বিবাহিত হওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হলে এক শিক্ষার্থীর সিট কেটে দিয়েছে হল প্রশাসন। বিবাহিত হওয়ায় আরও কয়েকটি হলেও নারী শিক্ষার্থীদের সিট বাতিল করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের একজন জানান, ১২ নভেম্বর হলের সিট বরাদ্দ কমিটির একজন শিক্ষক বিবাহিত হওয়ায় তার সিট কেটে দেন। ওই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তবে তিনি তার নাম প্রকাশে অনিচ্ছা জানিয়েছেন।
ঘটনার বিষয়ে ওই শিক্ষার্থী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি সনাতন ধর্মাবলম্বী। করোনার বন্ধে আমার বিয়ে হয়। বন্ধের পর যখন আমি হলে আসি তখন ধর্মের নিয়ম অনুযায়ী স্বামীর মঙ্গল কামনায় শাখা-পলা-সিঁদুর পরি।
‘হল খোলার প্রথম দিন বিষয়টি একজন ম্যামের নজরে আসার পর তিনি আমি বিবাহিত কি না জানতে চান। আমি বিবাহিত বললে তিনি আমার নাম মার্ক করে রাখেন। এরপর ১২ নভেম্বর আমার ফ্লোরের ইলা ইসমাইল ম্যাম আমার সিট কেটে দেন। যখন আমার সিট কাটা হয় তখন আমার পরীক্ষা চলছিল।’
তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমি ম্যামের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করি। তবে সেটি সম্ভব হয়নি। পরে আমি হলের অন্য এক ম্যামকে বলি, ম্যাম আমার সিটটা বেশি প্রয়োজন। ঢাকায় আমার থাকার জায়গা নেই। আমার হাজবেন্ড পটুয়াখালীর একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। সেও শিক্ষার্থী। সে সেখানেই থাকে। আমাকে একটু হলে রাখার ব্যাপারে সাহায্য করা যায় কি না। তবে ওই ম্যামও কোনো সাহায্য না করে উল্টো অপমানসূচক কথা বলেন।’
ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘হলের অনেকেই বিবাহিত, কিন্তু বিয়ের বিষয়টি তাদের গোপন রাখতে হয়। কেবল হলের সিট বাঁচিয়ে রাখতে। বিয়ে তো কোনো অপবিত্র কাজ নয়, যে কেউ বিবাহিত হলে সেটি লুকিয়ে রেখে তাকে চলতে হবে।’
এ বিষয়ে কুয়েত মৈত্রী হলের সিট কমিটির সদস্য এবং পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ইলা ইসমাইল বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাদের যে রকম নির্দেশনা দিয়েছেন, সেভাবেই আমরা হলটি চালাই।’
এ রকম নিয়ম কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই নিয়ম আমরা বানাইনি। এটি প্রশাসন থেকে আসা এমন একটি নিয়ম যেটি অনেক আগে থেকেই হয়ে আসছে। আমরা শুধু সেটি অনুসরণ করি।’
শুধু কুয়েত মৈত্রী হলের ঘটনায় নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ছাত্রী হলে বিবাহিত হওয়ার বিষয়টি প্রকাশিত হলে শিক্ষার্থীদের সিট হারাতে হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হল সংসদের সাবেক সহসভাপতি তাসনিম আফরোজ ইমি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে হলের একজন আবাসিক ছাত্রীকে বিবাহিত হওয়ার কারণে হল প্রশাসন দ্বারা হেনস্তার অভিযোগ করেন।
সেখানে তিনি লেখেন, ‘সেই ছাত্রীর বোন প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি হলে আবাসিক হওয়ার সাক্ষাৎকার প্রদান করতে এলে তার বড় বোন বিবাহিত এবং হলে থাকে, এটি তিনি প্রকাশ করেন আর এতে হলের হাউস টিউটর ক্ষেপে যান। পরবর্তী সময়ে এই হাউস টিউটর নির্দেশ প্রদান করেন বড় বোন হল না ছাড়লে ছোট বোন হলে উঠতে পারবে না।’
কোন শিক্ষক এই নির্দেশ দিয়েছেন জানতে চাইলে তাসনিম আফরোজ ইমি নিউজবাংলাকে বলেন, দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক নুসরাত তাসনীম।
অভিযোগের বিষয়ে নুসরাত তাসনীম বলেন, ‘কথাটা আসলে সেভাবে বলা হয়নি। প্রথম বর্ষের সেই শিক্ষার্থী যেহেতু মেধা তালিকায় সিট পেয়েছে তার সিট হবে। আমি সেদিনই এই শিক্ষার্থীকে বলেছি, তার বড় বোনের বিষয়টি আমরা আপাতত স্কিপ করছি। সে যদি লোকাল গার্ডিয়ান নিয়ে আসতে পারে তার সিট হবে।’
লোকাল গার্ডিয়ান বড় বোন হলে সমস্যা কী জানতে চাইলে তিনি হলটির প্রাধ্যক্ষ ড লাফিফা জামালকে ফোন দিতে বলেন।
ড. লাফিফা জামালকে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও তার ফোন সংযোগ পাওয়া যায়নি।
বিবাহিত হওয়ার কারণে হল খোলার পর অক্টোবরে আরও এক শিক্ষার্থীর সিট কেটে দেয় শামসুন্নাহার হল প্রশাসন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউজবাংলাকে ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘অক্টোবরে হল খোলার পর আমার ফ্লোরের হাউস টিউটরের সঙ্গে আমার দেখা হয়। উনাকে আমি বিবাহিত হওয়ার কথাটা বলি। তিনি বলেন, যেহেতু তুমি বিবাহিত, তোমার ব্যাপারটা প্রাধ্যক্ষ ম্যামের সঙ্গে কথা বলে দেখতে হবে।
‘আমি বলেছি, ম্যাম আমার পরীক্ষা চলছে। এই পরীক্ষার সময়টা আমাকে একটু কনসিডার করার জন্য আমি ম্যামকে অনুরোধ করি। এরপর একদিন তিনি আমাকে ফোন করে জানান, আমার সিট কাটা হয়েছে। পরে আমি আর হলে থাকতে পারিনি।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের জন্য পাঁচটি আবাসিক হল রয়েছে।
এসব হলের আসন বণ্টন সম্পর্কিত নীতিমালার একটি ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো ছাত্রী বিবাহিত হলে অবিলম্বে কর্তৃপক্ষকে জানাবেন। অন্যথায় নিয়মভঙ্গের কারণে তার সিট বাতিল হবে। শুধু বিশেষ ক্ষেত্রে বিবাহিত ছাত্রীকে চলতি সেশনে হলে থেকে অধ্যয়নের সুযোগ দেয়া হবে। অন্তঃসত্ত্বা ছাত্রী হলে থাকতে পারবেন না।’
বিবাহিত হওয়ায় সম্প্রতি শামসুন্নাহার হল এবং বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের দুই ছাত্রীর সিট নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। সেই প্রেক্ষাপটে এ নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পাঁচ ছাত্রী হলের শিক্ষার্থীরা।
সোমবার এসব হলের শিক্ষার্থীদের কয়েকজন প্রতিনিধি এই নিয়ম বাতিলের আবেদন জানিয়ে উপাচার্যের কাছে যান।
শিক্ষার্থীরা এই নিয়ম ছাড়া আরও কয়েকটি দাবি উপাচার্যের কাছে উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো, শিক্ষার্থীদের প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের মর্যাদা রক্ষায় সব ছাত্রী হলে ‘লোকাল গার্ডিয়ান’ বা ‘স্থানীয় অভিভাবকের’ পরিবর্তে ‘ইমার্জেন্সি কন্টাক্ট’ বা ‘জরুরি যোগাযোগ’ শব্দটি রাখা, আবাসিক শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্বারা যেকোনো ধরনের হয়রানি এবং অসহযোগিতামূলক আচরণ বন্ধ করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়া এবং শিক্ষা কার্যক্রম চলমান থাকা সাপেক্ষে অনাবাসিক ছাত্রীদের হলে প্রবেশের অধিকার পুনর্বহাল করা ও জরুরি প্রয়োজনে তাদের হলে অবস্থান করতে দেয়া।
শিক্ষার্থীরা জানান এসব দাবির প্রেক্ষিতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান তাদের বলেছেন, হল কর্তৃপক্ষ ও ডিনস কমিটির সভায় আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। কোনো পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত এ নিয়মটিই বহাল থাকবে।
এমন নিয়মের বিষয়ে বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. নাজমুন নাহার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘একজন মেয়ে যখন বিবাহিত হয় তখন তার একটি সোশ্যাল লাইফ হয়। সে কিন্তু একজন স্বাভাবিক ছাত্রীর মতো থাকতে পারে না। আর অন্তঃসত্ত্বা হলে তো আরও অনেক রকম পরিবর্তন আসে। যেটি হলে থেকে করা সম্ভব নয়। এই নিয়মটা অনেক আগে থেকেই চলে আসছে। আমরা শুধু পুরোনো জিনিসটাই প্র্যাকটিস করে যাচ্ছি।’
প্রাধ্যক্ষ বলেন, ‘একটি রুমে সাতজন শিক্ষার্থীর মধ্যে যদি একজন অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে থাকে, তখন মেয়েটির পাশাপাশি বাকি শিক্ষার্থীদেরও সমস্যা হয়। অন্তঃসত্ত্বা মেয়েটি বাসায় থাকলে যে রকম রিল্যাক্সে থাকতে পারবে, হলে কিন্তু সেটি সম্ভব নয়। আর বিবাহিত মেয়েরা থাকবে স্বামীর সংসারে। সে কেন হলে থাকবে? স্বামী যদি অন্য কোথাও থাকে তাহলে স্বামীকে স্ত্রীর জন্য কোনো শেল্টার খুঁজে দিতে হবে।’
এই অধ্যাপক বলেন, ‘আমি এই নিয়মের পক্ষে। কারণ হলগুলো এক-একটি হোস্টেল, বাসা না। হোস্টেলটা হোস্টেলের মতোই থাকতে হবে। তাই আমরা বিবাহিত এবং অন্তঃসত্ত্বা মেয়েদের হলে থাকাকে ডিসকারেজ করছি।’
হলের নীতিমালায় বলা আছে, ‘শুধু বিশেষ ক্ষেত্রে বিবাহিত ছাত্রীকে চলতি সেশনে হলে থেকে অধ্যয়নের সুযোগ দেয়া হবে।’
এই বিশেষ ক্ষেত্র কখন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কোনো মাস্টার্সের শিক্ষার্থী যদি তার অ্যাকাডেমিক জীবনের শেষ মুহূর্তে থাকে আর সে যদি বিবাহিত হয় তখন আমরা তাকে থাকার সুযোগ দেব। কারণ আমরা যদি তাকে থাকার সুযোগ না দিই, হয়তো তার ডিগ্রিটা কমপ্লিট হবে না। এসব ক্ষেত্রে আমরা এটিকে কনসিডার করি।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হলগুলো সুনির্দিষ্ট কিছু নীতিমালার আলোকে পরিচালিত হয়। সমাজ, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ ধারণ করে সে নিয়মনীতি করা। শিক্ষার্থীরা যেহেতু দাবি তুলেছে, আমরা সেগুলোকে আমলে নিয়েছি। সুতরাং যুগের সঙ্গে কতটুকু সামঞ্জস্যপূর্ণ বা কোথাও কোনো অসংগতি আছে কি না, সেগুলো পর্যালোচনা করে আমাদের বুঝতে হবে।’
হত্যার পর স্কুলড্রেস পরে বেরিয়ে যায় গৃহকর্মী
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের একটি বাসায় গৃহিনী মালাইলা আফরোজ (৪৮) ও তার মেয়ে নাফিসা বিনতে আজিজকে (১৫) হত্যার পর বাথরুমে গোসল করে গৃহকর্মী আয়েশা (২৩)। এরপর মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাফিসার ড্রেস পরে কাঁধে ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) শাহজাহান রোডের ৩২/২/এ বাসার সপ্তম তলার ৭/বি ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, মাত্র চার দিন আগে বাসার দারোয়ান মালেকের মাধ্যমে ওই মেয়েকে আনা হয়। পরে গৃহকর্মী হিসেবে নিহত মালাইলা আফরোজের বাসায় কাজ দেওয়া হয়। তখন নিজের নাম আয়েশা বলে পরিচয় দেয়। পরে মা-মেয়েকে হত্যার পর নিহত নাফিসার স্কুল ড্রেস পরে বের হয়ে যায় সেই মেয়ে।
ভবনের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিহত মালাইলা আফরোজ (৪৮) গৃহিণী। মেয়ে নাফিসা বিনতে আজিজ মোহাম্মদপুরের প্রিপারেটরি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। নাফিসার বাবা এম জেড আজিজুল ইসলাম পেশায় শিক্ষক। তিনি উত্তরার সানবিমস স্কুলের পদার্থ বিজ্ঞানের শিক্ষক।
ভবনের একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, নাফিসার বাবা স্কুলের উদ্দেশে সকাল ৭টার দিকে বের হয়ে যান। সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে বোরখা পরে ওই বাসার লিফটে ওঠে সাত তলায় যায় গৃহকর্মী আয়েশা। সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে কাঁধে স্কুল ব্যাগ নিয়ে ড্রেস পরে মুখে মাস্ক লাগিয়ে বের হয়ে যায়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নাফিসার বাবা বাসায় ফিরে স্ত্রী ও মেয়েকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান।
নিহত নাফিসার বাবা আজিজুল ইসলাম বলেন, বাসায় একজন কাজের মহিলা দরকার ছিল। সাধারণত গেটে অনেকে কাজের সন্ধানে আসেন। চার দিন আগে একটি মেয়ে আসে। বোরকা পরিহিত মেয়েটি বাসার দারোয়ান খালেকের কাছে কাজের সন্ধান করলে সে আমাদের বাসায় পাঠিয়ে দেয়। এরপর আমার স্ত্রী মেয়েটির সঙ্গে কথা বলে কাজে রেখে দেয়।
পরে স্ত্রীর মুখে শুনেছি, মেয়েটার নাম আয়েশা। বয়স আনুমানিক ২০ বছর। তার গ্রামের বাড়ি রংপুর। জেনেভা ক্যাম্পে চাচা-চাচির সঙ্গে থাকে। বাবা-মা আগুনে পুড়ে মারা গেছে। তার শরীরেও আগুনে পোড়ার ক্ষত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মেয়েটা কাজ শুরুর পর প্রথম দুদিন সময়মতো এসেছে। গতকাল সে সাড়ে ৯টার দিকে আসে। আজ কী হয়েছে, এটা তো আর বলার অবস্থায় নেই।
এদিকে ঘটনাস্থল ফ্ল্যাটটিতে গিয়ে দেখা যায়, ফ্ল্যাটের প্রবেশমুখ থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থানে রক্তের দাগ। বাসার আলমারিসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র তছনছ করা।
পুলিশের আরেকটি সূত্র জানায়, মাকে হত্যার পর ওই মেয়েটি দৌড়ে রক্তাক্ত অবস্থায় হয়তো ইন্টারকমে সিকিউরিটি গার্ডকে ফোন দিতে চেয়েছিল। কিন্তু সেখানে গিয়ে ইন্টারকমের লাইনটি খোলা পাওয়া যায়। মেয়েটি খুব সুন্দরভাবে ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা করে বাথরুমে গিয়ে গোসল করে শরীরের রক্ত পরিষ্কার করে নাফিসার স্কুলের ড্রেস পরে নির্দ্বিধায় গেট দিয়ে বেরিয়ে যায়।
তল্লাশি করে বাথরুমে একটি সুইচ গিয়ার ও একটি ধারাল অস্ত্র পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ছুরি দুটি দিয়ে মা-মেয়েকে হত্যা করেছে গৃহকর্মী আয়েশা। এ ঘটনায় ওই বাসার দারোয়ান মালেককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান জানান, পুলিশ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খবর পায়। মেয়েটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেখানে নেওয়ার পর মারা যায়। পরে লাশ দুটি সুরতহালের পর ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।
তিনি বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে কিছু তথ্য পেয়েছি, সেসব যাচাই-বাছাই চলছে।
গৃহকর্মীর প্রসঙ্গে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করছি, হত্যার আগে-পরে তার উপস্থিতি ও অ্যাকটিভিটিজ বিশ্লেষণ করে পরবর্তী তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাব।
বাসার ভেতরের অবস্থার বিষয়ে পুলিশ বলছে, বাসায় ধস্তাধস্তির আলামত রয়েছে, মেঝেতে এবং দেওয়ালে রক্তের দাগ রয়েছে। আলমারি ও ভ্যানিটি ব্যাগ তছনছ অবস্থায় রয়েছে। যা মনে করছি, প্রাথমিকভাবে কিছু খোয়া যেতে পারে। সিসি ক্যামেরা ফুটেজে আমরা একজনকেই দেখেছি, পরে দেখব আশপাশে আরও কেউ ছিল কি না?
তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ দুটি ধারাল ছুরি উদ্ধার করেছে এবং হত্যাকারী ফ্রেশ হয়েছে বাথরুমে— এমন আলামত পাওয়া গেছে।
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী থানা যুবদলের সদস্য সচিব গোলাম কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে মিরপুর ১২ নম্বরের সি-ব্লক মোড়ে তাকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি ছোড়া হয়। এ ঘটনায় একজনকে আটক করার খবর পাওয়া গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আটক ওই ব্যক্তির নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
পল্লবী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মফিজুর রহমান গোলাম কিবরিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তিনি পল্লবী থানা যুবদলের নেতা ছিলেন। তবে কে বা কারা গুলি করেছে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক জানান, গুলিবিদ্ধ কিবরিয়াকে মুমূর্ষু অবস্থায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে নেয়া হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে স্থানীয়দের ভাষ্য থেকে জানা যায়, কিবরিয়াকে অন্তত ৫ রাউন্ড গুলি করা হয়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-ডিএমপির পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে বিএনপি নেতাকে গুলি করার খবর এসেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কে বা কারা কি নিয়ে এই গুলির ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। আমরা পুরো বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি।’
পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে পল্লবী সেকশন-১২ এ অবস্থিত বিক্রমপুর হার্ডওয়্যার অ্যান্ড স্যানিটারিতে বসে থাকা অবস্থায় পল্লবী থানা যুবদল সদস্য সচিব গোলাম কিবরিয়াকে মোটরসাইকেলযোগে এসে তিনজন দুর্বৃত্ত ভেতরে ঢুকে তার মাথা, বুকে ও পিঠে পিস্তল ঠেকিয়ে ৭ রাউন্ড গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে ৭ রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়।
রাজধানীতে আবারও ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার রাত ৯টা থেকে ১১টার মধ্যে গুলিস্তান, সূত্রাপুর, মিরপুর বেড়িবাঁধ, হাতিরঝিল ও কারওয়ান বাজার এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাত ৯টার দিকে গুলিস্তানের জিরো পয়েন্ট এলাকায় দুইটি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের পরপরই দুর্বৃত্তরা দ্রুত সরে পড়ে।
এর কিছুক্ষণের মধ্যেই সূত্রাপুর ও মিরপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় দুটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেয় অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতকারীরা। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
একই রাতে হাতিরঝিলের রেইনবো ক্রসিং ও কারওয়ান বাজারের মাছের আড়তের সামনে আরও দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে এভাবে একের পর এক বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগে নাশকতার আশঙ্কা করছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট, কাকরাইল মোড়, কারওয়ান বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় রাতভর তল্লাশি চালায় পুলিশ। রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি করা হয়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তথ্যমতে, গত এক সপ্তাহে রাজধানীতে অন্তত ২০টির বেশি ককটেল বিস্ফোরণ এবং ১১টি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, “কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি দল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে রাজধানীতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। জনগণের মাঝে ভীতি ছড়ানোই তাদের উদ্দেশ্য।”
তিনি আরও বলেন, “রাজধানীতে শঙ্কার কিছু নেই। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছে। শহরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে চেকপোস্ট ও টহল জোরদার করা হয়েছে।”
ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, গত তিন দিনে ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে অগ্নিসংযোগ ও ঝটিকা মিছিলে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫৫২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারদের অধিকাংশই রাজধানীর বাইরে থেকে আসা বলে জানিয়েছে ডিএমপি।
পুলিশ জানিয়েছে, নাশকতাকারীদের সনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে নাগরিকদের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে তারা।
পাঁচ দফা দাবি আদায়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ আট দলের ডাকা গণসমাবেশে অংশ নিতে রাজধানীর পল্টন এলাকায় আসতে শুরু করেছেন নেতাকর্মীরা। বেলা দুইটায় সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
মঙ্গলবার বেলা ১১টার পর ঢাকার আশপাশের কয়েকটি জেলা থেকে আসা নেতাকর্মীদের বায়তুল মোকাররম মসজিদের আশপাশে ব্যানার-ফেস্টুন হাতে অবস্থান নিতে দেখা গেছে।
জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি বাস্তবায়ন, নভেম্বরে গণভোট, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনসহ পাঁচ দফা দাবিতে এই কর্মসূচির ঘোষণা করে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ আট দল।
এর আগে গত ছয়ই নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টার কাছে পাঁচ দফা দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছিল এই দলগুলো।
রাজধানীতে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৩৪ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
সোমবার ডিএমপির উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এক ক্ষুদেবার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, রাজধানীতে ঝটিকা মিছিল পরিকল্পনা, অর্থায়ন ও অংশগ্রহণকারী কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের আরও ৩৪ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
রাজধানীর গুলশানে আরও একটি নতুন অভিজাত ক্লাবের যাত্রা শুরু হলো। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন রেজিস্টার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানি অ্যান্ড ফার্মস থেকে ‘গুলশান সাউথ ক্লাব’ নামে একটি নতুন ক্লাবের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়া গেছে।
গতকাল (৩ নভেম্বর ) ক্লাবটির নিবন্ধন অনুমোদনের পর এর কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
গুলশান সাউথ ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ড. সৈয়দ মো. শাহান শাহ শাহীন। উদ্যোক্তা পরিচালক ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জনাব মোহাম্মদ খুরশিদ আলম।
এছাড়া ক্লাবটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হিসেবে রয়েছেন আরও সাতজন— খান মোহাম্মদ ইকবাল, কৃষিবিদ মো. ইউনুস আলী, মো. খালিদুজ্জামান, মোহাম্মদ নূর নবী, আব্দুল আউয়াল বিপ্লব, মো. এনামুল হক এবং জুবাইদা নাজনীন প্রমুখ।
নিবন্ধনের মধ্য দিয়ে গুলশান এলাকার সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও নাগরিক কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) এর বহির্বিভাগ টিকেট কাটতে এখন থেকে আর দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হবে না। রোগীরা বিএমইউ এর ওয়েবসাইটে (https://bmu.ac.bd) গিয়ে অনলাইনে পেমেন্ট সম্পন্ন করে ব্যবস্থাপত্রটি (টিকেট) প্রিন্ট করে টিকেটে উল্লেখিত বিভাগ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে ডাক্তার দেখিয়ে পরামর্শ নিতে পারবেন। মূলত রোগীদের ভোগান্তি নিরসন ও দুর্ভোগ লাঘবসহ অযাচিত ভিড় এড়াতে এবং বহিবির্ভাগ চিকিৎসাসেবা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যেই অনলাইন টিকেটিং সিস্টেম চালু করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। এরফলে এখন থেকে বাসায় বসেই অনলাইনে কাটা যাবে বিএমইউ এর বহির্বিভাগের টিকেট। একইসঙ্গে সকাল থেকেই হাসপাতালে এসে ডাক্তার দেখাতে করতে হবে না দীর্ঘ অপেক্ষা। আজ বুধবার ২৯ অক্টোবর ২০২৫ইং তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিল্টন হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে এই কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে বিএমইউ ও পূবালী ব্যাংক এর সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়।
বিএমইউ এর সম্মানিত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মোঃ নজরুল ইসলামের সঞ্চালানায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, অনলাইন টিকেট সিস্টেম দেশের প্রয়োজনে চালু করা হয়েছে। যেকোনো দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সবসময় জনগণ কেন্দ্রিক হয়। শিক্ষা ও গবেষণা দেশের মানুষের জন্যই হয়। এই বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হয়েছে দেশের মানুষের জন্য। আমরা অনেকদিন থেকে ভাবছিলাম রোগীদের যেন দীর্ঘ অপেক্ষা করতে না হয়। অনলাইন টিকেটিং সিস্টেম দীর্ঘ অপেক্ষা ও ভোগান্তি কমাবে। এই পদ্ধতিতে রোগীরা তাদের চাহিদামতো সময়ে চিকিৎসককে দেখাতে পারবেন। সময়ের ব্যবধানে সবকিছু অনলাইন সিস্টেমে হবে। অনলাইন নানাদিক থেকে সুবিধা দিবে। টিকেট কাটতে আর হাসপাতালে দীর্ঘ লাইন দিতে হবে না জানিয়ে অধ্যাপক ডা. মোঃ শাহিনুল আলম বলেন, ওয়েটিং টাইমটাকে চেম্বার বা হাসপাতাল থেকে বাসায় নিয়ে যেতে চাই। হাসপাতালে অপেক্ষা করা লাগবে না। তবে এই কার্যক্রমে শুরুর দিকে কিছুটা সমস্যা হতে পারে। তা ওভারকাম করার জন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। বিশেষ করে সাংবাদিক, গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন। তারা ইতিবাচকভাবে তুলে ধরলে বিএমইউ এর এই প্রচেষ্টা অবশ্যই সাফল্য পাবে। প্রায় সকল রোগীই বিএমইউ এর চিকিৎসাসেবায় সন্তুষ্ট। কিন্তু দীর্ঘলাইনে দাঁড়িয়ে টিকেট কাটা, ডাক্তার দেখাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা তাদেরকে কষ্ট দেয়। সেই কষ্ট দূরীকরণের লক্ষ্যেই আজকের এই উদ্যোগ। বিএমইউকে ডিজিটালাইজড হাসপাতালে রূপান্তরেরর কার্যক্রম চলমান আছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হলে অটোমেশনের বিকল্প নাই। বিএমইউ এর অটোমেশন কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতেই হবে।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মোঃ আবুল কালাম আজাদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মোঃ মুজিবুর রহমান হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার, প্রক্টর ডা. শেখ ফরহাদ, আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ডা. একেএম আখতারুজ্জামান, পূবালী ব্যাংক লি. এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী প্রমুখ।
তারা বলেন, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাসেবা, উচ্চতর মেডিক্যাল শিক্ষা ও গবেষণায় একটি আস্থার নাম। আজকেরই এই উদ্যোগ দেশের জন্য একটি মাইলফলক। এর মাধ্যমে মূলত রোগীরাই সবচাইতে বেশি উপকৃত হবেন। আগামী দিনে সেবার সকলক্ষেত্রেই এটা চালু করতে পারলে রোগীরা স্বাছন্দ্যে টিকেট কাটা থেকে শুরু করে সকল পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করে তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিতে পারবেন।
মন্তব্য