ভেন্ডিং মেশিনে মিলবে স্যানিটারি প্যাড

player
ভেন্ডিং মেশিনে মিলবে স্যানিটারি প্যাড

নিজেদের তৈরি স্যানিটারি প্যাড ভেন্ডিং মেশিন নিয়ে ঝিনাইদহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

মেশিন তৈরির দলপ্রধান হৃদয় হোসেন বলেন, ‘আমাদের দেশের মেয়েরা প্রায়ই দোকান থেকে স্যানেটারি প্যাড কিনতে গিয়ে বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়ে। অনেক সময় বখাটেরা তাদের মানসিক ও শারীরিক নিপীড়ন করেন। এতে দোকান থেকে প্যাড কিনতে অনেকে দ্বিধাবোধ করেন। এ কারণে অনেক মেয়ে স্যানেটারি প্যাড ব্যবহার করে না। এর ফলে মেয়েদের নানা ধরনের সমস্যাসহ ইনফেকশনের মতো সমস্যায়ও ভুগতে হয়।’

স্যানিটারি প্যাড কিনতে গিয়ে দেশে অনেক সময়ই মেয়েরা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন। বখাটেদের নিপীড়নের শিকারও হন অনেকে।

সেই সমস্যা সমাধানে ঝিনাইদহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের এক দল শিক্ষার্থী তৈরি করেছেন স্যানিটারি প্যাডের ভেন্ডিং মেশিন।

সাত সদস্যের দলটির তৈরি মেশিনটি এরই মধ্যে ‘বেসিস ন্যাশনাল আইসিটি’ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে। এ ছাড়া ‘ইন্টারন্যাশনাল এপিআইসিটিএ অ্যাওয়ার্ড’ প্রতিযোগিতায় চীন, হংকং, জাপান, সিঙ্গাপুর, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের ১৫টি দেশের প্রকল্পের মধ্যে ১০ নম্বরে রয়েছে।

ঝিনাইদহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা এর আগে ‘অটোমেটিক হাউস ক্লিনার অ্যান্ড লাইফ সেফটি রোবট’ ও কৃষিভিত্তিক রোবট ‘স্মার্ট এগ্রো রোবট’ তৈরি করে আলোচনায় আসেন।

মেশিন তৈরির দলপ্রধান হৃদয় হোসেন বলেন, ‘আমাদের দেশের মেয়েরা প্রায়ই দোকান থেকে স্যানেটারি প্যাড কিনতে গিয়ে বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়ে। অনেক সময় বখাটেরা তাদের মানসিক ও শারীরিক নিপীড়ন করেন। এতে দোকান থেকে প্যাড কিনতে অনেকে দ্বিধাবোধ করেন।’

তিনি আরও বলেন, “এ কারণে অনেক মেয়ে স্যানেটারি প্যাড ব্যবহার করে না। এর ফলে মেয়েদের নানা ধরনের সমস্যাসহ ইনফেকশনের মতো সমস্যায়ও ভুগতে হয়। এই সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা তৈরি করেছি ‘আইওটি বেসড স্মার্ট ভেন্ডিং মেশিন ফর সেনেটারি প্যাড।

“এই মেশিনের সাহায্যে একজন মেয়ে খুব সহজেই তার প্রয়োজন অনুযায়ী প্যাড সংগ্রহ করতে পারবেন। প্যাড সংগ্রহ করার জন্য গ্রাহককে তার কাছের মেশিনের ভেতর ১০ টাকা দিতে হবে, যার বিনিময়ে তিনি খুব সহজে একটি স্যানিটারি প্যাড পেয়ে যাবেন।”

দলের সদস্য শারমিন আক্তার তন্নি বলেন, ‘মেশিনের মধ্যে প্যাড ফুরিয়ে গেলে মেশিন ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে আমাদের জানিয়ে দিবে। তখন নিয়ন্ত্রনকারী ফের মেশিনে প্যাড দিয়ে আসবে। এতে দোকানি বা ব্যবহারকারী কাউকে বাড়তি সময় দিতে হবে না।’

দলের আরেক সদস্য বক্তিয়ার আহম্মেদ বাপ্পি বলেন, ‘একটি মেয়ে খুব সহজে নিজস্ব মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে মেশিন কোন কোন লোকেশনে আছে তা দেখতে পাবে। মেশিনের গায়ে সাটানো কোড স্ক্যান করে বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে দাম পরিশোধ করেও প্যাড কিনতে পারবে।’

ঝিনাইদহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী সাজেদ-উর-রহমান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ‘আইওটি বেসড স্মার্ট ভেন্ডিং মেশিন ফর সেনেটারি প্যাড’ উদ্ভাবনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সব প্রকার সহযোগিতা করা হয়েছে। তাদের যখন যেটা প্রয়োজন, আমরা সরবরাহ করার চেষ্টা করেছি। আমরা প্রজেক্টটির সফলতা কামনা করি।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মাইক্রোর ধাক্কায় পথচারী নিহত

মাইক্রোর ধাক্কায় পথচারী নিহত

প্রতীকী ছবি

ওসি জানান, গাছবাড়িয়া খানহাট এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় মাইক্রোবাসটি রিয়াজকে ধাক্কা দেয়। গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বিজিসি ট্রাস্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক রিয়াজকে মৃত ঘোষণা করেন।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগামী মাইক্রোবাসের ধাক্কায় এক পথচারী নিহত হয়েছেন।

রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মহাসড়কের চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়িয়া খানহাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. রিয়াজ কক্সবাজারের মীর আহমদের ছেলে।

সোমবার সকালে এ তথ্য জানান দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম।

তিনি জানান, মাইক্রোবাসটি আটক করা হয়েছে। থানায় মামলা হয়েছে। রাত দেড়টার দিকে নিহত রিয়াজের মরদেহ পরিবারে কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে ওসি জানান, গাছবাড়িয়া খানহাট এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় মাইক্রোবাসটি রিয়াজকে ধাক্কা দেয়। গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বিজিসি ট্রাস্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক রিয়াজকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিজিসি ট্রাস্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক মানিক দেবনাথ জানান, প্রচুর রক্তক্ষরণে রিয়াজের মৃত্যু হয়েছে।

শেয়ার করুন

তৈমূরের ভাই সেই খোরশেদ আবার কাউন্সিলর

তৈমূরের ভাই সেই খোরশেদ আবার কাউন্সিলর

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে জয় পাওয়া মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। ছবি: সংগৃহীত

কাউন্সিলর পদে খোরশেদ জয়ী হলেও মেয়র পদে হেরেছেন তার বড় ভাই বিএনপির উপদেষ্টা পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়া তৈমূর আলম খন্দকার। প্রায় ৭৬ হাজার ভোটের ব্যবধানে নারায়ণগঞ্জে মেয়র হয়েছেন আওয়ামী লীগের ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার পরাজিত হলেও কাউন্সিলর পদে বিপুল ব্যবধানে জিতেছেন তার ছোট ভাই মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ।

খোরশেদ কাউন্সিলর নামেই এলাকায় এমনকি দেশেও সমধিক পরিচিতি পান মাকসুদুল আলম।

মূলত করোনাভাইরাস মহামারির সময় নারায়ণগঞ্জে ভাইরাসটিতে মৃত ব্যক্তিদের দাফন-সৎকারে একটি দল গড়ে তোলেন খোরশেদ।

তার নেতৃত্বে দলটি করোনায় মৃতদের দাফন-সৎকার করে দেশজুড়ে সাড়া ফেলে দেন। তার জনপ্রিয়তাও বাড়তে শুরু করে তখন থেকেই।

রোববারের নির্বাচনে নগরীর ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে খোরশেদ আলমের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর থেকে ১২ হাজার ৭৭০ ভোট বেশি পেয়ে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন তিনি। তার ভোটসংখ্যা ১৩ হাজার ৭৯২।

খোরশেদ এর আগেও দুইবার একই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। তিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক।

ঠেলাগাড়ি প্রতীকে খোরশেদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন যুবলীগ নেতা শাহ ফয়েজ উল্লাহর সঙ্গে। ফয়েজ উল্লাহ পেয়েছেন ১ হাজার ২২ ভোট।

কাউন্সিলর পদে খোরশেদ জয়ী হলেও মেয়র পদে হেরেছেন তার বড় ভাই বিএনপির উপদেষ্টা পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়া তৈমূর আলম খন্দকার। প্রায় ৭৬ হাজার ভোটের ব্যবধানে নারায়ণগঞ্জে মেয়র হয়েছেন আওয়ামী লীগের ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।

তৈমূর ২০১১ সালের নির্বাচনে ভোটের আগের রাতে ভোট থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। তবে এবার তিনি নির্বাচন শেষে ছোটোখাটো অভিযোগ দিলেও পরাজয় মেনে নিয়েছেন।

শেয়ার করুন

শাবির ঘটনা তদন্তে কমিটি, ভিসিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

শাবির ঘটনা তদন্তে কমিটি, ভিসিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

উপাচার্য ও প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

বিশ্ববিদ্যালের শিক্ষার্থী ও থিয়েটার কর্মী শাহীন আলম নিউজবাংলাকে, ‘আমরা উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি। তাকে ক্যাম্পাস থেকে চলে যেতে হবে। আমরা রাষ্ট্রপতি বরারব আজ চিঠি দেব। তিনি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। আমরা ক্যাম্পাস ছাড়ব না।’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় ৮ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির প্রধান করা হয়েছে গণিত বিভাগের অধ্যাপক ডা. রাশেদ তালুকদারকে।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘রোববারের ঘটনা খতিয়ে দেখতে এই কমিটি করা হয়েছে। দ্রুত কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য জহির বিন আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রোববারের ঘটনার সূত্রপাত কীভাবে, কারা দোষী এটা আমরা খুঁজে বের করব। বিশ্ববিদ্যালয় শান্ত ছিল, হঠাৎ কেন এমন অশান্ত হলো তা বের করা হবে।’

উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। সেই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ও হল বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

সোমবার সকালে মুক্তমঞ্চের সমাবেশ থেকে উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালের শিক্ষার্থী ও থিয়েটার কর্মী শাহীন আলম নিউজবাংলাকে, ‘আমরা উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি। তাকে ক্যাম্পাস থেকে চলে যেতে হবে। আমরা রাষ্ট্রপতি বরারব আজ চিঠি দেব। তিনি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। আমরা ক্যাম্পাস ছাড়ব না।’

শিক্ষার্থীরা হল ছাড়তে চাচ্ছেন না এই প্রসঙ্গে সিন্ডিকেট সদস্য জহির বিন আলম বলেন, ‘যদি তারা হল না ছাড়ে তবে কর্তৃপক্ষ নিশ্চই সেটা গুরুত্ব দিয়ে দেখবে।’

এর আগে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। নানা স্লোগানে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করছেন তারা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তিন দফা দাবির আন্দোলনে ভিসির নির্দেশেই রোববার সন্ধ্যায় পুলিশ হামলা চালিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। এ কারণেই প্রক্টরিয়াল বডিরও পদত্যাগের দাবি আনা হয়েছে।

শাবির ঘটনা তদন্তে কমিটি, ভিসিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা


বেগম সিরাজুন্নেসা হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিনের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে আন্দোলনে নামেন ওই হলের ছাত্রীরা। রোববার আন্দোলনের চতুর্থ দিনে এসে তা সহিংসতায় রূপ নেয়।

রোববার বিকেলে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে ধাওয়া দিয়ে অবরুদ্ধ করে। এর জেরে সন্ধ্যায় আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ হামলা চালায়। এতে রীতিমতো রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ক্যাম্পাস।

রাতে জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা দেন উপাচার্য। সেই সঙ্গে সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে আবাসিক শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

প্রাধ্যক্ষ জাফরিনের কাছে সম্প্রতি শিক্ষার্থীরা কিছু সমস্যার কথা জানান। অভিযোগ, এ বিষয়ে তিনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণ করেছেন। এর প্রতিবাদে জাফরিনের পদত্যাগসহ শুরু হয় তিন দফা দাবিতে আন্দোলন।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ


রোববার বিকেল ৪টার দিকে সেখানে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নিলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তারা ‘ক্যাম্পাসে পুলিশ কেন’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। কোষাধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম ও অন্য শিক্ষকরা গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করেন।

উত্তেজনা বাড়তে থাকলে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। শিক্ষার্থীরাও ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে। এরপর শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া।


শাবির ঘটনা তদন্তে কমিটি, ভিসিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা


শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে কয়েকটি রাবার বুলেট ছোড়া হয়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক জহির উদ্দিন আহমেদ গুলিবিদ্ধ হন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আলমগীর কবীর জানান, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনায় শিক্ষক, পুলিশ, শিক্ষার্থীসহ অন্তত অর্ধশত আহত হয়েছেন। তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

থমথমে শাবি, হল না ছাড়ার ঘোষণা শিক্ষার্থীদের

থমথমে শাবি, হল না ছাড়ার ঘোষণা শিক্ষার্থীদের

উপাচার্য ও প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ দাবিতে সোমবার সকালে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাদের তিন দফা দাবির আন্দোলনে ভিসির নির্দেশেই রোববার সন্ধ্যায় পুলিশ হামলা চালিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। এ কারণেই প্রক্টরিয়াল বডিরও পদত্যাগের দাবি আনা হয়েছে।

ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পাশাপাশি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রক্টরিয়াল বডিরও পদত্যাগ দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা। সেই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ও হল বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তারা। বলছেন, কোনো অবস্থায়ই হল ছাড়বেন না।

এসব দাবিতে সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বরে অবস্থান নিয়েছেন কয়েক শ শিক্ষার্থী। নানা স্লোগানে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করছেন তারা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাদের তিন দফা দাবির আন্দোলনে ভিসির নির্দেশেই রোববার সন্ধ্যায় পুলিশ হামলা চালিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। এ কারণেই প্রক্টরিয়াল বডিরও পদত্যাগের দাবি আনা হয়েছে।

বেগম সিরাজুন্নেসা হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিনের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে আন্দোলনে নামেন ওই হলের ছাত্রীরা। রোববার আন্দোলনের চতুর্থ দিনে এসে তা সহিংসতায় রূপ নেয়।

থমথমে শাবি, হল না ছাড়ার ঘোষণা শিক্ষার্থীদের
উপাচার্য ও প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

রোববার বিকেলে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে ধাওয়া দিয়ে অবরুদ্ধ করে। এর জেরে সন্ধ্যায় আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ হামলা চালায়। এতে রীতিমতো রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ক্যাম্পাস।

রাতে জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা দেন উপাচার্য। সেই সঙ্গে সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে আবাসিক শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

থমথমে শাবি, হল না ছাড়ার ঘোষণা শিক্ষার্থীদের
অনেক শিক্ষার্থীকে এরই মধ্যে হল ছাড়তে দেখা গেছে। ছবি: নিউজবাংলা

প্রাধ্যক্ষ জাফরিনের কাছে সম্প্রতি শিক্ষার্থীরা কিছু সমস্যার কথা জানান। অভিযোগ, এ বিষয়ে তিনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণ করেছেন। এর প্রতিবাদে জাফরিনের পদত্যাগসহ শুরু হয় তিন দফা দাবিতে আন্দোলন।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ


রোববার বিকেল ৪টার দিকে সেখানে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নিলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তারা ‘ক্যাম্পাসে পুলিশ কেন’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। কোষাধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম ও অন্য শিক্ষকরা গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করেন।

উত্তেজনা বাড়তে থাকলে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। শিক্ষার্থীরাও ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে। এরপর শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া।

থমথমে শাবি, হল না ছাড়ার ঘোষণা শিক্ষার্থীদের
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ। ছবি: নিউজবাংলা

শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে কয়েকটি রাবার বুলেট ছোড়া হয়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক জহির উদ্দিন আহমেদ গুলিবিদ্ধ হন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আলমগীর কবীর জানান, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনায় শিক্ষক, পুলিশ, শিক্ষার্থীসহ অন্তত অর্ধশত আহত হয়েছেন। তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

শীতের তীব্রতা বেড়েছে মেহেরপুরে 

শীতের তীব্রতা বেড়েছে মেহেরপুরে 

সকালে খড়কুটো জ্বালিয়ে তাপ পোহাচ্ছেন ছিন্নমূল মানুষ। ছবি: নিউজবাংলা

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল ৬টায় এ অঞ্চলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে ৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে মেহেরপুর ও এর আশপাশের অঞ্চল। তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় শুরু হয়েছে মৃদ শৈত্যপ্রবাহ।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল ৬টায় এ অঞ্চলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে ৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় মাঝারি আকারে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় বিপাকে পড়েছে সাধারণ মানুষ। সকালে খড়কুটো জ্বালিয়ে তাপ পোহাচ্ছেন ছিন্নমূল মানুষ। সূর্যের দেখা মিলছে সকাল ৯টার পর। সড়কে কমেছে মানুষের চলাচল।

তবে শীতকে উপেক্ষা করে কাজের সন্ধানে ছুটছে নিম্ন আয়ের মানুষ। এ ছাড়া গত এক সপ্তাহ ধরে শীতের প্রকোপ বাড়ায় বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগও। বিশেষ করে শিশুদের ডাইরিয়া ও জ্বর-সর্দি বেড়েছে বলে দেখা গেছে বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে।

দিনমজুর সাইফুল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি ভোরবেলায় বাড়ি থাইকে কাজের জন‍্য বাইরে বের হইছি। সাইকেল চালিয়ে আসার সময় পেডেল মারব সে শক্তি হইছে না। শরীর কালা হইয়ি যাইছে। তারপরও কাজে আসতে হবে।’

মাছ ব‍্যবসায়ী আশরাফুল বলেন, ‘আমরা নছিমন গাড়ি নি সকাল-ভোরে মাছের আড়তে যাই। কিন্তু রাত থাইকি খুব শীত পড়তে শুরু করেছে। গাড়ি চালি আড়তে পৌঁছে আগে আগুন তাপাছি। তারপর মাছ কিনিছি। হাত-পা কালা ধইরি যাইছে।’

শেয়ার করুন

বরেন্দ্র জাদুঘরের ৯৪ ভাগ প্রত্নসম্পদ গুদামে!

বরেন্দ্র জাদুঘরের ৯৪ ভাগ প্রত্নসম্পদ গুদামে!

স্থানসংকুলান না হওয়ায় রাজশাহীর বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের প্রায় ৯৪ ভাগ প্রত্নসম্পদ রাখা হয়েছে গুদামঘরে। ছবি: নিউজবাংলা

দেশের সবচেয়ে পুরোনো এ জাদুঘরে প্রায় ১৯ হাজারের মতো প্রত্ননিদর্শন আছে। অথচ জায়গার অভাবে প্রদর্শন করা হয় ১১০০ থেকে ১২০০ নিদর্শন। মূল্যবান প্রাচীন পুথির পাণ্ডুলিপি নষ্ট হচ্ছে সংরক্ষণের সুযোগের অভাবে।

রাজশাহীর বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের বেশির ভাগ প্রত্ননিদর্শন জায়গার অভাবে প্রদর্শন করা যাচ্ছে না। যেগুলো প্রদর্শিত হচ্ছে না, সেগুলো গুদামে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। সেখানে দিনে দিনে এগুলো নষ্ট হচ্ছে।

প্রস্তর ও ধাতব প্রত্নভাস্কর্য, টেরাকোটা, মুদ্রা ও পাণ্ডুলিপি, ধাতবসামগ্রী এবং শিলালিপি মিলে প্রায় ১৯ হাজারের মতো প্রত্ননিদর্শন রয়েছে এখানে। এর মধ্যে মাত্র ১১০০ থেকে ১২০০ নিদর্শন প্রদর্শিত হয়। স্থানসংকুলান না হওয়ায় প্রায় ৯৪ ভাগ প্রত্নসম্পদ রাখা হয়েছে গুদামঘরে। প্রদর্শিত হচ্ছে মাত্র ৬ ভাগ।

এ জাদুঘরে রয়েছে অনেক প্রাচীন পুথি, যা রাখা হয়েছে একটি ঘরে। সেটি প্রদর্শনের জন্য নয়। যথাযথভাবে সংরক্ষণের অভাবে এগুলো এখন নষ্টের পথে। এগুলোর ডিজিটাল কপি নেই জাদুঘর কর্তৃপক্ষের কাছে। ফলে হাজার বছরের পুরোনো পুথিগুলো চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম।

বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর দেশের প্রাচীনতম সংগ্রহশালা। এটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত। বাংলার প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় ভাস্কর্যের শ্রেষ্ঠ সংরক্ষণাগার এ জাদুঘরের সূচনা ঘটে ১৯১০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ‘বরেন্দ্র অনুসন্ধান সমিতি’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। দুই বাংলার ইতিহাসে এ সমিতিই প্রথম জাদুঘর কার্যক্রম শুরু করে। ১৯১৪ সালে এই সমিতিকে ‘১৮৬০ সালের ভারতীয় সমিতি আইন’ অনুযায়ী নিবন্ধন করা হয়।

বরেন্দ্র জাদুঘরের ৯৪ ভাগ প্রত্নসম্পদ গুদামে!
অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকা নানা পাণ্ডুলিপি। ছবি: নিউজবাংলা

দেশের তিন কৃতি সন্তান দীঘাপতিয়ার রাজবংশজাত দয়ারামপুরের জমিদার প্রত্ন অনুরাগী শরৎকুমার রায়, প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ অক্ষয় কুমার মৈত্রেয় এবং খ্যাতনামা নৃতত্ত্ব ও শিক্ষাবিদ রমাপ্রসাদ চন্দ্রের উদ্যোগে এই অনুসন্ধান সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয়।

বরেন্দ্র অঞ্চল এবং বাংলার ইতিহাস, শিল্প, সাহিত্য, ধর্ম, সমাজ প্রভৃতি বিষয়ে প্রামাণ্য তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণের জন্য শরৎকুমার রায়ের অবদান বিশেষ উল্লেখযোগ্য। পুরাতত্ত্বের প্রতি গভীর অনুরাগের কারণে তিনি এই জাদুঘর ভবনের নির্মাণের খরচ জোগান।

১৯১৬ সালের ১৩ নভেম্বর জাদুঘরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন বাংলার তখনকার গভর্নর লর্ড কারমাইকেল। নির্মাণ শেষে ১৯১৯ সালের ২৭ নভেম্বর এর দ্বার উন্মোচন করেন লর্ড রোনান্ডসে। এরপর জাদুঘর ও সমিতির সার্বিক উন্নয়নের জন্য ১৯৩৭ সালের ৬ নভেম্বর আধাসরকারি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হতে থাকে এটি। ১৯৪৭ সালের পরে জাদুঘরটি রক্ষণাবেক্ষণ ও টিকিয়ে রাখা অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়ে। দুর্দশাগ্রস্ত অবস্থা থেকে উন্নয়ন ঘটাতে ১৯৬৪ সালের ১০ অক্টোবর থেকে এটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছে।

বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর কর্তৃপক্ষের উপপ্রধান সংরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুল কুদ্দুস জানান, প্রায় পনের শ বছরের প্রাচীন প্রস্তর ও ধাতব প্রত্ন নিদর্শন, খ্রিষ্টপূর্ব এবং মুসলিম ও প্রাক-মুসলিম যুগের বিভিন্ন শ্রেণির মুদ্রা, হাজার বছরের প্রাচীন পুথি সাহিত্যের পাণ্ডুলিপি নিয়ে সমৃদ্ধ প্রত্নতাত্ত্বিক এই জাদুঘর। এখানে ধাতব প্রত্নভাস্কর্য, টেরাকোটা, মুদ্রা ও পাণ্ডুলিপি, ধাতবসামগ্রী এবং শিলালিপি মিলে প্রায় ১৯ হাজারের মতো প্রত্ননিদর্শন রয়েছে।

টেরাকোটা পাঁচ হাজার বছরের পুরোনো। স্বর্ণ, রৌপ্য, তাম্য ও মিশ্র ধাতুতে নির্মিত মুদ্রা আছে সাড়ে ছয় হাজারের মতো। খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০ থেকে ৪০০ বছর আগের রৌপ্যমুদ্রাও আছে এখানে। মিউজিয়ামে আছে প্রাচীন পুথি সাহিত্যের পাণ্ডুলিপি, যার অধিকাংশ সংস্কৃত ও আদি বাংলা ভাষায় রচিত। এর মধ্যে সংস্কৃত পুথি আছে ৩ হাজার ৯০০ আর বাংলা পুথি ১৭০০। সবচেয়ে বেশি আলোচিত তালপাতায় লেখা ও রঙিন চিত্রকর্ম শোভিত ত্রয়োদশ শতকের দুটি অষ্ট সাহস্রিকা প্রজ্ঞা পারমিতা পাণ্ডুলিপি, যা বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।

বরেন্দ্র জাদুঘরের ৯৪ ভাগ প্রত্নসম্পদ গুদামে!

স্থানসংকুলান না হওয়ায় ১৯ হাজার নিদর্শনের মধ্যে প্রদর্শনের জন্য জাদুঘরের ১১টি গ্যালারিতে প্রায় ১২০০ প্রত্ননিদর্শন রাখা হয়েছে। বাকিগুলো জাদুঘরের পাঁচটি গুদামঘরে। ফলে প্রাচীন এই নিদর্শনগুলো দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন দর্শনার্থীরা। আবার বদ্ধ ঘরে রাখার ফলে নিদর্শনের রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণ করা নিয়েও দেখা দিয়েছে সংশয়। মূল্যবান এই মিউজিয়াম রক্ষায় রয়েছে নিরাপত্তারও ঘাটতি। লাঠি হাতে কোটি টাকার সম্পদ পাহারা দেন এখানকার আনসার সদস্যরা। নেই কোনো সিসিক্যামেরা।

জাদুঘর ঘুরে দেখা যায়, ভেতরের বারান্দায় অনেক প্রত্নভাস্কর্য ফেলে রাখা হয়েছে, যার মধ্যে বেশ কয়েকটি মূর্তি ভাঙা। পুথি রাখার কক্ষ ঘুরে দেখা যায়, প্রায় ২৮টি সেলফে এসব নিদর্শন সাজিয়ে রাখা হয়েছে। এগুলোর অবস্থা ভালো নয়। বেশির ভাগই নষ্ট হয়ে যাওয়ার দ্বারপ্রান্তে। কোনো কোনোটি এরই মধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে। ২৮ নং সেলফের একটি তালপাতার পুথি খুলে দেখা যায় সেটিতে ঘুণ ধরে গেছে। প্রতিটি পাতার প্রান্তে ফুটো।

এদিকে এসব প্রত্ননিদর্শন সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন ইতিহাসবিদরা। তাদের দাবি এগুলো অন্তত একটি করে ডিজিটাল কপি সংরক্ষণ দরকার।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, ‘জাদুঘরে আমাদের অনেক নিদর্শন আছে। এগুলো কোনো কোনোটি বিশ্বজুড়ে বিরল পুথি। তালপাতার ও অন্যান্য কাগজের উপকরণ হওয়ায় এগুলো এখন নষ্টের পথে। তবে এগুলোকে আমাদের নতুন প্রজন্মকে দেখাতে হবে। এগুলো প্রদর্শনের জন্য দিতে হবে। পাশাপাশি এগুলোকে এখনই সংরক্ষণের জন্য ডিজিটাল কপি প্রয়োজন।’

বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের পরিচালক অধ্যাপক আলী রেজা মুহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, ‘সব প্রত্ননিদর্শন স্টোর রুম থেকে বের করে ডিসপ্লের জন্য একটা মাস্টারপ্ল্যান দেয়া হয়েছে। এ জন্য মূল ভবনের বাইরে ফাঁকা জায়গায় বহুতল ভবন নির্মাণ বা মূল ভবনের পেছনে পরিচালকের বাসভবনের ওপরে বহুতল ভবন নির্মাণ করার জন্য মাপামাপি করা হয়েছে। দ্রুতই এটি বাস্তবায়ন হবে। তখন সবগুলোই আমরা উপস্থাপন করতে পারব।’

বরেন্দ্র জাদুঘরের ৯৪ ভাগ প্রত্নসম্পদ গুদামে!

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি জিনিসেরই একটি মেয়াদকাল আছে। আমাদের এখানের পুথিগুলো নষ্ট হচ্ছে। এ জন্য আমরা একটি ডিজিটাল স্ক্যানার চেয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এটি দিলে এগুলোকে আমরা সংরক্ষণ করব।’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেন, ‘আমরা জানি দীর্ঘদিন ধরে এটি উপেক্ষিত অবস্থায় আছে। আমরা এটিকে নিয়ে পরিকল্পনা করছি। সম্প্রতি জাদুঘরের উন্নয়ন নিয়ে সভাও করেছি। এখানকার প্রত্ননিদর্শনগুলো সংরক্ষণ থেকে শুরু করে প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করার কাজ শুরু হবে। সেই সঙ্গে জাদুঘরের আধুনিকায়নেরও কাজ হবে।’

শেয়ার করুন

ইউপি নির্বাচন: প্রার্থিতা উন্মুক্ত থাকায় কমেছে উত্তাপ-সংঘাত

ইউপি নির্বাচন: প্রার্থিতা উন্মুক্ত থাকায় কমেছে উত্তাপ-সংঘাত

নির্বাচন ঘিরে কালকিনি উপজেলার সাহেবরামপুর ইউনিয়নে মাঠে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে নামে। ছবি: নিউজবাংলা

মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও গোপালগঞ্জে প্রথম থেকে পঞ্চম দফা পর্যন্ত ইউপি নির্বাচনে সংঘাত-সংঘর্ষের চিত্র ছিল দেশের অন্যান্য জেলার মতোই। তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন দেয়নি এমন ইউপিগুলোতে ছিল তুলনামূলক শান্ত পরিবেশ।

চলমান ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ কয়েকটি জেলায় প্রার্থিতা উন্মুক্ত রাখায় সংঘাত-সংঘর্ষ কম হয়েছে।

আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি এমন অনেক জেলায়ও নৌকার প্রার্থীর ভরাডুবি হয়েছে। তৃণমূলে দলের নামে সংঘাতে কয়েকটি ইউনিয়নে প্রাণহানিও ঘটেছে। হামলা-মামলার মুখে এলাকা ছেড়েছেন অনেকে।

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তিন জেলা মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও গোপালগঞ্জে প্রথম থেকে পঞ্চম দফা পর্যন্ত ইউপি নির্বাচনের সার্বিক বিশ্লেষণে এমন চিত্র উঠে এসেছে। তৃণমূলে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন চান না অধিকাংশ দলীয় নেতা-কর্মীই। তবে ত্যাগী নেতাদের মনোনয়ন দিলে দল শক্তিশালী হবে- এমন দাবিও রয়েছে।

মাদারীপুরের তিনটি আসনেই দুই যুগের বেশি সময় ধরে একক আধিপত্য আওয়ামী লীগের। তারপরও এবার স্থানীয় নির্বাচনে সদর, রাজৈর ও শিবচর উপজেলার ইউনিয়নগুলোতে দলীয় মনোনয়ন দেয়নি আওয়ামী লীগ। এর বাইরে কালকিনি ও ডাসার উপজেলার ১২ ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে ৯টি ইউনিয়নেই স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। মাত্র তিনটি ইউনিয়নে জয় পেয়েছে নৌকা।

মাদারীপুর জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য মতে, প্রথম দফা ইউপি নির্বাচনে শিবচর উপজেলায় ১৪টি ইউনিয়নে কাউকে দলীয়ভাবে মনোনয়ন দেয়নি আওয়ামী লীগ। সেখানে কোনো ধরনের সংঘাত ছাড়াই ব্যাপক ভোটারের উপস্থিতিতে নির্বাচন হয়। উন্মুক্ত প্রার্থিতা থাকায় আওয়ামী লীগ ঘরানার রাজনীতিতে বিশ্বাসীরাই মূলত এসব ইউনিয়নে জয়ী হন। আর নৌকা প্রতীক না থাকায় প্রার্থীদের মধ্যে তেমন সংঘাত-সংঘর্ষও ঘটেনি।

দ্বিতীয় ধাপে কালকিনি ও ডাসার উপজেলায় নৌকার প্রার্থীদের ভরাডুবি হয়। ‘মনোনয়ন বাণিজ্যে’ অযোগ্য লোককে নৌকার মাঝি করায় সংঘাতের সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে কালকিনির চর দৌলতখান (সিডিখান) ইউনিয়নে নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. চান মিয়া সিকদারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। ভুরঘাটা-মোল্লারহাট সড়কের বটতলা মোড়ে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টির ঘটনাও ঘটে।

ইউপি নির্বাচন: প্রার্থিতা উন্মুক্ত থাকায় কমেছে উত্তাপ-সংঘাত
ভোটের প্রচারকালে দফায় দফায় সংঘর্ষে মোটরবাইক ভাঙচুর করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা

ভোটের প্রচারকালে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয় শিকারমঙ্গল, সিডিখান, আলীনগর, ডাসার, কয়ারিয়াসহ প্রায় সব কটি ইউনিয়নে। গত ২৮ অক্টোবর আলীনগর ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাফিজুর রহমান মিলন সর্দারের বাড়িঘরে ব্যাপক হামলা চালিয়ে ১০টি মোটরবাইক, একটি প্রাইভেট কারসহ কোটি টাকার ক্ষতি করার অভিযোগ ওঠে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাহিদ পারভেজের বিরুদ্ধে।

তবে সাহিদ পারভেজের দাবি, স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকজনই বরং নৌকা প্রতীক ভেঙেছেন। এর আগে শিকারমঙ্গল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রার্থী সিরাজুল হক মৃধার লোকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী সিরাজুল আলম মালের বাড়িতে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুরসহ অন্তত ২০ জনকে আহত করেন।

ডাসার উপজেলায় গত ২ নভেম্বর ইউপি নির্বাচনে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী সবুজ কাজী ও তার সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে নৌকার প্রার্থী রেজাউল করিম ভাসাই শিকদার ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর চার সমর্থকসহ এক নারী সাংবাদিক আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বিপুল দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে।

৬ নভেম্বর কালকিনির কয়ারিয়া ইউপি নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী জাকির হোসেন জমাদার ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী কামরুল হাসান নুর মোহাম্মদ সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় ককটেল বিস্ফোরণসহ ৫০ মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হন। পুলিশ ১২ জনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করেছে।

এ ছাড়া ১০ নভেম্বর দ্বিতীয় দফা ইউপি নির্বাচনে সিডিখানে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী চান মিয়া শিকদার ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মিলন মিয়ার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে আহত হন আটজন। তাদের মধ্যে আলমগীর হোসেন প্যাদা নামে একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

ইউপি নির্বাচন: প্রার্থিতা উন্মুক্ত থাকায় কমেছে উত্তাপ-সংঘাত
নির্বাচন ঘিরে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় মামলা ও আটকের সংখ্যাও কম না। ছবি: নিউজবাংলা

এ ছাড়া একই উপজেলার কয়ারিয়া, শিকারমঙ্গল, লক্ষ্মীপুর, ডাসার উপজেলার গোপালপুর, বালীগ্রাম, ডাসারসহ বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ, হামলা-পাল্টাহামলায় পাঁচ শতাধিক মানুষ আহত হন। এসব ঘটনায় কালকিনি ও ডাসার থানায় ২০টির বেশি মামলা হয়।

তবে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম ধাপে সদর, রাজৈর, শিবচর উপজেলার ২৬টি ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থিতা উন্মুক্ত থাকায় তেমন সংঘাত হয়নি। ভোটার উপস্থিতিও ছিল তুলনামূলক বেশি।

এ ব্যাপারে কালকিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপিকা তাহমিনা সিদ্দিকা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের পরাজয় হয়নি। পরাজয় হয়েছে মনোনয়ন বাণিজ্যের। যারা মনোনয়ন পেয়েছেন তারা এক প্রভাবশালী ব্যক্তিকে টাকা দিয়ে নৌকা কিনে এনেছেন। এ কারণে জনগণ মনোনয়ন বাণিজ্যের বিরুদ্ধে তাদের রায় দিয়েছেন। আর মনোনয়ন উন্মুক্ত থাকা ইউপিগুলোতে স্বতন্ত্র হিসেবে বিজয়ীরাও সবাই আওয়ামী লীগ করেন। এসব ইউপিতে হামলা-মামলার ঘটনাও কম ঘটেছে।’

মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ঘাঁটিতে নৌকার প্রার্থী বিজয়ী না হওয়ার পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে। দলের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করা হলে নৌকার পরাজয় হতো না। যেখানে অযোগ্য প্রার্থীকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে, সেখানে সংঘর্ষের ঘটনাও বেশি ঘটেছে। আমি মনে করি দলীয় মনোনয়নের বিষয়ে আরো সতর্ক হতে হবে।’

আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাজাহান খান বলেন, ‘মাদারীপুরসহ আশপাশের জেলাগুলো আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি। এখানে অধিকাংশ মানুষই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করে মাদারীপুরের কয়েকটি উপজেলায় নৌকা প্রতীক না দেয়ার অনুরোধ করেছিলাম। তাই এসব স্থানে নৌকা না দেয়ায় বিনা রক্তপাতে নির্বাচন হয়েছে। আগামীতে এ ধারা অব্যাহত রাখতে অনুরোধ করব।’

ইউপি নির্বাচন: প্রার্থিতা উন্মুক্ত থাকায় কমেছে উত্তাপ-সংঘাত
নির্বাচনে গোলাগুলি ও মারামারির ঘটনা ঘটনায় আতঙ্ক বিরাজ করছে এলাকাজুড়ে। ছবি: নিউজবাংলা

মাদারীপুরের পাশের জেলা শরীয়তপুরেও ৬৫টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪২টিতে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীকবিহীন নির্বাচন হয়েছে। আর আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নে নির্বাচন হয়েছে শরীয়তপুর সদরের ৯ ইউপিতে। এ নয়টি ইউনিয়নে দ্বিতীয় ধাপে নৌকার মনোনয়ন নিয়ে কয়েকজন নির্বাচিত হন। তবে দলীয় প্রার্থীর সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের হামলা-মামলার ঘটনা বেশি ঘটে। এর মধ্যে চিতলিয়া ইউনিয়নে সংঘর্ষের ঘটনায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন স্থগিত রাখা হয়। দলীয় প্রার্থীর কর্মীদের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের সংঘর্ষে রক্তাক্ত জনপদে পরিণত হয় এসব ইউনিয়ন। পরে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম ধাপে আ‌ওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নবিহীন নির্বাচন হয়।

শরীয়তপুর নির্বাচন অফিসের তথ্য মতে, তৃতীয় ধাপে গোসাইরহাট উপজেলার ৭, চতুর্থ ধাপে ডামুড্যা উপজেলার ৭ ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার ১২ এবং পঞ্চম ধাপে নড়িয়ার ১৫ ও জাজিরার একটি ইউপিতে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ছাড়া নির্বাচন শেষ হয়। এসব নির্বাচনে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ও সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্যদের মধ্যে গোলাগুলি ও মারামারির ঘটনা ঘটলেও দলীয় প্রভাব বিস্তারের ঘটনা ঘটেনি।

আওয়ামী লীগের বাতিঘর খ্যাত গোপালগঞ্জ জেলায় ৬৯টি ইউনিয়নের মধ্যে সদর উপজেলার ১৫টিতে উন্মুক্তভাবে নির্বাচন হয়েছে। অন্যগুলোর মধ্যে কোটালীপাড়ায় ৩টি ইউপিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। একটি ইউনিয়নে নির্বাচন হয়নি। বাকি ৫০টিতে দলীয় প্রার্থীদের প্রভাব বিস্তারের মধ্য দিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে এসব এলাকা আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হওয়ায় সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনা কম ঘটেছে।

তবে নির্বাচন-সংশ্লিষ্টদের দাবি, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেয়া হয়নি এমন ইউনিয়নগুলোর চেয়ে নৌকা প্রতীকে ভোট হওয়া ইউপিগুলোতে নির্বাচনি উত্তাপ বেশি ছিল।

শেয়ার করুন