× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Bajus took charge of the new committee
hear-news
player
print-icon

বাজুসের নতুন কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ

বাজুসের-নতুন-কমিটির-দায়িত্ব-গ্রহণ
নতুন সভাপতি সায়েম সোবহান আনভীর বলেন, ‘জুয়েলারি শিল্পের আরও প্রসার ও রপ্তানি ক্ষেত্রে বিকাশ ঘটাতে হবে। আমার মূলত লক্ষ্যটা থাকবে জুয়েলারি শিল্পের প্রসার। ভ্যাট ও কর সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করবো। জুয়েলারি শিল্পে আমরা রপ্তনিকারক দেশে পরিণত হতে চাই।’

জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে দেশের স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সংগন বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতির (বাজুস) নতুন কমিটি।

বুধবার রাজধানীর লা মেরিডিয়ান হোটেলে সংগঠনটির ৩৫ সদস্যের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি ২০২১- ২০২৩ মেয়াদের দায়িত্ব গ্রহণ করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্যবসায়ী শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন।

বাজুসের নতুন সভাপতি দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্প গ্রুপ বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বসুন্ধরা গোল্ড রিফাইনারি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরের নেতৃত্বে নতুন কমিটি বিদায়ী সভাপতি এনামুল হক খান দোলনের কাছ থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

বাজুসের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিলিপ কুমার আগরওয়ালা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চলনা করেন বাজুসের নতুন কমিটির সহসভাপতি দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন।

অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আমরা এখন বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তির প্রাক্কালে। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের সুযোগ্য কণ্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা স্বল্প আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছি। অনেক মহাঘটনার সাল ২০২১। এই ২০২১ সালেই বাজুসের দায়িত্ব গ্রহন করলেন সায়েম সোবহান আনভীর।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের মাথাপিছু আয় বেড়ে এখন ২ হাজার ৫৫৪ ডলারে উঠেছে। ২০৪১ সালে এই আয় সাড়ে ১২ হাজার ডলার হলে জুয়েলারী মার্কেটও বড় হবে। মানুষের আয় যখন বেশি হবে তখন খরচও বেশি হবে। জুয়েলারির বাজারও বড় হবে।’

‘দেশে জুয়েলারি শিল্পে প্রচুর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে। অনেক রাজস্ব আয় হতে পারে। ভারত এখন ৩ শতাংশ ভ্যাট নিচ্ছে, অথচ আমাদের দেশে ৫ শতাংশ। এটা হতে পারে না। আমি আশা করবো বাজুসের সঙ্গে এ সব বিষয়ে এফবিসিসিআই নিবিড়ভাবে কাজ করবে। যেসব খাত থেকে রপ্তানি ও কর্মসংস্থান হবে সেসব সেক্টরের সঙ্গে কাজ করতে চায় এফবিসিসিআই। আমার লক্ষ্য হলো ব্যবসা, রপ্তানি ও কর্মসংস্থান বাড়ানো।’

বাজুসের নতুন কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ

বাজুসের নতুন সভাপতি সায়েম সোবহান আনভীর বলেন, ‘আমি অত্যন্ত আনন্দিত আমাকে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করার জন্য। সবাইকে আমি ধন্যবাদ জানাই। আমি আশা করবো আমরা সবাই, নতুন যে কমিটি হয়েছে- একত্রিত হয়ে এই শিল্পটাকে আগামীতে উন্নত করার চেষ্টা করবো। আমি এ পর্যন্ত দেখেছি যে, জুয়েলারি শিল্পে শুধু আমদানিই করা হয়। এখনও আমরা রপ্তানির ক্ষেত্রে বিকাশ ঘটাতে পারিনি।

তিনি বলেন, ‘দেশে জুয়েলারি শিল্পের আরও প্রসার ও রপ্তানি ক্ষেত্রে বিকাশ ঘটাতে হবে। আমার মূলত লক্ষ্যটা থাকবে জুয়েলারি শিল্পের প্রসার। এক্ষেত্রে ভ্যাট ও কর সমস্যা চিহিৃত করে সমাধানের চেষ্টা করবো জুয়েলারি শিল্পের প্রসারের জন্য। জুয়েলারি শিল্পে আমরা রপ্তনিকারক দেশে পরিণত হতে চাই।’

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বাজুসের বিদায়ী সভাপতি এনামুল হক খান দোলন বলেন, ‘আমার জীবনে যদি কোন ব্যর্থতা থাকে, তা বাজুসের নবনির্বাচিত সভাপতি সায়েম সোবহান আনভীরের আগমনের মধ্যদিয়ে ঘুচে গেছে। আমি বিশ্বাস করি মানুষ আমাকে একদিন স্বরণ করবে এই বলে যে, সায়েম সোবহান আনভীরের মতো একজন মানুষের হাতে আমি দায়িত্ব হস্তান্তর করতে পেরেছি।’

‘আজ নতুন যারা এসেছেন, তাদের উৎসাহ দেওয়ার সময়। এই উৎসাহ বৃদ্ধি করাই আমাদের কাজ। বাজুসের মর্যাদা বাড়লে, আমাদেরও মর্যাদা বাড়বে।’

সাধারণ সম্পাদক দিলিপ কুমার আগরওয়ালা বলেন, ‘আমরা একটা পরিকল্পনা করেছি। আমরা সমস্যাগুলো চিহিৃত করেছি। সমস্যা সমাধানে আমরা কিছু স্টান্ডিং কমিটি করবো। আমাদের সমস্যা দেশবাসীকে জানাবো। পাশাপাশি সমস্যা সমাধানে কাজ করবো।’

গত ২৯ নভেম্বর বাজুস নির্বাচনের চুরান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এতে বাজুস নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন কাজল।

আরও পড়ুন:
বাজুস সভাপতি সায়েম সোবহান

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Private credit growth dropped to 14 under dollar pressure

ডলারের দাপটে বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি ১৪% ছাড়াল

ডলারের দাপটে বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি ১৪% ছাড়াল
২০২১ সালের আগস্ট মাসের তুলনায় চলতি বছরের আগস্টে বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা ব্যাংক খাত থেকে ১৪ দশমিক শূন্য সাত শতাংশ বেশি ঋণ নিয়েছেন। এই প্রবৃদ্ধি সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় টাকার ব্যাপক দরপতনে ওলটপালট হয়ে যাওয়া অর্থনীতিতে একটি সুখবর দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে সুখবরটি আবার বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর মুদ্রা এই ডলারের বদৌলতেই।

চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস আগস্টে দেশের বিনিয়োগ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান নিয়ামক বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি ১৪ শতাংশ ছাড়িয়েছে, যা মুদ্রানীতিতে ঘোষিত লক্ষ্যের প্রায় সমান।

এই প্রবৃদ্ধি সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংক মঙ্গলবার বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, ২০২১ সালের আগস্ট মাসের তুলনায় চলতি বছরের আগস্টে বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা ব্যাংক খাত থেকে ১৪ দশমিক শূন্য সাত শতাংশ বেশি ঋণ নিয়েছেন। আগের মাস জুলাইয়ে গত বছরের জুলাইয়ের চেয়ে বেশি নিয়েছিলেন ১৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২২-২৩ অর্থবছরের যে মুদ্রানীতি মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে, তাতে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে ১৪ দশমিক ১০ শতাংশ।

তবে এতে আমেরিকার মুদ্রা ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতনের অবদান রয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা। তারা বলেছেন, দেশের বাজারে ডলারের দাম বাড়ার কারণে গ্রাহককে এলসি (ঋণপত্র) খুলতে অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়েছে। আর এটি বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি বাড়িয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, টানা আট মাস ধরে বাড়তে বাড়তে ২০২২ সালের প্রথম মাস জানুয়ারিতে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচকটি ১১ শতাংশ ছাড়িয়ে ১১ দশমিক ০৭ শতাংশে উঠেছিল।

তবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় ফেব্রুয়ারিতে এই প্রবৃদ্ধি কমে ১০ দশমিক ৭২ শতাংশে নেমে আসে। মার্চে তা দশমিক ৫৭ শতাংশ পয়েন্ট বেড়ে ১১ দশমিক ২৯ শতাংশে ওঠে। এপ্রিল মাসে তা ১২ শতাংশ ছাড়িয়ে ১২ দশমিক ৪৮ শতাংশে ওঠে। মে মাসে তা আরও বেড়ে ১২ দশমিক ৯৪ শতাংশ ওঠে।

জুন মাসে ১৩ শতাংশ ছাড়িয়ে ১৩ দশমিক ৬৬ শতাংশে ওঠে। জুলাই মাসে ১৩ দশমিক ৯৫ শতাংশে ওঠে। সবশেষ আগস্টে ১৪ শতাংশ ছাড়িয়েছে।

এর অর্থ হলো ২০২১ সালের আগস্ট মাসের চেয়ে এই বছরের আগস্টে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ১৪ দশমিক শূন্য সাত শতাংশ বেশি ঋণ পেয়েছেন।

গত ২০২১-২২ অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছিল ১৪ দশমিক ৮০ শতাংশ। শেষ পর্যন্ত ১৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে অর্থবছর শেষ হয়।

২০১৯ সালের জানুয়ারিতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১৩ দশমিক ২০ শতাংশ। এরপর থেকেই কমতে থাকে এই সূচক।

ডলারের দাপটে বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি ১৪% ছাড়াল

অর্থনীতির বিশ্লেষক গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত কয়েক মাস ধরেই বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ছিল। করোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকার যে প্রণোদণা ঘোষণা করেছিল, তাতে এর অবদান ছিল। এ ছাড়া করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় দেশে বিনিয়োগের একটি অনুকুল পরিবেশও দেখা দিয়েছিল। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, বঙ্গবন্ধু কর্ণফুলী টানেলসহ কয়েকটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলকে ঘিরে উদ্যোক্তারা নতুন পরিকল্পনা সাজিয়ে বিনিয়োগে নেমেছিলেন। ব্যাংকগুলো তাতেও বিনিয়োগ করেছেন।

‘সব মিলিয়ে বেসরকারি খাতের ঋণের একটি গতি এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধির কারণে আমদানিকারকদের এলসি খুলতে বেশি টাকা লাগছে। তাতেও ঋণের পরিমাণ বেড়ে গেছে।

‘তবে আর নয়। এখন যে করেই হোক টাকাকে শক্তিশালী করতে হবে। ডলারের এই অস্বাভাবিক উল্লম্ফন আমাদের অর্থনীতিকে প্রতি মুহূর্তে তছনছ করে দিচ্ছে। বড় ধরনের সংকটের মধ্যে ফেলে দিয়েছে আমাদের। আমদানি কমাতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। তারপরও খুব একটা কাজ হচ্ছে না। এখনও কার্ব মার্কেটে ১১৫ টাকার বেশি দরে ডলার বিক্রি হচ্ছে।’

মহামারি করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করায় আমদানি বাড়তে থাকায় গত বছরের আগস্ট থেকে ডলারের দাম বাড়তে শুরু করে; দুর্বল হতে থাকে টাকা। আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে সোমবার টাকা-ডলারের সর্বোচ্চ বিনিময় হার ছিল ১০৫ টাকা ৩৫ পয়সা। গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর এই দর ছিল ৮৫ টাকা ২৭ পয়সা।

এ হিসাবে গত এক বছরে আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বেড়েছে ২০ টাকার বেশি, ২৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

আহসান মনসুর বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর থেকেই দেশে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ছিল। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় ফেব্রুয়ারিতে কিছুটা হোঁচট খেয়েছিল। মার্চে থেকে ফের বাড়তে শুরু করে। যুদ্ধের ধাক্কা সামলাতে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানা পদেক্ষেপের কারণে এখন আমদানি ব্যয় কমেছে ঠিক। কিন্তু পণ্য আমদানির করতে গিয়ে এলসি খুলতে ব্যবসায়ীদের কিন্তু আগের চেয়ে বেশি দামে ডলার কিনতে হচ্ছে। সে কারণে ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নিতে হচ্ছে। তাই সংকটের এই সময়েও বেসরকারি ঋণ বেশি হচ্ছে।’

গত বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১০ দশমিক ৬৮ শতাংশ। তার আগের মাস নভেম্বরে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১০ দশমিক ১১ শতাংশ; অক্টোবরে ৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ আর সেপ্টেম্বরে হয়েছিল ৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ। আগস্ট ও জুলাইয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল যথাক্রমে ৮ দশমিক ৪২ শতাংশ ও ৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

দীর্ঘদিন ধরে দেশে বিনিয়োগে মন্দা চলছিল। এর অন্যতম প্রধান নিয়ামক বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের চিত্রও ছিল হতাশাজনক। ২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর থেকে তা আরও কমতে থাকে।

প্রতি মাসেই কমতে কমতে গত বছরের মে মাসে তা ৭ দশমিক ৫৫ শতাংশে নেমে আসে, যা ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন।

অতীত ঘেঁটে দেখা যায়, বাংলাদেশের বর্ধিষ্ণু অর্থনীতিতে ব্যাংকের ঋণ বাড়তেই থাকে। ২০০৯-১০ অর্থবছর শেষে ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ২৪ শতাংশের বেশি। বছরওয়ারি হিসেবে এর পর তা সব সময়ই ১০ শতাংশের বেশি ছিল। এমনকি এক পর্যায়ে তা ২৫ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে তা দুই অঙ্কের নিচে (ডাবল ডিজিট), ৯ দশমিক ৮৩ শতাংশে নেমে আসে। এরপর দুই বছর বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি এক অঙ্কের নিচে (সিঙ্গেল ডিজিট) অবস্থান করে।

গত বছরের নভেম্বরে তা দুই অঙ্কের (ডাবল ডিজিট) ঘরে, ১০ দশমিক ১১ শতাংশে উঠে।

মহামারির ছোবলে ২০১৯-২০ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি কমে ৮ দশমিক ৬১ শতাংশে নেমে আসে। এরপর সরকারের প্রণোদনা ঋণে ভর করে ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে এই প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৯ দশমিক ২০ শতাংশ হয়। আগস্টে তা আরও বেড়ে ৯ দশমিক ৩৬ শতাংশে এবং সেপ্টেম্বরে ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশে ওঠে।

কিন্তু অক্টোবরে এই প্রবৃদ্ধি কমে ৮ দশমিক ৬১ শতাংশে নেমে আসে। নভেম্বরে তা আরও কমে ৮ দশমিক ২১ শতাংশ হয়। ডিসেম্বরে সামান্য বেড়ে ৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ হয়।

২০২১ সালের প্রথম মাস জানুয়ারিতে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ। ফেব্রুয়ারি ও মার্চে ছিল যথাক্রমে ৮ দশমিক ৫১ ও ৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এপ্রিলে নেমে আসে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশে। মে মাসে তা আরও কমে নেমে যায় ৭ দশমিক ৫৫ শতাংশে।

তবে করোনার প্রকোপ কমতে থাকায় গত অর্থবছরের শেষ মাস জুনে ঋণ প্রবৃদ্ধি খানিকটা বেড়ে ৮ দশমিক ৩৫ শতাংশে উঠে কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়। তারপর থেকে ঋণপ্রবাহ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।

আরও পড়ুন:
প্রবৃদ্ধি বাড়াতে ১২৩৩ কোটি টাকা দেবে এডিবি
যুদ্ধের ধাক্কায় কমেছে বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি
৬.৯৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে সংশয় নেই অর্থমন্ত্রীর
বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি ১০.৬৯%, ৭ মাস ধরে বাড়ছে
২ বছর পর ২ অঙ্কের ঘরে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The Miniket controversy is now in the hearing of the Competition Commission

মিনিকেট বিতর্ক এবার প্রতিযোগিতা কমিশনের শুনানিতে

মিনিকেট বিতর্ক এবার প্রতিযোগিতা কমিশনের শুনানিতে ছবি: সংগৃহীত
প্রতিযোগিতা কমিশন বাজারে প্যাকেটজাত চাল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের বলেন, বাস্তবে মিনিকেট নামে কোনো চাল নেই। তাহলে এ নামে কীভাবে চাল বাজারে আসে? প্রতিনিধি দাবি করেন, মিনিকেট চালের অস্তিত্ব আছে। কোথায় আছে জানতে চাইলে তিনি জানান, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহসহ দক্ষিণাঞ্চলে এ ধরণের চাল আছে। কমিশনের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়, বাস্তবে এটা আছে কিনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

বিআর-২৮, নাজিরশাইল, জিরাশাইল চাল কেটে তৈরি করা হয় মিনিকেট। প্রতি কেজির দাম ৫৬ টাকা। প্রতিযোগিতা কমিশনের শুনানিতে এমন দাবি করেছেন বাজারে প্যাকেটজাত ব্র্যান্ড চালসহ ভোগ্যপণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপের প্রতিনিধি।

বাজারে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর ন্যায্য আচরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতা কমিশন রশিদ অ্যাগ্রো নামে অপর প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিকে বলেন, বাস্তবে মিনিকেট নামে কোনো চাল নেই। তাহলে এ নামে কীভাবে চাল বাজারে আসে?

এ সময় ওই প্রতিনিধি দাবি করেন, মিনিকেট চালের অস্তিত্ব আছে। কোথায় আছে জানতে চাইলে তিনি জানান, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহসহ দক্ষিণাঞ্চলে এ ধরণের চাল আছে। কমিশনের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়, বাস্তবে এটা আছে কিনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। ৫৬ টাকা কেজি দরে মিনিকেট চাল কোথায় পাওয়া যায়, জানতে চায় কমিশন। কিন্তু এর কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি দেশের শীর্ষস্থানীয় ভোগ্য পণ্য আমদানিকারক এ প্রতিষ্ঠান।

শুধু চালই নয়, আটা ময়দা ও চালের একচেটিয়া বাজার নিয়ন্ত্রণ করা নিয়ে শুনানিতে ডাকা হয় সিটি গ্রুপকে।

সিটি গ্রুপের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা ও গ্রুপের আইনজীবী।

শুনানি শেষে বিশ্বজিৎ সাহা সাংবাদিকদের জানান, তথ্য-উপাত্ত জমা দেয়ার জন্য সময় চাইলে তা দেয়া হয়েছে। ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত তাদেরকে সময় দিয়েছে কমিশন।

পণ্য বিক্রিতে অসম প্রতিযোগিতার অভিযোগে ৩৬ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৪৪টি মামলা করেছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন।

চাল, আটা-ময়দা, ডিম, মুরগি টয়লেট্রিজ পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে অতি মুনাফার প্রমাণ পায় বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন। অভিযোগ নির্দিষ্ট করে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয় গত ২২ সেপ্টেম্বর।

প্রতিযোগিতা কমিশন বলছে, হঠাৎ করেই পণ্যমূল্য বৃদ্ধি করে বাজারে অস্থিরতা তৈরি করা হয়েছে। এতে চরম সমস্যার মুখে পড়ে সাধারণ ভোক্তা। স্বাভাবিক প্রতিযোগিতা না করে পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে অসম প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করা হয়। ব্যবসায় একচেটিয়া কর্তৃত্ব সৃষ্টির কারণে বেসামাল হয় বাজার।

মঙ্গলবার সকাল থেকে প্রতিযোগিতা কমিশনে শুরু হয় এসব মামলার শুনানি। প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা এবং আইনজীবীরা শুনানিতে অংশ নেন। শুনানিতে ৯টি প্রতিষ্ঠান যুক্তি তুলে ধরে।

চালের জন্য রশিদ অ্যাগ্রো ফুড, সিটি গ্রুপ, বাংলাদেশ এডিবল অয়েল, বেলকন গ্রুপ, আটা-ময়দার জন্য সিটি গ্রুপ, ডিম এবং মুরগির জন্য এমডি প্যারাগন পোল্ট্রি লিমিটেড, ডিম ব্যবসায়ী আড়তদার সমিতির সভাপতি আমানত উল্লাহ এবং টয়লেট্রিজ পণ্যের জন্য ইউনিলিভার বাংলাদেশের প্রতিনিধি শুনানিতে অংশ নেন।

চাল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বেলকন গ্রুপের আইনজীবী ব্যারিস্টার সিনথিয়া সিরাজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘বেলকন গ্রুপ চাল উৎপাদন করে। চালের দাম নিয়ে তথ্য-উপাত্ত চাওয়া হয়। তবে, আজ সব তথ্য সরবরাহ করা যায়নি, সময় প্রার্থনা করা হয়। আদালত সময় মঞ্জুর করেছেন।’

শুনানিতে কোম্পানিগুলোর কাছে আমদানি, রপ্তানি এবং উৎপাদনের তথ্য জানতে চায় প্রতিযোগিতা কমিশন। বৈশ্বিক বাজার, ডলারের দাম, শুল্কসহ বিভিন্ন তথ্য বিবেচনায় আনা হয়েছে।

ইউনিলিভারের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান। তিনি সাংবাদিকদের জানান, যে আটটি বিষয়ে কমিশন তথ্য চেয়েছে, সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ নথি নিয়ে আসেননি তারা। এ জন্য সময় চাইলে আগামী ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত তাদেরকে সময় দেয় কমিশন। এ সময়ের মধ্যে তারা সব নথি কমিশনে দাখিল করবে।

শুনানিতে আইনজীবী জানান, ইউনিলিভারে বিনিয়োগের ৬০ ভাগ বিদেশি আর ৪০ ভাগ শেয়ার বাংলাদেশ সরকারের। তাদের উৎপাদিত সাবান, ডিটারজেন্ট পাউডার, শ্যাস্পুসহ কয়েকটি টয়েলেট্রিজ পণ্যের দাম বেড়েছে, এ কথা ঠিক। তবে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এর মুল কারণ।

বলা হয়, ডলারের অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধিও পণ্যের দাম বাড়ার কারণ। ডলারের বিনিময় মূল্য ৮৬ টাকার সময় ঋণপত্র বা এলসি খোলার পরে সেটা ১০৭ টাকায় শোধ করতে হয়েছে। এ সময় শুল্ক হারের যে কাঠামো ছিল, ডলারের দাম বাড়ার কারণে সেটাও বেড়ে গেছে। কারণ ডলার ১০৭ টাকা ধরে শুল্ক দিতে হয়েছে।

এসব তথ্য নির্দিষ্ট করে কাঁচামালের আমদানি, কোন পণ্যের দর কত বৃদ্ধি পেয়েছে– সব তথ্য তারা কমিশনে সরবরাহ করবেন।

ডিম ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিনিধিরাও শুনানিতে অংশ নেন। সংগঠনের সভাপতি জানান, ডিমের বিক্রিমূল্য এবং ক্রয়মূল্য সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে শিগগিরই উপস্থাপন করা হবে।

সোম ও মঙ্গলবার প্রথম দুই দিনে ১১ মামলার শুনানির জন্য ডাকা হলো আট কোম্পানি ও ব্যবসায়ীকে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন কোম্পানি ও ব্যক্তিদের মামলার বিষয়ে শুনানি করা হবে।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বুধবার চালের বাজারে ‘অস্থিরতার জন্য’ স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজের চেয়ারম্যান বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা ব্যবস্থাপনা পরিচালক, চাঁপাইনবাবগঞ্জের এরফান গ্রুপের স্বত্বাধিকারী এরফান আলী, নওগাঁর মজুমদার অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী ব্রজেন মজুমদারকে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছে।

চাল ও আটা-ময়দার বাজারে অস্থিরতার জন্য বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) শুনানিতে ডেকেছে কমিশন।

ডিমের বাজারে অস্থিরতার জন্য ডায়মন্ড এগ লিমিটেডের এমডি, মুরগির দামে অস্থিরতার জন্য নারিশ পোল্ট্রি ও হ্যাচারি লিমিটেডের পরিচালক এবং টয়লেট্রিজের জন্য স্কয়ার টয়লেট্ররিজের হেড অব অপারেশনকে শুনানিতে ডেকেছে কমিশন।

চালের বাজারে অস্থিরতার কারণে ২৯ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দিনাজপুরের জহুরা অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী আবদুল হান্নান, বগুড়ার আলাল অ্যাগ্রো ফুড প্রোডাক্টের আলাল আহমেদকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে।

চাল, আটা-ময়দা ও টয়লেট্রিজের জন্য এসিআইয়ের চেয়ারম্যানকে একই দিন শুনানিতে ডেকেছে কমিশন।

ডিমের অস্বাভাবিক দাম বাড়ার কারণে পিপলস ফিডের স্বত্বাধিকারী, মুরগির বাজারের জন্য সাগুনা ফুড অ্যান্ড ফিডস বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালক ও আলাল পোলট্রি অ্যান্ড ফিশ ফিডের এমডি বা সিইওকে ডাকা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
যুক্তরাজ্যে রাজা-রানিতে কেন বদলায় জাতীয় সংগীত?
চালের দামে সুবাতাস
চার্লসের মাথায় ব্রিটিশ রাজমুকুট, বদলাচ্ছে জাতীয় সংগীত
চালের দাম কমতে শুরু করেছে মোকামে
চালের দাম আরও কমবে: খাদ্যমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Agreement of FBCCI with New York Chamber

নিউ ইয়র্ক চেম্বারের সঙ্গে এফবিসিসিআইর চুক্তি

নিউ ইয়র্ক চেম্বারের সঙ্গে এফবিসিসিআইর চুক্তি নিউ ইয়র্ক চেম্বারের সঙ্গে চুক্তি করেছে এফবিসিসিআই। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি অন্যান্য পণ্যও আমদানির আহ্বান জানান এফবিসিসিআই সভাপতি।

যুক্তরাষ্ট্রের মূল ধারার অর্থনীতি ও বাজারে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে গ্রেটার নিউ ইয়র্ক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে চুক্তি সই করেছে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)।

নিউ ইয়র্কে আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধুর ভিশন ও বাংলাদেশি ইমিগ্রান্ট ডে’ শীর্ষক সেমিনারে রোববার এই চুক্তি সই হয়।

চুক্তিতে এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন ও গ্রেটার নিউ ইয়র্ক চেম্বারের সভাপতি মার্ক জেফ সই করেন।

বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রযাত্রায় যুক্তরাষ্ট্রকে বন্ধু হিসেবে পেয়ে এসেছে বলে মন্তব্য করেন এফবিসিসিআই সভাপতি। এসময় যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি অন্যান্য পণ্যও আমদানির আহ্বান জানান তিনি।

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছিল। গত দশকে ব্যাপক আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির পরেও প্রবৃদ্ধি অর্জনে বঙ্গবন্ধুর রেকর্ড এখনও অটুট রয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গৃহীত বৈদেশিক নীতি মূলত বঙ্গবন্ধুর মৌলিক মূল্যবোধ ও দর্শনের সফল প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বেসরকারি খাতকে শক্তিশালী ও আধুনিক করতে বাংলাদেশ বেশ কিছু সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। যা দেশের শিল্পায়ন ও রপ্তানিনির্ভর প্রবৃদ্ধি অর্জনকে নিশ্চিত করেছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান জসিম উদ্দিন।

আরও পড়ুন:
বন্দরে টেস্টিং ল্যাব স্থাপনে জাইকার সহায়তা চায় এফবিসিসিআই
জ্বালানি তেলের দাম কমায় চাপ কমবে: এফবিসিসিআই
ডিমের দামে কারসাজিতে জড়িতদের শাস্তি চায় এফবিসিসিআই
ব্যবসাবান্ধব আইন চান কুরিয়ার মালিকরা
শ্রমিক সুরক্ষায় যৌথভাবে কাজ করবে এফবিসিসিআই-আইএলও

মন্তব্য

বাংলাদেশ
ADB will lend 12 15 billion dollars to Bangladesh

বাংলাদেশকে ১২ থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেবে এডিবি

বাংলাদেশকে ১২ থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেবে এডিবি ম্যানিলায় এডিবির সদরদপ্তরে সংস্থার প্রেসিডেন্ট মাসাতসুগু আসাকাওয়ার সঙ্গে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
বাংলাদেশের জন্য তৈরি করা ‘কান্ট্রি পার্টনারশিপ স্ট্র্যাটেজি’র আওতায় আগামী পাঁচ বছরে এ সহায়তা দেয়া হবে বলে আভাস দিয়েছে ম্যানিলাভিত্তিক বহুজাতিক এই ঋণদানকারী সংস্থাটি।

বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ১২ থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা।

বাংলাদেশের জন্য তৈরি করা ‘কান্ট্রি পার্টনারশিপ স্ট্র্যাটেজি’র আওতায় আগামী পাঁচ বছরে এ সহায়তা দেয়া হবে বলে আভাস দিয়েছে ম্যানিলাভিত্তিক বহুজাতিক এই ঋণদানকারী সংস্থাটি।

মঙ্গলবার ম্যানিলায় এডিবির সদরদপ্তরে সংস্থার প্রেসিডেন্ট মাসাতসুগু আসাকাওয়ার সঙ্গে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে এডিবির প্রেসিডেন্ট অর্থমন্ত্রীকে এ বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন বলে অর্থমন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

ম্যানিলায় এডিবির বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে গত সোমবার ঢাকা ছাড়েন অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল। মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এ সম্মেলন শেষ হবে ৩০ সেপ্টেম্বর।

বিশ্বব্যাংকের পর এডিবি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম উন্নয়ন সহযোগী। বর্তমানে বাংলাদেশে সংস্থাটির অর্থায়নের পরিমাণ ২ হাজার ৭৬০ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা।

বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার ভুয়সী প্রশংসা করেন এডিবির প্রেসিডেন্ট এবং যে কোনো বিপদে বাংলাদেশের পাশে সব সময় থাকবেন বলে জানান তিনি।

বৈঠকে বাজেটের পাশাপাশি নীতি-সহায়তায় এডিবির সহযোগিতা চান অর্থমন্ত্রী।

জবাবে মি. মাসাতসুগু বলেন, বাংলাদেশকে তারা সব সময় গুরুত্ব দেন এবং ভবিষ্যতে এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে এডিবি বাংলাদেশের বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করায় এডিবির প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানান মুস্তফা কামাল।

দ্বিপাক্ষিক আলাপকালে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের পরিমাণ মাত্র ৩৪ শতাংশ, যা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে কম। বাংলাদেশ অত্যন্ত সক্ষমতার সাথে নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করে চলেছে। কখনই ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়নি।

বাংলাদেশের উন্নয়নের মাইলফলক অর্জনে এডিবির অব্যাহত সমর্থন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

মহামারি কোভিডের অভিঘাত মোকাবিলায় এডিবি দ্রুত সাড়া দেয়ায় প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাস্থ্য সংকট থেকে পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে এডিবি যেভাবে এগিয়ে এসেছে, তা দেখে আমরা অভিভূত। ভ্যাকসিন কেনার জন্য সময়মতো অর্থ না দিলে বাংলাদেশের পক্ষে দ্রুত করোনা মোকাবিলা করা কঠিন হতো।’

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, এডিবি বাংলাদেশের জন্য ২০২১-২০২৫ মেয়াদে কান্ট্রি পার্টনারশিপ স্ট্র্যাটেজি তৈরি করেছে – এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর আওতায় ১২-১৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ সহয়তার যোগান থাকবে বলে আশা করা যায়।

বাংলাদেশর অগ্রগতি তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী ও বিচক্ষণ নেতৃত্বে বাংলাদেশ সকল আর্থ-সামাজিক সূচকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের উন্নয়ন বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।’

জলবায়ু অভিযোজন, প্রশমন এবং দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে বাংলাদেশে এডিবির সহায়তা কামনা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, জলবায়ুর অভিঘাত মোকাবিলায় মিশ্র অর্থায়নের পরিবর্তে নমনীয় ঋণ সহায়তা হবে বাস্তবসম্মত পদ্ধতি।

বাংলাদেশ ও এডিবির সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তির উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী বছর বাংলাদেশ ও এডিবির জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। ২০২৩ সাল আমাদের অংশীদারত্বের ৫০তম বার্ষিকী হবে।’

এ উপলক্ষে এডিবি প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান মুস্তফা কামাল।

এডিবির শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ থেকে বিশেষ করে ভাইস-প্রেসিডেন্ট নিয়োগের প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী।

এডিবির প্রেসিডেন্ট মাসাতসুগু আসাকাওয়া বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও সক্ষমতার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ বাংলাদেশের সক্ষমতার একটি প্রতীক।

কোভিড-১৯ মহামারির কারণে সৃষ্ট স্বাস্থ্যগত ও আর্থ-সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের নেয়া পদক্ষেপ এবং টিকা কার্যক্রমেরও প্রশংসা করেন তিনি। বলেন, শুরু থেকেই বাংলাদেশের প্রতি এডিবির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

এবারের বার্ষিক সভায় বাংলাদেশ যে বিষয়গুলো তুলে ধরেছে, সেগুলোও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি।

করোনা মহামারি কাটিয়ে উঠতে বাংলাদেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা পুনরুদ্ধারে এডিবি শুরু থেকেই বাংলাদেশের পাশে থেকে সহযোগিতা করছে এবং ভবিষ্যতেও সংস্থাটি বাংলাদেশের পাশে সবসময় থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এটির প্রেসিডেন্ট।

ফিলিপাইনের অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক

বাংলাদেশ ও ফিলিপাইনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

মঙ্গলবার এডিবির সদরদপ্তরে বার্ষিক সভার পাশাপাশি ফিলিপাইনের অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে এ আহবান জানান তিনি।

মুস্তফা কামাল বলেন, বাংলাদেশ এবং ফিলিপাইন এ বছর কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্ণ করেছে। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাকে আরও জোরদার করতে যৌথ কৌশল প্রণয়ন করার প্রস্তাব দেন বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী।

দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ মাত্র ১০৮ মিলিয়ন ডলার। বাণিজ্য বাড়াতে সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো জোরদার করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, ওষুধ, কৃষি পণ্য, হালকা প্রকৌশল, পাট এবং পাটজাত পণ্য হচ্ছে সম্ভাবনাময় খাতগুলো। এসব খাতে নজর দিলে উভয় দেশের বাণিজ্য বাড়বে।

আরও পড়ুন:
সোয়া লাখ কোটি টাকা ছাড়াল খেলাপি ঋণ
গম-ভুট্টা চাষিদের জন্য হাজার কোটি টাকার তহবিল
চাপ সামলাতে ৬৫০ কোটি ডলার ঋণ চেয়েছে সরকার
১০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছাড়াল বিদেশি ঋণ
কৃষিতে বাড়ল ঋণের লক্ষ্যমাত্রা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Western Marine declares but does not pay dividends

লভ্যাংশ ঘোষণা করে কিন্তু দেয় না ওয়েস্টার্ন মেরিন

লভ্যাংশ ঘোষণা করে কিন্তু দেয় না ওয়েস্টার্ন মেরিন ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড। ফাইল ছবি
২০২১ সালের জুনে সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য কোম্পানিটি নো ডিভিডেন্ড ঘোষণা করলেও গত ২৩ ডিসেম্বর বার্ষিক সাধারণ সভা বা এজিএমে সে প্রস্তাব বাতিল করে ১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করে। কিন্তু সেই লভ্যাংশ বিতরণ করার কোনো ঘোষণা পরে আর আসেনি। আগের বছর কোম্পানিটি ৩ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করে, কিন্তু সে বছরও তা বিতরণ করা হয়নি।

নো ডিভিডেন্ড ঘোষণার পর পড়তির দিকে থাকা শেয়ারদর তরতর করে বাড়তে থাকে এজিএমে এক শতাংশ লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্তে। অল্প কয়েক দিনের মধ্যে শেয়ারদর ৫০ শতাংশ বেড়েও যায়। তবে সেই লভ্যাংশ আর বিতরণ করা হয়নি।

এই কাণ্ড করেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড। ২০২১ সালের জুনে সমাপ্ত অর্থবছরের লভ্যাংশ ঘোষণার পর এই কাণ্ড করেছে তারা। আগের বছরেও একই কাজ করেছে কোম্পানিটি।

ঘোষিত লভ্যাংশ বিতরণ করে যে প্রতিবেদন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ বা ডিএসইতে দেয়ার কথা ছিল, সেটি জমা দেয়া হয়নি। বিষয়টি অবহিত করে নির্দেশনা চেয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি।

অভিযোগ উঠেছে, লভ্যাংশ সংক্রান্ত এসব ঘোষণা দিয়ে শেয়ারদর বাড়িয়ে কোম্পানির কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হচ্ছেন। এ নিয়ে যোগাযোগ করা হলে কোম্পানির পক্ষ থেকে বক্তব্য দেয়ার জন্য কাউকে পাওয়া যায়নি।

নো ডিভিডেন্ডের সিদ্ধান্ত পাল্টানোর পর শেয়ারদরে লাফ

২০২১ সালের জুনে সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য কোম্পানিটি নো ডিভিডেন্ড ঘোষণা করলেও গত ২৩ ডিসেম্বর বার্ষিক সাধারণ সভা বা এজিএমে সে প্রস্তাব বাতিল করে ১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করে।

কিন্তু সেই লভ্যাংশ বিতরণ করার কোনো সিদ্ধান্ত আর জানানো হয়নি।

২০২১ সালের ১১ নভেম্বর কোম্পানিটি লভ্যাংশ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার দিন শেয়ারদর ছিল ১১ টাকা ১০ পয়সা। পরিচালনা পর্ষদের এই সিদ্ধান্তের পর শেয়ারদর কমে আসে ৯ টাকা ৫০ পয়সা।

এজিএমের দিন শেয়ারদর ছিল ১০ টাকা ২০ পয়সা। লভ্যাংশ সংক্রান্ত ঘোষণা পাল্টানোর সিদ্ধান্ত আসার পর শেয়ারদর আবার দেয় লাফ। ১২ কর্মদিবস পর ১০ জানুয়ারি শেয়ারদর বেড়ে দাঁড়ায় ১৪ টাকা ৬০ পয়সা। এই সময়ে বাড়ে ৪ টাকা ৪০ পয়সা বা ৪৩ দশমিক ১৩ শতাংশ।

যে কোম্পানিটির ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে যাওয়ার কথা ছিল, লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্তের কারণে সেটি আর সেই ক্যাটাগরিতে না গিয়ে ‘বি’তে লেনদেন হতে থাকে।

বিএসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম নিউজবাংলাকে জানান, বিধান হলো এজিএমে লভ্যাংশ অনুমোদনের ৩০ দিনের মধ্যে তা বিনিয়োগকারীর হিসাবে পাঠাতে হবে। লভ্যাংশ শেয়ারে দেয়ার সিদ্ধান্ত হলে তা পাঠাতে হয় বিও হিসাবে আর নগদে হলে দিতে এখন সরাসরি ব্যাংক হিসাবে পাঠাতে হয়। আর যদি বিনিয়োগকারী মার্জিন ঋণ নিয়ে শেয়ার কিনে থাকেন, তাহলে নগদ লভ্যাংশও যাবে বিনিয়োগকারীর বিও হিসাবে।

কিন্তু এজিএমের ১০ মাসেও পর্যন্ত লভ্যাংশ বিতরণ সংক্রান্ত কোনো বিজ্ঞপ্তি শেয়ারধারীদেরকে জানানো হয়নি।

আগের বছর একই চিত্র

২০২০ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ৩ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড। এর মধ্যে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ নগদ ও বাকি ২ দশমিক ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার। অর্থাৎ প্রতি ২০০ শেয়ারের বিপরীতে পাঁচটি বোনাস শেয়ার ও ১০ পয়সা নগদ বিতরণ করা হয়।

ওই বছরের ২৯ ডিসেম্বর এজিএমে সেই লভ্যাংশ অনুমোদনও হয়। কিন্তু সে বছরও লভ্যাংশ বিতরণ করে কোনো প্রতিবেদন দেয়া হয়নি।

পরিচালনা পর্ষদ লভ্যাংশ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর দিন শেয়ারদর ছিল ১১ টাকা ৫০ পয়সা। পরের বছর ৫ আগস্ট দর বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ টাকা।

কোম্পানিটি ২০২১ সালের জুনে সমাপ্ত অর্থবছরের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করার পর এখন পর্যন্ত কোনো প্রান্তিক প্রতিবেদনও প্রকাশ করেনি। অথচ এরই মধ্যে আরও একটি অর্থবছর শেষ হয়ে গেছে। জুনে যেসব কোম্পানির অর্থবছর শেষ হয়, সেগুলোর মধ্যে বেশ কিছু কোম্পানি তাদের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে লভ্যাংশও ঘোষণা করেছে, হাতে গোনা এক দুইটি বাদ দিয়ে বাকিগুলো মার্চে সমাপ্ত তৃতীয় প্রান্তিকের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কয়েক মাস আগেই।

ডিএসইর চিঠিতে যা বলা হয়েছে

বিএসইসিতে পাঠানো ডিএসইর চিঠিতে বলা হয়, ডিএসইর ২০১৫ সালের রেগুলেশনস অনুযায়ী- তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে এক্সচেঞ্জ ও বিএসইসিতে লভ্যাংশ প্রদান সংক্রান্ত প্রতিবেদন সাতদিনের মধ্যে কমিশন নির্ধারিত ফরম্যাটে জমা দিতে হবে।

এর ব্যত্যয় ঘটলে সেই কোম্পানিকে কমিশনের অনুমোদনক্রমে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করার বিধান রয়েছে। কিন্তু ওয়েস্টার্ন মেরিন দুই বছর ধরে ডিভিডেন্ড কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা না দেয়ার পরও তাদের ‘ক্যাটাগরি’ সমন্বয় হয়নি।

ডিএসইর ওয়েব সাইট দেয়া কোম্পানির যোগাযোগ নম্বরে ফোন করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

নিউজবাংলা ডিএসইর চিঠিটি পেলেও সংস্থাটির মুখপাত্র ও উপ-মহাব্যবস্থাপক শফিকুর রহমান বলেন, ‘চিঠির বিষয়টি আমার জানা নেই। না জেনে কিছুই বলতে পারব না।’

ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাইফুর রহমান মজুমদারের ফোনে কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

পুঁজিরবাজারে তালিকাভুক্ত ওয়েস্টার্ন শিপইয়ার্ডের অনুমোদিত মূলধন ৬০০ কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন ২৩৫ কোটি ২০ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এর বিপরীতে রিজার্ভ রয়েছে ২৬১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।

বর্তমানে কোম্পানিটির শেয়ার সংখ্যা ২৩ কোটি ৫২ লাখ ৩ হাজার ৭৬৯টি। এর মধ্যে ৩০ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালক, ১৬ দশমিক ১৪ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও বাকি ৫৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।

আরও পড়ুন:
সিংহভাগ কোম্পানি ফ্লোরে, নামছে আরও অনেকগুলো
ব্যবসা বৃদ্ধির চুক্তি, সাইফ পাওয়ারের মুনাফা বাড়বে ২৫ কোটি
রেকর্ডের চার দিনের মাথায় লেনদেন অর্ধেকের নিচে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Illegal Anika Agro fake fertilizer taken by legitimate company

অবৈধ আনিকা এগ্রোর নকল সার নিতো ‘বৈধ কোম্পানি’

অবৈধ আনিকা এগ্রোর নকল সার নিতো ‘বৈধ কোম্পানি’ কাহালুর অবৈধ আনিকা এগ্রো কারখানায় অভিযান চালিয়ে সার তৈরির কাঁচামাল ও এসিড জব্দ করা হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা
আদালত সূত্র জানায়, সার উৎপাদনে আনিকা এগ্রোর সরকারি কোনো দপ্তরের অনুমোদন নেই। কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে গোপনে নিম্নমানের ও নকল সার সরবরাহ করতো। ওইসব প্রতিষ্ঠান এই সার নিজ নিজ নামে প্যাকেটিং করে বাজারজাত করে।

সরকারি অনুমোদন ছাড়াই বগুড়ার কাহালুতে এক বছর ধরে দস্তার সার উৎপাদন করছে আনিকা এগ্রো নামের একটি প্রতিষ্ঠান। বৈধ বিভিন্ন কোম্পানি এসব সার নিয়ে নিজেদের লেভেল লাগিয়ে বাজারজাত করে আসছে।

এমন তথ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে সাড়ে চার লাখ টাকা জরিমানা করে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করেছে।

উপজেলার নিশ্চিন্তপুর বৌ-বাজার এলাকায় মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে এ অভিযান চালায় জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)।

অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল নাইম।

আদালত সূত্র জানায়, সরকারি অনুমোদন না নিয়ে কাহালুতে আনিকা এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ নামের কারখানায় এক বছর ধরে জিঙ্ক সালফেট সার উৎপাদন হচ্ছে। জাকির হোসেন নামে এক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করেন। তার বাড়ি ঝিনাইদহ সদরে, তিনি বগুড়া সদরে ভাড়া বাসায় থাকেন।

এই সার উৎপাদনে সরকারি কোনো দপ্তরের অনুমোদন নেই। কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে গোপনে নিম্নমানের ও নকল সার সরবরাহ করে। ওইসব প্রতিষ্ঠান এই সার নিজ নিজ নামে প্যাকেটিং করে বাজারজাত করে।

অভিযানে ১৮ শ বস্তা সার তৈরির কাঁচামাল, ২৫ বস্তা জিঙ্ক সালফেট ও ১৬ ড্রাম এসিড জব্দ করা হয়।

এ সব বিষয় নিশ্চিত করেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল নাইম।

তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের কোনো কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। এদের উৎপাদনের অনুমতিও নেই। এ জন্য কারখানায় বেশ কিছু মালামাল জব্দ করা হয়েছে। এসব অপরাধে প্রতিষ্ঠানকে সাড়ে চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। কারখানাটি সিলগালা করে দেয়া হয়েছে।

জান্নাতুল নাইম আরও বলেন, এ কারখানা থেকে সারের নমুনা সংগ্রহের জন্য উপজেলা কৃষি অফিসকে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সারের মজুত পর্যাপ্ত, তবুও শঙ্কায় কৃষিমন্ত্রী
সার বিতরণে অনিয়মে ডিলারশিপ বাতিল

মন্তব্য

বাংলাদেশ
96 days toll 200 crore construction cost 38 years

৯২ দিনে টোল ২০০ কোটি, নির্মাণ ব্যয় উঠতে ‘৩৮ বছর’

৯২ দিনে টোল ২০০ কোটি, নির্মাণ ব্যয় উঠতে ‘৩৮ বছর’
সেতুর নির্মাণ ব্যয়ের ০.৬৬ শতাংশের মতো উঠে এসেছে তিন মাসে কম সময়ে। এই হারে টোল আদায় হলে সেতুর নির্মাণ ব্যয় ব্যয় ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা উঠবে ৩৮ বছরে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশা করছেন, ভবিষ্যতে এই রুটে গাড়ি বাড়বে এবং নির্মাণ ব্যয় ২০ বছরে উঠে আসবে। সেটি করতে হলে বর্তমান হারের চেয়ে টোল আদায় বাড়াতে হবে পৌনে দুই গুণ।

উদ্বোধনের তিন মাসের মাথায় পদ্মা সেতুর টোল আদায় দুই শ কোটি টাকা ছাড়িয়ে।

গত ২৬ জুন থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯২ দিনে মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তে মোট টোল আদায় হয়েছে ২০১ কোটি ১৩ লাখ ২৭ হাজার ৫০ টাকা। এই সময়ে সেতু পারাপার হয়েছে ১৪ লাখ ৪৭ হাজার ৮৫২ টি যানবাহন।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আব্দুল কাদের নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, সেতু দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১৫ হাজার ৫৬৮ টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, প্রতিদিন গড়ে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ১৬ লাখ ২৭ হাজার ১৭২ টাকা।

অর্থাৎ সেতুর নির্মাণ ব্যয়ের ০.৬৬ শতাংশের মতো উঠে এসেছে তিন মাসে কম সময়ে। এই হারে টোল আদায় হলে সেতুর নির্মাণ ব্যয় ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা উঠবে ৩৮ বছরে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশা করছেন, ভবিষ্যতে এই রুটে গাড়ি বাড়বে এবং নির্মাণ ব্যয় ২০ বছরে উঠে আসবে। সেটি করতে হলে বর্তমান হারের চেয়ে টোল আদায় বাড়াতে হবে পৌনে দুই গুণ।

৯২ দিনে টোল ২০০ কোটি, নির্মাণ ব্যয় উঠতে ‘৩৮ বছর’
পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় এমন ভিড় থাকে প্রায় সব সময়

গত ২৫ জুলাই পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরদিন ২৬ জুলাই ভোর থেকে যান চলাচলের জন্য উন্মোচিত হয় সেতুটি। সেতুতে বিশৃঙ্খলা এড়াতে বন্ধ রয়েছে মোটরসাইকেল চলাচল। তা না হলে টোল আরও বাড়তে পারত।

সর্বোচ্চ আদায় জুলাইয়ে, পরের দুই মাসে নিম্নমুখি

সেতু চালুর পর জুন মাসের ৫ দিনে ২৩ হাজার ৪২১ গড়ে পদ্মা সেতু পারাপার হয় মোটরসাইকেল সহ ১ লাখ ১৭ হাজার ১০৪ টি যানবাহন। এই মাসের ৫ দিনে রাজস্ব আদায় হয় ১০ কোটি ১৪ লাখ ১ হাজার টাকা।

জুলাই মাসে সর্বোচ্চ ৭৮ কোটি ৫০ লাখ ১৯ হাজার ৪০০ টাকা টোল আদায় হয়েছে। এই মাসে সর্বোচ্চ ৫ লাখ ৮৭ হাজার ২০ টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে প্রতিটি যানবাহন থেকে গড়ে ১ হাজার ৩৮৯ টাকা করে টোল আদায় করা হয়েছে।

এই মাসের ৩১ দিনে যানবাহন পারাপার হয় ৫ লাখ ৮৭ হাজার ২০টি, ওই মাসে টোল আদায় হয় ৭৮ কোটি ৫০ লাখ ১৯ হাজার ৪০০ টাকা।

পরের মাস আগস্টের ৩১ দিনে সেতু পারাপার হওয়া ৪ লাখ ১২ হাজার ৩০৩টি যানবাহন থেকে টোল বাবাদ আদায় হয় ৬১ কোটি ৯৭ লাখ ৩৪ হাজার ৪০০ টাকা।

সেপ্টেম্বর মাসের ২৬ দিনে সেতু পার হওয়া ৩ লাখ ৩১ হাজার ৪২৫টি যানবাহন থেকে টোল আদায় হয় ৫০ কোটি ৫১ লাখ ৭১ হাজার ৪০০ টাকা।

এক দিনের হিসেবে সর্বোচ্চ ৫১ হাজার ৩১৬টি যানবাহন পারাপার হয় গত ১৬ জুন, আর টাকার অঙ্কে সর্বোচ্চ আদায় হয় গত ৮ জুলাই ৪ কোটি ১৯ লাখ ৩৯ হাজার ৬৫০ টাকা।

পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আব্দুল কাদের আশা করছেন, কালনা সেতুর চালু হলে পদ্মা সেতুতে যানবাহনের চাপ আরও বাড়বে। প্রতিদিন গড়ে অতিরিক্ত অন্তত ৫০০ থেকে ৮০০ যানবাহন পারাপার হবে এই পথে। এতে আগামীতে সেতুর রাজস্ব আয় আরও অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে।

আরও পড়ুন:
পদ্মা সেতু চালুর পর শীতনিদ্রায় বরিশালের আকাশপথ
পদ্মা সেতুর প্রভাবে আবেদন হারানো লঞ্চে ভাড়া শতভাগ বাড়ানোর দাবি
শতকোটির মাইলফলকে পদ্মা সেতুর টোল
পদ্মার ট্রেন জবির নতুন ক্যাম্পাসে থামবে কি না
পদ্মা সেতুতে ট্রেন: দুই প্রান্তে দিন-রাত কাজ চলছে

মন্তব্য

p
উপরে