭ শতাংশ মৃত্যুর জন্য এটি দায়ী।’

অসংক্রামক রোগের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও ক্যানসার অন্যতম বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ২০ শতাংশ মানুষ উচ্চ রক্তচাপ, ১০ শতাংশ ডায়াবেটিস ও ২০ লাখ মানুষ ক্যানসারে ভোগে।’

জীবনযাত্রা, খাদ্যাভ্যাস, তামাকের ব্যবহার, পরিবেশ দূষণ, অপর্যাপ্ত কায়িক পরিশ্রম ও ওষুধের অপব্যবহারের কারণে প্রতিনিয়ত এনসিডি বাড়ছে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, ‘এনসিডি প্রতিরোধে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। রেগুলার চেকআপ ও আর্লি ডিটেকশন এনসিডি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ। আর এর জন্য চিকিৎসাসেবা বাড়ানো ও প্রশিক্ষিত জনবল প্রয়োজন।’

সরকার এনসিডি প্রতিরোধে সেক্টরভিত্তিক প্রোগ্রাম নিয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘দেশের আট বিভাগে ক্যানসার, কিডনি ও হৃদরোগ হাসপাতাল স্থাপন করা হচ্ছে। দেশের সব জেলা হাসপাতালে ১০ বেডের ডায়ালাইসিস ও আইসিইউ বেড দেয়া হচ্ছে। উপজেলা হাসপাতালসহ দেশের সব হাসপাতালে এনসিডি কর্নার করা হয়েছে।’

করোনা পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হাসপাতালগুলো কোভিড রোগীতে ভর্তি হওয়ায় এনসিডি রোগীরা সেবাবঞ্চিত হয়েছেন। দেরিতে সেবা নেয়ায় মৃত্যু বেড়েছে। এখন দেশে কোভিড শনাক্তের হার ৩২ শতাংশ। দিনে ১৫ হাজারের বেশি কোভিড শনাক্ত হচ্ছে।’

করোনা সংক্রমণ রোধে সবাইকে মাস্ক পরতে, জনসমাগম এড়াতে ও ভ্যাকসিন নেয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেডরোস আধানম গেব্রিয়েসুস বলেন, ‘অসংক্রামক ব্যাধির কারণে বাংলাদেশের জন্য এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রাথমিক হেলথ কেয়ার পর্যায়ে এই রোগগুলোর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।’

প্রথম জাতীয় অসংক্রামক রোগ সম্মেলনের সাধারণ সম্পাদক ডা. শামীম হায়দার তালুকদার বলেন, ‘৩৫ বছরের ওপরে ৫০ শতাংশ মানুষের উচ্চ রক্তচাপ আছে। আমাদের দেশে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ক্যানসারসহ কয়েকটি রোগে ৭০ শতাংশ মানুষ মারা যায়।

‘যারা অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত তাদের চিকিৎসা নিশ্চিতের পাশাপাশি প্রতিরোধের ওপর জোর দিতে হবে। এ প্রতিরোধের জন্য আমাদের সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।’

এ সংক্রান্ত যেসব সভা-সেমিনার হয়, সেগুলোয় অসংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্তদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।

৫০ শতাংশই জানেন না তার উচ্চ রক্তচাপ
আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. আলিয়া নাহিদ বলেন, ‘বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে খুঁজলে দেখা যাবে ১০০ জনের মধ্যে ৫০ জন জানেন না তাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে। মানুষ ফার্মেসিতে গিয়ে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা করে ওষুধ খাওয়া শুরু করেন, কিন্তু চিকিৎসকের কাছে যান না। এ কারণে দেশে অসংক্রামক ব্যাধি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সবার মধ্যেই জ্ঞানের অভাব রয়েছে। সবাই মনে করে ধরা পড়ার পর অসুখটা হয়েছে। অসুখটা ধরা পড়া মানে তার শেষ সময়। আমাদের অসুখটা হওয়ার আগেই ডায়াগনোসিস করতে হবে।’

স্বাস্থ্য খাতে সীমাবদ্ধতা
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমাদের স্বাস্থ্য খাতে সফলতা আছে, সীমাবদ্ধতাও আছে। অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে আমাদের সঠিক পরিকল্পনা করতে হবে।’

স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ আরও বাড়ানোর দাবি করেন তিনি।

বুধবার শুরু হওয়া এই সম্মেলন চলবে আগামী ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত।

আরও পড়ুন:
কোভ্যাক্স থেকে এলো টিকার সবচেয়ে বড় চালান
ওমিক্রন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সতর্কতা
আইসোলেশনে জাতিসংঘের মহাসচিব
ওমিক্রন ঠেকাতে দর্শনা চেকপোস্টে বাড়তি সতর্কতা
ওমিক্রনে ঝুঁকি দেখছেন না ফাউসি

শেয়ার করুন

দাম বাড়লে সিগারেট সেবন কমবে: জরিপ

দাম বাড়লে সিগারেট সেবন কমবে: জরিপ

প্রতীকী ছবি

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর এবং উন্নয়ন সমন্বয়ের সভাপতি অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান বলেন, ‘তামাকের ব্যবহার কমাতে সব তামাকপণ্যের ওপর যথাযথ কর আরোপই সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।’

দাম উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বাড়ানো গেলে ৩০ শতাংশ সেবনকারীই সিগারেট ছেড়ে দিতে চেষ্টা করবেন বলে এক জরিপ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে বেসরকারি সংস্থা উন্নয়ন সমন্বয় পরিচালিত ‘তামাক পণ্যে কর বৃদ্ধির সম্ভাব্য প্রভাব’ শীর্ষক এ জরিপ প্রতিবেদনটি সোমবার দুপুরে প্রকাশ হয়।

২০২১ সালের নভেম্বরে দেশের পাঁচটি জেলার তামাক সেবনকারী রয়েছেন এমন ৬৫০টি নিম্ন আয়ের পরিবারের ওপর এ জরিপ চালানো হয়।

অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর এবং উন্নয়ন সমন্বয়ের সভাপতি অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান বলেন, ‘তামাকের ব্যবহার কমাতে সব তামাকপণ্যের ওপর যথাযথ কর আরোপই সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, তবুও তামাকপণ্যের দাম বেশি বৃদ্ধি করলে ব্যবহারকারীরা আগের মাত্রায় তামাক ব্যবহার বজায় রাখতে খাদ্য বা অন্য পণ্য বাবদ ব্যয় কমিয়ে দিতে পারেন বলে অনেকে আশঙ্কা করে থাকেন। তবে সম্প্রতি দেশব্যাপী জরিপভিত্তিক গবেষণায় দেখা গেছে, সিগারেটের দাম বাড়ানো হলে ৭১ শতাংশ মানুষ আগের মতো সিগারেট ব্যবহার অব্যাহত রাখতে খাদ্য বাবদ ব্যয় কমাবেন না।’

ড. আতিউর বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ২০১৬ সালে তামাকমুক্ত দেশ গড়ার যে লক্ষ্য ঘোষণা করেছিলেন, সেখানেও তামাকপণ্যের বর্তমান শুল্ক কাঠামো সহজ করার মাধ্যমে তামাক ব্যবহার কমিয়ে আনার পাশাপাশি এগুলো বিক্রয় থেকে পাওয়া রাজস্বের পরিমাণ বৃদ্ধির নির্দেশনা ছিল। সে আলোকেই আসন্ন অর্থবছরের বাজেটে সিগারেটসহ সব তামাকপণ্যে কার্যকর কর আরোপের প্রস্তাব করছেন তামাকবিরোধী সংগঠন ও গবেষকরা।’

তিনি আরও বলেন, ‘তামাকপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির ফলে খাদ্য বা অন্য পণ্য বাবদ ব্যয় কমিয়ে দেয়ার সম্ভাবনা নিতান্ত কম বলে আলোচকরা অভিমত ব্যক্ত করেন। কাজেই সংসদ সদস্য, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, তামাকবিরোধী সামাজিক সংস্থাসহ সব অংশীজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তামাকপণ্যে কার্যকর কর আরোপ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়া উচিত।’

আলোচনায় প্যানেল আলোচক ছিলেন সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবে মিল্লাত, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী ও জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের সমন্বয়কারী হোসেন আলী খোন্দকার।

আরও পড়ুন:
কোভ্যাক্স থেকে এলো টিকার সবচেয়ে বড় চালান
ওমিক্রন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সতর্কতা
আইসোলেশনে জাতিসংঘের মহাসচিব
ওমিক্রন ঠেকাতে দর্শনা চেকপোস্টে বাড়তি সতর্কতা
ওমিক্রনে ঝুঁকি দেখছেন না ফাউসি

শেয়ার করুন

করোনা: আরও ‍১৭ মৃত্যু, শনাক্ত সাড়ে ১৫ হাজার

করোনা: আরও ‍১৭  মৃত্যু, শনাক্ত সাড়ে ১৫ হাজার

দেশে গত কয়েক দিন ধরে বাড়ছে করোনায় মৃত্যু ও শনাক্ত। ফাইল ছবি

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৬০টি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৪৯ হাজার ৭৩টি। পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ৩১.৬৪ শতাংশ।

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এ সময়ে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে ১৫ হাজার ৫২৭ জনের দেহে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুধবারের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৬০টি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৪৯ হাজার ৭৩টি। পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ৩১.৬৪ শতাংশ।

দেশে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৭ লাখ ৩১ হাজার ৫২৪ জনের দেহে। ভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে ২৮ হাজার ২৭৩ জনের।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার নমুনা পরীক্ষা রেকর্ডের কাছাকাছি। এ সময়ে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৪৯ হাজার ৭৩টি।

দেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর সবচেয়ে বেশি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে গত বছরের ২৬ জুলাই। সেদিন ৫০ হাজার ৯৫২টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১৩ পুরুষ ও ৪ নারী, যাদের মধ্যে একজন শিশু। এ সময়ে মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে ১০ বছরের কম বয়সী এক, চল্লিশোর্ধ্ব ২, পঞ্চাশোর্ধ্ব ৩, ষাটোর্ধ্ব ৫, সত্তরোর্ধ্ব ২ ও অশীতিপর ৪ জন রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় ১০ জনের প্রাণ গেছে। এর পরপরই রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। এ বিভাগে মৃত্যু হয় ৪ জনের। এ ছাড়া খুলনা, রাজশাহী, ময়মনসিংহে একজন করে মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

গত এক দিনে শনাক্তের প্রায় ৭০ শতাংশই ঢাকা বিভাগে। এই বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় ২৮ হাজার নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। রোগী শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ২৫৯ জন।

গত বছরের ৪ অক্টোবর করোনার দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসে। জানুয়ারি থেকে আবার শনাক্তের হার বাড়তে থাকে।

গত ৭ জানুয়ারি থেকে করোনার সংক্রমণ, শনাক্তের হার ৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। ২১ দিন ধরে করোনা সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের ওপরে।

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রথমে ধরা পড়ে ২০২০ সালের ৮ মার্চ। এর পর থেকে এখন পর্যন্ত তিনটি ঢেউ দেখেছে সরকার। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের একপর্যায়ে দেশে শাটডাউন নামে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করা হয়। ওই সময় বাড়ির বাইরে গেলে জরিমানাও করা হচ্ছিল।

এবার বিধিনিষেধ দিলেও প্রশাসনের তেমন তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হলেও এখনও লকডাউনের চিন্তা করছে না করোনা নিয়ন্ত্রণে জাতীয় কমিটি।

করোনার প্রথম ঢেউ থাকে ২০২১ সালের শুরু পর্যন্ত। একই বছরের মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দ্বিতীয় ঢেউয়ে শনাক্ত ও মৃত্যুর হার ছিল তুলনামূলক বেশি।

তৃতীয় ঢেউয়ে শনাক্ত ও শনাক্তের হার দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় শাটডাউনকালের বিধিনিষেধের সমান, তবে মৃত্যুর হার তুলনামূলক কম।

আরও পড়ুন:
কোভ্যাক্স থেকে এলো টিকার সবচেয়ে বড় চালান
ওমিক্রন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সতর্কতা
আইসোলেশনে জাতিসংঘের মহাসচিব
ওমিক্রন ঠেকাতে দর্শনা চেকপোস্টে বাড়তি সতর্কতা
ওমিক্রনে ঝুঁকি দেখছেন না ফাউসি

শেয়ার করুন

ওমিক্রন প্রতিরোধে গাইডলাইন চূড়ান্ত

ওমিক্রন প্রতিরোধে গাইডলাইন চূড়ান্ত

নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের কারণেই ক্রমাগত সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সংক্রমণ প্রতিরোধে ক্লিনিক্যাল গাইডলাইন তৈরিও চূড়ান্ত হয়ে গেছে। স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ইতিমধ্যে আমরা পাঠিয়ে দিয়েছি।’

করোনারভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের কারণেই সংক্রমণ বাড়ছে। সংক্রমণ প্রতিরোধে ক্লিনিক্যাল গাইডলাইন চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

দেশে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার দুপুরে ভার্চুয়াল বুলেটিনে এসে অধিদপ্তরের মুখপাত্র ডা. নাজমুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করে নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের কারণেই ক্রমাগত সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সংক্রমণ প্রতিরোধে ক্লিনিক্যাল গাইডলাইন তৈরিও চূড়ান্ত হয়ে গেছে। স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ইতিমধ্যে আমরা পাঠিয়ে দিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘ওমিক্রনের যে উপসর্গ আছে সে উপসর্গগুলো এতে (ক্লিনিক্যাল গাইডলাইন) যোগ করা হয়েছে। এর বাইরে অন্য কোনো উপসর্গ রয়েছে কি না, সেটি খুঁজে দেখা হচ্ছে। তবে যাই হোক না কেন, রোগ নিয়ন্ত্রণের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা। সঠিক নিয়মে মাস্ক পরা, সাবান-পানি দিয়ে হাত পরিষ্কার করা। আমরা যদি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি তাহলে এই অতিমারি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।’

দেশে এখন করোনা শনাক্তের হার ৩২ শতাংশের ওপরে। মঙ্গলবার দেশে করোনা শনাক্ত হয় ১৬ হাজারের বেশি মানুষের।

আরও পড়ুন:
কোভ্যাক্স থেকে এলো টিকার সবচেয়ে বড় চালান
ওমিক্রন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সতর্কতা
আইসোলেশনে জাতিসংঘের মহাসচিব
ওমিক্রন ঠেকাতে দর্শনা চেকপোস্টে বাড়তি সতর্কতা
ওমিক্রনে ঝুঁকি দেখছেন না ফাউসি

শেয়ার করুন

দেশে ৬৫ হাজার শিশু করোনা আক্রান্ত

দেশে ৬৫ হাজার শিশু করোনা আক্রান্ত

করোনা আক্রান্ত এক শিশু। ফাইল ছবি

চিকিৎসকরা বলছেন, অনেক অভিভাবক কমন কোল্ড বা ফ্লু জাতীয় রোগে আক্রান্ত ভেবে শিশুর আরটিপিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা করাচ্ছেন না। এতে করোনাভাইরাস পজিটিভ হয়েও অনেক শিশু শনাক্তের বাইরে থাকছে। এটা উদ্বেগজনক।

দেশে করোনাভাইরাসে এ পর্যন্ত ১৭ লাখ ১৫ হাজার ৯৯৭ জন আক্রান্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬৫ হাজার ৪২৯টি শিশু। এটি মোট আক্রান্তের প্রায় চার শতাংশ।

করোনা সংক্রমিতদের মধ্যে দেশে এ পর্যন্ত ২৮ হাজার ২৫৬ জন মারা গেছে। তাদের মধ্যে ২৩৩টি শিশুও রয়েছে। করোনার প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ের তুলনায় চলমান তৃতীয় ঢেউয়ে আক্রান্তদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে শিশুর সংখ্যাও ক্রমশ বাড়ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

রাজধানীর একাধিক হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশে ঋতু পরিবর্তনজনিত কারণে ঠান্ডা-জ্বর ও সর্দি-কাশির রোগী বাড়ছে। করোনা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা ৮০ শতাংশই করোনায় আক্রান্ত।

চিকিৎসকরা বলছেন, অনেক অভিভাবক কমন কোল্ড বা ফ্লু জাতীয় রোগে আক্রান্ত ভেবে শিশুর আরটিপিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা করাচ্ছেন না। এতে ভাইরাস পজিটিভ হয়েও অনেক শিশু শনাক্তের বাইরে থাকছে। এটা উদ্বেগজনক।

শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঠান্ডাজনিত রোগ আর ওমিক্রনের উপসর্গ একই ধরনের। শিশুরা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেও নিজে থেকে বুঝতে পারে না। এতে করে তার সংস্পর্শে আসা অন্যরাও সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকে। তাই এ ধরনের সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসা শুরুর পাশাপাশি করোনার নমুনা পরীক্ষা করা দরকার।

সম্প্রতি দেশে ওমিক্রনের বিস্তার ঘটায় বড়দের সঙ্গে শিশুরাও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে। মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশে ২০২০ সালের ৮ মার্চ প্রথম করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হলেও শিশু রোগী শনাক্ত হয় ৪ এপ্রিল। এই সময় থেকে চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে সদ্যোজাত থেকে চার বছর বয়সী প্রায় ২১ হাজার ৭০৪টি শিশু করোনায় আক্রান্ত হয়েছে।

দেশে ৬৫ হাজার শিশু করোনা আক্রান্ত
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত স্বজনের পাশে সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে সন্তান কোলে এক মা। ফাইল ছবি

এছাড়া ৫ থেকে ১৪ বছর বয়সী ৪৩ হাজার ৭২২ শিশুর নমুনায় ভাইরাসটি পজিটিভ এসেছে। আর ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী এক লাখ ৭৭ হাজার ৭১০ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। করোনাভাইরাসে দেশে এই পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ২৮ হাজার ২৫৬ জনের। তাদের মধ্যে সদ্যোজাত থেকে ১০ বছর বয়সী ৭৮ এবং ১০ থেকে ২০ বছর বয়সী ১৮৫ জন রয়েছে।

হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত শিশু রোগী বেড়েছে

গত ১৮ জানুয়ারি নমুনা পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ হন গণমাধ্যমকর্মী লোটন একরাম। এর দু’দিন পর তার স্ত্রী ও ১৪ বছর বয়সী মেয়ের নমুনা পরীক্ষায় ফল পজিটিভ আসে।

শেরপুর জেলার গিদ্দা নারায়ণপুর থেকে হার্নিয়ার সমস্যা নিয়ে ঢাকায় বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসে ৮ বছরের শিশু মহাতাব হাসান ইসরাত। শুরুতে তার হালকা ঠান্ডা ও জ্বর থাকলেও মা-বাবা তা আমলে নেননি। হার্নিয়ার সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে আসার পর চিকিৎসকরা জানান, অস্ত্রোপচার করতে হবে। তার আগে করোনা পরীক্ষার পরামর্শ দেন তারা। পরীক্ষায় শিশুটির করোনা পজিটিভ আসে। এমন পরিস্থিতিতে তাকে সাধারণ ওয়ার্ড থেকে হাসাতালের করোনা ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের এপিডেমিওলজিস্ট এবিএম মাহফুজুর রহমান মামুন বলেন, ‘সংক্রমণ শুরুর পর থেকে হাসপাতালটিতে এ পর্যন্ত ৬৯০ জন রোগী কোভিড-১৯ ইউনিটে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪৭ জন মারা গেছে। মাঝখানে সংক্রমণ কমে যাওয়ায় ইউনিটটি ফাঁকা পড়ে ছিল। কিছুদিন ধরে করোনার প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকায় হাসপাতালের করোনা ইউনিটে রোগী বাড়ছে। দুই সপ্তাহ আগে চারজন থাকলেও গত এক সপ্তাহে ১২ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে। আক্রান্তদের ওমিক্রন শনাক্তে চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশন জিনোম সিকোয়েন্সিং করছে। এখনও ফল হাতে আসেনি।‘

৯ থেকে ১২ বছরের শিশুদের ক্ষেত্রে আতঙ্কের ব্যাপার হচ্ছে, এ বয়সের শিশুরা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে তাদের ফুসফুসও সংক্রমিত হচ্ছে। এছাড়া পোস্ট কোভিড জটিলতা-মাল্টিসিস্টেম ইনফেমেটরি সিন্ড্রোম ইন চিলড্রেন-এ (এমআইএস-সি) ঝুঁকি থাকে। এটা শিশুদের জন্য খুবই মারাত্মক।

শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড়দের চেয়ে শিশুদের করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম। তবে বাংলাদেশে শিশুরা যেসব রোগে আক্রান্ত হয় তার অন্যতম হচ্ছে শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ। এর উপসর্গ হচ্ছে নাক দিয়ে পানি পড়া, কাশি দেয়া, বুকে ঘড় ঘড় শব্দ করা, কোন কোন ক্ষেত্রে গলা অথবা কানে ব্যথা।

করোনার উপসর্গগুলোও অনেকটা একই রকম। সে কারণে সাধারণ সর্দি-কাশি নাকি শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহ নাকি করোনা তা বোঝা যায় না। অন্যদিকে শীতের প্রকোপ বাড়ায় হাসপাতালে শ্বাসকষ্টে ভোগা শিশু রোগী বাড়ছে। তাদেরও অনেকে করোনা আক্রান্ত হলেও নমুনা পরীক্ষা ছাড়া তা নিশ্চিত হওয়া যায় না।

ঢাকা শিশু হাসপাতালের সদ্য সাবেক পরিচালক এবং শিশু পুষ্টি, লিভার ও পরিপাকতন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক ডা. সৈয়দ শফি আহমেদ বলেন, ‘শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে শ্বাসকষ্টের রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষায়িত হাসপাতাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন হাসপাতালের শিশু ইউনিটগুলোতে রোগীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। শিশু হাসপাতালের বহির্বিভাগে আসা রোগীর অধিকাংশই ঠান্ডা, সর্দি-কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও ব্রঙ্কিউলাইটিসে ভুগছে।

‘পরীক্ষা করে দেখা গেছে, শিশুদের ৩০ থেকে ৩২ শতাংশই করোনা আক্রান্ত। কিন্তু শীতকালীন রোগের সঙ্গে ওমিক্রনের উপসর্গের মিল থাকায় রোগ দুটিকে আলাদা করা যাচ্ছে না। এজন্য নমুনা পরীক্ষা দেয়া হলেও সবাইকে আমরা পরীক্ষার আওতায় আনতে পারছি না। অভিভাবকরাও বুঝতে না পেরে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।’

ডা. শফি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে বাচ্চাদের করোনা উপসর্গ দেখা দিলেই ন্যূনতম ৫ থেকে ১০ দিন আইসোলেশনে রাখতে হবে। সাধারণত পাঁচদিন পর বাচ্চাদের সংক্রমণ ঝুঁকি থাকে না। আর উপসর্গ থাকলে ১০ দিন পর্যন্ত আইসোলেশনে রাখতে হবে। রোগটি আপার রেসপিরেটরি হওয়ায় তেমন ক্ষতিক্ষর নয়।’

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, ৯ থেকে ১২ বছরের শিশুদের ক্ষেত্রে আতঙ্কের ব্যাপার হচ্ছে, এ বয়সের শিশুরা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে তাদের ফুসফুসও সংক্রমিত হচ্ছে। এছাড়া পোস্ট কোভিড জটিলতা-মাল্টিসিস্টেম ইনফেমেটরি সিন্ড্রোম ইন চিলড্রেন-এ (এমআইএস-সি) ঝুঁকি থাকে। এটা শিশুদের জন্য খুবই মারাত্মক। তাই নিতান্ত প্রয়োজন না হলে এই সময়ে সন্তানকে বাইরে যেতে দেয়া ঠিক হবে না। আর বাইরে গেলে জনসমাগম এড়িয়ে চলা এবং অবশ্যই মাস্ক পরাতে হবে।

আরও পড়ুন:
কোভ্যাক্স থেকে এলো টিকার সবচেয়ে বড় চালান
ওমিক্রন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সতর্কতা
আইসোলেশনে জাতিসংঘের মহাসচিব
ওমিক্রন ঠেকাতে দর্শনা চেকপোস্টে বাড়তি সতর্কতা
ওমিক্রনে ঝুঁকি দেখছেন না ফাউসি

শেয়ার করুন

এক দিনে শনাক্ত ১৬ হাজার, মৃত্যু ১৮

এক দিনে শনাক্ত ১৬ হাজার, মৃত্যু ১৮

করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে গত এক দিনে মৃত্যু হয়েছে ১৮ জনের। দেশে এ পর্যন্ত করোনা ধরা পড়েছে ১৭ লাখ ১৫ হাজার ৯৯৭ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৮ হাজার ২৫৬ জনের।

করোনাভাইরাসের তৃতীয় ঢেউয়ের মধ্যে রোগী ও সংক্রমণের হার প্রায় প্রতিদিনই আগের দিনকে ছাড়িয়ে যাওয়ার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬ হাজার ৩৩ জনের শরীরে এই ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়েছে। এই সময়ে মৃত্যু হয়েছে ১৮ জনের। আর শনাক্ত হার পাওয়া গেল দুই বছর আগের রেকর্ড ছুঁইছুঁই।

সোমবার সকাল থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত যত নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, তার মধ্যে ৩২ দশমিক ৪০ শতাংশ নমুনায় ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়েছে।

গত বছর দেশের ইতিহাসে পরীক্ষার বিপরীতে সর্বোচ্চ সংক্রমণের হার ছিল ৩২ দশমিক ৫৫, যা শাটডাউন চলাকালে গত ২৪ জুলাইয়ের চেয়ে বেশি সংক্রমণের হার পাওয়া যায়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে মঙ্গলবার বিকেলে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশে এ পর্যন্ত করোনা ধরা পড়েছে ১৭ লাখ ১৫ হাজার ৯৯৭ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৮ হাজার ২৫৬ জনের।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১২ জন পুরুষ ও ৬ জন নারী। যাদের মধ্যে দুজন শিশু। এদের মধ্যে চল্লিশোর্ধ্ব দুই, পঞ্চাশোর্ধ্ব পাঁচ, ও ষাটোর্ধ্ব চার, সত্তরোর্ধ্ব পাঁচ জন।

এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এই বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় আট জনের প্রাণ গেছে। এর পরই রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ, ছয় জন। এ ছাড়া একজন করে মৃত্যু হয়েছে রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগে।

গত একদিনে শনাক্তের প্রায় ৭০ শতাংশই ঢাকা বিভাগে। এই বিভাগে ২৪ ঘন্টায় ৩০ হাজার নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। রোগী শনাক্ত হয়েছে ৯ হাজার ৪৮৭ জন।

করোনা নুমনা পরীক্ষা, সংক্রমণ ও শনাক্তের হার সবকিছুই রেকর্ডের কাছাকাছি। গত ২৪ ঘণ্টায় নুমনা পরীক্ষা হয়েছে ৪৯ হাজার ৪৯২ জন। দেশে করোনার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে গত বছরের ২৬ জুলাই। সেদিন ৫০ হাজার ৯৫২টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল।

গত ৪ অক্টোবর করোনার দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসে। জানুয়ারি থেকে আবার শনাক্তের হার বাড়তে থাকে। গত ৭ জানুয়ারি থেকে করোনার সংক্রমণ, শনাক্তের হার ৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। ২০ দিন ধরে করোনা সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের ওপরে। এই সময়ে শনাক্তের হার বেড়েছে ২৯ শতাংশ।

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রথমে ধরা পড়ে ২০২০ সালের ৮ মার্চ। এর পর থেকে এখন পর্যন্ত তিনটি ঢেউ দেখেছে সরকার। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের একপর্যায়ে দেশে শাটডাউন নামে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করা হয়। ওই সময় বাড়ির বাইরে গেলে জরিমানাও করা হচ্ছিল।

এবার বিধি-নিষেধ দিলেও প্রসাশনের তেমন তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। করোনা নিয়ন্ত্রণে জাতীয় কমিটি এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হলেও এখনও নকডাউনের চিন্তা করছে না।

এর মধ্যে প্রথম ঢেউ থাকে ২০২১ সালের শুরু পর্যন্ত। একই বছরের মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দ্বিতীয় ঢেউয়ে শনাক্ত ও মৃত্যুর হার ছিল তুলনামূলক বেশি। তৃতীয় ঢেউয়ে এসে শনাক্ত ও শনাক্তের হার দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় শাটডাউনকালের বিধিনিষেধের সমান হলেও মৃত্যুর হার তুলনামূলক কম।

আরও পড়ুন:
কোভ্যাক্স থেকে এলো টিকার সবচেয়ে বড় চালান
ওমিক্রন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সতর্কতা
আইসোলেশনে জাতিসংঘের মহাসচিব
ওমিক্রন ঠেকাতে দর্শনা চেকপোস্টে বাড়তি সতর্কতা
ওমিক্রনে ঝুঁকি দেখছেন না ফাউসি

শেয়ার করুন