এইচএসসির দ্বিতীয় দিনে অনুপস্থিত ৮ হাজার

player
এইচএসসির দ্বিতীয় দিনে অনুপস্থিত ৮ হাজার

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানানো হয়, সকালের পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল ৩ হাজার ১১৯ জন। বিকেলের পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল ৫ হাজার ৫৮ জন। দুই শিফটে মোট অনুপস্থিত ছিল ৮ হাজার ১৭৭ জন শিক্ষার্থী।

এইচএসসি পরীক্ষার দ্বিতীয় দিনে দেশের নয়টি শিক্ষা বোর্ডে আট হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। নকল করার অভিযোগে সকালের শিফটের পরীক্ষায় বরিশাল বোর্ডের দুই শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।

এদিন সকালের পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল ৩ হাজার ১১৯ জন। বিকেলের পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল ৫ হাজার ৫৮ জন। দুই শিফটে মোট অনুপস্থিত ছিল ৮ হাজার ১৭৭ জন শিক্ষার্থী।

রোববার সকালে অনুষ্ঠিত হয় যুক্তিবিদ্যা প্রথম পত্র পরীক্ষা। এতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে অনুপস্থিত থাকে ৫৪৩ জন, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৪৯২ জন, রাজশাহী বোর্ডে ৩৫৬ জন, বরিশাল বোর্ডে ১৭৫ জন।

এ ছাড়া সিলেট বোর্ডে অনুপস্থিত ৩২৭ জন, দিনাজপুর বোর্ডে ৪৩৮ জন, কুমিল্লা বোর্ডে ৩২৭ জন, ময়মনসিংহ বোর্ডে ১৪৫ জন, যশোর বোর্ডে ৩১৬ জন।

বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় হিসাববিজ্ঞান প্রথম পত্র পরীক্ষা। এতে ঢাকা বোর্ডে অনুপস্থিত ছিল ১ হাজার ৫৪৮ জন, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৫৯৪ জন, রাজশাহী বোর্ডে ৫১৪ জন, বরিশাল বোর্ডের ৩৬০ জন, সিলেট বোর্ডের ২০০ জন, দিনাজপুর বোর্ডের ৪৫০ জন, কুমিল্লা বোর্ডে ৯৪৪ জন, ময়মনসিংহ বোর্ডের ৭১ জন, যশোর বোর্ডে ৩৮৪ জন।

সাধারণত প্রতি বছর এপ্রিল মাসে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হলেও এ বছর করোনা মহামারির কারণে এই পাবলিক পরীক্ষা ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নেয়ার ঘোষণা দেয় সরকার।

এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিতে নিবন্ধন করেছে ১৩ লাখ ৯৯ হাজার ৬৯০ শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে ছাত্র ৭ লাখ ২৯ হাজার ৭৩৮ জন এবং ছাত্রী ৬ লাখ ৬৯ হাজার ৯৫২ জন।

সাধারণ নয়টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষার জন্য নিবন্ধন করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ১৭ জন। এদের মধ্যে ছাত্র ৫ লাখ ৬৩ হাজার ১১৩ জন এবং ছাত্রী ৫ লাখ ৭৪ হাজার ৯০৪ জন।

মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে আলিমের জন্য নিবন্ধন করেছে ১ লাখ ১৩ হাজার ১৪৪ জন। এদের মধ্যে ছাত্র ৬১ হাজার ৭৩৮ জন এবং ছাত্রী ৫১ হাজার ৪০৬ জন।

এইচএসসি (বিএম/ভোকেশনাল) পরীক্ষার জন্য নিবন্ধন করেছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫২৯ জন। এদের মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ৪ হাজার ৮২৭ জন এবং ছাত্রী ৪৩ হাজার ৬৪২ জন।

দেশে ৯ হাজার ১৮৩টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ২ হাজার ৬২১টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। দেড় বছর পর ১২ সেপ্টেম্বর খুলে দেয়া হয় প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।

আরও পড়ুন:
এইচএসসি পরীক্ষা দিতে আসেনি সাড়ে ৪ হাজার
পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল, শিক্ষককে অব্যাহতি
পরীক্ষা দিচ্ছে সড়ক অবরোধ করা সেই শিক্ষার্থীরা
এইচএসসি পরীক্ষা শুরু
এইচএসসির প্রবেশপত্র না পেয়ে সড়ক অবরোধ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে শাবি শিক্ষকরা

শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে শাবি শিক্ষকরা

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। ফাইল ছবি

শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে রাজধানীর হেয়ার রোডে মন্ত্রীর বাসায় এই বৈঠক শুরু হয়।

ক্যাম্পাসে চলমান সংকট নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির সঙ্গে বৈঠকে বসেছে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধি দল।

রাজধানীর হেয়ার রোডে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে মন্ত্রীর বাসায় এই বৈঠক শুরু হয়।

শিক্ষকদের এই প্রতিনিধি দলে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি তুলসী কুমার দাস, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মুহিবুল আলম, ফিজিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন মো. রাশেদ তালুকদার, অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেস অনুষদের ডিন আরিফুল ইসলাম ও ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন খায়রুল ইসলাম।

এর আগে শুক্রবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের প্রতিনিধি দলটি শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করতে ঢাকায় পৌঁছায়।

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে শাবির বেগম সিরাজুন্নেছা চৌধুরী হলের প্রভোস্ট প্রত্যাহারসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনে নামেন ওই হলের ছাত্রীরা। পরে উপাচার্যের দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাসে হলে ফেরেন তারা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উপাচার্য তাদের দাবি না মেনে সময়ক্ষেপণের চেষ্টা করেন। পরে সেই আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও যোগ দেন।

এই সময়ের মধ্যে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনাও ঘটে। একপর্যায়ে পুলিশ গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করলে আহত হন বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। যদিও পুলিশ ৩০০ জনকে অজ্ঞাত দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করে।

এমন পরিস্থিতিতে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবিতে আমরণ অনশন করছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

আরও পড়ুন:
এইচএসসি পরীক্ষা দিতে আসেনি সাড়ে ৪ হাজার
পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল, শিক্ষককে অব্যাহতি
পরীক্ষা দিচ্ছে সড়ক অবরোধ করা সেই শিক্ষার্থীরা
এইচএসসি পরীক্ষা শুরু
এইচএসসির প্রবেশপত্র না পেয়ে সড়ক অবরোধ

শেয়ার করুন

স্কুল-কলেজ বন্ধেও চলবে টিকা কার্যক্রম

স্কুল-কলেজ বন্ধেও চলবে টিকা কার্যক্রম

স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকলেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের কোভিড টিকা কার্যক্রম চলবে। ফাইল ছবি

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকবে। এ সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের কোভিড টিকা কার্যক্রম চলবে।

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় দুই সপ্তাহ স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকলেও শিক্ষার্থীদের টিকা কার্যক্রম চলবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক মো. শাহেদুল খবির চৌধুরীর সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে শনিবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকবে। এ সময় অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চলবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের কোভিড টিকা কার্যক্রম চলবে।

এ ক্ষেত্রে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক অফিস, জেলা শিক্ষা অফিস ও উপজেলা বা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসকে স্থানীয় প্রশাসন ও সিভিল সার্জনের সঙ্গে সমন্বয় রাখতে বলা হয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের সময় শ্রেণিকক্ষ, গ্রন্থাগার, গবেষণাগারসহ প্রতিষ্ঠানের সব বিদ্যুৎ, টেলিফোন, ইন্টারনেট, পানি ও গ্যাস সংযোগ নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ রাখতে সতর্কতা নিতে বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

এ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তার বিষয়ে গুরুত্ব দিতেও বলা হয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-প্রধান প্রতিষ্ঠানের জরুরি প্রয়োজনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষক ও কর্মচারীদের দায়িত্বে রাখতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রাবাস বা ছাত্রীনিবাসে শিক্ষার্থীরা অবস্থান করছে, সেগুলো পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত খোলা থাকবে।

অধিদপ্তরের অধীন সব দপ্তর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত সব কর্মকর্তা, শিক্ষক ও কর্মচারীর টিকা সনদ নিতে হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যালয় খোলা থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।

পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি ক্রীড়া সমিতির আয়োজনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান ক্রীড়া প্রতিযোগিতা স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
এইচএসসি পরীক্ষা দিতে আসেনি সাড়ে ৪ হাজার
পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল, শিক্ষককে অব্যাহতি
পরীক্ষা দিচ্ছে সড়ক অবরোধ করা সেই শিক্ষার্থীরা
এইচএসসি পরীক্ষা শুরু
এইচএসসির প্রবেশপত্র না পেয়ে সড়ক অবরোধ

শেয়ার করুন

শাবি ভিসির ‘আপত্তিকর মন্তব্য’: জাবিতে প্রতীকী অনশন

শাবি ভিসির ‘আপত্তিকর মন্তব্য’: জাবিতে প্রতীকী অনশন

শাবি উপাচার্যের মন্তব্যের প্রতিবাদে জাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। ছবি: নিউজবাংলা

শিক্ষার্থী তাপসী দে প্রাপ্তি বলেন, ‘‘শাবির উপাচার্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা চরম নারী বিদ্বেষমূলক। এই বক্তব্যের প্রতিবাদে ‘জাগো নারী জাগো, বন্দি শিখা’ কর্মসূচির আয়োজন। এ কর্মসূচির তিনটি ইভেন্টের মধ্যে একটি প্রতীকী অনশন। শাবির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সহমত পোষণ করেই আমরা এই প্রতীকী অনশন করেছি।’’

উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের ‘আপত্তিকর মন্তব্যের’ প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ছবি প্রদর্শনী ও প্রতীকী অনশন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছবি চত্বরে শনিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ছবি প্রদর্শনী ও পরে শহীদ মিনারে প্রতীকী অনশন হয়।

প্রদর্শনীতে ছাত্রীরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের বৈষম্যের তীব্রতা তুলে ধরেন। পরে প্রতীকী অনশনে বসেন।

কর্মসূচিতে অংশ নেয়া শিক্ষার্থী তাপসী দে প্রাপ্তি বলেন, ‘‘শাবির উপাচার্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা চরম নারী বিদ্বেষমূলক। এই বক্তব্যের প্রতিবাদে ‘জাগো নারী জাগো, বন্দি শিখা’ কর্মসূচির আয়োজন। এ কর্মসূচির তিনটি ইভেন্টের মধ্যে একটি প্রতীকী অনশন। শাবির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সহমত পোষণ করেই আমরা এই প্রতীকী অনশন করেছি।’’

এ ছাড়া আজ রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে একটি মশাল মিছিল হবে।

শাবি উপাচার্য (ভিসি) ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে সোমবার থেকে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যেই অডিও ক্লিপটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

শাবি উপাচার্যের কথিত অডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘যারা এই ধরনের দাবি (ছাত্রী হলে রাত ১০টা পর্যন্ত ঢোকার অনুমতি) তুলেছে, যে বিশ্ববিদ্যালয় সারা রাত খোলা রাখতে হবে, এইটা একটা জঘন্য রকম দাবি। আমরা মুখ দেখাইতে পারতাম না। এখানে আমাদের ছাত্রনেতা বলছে যে, জাহাঙ্গীরনগরের মেয়েদের সহজে কেউ বউ হিসেবে চায় না।

‘কারণ সারা রাত এরা ঘোরাফেরা করে। বাট আমি চাই না যে আমাদের যারা এত ভালো ভালো স্টুডেন্ট, যারা এত সুন্দর, এত সুন্দর ডিপার্টমেন্টগুলো, বিখ্যাত সব শিক্ষক... তারা যাদের গ্র্যাজুয়েট করবে, এ রকম একটা কালিমা লেপুক তাদের মধ্যে।’

শাবি উপাচার্যের এ ধরনের মন্তব্যে তৈরি হয়েছে নতুন ক্ষোভ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থীর দাবি, ছাত্রী হলের সান্ধ্য আইন বাতিলের দাবিতে আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে এক বৈঠকে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এমন কথা বলেন।

তবে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ নিউজবাংলাকে বৃহস্পতিবার বলেন, ‘এটা একদম বোগাস। আমি এ রকম কোনো কথা বলিনি। এগুলো কেউ এডিট করে প্রচার করতে পারে।’

আরও পড়ুন:
এইচএসসি পরীক্ষা দিতে আসেনি সাড়ে ৪ হাজার
পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল, শিক্ষককে অব্যাহতি
পরীক্ষা দিচ্ছে সড়ক অবরোধ করা সেই শিক্ষার্থীরা
এইচএসসি পরীক্ষা শুরু
এইচএসসির প্রবেশপত্র না পেয়ে সড়ক অবরোধ

শেয়ার করুন

এবার কাফনের কাপড় পরে মিছিলে শাবি শিক্ষার্থীরা

এবার কাফনের কাপড় পরে মিছিলে শাবি শিক্ষার্থীরা

প্রতীকী মরদেহ নিয়ে কাফনের কাপড় পরে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি। ছবি: নিউজবাংলা

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, চলমান আমরণ অনশনের চতুর্থ দিন শনিবার অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৬ জন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মৃত্যুর দিকে গেলেও প্রশাসন এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবিতে এবার কাফনের কাপড় পরে মিছিল করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

একই দাবিতে চলমান আমরণ অনশনে শিক্ষার্থীদের অনেকেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ অবস্থায় শনিবার বিকেলে কাফন মিছিলটি বের করা হয়।

মিছিলে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের গায়ে ছিল কাফনের কাপড় আর সামনে খাটিয়ায় রাখা ছিল একটি প্রতীকী মরদেহ।

শনিবার বেলা ৩টার দিকে ক্যাম্পাসের গোলচত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক ঘুরে পুনরায় গোলচত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, চলমান আমরণ অনশনের চতুর্থ দিন শনিবার অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৬ জন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মৃত্যুর দিকে গেলেও প্রশাসন এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। উপাচার্য পদত্যাগ করছেন না।

এ কারণেই তারা বাধ্য হয়ে কাফনের কাপড় পরে মৌন মিছল করেছেন।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী মোহাইমিনুল বাশার বলেন, ‘আমাদের একটাই দাবি ভিসি ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ। প্রয়োজনে আমরা মারা যাব, তবু আন্দোলন থেকে পিছপা হব না।’

এদিকে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের মাধ্যমে শুক্রবার শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের ঢাকায় গিয়ে আলোচনার প্রস্তাব পাঠান।

শিক্ষার্থীরা মন্ত্রীকে জানান, অসুস্থ ও মুমূর্ষু অবস্থায় সহযোদ্ধাদের ফেলে তাদের ঢাকায় যাওয়া সম্ভব নয়। এ জন্য তারা শিক্ষামন্ত্রীকে ভিডিওকলে আলোচনার প্রস্তাব দেন অথবা শিক্ষামন্ত্রী শাবিতে এসে তাদের অবস্থা দেখার আমন্ত্রণ জানান।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা ঢাকায় না গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিনিধি দল শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করতে শুক্রবার ঢাকায় গেছে।

শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. তুলসী কুমার দাসের নেতৃত্বে এই কমিটিতে আছেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ মুহিবুল আলম, ফিজিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদেন ডিন ড. মো. রাশেদ তালুকদার, অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আরিফুল ইসলাম, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম রুবেল।

শনিবারই তারা শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে জানা গেছে।

এর আগে গত বুধবার বেলা আড়াইটা থেকে উপাচার্যের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরণ অনশনে নামেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

তারও আগে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে বেগম সিরাজুন্নেছা চৌধুরী হলের প্রভোস্ট প্রত্যাহারসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনে নামেন ওই হলের ছাত্রীরা। পরে দাবি মেনে নেয়া হবে বলে উপাচার্যের এমন আশ্বাসে হলে ফেরেন তারা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উপাচার্য তাদের দাবি না মেনে সময়ক্ষেপণের চেষ্টা করেন। পরে সেই আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও যোগ দেন।

এই সময়ের মধ্যে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনাও ঘটে। একপর্যায়ে পুলিশ গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করলে আহত হন বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। যদিও পুলিশ ৩০০ জনকে অজ্ঞাত দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করে।

আরও পড়ুন:
এইচএসসি পরীক্ষা দিতে আসেনি সাড়ে ৪ হাজার
পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল, শিক্ষককে অব্যাহতি
পরীক্ষা দিচ্ছে সড়ক অবরোধ করা সেই শিক্ষার্থীরা
এইচএসসি পরীক্ষা শুরু
এইচএসসির প্রবেশপত্র না পেয়ে সড়ক অবরোধ

শেয়ার করুন

শাবির ১২ শিক্ষার্থীর অবস্থা ‘গুরুতর’

শাবির ১২ শিক্ষার্থীর অবস্থা ‘গুরুতর’

শাবি উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে অমরণ অনশনে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

ভিসি ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে বুধবার থেকে অনশন শুরু করেন ২৪ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে একজনের বাবা হার্ট অ্যাটাক করায় তিনি চলে গেছেন। এখন উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অনশনে আছেন ১১ জন। তাদেরও শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। সবার স্যালাইন চলছে।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যর পদত্যাগের দাবিতে আমরণ অনশনে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ পর্যন্ত ১৫ জন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অসুস্থ ব্যক্তিদের মধ্যে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তিন শিক্ষার্থী আবারও ক্যাম্পাসে এসে অনশনে যোগ দিয়েছেন।

হাসপাতালে এখন চিকিৎসাধীন আছেন ১২ শিক্ষার্থী। তারা সেখানেই অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।

ভিসি ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে বুধবার থেকে অনশন শুরু করেন ২৪ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে একজনের বাবা হার্ট অ্যাটাক করায় তিনি চলে গেছেন। এখন উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অনশনে আছেন ১১ জন। তাদেরও শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। সবার স্যালাইন চলছে।

অনশনরত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ ছাত্রলীগের একটি দল। এই দলের সদস্য নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘শীতেই বেশি কাতর হয়েছেন অনশনকারীরা। তাদের অনেকের শ্বাসকষ্ট দেখা দিয়েছে। জ্বরও আসছে। এ ছাড়া পানিশূন্যতা দেখা দিয়েছে।’

শাবির ১২ শিক্ষার্থীর অবস্থা ‘গুরুতর’


বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন লিজার বিরুদ্ধে খাবারের খারাপ মান, অব্যবস্থাপনা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ আনেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। তারা প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে সরে যান। দাবি পূরণ না হওয়ায় শনিবার সন্ধ্যায় ফের বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়ক আটকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন।

এরপর মধ্যরাতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়ে সরে গেলেও রোববার সকাল থেকে ফের শুরু হয় তাদের বিক্ষোভ।

বিকেলে তারা উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে অবরুদ্ধ করলে পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করে। শিক্ষার্থীরাও ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। এরপর শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া।

শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে কয়েকটি রাবার বুলেট ছোড়া হয়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক জহির উদ্দিন আহমেদ গুলিবিদ্ধ হন। এরপর পুলিশ উপাচার্যকে বের করে তার বাসভবনে নিয়ে যায়।

পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষের পর রোববার অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। শিক্ষার্থীদের সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ।

জরুরি সিন্ডিকেট সভা শেষে রোববার রাতে উপাচার্য ফরিদ প্রাধ্যক্ষ জাফরিনের পদত্যাগের বিষয়টি জানান। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে নামেন।

শাবির ১২ শিক্ষার্থীর অবস্থা ‘গুরুতর’


এর মাঝে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অজ্ঞাতপরিচয় ২০০ থেকে ৩০০ শিক্ষার্থীকে আসামি করে সোমবার রাতে সিলেটের জালালাবাদ থানায় মামলা করে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেলে এই মামলা প্রত্যাহারের জন্য পুলিশকে সময় বেঁধে দেন শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে উপাচার্যের পদত্যাগের সময় বেঁধে দেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার দুপুর ১২টার মধ্যে এ দাবি মানা না হলে আমরণ অনশনে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এ আন্দোলন অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ মিছিল করেন।

শাবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে সরাতে আলোচনার প্রস্তাব নিয়ে একাধিকবার তাদের কাছে যান শিক্ষকদের একাংশ। তবে শিক্ষকদের প্রস্তাব তারা প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনে অনড় থাকেন।

এ অবস্থায় শুক্রবার বিকেলে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ঢাকায় এসে আলোচনা করার আহ্বান জানান।

শিক্ষার্থীরা প্রথমে রাজি হলেও পরে ঢাকায় যেতে সম্মত হননি। শিক্ষামন্ত্রীকে সিলেটে আসার অথবা ভার্চুয়ালি আলোচনা করার প্রস্তাব দেন শিক্ষার্থীরা। তবে আলোচনা করতে ঢাকায় গেছেন শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধিদল।

শাবির ১২ শিক্ষার্থীর অবস্থা ‘গুরুতর’


শুক্রবার রাতে তারা ঢাকায় যান। আজ শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে তারা আলোচনায় বসতে পারেন বলে জানা গেছে।

প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন শাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক তুলসী কুমার দাস। তিনি শনিবার বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে আলোচনায় যেতে শিক্ষামন্ত্রী আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ঢাকায় আসতে রাজি হননি। আমরাই এসেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি নিয়ে আমরা উনার (শিক্ষামন্ত্রীর) সঙ্গে কথা বলব।’

প্রতিনিধিদলে আরও রয়েছেন ফিজিক্যাল সায়েন্সের অনুষদ ডিন অধ্যাপক রাশেদ তালুকদার, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মুহিবুল আলম, অ্যাপ্লাইড সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম, বাণিজ্য অনুষদের ডিন অধ্যাপক খায়েরুল ইসলাম রুবেল।

আরও পড়ুন:
এইচএসসি পরীক্ষা দিতে আসেনি সাড়ে ৪ হাজার
পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল, শিক্ষককে অব্যাহতি
পরীক্ষা দিচ্ছে সড়ক অবরোধ করা সেই শিক্ষার্থীরা
এইচএসসি পরীক্ষা শুরু
এইচএসসির প্রবেশপত্র না পেয়ে সড়ক অবরোধ

শেয়ার করুন

শাবির আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে ঢাবিতে অবস্থান

শাবির আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে ঢাবিতে অবস্থান

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে অবস্থান। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ছাত্র ইউনিয়নের সহসভাপতি অনিক রায় বলেন, ‘শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আজকের চার দিনের মতো অনশন করছে। এর মধ্যে কয়েকজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এখনো উপাচার্য পদত্যাগ করেনি। শিক্ষার্থীদের সেই দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে আমাদের এখানে বসা।'

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান নিয়েছেন একদল শিক্ষার্থী।

শনিবার দুপুর ১২টা থেকে এসব শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অবস্থান নেন। দুপুর দেড়টা পর্যন্ত এই অবস্থান চলবে বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ছাত্র ইউনিয়নের সহসভাপতি অনিক রায় বলেন, ‘শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আজকের চার দিনের মতো অনশন করছে। এর মধ্যে কয়েকজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এখনো উপাচার্য পদত্যাগ করেননি। শিক্ষার্থীদের সেই দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে আমাদের এখানে বসা।

‘আমরা মনে করি, উপাচার্যের যদি ন্যূনতম সম্মানবোধ থাকে তাহলে তার পদত্যাগ করা উচিত। আর তিনি যদি নিজ থেকে পদত্যাগ না করেন তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে আহ্বান করব, অবিলম্বে যেন তাকে অপসারণ করা হয়।’

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি রাশেদ শাহরিয়ার বলেন, ‘শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য যেভাবে পুলিশ ডেকে এনে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালিয়েছেন, একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের উপাচার্য কখনো এটি করতে পারেন না। এই কাজের মধ্য দিয়ে এই উপাচার্য প্রমাণ করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক হিসেবে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।

‘সুতরাং তার পদত্যাগ দাবি করা একটি নায্য দাবি। তাই তাদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে আমরা এখানে অবস্থান করছি।’

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি বলেন, ‘শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনে ছাত্রলীগ এবং পুলিশ যেভাবে হামলা করেছে তার বিরুদ্ধে আমরা সংগঠিত হয়েছি। আমরা শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি একাত্মতা পোষণ করছি।’

তিনি বলেন, ‘শাবির উপাচার্য বর্বর উপাচার্য। উপাচার্য পদে থাকার তার কোনো নৈতিক অধিকার নেই। আমরা অবিলম্বে তার পদত্যাগ চাই।’

আরও পড়ুন:
এইচএসসি পরীক্ষা দিতে আসেনি সাড়ে ৪ হাজার
পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল, শিক্ষককে অব্যাহতি
পরীক্ষা দিচ্ছে সড়ক অবরোধ করা সেই শিক্ষার্থীরা
এইচএসসি পরীক্ষা শুরু
এইচএসসির প্রবেশপত্র না পেয়ে সড়ক অবরোধ

শেয়ার করুন

পরীক্ষা স্থগিতের প্রতিবাদে ৭ কলেজ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

পরীক্ষা স্থগিতের প্রতিবাদে ৭ কলেজ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বর এলাকায় সাত কলেজ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। ছবি: নিউজবাংলা

পরীক্ষা স্থগিতের প্রতিবাদে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নীলক্ষেত এলাকায় বিক্ষোভে নামেন শিক্ষার্থীরা। তাদের রাস্তা অবরোধে ওই এলাকায় সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। এরপর বেলা ১১টা ৫ মিনিটের দিকে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরের সামনে অবস্থান নেন।

কোনো ধরনের নোটিশ ছাড়া হঠাৎ পরীক্ষা স্থগিতের প্রতিবাদে বিক্ষোভে নেমেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত রাজধানীর সরকারি সাত কলেজের ডিগ্রির শিক্ষার্থীরা।

পরীক্ষা স্থগিতের প্রতিবাদে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নীলক্ষেত এলাকায় বিক্ষোভে নামেন শিক্ষার্থীরা। তাদের রাস্তা অবরোধে ওই এলাকায় সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। এরপর বেলা ১১টা ৫ মিনিটের দিকে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরের সামনে অবস্থান নেন।

বিক্ষোভকারীরা জানান, পূর্ব সূচি অনুযায়ী শনিবার সকালে দ্বিতীয় বর্ষের শেষ পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন তারা। এসে শোনেন পরীক্ষা হবে না। আজকেই শেষ পরীক্ষা ছিল। কোনো ঘোষণা না দিয়ে পরীক্ষা স্থগিতের প্রতিবাদে নীলক্ষেত মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা।

শিক্ষার্থীরা জানান, ২০১৮ সালে দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা ২০২২ সালে শেষ হচ্ছে। শেষ পরীক্ষার দিন তা আবার স্থগিত করে দেয়া হলো।

ভিসি চত্বরের সামনে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘নোটিশ না দিয়ে কেন হঠাৎ পরীক্ষা স্থগিত করে দেয়া হলো তা আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন থেকে জানতে চাই।’

কবি নজরুল কলেজের শিক্ষার্থী আবদুস সাত্তার বলেন, ‘আমরা (ডিগ্রি) সবাই ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। এখনও আমাদের দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা শেষ হয়নি। গত নভেম্বরে আমাদের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। আজকে শেষ পরীক্ষা ছিল। কিন্তু পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হলে মাইকে ঘোষণা দিয়ে বলা হয় আমাদের পরীক্ষা স্থগিত। এটি আমাদের সঙ্গে তামাশা।’

পুলিশের অসদাচরণের কারণে নীলক্ষেত অবরোধ থেকে সরে আসতে হয়েছে বলে জানালেন সরকারি বাংলা কলেজের শিক্ষার্থী শাবানা খাতুন। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের পরীক্ষা হঠাৎ স্থগিতের প্রতিবাদে নীলক্ষেত মোড় অবরোধ করি। অবরোধের এক ঘণ্টা পর পুলিশ আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা শুরু করে।

‘এক পুলিশ সদস্য আমাদের উদ্দেশে বলেন, গুলি করা শুরু করলে কেউই থাকতে পারবেন না। আপনারা বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের কন্ট্রোলার অফিসে গিয়ে আপনাদের দাবি জানান। এরপর আমরা ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসি।’

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের বিষয়ে জানতে সাত কলেজের সমন্বয়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসবে কেন? তারা তাদের অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলুক। অধ্যক্ষরা আমাদের জানালে তারপর আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারব।’

পূর্ব নোটিশ ছাড়া পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা সরকারের সিদ্ধান্ত ছিল। সরকারতো ঘোষণা করেছে স্কুল কলেজ ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। সরকারের সিদ্ধান্তের পরতো আর নোটিশ দিতে হয় না।’

আরও পড়ুন:
এইচএসসি পরীক্ষা দিতে আসেনি সাড়ে ৪ হাজার
পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল, শিক্ষককে অব্যাহতি
পরীক্ষা দিচ্ছে সড়ক অবরোধ করা সেই শিক্ষার্থীরা
এইচএসসি পরীক্ষা শুরু
এইচএসসির প্রবেশপত্র না পেয়ে সড়ক অবরোধ

শেয়ার করুন