× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

বাংলাদেশ
Life sentence of three in drug case
hear-news
player
print-icon

মাদক মামলায় তিনজনের যাবজ্জীবন

মাদক-মামলায়-তিনজনের-যাবজ্জীবন মাদক মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত কার্তিক দেবনাথ। ছবি: নিউজবাংলা
আইনজীবী এমদাদুল হক বলেন, ‘সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত এই দুই মামলার তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। তাদের মধ্যে জুয়েল ও জহুরুলকে আমৃত্যু কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। আর কার্তিক দেবনাথকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক।’

নড়াইলে মাদকের দুই মামলায় তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

নড়াইল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুন্সী মশিয়ার রহমান বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ রায় দেন।

দণ্ডিতরা হলেন যশোর সদর থানার খোজারহাট দক্ষিণপাড়ার কার্তিক দেবনাথ এবং চৌগাছা থানার হুদাপাড়ার জুয়েল রানা ও কারিগরপাড়ার জহুরুল ইসলাম।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এমদাদুল হক নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১৩ সালের ১১ অক্টোবর নড়াইল যশোর সড়কের আবাদ এলাকায় কার্তিক দেবনাথের কাছ থেকে ৫২ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। কার্তিক ফেনসিডিল নিয়ে যশোর থেকে নড়াইলে আসছিলেন। পুলিশ তার নামে সদর থানায় মামলা করে।

এর আগে সদর থানায় জুয়েল ও জহুরুলের নামে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়।

ওই এজাহারে বলা হয়, ২০১২ সালের ১০ নভেম্বর সকালে নড়াইল-যশোর সড়কের চাঁচড়া এলাকায় জুয়েল ও জহুরুলের কাছ থেকে ২০২ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। এরপর তাদের নামে মামলা করে পুলিশ।

আইনজীবী এমদাদুল হক বলেন, ‘সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত এই দুই মামলার তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। তাদের মধ্যে জুয়েল ও জহুরুলকে আমৃত্যু কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

‘কার্তিক দেবনাথকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক।’

জুয়েল ও জহুরুল জামিনে পলাতক আছেন বলে জানিয়েছেন আইনজীবী।

আরও পড়ুন:
শিশুকে অপহরণে দুইজনের যাবজ্জীবন
মাদকাসক্ত ছেলেকে পুলিশে দিলেন মা-বাবা
স্কুলছাত্র অপহরণের দায়ে যাবজ্জীবন
মদ কেন মাদক, জিজ্ঞাসা হাইকোর্টের
স্ত্রী হত্যা: কুষ্টিয়া-নড়াইলে মৃত্যুদণ্ড, নওগাঁয় যাবজ্জীবন

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Mystery surrounding the death of the newlyweds

নবদম্পতির মৃত্যু ঘিরে রহস্য

নবদম্পতির মৃত্যু ঘিরে রহস্য
সেতু আক্তারের বাবা তারা মিয়া বলেন, ‘তারা স্বামী-স্ত্রী সুখেই ছিল। প্রায় দিনই মোবাইলে কথা বলতাম। গত রাত ১২টার দিকেও মেয়ের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলেছি।’

তিন মাস আগেই বিয়ে হয়েছিল। নববধূর হাতে মেহেদির রং এখনও শুকায়নি। এর মধ্যেই বিষপান করে একসঙ্গে আত্মহত্যা করেছেন স্বামী-স্ত্রী! কিন্তু এ ঘটনাটিকে রহস্যজনক বলছে তাদের স্বজন ও পরিচিতরা। কারণ মাত্র তিন মাসেই সুখী দম্পতি হিসেবে সবার কাছে পরিচিতি পেয়েছিলেন তারা।

ময়মনসিংহের সদর উপজেলার ভাটি দাপুনিয়া এলাকায় রোববার মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নবদম্পতির এমন মৃত্যুকে রহস্যজনক বলছে পুলিশও।

নিহত দম্পতির মধ্যে ২২ বছর বয়সী স্বামী রনি মিয়া ভাটি দাপুনিয়া এলাকার মৃত শামসুল হকের ছেলে। রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন তিনি। আর ১৯ বছর বয়সী স্ত্রী সেতু আক্তার নগরীর বলাশপুর কসাইপাড়া এলাকার তারা মিয়ার মেয়ে।

নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক ফারুক হোসেন।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি জানান, তিন মাস আগে রনি ও সেতুর বিয়ে হয়। তাদের মধ্যে মধুর সম্পর্ক ছিল। রোববার মধ্যরাতে নিজ বাড়িতে বিষ পান করেন তারা।

বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় লোকজন ওই নবদম্পতিকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে ভোর ৪টার দিকে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

সেতু আক্তারের বাবা তারা মিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তারা স্বামী-স্ত্রী সুখেই ছিল। প্রায় দিনই মোবাইলে কথা বলতাম। গত রাত ১২টার দিকেও মেয়ের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলেছি। তখন তারা ভালোই ছিল। কথা বলার আধঘণ্টা পর শুনি মেয়ে অসুস্থ। পরে হাসপাতালে গিয়ে জানতে পারি মেয়ে আর জামাই বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছে।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, ‘আমার মেয়ে আত্মহত্যা করার মতো মেয়ে না। কীভাবে কী হলো বুঝতে পারছি না।’

দাপুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হাফিজুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে ছুটে গেছি। এরা এভাবে মারা যাবে কল্পনাও করিনি। মৃত্যুটি রহস্যজনক মনে হচ্ছে। কারণ দুইজনের সুখের সংসার ছিল।’

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি শাহ কামাল আকন্দ বলেন, ‘মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তাদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যু রহস্যজনক। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আরও পড়ুন:
গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু: অপেক্ষা সিআইডির প্রতিবেদনের
কুষ্টিয়ায় নিজ বাড়িতে নারীর মৃত্যুকে ঘিরে রহস্য
মানুষের জিন রহস্যের শতভাগ উন্মোচন
‘এতিম বলায়’ বন্ধুকে গলা কেটে হত্যা
হারিছ চৌধুরীর রহস্যময়তা ও কিছু প্রশ্ন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Suffering is decreasing in Sunamganj

সুনামগঞ্জে কমছে পানি, বাড়ছে দুর্ভোগ

সুনামগঞ্জে কমছে পানি, বাড়ছে দুর্ভোগ বাড়িঘর থেকে বন্যার পানি নামতে শুরু করলেও দুর্ভোগ বেড়েছে মানুষের। ছবি: নিউজবাংলা
সুনামগঞ্জ শহরের শান্তিবাগের বাসিন্দা বিমল রায় বলেন, ‘চার দিন আগে ঘরে পানি উঠেছিল। এখন পানি নামা শুরু করেছে, কিন্তু ঘরে পানি আইয়া সব জিনিস নষ্ট করি দিসে। ছেলেটাও অসুস্থ হই গেছে এই পানিতে থেকে।’

দুই সপ্তাহ ধরে লাগাতার বৃষ্টি ও উজানের ঢলে প্লাবিত হয়েছে সুনামগঞ্জের হাওরের জনপদ। টানা ছয় দিন সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও শনিবার রাত থেকে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ফলে সুনামগঞ্জে বাড়ি-ঘর থেকেও বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। তবে পানি কমলেও হাওরপাড়ের মানুষের বেড়েছে দুর্ভোগ। বিশুদ্ধ ও নিরাপদ পানির সঙ্কটে পড়েছেন বাসিন্দারা।

সুনামগঞ্জ শহরের শান্তিবাগের বাসিন্দা বিমল রায় নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চার দিন আগে ঘরে পানি উঠেছিল। এখন পানি নামা শুরু করেছে, কিন্তু ঘরে পানি আইয়া সব জিনিস নষ্ট করি দিসে। ছেলেটাও অসুস্থ হই গেছে এই পানিতে থেকে।’

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা লালপুর এলাকার শ্রমজীবী রোকন আলী বলেন, ‘পানি কমলেও সারা ঘর জুড়িয়া পানির পচা গন্ধ। আমরা নদী থাকি পানি আনিয়া খাইতাম, এখন এই পানিও ভালা না। অনেক দূর থেকে টিউবওয়েল থেকে পানি আনিয়া খাইরাম।’

শহরের উত্তর আরপিন নগর এলাকা লুকনা বিবি বলেন, ‘দুই মেয়ে স্বামী নিয়া তিনদিন হাঁটু পানিতে থেকেছি। এখন পানি নামছে তো বড় মেয়ের ডায়রিয়া আর ছোট মেয়ের সারা শরীরও চুলকানি। ফার্মেসি থাকি তারার বাবায় ওষুধ আনিয়া দিসোইন এগুলো খাওয়াচ্ছি।’

শহরতলির ভাদেরটেক গ্রামের বাসিন্দা মোবারক আলী বলেন, ‘১২ মে সড়ক ভেঙে করচার হাওরের উঁচু এলাকায় পানি ঢুকে ধান ডুবেছিল। পানির নিচ থেকে কেউ কেউ ধান কেটে এনেছিলেন, কিন্তু এই ধান শুকানোর সুযোগ না পাওয়ায় পচে নষ্ট হচ্ছে আবার অনেক ধানে চারা উঠে গিয়েছে।’

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শামছুদ্দোহা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। সোমবার সকালে সুরমা নদীর পানি ২২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।’

সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘আবহাওয়া এখন ভালো, ২৪ ও ২৫ মে বৃষ্টি কমবে। এই দুদিন উজানেও (মেঘালয়-চেরাপুঞ্জি) বৃষ্টি কম হবে।’

বানের জলে ভেসে গেছে ১২৫০ পুকুরের মাছ

জেলায় পাহাড়ি ঢলে ধানের পাশাপাশি মাছেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সরকারি হিসাবে ১ হাজার ২৫০টি পুকুরের মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে।

সেরা মৎস্য খামারির পুরস্কার পাওয়া ক্ষতিগ্রস্ত আব্দুর রহিম জানান, ব্যাংক থেকে ১২ লাখ টাকা ঋণ তুলে মাছ চাষ করেছিলেন তিনি। বলেন, ‘রুই, মৃগেলসহ দেশীয় জাতের পোনাও বেশি ছেড়েছিলাম এবার। কিন্তু চাষের বেশির ভাগ মাছই বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। এখন কী করবেন বুঝতে পারছি না।’

জেলা মৎস্য কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সীমা রানী বিশ্বাস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জেলার ২০ হাজার ৪৬৯টি মাছের পুকুরের মধ্যে ১ হাজার ২৫০ পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। ১৬ হাজার ৫০০ খামারির মধ্যে ১ হাজার ১০০ খামারি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

‘প্রায় ৩ কোটি টাকার বড় মাছ, ৩০ লাখ টাকার পোনা মাছ ভেসে গেছে। ১২ লাখ টাকার অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে।’

সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ৫টি উপজেলা বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। বন্যার্ত এলাকায় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে চাল, নগদ টাকা ও শুকনো খাবার পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। যারা আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন, আমরা তাদের খোঁজ-খবর নিচ্ছি। সেখানও ত্রাণসামগ্রী দেয়া হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
মন্ত্রীর অনুষ্ঠানে ত্রাণ নিয়ে কাড়াকাড়ি, পুলিশের ‘লাঠিপেটা’
সুনামগঞ্জে পানি কমলেও কাটেনি শঙ্কা
সিলেট শহর ছেড়ে গ্রামে যাচ্ছেন বন্যার্তরা
কমতে শুরু করেছে সুরমার পানি
৩ নদীর মোহনার বাঁধ ভেঙে সিলেটে বাড়ল পানি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
An old man was killed by an ambulance in front of the emergency department

জরুরি বিভাগের সামনে অ্যাম্বুলেন্সচাপায় বৃদ্ধ নিহত

জরুরি বিভাগের সামনে অ্যাম্বুলেন্সচাপায় বৃদ্ধ নিহত
ওসমানী হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সমন্বয়ক কায়সার খোকন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের এখানে আনার আগেই আব্দুল মালিক মারা যান। তিনি মাথায় আঘাত পেয়েছিলেন।’

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের সামনে অ্যাম্বুলেন্সচাপায় এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন।

সোমবার দুপুরে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো আব্দুল মালিকের বাড়ি মৌলভীবাজারে।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) বি এম আশরাফ উল্লাহ তাহের।

ওসমানী হাসপাতাল ফাঁড়ি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বেলা ২টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে পার্কিং করার সময় আব্দুল মালিককে চাপা দেয় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অ্যাম্বুলেন্স। সঙ্গে সঙ্গে তাকে জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

ওসমানী হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সমন্বয়ক কায়সার খোকন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের এখানে আনার আগেই আব্দুল মালিক মারা যান। তিনি মাথায় আঘাত পেয়েছিলেন।’

হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক জানান, হাসপাতাল চত্বরের ভেতর সব সময় বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ভিড় থাকে। তাদের কারণে রোগীদেরও দুর্ভোগও পোহাতে হয়। এসব অ্যাম্বুলেন্সের অদক্ষ চালকরা হাসপাতাল চত্বরেও বেপোরোয়া গতিতে গাড়ি চালায়।

পুলিশ কর্মকর্তা বি এম আশরাফ উল্লাহ তাহের বলেন, পুলিশ অ্যাম্বুলেন্সটি আটক করেছে। তবে চালক সবুজ আহমদ পালিয়ে গেছেন। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন:
অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেল বৃদ্ধার
আলমসাধুর ধাক্কায় মোটরসাইকেলচালক নিহত
থেমে থাকা মাইক্রোতে ধাক্কা, নারী নিহত
মজুরির ধান নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ২ শ্রমিক নিহত
বাসচাপায় কলেজছাত্র নিহত, শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Wife and children beaten to death Accused in jail

স্ত্রী-সন্তানদের পিটিয়ে হত্যা: আসামি কারাগারে

স্ত্রী-সন্তানদের পিটিয়ে হত্যা: আসামি কারাগারে স্ত্রী-সন্তানদের হত্যার মামলায় গিয়াসউদ্দিনকে তোলা হচ্ছে আদালতে। ছবি: নিউজবাংলা
গিয়াস পিবিআইকে জানান, স্ত্রী-সন্তানদের হত্যা করে প্রতিবেশী রেনুকে ফাঁসিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিজের অনুকূলে নিতে পারবেন ও বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্ক চালিয়ে যেতে পারবেন বলে গিয়াস ধারণা করেন। সেই ধারণা থেকে তিনি স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তানকে ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেন।

নরসিংদীর বেলাবতে স্ত্রীসহ দুই সন্তানকে হত্যার মামলায় গিয়াসউদ্দিন শেখকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। এর আগে তিনি আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

জেলার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম চতুর্থ আদালতে সোমবার বিকেলে তোলা হলে বিচারক রকিবুল হক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নরসিংদীর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক মো. সালাউদ্দিন নিউজবাংলাকে এসব নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গিয়াসের নামে তার শ্যালক মো. মোশারফ রোববার রাতে বেলাব থানায় হত্যা মামলা করেন।

জিজ্ঞাসাবাদে গিয়াসের দেয়া তথ্যের বরাতে পরিদর্শক সালাউদ্দিন জানান, তিনি রংমিস্ত্রির ঠিকাদারের কাজ করেন। তার জমি ও বাড়ি নিয়ে প্রতিবেশী রানু শেখের সঙ্গে অনেকদিনের বিরোধ ছিল। তিনি নিয়মিত জুয়া খেলতেন। জুয়ার জন্য বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা, এলাকার লোকজন ও শ্বশুরবাড়ির অনেকের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছিলেন বিভিন্ন সময়। সব মিলিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকার মতো ঋণ তার। পাশাপাশি আরেক নারীর সঙ্গে তার বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্কও চলছিল।

গিয়াস পিবিআইকে আরও জানান, ঘটনার সপ্তাহখানেক আগে রেনু শেখের সঙ্গে জমির বিরোধের জেরে তার তর্কাতর্কি হয়, যা হাতাহাতি পর্যন্ত গড়ায়। এরপর থেকে রেনুর উপর ক্ষুব্ধ হন তিনি। সেইসঙ্গে ঋণ পরিশোধের চাপও ছিল। তিনি ভাবেন, স্ত্রী-সন্তানদের হত্যা করে রেনুকে ফাঁসিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিজের অনুকূলে নিতে পারবেন ও বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্ক চালিয়ে যেতে পারবেন। সেই ধারণা থেকে তিনি স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তানকে ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেন।

আরও পড়ুন:
হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
গৃহকর্ত্রীকে কুপিয়ে ‘হত্যা’, গৃহকর্মী আটক
হত্যা মামলায় নারীর যাবজ্জীবন
স্কুলছাত্র হত্যায় ১৭ কিশোরের কারাদণ্ড
বেয়াইনের বিরুদ্ধে বেয়াইকে হত্যার অভিযোগ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Barisal is ashamed to call it the Venice of the East Minister of State for Shipping

ব‌রিশালকে প্রাচ্যের ভে‌নিস বলতে লজ্জা লাগে: নৌ প্রতিমন্ত্রী

ব‌রিশালকে প্রাচ্যের ভে‌নিস বলতে লজ্জা লাগে: নৌ প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের ড্রেজার বেইজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন নৌপ‌রিবহন প্রতিমন্ত্রী খা‌লিদ মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: নিউজবাংলা
নৌপ‌রিবহন প্রতিমন্ত্রী খা‌লিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘৪০ বছরে যা হয়‌নি, ১৩ বছরে তার থেকে বেশি হয়েছে। ২০০৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে এসব সংযুক্ত করেছি আমরা। আগে কেন হয়‌নি? ’৭৫-পরবর্তী কোনো সরকারই নদীমাতৃক বাংলাদেশকে ধরে রাখার চেষ্টা করে‌নি, যা করেছে তা লোক দেখানো।’

নৌপ‌রিবহন প্রতিমন্ত্রী খা‌লিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘ব‌রিশালকে এখন প্রাচ্যের ভে‌নিস বলতে লজ্জা লাগে, কেননা এই অঞ্চলের নদী-খাল দূষণে ভরে গেছে। এগুলো দখল হয়ে গেছে, বন্ধ হয়ে গেছে।’

তা উদ্ধারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হা‌সিনা বিআইড‌ব্লিউ‌টিএর বহরে ৪০টি ড্রেজার সংযুক্ত করেছেন জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী দুই বছরের মধ্যে আরও ৩৫‌টি ড্রেজার সংযুক্ত করা হবে। পাশাপা‌শি দুটি উদ্ধারকারী জাহা‌জ দেয়ার কথাও বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।’

ব‌রিশালে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ড্রেজার বেইজের উদ্বোধনকালে সোমবার দুপুরে প্রধান অ‌তি‌থির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তি‌নি।

এ সময় খা‌লিদ মাহমুদ বলেন, ‘৪০ বছরে যা হয়‌নি, ১৩ বছরে তার থেকে বেশি হয়েছে। ২০০৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে এসব সংযুক্ত করে‌ছি আমরা। আগে কেন হয়‌নি? ’৭৫-পরবর্তী কোনো সরকারই নদীমাতৃক বাংলাদেশকে ধরে রাখার চেষ্টা করে‌নি, যা করেছে তা লোক দেখানো।

‘ব‌রিশাল নদীবন্দরকে আধু‌নিক করতে শিগ‌গিরই কাজ শুরু হবে। নদী রক্ষায় ব‌রিশালে বিআইড‌ব্লিউ‌টিএ কাজ করছে। অল্পদিনের মধ্যে নদীরক্ষা ক‌মিশনের চেয়ারম্যানকে ব‌রিশালে পাঠানো হবে।

‘কীর্তণখোলা নদীসহ যেসব নদী দখল ও দূষণ হয়ে গেছে, সেগুলো চি‌হ্নিত করে নদীর কাছে ফি‌রিয়ে দেয়া হবে। নদীকে শাসন করা যাবে না, নদীকে স‌ঠিক ব্যবস্থাপনার মধ্যে আনতে হবে’ যোগ করেন তিনি।

বিএন‌পি ও এর প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমালোচনা করে এ সময় নৌ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যুবকদের দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মু‌জিবুর রহমান সোনার বাংলা গড়তে চেয়ে‌ছিলেন, আর জিয়াউর রহমান সেই যুবকদের হাতে অস্ত্র-মাদক তুলে দিয়ে‌ছিলেন। মু‌ক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করা হয়েছে। দেশকে অন্ধকারে ঠেলে দেয়ার জন্য যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে এসেছে, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের নিয়ে এসেছে এবং সেখানে মু‌ক্তিযোদ্ধাদের সংযোজন করেছে।

‘বি‌ভিন্ন জায়গা থেকে বি‌ভিন্ন চ‌রিত্র ধরে নিয়ে এসে এক‌টি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে, সেই প্ল্যাটফর্মের নাম আজকের বিএন‌পি। এ রকম জোড়াতা‌লি দেয়া প্ল্যাটফর্ম কি টিকতে পা‌রে? বিএন‌পির উদ্দেশ্যই ছি‌ল দেশকে ধ্বংস করা। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষা কোনো‌দিন স্বাভা‌বিকভাবে চলতে পারে‌নি, চলতে দেয়‌নি খালেদা জিয়া।’

ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা। ভবিষ্যতে বাংলাদেশেও এমন পরিস্থিতি হওয়ার আশঙ্কা আছে কি না; এমন আলোচনাকারীদের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘প্রতি‌দিন সকালে উঠে যারা বলে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হয়ে যাচ্ছে, তারা প্যানিক সৃ‌ষ্টি করছে। ‌পৃ‌থিবীজুড়েই একটা অ‌স্থিরতা চলছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতে কী অবস্থা, ইউরোপের দেশগুলো‌য় কী অবস্থা জিজ্ঞাসা করুন। আমরা তো দেলাওয়ার হোসেন সাঈদী না যে আমরা চাঁদে গিয়ে থাক‌ব।’

বিআইড‌ব্লিউ‌টিএর চেয়ারম্যান গোলাম সাদেকের সভাপ‌তিত্বে বিশেষ অ‌তি‌থি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ব‌রিশাল সি‌টি করপোরেশনের মেয়র সে‌রনিয়াবাত সা‌দিক আব্দুল্লাহ, অ‌তি‌রিক্ত পু‌লিশ ক‌মিশনার এনামুল হক, ব‌রিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস।

ব‌রিশাল ড্রেজার বেইজের আওতায় ২০‌টি ড্রেজারসহ সহায়ক সরঞ্জামাদি থাকবে। এ প্রকল্পে মোট ২৩ কো‌টি ৬২ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এখান থেকেই ব‌রিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, ঝালকা‌ঠি, পিরোজপুর ও বরগুনা এলাকার নৌপথ খননে তদার‌ক করা হবে।

আরও পড়ুন:
শতাধিক যাত্রী নিয়ে নৌকাডুবি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
3 people sentenced to death in murder case

হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান টুটুল আরও জানান, ২০০৯ সালের ২০ আগস্ট রাতে হুমায়ুন কবির গড়পিংলাই গ্রাম থেকে ব্যক্তিগত কাজে জয়নগর বাজারের উদ্দেশে রওনা দেন। পথমধ্যে এমআইবি নামের ইটভাটার সামনে আসামিরা তার গতিরোধ করেন। পরে ভাটার ভেতর নিয়ে তাকে হত্যা করে মরদেহ ইটের স্তুপের নিচে ফেলে রাখে।

মুদি দোকানি হুমায়ুন কবির হত্যা মামলায় ৩ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও ৪ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে দিনাজপুরের একটি বিচারিক আদালত।

দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-২ এর বিচারক মেহেদী হাসান মন্ডল সোমবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে এই রায় দেন।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান টুটুল।

তিনি জানান, মৃত্যুদণ্ড পাওয়ারা হলেন শরিফুল ইসলাম, আতর আলী ও রেজাউল করিম। যাবজ্জীবন সাজা পেয়েছেন গোলাম রব্বানী, একরামুল হক, সাঈদ আলী ও জাহাঙ্গীর আলম।

যাবজ্জীবন সাজা পাওয়া আসামিদের ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে ১ বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

মামলার অন্য একটি ধারায় সাজা পাওয়া ৭ জনকেই ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও ৩ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান টুটুল আরও জানান, ২০০৯ সালের ২০ আগস্ট রাতে হুমায়ুন কবির গড়পিংলাই গ্রাম থেকে ব্যক্তিগত কাজে জয়নগর বাজারের উদ্দেশে রওনা দেন। পথমধ্যে এমআইবি নামের ইটভাটার সামনে আসামিরা তার গতিরোধ করেন। পরে ভাটার ভেতর নিয়ে তাকে হত্যা করে মরদেহ ইটের স্তুপের নিচে ফেলে রাখে।

পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। এর একদিন পর নিহতের বড় ভাই তৌহিউল ইসলাম বাদী হয়ে ৫ জনের নামে একটি মামলা করেন। পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে ৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। মামলায় মোট ১৬ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
জুয়ার টাকা দিতে না পেরে ‘আত্মহত্যা’
বড় ভাইকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
রৌমারীতে মা-শিশুকে গলা কেটে হত্যা
মিয়াজি হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন
বাঁশ কাটা নিয়ে দ্বন্দ্বে ফের রক্তাক্ত ঝাউদিয়া

মন্তব্য

বাংলাদেশ
9 murders in 20 days in Kushtia

কুষ্টিয়ায় ২০ দিনে ৯ খুন

কুষ্টিয়ায় ২০ দিনে ৯ খুন
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের কুষ্টিয়া জেলা শাখার প্রচার সম্পাদক কারশেদ আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকেই এ জেলা চরমপন্থি-সন্ত্রাসীদের দাপট ছিল। বর্তমানে অপরাধ বাড়ার কারণে প্রশাসনের গাফিলতি আছে। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দেয়ার যে দায়িত্ব, সেটি তারা যথাযতভাবে করছে না বলে আমি মনে করি।’

কুষ্টিয়ায় ২০ দিনে ৯ জন খুন হয়েছেন। একের পর এক হত্যাকাণ্ড উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বেশির ভাগ খুনের ঘটনা ঘটেছে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের গাফিলতিতে আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে এ অঞ্চল। তবে পুলিশ বলছে, অপরাধ দমনে তারা তৎপর। কেউ যাতে আইন হাতে তুলে না নেয় সে জন্য প্রচারের পাশাপাশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

থানাসূত্রে জানা গেছে, ২ মে ঈদের আগের দিন বিকেলে কুষ্টিয়া সদরের ঝাউদিয়া-আস্তানগরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে কুপিয়ে খুন করা হয় চারজনকে। একপক্ষে তিনজন ও অপর পক্ষে একজন খুন হন।

এ ঘটনায় উভয় পক্ষ মামলা করেছে। মামলায় গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে ঝাউদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান ও সাবেক চেয়ারম্যান কেরামত আলীকে। দুটি মামলার ৯৮ আসামির মধ্যে এরই মধ্যে জামিন পেয়েছেন ৭১ জন।

৫ মে কুমারখালীতে গড়াই ব্রিজের নিচ থেকে মাসুদ খাঁ নামে একজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রথমে অপমৃত্যু মামলা হলেও পরে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মেলে হত্যার আলামত। অপমৃত্যু মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর হয়।

১০ মে ভেড়ামারা উপজেলার ষোলদাগ গ্রামে জমিজমা নিয়ে বিরোধে খুন হন আব্দুল কুদ্দুস মল্লিক।

আলোচিত খুনের ঘটনা ঘটে ১১ মে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে। গভীর রাতে কুপিয়ে হত্যা করা হয় জাসদ যুবজোট নেতা মাহবুব খান সালামকে। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতাদের আসামি করা হয়। বিচার দাবিতে মিছিল-সমাবেশ করেছে যুবজোট।

১৮ মে সদর উপজেলার দহকুলায় খুন হয় এক স্কুলছাত্র। জীবন আহমেদ নামে ওই এসএসসি পরীক্ষার্থী রাতে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি থেকে বের হয়। পরদিন সকালে বাড়ি থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে পুকুরপাড়ে তার বাইক আর পুকুরে মরদেহ পাওয়া যায়।

একই দিনে গভীর রাতে খোকসায় হেলথকেয়ার অ্যান্ড হাসপাতালের কর্মচারী মো. হিরনের মৃত্যু হয়। সে সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট মনে হলেও পরে পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার দাবি করা হচ্ছে। তারা থানায় হত্যার অভিযোগও দিয়েছেন। বিচার দাবিতে ২২ মে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছে এলাকাবাসী।

২০ মে শহরের চরমিলপাড়ায় পারিবারিক কলহে খুন হয়েছেন বাবু শেখ নামে একজন। ছেলের কাছে খরচের টাকা চাওয়া ও বাড়িতে ঘর নির্মাণের জায়গা নিয়ে কথা-কাটাকাটি ও মারামারির মধ্যে ইটের আঘাতে তার মৃত্যু হয়।

চার খুনের ১৮ দিন পর ২১ মে ওই এলাকার ঝাউদিয়া-কালিতলায় পারিবারিক বিরোধে কুপিয়ে হত্যা করা হয় জসিম নামে একজনকে। ঝড়ে নুয়ে পড়া বাঁশ কাটতে গেলে নিজের দাবি করে জসিম বাধা দেন। এতে চাচাতো ভাই লালন ও তার ছেলেদের সঙ্গে মারামারি হয়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে জসিমের মৃত্যু হয়।

এই হিসাবে ২-২১ মে ২০ দিনে কুষ্টিয়ায় খুন হয়েছেন ৯ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলাতেই ছয়জন। ভেড়ামারা, দৌলতপুর ও কুমারখালীতে একজন করে। এ ছাড়া খোকসার মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি।


কুষ্টিয়ায় ২০ দিনে ৯ খুন


একের পর এক খুনের ঘটনা নিয়ে উদ্বিগ্ন স্থানীয়রা। কুষ্টিয়া সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি রফিকুল আলম টুকু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কুষ্টিয়ায় ইদানীং দু-এক দিন পর পরই মার্ডার হচ্ছে। এগুলো আমরা প্রত্যাশা করি না। একের পর এক খুনের কারণে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হচ্ছে। আমি মনে করি প্রশাসনকে তদারকি বাড়াতে হবে।’

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের কুষ্টিয়া জেলা শাখার প্রচার সম্পাদক কারশেদ আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকেই এ জেলা চরমপন্থি-সন্ত্রাসীদের দাপট ছিল। বর্তমানে অপরাধ বাড়ার কারণে প্রশাসনের গাফিলতি আছে। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দেয়ার যে দায়িত্ব, সেটি তারা যথাযতভাবে করছে না বলে আমি মনে করি।’

কারশেদ বলেন, ‘যদি প্রশাসনিক কাজে কোনো বাধা থাকে তা অতিক্রম করতে হবে। না হলে ধারাবাহিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাবে।’

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসগর আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এসব খুনের ঘটনা ঘটছে সামাজিক দ্বন্দ্বের কারণে। এটি নিরসন করতে প্রশাসন, রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক নেতাদের একসঙ্গে বসতে হবে। গ্রামে যারা দ্বন্দ্ব করে তাদের এই পথ থেকে সরাতে হবে।’

কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষক অধ্যাপক শেখ মো. আবু শামীম বলেন, ‘মানুষ মানুষকে সম্মান করছে না। দ্রব্যমূলের ঊর্ধ্বগতির কারণেও তারা টেনশনে থাকছে। ভালো থাকার জন্য যা খুশি করার চেষ্টা করছে। এগুলো অস্থিরতার কারণ। আর এই অস্থিরতা থেকে অপরাধ বাড়ছে।’

পুলিশ বলছে, মানুষ অসহিষ্ণু হয়ে ওঠায় তুচ্ছ ঘটনাও খুনের পর্যায়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় বিট পুলিশের মাধ্যমে তৎপরতা বাড়ানোর কথা বলছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘আমরা তৎপরতা বাড়িয়েছি। আমাদের ৮৫টি বিট পুলিশ আছে। তাদের দিয়ে সবার কাছে খবর পৌঁছে দেব কেউ আইন হাতে তুলে না নেয়।’

প্রত্যেকটি খুনের ঘটনার উপযুক্ত বিচার হবে জানিয়ে তিনি বলেন, হতাশ না হয়ে পুলিশের প্রতি আস্থা রাখুন।’

আরও পড়ুন:
জমির বিরোধে ভাই খুন
কোম্পানীগঞ্জে ‘৮০০ টাকার’ জন্য ব্যবসায়ীকে খুন
‘ছুরিকাঘাতে’ স্ত্রীকে খুন  
বিবাদ মেটাতে গিয়ে ভাই খুন
জমির বিরোধে ভাতিজার হাতে চাচা খুন

মন্তব্য

p
উপরে