× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
The legitimacy of the appointment of Kamrun Nahar in Vikarunnisa is challenged
hear-news
player
google_news print-icon

ভিকারুননিসায় কামরুন নাহারের নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ

ভিকারুননিসায়-কামরুন-নাহারের-নিয়োগের-বৈধতা-চ্যালেঞ্জ
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কামরুন নাহার। ফাইল ছবি
এ বিষয়ে রিটকারী আইনজীবী বলেন, ‘যারা শিক্ষা ক্যাডারের, তাদের নিয়োগ হবে সরকারি কলেজে। এটা বেসরকারি কলেজ। অথচ সরকার সে আইন লঙ্ঘন করে কামরুন নাহারকে ভিকারুননিসায় অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেয়। এটা চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়ের করেছি। আগামীকাল বুধবার শুনানি হবে।’

কামরুন নাহারকে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ পদে নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে।

বেআইনিভাবে তাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে, এমন অভিযোগ তুলে তার নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মঙ্গলবার রিটটি করেন আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ।

রিটের ওপর বুধবার বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি হবে বলে জানান তিনি।

১৯৮৯ সালের শিক্ষক সার্ভিস রেগুলেশন অনুযায়ী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ নিয়োগের ক্ষমতা গভর্নিং বডির হাতে বলে জানান এই আইনজীবী।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘এ ছাড়া যারা শিক্ষা ক্যাডারের, তাদের নিয়োগ হবে সরকারি কলেজে। এটা বেসরকারি কলেজ। অথচ সরকার সে আইন লঙ্ঘন করে কামরুন নাহারকে ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেয়। এটা চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়ের করেছি। আগামীকাল বুধবার শুনানি হবে।’

আগের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধেও রিট করেছিলেন জানিয়ে ইউনুছ আলী বলেন, ‘এর আগেও যিনি অধ্যক্ষ ছিলেন অধ্যাপক ফওজিয়া রেজওয়ান, তার নিয়োগ নিয়েও রিট দায়ের করেছিলাম। সে রিটের শুনানি নিয়ে একদিন হাইকোর্ট স্থগিত করেছিল। এরপর রুল দিয়েছিল। ওই রুল পেন্ডিং অবস্থায় তাকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। যেটা আদালত অবমাননার শামিল।’

অধ্যক্ষ কামরুন নাহার ও ভিকারুননিসার অভিভাবক ফোরামের নেতা মীর সাহাবুদ্দিন টিপুর ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনায় করা পৃথক আরেকটি রিট বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে চলমান আছে।

ওই ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে আদালতে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

গত ৮ জুলাই ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ ও অভিভাবক ফোরামের নেতার ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনায় অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টে রিট করেন দুই ছাত্রীর অভিভাবক মোহাম্মদ মোরশেদ আলম।

এ রিটের শুনানির সময় গত ৯ আগস্ট আদালত বলেছিল, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কামরুন নাহার ফোনালাপে যে ভাষা ব্যবহার করেছেন তা সত্যি হয়ে থাকলে অবশ্যই নিন্দনীয়। এটা অপ্রত্যাশিত। তার মুখ থেকে এ ধরনের ভাষা আশা করা যায় না।

এরপর ৩১ অক্টোবরের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে গত ১৬ সেপ্টেম্বর আদেশ দেয় হাইকোর্ট। তারপর দুই দফায় সময় দিলেও রিপোর্ট জমা পড়েনি।

অধ্যক্ষ ও অভিভাবক ফোরাম নেতার সাড়ে ৪ মিনিটের ওই কথোপকথন ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। যেখানে অশ্লীল বেশ কিছু শব্দ রয়েছে।

আরও পড়ুন:
এ অধ্যক্ষ ছাড়া কি ভিকারুননিসা চলবে না: হাইকোর্ট
ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ কামরুন নাহারের পদত্যাগ দাবি
ভিকারুননিসার অধ্যক্ষের ফোনালাপ: রিপোর্ট দাখিলে বাড়ল সময়
অধ্যক্ষের মুখে এমন শব্দ অপ্রত্যাশিত: হাইকোর্ট
ভিকারুননিসায় ‘ব্যয় মানেই অনিয়ম’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Jabir NSCC Club Bajimat at Jabir Prajapati Mela

জাবির প্রজাপতি মেলায় জবির এনএসসিসি ক্লাবের বাজিমাৎ

জাবির প্রজাপতি মেলায় জবির এনএসসিসি ক্লাবের বাজিমাৎ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজাপতি মেলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এনএসসিসির সদস্য ও অন্যরা। ছবি: নিউজবাংলা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজাপতি মেলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নেচার স্টাডি অ্যান্ড কনজারভেশন ক্লাবের চারজন প্রজাপতি দৌড়ে, ছয়জন বারোয়ারি বিতর্কে, ছয়জন ছবি প্রদর্শনীতে ও ১৩ জন স্টল ডেকোরেশনে পুরস্কার পেয়েছেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) অনুষ্ঠিত প্রজাপতি মেলায় প্রজাপতির ছবি প্রদর্শনে প্রথম এবং বারোয়ারী বিতর্ক প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ‘নেচার স্টাডি অ্যান্ড কনজারভেশন ক্লাব’ (এনএসসিসি)।

‘প্রজাপতি প্রজাপতি... কোথায় পেলে ভাই এমন রঙিন পাখা?’ স্লোগানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শুক্রবার দিনব্যাপী ১২তম প্রজাপতি মেলা অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মেলায় ছিল নানা আয়োজন।

মেলায় প্রতিবারের মতো এবারও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের নেচার স্টাডি অ্যান্ড কনজারভেশন ক্লাবের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। দিনব্যাপী বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠানের মধ্যে প্রজাপতির ছবি প্রদর্শনে ক্লাবটি প্রথম স্থান অর্জন করে। এছাড়াও বারোয়ারি বিতর্ক প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে ক্লাবটি।

বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে ক্লাবের সদস্যরা ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছেন। তার মধ্যে প্রজাপতি দৌড়ে চারজন, বারোয়ারি বিতর্কে ছয়জন, ছবি প্রদর্শনীতে ছয়জন এবং স্টল ডেকোরেশনে ১৩ জন পুরস্কার পেয়েছেন।

নেচার স্টাডি অ্যান্ড কনজারভেশন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. তানজিলুর রহমান খান বলেন, ‘বাগান সুরক্ষিত রাখা, বাস্তুতন্ত্ৰ রক্ষা, জলবায়ু বুঝতে সাহায্য করার ক্ষেত্রে প্রজাপতির ভূমিকা অনস্বীকার্য। প্রজাপতি আমাদের জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। প্রজাপতি সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসা উচিত। আমাদের ক্লাব এই উদ্দেশ্যে নিরলস কাজ করে আসছে।’

এ সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মাসুদসহ অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
DU Chhatra League conference Those in the race for leadership

ঢাবি ছাত্রলীগের সম্মেলন: নেতৃত্বের দৌড়ে যারা

ঢাবি ছাত্রলীগের সম্মেলন: নেতৃত্বের দৌড়ে যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সম্মেলনে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ছবি: নিউজবাংলা
ক্যাম্পাসে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে বিকেল ৩টায় শুরু হয় সম্মেলন। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এতে প্রধান অতিথি ছিলেন। তবে সম্মেলন হলেও কমিটি ঘোষণা দেয়া হয়নি। ৬ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সম্মেলন থেকে এই কমিটির ঘোষণা দেয়া হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে শনিবার। তবে সম্মেলনে কমিটি ঘোষণা দেয়া হয়নি। ৬ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সম্মেলনে কেন্দ্রের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কমিটি ঘোষণা করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে বিকেল ৩টায় সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

২০১৮ সালের ১১ ও ১২ মে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সঙ্গে ঢাবি ছাত্রলীগের সম্মেলন হয়। এর প্রায় দুই মাসের মাথায় ৩১ জুলাই ঢাবি ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটিতে সভাপতি হিসেবে সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সাদ্দাম হোসেন নেতৃত্বে আসেন। এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের শীর্ষ পদে আসতে আগ্রহীদের কাছ থেকে জীবন-বৃত্তান্ত আহ্বান করা হয়। সম্মেলনের জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার করা হয় ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সহ-সভাপতি রায়হান কাউসারকে।

আগ্রহী প্রার্থীরা শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে গোলঘর থেকে মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও জমা দেন।

রায়হান কাউসার বলেন, ‘২৩৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও জমা দিয়েছেন। সেগুলো যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে।’

ঢাবি ছাত্রলীগের সম্মেলন: নেতৃত্বের দৌড়ে যারা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে শনিবার অনুষ্ঠিত হয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সম্মেলন। ছবি: নিউজবাংলা

জানা যায়, ঢাবি ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই পদের জন্য বিভিন্ন হল, অনুষদ, ইনস্টিটিউট, শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাবি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির পদপ্রাপ্তরা প্রার্থী হয়েছেন।

সম্মেলন উপলক্ষে ঢাবি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মাঝে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।

মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘সম্মেলন হলে তৃণমূল কর্মীদের মাঝে উচ্ছ্বাসমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। সংগঠনেও গতিশীলতা আসে। সংগঠনে গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ছাত্রলীগকে আরও বেগবান করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বার্ষিক সম্মেলন-২০২২ গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগে আগামীতে এমন নেতৃত্ব আসুক যারা শেখ হাসিনার প্রশ্নে আপোষহীন। তারা যেন আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জন্য ভূমিকা রাখতে পারবে।’

নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে যারা

সম্মেলন ঘিরে পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীরা লবিং-তদবিরে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। একইসঙ্গে মধুর ক্যান্টিনসহ দৃশ্যমান স্থানে নিজেদের ছবিসংবলিত ব্যানার-পোস্টার টানিয়ে নিজেদের প্রার্থিতার জানান দেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের বিগত কয়েক কমিটির তথ্য বলছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের হল শাখায় নেতৃত্ব দেয়াদের মধ্যে যেকোনো একজন ঢাবি ছাত্রলীগের শীর্ষ পদে এসেছেন।

বর্তমান ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস আগে জগন্নাথ হল শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

তবে সাধারণ সম্পাদক হল ছাত্রলীগের শীর্ষ পদে ছিলেন না। তিনি হল রাজনীতিতে স্যার এ এফ রহমান হল ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

এর আগে ২০১৫ সালে মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান।

২০১১ সালে ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান মোল্লা আগে স্যার এ এফ রহমান হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

এসব কিছু বিবেচনায় এবারও হল ছাত্রলীগের নেতাদের মধ্য থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতৃত্ব চান পদপ্রত্যাশী অনেকে। আর সে লক্ষ সামনে রেখে হল ছাত্রলীগে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এরকম প্রত্যেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

ঢাবি ছাত্রলীগের শীর্ষ পদে আসার দৌড়ে এগিয়ে আছেন- হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হলের সভাপতি শহিদুল হক শিশির ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হোসেন, ড. মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ হলের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু হল শাখার সভাপতি মেহেদি হাসান শান্ত, বিজয় একাত্তর হল ছাত্রলীগের সভাপতি সজিবুর রহমান সজিব ও সাধারণ সম্পাদক আবু ইউনুস, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান শান্ত, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শাখার সভাপতি তানভীর শিকদার, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের সভাপতি কামাল উদ্দীন রানা, স্যার এ এফ রহমান হল ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম এবং ফজলুল হক হলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন নাইম।

এছাড়াও আলোচনায় আছেন- কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সমাজসেবা বিষয়ক উপ-সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত, সাহিত্য বিষয়ক উপ-সম্পাদক জয়দ্বীপ দত্ত (জয়জিৎ), নাট্য ও বিতর্ক বিষয়ক সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ, সহ-সম্পাদক দিদারুল আলম, এস এম রাকিব সিরাজী, ঢাবি ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সবুজ তালুকদার ও সাংগঠনিক সম্পাদক জহিরুল ইসলাম।

এদিকে বেশ কয়েকজন নারী নেতাও আলোচনায় রয়েছেন। তারা হলেন- কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ফরিদা পারভীন, তিলোত্তমা শিকদার, উপ-সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক ফাল্গুনী দাস তন্বী এবং মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা বিষয়ক উপ-সম্পাদক রওনক জাহান রাইন।

কেমন নেতৃত্ব চান- এমন প্রশ্নে শহিদুল্লাহ হলের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, ‘আমাদের নেত্রী ডেল্টা প্ল্যান ২১০০, ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লব উপযোগী বাংলাদেশ গঠন করতে চাচ্ছেন। এজন্য কিন্তু বিজ্ঞানমনষ্ক কিছু ছেলের দরকার আছে। আর আমাদের সামনে জাতীয় নির্বাচন আছে।

‘সেই নির্বাচনে রক্ত বিসর্জন দিয়েও যে রাজপথে থাকতে পারবে, স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার থেকে দেশরত্ন শেখ হাসিনার জন্য কাজ করতে পারবে এবং সততা দেশপ্রেম ও ত্রিশ লাক শহীদের রক্তের ঋণের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে রাজনীতি করবে- এমন নেতৃত্ব আসবে এমন প্রত্যাশা আমার।’

সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শাখার সভাপতি তানভীর শিকদার বলেন, ‘হল ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে যারা সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার ছিল তাদেরকে ঢাবি ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আনলে তারা নিজেদের আরও মেলে ধরার সুযোগ পাবেন।’

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ ধারণ করে, পারিবারিকভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, নিয়মিত শিক্ষার্থী, বিতর্কমুক্ত, সৎ ও যোগ্যদেরই কমিটিতে স্থান দেয়া হবে। যারা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তাদের কমিটিতে রাখা হবে না। আমাদের নেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্ব নির্বাচনে এসব বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন।’

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে আঞ্চলিকতার প্রাধান্যও থাকবে। সে ক্ষেত্রে বৃহত্তর ফরিদপুর, বরিশাল ও খুলনা অঞ্চলের প্রাধান্য থাকবে।

বিগত কয়েকটি কমিটির তথ্য-বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই অঞ্চলের প্রার্থীরাই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতৃত্বে এসেছেন। এর বাইরে উত্তরবঙ্গ, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ-ঢাকা অঞ্চলের প্রার্থীদেরও বিবেচনা করা হবে। সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান ও বিতর্কমুক্তদের প্রাধান্য দেয়া হবে।

এছাড়া করোনাকালে যেসব নেতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভুক্তভোগীদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সেবা পৌঁছে দিয়েছেন তাদেরও বিবেচনায় রাখা হবে।

আরও পড়ুন:
‘শাসন করতে’ ছাত্রলীগ নেতার জুতাপেটা
ছাত্রলীগের বয়সসীমা ‘উনত্রিশ’ই থাকছে
সম্মেলনে বিশৃঙ্খলায় ছাত্রলীগ, ক্ষোভ কাদেরের
ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের সম্মেলন আজ
‘বিএনপিকে সুযোগ দিতে এগোনো হয়েছে ছাত্রলীগের সম্মেলন’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The anger of a section of students at the football festival in DU

ঢাবিতে ফুটবল উৎসবে শিক্ষার্থীদের একাংশের ক্ষোভ  

ঢাবিতে ফুটবল উৎসবে শিক্ষার্থীদের একাংশের ক্ষোভ

  ঢাবিতে বড় পর্দায় খেলা উপভোগ করা দর্শকদের একাংশ। ছবি: নিউজবাংলা
গাড়িচাপায় গৃহবধূ রুবিনা আক্তারের মৃত্যুর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ক্যাম্পাসে রাতের বেলায় বড় পর্দায় বিশ্বকাপ খেলা না দেখানোর দাবি জানায়, তবে সেটি না ঘটায় ক্ষোভ জানিয়েছে তারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এলাকায় সাবেক শিক্ষক আজাহার জাফর শাহর প্রাইভেট কারের চাপায় নারী নিহত হওয়ার ঘটনার মধ্যে ক্যাম্পাসে ফুটবল উৎসব নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন একদল শিক্ষার্থী।

প্ল্যাকার্ড হাতে সড়কে দাঁড়িয়ে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক স্ট্যাটাসে তারা এ ক্ষোভের কথা জানান।

ননদের স্বামীর মোটরসাইকেলে চড়ে শুক্রবার ঢাবি হয়ে হাজারীবাগ যাচ্ছিলেন গৃহবধূ রুবিনা আক্তার। বিকেল সোয়া ৩টার দিকে চারুকলা অনুষদের বিপরীতে পাশের রাস্তা ধরে যাওয়ার সময় আজাহারের গাড়ির ধাক্কায় তিনি পড়ে যান। পরে আজাহার গাড়ি না থামিয়ে রুবিনাকে টেনেহিঁচড়ে নীলক্ষেত পর্যন্ত নিয়ে যান। এতে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনার পর ঢাবি শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে রাতের বেলায় বড় পর্দায় বিশ্বকাপ খেলা না দেখানোর দাবি জানায়, তবে শুক্রবার মধ্যরাতে ব্রাজিল-ক্যামেরুনের ম্যাচের সময় চেনা দৃশ্য দেখা যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসীন হল মাঠ ও টিএসসিতে।

এতে ক্ষুব্ধ কিছু শিক্ষার্থী মধ্যরাতেই রাজু ভাস্কর্যে প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবি জানান। তাদের একজন এসএম হল ছাত্র সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক (জিএস) জুলিয়াস সিজার তালুকদার বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস অনিরাপদ, আমি এখানে দাঁড়িয়ে যখন রুবিনা হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানাচ্ছি, তখনও ক্যাম্পাসে অনিরাপদের সব আয়োজন চলছে।

‘এই খেলা দেখার ছলে ক্যাম্পাসের বাইরের অন্তত কয়েক হাজার লোক এখানে অবস্থান করছে। তারা ভুভুজেলা বাজিয়ে শব্দদূষণ করছে। তাদের শব্দদূষণের কারণে এখন যাদের পরীক্ষা চলমান, তাদের কেউ পড়তে পারছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজকের মর্মান্তিক ঘটনা জানার পর যে কেউ একটু সংবেদনশীল হবে, কিন্তু এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উৎসব চলছে।

‘খেলা উৎসব। আমরাও দেখব, কিন্তু বড় পর্দায় সম্মিলিতভাবে না দেখালে কি হতো না আজ? বিভিন্ন করপোরেট ব্যানারের আড়ালে বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব কালো মুখ লুকিয়ে আছে, তাদের প্রতিহত করতে হবে।’

এদিকে ফেসবুকে মনসুর রাফি নামের এক শিক্ষার্থী লিখেন, ‘আজ দুপুরে একটি রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটে গেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে৷ সেই রক্ত শুকানোর আগেই ফুটবল উৎসবে মেতে উঠেছি আমরা। ছি!’

আজহার উদ্দীন অনিক নামে আরেক শিক্ষার্থী লেখেন, ‘আমি আশা করেছিলাম, অন্তত আজকের মতো হৈ-হুল্লোড় করে খেলা দেখা বন্ধ থাকবে। যেহেতু ওই নারীকে গাড়ির তলায় চেপে টিএসসি থেকেই নীলক্ষেতের দিকে মুহসীন হলের মাঠের বিপরীত রাস্তা দিয়েই পিষে ফেলা হয়েছিল, কিন্তু আমি জানি সেটা অবাস্তব আশা; কিছু হবে না।’

সানজানা আফিফা অদিতি নামের একজন লেখেন, ‘এখনও খেলা দেখা হচ্ছে!!! বাঁশি বাজানো হচ্ছে!!! আপনাদের বিবেক কি একটুও কাজ করে না??? এতদিন তো প্রতিদিন বাঁশি বাজিয়ে খেলা দেখলেন। আজও???’

সাইদ আবদুল্লাহ লেখেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে নারীকে গাড়ির চাকায় আটকে টেনে নিয়ে পিষিয়ে পিষিয়ে মারা হয়েছে, রাস্তায় এখনও হয়তো তার রক্তের দাগ শুকায় নাই। অথচ এর ভেতরেই সেই ক্যাম্পাসেই বড় পর্দায় বিশ্বকাপ খেলা দেখার হিড়িক লেগে গেছে, বাজছে বাঁশি, হচ্ছে লাফালাফি-ঝাঁপাঝাঁপি।

‘ভাবতে অবাক লাগে, এই ক্যাম্পাসের ছাত্ররাই একসময় ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিত। আর এখনকার ছাত্ররা রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ তো নয়ই, বরং আনন্দ-উৎসবে মত্ত থাকাটাই প্রেফার করে!’

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশি সমর্থকদের ধন্যবাদ জানালেন আর্জেন্টিনার কোচ
আর্জেন্টিনাকে পাত্তা দিচ্ছে না অস্ট্রেলিয়া
বাংলাদেশকে ধন্যবাদ আর্জেন্টিনা দলের
পর্তুগালের সঙ্গী হওয়ার সুযোগ তিন দলের
বিশ্বকাপে আর না-ও দেখা যেতে পারে নেইমারকে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
How are visually impaired students studying?

কীভাবে পড়াশোনা করছেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা

কীভাবে পড়াশোনা করছেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের শিক্ষালাভ ও পরীক্ষা দিতে স্বেচ্ছাসেবকদের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে ব্রেইল ব্যবস্থা উন্নত করতে কিছু কাজ হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ফাইল ছবি
শনিবার আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস। দেশে এটি পালিত হচ্ছে জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস হিসেবে। বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের শিক্ষা লাভ ও পরীক্ষা দেয়া এখনও স্বেচ্ছাসেবকদের ওপর নির্ভরশীল। ব্রেইল ব্যবস্থাকে উন্নত করতে কিছু কাজ হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

দেশের ২ দশমিক ৮০ শতাংশ মানুষ শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধী। এদের মধ্যে নারীর তুলনায় পুরুষের সংখ্যা বেশি। আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে বিশ্বের মোট জনগোষ্ঠীর ১৫ শতাংশ কোনো না কোনোভাবে প্রতিবন্ধী।

দেশে সরকারি সংজ্ঞা অনুযায়ী অন্তত একটি প্রতিবন্ধিতা রয়েছে এমন ব্যক্তিকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বলা হয়। শনিবার সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস। একই সঙ্গে দেশেও এই দিনে জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস পালন করা হয়। এ বছর এই দিবসটি হবে আন্তর্জাতিকভাবে ৩১তম ও জাতীয়ভাবে ২৪তম।

এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য পরিবর্তনমুখী পদক্ষেপ, প্রবেশগম্য ও সমতাভিত্তিক বিশ্ব বিনির্মাণে উদ্ভাবনের ভূমিকা।’

পূর্ণ পরিসংখ্যান না থাকলেও বেসরকারি হিসাবে বাংলাদেশে প্রতিবন্ধীদের সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি বলে ধারণা করা হয়। দেশটিতে এই বিপুল পরিমাণ প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশই শিক্ষার সুযোগ পায় না। আর উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এই সংখ্যা খুবই নগণ্য।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে ১২ ধরনের প্রতিবন্ধিতার শিকার ব্যক্তির সংখ্যা ২১ লাখ ৭৭ হাজার ৯৮১ জন। এর মধ্যে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি ৩ লাখ ৬৪৯ জন। বিবিএসের জরিপের তথ্য মতে, দেশে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংখ্যা মোট প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংখ্যার শূন্য দশমিক ৩৯ শতাংশ।

কীভাবে পড়াশোনা করছেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের বি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী। ফাইল ছবি

বাংলাদেশে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পড়াশোনার একমাত্র সহায়ক হচ্ছে ব্রেইল পদ্ধতি। মূলত কাগজের ওপর ছয়টি বিন্দুকে ফুটিয়ে তুলে লিখবার একটি পদ্ধতি। দৃষ্টিহীন ব্যক্তিরা এই উন্নীত বা উত্তল বিন্দুগুলোর ওপর আঙুল বুলিয়ে ছয়টি বিন্দুর নকশা অনুযায়ী কোনটি কোন অক্ষর তা অনুধাবন করতে সক্ষম হন এবং লেখার অর্থ বুঝতে পারেন।

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা বলছেন, ডিজিটাল সুবিধা অনেক বাড়লেও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতির কোনো বিকল্প নেই। ব্রেইল পদ্ধতির নানা উপকরণ আরও সহজলভ্য হলে তাদের জন্য শিক্ষাগ্রহণ আরও সুবিধার হবে।

কীভাবে চলছে পড়াশোনা ও পরীক্ষা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ৭১ জন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে ৩১ জন রয়েছেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। ভলান্টিয়ার শিক্ষার্থীরা এখানে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের শিখন কাজে সাহায্য করে থাকেন।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সংগঠন ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন বা পিডিএফের সভাপতি তানভীর আহমেদ তন্ময় নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ব্রেইল পদ্ধতিতে কিছু সমস্যা আছে, তাই বিশ্ববিদ্যালয় ডিজিটাল পদ্ধতির কথা ভাবছে। আমরা কয়েকবার এই বিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে কথাও বলেছি। আমাদের এই বিষয়ে আশ্বস্ত করা হয়েছে।’

ঢাকার অদূরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান সব শিক্ষাবর্ষে সব মিলিয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭৫ জন। এর মধ্যে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী রয়েছেন ৩৪ জন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করা পিডিএফ জানাচ্ছে, আবাসিক এই বিশ্ববিদ্যালয়ে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য এখনও কোনো কারিকুলাম তৈরি হয়নি। এমনকি তাদের শিক্ষার জন্য অপরিহার্য ব্রেইল পদ্ধতিও নেই বিশ্ববিদ্যালয়টিতে। শিক্ষার্থীরা শ্রুতি লেখকের সহায়তা নিয়ে বিভিন্ন অ্যাকাডেমিক পরীক্ষায় অংশ নেন।

সংগঠনের সভাপতি ৪৭তম আবর্তনের শিক্ষার্থী আব্দুল গাফফার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের এখানে আমাদের সংগঠন থেকেই এই ৩৪ জনকে পড়াশোনা করার জন্য সাহায্য করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এখনও তাদের জন্য কোনো বিশেষ সুবিধা চালু হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘ক্লাসের সব লেকচার রেকর্ড করে দেওয়া হয় তাদের। এরপর যখন পরীক্ষা শুরু হয়, তখন আমাদের একজন ভলান্টিয়ার তাদের পরীক্ষা দেওয়ার জন্য রেডি থাকেন। তবে এটা খুবই উদ্বেগজনক হয়ে পড়ে যখন আমাদের কোনো ভলান্টিয়ারের নিজের পরীক্ষা থাকে। তখন তিনি হয়তো দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে সাহায্য করতে পারেন না।’

গাফফার বলেন, ‘আমরা অনেক দিন ধরেই তাদের পরিপূর্ণ কারিকুলামের জন্য আন্দোলন করছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে একটা ডিজ্যাবিলিটি কর্নার করা হবে। দুই মাস আগেও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) একটা সভায় আমরা কারিকুলামের কথা বলেছি। ইউজিসি জানত না এত শিক্ষার্থী (দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী) পড়াশোনা করছে। তারা কারিকুলামের জন্য উদ্যোগ নিবে এমন আশ্বাস দিয়েছেন।’

শুধু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় নয়, দেশের কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদা করে কোনো সুযোগ চালু হয়নি।

সারা দেশে কী অবস্থা

মৌলভীবাজারের সমন্বিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষা কার্যক্রমের রিসোর্স শিক্ষক স্বপন চন্দ্র কর্মকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি নিজেও দৃষ্টিহীন। আর আমাদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতি ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই।’

তিনি বলনে, ‘একজন শিশু যদি জন্মগতভাবেই দৃষ্টিহীন হয়ে থাকে, তবে তার শিক্ষার একমাত্র উপায় ব্রেইল। আগে আমাদের বইপত্র নিয়ে সমস্যা হলেও এখন চাহিদা অনুযায়ী জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) থেকে ব্রেইল বইপত্র সরবরাহ করা হচ্ছে।’

তবে ব্রেইল লেখার সামগ্রী পাচ্ছেন না বলে জানান স্বপন চন্দ্র। তিনি বলেন, ‘লেখার জন্য রাইটিং ফ্রেইম, বোর্ড এইগুলো পাচ্ছি না ঠিকমতো।’

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা হাতের সাহায্য ছাড়া পড়তে পারবে না। তাই ছোটবেলা থেকেই তাদের ব্রেইল পদ্ধতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। একটা সময় পর্যন্ত ব্রেইল পদ্ধতিতে শিক্ষাগ্রহণ করলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পর সঠিক কারিকুলাম বা ব্রেইল সরঞ্জাম পান না তারা। এ ক্ষেত্রে নিতে হয় শ্রুতি লেখকের সাহায্য।

দৃষ্টিহীন এই শিক্ষক বলেন, ‘ব্রেইল পদ্ধতি থাকলে উচ্চশিক্ষার জন্য অবশ্যই ভালো হবে। তবে শ্রতিলেখকও লাগবে।’

তিনি বলেন, ‘স্কুলে টেস্ট বা নির্বাচনি পরীক্ষা পর্যন্ত ব্রেইল পদ্ধতি থাকছে। কিন্তু যখন পাবলিক পরীক্ষা দিচ্ছে, তখন তো খাতা আমার এখানে থাকবে না। বোর্ডে তো ব্রেইলের প্রতিকার নেই। তার জন্য শ্রুতি লেখকের সাহায্য লাগবেই।’

প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য প্রাথমিকের শিক্ষা সহজতর হলেও উচ্চপর্যায়ের শিক্ষা কঠিন হয়ে পড়ছে। বাংলাদেশে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের অধিকাংশ স্কুলই শুধু প্রাথমিক পর্যায়ে। মাধ্যমিকে এই শিক্ষার্থীদের জন্য মূলধারার প্রতিষ্ঠান ছাড়া বিকল্প নেই। আবার থাকলেও নেই উপযুক্ত শিক্ষা উপকরণ।

২০২১ শিক্ষাবর্ষে প্রথম থেকে নবম শ্রেণির ৯ হাজার ১৯৬ জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর জন্য সরকার ব্রেইল পদ্ধতির বই ছেপেছে।

সফটওয়্যার ও শ্রুতি লেখক প্যানেল

গত আগস্টে দৃষ্টিহীনদের হাতে লেখা ব্রেইল লিপি বাংলায় রূপান্তর করার একটি সফটওয়্যারের প্রোটোটাইপ তৈরি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষক দল। প্রাথমিকভাবে এ সফটওয়্যারে ৯৭ শতাংশ নির্ভুল ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে বলেও জানিয়েছেন গবেষকরা।

এই গবেষণায় যুক্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক আহমেদুল কবীর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমদের বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী আছেন, তাদের কথা ভেবেই আমরা এই সফটওয়্যার তৈরি করেছি।’

তিনি বলেন, ‘সাধারণত মাধ্যমিক ও প্রাথমিক পর্যায়ে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের পড়াশোনায় ব্রেইল থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে সেটি নেই। তারা ব্রেইলে যদি লিখেও থাকেন, সেটি পড়ার সক্ষমতা নেই। আমরা যে সফটওয়্যার বানিয়েছি, সেটি ব্রেইল লেখাকে বাংলায় রূপান্তর করতে পারবে। এটার মোবাইল স্ক্যান পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা চলছে।’

আহমেদুল কবীর বলেন, ‘ব্রেইলে লেখা কাগজ স্ক্যান করে সেটা সফটওয়্যারের মাধ্যমে দিলে ৯৭ ভাগ নির্ভুল এডিট করা যাবে এমন ওয়ার্ড ফাইল বা পিডিএফ লেখা আসবে। নেক্সট সেমিস্টারে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাহায্যে একটা পরীক্ষা নেওয়া হবে। সেখানে আমরা আরও কিছু বিষয় পর্যবেক্ষণ করব।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তারিক আহসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি যখন বুঝব আমার এখানে এই ধরনের শিক্ষার্থী আছেন, তখন আমি পরীক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তনের কথা ভাবতে পারি। শুধু লিখে পরীক্ষা দেওয়ার বাইরেও অন্য কিছু পদ্ধতি যোগ করলে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের সুবিধা হবে।’

এই অধ্যাপক শ্রুতি লেখকের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, ‘যদি এমন কোনো উপায় থাকে যে লিখতেই হবে, সে ক্ষেত্রে শ্রুতি লেখকের জন্য একটা প্যানেল করা উচিত। এই প্যানেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তৈরি করবে। এটা অবশ্যই একটা রি-এনফোর্সমেন্ট ভিত্তিতে হতে হবে। যারা এখানে কাজ করবে, তাদের একটা সার্টিফিকেট দিতে হবে। অথবা সময় দেওয়ার জন্য সম্মানী দিতে হবে। যখন কোনো দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়কে তার পরীক্ষার সময় জানাবে, তখন বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সেই সহযোগিতা দেবে।’

শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের এই অধ্যাপক ব্রেইল পদ্ধতিরও উন্নতির কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমাদের গ্রন্থাগারে ব্রেইল প্রিন্টার আছে, কিন্তু সেটা সবার জন্য উন্মুক্ত নয়। কারণ অনেকেই জানেন না এটা কীভাবে কাজ করে। সেখানে অভিজ্ঞ লোক নিয়োগ দিতে হবে। তাতে উচ্চশিক্ষার পথ সুগম হবে।’

আরও পড়ুন:
প্রধান শিক্ষককে ছোড়া বল্লমে ছাত্রের মৃত্যুতে দুই মামলা
প্রধান শিক্ষককে ছোড়া বল্লমে প্রাণ গেল ছাত্রের
লেখাপড়ার চাপে বেড়েছে আত্মহত্যার প্রবণতা
যৌন হয়রানির অভিযোগে শাবির ৭ ছাত্রকে বহিষ্কার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Chhatra League committee announcement in 16 sections of Jabir

জবির ১৬ বিভাগে ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা

জবির ১৬ বিভাগে ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা ক্যাম্পাসে কর্মসূচিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। ফাইল ছবি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম আকতার হোসাইন বলেন, ‘দীর্ঘদিন যাবৎ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। যার ফলে অনেক কর্মীই কোনো রাজনৈতিক পরিচয় পায়নি। সে জন্যই আমরা বিভাগভিত্তিক কমিটি দিচ্ছি। সামনে যেহেতু নির্বাচন, তাই দেশরত্ন শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ কাজ করবে।’

বিভাগে বিভাগে কমিটি দিচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রলীগ। এরই মধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে ১৬টি বিভাগে আংশিক কমিটি।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. ইব্রাহীম ফরাজি ও সাধারণ সম্পাদক এস এম আকতার হোসাইনের সই করা পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এসব কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে চারটি ও শুক্রবার রাতে আরও ১২টি কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়। এসব কমিটিতে স্নাতকপর্যায়ের শিক্ষার্থীরা পদ পেয়েছেন।

লোকপ্রশাসন বিভাগে সভাপতি হিসেবে রাকিবুল হাফিজ অন্তর ও সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলাম, ইতিহাস বিভাগে সভাপতি চয়ন কুমার রায় ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে সভাপতি আহমেদ হাসনাত ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আরিফ, প্রাণিবিদ্যা বিভাগে সভাপতি নাহিদুল ইসলাম হিমেল ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ফাহিম, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে সভাপতি বায়েজিদ শেখ ও সাধারণ সম্পাদক মাশরাফি রহমান খান, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগে সভাপতি হা-মীম ইবনে বাসার ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আল-আমিন দিমানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

এ ছাড়াও অন্য বিভাগগুলোর মধ্যে নৃবিজ্ঞান বিভাগে সভাপতি হিসেবে মশিউর রহমান শুভ ও সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম রাফি, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগে সভাপতি আকরাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইমতিয়াজ আহম্মেদ রওনক, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে সভাপতি সোহানুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান, মনোবিজ্ঞান বিভাগে সভাপতি রাসেল মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক মো. আকিব হায়দার ইমন, ফার্মেসি বিভাগে সভাপতি মো. আসিফ আরাফাত নিলয় ও সাধারণ সম্পাদক এস এম বায়েজিদ, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে সভাপতি সুমিত দত্ত ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তারিদ্দোহা সৌম্য দায়িত্ব পেয়েছেন।

বাংলা বিভাগের সভাপতি হয়েছেন তুষার মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে অর্জুন বিশ্বাসকে। এই কমিটিতে সহসভাপতি পদে রয়েছেন মাহমুদুল হক সামি, মো. তরিকুল ইসলাম, মাহমুদুজ্জামান পাভেল, পাবুন চন্দ্ৰ অধিকারী, জুনাঈদ হুসাইন রায়িন। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন আটজন। সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয় আফসানা মীমী ও ফারহানা জেসমিনকে।

অর্থনীতি বিভাগের সভাপতি প্রিয়দর্শী চাকমা ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ রানা। কমিটির অন্যরা হলেন সহসভাপতি ইব্রাহীম খলিল, মৃদুল হাসান, ইবনুল ইয়াসিন ও সৌরভ সূত্রধর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুকিত উল ইসলাম, মমতাজুর রহমান, মো. নবুয়ত হোসেন নুহান ও মেহেদী হাসান আবির।

নাফিস ইকবাল তাশিককে সভাপতি ও রাসেল আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত নাট্যকলা বিভাগের কমিটির অন্যরা হলেন সহসভাপতি আলিমুল ইসলাম, অনামিকা ইবাদ, মো. মোস্তাকিন মিয়া, মো. ইবনে সিনা ইউনুস ও মিঠুন চন্দ্র দাস। এতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন পাঁচজন।
পরিসংখ্যান বিভাগের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল রাফি সাকিব ও সাধারণ সম্পাদক মো. শাহীন আলম। কমিটির অন্যরা হলেন সহসভাপতি আবির মাহমুদ, জারিফ তাজওয়ার, শাহ নাবিল হোসেন তানিম ও রকিবুল ইসলাম। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান সিফাত, মো. মাঈনুল হক সাকিব, মো. ওমর ফারুক জয়, রিফাত চৌধুরী সজল, শরিফুল হক তানজীম, তৌফাতুল ফেরদৌসী ঝিলিক ও আয়শা ইশরাত।

এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম আকতার হোসাইন বলেন, ‘দীর্ঘদিন যাবৎ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। যার ফলে অনেক কর্মীই কোনো রাজনৈতিক পরিচয় পায়নি। সে জন্যই আমরা বিভাগভিত্তিক কমিটি দিচ্ছি। সামনে যেহেতু নির্বাচন, তাই দেশরত্ন শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ কাজ করবে।’

এর আগে ২৫ থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি অনুষদ, বিভাগ এবং ইনস্টিটিউটের পদপ্রত্যাশীদের সিভি জমা নেয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ।

আরও পড়ুন:
ছাত্রলীগের সংঘর্ষে ফের উত্তপ্ত চবি, আহত ৮
‘শাসন করতে’ ছাত্রলীগ নেতার জুতাপেটা
ছাত্রলীগের বয়সসীমা ‘উনত্রিশ’ই থাকছে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
A woman riding a rickshaw was killed after being hit by a private car in DU

টিএসসিতে চাপা দিয়ে নারীকে নীলক্ষেত পর্যন্ত টেনে নিল গাড়ি

টিএসসিতে চাপা দিয়ে নারীকে নীলক্ষেত পর্যন্ত টেনে নিল গাড়ি নারীকে রিকশা থেকে ফেলে টিএসসি থেকে নীলক্ষেত থেকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায় প্রাইভেট কারটি। এক পর্যায়ে চালককে আটকে পিটুনি দেয় পথচারীরা। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
এক নারীকে সড়ক দিয়ে টেনে নেয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে ফেসবুকে। এতে দেখা গেছে, গাড়ির বাম পাশে সামনের চাকার পেছনে বাঁধিয়ে ওই নারীকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে প্রাইভেট কার। এক পর্যায়ে চালককে আটকায় পথচারীরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে নারীকে রিকশা থেকে ফেলে টিএসসি থেকে নীলক্ষেত পর্যন্ত টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে গেছে একটি প্রাইভেট কার।

শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকের এ ঘটনায় আহত ওই নারীকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কিছুক্ষণ পর তার মৃত্যু হয়।

নিহত ৪৫ বছর বয়সী নারীর নাম রুবিনা আক্তার। তিনি গৃহবধূ ছিলেন; থাকতেন তেজগাঁওয়ে। তার ১২ বছরের এক ছেলে আছে। দুই বছর আগে তার স্বামী মারা গেছেন।

ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া নিউজবাংলাকে এসব নিশ্চিত করেছেন।

ওই নারীকে সড়ক দিয়ে টেনে নেয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে ফেসবুকে। এতে দেখা যায়, গাড়ির বাম পাশে সামনের চাকার পেছনে আটকে পড়া নারীকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে প্রাইভেট কারটি। এক পর্যায়ে গাড়িটিকে আটকায় পথচারীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম জানায়, গাড়িচালক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক; নাম আজাহার জাফর শাহ।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী টিএসসির একাধিক ভ্রাম্যমাণ দোকানদার নিউজবাংলাকে জানায়, একটি রিকশায় ওই নারী শাহবাগ থেকে টিএসসির দিকে আসছিলেন। এ সময় পেছন থেকে একটি প্রাইভেট কার রিকশাকে ধাক্কা দিলে, তিনি পড়ে যান। নারীকে চাপা দেয়ার পর চালক গাড়ি না থামিয়ে চালিয়ে যেতে থাকেন। আশপাশের লোকজন গাড়িটিকে থামানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।

চাপা পড়া নারীকে হিঁচড়ে নীলক্ষেত মোড় পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়। এক পর্যায়ে আশপাশের লোকজন গাড়িটিকে থামাতে সক্ষম হন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক রিকশাচালক নিউজবাংলাকে জানান, নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়ে গাড়ির চালককে ইট দিয়ে আঘাত করে লোকজন। তাকে ৩-৪ মিনিট মারধর করা হয়। পরে পুলিশ চালককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

ঘটনাস্থলে থাকা শাহবাগ থানা পুলিশের উপপরিদর্শক জাফর বলেন, ‘একজন নারী কার দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। কারচালককে উত্তেজিত জনতা আটক করে পিটিয়েছে।’

আরও পড়ুন:
ঢাবির হলে শিক্ষার্থীকে রড দিয়ে পিটিয়েছে ছাত্রলীগের কর্মী
ঢাবি প্রক্টরের বিরুদ্ধে ‘গুরুতর’ অভিযোগ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
11th admission application through digital system started on December 8

ডিজিটাল পদ্ধতিতে একাদশে ভর্তি, আবেদন শুরু ৮ ডিসেম্বর

ডিজিটাল পদ্ধতিতে একাদশে ভর্তি, আবেদন শুরু ৮ ডিসেম্বর ২৮ নভেম্বর চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুলের শিক্ষার্থীরাও আনন্দ-উচ্ছ্বাস মেতে ওঠে। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি তপন কুমার সরকার বলেন, ‘আগামী ৮ ডিসেম্বর থেকে একাদশে ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু হবে, যা চলবে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। শিক্ষার্থীরা সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পছন্দক্রম দিয়ে আবেদন করতে পারবে।’

উচ্চ মাধ্যমিক বা একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের ভর্তির অনলাইনে আবেদন শুরু হবে আগামী ৮ ডিসেম্বর, যা চলবে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এ বছর আবেদন করতে হবে আগের বছরের মতো ডিজিটাল পদ্ধতিতে।

বৃহস্পতিবার ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি তপন কুমার সরকার এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘আগামী ৮ ডিসেম্বর থেকে একাদশে ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু হবে, যা চলবে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। শিক্ষার্থীরা সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পছন্দক্রম দিয়ে আবেদন করতে পারবে।’

তপন কুমার সরকার বলেন, ‘বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত একাদশে ভর্তিবিষয়ক এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।’

এর আগে গত সোমবার ফল প্রকাশের দিন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জানিয়েছিলেন, উচ্চ মাধ্যমিকের ভর্তি যে পদ্ধতিতে হয়, এবারও সেই একই পদ্ধতিতে হবে। কোনো ব্যত্যয় হবে না।

এ বছর ৯টি শিক্ষা বোর্ড এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মাধ্যমিক ও সমমানের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৯ লাখ ৯৪ হাজার ১৩৭ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ১৭ লাখ ৪৩ হাজার ৬১৯ জন পাস করেছে। তবে সরকারি ও বেসরকারি কলেজ মিলিয়ে ২৫ লাখের মতো শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ রয়েছে একাদশ শ্রেণিতে।

গত ২৮ নভেম্বর চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ করা হয়। পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৮৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ, যা আগের বছর ছিল ৯৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

এবার সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৮৮ দশমিক ১০ শতাংশ। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৮২ দশমিক ২২ শতাংশ আর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ৮৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
এসএসসিতে এক লাখ বেশি ফেলের পেছনে কী কারণ
পা দিয়ে লিখে জিপিএ ফাইভ পেল মানিক
উপযুক্ত শিক্ষকের অভাব আছে: শিক্ষামন্ত্রী
৪৫ বছরে এসএসসি দিয়ে পেলেন জিপিএ ফাইভ
বাবার মরদেহ রেখে পরীক্ষা দেয়া সুমাইয়া পেল জিপিএ ফাইভ

মন্তব্য

p
উপরে