নিরাপদ সড়কের দাবিতে মোমবাতি প্রজ্বালন

player
নিরাপদ সড়কের দাবিতে মোমবাতি প্রজ্বালন

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে মোমবাতি প্রজ্জ্বালন করেন। ছবি: নিউজবাংলা

নয় দফা দাবি বাস্তবায়নে মঙ্গলবার ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচির ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা। ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার মোমবাতি প্রজ্বালন করা হয়। সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের পরিবার নিয়ে শুক্রবার বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ করার ঘোষণা দেন তারা।

নিরাপদ সড়ক ও সারা দেশে শিক্ষার্থীদের জন্য শর্তহীন হাফ পাস কার্যকরসহ ৯ দফা দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মোমবাতি প্রজ্বালন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

রাজধানীতে সোমবার সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি পালনের সময় প্রতিবাদী গান গেয়ে বিক্ষোভ করেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, সড়ক ব্যবস্থাপনায় ‘আলোর পথ’ দেখাতেই মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচি।

৯ দফা দাবি বাস্তবায়নে মঙ্গলবার ঢাকাসহ সারা দেশে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচির ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা। রোববার শাহবাগে প্রতীকী কফিন নিয়ে মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার মোমবাতি প্রজ্বালন করা হয়।

সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের পরিবার নিয়ে শুক্রবার বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ করার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ইনজামুল হক রামিম বলেন, ‘বাসে শিক্ষার্থীদের হাফ পাসের দাবিতে ৮ নভেম্বর আন্দোলন শুরু হয়েছিল। ২৩ তারিখে তা নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে দানা বাঁধে। আমরা ৯ দফা দাবি জানিয়েছি। মন্ত্রীরা আমাদের আন্দোলন নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করছেন।

‘৯ দফা বাস্তবায়ন না হলে আমরা প্রয়োজনে অনশনে যাব। বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা ঢাকার রামপুরা, বরিশাল ও চট্টগ্রামে আন্দোলন করেছেন। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যেতে প্রস্তুত।’

শিক্ষার্থীরা জানান, সড়ক, নৌ এবং রেলপথে হাফ পাস দাবি করা হয়েছে। শুধু সড়কে শর্তসাপেক্ষে যে হাফ পাস দেয়ার কথা বলা হচ্ছে তা গ্রহণযোগ্য নয়। সব গণপরিবহনে শর্তহীন হাফ পাস দিতে হবে। এ ছাড়া নৌ এবং রেলপথে হাফ পাসের ব্যবস্থা করতে হবে।

আন্দোলনকারীদের আরেক সমন্বয়ক মহিদুল হাসান দাউদ বলেন, ‘শর্তসাপেক্ষে শুধু মহানগরে হাফ পাস নয়, সারা দেশে শর্তহীন হাফ পাসের প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। ৯ দফা দাবির বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট অবস্থান জানাতে হবে। অন্যথায় আমাদের আন্দোলন চলবে।’

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, শুধু ঢাকা নয়, সারা দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়ার ব্যবস্থা করতে হবে। বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো ড্রাইভারকে ফাঁসি দিতে হবে এবং এই বিধান সংবিধানে সংযোজন করতে হবে। ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল বন্ধ করতে হবে। বৈধ লাইসেন্স ছাড়া চালকরা গাড়ি চালাতে পারবেন না। বাসে অতিরিক্ত যাত্রী নেয়া যাবে না।

শিক্ষার্থীদের চলাচলে ফুটওভারব্রিজ বা বিকল্প নিরাপদ ব্যবস্থা করা ও সড়কে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় স্পিডব্রেকার দিতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ছাত্রছাত্রীদের দায়ভার সরকারকে নিতে হবে। শিক্ষার্থীরা সিগন্যাল দিলেই বাস থামিয়ে তাদের নিতে হবে বলেও দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।

আরও পড়ুন:
নিরাপদ সড়ক দাবিতে বিআরটিএ ভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের অবস্থান

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ভাড়া নিয়ে তর্ক, পিটিয়ে রাস্তায় ফেলার পর যাত্রীর মৃত্যু

ভাড়া নিয়ে তর্ক, পিটিয়ে রাস্তায় ফেলার পর যাত্রীর মৃত্যু

গ্রিনবাংলা পরিবহনের বাসে ভাড়া নিয়ে তর্কাতর্কি হয়। বাসটি জব্দ করার পাশাপাশি চালক ও তার সহকারীকে থানায় নিয়েছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

বাসে ইরফানের সঙ্গে ছিলেন আব্দুল কাদের। তিনি জানান, সকালে ডেমরা থেকে নবাবপুরের কর্মস্থলে যেতে গ্রিনবাংলা পরিবহনে উঠেন তারা। টিকাটুলির জয়কালী মন্দিরের সামনে আসার পর ভাড়া নিয়ে ইরফানের সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক হয় ভাড়া তুলতে থাকা সহকারীর। এক পর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হলে ইরফানকে কিল, ঘুষি দিয়ে ধাক্কা দিয়ে বাস থেকে নিচে ফেলে দেয়া হয়।

রাজধানীতে ভাড়া নিয়ে তর্কাতর্কির পর এক যাত্রীকে বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে ধেয়ার পর তার মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার নাম ইরফান আহমেদ।

এই ঘটনায় সন্দেহভাজনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা।

পুলিশ বাসটি জব্দ করার পাশাপাশি চালক ও তার সহকারীকেও থানায় নিয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে ওয়ারীর টিকাটুলির জয়কালী মন্দিরের সামনে সেই যাত্রীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়ার আগে কিল, ঘুষিও দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন নিহতের সঙ্গী।

আহত ইরফানকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এলে দুপুরের দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

বাসে ইরফানের সঙ্গে ছিলেন আব্দুল কাদের। তিনি জানান, সকালে ডেমরা থেকে নবাবপুরের কর্মস্থলে যেতে গ্রিনবাংলা পরিবহনে উঠেন তারা। টিকাটুলির জয়কালী মন্দিরের সামনে আসার পর ভাড়া নিয়ে ইরফানের সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক হয় ভাড়া তুলতে থাকা সহকারীর।

এক পর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হলে ইরফানকে কিল, ঘুষি দিয়ে ধাক্কা দিয়ে বাস থেকে নিচে ফেলে দেয়া হয় বলে অভিযোগ করেন কাদের। বলেন, ‘গুরুতর অবস্থায় টিকাটুলি সালাউদ্দিন হাসপাতাল নিয়ে যাই। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে আসার পর চিকিৎসক তাকে মৃত বলে জানান।’

এই ঘটনায় বাসে চালকের সহকারী মোজাম্মেল হোসেনকে স্থানীয় লোকজন আটক করে পুলিশে দেয় বলেও জানান কাদের।

নিহতের ভাই এনাম আহমেদ জানান, ইরফান নবাবপুর এলাকায় একটি ইলেকট্রিক দোকানে চাকরি করেন। তাদের বাড়ি ডেমরার দেউল্লা বামৈল এলাকায়।

ইরফান এক কন্যা সন্তানের জনক ছিলেন।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ (পরিদর্শক) বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘টিকাটুলি এলাকায় বাস থেকে ফেলে দেয়া এক ব্যক্তিকে আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল নিয়ে আসলে চিকিৎসক মৃত বলে জানান। এই ঘটনায় হেলপারকে ওয়ারী পুলিশ আটক করেছে।’

ওয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কবির হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কন্ডাক্টরের সঙ্গে ঝামেলাটা হয়েছিল। আমরা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সেই বাসের ড্রাইভার ও হেলপারকে থানায় এনেছি। বাসটাও জব্দ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
নিরাপদ সড়ক দাবিতে বিআরটিএ ভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের অবস্থান

শেয়ার করুন

রাজধানীতে দুই বাসের প্রতিযোগিতায় আবার মৃত্যু

রাজধানীতে দুই বাসের প্রতিযোগিতায় আবার মৃত্যু

দুর্ঘটনায় পড়া বাসটিকে রেকারে করে সরিয়ে নিচ্ছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘দুটি বাসই পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ছিল। সিগন্যাল ছাড়ার পর বাস দুটো সামনে এগিয়ে যেতে টান দেয়। তখনই রাকিব নিচে পড়ে।’

রাজধানীর মগবাজারে আজমেরী গ্লোরী পরিবহনের দুটি বাসের প্রতিযোগিতায় এক বাসের চাপায় এক কিশোরের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। দুর্ঘটনার পর বাস ফেলে পালিয়ে গেছেন দুই চালক ও তাদের সহকারীরা।

বৃহস্পতিবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে মৌচাক থেকে মগবাজার আসার পথে ঘরোয়া হোটেলের পাশে প্রিমিয়ার ব্যাংকের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রাজধানীর সদরঘাট থেকে গাজীপুরের চন্দ্রা রুটে যাত্রী বহন করা বাস দুটি মৌচাক থেকে মগবাজারের দিকে আসছিল।

রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘দুটি বাসই পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ছিল। সিগন্যাল ছাড়ার পর বাস দুটো সামনে এগিয়ে যেতে টান দেয়। তখনই রাকিব নিচে পড়ে।’

রাজধানীতে একই রুটে চলা দুই বাসের যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতায় মৃত্যু এর আগেও ঘটেছে নানা সময়। পুলিশ ও পরিবহন মালিকরা এই সমস্যার সমাধানে দৃশ্যত কিছুই করতে পারছেন না।

রাকিবকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা এক মুদি দোকানদার মো. হারুন ঢাকা মেডিক্যালে বলেন, এই শিশু রাস্তায় মাস্ক, চিপস বিক্রি করে। আজমেরী পরিবহনের দুটি বাসের প্রতিযোগিতায় চাপা পড়ে গুরুতর আহত হয় রাকিব। পরে আমি তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে এলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মগবাজারে নিহত কিশোর রাকিব বাসে বাসে নানা পণ্য বিক্রি করত। সে আজমেরীর একটি বাসে উঠেছিল। সেই বাস থেকে নেমে অন্য বাসে ওঠার চেষ্টায় ছিল। এ সময় যাত্রী তোলার চেষ্টায় পেছনে থাকা একই পরিবহনের আরেকটি বাসের ধাক্কায় আহত হয়।

দুর্ঘটনার পর দুটি বাস রমনা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

ট্রাফিক রমনা জোনের সহকারী কমিশনার রেফাতুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাকিব ওই এলাকায় ফেরি করত। আজমেরী গ্লোরী পরিবহনের একটি বাসের পেছনের চাকায় আঘাত পায়। আশপাশের লোকজন আদদ্বীন হাসপাতালে নিয়ে গেলে তারা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।’

রাকিবকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা এক মুদি দোকানদার মো. হারুন ঢাকা মেডিক্যালে বলেন, ‘এই শিশু রাস্তায় মাস্ক, চিপস বিক্রি করে। আজমেরী পরিবহনের দুটি বাসের প্রতিযোগিতায় চাপা পড়ে গুরুতর আহত হয় রাকিব। পরে আমি তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে এলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’

নিহতের মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানান ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) বাচ্চু মিয়া। তিনি বলেন, ‘মগবাজার থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় এক শিশুকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে আসা হয়েছিল। আনার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

আরও পড়ুন:
নিরাপদ সড়ক দাবিতে বিআরটিএ ভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের অবস্থান

শেয়ার করুন

গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগ গৃহকর্ত্রী গ্রেপ্তার

গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগ গৃহকর্ত্রী গ্রেপ্তার

গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগে বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করা হয় সামিয়া ইউসুফ ওরফে সুমিকে। ছবি: নিউজবাংলা

র‌্যাব জানায়, খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে গিয়ে খোঁজ নেয়া হয়। এরপর নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মীর বাবা মামলা করলে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রাজধানীর কলাবাগানে গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে এক গৃহকর্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-২।

গত সোমবারের এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার মামলার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গৃহকর্মী মোছা. ফারজানার বাবার মামলায় গ্রেপ্তার সামিয়া ইউসুফ ওরফে সুমি রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের বাসিন্দা।

র‌্যাব-২-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবু নাঈম মো. তালাত জানান, র‌্যাব গোয়েন্দা তথ্য ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পারে, এলিফ্যান্ট রোডের একটি বাসায় একজন গৃহকর্মীকে নির্যাতন করা হয়েছে। তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার ওই হাসপাতালে গিয়ে খোঁজ নেয়া হয়। এরপর নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মীর বাবা মো. বেলাল হোসেন কলাবাগান থানায় একটি মামলা করেন। পরে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আরও পড়ুন:
নিরাপদ সড়ক দাবিতে বিআরটিএ ভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের অবস্থান

শেয়ার করুন

রাস্তায় সাইড না দেয়া নিয়ে বিরোধে বাইকযাত্রীকে পিটিয়ে হত্যা

রাস্তায় সাইড না দেয়া নিয়ে বিরোধে বাইকযাত্রীকে পিটিয়ে হত্যা

মোটরসাইকেলকে সাইড না দেয়ায় একটি পিকনিকের বাসের গতিরোধ করেন নিহত সুফিয়ান ও তার বন্ধু। সেখানে ঝগড়ার পর বাসটি ছেড়ে যাওয়ার পর যাত্রীরা আবার গালাগাল করে। পরে সুফিয়ান চিটাগাং রোড ফর অ্যাকটিভ হাসপাতালের সামনে মোটরসাইকেল দিয়ে বাসটি আবার আটকান। সেখানে বাসের চালক, সহকারী ও পিকনিক যাত্রীর সঙ্গে ঝগড়া হয়। পরে সুফিয়ান ও তার বন্ধুকে বেধড়ক পেটানো হয়।

নারায়ণগঞ্জে মোটরসাইকেলকে বাসের সাইড না দেয়া নিয়ে পিকনিক যাত্রীদের সঙ্গে তর্কাতর্কির জেরে একজনকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহতের নাম মোহাম্মদ সুফিয়ান।

বুধবার রাত ১১টার দিকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের মামাতো ভাই আব্দুল্লাহ জানান, গত রাতে পল্টনে তার এক আত্মীয়ের দোকান থেকে বন্ধু অনিককে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে সিদ্ধিরগঞ্জ যাচ্ছিলেন সুফিয়ান। শনির আখড়া এলাকায় সাইড না দেয়ায় একটি পিকনিকের বাসের গতিরোধ করেন তারা। সে সময় বাসচালক ও তার সহযোগীর সঙ্গে সুফিয়ানের তর্কবিতর্ক হয়।

এরপর বাসটি ছেড়ে যায়। সে সময় বাসে থাকা পিকনিকের লোকজন তাদের আবার গালাগাল করলে সুফিয়ান চিটাগাং রোড ফর অ্যাকটিভ হাসপাতালের সামনে মোটরসাইকেল দিয়ে বাসটি আবার আটকান। সেখানে বাসের চালক, সহকারী ও পিকনিক যাত্রীর সঙ্গে ঝগড়া হয়।

পরে বাসের স্টাফ ও পিকনিকের লোকজন সুফিয়ান ও অনিককে বেধড়ক মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় সুফিয়ানকে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে আসা হয়।

এ ঘটনায় গাড়িটি জব্দের পাশাপাশি চালক ও সহকারীকে আটক করেছে পুলিশ।

সুফিয়ানের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার সাইনবোর্ড পশ্চিমপাড়া পুকুরপাড় গ্রামে। তিনি ডেকোরেটর ব্যবসায়ী ছিলেন। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি বড়। তার দেড় বছর বয়সী একটি ছেলে আছে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ (পরিদর্শক) বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে মারধরের শিকার হয়ে এক যুবককে হাসপাতালে নিয়ে আসার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ মেডিক্যাল মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
নিরাপদ সড়ক দাবিতে বিআরটিএ ভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের অবস্থান

শেয়ার করুন

পল্লবীর ওসিসহ ১৭ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

পল্লবীর ওসিসহ ১৭ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

রাজধানীর পল্লবী থানা। ছবি: সংগৃহীত

অভিযোগে বলা হয়, ওসি পারভেজ ইসলামের নেতৃত্বে আসামিরা বাদীর ঘরের মালামাল তছনছ এবং শাড়ি, টাকা, স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। এতে বাদীর ১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। বাদীকে না পেয়ে পুলিশ তার ভাই দুলারাকে গ্রেপ্তার করে এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দেয়।

রাজধানীর পল্লবী থানার ওসিসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে ভাংচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগে আদালতে মামলার আবেদন করেছেন পারভেজ আহম্মদ নামের ব্যক্তি।

ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর হাকিম তোফাজ্জল হোসেনের আদালতে হাজির হয়ে তিনি বৃহস্পতিবার এ আবেদন করেন।

আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে আগামী রোববার আদেশের জন্য তারিখ ঠিক করেন।

মামলার আবেদনে আসামি করা হয়েছে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পারভেজ ইসলাম, উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাউসার মাহমুদ, জহির উদ্দিন আহমেদ, নূরে আলম সিদ্দিকী, মো. সজিব খান, মামুন কাজী, মিল্টন দত্ত, মহিদুল ইসলাম, পার্থ মল্লিক, পিন্টু কুমার, মো. শাহরিয়ার নাঈম রোমান, মোহাম্মদ মোরশেদ আলম, মো. আনোয়ার ইসলাম ও ফেরদৌস রহমানকে।

এছাড়া আসামি করা হয়েছে সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সোহেল মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, হরিদাস রায়, মো. আকিজুল ইসলাম এবং পুলিশ সোর্স খোকনকে।

আবেদনে বলা হয়, গতবছর ১ নভেম্বর বাদীর ঘরের তালা ভেঙে অভিযান চালায় পুলিশ। ওসি পারভেজ ইসলামের নেতৃত্বে আসামিরা ঘরের মালামাল তছনছ করে এবং গোপন স্থানে থাকা মূল্যবান শাড়ি, টাকা, স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়।

বাদী রাতে বাসায় ফিরে দেখতে পান আসামিরা বাসার সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করে হার্ডড্রাইভ নিয়ে গেছে। এতে বাদীর ১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। বাদীকে না পেয়ে পুলিশ তার ভাই দুলারাকে গ্রেপ্তার করে এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দেয়।

আরও পড়ুন:
নিরাপদ সড়ক দাবিতে বিআরটিএ ভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের অবস্থান

শেয়ার করুন

সাংবাদিককে অজ্ঞান করে নিয়ে গেল টাকা

সাংবাদিককে অজ্ঞান করে নিয়ে গেল টাকা

শামনের বন্ধু মাহবুব জানান, নারায়ণগঞ্জ থেকে শীতল পরিবহনে আসার পথে বাসে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে অচেতন হন এই সাংবাদিক। তার কাছে ৫০ হাজার টাকা ছিল। এই টাকা নিয়ে গেছে প্রতারকরা।

নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা আসার পথে বাসে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে সঙ্গে থাকা টাকা খুইয়েছেন এক সাংবাদিক।

বৃহস্পতিবার অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসার পর তার পাকস্থলী পরিষ্কার করা হয়।

ভুক্তভোগী শামন হোসেন দৈনিক মানবজমিনে ক্রীড়া বিভাগে রিপোর্টার হিসেবে কাজ করেন।

শামনের বন্ধু মাহবুব জানান, নারায়ণগঞ্জ থেকে শীতল পরিবহনে আসার পথে বাসে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে অচেতন হন এই সাংবাদিক।

তিনি বলেন, ‘গুলিস্তান এলে বাস থেকে নামিয়ে আমরা তাকে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে আসি। তাকে পাকস্থলী পরিষ্কার করার পর মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়।’

মাহবুব জানান, শামনের কাছে ৫০ হাজার টাকা ছিল। এই টাকা নিয়ে গেছে প্রতারকরা।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) বাচ্চু মিয়াও শামনের অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ার কথা নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুন:
নিরাপদ সড়ক দাবিতে বিআরটিএ ভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের অবস্থান

শেয়ার করুন

ব্লগার নাজিম হত্যা: মেজর জিয়াসহ পাঁচজনের নামে পরোয়ানা

ব্লগার নাজিম হত্যা: মেজর জিয়াসহ পাঁচজনের নামে পরোয়ানা

চাকরিচ্যুত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক সোমবার পুলিশের দেয়া অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে পরোয়ানা জারি করেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ব্লগার নাজিমুদ্দিন সামাদ হত্যা মামলায় আনসার আল ইসলামের সামরিক শাখার প্রধান চাকরিচ্যুত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।

ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান সোমবার পুলিশের দেয়া অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে এই পরোয়ানা জারি করেন।

বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম ছারোয়ার খান জাকির নিউজবাংলাকে বলেন, ‘১৭ জানুয়ারি আদালত ৯ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করে। পলাতক থাকায় মেজর জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। ২৩ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ধার্য করা হয়েছে।’

পরোয়ানা জারি হওয়া অপর চার আসামি হলেন- আকরাম হোসেন, মো. ওয়ালিউল্লাহ, সাব্বিরুল হক চৌধুরী ও জুনেদ আহাম্মেদ।

অপর চার আসামি রশিদুন নবী ভূইয়া, মোজাম্মেল হুসাইন, আরাফাত রহমান ও শেখ আব্দুল্লাহ কারাগারে রয়েছেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

২০১৬ সালের ৬ এপ্রিল রাতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস শেষে পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ায় মেসে ফেরার পথে লক্ষ্মীবাজারের একরামপুর মোড়ে খুন হন ব্লগার নাজিমুদ্দিন। এ ঘটনায় পরদিন সূত্রাপুর থানার এসআই নুরুল ইসলাম মামলা করেন। ২০২০ সালের ২০ আগস্ট বহিষ্কৃত মেজর সৈয়দ মো. জিয়াউল হক জিয়াসহ ৯ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট।

আরও পড়ুন:
নিরাপদ সড়ক দাবিতে বিআরটিএ ভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের অবস্থান

শেয়ার করুন