টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিলেন জবির ৪০০ শিক্ষার্থী

player
টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিলেন জবির ৪০০ শিক্ষার্থী

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আধুনিক মেডিক্যাল সেন্টারে করোনার টিকা নিচ্ছেন এক শিক্ষার্থী। ছবি: নিউজবাংলা

মেডিক্যাল সেন্টার সূত্রে জানা যায়, সোমবার ৬০০ শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়ার পর মঙ্গলবার শেষদিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাড়াও শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্বিতীয় ডোজের টিকা দেয়া হবে। যারা টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন শুধুমাত্র তারা দ্বিতীয় ডোজ নিতে পারবেন।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আধুনিক মেডিক্যাল সেন্টারে রোববার দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিয়েছেন ৪০০ শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্বিতীয় ডোজের টিকা দেয়া চলবে মঙ্গলবার পর্যন্ত।

মেডিক্যাল সেন্টার সূত্রে জানা যায়, টিকাদানের দ্বিতীয় পর্বের প্রথম দিনে রোববার সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত টিকা নেন ৪০০ শিক্ষার্থী। এরমধ্যে ২৪৯ জন ছাত্র ও ১৫১ জন ছাত্রী। তাদের সিনোফার্মের টিকা দেয়া হয়েছে।

সোমবার ৬০০ শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়ার পর মঙ্গলবার শেষদিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাড়াও শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্বিতীয় ডোজের টিকা দেয়া হবে। যারা টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন শুধুমাত্র তারা দ্বিতীয় ডোজ নিতে পারবেন।

টিকার এ কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (ছাত্র-কল্যাণ) অধ্যাপক ড. মো. আইনুল ইসলামসহ মেডিকেল সেন্টার, আইসিটি সেল ও ঢাকা জেলা সিভিল সার্জন অফিসের কর্মকর্তারা।

গত ২১ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপনের দিনে করোনার টিকা কেন্দ্র উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক। এরপর ২৫ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত টিকাদান কর্মসূচি চলে। তখন প্রথম ডোজের টিকা নেন মোট ১ হাজার ৯৬০ জন।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামে স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকাদান শুরু
ষাটোর্ধ্বরা পাবেন বুস্টার ডোজ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

তামাকজাত পণ্যে করে জোর এমপিদের

তামাকজাত পণ্যে করে জোর এমপিদের

জাতীয় সংসদের পার্লামেন্ট মেম্বার’স ক্লাবে শনিবার ‘জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে প্রত্যাশিত তামাক কর ব্যবস্থাপনা ও করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় উপস্থিত অতিথিরা। ছবি: নিউজবাংলা

আলোচনা সভায় এমপি শামসুল হক টুকু বলেন, ‘তামাকের উচ্চ মূল্য বিশেষ করে কিশোর-তরুণদের তামাকের ব্যবহার শুরু করতে নিরুৎসাহিত করে। সুনির্দিষ্ট করারোপ করে তামাকজাত দ্রব্যের যাতে মূল্য বৃদ্ধি করা যায়, সরকারকে সে বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে।’

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধিতে সব ধরনের তামাকজাত পণ্যের ওপর সুনির্দিষ্ট হারে কর আরোপ জরুরি বলে মত দিয়েছেন একাধিক সংসদ সদস্য (এমপি)।

জাতীয় সংসদের পার্লামেন্ট মেম্বার’স ক্লাবে শনিবার বেলা ১১টার দিকে ‘জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে প্রত্যাশিত তামাক কর ব্যবস্থাপনা ও করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তারা এ মত দেন।

দ্য ইউনিয়ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরো (বিইআর) ও ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির টোব্যাকো কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ সেল (টিসিআরসি) এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

সভায় গাইবান্ধা-১ আসনের এমপি ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারি সভাপতিত্ব করেন। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এস এম আব্দুল্লাহ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পাবনা-১ আসনের এমপি শামসুল হক টুকু এমপি। সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের এমপি হারুনুর রশিদ, সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি আবিদা আঞ্জুম মিতা।

ভার্চুয়ালি আলোচনায় যুক্ত হন সিরাজগঞ্জ-১ আসনের এমপি ডা. হাবিবে মিল্লাত, নীলফামারী-৩ আসনের রানা মোহাম্মদ সোয়াইল ও সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি অপরাজিতা হক।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের (এনটিসিসি) সমন্বয়কারী হোসেন আলী খন্দকার, স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ড. মো. শাহাদৎ হোসেন মাহমুদ, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপচার্য অধ্যাপক ড. গণেশ চন্দ্র শাহা, হার্ট ফাউন্ডেশনের অধ্যাপক ড. সোহেল রেজা চৌধুরী, ক্যানসার হোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দীন ফারুক, ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিসের প্রোগ্রাম হেড মো. শফিকুল ইসলাম, দ্য ইউনিয়নের কারিগরি পরামর্শক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রুমানা হক।

আলোচনা সভায় শামসুল হক টুকু বলেন, ‘তামাকের উচ্চ মূল্য বিশেষ করে কিশোর-তরুণদের তামাকের ব্যবহার শুরু করতে নিরুৎসাহিত করে। সুনির্দিষ্ট করারোপ করে তামাকজাত দ্রব্যের যাতে মূল্য বৃদ্ধি করা যায়, সরকারকে সে বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে।’

ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারি বলেন, ‘তামাকের জন্য ১.৫ মিলিয়ন (১৫ লাখ) মানুষ দক্ষিণ এশিয়ায় মারা যাচ্ছে। এ মৃত্যু প্রতিরোধযোগ্য। নতুন নতুন তামাক ব্যবহারকারীদের রুখতে তামাকের কর আরোপ বৃদ্ধি করতে হবে।

‘তামাকমুক্ত দেশ গড়তে দ্রুত একটি জাতীয় কর নীতি প্রণয়নের কোনো বিকল্প নেই। পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ও রাজস্ব বৃদ্ধিতে আগামী অর্থবছরেই তামাকজাত দ্রব্যের ওপর সুনির্দিষ্ট করারোপের দাবি জানাচ্ছি।’

হারুনুর রশিদ বলেন, ‘প্রতি বছর ১৮ লাখ মানুষকে তামাক থেকে বিরত করতে হবে এবং নতুনদের তামাক ব্যবহার থেকে বিরত রাখতে হবে। তামাকের ব্যবহার যদি রোখা না যায়, তবে আমরা এসডিজি লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব না। তামাকের মতো ক্ষতিকর পণ্য বিক্রিতে অবশ্যই লাইসেন্সের ব্যবস্থা করতে হবে।

‘তামাক কোম্পানিগুলোর ফাঁকি রোধে ডিজিটাল করার বিকল্প নেই। তামাক চাষের জমিগুলোকে তালিকাভুক্ত করে নানা প্রণোদনা দিয়ে তাদের এ চাষ থেকে বিরত করতে হবে।’

ডা. হাবিবে মিল্লাত বলেন, ‘তামাক নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের জন্য একটি জাতীয় কর নীতি থাকলে ২০৪০ সালের মধ্যে দেশকে তামাকমুক্ত করায় সুবিধা হবে। এ জন্য সরকারের যথেষ্ট সদিচ্ছা আছে। চার স্তরভিত্তিক অ্যাডভেলরেম কর আরোপ পদ্ধতির পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট কর আরোপের মাধ্যমে অতি দ্রুতই সরকার তামাক নিয়ন্ত্রণে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।’

অনুষ্ঠানে তামাক নিয়ন্ত্রণে কর্মরত প্রায় ৫০ জন কর্মকর্তা এমপিদের সঙ্গে বিভিন্ন প্রশ্নোত্তরে অংশ নেন। তামাক নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখায় এসব কর্মকর্তার ভূয়সী প্রশংসা করেন এমপিরা।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামে স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকাদান শুরু
ষাটোর্ধ্বরা পাবেন বুস্টার ডোজ

শেয়ার করুন

স্কুল-কলেজ বন্ধেও চলবে টিকা কার্যক্রম

স্কুল-কলেজ বন্ধেও চলবে টিকা কার্যক্রম

স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকলেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের কোভিড টিকা কার্যক্রম চলবে। ফাইল ছবি

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকবে। এ সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের কোভিড টিকা কার্যক্রম চলবে।

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় দুই সপ্তাহ স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকলেও শিক্ষার্থীদের টিকা কার্যক্রম চলবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক মো. শাহেদুল খবির চৌধুরীর সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে শনিবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকবে। এ সময় অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চলবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের কোভিড টিকা কার্যক্রম চলবে।

এ ক্ষেত্রে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক অফিস, জেলা শিক্ষা অফিস ও উপজেলা বা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসকে স্থানীয় প্রশাসন ও সিভিল সার্জনের সঙ্গে সমন্বয় রাখতে বলা হয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের সময় শ্রেণিকক্ষ, গ্রন্থাগার, গবেষণাগারসহ প্রতিষ্ঠানের সব বিদ্যুৎ, টেলিফোন, ইন্টারনেট, পানি ও গ্যাস সংযোগ নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ রাখতে সতর্কতা নিতে বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

এ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তার বিষয়ে গুরুত্ব দিতেও বলা হয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-প্রধান প্রতিষ্ঠানের জরুরি প্রয়োজনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষক ও কর্মচারীদের দায়িত্বে রাখতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রাবাস বা ছাত্রীনিবাসে শিক্ষার্থীরা অবস্থান করছে, সেগুলো পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত খোলা থাকবে।

অধিদপ্তরের অধীন সব দপ্তর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত সব কর্মকর্তা, শিক্ষক ও কর্মচারীর টিকা সনদ নিতে হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যালয় খোলা থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।

পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি ক্রীড়া সমিতির আয়োজনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান ক্রীড়া প্রতিযোগিতা স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামে স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকাদান শুরু
ষাটোর্ধ্বরা পাবেন বুস্টার ডোজ

শেয়ার করুন

করোনা: অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ মৃত্যু

করোনা: অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ মৃত্যু

দেশে কয়েক দিন ধরে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

করোনায় গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতের সংখ্যা গেল বছরের ৯ অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ। ওই দিন ২০ জনের মৃত্যুর সংবাদ জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শনিবারের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গেল ২৪ ঘণ্টায় মৃতের এ সংখ্যা গত বছরের ৯ অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ। ওই দিন ২০ জনের মৃত্যুর সংবাদ জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

দেশে কয়েক দিন ধরে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৯ হাজার ৬১৪ জনের শরীরে।

এখন পর্যন্ত সারা দেশে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৬ লাখ ৭৪ হাজার ২৩০ জনের দেহে। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়েছে ১৫ লাখ ৬৫ হাজার ৭৯ জন। এ পর্যন্ত ভাইরাসটিতে মৃত্যু হয়েছে ২৮ হাজার ২০৯ জনের।

গত ৭ জানুয়ারি পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ ছাড়ানোর পর প্রায় প্রতিদিনই এর চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে। টানা ১৬ দিন পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ায় দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউ ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ২৮ শতাংশ ছাড়িয়েছে।

এর আগে শুক্রবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে পরের ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা সংক্রমিত রোগী পাওয়া গেছে ১১ হাজার ৪৩৪ জন। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার পাওয়া গেছে ২৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্ত কিছুটা কমে এসেছে।

করোনার প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ে মৃত্যুর হার তুলনামূলক বেশি হলেও তৃতীয় ঢেউয়ের আগে এ হার বেশ কম।

প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ের মতো তৃতীয় ঢেউয়েও রোগী বেশি পাওয়া যাচ্ছে ঢাকা বিভাগে। গত ২৪ ঘণ্টায় যত রোগী পাওয়া গেছে, তার ৮০ শতাংশের বেশি পাওয়া গেছে ঢাকায়। ২৪ হাজার ১০৩টি নমুনা পরীক্ষা করে শনাক্ত হওয়া ৭ হাজার ৫৬ জনই এ বিভাগের।

গত এক দিনে দেশের ৮৫৭ ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা করা হয় ৩৪ হাজার ৩১১টি। শনাক্তের হার ২৮ দশমিক ০২ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে পুরুষ ১১ ও নারী ছয়জন। এদের মধ্যে বিশোর্ধ্ব ১, পঞ্চাশোর্ধ্ব ২, ষাটোর্ধ্ব ৬ ও সত্তরোর্ধ্ব ৮ জন।

গত এক দিনে মৃতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে মারা গেছে ১১ জন। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ২, খুলনায় ২, বরিশাল ও ময়মনসিংহে ১ জন করে মারা গেছে।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামে স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকাদান শুরু
ষাটোর্ধ্বরা পাবেন বুস্টার ডোজ

শেয়ার করুন

ভারতে এক দিনে শনাক্ত ৩ লাখ ৩৭ হাজার

ভারতে এক দিনে শনাক্ত ৩ লাখ ৩৭ হাজার

দেশটিতে গতকালের চেয়ে আজ শনাক্ত কিছুটা কমেছে। প্রায় ২০ লাখ পরীক্ষার বিপরীতে এ দিন করোনা সংক্রমণের হার দাঁড়িয়েছে ১৭ দশমিক ২২ শতাংশে। আগের দিন সংক্রমণের হার ছিল ১৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ। আর আক্রান্ত হয়েছিল ৩ লাখ ৮৯ হাজারের বেশি। 

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারতে। শনিবার দেশটিতে ৩ লাখ ৩৭ হাজার জনের দেহে ভাইরাসটির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১০ হাজার ৫০ জন ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত।

ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, এই শনাক্ত নিয়ে ভারতে এখন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩ কোটি ৮৯ লাখ ছাড়াল।

এনডিটিভির খবরে বলা হয়, দেশটিতে গতকালের চেয়ে আজ শনাক্ত কিছুটা কমেছে। প্রায় ২০ লাখ পরীক্ষার বিপরীতে এ দিন করোনা সংক্রমণের হার দাঁড়িয়েছে ১৭ দশমিক ২২ শতাংশে। আগের দিন সংক্রমণের হার ছিল ১৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ। আর আক্রান্ত হয়েছিল ৩ লাখ ৮৯ হাজারের বেশি।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে ৪৮৮ জনের। এ নিয়ে দেশটিতে করোনায় সরকারি হিসেবে মৃত্যু হয়েছে ৪ লাখ ৮৮ হাজার ৮৮৪ জনের।

ভারত এখন যুক্তরাষ্ট্রের পর সবচেয়ে বেশি করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশ।

করোনার প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ে ভারতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত রাজ্য ছিল মহারাষ্ট্র। তৃতীয় ঢেউ শুরুর পরও সবচেয়ে খারাপ অবস্থা মহারাষ্ট্রেই, রাজ্যটিতে শনিবারও সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এ দিন ৪৮ হাজার ২৭০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে রাজ্যটিতে।

বাংলাদেশের প্রতিবেশী রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে সংক্রমণ কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ১৫৪ জনে।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামে স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকাদান শুরু
ষাটোর্ধ্বরা পাবেন বুস্টার ডোজ

শেয়ার করুন

করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে হাসপাতালে চাপ কম

করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে হাসপাতালে চাপ কম

ব্যাপক সংখ্যায় আক্রান্ত হলেও হাসপাতালগুলোয় করোনা রোগীর ভিড় কম। ফাইল ছবি

ঢাকায় সরকারি-বেসরকারি ৩২টি করোনা হাসপাতাল রয়েছে। এসব হাসপাতালে মোট শয্যাসংখ্যা ৪ হাজার ৭৩৬টি। শয্যা খালি রয়েছে ৩ হাজার ৫৬১টি। ১ জানুয়ারি রাজধানীর করোনা হাসপাতালগুলোয় মোট রোগী ভর্তি ছিল ৩৫৫ জন। তিন সপ্তাহের ব্যবধানে রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ১৭৫ জন।

করোনাভাইরাস সংক্রমণে তৃতীয় ঢেউ মোকাবিলা করছে দেশ। গত তিন সপ্তাহে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৭৮ হাজার জনের। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, আক্রান্ত অনুপাতে হাসপাতালে রোগীর ভিড় নেই। বাড়েনি অক্সিজেনের চাহিদাও।

করোনা সেবায় নির্ধারিত হাসপাতালগুলোয় রোগীর চাপ আগের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্যসেবা খাতে বাড়তি উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। নতুন করে প্রস্তুতি নিচ্ছে হাসপাতালগুলো। বাড়ানো হচ্ছে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী আর অক্সিজেন সরবরাহ।

ঢাকায় সরকারি-বেসরকারি ৩২টি করোনা হাসপাতাল রয়েছে। এসব হাসপাতালে মোট শয্যাসংখ্যা ৪ হাজার ৭৩৬টি। শয্যা খালি রয়েছে ৩ হাজার ৫৬১টি। ১ জানুয়ারি রাজধানীর করোনা হাসপাতালগুলোযয মোট রোগী ভর্তি ছিল ৩৫৫ জন। তিন সপ্তাহের ব্যবধানে রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৭৫ জন।

রাজধানীর হাসপাতালগুলোয় মোট আইসিইউ শয্যা রয়েছে ৭৭৮টি। এর মধ্যে খালি রয়েছে ৬৩৩টি। তিন সপ্তাহ আগে ১৩৮টি আইসিইউ বেডে রোগী ছিল। কিছুটা বেড়ে বর্তমানে আইসিইউতে রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪৫ জন।

ঢাকায় করোনা আক্রান্তদের নমুনা পরীক্ষায় ৭০ শতাংশের মধ্যেই ওমিক্রন ধরন পাওয়া গেছে। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এ তথ্য জানায়। ওমিক্রন আক্রান্ত হিসেবে শনাক্তদের ৭০ শতাংশই ঢাকা বিভাগের। এ কারণে অন্যান্য বিভাগের চেয়ে ঢাকার হাসপাতালগুলোয় রোগীর চাপ কিছুটা বেশি।

সারা দেশে সরকারি-বেসরকারি ৪৩৬টি করোনা হাসপাতাল রয়েছে। এসব হাসপাতালে মোট শয্যা রয়েছে ১৩ হাজার ৫১৬টি। এর মধ্যে ১১ হাজার ৫৮১টি শয্যাই খালি পড়ে আছে। এসব হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা রয়েছে ১ হাজার ২৩৭টি, যার মধ্যে ১ হাজার ১২টি খালি। তিন সপ্তাহ আগে আইসিইউর শয্যা খালি ছিল ১ হাজার ২১৩টি।

ডেল্টার চেয়ে ওমিক্রন আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকলেও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরিসংখ্যান অনেক কম। একই সঙ্গে আইসিইউ এবং অক্সিজেনও তুলনামূলক অনেক কম লাগছে।

দেশে হাসপাতালগুলোয় অক্সিজেনের দৈনিক চাহিদা ১২০ থেকে ১৫০ টন। এখনও চাহিদার চেয়ে জোগান বেশি বলছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ফের হাসপাতালগুলোকে পুনরায় প্রস্তুতির নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মী, নার্স ও চিকিৎসদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। তবে করোনা নিয়ন্ত্রণে না রাখতে পারলে হাসপাতালে রোগীর জায়গা দেয়া সম্ভব হবে না।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান বলেন, ‘ওমিক্রন রোগীদের চিকিৎসা অধিকাংশই হচ্ছে বাসাবাড়িতে। হাসাপাতালে রোগী আসছে কম। তবে কিছুদিনের মধ্যেই দেশে এই চিত্র পাল্টে যাবে। কারণ দেশে করোনা চিকিৎসা সরকার বিনা মূল্যে দিচ্ছে।

‘দেশে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ হাজার রোগী শনাক্ত হচ্ছে। সংখ্যাটা মূলত ধরা যায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার। এর ৩ থেকে ৫ শতাংশ লোক হাসপাতালে ভর্তি হয়।’

ডা. সায়েদুর রহমান, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সবার আগে ৫০ শতাংশ জনগোষ্ঠীকে টিকা দিতে হবে। তা ছাড়া আগের করোনা ঢেউয়ে আক্রান্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ মানুষের দেহে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে হবে। তাহলেই হাসপাতালে রোগী ভর্তি হওয়ার সংখ্যাটা কম থাকবে।

‘তবে দেশে এ পর্যন্ত টিকা নিয়েছেন ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ মানুষ। এখনও ৬০ শতাংশ মানুষ টিকার বাইরে। সংক্রমণ এভাবে বাড়তে থাকলে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে হাসপাতালগুলো রোগীতে ভর্তি হয়ে যাবে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর শঙ্কাটা অবশ্যই ঠিক।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামে স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকাদান শুরু
ষাটোর্ধ্বরা পাবেন বুস্টার ডোজ

শেয়ার করুন

করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে বাংলাদেশ

করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে বাংলাদেশ

গত ২ সপ্তাহে করোনা রোগী ও সংক্রমণ হার বৃদ্ধি পেয়েছে টানা।

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনা সংক্রমণের পর ২০২১ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তা নিয়ন্ত্রণে আসে। মার্চের শেষে আবার দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানে। সেটি নিয়ন্ত্রণে আসে গত ৪ অক্টোবর। গত ৯ জানুয়ারি তা ৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ার পর তৃতীয় ঢেউয়ের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়। দুই সপ্তাহের মাথায় শনাক্তের হার এখন ৩০ ছুঁইছুঁই।

টানা ১৫ দিন পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ায় দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউ ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে গেল। শনাক্তের হার এখন অবশ্য ৩০ শতাংশ ছুঁইছুঁই।

গত ৭ জানুয়ারি পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ ছাড়ানোর পর প্রায় প্রতিদিনই এর চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে।

শুক্রবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো তথ্যে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনার নতুন রোগী পাওয়া গেছে ১১ হাজার ৪৩৪ জন। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার পাওয়া গেছে ২৮ দশমিক ৪৯।

এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ভাইরাসটিতে দেশে আক্রান্ত হয়েছে ১৬ লাখ ৬৪ হাজার ৬১৬ জন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৫৫ হাজার ৫৯৭ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ভাইরাসটিতে মারা গেছে ১২ জন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ভাইরাসটিতে মৃত্যু হয়েছে ২৮ হাজার ১৯২ জনের।

আগের দিন শনাক্ত হয়েছিল ১০ হাজার ৮৮৮ জন। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ছিল ২৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে বাংলাদেশ

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শুক্রবার করোনা আক্রান্ত রোগীকে নিয়ে যাচ্ছেন স্বজন। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

করোনার ঢেউ মানে কী

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা অনুযায়ী সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের বেশি থেকে এর নিচে নেমে এলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ধরা হয়। উল্টোপথে যাত্রা অর্থাৎ সংক্রমণের হার ৫-এর নিচে থেকে ৫ ছাড়ালে পরবর্তী ঢেউ আঘাত হেনেছে ধরা হয়।

তবে এক দিনের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয় না। পরপর দুই সপ্তাহ যদি সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের বেশি বা কম থাকে, তাহলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বা পরবর্তী ঢেউ আঘাত হেনেছে বলে ধরা হয়।

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনা সংক্রমণের পর ২০২১ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তা নিয়ন্ত্রণে আসে। মার্চের শেষে আবার দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানে। সেটি নিয়ন্ত্রণে আসে গত ৪ অক্টোবর।

করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে বাংলাদেশ

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শুক্রবার করোনা আক্রান্ত রোগীকে অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামাচ্ছেন স্বজনরা। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

এরপর থেকে পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ক্রমেই কমছিল। এক পর্যায়ে ২ শতাংশের নিচে নেমে ১ শতাংশের কাছাকাছি চলে আসে। তবে শীত পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সংক্রমণের হার ক্রমে বাড়তে থাকে।

গত ৭ জানুয়ারি শনাক্তের হার ৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ার পর এক দিন ছাড়া প্রতিদিনই এই হার বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে রোগীর সংখ্যা।

এই ১৫ দিনে রোগী ১ হাজার ১৪৬ জন থেকে বেড়ে ছয় গুণ হয়ে গেছে এবং প্রায় প্রতিদিনই তা বাড়ছে।

এই কয়দিনে কেবল দুটি শনিবার আগের দিনের তুলনায় কম রোগী পাওয়া গেছে। এর কারণ অবশ্য ভিন্ন। প্রতি শুক্রবার সাধারণত করোনার পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে নমুনা কম জমা পড়ে। এ কারণে পর দিন কম রোগী পাওয়া যায়।

তৃতীয় ঢেউয়ে শনাক্ত বাড়লেও মৃত্যু কম

তবে প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ের তুলনায় এবার মৃত্যুর হার তুলনামূলক কম।

করোনার প্রথম ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসার দিন পর্যন্ত সারা দেশে শনাক্ত হয়েছিল পাঁচ লাখ ৩৬ হাজার ৫৪৫ জন। সেদিন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছিল আট হাজার ১৬১ জন।

গত বছরের ২০ মার্চ যেদিন করোনার দ্বিতীয় ঢেউ নিশ্চিত হয়, সেদিন পর্যন্ত দেশে ভাইরাসটিতে শনাক্ত হয়েছিল ৫ লাখ ৬৮ হাজার ৭০৬ জন। মৃত্যু হয় ৮ হাজার ৬৬৮ জনের।

করোনার প্রথম ঢেউয়ে ছড়ায় ইতালীয়, ইউকে ও সাউথ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট।

গত ৪ অক্টোবর যেদিন দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসা নিশ্চিত হয়, সেদিন পর্যন্ত দেশে ভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয় সেদিন পর্যন্ত দেশে শনাক্তের সংখ্যা ছিল ১৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭৫৮ জন। এর মধ্যে মৃত্যু হয় ২৭ হাজার ৫৯১ জনের।

করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে বাংলাদেশ

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শুক্রবার করোনা আক্রান্ত রোগীকে নিয়ে যাচ্ছেন এক স্বজন। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

অর্থাৎ দ্বিতীয় ঢেউয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল প্রথম ঢেউয়ের চেয়ে অনেক বেশি। এই ঢেউয়ে শনাক্ত হয় ৯ লাখ ৯০ হাজার ৫২ জন। আর মৃত্যু হয় ১৮ হাজার ৯২৮ জন।

প্রাণঘাতি দ্বিতীয় ঢেউয়ে ছড়ায় করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট নামে ভারতীয় ধরন। তৃতীয় ঢেউয়ে ছড়াচ্ছে নতুন ধরন ওমিক্রন, যদিও ডেল্টাও ছড়াচ্ছে সমানতালে।

তবে গত ৯ জানুয়ারি থেকে সংক্রমণের হার ও রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকলেও মৃত্যুর সংখ্যা ৪ থেকে সর্বোচ্চ ১২ জন পর্যন্ত উঠানামা করে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আবু জামিল ফয়সাল অবশ্য মনে করেন, এই পরিসংখ্যানের কারণে অসতর্ক থাকার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আগেই বলেছিল ওমিক্রনে মৃত্যুর হার কম। সেটা জেনে লোকজন স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে অনীহা দেখাচ্ছে। এমনকি সরকার যে বিধিনিষেধ দেখাচ্ছে, সেটিও সঠিকভাবে মানছে না। তবে এখনও ডেল্টার প্রাধান্য রয়েছে।

‘ডেল্টায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা খুবই অসুস্থ হচ্ছে, হাসপাতালে ভর্তি হতে হচ্ছে। তাদের সমস্যা আগের মতোই হচ্ছে। এ ছাড়া যাদের মধ্যে ডায়াবেটিকস, উচ্চ রক্তচাপ ছাড়া অন্যান্য ক্রনিক ডিজিজ আছে, এই ধরনের রোগীরা করোনায় আক্রান্ত হলে জটিল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সে জন্য স্বাস্থ্যবিধি মানাতে কঠোর হওয়া উচিত।

আসছে নতুন নতুন বিধিনিষেধ

তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কায় গত ১৩ জানুয়ারি থেকে নানা বিধিনিষেধ কার্যকর হয়েছে, তবে এগুলো অনেকটাই কাগুজে বাঘে পরিণত হয়েছে।

তবে বিপর্যয়ের আশঙ্কায় সরকারের পক্ষ থেকে ‘অ্যাকশন নেয়ার’ ঘোষণা এসেছে। যেদিন তৃতীয় ঢেউ নিশ্চিত হয়েছে, সেদিন স্কুল-কলেজ আবার বন্ধ করে দেয়ার আদেশ এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সশরীরে ক্লাস বাদ দিয়ে আবার অনলাইনে ক্লাস নেয়ার ঘোষণা এসেছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

পাশাপাশি টিকা কার্ডের শর্তে সামাজিক অনুষ্ঠানে সর্বোচ্চ ১০০ জনকে ঢুকতে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বই মেলা ও বাণিজ্য মেলায় কোনো সীমা বেঁধে দেয়া না হলেও সেখানে টিকা সনদ ছাড়া যাওয়া যাবে না বলে জানানো হয়েছে।

তবে এখন পর্যন্ত সাধারণ ছুটি, লকডাউন বা শাটডাউনের মতো বিধিনিষেধ দেয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে সরকার।

করোনার প্রাদুর্ভাবের পর ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ৬৬ দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। দ্বিতীয় ঢেউয়ে ২০২১ সালের ৫ এপ্রিল থেকে প্রথমে লকডাউন ও ১ জুলাই থেকে শাটডাউন নামে বিধিনিষেধ দেয়া হয়। গত ১১ আগস্ট শাটডাউন প্রত্যাহার করা হয়।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামে স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকাদান শুরু
ষাটোর্ধ্বরা পাবেন বুস্টার ডোজ

শেয়ার করুন

টিকা কার্ডের শর্তে রাজনৈতিক-সামাজিক অনুষ্ঠানে ১০০ জন

টিকা কার্ডের শর্তে রাজনৈতিক-সামাজিক অনুষ্ঠানে ১০০ জন

করোনায় যে কোনো ধরনের সমাবেশে ১০০ জনের বেশি যোগ দিতে পারবেন না। ফাইল ছবি

নির্দেশনা বলা হয়, যেকোনো ধরনের অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই করোনা প্রতিরোধী টিকা সার্টিফিকেট বা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আরটি-পিসিআর টেস্টের ফল সঙ্গে নিতে হবে।

এখন থেকে কোনো ধরনের রাষ্ট্রীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় সমাবেশ বা অনুষ্ঠানসমূহে ১০০ জনের বেশি জনসমাগম করা যাবে না বলে নির্দেশনা জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

শুক্রবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে পাঁচ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

নির্দেশনায় সামাজিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্কুল-কলেজ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। যা শুক্রবার থেকেই বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।

অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে তাদের ক্লাস পরীক্ষার বিষয়ে নিজেদের সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে।

নির্দেশনা বলা হয়, যেকোনো ধরনের অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই করোনা প্রতিরোধী টিকা সার্টিফিকেট বা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আরটি-পিসিআর টেস্টের ফল সঙ্গে নিতে হবে।

পাশাপাশি আরেক নির্দেশনায় বলা হয়, সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিল্প-কলকারখানাগুলোতে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আবশ্যিকভাবে করোনা টিকার সার্টিফিকেট নিতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে দায়িত্ব নিতে বলেছে।

বাজার, মসজিদ, বাসস্ট্যান্ড, লঞ্চঘাট, রেলস্টেশনসহ সব ধরনের জনসমাবেশে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি মনিটর করতে বলা হয়েছে।

নির্দেশনা জারির পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সংবাদ সম্মেলনে এসে বলেন, ‘প্রতিদিন আক্রান্তের হার বেড়ে যাচ্ছে। ১১ দফা দেয়ার পরেও সাধারণ মানুষ তা মানছে না। এভাবে আক্রান্তের হার বাড়তে থাকলে হাসপাতালের বেড খালি থাকবে না। স্কুলে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় আগামী দুই সপ্তাহ স্কুল, কলেজ, ভার্সিটি বন্ধ থাকবে।’

দেশে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের কারণে সংক্রমণ দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে। গত বছরের আগস্টের পর বৃহস্পতিবার সবচেয়ে বেশি রোগী পাওয়া গেছে। এদিন শনাক্ত হয়েছে ১০ হাজার ৮৮৮ জন।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামে স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকাদান শুরু
ষাটোর্ধ্বরা পাবেন বুস্টার ডোজ

শেয়ার করুন