শুনানিতে আটকে আছে রোকেয়া পরিবারের জমি উদ্ধার

player
শুনানিতে আটকে আছে রোকেয়া পরিবারের জমি উদ্ধার

বেগম রোকেয়ার বিশাল সম্পত্তির কিছুই এখন তার পরিবারের ভোগ দখলে নেই। ছবি: নিউজবাংলা

বেগম রোকেয়ার পৈতৃক সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন স্থানীয় অনেকে। অনেক জমির মালিকের নামও পরিবর্তন করা হয়েছে। রোকেয়া পরিবারের জমি উদ্ধারের চেষ্টা করলেও সফলতা আসেনি। ২০১২ সালে হাইকোর্টে রিট করা হলেও তার চূড়ান্ত শুনানি হয়নি ৯ বছর পরও।

বাঙালি মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া তার প্রবন্ধ নার্স নেলী-তে লিখেছেন, ‌‌'আমাদের অবস্থা সচ্ছল ছিল- আমার পরম সুখে খাইয়া পরিয়া গা-ভরা গহনায় সাজিয়া থাকিতাম। আমাদের এ নিবিড় অরণ্যবেষ্টিত বাড়ির তুলনা কোথায়? সাড়ে তিন শ বিঘা লা-খেরাজ জমির মাঝখানে কেবল আমাদের এই সুবৃহৎ বাড়ি। বাড়ির চতুর্দ্দিকে ঘোর বন, তাহাতে বাঘ, শূকর, শৃগাল- সবই আছে।'

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন তার লেখায় এভাবেই নিজের পরিবারের সাড়ে তিন শ বিঘা সম্পত্তির বর্ণনা দিয়েছিলেন। তবে বিশাল সেই সম্পত্তির এখন কিছুই রোকেয়া পরিবারের ভোগদখলে নেই।

দীর্ঘদিন ধরে তা স্থানীয় অনেকে ভোগ করে আসছেন। অনেক জমির মালিকের নামও পরিবর্তন করা হয়েছে। রোকেয়া পরিবারের জমি উদ্ধারের চেষ্টাও সফল হয়নি। ২০১২ সালে হাইকোর্টে রিট করা হলেও তার চূড়ান্ত শুনানি হয়নি ৯ বছর পরও।

এমন অবস্থায় বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে উদযাপন করা হবে রোকেয়া দিবস। দিনটি উপলক্ষে বেগম রোকেয়ার পৈতৃক সম্পত্তি উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন তার পরিবার, স্বজন ও অনুরাগীরা।

১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দের খোর্দ্দ মুরাদপুর গ্রামে জন্ম বেগম রোকেয়ার। তার বাবার নাম জহির উদ্দিন মোহাম্মদ আবু আলী হায়দার সাবের ও মা রাহাতুন্নেসা সাবেরা চৌধুরানী। বাঙালি মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত এবং প্রথম বাঙালি এ নারীবাদীর মৃত্যু হয় ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর কলকাতায়।

১৯৭৪ সাল থেকে পায়রাবন্দবাসী বেগম রোকেয়ার স্মরণে রোকেয়া দিবস পালন করে আসছেন। সরকারিভাবে ১৯৯৪ সাল থেকে জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় বেশ ঘটা করেই দিবসটি পালন করা হয়। সারা দেশে দিনটি উদযাপন করা হয় রোকেয়া দিবস হিসেবে।

শুনানিতে আটকে আছে রোকেয়া পরিবারের জমি উদ্ধার
আগামী বৃহস্পতিবার রোকেয়া দিবসে তার পৈতৃক সম্পত্তি উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন তার পরিবার, স্বজন ও অনুরাগীরা।

জানা যায়, বেগম রোকেয়ার বাবা জহির উদ্দিন আবু আলী হায়দার সাবের পায়রাবন্দের শেষ জমিদার ছিলেন। ১৯১৩ সালে তার মৃত্যু হয়। জনশ্রুতি অনুযায়ী, তার মৃত্যুর আগেই জমিদারি শেষ হয়েছিল।

জমিদার জহির উদ্দিনের মৃত্যুর পর তার জমিও ধীরে ধীরে দখলদার ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলে চলে যায়। এমনকি পারিবারিক কবরস্থানটিও এখন প্রভাবশালীদের দখলে। এ নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে রোকেয়া পরিবার, স্বজন ও অনুরাগীদের।

রোকেয়া পরিবারের জমি উদ্ধারে উদ্যোগ নেয়া হয় ২০১২ সালে। ওই বছরের ২২ মার্চ ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ’ নামের একটি সংগঠনের হয়ে হাইকোর্টে একটি রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট ১৩ জনকে বিবাদী করা হয়।

৮ এপ্রিল ওই রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্টের বিচারপতি মির্জা হুসাইন হায়দার ও বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশিদ আলম সরকারের বেঞ্চ রোকেয়া পরিবারের জমি কোথায় কী অবস্থায় আছে তা জানাতে ৪ সপ্তাহের রুল জারি করে।

রুলের পর একই বছরের ২ মে পায়রাবন্দ ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম প্রধান মিঠাপুকুর উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে বেগম রোকেয়ার পৈতৃক সম্পত্তির বিবরণ দিয়ে প্রতিবেদন দেন।

সেই প্রতিবেদনে বেগম রোকেয়ার ওয়ারিশদের নামে সিএস রেকর্ড অনুযায়ী ২৪৮ সি.এস. খতিয়ানে ৯ দশমিক ৯৫ একর এবং ৭২ খতিয়ানে ৬ দশমিক ৬৫ একর জমিসহ মোট ১৬ দশমিক ৬০ একর জমির হিসাব দেয়া হয়। বাকি জমির কোনো হদিস দিতে পারেননি তিনি।

ভূমি কর্মকর্তা আমিনুল ১২ মে আরও একটি প্রতিবেদন জমা দেন। সেখানে ৬ দশমিক ৭৯ একর জমিতে বেগম রোকেয়ার নামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, স্মৃতিকেন্দ্র, স্মৃতিস্তম্ভ, ডাকবাংলোসহ ৯টি প্রতিষ্ঠানের কথা জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বেগম রোকেয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫৪ শতক, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ১ একর, এক বিঘা জমিতে ডাকবাংলা, ৩০ শতকে স্মৃতিফলক, ৩ দশমিক ১৫ একরে স্মৃতিকেন্দ্র, বেগম রোকেয়া মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ৬০ শতক, ৪২ শতক জমির ওপর বেগম রোকেয়া মেমোরিয়াল ডিগ্রি মহাবিদ্যালয়, নারী কল্যাণ সংস্থার নামে ৩৩ শতক, স্মৃতিস্তম্ভ ৪২ শতক, ৫৮ শতক জমিতে কুটিরশিল্প প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের হিসাব দেয়া হয়।

বেগম রোকেয়া স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম দুলাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রোকেয়ার বাবা মারা যাবার পর রোকেয়ার পরিবার ও স্বজনরা এই জায়গাজমির প্রতি তাকায়নি। এই অবস্থায় সিএস (৪০ সালের রেকর্ড) এর সময় কিছু ভূমিদস্যু রোকেয়ার জমিগুলো নিজ নামে রেকর্ড করে নেয়। আজ পর্যন্ত তারা ভোগদখল করে খাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তখন (৪০ সালের রেকর্ড) রোকেয়ার চার ভাই-বোন বেঁচে ছিলেন। আইন অনুযায়ী, তাদের নামে জমিগুলো রেকর্ড হবার কথা ছিল। কিন্তু হয়নি। এ ক্ষেত্রে তৎকালীন অসাধু কিছু ভূমি কর্মকর্তা জড়িত বলে আমরা মনে করি। এসব জমি উদ্ধারে একটি মামলা হয়েছে, কিন্তু অগ্রগতি নেই। কারণ সরকার পক্ষ চূড়ান্ত শুনানিতে এগিয়ে আসছে না।’

বেগম রোকেয়ার ভাইয়ের মেয়ে রণজিনা সাবের বলেন, ‘রোকেয়া পরিবারের ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রায় সাড়ে তিন শ বিঘা জমি অন্যরা ভোগদখল করে খাচ্ছে। বাজার, হাট, পুকুর, আবাদি জমি সবই রোকেয়ার।

‘এসব জমি উদ্ধারে কারও কোনো মাথাব্যথা নেই। এই জমিগুলো উদ্ধার করে সরকার সংরক্ষণ করতে পারে। আমরা মনে করি, সরকার চাইলে দ্রুত জমিগুলো উদ্ধার হবে।’

শুনানিতে আটকে আছে রোকেয়া পরিবারের জমি উদ্ধার
রোকেয়া পরিবারের ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রায় সাড়ে তিন শ বিঘা জমি অন্যরা ভোগ দখল করে খাচ্ছে।

কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর চৌধুরী নামে স্থানীয় একজন বেগম রোকেয়ার কিছু জমিতে চাষ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তিনি অবশ্য বলেন, ‘জমিগুলো আমাদের দাদির নামে রেজিস্ট্রি। ৪০ ও ৬২ সালে তারই নামে রেকর্ড আছে। তাহলে জমি রোকেয়ার হইল কেমনে। এখনও মামলার কাগজ পাই নাই, পাইলে আমরাও আদালতে লড়ব।’

আতাউর রহমান লেলিন নামে আরেকজন বলেন, ‘মামলা হয়েছে কি না জানি না। এগুলো আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি।’

রংপুর জেলা প্রশাসক আসিব আহসান জানান, ‘বেগম রোকেয়ার যেসব সম্পত্তি রয়েছে তার মামলার কাগজ, ভুলভাবে রেকর্ড হওয়াসহ যে কথাগুলো আসছে সে বিষয়ে আমরা কাজ করছি। রোকেয়া দিবসে আমরা সে বিষয়টি সবাইকে জানাব। একই সঙ্গে আগামী রোকেয়া দিবসের আগে এসব বিষয়ে অগ্রগতি করতে পারব।’

সম্পত্তি উদ্ধারে রিট করা আইনজীবী মঞ্জিল মোরশেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বেগম রোকেয়ার যে সম্পত্তি আছে, সেগুলো সংরক্ষণের জন্য আমরা একটা রিট করেছিলাম। কোর্টের একটা আদেশ ছিল, সে বিষয়ে তারা সময় চেয়ে আবেদন করেছিল। চূড়ান্ত শুনানি এখনও হয়নি। পেন্ডিং অবস্থায় আছে। গভর্নমেন্ট এ বিষয়ে কোনো জবাব দেয়নি।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

লোকালয়ের ‘নাগরিক’ বুনো হাতির শাবক

লোকালয়ের ‘নাগরিক’ বুনো হাতির শাবক

মায়ের সঙ্গে ছয় দিন আগে জন্ম নেয়া হাতি। ছবি: নিউজবাংলা

চট্টগ্রাম দক্ষিণ অঞ্চলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বুনো হাতি সাধারণত জঙ্গলেই সন্তান প্রসব করে। লোকালয়ে শাবক জন্ম দেয়া বিরল ঘটনা। শাবক ও মা হাতি দুটোই সুস্থ আছে। বনকর্মীরা তাদের ওপর নজর রাখছে।’

শীতের ভোরে হালকা কুয়াশার মাঝে ছোট্ট শাবককে নিয়ে ঘুরছে মা হাতি। ক’দিন আগেই জন্ম নিয়েছে এই শাবক।

তবে জঙ্গলে নয়, এই শাবকের জন্ম হয়েছে লোকালয়ে। বন কর্মকর্তা বলছেন, লোকালয়ে হাতির বাচ্চা প্রসব বেশ বিরল ঘটনা।

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার দেয়াং পাহাড়ে রাডার অফিসের সামনে এলাকায় গত বৃহস্পতিবার হাতিটির জন্ম। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে শনিবার।

স্থানীয় বাসিন্দা এইচ এম জাহিদ জানান, মঙ্গলবার ভোরে মা হাতি তার শাবক নিয়ে রাডার অফিস ও গুচ্ছগ্রাম এলাকায় ঘুরছিল। দুজনের চলাফেরাই বেশ শান্ত ছিল। তাদের সঙ্গে আরও কয়েকটি হাতি ছিল।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ অঞ্চলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বনকর্মীরা হাতিকে বাচ্চা প্রসব করতে দেখেন। তবে স্থানীয়রা বিরক্ত করতে পারে ভেবে প্রকাশ করা হয়নি।

‘বুনো হাতি সাধারণত জঙ্গলেই সন্তান প্রসব করে। লোকালয়ে শাবক জন্ম দেয়া বিরল ঘটনা। শাবক ও মা হাতি দুটোই সুস্থ আছে। বনকর্মীরা তাদের ওপর নজর রাখছে।’

তিনি জানান, সম্প্রতি বন্যহাতির দল চট্টগ্রামের আনোয়ারা, সাতকানিয়া ও বাঁশখালীর সংরক্ষিত বন ছেড়ে লোকালয়ে আশ্রয় নিয়েছে। বিশেষ করে বিলের ফসল সংলগ্ন এলাকায় তারা ঘোরাফেরা করছে। স্থানীয়দের বাধায় এরা অনেক সময় জনবসতিতেও হামলা করছে। পাল্টা আক্রমণে মারাও পড়ছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রমেন্টার সায়েন্সের সহযোগী অধ্যাপক ও হাতি বিশেষজ্ঞ ড. এ এইচ এম রায়হান সরকার বলেন, ‘লোকালয়ে হাতির বাচ্চা প্রসব বেশ বিরল ঘটনা। সম্ভবত জঙ্গলে যাওয়ার আগেই বাচ্চা প্রসব হয়ে গেছে।’

বনবিভাগের চট্টগ্রাম দক্ষিণ রেঞ্জ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, পাহাড় ও জঙ্গল কেটে বসতি নষ্ট করায় হাতিরা লোকালয়ে চলে আসছে। হাতির খাবার যোগান দিতে একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। হাতি নিয়ন্ত্রণেও বনবিভাগ কাজ করছে।

শেয়ার করুন

‘নৌকার বিরুদ্ধে কাজ করলে এলাকায় থাইকেন না’

‘নৌকার বিরুদ্ধে কাজ করলে এলাকায় থাইকেন না’

ইউনিয়নের রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রলয় কুমার সাহা বলেন, ‘আমি প্রশিক্ষণে আছি। অভিযোগ দিয়ে থাকলে সেটা অফিসে থাকতে পারে। তবে আমি এই বিষয়ে অবগত নই।’

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার একটি ইউনিয়নে ‘বিদ্রোহী প্রার্থীর’ কর্মী-সমর্থকদের এলাকায় না থাকার হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে।

তবে নৌকার প্রার্থী বলছেন, তিনি এ ধরনের কোনো কথাই বলেননি।

নারান্দী ইউনিয়নের শালংকা গ্রামে ২১ জানুয়ারি উঠান বৈঠক করেন ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম। এ সময় তার দেয়া বক্তব্য পর দিন ‘সত্যের সন্ধান’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে পোস্ট হয়।

ভিডিওতে প্রার্থীকে বলতে শোনা যায়, ‘মুখে জয় বাংলা বলবেন, আর কাজ করবেন নৌকার বিরুদ্ধে, আমি লালু, ভুলু ও শাকিলকে বলে দিতে চাই- আগামীকালের পর এলাকায় থাইকেন না।’

যাদেরকে এলাকায় না থাকার হুমকি দেয়া হয়েছে তাদের একজন শাকিল রেজা। তিনি নারান্দী ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শফিক গত নির্বাচনে যখন চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছিলেন তখন আমি, লালু আর কালু দিনরাত পরিশ্রম করে তাকে চেয়ারম্যান বানিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে অসহায়দের কাছ থেকে ঘর দেবেন বলে টাকা পয়সা নিয়েছেন।

‘আমরা সেগুলোর প্রতিবাদ করেছি। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ আছে। তাই এবারের নির্বাচনে আমরা তার সঙ্গে নাই। আর এজন্যই তিনি গ্রামে এসে আমাদেরকেই হুমকি দিচ্ছেন।’

স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. মুছলেহ উদ্দিন উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তিনি দল থেকে মনোনয়ন না পেয়ে আনারস প্রতীকে নির্বাচন করছেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘পুরো ইউনিয়নে ঘুরে নৌকার প্রার্থী বুঝতে পেরেছেন তার কোনো জনসমর্থন নাই। নির্বাচনে নিশ্চিত ভরাডুবি জেনে রাজনৈতিক প্রভাব এবং পেশিশক্তি ব্যবহারের এমন হীন তৎপরতায় জড়িয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘শফিক প্রতিনিয়ত আমার কর্মী সমর্থকদেরকে বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। আমার প্রচারে বাধা দিচ্ছেন। এ বিষয়ে আমি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি।’

আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শফিকুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই ধরনের বক্তব্য আমি দেইনি। আপনি খোঁজ নিয়ে দেখেন তারা এখনো নিজেদের এলাকায় অবস্থান করছেন। আমি বলেছি আপনারা আওয়ামী লীগ করবেন আবার দলের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে নির্বাচন করবেন এমনটা ঠিক না।’

পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাখাওয়াৎ হোসেন নিউজবাংলাকে জানান, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কোনো প্রার্থীর পক্ষ থেকে অভিযোগ পেয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘অভিযোগ দিয়ে থাকলে সেটা আমার কাছে নয় দেবেন ওই ইউনিয়নের রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে।’

ইউনিয়নের রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রলয় কুমার সাহা বলেন, ‘আমি প্রশিক্ষণে আছি। অভিযোগ দিয়ে থাকলে সেটা অফিসে থাকতে পারে। তবে আমি এই বিষয়ে অবগত নই।’

আগামী ৩১ জানুয়ারি ষষ্ঠ ধাপে জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদে প্রথমবারের মতো ভোট হবে ইভিএমে।

শেয়ার করুন

টেন্ডার বিক্রির আগেই কাজ শুরু

টেন্ডার বিক্রির আগেই কাজ শুরু

স্কুলের মাঠে চলছে নির্মাণ কাজ। ছবি: নিউজবাংলা

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বেতাগী উপজেলা প্রকৌশলী মো. রাইসুল ইসলাম বলেন, ‘ওইখানে এখন কে কাজ করে সেটা আমার দেখার বিষয় না। ব্যক্তিগতভাবে কেউ এই কাজ করতে পারে। টেন্ডার সম্পন্ন হবার পর আমি ঠিকাদারকে কাজ বুঝিয়ে দিব।’

বরগুনার বেতাগীতে টেন্ডারের শিডিউল বিক্রির আগেই কাজ শুরু করেছেন ঠিকাদার।

অভিযোগ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কর্মকর্তাদের যোগসাজশে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার ওই কাজটি পছন্দের ঠিকাদারের মাঝে বণ্টন করা হয়েছে।

ইতিমধ্যে ওই ঠিকাদার কাজও শুরু করেছেন। গত ১৫ দিন ধরে চলছে এ সব কাজ।

দরপত্রে অংশগ্রহণ ছাড়া এভাবে হঠাৎ করে কাজ শুরু করায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় ঠিকাদাররা।

বিষয়টি স্বীকার করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, টেন্ডার সম্পন্ন হবার পর ঠিকাদারকে কাজ বুঝিয়ে দেয়া হবে।

এলজিইডি বেগাতী উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৯ জানুয়ারি বিবিচিনি ইউনিয়নের বেগম লুৎফুন্নেছা মেমোরিয়াল ব্রিট স্কুলের সীমানা প্রাচীর ও স্কুলের ভেতরে আরসিসি রাস্তা নির্মাণের জন্য দরপত্র আহবান করে এলজিইডি বেতাগী উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়। এর সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৪৮ লাখ টাকা।

ওই দুইটি প্যাকেজের শিডিউল বিক্রির শেষ সময় উল্লেখ করা হয় চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি বিকাল ৫টা। দরপত্র জমা দেয়ার শেষ সময় আগামী ২৭ জানুয়ারি দুপুর ১টা।

ই-টেন্ডার পদ্ধতি হওয়ায় সারাদেশ থেকেই অনলাইনে টেন্ডার শিডিউল ক্রয় ও জমা দেয়ার কথা। সেই হিসেবে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররাও প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

কিন্ত দরপত্র বিক্রির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই জাকির হোসেন নামের একজন ঠিকাদার গত ১৯ জানুয়ারি ওই স্কুলের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজ শুরু করেন।

টেন্ডার বিক্রির আগেই কাজ শুরু

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন ঠিকাদার অভিযোগ করেন, দরপত্র আহবান করার পর এতে অংশগ্রহণ ছাড়াই কাজ শুরু করা নজিরবিহীন। এলজিইডি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে অনৈতিকভাবে কাজটি বন্টন করা হয়েছে।

নিয়মতান্ত্রিকভাবে দরপত্রে অংশণে প্রতিযোগীতার মাধ্যমে কাজটির ঠিকাদার নির্বাচিত হলে সরকারের অনেক টাকা সাশ্রয় হতো বলে মনে করেন তারা।

মঙ্গলবার বেগম লুৎফুন্নেছা মেমোরিয়াল ব্রিট স্কুলে গিয়ে দেখা গেছে, স্কুলের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ চলছে। ইতিমধ্যে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য স্কুলের চারপাশে কলাম ঢালাই এবং মাটি কাটার কাজ চলছে। সেখানে ৭/৮ জন শ্রমিক কাজ করছেন। শ্রমিকরা জানান, ঠিকাদার জাকির এই কাজ করছেন।

নিউজবাংলাকে প্রতিষ্ঠানটির (ব্রিট সেন্টার) ইনচার্জ মো. মাইনুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারিভাবে এই প্রতিষ্ঠানের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ চলছে। এরপর রাস্তার কাজ শুরু হবে।’

গত ১৫ দিন আগে এই কাজ শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই কাজের টেন্ডার এখনও সম্পন্ন হয়েছে কিনা সে বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’

যোগাযোগ করা হলে ঠিকাদার মো. জাকির বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ আমাকে কাজ করতে বলেছে, তাই আমি কাজ করছি। আমি নিজেও দরপত্র ক্রয় করেছি। পরবর্তীতে যে কাজ পাবে তার সাথে সমন্বয় করে নিব।’

টেন্ডার বিক্রির আগেই কাজ শুরু

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বেতাগী উপজেলা প্রকৌশলী মো. রাইসুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওইখানে এখন কে কাজ করে সেটা আমার দেখার বিষয় না।’

ব্যক্তিগতভাবে কেউ এই কাজ করতে পারে দাবি করে তিনি বলেন, ‘টেন্ডার সম্পন্ন হবার পর আমি ঠিকাদারকে কাজ বুঝিয়ে দিব।’

নিউজবাংলাকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলী এসকে আরিফুল ইসলাম বলেন ‘এই কাজটি আমার দপ্তরের না। আমি এই বিষয়ে কিছু জানি না।’

শেয়ার করুন

বরিশালে ছিনতাইয়ের অভিযোগে ২ নারী আটক

বরিশালে ছিনতাইয়ের অভিযোগে ২ নারী আটক

ছিনতাইয়ের ঘটনায় আটক রিনা ও আরজিনা। ছবি: নিউজবাংলা

ছিনতাইয়ের শিকার নগরীর ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক নারী কাউন্সিলর তাসলিমা কালাম পলি জানান, সকালে ব্যাংক থেকে ৫০ হাজার টাকা তুলে গির্জা মহল্লা এলাকা দিয়ে তিনি যাচ্ছিলেন। এ সময় অভিযুক্ত দুই নারীসহ আরও কয়েকজন তার পিছু নেয়।

বরিশাল নগরীতে সাবেক এক নারী কাউন্সিলরের ব্যাগ থেকে টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে দুই নারী ছিনতাইকারীকে আটক করেছে সাধারণ মানুষ। পরে তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বুধবার দুপুরে নগরীর গির্জা মহল্লা এলাকায় ওই ছিনতাই ও আটকের ঘটনা ঘটে। এ সময় আটক হওয়া দুই নারীর কাছ থেকে ছিনতাই করা ৫০ হাজার টাকাও উদ্ধার করা হয়েছে।

আটক হওয়া রিনা ও আরজিনা বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় রহমতপুর রামপট্টি এলাকার বেদেপল্লিতে বাস করেন বলে জানিয়েছেন।

ছিনতাইয়ের শিকার নগরীর ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক নারী কাউন্সিলর তাসলিমা কালাম পলি জানান, সকালে ব্যাংক থেকে ৫০ হাজার টাকা তুলে গির্জা মহল্লা এলাকা দিয়ে তিনি যাচ্ছিলেন। এ সময় অভিযুক্ত দুই নারীসহ আরও কয়েকজন তার পিছু নেয়।

বিষয়টি সন্দেহজনক হলে তিনি তাদের পিছু নেয়ার কারণ জানতে চান। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি দেখেন তার বহন করা ব্যাগের চেইন খোলা এবং সেখানে রাখা ৫০ হাজার টাকাও নেই।

এ অবস্থায় সন্দেহজনক ওই দুই নারী রিনা ও আরজিনাকে ধরে ফেলেন পলি। পরে তাদের একজনের ওড়নায় পেঁচানো অবস্থায় ওই টাকা উদ্ধার করা হয়।

এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাধারণ মানুষ রিনা ও আরজিনাকে কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

এ ঘটনায় ছিনতাইয়ের শিকার সাবেক নারী কাউন্সিলর বাদী হয়ে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন।

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিমুল করিম জানান, দুই নারীকে থানায় রাখা হয়েছে। ভুক্তভোগী মামলা করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করুন

শীতলক্ষ্যা থেকে নারী ও যুবকের মরদেহ উদ্ধার

শীতলক্ষ্যা থেকে নারী ও যুবকের মরদেহ উদ্ধার

নৌপুলিশের এসআই ফোরকান মিয়া জানান, ওই নারীর আনুমানিক বয়স ৩২ বছর। তার পায়ে ও পেটে আঘাতের চিহ্ন আছে। যুবকের দেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তার আনুমানিক বয়স ২৮ বছর।

নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে পাশাপাশি ভাসমান নারী ও যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌপুলিশ।

সদর উপজেলার নবীগঞ্জ গুদারাঘাটের পশ্চিম পাশ থেকে বুধবার দুপুরে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ নৌপুলিশের পুলিশ সুপার মিনা মাহমুদ নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, স্থানীয়রা বুধবার দুপুরে শীতলক্ষ্যায় এক নারী ও যুবকের মরদেহ পাশাপাশি ভাসতে দেখে। মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নৌপুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ফোরকান মিয়া জানান, ওই নারীর আনুমানিক বয়স ৩২ বছর। তার পায়ে ও পেটে আঘাতের চিহ্ন আছে। যুবকের দেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তার আনুমানিক বয়স ২৮ বছর। দুজনের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।

শেয়ার করুন

‘ওই টেন হুসেল দেয় নাই, হামার কী হইবে’

‘ওই টেন হুসেল দেয় নাই, হামার কী হইবে’

হাসপাতালে গুরুতর আহত অটোচালক অহিদুল। ছবি: নিউজবাংলা

ট্রেন দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অটোচালক অহিদুল ইসলামের স্ত্রী পারুল বলেন, ‘ওই গেট থাকি এহনা দূরে হামার বাড়ি। খবর শুনি দৌড়ি যায়া দেখি সগাই পড়ি আছে। গেট নাগালে এমন হইল না হয়। এ্যালা হামার কী হইবে, কাই দেখপে।’

‘অটোত করি টেনের (ট্রেন) লাইন পার হবার ধরছিল। টেন হুসেল দেয় নাই, আর শীতোত কিছু দেখা যায় নাই, তখন মারি দিচে। দৌড়ি যায়া দেখি তিন জন পড়ি আছে। ও আল্লাহ এ্যালা হামার কী হইবে...’

নীলফামারীতে বুধবার ট্রেন দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অটোচালক অহিদুল ইসলাম আপনসহ তিনজনকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সেখানে গুরুতর আহত আপনের স্ত্রী পারুল বিলাপ করতে করতে এসব কথা বলছিলেন।

নিউজবাংলাকে পারুল আরও বলেন, ‘ওই গেট থাকি এহনা দূরে হামার বাড়ি। খবর শুনি দৌড়ি যায়া দেখি সগাই পড়ি আছে। গেট নাগালে এমন হইল না হয়। এ্যালা হামার কী হইবে, কাই দেখপে।’

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, গুরুতর আহত অটোর যাত্রী নাজনীন আক্তার ও কুলছুমা বেগম ১৮ নম্বর সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন। আর অহিদুল ইসলাম ভর্তি ৬ নম্বর ওয়ার্ডে।

এর মধ্যে নাজনীনের অবস্থা গুরুতর। আর অহিদুলের ডান পা প্রায় বিচ্ছিন্ন।

কুলছুমার বাবা সায়েদ আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওমরা অটোত করি দৈনিক নীলফামারীর ইপিজেটোত কাজোত যাইত। আইজো সকালে খায়া দায়া বের হইচে, একনা পড়ে শুনে এই ঘটনা।’

নাজনীনের চাচা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘ওই গেটোত ঘুণ্টি নাই, ঘরো নাই। শুনচি আগোত আচলো, অন্তপক্ষ ৫০ বচর ধরি দেখি ঘুণ্টি নাই। ঘুণ্টি থাকলে কী এত বড় ঘটনো ঘটে। এইলা দায় কাই নিবে, হামাকে পোহা নাগবে।

‘আর টেন যে আসিল তো হুসেল দিবের নয়, তা তো দেয় নাই, যত শীত থাক, হুসেল কী শীতোত আটকে? হুসেল দিলে সবাই দাঁড়াইলে হয়।’

সৈয়দপুর-চিলাহাটী রেলপথের দারোয়ানিতে বুধবার সকালে ট্রেনের ধাক্কায় অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও এক নারীর মারা যান।

নিউজবাংলাকে রংপুর মেডিক্যালে কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. রেজাউল করিম বলেন, ‘আহতদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত তারা ভালো আছেন।’

শেয়ার করুন

ছাত্র লাঞ্ছনায় জাবির দুই ছাত্রী বহিষ্কার

ছাত্র লাঞ্ছনায় জাবির দুই ছাত্রী বহিষ্কার

বহিষ্কৃত সুমাইয়া বিনতে ইকরাম (বামে) ও আনিকা তাবাসসুম। ছবি: নিউজবাংলা

রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ বলেন, ‘সুমাইয়াকে এক বছর ও আনিকাকে ৬ মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এই সময়ে তারা কোনো ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না এবং হলে অবস্থান ও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। একই সঙ্গে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহনসহ অন্য সুযোগ-সুবিধা পাবে না।’

ছাত্র লাঞ্ছনায় জড়িত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) দুই ছাত্রীকে শাস্তি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এক শিক্ষার্থীকে এক বছর এবং অন্যজনকে ৬ মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সিন্ডিকেট সভায় মঙ্গলবার রাতে এই সিদ্ধান্ত হয়।

বহিষ্কৃত ওই দুই ছাত্রীর নাম সুমাইয়া বিনতে ইকরাম ও আনিকা তাবাসসুম। তারা দুজনই নৃবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী।

সুমাইয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রীতিলতা হল এবং আনিকা নওয়াব ফয়জুন্নেসা হলের আবাসিক ছাত্রী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সুমাইয়াকে এক বছর ও আনিকাকে ৬ মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এই সময়ে তারা কোনো ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না এবং হলে অবস্থান ও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। একই সঙ্গে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহনসহ অন্য সুযোগ-সুবিধা পাবে না।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় সোমবার রাত ৮টার দিকে রাস্তার জায়গা ছেড়ে দেয়াকে কেন্দ্র করে সরকার ও রাজনীতি বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্বের এক ছাত্রকে থাপ্পড় মারেন সুমাইয়া।

এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা সেখানে উপস্থিত হয়ে সুমাইয়া ও তার সহযোগী আনিকার শাস্তির দাবি জানান। পরে রাত ১১টার দিকে প্রক্টর অফিসে উভয় পক্ষই তাদের লিখিত বক্তব্য জমা দেয়।

শেয়ার করুন