× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

বাংলাদেশ
They come down with wings on the chest of the red shuffler
hear-news
player
print-icon

লাল শাপলার বুকে ডানা মেলে নেমে আসে তারা

লাল-শাপলার-বুকে-ডানা-মেলে-নেমে-আসে-তারা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকে শাপলার ওপর বসে আছে অতিথি পাখি। ছবি: সংগৃহীত
অন্যান্য বছরের মতো এবারও নভেম্বরের শুরুতেই ক্যাম্পাসে আসতে শুরু করে এসব পাখি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বর লেক, ওয়াইল্ড লাইফ রেসকিউ সেন্টার লেক, সুইমিংপুল সংলগ্ন লেক ও বোটানিক্যাল গার্ডেনের পাশের লেকে এরই মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পাখি এসেছে।

কুয়াশাচ্ছন্ন শীতের সকালে লেকে ফুটে থাকা লাল শাপলা। তার মধ্যে ডানা মেলে ঝাঁকে ঝাঁকে নেমে আসে তারা। এক ঝাঁক নামে তো আরেক ঝাঁক ওড়ে।

বলছিলাম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পরিযায়ী পাখিদের কথা। নৈসর্গিক সৌন্দর্য, শিক্ষার্থীদের পদচারণে আর পরিযায়ী পাখিদের কোলাহলে এখন একাকার জাবি ক্যাম্পাস।

সকালে সবার ঘুম ভাঙে পাখির কিচিরমিচির শব্দে। সারা দিন কিছুটা শান্ত থাকলেও বিকেলে শুরু হয় আবার তাদের ডাকাডাকি, ওড়াউড়ি। পরবর্তী দিনের অপেক্ষায় সন্ধ্যায় থামে সেই যজ্ঞ।

ঋতুর পালাক্রমে হেমন্ত শেষে শীত এলেই জাবি ক্যাম্পাসে আগমন ঘটে নতুন এ অতিথির। সুদূর সাইবেরিয়া, নেপাল ও মঙ্গোলিয়া থেকে আসে তারা।

অন্যান্য বছরের মতো এবারও নভেম্বরের শুরুতেই ক্যাম্পাসে আসতে শুরু করে এসব পাখি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বর লেক, ওয়াইল্ড লাইফ রেসকিউ সেন্টার লেক, সুইমিংপুল সংলগ্ন লেক ও বোটানিক্যাল গার্ডেনের পাশের লেকে এরই মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পাখি এসেছে।

পরিযায়ী এসব পাখি দেখতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি আর বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে খ্যাত সবুজ ক্যাম্পাসে তাই ভিড় করছেন অনেকে। রাজধানী ঢাকা থেকে সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে ঘুরতে যাচ্ছেন অনেকে। ভিড় করছেন পাখিপ্রেমীরাও।

লাল শাপলার বুকে ডানা মেলে নেমে আসে তারা

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে জানা যায়, ১৯৮৬ সাল থেকে জাবির লেকগুলোতে অতিথি পাখি আসছে। একসময় দেশি-বিদেশি মিলে ১৯৫ প্রজাতির পাখির দেখা মিলত।

তাদের মধ্যে ছিল পিনটেইল, কোম্বডাক, পচার্ড, চিতা টুপি, লেসার হুইসেল, নাকতা, মানিকজোড়, গার্গিনি, ছোট সরালি, বড় সরালি, বামুনিয়া, হাঁস পাখি, মুরহেন, খঞ্জনা, নর্দান, লালগুড়গুটি, জলপিপি, কলাই, শামুকভাঙা, ভিনদেশি বক। তবে এখন শুধু সাত থেকে আট প্রজাতির পাখির দেখা মেলে।

বিভাগ থেকে আরও জানা যায়, মূলত নভেম্বর থেকেই শীতপ্রধান দেশ সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া, চীন, নেপাল থেকে দক্ষিণ এশিয়ার নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে এ পাখিরা আসে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে তারা ফিরে যেতে শুরু করে নিজ বাসভূমিতে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট শাখা জানিয়েছে, অতিথি পাখির খাদ্যের জোগান, তাদের বিচরণ ও নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিতে প্রতিবারের মতো ক্যাম্পাসের পাঁচটি লেক লিজমুক্ত রাখা হয়েছে। এই পাঁচটি লেকের পাড় বাঁধানোর পাশাপাশি দর্শনার্থীদের নির্দিষ্ট দূরত্বে রাখার জন্য কাঁটাতারের বেড়া দেয়া হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানান, দিন দিন পাখির সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এ জন্য নেয়া হয়েছে বাড়তি সতর্কতা। দর্শনার্থীরা যাতে পাখিদের বিরক্ত না করে সে জন্য সচেতনতামূলক বিভিন্ন পোস্টার লাগানো হয়েছে।

প্রতিবছর লেকগুলো পরিযায়ী পাখির বিচরণের জন্য প্রস্তুত, রক্ষণাবেক্ষণ ও খাবারের ব্যবস্থা করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অন্তত ১৫ লাখ টাকা ব্যয় হয় বলেও জানান তারা।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিযায়ী পাখির আগমন উপলক্ষে মানুষকে পাখি বিষয়ে সচেতন করতে প্রায় দুই লাখ টাকা ব্যয়ে প্রতিবছর পাখি মেলার আয়োজন করা হয়।

আরও পড়ুন:
কুঞ্জবনে এখন শুধুই পরিযায়ী পাখি
অতিথি পাখি শিকারিদের দণ্ড

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Murder case accuseds decapitated body recovered

হত্যা মামলা আসামির গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার

হত্যা মামলা আসামির গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার এক নারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা মামলার আসামি এনামুল হক। ছবি: নিউজবাংলা
শেরপুর থানার ওসি শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। মরদেহের গলায় ও পেটে ছুরির আঘাত আছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।’  

বগুড়ার শেরপুরে এনামুল হক নামের এক হত্যা মামলার আসামির গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের হাপুনিয়া মহাবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এনামুল হক হাপুনিয়া কলোনি এলাকার মোতালেব হকের ছেলে। স্থানীয় এক নারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা মামলার আসামি তিনি।

নিউজবাংলাকে তথ্য নিশ্চিত করেছেন শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম।

স্থানীয়দের বরাতে তিনি জানান, প্রায় ৭ বছর আগে সালমা খাতুন নামের এক নারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন এনামুল। ওই ঘটনায় এনামুল প্রায় তিন বছর কারাভোগ করেন। এরপর জামিনে ছাড়া পান।

এর পরে থেকেই তিনি মানসিক ভারসাম্যহীনভাবে এলাকায় চলাফেরা করতেন। রাতভর বাজারের আশপাশে ঘোরাফেরা করে সকালে বাড়িতে ফিরতেন তিনি।

বুধবার রাতে এনামুল ঘুরতে বাড়ি থেকে বের হন। স্থানীয়রা আজ সকালে তার গলা কাটা দেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়।

ওসি শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। মরদেহের গলায় ও পেটে ছুরির আঘাত আছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
রাজধানীতে ড্রামে ব্যক্তির মরদেহ
কক্সবাজার সৈকতে দুই যুবকের মরদেহ
উত্তরায় তরুণীর মরদেহ উদ্ধার
স্ত্রী-দুই সন্তান হত্যা, পুলিশ হেফাজতে স্বামী-প্রতিবেশী
নিখোঁজের ২৪ ঘণ্টা পর নদীতে যুবকের মরদেহ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
A tourist was killed and seven others were injured when a microbus fell into a ditch in Thanchi

থানচিতে মাইক্রো খাদে পড়ে পর্যটক নিহত, আহত ৮

থানচিতে মাইক্রো খাদে পড়ে পর্যটক নিহত, আহত ৮ বান্দরবানের থানচিতে বৃহস্পতিবার দুর্ঘটনার শিকার হয় পর্যটকবাহী একটি গাড়ি। ছবি: সংগৃহীত
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয়রা জানায়, জীবননগর সড়কের ঢালে পর্যটকবাহী একটি কালো রঙের এক্সনোয়াহ মাইক্রোবাস রাস্তার পাশে গভীর খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই এক পর্যটকের মৃত্যু হয়। এ সময় আরও ৮ পর্যটক আহত হন।

বান্দরবানের থানচিতে পর্যটকবাহী মাইক্রোবাস খাদে পড়ে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও আটজন।

উপজেলার জীবননগরে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয়রা জানায়, জীবননগর সড়কের ঢালে পর্যটকবাহী একটি কালো রঙের এক্সনোয়াহ মাইক্রোবাস রাস্তার পাশে গভীর খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই এক পর্যটকের মৃত্যু হয়। এ সময় আরও ৮ পর্যটক আহত হন।

নিহত পর্যটকের নাম জানা যায়নি। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজনকে থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং বান্দরবান সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের উদ্ধারে কাজ করছে বিজিবি ও স্থানীয়রা।

আহত পর্যটকদের মধ্যে হামিদুল ইসলাম নামের একজনের অবস্থা সংকটাপন্ন।

আহত আরেক পর্যটক মো. ওয়াহিদ বলেন, ‘ঢাকা থেকে বান্দরবান বেড়াতে এসেছিলাম। থানচিতে যাওয়ার পথে জীবননগর এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি খাদে পড়ে গেছে। গাড়িতে আমরা ৯ জন ছিলাম চালকসহ।’

ওয়াহিদ জানান, হতাহত ব্যক্তিরা বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নিরাপত্তা শাখার কর্মচারী।

এ বিষয়ে জানতে বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক মিজানুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের অফিশিয়াল কোনো ট্যুর ছিল বলে আমার কাছে তথ্য নেই। এখন আলাদা করে কেউ গেছে কি না, সেটা বলতে পারছি না।

‘আমাদের কাছেও দুর্ঘটনার একটা ইনফরমেশন এসেছে। আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি।’

দুর্ঘটনায় হতাহতের বিষয়টি জানিয়ে থানচি থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সত্যব্রত চাকমা জানান, গাড়িটি বান্দরবান থেকে থানচি যাচ্ছিল। আহত পর্যটকদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা সংকটাপন্ন।

বান্দরবানের পুলিশ সুপার (এসপি) জেরিন আখতার বলেন, ‘আমরা দুর্ঘটনার খবর শুনেছি। আমাদের লোক ঘটনাস্থলে যাচ্ছে।’

হতাহতের বিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি পুলিশের এ কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
শায়েস্তাগঞ্জে আতঙ্ক এক কিলোমিটারে
তেলবাহী ট্রাকচাপায় গেল প্রাণ
দাঁড়িয়ে থাকা লরিতে অটোর ধাক্কা, যাত্রী নিহত
জরুরি বিভাগের সামনে অ্যাম্বুলেন্সচাপায় বৃদ্ধ নিহত
‘সড়ক দুর্ঘটনায়’ বিমান বাহিনীর সার্জেন্ট নিহত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Complaint of removing the patient from the emergency department

জরুরি বিভাগ থেকে রোগী বের করে দেয়ার অভিযোগ

জরুরি বিভাগ থেকে রোগী বের করে দেয়ার অভিযোগ
চিকিৎসক রুবিনা বলেন, ‘রোগী তাড়াহুড়া করায় তাকে হাসপাতালের সহকারী মেডিক্যাল অফিসার আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেছিলাম। কারণ তিনিই প্রেশার মাপেন। আর সাংবাদিকের বিষয়টা হলো, তখন আমার মানসিক অবস্থা ভালো ছিল না। তাই ওভাবে বলেছি।’

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে জরুরি বিভাগে সেবা নিতে আসা রোগীকে বের করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

জরুরি বিভাগের ওই চিকিৎসক রুবিনা আক্তার বলছেন, তিনি রোগীকে বের করে দেননি। প্রেশার মাপতে চাওয়ায় সহকারী মেডিক্যাল অফিসার আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেছিলেন।

চিকিৎসা নিতে যাওয়া মুন্সী মহাসীন আলী নামের ওই রোগীর বাড়ি জীবননগর পৌর এলাকার হাই স্কুলপাড়ায়।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বুকে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হলে বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আমি জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে যাই। সেখানে ডাক্তার রুবিনা আক্তার ছিলেন। ব্যথা বাড়তে থাকায় আমি দ্রুত চিকিৎসা দিতে বলি। তিনি তা না শুনে ওষুধ কোম্পানির এক রিপ্রেজেন্টেটিভের সঙ্গে গল্পে ব্যস্ত ছিলেন।

‘দীর্ঘ সময় বসে থাকার পর প্রেশার মাপার অনুরোধ করলে তিনি বলেন, প্রেশার মাপা তার কাজ না। যিনি প্রেশার মাপবেন তিনি বাইরে গেছেন। তিনি এসে প্রেশার মাপবেন।’

মহাসীন আরও বলেন, “আমার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় আমি তাকে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করতে অনুরোধ করি। তখন তিনি আমার ওপর রেগে যান। খারাপ ব্যবহার শুরু করেন। আমি তার নাম জানতে চাইলে বলেন, ‘নাম শুনে কী করবি? এমপি টগরকে বলবি? বলগে যা। বলে যদি কিছু করতে পারিস করগে যা। এখান থেকে বের হয়ে যা'।”

পরে সেখান থেকে বেরিয়ে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নেন মহাসীন।

তিনি বলেন, ‘একজন নাগরিক হিসেবে চিকিৎসাসেবা পাওয়া আমার অধিকার। সেখান থেকে আমাকে বের করে দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার আমি ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ দেব।’

রোগীকে বের করে দেয়ার অভিযোগ শুনে চিকিৎসক রুবিনার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন জীবননগর প্রেস ক্লাবের সভাপতি এম আর বাবু।

বাবু বলেন, “আমি ফোন দিয়ে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘একজন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাকে আপনি এভাবে প্রশ্ন বা জেরা করতে পারেন না। আপনার যা ইচ্ছা তা লিখতে পারেন।’ এই কথা বলে তিনি আমার কল কেটে দেন। ওই চিকিৎসকের শাস্তির দাবিতে জীবননগর প্রেস ক্লাব থেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পাঠানো হবে।”

এসব অভিযোগের বিষয়ে রুবিনা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রোগী তাড়াহুড়া করায় তাকে হাসপাতালের সহকারী মেডিক্যাল অফিসার আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেছিলাম। কারণ তিনিই প্রেশার মাপেন। আর সাংবাদিকের বিষয়টা হলো, তখন আমার মানসিক অবস্থা ভালো ছিল না। তাই ওভাবে বলেছি।’

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন বলেন, ‘ঘটনাটি দুঃখজনক। আমি অফিসের জরুরি কাজে ঢাকায় আছি। ফিরে এসে ব্যবস্থা নেব।’

আরও পড়ুন:
তিন ভাগের এক ভাগ চিকিৎসক নিয়ে চলছে দিনাজপুর মেডিক্যাল
কোভিড হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংশয়
আল্ট্রাসাউন্ডে ‘যমজ সন্তান’, প্রসব একটির
হাসপাতালে ‘ভুল চিকিৎসা’য় নবজাতকের মৃত্যু
রোগীর মৃত্যুতে চিকিৎসককে ‘মারধর’, আটক ২

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Hashem Alis dream has sunk

তলিয়ে গেছে হাশেম আলীদের স্বপ্ন

তলিয়ে গেছে হাশেম আলীদের স্বপ্ন জামালপুরে বন্যায় ২০ গ্রামের পাকা বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ছবি: নিউজবাংলা
‘প্রতি বছর সাধারণ ধান কাটা শেষে আষাঢ়ের মাঝামাঝি বন্যা আসে। এ বছর কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই হঠাৎ যমুনার পানি ঢুকে পড়ে। বন্যা মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুত না থাকায় এ এলাকার কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে।’

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার ঝাউগড়া ইউনিয়নের কাপাসহাঁটিয়া গ্রামের প্রান্তি কৃষক হাশেম আলী। কষ্টার্জিত জমানো টাকায় ১২ বিঘা জমিতে লাগিয়েছিলেন বোরো ধান। গত শনিবারের আকস্মিক বন্যায় তলিয়ে গেছে তার স্বপ্নের ধান। এতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তিনি।

শুধু হাশেম আলী নন। মেলান্দহ উপজেলার ঝাউগড়া ও ঘোষেরপাড়া ইউনিয়নের কাপাসহাঁটিয়া, শেখ সাদি, টুপকারচর, ফকিরপাড়া, বেলতৈল, বাগবাড়ি, পূর্ব কাপাসহাটিয়া, তালুকপাড়াসহ ২০ গ্রামের আশপাশের কয়েক হাজার একর জমিতে বোরো আবাদ করে ক্ষতিগ্রস্ত শত শত কৃষক।

তলিয়ে গেছে হাশেম আলীদের স্বপ্ন

শনিবার রাতে উজানের ঢলে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আকস্মিক বন্যায় এই ২০ গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকার জমির পাকা বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। দিশাহারা এসব কৃষক যে যেভাবে পারছে ধান কাটার চেষ্টা করছে। কিন্তু শ্রমিক আর নৌকা সংকটের কারণে বেশির ভাগ ক্ষেতের ধান ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে। আবার উৎপাদন খরচ না উঠায় অনেকেই ছেড়ে দিয়েছেন ধানের আশা।

তলিয়ে গেছে হাশেম আলীদের স্বপ্ন

কৃষক হাকিম আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পানিতে তলানো ধান কাটার জন্যে দেড় হাজার টাকা দিয়েও কামলা পাওয়া যাইতাছে না। যাগর একটু টাকা-পয়সা আছে, খালি তারাই ধান কাটতাছে। যাগর টাকা নাই তারা আর ধান কাটতে পারতাছে না। আমরা খুব কষ্টে আছি।’

কৃষক জাকিউল ইসলাম বলেন, ‘তলায় থাকা ধান কাটার পর রাস্তা পর্যন্ত যে আনমু, এহন নৌকা পাওয়া যাইতাছে না। এডা নৌকা আনবের গেলে এক ঘণ্টার জন্যে ১০০০ হাজার টাকা দেওয়া লাগে। কামলা খরচ দিয়ে, নৌকা খরচ দিয়ে ধান কাইটে পুষাইতাছে না। তাই বেশির ভাগ ধান ক্ষেতেই নষ্ট হয়ে যাইতাছে।’

তলিয়ে গেছে হাশেম আলীদের স্বপ্ন

কাপাসহাঁটিয়া গ্রামের কৃষক আমিনুল ইসলাম জানান, তিনি সাত বিঘা জমিতে বোরো চাষ করেছিলেন। পানিতে ডুবে গেছে পুরো জমির ধান। দিনে দেড় হাজার টাকা মজুরি দিয়ে শ্রমিক আর ঘণ্টায় হাজার টাকার চুক্তিতে নৌকা ভাড়া নিয়ে দুই বিঘার ধান কেটে রাস্তায় তুলেছেন। বাকি ধান এখনও পানির নিচে ডুবে আছে।

কৃষক আকবর আলী বলেন, ‘আমরা যে ক্ষতির শিকার হয়েছি, এহন যদি সরকার আঙ্গরে সাহায্য না করে তাইলে সারা বছর না খায়ে থাকা লাগব।’

তলিয়ে গেছে হাশেম আলীদের স্বপ্ন

ঝাউগড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হিল্লোল সরকার বলেন, ‘প্রতি বছর সাধারণত ধান কাটা শেষে আষাঢ়ের মাঝামাঝিতে বন্যা আসে। এ বছর কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই হঠাৎ যমুনার পানি ঢুকে পড়ে। বন্যা মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুত না থাকায় এ এলাকার কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে।’

মেলান্দহ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল জানান, উপজেলায় এ বছর ২০ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। তার মধ্যে ঝাউগড়া ও ঘোষেরপাড়া ইউনিয়নেই আবাদ হয়েছে ৪ হাজার ১৫০ হেক্টর।

তলিয়ে গেছে হাশেম আলীদের স্বপ্ন

জামালপুর কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক শাখাওয়াত ইকরাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নিমজ্জিত ধান কাটতে কৃষকদের পাশে থেকে পরামর্শ দেয়া ছাড়াও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
সারা দেশে বৃষ্টি আরও কয়েক দিন
বোরোর মৌসুমে ধান সংগ্রহ শুরু
ঘূর্ণিঝড় আসানি: আধাপাকা ধান কাটছেন চাষি
ঘুম ভাঙাল বৃষ্টি
শীতলতার পরশ নিয়ে এলো বৃষ্টি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Arrest of fraud showing greed for government job

সরকারি চাকরির লোভ দেখিয়ে ‘প্রতারণা’, গ্রেপ্তার ২

সরকারি চাকরির লোভ দেখিয়ে ‘প্রতারণা’, গ্রেপ্তার ২
ডিবির ওসি মাহাব্বুর বলেন, ‘শান্ত আগে বিজিবির বাবুর্চি হিসেবে কাজ করতেন। সরকারি চাকরি দেয়ার নামে তিনি প্রায় অর্ধকোটি টাকার মালিক হয়েছেন।’

জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে চাকরির লোভ দেখিয়ে প্রতারণার অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার মুক্তিপাড়া ও ঝিনাইদহ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে বুধবার রাত ১টার দিকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ওই দুই যুবক হলেন আলমডাঙ্গা উপজেলার গড়চাপড়া গ্রামের ৩৫ বছর বয়সী রাশেদুজ্জামান শান্ত ও সদর উপজেলার পিরোজখালী গ্রামের ৩০ বছর বয়সী বিল্লাল হোসেন।

ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাব্বুর রহমান নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, শান্ত দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে এনএসআইয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল পরিচয় দিতেন। এই পরিচয়ে তিনি চাকরি দেয়ার নামে অর্থ আত্মসাৎ করতেন।

সম্প্রতি এনএসআইয়ের জুনিয়র ফিল্ড অফিসার ও এরিয়া অফিসার পদে চাকরি দেয়ার কথা বলে শান্ত কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ করেন।

এরপর আলমডাঙ্গা উপজেলার কাবিলনগর গ্রামের আব্দুল লতিফ বুধবার রাতে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় শান্ত ও বিল্লালসহ দুই থেকে তিনজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার মামলা করেন।

পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মুক্তিপাড়ায় অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে শান্তকে গ্রেপ্তার করে। তার ঘর থেকে উদ্ধার করা হয় ১৮ লাখ ১৫ হাজার টাকা। পরে ঝিনাইদহ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তার সহযোগী কাঠমিস্ত্রি বিল্লালকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

ওসি মাহাব্বুর বলেন, ‘শান্ত আব্দুল লতিফের ছেলে আব্দুর সবুরকে চাকরি দেয়ার কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। গ্রেপ্তারের পর শান্ত ও বিল্লালের কাছ থেকে আরও তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

‘শান্ত আগে বিজিবির বাবুর্চি হিসেবে কাজ করতেন। সরকারি চাকরি দেয়ার নামে তিনি প্রায় অর্ধকোটি টাকার মালিক হয়েছেন। বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে তোলা হবে।’

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধু পরিবারের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণা, দুজন গ্রেপ্তার
গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্সের জায়গা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ
ভূমি অধিগ্রহণে প্রতারণা, সার্ভেয়ারকে বরখাস্তের সুপারিশ
১০ লাখ টাকা আত্মসাতে বিআইডব্লিউটিএ কর্মচারীর কারাদণ্ড
এয়ার টিকিট বিক্রির প্রতারক চক্র, হোতা গ্রেপ্তার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Due to lack of space the truck terminal will be the bus terminal

জায়গা স্বল্পতায় ট্রাক টার্মিনাল হবে বাস টার্মিনাল

জায়গা স্বল্পতায় ট্রাক টার্মিনাল হবে বাস টার্মিনাল বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল। ছবি: নিউজবাংলা
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বলেন, ‘বর্তমানে যেখানে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল রয়েছে সেখানে বাস রাখার জন্য জায়গার স্বল্পতা রয়েছে। তাই মেয়র মহোদয় ট্রাক টার্মিনালে বাস টার্মিনাল স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অস্থায়ীভাবে সেখান থেকেই বাস চলাচল করবে।’

জায়গা স্বল্পতার সমস্যা মেটাতে অস্থায়ীভাবে বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিটি করপোরেশন।

আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে বাস টার্মিনালটি শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত ট্রাক টার্মিনালে স্থানান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন সিটি সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। বুধবার সন্ধ্যায় ফেসবুক লাইভে তিনি বিষয়টি জানান।

জেলা বাস মালিক গ্রুপের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকায় পাঁচ বছর আগেও অভ্যন্তরীণ রুটে ৯০টি বাস ছিল। বর্তমানে সেই বাসের সংখ্যা ১৯০টি এবং দূরপাল্লার রুট মিলিয়ে এই টার্মিনালে বাস আছে তিন শতাধিক। তবে এত বাস রাখার জন্য যথেষ্ট জায়গা নেই এই কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে।

জায়গা না পেয়ে বাস রাখা হয় টার্মিনাল সংলগ্ন বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় ও বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের সামনের সড়কে। এতে সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে সড়ক। বিঘ্নিত হচ্ছে যান চলাচল।

পাশাপাশি বাস মালিক ও শ্রমিকরা রয়েছেন চুরির আতঙ্কে। খোলা জায়গায় বাস রাখায় বিভিন্ন সময় ব্যাটারিসহ নানা যন্ত্রাংশ চুরির মতো ঘটনা ঘটছে অহরহ।

সাদি পরিবহনের চালক তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘বাস টার্মিনালের যে বর্তমান অবস্থা, তাতে বাস রাখা অনেক কষ্টের। বাস একবার টার্মিনালের মধ্যে ঢুকালে বের করতে জান-পরান বের হয়ে যায়। জরুরি ট্রিপ থাকলে তো ভোগান্তির শেষ নাই। তাই বাধ্য হয়ে সড়কের ওপর বাস রাখতে হয়। টার্মিনালে যে জায়গা রয়েছে, তার থেকে দ্বিগুণ জায়গা প্রয়োজন। তাহলে ভোগান্তি কমে যাবে।’

তুফান মেল পরিবহনের চালক সুমন বলেন, ‘রাস্তার ওপরে গাড়ি রাখলে নানা সমস্যা হয়। অনেক বাসের ব্যাটারি চুরি হইছে। বাইরে বাস রাখাটা রিস্ক। শুনছি ট্রাক টার্মিনালের জন্য যে জায়গা করছিল ওই জায়গায় বাস স্ট্যান্ড নেবে। বাস স্ট্যান্ডের চাইতে ট্রাক টার্মিনালের জায়গা বড়। সব বাস রাখাও সম্ভব হবে। এইটা হইলে ভোগান্তি মনে হয় কমবে।’

জায়গা স্বল্পতায় ট্রাক টার্মিনাল হবে বাস টার্মিনাল

বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক কিশোর কুমার দে বলেন, ‘দিন দিন কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে বাসের সংখ্যা বাড়ছেই। পদ্মা সেতু চালু হলে নতুন অনেক কোম্পানির বাস এই টার্মিনালে থাকবে। এখন যে বাস রয়েছে সেই বাসগুলোকেই জায়গা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। টার্মিনালের সামনে যানজটও অনেক বেড়েছে।

‘জনগণের ভোগান্তি তো হচ্ছেই, বাস মালিকরাও ভোগান্তিতে রয়েছে। এমন অবস্থায় মেয়র সেরনিয়াবাত জনভোগান্তির কথা বিবেচনা করে কাশিপুরে শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত ট্রাক টার্মিনালে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

কিশোর জানান, যন্ত্রাংশের দোকানগুলোও সেখানে স্থানান্তর করা হবে। আগামী তিন মাসের মধ্যেই বাস টার্মিনাল ট্রাক টার্মিনালে স্থানান্তর হবে।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বলেন, ‘বর্তমানে যেখানে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল রয়েছে সেখানে বাস রাখার জন্য জায়গার স্বল্পতা রয়েছে। মেয়র মহোদয় ট্রাক টার্মিনালে বাস টার্মিনাল স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অস্থায়ীভাবে সেখান থেকেই বাস চলাচল করবে। বাসগুলো আর ঝুঁকি নিয়ে বাইরে কোথাও রাখতে হবে না। সব বাসই ট্রাক টার্মিনালে রাখা সম্ভব।

‘তা ছাড়া সিটি করপোরেশনের প্ল্যান অনুযায়ী বর্তমানে যেখানে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল রয়েছে সেখানে নগর ভবন এবং গড়িয়ারপারে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নির্মাণের কথা রয়েছে। গড়িয়ারপারে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল স্থায়ীভাবে স্থানান্তর হলে আর কোনো সমস্যা থাকবে না।’

আরও পড়ুন:
বাইপোলার ডিজঅর্ডার কতটা প্রভাব ফেলে যৌনতায়
ঈদের পরও রেমিট্যান্সে সুবাতাস
লাইসেন্সের দাবিতে ইজিবাইক চালক‌দের বি‌ক্ষোভ
বিয়ের দাবিতে কুয়েত প্রবাসীর বাড়িতে জর্ডান প্রবাসী নারী
দেশে নার্স সংকট সোয়া দুই লাখ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
My village my city sure dream ambulance

‘আমার গ্রাম, আমার শহর’ নিশ্চিতে ‘স্বপ্নযাত্রা’ অ্যাম্বুলেন্স

‘আমার গ্রাম, আমার শহর’ নিশ্চিতে ‘স্বপ্নযাত্রা’ অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্মীপুরে মানুষকে সেবা দিতে প্রতিটি গ্রাম-গঞ্জে যাচ্ছে স্বপ্নযাত্রা নামের অ্যাম্বুলেন্স। ছবি: নিউজবাংলা
জেলা প্রশাসক আনোয়ার হোছাইন আকন্দ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন আমরা পূরণ করতে চাই। আমরা শহরের সুবিধা গ্রামেরও পৌঁছাতে চাই। সে লক্ষেই এই উদ্যোগ। আমরা এতে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। সারা দেশে এ কার্যক্রম ছড়িয়ে দিতে পারলে গ্রামীণ জনপদে মৃত্যুর হার অনেক কমে আসবে।’

সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে ও জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ব্যতিক্রম উদ্যোগ নিয়েছে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসন। অসহায়, দুস্থ, প্রতিবন্ধীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সেবা দিতে প্রতিটি গ্রাম-গঞ্জে যাচ্ছে ‘স্বপ্নযাত্রা’ নামের অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস।

এতে সাধারণ মানুষ সহজে সেবা নিতে পারবে। কমবে দুর্ভোগসহ নানা হয়রানি। প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ‘আমার গ্রাম, আমার শহর’ প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে লক্ষ্মীপুরে গ্রামীণপর্যায়ে সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দিতে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে একটি অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে শুরু হওয়া কার্যক্রমটি এখন পরিচালিত হচ্ছে ১০টি অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে। এই অ্যাম্বুলেন্সগুলো জেলার ৫৮টি ইউনিয়ন পর্যায়ে সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে কেনা হয়েছে অ্যাম্বুলেন্সগুলো। ২৪ ঘণ্টায় সদরসহ জেলার ৫টি উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে যাচ্ছে ‘স্বপ্নযাত্রা’।

‘আমার গ্রাম, আমার শহর’ নিশ্চিতে ‘স্বপ্নযাত্রা’ অ্যাম্বুলেন্স

সহজেই মানুষ অ্যাপের মাধ্যমে এই সার্ভিস ব্যবহারও করতে পারছেন। সে জন্য গুগল প্লে স্টোরে দেয়া হয়েছে স্বপ্নযাত্রা নামের একটি অ্যাপ, যা ডাউনলোড করে সেবার বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

সদর উপজেলার হামছাদীর আয়েশা বেগমের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, হঠাৎ বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। হাসপাতালে নিতে বিভিন্ন স্থানে অ্যাম্বুলেন্স খুঁজে না পেয়ে ‘স্বপ্নযাত্রা’ অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস সেবা কার্যক্রমে কল দেন স্বজনরা। স্বল্প খরচে অল্প সময়ে বাড়িতে পৌঁছে যায় অ্যাম্বুলেন্স। স্বল্প সময়েই পৌঁছান হাসপাতালে। কয়েক দিন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাসায় ফেরেন তিনি।

উত্তর হামছাদীর নাজমুল করিম টিপু বলেন, ‘প্রতি কিলোমিটার রোগীদের কাছ থেকে এসি গাড়ি ২০ টাকা হারে নেয়া হচ্ছে। যেখানে প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স করে ভাড়া দিতে হয় ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা। সেখানে এ সার্ভিসের মাধ্যমে নেয়া হচ্ছে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা।’

এমন সেবায় খুশি তারা। তাদের ভাষ্য, তারা সহজে যেমন সার্ভিস পাওয়া যাচ্ছে, তেমনি স্বল্প খরচে সবাই সেবাও নিতে পারছেন।

সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম সালাউদ্দিন টিপু বলেন, ‘কম খরচে ও সঠিক সময়ে এ সেবা পেয়ে খুশি সাধারণ মানুষ। এ সেবা কার্যক্রম জেলাজুড়ে ব্যাপক সাড়া মিলেছে।’

প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন তিনিও। তার দাবি, এ ‘স্বপ্নযাত্রা’ অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের মাধ্যমে সমাজের খেটে খাওয়া মানুষগুলো স্বাস্থ্যসেবা নিতে সহজ হবে। ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগকে সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়ার দাবি জানান তিনি।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান হোসেন বলেন, 'আমার গ্রাম, আমার শহর’ প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে লক্ষ্মীপুরে গ্রামীণপর্যায়ে সাধারণ মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ‘স্বপ্নযাত্রা’ অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু করা হয়েছে। সরকারি অনুদানে নয়, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের নিজস্ব অর্থায়নে চলছে এ কার্যক্রম।’

জেলা প্রশাসক আনোয়ার হোছাইন আকন্দ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন আমরা পূরণ করতে চাই। আমরা শহরের সুবিধা গ্রামেও পৌঁছাতে চাই। সে লক্ষেই এই উদ্যোগ। আমরা এতে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। সারা দেশে এ কার্যক্রম ছড়িয়ে দিতে পারলে গ্রামীণ জনপদে মৃত্যুর হার অনেক কমে আসবে।’

এটি অব্যাহত রাখার ঘোষণাও দেন জেলা প্রশাসক। পাশাপাশি এ কার্যক্রমে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
ভারতের উপহারের আরও ৪০ অ্যাম্বুলেন্স বেনাপোলে
মোদির উপহারের ৪০ অ্যাম্বুলেন্স ঢাকা আসছে বৃহস্পতিবার
বেনাপোল ছেড়েছে ভারতের উপহারের ৩০ অ্যাম্বুলেন্স
ভারতের উপহারের ৩০ অ্যাম্বুলেন্স বেনাপোলে
চট্টগ্রামে বিনা মূল্যে মিলবে আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স

মন্তব্য

p
উপরে