বাসে ভ্রমণকালে শিক্ষার্থীদের নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখাসহ পাঁচ শর্তে দেশের সব মহানগরে শিক্ষার্থীদের বাসভাড়া অর্ধেক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকে রোববার জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ কথা বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা শর্তগুলো হলো- ১. বিদ্যমান ভাড়ার ৫০ শতাংশ কম; ২. ভ্রমণকালে ছাত্র-ছাত্রীদের অবশ্যই নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইস্যু করা ছবিযুক্ত হালনাগাদ বৈধ পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে এবং প্রয়োজনে তা দেখাতে হবে; ৩. সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা বেসরকারি বাসে চলাচলের ক্ষেত্রে এই অর্ধেক ভাড়ার সুযোগ পাবে; ৪. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটির দিনে অর্ধেক ভাড়া প্রযোজ্য হবে না এবং ৫. দূরপাল্লার বাসে এই হাফ ভাড়া প্রযোজ্য হবে না।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ১ ডিসেম্বর থেকে ঢাকা মহানগরে এবং ১১ ডিসেম্বর থেকে অন্যান্য মহানগরে শিক্ষার্থীদের জন্য অর্ধেক ভাড়া কার্যকর বলে গণ্য হবে।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে ধর্মঘটে যায় পরিবহন মালিক সমিতি। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ভাড়া সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
গত ৪ নভেম্বর ভাড়া বাড়ানোর পর সামনে আসে পরিবহন খাতের নৈরাজ্য। প্রতিবাদে সরব হয় সাধারণ মানুষ। ভ্রাম্যমাণ আদালন বসানো হয় সড়কে সড়কে। বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগে পরিবহনগুলোকে পড়তে হয় জরিমানার মুখে।
এরপর থেকেই বাসে অর্ধেক ভাড়ার দাবিতে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। ঢাকা শহরে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে কয়েকদিনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে প্রথমে বিআরটিসির বাসে অর্ধেক ভাড়া আদায়ের ঘোষণা দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ৩০ নভেম্বর বাসভাড়া অর্ধেক করার ঘোষণা দেয় পরিবহন মালিক সমিতিও।
আরও পড়ুন:নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মা ও মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (৩০ আগস্ট) রাতে ফতুল্লার শিহাচর বড় বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মৃতরা হলেন- শিয়াচর এলাকার আমির আলীর স্ত্রী রোকসানা বেগম (৫০) ও তার মেয়ে লামিয়া (২২)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত ৮ টার দিকে পাম্প নিয়ে বাড়ির পেছনে জমে থাকা বৃষ্টির পানি সেচতে যান রোকসানা বেগম ও তার মেয়ে লামিয়া। এসময় পাম্পের সংযোগ তার লিকেজ হয়ে রোকসানা বেগম বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। তাকে বাঁচাতে গিয়ে শরীরে স্পর্শ করলে তার মেয়ে লামিয়া বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। পরবর্তীতে আশপাশের লোকজন বিষয়টি দেখে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মা ও মেয়েকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে শহরের খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম বলেন, এটি খুব মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নওগাঁর মান্দায় জন্মের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মায়ের অবহেলায় হাসপাতালের বেডেই অসহায় হয়ে পড়ে থাকে এক নবজাতক কন্যা। নিজের মায়ের হাতেই ফেলে যাওয়া এ শিশুকে বুকে তুলে নিতেও পারেননি হতবাক বাবা। শনিবার বিকেলে এ ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগী তৌহিদ ইসলাম ঘটনার সুরাহা চেয়ে শনিবার সন্ধ্যার দিকে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
ভুক্তভোগী বাবা তৌহিদ ইসলাম (২৫) নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার চকহরি বল্লভ গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় দুই বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে মান্দার সাহাপুর (ফজিদারপাড়া) গ্রামের লছের আলী মণ্ডলের মেয়ে সাথী আক্তারকে বিয়ে করেছিলেন তিনি।
তৌহিদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্ত্রী সাথী আক্তার তিন মাস ধরে বাবার বাড়িতে ছিলেন। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) প্রসব বেদনা শুরু হলে খবর পেয়ে তিনি শ্বশুরবাড়িতে যান। পরে স্ত্রী ও শাশুড়িকে নিয়ে তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ভর্তি করেন। ওইদিন সন্ধ্যার দিকে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে কন্যা সন্তানের জন্ম দেন সাথী আক্তার।
কিন্তু সুখের সেই মুহূর্তের আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ আনতে বাজারে গেলে তৌহিদ ইসলাম ফিরে এসে দেখেন- স্ত্রীর কোলে নয়, হাসপাতালের বেডেই পড়ে আছে তাদের নবজাতক কন্যা। মা সাথী আক্তার ও নানী নবজাতককে ফেলে পালিয়ে গেছেন।
আবেগাপ্লুত তৌহিদ ইসলাম বলেন, “সন্তান জন্মের আনন্দে ভেসে যাচ্ছিলাম। অথচ ফিরে এসে দেখি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দই পরিণত হয়েছে দুঃস্বপ্নে। স্ত্রী ও শাশুড়ির এমন আচরণ আমাকে হতবাক করেছে। অসহায় শিশুকে বুকে নিয়ে এখন আমি দিশেহারা।
অভিযোগ প্রসঙ্গে সাথী আক্তার জানান, “বিয়ের পর থেকেই স্বামীর সঙ্গে মনোমালিন্য চলছিল। আমি সন্তান চাইনি, কিন্তু হয়ে গেছে। যেহেতু আর সংসার করব না, তাই সন্তানও পালন করব না।
বিষয়টি নিয়ে কথা হলে মান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সামছুর রহমান বলেন, “তৌহিদ ইসলামের লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। স্ত্রী সাথী আক্তার জানিয়েছেন, তিনি স্বামীর সঙ্গে সংসার করবেন না এবং সন্তানের দায়িত্বও নেবেন না। বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে এ ঘটনায় অসহায় নবজাতক কন্যার দিকে তাকিয়ে এলাকাবাসী এখন একটি প্রশ্নই করছেন— মায়ের আঁচল ফেলে যাওয়া এই শিশুটি কী ভবিষ্যত বরণ করবে।
সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের শহরগুলোর বায়ুদূষণের মাত্রা বাড়তে দেখা গেছে। প্রায়ই আইকিউএয়ারের দেওয়া বিশ্বের দূষিত বাতাসের শীর্ষ শহরের তালিকার প্রথম সারিতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন শহর দেখা যায়। আজ সে ধারা অব্যাহত রয়েছে, বায়ুদূষণে শীর্ষ পাঁচ শহরের চারটিই আজ মধ্যপ্রাচ্যের।
রবিবার (৩১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছিল সৌদি আরবের রিয়াদ। শহরটির একিইআই স্কোর ছিল ১৯৬। এই স্কোরের বাতাসকে বাসিন্দাদের জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়।
আইকিউএয়ারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিয়াদের ক্রমবর্ধমান নগর এলাকাগুলোতে আরও বেশি লবণাক্ত পানি শোধনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। কিন্তু লবণাক্ত পানি শোধনাগারগুলো (ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট) গ্রিনহাউস গ্যাস উৎপাদন করে। তাছাড়া, তেলের উত্তোলনও বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাইঅক্সাইড নির্গত করে। সেইসঙ্গে বনও উজার করা হচ্ছে। এসব কারণে শহরটির বায়ুদূষণের মাত্রা দিনদিন বেড়েই চলেছে।
অন্যদিকে, দ্বিতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, কুয়েতের কুয়েত সিটি ও কাতারের দোহা। শহরগুলোর স্কোর যথাক্রমে ১৫৭, ১৪২ ও ১২৭। একই সময়ে ১৫৩ স্কোর নিয়ে তৃতীয় স্থানে ছিল কঙ্গোর কিনশাসা।
এদিকে, বৃষ্টি কমতেই কয়েকদিন ধরে ঢাকার বাতাসের বাতাসের দূষণের মাত্রা বাড়তে শুরু করেছে। আজ সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেও সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে। যদিও গতকালের একই সময়ের তুলনায় আজ দূষণ কিছুটা কমেছে, তবে ‘ভালো’ হয়ে ওঠার ধারেকাছেও যেতে পারেনি।
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার বাতাসের একিউআই স্কোর ছিল ৮৮। এই স্কোর নিয়ে দূষিত বাতাসের শহরের তালিকার নবম স্থানে ছিল ঢাকা।
গতকাল একই সময়ে ঢাকার বাতাসের একিউআই স্কোর ছিল ৯৯। এই স্কোর ‘মাঝারি’ হলেও ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হওয়ার একেবারেই কাছাকাছি। ৯৯ একিউআই স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত বাতাসের শীর্ষ শহরগুলোর তালিকার অষ্টম স্থানে অবস্থান করছিল ঢাকা।
কণা দূষণের এই সূচক ৫০-এর মধ্যে থাকলে তা ‘ভালো’ বলে গণ্য করা হয়। আর স্কোর ৫০ থেকে ১০০-এর মধ্যে থাকলে তা ‘মাঝারি’ হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা হয়। এ ছাড়া ১০১ থেকে ১৫০ হলে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই পর্যায়ে সংবেদনশীল ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় বাইরে পরিশ্রম না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
তবে এই স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তা ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১ থেকে ৩০০ হলে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১-এর বেশি হলে তা ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে বিবেচিত হয়। জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করে ৩০০-এর বেশি যেকোনো সূচক।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে দারোয়ানের মারধর ও হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় গ্রামবাসী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে ৩২ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
শনিবার (৩০ আগস্ট) মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
শিক্ষার্থীরা জানান, শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ৩২ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১২ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তারা আরও জানান, প্রথমে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছেন। পরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে সেনাবাহিনীর একটি টিম ক্যাম্পাসে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ভুক্তভোগী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২৪-২৫ সেশনের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যমতে, ওই ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেটের কাছে একটি ভবনে ভাড়া থাকেন। গতকাল (শনিবার) রাতে তার কক্ষে যেতে দেরি হওয়ায় দারোয়ানের সঙ্গে কথা কাটাকাটির হঢ। একপর্যায়ে দারোয়ান ওই শিক্ষার্থীর ওপর চড়াও হন। এ সময় ২ নম্বর গেটে থাকা শিক্ষার্থীরা দারোয়ানকে ধরতে গেলে তিনি পালিয়ে যান। শিক্ষার্থীরা তাকে ধাওয়া করলে স্থানীয় লোকজন ইটপাটকেল মারা শুরু করেন। তখন তাদের মধ্যে সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ছাত্রী বলেন, ‘আমি প্রতিদিন সময় মতো বাসায় আসি। আজকেও দেরি করিনি। ১২টার মধ্যে চলে আসি। দারোয়ানকে দরজা খুলতে বলি। তবে তিনি দরজা খুলতে রাজি হচ্ছিলেন না। পরে জোরে ডাক দিলে তিনি অকথ্য ভাষায় কথা বলেন। আমি জবাব দিতে গেলে হঠাৎ আমার গলায় চড় মারেন। সঙ্গে সঙ্গে আমার রুমমেটরা নামলে তিনি আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন এবং লাথি মারতে থাকেন। আমি আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে আমার রুমমেট ও আশপাশের স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন।’
ফরহাদ হোসেন নামের এক শিক্ষার্থী জানান, রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় মাছ বাজারের সামনে একটি বাসায় এক ছাত্রীর ঢুকতে দেরি হওয়াকে কেন্দ্র করে দারোয়ানের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। এর জেরে দারোয়ান ওই শিক্ষার্থীর ওপর হামলা চালান। তাকে বিভাগের ছোট ভাইয়েরা বিষয়টি জানালে তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে যান এবং দারোয়ানকে ধরতে গেলে সে পালিয়ে যান।
পরবর্তীতে একটু দূরে গিয়ে তাকে ধরে ফেলেন তারা। তখন এলাকাবাসী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে দারোয়ানকে ছিনিয়ে নেয়। এ সময় তারা আইন বিভাগের ২০-২১ সেশনের ইমতিয়াজকে রক্তাক্ত করে।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর তানভীর মোহাম্মদ হায়দার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের কাছে খবর এসেছে। আমি নিরাপত্তাকর্মী ও পুলিশকে জানিয়েছি। তারা ঘটনাস্থলে যাচ্ছে।’
দক্ষিণ এশিয়ার তরুণ নারী নেতৃবৃন্দের জন্য আয়োজিত আন্তর্জাতিক ফেলোশিপ প্রোগ্রাম ‘সাউথ এশিয়া ইয়ং উইমেন এমপাওয়ারমেন্ট একাডেমি’তে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন কুমিল্লার উদীয়মান নারী নেত্রী সুমাইয়া বিনতে হোসাইনী।
সুইডেনভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেক্টোরাল অ্যাসিস্ট্যান্স (IDEA) এই ফেলোশিপের আয়োজন করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) অর্থায়নে এবং জাতিসংঘের নারী বিষয়ক সংস্থা ইউএন উইমেন (UN Women)-এর সার্বিক সহযোগিতায় অনুষ্ঠিতব্য এই আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে দক্ষিণ এশিয়ার ছয়টি দেশের তরুণ নারী নেতৃবৃন্দ অংশ নেবেন।
ফেলোশিপটি অনুষ্ঠিত হবে ১৬ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর, শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোয়। তিন দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা নেতৃত্ব বিকাশ, রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ পাবেন।
এ প্রসঙ্গে সুমাইয়া বলেন, “আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ আমার জন্য গৌরব ও সম্মানের। দেশের তরুণ নারীদের অবস্থান ও সক্ষমতা বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার এই দায়িত্ব আমি নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করব ইনশাআল্লাহ। এই অভিজ্ঞতা আমাকে ব্যক্তি ও পেশাগত জীবনে সমৃদ্ধ করবে। একইসঙ্গে ভবিষ্যৎ নারী নেতৃত্ব গঠনে অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবেও কাজ করবে।”
সুমাইয়া বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল গবেষক এবং একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত। তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তথ্য-প্রযুক্তি সংসদের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা মহানগর মহিলা দলের সহ-সভাপতি এবং ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের তরুণ রাজনৈতিক ফেলো হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ছাত্রজীবন থেকেই সামাজিক, রাজনৈতিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় সুমাইয়া ইতোমধ্যে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে তরুণ নেতৃত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।
এই ধরনের আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ বাংলাদেশের তরুণ নারীদের সক্ষমতা ও নেতৃত্বের দক্ষতাকে বৈশ্বিক পরিসরে তুলে ধরছে। সুমাইয়া বিনতে হোসাইনীর মতো নেতৃত্বগুণে সমৃদ্ধ নারীরা আগামী দিনের পরিবর্তনের রূপকার হয়ে উঠবেন—এমনটাই প্রত্যাশা দেশের মানুষের।
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুলে এবার পাওয়া গেছে ৩২ বস্তা টাকা। ৪ মাস ১৮ দিনে এই টাকা জমা পড়েছে মসজিদের ১৩ টি দানবাক্সে।
দিনভর গুনে দেখা গেছে, সেখানে জমা পড়েছে ১২ কোটি ৯ লাখ ৩৭ হাজার ২২০ টাকা। এ ছাড়াও পাওয়া গেছে বৈদেশিক মুদ্রা, সোনা ও রুপা।
কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মো: এরশাদুল আহমেদের তত্ত্বাবধানে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফৌজিয়া খান ও পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ হাছান চৌধুরীর উপস্থিতিতে সকাল সোয়া ৭টার দিকে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। এরপর সকাল ৯ টার দিকে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে মেজেতে ঢেলে শুরু হয় গণনা। প্রায় পাঁচ শতাধিক গণনাকারীর অংশগ্রহণে গণনা চলে সন্ধ্যা ৮ পর্যন্ত।
কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহবায়ক মোঃ এরশাদুল আহমেদ রাত সোয়া ৮ টার দিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে ২০২৫ সালের ১২ এপ্রিল সকালে মসজিদটির ১১ টি দানবাক্স খুলে ২৮ বস্তা টাকা পাওয়া যায়। গণনা শেষে টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ৯ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৬৮৭ টাকা। এছাড়াও পাওয়া যায় বৈদেশিক মুদ্রা, সোনা ও রুপা। তখন ৪ মাস ১২ দিনে এই পরিমাণ টাকা জমা পড়েছিল মসজিদের দানবাক্সগুলোতে।
তখনকার সময়ে এই পরিমাণ অর্থ ছিল সর্বোচ্চ রেকর্ড। টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকার, বৈদেশিক মুদ্রা ছাড়াও প্রচুর পরিমাণ হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগলও দান করেন অনেকে।
পাগলা মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানায়, টাকা গণনায় অংশ নেয় পাগলা মসজিদ সংলগ্ন মাদ্রাসার ১২০ জন ও আল-জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদ্রাসার ২২০ জন ছাত্র, পাগলা মসজিদের ৪৫ জন স্টাফ, রূপালী ব্যাংকের ১০০ জন কর্মকর্তা, এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রায় অর্ধশতাধিক সদস্য গণনায় অংশ নিয়েছেন।
এই গণনায় অংশগ্রহণ করা শিক্ষার্থীদের মধ্যেও বিরাজ করে উৎসবের আমেজ। আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আনাছ বলেন, আমরা সব সময় অধীর আগ্রহে থাকি কখন দানবাক্স খোলা হবে। পাগলা মসজিদের দানবাক্সের টাকা গণনায় অংশ নিতে পেরে আনন্দিত তিনি।
এছাড়াও দানবাক্সের টাকা গণনা দেখতে অনেকেই এসেছেন দূরদূরান্ত থেকে। তাদের মধ্যে একজন জাকারিয়া হোসাইন। তিনি এসেছেন হোসেনপুর উপজেলার সিদলা এলাকা থেকে। জাকারিয়া বলেন, পাগলা মসজিদের দানবাক্সের টাকা গণনা সবসময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেন। তবে এবার সরাসরি দেখতে মসজিদে ছুটে এসেছেন তিনি।
এই মসজিদে দান বা মানত করলে মনের মনে আশা পূরণ এমন বিশ্বাস থেকে দান করেন অনেকে। এমন বিশ্বাস থেকে পাগলা মসজিদে দান করতে নারায়ণগঞ্জ থেকে এসেছিলেন নিলুফা রহমান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ পাগলা মসজিদে আসার ইচ্ছে ছিল তার। এবার সুযোগ পেয়ে মসজিদে এসে দান করেছেন তিনি।
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী জানান, দানবাক্স খোলা থেকে শুরু করে বস্তায় ভরা এবং গণনা শেষে ব্যাংক পর্যন্ত সব টাকা নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত সার্বিক নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত থাকে পুলিশ ও সেনাবাহিনী। দানবাক্স খোলা থেকে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেও থাকেন মসজিদ প্রাঙ্গণে।
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফৌজিয়া খান জানান, পাগলা মসজিদে দানের টাকা থেকে বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসা ও দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সহায়তা করা হয়ে থাকে। দানের টাকায় পাগলা মসজিদকেন্দ্রিক একটি ইসলামি কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হবে। ভবনটি হবে ১০ তলাবিশিষ্ট এবং এখানে বহুমুখী কাজ করা হবে। এখানে অনাথ–এতিমদের জন্য লেখাপড়ার ব্যবস্থা, ধর্মীয় শিক্ষা, মাদ্রাসাশিক্ষা, একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার, ক্যাফেটেরিয়া ও আইটি সেকশনও থাকবে।
তিনি বলেন, ইতিমধ্যে মসজিদ কমপ্লেক্সের জন্য নকশা জমা দিয়েছে ১২টি প্রতিষ্ঠান। রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ দল পরীক্ষা করে একটি প্রতিষ্ঠানকে মনোনয়ন দিয়েছে। জেলা প্রশাসন ও মসজিদ কমিটি দ্রুত কার্যাদেশ দেবে এবং কাজ শুরু হয়ে যাবে।
এই মসজিদের বর্তমান আয়তন ৫ দশমিক ৫ একর। ১০ তলাবিশিষ্ট আধুনিক ভবনের জন্য আরও কিছু জায়গা কেনা হবে। এই মুহূর্তে পাগলা মসজিদের অ্যাকাউন্টে মানুষের দানের ৯০ কোটি ৬৪ লাখ টাকা জমা আছে।
ছাত্র নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে গত বছরের আগস্টে ভারতে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হওয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলাগুলোর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত ‘ডেল্টা কনফারেন্স ২০২৫’ শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বাসস-এর সঙ্গে আলাপকালে আজ শনিবার এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘চব্বিশের জুলাই-আগস্ট’ আন্দোলনে যে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে, তার সঙ্গে অনেক পুলিশ সদস্য জড়িত। পুলিশকে দিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে তদন্ত চালাতে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে আমাদের। অনেক আলামতও নষ্ট করে ফেলা হয়েছিল। তবে, আমরা ইতোমধ্যেই বিচার প্রক্রিয়া অনেকটাই এগিয়ে নিতে পেরেছি।’
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে মিলিয়ে এমনভাবে বিচার হচ্ছে, যা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি অচিরেই হবে।’
দেশবাসী ফেব্রুয়ারির আগেই শেখ হাসিনার বিচার দেখতে পাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন চিফ প্রসিকিউটর।
মন্তব্য