× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Bangladeshi workers waiting for good days in Maldives
hear-news
player
print-icon

মালদ্বীপে ‘সুদিনের অপেক্ষায়’ বাংলাদেশি কর্মীরা

মালদ্বীপে-সুদিনের-অপেক্ষায়-বাংলাদেশি-কর্মীরা
মালদ্বীপে কাজ করা বাংলাদেশির সংখ্যা প্রায় এক লাখ। ছবি: আশিক হোসেন/নিউজবাংলা
মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশনের তথ্য বলছে, দেশটিতে কাজ করা বাংলাদেশির সংখ্যা প্রায় এক লাখ। অথচ সরকারি হিসাবে দেশটির জনসংখ্যাই হলো পাঁচ লাখ। অর্থাৎ দেশটিতে প্রতি পাঁচজনে একজন বাংলাদেশি বাস করছেন।

মালদ্বীপের রাজধানী মালের সঙ্গে সড়কপথে যুক্ত একমাত্র দ্বীপ হুলুমালে। দ্বীপটির রাস্তায় হাঁটতে গিয়ে বা যেকোনো দোকানে পণ্যের দাম জানতে গিয়ে যদি কানে বাংলা ভেসে আসে তাহলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। শুধু হুলুমালে নয়, মালেসহ মালদ্বীপের যেকোনো দ্বীপেই দেখা মিলবে বাংলাদেশি কর্মীদের।

দেশটির অবকাঠামো, পর্যটন, মৎস্যশিল্পসহ সব খাতেই কাজ করছেন বাংলাদেশিরা। বাংলাদেশ হাইকমিশনের তথ্য বলছে, দেশটিতে কাজ করা বাংলাদেশির সংখ্যা প্রায় এক লাখ। অথচ সরকারি হিসাবে দেশটির জনসংখ্যাই হলো পাঁচ লাখ। অর্থাৎ দেশটিতে প্রতি পাঁচজনে একজন বাংলাদেশি বাস করছেন।

মালদ্বীপে কাজ করা বাংলাদেশিদের অভিযোগ, দেশটিতে পর্যাপ্ত কাজের সুযোগ তৈরি হলেও বাংলাদেশ সরকার শ্রমবাজার সম্প্রসারণে যথেষ্ট তৎপর নয়। এ ছাড়া বাংলাদেশি কর্মীদের মজুরি বাড়াতেও তৎপর নয় বাংলাদেশ দূতাবাস।

মালদ্বীপে ‘সুদিনের অপেক্ষায়’ বাংলাদেশি কর্মীরা

হুলুমালের নিরোলহু মাগু এলাকার গেস্ট হাউস সি এরিনার ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছেন কুমিল্লার মো. রিয়াদ। তিনি জানান, প্রায় চার বছর ধরে দেশটিতে আছেন তিনি।

মালদ্বীপে কাজের অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে রিয়াদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এখানকার মানুষ খুব ভালো মানসিকতার। মধ্যপ্রাচ্যের মতো এখানে বৈরী পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় কম। এখানে প্রচুর বাংলাদেশি কাজ করছেন, সামনে আরও কাজের সুযোগ বাড়বে। ‘কিন্তু মূল সমস্যা হচ্ছে, মালদ্বীপ অত্যন্ত ব্যয়বহুল একটি দেশ। সে হিসেবে কর্মীরা যে বেতন পান তা অত্যন্ত কম।’

বাংলাদেশিদের গড় বেতন কত- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশিরা এখানে গড়ে ২৫০ থেকে ৩০০ ডলার করে পান। পাশাপাশি থাকা ও খাওয়ার জন্য সামান্য ভাতা। এ কারণে একটি ঘরে অনেককে গাদাগাদি করে থাকতে হয়।’

মালদ্বীপে ‘সুদিনের অপেক্ষায়’ বাংলাদেশি কর্মীরা

হুলুমালের একই এলাকার বাংলাদেশি ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিনের অভিজ্ঞতাও একই। তিনি মালদ্বীপে আছেন প্রায় ১২ বছর।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অন্য দেশ থেকে যারা আসেন যেমন ভারত বা শ্রীলঙ্কা, তাদের বেতনের বিষয়টি ওই দেশগুলোর দূতাবাস আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করে। এ ক্ষেত্রে আমাদের দূতাবাস কোনো উদ্যোগ নিলে আমরা আরও ভালো অবস্থানে থাকতাম। এ বিষয়টিতে আমাদের সরকারের নজর দেয়া উচিত।’

মালদ্বীপে প্রবাসীরা কীভাবে থাকেন তা কিছুটা আন্দাজ করা যায় নিরোলহু মাগুর দোকান কর্মচারী আফতাবের কথা থেকে। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশিরা এখানে মূলত গেস্টহাউসগুলোতে থাকেন। একটি কক্ষে দেখা যায় ১২ থেকে ১৬ জন পর্যন্ত থাকেন।

‘আমি যেখানে থাকি, সেখানে এক কক্ষে ১৬ জন আছেন। মাস শেষে আমাদের ভাড়া আসে প্রায় ৫০ হাজার রুপিয়া (এক রুপিয়া সমান ৫ টাকা)। এটিই এখানে সবচেয়ে বড় সমস্যা।’

মালদ্বীপে ‘সুদিনের অপেক্ষায়’ বাংলাদেশি কর্মীরা

ভারত মহাসাগরের নীল পানিবেষ্টিত ছোট দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপ। প্রায় ১২০০ ছোট-বড় দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত এ দেশ। স্থলভাগ মাত্র ২৯৮ বর্গকিলোমিটার আর সমুদ্রসীমা ধরলে আয়তন প্রায় ৯০ হাজার বর্গকিলোমিটার।

দেশটিতে সাধারণত দুই ধরনের দ্বীপ দেখা যায়। এর মধ্যে এক ধরনের দ্বীপকে বলা হয় লোকাল আইল্যান্ড, যেখানে স্থানীয়রা বসবাস করেন। আর পর্যটকদের জন্য নির্ধারিত দ্বীপগুলো রিসোর্ট আইল্যান্ড নামে পরিচিত। দুই ধরনের দ্বীপেই আছেন বাংলাদেশি কর্মীরা।

দেশটিতে বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশ থেকে মালদ্বীপে আরও কর্মসংস্থান তৈরির বিষয়ে কাজ করছেন তারা।

মালদ্বীপে ‘সুদিনের অপেক্ষায়’ বাংলাদেশি কর্মীরা

মালদ্বীপে বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মালদ্বীপে সব মিলিয়ে বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা প্রায় এক লাখ। এদের মধ্যে ৫০ হাজারই এখন অনিয়মিত। তারা এখানে কাজ করলেও ওয়ার্ক পারমিট নেই।

‘অন্য দিকে ২০১৯ সালে মালদ্বীপ সরকার একটি সিদ্ধান্ত নেয়। সেটি ছিল তারা এক বছর বাংলাদেশ থেকে কোনো কর্মী নেবে না। এক বছর পার হয়ে গেলে এই সিদ্ধান্ত স্বাভাবিকভাবেই বাতিল হয়ে যাওয়ার কথা, তবে আমরা জানতে পারছি, তারা নতুন করে বাংলাদেশ থেকে কাউকে এখানে ওয়ার্ক পারমিট দিচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে দেশটির সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে আমরা কথা বলছি। মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক ঢাকা সফরে এ বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীও তুলেছিলেন।’

বাংলাদেশের হাইকমিশনার বলেন, ‘শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মালদ্বীপ সফরের কথা রয়েছে। সফরের সূচি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে এটি হয়তো দুই-এক মাসের মধ্যেই হবে। সেই সফরে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে যখন নানা ইস্যুতে কথা উঠবে, এটি নিয়েও কথা হবে। শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক থেকে একটি সুখবর আসবে বলে আমরা আশা করছি।’

মালদ্বীপে বাংলাদেশিদের কাজের সুযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে যে বাংলাদেশিরা আছেন তারা দেশটির অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। এটা মালদ্বীপ সরকারও স্বীকার করে। তাদের অবকাঠামো, ফিসিং, পর্যটনসহ সব খাতেই বাংলাদেশি কর্মীরা কাজ করছেন।

‘অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশিরা এখানে যেসব কাজ করেন, সেটা অন্য দেশের কর্মীরা করতে চান না। মালদ্বীপে সামনে অবকাঠামো খাতে অনেক প্রকল্প শুরু হবে। আমি মনে করি, এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশি কর্মীদের বিকল্প নেই। কোভিডের পর এখন নতুন করে মালদ্বীপের পর্যটন খাত খুলতে শুরু করেছে। এ ক্ষেত্রেও তাদের অনেক বিদেশি কর্মী লাগবে, যার ভালো জোগান আসতে পারে বাংলাদেশ থেকে।’

আরও পড়ুন:
নতুন উচ্চতায় বাংলাদেশ-মালদ্বীপ সম্পর্ক
বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসক নিতে চায় মালদ্বীপ
৩ দিনের সফরে ঢাকায় মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট
১১ দিনে ৭৩ কোটি ডলার রেমিট্যান্স

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Large explosion at Russian arsenal in Crimea

ক্রিমিয়ায় রাশিয়ার অস্ত্রাগারে বড় বিস্ফোরণ

ক্রিমিয়ায় রাশিয়ার অস্ত্রাগারে বড় বিস্ফোরণ ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেন দাবি করেছে, বিস্ফোরণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত একটি বিদ্যুৎ সাবস্টেশন জাপোরিজ্জিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ করত।

মঙ্গলবার ইউক্রেনের রুশ অধীকৃত ক্রিমিয়া উপদ্বীপে একটি সামরিক ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে। এতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হলে ওই এলাকা থেকে ৩ হাজারেরও বেশি লোককে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, মেসকোয়ের একটি গোলাবারুদ সংরক্ষণ কেন্দ্রে বড় আকারের এই বিস্ফোরণটি ঘটে।

২০১৪ সালে দখল করা অঞ্চলটিতে এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল।

প্রাথমিকভাবে এই বিস্ফোরণকে ‘নাশকতা’ হিসেবে অভিহিত করেছে রুশ কর্তৃপক্ষ। গত সপ্তাহেও ক্রিমিয়ার সাকি বিমান ঘাঁটিতে এক হামলায় ৯টি রুশ যুদ্ধবিমান ধ্বংস করে দেয়া হয়।

বিস্ফোরণের ঘটনায় ইউক্রেন দায় স্বীকার না করলেও দেশটির প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা মিখাইলো পোদোলিয়াক এক টুইটে মন্তব্য করেন, রুশদের দখলে থাকা ক্রিমিয়া হচ্ছে বিস্ফোরণ এবং আক্রমণকারী ও চোরদের জন্য মৃত্যুর উচ্চ ঝুঁকিসম্পন্ন স্থান।

রুশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডিপোতে আগুন লাগার ফলে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র, বিদ্যুৎলাইন, রেললাইন ও কিছু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এতে কেউ গুরুতর আহত হননি।

ইউক্রেনের পোদোলিয়াক দাবি করেছেন, বিস্ফোরণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত একটি বিদ্যুৎ সাবস্টেশন জাপোরিজ্জিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ করত।

আরও পড়ুন:
যুদ্ধের থ্রিল নিতে পর্যটক ডাকছে ইউক্রেনীয় প্রতিষ্ঠান
ইউরোপে রুশ তেলের পাইপলাইন বন্ধ করল ইউক্রেন
ইউরোপে পারমাণবিক বিপর্যয়ের শঙ্কা জাতিসংঘের
‘রাজাকার’ ধরতে ইউক্রেনীয় শহরে অভিযান
রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধে মুসলমানরা কোন পক্ষে?

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Another jump in remittances is 5 thousand crores in 7 days

রেমিট্যান্সে ফের উল্লম্ফন, ৭ দিনে ৫ হাজার কোটি টাকা

রেমিট্যান্সে ফের উল্লম্ফন, ৭ দিনে ৫ হাজার কোটি টাকা আগস্ট মাসের ৭ দিনেই ৫৫ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ ৫ হাজার ২২৫ কোটি টাকা। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট সূত্রে জানা গেছে, আগস্ট মাসের ৭ দিনেই ৫৫ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে (প্রতি ডলার ৯৫ টাকা) টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ ৫ হাজার ২২৫ কোটি টাকা, যা গত বছরের আগস্টের একই সময়ের চেয়ে ৪৮ দশমিক ২০ শতাংশ বেশি।

অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বেড়েই চলেছে। জুলাই মাসের পর আগস্ট মাসেও বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভের অন্যতম প্রধান উৎস রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের পালে জোর হাওয়া লেগেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট সূত্রে জানা গেছে, আগস্ট মাসের ৭ দিনেই ৫৫ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে (প্রতি ডলার ৯৫ টাকা) টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ ৫ হাজার ২২৫ কোটি টাকা, যা গত বছরের আগস্টের একই সময়ের চেয়ে ৪৮ দশমিক ২০ শতাংশ বেশি।

এ হিসাবে প্রতিদিন এসেছে ৭ কোটি ৮৬ লাখ ডলার বা ৭৪৬ কোটি টাকা।

বাজারে ডলারের ব্যাপক চাহিদা থাকায় ব্যাংকগুলো ১১০ টাকার বেশি দরেও রেমিট্যান্স সংগ্রহ করছে। সে হিসাবে টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ আরও বেশি।

মাসের বাকি ২৪ দিনেও এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে- এমন আশার কথা শুনিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জুলাই মাসের মতো আগস্ট মাসেও ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স দেশে আসবে।’

২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ২০৯ কোটি ৬৯ লাখ ১০ হাজার (২.১ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, যা ছিল গত ১৪ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। আর গত বছরের জুলাই মাসের চেয়ে বেশি ১২ শতাংশ।

প্রতি ডলার ৯৫ টাকা হিসাবে টাকার অঙ্কে ওই অর্থের পরিমাণ প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা।

গত বছরের আগস্ট মাসের ৭ দিনে (১ থেকে ৭ আগস্ট) ৩৭ কোটি ১০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত (১ মাস ৭ দিনে) ২৬৪ কোটি ৭০ লাখ (২.৬৫ বিলিয়ন) ডলার দেশে এসেছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৮ শতাংশ বেশি।

২০২১-২২ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত ২২৪ কোটি ৩০ লাখ (২.২৪ বিলিয়ন) ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

করোনা মহামারির পর ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ধাক্কায় ওলটপালট হয়ে যাওয়া অর্থনীতিতে কয়েক দিন আগে জ্বালানি তেলের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধিতে যখন দেশজুড়ে ক্ষোভ-হতাশা এবং আগামী দিনগুলোতে কী হবে? এই প্রশ্ন সবার মধ্যে তখন স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের প্রবাহ। মনে করিয়ে দিচ্ছে ২০২০-২১ অর্থবছরের কথা। ভরা করোনা মহামারির মধ্যেও ওই অর্থবছরে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, যা ছিল আগের অর্থবছরের (২০১৯-২০) চেয়ে ৩৬ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।

‘মহামারির মধ্যে ওই সময় অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছিলেন প্রবাসীরা’ এই মন্তব্য করে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় অর্থনীতিতে যে নতুন সংকট দেখা দিয়েছে, সেই সংকট কাটাতেও সবার আগে এগিয়ে এসেছেন প্রবাসীরা। আবার বেশি বেশি রেমিট্যান্স দেশে পাঠাচ্ছেন।’

চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্সের বিস্ময়কর উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে। চলতি জুলাইয়ের প্রবণতা অব্যাহত থাকলে এই অর্থবছরে তৈরি হবে নতুন রেকর্ড। এতে অনেকটাই চাপমুক্ত হবে দেশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ তথ্য বলছে, ১ জুলাই শুরু হওয়া ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে প্রায় ২১০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এ হিসাবে প্রতিদিন ৬ কোটি ৭৬ লাখ ডলার করে পাঠিয়েছেন তারা; টাকার হিসাবে প্রতিদিন দেশে এসেছিল ৬৪০ কোটি টাকা।

এখন তার চেয়েও বেশি টাকা দেশে পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা।

গত বছরের জুলাই মাসে ১৮৭ কোটি ১৫ লাখ ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

২০২১-২২ অর্থবছরে প্রবাসী আয়ে মন্দা দেখা দেয়। পুরো অর্থবছরে ২ হাজার ১০৩ কোটি (২১.০৩ বিলিয়ন) ডলার এসেছিল; গড়ে প্রতিদিন ৫ কোটি ৭৬ লাখ ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় উল্লম্ফন ঘটে ২০২০-২১ অর্থবছরে। সে সময় ২ হাজার ৪৭৮ কোটি (২৪.৭৮ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠান প্রবাসীরা। ওই অর্থবছরে প্রতিদিন গড়ে ৬ কোটি ৭৯ ডলার প্রবাসী আয় হিসেবে দেশে এসেছিল।

এসব হিসাব থেকে দেখা যাচ্ছে, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে রেমিট্যান্সে রয়েছে ঊর্ধ্বগতি। এই প্রবণতা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে এবং এই অর্থবছরে নতুন রেকর্ড তৈরি হবে বলে মনে করছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘গত অর্থবছরে সাড়ে ৭ লাখ লোক কাজের সন্ধানে বিভিন্ন দেশে গেছেন। তারা ইতোমধ্যে রেমিট্যান্স পাঠাতে শুরু করেছেন। সে কারণেই ঈদের পরও রেমিট্যান্স বাড়ছে। এই ইতিবাচক ধারা পুরো অর্থবছর জুড়েই অব্যাহত থাকবে বলে আমরা আশা করছি।’

সাধারণত দুই ঈদের আগে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাড়ে; ঈদের পর কমে যায়। তবে এবার কোরবানির ঈদের আগে যে গতিতে রেমিট্যান্স এসেছে, সেই ধারা ঈদের পরেও অব্যাহত আছে।

দেশে গত ১০ জুলাই কোরবানির ঈদ উদযাপিত হয়। ঈদের আগে রেমিট্যান্স প্রবাহে ঢল নামে। ঈদের ৯০ কোটি ৯৩ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। ঈদের পরে ২১ দিনে এসেছে ১১৮ কোটি ৭৬ লাখ ডলারের কিছু বেশি।

ঈদের পরেও কেন রেমিট্যান্স বাড়ছে- এমন প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত কয়েক মাসে ডলারের দর বেশ খানিকটা বেড়েছে। প্রণোদনার পরিমাণ দুই শতাংশ থেকে আড়াই শতাংশ করা হয়েছে। এসব কারণে প্রবাসীরা এখন ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। সে কারণেই বাড়ছে রেমিট্যান্স।’

তিনি বলেন, ‘এই সময়ে রেমিট্যান্স বৃদ্ধির খুবই দরকার ছিল। নানা পদক্ষেপের কারণে আমদানি ব্যয় কমতে শুরু করেছে। রপ্তানির পাশাপাশি রেমিট্যান্স বৃদ্ধির কারণে আশা করছি এখন মুদ্রাবাজার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।’

আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে সোমবার প্রতি ডলার ৯৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে ব্যাংকগুলো এই দরে ডলার কিনেছে। তবে ডলারের ব্যাপক চাহিদা থাকায় ব্যাংকগুলো ১১০ টাকা পর্যন্ত দরে প্রবাসীদের কাছ থেকে ডলার সংগ্রহ করেছে।

সে হিসাবে কোনো প্রবাসী এখন ব্যাংকিং চ্যানেলে ১ ডলার দেশে পাঠালে ১১০ টাকার সঙ্গে নগদ প্রণোদনার ২ টাকা ৫০ পয়সা যুক্ত হয়ে ১১২ টাকা ৫০ পয়সা পাচ্ছেন।

কার্ব মার্কেট বা খোলাবাজারে ডলারের দর প্রায় একই। সে কারণেই প্রবাসীরা এখন অবৈধ হুন্ডির মাধ্যমে ঝুঁকি নিয়ে দেশে টাকা না পাঠিয়ে ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠাচ্ছেন বলে জানান ব্যাংকাররা।

রেমিট্যান্স বাড়ার আরেকটি কারণের কথা বলেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অর্থনীতি চাঙা হয়েছে। সেখানে কর্মরত আমাদের প্রবাসীরা বেশি আয় করছেন। দেশেও বেশি টাকা পাঠাতে পারছেন।

‘দেশে ডলারের সংকট চলছে। মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা চলছে। রিজার্ভ কমছে। এই মুহূর্তে রেমিট্যান্স বাড়া অর্থনীতির জন্য খুবই ভালো হবে।’

অর্থ মন্ত্রণালয়ও তেমন পূর্বাভাস দিয়েছে। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত অর্থবছরজুড়ে (২০২১-২২) ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধিতে থাকা প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সে নতুন অর্থবছরে ১৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে।

এই অর্থবছরে রেমিট্যান্স বাড়ার কারণ হিসেবে মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘করোনা-পরবর্তী সময়ে দেশ থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ শ্রমিক নতুন করে বিদেশে যাওয়ায় তাদের কাছ থেকে বাড়তি পরিমাণ রেমিট্যান্স পাওয়া যাবে।’

দেশের অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলোর হালচাল নিয়ে তৈরি করা পাক্ষিক প্রতিবেদনেও রেমিট্যান্স নিয়ে সুসংবাদের আভাস দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত ২১ জুলাই প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয় বাড়াতে সরকার ইতোমধ্যে রেমিট্যান্সে নগদ প্রণোদনা ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২ দশমিক ৫০ শতাংশ করেছে। করোনা মহামারি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় সব প্রবাসী তাদের কর্মস্থলে ফিরেছেন। টাকার বিপরীতে ডলার বেশ খানিকটা শক্তিশালী হয়েছে।

‘এই বিষয়গুলো আগামী মাসগুলোতে রেমিট্যান্স বাড়াতে সাহায্য করবে।’

বাংলাদেশ ব্যাংক গত ৩০ জুন ২০২২-২৩ অর্থবছরের নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে। এতে বলা হয়, রেমিট্যান্স ঊর্ধ্বমুখী হবে এবং চলতি অর্থবছরে গত বছরের চেয়ে ১৫ শতাংশ বেশি আসবে।

আরও পড়ুন:
আগস্টের শুরুতে রেমিট্যান্সে ৫৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি
বিদেশি বিনিয়োগের পালেও জোর হাওয়া
মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির আড়ালে অর্থপাচার!
অর্থনীতি সচল: শ্লথ ব্যাংকের আয়ের চাকা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Wife sends child torture video to teach expatriates

প্রবাসীকে শিক্ষা দিতে সন্তানকে নির্যাতনের ভিডিও পাঠালেন স্ত্রী

প্রবাসীকে শিক্ষা দিতে সন্তানকে নির্যাতনের ভিডিও পাঠালেন স্ত্রী শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় প্রশাসন। ছবি: নিউজবাংলা
শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হুমায়ুন রশিদ বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল ভিডিও দেখে রাতেই শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে।’

প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে বিরোধের জেরে নিজের দুই বছরের সন্তানকে নির্যাতন ও এর ভিডিও ধারণ করার অভিযোগ উঠেছে পারভীন আক্তার নামে এক নারীর বিরুদ্ধে। ওই ভিডিও পরে স্বামীকে পাঠান পারভীন।

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় হওয়া ওই নির্যাতনের ভিডিওটি পরে ফেসবুকেও ভাইরাল হয়ে যায়।

ভাইরাল ভিডিও দেখে মঙ্গলবার গভীর রাতে নির্যাতিত ওই শিশুকে উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ। পরে শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মা-সহ ওই শিশুকে আদালতের হেফাজতে পাঠানো হয়।

বুধবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাহরাস্তি মডেল থানার ওসি আব্দুল মান্নান।

ওসি জানান, তিন বছর আগে উপজেলার চিতোষী পশ্চিম ইউনিয়নের নূরুল আমিনের মেয়ে পারভীন আক্তারের বিয়ে হয় কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার আশিয়াদারি গ্রামের প্রবাসী মহিনউদ্দিনের সঙ্গে। তাদের সংসারে ফাহাদ নামে ২ বছরের একটি শিশুপুত্রও রয়েছে।

বিয়ের মাত্র ১ বছরের মধ্যেই প্রবাসী মহিনউদ্দিনের সঙ্গে পারভীনের দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। এ অবস্থায় পারভীন আক্তার বাবার বাড়িতে থাকার সিদ্ধান্ত নেন।

এ ছাড়া লিগ্যাল এইড চাঁদপুর কার্যালয়ে আবেদন করলে পারভীনকে ভরণপোষণ বাবদ মহিনউদ্দিন প্রতি মাসে ৮ হাজার টাকা দেবেন- এমন সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু মহিনউদ্দিন ঠিকমতো টাকা না দিতে পারায় সম্প্রতি পারভীন তাদের ২ বছরের শিশুপুত্র ফাহাদকে নির্যাতন করে ও এর ভিডিও ধারণ করে স্বামীকে পাঠান।

শিশুটির পিতা ওই ভিডিও দেখে সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মনোহরগঞ্জ এলাকার বিভিন্ন মানুষকে অনুরোধ করতে থাকেন।

ইতোমধ্যে সেই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরেও আসে।

এ অবস্থায় মঙ্গলবার গভীর রাতে ওসি আব্দুল মান্নান সহ শাহরাস্তির ইউএনও হুমায়ুন রশিদ ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আবু ইসহাক চিতোষী পশ্চিম ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জোবায়েদ কবির বাহাদুরকে সঙ্গে নিয়ে শিশুটির নানার বাড়িতে যান। সেখান থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন তারা।

শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হুমায়ুন রশিদ বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল ভিডিও দেখে রাতেই শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা পেলে বাকি কাজ সম্পন্ন করা হবে।’

আরও পড়ুন:
অর্থনীতিকে চাপমুক্ত করছে রেমিট্যান্স
প্রবাসী আয়ের পালে জোর হাওয়া, নতুন রেকর্ডের আশা
‘আমি প্রবাসী অ্যাপে’ যুক্ত হলো প্রি-ডিপার্চার ওরিয়েন্টেশন
ঈদের পরও রেমিট্যান্সে ভালো গতি
ঈদে রেকর্ড রেমিট্যান্স,৭ দিনে সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
DU Alumni Eid Reunion in East London

পূর্ব লন্ডনে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের ঈদ পুনর্মিলনী

পূর্ব লন্ডনে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের ঈদ পুনর্মিলনী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই ইন দ্য ইউকের আয়াজনে ঈদ পুনর্মিলনী উৎসব। ছবি: নিউজবাংলা
নারী ও পুরুষদের পিলো পাসিং এবং মিউজিক্যাল চেয়ার, শিশুদের ১০০ মিটার দৌড় ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় এতে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই ইন দ্য ইউকের আয়াজনে পূর্ব লন্ডনের ভ্যালেনটাইনস পার্কে হয়ে গেল ঈদ পুনর্মিলনী উৎসব।

মুজিববর্ষ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ উপলক্ষে দ্বৈত শতবার্ষিকী নামের তিন মাসব্যাপী অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতায় এ আয়োজন করা হয়।

গত শনিবার বেলুন ছেড়ে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন সংগঠনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান গৌস সুলতান ও সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন।

ইসমাইল হোসেনের সঞ্চালনায় অ্যাডভাইজার এস বি ফারুক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. রাকিব, প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক মারুফ আহমেদ চৌধুরী, সিনিয়র সহসভাপতি প্রশান্ত দও পুরকায়স্ত শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।

এরপর একে একে হয় নারী ও পুরুষদের পিলো পাসিং এবং মিউজিক্যাল চেয়ার, শিশুদের ১০০ মিটার দৌড় ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

পূর্ব লন্ডনে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের ঈদ পুনর্মিলনী
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই ইন দ্য ইউকের আয়োজনে ঈদ পুনর্মিলনী উৎসব। ছবি: নিউজবাংলা

সাংস্কৃতিক সম্পাদীকা রিপা রাকীবের পরিচালনায় গান পরিবেশন করেন রিপা রাকিব, নাদীয়া লোদী, কাজী কল্পনা, তামান্না, মারুফ চৌধুরী এবং ইসমাইল হোসেন।

জমজমাট এই অনুষ্ঠানে সদস্যদের নিজেদের হাতে তৈরি পিঠা, পুলি, সেমাই, জর্দা, মিষ্টি, পায়েস, সমুচা ও সন্ধ্যায় পরিবেশন করা হয় কাচ্চি বিরিয়ানি। সঙ্গে ছিল সামি কাবাব, ডিম, সালাদ, আর সফট ড্রিংকস।

অনুষ্ঠান আয়োজনে সমন্বয়কারী দলের সদস্য সৈয়দ এনাম, নিলুফা হাসান, ব্যারিস্টার এম কিউ হাসান, এরিনা সিদ্দিকী সুপ্রভা এবং অন্যরা এই অনুষ্ঠান আয়োজনে সহায়তার হাত বাড়ান।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
3 thousand Bangladeshis will get the opportunity to go to Italy

৩ হাজার বাংলাদেশির জন্য ইতালি যাওয়ার সুযোগ

৩ হাজার বাংলাদেশির জন্য ইতালি যাওয়ার সুযোগ ছবি: সংগৃহীত
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইতালিতে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মিসরীয়রা।

শ্রমবাজার গতিশীল করতে দুই দেশের চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে এবার তিন হাজার শ্রমিক বৈধ উপায়ে ইতালি যেতে পারবে। ভবিষ্যতে এই কোটা আরও বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালিয়ান রাষ্ট্রদূত এনরিকো নুনজিয়াতা।

শুক্রবার বেলা ১১টায় শরীয়তপুর পৌরসভা মিলনায়তনে মানব পাচার প্রতিরোধ ও নিরাপদ অভিবাসন উৎসাহিত করতে মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান ইতালিয়ান রাষ্ট্রদূত।

এ সময় এনরিকো বলেন, ‘২০২০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইতালি সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ইতালিতে নির্দিষ্ট মৌসুমে এবং অন্যান্য সময়ে শ্রমিক পাঠানোর কোটাভিত্তিক সুবিধা লাভ করে। এরপর গত দুই বছরে ১ হাজার ৬০০ শ্রমিক বৈধ উপায়ে ইতালিতে কাজ করার সুযোগ পেয়েছে। বর্তমানে আরও তিন হাজার বাংলাদেশি বৈধ ভিসা পেতে যাচ্ছে। এখন থেকে বাংলাদেশিদের জন্য ইতালি যাওয়ার সুযোগ উন্মুক্ত থাকবে।’

৩ হাজার বাংলাদেশির জন্য ইতালি যাওয়ার সুযোগ
মতবিনিময় সভায় ইতালিয়ান রাষ্ট্রদূত এনরিকো নুনজিয়াতা

এ ছাড়া জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিপজ্জনক পথে বিদেশ যাওয়া সবার জন্য উদ্বেগজনক উল্লেখ করে মানব পাচার রোধে জনসেচতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন এনরিকো।

২০২২ সালের জুন পর্যন্ত বিভিন্ন উপায়ে অবৈধ পথে ২১ হাজার ৮৪৮ অনিয়মিত অভিবাসী ইতালিতে প্রবেশ করে, যা গত বছরের তুলনায় ২২ শতাংশ বেশি।

আরও জানা গেছে, ২০২২ সালে ১৪ হাজার ৭৫৮ জন ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পাড়ি জমায়। এর মধ্যে ইতালিতে প্রবেশ করে ৬ হাজার ৫৫৭ জন, আর গ্রিসে পৌছাঁয় ৫ হাজার ৭০ জন; যা গত বছরের তুলনায় ১৫৩ শতাংশ বেশি।

এ ছাড়া ২০২২ সালে ইতালিতে মোট ২৮ হাজার ৫০৪ জন বাংলাদেশি অনিয়মিত অভিবাসী নিবন্ধন করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩১ শতাংশ বেশি।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইতালিতে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মিসরীয়রা।

শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক পারভেজ হাসানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন শরীয়তপুর-৩ আসনের সাংসদ নাহিম রাজ্জাক, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার হোসেন ও বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ।

সভায় বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘বিদেশ নেয়ার কথা বলে কোনো দালাল যেন কোনো সহজ-সরল, নিরীহ মানুষকে প্রলুব্ধ করে মৃত্যুর ফাঁদে নিক্ষেপ না করতে পারে সে জন্য সবার সহযোগিতা চাই। যারা প্রতারিত হচ্ছে তারা আপনার আমার ভাই, বন্ধু ও পরিবারের লোক। তারা আপনার সন্তানও হতে পারে। সবাই এগিয়ে আসুন আমরা হাতে হাত মিলিয়ে এই অঞ্চল থেকে এই অনিরাপদ অভিবাসন চিরতরে নির্মূল করি।’

মতবিনিয়ম সভায় শরীয়তপুরের বিভিন্ন এলাকার দালালের মাধ্যমে প্রতারিতরা ছাড়াও জনপ্রতিনিধি, এনজিও কর্মী, সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

আরও পড়ুন:
ভেনিস আর্ট বিএনালে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন উদ্বোধন
গ্রামটির আছে নিজস্ব পতাকা-মুদ্রা, হতে চায় রাষ্ট্র
বেঁচে ফিরে ইতালিগামী ২ বন্ধুর মৃত্যুর রোমহর্ষক বর্ণনা
পর্ন ভিডিওতে গড়বড় ভার্চুয়াল মিটিং
মহান বিজয় দিবস উদ্‌যাপন রোম দূতাবাসের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The maximum cost to go to Malaysia as a worker is 79 thousand rupees

কর্মী হিসেবে মালয়েশিয়া যেতে সর্বোচ্চ খরচ ৭৯ হাজার টাকা

কর্মী হিসেবে মালয়েশিয়া যেতে সর্বোচ্চ খরচ ৭৯ হাজার টাকা
অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ‘একজন মালয়েশিয়াগামী কর্মীর বাংলাদেশের অভ্যন্তরে যে সকল ব্যয় হবে তা সংশ্লিষ্ট কর্মীকে বহন করতে হবে।’

কর্মী হিসেবে মালয়েশিয়ায় যেতে একজন বাংলাদেশির সর্বোচ্চ খরচ হবে ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা। আকাশপথে মালয়েশিয়ায় ভাড়াসহ অন্যান্য খরচ বহন করবে ওই কর্মীকে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের বুধবার এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের উপসচিব গাজী মো. শাহেদ আনোয়ারের সই করা অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ‘একজন মালয়েশিয়াগামী কর্মীর বাংলাদেশের অভ্যন্তরে যে সকল ব্যয় হবে তা সংশ্লিষ্ট কর্মীকে বহন করতে হবে।’

২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর দুই দেশের মধ্যে সই হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী বাংলাদেশ অংশে পাসপোর্ট, স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিবন্ধন ফি, কল্যাণ ফি, বীমা, ইন্স্যুরেন্স, স্মার্ট কার্ড ফি, প্রাক-বহির্গমন ফি, পোশাক পরিচ্ছদ, সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্টের সার্ভিস চার্জ ও বিবিধ যেসব ক্ষেত্রে একজন কর্মীকে বিভিন্ন ব্যয় বহন করতে হবে।

আর এসব খরচ বিবেচনায় নিয়ে মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানে গমণে ইচ্ছুক একজন কর্মীর সর্বোচ্চ খরচ ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার।

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে সই হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী, বিমানভাড়া, মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের ‘সিকিউরিটি ডিপোজিট’, বিমা, মালয়েশিয়ায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ইমিগ্রেশন সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স, করোনারভাইরাস পরীক্ষাসহ ১৫টি খাতের ব্যয় সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ বহন করবে।

এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও অফিস আদেশে উল্লেখ রয়েছে।

আরও পড়ুন:
৫ লাখ কর্মী যাবে মালয়েশিয়ায়
কর্মী নিয়োগ: জট খুলতে মালয়েশিয়ার মন্ত্রী ঢাকায়
মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠাতে সিন্ডিকেট প্রথা বাতিলের দাবি
বাংলাদেশ থেকে আরও কর্মী নিতে চায় মালয়েশিয়া
মালয়েশিয়ায় আটক সাবেক হাইকমিশনার খায়রুজ্জামান

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Opportunity for illegal Bangladeshis to become legal in the Maldives

মালদ্বীপে অবৈধ বাংলাদেশিদের বৈধ হওয়ার সুযোগ

মালদ্বীপে অবৈধ বাংলাদেশিদের বৈধ হওয়ার সুযোগ
মালদ্বীপে বসবাসরত আনডকুমেন্টেড প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের (ইকনোমিক ডেভেলপমেন্ট মিনিস্ট্রি) আওতায় বৈধকরণ প্রক্রিয়া বর্তমানে চালু রয়েছে। যাদের বৈধ ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট নেই তাদেরকে দ্রুততার সঙ্গে ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট সংগ্রহ করে বৈধভাবে কাজ শুরু করারও অনুরোধ জানিয়েছে হাইকমিশন।

মালদ্বীপে অবৈধভাবে বসবাসরত বাংলাদেশিদের বৈধ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাই দেশটিতে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের জরুরি ভিত্তিতে বৈধকরণ প্রক্রিয়ায় ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট সংগ্রহ করার অনুরোধ জানিয়েছে মালেতে বাংলাদেশে হাইকমিশন।

বৃহস্পতিবার এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটিতে বাংলাদেশের হাইকমিশন।

এতে বলা হয়, মালদ্বীপে বসবাসরত আনডকুমেন্টেড প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের (ইকনোমিক ডেভেলপমেন্ট মিনিস্ট্রি) আওতায় বৈধকরণ প্রক্রিয়া বর্তমানে চালু রয়েছে।

যাদের বৈধ ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট নেই তাদেরকে দ্রুততার সঙ্গে ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট সংগ্রহ করে বৈধভাবে কাজ শুরু করারও অনুরোধ জানিয়েছে হাইকমিশন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈধকরণে প্রবাসী বাংলাদেশিরা যে প্রতিষ্ঠানের অধীনে কাজ করছে, সেই প্রতিষ্ঠান মালিককে ইকনোমিক ডেভেলপমেন্ট মিনিস্ট্রিতে আবেদন করতে হবে।

সাম্প্রতিক বিভিন্ন দুর্ঘটনায় সব প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন হওয়ারও অনুরোধ জানিয়েছে হাইকমিশন।

আরও পড়ুন:
মালদ্বীপে লক্ষাধিক বাংলাদেশির বৈধতার সুযোগ
মালদ্বীপে যাবে ডাক্তার-নার্স
মালদ্বীপের সঙ্গে বন্দি বিনিময় চুক্তির খসড়া অনুমোদন
পর্যটনে মালদ্বীপের চেয়ে কেন পিছিয়ে বাংলাদেশ
মালদ্বীপে ‘সুদিনের অপেক্ষায়’ বাংলাদেশি কর্মীরা

মন্তব্য

p
উপরে