সংলাপ: ইসি গঠনে আইনের দাবি জানাবে জাপা

player
সংলাপ: ইসি গঠনে আইনের দাবি জানাবে জাপা

নির্বাচন কমিশন গঠনে আইনের দাবি রাষ্ট্রপতির কাছে তোলার কথা জানিয়েছেন জাপা মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। ফাইল ছবি

সিইসি কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী বছরের ফ্রেব্রুয়ারিতে। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সংলাপের ভিত্তিতেই গঠিত হবে নতুন কমিশন।

জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সঙ্গে সংলাপের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে রাষ্ট্রপতির আলোচনা।

বঙ্গভবন সোমবার শুরু হতে যাওয়া এ সংলাপে যাচ্ছে জাতীয় পার্টি।

দলটির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু নিউজবাংলাকে এ তথ্য জানিয়ে বলেন, সংলাপে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রধানতম দাবি হবে ইসি গঠনে আইন প্রণয়ন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী বছরের ফ্রেব্রুয়ারিতে। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সংলাপের ভিত্তিতেই গঠিত হবে নতুন কমিশন।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে পূর্ব নির্ধারিত সংলাপে যাওয়ার কথা জানিয়ে জাপা মহাসচিব নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা অবশ্যই যাচ্ছি। আগামীকাল বিকেল ৪টায় এ সংলাপ হবে।’

দলের পক্ষ থেকে কী দাবি থাকবে জানতে চাইলে জাপা মহাসচিব বলেন, ‘আমরা কী দাবি করব, এগুলো এখনও নির্ধারণ করিনি, তবে আমরা নির্বাচন কমিশন আইন চাই।

‘এ দাবি আমরা অবশ্যই করব। বাকি দাবিগুলো আমরা যাওয়ার আগে আলোচনা করে ঠিক করব।’

স্বাধীনতার ৫০ বছরেও নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে কোনো আইন তৈরি হয়নি দেশে। সংবিধান অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের এখতিয়ার রাষ্ট্রপতির হাতে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার হিসেবে কাদের নাম প্রস্তাব করবেন জানতে চাইলে চুন্নু বলেন, ‘এগুলো এখনও ঠিক করিনি। আর নাম তো রাষ্ট্রপতি আমাদের কাছে চাননি। নাম চাইবে সার্চ কমিটি। তারপরও আমরা রাষ্ট্রপতির কাছে যাওয়ার আগে আগামীকালকে আবার বসব। তখনই নাম ঠিক করব।

‘এটা এখনই বলা মুশকিল। আমরা নাম নির্ধারণ করেই সংলাপে যাব। দরকার হলে নাম আমরা পরেও পাঠাতে পারি।’

এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির দপ্তর সম্পাদক মাহমুদুল হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আগামীকাল মহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে হওয়া সংলাপ দলের মোট ৮ জন যাচ্ছেন। তারা হলেন দলের চেয়ারম্যান জি এম কাদের, সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার, কাজী ফিরোজ রশিদ, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, দলটির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু, কো-চেয়ারম্যান সালমা ইসলাম এবং দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গা।’

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেশের নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপ নিয়ে এরই মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে। এ সংলাপের মধ্য দিয়ে যে নতুন কমিশন গঠিত হবে, তার অধীনেই হবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

আরও পড়ুন:
আগে শোষণ করত পাকিস্তানিরা, এখন নিজেদের লোক: জাপা
স্বৈরাচারের উত্থান এরশাদ পতনের পর: জাতীয় পার্টি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

লবিস্ট ‘লেনদেন’ জানতে বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি

লবিস্ট ‘লেনদেন’ জানতে বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি

প্রতীকী ছবি

প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘এ পর্যন্ত আটটি চুক্তি আমাদের হাতে এসেছে। এর মধ্যে বিএনপির পেয়েছি তিনটি। এর বাইরে আরও আছে, যেগুলোর এজেন্ট জামায়াতে ইসলামী। জামায়াতের চুক্তির কপিতে প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা দেয়া নেই, তবে তাদের নাম রয়েছে। তারা পিস অ্যান্ড জাস্টিস নামে অরগানাইজেশন খুলে এ চুক্তিগুলো করেছে।’

দেশবিরোধী প্রচারণায় যুক্তরাষ্ট্রে তিনটি লবিস্ট কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিতে বিএনপি ৩ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। দলটি কীভাবে বিদেশে এ পরিমাণ অর্থ পাঠিয়েছে তা জানতে চায় সরকার।

বিপুল এ অর্থের উৎস ও লেনদেন সম্পর্কে তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চিঠি দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এদিন বিকেলে মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে যুক্তরাষ্ট্রে তিনটি লবিস্ট কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেছে বিএনপি। এ বিষয়ে তিনটি ডকুমেন্ট পাওয়া গেছে। যার মূল ঠিকানায় বিএনপির পুরানা পল্টনের অফিসের নাম দেয়া হয়েছে।

‘বিএনপির হয়ে যিনি চুক্তি করেছেন, তার নাম আব্দুস সাত্তার এবং একটি লবিস্ট কোম্পানির নাম ব্লু স্টার স্ট্র্যাটেজিক এলএমসি। ২০১৮ সালে করা এ চুক্তিতে ১ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে। সব মিলিয়ে দলটি তিনটি চুক্তিতে ৩ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে।’

শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘বিএনপি বিদেশে এসব টাকা কীভাবে পাঠিয়েছে, এ তথ্য জানতে চেয়ে সেসব চুক্তির কপি আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে পাঠাব। যাতে এ চুক্তি করতে বিদেশে যে অর্থ তারা পাঠিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের তাতে অনুমোদন রয়েছে কি না তা যাচাই করতে পারে।

‘একই সঙ্গে প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে আয়-ব্যয়ের হিসাব নির্বাচন কমিশনে দাখিল করতে হয়। নির্বাচন কমিশনে বিএনপি-জামায়াত এ অর্থের হিসাব দিয়েছে কি না, কমিশনও নিশ্চয়ই খতিয়ে দেখবে।’

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এ পর্যন্ত আটটি চুক্তি আমাদের হাতে আছে। এর মধ্যে বিএনপির পেয়েছি তিনটি। এর বাইরে আরও আছে, যেগুলোর এজেন্ট জামায়াতে ইসলামী। জামায়াতের চুক্তির কপিতে প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা দেয়া নেই, তবে তাদের নাম রয়েছে। তারা পিস অ্যান্ড জাস্টিস নামে অরগানাইজেশন খুলে এ চুক্তিগুলো করেছে।’

বিএনপি-জামায়েতের এসব চুক্তির অর্থ কীভাবে এল, তা খতিয়ে দেখতে মার্কিন সরকারের প্রতি আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন লবিস্ট ফার্মের সঙ্গে তারা চুক্তি করেছে। তবে এই চুক্তির অর্থ কীভাবে এল, আমরা সে বিষয়ে খতিয়ে দেখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানাই।’

আরও পড়ুন:
আগে শোষণ করত পাকিস্তানিরা, এখন নিজেদের লোক: জাপা
স্বৈরাচারের উত্থান এরশাদ পতনের পর: জাতীয় পার্টি

শেয়ার করুন

নিজ ওয়ার্ডে ছোট ভাইয়ের অর্ধেক ভোট তৈমূরের

নিজ ওয়ার্ডে ছোট ভাইয়ের অর্ধেক ভোট তৈমূরের

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে তৈমূরের ছোট ভাই তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীকে উড়িয়ে দিয়ে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ভোট পেয়েছেন ১৩ হাজার ৭৭২ ভোট। যারা তাকে সমর্থন জানিয়েছেন, তার অর্ধেক ভোটার কেবল রায় দিয়েছেন তৈমূরের পক্ষে। তিনি মেয়র পদে ভোট পেয়েছেন ৭ হাজার ২৫৪টি। বিজয়ী প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী জিতেছেন এই এলাকাতেও। তিনি ভোট পেয়েছেন ৭ হাজার ৩৬১টি।

নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছে বড় ব্যবধানে হেরে যাওয়া বিএনপি নেতা তৈমূর আলম খন্দকার তার নিজ এলাকা ১৩ নং ওয়ার্ডেও জিততে পারেননি। তবে এই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে দাঁড়িয়ে জিতেছেন তার ছোট ভাই মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ।

তৈমূরের মার্কা হাতিতে যত ভোট পড়েছে, তার ভোট ছাই খোরশেদের ঠেলাগাড়ি মার্কায় ভোট পড়েছে তার দ্বিগুণ।

অর্থাৎ খোরশেদকে যারা জনপ্রতিনিধি হিসেবে দেখতে চেয়েছেন, তাদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক মেয়র হিসেবে দেখতে চেয়েছেন নৌকা মার্কার প্রার্থী আইভীকে।

এই ওয়ার্ডের ১২টি কেন্দ্রে মেয়র পদে সব মিলিয়ে ৭ হাজার ২৫৪ টি ভোট পেয়েছেন তৈমূর। অন্যদিকে কাউন্সিলর পদে বিজয়ী খোরশেদ পেয়েছেন ১৩ হাজার ৭৭২ ভোট, যা তৈমূরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

এই ওয়ার্ডে তৈমূরের চেয়ে কিছু বেশি ভোট পেয়েছেন আইভী। তার নৌকায় সমর্থন জানিয়েছেন ৭ হাজার ৩৬১ জন।

এই ওয়ার্ডের ১২টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬টিতে বেশি ভোট পেয়েছেন তৈমূর, ৬টিতে বেশি পেয়েছেন আইভী। আর ১২টি কেন্দ্রেই তৈমূরের চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন তার ভাই খোরশেদ।

ঠেলাগাড়ি প্রতীকে খোরশেদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে গো হারা হেরেছেন যুবলীগ নেতা শাহ ফয়েজ উল্লাহ। তিনি ১ হাজার ২২ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তৈমূরের ছোট ভাই ও ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে বিজয়ী মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিগত সময়ের কর্মকাণ্ড দেখে মানুষ ভোট দেয়। করোনার সময় মানুষ আমাকে পাশে পেয়েছে। এ কারণে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ স্থানীয়রা জনগণ দলমত-নির্বিশেষে আমাকে ভোট দিয়েছে।’

মেয়র নির্বাচনের ক্ষেত্রেও মানুষ একই নীতিমালায় ভোট দিয়েছে বলে মনে করেন খোরশেদ। তিনি বলেন, ‘আগে যিনি মেয়র ছিলেন তার কাজগুলো দেখে তাকে স্থানীয়রা ভোট দিয়েছেন।’

নিজ এলাকায় কাউন্সিলর প্রার্থী ছোট ভাইয়ের চেয়েও কম ভোট পাওয়ার বিষয়ে তৈমূর আলম খন্দকারের মুঠোফোনে যোগাযোগ করে তা বন্ধ পাওয়া যায়। খোরশেদও জানিয়েছেন তিনি বাড়িতে বিশ্রাম করছেন।

ভোটের পরে এক প্রতিক্রিয়ায় তৈমূর তার পরাজয়ের কারণ হিসেবে ইভিএমকে দেখিয়েছিলেন। সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ না দেখিয়ে বিএনপি নেতা বলেন, ইভিএম ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কারণে হেরেছেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী গত রোববার ১৯২টি কেন্দ্রে আইভী ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৫৯ হাজার ৯৭টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৈমূর পেয়েছেন ৯২ হাজার ১৬৬ ভোট। ভোটের ব্যবধান প্রায় ৬৭ হাজার।

এ নিয়ে আইভী টানা চারবার ভোটে জিতলেন। এর মধ্যে ২০০৩ সালে পৌরসভার মেয়র এবং ২০১১, ২০১৬ সালের ধারাবাহিকতায় এবার সিটি করপোরেশনের মেয়র হলেন।

চারবারই আইভীর প্রতিদ্বন্দ্বীরা তার ধারেকাছেও আসতে পারেননি। তবে সিটি করপোরেশনের তিনটি নির্বাচনের মধ্যে তৈমূরই সবচেয়ে কম ভোটে হেরেছেন।

কোন কেন্দ্রে কত ভোট

নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ ভোটকেন্দ্র-১ এ তৈমূরের পক্ষে ভোট পড়েছে ৯৭৬টি। অন্যদিকে এখানে খোরশেদ ভোট পেয়েছেন ১ হাজার ৬৮১টি।

এই কেন্দ্রে আইভী ভোট পেয়েছেন ৮১৪ টি। অর্থাৎ তৈমূরের চেয়ে কিছুটা কম ভোট পেয়েছেন তিনি।

নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ ভোটকেন্দ্র-২ এ তৈমূর ভোট পেয়েছেন ৭৭৪টি। খোরশেদ এখানে পেয়েছেন এক হাজার ২৫২ ভোট।

এই কেন্দ্রে আইভী ভোট পেয়েছেন ৫০৬ টি। অর্থাৎ তৈমূরের চেয়ে কম।

আদর্শ স্কুল ভোটকেন্দ্র-১ এ তৈমূরের হাতি মার্কায় ভোট পড়েছে ২৬৭টি। এখানে কাউন্সিলর পদে খোরশেদের ঠেলাগাড়িতে পড়েছে ৫৯৬ ভোট।

এই কেন্দ্রে আইভী ভোট পেয়েছেন ৩৪৭টি, অর্থাৎ তৈমূরের চেয়ে বেশি।

আর্দশ স্কুল ভোটকেন্দ্র-২ এ তৈমূর পেয়েছেন ৩৫২ ভোট, খোরশেদ পেয়েছেন ৮০১ ভোট।

এই কেন্দ্রে আইভী ভোট পেয়েছেন ৪৯২টি, অর্থাৎ তৈমূরের চেয়ে বেশি।

আর্দশ স্কুল ভোটকেন্দ্র-৩ এ তৈমূর পেয়েছেন ৬৮০ ভোট, অন্যদিকে খোরশেদ পেয়েছেন ১০৩৮ ভোট।

এই কেন্দ্রে আইভী ভোট পেয়েছেন ৩৬২টি, অর্থাৎ আইভী এখানে তৈমূরের চেয়ে কম ভোট পেয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ ইসলামিয়া কামিল এম এ মাদ্রসা ঈদগাহ ভোটকেন্দ্রে তৈমূরের পক্ষে রায় দিয়েছেন ৯৮২ জন ভোটার। তবে তার ভাইয়ের পক্ষে সমর্থন দিয়েছেন ১ হাজার ৫৪৩ জন।

এই কেন্দ্রে আইভী ভোট পেয়েছেন ৫২৭টি, অর্থাৎ তৈমূরের চেয়ে কম।

নারায়ণগঞ্জ গালর্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ-১ কেন্দ্রে তৈমূরকে বেছে নিয়েছেন ৬৪৪ জন। অন্যদিকে কাউন্সিলর হিসেবে খোরশেদ পছন্দের ছিলেন ১ হাজার ৭৯ জনের কাছে।

এই কেন্দ্রে আইভী ভোট পেয়েছেন ৫৯০টি, অর্থাৎ তৈমূরের চেয়ে কম।

নারায়ণগঞ্জ গালর্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ-২ এ তৈমূর রায় পেয়েছেন ৪৯১ জন ভোটারের। খোরশেদ রায় পেয়েছেন ৭৮৯ জনের।

এই কেন্দ্রে আইভী ভোট পেয়েছেন ৪১২টি, অর্থাৎ তৈমূরের চেয়ে কিছুটা কম।

৩৯ নং আদর্শ শিশু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আমলাপাড়া কেন্দ্রে তৈমূরের তুলনায় খোরশেদ ভোট পেয়েছেন তিন গুণ।

এই কেন্দ্রে মেয়র পদে হাতি মার্কার পাশে ছিলেন ৪৯৩ জন। অন্যদিকে কাউন্সিলর হিসেবে খোরশেদের পাশের ছিলেন ১ হাজার ৪১৯ জন।

এই কেন্দ্রে আইভী ভোট পেয়েছেন ১ হাজার ৪৭টি, অর্থাৎ তৈমূরের দ্বিগুণের বেশি।

নারায়ণগঞ্জ আইডিয়াল স্কুল আমলাপাড়া কেন্দ্রে তৈমূরের তুলনায় তিন গুণ ভোটার পছন্দ করেছেন খোরশেদকে। এই কেন্দ্রে হাতি মার্কায় ভোট পড়েছে ২৮৯টি। অন্যদিকে ঠেলাগাড়িতে পড়েছে ৯৬১টি।

এই কেন্দ্রে আইভী ভোট পেয়েছেন ৭৪৪টি, অর্থাৎ তৈমূরের আড়াই গুণের বেশি।

সরকারি তোলারাম কলেজ ভোট কেন্দ্র-১ এ তৈমূরকে বেছে নিয়েছেন ৭৭৭ জন ভোটার। খোরশেদকে বেছে নিয়েছেন ১ হাজার ৫৪৩ জন।

এই কেন্দ্রে আইভী ভোট পেয়েছেন ৯০৬টি। এখানেও তিনি তৈমূরের চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন।

সরকারি তোলারাম কলেজ ভোটকেন্দ্র-২ এ তৈমূরের পক্ষে ইভিএমে বাটন টিপেছেন ৫২৯ জন। খোরশেদের পক্ষে টিপেছেন তার দ্বিগুণ সংখ্যক ভোটার। সব মিলিয়ে ১ হাজার ৭০ জন।

এই কেন্দ্রেও তৈমূরের চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন আইভী। তার পক্ষে রায় দিয়েছেন ৬১৪ জন।

আরও পড়ুন:
আগে শোষণ করত পাকিস্তানিরা, এখন নিজেদের লোক: জাপা
স্বৈরাচারের উত্থান এরশাদ পতনের পর: জাতীয় পার্টি

শেয়ার করুন

ইসি আইনে নতুন সংকট হবে: চরমোনাই পির

ইসি আইনে নতুন সংকট হবে: চরমোনাই পির

সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। ফাইল ছবি

চরমোনাই পির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, ‘নির্বাচনের সময় অবশ্যই অন্তর্বর্তীকালীন জাতীয় সরকার গঠনের ব্যবস্থা রেখে এবং সব রাজনৈতিক দলের মতামতের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিতে হবে।’

রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের তোয়াক্কা না করে নির্বাচন কমিশন (ইসি) আইন প্রণয়ন দেশে নতুন সঙ্কট সৃষ্টি করবে বলে মনে করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।

মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

চরমোনাই পির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, ‘নির্বাচনের সময় অবশ্যই অন্তর্বর্তীকালীন জাতীয় সরকার গঠনের ব্যবস্থা রেখে এবং সব রাজনৈতিক দলের মতামতের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি বলেন, ‘ইসি গঠন নিয়ে বাংলাদেশের বিরোধী সব রাজনৈতিক দল আইন প্রণয়নের কথা বলছে, দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা নির্বাচন কমিশন আইনের প্রয়োজনীয়তা এবং ভূমিকা পালনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের দাবি জানিয়েছেন।

‘এমন অবস্থায় জনমনের তোয়াক্কা না করে মন্ত্রিপরিষদে নির্বাচন কমিশন আইন ২০২২-এর খসড়া অনুমোদন করায় আমরা উদ্বিগ্ন।’

চরমোনাই পির বলেন, ‘একদিকে রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক দলগুলোকে সংলাপের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, অন্যদিকে সরকার নিজেদের সুবিধামতো আইন পাসের প্রক্রিয়া শুরু করে, অতীতের অন্যান্য অনেক আইনের মতোই এই আইনও ক্ষমতাসীনদের স্বার্থ রক্ষা করবে।

‘সরকারের প্রণীত নতুন আইনটি ২০১৪ ও ২০১৮ সালের মতোই কীভাবে ক্ষমতায় যাওয়া যায়, তারই নতুন কৌশল মাত্র।’

তিনি বলেন, ‘ইসি আয়োজিত প্রতিটি নির্বাচনের পরে কনস্টিটিউশনাল কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচন ও ইসির মূল্যায়ন করতে হবে। নির্বাচনে কোনো ধরনের অসততা, অদক্ষতা ও পক্ষপাত পাওয়া গেলে নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের অপসারণের ব্যবস্থা থাকতে হবে।’

আরও পড়ুন:
আগে শোষণ করত পাকিস্তানিরা, এখন নিজেদের লোক: জাপা
স্বৈরাচারের উত্থান এরশাদ পতনের পর: জাতীয় পার্টি

শেয়ার করুন

বিএনপির কাছে লবিস্টের খরচের হিসাব চান: দুদক ও ইসিকে হাছান

বিএনপির কাছে লবিস্টের খরচের হিসাব চান: দুদক ও ইসিকে হাছান

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। ছবি: নিউজবাংলা

‘এই যে লাখ লাখ ডলার বিএনপি তাদের (লবিস্ট) পেছনে ব্যয় করছে, নির্বাচন কমিশনের যে আয় ব্যায়ের হিসাব, তাতে তো এটা দেয়নি। নির্বাচন কমিশনের উচিত তাদের তলব করা। এই টাকা কীভাবে খরচ করেছে তা জানতে চাওয়া উচিত।’

সরকারের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট নিয়োগের পেছনে বিএনপি ২০ লাখ ডলার খরচ করেছে দাবি করে এই খরচের হিসাব নিতে দুর্নীতি দমন কমিশন ও নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

আগের দিন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জাতীয় সংসদে দেয়া বক্তব্যে জানান, বিদেশে বিএনপির লবিস্ট নিয়োগের বিষয়ে সরকারের কাছে তথ্য প্রমাণ আছে।

তথ্যমন্ত্রী জানান, গত তিন বছরে বিএনপি এই খাতে দুই মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৭ কোটি টাকার মতো) খরচ করেছে।

বিএনপির এই অর্থের উৎস খুঁজতে আহ্বান জানান তথ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘এই যে লাখ লাখ ডলার বিএনপি তাদের (লবিস্ট) পেছনে ব্যয় করছে, নির্বাচন কমিশনের যে আয় ব্যায়ের হিসাব, তাতে তো এটা দেয়নি। নির্বাচন কমিশনের উচিত তাদের তলব করা। এই টাকা কীভাবে খরচ করেছে তা জানতে চাওয়া উচিত।’

এখানে দুদকের ভূমিকাও দেখতে চান হাছান। বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন এবং ট্যাক্স অফিসেরও তাদেরকে তলব করা উচিত। এই লাখ লাখ ডলার কোথা থেকে আসে, সেটিও তো তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। আমি তো মনে করি এখানে দুদকেরও কিছু ভূমিকা রাখা উচিত। এই টাকা যে ব্যক্তিবিশেষ দিচ্ছে, তারা কোথা থেকে পেল সেটারও তো তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।’

দালিলিক প্রমাণ থাকলে সরকার বিএনপির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেবে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যেহেতু এটি একটি রাজনৈতিক দল, এক্ষেত্রে প্রাথমিক দায়িত্ব হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের।

‘এখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো অনুমোদন নেই। সুতরাং এখানে দুদকেরও দায়িত্ব রয়েছে। আর ট্যাক্স অফিসও অবশ্যই এটির খোঁজ-খবর নিতে পারে।’

‘আওয়ামী লীগ বিদেশিদের ওপর নির্ভর করে না’

অপপ্রচার চালালেই বিদেশিরা বিএনপিকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে না বলেও মন্তব্য করেন হাছান। বলেন, ‘ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় সরকারের বিভিন্ন ম্যাকানিজম কাজ করছে।

‘আওয়ামী লীগ বা আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার বিদেশিদের উপর নির্ভরশীল নয়। আমরা জনগণের শক্তির উপর নির্ভরশীল। আওয়ামী লীগ সবসময় জনগণের শক্তির উপর ভর করেই দেশ পরিচালনা করেছে, রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেছে।’

আরও পড়ুন:
আগে শোষণ করত পাকিস্তানিরা, এখন নিজেদের লোক: জাপা
স্বৈরাচারের উত্থান এরশাদ পতনের পর: জাতীয় পার্টি

শেয়ার করুন

তাদের পাচার করা টাকা বাজেয়াপ্ত হবে: রিজভী

তাদের পাচার করা টাকা বাজেয়াপ্ত হবে: রিজভী

মঙ্গলবার নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের নিচ তলায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী। ছবি: নিউজবাংলা

‘আজকে আন্তর্জাতিকভাবে সরকারের গুম-খুন উচ্চারিত হচ্ছে। গুম-খুনের ঘটনায় সরকারকে আন্তর্জতিকভাবে অভিযুক্ত করে সরকারের কতিপয় ব্যক্তি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি গোষ্ঠীর ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের পাচার করা টাকা বাতিল হয়ে যাবে। তারপরও সরকারের লজ্জা নাই।’

বাংলাদেশ থেকে পাচার করা টাকা বিদেশে বাজেয়াপ্ত হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও করোনা আক্রান্ত দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রোগমুক্তি কামনায় মঙ্গলবার নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের নিচ তলায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।

জিয়া পরিষদ আয়োজিত এ আয়োজনে রিজভী বলেন, ‘রাষ্ট্রীয়যন্ত্র ব্যবহার করে সরকারবিরোধী দলের নেতাকর্মীসহ দেশের বিশিষ্ট ব্যাক্তিদের নির্যাতন করছে। রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে গুম-খুন নির্যাতন হচ্ছে। বিরোধী দল দমন করার জন্য এমন কোনো অবৈধ পন্থা নেই যা সরকার প্রয়োগ করে নাই।

‘আজকে আন্তর্জাতিকভাবে সরকারের গুম-খুন উচ্চারিত হচ্ছে। গুম-খুনের ঘটনায় সরকারকে আন্তর্জতিকভাবে অভিযুক্ত করে সরকারের কতিপয় ব্যক্তি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি গোষ্ঠীর ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের পাচার করা টাকা বাতিল হয়ে যাবে। তারপরও সরকারের লজ্জা নাই।’

গত ১৩ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তাজমেরী এস ইসলামের গ্রেপ্তার নিয়েও কথা বলেন বিএনপি নেতা। ২০১৮ সালের ২৩ সেপ্টেম্বরের এক গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় রাজধানীর উত্তরা থেকে তাকে গ্রেপ্তারের পর এখন কারাগারে আছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের এই উপদেষ্টা।

অধ্যাপক তাজমেরীকে গ্রেপ্তার করায় সরকারের কঠোন সমালোচনা করেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘এ সরকার কাপুরুষ। অধ্যাপক তাজমেরী ইসলাম শুধু মাত্র বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হওয়ার কারণে তাকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সরকার সমালোচনা ভয় পায়। কারণ, তাদের জনভিত্তি নাই। তাদের আশঙ্কা জনগণের স্রোতে ভেসে যেতে পারে।’

বিএনপি নেতার দাবি, তার দলের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কোনো দোষ ত্রুটি খুঁজে পাওয়া যায়নি। তারপরেও কারাকারাবন্দি করে রাখা হয়েছে তাকে।

রিজভী বলেন, ‘আজকে কোনো বিচারক সঠিক রায় লিখতে পারে না। কেউ সঠিক রায় দিলে তাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়। প্রদান বিচার পতিকেও বন্দুকের নলের মুখে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে যে রায় দেয়া হয়েছে, এটা শেখ হাসিনার প্রতিহিংসার রায়।’

জিয়া পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুসের সভাপতিত্বে এবং সহসভাপতি লুৎফর রহমানের পরিচালনায় কামনায় দোয়া মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক সেলিম ভূঁইয়া, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, জিয়া পরিষদের মহাসচিব এমতাজ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম প্রমুখ।

আরও পড়ুন:
আগে শোষণ করত পাকিস্তানিরা, এখন নিজেদের লোক: জাপা
স্বৈরাচারের উত্থান এরশাদ পতনের পর: জাতীয় পার্টি

শেয়ার করুন

নাইকো মামলায় খালেদার অভিযোগ শুনানি আবার পেছাল

নাইকো মামলায় খালেদার অভিযোগ শুনানি আবার পেছাল

প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী আদেশে দণ্ড স্থগিতের পর ২০২০ সালের ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল থেকে গুলশানের বাসভবনে ফেরেন বেগম খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

মঙ্গলবার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের ২ নম্বর ভবনে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এর বিচারক শেখ হাফিজুর রহমানের আদালতে মামলাটিতে খালেদা জিয়ার অব্যাহতির শুনানির তারিখ ছিল।

নাইকো দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষে অভিযোগ শুনানির তারিখ আবারও পিছিয়ে দিয়েছে আদালত।

আদালত নতুন তারিখ দিয়েছে আগামী ৮ মার্চ।

মঙ্গলবার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের ২ নম্বর ভবনে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এর বিচারক শেখ হাফিজুর রহমানের আদালতে মামলাটিতে খালেদা জিয়ার অব্যাহতির শুনানির তারিখ ছিল।

খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় আদালতে হাজির হতে পারেননি।

আর খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার জন্য জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আইনজীবীদের মহাসমাবেশ রয়েছে জানিয়ে শুনানি পেছানোর জন্য সময় চান তার আইনজীবী মাসুদ আহম্মেদ তালুকদার।

আদালত সময় আবেদন গ্রহণ করে আগামী ৮ মার্চ শুনানির জন্য পরের তারিখ দিয়েছে বলে নিউজবাংলাকে জানান খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী জিয়া উদ্দিন জিয়া।

২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলা তদন্তের পর ২০০৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়।

মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন মুখ্যসচিব কামাল উদ্দীন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সিএম ইউসুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, বাগেরহাটের সাবেক সংসদ সদস্য এমএএইচ সেলিম, নাইকোর দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।

এর মধ্যে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন মারা যাওয়ায় তাদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

দুদকের করা অন্য দুই মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত খালেদা জিয়াকে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রাখা হয়। সেখান থেকে পরে চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায়ই সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্তি পেয়ে তিনি গুলশানের বাসায় যান।

পরে চিকিৎসার জন্য তাকে নেয়া হয় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে। সেখানেই এখন তার চিকিৎসা চলছে।

২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম তেজগাঁও থানায় খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা করেন। কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠান নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতিসাধনের অভিযোগে এই মামলাটি করা হয়।

আরও পড়ুন:
আগে শোষণ করত পাকিস্তানিরা, এখন নিজেদের লোক: জাপা
স্বৈরাচারের উত্থান এরশাদ পতনের পর: জাতীয় পার্টি

শেয়ার করুন

বিএনপির লবিস্ট নিয়োগের টাকার উৎস কী: তথ্যমন্ত্রী

বিএনপির লবিস্ট নিয়োগের টাকার উৎস কী: তথ্যমন্ত্রী

প্রতীকী ছবি

হাছান মাহ্‌মুদ বলেন, ‘এই অর্থের কোনো হিসাব তারা নির্বাচন কমিশনে দেয়নি। তারা কোথা থেকে এই টাকা পেল তা নির্বাচন কমিশন ও ট্যাক্স বিভাগ খুঁজে দেখতে পারে। প্রয়োজনে তাদের তলব করতে পারে।’

দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র আর প্রোপাগান্ডা চালাতে নিয়োগ করা লবিস্টদের পেছনে গত তিন বছরে যে অর্থ খরচ করেছে তার উৎস বের করতে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহ্‌মুদ।

সচিবালয়ে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, বিদেশে বিএনপির লবিস্ট নিয়োগ এবং অর্থ প্রদানের বিষয়ে সব প্রমাণ সরকারের হাতে রয়েছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ের ঠিকানা দিয়ে ১২টি নবিস্ট ফার্মের সঙ্গে তারা চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। গত ৩ বছর তাদের প্রতি মাসে ৫০ হাজার ডলার করে দেয়া হচ্ছে।

‘এই অর্থের কোনো হিসাব তারা নির্বাচন কমিশনে দেয়নি। তারা কোথা থেকে এই টাকা পেল তা নির্বাচন কমিশন ও ট্যাক্স বিভাগ খুঁজে দেখতে পারে। প্রয়োজনে তাদের তলব করতে পারে।’

বিদেশে লবিস্টের পেছনে বিএনপির টাকা ঢালার তথ্য সোমবার জাতীয় সংসদেও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট নিয়োগের ব্যাপারে আমার কাছে প্রথম যে ডকুমেন্ট আছে, সেটি হলো ২০১৫ সালে একিন কোম্পানি অ্যাসোসিয়েটসের সঙ্গে বিএনপির নয়াপল্টনের অফিসের ঠিকানা দিয়ে একটি চুক্তি হয়।

‘মাসিক ৫০ হাজার ডলারের বিনিময়ে ওই চুক্তি তিন বছর অব্যাহত ছিল। ওই প্রতিষ্ঠানকে বছরে ৬ লাখ ডলার দেয়া হয়েছে। সে হিসাবে তিন বছরে প্রায় দুই মিলিয়ন ডলার দেয়া হয়। এ ধরনের ১০টি ডকুমেন্ট আমার কাছে আছে।’

আরও পড়ুন:
আগে শোষণ করত পাকিস্তানিরা, এখন নিজেদের লোক: জাপা
স্বৈরাচারের উত্থান এরশাদ পতনের পর: জাতীয় পার্টি

শেয়ার করুন