ট্রেনের ধাক্কায় যুবক নিহত

player
ট্রেনের ধাক্কায় যুবক নিহত

প্রতীকী ছবি

নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইমাদুল জায়েদিন বলেন, ‘কাজ শেষে আমানুল্লাহ ধান ভাঙার মেশিনে ইঞ্জিন লাগিয়ে বাড়ি যাচ্ছিলেন। পথে রেলগেট এলাকায় এসে রাস্তা পারাপারের সময় নোয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী উপকূল এক্সপ্রেসের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।’

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার খানাবাড়িতে ট্রেনের ধাক্কায় এক যুবক নিহত হয়েছেন।

খানাবাড়ি রেলস্টেশনের অরক্ষিত রেলগেট এলাকায় রোববার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতের নাম মো. আমানুল্লাহ। তার বাড়ি উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের পূর্বপাড়া এলাকায় নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইমাদুল জায়েদিন।

তিনি বলেন, ‘কাজ শেষে আমানুল্লাহ ধান ভাঙার মেশিনে ইঞ্জিন লাগিয়ে বাড়ি যাচ্ছিলেন। পথে রেলগেট এলাকায় এসে রাস্তা পারাপারের সময় নোয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী উপকূল এক্সপ্রেসের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয়রা খবর দিলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। খবর পেয়ে নিহতের স্বজনরা ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় পরিবারে স্বজনদের আপত্তি না থাকায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বাবার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার, ছেলে আটক

বাবার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার, ছেলে আটক

বাবাকে হত্যার অভিযোগে ছেলেকে আটক করেছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

দামকুড়া থানার ওসি মাহবুব আলম বলেন, ‘এ হত্যার পেছনে আর কোনো ঘটনা আছে কি না তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পরে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।’

রাজশাহী নগরীর একটি বাড়ির সেফটিক ট্যাংক থেকে এক ব্যক্তির গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নগরীর দামকুড়া এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নিহতের ছেলে ৩২ বছরের স্বপনকে আটক করা হয়েছে।

নিহতের তার নাম সাজ্জাদ হোসেন। তার বয়স ৬৫ বছর।

নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন দামকুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম।

তিনি জানান, গত মঙ্গলবার রাত থেকে সাজ্জাদ হোসেন নিখোঁজ ছিলেন। এ ঘটনায় বুধবার তার ছেলে আব্দুল হাদী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির সূত্র ধরে পুলিশ তার অন্য ছেলে স্বপনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

স্বপনের আচরণ সন্দেহজনক ছিল। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি একপর্যায়ে বাবাকে প্রথমে শ্বাসরোধ ও পরে গলা কেটে হত্যা করার কথা স্বীকার করেন। হত্যার পর মরদেহ বাড়ির সেফটিক ট্যাংকে ভরে রাখেন।

পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, স্বপন পুলিশকে জানিয়েছেন, এক বছর আগে তার মা মারা যান। এরপর তার বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করার কথা বলেন। কিন্তু দ্বিতীয় বিয়ে করলে সম্পত্তি ভাগ হয়ে যাবে, এমন চিন্তা থেকেই স্বপন তার বাবাকে হত্যা করেন।

ওসি মাহবুব বলেন, ‘এ হত্যার পেছনে আর কোনো ঘটনা আছে কি না তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পরে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।’

শেয়ার করুন

শ্রীপুরে ট্রেন লাইনচ্যুত

শ্রীপুরে ট্রেন লাইনচ্যুত

গাজীপুরে ময়মনসিংহগামী মহুয়া এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

ঢাকা রেলওয়ে কন্ট্রোল রুমের কর্মকর্তা মো. মোখলেস জানান, রাজধানীর কমলাপুর থেকে মোহনগঞ্জের উদ্দেশে যাচ্ছিল মহুয়া এক্সপ্রেস ট্রেনটি। কাওরাইদ স্টেশনে পৌঁছানোর পর দুই নম্বর লাইনে ইঞ্জিনসহ পেছনের বগি লাইনচ্যুত হয়।

গাজীপুরে ময়মনসিংহগামী মহুয়া এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছে।

শ্রীপুরের কাওরাইদ রেলস্টেশনে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

আতঙ্কিত হয়ে ট্রেন থেকে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হয়েছেন।

ঢাকা রেলওয়ে কন্ট্রোল রুমের কর্মকর্তা মো. মোখলেস নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ঢাকার কমলাপুর থেকে মোহনগঞ্জের উদ্দেশে যাচ্ছিল মহুয়া এক্সপ্রেস ট্রেনটি। কাওরাইদ স্টেশনে পৌঁছানোর পর দুই নম্বর লাইনে ইঞ্জিনসহ পেছনের বগি লাইনচ্যুত হয়।

মো. মোখলেস জানান, এ ঘটনার পর ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ হয়নি। বিকল্প লাইনে ট্রেন গন্তব্যস্থলে যাচ্ছে।

শেয়ার করুন

ছুরিকাঘাতে রোহিঙ্গা যুবক খুন, গ্রেপ্তার ২

ছুরিকাঘাতে রোহিঙ্গা যুবক খুন, গ্রেপ্তার ২

রোহিঙ্গা যুবককে খুনের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা

৮ এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরান হোসেন বলেন, রোহিঙ্গা যুবক খুনের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যা মামলার পর তাদের উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।’

কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা শিবিরে ছুরিকাঘাতে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছেন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যরা।

জামতলী ক্যাম্প-১৫-এর এইচ ব্লকে বুধবার রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার ভোরে ওই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নিহত যুবকের নাম মৌলভী মনির হোসেন। তার বয়স ৩৫ বছর।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন ৩৫ বছরের মোহাম্মদ ইউনুস ও ৪৪ বছরের মোহাম্মদ ইয়াসিন।

নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন ৮ এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরান হোসেন। তিনি জানান, প্রতিবেশী কেফায়েত উল্লাহর সঙ্গে মনিরের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। গত বুধবার ঝাড়ু দেয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে আবারও কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে কেফায়েত এবং তার সহকারী ইউনুস ও ইয়াসিন মনিরকে ধরে পেটে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান।

পরে রক্তাক্ত অবস্থায় মনিরকে উদ্ধার করে ক্যাম্পের এমএসএফ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যা মামলার পর তাদের উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।’

শেয়ার করুন

পেলোডার উল্টে চালক নিহত

পেলোডার উল্টে চালক নিহত

দুর্গাপুরে সোমেশ্বরী নদীর ১ নম্বর বালুমহাল। ছবি: নিউজবাংলা

দুর্গাপুর থানার ওসি মাহবুব জানান, নিহতের স্বজনরা মরদেহ নিয়ে যাবার আবেদন করেছেন। তাই ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

নেত্রকোণায় দুর্গাপুরে পেলোডার উল্টে চালক নিহত হয়েছেন।

দুর্গাপুর সদর ইউনিয়নের ত্রিনালী এলাকায় বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মীর মাহবুব নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহতের নাম খোকন মিয়া। ৩৫ বছর বয়সী খোকন একই ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা। খোকন দুর্গাপুরে সোমেশ্বরী নদীর ১ নম্বর বালুমহালে পেলোডার দিয়ে কাজ করতেন।

স্থানীয়দের বরাতে ওসি জানান, বালু লোডের কাজের সময় একটি চাকা হঠাৎ বালির গর্তে পড়ে পেলোডারটি উল্টে যায়। তখন চালক খোকন মিয়া পেলোডারের নিচে চাপা পড়েন।

পরে বালুমহালের অন্য শ্রমিকরা তাকে উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি মীর মাহবুব জানান, নিহতের স্বজনরা মরদেহ নিয়ে যাবার আবেদন করেছেন। তাই ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

শেয়ার করুন

মেরিন ড্রাইভে মাইক্রোবাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে নিহত ২

মেরিন ড্রাইভে মাইক্রোবাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে নিহত ২

মেরিন ড্রাইভ সড়কে মাইক্রোবাস ও অটোরিকশার সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। ছবি: নিউজবাংলা

টেকনাফ মডেল থানার ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, ‘পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।’

কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কে মাইক্রোবাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন।

টেকনাফের লম্বরি মেরিন ড্রাইভ অংশে বৃহস্পতিবার সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দুজন অটোরিকশার যাত্রী।

তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি জব্দ করা হয়েছে।’

শেয়ার করুন

শীতে জবুথবু, তবু অনশনে শাবির শিক্ষার্থীরা

শীতে জবুথবু, তবু অনশনে শাবির শিক্ষার্থীরা

তীব্র শীতেও অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪ শিক্ষার্থী। ছবি: নিউজবাংলা

অনশনকারী শিক্ষার্থী জাহিদুল হাসান অপূর্ব বলেন, ‘দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা অনশন চালিয়ে যাব। কোনো প্রতিবন্ধকতাই আমাদের টলাতে পারবে না। শুধু ওয়াশরুমের প্রয়োজন ছাড়া আমরা এই জায়গা থেকে উঠব না। কোনো ধরনের খাবারও গ্রহণ করব না।’

কয়েক দিন ধরেই শীত পড়েছে খুব। সিলেটে শহরের বাইরে টিলাঘেরা শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সেটা আরও বেশি অনুভূত হয়। শরীরে কাঁপুনি ধরিয়ে দেয়া শীতের সঙ্গে বৃষ্টির ফোঁটার মতো পড়ছে কুয়াশা। সকাল ১০টায়ও দেখা নেই সূর্যের।

এমন বৈরী পরিস্থিতিতেও অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪ শিক্ষার্থী। গত বুধবার বেলা ৩টা থেকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে অনশন শুরু করেন তারা, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়ে দেখা যায়, শীত থেকে বাঁচতে সড়কের মধ্যেই লেপ মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছেন অনশনকারীরা।

কুয়াশার হাত থেকে রক্ষা পেতে মাথার ওপরে টানিয়েছেন সামিয়ানা। তবু শীতে কাঁপছেন তারা। এর মধ্যেই শুয়ে শুয়ে বই পড়ছেন কেউ কেউ।

এ সময় অনশনকারী জাহিদুল হাসান অপূর্ব বলেন, ‘দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা অনশন চালিয়ে যাব। কোনো প্রতিবন্ধকতাই আমাদের টলাতে পারবে না। শুধু ওয়াশরুমের প্রয়োজন ছাড়া আমরা এই জায়গা থেকে উঠব না। কোনো ধরনের খাবারও গ্রহণ করব না।’

তবে অনশনকারীরা নিজ অবস্থানে থাকলেও আন্দোলনকারী অন্য শিক্ষার্থীদের সকালে উপাচার্য ভবনের সামনে দেখা যায়নি।

অনশনকারীরা জানিয়েছেন, অন্য শিক্ষার্থীরা রাতভর বিক্ষোভ করেছেন। ভোরের দিকে হলে গেছেন। কিছুক্ষণ পর আবার এখানে এসে বিক্ষোভ শুরু করবেন।

এর আগে বুধবার রাতে আন্দোলন চলাকালে অসুস্থ হয়ে পড়েন দুই শিক্ষার্থী। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এরপরই শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙাতে ও আলোচনার প্রস্তাব নিয়ে এসেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষক।

কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে শিক্ষকরা উপাচার্য ভবনের সামনে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে চান। তবে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ না করলে শিক্ষকদের সঙ্গে কোনো কথা বলবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। প্রায় দুই ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করে ব্যর্থ হয়ে ফিরে যান শিক্ষকরা।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন লিজার বিরুদ্ধে খাবারের খারাপ মান, অব্যবস্থাপনা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ আনেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। তারা প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে গত ১৩ জানুয়ারি রাত থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন।

পরের দিন সন্ধ্যায় ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে সরে যান। দাবি পূরণ না হওয়ায় ১৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ফের বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়ক আটকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন।

এরপর মধ্যরাতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়ে সরে গেলেও ১৬ জানুয়ারি সকাল থেকে ফের শুরু হয় তাদের বিক্ষোভ।

বিকেলে তারা উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে অবরুদ্ধ করলে পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করে। শিক্ষার্থীরাও ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে। এরপর শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া।

শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে কয়েকটি রাবার বুলেট ছোড়া হয়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক জহির উদ্দিন আহমেদ গুলিবিদ্ধ হন। এরপর পুলিশ উপাচার্যকে বের করে তার বাসভবনে নিয়ে যায়।

পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষের পর অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। শিক্ষার্থীদের পরদিন ১৭ জানুয়ারি সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ।

এদিকে জরুরি সিন্ডিকেট সভা শেষে উপাচার্য ফরিদ প্রাধ্যক্ষ জাফরিনের পদত্যাগের বিষয়টি জানান। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে নামেন।

এর মাঝে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অজ্ঞাতপরিচয় ২০০ থেকে ৩০০ শিক্ষার্থীকে আসামি করে ১৭ জানুযারি রাতে সিলেটের জালালাবাদ থানায় মামলা করে পুলিশ।

পরদিন বিকেলে এই মামলা প্রত্যাহারের জন্য পুলিশকে সময় বেঁধে দেন শিক্ষার্থীরা। রাত সাড়ে ১০টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে উপাচার্যের পদত্যাগের সময় বেঁধে দেন শিক্ষার্থীরা। এর জেরেই ১৯ জানুয়ারি বুধবার থেকে আমরণ অনশনে যান শিক্ষার্থীরা।

এদিকে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এ আন্দোলন অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ মিছিল করেন।

শেয়ার করুন

হত্যাকারীদের ফাঁসি চান অভিনেত্রী শিমুর বাবা

হত্যাকারীদের ফাঁসি চান অভিনেত্রী শিমুর বাবা

চিত্রনায়িকা রাইমা ইসলাম শিমু। ফাইল ছবি

অভিনেত্রী শিমুর বাবা নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার মাইয়াডারে অনেক আদর-স্নেহ দিয়ে বড় করেছি, হেই মাইয়াডারে ওরা মাইর‍্যা ফালাইছে। আমি আর কিছু চাই না, শুধু আমার মাইয়াডারে যারা হত্যা করেছে, তাদের ফাঁসি চাই।’

আলোচিত চিত্রনায়িকা রাইমা ইসলাম শিমু হত্যার ঘটনায় তার বাড়ি বরগুনার আমতলীতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মেয়েকে হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসির দাবি করেছেন শিমুর বাবা নুরুল ইসলাম।

মুঠোফোনে কথা হয় শিমুর বাবা নুরুল ইসলামের সঙ্গে। গত ১৭ জানুয়ারি রাত ১০টার দিকে ছেলের ফোন পেয়ে ও টেলিভিশনের খবরের মাধ্যমে জানতে পারেন মেয়ে শিমু হত্যার ঘটনা।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার মাইয়াডারে অনেক আদর-স্নেহ দিয়ে বড় করেছি, হেই মাইয়াডারে ওরা মাইর‍্যা ফালাইছে। আমি আর কিছু চাই না, শুধু আমার মাইয়াডারে যারা হত্যা করেছে, তাদের ফাঁসি চাই।’

ঢাকাই ছবির নায়িকা শিমুর গ্রামের বাড়ি আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামে। তার নানার বাড়িও একই উপজেলার তারিকাটা গ্রামে।

স্থানীয়রা জানান, ১৯৯৫ সালে শিমুর বাবা নুরুল ইসলাম রাঢ়ী গ্রামের বাড়ি ছেড়ে স্ত্রী, দুই ছেলে হারুন অর রশিদ ও সাইদুল ইসলাম খোকন এবং দুই মেয়ে শিমু ও ফাতেমাকে নিয়ে আমতলী পৌর শহরের ফেরিঘাটের সবুজবাগ এলাকায় বসবাস শুরু করেন।

শিমু আমতলী এমইউ বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাস করেন। স্কুলে লেখা-পড়া করার সময় থেকেই শিমু সংস্কৃতিমনা ছিলেন। অভিনয়, নাচ ও গানের প্রতি তার ঝোঁক ছিল তীব্র। আমতলীর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া শিমুর অভিনয়, নাচ ও গানের প্রশংসা সে সময় মানুষের মুখে মুখে ছিল।

পারিবারিক কোনো কারণে ১৯৯৬ সালে শিমুর মা রাশেদা বেগম সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় চলে আসেন। এরপর পরিচয় হয় চিত্রপরিচালক কাজী হায়াৎ এর সঙ্গে। তার হাত ধরেই ১৯৯৮ সালে সিনেমা জগতে আসেন শিমু।

এরপর রুপালি পর্দায় শিমু হয়ে যান রাইমা ইসলাম শিমু। একের পর এক বিভিন্ন সিনেমায় অভিনয়ের পর শিমুর নাম ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে।

শিমুরা ঢাকায় বসবাস করলেও বিভিন্ন কারণে তার বাবা গ্রামের বাড়িতেই থেকে যান। পরবর্তী সময়ে নিজেদের বাড়ি ছেড়ে তিনি একই ইউনিয়নের হলদিয়া গ্রামে বসবাস শুরু করেন। ওই গ্রাম থেকেই তিনি একবার ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এদিকে আলোচিত চিত্র নায়িকা রাইমা ইসলাম শিমুর মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই বরগুনা ও আমতলীতে শোকের ছায়া নেমে আসে। সবার প্রশ্ন একটাই, কী এমন ঘটল যে আমতলীর কৃতী সন্তান শিমুকে নারকীয়ভাবে খুন করে মরদেহ টুকরা করে তা বস্তায় ভরে রাস্তার পাশে ফেলতে হবে।

জেলাবাসীর দাবি, শিমু হত্যায় যারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসি হোক।

এর আগে গত রোববার থেকে হঠাৎ করেই পাওয়া যাচ্ছিল না অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম শিমুকে। খোঁজ না পেয়ে তার ছোট বোন ফাতেমাসহ পরিবারের সদস্যরা কলাবাগান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। সোমবার দুপুরে কেরানীগঞ্জ থেকে শিমুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

মরদেহটি প্রথমে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবেই ধরা হচ্ছিল। পরে আঙুলের ছাপ ও পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে জানা যায় বস্তাবন্দি মরদেহটি শিমুর।

ঘটনার রাতেই শিমুর স্বামী খন্দকার শাখাওয়াত আলীম নোবেল ও তার বাল্যবন্ধু এসএমওয়াই আব্দুল্লাহ ফরহাদকে আটক করে পুলিশ। তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাহিনীটি জানতে পেরেছে, পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহের কারণে জীবন দিতে হয়েছে শিমুকে। এই হত্যার কথা স্বীকার করেছেন নোবেল। বন্ধুকে নিয়ে মরদেহটি গুম করার চেষ্টা করেছিলেন তিনি।

শেয়ার করুন