‘এত ছাত্রের ফাঁসিতে সন্তুষ্টির কিছু নাই’

player
‘এত ছাত্রের ফাঁসিতে সন্তুষ্টির কিছু নাই’

বুয়েট ছাত্র আবরার হত্যা মামলায় ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। ছবি: নিউজবাংলা

রায়ের পর ট্রাইব্যুনালের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর মোশাররফ হোসেন কাজলের প্রতিক্রিয়া জানতে চায় নিউজবাংলা। তিনি বলেন, ‘প্রতিক্রিয়ার কিছু নাই। অনেকগুলো মেধাবী ছাত্রের ফাঁসির আদেশ হলো, তাতে সন্তষ্টির কিছু নাই। তবে এটা একটি নজির হিসেবে থাকবে।’

বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার রায়ে ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। এই রায়কে নজির হিসেবে উল্লেখ করলেও সন্তুষ্টির কিছু দেখছেন না রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।

ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু জাফর কামরুজ্জামান বুধবার দুপুরে আলোচিত মামলাটির রায় ঘোষণা করেন। জানান, ২৫ আসামির সবাই দোষী। এর মধ্যে ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন বিচারক।

রায়ের পর ট্রাইব্যুনালের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর মোশাররফ হোসেন কাজলের প্রতিক্রিয়া জানতে চায় নিউজবাংলা। তিনি বলেন, ‘প্রতিক্রিয়ার কিছু নাই। অনেকগুলো মেধাবী ছাত্রের ফাঁসির আদেশ হলো, তাতে সন্তষ্টির কিছু নাই। তবে এটা একটি নজির হিসেবে থাকবে।

‘আর যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের নিপীড়নের শিকার কাউকে না হতে হয়, এই শিক্ষা স্মরণীয় হয়ে যাতে থাকে এ জন্য বিজ্ঞ আদালত এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের জন্য সর্বোচ্চসংখ্যক এবং সর্বোচ্চ শাস্তির আদেশ দিয়েছে। ভবিষ্যতে যেন আর কোনো মেধাবী ছাত্রকে র‌্যাগিং করে অত্যাচারিত হয়ে হত্যার শিকার হতে না হয় তার জন্য এই রায় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’

বিচারিক আদালতের রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আজকের মামলায় যে রায় হলো, তা যেন উচ্চ আদালতে বহাল থাকে এবং দ্রুত কার্যকর হয়। তাহলে আবরারের আত্মা শান্তি পাবে। আমি এই কামনাই করি।’

একই কথা বললেন আববারের মামা মোফাজ্জল হোসেন, ‘আমি অবশ্যই আশা করছি বিচারিক আদালতে যে রায় দেয়া হয়েছে উচ্চ আদালতে তা বহাল থাকবে। রায় বহাল না থাকার ব্যাপারে আমাদের কোনো আশঙ্কা নেই।’

রায়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন আসামি তোহা, মাজেদ, ও মুজাহিদের আইনজীবী রেজাউল করিম সরকার। উচ্চ আদালতে যাবেন বলেও জানালেন তিনি।

এই আইনজীবী বলেন, ‘আদালত যা ভালো মনে করেছেন তাই করেছেন। আমরা এই রায় নিয়ে উচ্চ আদালতে যাব। উচ্চ আদালতে গেলে আমাদের আসামি খালাস পাবেন। কারণ মামলার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সন্দেহাতিতভাবে প্রমাণিত হয়নি। মামলার এজাহার থেকে শুরু করে সবকিছু যথাযথভাবে আইনি প্রক্রিয়ায় নিখুঁতভাবে সম্পন্ন হয়নি। তাই আসামিরা উচ্চ আদালতে গেলে খালাস পাবে।’

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আকাশ হোসেনের আইনজীবী সাহাবুদ্দীন মোল্লা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় অভিযোগ গঠন করে সাজা দেয়া যায় না। কারণ আবরারকে হত্যা করার জন্য কেউ মারপিট করেনি। তাকে প্রথম যে মেরেছে দ্বিতীয় জনের সঙ্গে তার দেখা হয়নি। চড়থাপ্পড় মেরে চলে গেছে পরে আরেক জন এসে মেরেছে। এভাবেই একপর্যায়ে সে অক্সিজেনের অভাবে স্ট্রোক করে মৃত্যুবরণ করেছে।’

বিচারক যা বললেন

আলোচিত মামলাটির রায় দিতে বুধবার বেলা ১১টা ৫৭ মিনিটে বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান এজলাসে আসন গ্রহণ করেন। এর আগে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে আসামিদের কাঠগড়ায় তোলা হয়। বেলা ১১টা ৫৮ মিনিটে আসামিদের নাম ধরে হাজিরা ডাকা হয়। দুপুর ১২টা ১ মিনিটে রায় পড়া শুরু হয়। এ সময় কাঠগড়ায় আসামিরা বিমর্ষচিত্তে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

রায়ে বিচারক কামরুজ্জামান বলেন, ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে ৭ তারিখ ভোর পর্যন্ত আবরারকে নির্মমভাবে রড, ক্রিকেট স্টাম্প, স্পিনার দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে, যা ইতিহাসের একটি কলঙ্কিত অধ্যায় বলে মানুষের মনে প্রতিফলিত হয়ে আছে। দণ্ডবিধির ৩০২, ৩৪, ১০৯ ধারায় সকল আসামির জোরালো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। মামলার ঘটনা প্রমাণিত হয়েছে।

এ সময় ভারতের উচ্চ আদালতের দেয়া কয়েকটি মামলার নজির টেনে বিচারক বলেন, এ জাতীয় ঘটনায় আসামিদের সর্বোচ্চ সাজার নজির সৃষ্টি করা প্রয়োজন রয়েছে। আসামিরা নির্মমভাবে একজন মেধাবী ছাত্রকে হত্যা করেছে। তাকে অহেতুক শিবির সন্দেহে নিষ্ঠুরভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

এরপর ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সংক্ষিপ্ত রায় পড়ে শোনান বিচারক।

‘এত ছাত্রের ফাঁসিতে সন্তুষ্টির কিছু নাই’
বুয়েটছাত্র আবরার ফাহাদ

স্বজনরা যা বললেন

রায়ের সময় আদালত প্রাঙ্গণে দেখা যায় আসামিদের স্বজনদের। তবে কেউ তাদের পরিচয় প্রকাশ করছিলেন না।

স্বজনদের একজন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া আসামি মোয়াজ আবু হোরায়রার বাবা। প্রিজন ভ্যানের পাশে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলেন, ‘আমি ২৫ জনেরই পিতা।’

মোয়াজের বাবার দাবি, কোনো প্রমাণ ছাড়াই তার ছেলেকে সাজা দেয়া হয়েছে।

রায়ে যাদের মৃত্যুদণ্ড

বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল (সিই বিভাগ, ১৩তম ব্যাচ), তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার ওরফে অপু (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ), সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন ওরফে শান্ত (কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ১৫তম ব্যাচ), উপসমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশারফ সকাল (বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ), সাহিত্য সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির (ওয়াটার রিসোর্সেস ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ), ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ), সদস্য মুজাহিদুর রহমান ওরফে মুজাহিদ (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), সদস্য হোসেন মোহাম্মদ তোহা (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), সদস্য মুনতাসির আল জেমি (এমআই বিভাগ), সদস্য এহতেশামুল রাব্বি তানিম (সিই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), উপদপ্তর সম্পাদক মুজতবা রাফিদ (কেমিকৌশল), মোর্শেদ ওরফে মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মাজেদুল ইসলাম ওরফে মাজেদ (এমএমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), খন্দকার তাবাখ্খারুল ইসলাম ওরফে তানভীর (মেকানিক্যাল, ১৭তম ব্যাচ), শামীম বিল্লাহ (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), এ এস এম নাজমুস সাদাত (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মিজানুর রহমান ওরফে মিজান (ওয়াটার রিসোর্সেস, ১৬তম ব্যাচ), মাহামুদ সেতু (কেমিকৌশল) ও শামসুল আরেফিন রাফাত (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং), মাহমুদুল জিসান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ)।

তাদের সবার বয়স ২৪ থেকে ২০-এর মধ্যে। তাদের মধ্যে এহতেশামুল, জিসান ও রাফিদ পলাতক। আর প্রথম এজাহারের বাইরে ছিলেন তিনজন- মিজানুর রহমান, মাহামুদ সেতু ও শামসুল আরেফিন।

যাদের যাবজ্জীবন

আইনবিষয়ক উপসম্পাদক অমিত সাহা (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং), ছাত্রলীগের গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক ইসতিয়াক আহমেদ মুন্না (মেকানিক্যাল, তৃতীয় বর্ষ), সদস্য আকাশ হোসেন (সিই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), সহসভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ (১৪তম ব্যাচ, সিই বিভাগ) ও মোয়াজ আবু হোরায়রা (সিএসই, ১৭ ব্যাচ)।

তাদের বয়স ২১ থেকে ২৩ বছরের মধ্যে। আর তাদের মধ্যে মুন্না প্রথম এজাহারের বাইরে ছিলেন।

আবরারকে যে রাতে হত্যা করা হয়, তার পরদিন ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর তার বাবা ১৯ শিক্ষার্থীকে আসামি করে চকবাজার থানায় মামলা করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ এজাহারের ১৬ জনসহ মোট ২১ জনকে গ্রেপ্তার করে।

পাঁচ সপ্তাহ তদন্ত করে তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পরিদর্শক ওয়াহিদুজ্জামান ওই বছর ১৩ নভেম্বর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে যে অভিযোগপত্র জমা দেন, সেখানে আসামি করা হয় মোট ২৫ জনকে।

অভিযোগপত্র গ্রহণ করে গত ১৮ নভেম্বর পলাতক চার আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। তাদের মধ্যে একজন পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে মামলাটি পরে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এ বদলির আদেশ দেয়া হয়। বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে মামলাটির বিচারকাজ শুরু করেন।

২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার শুরু হয়।

আরও পড়ুন:
রায়ে সন্তুষ্ট, তবে মর্মাহত বুয়েট ভিসি
রায়ে খুশি, দ্রুত কার্যকরের দাবি বুয়েটশিক্ষার্থীদের
আবরার হত্যা: মৃত্যুদণ্ড-যাবজ্জীবন যাদের
যাবজ্জীবন পাওয়া অমিতের ফাঁসি চান আবরারের মা
আবরার হত্যায় ২০ জনের ফাঁসি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ওমিক্রন: পোশাক খাতে ‘ধীরে চলো’ নীতি ক্রেতাদের

ওমিক্রন: পোশাক খাতে ‘ধীরে চলো’ নীতি ক্রেতাদের

করোনা মহামারির ধকল কাটিয়ে পুরোদমে সক্রিয় হয়ে উঠেছে দেশের পোশাক কারখানাগুলো। ছবি; নিউজবাংলা

ইউরোপ হচ্ছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের সবচেয়ে বড় বাজার। মোট রপ্তানির ৫৬ শতাংশ যায় ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে। আর একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে যায় ৪১ শতাংশের বেশি। আর এ দুটি গন্তব্যেই ওমিক্রন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। এ কারণে দেশের পোশাক রপ্তানিকারকদের উদ্বেগ বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে গত বছরের সেপ্টেম্বরে ক্রয় আদেশ পায় বাংলাদেশের একটি তৈরি পোশাক কারখানা। ডিসেম্বরের মধ্যে পণ্য সরবরাহের কথা ছিল। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে পণ্য তৈরিও হয়। কিন্তু শিপমেন্টের তারিখ এগিয়ে এলেও ক্রেতা পক্ষের তাগিদ দেখা যাচ্ছে না।

একপর্যায়ে কারখানার মালিক যোগাযোগ করলে ক্রেতা পক্ষ জানায়, করোনা ভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পণ্যের সরবরাহ নিতে ধীরে চলো নীতি নেয়া হয়েছে।

ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে করেনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে আসার পর দেশের তৈরি পোশাক খাত ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। কিন্তু ওমিক্রনের প্রার্দুভাবে দেশের রপ্তানি আয়ের সর্ববৃহৎ খাত তৈরি পোশাক রপ্তানিতে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কারাখানা মালিকদের কপালে পড়েছে দুশ্চিন্তার ভাঁজ।

স্থানীয় পোশাক কারখানার মালিকরা বলছেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে ক্রেতারা। তারা ক্রয় আদেশ বাতিল করেনি। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে পণ্য সরবরাহের তারিখ এক বা দুই মাস পিছিয়ে দিয়েছে।

চলতি অর্থবছরে জুলাই থেকে ডিসেম্বরে পোশাক খাতের রপ্তানি বেড়েছে বা প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫২ শতাংশের বেশি। অর্থবছরের শুরু থেকেই পোশাক খাতের রপ্তানিতে তেজিভাব লক্ষ্য করা গেছে এবং তা অব্যাহত আছে। কিন্তু ওমিক্রনের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হলে আদেশ বাতিলের শঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেশীয় পোশাক রপ্তানিকারকরা।

ইউরোপ হচ্ছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের সবচেয়ে বড় বাজার। মোট রপ্তানির ৫৬ শতাংশ যায় ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে। আর একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে যায় ৪১ শতাংশের বেশি। আর এ দুটি গন্তব্যেই ওমিক্রন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। উদ্বেগটা মূলত এ কারণেই।

ওমিক্রন মোকাবিলায় দেশে দেশে ব্যাপক কড়াকড়ি শুরু হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে পণ্য নিয়ে কী হবে, এখন আমদানির প্রয়োজন আছে কিনা- এমনটা ভাবতে শুরু করেছে ক্রেতারা।

মোট কথা, ওমিক্রনের কারণে পণ্য নেয়ার বিষয়ে ভাটার টান পড়েছে ক্রেতাদের মাঝে।

তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমই’র সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল আলম পারভেজ চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ক্রেতারা পণ্য নেয়ার সময় পেছাচ্ছেন। তারা ধীরে চলো নীতির জানান দিচ্ছেন। ইতোমধ্যে কিছু কিছু ক্রেতা শিপমেন্টের সময় এক থেকে দুই মাস পিছিয়ে দিয়েছে। অবশ্য রপ্তানি আদেশ বাতিল করেনি।

‘জনগণের জীবন স্বাভাবিক না হলে বেচা-কেনা ঠিকমতো হয় না। অনলাইনে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কম বিক্রি হয়। ওমিক্রনে ইউরোপ ও আমেরিকায় স্বাভাবিক জীবন-যাপন কিছুটা ব্যাহত হয়েছে বলে আমাদের কাছে খবর এসেছে। তবে রপ্তানি আদেশ বাতিল না হলেও নতুন আদেশ দেয়ার বিষয়ে ধীরে চলো নীতি নিয়েছে ক্রেতারা।

‘উদ্বেগের বিষয় হলো, ওমিক্রন সংক্রমণ ধীরে ধীরে বাড়ছে। যতক্ষণ পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হচ্ছে, ঝুঁকিটা থেকেই যাবে। ওদিকে ওমিক্রন কখন শেষ হবে তা-ও বলা যাচ্ছে না।’

আনোয়ার-উল আলম পারভেজ আরো বলেন, ‘এখন যেসব ক্রয় আদেশ আছে সেগুলোর শিপমেন্টের সময় মে মাস পর্যন্ত আছে। এর মধ্যে কিছু কিছু আদেশের সময় ২/১ মাস পিছিয়ে দিয়েছে ক্রেতারা। এতে তেমন প্রভাব পড়বে না। তবে লক্ষণ খুব একটা ভালো দেখছি না।’

ইউরোপের বৃহৎ ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর বাংলাদেশ প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওমিক্রনের প্রেক্ষাপটে তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

বাংলাদেশে ইউরোপের বড় একটি পোশাক ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কারখানা মালিকরা সক্ষমতার বেশি ক্রয় আদেশ নিয়েছেন। অতিরিক্ত ক্রয় আদেশের কারণে তাদের তৈরি পণ্য সরবরাহ নিয়ে ‌এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।’

নিট পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইএ’র সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘ওমিক্রনের কারণে এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা হয়নি। তবে ক্রেতা ও রপ্তানিকারক উভয় পক্ষই পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে। ওমিক্রন আরও খারাপের দিকে গেলে সমস্যা হতে পারে।’

আরও পড়ুন:
রায়ে সন্তুষ্ট, তবে মর্মাহত বুয়েট ভিসি
রায়ে খুশি, দ্রুত কার্যকরের দাবি বুয়েটশিক্ষার্থীদের
আবরার হত্যা: মৃত্যুদণ্ড-যাবজ্জীবন যাদের
যাবজ্জীবন পাওয়া অমিতের ফাঁসি চান আবরারের মা
আবরার হত্যায় ২০ জনের ফাঁসি

শেয়ার করুন

রাজাকারের তালিকা তৈরির ক্ষমতা পাচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল

রাজাকারের তালিকা তৈরির ক্ষমতা পাচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে খুলনার খানজাহান আলী সড়কে জামায়াত নেতা এ কে এম ইউসুফের নেতৃত্বে রাজাকার বাহিনীর শপথ। ছবি: সংগৃহীত

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এই কাউন্সিলের মূল কার্যালয় থাকবে ঢাকায়। কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হবেন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী হবেন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান আর সচিব হবেন ভাইস চেয়ারম্যান।’

স্বাধীনতাবিরোধী, রাজকার, আল বদর, আল শামসদের তালিকা তৈরির বিধান রেখে তৈরি জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন ২০২২ এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

জাতীয় সংসদ ভবনে সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠক এ অনুমোদন দেয়। সভা শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকেদের ব্রিফ করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এই কাউন্সিলের মূল কার্যালয় থাকবে ঢাকায়। কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হবেন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী হবেন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান আর সচিব হবেন ভাইস চেয়ারম্যান।

‘কাউন্সিলের সদস্য সংখ্যা ছিলেন ৯ জন, এখন হবে ১১ জন। আর মহাপরিচালক যিনি থাকবেন এই কাউন্সিলের তিনি সদস্য সচিব হিসেবে কাজ করবেন। তাদের কাজ হবে অসত্য তথ্যের ভিত্তিতে গেজেটভুক্ত ও সনদপ্রাপ্ত অমুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা।’

তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত মহান মুক্তিযুদ্ধে সময় যারা রাজাকার, আল বদর, আল শামস বাহিনীর সদস্য হিসেবে কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন বা আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য হিসেবে সশস্ত্র যুদ্ধে নিয়োজিত থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন, যারা ধর্ষণ, লুট, অগ্নিসংযাগসহ অন্যান্য অপরাধমূলক ঘৃণ্য কার্যক্রম দিয়ে মানুষ হত্যা বা অত্যাচার করেছেন তাদের তালিকা বা পরোক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন তাদের তালিকা প্রণয়ন ও গেজেট প্রকাশের জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করার ক্ষমতা ও দায়িত্ব সংধোশিত আইনে মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলকে দেওয়া হয়েছে।

‘এই কাউন্সিলের উপদেষ্টা পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা কর্তৃক মনোনীত পাঁচজন সদস্য মনোনয়নের ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের ফোর্স কমান্ডার, সাব সেক্টর কমান্ডার অথবা কমান্ডারদের বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা, এই বিষয়ক কর্মকাণ্ড সংশ্লিষ্ট কোনো বিশিষ্ট ব্যক্তি বা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘সংগঠন নিবন্ধনের ক্ষেত্রে কাউন্সিলের পরিবর্তে নিবন্ধক এবং তত্ত্বাবধায়কের পরিবর্তে প্রশাসক প্রতিস্থাপনের প্রস্তাব, আগে ওখানে ছিল কাউন্সিল এটা রেজিষ্ট্রেশন করবে, কিন্তু এখন এটা আলাদা রেজিষ্ট্রার করে দেওয়া হলো। তারাই এ সংক্রান্ত যেসব প্রতিষ্ঠান তাদের কাছে স্বীকৃতি চাইবে, তাদের রেজিস্ট্রেশন করে দেবে।

‘নতুন আইনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা রাষ্ট্ররোধী কোনো কার্যক্রমে লিপ্ত হলে সে সংগঠন নিবন্ধন পাবে না। কাউন্সিলের একটা তহবিল থাকবে সেটায় সরকার ফান্ড দেবে পাশপাশি তারা সাহায্য বা অন্যভাবেও ফান্ড তৈরি করতে পারবে।’

আরও পড়ুন:
রায়ে সন্তুষ্ট, তবে মর্মাহত বুয়েট ভিসি
রায়ে খুশি, দ্রুত কার্যকরের দাবি বুয়েটশিক্ষার্থীদের
আবরার হত্যা: মৃত্যুদণ্ড-যাবজ্জীবন যাদের
যাবজ্জীবন পাওয়া অমিতের ফাঁসি চান আবরারের মা
আবরার হত্যায় ২০ জনের ফাঁসি

শেয়ার করুন

বেড়েছে খাদ্যশস্যের মজুদ, বাড়ছে ওএমএসের আওতা

বেড়েছে খাদ্যশস্যের মজুদ, বাড়ছে ওএমএসের আওতা

বাজারে হরেক রকমের চাল থাকলেও দাম শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষদের নাগালের বাইরে। ফাইল ছবি

বর্তমানে খাদ্যশস্যের মজুদ ২০ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে। এই সুবাদে ওএমএস কার্যক্রমের আওতা বাড়ানো হচ্ছে। এবার আরও ১ হাজার ৫৯টি কেন্দ্রে নতুন করে ওএমএস কার্যক্রম চালু করা হবে।

করোনার বিধি-নিষেধের মধ্যে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি সুলভ মূল্যে খোলাবাজারে চাল-আটা বিক্রি (ওএমএস) কার্যক্রমের আওতা বাড়ানো হচ্ছে। এবার এক লাফে আরও ১ হাজার ৫৯টি কেন্দ্রে নতুন করে ওএমএস কার্যক্রম চালু করা হবে। আগামী ২০ জানুয়ারি থেকে সারা দেশে এই বাড়তি ওএমএস কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

অপরদিকে ওএমএস শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে সরকারের খাদ্যশস্যের সার্বিক মজুদের পরিমাণও। অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ ও আমদানি কার্যক্রম জোরদারের মাধ্যমে বর্তমানে খাদ্যশস্যের মজুদ নিরাপত্তা দেয়াল ডিঙ্গিয়ে ২০ লাখ টনের বাফার মজুদে উন্নীত হয়েছে।

দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি এবং করোনা বিধি-নিষেধের মধ্যে চাপে আছে প্রায় সব শ্রেণিপেশার মানুষ। এ পরিস্থিতিতে শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষদের জন্য ওএমএস-এর আওতা বৃদ্ধি এবং দেশে খাদ্যশস্যের বাফার মজুদ কিছুটা হলেও ক্রেতা-ভোক্তার জন্য স্বস্তিদায়ক হবে বলে মনে করছেন দেশে ভোক্তা সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান।

তিনি বলেন, ‘বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকারি গুদামে নিরাপত্তা মজুদ হিসেবে অন্তত ১০ লাখ টন চাল থাকতে হয়। এর বাড়তি থাকা আরও ভালো। খাদ্যশস্যের বর্তমান মজুদ দিয়ে দেশে চাল ও আটার দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি করোনাকালীন যে কোনো সংকট মোকাবেলা সম্ভব।’

জানা গেছে, খাদ্য মন্ত্রণালয় পরিচালিত এই ওএমএস কার্যক্রম জোরদার করতে ইতোমধ্যে নিয়মিত বাজেটের বাইরে অতিরিক্ত ৩ লাখ টন চাল ও ১ লাখ টন গম বরাদ্দে ব্যয় অনুমোদন দিয়েছে অর্থমন্ত্রণালয়।

বর্তমানে সিটি করপোরেশন, শ্রমঘন চার জেলা, অন্যান্য জেলা সদর ও পৌরসভা মিলিয়ে মোট ৭০৫টি কেন্দ্রে এই ওএমএস কার্যক্রম চালু রয়েছে। তবে ২০ জানুয়ারির পর ওএমএস কেন্দ্রের সংখ্যা বেড়ে মোট ১ হাজার ৭৬৪টিতে উন্নিত হবে।

বেড়েছে খাদ্যশস্যের মজুদ, বাড়ছে ওএমএসের আওতা
আগে ভারত থেকে চাল আমদানি করে সরকার সংকট সামাল দিত। ফাইল ছবি

খাদ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, গত বছর ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত সরকারের গুদামে খাদ্যশস্যের মজুদের পরিমাণ ছিল ৭ লাখ ২১ হাজার টন। এর মধ্যে চালের মজুদ ছিল ৫ লাখ ৩৭ হাজার টন, যা মজুদ হিসেবে ছিল স্মরণকালের মধ্যে তলানীতে।

কিন্তু পরবর্তীতে অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ ও আমদানি কার্যক্রম জোরদারের মাধ্যমে ধীরে ধীরে সেই মজুদ কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে। বর্তমানে চলতি বছর ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত খাদ্যশস্যের মজুদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে মোট ১৯ লাখ ৭৮ হাজার টনে।

এর মধ্যে চালের মোট মজুদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৯ হাজার টন। গমের মজুদ ৩ লাখ ৪৪ হাজার টন। ধানের মজুদ ৩৮ হাজার টন।

সম্প্রতি খাদ্যমন্ত্রণালয়ের ওএমএস কার্যক্রম জোরদার করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ে আধা সরকারি পত্র (ডিও) দেয় খাদ্য মন্ত্রণালয়। ওই চিঠিতে চলতি অর্থবছর বাজেট বরাদ্দের বাইরে অতিরিক্ত ৩ লাখ টন চাল ও ১ লাখ টন গম বরাদ্দের অনুরোধ জানানো হয়।

এ বিষয়ে গত রোববার অর্থ মন্ত্রণালয় এ সম্পর্কিত এক বৈঠকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আবেদনে সাড়া দিয়ে অতিরিক্ত চাল ও গম বাবদ প্রয়োজনীয় ব্যয় অনুমোদন করা হয়।

চলতি অর্থবছরে ওএমএস কার্যক্রমের জন্য বাজেটে ১ লাখ ৭০ হাজার টন চাল এবং ৩ লাখ ৬৪ হাজার টন গম বরাদ্দ দেয়া হয়।

কিন্তু চালের বাজার উর্ধ্বমুখী থাকায় শ্রমজীবী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওএমএসের চাল ও আটার চাহিদা বেড়ে যায়। খাদ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী চলতি অর্থবছরে জুলাই থেকে গত ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত ওএমএসের মাধ্যমে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৯৪৭ টন চাল এবং ২ লাখ ১২ হাজার ১৯১ টন গম বিতরণ করা হয়েছে। আগের ২০২০-২১ অর্থবছরের একই সময়ে বিতরণ করা হয় মাত্র ৭২২ টন চাল এবং ১ লাখ ৬০ হাজার ৫৭৯ টন গম।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে খাদ্য সচিব ড. মোছাম্মাৎ নাজমানারা খানুম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনাকালীন যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় খাদ্য মন্ত্রণালয় সরকারি গুদামগুলোতে ইতোমধ্যে খাদ্যশস্যের বাফার মজুদ গড়ে তুলেছে। এখন আমাদের খাদ্যশস্যের মুজদের পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ টন। এই বাফার মজুদ দেশে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক হবে। এর পাশাপাশি বাজার পর্যায়ে দাম সহনীয় রাখতে আমরা ওএমএস কার্যক্রমও জোরদার করতে যাচ্ছি। উদ্দেশ্য এই করোনা পরিস্থিতিতে যাতে দেশের নিন্ম আয়ের মানুষ কম দামে চাল বা আটা কিনতে পারেন।’

বেড়েছে খাদ্যশস্যের মজুদ, বাড়ছে ওএমএসের আওতা
দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহ করা হয়। ফাইল ছবি

খাদ্যশস্যের দামের উর্ধ্বগতি রোধ করে নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীকে মূল্য সহায়তা প্রদান এবং বাজার স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে ২০১২ সালে ওএমএস ব্যবস্থা চালু করে সরকার। এ ব্যবস্থায় বর্তমানে দেশব্যাপি ডিলারদের দোকান ও খোলা ট্রাকের মাধ্যমে প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা ও আটা ১৮ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। একজন ক্রেতা একবারে সর্বোচ্চ ৫ কেজি করে চাল ও আটা কিনতে পারেন।

গত সাড়ে ছয় মাসে বাজারের তুলনায় কম দামে ৪ লাখ ৫৭ হাজার ১৩৮ টন চাল ও আটা সরবরাহ করা হয়েছে। মুষ্টিমেয় লোক উপকারভোগী হলেও বাজারে পণ্যগুলোর দাম কমেনি, উল্টো বেড়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য মতে, সোমবার রাজধানীর বাজারগুলোতে প্রতি কেজি মোটা চাল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বেচাকেনা হয়েছে। আর খোলা আটা বিক্রি হয়েছে ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা কেজি দরে।

জানতে চাইলে ক্যাব সভাপতি গোলাম রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘খোলা বাজারে চাল-আটা বিক্রি (ওএমএস) কার্যক্রম জোরদার হলে বাজারে ওই পণ্যগুলোর মূল্য নিয়ন্ত্রণে থাকবে। যার সুফল ভোক্তারা পাবে।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যদি এই কার্যক্রম না চালানো হতো, তাহলে এখন পণ্যগুলোর যে দাম আছে, বৈশ্বিক বাস্তবতায় তা আরও বেড়ে যেত। তাই আগামীতেও খোলাবাজার কার্যক্রম নিম্নআয়ের মানুষদের জন্য সহায়কই হবে।’

আরও পড়ুন:
রায়ে সন্তুষ্ট, তবে মর্মাহত বুয়েট ভিসি
রায়ে খুশি, দ্রুত কার্যকরের দাবি বুয়েটশিক্ষার্থীদের
আবরার হত্যা: মৃত্যুদণ্ড-যাবজ্জীবন যাদের
যাবজ্জীবন পাওয়া অমিতের ফাঁসি চান আবরারের মা
আবরার হত্যায় ২০ জনের ফাঁসি

শেয়ার করুন

করোনা: বিপর্যয়ের আশঙ্কায় ‘অ্যাকশনে যাচ্ছে’ সরকার

করোনা: বিপর্যয়ের আশঙ্কায় ‘অ্যাকশনে যাচ্ছে’ সরকার

করোনা পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকলেও বিধিনিষেধ মানছে না মানুষ। ফাইল ছবি

‘সর্বশেষ যে স্টাডি, তাতে ৮৭ শতাংশ ছিল ডেল্টা এবং ১৩ শতাংশ ছিল ওমিক্রন। এখন হয়তো ওমিক্রন একটু বেড়ে মোর অর লেস ৮০/২০-এর দিকে আসছে। একটা মেজর পোর্শন কিন্তু আমাদের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। সো ডেল্টা ভেরিয়েন্ট ইজ অলওয়েজ ভেরি রিস্কি এবং আমাদের সে জন্য একটু খেয়াল রাখতে হবে। একটু কেয়ারফুল যদি না থাকি, তাহলে কিন্তু একটা ডিজাস্টার কিন্তু সামনে।’

এখনই সতর্ক না হলে করোনা পরিস্থিতি বিপর্যয় নিয়ে আসবে বলে সতর্ক করেছে সরকার। সংক্রমণ ক্রমেই বেড়ে চললেও স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারের নির্দেশনা মানতে জনগণের মধ্যে অনীহার কারণে এবার কঠোর হওয়ার সিদ্ধান্তও হয়েছে।

পাঁচ দিন ধরে বিধিনিষেধে জীবনযাত্রায় দৃশ্যত কোনো পরিবর্তন না আসার প্রতিক্রিয়ায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন, আর দু-এক দিন দেখে সরকার অ্যাকশনে যাবে।

সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর তিনি বলেন, ‘আগে দু-এক দিন অবজার্ভ (পর্যবেক্ষণ) করব, তারপর আমরা একটু অ্যাকশনে যাব। কারণ প্রথম থেকেই অ্যাকশনে যেতে চাই না। আমরা দেখতে চাচ্ছি ওনারা (জনগণ) মানেন কি না।’

সচিব বলেন, ‘অলরেডি আমরা প্রশাসনকে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ওয়াচ করতে বলেছি। তারপর ইনশাল্লাহ আমরা কাল-পরশুর মধ্যে কিছু একটা চেষ্টা করব।’

দেশে করোনার দুটি ঢেউয়ে মৃত্যু ২৮ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার পর এবার দরজায় কড়া নাড়ছে তৃতীয় ঢেউ। দেশে যে তৃতীয় ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে, সেই লক্ষণ স্পষ্ট। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যে নীতিমালা, সেটি অনুসারে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তে আসতে আর দু-এক দিন সময় লাগবে।

গত ৪ অক্টোবর করোনার দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসার পর প্রথমবারের মতো তা ৫ শতাংশ ছাড়ায় গত ৭ জানুয়ারি। সেদিন থেকে টানা বাড়তে বাড়তে সংক্রমণের হার সোমবার দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ৮৮ শতাংশ। আর তিন দিন সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের বেশি হলেই তৃতীয় ঢেউয়ের বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা যাবে। কারণ নীতিমালা অনুযায়ী টানা দুই সপ্তাহ ৫-এর বেশি সংক্রমণের হার হলে করোনার ঢেউ ধরা হয়।

এই পরিস্থিতিতে সরকার গত ১৩ জানুয়ারি থেকে ১১ দফা বিধিনিষেধ দেয়। তবে এগুলো পালন হচ্ছে না বললেই চলে। আবার এ নিয়ে সরকারের মধ্যেও সমন্বয়হীনতা আছে।

অফিস চলছে পূর্ণ লোকবল দিয়ে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও চালু স্বাভাবিক নিয়মে। এর মধ্যে গণপরিবহনে অর্ধেক যাত্রী তোলার নির্দেশনা আসার পর ভোগান্তির বিষয়টি আলোচনায় আসে। পরে জানানো হয়, বাসে প্রতি আসনেই যাত্রী উঠবে। তবে ট্রেনে আবার প্রতি দুই আসনে একজন যাত্রী তোলা হচ্ছে।

জানানো হয়েছে, সামাজিক বা রাজনৈতিক কোনো সমাবেশ করা যাবে না। এর মধ্যে ভোট হয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ও বেশ কয়েকটি পৌরসভায়। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ষষ্ঠ ধাপের প্রচারও চলছে।

বাণিজ্য মেলাতেও প্রতিদিন ব্যাপক জনসমাগম হচ্ছে। করোনার টিকার সদন ছাড়া রেস্টুরেস্টে যাওয়া যাবে না- এই নির্দেশনা কাগুজে বাঘ হয়ে আছে। টিকা ছাড়া স্কুল নয়, এমন সিদ্ধান্তও রাখা যাচ্ছে না। কারণ সবাইকে টিকার আওতায় আনা যাচ্ছে না।

মাস্ক পরায় মানুষের মধ্যে যে অনীহা আগেও দেখা গেছে, সেখান থেকে কোনো উত্তরণ দেখা যায়নি। সরকার এ বিষয়ে কঠোর হবে ঘোষণা দিলেও প্রশাসনের তৎপরতাও কম। বাসে আসনপ্রতি যাত্রীর বদলে অফিস সময়ে উপচে পড়ছে যাত্রী।

এই অবস্থায় বিধিনিষেধে জনজীবনে আদৌ কোনো প্রভাব পড়েছে কি না, এ নিয়ে কথা উঠেছে।

করোনার সংক্রমণ ক্রমেই বেড়ে চললেও দ্বিতীয় ঢেউয়ের তুলনায় মৃত্যু এবার কম। আর এখন ছড়াচ্ছে ওমিক্রন নামে নতুন একটি ধরন, যার প্রভাবে সারা বিশ্বেই মৃত্যু কম। তবে এখনও দেশে করোনার প্রধান ধরন প্রাণঘাতী ডেল্টা।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আমাদের একটা ভুল ধারণা আছে। আমরা ওমিক্রনকে (করোনার নতুন ধরন) সে রকম বিপজ্জনক মনে করছি না। আমাদের কিন্তু কম বেশি ৮০ শতাংশ কিন্তু ডেল্টা ভেরিয়েন্ট।

‘সর্বশেষ যে স্টাডি, তাতে ৮৭ শতাংশ ছিল ডেল্টা এবং ১৩ শতাংশ ছিল ওমিক্রন। এখন হয়তো ওমিক্রন একটু বেড়ে মোর অর লেস ৮০/২০-এর দিকে আসছে। একটা মেজর পোর্শন কিন্তু আমাদের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। সো ডেল্টা ভেরিয়েন্ট ইজ অলওয়েজ ভেরি রিস্কি এবং আমাদের সে জন্য একটু খেয়াল রাখতে হবে।’

‘একটু কেয়ারফুল যদি না থাকি, তাহলে কিন্তু একটা ডিজাস্টার কিন্তু সামনে’-সতর্ক করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

সচিব বলেন, ‘দেখেন,অলরেডি ১৭ শতাংশের বেশি হয়ে গিয়েছে। আগের বার কিন্তু এক মাসেই ৩০ শতাংশ হয়েছে। এখন ১৫ দিনেই ১৮ শতাংশ হয়ে গিয়েছে।

‘সুতরাং এটা কোনোভাবেই যদি আমরা কমিউনিটি অ্যাওয়ারনেস, কমিউনিটি সেফটি মেজার যদি আমরা না কভার করি,মাস্ক না পড়লে কোনোভাবেই এটা ঠেকানো সম্ভব না। এটা মানুষকে বুঝতে হবে।’

আরও পড়ুন:
রায়ে সন্তুষ্ট, তবে মর্মাহত বুয়েট ভিসি
রায়ে খুশি, দ্রুত কার্যকরের দাবি বুয়েটশিক্ষার্থীদের
আবরার হত্যা: মৃত্যুদণ্ড-যাবজ্জীবন যাদের
যাবজ্জীবন পাওয়া অমিতের ফাঁসি চান আবরারের মা
আবরার হত্যায় ২০ জনের ফাঁসি

শেয়ার করুন

ভেরিফিকেশনে বিলম্ব, শিক্ষক নিয়োগ হবে সুপারিশেও

ভেরিফিকেশনে বিলম্ব, শিক্ষক নিয়োগ হবে সুপারিশেও

অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক-২) ফৌজিয়া জাফরীন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুলিশ ভেরিফিকেশনের পাশাপাশি প্রাথমিক সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়োগের সুপারিশ দেয়া হবে। এক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তিকে নিয়োগের পর তার বিরুদ্ধে পুলিশ ভেরিফিকেশনে আপত্তিকর কিছু এলে নিয়োগ বাতিল হবে।’

প্রাথমিক সুপারিশপ্রাপ্ত ৩২ হাজার শিক্ষকের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হচ্ছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পুলিশ ভেরিফিকেশন চলমান রেখেই বেসরকারি স্কুল-কলেজে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক-২) ফৌজিয়া জাফরীন সোমবার নিউজবাংলাকে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, এখন থেকে পুলিশ ভেরিফিকেশনের পাশাপাশি প্রাথমিক সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়োগের সুপারিশ দেয়া হবে। এক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তিকে নিয়োগের পর তার বিরুদ্ধে পুলিশ ভেরিফিকেশনে আপত্তিকর কিছু এলে নিয়োগ বাতিল হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষকে (এনটিআরসিএ) বলা হয়েছে।

এনটিআরসিএ’র নাম প্রকাশে অনিচ্ছিুক এক কর্মকর্তা জানান, শিক্ষক সংখ্যা বেশি হওয়ায় ভেরিফিকেশনে সময় লাগছে। এ কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ভেরিফিকেশন কার্যক্রম চলমান থাকবে। একইসঙ্গে সুপারিশপত্র দেবে এনটিআরসিএ। শিগগির এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হবে।

গত বছরের ৩০ মার্চ তৃতীয় ধাপে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ৫৪ হাজার ৩০৪ জন শিক্ষক নিয়োগে তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এনটিআরসিএ।

গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৫৪ হাজার ৩০৪টি শূন্যপদের মধ্যে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে ৩১ হাজার ১০১টি পদ রয়েছে। এর মধ্যে এমপিওভুক্ত পদ ২৬ হাজার ৮৩৮টি। মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে শূন্যপদ ২০ হাজার ৯৯৬টি। এর মধ্যে ১৯ হাজার ১৫৪টি এমপিওভুক্ত। আর ২ হাজার ২০৭টি এমপিও পদ রিট মামলায় অংশ নেয়াদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়।

তবে ৫১ হাজার ৭৬১টি পদে সুপারিশ করার কথা থাকলেও গত বছরের ১৫ জুলাই সুপারিশ করা হয়েছে ৩৮ হাজার ২৮৬ জন প্রার্থীকে। তাদের মধ্যে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ৩৪ হাজার ৬১০ জন এবং ননএমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ৩ হাজার ৬৭৬ জন।

আর ৮ হাজার ৪৪৮টি পদে কোনো আবেদন না পাওয়ায় এবং ৬ হাজার ৭৭৭টি নারী কোটায় প্রার্থী না পাওয়ায় ১৫ হাজার ৩২৫টি পদে ফল দেয়নি এনটিআরসি।

এনটিআরসিএ থেকে জানা যায়, ৩৮ হাজারের বেশি শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করা হলেও ভেরিফিকেশন ফরম জমা না দেয়ায় ৩২ হাজার ২৮৩ জন শিক্ষক নিয়োগের পুলিশ ভেরিফিকেশন কার্যক্রম শুরু হয়।

আরও পড়ুন:
রায়ে সন্তুষ্ট, তবে মর্মাহত বুয়েট ভিসি
রায়ে খুশি, দ্রুত কার্যকরের দাবি বুয়েটশিক্ষার্থীদের
আবরার হত্যা: মৃত্যুদণ্ড-যাবজ্জীবন যাদের
যাবজ্জীবন পাওয়া অমিতের ফাঁসি চান আবরারের মা
আবরার হত্যায় ২০ জনের ফাঁসি

শেয়ার করুন

ইসি আইন প্রসঙ্গে কাদের: নাথিং ইজ ইম্পসিবল

ইসি আইন প্রসঙ্গে কাদের: নাথিং ইজ ইম্পসিবল

সোমবার বঙ্গভবনে সংলাপ শেষে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ওবায়দুল কাদের। ছবি: নিউজবাংলা

আগামী নির্বাচন কমিশন গঠনের আগেই এ-সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন সম্ভব কি না এমন প্রশ্নে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সংসদের চলমান অধিবেশনেই এটি পাস করার সর্বাত্মক চেষ্টা থাকবে। কাম অ্যান্ড সি, নাথিং ইজ ইম্পসিবল।’

নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে আইনের খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

আগামী নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনের আগেই এ-সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন সম্ভব কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেছেন, ‘সংসদের চলমান অধিবেশনেই এটি পাস করার সর্বাত্মক চেষ্টা থাকবে। কাম অ্যান্ড সি, নাথিং ইজ ইম্পসিবল।’

সোমবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সংলাপ শেষে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

এর আগে সংলাপ করতে বেলা ৩টা ৫৬ মিনিটে বঙ্গভবনে প্রবেশ করে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল সংলাপে অংশ নেয়। বিকেল ৪টা থেকে ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট সংলাপ শেষে বঙ্গভবন থেকে বের হয় আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত মেনে আইন মন্ত্রণালয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন-সংক্রান্ত আইনের খসড়া প্রস্তুত রয়েছে। খসড়াটি আজ মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের পর তা নীতিগতভাবে অনুমোদন পেয়েছে।

‘আইনের খসড়াটি যথাযথ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় (আইন মন্ত্রণালয়) জাতীয় সংসদে পাঠাবে। জাতীয় সংসদ প্রচলিত আইন বিধিবিধান অনুসারে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।’

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে ইসি গঠনে সার্চ কমিটির জন্য কারও নাম প্রস্তাব করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘প্রক্রিয়াটি শুরু হলো। এটি একটি আইনগত প্রক্রিয়ায় এক দিনেই তো সব হয় না। এই প্রস্তাবের পর আইন নিয়ে আলাপ-আলোচনা হবে।

আইন প্রণয়নে বেশ কিছু ধাপ রয়েছে। আইনটির খসড়া নিয়ে মন্ত্রণালয়ের কমিটিতে আলোচনা হবে। এরপর মন্ত্রিসভার বৈঠকে এটি প্রথমে বিবেচনা এবং পরে চূড়ান্ত বিবেচনার জন্য পেশ করা হবে। মন্ত্রিসভায় পূর্ণাঙ্গভাবে পাস হওয়ার পর সেটি চলে যাবে মন্ত্রিসভা বৈঠকে। পরে খসড়াটি আরও আলোচনার জন্য চলে যাবে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে। সেখানে শুধু ক্ষমতাসীন দল নয়, অন্যান্য দলও রয়েছে। এই কমিটিতে আলাপ-আলোচনা শেষ হলে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আইনটি চলে যাবে সংসদে।’

অল্প সময়ের মধ্যেই আইনটি করা সম্ভব কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘কাম অ্যান্ড সি, নাথিং ইজ ইম্পসিবল।’

আগামী নির্বাচন কমিশন গঠনের আগেই আইনটি করা সম্ভব হবে কি না জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগের হাতে ভিন্ন কোনো প্রক্রিয়া নেই। অথবা আইন পাসের ক্ষেত্রে আমাদের কাছে কোনো ম্যাজিক তাস নেই। আইন আইনের গতিতেই হবে। আইনের বিকল্প কোনো বিধান নেই। বাংলাদেশে যে প্রক্রিয়ায় আইন পাস হয়, এ ক্ষেত্রেও তাতে বিন্দু পরিমাণ ব্যত্যয় ঘটার কারণ নেই। বিকল্প ভাবার অবকাশই নেই।’

সংসদের চলমান অধিবেশনে আইনটি পাস করা সম্ভব হবে কি না- এমন প্রশ্নের উত্তরে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যেহেতু এটা জন দাবি, সর্বাত্মক প্রয়াস অব্যাহত থাকবে। জাতীয় স্বার্থে একটা আইন পাস হওয়া দরকার ছিল, আগে হওয়ার কথা ছিল। কেন হবে না, প্রক্রিয়া তো আছে। ৫০ বছরে হয়নি। আমরা প্রথম ও দ্বিতীয়বার পারিনি। তৃতীয়বারের আগেও হয়ে যেতে পারে। আইনটি হলে এবারই হবে।’

আরও পড়ুন:
রায়ে সন্তুষ্ট, তবে মর্মাহত বুয়েট ভিসি
রায়ে খুশি, দ্রুত কার্যকরের দাবি বুয়েটশিক্ষার্থীদের
আবরার হত্যা: মৃত্যুদণ্ড-যাবজ্জীবন যাদের
যাবজ্জীবন পাওয়া অমিতের ফাঁসি চান আবরারের মা
আবরার হত্যায় ২০ জনের ফাঁসি

শেয়ার করুন

খনিজসম্পদ করপোরেশন আইনের খসড়া অনুমোদন

খনিজসম্পদ করপোরেশন আইনের খসড়া অনুমোদন

প্রতীকী ছবি

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান থাকবে। সেই প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশ গ্যাস, তেল ও খনিজসম্পদ করপোরেশন হিসেবে নামকরণ করা হবে। এটার অথরাইজড ক্যাপিটাল থাকবে ৫ হাজার কোটি টাকা। আর পেইডআপ ক্যাপিটাল থাকবে ২০০ কোটি টাকা।’

বাংলাদেশ গ্যাস, তেল ও খনিজসম্পদ করপোরেশন আইনের খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

জাতীয় সংসদ ভবনে সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।

বৈঠকের পর বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘এটা ১৯৮৬ সালের একটি অর্ডিন্যান্স দিয়ে বাস্তবায়ন হচ্ছিল। সুপ্রিম কোর্টের আদেশের পর এটাকে আইনে রূপান্তর করা হয়েছে। এই আইনে ৩৪টি ধারা রয়েছে।

‘এ বিষয়ে একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান থাকবে। সেই প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ গ্যাস, তেল ও খনিজসম্পদ করপোরেশন হিসেবে নামকরণ করা হবে। এটার অথরাইজড ক্যাপিটাল থাকবে ৫ হাজার কোটি টাকা। আর পেইডআপ ক্যাপিটাল থাকবে ২০০ কোটি টাকা।’

তিনি বলেন, ‘এই অথরাইজড ও পেইডআপ ক্যাপিটাল পরবর্তী সময়ে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে পরিবর্তন করতে পারবে, যদি সরকার মনে করে প্রয়োজন। এখন হয়তো ৫ হাজার কোটি টাকা অনেক মনে হচ্ছে, কিন্তু ৫ বছর পরে হয়তো মনে হবে ১০ হাজার কোটি টাকা রাখতে হবে। সেটা বিধির মধ্য দিয়ে দেয়া হয়েছে যাতে আইনে আর হাত দিতে না হয়।

‘করপোরেশনের একটি পরিচালনা পরিষদ থাকবে। সেখানে একজন চেয়ারম্যান ও আটজন পরিচালক থাকবে। যারা পরিচালক তাদের ৫ জন এখানে থাকবে। আর সরকার দুইজন যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে পারবে। অতিরিক্ত সচিব বা ওই পদমর্যাদার কেউ চেয়ারম্যান হবেন। এটা একটি টেকনিক্যাল বিষয়। তাই যদি তেমন ভালো ব্যক্তি পাওয়া যায়, তাকেও সরকার নিয়োগ দিতে পারবে।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘বোর্ডের কোরাম হতে গেলে অন্তত ৫ জনের উপস্থিতি লাগবে। একটি বিধিবদ্ধ উন্নয়ন তহবিল থাকবেভ সেটা ফি্ন্যান্সিয়াল রুলস অনুযায়ী পরিচালিত হবে। করপোরেশন প্রয়োজনে বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ নিতে পারবে। সে ক্ষেত্রে সরকারের অনুমোদন নিতে হবে।

‘তাদের একটি অ্যাকাউন্ট থাকবে, সেটা নিয়মিত অডিট করাতে হবে। প্রত্যেক বছরই একটি প্রতিবেদন সরকারকে দিতে হবে।’

আরও পড়ুন:
রায়ে সন্তুষ্ট, তবে মর্মাহত বুয়েট ভিসি
রায়ে খুশি, দ্রুত কার্যকরের দাবি বুয়েটশিক্ষার্থীদের
আবরার হত্যা: মৃত্যুদণ্ড-যাবজ্জীবন যাদের
যাবজ্জীবন পাওয়া অমিতের ফাঁসি চান আবরারের মা
আবরার হত্যায় ২০ জনের ফাঁসি

শেয়ার করুন