ওমিক্রন: ‘এখনই সীমান্ত বন্ধের পরিকল্পনা নেই’

player
ওমিক্রন: ‘এখনই সীমান্ত বন্ধের পরিকল্পনা নেই’

সাভারে নবনির্মিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব হেলথ ম্যানেজমেন্ট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ছবি: নিউজবাংলা

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের বর্ডার বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই। বর্ডারে আমরা পরীক্ষা, স্ক্রিনিং ও কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা জোরদার করেছি। এখনও দেশে সে রকম কোনো পরিবেশ তৈরি হয়নি যে আমাদের লকডাউনের চিন্তা করতে হবে। দেশ ভালো আছে, নিরাপদে আছে।’ 

করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের কারণে এখনই সীমান্ত বন্ধের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

সাভারে নবনির্মিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব হেলথ ম্যানেজমেন্ট পরিদর্শনে গিয়ে রোববার দুপুরে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের বর্ডার বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই। বর্ডারে আমরা পরীক্ষা, স্ক্রিনিং ও কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা জোরদার করেছি। এখনও দেশে সে রকম কোনো পরিবেশ তৈরি হয়নি যে আমাদের লকডাউনের চিন্তা করতে হবে। দেশ ভালো আছে, নিরাপদে আছে।

‘যারা বিদেশ থেকে আসবেন তারা যেন সংক্রমিত হয়ে দেশে না আসেন। আমি আহ্বান করব, বিশেষ করে সংক্রমিত আফ্রিকাতে যারা আছেন আপনার এই মুহূর্তে দেশে না এলে ভালো হয়। কারণ আপনাদের পরিবার ও দেশকে নিরাপদে রাখতে হলে এখন যেখানে আছেন সেখানেই থাকুন।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাভারে গণটিকাদান কর্মসূচি পরিদর্শন করেন। তার সঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমানসহ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ওমিক্রন: ‘এখনই সীমান্ত বন্ধের পরিকল্পনা নেই’
সাভারে নবনির্মিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব হেলথ ম্যানেজমেন্ট

পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের আরও বলেন, ‘ওমিক্রন প্রতিরোধে আমাদের যা যা প্রস্তুতি নেয়া সম্ভব আমরা নিচ্ছি। আমাদের আন্তমন্ত্রণালয়ের বৈঠক হয়েছে। সেখানে অনেকগুলো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আমাদের দেশে যারা আফ্রিকা থেকে আসছে তাদের ৪৮ ঘণ্টা আগে পরীক্ষা করে আসতে হবে এবং ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। ওমিক্রন আক্রান্ত দেশ থেকে এলেও পরীক্ষা করে আসতে হবে।

‘ঢাকায় অনেকগুলো কোয়ারেন্টিন সেন্টার করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। হাসপাতালগুলোকে কোয়ারেন্টিন সেন্টার করার কথা বলা হয়েছে। যারা বিদেশ থেকে আসবে তাদের নিজ খরচে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুই হাজার বর্গফুটের আরটিপিসিআর ল্যাব ছিল। সেটির আয়তন বাড়িয়ে তিন হাজারের বেশি বর্গফুটের করা হয়েছে। সেখানে পরীক্ষা, বসা, খাওয়া ও নামাজসহ সবকিছুর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জাহিদ মালেক বলেন, ‘আমাদের হাসপাতাল ও আইসিইউ প্রস্তুত রেখেছি। সব জেলা শহর ও বিভাগীয় কার্যালয়ে চিঠি দিয়ে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে আমরা প্রস্তুত আছি।

‘জনবল বাড়ানোর জন্য ৮ হাজার নার্স ও ৪ হাজার চিকিৎসক নতুন নিয়োগ দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে টিকা কর্মসূচিও জোরদার করা হয়েছে। প্রায় সাড়ে ১০ কোটি টিকার ডোজ দেয়া হয়ে গেছে।’

আরও পড়ুন:
নকল বাহুতে টিকা নিতে গিয়ে ধরা
ভারতে ওমিক্রন আক্রান্তের সংস্পর্শে পাঁচজনের করোনা
নিউ ইয়র্কে ৫ জনের শরীরে ওমিক্রন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মাঘের বিকেলে ঢাকায় আকাশ ভেঙে বৃষ্টি

মাঘের বিকেলে ঢাকায় আকাশ ভেঙে বৃষ্টি

শীতের বিকেলে হঠাৎ ঝুম বৃষ্টিতে স্নিগ্ধ ঢাকা। ছবি: সাইফুল ইসলাম

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ঢাকার পাশেই একটি বজ্রমেঘের সৃষ্টি হয়েছে, যা বর্তমানে কুমিল্লার দিকে যাচ্ছে। এর প্রভাবে ঢাকাসহ সারা দেশে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বৃষ্টি শুরু হলেও শীতের মাত্রা বাড়ছে না।

শীতের বিকেলে রাজধানীতে হঠাৎ ঝুম বৃষ্টি। মাঘ মাসে পাওয়া গেল ভরা বর্ষার আমেজ। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হচ্ছে সারা দেশেই। তবে এই অবস্থা বেশিক্ষণ স্থায়ী হবে না।

বুধবার দিনের শুরু থেকেই রাজধানীর আকাশ ছিল মেঘে ঢাকা। বিকেল ৪টা থেকে শুরু হয় গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি। কোথাও কোথাও তা বর্ষার মতন রূপ নেয় সোয়া ৪টার দিকে।

নিউজবাংলাকে আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বলেন, ঢাকার পাশেই একটি বজ্রমেঘের সৃষ্টি হয়েছে, যা বর্তমানে কুমিল্লার দিকে যাচ্ছে। এর প্রভাবে ঢাকাসহ সারা দেশে বৃষ্টি শুরু হয়েছে।

এই আবহাওয়াবিদ জানান, বৃষ্টি শুরু হলেও শীতের মাত্রা বাড়ছে না। তাপমাত্রার এমন পরিস্থিতি থাকবে অন্তত আরও দুদিন। এরপর তাপমাত্রা কিছুটা কমবে। ফলে শীত কিছুটা বাড়বে।

আবহাওয়া অফিসের ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সারা দেশের আকাশ আংশিক মেঘলা থাকবে। বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় হালকা বা গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

মধ্যরাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও নদী-অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে। কোথাও কোথাও তা দুপুর নাগাদ অব্যাহত থাকতে পারে।

আরও পড়ুন:
নকল বাহুতে টিকা নিতে গিয়ে ধরা
ভারতে ওমিক্রন আক্রান্তের সংস্পর্শে পাঁচজনের করোনা
নিউ ইয়র্কে ৫ জনের শরীরে ওমিক্রন

শেয়ার করুন

করোনামুক্ত হয়ে সস্ত্রীক বাসায় ফিরলেন প্রধান বিচারপতি

করোনামুক্ত হয়ে সস্ত্রীক বাসায় ফিরলেন প্রধান বিচারপতি

প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েস সিদ্দিকী। ফাইল ছবি

সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ও হাইকোর্ট বিভাগের বিশেষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান বলেন, ‘মঙ্গলবার করোনা নেগেটিভ হওয়ায় প্রধান বিচারপতি বাসায় ফিরেছেন এবং ‍সুস্থ আছেন।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে করোনাভাইরাস মুক্ত হয়ে বাসায় ফিরেছেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও তার স্ত্রী ডালিয়া ফিরোজ।

সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ও হাইকোর্ট বিভাগের বিশেষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান বুধবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার করোনা নেগেটিভ হওয়ায় প্রধান বিচারপতি বাসায় ফিরেছেন এবং ‍সুস্থ আছেন।’

প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী করোনা আক্রান্ত হয়ে ১৯ জানুয়ারি রাত থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

তার আগের দিন ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে প্রধান বিচারপতির স্ত্রীও হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

দেশের ২৩তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে গত ৩০ ডিসেম্বর নিয়োগ পান হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। নতুন বছর থেকে দায়িত্ব পালন শুরু করেন তিনি।

আরও পড়ুন:
নকল বাহুতে টিকা নিতে গিয়ে ধরা
ভারতে ওমিক্রন আক্রান্তের সংস্পর্শে পাঁচজনের করোনা
নিউ ইয়র্কে ৫ জনের শরীরে ওমিক্রন

শেয়ার করুন

দেশবিরোধিতায় বিএনপি-জামায়াতের ৮ লবিস্ট ফার্ম

দেশবিরোধিতায় বিএনপি-জামায়াতের ৮ লবিস্ট ফার্ম

সংসদে বক্তব্য দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন দেশের, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের লবিস্ট নিয়োগ দেশটির আইন অনুযায়ী বৈধ প্রক্রিয়া। ভারত, পাকিস্তান, কাতার, ইরান, ইরাক, তুরস্ক, শ্রীলঙ্কাসহ পৃথিবীর অনেক দেশ ও প্রতিষ্ঠানই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের রাজনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য লবিস্ট নিয়োগ করে থাকেন। জামায়াত-বিএনপি মোট আটটি লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করেছে।’

সরকার ও দেশবিরোধী প্রচারণা চালাতে বিভিন্ন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপি-জামায়াত আট লবিস্টফার্ম নিয়োগ করেছে বলে সংসদে তথ্য দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশন শুরু হলে বুধবার এ-সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরেন তিনি।

গত ২৩ জানুয়ারি জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকা বিএনপির লবিস্ট নিয়োগের তথ্য চান। সে সময় বিস্তারিত তথ্যের জন্য তিনি সময় চেয়েছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন।

অধিবেশনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন দেশের, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের লবিস্ট নিয়োগ দেশটির আইন অনুযায়ী বৈধ প্রক্রিয়া। ভারত, পাকিস্তান, কাতার, ইরান, ইরাক, তুরস্ক, শ্রীলঙ্কাসহ পৃথিবীর অনেক দেশ ও প্রতিষ্ঠানই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের রাজনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য লবিস্ট নিয়োগ করে থাকে। জামায়াত-বিএনপি মোট আটটি লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করেছে।

‘এগুলো আমার তথ্য নয়, যেগুলো নিবন্ধন করেছে সে তথ্যগুলোই দেয়া হয়েছে। ২০১৪ সালে একটি ফার্মকে নিয়োগ করেছিল জামায়াত। এর উদ্দেশ্য ছিল, তখন যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল চলমান ছিল, সেটা বন্ধ করার জন্য।’

তিনি বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধের জন্য তারা এই লবিস্ট নিয়োগ করে এবং এর জন্য তারা দেড় লাখ ডলার দেয়। তারা এ কাজগুলো করে যাতে বিচার বন্ধ করা যায়। তখনও তারা ইউএস কংগ্রেসের মেম্বারদেরও এনগেজ করেছিল। আরও ৫০ হাজার ডলার দিয়ে কেসিবিয়ান অ্যাসোসিয়েটস নামের একটি কোম্পানিকে তারা নিয়োগ করে একই কারণে।

‘ইউএস সরকারকে প্রভাবিত করার জন্য তাদের একটি সংস্থা হলো পিস অ্যান্ড জাস্টিস। জিয়াউল ইসলামের পক্ষ থেকে একটি জামায়াত-বিএনপির প্রতিষ্ঠান এক লাখ ৩২ হাজার ডলার দিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে নিয়োগ করে একই কারণে। পরে যদি দেখেন কমডাক্ট পাবলিক অ্যাফেয়ার্স আউট রিচ, সে জন্য তারা লবিস্ট নিয়োগ করে।’

জামায়াতের পাশাপাশি বিএনপিও লবিস্ট নিয়োগ করে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

মোমেন বলেন, ‘বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি ফেব্রুয়ারি ২০১৫ থেকে এপ্রিল ২০১৭ এতগুলো দিন ২৭ লাখ ডলার প্রতি মাসে দিয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার। এই তথ্যগুলো আমি বানাইনি, এগুলো আমেরিকান ওয়েবসাইটে আছে। আপনারাও দেখতে পারেন। সেখান থেকেই আমরা সংগ্রহ করেছি।

‘আমেরিকায় যে লবিস্ট নিয়োগ করা হয় তারা তাদের আইন অনুযায়ী কী কারণে নিয়েছে, কত টাকা নিয়েছে, সেটা রেজিস্ট্রার করে। সেখান থেকে আমরা তথ্য পেয়েছি। ২০১৯ সালের অক্টোবরে, এটা খুব তাজ্জবের বিষয়। বিএনপির কিছু নেতারা আমেরিকায় গিয়েছেন। তাদের সঙ্গে অ্যাপয়েন্টমেন্ট করার জন্য, আমাদের দেশের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়ার জন্য তারা বিভিন্ন ধরনের লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করেছিল। এটা খুবই দুঃখের বিষয়।’

তিনি বলেন, ‘যেটা মুজিবুল হক চুন্নু সাহেব বলেছিলেন যে লবিস্ট নিয়োগ করা অন্যায় নয়, কিন্তু লবিস্ট কী কারণে নিয়োগ করা হয়েছে, সেটা হচ্ছে দেখার বিষয়। আরেকটি বিষয় লবিস্টের টাকা কোথা থেকে গেল, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বলতে চাই যে, তারা যে লবিস্ট নিয়োগ করেছেন দুঃখের বিষয় হচ্ছে, তাদের লবিস্টরা এমন সব বক্তব্য তুলে ধরেছেন তা দেশের মানুষ জানলে দুঃখিতই শুধু হবে না, তাদের ধিক্কার দেবে। কারণ লবিস্টরা চিঠি দিয়েছে, আমেরিকানদের বলেছে, তোমরা যে বাংলাদেশে সাহায্য-সহযোগিতা করো- এগুলো তোমরা বন্ধ করে দাও।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এগুলো বন্ধ করলে কী হবে? এই যে আপনারা যারা বিরোধী দলে আছেন, যে যেখানে আছেন, নাগরিকরা দুই বেলা খেতে পারেন, ইলেকট্রিসিটি পান, দেশের উন্নয়ন হচ্ছে- এই উন্নয়ন যেন ব্যাহত হয়, এ জন্য তারা ইউএস সরকারে বলছেন এগুলো। আমি বিশ্বাস করতে পারি না, নিশ্চয়ই বিএনপির মাঠে ময়দানে যে কর্মীরা আছেন, তারা কেউই চাইবেন না দেশের অমঙ্গল হোক।

‘তারা কেউই চাইবেন না ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হোক। কিন্তু তাদের কিছু নেতৃস্থানীয় লোক তাদের অগোচরে এমন কাজ করেছেন যে, আমার বিশ্বাস, এখানে যারা সংসদ সদস্য আছেন, তারা এক বাক্যে স্বীকার করেন এ ধরনের লবিস্ট তারা বাংলাদেশের জন্য চাইবেন না।’

আরও পড়ুন:
নকল বাহুতে টিকা নিতে গিয়ে ধরা
ভারতে ওমিক্রন আক্রান্তের সংস্পর্শে পাঁচজনের করোনা
নিউ ইয়র্কে ৫ জনের শরীরে ওমিক্রন

শেয়ার করুন

সিইসি-ইসি নিয়োগ বিল পরীক্ষার প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপন

সিইসি-ইসি নিয়োগ বিল পরীক্ষার প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপন

জাতীয় সংসদের অধিবেশন। ফাইল ছবি

স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বুধবার সংসদ অধিবেশন শুরু হলে বিলসংক্রান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য মো. শহীদুজ্জামান সরকার।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচন কমিশনার (ইসি) নিয়োগ আইনসংক্রান্ত বিল পরীক্ষা করে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেছে আইন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বুধবার সংসদ অধিবেশন শুরু হলে বিলসংক্রান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য মো. শহীদুজ্জামান সরকার। তবে প্রতিবেদনে কী রয়েছে তা তাৎক্ষণিক জানা যায়নি।

এর আগে গত ২৩ জানুয়ারি সিইসি ও ইসি নিয়োগ বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। এ সময় বিএনপির সংসদ সদস্যরা বিলটির বিরোধিতাও করেছিলেন।

গত ১৭ জানুয়ারি মন্ত্রিসভা প্রস্তাবিত আইনটির (বিল) খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন করে। পরে এ নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

তিনি বলেছিলেন, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন ২০২২-এর খসড়া চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এটা আর্টিকেল ১৮(১) এর একটি বিধানে আছে, রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দিতে পারেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে এই আইন নিয়ে আসা হয়েছে।

‘এটা খুব বেশি বড় আইন না। এ ধরনের আইন আমরা আগেও হ্যান্ডেল করে এসেছি। সেই ধারা অনুযায়ীই এটা করা হয়েছে।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানিয়েছিলেন, এখানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশের জন্য অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হবে। এটা অন্যান্য আইনে যেভাবে আছে, ঠিক সেভাবেই। অনুসন্ধান কমিটি করা হবে। সেটা রাষ্ট্রপতির অনুমতি নিয়ে। সেটার দায়িত্ব ও কার্যাবলি একজন যোগ্য প্রতিনিধির সুপারিশ করা।

কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ফেব্রুয়ারিতে। এমন বাস্তবতায় নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে সর গরম দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন।

আইন করার উদ্দেশ্য তুলে ধরে সংসদে দেয়া বক্তব্যে আইনমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘প্রস্তাবিত বিলটি আইনে পরিণত হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হবে, গণতন্ত্র সুসংহত ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করবে এবং জনস্বার্থ সমুন্নত হবে, আশা করা যায়।’

বিলটিতে বলা হয়েছে, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগদানের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ইতিপূর্বে গঠিত অনুসন্ধান কমিটির ও তৎকর্তৃক সম্পাদিত কার্যাবলি এবং উক্ত অনুসন্ধান কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনারের নিয়োগ বৈধ ছিল বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত বিষয়ে কোনো আদালতে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।’

বিলে সার্চ কমিটির কাজ সুনির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এ কমিটি স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার নীতি অনুসরণ করে দায়িত্ব পালন করবে। আইনে বেঁধে দেয়া যোগ্যতা, অযোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও সুনাম বিবেচনা করে কমিটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করবে।

সার্চ কমিটি সিইসি ও কমিশনারদের প্রতি পদের জন্য দুজন করে ব্যক্তির নাম সুপারিশ করবে। কমিটি গঠনের ১০ কার্যদিবসের মধ্যে সুপারিশ রাষ্ট্রপতির কাছে দেবে বলে বিলে নির্দিষ্ট করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, সার্চ কমিটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার পদে যোগ্যদের অনুসন্ধানের জন্য রাজনৈতিক দল এবং পেশাজীবী সংগঠনের কাছ থেকে নাম আহ্বান করতে পারবে।

সার্চ কমিটিতে থাকতে পারবেন যারা

উত্থাপন করা বিলে বলা হয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতি ছয় সদস্যের একটি সার্চ কমিটি গঠন করবেন। এর সভাপতি হবেন প্রধান বিচারপতি মনোনীত আপিল বিভাগের একজন বিচারক।

সদস্য হিসেবে থাকবেন প্রধান বিচারপতির মনোনীত হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারক, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, সরকারি কমিশনের চেয়ারম্যান এবং রাষ্ট্রপতি মনোনীত দুজন বিশিষ্ট নাগরিক। তিনজন সদস্যের উপস্থিতিতে কমিটির সভার কোরাম গঠন হবে। কমিটির কাজে সাচিবিক সহায়তা দেবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

কারা হতে পারবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার

প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার হিসেবে কাকে নিয়োগ দেয়া হবে তাও নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে বিলে। এতে বলা হয়েছে, এই দুই পদে নিয়োগ পাওয়াদের অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে, ন্যূনতম ৫০ বছর বয়স হতে হবে এবং কোনো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি, বিচার বিভাগীয়, আধাসরকারি বা বেসরকারি পদে তার অন্যূন ২০ বছর কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

যোগ্যতার পাশাপাশি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের অযোগ্যতাও নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। বিলে মোট ছয়টি অযোগ্যতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এগুলো হলো আদালত অপ্রকৃতিস্থ ঘোষণা করলে, দেউলিয়া হওয়ার পর দায় থেকে অব্যাহতি না পেলে, কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব নিলে কিংবা বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা বা স্বীকার করলে, নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে অন্যূন দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) অ্যাক্ট-১৯৭৩ বা বাংলাদেশ কোলাবরেটরস (স্পেশাল ট্রাইব্যুনালস) অর্ডার-১৯৭২-এর অধীনে কোনো অপরাধের জন্য দণ্ডিত হলে এবং আইনের দ্বারা পদাধিকারীকে অযোগ্য ঘোষণা করছে না- এমন পদ ব্যতীত প্রজাতন্ত্রের কর্মে লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকলে।

আরও পড়ুন:
নকল বাহুতে টিকা নিতে গিয়ে ধরা
ভারতে ওমিক্রন আক্রান্তের সংস্পর্শে পাঁচজনের করোনা
নিউ ইয়র্কে ৫ জনের শরীরে ওমিক্রন

শেয়ার করুন

বিশ্বের খর্বাকৃতি গরুর রেকর্ড গড়ার পথে চারু

বিশ্বের খর্বাকৃতি গরুর রেকর্ড গড়ার পথে চারু

বিশ্বের জীবিত গরুর মধ্যে সবচেয়ে খর্বাকৃতির স্বীকৃতি পাওয়ার পথে সাভারের শিকড় অ্যাগ্রোর চারু। ছবি: নিউজবাংলা

রানির পর বিশ্বের সবচেয়ে খর্বাকৃতির গরুর জায়গা এবার পেতে যাচ্ছে শিকড় অ্যাগ্রোরই আরেকটি গরু, নাম চারু। চূড়ান্ত ঘোষণার আগে গরুর মালিকের কাছে প্রয়োজনীয় নথি চেয়েছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস।

বিশ্বের সবচেয়ে ছোট গরুর কথা উঠলেই আসে সাভারের শিকড় অ্যাগ্রোর রানির নাম। খর্বাকৃতির গরুটি বাংলাদেশ তো বটেই জায়গা করে নেয় বিশ্ব মিডিয়ায়ও। শেষ পর্যন্ত অসুস্থ হয়ে মারা যায় রানি। মৃত্যুর পর গিনেস বুকে বিশ্বের সবচেয়ে খর্বাকৃতি গরুর স্বীকৃতি পায় এটি।

রানির এই জায়গা এবার পেতে যাচ্ছে শিকড় অ্যাগ্রোরই আরেকটি গরু, নাম চারু। চূড়ান্ত ঘোষণার আগে গরুর মালিকের কাছে প্রয়োজনীয় নথি চেয়েছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস।

সাভারের আশুলিয়ার চারিগ্রাম এলাকায় শিকড় অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী সুফিয়ান বুধবার সকালে নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, ২০২১ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর শিকড় অ্যাগ্রো থেকে চারুর বিষয়ে গিনেস কর্তৃপক্ষের কাছে ইমেইলের মাধ্যমে আবেদন করা হয়েছিল। তারা চারুকে এই স্বীকৃতি দেয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। তবে এর আগে গিনেস কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কিছু নথি চেয়েছে।

বিশ্বের খর্বাকৃতি গরুর রেকর্ড গড়ার পথে চারু
চারুকে বিশ্বের সবচেয়ে খর্বাকৃতির গরুর চূড়ান্ত স্বীকৃতি দেয়ার আগে গিনেজ কর্তৃপক্ষের নথি চেয়ে পাঠানো মেইল

খামার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চারু নামের গরুটির জন্ম ২০১৯ সালের জুলাই মাসে। সে হিসেবে তার বয়স আড়াই বছর। চারুর এখন চার দাঁত। উচ্চতা ২৩.৫০ ইঞ্চি, লম্বা ২৭ ইঞ্চি ও ওজন ৩৯ কেজি।

২০২১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর গিনেস বুকে মৃত গরু হিসেবে রেকর্ড গড়া রানির উচ্চতা ছিল ২০ ইঞ্চি, লম্বা ২৪ ইঞ্চি ও ওজন ২৬ কেজি।

শিকড় অ্যাগ্রো খামারে গিয়ে দেখা মেলে চারু নামের গরুটির। হেলে দুলে পুরো খামারে হেঁটে বেড়াচ্ছে এটি। খামারটিতে আরও বেশ কয়েকটি ভুট্টি জাতের ছোট গরু থাকলেও চারু কিছুটা আলাদা। লালচে রঙের চারুর কান দুটো খাড়া, পা দুটো খাটো ও মোটা।

খুব দ্রুত সময় লেজ নাড়তে নাড়তে আয়েশ করে খাবার খায় চারু। পুরো খামারজুড়েই ঘাস, পাতা এসব খেতে বেশ ব্যস্ত। ছবি তুলতে গেলে ফিরিয়ে নেয় মুখ, ফিরে যায় ক্যামেরার উল্টো দিকে।

বিশ্বের খর্বাকৃতি গরুর রেকর্ড গড়ার পথে চারু

চারুকে দেখাশুনার দায়িত্বে থাকা খামারের কর্মচারী মো. মামুন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের শিকড় অ্যাগ্রো ইন্ড্রাস্ট্রিজ খামারে অনেক রকমের পশু-পাখি পালন করি। রানি মারা যাওয়ার পর প্রায় এক বছর আগে চারুকে আমরা সিলেট থেকে সংগ্রহ করেছি। যেভাবে রানিকে সংগ্রহ করা হয়েছে সেভাবেই চারুকে আনা হয়েছে।

‘যেহেতু আমাদের রানি মারা গেছে, তাই চারুর প্রতি একটু বেশি যত্ন নেই। স্যাররা এখানে আসার পর ওর নাম চারু দিয়েছে। গিনেস বুক কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী একাধিকবার চারুর মাপের ছবি এবং ভিডিও পাঠানো হয়েছে।’

চারুর চলাফেরার ধরন নিয়ে খামারের আরেক কর্মচারী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে অনেক ধরনের গরু আছে। তবে চারুর চলাফেরা, খাওয়া, ঘুমানো সবার চেয়ে একটু ভিন্ন টাইপের। দেখা যায়, ছবি তুলতে চাইলে ও একটু অন্য টাইপের হয়ে যায়। মুখটা ঘুরিয়ে অন্য দিকে তাকিয়ে থাকে, পেছন দিকে দৌড়াতে থাকে। আকারে ছোট আর পাগুলো গোছাগোছা মোটা। কানগুলো খরগোশের মতো।

‘রানি ছিল আমাদের অমূল্য সম্পদ। রানির চেয়ে চারু একটু পিছিয়েই। যেহেতু একবার রানিকে নিয়ে আমাদের একটা অ্যাক্সিডেন্ট হয়ে গেছে। এজন্য ওই দিক থেকে সতর্ক থেকে চারুকে আমরা একটু বেশি কেয়ারিং থাকি। চলাফেরা, খাওয়া, ঘুমানো সব দিক থেকে সতর্ক থাকি। আর সব গরুর মতই চারু ঘাস, খর, দানাদার খাবার খায়। অন্যান্য গরু, ছাগল সবার সঙ্গে মিলে চারু খাবার খায়।’

শিকড় অ্যাগ্রোর পশু চিকিৎসক প্রতি দু সপ্তাহ পরপর চারুকে দেখতে আসেন এবং চারুর ওজন, শরীর চকচকে আছে কি না, গঠন বাড়ছে কি না এসব দেখে যান।

খামারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও কাজী সুফিয়ানের সঙ্গে কথা হয় নিউজবাংলার। এই খামারি চারুকে নিয়ে যেমন উচ্ছ্বসিত এই সৌখিন খামারি, তেমনি রানির কথা মনে করে বাকরুদ্ধ হয় পড়েন। রানির সঙ্গে কোনো গরুকেই তুলনা করতে রাজি নন তিনি। তার মতে শিকড় খামারে রানি ছিল একটি সিগনেচার!

বিশ্বের খর্বাকৃতি গরুর রেকর্ড গড়ার পথে চারু

সুফিয়ান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট গরু হিসেবে ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখে স্থান করে নেয় আমাদের শিকড় অ্যাগ্রোর রানি। পরম করুণাময়ের ইচ্ছাতেই অফিশিয়ালি বিশ্বরেকর্ডে নাম লেখাবার আগেই আমাদের সবাইকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে রানি মারা যায়। পরবর্তীতে, রানির দেহাবশেষ বায়োডাইভারসিটি কনজারভেশন অ্যান্ড মিউজিয়াম ডেভলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ অফ বাংলাদেশে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

ওই খামারি আরও বলেন, ‘অল্প কদিনেই রানির উল্লেখযোগ্য ভক্ত তৈরি হয়ে গেছিল। আর তাই বেশির ভাগ মানুষই রানির মৃত্যু মেনে নিতে পারেননি। আমরা অনেক টাকায় বিক্রির অফার পেয়েও কেন বিক্রি করিনি সেটা নিয়েও অনেকে বিদ্রূপ করেছেন। কেউ কেউ আমাদের গাফেলতির কথা বলে আমাদের বকাও দিয়েছেন। ঐ সময়টায় ভীষণ খারাপ লাগলেও আমরা দাঁতে দাঁত চেপে পরিস্থিতি মেনে নিয়েছিলাম। আসলে রানির প্রতি সবার ভালবাসাটা আমরা বুঝতাম।’

সুফিয়ান বলেন, ‘রানির মৃত্যুর পর গিনেজ বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ শোক প্রকাশ করে আমাদের ই-মেইল পাঠান। তারা জানান, রানির সম্মানার্থে পৃথিবীর সবচেয়ে জীবিত ছোট গরু হিসেবে আরও একটা ক্যাটাগরি তারা চালু করবেন এবং আমাদের কাছে কমপিট করার মতন কিছু থাকলে চাইলে এতে অংশগ্রহণ করতে পারি।’

বিশ্বের খর্বাকৃতি গরুর রেকর্ড গড়ার পথে চারু
চারুকে বিশ্বের সবচেয়ে খর্বাকৃতির গরুর স্বীকৃতি চেয়ে করা আবেদনের তথ্য গত ২৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ

রানির পর চারুকে কীভাবে খুঁজে পেলেন সে প্রসঙ্গও তুলে ধরেন শিকড় অ্যাগ্রোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও। তিনি বলেন, ‘যারা শিকড় অ্যাগ্রো সম্পর্কে জানেন, তারা নিশ্চয়ই জানেন, আমাদের সুদক্ষ এবং নির্ভরশীল কর্মীবাহিনী প্রতিদিনই দেশের আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়ান। রানির জীবদ্দশায়ই আমাদের সংগ্রহশালায় নতুন চমক যোগ হয় ৪ দাঁতের প্রাপ্তবয়স্ক দেশীয় প্রজাতির বামন গরু চারু। এটিকে বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে জীবিত ছোট গরু হিসেবে গিনেজ বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ স্বীকৃতি দিয়েছে।’

চারুকে নিয়ে পরিকল্পণার বিষয়ে সুফিয়ান বলেন, ‘আমাদের ইচ্ছে ছিল বিশ্বরেকর্ডধারী রানিকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারকে উপহার হিসেবে দেয়া। যেন সরকারের তত্ত্বাবধানে রানি তার জীবনের সর্বোচ্চ সময়টা উপভোগ করতে পারে। কিন্তু রানি অকালে চলে যাওয়ায় সে সুযোগটা আর আমরা পাইনি। এদিকে চারুর বিশ্ব রেকর্ডে স্থান করার আবেদনের শুরু থেকেই আমরা সঙ্গত কারণেই চরম গোপনীয়তা বজায় রেখেছি।

‘বিশ্বরেকর্ডধারী চারু যেন জীবনের সর্বোচ্চ সময়টা উপভোগ করতে পারে এটা আমাদের একান্তই প্রার্থনা। আর তাই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কাছে উপহার হিসেবে চারুকে তুলে দিয়ে চারুর জীবনের সর্বোচ্চ সময়টা উপভোগ করার বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য বাঙ্গালি জাতিকে শিকড় অ্যাগ্রোর পক্ষ থেকে এটি উপহার দিতে চাই।’

আরও পড়ুন:
নকল বাহুতে টিকা নিতে গিয়ে ধরা
ভারতে ওমিক্রন আক্রান্তের সংস্পর্শে পাঁচজনের করোনা
নিউ ইয়র্কে ৫ জনের শরীরে ওমিক্রন

শেয়ার করুন

কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর: রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীকে পুতিনের শুভেচ্ছা

কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর: রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীকে পুতিনের শুভেচ্ছা

বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেয়ার ব্যাপারে প্রত্যয়ী পুতিন। তিনি বলেন, ‘আমি আত্মবিশ্বাসী যে, আমাদের যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা উন্নয়নসহ দুই দেশের জনগণের স্বার্থে সংগতিপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করতে পারব।

বাংলাদেশ ও রাশিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

ঢাকায় রাশিয়ান দূতাবাস বুধবার এক বার্তায় এ তথ্য জানায়।

শুভেচ্ছাবার্তায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীকে পুতিন লিখেছেন, ‘আমাদের দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫০তম বার্ষিকীতে আমার আন্তরিক অভিনন্দন গ্রহণ করুন। মস্কো ও ঢাকার মধ্যে বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার যে নিরন্তর সম্পর্ক গড়ে উঠছে তার অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে গেছে।’

দুই দেশের যৌথ প্রচেষ্টায় ঢাকা ও মস্কোর দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট।

বাংলাদেশ-রাশিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্ক বেশ দৃঢ় ও পুরোনো। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন বা আজকের রাশিয়ান ফেডারেশন ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। পাকিস্তান-চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে রাশিয়ার সেই অবস্থান বাঙালি জাতিকে সাহস জুগিয়েছে।

বাংলাদেশের জন্মের পর ১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় সোভিয়েত ইউনিয়ন। পরের দিন দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন হয়। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্গঠনেও অবদান রেখেছে দেশটি। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ বেশ কিছু বড় বড় প্রকল্পেও অর্থায়ন করেছে রাশিয়া।

এই সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেয়ার ব্যাপারে প্রত্যয়ী পুতিন।

তিনি বলেন, ‘আমি আত্মবিশ্বাসী যে, আমাদের যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা উন্নয়নসহ দুই দেশের জনগণের স্বার্থে সংগতিপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করতে পারব।

‘আমি আন্তরিকভাবে আপনাদের সুস্বাস্থ্য ও সাফল্য কামনা করি। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের সব নাগরিকের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করছি।’

আরও পড়ুন:
নকল বাহুতে টিকা নিতে গিয়ে ধরা
ভারতে ওমিক্রন আক্রান্তের সংস্পর্শে পাঁচজনের করোনা
নিউ ইয়র্কে ৫ জনের শরীরে ওমিক্রন

শেয়ার করুন

দেশে ৬৫ হাজার শিশু করোনা আক্রান্ত

দেশে ৬৫ হাজার শিশু করোনা আক্রান্ত

করোনা আক্রান্ত এক শিশু। ফাইল ছবি

চিকিৎসকরা বলছেন, অনেক অভিভাবক কমন কোল্ড বা ফ্লু জাতীয় রোগে আক্রান্ত ভেবে শিশুর আরটিপিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা করাচ্ছেন না। এতে করোনাভাইরাস পজিটিভ হয়েও অনেক শিশু শনাক্তের বাইরে থাকছে। এটা উদ্বেগজনক।

দেশে করোনাভাইরাসে এ পর্যন্ত ১৭ লাখ ১৫ হাজার ৯৯৭ জন আক্রান্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬৫ হাজার ৪২৯টি শিশু। এটি মোট আক্রান্তের প্রায় চার শতাংশ।

করোনা সংক্রমিতদের মধ্যে দেশে এ পর্যন্ত ২৮ হাজার ২৫৬ জন মারা গেছে। তাদের মধ্যে ২৩৩টি শিশুও রয়েছে। করোনার প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ের তুলনায় চলমান তৃতীয় ঢেউয়ে আক্রান্তদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে শিশুর সংখ্যাও ক্রমশ বাড়ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

রাজধানীর একাধিক হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশে ঋতু পরিবর্তনজনিত কারণে ঠান্ডা-জ্বর ও সর্দি-কাশির রোগী বাড়ছে। করোনা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা ৮০ শতাংশই করোনায় আক্রান্ত।

চিকিৎসকরা বলছেন, অনেক অভিভাবক কমন কোল্ড বা ফ্লু জাতীয় রোগে আক্রান্ত ভেবে শিশুর আরটিপিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা করাচ্ছেন না। এতে ভাইরাস পজিটিভ হয়েও অনেক শিশু শনাক্তের বাইরে থাকছে। এটা উদ্বেগজনক।

শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঠান্ডাজনিত রোগ আর ওমিক্রনের উপসর্গ একই ধরনের। শিশুরা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেও নিজে থেকে বুঝতে পারে না। এতে করে তার সংস্পর্শে আসা অন্যরাও সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকে। তাই এ ধরনের সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসা শুরুর পাশাপাশি করোনার নমুনা পরীক্ষা করা দরকার।

সম্প্রতি দেশে ওমিক্রনের বিস্তার ঘটায় বড়দের সঙ্গে শিশুরাও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে। মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশে ২০২০ সালের ৮ মার্চ প্রথম করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হলেও শিশু রোগী শনাক্ত হয় ৪ এপ্রিল। এই সময় থেকে চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে সদ্যোজাত থেকে চার বছর বয়সী প্রায় ২১ হাজার ৭০৪টি শিশু করোনায় আক্রান্ত হয়েছে।

দেশে ৬৫ হাজার শিশু করোনা আক্রান্ত
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত স্বজনের পাশে সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে সন্তান কোলে এক মা। ফাইল ছবি

এছাড়া ৫ থেকে ১৪ বছর বয়সী ৪৩ হাজার ৭২২ শিশুর নমুনায় ভাইরাসটি পজিটিভ এসেছে। আর ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী এক লাখ ৭৭ হাজার ৭১০ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। করোনাভাইরাসে দেশে এই পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ২৮ হাজার ২৫৬ জনের। তাদের মধ্যে সদ্যোজাত থেকে ১০ বছর বয়সী ৭৮ এবং ১০ থেকে ২০ বছর বয়সী ১৮৫ জন রয়েছে।

হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত শিশু রোগী বেড়েছে

গত ১৮ জানুয়ারি নমুনা পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ হন গণমাধ্যমকর্মী লোটন একরাম। এর দু’দিন পর তার স্ত্রী ও ১৪ বছর বয়সী মেয়ের নমুনা পরীক্ষায় ফল পজিটিভ আসে।

শেরপুর জেলার গিদ্দা নারায়ণপুর থেকে হার্নিয়ার সমস্যা নিয়ে ঢাকায় বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসে ৮ বছরের শিশু মহাতাব হাসান ইসরাত। শুরুতে তার হালকা ঠান্ডা ও জ্বর থাকলেও মা-বাবা তা আমলে নেননি। হার্নিয়ার সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে আসার পর চিকিৎসকরা জানান, অস্ত্রোপচার করতে হবে। তার আগে করোনা পরীক্ষার পরামর্শ দেন তারা। পরীক্ষায় শিশুটির করোনা পজিটিভ আসে। এমন পরিস্থিতিতে তাকে সাধারণ ওয়ার্ড থেকে হাসাতালের করোনা ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের এপিডেমিওলজিস্ট এবিএম মাহফুজুর রহমান মামুন বলেন, ‘সংক্রমণ শুরুর পর থেকে হাসপাতালটিতে এ পর্যন্ত ৬৯০ জন রোগী কোভিড-১৯ ইউনিটে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪৭ জন মারা গেছে। মাঝখানে সংক্রমণ কমে যাওয়ায় ইউনিটটি ফাঁকা পড়ে ছিল। কিছুদিন ধরে করোনার প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকায় হাসপাতালের করোনা ইউনিটে রোগী বাড়ছে। দুই সপ্তাহ আগে চারজন থাকলেও গত এক সপ্তাহে ১২ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে। আক্রান্তদের ওমিক্রন শনাক্তে চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশন জিনোম সিকোয়েন্সিং করছে। এখনও ফল হাতে আসেনি।‘

৯ থেকে ১২ বছরের শিশুদের ক্ষেত্রে আতঙ্কের ব্যাপার হচ্ছে, এ বয়সের শিশুরা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে তাদের ফুসফুসও সংক্রমিত হচ্ছে। এছাড়া পোস্ট কোভিড জটিলতা-মাল্টিসিস্টেম ইনফেমেটরি সিন্ড্রোম ইন চিলড্রেন-এ (এমআইএস-সি) ঝুঁকি থাকে। এটা শিশুদের জন্য খুবই মারাত্মক।

শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড়দের চেয়ে শিশুদের করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম। তবে বাংলাদেশে শিশুরা যেসব রোগে আক্রান্ত হয় তার অন্যতম হচ্ছে শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ। এর উপসর্গ হচ্ছে নাক দিয়ে পানি পড়া, কাশি দেয়া, বুকে ঘড় ঘড় শব্দ করা, কোন কোন ক্ষেত্রে গলা অথবা কানে ব্যথা।

করোনার উপসর্গগুলোও অনেকটা একই রকম। সে কারণে সাধারণ সর্দি-কাশি নাকি শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহ নাকি করোনা তা বোঝা যায় না। অন্যদিকে শীতের প্রকোপ বাড়ায় হাসপাতালে শ্বাসকষ্টে ভোগা শিশু রোগী বাড়ছে। তাদেরও অনেকে করোনা আক্রান্ত হলেও নমুনা পরীক্ষা ছাড়া তা নিশ্চিত হওয়া যায় না।

ঢাকা শিশু হাসপাতালের সদ্য সাবেক পরিচালক এবং শিশু পুষ্টি, লিভার ও পরিপাকতন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক ডা. সৈয়দ শফি আহমেদ বলেন, ‘শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে শ্বাসকষ্টের রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষায়িত হাসপাতাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন হাসপাতালের শিশু ইউনিটগুলোতে রোগীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। শিশু হাসপাতালের বহির্বিভাগে আসা রোগীর অধিকাংশই ঠান্ডা, সর্দি-কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও ব্রঙ্কিউলাইটিসে ভুগছে।

‘পরীক্ষা করে দেখা গেছে, শিশুদের ৩০ থেকে ৩২ শতাংশই করোনা আক্রান্ত। কিন্তু শীতকালীন রোগের সঙ্গে ওমিক্রনের উপসর্গের মিল থাকায় রোগ দুটিকে আলাদা করা যাচ্ছে না। এজন্য নমুনা পরীক্ষা দেয়া হলেও সবাইকে আমরা পরীক্ষার আওতায় আনতে পারছি না। অভিভাবকরাও বুঝতে না পেরে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।’

ডা. শফি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে বাচ্চাদের করোনা উপসর্গ দেখা দিলেই ন্যূনতম ৫ থেকে ১০ দিন আইসোলেশনে রাখতে হবে। সাধারণত পাঁচদিন পর বাচ্চাদের সংক্রমণ ঝুঁকি থাকে না। আর উপসর্গ থাকলে ১০ দিন পর্যন্ত আইসোলেশনে রাখতে হবে। রোগটি আপার রেসপিরেটরি হওয়ায় তেমন ক্ষতিক্ষর নয়।’

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, ৯ থেকে ১২ বছরের শিশুদের ক্ষেত্রে আতঙ্কের ব্যাপার হচ্ছে, এ বয়সের শিশুরা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে তাদের ফুসফুসও সংক্রমিত হচ্ছে। এছাড়া পোস্ট কোভিড জটিলতা-মাল্টিসিস্টেম ইনফেমেটরি সিন্ড্রোম ইন চিলড্রেন-এ (এমআইএস-সি) ঝুঁকি থাকে। এটা শিশুদের জন্য খুবই মারাত্মক। তাই নিতান্ত প্রয়োজন না হলে এই সময়ে সন্তানকে বাইরে যেতে দেয়া ঠিক হবে না। আর বাইরে গেলে জনসমাগম এড়িয়ে চলা এবং অবশ্যই মাস্ক পরাতে হবে।

আরও পড়ুন:
নকল বাহুতে টিকা নিতে গিয়ে ধরা
ভারতে ওমিক্রন আক্রান্তের সংস্পর্শে পাঁচজনের করোনা
নিউ ইয়র্কে ৫ জনের শরীরে ওমিক্রন

শেয়ার করুন