করোনায় আরও ৬ মৃত্যু

player
করোনায় আরও ৬ মৃত্যু

প্রতীকী ছবি

দেশে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৭৮ হাজার ২৮৮ জনের দেহে। ভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে ২৮ হাজার ১৬ জনের।

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে সংক্রমণ ধরা পড়েছে ২৭৭ জনের দেহে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বুধবার বিকেলে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

দেশে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৭৮ হাজার ২৮৮ জনের দেহে।ভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে ২৮ হাজার ১৬ জনের।

গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৪৮টি ল্যাবে ২০ হাজার ৫৪৯টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ১ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৪ পুরুষ ও ২ নারী। তাদের মধ্যে বিশোর্ধ্ব ১, পঞ্চাশোর্ধ্ব ২ ও ষাটোর্ধ্ব ৩ জন।

৬ জনের মধ্যে তিনজনই ঢাকা বিভাগের। এ ছাড়া চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেটে একজন করে মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

গত এক দিনে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ২৯৬ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৪৩ হাজার ২০৪ জন। সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো দেশে টানা দুই সপ্তাহ নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে সে দেশের করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসছে বলে ধরা হয়।

করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে ৬০ বছরের বেশি বয়সী জনগোষ্ঠীকে বুস্টার জোজ দেয়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। কয়েক দিনের মধ্যে এ কার্যক্রম শুরু হবে।

আরও পড়ুন:
আইসোলেশনে জাতিসংঘের মহাসচিব
করোনায় আরও ৫ মৃত্যু, শনাক্ত ২৯১
করোনায় আরও ৪ মৃত্যু
চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ৪ প্রতিষ্ঠানকে কোভিড পরীক্ষার অনুমোদন
ওমিক্রন ঠেকাতে দর্শনা চেকপোস্টে বাড়তি সতর্কতা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পুলিশ

অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পুলিশ

রাজধানীতে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়া পুলিশ সদস্যকে শুরুতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ফাইল ছবি

আব্দুল হান্নানের বড় ভাই আব্দুল মোমেন ওরফে বাবুল রোববার রাতে জানান, তার ভাই এএসআই মীর আব্দুল হান্নান কর্মস্থল থেকে ছুটি নিয়ে রোববার বিকেলে গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরায় যাওয়ার উদ্দেশে বিমানবন্দর থেকে বাসে ওঠেন। কেরানীগঞ্জের ঘাটারচর যাওয়ার পর বাসের সিটে অচেতন অবস্থায় তাকে পড়ে থাকতে দেখেন আশপাশের মানুষ।

রাজধানীতে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়েছেন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) এক সদস্য।

আব্দুল হান্নান নামের এই পুলিশ সদস্য রোববার বাসে অজ্ঞান পার্টির শিকার হন।

আব্দুল হান্নানের বড় ভাই আব্দুল মোমেন ওরফে বাবুল রোববার রাতে বলেন, ‘আমার ভাই এএসআই মীর আব্দুল হান্নান এপিবিএন হেডকোয়ার্টারের অধীনে বিমানবন্দরে কর্মরত। কর্মস্থল থেকে ছুটি নিয়ে রোববার বিকেলে গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরায় যাওয়ার উদ্দেশে বিমানবন্দর থেকে বাসে ওঠেন।

‘কেরানীগঞ্জের ঘাটারচর যাওয়ার পর বাসের সিটে অচেতন অবস্থায় তাকে পড়ে থাকতে দেখেন আশপাশের মানুষ। তার পকেটে থাকা মোবাইল ফোন থেকে পথচারীরা আমাদের জানালে আমরা সেখান থেকে উদ্ধার করে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল নিয়ে আসি। এখানে তার পাকস্থলী পরিষ্কার করা হয়েছে। এখনও জ্ঞান ফেরেনি। তার কাছ থেকে কত টাকা বা আর কী খোয়া গেছে, তা জানতে পারিনি।’

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘অচেতন অবস্হায় আব্দুল হান্নানকে এখানে আনার পর পাকস্থলী পরিষ্কার করা হয়। পরে তাকে মিটফোর্ড হাসপাতালে রেফার করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।’

আরও পড়ুন:
আইসোলেশনে জাতিসংঘের মহাসচিব
করোনায় আরও ৫ মৃত্যু, শনাক্ত ২৯১
করোনায় আরও ৪ মৃত্যু
চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ৪ প্রতিষ্ঠানকে কোভিড পরীক্ষার অনুমোদন
ওমিক্রন ঠেকাতে দর্শনা চেকপোস্টে বাড়তি সতর্কতা

শেয়ার করুন

দেশে মোট ৫৫ জনের দেহে ওমিক্রন শনাক্ত

দেশে মোট ৫৫ জনের দেহে ওমিক্রন শনাক্ত

ডিসেম্বরের শেষের দিক থেকে ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত জমা হওয়া নমুনা শনাক্ত শেষে এই তথ্য পাওয়া গেছে

দেশে এ পর্যন্ত ৫৫ শরীরে করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে। তাদের অধিকাংশই রাজধানী ঢাকার বাসিন্দা।

জার্মানিভিত্তিক গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা (জিআইএসএআইডি) সোমবার রাতে এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটির তথ্য বলছে, ডিসেম্বরের শেষের দিক থেকে ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত জমা হওয়া নমুনা শনাক্ত শেষে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

গত বছরের ১১ ডিসেম্বর স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বাংলাদেশে প্রথম ওমিক্রন শনাক্তের বিষয়টি জানান।

১০ জানুয়ারি দেশে ১০ জনের দেহে ওমিক্রন শনাক্ত হয়। ১২ জানুয়ারি তিনজনের শরীরে ওমিক্রন শনাক্ত হওয়ার সংবাদ আসে। তারা সবাই রাজধানী ঢাকার বাসিন্দা। তবে এই রোগীরা সম্প্রতি বিদেশ ভ্রমণ করেছেন কি না, সে সম্পর্কিত কোনো তথ্য সংস্থাটি জানাতে পারেনি।

সেদিন জিম্বাবুয়ে থেকে ফিরে আসা জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের দুই সদস্যের দেহে ওমিক্রনের অস্তিত্ব পাওয়া যায়।

গত বছরের ২৪ নভেম্বর আফ্রিকা অঞ্চলে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন শনাক্ত হওয়ার খবর দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

আরও পড়ুন:
আইসোলেশনে জাতিসংঘের মহাসচিব
করোনায় আরও ৫ মৃত্যু, শনাক্ত ২৯১
করোনায় আরও ৪ মৃত্যু
চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ৪ প্রতিষ্ঠানকে কোভিড পরীক্ষার অনুমোদন
ওমিক্রন ঠেকাতে দর্শনা চেকপোস্টে বাড়তি সতর্কতা

শেয়ার করুন

টিকা নেয়া-না নেয়াদের মধ্যে বৈষম্য নয়: অ্যামনেস্টি

টিকা নেয়া-না নেয়াদের মধ্যে বৈষম্য নয়: অ্যামনেস্টি

করোনা পরিস্থিতিতে ইতালির ট্রেনে ফোনে থাকা বিশেষ সনদ দেখাচ্ছেন এক যাত্রী। ছবি: সংগৃহীত

অ্যামনেস্টি ইতালিয়া বলছে, কেউ টিকা গ্রহণ না করলে ‘বৈষম্য না করে’ বরং মাস্ক ব্যবহার ও করোনার নেগেটিভ সনদ দেখিয়ে তাদের গণপরিবহনে যাতায়াতের সুযোগ ও অন্যান্য কাজে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা গ্রহণকারীদের বিশেষ সুবিধা দিতে গিয়ে টিকা নেননি এমন ব্যক্তিরা যেন বৈষম্যের শিকার না হন, সে বিষয়টি বিবেচনা করতে ইতালির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

সংগঠনটির স্থানীয় কার্যালয় এক বিবৃতিতে এই আহ্বান জানায় বলে রোববার রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

সম্প্রতি করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ইতালি সরকার ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের টিকা বাধ্যতামূলক করেছে। গণপরিবহন ও অন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজেও লাগবে টিকা। এমন প্রেক্ষাপটে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অ্যামনেস্টি।

অ্যামনেস্টি ইতালিয়া বলছে, কেউ টিকা গ্রহণ না করলে ‘বৈষম্য না করে’ বরং মাস্ক ব্যবহার ও করোনার নেগেটিভি সনদ দেখিয়ে তাদের গণপরিবহনে যাতায়াতের সুযোগ ও অন্যান্য কাজে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

করোনার সংক্রমণ নিয়ে ইতালিতে আগামী ১৫ জুন পর্যন্ত যে নির্দেশনা রয়েছে তাতে বলা হয়েছে, মাস্ক পরলে বা করোনার নেগেটিভ সনদ দেখিয়ে কেউ গণপরিবহন ব্যবহার করতে পারবেন না। টিকা ছাড়া ৫০ বছরের বেশি বয়সীরা যেতে পারবেন না কাজে।

অ্যামনেস্টি বলছে, বাধ্যতামূলক টিকাদানের ব্যাপারটি যুক্তিযুক্ত হতে পারে। তবে স্বাস্থ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে এটি সময়মতো সীমিত এবং ‘আনুপাতিক’ হওয়া দরকার।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সরকারকে অবশ্যই জনগণের শিক্ষা, কর্ম, চিকিৎসাসহ সব ধরনের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। করোনার রোগী নন, এমন রোগীদের জরুরি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে। সে ব্যাপারেও খেয়াল রাখতে হবে।’

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে প্রথম করোনার অস্তিত্ব শনাক্ত হয়। এরপর তা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রথম পর্যায়ে যে কয়েকটি দেশ করোনায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে, তার মধ্যে ইতালিও একটি।

কয়েক দিন পর পরই আসছে করোনার নতুন নতুন ধরন। চলছে টিকাদান কর্মসূচিসহ নানা বিধিনিষেধ। তবে ভাইরাসের নিয়ন্ত্রণ এখনও অনেক দূর বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আরও পড়ুন:
আইসোলেশনে জাতিসংঘের মহাসচিব
করোনায় আরও ৫ মৃত্যু, শনাক্ত ২৯১
করোনায় আরও ৪ মৃত্যু
চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ৪ প্রতিষ্ঠানকে কোভিড পরীক্ষার অনুমোদন
ওমিক্রন ঠেকাতে দর্শনা চেকপোস্টে বাড়তি সতর্কতা

শেয়ার করুন

করোনা শনাক্ত বেড়ে ৫২২২, মৃত্যু ৮

করোনা শনাক্ত বেড়ে ৫২২২, মৃত্যু ৮

দেশে করোনা শনাক্তের সংখ্যা ও হার দুটোই বাড়ছে। ফাইল ছবি

২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনার নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ২৯ হাজার ৩০৫ জনের। পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৭ দশমিক ৮২। এই হার গত বছরের ১৭ আগস্টের পর সর্বোচ্চ।

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ হু হু করে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৫ হাজার ২২২ জনের শরীরে।

এ সময় ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৮ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে রোববার এ তথ্য জানানো হয়।

গত এক দিনে করোনা শনাক্তের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ দশমিক ৮২ শতাংশে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৬ লাখ ১৭ হাজার ৭১১ জনের দেহে। এর আগে গত বছরের ২৪ আগস্টের পর এটাই সর্বোচ্চ শনাক্ত। সেদিন শনাক্ত হয় ৫ হাজার ২৪৯ রোগী।

এখন পর্যন্ত করোনায় মৃত্যু হয়েছে ২৮ হাজার ১৪৪ জনের।

আগের দিন শনিবার ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৩ হাজার ৪৪৭ জন নতুন রোগী পাওয়ার কথা জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এক দিনেই রোগী বেড়েছে প্রায় দুই হাজার।

২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনার নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ২৯ হাজার ৩০৫ জনের। পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৭ দশমিক ৮২। এই হার গত বছরের ১৭ আগস্টের পর সর্বোচ্চ।

সেদিন ১৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ রোগী শনাক্ত হয়েছিল।

এক দিনে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের সবচেয়ে বেশি। এই বিভাগে চার জনের মৃতু হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে তিনজন ও সিলেটে একজনের মৃত্য হয় ভাইরাসটিতে।

আরও পড়ুন:
আইসোলেশনে জাতিসংঘের মহাসচিব
করোনায় আরও ৫ মৃত্যু, শনাক্ত ২৯১
করোনায় আরও ৪ মৃত্যু
চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ৪ প্রতিষ্ঠানকে কোভিড পরীক্ষার অনুমোদন
ওমিক্রন ঠেকাতে দর্শনা চেকপোস্টে বাড়তি সতর্কতা

শেয়ার করুন

একমাত্র ‘ভাঙা’ নেবুলাইজারে শত শত রোগীর চিকিৎসা

একমাত্র ‘ভাঙা’ নেবুলাইজারে শত শত রোগীর চিকিৎসা

হাসপাতালে একটিমাত্র নেবুলাইজার থাকলেও সেটি ভাঙা বলে জানিয়েছেন রোগীর স্বজনরা। ছবি: নিউজবাংলা

হাসনা হেনা বলেন, ​‘বাচ্চার জ্বর, শ্বাসকষ্ট। ডাক্তার বলেছে প্রতিদিন নিয়ম করে নেবুলাইজার দিতে। কিন্তু নেবুলাইজার দিতে গিয়ে ভোগান্তিতে পরতে হচ্ছে। হাসপাতালে একটি নেবুলাইজার আছে; তাও আবার ভাঙা। একজন ধরে আরেকজন দেয়। ফলে বাচ্চারা ঠিকমতো সেবা পাচ্ছে না।’

উপকূলীয় জেলা ভোলায় শীত কিছুটা বেড়েছে। কয়েক দিন ধরে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি শীতের তীব্রতা যেন বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েক গুণ। এতে হাসপাতালে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা। হাসপাতালে নিউমোনিয়াসহ সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত শিশু রোগীর সংখ্যাই বেশি।

এমন পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়ার কথা জানিয়েছেন ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী-স্বজনরা। তাদের অভিযোগ, হাসপাতালে একটিমাত্র নেবুলাইজার; তাও আবার ভাঙা। এতে নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্তদের পড়তে হচ্ছে চরম দুর্ভোগে। নির্দিষ্টসংখ্যক বেডের বিপরীতে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় শিশুরা ঠিকমতো চিকিৎসা পাচ্ছে না। এ ছাড়া হাসপাতালের পরিবেশ নিয়েও অসন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন তারা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে শয্যাসংখ্যা ২৪। অথচ গড়ে ভর্তি থাকছে ৫০ থেকে ৭০ জন। ফলে এক বেডে দুই থেকে তিনজন করে রাখতে হচ্ছে। হঠাৎ রোগীর চাপ বাড়ায় সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক-নার্সদের। তাই জনবল বাড়ানোর দাবি তাদের।

ভোলা সদর হাসপাতাল ঘুরে জানা যায়, হাসপাতালে দুই সপ্তাহ ধরে ডায়রিয়া-নিউমোনিয়াসহ সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত শিশু রোগীর সংখ্যা পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে উন্নত চিকিৎসার অন্য তাদের এখানে নিয়ে আসছেন স্বজনরা।

একমাত্র ‘ভাঙা’ নেবুলাইজারে শত শত রোগীর চিকিৎসা

তেমনি একজন তজুমদ্দিন উপজেলা হাসপাতাল থেকে আসা শেফালি বেগম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাচ্চার ৫ দিন ধরে শ্বাসকষ্ট। তাই তজুমদ্দিন থেকে রেফার করে ভোলা হাসপাতালে পাঠাইছে।

‘এখানে ডাক্তার ৬ মাসের আমার এই বাচ্চাকে নেবুলাইজার দিতে বলছে। কিন্তু এখানে একটিমাত্র নেবুলাইজার, তাও আবার ভাঙা। এতে বাচ্চাদের শ্বাসকষ্টের চিকিৎসা দিতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। সিরিয়াল দিয়ে সেবা নিতে হচ্ছে।’

অনেক ঝুঁকির মধ্যে থেকে সেবা নিতে হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে আরও দুটি নেবুলাইজার দিলে ভর্তি হওয়া রোগীরা স্বাভাবিকভাবে সেবা নিতে পারত।’

আলীনগর থেকে আসা হাসনা হেনা তার ছেলে ৮ মাস বয়সের রাইহানকে ভর্তি করেছেন এ হাসপাতালে। ভাঙা নেবুলাইজারে দুর্ভোগের কথা জানালেন তিনিও। বলেন, ​‘বাচ্চার জ্বর, শ্বাসকষ্ট। ডাক্তার বলছে প্রতিদিন নিয়ম করে নেবুলাইজার দিতে। কিন্তু নেবুলাইজার দিতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। হাসপাতালে একটি নেবুলাইজার আছে; তাও আবার ভাঙা। একজন ধরে আরেকজন দেয়। ফলে বাচ্চারা ঠিকমতো সেবা পাচ্ছে না।’

একমাত্র ‘ভাঙা’ নেবুলাইজারে শত শত রোগীর চিকিৎসা

চিকিৎসা নিতে আসা অনেকে আবার হাসপাতালের পরিবেশ নিয়েও অসন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন।

শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকা ৫ মাসের রাফসানের বাবা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভোলা সদর হাসপাতালের পরিবেশ খুবই নোংরা। এখানে সুস্থ মানুষ আসলে অসুস্থ হয়ে যাবে। হাসপাতালে আসলে বমি আসে। ওয়ার্ডে এত দুর্গন্ধ যে বাচ্চার পাশে বসে থাকই অসম্ভব হয়ে পড়ে।’

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘হাসপাতাল সরকার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য এত বরাদ্দ দেয়। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয় না। শিশু ওয়ার্ডের অবস্থা খুবই নাজুক। এক বেডে একজনের বিপরীতে তিনজন করে রাখা হচ্ছে। ছোট্ট বাচ্চা, কিছু তো বলতেও পারে না। অনেক কষ্ট হয়।

‘তিন দিন ধরে হাসপাতালে আছি। এখানে এত রোগীর চাপ। ঠিকমতো হাঁটাচলার জায়গা নেই।’ যোগ করেন তিনি।

নিউজবাংলাকে হাসপাতালের সিনিয়র নার্স মৌসুমি রায় বলেন, ‘বৈরী আবহাওয়ায় প্রতিদিন ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে চলছে। বহির্বিভাগে প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। শিশু ওয়ার্ডের শয্যাসংখ্যা ২৪। অথচ গড়ে ভর্তি থাকছে ৫০ থেকে ৭০ জন। ফলে এক বেডে দুই থেকে তিনজন করে রাখতে হচ্ছে।’

হঠাৎ রোগীর চাপ বাড়ায় সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক-নার্সদের। তাই জনবল বাড়ানোর দাবি তাদের।

একমাত্র ‘ভাঙা’ নেবুলাইজারে শত শত রোগীর চিকিৎসা

নিউজবাংলাকে ভোলা সদর হাসপাতাল সিনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু বিশেষজ্ঞ) ডা. সালাউদ্দিন জানান, গত এক সপ্তাহে ৪ শতাধিক শিশু ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ভোলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আবহাওয়ার পরিবর্তন হচ্ছে। মাঝে মাঝে বৃষ্টিও হচ্ছে। এতে হঠাৎ ঠান্ডাজনিত শিশু রোগীর সংখ্যা বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে।’ এ অবস্থায় অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি শিশুদের বাড়তি যত্ন নেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

এসব বিষয়ে নিউজবাংলাকে ভোলা সদর হাসপাতালের নবনিযুক্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. লোকমান হাকিম বলেন, ‘শীত বাড়ায় হাসপাতালে রোগীর চাপ স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কিছুটা বেশি। রোগীর চাপ সামাল দিতে চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত ওষুধ রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিশু ওয়ার্ডে একটিমাত্র নেবুলাইজার রয়েছে, এটা ঠিক। আশা করি, দ্রুত এখানে আরও একটি নেবুলাইজার মেশিনের ব্যবস্থা করা হবে। যাতে শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা নিতে কোনো সমস্যা না হয়।’

হাসপাতালের পরিবেশের অভিযোগের বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক বলেন, ‘হাসপাতালের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য মনিটরিং বাড়ানো হবে। পাশাপাশি জনবল সংকটের বিষয়টি জানিয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হবে; যেন দ্রুত পর্যাপ্তসংখ্যক নার্স নিয়োগ দেয়া হয়।’

আরও পড়ুন:
আইসোলেশনে জাতিসংঘের মহাসচিব
করোনায় আরও ৫ মৃত্যু, শনাক্ত ২৯১
করোনায় আরও ৪ মৃত্যু
চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ৪ প্রতিষ্ঠানকে কোভিড পরীক্ষার অনুমোদন
ওমিক্রন ঠেকাতে দর্শনা চেকপোস্টে বাড়তি সতর্কতা

শেয়ার করুন

১৫ দিনে করোনা সংক্রমণ বেড়েছে ৭ গুণ

১৫ দিনে করোনা সংক্রমণ বেড়েছে ৭ গুণ

করোনা পরীক্ষা করাচ্ছেন এক ব্যক্তি। ফাইল ছবি

অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘১৫ দিনের ব্যবধানে করোনা সংক্রমণ ৭ গুণ বেড়েছে। এ বছরে প্রথম ১৫ দিনে মৃত্যু হয়েছে ৬৫ জনের। এসব একটি মৃত্যুও আমাদের কাম্য নয়। এ সময়ের মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে ২৭ হাজারের বেশি মানুষের। এটি যদি আগের ১৫ দিনের সঙ্গে তুলনা করি, তাহলে দেখব সংক্রমণ বেড়েছে ৭ গুণ।’

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ১৫ দিনের ব্যবধানে বেড়ে ৭ গুণ হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে রোববার দুপুরে অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘১৫ দিনের ব্যবধানে করোনা সংক্রমণ ৭ গুণ বেড়েছে। এ বছরে প্রথম ১৫ দিনে মৃত্যু হয়েছে ৬৫ জনের। এসব একটি মৃত্যুও আমাদের কাম্য নয়। এ সময়ের মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে ২৭ হাজারের বেশি মানুষের। এটি যদি আগের ১৫ দিনের সঙ্গে তুলনা করি, তাহলে দেখব সংক্রমণ বেড়েছে ৭ গুণ।’

তিনি বলেন, ‘দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউ প্রতিরোধে ১১ দফা বিধিনিষেধ দেয়া হয়েছে। এই বিধিনিষেধ যদি সঠিকভাবে পালন করে, তাহলে দেশে যে নতুন ঢেউ আসার শঙ্কা দেখা দিয়েছে এটি আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হব। আগে সেভাবে আমরা দ্বিতীয় ও প্রথম ঢেউ নিয়ন্ত্রণ করেছি। এখানে আতঙ্ক নয়, সতর্ক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। উপসর্গ দেখা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে যদি আমরা করোনা পরীক্ষা করে ফেরতে পারি, তাহলে রোগী নির্ণয় যেমন সহজ হবে, রোগী ব্যবস্থাপনাও সহজ হবে।’

করোনা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জেলা চিহ্নিত করেছে কি না জানতে চাইলে নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘গোটা পৃথিবী ঝুঁকিতে আছে। বাংলাদেশ তার বাইরে নয়। একটি জেলাকে বা বিশেষ করোনা এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে অন্যদের থেকে আলাদা করতে চাই না। একটি অতিমারি মোকাবিলার জন্য জনগণের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।

‘আমাদের সংক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আমরা করোনা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারব। অনেক স্থানে বিধিনিষেধ যাথাযথভাবে পালন হচ্ছে না। বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খালা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। আমার মনে করে যার যার জায়গা থেকে নাগরিক হিসেবে যে দায়িত্ব রয়েছে, সেটি যদি আমরা ভালোভাবে পালন করি, তাহলে অবশ্যই করোনা অতিমারি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।’

নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘স্কুল শিক্ষার্থীদের টিকার ব্যবস্থা চলমান রয়েছে। দেশে অনেক কওমি মাদ্রাসা রয়েছে। আমরা সেসব শিক্ষার্থীকেও টিকাদান কর্মসূচির মধ্যে আনতে চাই। তাদের টিকা দিতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
আইসোলেশনে জাতিসংঘের মহাসচিব
করোনায় আরও ৫ মৃত্যু, শনাক্ত ২৯১
করোনায় আরও ৪ মৃত্যু
চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ৪ প্রতিষ্ঠানকে কোভিড পরীক্ষার অনুমোদন
ওমিক্রন ঠেকাতে দর্শনা চেকপোস্টে বাড়তি সতর্কতা

শেয়ার করুন

বুয়েটের হলে ২২ শিক্ষার্থীর করোনা

বুয়েটের হলে ২২ শিক্ষার্থীর করোনা

বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের আনাগোনা। ফাইল ছবি

মিজানুর রহমান বলেন, ‘তবে বিষয়টা এখনো তত গুরুতর না হওয়ায় আমরা এখনো আবাসিক হল খোলা রেখেছি। অবস্থা খুব খারাপ হয়ে গেলে আমরা হল খোলা রাখা হবে কি না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) আবাসিক হলগুলোতে হানা দিয়েছে করোনাভাইরাস। এখন পর্যন্ত বুয়েটের আটটি হলে ২২ শিক্ষার্থী ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন।

রোববার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমান নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মিজানুর রহমান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা সব হল মিলিয়ে ২২ জনের আক্রান্ত হওয়ার খবর পেয়েছি। তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তত্ত্বাবধানে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘তবে বিষয়টা এখনো তত গুরুতর না হওয়ায় আমরা এখনো আবাসিক হল খোলা রেখেছি। অবস্থা খুব খারাপ হয়ে গেলে আমরা হল খোলা রাখা হবে কি না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’

করোনার সংক্রমণ বাড়ায় গতকাল শনিবার থেকে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালানোর ঘোষণা দেয় বুয়েট কর্তৃপক্ষ।

গত ১২ জানুয়ারি এ সংক্রান্ত দেয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে বুয়েট কর্তৃপক্ষ জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পর্যায়ে জুলাই-২০২১ টার্মের সব লেভেল/টার্মের শিক্ষার্থীদের থিওরি ক্লাস, ক্লাস টেস্ট এবং ল্যাবরেটরি ক্লাস ১৫ জানুয়ারি থেকে পরে নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত অনলাইনে নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
আইসোলেশনে জাতিসংঘের মহাসচিব
করোনায় আরও ৫ মৃত্যু, শনাক্ত ২৯১
করোনায় আরও ৪ মৃত্যু
চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ৪ প্রতিষ্ঠানকে কোভিড পরীক্ষার অনুমোদন
ওমিক্রন ঠেকাতে দর্শনা চেকপোস্টে বাড়তি সতর্কতা

শেয়ার করুন