সাতরাজ নিহতের ঘটনায় বিচারের দাবি শিক্ষার্থীদের

player
সাতরাজ নিহতের ঘটনায় বিচারের দাবি শিক্ষার্থীদের

সাতরাজ নিহতের ঘটনায় বিচারের দাবি জানায় শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

খুলশী থানার ওসি শাহিনুজ্জামান শাহিন বলেন, ‘কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের কিছু দাবি নিয়ে সড়কের এক পাশে অবস্থান নিয়েছে ৷ যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।’

চট্টগ্রামের খুলশীতে রেল দুর্ঘটনায় এইচএসসি পরীক্ষার্থী সাতরাজ উদ্দিন নিহতের ঘটনায় বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা।

নগরীর ওয়ারলেসে রোববার বেলা ১১টার দিকে মিছিলটি শুরু হয়ে দুর্ঘটনাস্থল ঝাউতলায় এসে সমাবেশ করেন তারা।

সমাবেশে সাতরাজকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে দোষীদের বিচার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে তারা স্লোগান দেন।

এ সময় সাতরাজের সহপাঠী পার্থ সারথী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘একটার পর একটা খুন হচ্ছে সড়কে। এর সর্বশেষ শিকার সাতরাজ উদ্দিন। এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়, এটি হত্যা। বাসের চালক ও হেলপারদের অবহেলায় তাকে মরতে হয়েছে৷ আমরা দোষীদের বিচার ও নিরাপদ সড়ক চাই।’

মো. আফিফ নামে পাহাড়তলী কলেজের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে যে, বাস দ্রুতগতিতে অটোরিকশাকে ধাক্কা দিয়ে সেটি সঙ্গে নিয়ে চলন্ত ট্রেনকে ধাক্কা দিয়েছে। এর দায় বাসচালকের। ওরা সড়কে যাচ্ছেতাই করে, কেউ দেখার নেই। সাতরাজসহ এখন পর্যন্ত সড়কে যারা খুন হয়েছে, আমরা সবার বিচার দাবি করছি।’

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি শাহিনুজ্জামান শাহিন বলেন, ‘কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের কিছু দাবি নিয়ে সড়কের এক পাশে অবস্থান নিয়েছে৷ যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

১০ হাজার তরমুজ গাছ কাটলেন পাউবো কর্মকর্তা

১০ হাজার তরমুজ গাছ কাটলেন পাউবো কর্মকর্তা

কেটে ফেলা তরমুজ গাছ নিয়ে কৃষক দেলোয়ারের আহাজারি। ছবি: নিউজবাংলা

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদুল হক বলেন, ‘বিষয়টি আমি লোকমুখে শুনিছি। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড আর বনবিভাগ আমাকে কিছুই জানায়নি। কেউ লিখিতভাবে কিছু জানালে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

মৌখিক অনুমতি নিয়েই পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধুলারসর এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধের ঢালে তরমুজ চাষ করছিলেন দেলোয়ার-সালমা দম্পতি।

প্রায় আড়াই মাস ধরে পানি দেয়া আর ক্ষেত পরিস্কার করে আসছিলেন তারা। গাছে গাছে ফলও ধরেছিল। আর এক মাস অপেক্ষা করলে আরও ভালো ফলনের আশা ছিল। সেজন্য স্বামী-স্ত্রী মিলে দিন-রাত পরিশ্রমও করছিলেন।

কিন্তু গত রোববার ঘটল বিপত্তি। সেদিন বিকেলেই একে একে সবগুলো তরমুজ গাছই কেটে ও উপড়ে ফেলেছেন পাউবোর স্থানীয় প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম।

দেলোয়ার-সালমা দম্পতি দাবি করেছেন, যিনি গাছগুলো কেটেছেন তার কাছ থেকেও তরমুজ চাষের মৌখিক অনুমোদন নিয়েছিলেন তারা। এ ছাড়া বন বিভাগের এক কর্মকর্তাকে আর্থিকভাবে খুশিও করা হয়েছিল।

পরে কয়েকটি এনজিওর কাছ থেকে ঋণ নিয়ে আগাম তরমুজ চাষ শুরু করেন তারা। কিন্তু অনেক আকুতি মিনতি করেও শেষ রক্ষা হয়নি। অর্থ আর পরিশ্রম বিফলে যাওয়ায় তাদের এখন পথে বসার উপক্রম।

কৃষক দেলোয়ার হোসেন জানান, বনবিভাগ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন বেড়িবাঁধের ওই ঢালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুমতি নিয়েই গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন সবজির চাষ করছেন তিনি। দুই মাস আগে সেখানে রোপন করা তরমুজের গাছগুলো ওই কর্মকর্তারাও এসে মাঝেমধ্যে দেখতেন।

কিন্তু গত রোববার কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই পানি উন্নয়ন বোর্ডের মনিরুল ইসলাম প্রায় ১০ হাজার গাছ উপড়ে ফেলেন। এতে আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন দেলোয়ার।

দেলোয়ার জানান, ওই স্থানের দায়িত্বে থাকা বনবিভাগের মোশাররফ নামে এক কর্মকর্তাকে তিনি ১০ হাজার টাকাও দিয়েছিলেন। কিন্তু গাছগুলো কেটে ফেলার পর এখন তাকে মামলার হুমকিও দেয়া হচ্ছে।

দেলোয়ারের স্ত্রী সালমা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামীর সঙ্গে এই জায়গায় কাজ করেছি। টাকা নাই তাই আমি তিনটি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছি। এখন এই টাকা কিভাবে দেব। আমি ক্ষতিপূরণ চাই, না হয় মরন ছাড়া উপায় নাই।’

প্রতিবেশী নাসির মৃধা বলেন, ‘আমরা গ্রামবাসী সবাই নিষেধ করেছি যে অন্তত একটা মাস সময় দেয়া হোক। তারপর আপনাদের যদি কোনো ক্ষতি হয় দেলোয়ার আপনাদের ক্ষতিপূরণ দেবে। কিন্তু তারা কারো কথা শোনেনি।’

টাকা নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বনবিভাগের কলাপাড়া উপজেলার গঙ্গামতি রেঞ্জ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমি কোনো টাকা পয়সা নেইনি। এগুলো সব মিথ্যা। ওখানে ঘাস নষ্ট হওয়ার কারণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী গাছ উঠাইছে, আমি উঠাইনি।’

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন বেড়িবাঁধ রক্ষা প্রকল্পের প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম দাবি করেছেন, বেড়িবাঁধে তরমুজ গাছ লাগানোর কথা তিনি আগে জানতেন না। রোববারই প্রথম দেখেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের বেড়িবাঁধ রক্ষায় লাগানো ঘাস কেটে উঠিয়ে ফেলার কারণে কিছু জায়গা রেখে বাকি তরমুজ গাছ আমি উঠিয়ে ফেলেছি।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ হোসেন জানান, ওই স্থানে এখন প্রকল্পের কাজ হচ্ছে। তবে তরমুজ চাষ বা গাছ কাটার ব্যাপারে তিনি কিছু শুনেননি। এ ব্যাপারে তিনি খোঁজ নেবেন বলেও জানান।

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদুল হক বলেন, ‘বিষয়টি আমি লোকমুখে শুনিছি। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড আর বনবিভাগ আমাকে কিছুই জানায়নি। কেউ লিখিতভাবে কিছু জানালে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

শেয়ার করুন

প্রতিবাদ করে পুলিশের মার খেলেন আইনজীবী

প্রতিবাদ করে পুলিশের মার খেলেন আইনজীবী

আহত আইনজীবী আব্দুল্লা হিল বাকী।

চাঁদপুর মডেল থানার ওসি বলেন, ‘মেজাজ হারিয়ে অটোচালককে থাপ্পর দিলে ওই আইনজীবী এগিয়ে এসে এএসআই হিমনকে মারতে বারণ করেন। এ সময় হয়তো তাদের মধ্যে বাক-বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি আসলে দুঃখজনক।’

অটোরিকশা চালককে মারধরের প্রতিবাদ করায় নিজেও পুলিশের মার খেলেন এক আইনজীবী। এএসআই-এর হেলমেটের আঘাতে গুরুতর আহত আব্দুল্লাহ হিল বাকী নামের সেই আইনজীবী পরে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

সোমবার বিকেলে চাঁদপুর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌর মার্কেটের সামনে এই মারধরের ঘটনা ঘটে। আহত আব্দুল্লা হিল বাকী চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সহ-সভাপতি।

তিনি বলেন, ‘সোমবার বিকেল তিনটার দিকে বাসস্ট্যান্ড এলাকা দিয়ে যাওয়ার পথে দেখি এক অটোচালককে মারধর করছে পুলিশের এক সদস্য। এ সময় তাকে মারতে বারণ করলে তিনি আমার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান। এক পর্যায়ে হাতে থাকা হেলমেট দিয়ে তিনি হঠাৎ আমার মাথায় আঘাত করেন। এতে আমার মাথা ফেটে গেলে স্থানীয়দের সহায়তায় হাসপাতালে আসি।’

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত এএসআই হিমন বলেন, ‘ঘটনাটি অনাকাঙ্খিত এবং ভুল বুঝাবুঝি। আমার হেলমেটটি মাথা থেকে খুলতে গেলে ওই আইনজীবীর মাথায় ভুলবশত লেগে যায়। এতে তিনি সামান্য আহত হন। এ ঘটনায় আমি অনুতপ্ত।’

এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুর রশিদ, চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতি ও জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ আহত আইনজীবীকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান।

এ বিষয়ে চাঁদপুর মডেল থানার ওসি মো. আব্দুর রশিদ জানান, এএসআই হিমন রাতে ডিউটি করে দুপুরে ওয়্যারলেস জমা দেয়ার জন্য মোটরসাইকেলে চড়ে থানায় আসছিলেন। কিন্তু বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় হঠাৎ একটি অটোরিকশা ধাক্কা মারলে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান তিনি।

ওসি বলেন, ‘মেজাজ হারিয়ে অটোচালককে থাপ্পর দিলে ওই আইনজীবী এগিয়ে এসে হিমনকে মারতে বারণ করেন। এ সময় হয়তো তাদের মধ্যে বাক-বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি আসলে দুঃখজনক। একটা ভুল বুঝাবুঝির কারণে এমনটা হয়েছে। আমি হাসপাতালে গিয়ে উনাকে দেখে এসেছি এবং খোঁজখবর নিয়েছি।’

শেয়ার করুন

নির্বাচনি সহিংসতায় কৃষকের মৃত্যু

নির্বাচনি সহিংসতায় কৃষকের মৃত্যু

শৈলেন ভৌমিকের চাচা শ্বশুর প্রদীপ চৌধুরী জানান, সংঘর্ষে শৈলেন ভৌমিক চোখে এবং কপালে মারাত্মক আঘাত পান। চার দিন নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পর তিনি বাড়ি ফিরে যান। এর পর বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। এ অবস্থায় সোমবার দুপুরে অবস্থার অবনতি হয়ে তিনি মারা যান।

নেত্রকোণার খালিয়াজুরী উপজেলার দাউদপুর গ্রামে নির্বাচনি সহিংসতায় আহত হওয়ার তিন সপ্তাহ পর এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার দুপুরে নিজ বাড়িতে মারা যান তিনি।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান।

মৃত শৈলেন ভৌমিক ওই গ্রামের মৃত হরগোবিন্দ ভৌমিকের ছেলে।

স্থানীয়দের বরাতে ওসি জানান, গত ২৭ ডিসেম্বর পঞ্চম ধাপে খালিয়াজুরী উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে চাকুয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার পদে দাউদপুর গ্রামের অজিত মহলানবীশ জয়ী হন। পরাজিত হন একই গ্রামের যতীন্দ্র মহলানবীশ।

নির্বাচনের পরদিন যতীন্দ্র ও অজিতের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে অজিতের সমর্থক শৈলেন ভৌমিক, বিপ্লব, অনিক ও অপুসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। তাদের খালিয়াজুরী, জেলা সদর ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শৈলেন ভৌমিকের চাচা শ্বশুর প্রদীপ চৌধুরী জানান, সংঘর্ষে শৈলেন ভৌমিক চোখে এবং কপালে মারাত্মক আঘাত পান। চার দিন নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পর তিনি বাড়ি ফিরে যান। এর পর বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

এ অবস্থায় সোমবার দুপুরে অবস্থার অবনতি হয়ে তিনি মারা যান। থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে নেত্রকোণা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

ওসি বলেন, ‘সংঘর্ষের পর অজিত মহলানবীশ বাদী হয়ে ২৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেছিলেন। ময়নাতদন্তে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওই মামলাটিই হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মঙ্গলবার নেত্রকোণা সদর হাসপাতালে নিহতের মরদেহের ময়নাতদন্ত হবে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

শেয়ার করুন

ওসি প্রদীপ দম্পতির বিরুদ্ধে দুর্নীতির সাক্ষ্যগ্রহণ পেছাল

ওসি প্রদীপ দম্পতির বিরুদ্ধে দুর্নীতির সাক্ষ্যগ্রহণ পেছাল

ওসি প্রদীপ ও তার স্ত্রী। ফাইল ছবি

২০২০ সালের ২৩ আগস্ট দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বাদী হয়ে প্রদীপ ও তার স্ত্রী চুমকির বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলাটি করেছিলেন।

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার আসামি টেকনাফ মডেল থানার বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়েছে।

দুদকের করা এ মামলায় বাদী দুদক কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ ১৭ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করেছে আদালত।

সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মুন্সী আব্দুল মজিদ এ আদেশ দেন।

দুদকের আইনজীবী মাহমুদুল হক নিউজবাংলাকে জানান, প্রদীপ ও তার স্ত্রী চুমকির বিরুদ্ধে গত ১৫ ডিসেম্বর দুদকের অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এই মামলার বিচারকাজ শুরু হয়। পরে এর বিরুদ্ধে আসামিপক্ষ উচ্চ আদালতে আবেদন করে মামলা থেকে অব্যাহতি চায়।

সোমবার মামলার বাদী দুদক কর্মকর্তার সাক্ষ্য দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু উচ্চ আদালতে মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন চলমান থাকায় আদালতের কাছে সময় প্রার্থনা করে দুদক। শুনানি শেষে আদালত তা মঞ্জুর করে আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর পরবর্তী দিন ধার্য করে।

গত বছরের ২৬ জুলাই ওসি প্রদীপ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছিলেন তদন্ত কর্মকর্তা দুদক চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন। এতে সাক্ষী করা হয় ২৯ জনকে।

পরে গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর মামলাটির অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আদালত। এই মামলায় প্রদীপের স্ত্রী পলাতক রয়েছেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, চট্টগ্রামের পাথরঘাটায় ছয় তলা বাড়ি, ষোলশহরের বাড়ি, ৪৫ ভরি সোনা, একটি প্রাইভেট কার, একটি মাইক্রোবাস, ব্যাংক হিসাব ও কক্সবাজারে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে চুমকির নামে। তার বিরুদ্ধে ২ কোটি ৩৫ লাখ ৯৮ হাজার ৪১৭ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের হদিস পায় দুদক।

২০২০ সালের ২৩ আগস্ট দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২-এর তৎকালীন সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বাদী হয়ে প্রদীপ ও তার স্ত্রী চুমকির বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেন। সস্মিলিতভাবে এই দম্পতির বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৯৫ লাখ ৫ হাজার ৬৩৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়।

২০২০ সালের ৩১ জুলাই টেকনাফের বাহারছড়ায় পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা। ওই বছরের ৬ আগস্ট কক্সবাজার আদালতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন ওসি প্রদীপ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।

শেয়ার করুন

চান মিয়ার ঘর ছাড়ার গল্প

চান মিয়ার ঘর ছাড়ার গল্প

২৬ বছর পর চাঁন মিয়াকে ফিরে পেয়ে আনন্দিত স্ত্রী ও সন্তানরা। ছবি: নিউজবাংলা

শেরপুর থেকে উধাও হয়ে যাওয়া চান মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে ২৬ বছর পর ফেনী থেকে নিয়ে এসেছে স্বজনরা। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান করে ঘর ছাড়েন তিনি। কী নিয়ে অভিমান- সে খোঁজ করতে গিয়ে জানা গেল আরেক গল্প।

শেরপুরের চান মিয়া বাড়ির বাইরে ছিলেন টানা ২৬ বছর। এর পেছনে স্ত্রীর সঙ্গে অভিমানের যে কথাটি প্রাথমিকভাবে প্রচার হয়েছে, তাদের জীবনের গল্পটি ততোটা সরল নয়।

নিউজবাংলা পরিবারটির সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছে, এই মান-অভিমানের পেছনে রয়েছে চান মিয়ার জুয়ায় আসক্তি। সংসার চলে না। তারপরও ওই আসক্তি থেকে স্বামীকে ফেরাতে পারেননি স্ত্রী রিক্তা বেগম। এ নিয়ে ঝগড়ার এক পর্যায়ে দুই যুগেরও বেশি সময় আগে ঘর ছাড়েন চান মিয়া।

শেরপুরের ঝিনাইগাতীর গৌরীপুরের চান মিয়ার বিয়ে হয় সদর উপজেলার মুর্শেদপুর গ্রামের রিক্তা বেগমের।

বিয়ের পর স্ত্রী জানতে পারেন, চান মিয়া জুয়া খেলায় আসক্ত। দিন দিন তা বাড়তে থাকে। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহও বাড়তে থাকে। এরই মধ্যে এক ছেলে ও তিন মেয়ের জন্ম দেন তারা।

জুয়া খেলার জন্য পৈতৃক সম্পত্তিও বিক্রি করেন চান মিয়া। এ নিয়ে কলহ বাড়লে ১৯৯৫ সালে সন্তানদের নিয়ে স্ত্রী চলে যান বাপের বাড়ি। সেখানে গিয়েও চান মিয়ার সঙ্গে তার কলহ চলে। এমনই এক ঝগড়ার পর ১৯৯৬ সালের ১৬ জানুয়ারি স্ত্রী ও চার সন্তানকে রেখে অভিমানে বাড়ি ছাড়েন চান মিয়া।

২৬ বছর পর বাবার সন্ধান পান ছেলে-মেয়েরা। তাকে ফিরিয়ে আনেন বাড়িতে। এত বছর পর তাকে পেয়ে খুশি স্ত্রী-সন্তানরা। তবে অসুস্থ স্ত্রীর এখন দুশ্চিন্তা, অসুস্থ স্বামীকে কীভাবে দেখভাল করবেন। অসুস্থ বৃদ্ধ চান মিয়া জানান, ২৬ বছর আগের অভিমানের কারণ এখন তার আর মনে নেই।

নিউজবাংলার প্রতিবেদক রিক্তার বাড়িতে গিয়ে কথা বলেন পরিবারটির সঙ্গে। জানতে চান ২৬ বছর আগের গল্প।

চান মিয়ার ঘর ছাড়ার গল্প

রিক্তা ও তার বড় মেয়ে মঞ্জুয়ারা নিউজবাংলাকে জানান, চান মিয়া যখন চলে যান তখন মঞ্জুয়ারার বয়স ১২। ছেলে শাহ আলম তখন ১০ বছরের। ছোট দুই সন্তান আঞ্জুয়ারা ও রোখসানার বয়স ৬ ও ৫ বছর। সন্তানদের নিয়ে সে সময় বাবার বাড়িতেই থেকে যান রিক্তা।

রিক্তা জানান, স্বামীকে অনেক খোঁজাখুঁজি করেছেন। তবে সে সময় কোনো ছবি না থাকায় কোথাও খোঁজ পাননি। সন্তানদের নিয়ে কখনও তিনি কৃষি কাজ করেছেন, কখনও মাটি কাটার কাজ করেছেন।

এক পর্যায়ে শেরপুরের জেলা প্রশাসকের বাসভবনে গৃহকর্মীর কাজ পান রিক্তা। কাজে সন্তুষ্ট হয়ে তাকে ২০০০ সালে জেলা প্রশাসক অফিসে পিয়নের চাকরি দেয়া হয়। এরপর একে একে তিন মেয়েকে বিয়ে দেন। ছেলেকে একটি ছোটো চায়ের দোকান করে দেন।

রিক্তা আরও জানান, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া কিছু সম্পত্তি বিক্রি করে তিনি শহরের চাপাতলীতে সাত শতাংশ জমি কিনে ঘরও তোলেন। সেখানেই এখন থাকছেন। তবে বছর দুয়েক আগে স্ট্রোক হওয়ার পর থেকে তিনি অসুস্থ।

আক্ষেপ করে রিক্তা বলেন, ‘স্বামীকে পেলাম ঠিকই, আমি তো এখন অসুস্থ। আমি তার সেবা করতে পারছি না। মানুষটা খুবই দুর্বল। হাঁটতে পারে না। তবে এতদিন পর সন্তান ও নাতি-নাতনিরা তাকে পেয়ে খুব খুশি।’

তাদের ছেলে শাহ আলম জানান, গত ১৩ জানুয়ারি ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পারেন যে তার বাবা ফেনী জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি গিয়ে বাবাকে বাড়ি ফিরিয়ে আনেন।

শাহ আলম বলেন, ‘যখন বাবা ছিল না তখন আমার বয়স ছিল ১০ বছর। আর এখন বাবারে ফিরে পেয়েছি। এহন তো পালাই লাগব। হাজার হইলেও বাপ। গার্জিয়ান (অভিভাবক) না থাকায় তো অনেক কষ্টেই দিন গেছে।

‘বাবা হারানোর পর কোনো কাজে মন বসে নাই। তহন খারাপ লাগছে। মোবাইলের মাধ্যমে নেটে বাবার ছবি দিয়ে দিছে। পরে এইডা আমগর এক বাগানি জামাই নাম-ঠিকানা দেইক্কা বুঝছে যে এইডা তো আমগর বাবাই হইব। পরে আমরা খবর পাইয়া গেছি। পরে তথ্য নিলাম, দেহি যে এইডাই আমার বাবা। পরে যাইয়া নিয়া আইছি।’

চান মিয়ার ঘর ছাড়ার গল্প

চান মিয়ার মেঝো মেয়ে আঞ্জুয়ারা আক্ষেপ করে বলেন, ‘বাবা না থাকায় মানুষ আমাদেরকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেছে। আমরা কারোর কাছে খাবার চাইলে আমাদেরকে দূর দূর করে তাড়িয়ে দিয়েছে। আরও ভালো ঘরে বিয়ে হইত, কিন্তু হয় নাই। তারপরেও আমরা সুখী।’

আঞ্জুয়ারার বড় বোন মঞ্জুয়ারা বলেন, ‘বাবা যখন বাসা থেকে রাগ করে বের হয় তখন আমি সব বুঝি। আর বাবা আমগরে রাইখা যাওয়ার পর অনেক কষ্ট করে চলছি। আমাদের মা মহিলা মানুষ হইয়াও কাজ কইরা আমগরে বড় কইরা বিয়া দিছে। আমরা বুঝছি বাবা না থাকার দুঃখ কেমন।

‘মাসহ আমরাও মানুষের বাড়িত কাম কইরা বড় হইছি। না খেয়ে কতদিন থাকছি তার হিসাব নাই। আটা খেয়ে থাকছি দিনের পর দিন। এহন বাবারে আমরা পাইছি, খুব ভালা লাগতাছে। শেষ বয়সে হইলেও তো আমরা দেখবার পাইলাম। আমরা তো আশা ছাইড়াই দিছিলাম। আমরা বাবা না থাকায় ঠিকমতো পড়াশোনাও করবার পাই নাই। টাহা আছিল না, কি দিয়া পড়মু।’

এত বছরে বাড়ি কেন ফিরে আসেননি- জানতে চাইলে বৃদ্ধ চান মিয়া বলেন, ‘আমি কীভাবে, কী কারণে বাড়ি ছেড়েছি তা বলতে পারব না। মনে নাই। তবে কয়েকবার আমি টাকা জমায় বাড়ি ফিরতে চাইছি। কিন্তু সন্ত্রাসী ও দুষ্টু লোকজন আমাকে মাইরে পিটে কষ্টে জমানো টাকা নিয়ে গেছে। তাই আমি আর বাড়ি আসি নাই। এখন বাড়ি আইসা আমার ভালো লাগছে।’

শেয়ার করুন

দাওয়াত খেয়ে ফেরার পথে নারী খুন, বাবার মামলা

দাওয়াত খেয়ে ফেরার পথে নারী খুন, বাবার মামলা

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হামলায় আহত আকরাম। ছবি: নিউজবাংলা

আকরাম বলেন, ‘হামলাকারীদের মুখে কালো মাস্ক থাকায় আমি কাউকে চিনতে পারিনি। আমার স্ত্রীর মাথায় হেলমেট ছিল না। ঘটনাস্থলেই ওর মৃত্যু হয় আর আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।’

নওগাঁয় দাওয়াত খেয়ে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের হামলায় এক নারী নিহতের ঘটনায় মামলা হয়েছে।

নিহত ওই নারীর বাবা শহীদুল হক সোমবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে সদর থানায় মামলা করেন।

৩০ বছর বয়সী নিহত সাথী বানুর বাড়ি নওগাঁ সদর উপজেলার বালিয়াগাড়ী গ্রামে।

তার স্বামী ৪৫ বছর বয়সী আকরাম আলীর অভিযোগ, রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার দুবলহাটি ইউনিয়নের যমুনিতে তাদের ওপর হামলা হয়।

তিনি জানান, নওগাঁ শহরের বরুনকান্দি এলাকায় শ্যালিকার বাড়িতে দাওয়াত খেয়ে মোটরসাইকেলে তারা স্বামী-স্ত্রী বাড়ি ফিরছিলেন। যমুনিতে পাঁচ থেকে ছয়জন তাদের ওপর হামলা চালায়। মোটরসাইকেল চলন্ত অবস্থায় মাথায় লাঠি দিয়ে বাড়ি দিলে দুজনই পড়ে যান।

আকরাম বলেন, ‘আমার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। তাদের মুখে কালো মাস্ক থাকায় আমি কাউকে চিনতে পারিনি। আমার স্ত্রীর মাথায় হেলমেট ছিল না। ঘটনাস্থলেই ওর মৃত্যু হয় আর আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। স্থানীয়রা আমাকে নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।’

কী কারণে তাদের ওপর হামলা হতে পারে সে বিষয়ে কোনো ধারণা নেই বলে জানান আকরাম।

সাথীর বাবা শহীদুল বলেন, ‘কারা হামলার সঙ্গে জড়িত তার কিছুই জানি না। যদি ছিনতাইয়ের জন্য হামলা হতো তাহলে এভাবে মারতে পারত না। হামলাকারীরা মোটরসাইকেল বা মেয়ে-জামাইয়ের কাছে থাকা কিছুই নিয়ে যায়নি।

‘বিকেলে হত্যা মামলা করেছি। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করছি যারা আমার মেয়েকে হত্যা করেছে তাদের গ্রেপ্তার করা হোক। হামলাকারীদের কঠিন শাস্তি দাবি করছি।’

নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জুয়েল জানান, আকরাম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সাথীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সোমবার দুপুরে নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

শেয়ার করুন

৯০ বছর বয়সে ফের বাঁধলেন ঘর

৯০ বছর বয়সে ফের বাঁধলেন ঘর

নতুন বউকে নিয়ে বাড়ি ফিরলেন প্রবীণ আইনজীবী। ছবি: নিউজবাংলা

ইসমাইল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার ছেলেমেয়েরা জোর করে ধরল। তারা আমার স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে দেখভালের জন্য বিয়ে করাল। আমি খুশি। আপনারা দোয়া করবেন।’ 

স্ত্রীর মৃত্যুর পর হয়ে পড়েছেন একা, বার্ধক্যও জেঁকে বসেছে। ছেলেমেয়েরা ব্যস্ত যার যার সংসারে। ৯০ বছর বয়সে এসে অনেকটাই একাকী হয়ে পড়েছেন কুমিল্লার আইনজীবী মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন।

ছেলেমেয়েরা ভাবলেন, বাবার দেখভালের জন্য প্রয়োজন সঙ্গীর। তাই বিয়ে দিয়েছেন তার। কনে, ৩৯ বছরের মিনুয়ারা আক্তার।

তাদের বিয়ে হয়েছে সোমবার দুপুরে। নববধূকে নিয়ে সন্ধ্যায় তিনি পৌঁছান আদালত এলাকায় তার নিজ বাড়িতে।

সেখানে কথা হয় বর-কনে ও তাদের পরিবারের সঙ্গে।

ইসমাইল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার ছেলেমেয়েরা জোর করে ধরল। তারা আমার স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে দেখভালের জন্য বিয়ে করাল। আমি খুশি। আপনারা দোয়া করবেন।’

কনে মিনুয়ারা আক্তার জানান, তার বাড়ি নগরীর দেশওয়ালীপট্টিতে। সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য তিনি অতিথিদের কাছে দোয়া চেয়েছেন।

৯০ বছর বয়সে ফের বাঁধলেন ঘর

ইসমাইলের বড় ছেলে আইনজীবী ইসহাক সিদ্দিকী বলেন, ‘৭ বছর আগে আমার মা মাহমুদা বেগম মারা যান। বাবা একা ছিলেন। এই বয়সে আমরাও সংসারী।

‘বাবাকে দেখার জন্য একজন মানুষ প্রয়োজন। তাই আমরা ভাইবোন মিলে সম্মতি দিয়ে বাবাকে বিয়ে করিয়েছি। আমাদের আগ্রহের কারণে বাবাও খুব খুশি।’

বিয়েতে অতিথি ছিলেন কুমিল্লা জেলা বারের সভাপতি শরীফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘৫০ থেকে ৬০ জন বরযাত্রী হয়ে গিয়ে বউ এনেছি। সবাই খুশি। মেয়েও এই শহরের বাসিন্দা।’

আরেক অতিথি আইনজীবী খালেদা আক্তার মিনু বলেন, ‘তাদের কাবিন হয়েছে ৫ লাখ টাকা। তার মধ্যে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা উসুল দেয়া হয়েছে।’

শেয়ার করুন