বৈঠক নিয়ে ‘হতাশায়’ বড় পতন

player
বৈঠক নিয়ে ‘হতাশায়’ বড় পতন

আগের দিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের পুঁজিবাজার নিয়ে যে বৈঠক হয়, তার দিকে বিনিয়োগকারীরা তাকিয়ে ছিল দুটি ইস্যুতে। পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা ক্রয়মূল্যে বা বাজারমূল্যে নির্ধারণ হবে কি না, বন্ডে বিনিয়োগ এই সীমার বাইরে থাকবে কি না, এ নিয়ে যে বিতর্ক উঠেছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট একটি ঘোষণা প্রত্যাশা করছিলেন তারা।

পুঁজিবাজার নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিএসইসিকে নিয়ে প্রতীক্ষিত বৈঠক শেষে কোনো সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না আসার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আবার হতাশা ছড়িয়েছে। বৈঠকের ও তার আগের দিন দুই দিনে সূচক যত বেড়েছিল, একদিনেই কমে গেল তার চেয়ে বেশি। কমে গেছে লেনদেনও। যতগুলো শেয়ারের দর বেড়েছে, কমেছে তার দ্বিগুণেরও বেশি।

মন্ত্রণালয়ে বৈঠকের পরদিন বুধবার সকালে লেনদেনের শুরুতেই সূচক পড়ে যায় ৪০ পয়েন্টের বেশি। বেলা সোয়া ১১টার দিকে সূচক অবস্থান ফিরে পেলেও এরপর থেকে কেবলই পড়েছে। শেষ এক ঘণ্টায় পতনের গতি ছিল আরও বেশি।

শেষ পর্যন্ত সূচক কমে ৯৬.৮৫ পয়েন্ট। এক দিনেই দর হারায় ২৫৭টি কোম্পানি। এর বিপরীতে বেড়েছে কেবল ৯৭টির দর। আর দর ধরে রাখতে পেরেছে ২০টি কোম্পানি।

পতনের দিন বাজারে দাপট দেখা গেছে লোকসানি ও স্বল্প মূলধনি কোম্পানির। বিপরীতে বড় মূলধনির বেশিরভাগ মৌলভিত্তির কোম্পানি দর হারিয়েছে।

সবচেয়ে বেশি দর বাড়া ১০টি কোম্পানির মধ্যে ৭টি লোকসানি। বাকি তিনটি স্বল্প মূলধনি, যেগুলোর শেয়ার সংখ্যা খুবই কম।

সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধি পাওয়া ২০টি কোম্পানিকে বিবেচনায় নিলেও একই চিত্র দেখা যায়। এই ২০টি কোম্পানির মধ্যে ১৬টিই লোকসানি, যেগুলোর মধ্যে বহুগুলো বছরের পর বছর কোনো লভ্যাংশ নিতে পারেনি লোকসানের কারণে।

বৈঠক নিয়ে ‘হতাশায়’ বড় পতন
বেলা সোয়া ১১টার পর থেকে সূচক কমেছে টানা, শেষ সময়ে পতনের গতি ছিল আরও বেশি

আগের দিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের পুঁজিবাজার নিয়ে যে বৈঠক হয়, তার দিকে বিনিয়োগকারীরা তাকিয়ে ছিল দুটি ইস্যুতে। পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা ক্রয়মূল্যে বা বাজারমূল্যে নির্ধারণ হবে কি না, বন্ডে বিনিয়োগ এই সীমার বাইরে থাকবে কি না, এ নিয়ে যে বিতর্ক উঠেছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট একটি ঘোষণা প্রত্যাশা করছিলেন তারা।

বৈঠক শেষে এর সভাপতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এবং শেয়ারবাজার কার্যক্রম সমন্বয় ও তদারকি কমিটির আহ্বায়ক মফিজ উদ্দীন আহমেদ জানান, তারা চলতি মাস বা জানুয়ারির শুরুতে আরেকটি বৈঠক করবেন। সেই বৈঠক শেষে দৃশ্যমান সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

বিএসইসি বা বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে কোনো বার্তা দেয়া না হলেও বৈঠকে অংশ নেয়া এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানান, তারা এক্সপোজার লিমিট ও বন্ডে বিনিয়োগ এই সীমার বাইরে থাকবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এটা বাংলাদেশ ব্যাংকের এগ্রি করা না করার বিষয় আর নেই। এটি এখন অর্থ মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর বিষয়। তাদের দিক থেকে এসব বিষয়ে দিকনির্দেশনা আসবে। এটি করার জন্য আইন পরিবর্তনের দরকার পড়বে। সেই লক্ষ্যে কাজ চলছে, এ জন্য কিছু সময় লাগবে।’

কিন্তু এই বক্তব্য বিনিয়োগকারীদের মনে চিড় ধরা আস্থা ফেরাতে পারেনি। ফলে আরও কমে যাবে আশঙ্কায় কম দামে হলেও শেয়ার বিক্রি করে দিয়ে নির্ভার হতে চেয়েছে বহুজন। আর এর সুযোগ নিয়েছে অন্যরা।

বৈঠক নিয়ে ‘হতাশায়’ বড় পতন
সূচক পতনে প্রধান ভূমিকায় ছিল এই ১০ কোম্পানি

সূচকের পতনে প্রধান ভূমিকায় ছিল বেক্সিমকো লিমিটেড, যার ৪.৩৫ শতাংশ দাম কমায় সূচক থেকে হারিয়ে গেছে ১০.৮৪ পয়েন্ট। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ওয়ালটন, যার কারণে সূচক কমেছে ৮ পয়েন্ট।

রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবি, বহুজাতিক ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো কোম্পানি ও লাফার্জ হোলসিম সিমেন্ট, ওষুধ ও রসায়ন খাতের বেক্সিমকো ও স্কয়ার ফার্মা, বিদ্যুৎ খাতের ইউনাইটেড পাওয়ার, ব্যাংক খাতের ব্র্যাক ও টেলিকমিউনিকেশনসের গ্রামীণ ফোনের দরপতনও সূচকের অবনমনে রেখেছে প্রধান ভূমিকা।

এই ১০টি কোম্পানির কারণেই সূচক পড়েছে ৪৬.৮০ পয়েন্ট।

খাতওয়ারি বিশ্লেষণ করলে ব্যাংক খাতের কোম্পানিগুলো সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় দর হারিয়েছে। আর্থিক, জ্বালানি, বিমা, বস্ত্র, টেলিকমিউনিকেশন খাতেও হয় সবগুলো নয় প্রায় সবগুলো কোম্পানিই দর হারিয়েছে।

খাবার দিন গেছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, প্রকৌশল, মিউচ্যুয়াল ফান্ড, সিমেন্ট, কাগজ, চামড়া খাতেও। কেবল খাদ্য ও আনুষঙ্গিক ও বেক্সিমকো লিমিটেড ছাড়া বিবিধ খাতের বেশিরভাগ কোম্পানির দর বাড়তে দেখা গেছে।

বৈঠক নিয়ে ‘হতাশায়’ বড় পতন
এই ১০টি কোম্পানি সূচকে কিছু পয়েন্ট যোগ করতে পেরেছে

এর বিপরীতে বিকন ফার্মের দর ২.২৬ শতাংশ বাড়ায় সূচক ২.০১ পয়েন্ট বড়েছে। জিপিএইচ ইস্পাত, সোনালী পেপার, অ্যাপোলো ইস্পাত, বিএসসি, পদ্মা অয়েল. ম্যারিকো, এটলাস বাংলাদেশ, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ও অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের দর বৃদ্ধিতে সূচক অল্প বেড়েছে।

এই ১০টি কোম্পানি সূচক বাড়াতে পেরেছে কেবল ৫.৮৫ পয়েন্ট।

দর বৃদ্ধির শীর্ষে দুর্বল কোম্পানি

বুধবার দর বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে ছিল লোকসানি ফাইনফুডস। যার শেয়ার দর বেড়েছে ৯.৮৯ শতাংশ। গত ১০ দিনের লেনদেনে কোম্পানিটির এমন উত্থান আর হয়নি।

লভ্যাংশ না দেয়া ফু ওয়াং ফুডসের দর বেড়েছে ৯.৬৩ শতাংশ। গত ২৪ নভেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ার দর পর্যায়ক্রমে বেড়েছে। শেয়ার দর ১৬ টাকা ৬০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৮ টাকা ২০ পয়সা।

লভ্যাংশ সংক্রান্ত সভা না করা সুহিৃদ ইন্ডাস্ট্রিজের দর বেড়েছে ৯.৪৪ শতাংশ। আরেক লোকসানি ফার্স্ট ফাইন্যান্সের দর বেড়েছে ৯.৩৩ শতাংশ।

লভ্যাংশ দেয়া দেশ গার্মেন্টস ছিল দর বৃদ্ধির তালিকায় পঞ্চম স্থানে। কোম্পানিটির শেয়ারের বিক্রেতা ছিল না বললেই চলে। কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়েছে ৮.৬৮ শতাংশ। ১ কোটি ৭৮ লাখ টাকার ১ লাখ ৬ হাজার ৯৫৭টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

বৈঠক নিয়ে ‘হতাশায়’ বড় পতন
বুধবার সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে এই ছয়টি খাতে

বছরের পর বছর ধরে লোকসানি মেঘনা পেটের দর ৮.৬১ শতাংশ, এএমসিএল (প্রাণ) এর দর ৭.৯৩ শতাংশ, লোকসানি সেন্টাল ফার্মার দর বেড়েছে ৭.৮৫ শতাংশ।

স্বল্প মূলধনি ফার্মা এইডের দর ৭.৪৯ শতাংশ, লোকসানে থেকেও লভ্যাংশ ঘোষণা করা বিচ হ্যাচারির শেয়ার দর ৭.৪৮ শতাংশ আর লোকসানে থাকা এমবি ফার্মার দর বেড়েছে ৭.৪৫ শতাংশ।

দর পতনের দশ কোম্পানি

গত ১০ দিনের লেনদেনে ৫ দিন দর হারানো দুলামিয়া কটনের শেয়ার দর সবচেয়ে বেশি কমেছে ৭.৩৮ শতাংশ। দিন শেষে কোম্পানিটির শেয়ার দর ছিল ৫০ টাকা ২০ পয়সা।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা আরামিট সিমেন্টের শেয়ার দর কমেছে ৫.৭৮ শতাংশ। ৩৪ টাকা ৬০ পয়সা থেকে দাম কমে হয়েছে ৩২ টাকা ৬০ পয়সা।

আমরা নেটওয়ার্কের দর কমেছে ৫.৭২ শতাংশ কমে ৫২ টাকা ৪০ পয়সা থেকে হয়েছে ৪৯ টাকা ৪০ পয়সা।

ওয়ান ব্যাংকের শেয়ার দর কমেছে ৫.৬১ শতাংশ। কোম্পানিটির দর ১৯ টাকা ৬০ পয়সা থেকে হয়েছে ১৮ টাকা ৫০ পয়সা।

ফিনিক্স ফাইন্যান্সের দর কমেছে ৫.৩৩ শতাংশ। দাম ২৮ টাকা ১০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ২৬ টাকা ৬০ পয়সা।

নতুন তালিকাভুক্ত সেনাকল্যাণ ইন্স্যুরেন্সের লেনদেন শুরুর পর ২৩ তম কর্মদিবসে এসে দর হারিয়েছে। ৫.০৫ শতাংশ দর হারিয়ে ৮৭ টাকা ১০ পয়সার শেয়ার হয়েছে ৮২.৭০ টাকা।

দর পতনের তালিকায় থাকা অন্যান্য কোম্পানির মধ্যে ছিল প্রভাতী ইন্স্যুরেন্সের ৪.৮৪ শতাংশ, হামিদ ফেব্রিক্সের ৪.৮৩ শতাংশ, মালেক স্পিনিংয়ের ৪.৭৪ শতাংশ, ফার্স্ট সিকিউরিটিজ ইসলামী ব্যাংকের ৪.৬৯ শতাংশ।

বৈঠক নিয়ে ‘হতাশায়’ বড় পতন
খাদ্য ছাড়া প্রধান সব খাতেই বেশিরভাগ শেয়ার দর হারিয়েছে

লেনদেনে এগিয়ে থাকা ১০ কোম্পানি

শেয়ার প্রতি ৭ টাকার বেশি দর হারালেও লেনদেনে আবার সেরা বেক্সিমকো লিমিটেড। কোম্পানিটির মোট ৯৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকার মোট ৫৮ লাখ ১৬ হাজার ২৪২টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

শেয়ারদর ১৭০ টাকা ২০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১৬২ টাকা ৮০ পয়সা।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা আইএফআইসি ব্যাংকের দর কমেছে ৮০ পয়সা। ১৯ টাকা ২০ পয়সা থেমে কমে হয়েছে ১৮ টাকা ৪০ পয়সা। ৪৪ কোটি টাকায় হাতবদল হয়েছে ২ কোটি ৩৬ লাখ ৪ হাজার ২৫১টি শেয়ার।

জিএসপি ফাইন্যান্সের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকার। হাতবদল হয়েছে ১ কোটি ৩৩ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭৮টি শেয়ার।

ওয়ান ব্যাংকের মোট লেনদেন হয়েছে ৩০ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। ব্যাংকটির ১ কোটি ৬৩ রাখ ৬৫ হাজার ১৮১টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

সেনাকল্যাণ ইন্স্যুরেন্সের ৩৩ লাখ ২০ হাজার ৩৫১টি শেয়ার হাতবদলের বিপরীতে লেনদেন হয়েছে ২৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকার শেয়ার।

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের লেনদেন হয়েছে ২৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা। হাতবদল হয়েছে মোট ১ কোটি ৭৭ লাখ ৯ হাজার ৩৯৫টি শেয়ার।

লেনদেন এগিয়ে থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে সোনালী পেপার, ডেল্টা লাইফ ও পাওয়ারগ্রিডে।

এছাড়া ১০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে এমন কোম্পানির সংখ্যা ছিল ১৭টি। ৯ কোটি টাকার বেমি লেনদেন হয়েছে এমন কোম্পানির সংখ্যা ছিল তিনটি।

আরও পড়ুন:
এক্সপোজার লিমিট: আইন পরিবর্তনের আলোচনা
বিএপিএলসির সভাপতি আনিস, সহসভাপতি নাসিম
বৈঠকের ‘ইতিবাচক বার্তা’য় সূচক আবার ৭ হাজারের ঘরে
আলোচনা ‘ইতিবাচক’, পরের বৈঠকে ‘দৃশ্যমান সিদ্ধান্ত’
পুঁজিবাজার নিয়ে প্রতীক্ষিত বৈঠকে অর্থ মন্ত্রণালয়

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সাকিবের ব্রোকারেজ হাউজের যাত্রা শুরু যেকোনো দিন

সাকিবের ব্রোকারেজ হাউজের যাত্রা শুরু যেকোনো দিন

সাকিব আল হাসানের মালিকানাধীন মোনার্ক হোল্ডিং আগামী সপ্তাহ থেকে বিও হিসাব খোলার ঘোষণা দিয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

গত বছরের ২১ মে পুঁজিবাজারে ব্রোকারেজ হাউজের (অনুমোদিত শেয়ার কেনাবেচা হাউজ) ব্যবসা করার অনুমতি পায় ক্রিকেটের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার ও পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির শুভেচ্ছা দূত সাকিব আল হাসান। সাকিবের মালিকানাধীন ব্রোকারেজ হাউজের নাম মোনার্ক হোল্ডিং। মতিঝিলের গাউসিয়া কাশেম সেন্টারে চতুর্থ তলায় নেয়া হয়েছে করপোরেট অফিস।

ক্রিকেট বিশ্বের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের মালিকানাধীন মোনার্ক হোল্ডিং আগামী সপ্তাহ থেকে বিও হিসাব খোলার ঘোষণা দিয়েছে। এরপরই লেনদেনে শুরু হবে।

এমনটি নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন মোনার্ক হোল্ডিংয়ের আইটি প্রধান রাইসুল হাসান।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি যে ৫২টি নতুন ব্রোকারেজ হাউজের অনুমোদন দিয়েছে তার মধ্যে এটি প্রথম, যেটি লেনদেন শুরুর দ্বার প্রান্তে।

রাইসুল হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আগামী সপ্তাহের সোমবার থেকে আমাদের এখানে বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাব খোলা শুরু হবে। বিও হিসাব খোলা শুরু হওয়ার দ্রুততম সময়ে লেনদেন যাওয়া যাবে।’

এরই মধ্যে ডিএসই থেকে মোনার্ক হোল্ডিংকে লেনদেন শুরুর অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রয়োজন লিংকও ডিএসই থেকে সরবরাহ করা হয়েছে।

গত বছরের ২১ মে পুঁজিবাজারে ব্রোকারেজ হাউজের (অনুমোদিত শেয়ার কেনাবেচা হাউজ) ব্যবসা করার অনুমতি পায় ক্রিকেটের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার ও পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির শুভেচ্ছা দূত সাকিব আল হাসান।

সাকিবের মালিকানাধীন ব্রোকারেজ হাউজের নাম মোনার্ক হোল্ডিং। মতিঝিলের গাউসিয়া কাশেম সেন্টারে চতুর্থ তলায় নেয়া হয়েছে করপোরেট অফিস।

নতুন অনুমোদন পাওয়া ব্রোকারেজ হাউজগুলোর বিষয়ে ডিএসই আইসিটি বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুহুল আমিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নতুন যে কয়টি ট্রেক বা ব্রোকারেজ হাউজের অনুমোদন দেয়া হয়েছে, তাদের বেশির ভাগই এখনও লেনদেন পরিচালনা করার অবস্থায় যায়নি।

‘প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামো প্রস্তুত হওয়ার পর ডিএসইকে অবহিত করতে হবে। এরই মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তাদের লেনদেন উপযোগী করেছে বলে জানিয়েছে। ডিএসইর পক্ষ থেকে সেগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘পরিদর্শনের পর যদি মনে হয়, ব্রোকারেজ হাউজ পুঁজিবাজারে লেনদেন পরিচালনা করতে সক্ষম, তখন তাকে প্রয়োজনীয় লিংক ও পাসওয়ার্ড দেয়া হবে।’

মোনার্ক হোল্ডিংয়ের পরিশোধিত মূলধন ১০ কোটি টাকা। বিও হিসাব খোলার মাধ্যমে পুঁজিবাজারে শেয়ার ক্রয়-বিক্রির ব্রোকারেজ হাউজের ব্যবসায় সরাসরি সম্পৃক্ত হবেন সাকিল আল হাসান।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে নতুন ৫২টি ব্রোকারেজ হাউজ বা ট্রেককে (ট্রেডিং রাইট এনটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট) লাইসেন্স দেয় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।

নিয়ম অনুযায়ী ট্রেক লাইসেন্স পাওয়ার এক বছরের মধ্যে চূড়ান্ত লেনদেনে আসার কথা।

অনুমোদন পাওয়া ব্রোকারেজ হাউজগুলো যাতে দ্রুত লেনদেন আসে এজন্য ডিএসইকে প্রয়াজনীয় সহযোগিতা করতে গত অক্টোবরে চিঠি দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

যেখানে নতুন ব্রোকারেজ হাউজগুলোতে অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ওএমএস) স্থাপনে প্রযুক্তিগত সহায়তাসহ সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক-ডিলার/স্টক-ব্রোকার/অনুমানকৃত) নিয়মমালা, ২০০০ অনুযায়ী নিবন্ধন সার্টিফিকেট গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে বলা হয়।

মোনার্ক হোল্ডিংয়ের রাইসুল হাসান বলেন, ‘এর সব কিছুই নিশ্চিত করা হয়েছে।’

অনুমোদন পাওয়া ব্রোকারেজ হাউজগুলোর কার্যক্রম শুরু করতে দেরির প্রসঙ্গে রুহুম আমিন বলেন, ‘নতুন ৫২টি ব্রোকারেজ হাউজের মধ্যে ১০ থেকে ১২টি প্রতিষ্ঠান স্টক-ডিলার ও স্টক-ব্রোকারের লাইসেন্সের জন্য অবেদন করেছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজস্ব অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যাক অফিস সিস্টেমও চালু করতে হবে। বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান এখনও এগুলো শেষ করতে পারেনি।’

নতুন ব্রোকারেজ হাউজগুলোর আইটি সিস্টেম ডেভেলপ বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন রুহুম আমিন।

নতুন করে ট্রেক বা ব্রোকারেজ হাউজের সার্টিফিকেট পেতে ৬৬টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করে। এখান থেকে ডিএসই ১৫টি প্রতিষ্ঠানের আবেদন বাতিল করে ৫১টি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দিতে বিএসইসির কাছে পাঠায়। পরে আরও ৪টি প্রতিষ্ঠান যুক্ত করে ১৮ মে ৩০টি, ২১ জুন ২৬টি ও ২৬ আগস্ট ৯টি ব্রোকারেজ হাউজকে অনুমোদন দেয়া হয়।

গত ৪ সেপ্টেম্বর ডিএসর নিকুঞ্জে আনুষ্ঠানিক নতুন ট্রেকহোল্ডারদের লাইসেন্স বিতরণ করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম।

আরও পড়ুন:
এক্সপোজার লিমিট: আইন পরিবর্তনের আলোচনা
বিএপিএলসির সভাপতি আনিস, সহসভাপতি নাসিম
বৈঠকের ‘ইতিবাচক বার্তা’য় সূচক আবার ৭ হাজারের ঘরে
আলোচনা ‘ইতিবাচক’, পরের বৈঠকে ‘দৃশ্যমান সিদ্ধান্ত’
পুঁজিবাজার নিয়ে প্রতীক্ষিত বৈঠকে অর্থ মন্ত্রণালয়

শেয়ার করুন

সূচকের উত্থান অব্যাহত, আগ্রহের নতুন ঠিকানা বস্ত্র

সূচকের উত্থান অব্যাহত, আগ্রহের নতুন ঠিকানা বস্ত্র

নতুন বছরে পুঁজিবাজারে নতুন আশা দেখছে বিনিয়োগকারীরা। ছবি: নিউজবাংলা

এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত সূচক বাড়ল ৩৩২ পয়েন্ট। গত বছরের শেষ কর্মদিবসে লেনদেন ছিল ৯২১ কোটি ৮১ লাখ টাকা। সেখান থেকে বেড়ে বুধবার দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৭৩৫ কোটি ৫৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

নতুন বছরে পুঁজিবাজারে চাঙাভাব অব্যাহত আছে। চলতি সপ্তাহে টানা চার দিন আর বছরের ১৪ কর্মদিবসের ১২ দিনই বাড়ল সূচক। ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে লেনদেনও। একেক দিন একেক খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রবণতার মধ্যে এবার আগ্রহ দেখা গেল বস্ত্র খাতে।

বুধবার ৩৩ পয়েন্ট বেড়ে সূচকের যে অবস্থান, সেটি গত ১৮ নভেম্বর অর্থাৎ দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। সেদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সার্বিক সূচক ছিল ৭ হাজার ৯১। ঠিক দুই মাস এক দিন পর সূচক দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৮৯ পয়েন্টে।

এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত সূচক বাড়ল ৩৩২ পয়েন্ট। গত বছরের শেষ কর্মদিবসে লেনদেন ছিল ৯২১ কোটি ৮১ লাখ টাকা। সেখান থেকে বেড়ে বুধবার দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৭৩৫ কোটি ৫৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

২০২১ সালের শেষ দিকে পুঁজিবাজারে লেনদেনের খরা দেখা গেলেও চলতি বছরের দ্বিতীয় কর্মদিবসে লেনদেন এক হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে দেয়ার পর তা এখন দুই হাজার কোটি টাকার দিকে ছুটছে। মাঝে একদিন দুই হাজার কোটি টাকার আশেপাশে লেনদেন হয়েওছিল। তবে পরে সেখান থেকে কমে।

চলতি বছর একেকদিন বিমা খাত, পরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, প্রকৌশল, খাদ্য, ওষুধ ও রসায়নে আগ্রহ দেখা গেছে। প্রতি দিনই বিবিধ খাত হয় লেনদেনের শীর্ষে বা দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল।

সূচকের উত্থান অব্যাহত, আগ্রহের নতুন ঠিকানা বস্ত্র
৩৩ পয়েন্ট উত্থানে সূচকের অবস্থান দাঁড়িয়েছে দুই মাসের সর্বোচ্চ

গত কয়েক দিন ধরে বস্ত্র খাতে আগ্রহ ধীরে ধীরে বাড়ছিল। আজ তা বেড়ে হলো দুইশ কোটি টাকার পাশেপাশে। লেনদেনের পাশাপাশি বেড়েছে বেশিরভাগ কোম্পানির লেনদেনও।

লেনদেনে বস্ত্র খাতের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহে ৬৮ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। কমেছে ২২ শতাংশ কোম্পানির।

সবচেয়ে বেশি কোম্পানির দর অবশ্য বেড়েছে প্রকৌশল এবং ওষুধ ও রসায়ন খাতে। এর মধ্যে প্রকৌশলে ৮৪ শতাংশ এবং ওষুধ খাতের ৮১ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারে অর্থ যোগ হয়েছে।

লেনদেন শেষে ডিএসইতে মোট ১ হাজার ৭৩৫ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৭১২ কোটি টাকা।

দিনের সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া খাত অবশ্য ছিল বিবিধ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ওষুধ ও রসায়নের সঙ্গে বস্ত্রের অবস্থান ছিল কাছাকাছি।

বিবিধ খাতে লেনদেন হয়েছে সবচেয়ে বেশি ২৭৮ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ওষুধ ও রসায়নে হাতবদল হয়েছে ১৯৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। তৃতীয় অবস্থানে থাকা বস্ত্রে হাতবদল হয়েছে ১৯৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।

চামড়া, প্রকৌশল, বিমা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতেও লেনদেন ছাড়িয়েছে একশ কোটি টাকার বেশি।

সূচক বাড়ালো যেসব কোম্পানি

সূচক বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকায় ছিল বেক্সিমকো গ্রুপ। গত দুই থেকে তিন মাস ধরে এই গ্রুপের কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর ক্রমেই কমছিল। এর মধ্যে এক দিনে বাড়ল চারটি কোম্পানির দর। তবে কোম্পানিটির ইসলামি সুকুক বন্ড অভিহিত মূল্যের আরও একটু নিচে নেমে গেছে।

সূচকের উত্থান অব্যাহত, আগ্রহের নতুন ঠিকানা বস্ত্র
সূচক বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকায় ছিল বেক্সিমকো গ্রুপ

সূচক যত পয়েন্ট বেড়েছে, তার অর্ধেকের বেশি বাড়িয়েছে বেক্সিমকো লিমিটেড একাই। টানা দরপতনের মধ্যে থাকা এই কোম্পানিটির শেয়ারদর এক দিনেই বেড়েছে ৫.২৭ পয়েন্ট। এতে সূচক যোগ হয়েছে ১৮.৯ পয়েন্ট।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা এসিআই লিমিটেডের শেয়ারদর ৭.৫৭ শতাংশ বাড়ার কারণে সূচকে যোগ হয়েছে ৪.৫৯ পয়েন্ট।

বেক্সিমকো গ্রুপেরই আরেক কোম্পানি বেক্সিমকো ফার্মার দর ১.৭৬ শতাংশ বাড়ার কারণে সূচকে যোগ হয়েছে ৪.৩ পয়েন্ট।

তিতাস গ্যাস, ব্র্যাক ব্যাংক, গ্রামীণ ফোন, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, ইউনিলিভার, স্কয়ার ফার্মা ও লিনডে বিডিও সূচকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পয়েন্ট যোগ করেছে।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানিই সূচকে যোগ করেছে ৪৬ পয়েন্ট।

বিপরীতে সবচেয়ে বেশি ৭.৪৩ পয়েন্ট সূচক কমিয়েছে রবি। কোম্পানিটির শেয়ারদর কমেছে ১.২৬ পয়েন্ট।

ইউনাইটেড পাওয়ার, লাফার্জ হোলসিম সিমেন্ট, ওয়ালটন, বিএসআরএম স্টিল, ট্রাস্ট ব্যাংক, অলিম্পিক একসেসোরিজ, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্ট, জিপিএইচ ইস্পাত ও ডাচ বাংলা ব্যাংকও সূচক কিছুটা কমিয়েছে।

সূচকের উত্থান অব্যাহত, আগ্রহের নতুন ঠিকানা বস্ত্র
সূচক নিচে টেনে নামিয়েছে এই ১০টি কোম্পানি

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পনি সূচক কমিয়েছে ২২.০১ পয়েন্ট।

দর বৃদ্ধির ১০ কোম্পানি

সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধি পাওয়া ১০টি কোম্পানির ৫টিই বস্ত্র খাতের।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শেয়ার দর বেড়েছে গ্লোবাল হ্যাভি কেমিক্যারের ৯.৮৮ শতাংশ। আগের দিন শেয়ারদর ছিল ৩৩ টাকা ৪০ পয়সা, সেটি বেড়ে হয়েছে ৩৬ টাকা ৭০ পয়সা।

আরও দুটি কোম্পানির শেয়ার দর নয় শতাংশের বেশি বেড়েছে। এর একটি নতুন তালিকাভুক্ত ইউনিয়ন ইন্স্যরেন্স, যার দর বেড়েছে ৯.৭৭ শতাংশ। অপরটি সেন্ট্রাল ফার্মা, যার দর বেড়েছে ৯.৩৫ শতাংশ।

চতুর্থ অবস্থানে থাকা দেশ গার্মেন্টসের দর ১৮৮ টাকা ১০ পয়সা থেকে ৮.৭১ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ২০৪ টাকা ৫০ পয়সা।

সাত শতাংশের বেশি শেয়ার দর বেড়েছে পাঁচটি কোম্পানির। এর মধ্যে বস্ত্র খাতের শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের দর ৭.৭৯ শতাংশ, সোনারগাঁও টেক্সটাইলের দর ৭.৩৫ শতাংশ, মুন্নু ফেব্রিক্সের দর ৭.৫৬ শতাংশ ও তাল্লু স্পিনিংয়ের দর ৭.৫১ শতাংশ দর বেড়েছে। এছাড়া ওষুধ ও রসায়ন খাতের এসিআইয়ের দর ৭.৫৭ শতাংশ।

সূচকের উত্থান অব্যাহত, আগ্রহের নতুন ঠিকানা বস্ত্র
পুঁজিবাজারে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে এই খাতগুলো

দর পতনের ১০ কোম্পানি

দর পতনের শীর্ষে ছিল রেনউইক যজ্ঞেশ্বর, যার দর কমেছে ৫.১৯ শতাংশ। চার শতাংশের বেশি দর কমেছে তিনটি কোম্পানির। এর মধ্যে শমরিতা হসপিটালের ৪.৬১ শতাংশ, প্রাইম লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৪.৩৭ শতাংশ ও পদ্মা লাইফের দর ৪.২৩ শতাংশ কমেছে।

এছাড়া আইসিবি এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দর ৩.৭৫ শতাংশ, বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের দর ৩.৬৪ শতাংশ, আইসিবি এএমসিএল সেকেন্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দর ৩.২৯ শতাংশ, জিলবাংলা সুগার মিলের ৩.১১ শতাংশ শেয়ার দর কমেছে।

নবম অবস্থানে থাকা এম আই সিমেন্ট ২.৯১ শতাংশ আর দশম অবস্থানে থাকা ফাস ফাইনান্স দর হারিয়েছে ২.৮৫ শতাংশ।

লেনদেনে সেরা ১০

সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকো লিমিটেডের ১৭৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। শেয়ার হাতবদল হয়েছে ১ কোটি ১৮ লাখ ৫৬ হাজার ৩৬টি।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ফরচুন সুজের লেনদেন হয়েছে ১৭১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। শেয়ার হাতবদল হয়েছে ১ কোটি ২৯ লাখ ১৮ হাজার ২৯৬টি।

সূচকের উত্থান অব্যাহত, আগ্রহের নতুন ঠিকানা বস্ত্র
বেশিরভাগ খাতেই লেনদেন বেড়েছে বুধবার

তৃতীয় অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনে লেনদেন হয়েছে ৮৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। শেয়ার হাতবদল হয়েছে ৬৩ লাখ ১৭ হাজার ৪৪০টি।

সাইফ পাওয়ারটেকে ৬৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, এসিআইয়ে ৪১ কোটি ৪১ লাখ টাকা, জিপিএইচ ইস্পাতে ৩৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকা, ওরিয়ন ফার্মায় ৩২ কোটি ২৯ লাখ টাকা, ফারইস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্সে ৩০ কোটি ৮ লাখ টাকা, প্যারামাউন্ড টেক্সটাইলে ২৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা এবং পাওয়ারগ্রিডের ২৯ কোটি ৫২ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে।

আরও পড়ুন:
এক্সপোজার লিমিট: আইন পরিবর্তনের আলোচনা
বিএপিএলসির সভাপতি আনিস, সহসভাপতি নাসিম
বৈঠকের ‘ইতিবাচক বার্তা’য় সূচক আবার ৭ হাজারের ঘরে
আলোচনা ‘ইতিবাচক’, পরের বৈঠকে ‘দৃশ্যমান সিদ্ধান্ত’
পুঁজিবাজার নিয়ে প্রতীক্ষিত বৈঠকে অর্থ মন্ত্রণালয়

শেয়ার করুন

চাঙা পুঁজিবাজারেও কদর কমছে বেক্সিমকো গ্রুপের

চাঙা পুঁজিবাজারেও কদর কমছে বেক্সিমকো গ্রুপের

বেক্সিমকো গ্রুপের কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর টানা কমছে।

২০২০ সালের মে থেকে পুঁজিবাজারে যে উত্থান শুরু হয়, এই সময়ে বেক্সিমকো গ্রুপের কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর ক্রমাগত বাড়তে থাকে। তবে গত অক্টোবর ও নভেম্বর থেকে কোম্পানিগুলো দর হারাতে থাকায় বিনিয়োগকারীরা বড় অঙ্কের লোকসানে আছেন।

২০২০ সালের মাঝামাঝি থেকে ২০২১ সালের অক্টোবর পর্যন্ত পুঁজিবাজারে সূচকের ব্যাপক উত্থানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধি পাওয়া বেক্সিমকো লিমিটেডের দর এখন ক্রমাগত কমছে।

দর কমছে একই গ্রুপের আরও তিন কোম্পানি বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, আইএফআইসি ব্যাংক ও শাইনপুকুর সিরামিকসের শেয়ারেরও। সুকুক বন্ড তালিকাভুক্তির পরদিনই নেমে গেছে অভিহিত মূল্যের নিচে।

এর মধ্যে বেক্সিমকো লিমিটেড তার সর্বোচ্চ দরের তুলনায় ২২ শতাংশের বেশি, বেক্সিমকো ফার্মা প্রায় ২৫ শতাংশ, আইএফআইসি ব্যাংক প্রায় ২০ শতাংশ এবং শাইনপুকুর ৩৫ শতাংশের বেশি দর হারিয়েছে। তালিকাভুক্ত হয়েই সুকুক বন্ড দর হারিয়েছে ১৮ শতাংশের বেশি।

২০২০ সালের ১৯ জুলাই বেক্সিমকোর একেকটি শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৩ টাকায়। গত ১৪ নভেম্বর তা সর্বোচ্চ ১৮৭ টাকা ৯০ পয়সায় লেনদেন হয়। কিন্তু সেদিনই দর হারানো শুরু।

নতুন বছরে নতুন আমেজে পুঁজিবাজার। প্রতিদিনই অল্প অল্প করে বাড়ছে সূচক আর লেনদেন। নতুন বছরের প্রথম লেনদেন ৩ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সূচক বেড়েছে ২০২ পয়েন্ট। এ সময়ে স্বল্প মূলধনি কোম্পানির উত্থানের পাশাপাশি বিমা, প্রকৌশল, বস্ত্র খাতকে এগিয়ে আসতে দেখা গেছে। এমন সময়েও বেক্সিমকো গ্রুপের পিছিয়ে পড়া পুঁজিবাজারে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

কোম্পানির শেয়ারদর অস্বাভাবিক হারে বাড়লে স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ সাধারণত কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। তবে কমার ক্ষেত্রে এমন নোটিশ দেয়ার ঘটনা সাধারণত ঘটে না। আর বেক্সিমকো গ্রুপের শেয়ারদর যখন তরতর করে বাড়ছিল, সে সময় কারণ দর্শানোর নোটিশও দেয়া হয়নি। অবশ্য এটাও ঠিক কোম্পানির মূল্য সংবেদনশীল সব তথ্য ছিল প্রকাশিত।

২০২০ সালের মে থেকে পুঁজিবাজারে যে উত্থান শুরু হয়, তাতে বেক্সিমকো গ্রুপের শেয়ারগুলোতে ব্যাপক চাঙাভাব দেখা দেয়। দাম আরও বাড়বে- এমন খবরে বিনিয়োগকারীরাও বাড়তি দাম দিয়েই শেয়ার কিনছিলেন। গত কয়েক মাস ক্রমাগতভাবে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগও বাড়ছিল কয়েকটি কোম্পানিতে।

বেক্সিমকো লিমিটেড করোনার সময় যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা মাস্ক, পিপিইর মতো সরঞ্জাম সরবরাহের কাজ পেয়েছে। এ জন্য তারা পিপিই পার্ক স্থাপন করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এই পার্ক থেকে বছরে পাঁচ হাজার কোটি টাকার পণ্য নেবে।

আবার কোম্পানিটি দুটি সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র করছে। আগামী বছরের শেষ দিকে কেন্দ্র দুটি উৎপাদনে আসবে। এই কেন্দ্রে অর্থায়নের জন্য তিন হাজার কোটি টাকার সুকুক বন্ড ছাড়া হয়েছে। এরই মধ্যে সব টাকা তোলা হয়েছে।

বেক্সিমকো ফার্মার দর বৃদ্ধিতে দুটি মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছিল। ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে করোনার ৩ কোটি ৪০ লাখ টিকা আনতে সরকার যে চুক্তি করে, তাতে বেক্সিমকো ফার্মাকে করা হয় লোকাল এজেন্ট। প্রতি টিকার জন্য তারা এক ডলার করে পাবে সরকারের কাছ থেকে। পাশাপাশি বহুজাতিক কোম্পানি সানোফি এভেনটিসের ৩৫ শতাংশ শেয়ার কোম্পানিটি কিনে নিয়েছে।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের সাবেক প্রধান গবেষণা কর্মকর্তা দেবব্রুত কুমার সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, বেক্সিমকো গ্রুপ পুঁজিবাজারে নানা কারণে আলোচিত। গত দেড় বছরে শেয়ারদর অনেক বেড়েছে। এখন মূল্য সমন্বয় হওয়া উচিত।

আইএফআইসি ব্যাংকের শেয়ারদর বৃদ্ধিতেও কাজ করে একটি সংবাদ। শ্রীলঙ্কান একটি ব্যাংকে এই ব্যাংকটির শেয়ার রয়েছে। সেই শেয়ার তারা বিক্রি করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই শেয়ার বিক্রি হলে বিপুল পরিমাণ মুনাফার আশা করা হচ্ছে।

তবে শাইনপুকুর সিরামিকসের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা আকৃষ্ট হবে- এমন প্রকাশিত কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছিল না।

২০২০ সালের মে থেকে পুঁজিবাজারে যে উত্থান শুরু হয়, তাতে বেক্সিমকো গ্রুপের শেয়ারগুলোতে ব্যাপক চাঙাভাব দেখা দেয়। দাম আরও বাড়বে- এমন খবরে বিনিয়োগকারীরাও বাড়তি দাম দিয়েই শেয়ার কিনছিলেন। গত কয়েক মাস ক্রমাগতভাবে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগও বাড়ছিল কয়েকটি কোম্পানিতে।

গত ৫ অক্টোবর বেক্সিমকো ফার্মার শেয়ারদর বেড়ে হয় ২৫৫ টাকা ৪০ পয়সা। সেদিন থেকেই দরপতন শুরু। বর্তমান দর ১৯২ টাকা ৭০ পয়সা। এই কয় দিনে শেয়ারদর কমেছে ৬২ টাকা ৭০ পয়সা বা ২৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

তবে বেক্সিমকো লিমিটেড নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে, বেক্সিমকো ফার্মা ও শাইনপুকুর সিরামিকস অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে এবং আইএফআইসি ব্যাংক অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে দর হারাতে শুরু করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের সাবেক প্রধান গবেষণা কর্মকর্তা দেবব্রুত কুমার সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বেক্সিমকো গ্রুপ পুঁজিবাজারে নানা কারণে আলোচিত। গত দেড় বছরে শেয়ারদর অনেক বেড়েছে। এখন মূল্য সমন্বয় হওয়া উচিত।’

তিনি বলেন, ‘বেক্সিমকো লিমিটেডের নতুন প্রোডাক্ট সুকুক নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কম। কারণ, এখানে আস্থার জায়গাটি এখনও তৈরি হয়নি। কিন্তু সুকুকে যেসব শর্ত দেয়া হয়েছে সবগুলোই আকর্ষণীয়। বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে অন্তত এক বছর অপেক্ষা করতে হবে বলে মনে হয়। যখন সুযোগ-সুবিধাগুলো দৃশ্যমান হবে তখন বিনিয়োগকারীরাও এটিতে আকৃষ্ট হবেন।’

বেক্সিমকো লিমিটেড

২০২০ সালের ১৯ জুলাই বেক্সিমকোর একেকটি শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৩ টাকায়। গত ১৪ নভেম্বর তা সর্বোচ্চ ১৮৭ টাকা ৯০ পয়সায় লেনদেন হয়। কিন্তু সেদিনই দর হারানো শুরু।

এরপর থেকে মোট ৪৩ কর্মদিবস লেনদেন হয়েছে পুঁজিবাজারে। এর মধ্যে ২৬ দিন দর কমেছে, ১৭ দিন বেড়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বেড়েছে খুবই কম পরিমাণে। কিন্তু দর হারিয়েছে শতকরা হিসাবে।

কোম্পানিটির শেয়ারদর বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ১৪৪ টাকা ১০ পয়সা, যা গত ১৯ অক্টোবরের পর সর্বনিম্ন।

গত ১১ নভেম্বর থেকে কোম্পানিটির একেকটি শেয়ার দর হারিয়েছে ৪০ টাকা ৯০ পয়সা বা ২২ দশমিক ১০ শতাংশ।

এই সময়ে কোম্পানিটির বেশ কয়েকটি ইতিবাচক খবর অবশ্য এসেছে। দুটি সৌর বিদ্যুৎুকেন্দ্র করতে সুকুক বন্ড ছেড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা তারা পেয়েছে। সেই বন্ডের লেনদেনও পুঁজিবাজারে শুরু হয়েছে।

এর মধ্যে কোম্পানিটির ৩ কোটি শেয়ার মালিকপক্ষ পুঁজিবাজার থেকে কিনে নিয়েছে।

বেক্সিমকো ফার্মা

ভারত থেকে করোনার টিকা আনতে মধ্যস্থতা, বহুজাতিক কোম্পানি সানোফি এভেনটিসের শেয়ার কেনার খবরে শেয়ারদর বাড়তে শুরু করে ২০২০ সালের জুন থেকে। সে সময় শেয়ারটি বিক্রি হয়েছে ৬৬ টাকা করে।

গত ৫ অক্টোবর শেয়ারদর বেড়ে হয় ২৫৫ টাকা ৪০ পয়সা। সেদিন থেকেই দরপতন শুরু। বর্তমান দর ১৯২ টাকা ৭০ পয়সা। এই কয় দিনে শেয়ারদর কমেছে ৬২ টাকা ৭০ পয়সা বা ২৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

আইএফআইসি ব্যাংক

ব্যাংকটির শেয়ারদর বাড়তে শুরু করে গত বছরের ৩ মে থেকে। সেদিন শেয়ারপ্রতি দর ছিল ৯ টাকা ৮০ পয়সা।

যেখান থেকে ছয় মাসের যাত্রায় শেয়ারদর ১১৭ শতাংশ বেড়ে গত ১৮ নভেম্বর দাঁড়ায় ২১ টাকা ৭০ পয়সা। এরপর থেকেই কমছে দাম। ১৭ টাকা ৫০ পয়সায়।

সর্বোচ্চ দর থেকে কোম্পানিটির একেকটি শেয়ার হারিয়েছে ৪ টাকা ২০ পয়সা। শতকরা হিসেবে দাম কমেছে ১৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

শাইনপুকুর সিরামিকস

২০২০ সালের ৩ আগস্ট কোম্পানিটির একেকটি শেয়ার বিক্রি হয়েছে ৮ টাকায়। কোম্পানির দৃশ্যত কোনো উন্নতি তা থাকলেও শেয়ারদর ক্রমে বাড়তে বাড়তে গত ৭ অক্টোবর দাম দাঁড়ায় ৪৫ টাকা ৪০ পয়সা।

গত ৭ অক্টোবর থেকে দর হারাচ্ছে কোম্পানিটি। বর্তমান দাম ২৯ টাকা ২০ পয়সা। সর্বোচ্চ দর থেকে দাম কমেছে ১৬ টাকা ২০ পয়সা বা ৩৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

সুকুক বন্ড দ্বিতীয় দিনেই অভিহিত মূল্যের নিচে

এই বন্ডটি নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি বেশ উচ্ছ্বসিত। ইক্যুইটিনির্ভর পুঁজিবাজারে এই বন্ডগুলো লেনদেন ব্যাপকভাবে বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছিল।

এর মধ্যে বেক্সিমকো লিমিটেডের আনা সুকুক বন্ড শুরুতেই হোঁচট খেয়েছে। ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যের বন্ডের প্রতিটি ইউনিট বছর শেষে কমপক্ষে ৯ টাকা লভ্যাংশ দেবে- এটা নিশ্চিত। তবে বেক্সিমকো লিমিটেডের লভ্যাংশ ১০ শতাংশের বেশি হলে যতটুকু বেশি হবে, তার ১০ শতাংশ সুকুকের লভ্যাংশে যোগ হবে।

সুকুক বন্ডের লেনদেন ১১০ টাকায় শুরু হলেও চার কর্মদিবসে তা সেখান থেকে কমে গেছে ১৮ টাকা ৫০ পয়সা। দ্বিতীয় দিনেই তা অভিহিত মূল্যের নিচে নেমে আসে। মঙ্গলবার তা দাঁড়িয়েছে ৯১ টাকা ৫০ পয়সা। সর্বনিম্ন নেমেছিল ৯১ টাকা।

গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরে বেক্সিমকো লিমিটেড লভ্যাংশ দিয়েছে ৩৫ শতাংশ। অর্থাৎ ১০ শতাংশের চেয়ে ২৫ শতাংশ বেশি। আগামী বছরও একই হারে লভ্যাংশ দিলে এই ২৫ শতাংশের ১০ শতাংশ হিসাবে আড়াই শতাংশ সুকুকের লভ্যাংশে যোগ হবে। তখন লভ্যাংশ হবে ১১ দশমিক ৫ শতাংশ।

এর পাশাপাশি বন্ডের ২০ শতাংশ বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নেয়া যাবে। কেউ চাইলে নগদে ফেরত পাবেন, কেউ চাইলে শেয়ার নিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে বেক্সিমকো লিমিটেডের একেকটি শেয়ার পাওয়া যাবে ২৫ শতাংশ কম টাকায়। অর্থাৎ এই শেয়ার বিক্রি করে তার প্রকৃত মুনাফা থাকবে ৩৩ শতাংশ।

সব মিলিয়ে বন্ডটি থেকে বছরে ১৬ থেকে ১৯ শতাংশ মুনাফা করা সম্ভব হতে পারে।

তবে বন্ডের লেনদেন ১১০ টাকায় শুরু হলেও চার কর্মদিবসে তা সেখান থেকে কমে গেছে ১৮ টাকা ৫০ পয়সা। দ্বিতীয় দিনেই তা অভিহিত মূল্যের নিচে নেমে আসে। মঙ্গলবার তা দাঁড়িয়েছে ৯১ টাকা ৫০ পয়সা। সর্বনিম্ন নেমেছিল ৯১ টাকা।

আরও পড়ুন:
এক্সপোজার লিমিট: আইন পরিবর্তনের আলোচনা
বিএপিএলসির সভাপতি আনিস, সহসভাপতি নাসিম
বৈঠকের ‘ইতিবাচক বার্তা’য় সূচক আবার ৭ হাজারের ঘরে
আলোচনা ‘ইতিবাচক’, পরের বৈঠকে ‘দৃশ্যমান সিদ্ধান্ত’
পুঁজিবাজার নিয়ে প্রতীক্ষিত বৈঠকে অর্থ মন্ত্রণালয়

শেয়ার করুন

সূচকের অবস্থান ধরে রাখল বস্ত্র, প্রকৌশল, ওষুধ খাত

সূচকের অবস্থান ধরে রাখল বস্ত্র, প্রকৌশল, ওষুধ খাত

পুঁজিবাজারের লেনদেন দেখছেন বিনিয়োগকারীরা। ছবি: নিউজবাংলা

বস্ত্র খাতে ৭১ শতাংশ বা ৪২টি কোম্পানির, প্রকৌশল খাতে ৬৯ শতাংশ বা ২৯টি কোম্পানির এবং ওষুধ ও রসায়ন খাতের ৭৪ শতাংশ বা ২৩টি কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে।

সপ্তাহের তৃতীয় দিনের লেনদেনে শেয়ার কেনা বেচায় অনেকটা বিভ্রান্তিতে ছিল বিনিয়োগকারীরা। লেনদেনের শুরুতে সূচকের যে উত্থান আর লেনদেনের যে গতি ছিল সেটি শেষের দুই ঘণ্টায় ছন্দ হারিয়েছে।

মঙ্গলবার বেলা ১২ টাকা ৫২ মিনিট পর্যন্ত সূচক আগের দিনের চেয়ে ৪২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছিল ৭ হাজার ৯৭ পয়েন্টে। তবে দিন শেষে বাড়তি সূচকের প্রায় পুরোটাই কমে আসে। আগের দিনের তুলনায় কেবল ০.৪৩ পয়েন্ট যোগ হয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে।

লেনদেনে ১৮৪ কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। কমেছে ১৪৬টি কোম্পানির। দর পাল্টায়নি ৪৮টি কোম্পানির।

সূচক অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছে বস্ত্র, প্রকৌশল, ওষুধ ও রসায়ন খাতের শেয়ারের দর বৃদ্ধির কারণে।

বস্ত্র খাতে এদিন ৭১ শতাংশ বা ৪২টি কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ৯টির। বাকি কোম্পানিগুলোর দর ছিল অপরিবর্তিত।

প্রকৌশল খাতে ৬৯ শতাংশ বা ২৯টি কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। কমেছে ২৩ শতাংশ বা ১০টি কোম্পানির। বাকিগুলোর দর ছিল অপরিবর্তিত।

ওষুধ ও রসায়ন খাতে ৭৪ শতাংশ বা ২৩টি কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে।

অন্যান্য খাতের মধ্যে ব্যাংক খাতের ৫৩ শতাংশ কোম্পানির, আর্থিক খাতের ৪৫ শতাংশ আর মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের ৩৯ শতাংশের দর বেড়েছে।

সূচকের উঠানামা থাকলেও বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় হতে শুরু করার লক্ষণ স্পষ্ট লেনদেনে। দিন শেষে হাতবদল হয়েছে এক হাজার ৭১২ কোটি ৮৭ লাখ ৯৭ হাজার টাকার শেয়ার, যা আগের দিন ছিল ১ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা।

সদ্য সমাপ্ত বছরের শেষ মাসে লেনদেন তলানিতে নেমে আসার পর চলতি বছর এ নিয়ে টানা ১২ ‍কর্মদিবস হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে পুঁজিবাজারে।

দর বৃদ্ধির ১০ কোম্পানি

মঙ্গলবার দিনের সর্বোচ্চ বা নয় শতাংশের বেশি শেয়ার দর বেড়েছে সাতটি কোম্পানির। এরমধ্যে একমাত্র দেশ গার্মেন্টসের শেয়ার দর বেড়েছে ১০ শতাংশ। কোম্পানিটির ১৭১ টাকার শেয়ার পৌঁছেছে ১৮৮ টাকা ১০ পয়সায়। ৪ কোটি ৬ লাখ টাকার ২ লাখ ২৩ হাজার ২১১টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

নতুন তালিকাভুক্ত ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্সের দর বেড়েছে ৯.৯১ শতাংশ। তবে কেবল ৩৮১টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে। সদ্য তালিকাভুক্ত হওয়া বিমা খাতের এই কোম্পানিটি গত বৃহস্পতিবার থেকে লেনদেন শুরু করেছে।

প্রাইম লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দর ৯.৮৫ শতাংশ, শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের দর ৯.৬৬ শতাংশ, এসএস স্টিলের ৯.৬২ শতাংশ, ফারইস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দর ৯.৪৭ শতাংশ, শমরিতা হসপিটালের দর বেড়েছে ৯.৪১ শতাংশ।

এদিন সাত শতাংশের বেশি শেয়ার দর বেড়েছে ছয়টি কোম্পানির। এর মধ্যে অগ্নি সিস্টেমসের দর ৭.৮৬ শতাংশ, মতিন স্পিনিংয়ের শেয়ার দর ৭.৬৬ শতাংশ আর ফার্মা এইডের দর বেড়েছে ৭.৪৯ শতাংশ।

দর পতনের দশ কোম্পানি

সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে অনালিমা ইয়ার্ড ৬.০৯ শতাংশ। দ্বিতীয় প্রান্তিকেও লোকসানের হিসাব প্রকাশের পর ৪১ টাকার শেয়ার নেমেছে ৩৮ টাকা ৫০ পয়সায়। ২ কোটি ২৭ লাখ টাকার ৫ লাখ ৮৯ হাজার ৮৯২টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

এছাড়া আইটি কনসালটেন্টনের শেয়ার দর ৪.৩৮ শতাংশ, আজিজ পাইপের দর ৪.৩১ শতাংশ, তুং হাই নিটিংয়ের দর ৪.২২ শতাংশ ও এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের দর ৪.২২ শতাংশ কমেছে।

তিন শতাংশের বেশি শেয়ার দর কমেছে তিনটি কোম্পানির। এর মধ্যে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের দর ৩.৮২ শতাংশ, জনতা ইন্স্যুরেন্সের দর ৩.৪১ শতাংশ ও তিতাস গ্যাসের দর ৩.০৭ শতাংশ কমেছে।

দুই শতাংশের বেশি শেয়ার দর কমেছে ১৫টি কোম্পানির। আনোয়ার গ্যালভানাইজিংয়ের ২.৯৮ শতাংশ ও ডেসকোর ২.৯১ শতাংশ শেয়ার দর কমেছে।

লেনদেনে সেরা ১০

সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ৯৮ কোটি ৮৪ লাখ টাকার। হাতবদল হয়েছে মোট ৭০ লাখ ২০ হাজার ৩৯১টি শেয়ার।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বেক্সিমকো লিমিটেডের ৯৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। হাতবদল হয়েছে ৬৪ লাখ ৮৮ হাজার ২৪৮টি শেয়ার।

সাইফ পাওয়ারটেকে লেনদেন হয়েছে ৮৩ কোটি ৬০ লাখ টাকার। শেয়ার হাতবদল হয়েছে ১ কোটি ৭৬ লাখ ৩২ হাজার ৪৩৩টি।

জিপিএইচ ইস্পাতে ৭৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা, ফারইস্ট লাইফে ৪৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা, পাওয়ারগ্রিডে ৪৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা, জিএসপি ফাইন্যান্সের ৪৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে।

এছাড়া ফরচুন সুজে ৪১ কোটি ৮১ লাখ টাকা, আর এ কে সিরামিকসে ৪০ কোটি ৬১ লাখ টাকা ও প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলে ৩৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

আরও পড়ুন:
এক্সপোজার লিমিট: আইন পরিবর্তনের আলোচনা
বিএপিএলসির সভাপতি আনিস, সহসভাপতি নাসিম
বৈঠকের ‘ইতিবাচক বার্তা’য় সূচক আবার ৭ হাজারের ঘরে
আলোচনা ‘ইতিবাচক’, পরের বৈঠকে ‘দৃশ্যমান সিদ্ধান্ত’
পুঁজিবাজার নিয়ে প্রতীক্ষিত বৈঠকে অর্থ মন্ত্রণালয়

শেয়ার করুন

দেড় মাস পর সর্বোচ্চ সূচক

দেড় মাস পর সর্বোচ্চ সূচক

দেড় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে ফিরেছে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

সপ্তাহের শুরুতে স্বল্প মূলধনি কোম্পানিগুলোর উত্থানে আটকে ছিলেন বিনিয়োগকারীরা। সেখান থেকে এক দিনের ব্যবধানে আবারও আগ্রহের নতুন খাত পেয়েছেন তারা। সোমবার লেনদেনে জীবন বিমা খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর বেড়েছে বেশির ভাগ। পাশাপাশি সাধারণ বিমা খাতের কোম্পানিগুলোর প্রতিও ছিল বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ।

প্রতিদিনের লেনদেনে একটু একটু করে বাড়ছে সূচক। বছরের প্রথম কর্মদিবসে সূচক ছিল ৬ হাজার ৮৫৩ পয়েন্টে। সেখান থেকে ১২ কর্মদিবসে সূচকে ২০০ পয়েন্ট যোগ হয়ে সোমবার দেড় মাসের সর্বোচ্চ অবস্থানে ফিরেছে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স।

খাতভিত্তিক লেনদেনে ফিরছে একসময় হু হু করে বাড়তে থাকা বিমা, স্বল্প মূলধনি, বস্ত্র ও প্রকৌশল খাতের কোম্পানির শেয়ার। এসব খাতের শেয়ারের প্রতি নতুন করে আগ্রহ দেখাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। ফলে দিনের সর্বোচ্চ দর বৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানির তালিকায় উঠে আসে কোম্পানিগুলোর নাম।

ডিসেম্বর ক্লোজিংয়ের থাকা কোম্পানিগুলো ইতোমধ্যে তাদের অর্থবছরের হিসাব সম্পূর্ণ করেছে। এখন অডিটের মাধ্যমে আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে লভ্যাংশ আসতে শুরু করবে। পুঁজিবাজারে মূলত ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক খাত, বিমা, মিউচুয়াল ফান্ডের অর্থবছর ডিসেম্বরকেন্দ্রিক। ফলে এসব কোম্পানির প্রতি এখনই আগ্রহ দেখাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা।

সপ্তাহের শুরুতে স্বল্প মূলধনি কোম্পানিগুলোর উত্থানে আটকে ছিলেন বিনিয়োগকারীরা। সেখান থেকে এক দিনের ব্যবধানে আবারও আগ্রহের নতুন খাত পেয়েছেন তারা। সোমবার লেনদেনে জীবন বিমা খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর বেড়েছে বেশির ভাগ। পাশাপাশি সাধারণ বিমা খাতের কোম্পানিগুলোর প্রতিও ছিল বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ।

এদিন লেনদেন ছাড়িয়েছে ১ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা। গত ১৫ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত পুঁজিবাজারের লেনদেন একবারও হাজার কোটি টাকার ঘর অতিক্রম করেনি। তবে ৩ জানুয়ারি থেকে হাজার কোটি টাকার লেনদেনের যাত্রা এখনও অব্যাহত আছে। এই যাত্রায় সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে ১১ জানুয়ারি, ১ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকা।

সোমবার লেনদেনের শুরুতেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার কেনার বেশ উচ্ছ্বাস লক্ষ করা গেছে। যার ফলে সূচকের উত্থানে পতনের যে বড় ঢেউ দেখা যেত, সেটি ছিল না বললেই চলে।

খানিক সময়ের জন্য সূচকের পতন উত্থানের হার কমে এলেও পরবর্তী সময়ে আবার সেটি শেয়ার কেনার আগ্রহে উঠে এসেছে। দিন শেষে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩৫ দশমিক ৬৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৫৫ পয়েন্টে। এর আগে ২১ নভেম্বর সূচক ছিল ৭ হাজার ৮৫ পয়েন্টে।

সোমবার লেনদেনে সাধারণ বিমা খাতের ৯৭ দশমিক ৫০ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে। আর জীবন বিমা খাতের ৭৬ দশমিক ৯২ শতাংশ দর বেড়েছে।

এ ছাড়া ওষুধ ও রসায়ন খাতের ৬১ শতাংশ, নন-ব্যাংক আর্থিক খাতের ৬৮ শতাংশ, ব্যাংকের ৫৯ শতাংশ, প্রকৌশল খাতের ৩৫ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে।

তৃতীয় দিনে লেনদেন থাকা বেক্সিমকো গ্রুপের গ্রিন সুকুকের দাম আরও কমেছে। এদিন সুকুকটির দর কমে হয়েছে ৯১ টাকা ৫০ পয়সা। ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যেই এই সুকুকের লেনদেন গত বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে। সেদিন সর্বোচ্চ দর উঠেছিল ১১০ টাকা। লেনদেন শেষ হয় ১০১ টাকায়। দ্বিতীয় দিনের লেনদেনে দর আরও কমে হয় ৯৫ টাকা। সোমবার তৃতীয় দফায় প্রতিটি সুকুকের দর কমেছে সাড়ে ৩ টাকা।

সূচক উত্থানে ছিল যেসব কোম্পানি

সোমবার সূচক উত্থানে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা ছিল টেলিকম খাতের রবির। শেয়ারদর ৩ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ উত্থানে সূচক বেড়েছে ১৩ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট। এ ছাড়া বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ারদর ২ শতাংশ বাড়ায় সূচক বেড়েছে ৫ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট।

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের শেয়ারের দর বৃদ্ধি সূচক উত্থানে ভূমিকা রেখেছে ৪ দশমিক শূন্য ৭ পয়েন্ট।

ওরিয়ন ফার্মার অবদান ছিল ৩ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট। বিএসআরএমের শেয়ারদর বেড়েছে ৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ, এতে সূচক বেড়েছে ৩ দশমিক ২৮ পয়েন্ট।

লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশের শেয়ারদর বাড়ায় সূচক বেড়েছে ২ দশমিক ৭৫ পয়েন্ট।

এ ছাড়া সাইফ পাওয়ারের ২ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ২ দশমিক ৩৩ পয়েন্ট, বার্জার পেইন্টের ২ দশমিক শূন্য ৮ পয়েন্ট ও ডরিন পাওয়ারের ১ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট অবদান ছিল সূচক বৃদ্ধিতে।

পাশাপাশি শেয়ারদর কমায় সূচক পতনে ত্বরান্বিত করেছে তিতাস গ্যাস, আরএকে সিরামিক, আইসিবি, পাওয়ার গ্রিড, ওয়ালটন, বিএটিবিসি, বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ব্র্যাক ব্যাংক ও ডেল্টা লাইফ।

দর বৃদ্ধিতে ১০ কোম্পানি

সোমবার সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে সদ্য লেনদেনে আসা ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্সের। দিনের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ দর বৃদ্ধিতে শেয়ারদর দাঁড়িয়েছে ১২ টাকা ১০ পয়সা।

এ ছাড়া এদিন ৯ শতাংশের বেশি শেয়ারদর বেড়েছে পাঁচটি কোম্পানির। এর মধ্যে আছে শমরিতা হসপিটাল, যার দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ। ১৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা লেনদেনে এদিন কোম্পানিটির ১১ লাখ ৫৭ হাজার ৭২টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ারদর বেড়েছে ৯ দশমিক ৯১ শতাংশ। দর বৃদ্ধিতে কোম্পানিটির শেয়ারদর ৯৪ টাকা ৮০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ১০৪ টাকা ২০ পয়সা।

প্রাইম লাইফের শেয়ারদর বেড়েছে ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের শেয়ারদর বেড়েছে ৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ। এ ছাড়া ফুওয়াং ফুডের শেয়ারদর বেড়েছে ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ।

৮ শতাংশের বেশি শেয়ারদর বেড়েছে দুটি কোম্পানির। এর মধ্যে প্রগতি লাইফের ৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ ও ডরিন পাওয়ারের ৮ দশমিক ১১ শতাংশ।

৭ শতাংশের বেশি শেয়ারদর বেড়েছে এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের ৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ, সাইফ পাওয়ারের ৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এ ছাড়া এ তালিকায় আছে লিব্রা ইনফিউশন ও পিপলস ইন্স্যুরেন্স।

দরপতনে ১০ কোম্পানি

এদিন সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে লাভেলো আইসক্রিম, ৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ। গত দুই কর্মদিবস ধরে কমছে কোম্পানিটির শেয়ারদর। সোমবার দরপতনে ৫০ টাকা ১০ পয়সার শেয়ার নেমেছে ৪৬ টাকা ৬০ পয়সায়।

আরএকে সিরামিকের শেয়ারদর কমেছে ৬ দশমিক ৪০ শতাংশ। আরও দুটি কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে ৬ শতাংশের বেশি। একটি হচ্ছে তিতাস গ্যাস, যার শেয়ারদর ৪৮ টাকা ৬০ পয়সা থেকে ৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ কমে হয়েছে ৪৫ টাকা ৫০ পয়সা। অন্যটি এএমসিএল (প্রাণ), যার শেয়ারদর কমেছে ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ।

সিভিও পেট্রোকেমিক্যালের শেয়ারদর কমেছে ৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ। ৪ শতাংশের বেশি শেয়ারদর কমেছে আরও সাতটি কোম্পানির। এর মধ্যে রংপুর ফাউন্ডির ৪ দশমিক ৬১ শতাংশ, কাট্টলি টেক্সটাইলের ৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ, তাল্লু স্পিনিংয়ের ৪ দশমিক ৩২ শতাংশ, সমতা লেদারের ৪ দশমিক ৩০ শতাংশ, এপেক্স স্পিনিংয়ের ৪ দশমিক ২৮ শতাংশ শেয়ারদর কমেছে।

লেনদেনে ১০ কোম্পানি

সোমবার টাকার অঙ্কে লেনদেন সবচেয়ে বেশি এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, যার ১৩১ কোটি ৫২ লাখ টাকার ৯৭ লাখ ৩৬ হাজার ৪৬৪টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

সাইফ পাওয়ারের লেনদেন হয়েছে ১০০ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। হাতবদল হয়েছে ২ কোটি ২৪ লাখ ৪১ হাজার ৪৫২টি শেয়ার।

বেক্সিমকো লিমিটেডের লেনদেন হয়েছে ৯০ কোটি ৪ লাখ টাকা। হাতবদল হয়েছে ৬০ লাখ ৯৮ হাজার ৭৬৫টি শেয়ার।

ওরিয়ন ফার্মার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৭৫ কোটি ৯৫ লাখ টাকার। হাতবদল হয়েছে ৭১ লাখ ১৬ হাজার ৭৬৯টি শেয়ার।

পাওয়ার গ্রিডের ৫৫ কোটি ৩ লাখ টাকা, আরএকে সিরামিকের ৪৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা, জিপিএইচ ইস্পাতের ৪৫ কোটি ২ লাখ টাকা, ফারইস্ট লাইফের ৪২ কোটি ৫৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

এ ছাড়া প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪২ কোটি ১৭ লাখ ও ফরচুন সুজের ৩৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

আরও পড়ুন:
এক্সপোজার লিমিট: আইন পরিবর্তনের আলোচনা
বিএপিএলসির সভাপতি আনিস, সহসভাপতি নাসিম
বৈঠকের ‘ইতিবাচক বার্তা’য় সূচক আবার ৭ হাজারের ঘরে
আলোচনা ‘ইতিবাচক’, পরের বৈঠকে ‘দৃশ্যমান সিদ্ধান্ত’
পুঁজিবাজার নিয়ে প্রতীক্ষিত বৈঠকে অর্থ মন্ত্রণালয়

শেয়ার করুন

ইউনিয়ন ব্যাংকের শেয়ার বরাদ্দ

ইউনিয়ন ব্যাংকের শেয়ার বরাদ্দ

রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ইউনিয়ন ব্যাংকের শেয়ার বরাদ্দ দেয়া হয়। ছবি: নিউজবাংলা

টাকার অংকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের দিতে হবে ৭ হাজার ৯২০ টাকা আর প্রবাসী আবেদনকারীদের আবেদনের বিপরীতে কাটা হবে ৫ হাজার ৩৭০ টাকা। রোববার ব্যাংকটির শেয়ার বরাদ্দ শেষে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) আবেদনকারীদের মধ্যে শেয়ার বরাদ্দ দিলো ইউনিয়ন ব্যাংক। ১০ হাজার টাকা আবেদনের বিপরীতে ব্যাংকের পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে ৭৯২টি শেয়ার। প্রবাসী আবেদনকারীরা পেয়েছেন ৫৩৭টি শেয়ার।

টাকার অংকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের দিতে হবে ৭ হাজার ৯২০ টাকা আর প্রবাসী আবেদনকারীদের আবেদনের বিপরীতে কাটা হবে ৫ হাজার ৩৭০ টাকা। রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ব্যাংকটির শেয়ার বরাদ্দ শেষে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা এম. সাইফুর রহমান মজুমদার, ইউনিয়ন ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান, ডিএসইর সিআরও (ইনচার্জ) ও উপ-মহা ব্যবস্থাপক মো. শফিকুল ইসলাম ভূইয়া, ডিএসইর ট্রেনিং অ্যাডেমির প্রধান ও উপ-মহা ব্যবস্থাপক আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ।

গত বছরের ১ এপ্রিল থেকে আইপিও আবেদনের নতুন নির্দেশনা কার্যকর করে বিএসইসি। যেখানে আবেদন করলেই শেয়ার পাবার নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে। তবে এজন্য নূন্যতম ২০ হাজার টাকার বিনিয়োগ থাকতে হবে পুঁজিবাজারে।

সোনালী লাইফকে দিয়ে যখন আইপিওতে প্রথম সবার জন্য শেয়ারের ব্যবস্থা চালু হয়, সে সময় থেকে ন্যূনতম ১০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আবেদনের সুযোগ দেয়া হয় একেকজন বিনিয়োগকারীকে। পরে কেবল ১০ হাজার টাকার শেয়ারের জন্য আবেদনের সুযোগ দেয়া হয়।

ইউনিয়ন ব্যাংককে গত ৫ সেপ্টেম্বর দুই শর্তে পুঁজিবাজার থেকে টাকা উত্তোলনের অনুমোদন দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

শর্ত হিসেবে বলা হয়, স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তির আগে ব্যাংকটি কোনো প্রকার লভ্যাংশ ঘোষণা, অনুমোদন বা বিতরণ করতে পারবে না। এছাড়া ব্যাংকটিকে ২০২১ সালের মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হবে।

গত এক বছরের বেশি সময়ে ইউনিয়ন ব্যাংক সহ মোট তিনটি ব্যাংক পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এর আগে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক ও সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির মাধ্যমে লেনদেন শুরু করেছে।

ইউনিয়ন ব্যাংক পুঁজিবাজারে মোট ৪২ কোটি ৮০ লাখ শেয়ার ছেড়ে ৪২৮ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। প্রতিটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য বা ফেসভ্যালু হবে ১০ টাকা।
উত্তোলন করা টাকা দিয়ে ব্যাংকটি এসএমই ও প্রজেক্ট অর্থায়ন, সরকারি সিকিউরিটিজ ক্রয়, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ ও আইপিওর করতে খরচ করবে।

২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী পুনর্মূল্যায়ন ছাড়া নেট অ্যাসেটভ্যালু ১৬ টাকা ৩৮ পয়সা। শেয়ারপ্রতি আয় ১ টাকা ৭৭ পয়সা। বিগত ৫ বছরের ভারিত গড় হারে শেয়ারপ্রতি আয় ১ টাকা ৮২ পয়সা।

ব্যাংকটিকে পুঁজিবাজারে আনতে ইস্যু ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করেছে প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।

কোন কোম্পানির আবেদনে কত শেয়ার মিলেছে

লটের বদলে আইপিওতে সবার জন্য শেয়ার ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত একেকজন সাধারণ বিনিয়োগকারী প্রতিটি আবেদনের বিপরীতে ৫৪টি শেয়ার পেয়েছেন বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ারের।

বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির একেকটি শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীরা পেয়েছেন ২৯ টাকা করে। এই হিসাবে প্রতিজনের লেগেছে ১ হাজার ৫৬৬ টাকা।

৬০টি করে শেয়ার পেয়েছেন সাউথবাংলা ব্যাংকের বিনিয়োগকারীরা। এ জন্য ১০ হাজার টাকা আবেদন করলেও বিনিয়োগকারীর সেই আবেদন থেকে কেটে নেয়া হয়েছে ৬০০ টাকা।

সর্বোচ্চ ৪০টি করে শেয়ার পাওয়া গেছে একটি পেস্ট্রিসাইডসের। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের এই শেয়ারের বিপরীতে কেটে রাখা হয়েছে ৪০০ টাকা।

সেনাকল্যাণ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার পাওয়া গেছে ১৯টি করে, বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে কেটে নেয়া হয়েছে ১৯০ টাকা আর একেকজন সোনালী লাইফের শেয়ার বরাদ্দ পেয়েছেন ১৭টি করে, একেকজনের কাছ থেকে কাটা হয়েছে ১৭০ টাকা।

গত ১ এপ্রিল থেকে আইপিওতে সবার জন্য শেয়ার বরাদ্দের পদ্ধতি চালু হওয়ার আগে স্থিরমূল্যে আইপিওতে আসা বিনিয়োগকারীরা ৫০০টি শেয়ার বরাদ্দের জন্য আবেদন করতেন ৫ হাজার টাকায়। আর বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে যেসব কোম্পানি শেয়ার ইস্যু করেছে, সেগুলোর আইপিওতে টাকার পরিমাণ ভিন্ন হতো।

ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্সের আবেদনে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা পেয়েছিলেন ৩০টি শেয়ার। আর প্রবাসী আবেদনকারীরা পেয়েছিলেন ২২টি শেয়ার।

ইউনিয়ন ব্যাংকের আগে সর্বশেষ ১১ জানুয়ারি শেয়ার বরাদ্দ দেয়া হয় বিডি থাই ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কোম্পানির। সেখানে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ১০ হাজার টাকায় আবেদনের বিপরীতে শেয়ার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২৬টি, প্রবাসীদের বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২০টি।

আরও পড়ুন:
এক্সপোজার লিমিট: আইন পরিবর্তনের আলোচনা
বিএপিএলসির সভাপতি আনিস, সহসভাপতি নাসিম
বৈঠকের ‘ইতিবাচক বার্তা’য় সূচক আবার ৭ হাজারের ঘরে
আলোচনা ‘ইতিবাচক’, পরের বৈঠকে ‘দৃশ্যমান সিদ্ধান্ত’
পুঁজিবাজার নিয়ে প্রতীক্ষিত বৈঠকে অর্থ মন্ত্রণালয়

শেয়ার করুন

দ্বিতীয় দিনে অভিহিত মূল্যের নিচে বেক্সিমকোর সুকুক

দ্বিতীয় দিনে অভিহিত মূল্যের নিচে বেক্সিমকোর সুকুক

বেক্সিমকো গ্রুপের কোম্পানি বেক্সিমকো ফার্মার কারখানা। ছবি: ওয়েসবাইট থেকে নেয়া

গত বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরুতে সুকুকের সর্বোচ্চ দর ওঠে ১১০ টাকা। ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যের এই সুকুকের দিন শেষে দর দাঁড়ায় ১০১ টাকা। তারপর সরকারি দুদিন ছুটির পর রোববার সপ্তাহের প্রথম লেনদেনেই দরপতনের ধাক্কা লাগে। এদিন মাত্র ৪ কোটি ২৭ লাখ টাকার ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৮০৪টি বন্ড লেনদেন হয়েছে।

পুঁজিবাজারে গত ১৩ জানুয়ারি লেনদেন শুরু করা গ্রিন সুকুক আল-ইসতিসনার দ্বিতীয় দিনে অভিহিত মূল্যের নিচে নেমে এসেছে। ৩ হাজার কোটি টাকার এই সুকুক পুঁজিবাজারে নিয়ে এসেছে বেক্সিমকো গ্রুপ।

গত বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরুতে সুকুকের সর্বোচ্চ দর ওঠে ১১০ টাকা। ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যের এই সুকুকের দিন শেষে দর দাঁড়ায় ১০১ টাকা।

তারপর সরকারি দুদিন ছুটির পর রোববার সপ্তাহের প্রথম লেনদেনেই দরপতনের ধাক্কা লাগে। এদিন মাত্র ৪ কোটি ২৭ লাখ টাকার ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৮০৪টি বন্ড লেনদেন হয়েছে।

রোববার সুকুকের সর্বোচ্চ দর উঠেছিল ১০২ টাকা ৫০ পয়সা। সর্বনিম্ন ৯৫ টাকায় নামলেও পরবর্তী সময়ে লেনদেন শেষে ৯৮ টাকা ৫০ পয়সায় থেমেছে। ফলে আগের দিনের তুলনায় সুকুকটির দর কমেছে আড়াই টাকা। আর লেনদেনের দ্বিতীয় দিনেই অভিহিত মূল্যের নিচে নেমে এসেছে পুঁজিবাজারে বৈচিত্র্য আনা নতুন প্রডাক্ট এই সুকুক।

পুঁজিবাজারে বন্ড খাতের ১৫টি বন্ড তালিকাভুক্ত আছে। এর মধ্যে দুটি বন্ডের দর বেড়েছে। কমেছে তিনটির। বাকি বন্ডগুলোর লেনদেন হয়নি।

পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারী মশিউর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, বিভিন্ন ফিচার নিয়ে এ ধরনের কনভার্টাবল বন্ড পুঁজিবাজারে একেবারেই নতুন। এ বন্ডের বিপরীতে শেয়ার নেয়া যাবে, শেয়ার নিতে না চাইলে মুনাফা নেয়ার নানা সুযোগ আছে। কিন্তু আমাদের পুঁজিবাজারে আগে বন্ডে এমন সুযোগ-সুবিধা দিয়ে কোনো কিছু তালিকাভুক্ত হয়নি। ধারণা না থাকায় এ বন্ডের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কম।

তিনি বলেন, আর এই বন্ডটি পুঁজিবাজারে নিয়ে এসেছে বেক্সিমকো গ্রুপ। তাদের একটি বেক্সিমকো সিনথেটিক নিয়ে বিনিয়োগকারীরা এখনও ভোগান্তিতে। জিএমজি এয়ারলাইনসের প্লেসমেন্টের শেয়ার বিক্রি করে এখনও অনেকের টাকা ফেরত দেয়নি এই গ্রুপ। ফলে এই গ্রুপের পুঁজিবাজারে নতুন প্রডাক্ট সুকুক বন্ডে তারা কতটা বিশ্বস্ততার প্রমাণ দেবে, সেটি নিয়েও সন্দেহ আছে বিনিয়োগকারীদের। যার ফলে আগ্রহ কম।

লেনদেনের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার সুকুকের মোট ৩২ লাখ ৩২ হাজার ৭৭২টি বন্ড হাতবদল হয়েছিল।

সুকুকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা এবং বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানও স্বীকার করেছিলেন, পুঁজিবাজারে এ ধরনের বন্ড নতুন হওয়ায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সাড়া পাওয়া গেছে।

পরবর্তী সময়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও সাড়া দিয়েছিলেন বলে জানান।

সুকুক বন্ডে কোনো সুদ নেই। এটি ট্রাস্টির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এই বন্ডের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে মূলত বড় বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হয়।

এসব প্রকল্পের মালিকানার অংশীদার হন সুকুক বন্ডের বিনিয়োগকারীরা, অন্য বন্ডে এই সুযোগ নেই। সুকুক বন্ডের বিনিয়োগ ব্যর্থ হলে ওই প্রকল্পের সম্পদ বিক্রি করে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেয়ার সুযোগ আছে।

সুদবিহীন সুকুক বন্ড ছেড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশির ভাগ অংশই দুটি সৌরচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিনিয়োগ করবেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো লিমিটেড।

গত বছরের ১৬ আগস্ট সুকুকের আবেদন গ্রহণ শুরু হয়। ৩ হাজার কোটি টাকার মধ্যে বিদ্যমান শেয়ারধারীদের কাছ থেকে ৭৫০ কোটি টাকা তোলার পরিকল্পনা জানিয়ে আইপিও আবেদন চাওয়া হয়। আবেদনের মেয়াদ ২৩ আগস্ট শেষ হলে দেখা যায় মাত্র ৫৫ কোটি ৬১ লাখ ৫৫ হাজার টাকার জন্য আবেদন জমা পড়ে।

এরপর ২০২১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদনের সময় বাড়ানো হয়। এই সময়ে কেবল একজন নতুন করে আবেদন করেছিলেন। এ অবস্থায় তৃতীয় দফায় ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয় মেয়াদ। সে সময় বিএসইসি বলেছিল, এই সময়ের মধ্যে সুকুকে আইপিও কোটা পূরণ না হলে তা বাতিল হবে।

এ অবস্থায় একই বছরের ২১ ডিসেম্বর সুকুকের লক্ষ্যমাত্রার ৩ হাজার কোটি টাকা উত্তোলন শেষ করে বেক্সিমকো লিমিটেড।

গত বছরের ২৩ জুন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি বেক্সিমকো লিমিটেডকে সুকুকের বিপরীতে ৩ হাজার কোটি টাকা উত্তোলনের অনুমোদন প্রদান করে।

আরও পড়ুন:
এক্সপোজার লিমিট: আইন পরিবর্তনের আলোচনা
বিএপিএলসির সভাপতি আনিস, সহসভাপতি নাসিম
বৈঠকের ‘ইতিবাচক বার্তা’য় সূচক আবার ৭ হাজারের ঘরে
আলোচনা ‘ইতিবাচক’, পরের বৈঠকে ‘দৃশ্যমান সিদ্ধান্ত’
পুঁজিবাজার নিয়ে প্রতীক্ষিত বৈঠকে অর্থ মন্ত্রণালয়

শেয়ার করুন