চাকরির পিছে না ছুটে উদ্যোক্তা হোন: তরুণদের প্রধানমন্ত্রী

player
চাকরির পিছে না ছুটে উদ্যোক্তা হোন: তরুণদের প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় এসএমই পণ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: টিভি ফুটেজ থেকে নেয়া

তরুণদের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নিজে কাজ করবেন, অন্যকে কাজের সুযোগ দেবেন, চাকরির সুযোগ দেবেন, নিজেরা উদ্যোক্তা হবেন। সেই উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ আমরা নিচ্ছি, সব ধরনের ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি।’

পড়াশোনা শেষে চাকরির পিছে না ছুটে তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ক্ষেত্রে সরকার সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

শিল্প মন্ত্রণালয় ও এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে রোববার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনে কেন্দ্রে নবম জাতীয় এসএমই পণ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

দেশের তরুণদের জন্য সরকারের নানা কর্মসূচির কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘উদ্যোক্তা হতে চাইল যে কেউ হতে পারে। শুধুমাত্র একটা পাস করে চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেরা উদ্যোক্তা হওয়া এবং নিজেরা অন্যকে চাকরি দেয়া, তরুণ সমাজের কাছে আমার এটাই থাকবে আবেদন।’

তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা নিয়ে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নিজে কাজ করবেন, অন্যকে কাজের সুযোগ দেবেন, চাকরির সুযোগ দেবেন, নিজেরা উদ্যোক্তা হবেন। সেই উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ আমরা নিচ্ছি, সব ধরনের ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি।’

নারীর ক্ষমতায়নে সরকারের নেয়া নানা পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। আগামীতে দেশে নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা আরও বাড়বে বলেও আশা করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে আমি অবশ্য আমাদের পুরুষ সমাজকে একটু পরামর্শ দিতে পারি। আপনারাও ব্যবসা করেন। তা আপনাদের স্ত্রীর নামে যদি আপনারা এসএমই ফাউন্ডেশন থেকে ঋণ নিয়ে থাকেন তাকেও একটু কাজ করার সুযোগ করে দেন। তাহলে সংসারের সঙ্গে সঙ্গে মেয়েরাও কিন্তু সেই ধরনের শিল্পায়নও করতে পারবে। তাতে উদ্যোক্তাও সৃষ্টি হবে। সেই সুযোগটা আপনারা দিয়েন, অন্তত বাধা দিয়েন না।’

তিনি বলেন, ‘এসএমই ফাউন্ডেশন ইতোমধ্যে সারা দেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ১৭৭টি ক্লাস্টার চিহ্নিত করেছে। ক্লাস্টারসহ সারা দেশে রয়েছে ৭৮ লাখ এসএমই শিল্পপ্রতিষ্ঠান। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে নতুন করে একজন মানুষের কাজের ব্যবস্থা হলেও কমপক্ষে ৭৮ লাখ বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে।’

‘যত্রতত্র শিল্প নয়’

এসএমই ক্লাস্টারের উন্নয়ন এবং অবকাঠামোগত সুবিধা বাড়াতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিলেও যেখানে-সেখানে শিল্প করা যাবে না বলে সতর্ক করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যত্রতত্র কিন্তু শিল্প করা যাবে না। এটা বাস্তব। কারণ আমরা চাই আমাদের কৃষিজমি রক্ষা করতে। খাদ্যচাহিদা কখনও কমবে না, কারণ দিনের পর দিন বাড়বে। কোভিড-১৯-এর পর এই চাহিদা আরও বেড়েছে। অনেক উন্নত দেশ এখন খাদ্য সংকটে ভুগছে। আল্লাহর রহমতে আমাদের সেই সমস্যাটা নাই। করোনা দেখা দিল যখন তখন থেকেই আমি একটা নির্দেশ দিয়েছিলাম, যেভাবেই হোক খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। সে রকম আমরা ব্যবস্থাও নিয়েছি।’

দেশের ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির বিষয়টি সামনে এনে সরকারপ্রধান বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট জায়গায় সেই শিল্পটা গড়ে তোলা, যাতে করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাটাও ঠিক থাকে, পরিবেশ ঠিক থাকে, পরিবেশ যেন নষ্ট না হয়, সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে। তাই আমি বলব, যত্রতত্র না করে ক্ষুদ্র বা কুটির শিল্প তো নিজেরাই করতে পারেন।’

এসএমই ফাউন্ডেশনেরও এ বিষয়ে ভূমিকা নেয়ার সুযোগ আছে বলে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এসব ক্ষেত্রে আমি এই ফাউন্ডেশনকে অনুরোধ করব, আপনারা এই ব্যাপারটায় একটু বিশেষভাবে দৃষ্টি দেবেন। কেউ যদি উদ্যোক্তা হতে চায় তাহলে সে কোথায় কাজগুলো করতে পারে সুনির্দিষ্ট জায়গা ঠিক করে দেয়া, নিজের ঘরে বা জমিতে যদি করে, সেখানেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বাজারজাত কীভাবে করবে সেগুলো ভালোভাবে দেখতে হবে।’

কৃষি প্রক্রিয়াজাত ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অঞ্চলভিত্তিক আমাদের কিছু পণ্য উৎপাদন হয়। কৃষি ছাড়াও অন্য যেসব পণ্য উৎপাদন হয় সেগুলোকেও কাজে লাগানো। তারই ভিত্তিতে ওইসব অঞ্চলে শিল্প গড়ে তোলা যাতে কাঁচা পণ্যটা আমরা নিজেদের দেশ থেকে আহরণ করতে পারি। সেদিকেও বিশেষভাবে দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন।’

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিব শতবর্ষের মধ্যে শতভাগ মানুষকে বিদ্যুতের আওতায় আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা জায়গায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থাটা যদি ঠিক থাকে, তাহলে সেখানে পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে কোনো সমস্যা হয় না। আমরা সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দিচ্ছি।’

৭৫-পরবর্তী দীর্ঘ ২১ বছর পর ক্ষমতায় এসে অন্য খাতগুলোর মতো এসএমই খাতকেও সরকার গুরুত্ব দিয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘সমগ্র বাংলাদেশে যেন শিল্পায়নটা হয়, একটা জায়গার মধ্যে না, তার জন্য ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি। আমাদের লক্ষ্য দেশটাকে আমাদের এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে, শিল্প খাতের উন্নয়ন করতে হবে। আমাদের লক্ষ্য দারিদ্র্য বিমোচন, মানুষের আয় বৃদ্ধি করা, দারিদ্র্যের হাত থেকে এ দেশের মানুষকে মুক্ত করা। পাশাপাশি আমাদের নারীসমাজ, তারাও যেন অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘সুবর্ণজয়ন্তীর বছরে আমরা আজ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে।’

অনুষ্ঠানে বর্ষসেরা চার উদ্যোক্তাকে দেয়া হয় সম্মাননা। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা (নারী) বিভাগে বিজয়ী হয়েছেন হুমায়রা মুস্তফা এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা (পুরুষ) বিভাগে বিজয়ী হয়েছেন নাজমুল ইসলাম এবং সৈয়দ মো. শোয়াইব হাসান। আর মাঝারি উদ্যোক্তা (পুরুষ) শাখায় সম্মাননা গেছে মো. আজিজুল হকের হাতে।

প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ হুমায়ুন বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

আরও পড়ুন:
সশস্ত্রবাহিনীর আধুনিক প্রশিক্ষণে গুরুত্ব প্রধানমন্ত্রীর
৫০তম বিজয় দিবস: শপথ পড়াবেন প্রধানমন্ত্রী
উন্নত দেশ গঠনে সশস্ত্র বাহিনীকে অগ্রসেনা হিসেবে চান প্রধানমন্ত্রী
চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত: প্রধানমন্ত্রী
রাস্তায় গাড়ি ভাঙচুর করা ছাত্রদের কাজ না: প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন

মন্তব্য

এমন শীত আরও কয়েক দিন

এমন শীত আরও কয়েক দিন

দেশের কয়েকটি জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ কমতে শুরু করবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ছবি: সংগৃহীত

আবহাওয়াবিদ আব্দুল হামিদ বলেন, সারা দেশে দিনের আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। দেশের কয়েকটি জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ কমতে শুরু করবে। বলা যায়, আপাতত শীতের মাত্রা বাড়বে না।

সারা দেশে বর্তমানে যে মাত্রায় শীত অনুভূত হচ্ছে তা আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বলা হয়েছে, আপাতত দিন ও রাতের তাপমাত্রায় তেমন পরিবর্তন আসছে না।

নিউজবাংলাকে সোমবার সকালে এমন পূর্বাভাস দিলেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আব্দুল হামিদ। তিনি বলেন, সারা দেশে দিনের আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। দেশের কয়েকটি জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ কমতে শুরু করবে। বলা যায়, আপাতত শীতের মাত্রা বাড়বে না।

এই আবহাওয়াবিদ জানান, সোমবার সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় তেঁতুলিয়া উপজেলায়, ৯.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলার তাপমাত্রা বাড়তে থাকবে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়, আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে।

কুড়িগ্রাম ও পঞ্চগড় জেলায় মৃদ্যু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে তা অব্যাহত থাকতে পারে। এ শৈত্যপ্রবাহ রংপুর বিভাগের অন্যান্য এলাকায় এবং রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় বিস্তার লাভ করতে পারে। সারা দেশেই রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকবে।

আরও পড়ুন:
সশস্ত্রবাহিনীর আধুনিক প্রশিক্ষণে গুরুত্ব প্রধানমন্ত্রীর
৫০তম বিজয় দিবস: শপথ পড়াবেন প্রধানমন্ত্রী
উন্নত দেশ গঠনে সশস্ত্র বাহিনীকে অগ্রসেনা হিসেবে চান প্রধানমন্ত্রী
চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত: প্রধানমন্ত্রী
রাস্তায় গাড়ি ভাঙচুর করা ছাত্রদের কাজ না: প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন

দেশে মোট ৫৫ জনের দেহে ওমিক্রন শনাক্ত

দেশে মোট ৫৫ জনের দেহে ওমিক্রন শনাক্ত

ডিসেম্বরের শেষের দিক থেকে ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত জমা হওয়া নমুনা শনাক্ত শেষে এই তথ্য পাওয়া গেছে

দেশে এ পর্যন্ত ৫৫ শরীরে করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে। তাদের অধিকাংশই রাজধানী ঢাকার বাসিন্দা।

জার্মানিভিত্তিক গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা (জিআইএসএআইডি) সোমবার রাতে এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটির তথ্য বলছে, ডিসেম্বরের শেষের দিক থেকে ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত জমা হওয়া নমুনা শনাক্ত শেষে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

গত বছরের ১১ ডিসেম্বর স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বাংলাদেশে প্রথম ওমিক্রন শনাক্তের বিষয়টি জানান।

১০ জানুয়ারি দেশে ১০ জনের দেহে ওমিক্রন শনাক্ত হয়। ১২ জানুয়ারি তিনজনের শরীরে ওমিক্রন শনাক্ত হওয়ার সংবাদ আসে। তারা সবাই রাজধানী ঢাকার বাসিন্দা। তবে এই রোগীরা সম্প্রতি বিদেশ ভ্রমণ করেছেন কি না, সে সম্পর্কিত কোনো তথ্য সংস্থাটি জানাতে পারেনি।

সেদিন জিম্বাবুয়ে থেকে ফিরে আসা জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের দুই সদস্যের দেহে ওমিক্রনের অস্তিত্ব পাওয়া যায়।

গত বছরের ২৪ নভেম্বর আফ্রিকা অঞ্চলে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন শনাক্ত হওয়ার খবর দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

আরও পড়ুন:
সশস্ত্রবাহিনীর আধুনিক প্রশিক্ষণে গুরুত্ব প্রধানমন্ত্রীর
৫০তম বিজয় দিবস: শপথ পড়াবেন প্রধানমন্ত্রী
উন্নত দেশ গঠনে সশস্ত্র বাহিনীকে অগ্রসেনা হিসেবে চান প্রধানমন্ত্রী
চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত: প্রধানমন্ত্রী
রাস্তায় গাড়ি ভাঙচুর করা ছাত্রদের কাজ না: প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন

শাবিতে হামলার প্রতিবাদে ঢাবি-জাবিতে বিক্ষোভ

শাবিতে হামলার প্রতিবাদে ঢাবি-জাবিতে বিক্ষোভ

শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও তাদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে মশাল মিছিল করেছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ (বাঁয়ে), হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ছবি: কোলাজ

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষোভ ও মশাল মিছিল করেছে প্রগতিশীল ছাত্র জোট ও ছাত্র অধিকার পরিষদ। হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ ও মিছিল হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ ও পুলিশের হামলার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষোভ ও মশাল মিছিল করেছে প্রগতিশীল ছাত্র জোট ও ছাত্র অধিকার পরিষদ।

রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বিক্ষোভ করেন প্রগতিশীল ছাত্র জোট আর সাড়ে ৭টায় ক্যাম্পাসে মশাল মিছিল করেন ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা।

শাবিতে হামলার প্রতিবাদে ঢাবি-জাবিতে বিক্ষোভ

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র থেকে প্রগতিশীল ছাত্র জোটের বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়।

এ সময় তারা ‘পুলিশের হামলা, রুখে দাও বাংলা’, ‘লাঠি, পুলিশ, টিয়ারগ্যাস, জবাব দিবে বাংলাদেশ’, ‘সাস্টে হামলা কেন, শেখ হাসিনা জবাব চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

বিক্ষোভ শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন প্রিন্স বলেন, ‘গতকাল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ হামলা করেছে।

আর আজ বিকেলে ক্যাম্পাসের মধ্যে পুলিশ ঢুকে নির্মমভাবে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে। রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে।

‘প্রশাসনের এত কিসের ভয় যে একটি হলের নারী শিক্ষার্থীদের আন্দোলন সহ্য করতে পারছে না। এই সরকারের পতনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়নের শেষ হবে।’

প্রিন্স বলেন, ‘সরকারের কানে আমরা পৌঁছে দিতে চাই, যতই লাফালাফি করেন বা উন্মত্ত হয়ে শিক্ষার্থীদের দমন-পীড়ন করেন না কেন, আপনাদের শেষ রক্ষা হবে না। অবিলম্বে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি মেনে নিয়ে দমন-পীড়নের পথ পরিহার করুন। অন্যথায় বাংলার ছাত্র সমাজ আপনাদের গদি থেকে উৎখাত করে ছাড়বে।’

এ সময় অন্যদের মধ্যে ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা, ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক দীপক শীল, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক দিলীপ রায়, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সহসভাপতি সাইদুল হক নিশান, ছাত্র ইউনিয়নের সহসভাপতি অনিক রায় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ছাত্র অধিকার পরিষদের মশাল মিছিল

শাবিপ্রবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও তাদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মশাল মিছিল করেছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ।

মিছিলের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে আয়োজিত এক সমাবেশে ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, ছাত্রদের গায়ে টিয়ারশেল মারলে ফল খুব ভালো হয় না। কোনো শিক্ষার্থীর গায়ে গুলির ছড়া লাগলে তার ফলাফল আপনাদের গদি পর্যন্ত কাঁপিয়ে দিতে পারে। ছাত্রদের এই আন্দোলন জোর করে বন্ধ করার চেষ্টা করবেন না।

শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার কারণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে দুঃখ প্রকাশ করার আহ্বান জানান বিন ইয়ামিন। তিনি বলেন, আপনি যদি দুঃখ প্রকাশ না করেন, তাহলে শিক্ষার্থীরা আপনার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করবে।

বিন ইয়ামিন বলেন, আমরা বিশ্বাস করি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক হবে আন্তরিক। কিন্তু সেই শিক্ষক নিজের আত্মরক্ষার জন্য ছাত্রদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেন। ধিক্কার জানায় এ রকম শিক্ষকের প্রতি। আমরা এই উপাচার্যের পদত্যাগ চাই।

সমাবেশ শেষে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে মশাল মিছিল বের করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘আমার বোন আহত কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘ভাইয়ের বুকে গুলি কেন, প্রশাসন জবাব দে’, ‘শাবিপ্রবিতে হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

হামলার প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিল

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

রোববার রাত সাড়ে ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বর থেকে একটি মিছিল শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ার সামনে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়।

সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্ক সংগঠন জুডোর সহসভাপতি তাপসী দে প্রাপ্তি বলেন, ‘এটি এখন আর শাহজালালের বিষয় নয়, এটি প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়। আমার, প্রত্যেকের যার যার পক্ষ থেকে এটির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’

শাবিতে হামলার প্রতিবাদে ঢাবি-জাবিতে বিক্ষোভ

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জাবি শাখার আহ্বায়ক শোভন রহমান বলেন, ‘একসময় প্রক্টররা বলতেন ছাত্রদের ওপর গুলি চালানোর আগে আমাদের ওপর গুলি চালাতে হবে। স্বাধীনতার ৫০ বছরে আমাদের অর্জন, ভিসিরা পুলিশ ডাকে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করার জন্য। শাহজালালের শিক্ষার্থীদের ওপর ভিসির মদদে পুলিশ হামলা চালিয়েছে। এই হামলা শুধু শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা নয়, এটি সারা দেশের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা। আমরা এ হামলার তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাই।’

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) সংসদের দপ্তর সম্পাদক ঋদ্ধ অনিন্দ্য গাঙ্গুলি। এ সময় প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

কী হয়েছিল শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে

প্রাধ্যক্ষ জাফরিনের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা হলের ছাত্রীরা বৃহস্পতিবার রাত থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে তারা সরে যান। দাবি পূরণ না হওয়ায় শনিবার সন্ধ্যায় ফের বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়ক আটকে তারা বিক্ষোভ শুরু করেন।

মধ্যরাতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়ে সরে গেলেও রোববার সকাল থেকে ফের শুরু হয় তাদের বিক্ষোভ। তাতে যোগ দেন সহপাঠীরাও।

বেলা ৩টার দিকে নিজ কার্যালয় থেকে বের হয়ে বাসভবনের দিকে যাওয়ার পথে উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান আন্দোলনকারী ছাত্রীরা। এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে উপাচার্যকে ঘেরাও করে স্লোগান দিতে থাকেন তারা। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ধাওয়ায় আইআইসিটি ভবনে গিয়ে অবস্থান নেন উপাচার্য ফরিদ।

শাবিতে হামলার প্রতিবাদে ঢাবি-জাবিতে বিক্ষোভ

বিকেল ৪টার দিকে সেখানে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নিলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তারা ‘ক্যাম্পাসে পুলিশ কেন’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। কোষাধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম ও অন্য শিক্ষকরা গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করেন।

উত্তেজনা বাড়তে থাকলে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। শিক্ষার্থীরাও ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে। এরপর শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।

শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে কয়েকটি রাবার বুলেট ছোড়া হয়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক জহির উদ্দিন আহমেদ গুলিবিদ্ধ হন।

এর মধ্যেই বিক্ষোভকারীদের আইআইসিটি ভবন থেকে হটিয়ে উপাচার্যকে বের করে তার বাসভবনে নিয়ে যায় পুলিশ।

মহানগর পুলিশের উপকমিশনার আজবাহার আলী শেখ জানান, পুলিশের গুলিতে অধ্যাপক জহির গুলিবিদ্ধ হননি। ওই গুলি কারা ছুড়েছে তা তিনি জানেন না। তাকে মাউন্ড এডোরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এক নারী কনস্টেবলও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ইটের আঘাতে তিনিও আহত হয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আলমগীর কবীর জানান, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় শিক্ষক, পুলিশ ও শিক্ষার্থীসহ অন্তত অর্ধশত আহত হয়েছেন। তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শাবিতে হামলার প্রতিবাদে ঢাবি-জাবিতে বিক্ষোভ

প্রক্টর আরও জানান, গুলিবিদ্ধ অধ্যাপক জহিরকে মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি শঙ্কামুক্ত।

এদিকে, তিন দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও এর জেরে পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষের পর রোববার সন্ধ্যায় সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

শাবিতে হামলার প্রতিবাদে ঢাবি-জাবিতে বিক্ষোভ

জরুরি সিন্ডিকেট সভা শেষে রোববার রাতে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এ কথা জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন:
সশস্ত্রবাহিনীর আধুনিক প্রশিক্ষণে গুরুত্ব প্রধানমন্ত্রীর
৫০তম বিজয় দিবস: শপথ পড়াবেন প্রধানমন্ত্রী
উন্নত দেশ গঠনে সশস্ত্র বাহিনীকে অগ্রসেনা হিসেবে চান প্রধানমন্ত্রী
চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত: প্রধানমন্ত্রী
রাস্তায় গাড়ি ভাঙচুর করা ছাত্রদের কাজ না: প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন

ইভিএমের ভোটে বিয়ের কবুল শোনার আনন্দ: শামীম

ইভিএমের ভোটে বিয়ের কবুল শোনার আনন্দ: শামীম

রোববার নারায়ণগঞ্জ আদর্শ স্কুলে গিয়ে ইভিএম মেশিনের মাধ্যমে ভোট দেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান।

ইভিএমএ ভোট দিয়ে কেমন লেগেছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শামীম বলেন, ‘ইভিএমএ ভোট দিয়ে আমার বউ যখন বিয়ের সময় বলেছিল কবুল, তখন যেমন খুশি লেগেছে, ভোট দিয়ে আমার তেমন খুশি লেগেছে।’

ইভিএম মেশিনের মাধ্যমে প্রথম ভোট দিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান৷ আর সেই ভোট দেয়ার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে রসিকতার আশ্রয় নেন তিনি। এই আনন্দ বিয়ের সময় স্ত্রীর কবুল বলা শুনতে পাওয়ার মতো বলে জানান তিনি।

রোববার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নারায়ণগঞ্জ আদর্শ স্কুলে গিয়ে ভোট দেন তিনি। ভোট দেয়া শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ‘এই প্রথম আমার ইভিএমে ভোট। প্রথমে ভেবেছিলাম আমার ফিঙ্গার নেবে না কিন্তু পরে দেখলাম নিয়েছে, তার মানে মেশিনটা ভালো আছে।’

ইভিএমে ভোট দিয়ে কেমন লেগেছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শামীম বলেন, ‘ইভিএমে ভোট দিয়ে আমার বউ যখন বিয়ের সময় বলেছিল কবুল, তখন যেমন খুশি লেগেছে, ভোট দিয়ে আমার তেমন খুশি লেগেছে।’

শামীম ওসমান নগরীর ১২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।

রোববার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে নিজ কেন্দ্র নারায়ণগঞ্জ আদর্শ স্কুলে ভোট দিয়ে বেরিয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।

শামীম ওসমান বলেন, ‘আমি রিকশায় করে ভোট দিতে এসেছি। আসতে আসতে যেটুকু খবর পেয়েছি নির্বাচন খুব সুষ্ঠু ও সুন্দর হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ সংঘাতময়, কথাটা তাদের ব্রেইন চাইল্ড। আমরা আগেও বলেছি নির্বাচন সুন্দর ও সুষ্ঠু হবে। আমাদের অ্যাচিভমেন্ট জনগণ স্যাটিসফায়েড কি না। তারা ভোটটা দিতে পেরেছেন। রাষ্ট্রের মালিক জনগণ।

‘আমিও সংসদে বেতন পাই, ভিআইপি সার্ভিস পাই। জনগণ সন্তুষ্ট হলেই সেটা জাতির পিতার কন্যার সবচেয়ে বড় অ্যাচিভমেন্ট।’

সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়ায় তিনি সংবাদমাধ্যমের কর্মী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

জাতির পিতার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। নারায়ণগঞ্জে নৌকার বিজয়ের মধ্যে দিয়ে তা আরও এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন শামীম ওসমান। কোনো ধরনের সংঘাতহীন নির্বাচন উপহার দেয়ায় নারায়ণগঞ্জের মানুষের প্রতিও কৃতজ্ঞতা ব্যক্ত করেন তিনি।

আরও পড়ুন:
সশস্ত্রবাহিনীর আধুনিক প্রশিক্ষণে গুরুত্ব প্রধানমন্ত্রীর
৫০তম বিজয় দিবস: শপথ পড়াবেন প্রধানমন্ত্রী
উন্নত দেশ গঠনে সশস্ত্র বাহিনীকে অগ্রসেনা হিসেবে চান প্রধানমন্ত্রী
চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত: প্রধানমন্ত্রী
রাস্তায় গাড়ি ভাঙচুর করা ছাত্রদের কাজ না: প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন

বর্ষীয়ান আইনজীবী টি এইচ খানের মৃত্যু

বর্ষীয়ান আইনজীবী টি এইচ খানের মৃত্যু

বিচারপতি টি এইচ খান। ছবি: সংগৃহীত

দেশবরেণ্য ও সর্বজনশ্রদ্ধেয় আইনবিদ টি এইচ খান ১৯২০ সালের ২১ অক্টোবর ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলাধীন ঔটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে তিনি আইন পেশায় যোগ দেন। টি এইচ খান ছিলেন দেশের প্রবীণতম আইনজীবী।

সুপ্রিম কোর্টের বর্ষীয়ান আইনজীবী, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত রুয়ান্ডা ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি ও বরেণ্য ব্যক্তিত্ব বিচারপতি টি এইচ খানের মৃত্যু হয়েছে। তার বয়স হয়েছিল ১০২ বছর।

বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে রোববার বিকেল ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তারই সন্তান আফজাল এইচ খান।

টি এইচ খানের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

দেশবরেণ্য ও সর্বজনশ্রদ্ধেয় এই আইনবিদ ১৯২০ সালের ২১ অক্টোবর ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলাধীন ঔটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে তিনি আইন পেশায় যোগ দেন। তিনি দেশের প্রবীণতম আইনজীবী ছিলেন।

বিচারপতি টি এইচ খানের প্রকৃত নাম মো. তাফাজ্জাল হোসেন খান। তিনি ১৯৬৮ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে যোগ দেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ তিনি হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।

১৯৭৩ সালের জুলাই থেকে আবার আইন ব্যবসায় ফিরে আসেন টি এইচ খান। ১৯৭৪ সালে তিনি প্রথমবারের মতো সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৭৯ সালে তিনি পার্লামেন্ট নির্বাচনে বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৮১ সালের ১৫ নভেম্বর আইন, শিক্ষা, ধর্ম, ভূমি ও রাজস্ব এবং ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এরপর ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ এরশাদের নেতৃত্বে নতুন সামরিক আইন জারি করা হয়। তখন তিনি আবার আইন পেশায় ফিরে যান। ১৯৮৬ সালে এরশাদের নির্বাচনে বিরোধিতা করার জন্য গ্রেপ্তার হন।

বিচারপতি টি এইচ খান ১৯৯২ সালে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম প্রতিষ্ঠা করেন। সে সময় তিনি ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নির্বাচিত হন। এ পদে ২০১১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিএনপির প্রথম ভাইস চেয়ারম্যান।

১৯৯২ সালে টি এইচ খান সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস কমিশনের মেম্বার এবং একই বছর জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন। ১৯৯৪ সালে তিনি সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনে দ্বিতীয়বারের মতো সভাপতি নির্বাচিত হন।

১৯৯৫ সালে বিচারপতি টি এইচ খান এশিয়া জোন থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত রুয়ান্ডা ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি নির্বাচিত হন। ১৯৯৯ সালের ১৯ জুন পর্যন্ত জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল পদে বিচারকার্য পরিচালনা করেন।

১৯৪০ সালে বিচারপতি টি এইচ খান ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন এবং ১৯৪২ সালে তৎকালীন কলকাতা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ইন্টারমিডিয়েট পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএ অনার্সে ভর্তি হন।

১৯৪৫ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ অনার্স এবং ১৯৪৬ সালে এমএ পাস করেন। ১৯৫১ সালের ১৪ মার্চ তিনি হাইকোর্টের আইনজীবী হন।

আইন পেশা ছাড়াও বিচারপতি টি এইচ খান প্রথম জীবনে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ, ঢাকার জগন্নাথ কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন ও আইন বিষয়ে অধ্যাপনা করেন।

আরও পড়ুন:
সশস্ত্রবাহিনীর আধুনিক প্রশিক্ষণে গুরুত্ব প্রধানমন্ত্রীর
৫০তম বিজয় দিবস: শপথ পড়াবেন প্রধানমন্ত্রী
উন্নত দেশ গঠনে সশস্ত্র বাহিনীকে অগ্রসেনা হিসেবে চান প্রধানমন্ত্রী
চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত: প্রধানমন্ত্রী
রাস্তায় গাড়ি ভাঙচুর করা ছাত্রদের কাজ না: প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন

উৎসবে আতশবাজি ফাটানো-ফানুস ওড়ানো বন্ধে রিট

উৎসবে আতশবাজি ফাটানো-ফানুস ওড়ানো বন্ধে রিট

থার্টি ফার্স্ট নাইটে রাজধানীর রায়েরবাগে উড়ন্ত ফানুস থেকে একটি পাঁচ তলা ভবনের ছাদে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ছবি: নিউজবাংলা

রিটকারী আইনজীবী মিজানুর রহমান কায়েস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে উৎসবের বিরুদ্ধে আমরা নই। অবশ্যই নববর্ষ উদযাপন হবে, তবে সেটা ফরমাল ওয়েতে।’

নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে মধ্যরাতে আতশবাজি ফাটানো ও ফানুস ওড়ানো বন্ধ চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে।

হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রোববার জনস্বার্থে রিটটি করেন আইনজীবী মিজানুর রহমান কায়েস।

রিটে নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে বা কোনো উৎসবে শহর এলাকায় ফানুস ওড়ানো পুরোপুরি নিষিদ্ধ চাওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি ৩১ ডিসেম্বর থার্টি ফার্স্ট নাইটে আতশবাজির আতঙ্কে মারা যাওয়া শিশু উমায়েরের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

রিটকারী আইনজীবী মিজানুর রহমান কায়েস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে উৎসবের বিরুদ্ধে আমরা নই। অবশ্যই নববর্ষ উদযাপন হবে, তবে সেটা ফরমাল ওয়েতে।

‘বিস্ফোরক জাতীয় কোনো জিনিস তথা আতশবাজি, ফানুস ওড়ানো যাবে না, যাতে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। এ কারণে বিষয়টি বন্ধ চেয়ে রিট দায়ের করেছি।’

তিনি বলেন, আতশবাজির শব্দে মারা যাওয়া উমায়েরের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে।

রিটে স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশপ্রধান, ডিএমপি কমিশনারসহ চারজনকে বিবাদী করা হয়েছে।

বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান ও বিচারপতি মো. মাহমুদ হাসান তালুকদারের হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে জানান রিটকারী আইনজীবী।

২০২২ সাল শুরুর আগের রাতে (থার্টি ফার্স্ট নাইট) আতশবাজির শব্দে ভয় পেয়ে অসুস্থ হয়ে তানজিম উমায়ের নামে এক শিশুর মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ ওঠে। জন্ম থেকেই হৃদরোগে ভুগতে থাকা শিশুটি চার মাস ১৯ দিন বয়সী ছিল।

উমায়েরের পরিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা। গত ৩১ ডিসেম্বর রাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে পরের দিন শিশুটিকে হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন:
সশস্ত্রবাহিনীর আধুনিক প্রশিক্ষণে গুরুত্ব প্রধানমন্ত্রীর
৫০তম বিজয় দিবস: শপথ পড়াবেন প্রধানমন্ত্রী
উন্নত দেশ গঠনে সশস্ত্র বাহিনীকে অগ্রসেনা হিসেবে চান প্রধানমন্ত্রী
চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত: প্রধানমন্ত্রী
রাস্তায় গাড়ি ভাঙচুর করা ছাত্রদের কাজ না: প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন

জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিন: জনপ্রতিনিধিদের রাষ্ট্রপতি

জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিন: জনপ্রতিনিধিদের রাষ্ট্রপতি

জাতীয় সংসদ ভবনে রোববার একাদশ জাতীয় সংসদের ষষ্ঠদশ ও চলতি বছরের প্রথম অধিবেশনে বক্তব্য দেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। ছবি: ভিডিও থেকে নেয়া

বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, ‘জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস এবং তাদের সকল প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দু জাতীয় সংসদ। জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনস্বার্থকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে স্থান দিতে হবে। আমি সরকারি দল ও বিরোধী দলের সকল সংসদ সদস্যদের এ মহান জাতীয় সংসদে যথাযথ ও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাই।’

জনস্বার্থকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে স্থান দিতে জনপ্রতিনিধিদের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।

রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে একাদশ জাতীয় সংসদের ষষ্ঠদশ ও চলতি বছরের প্রথম অধিবেশনে দেয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

বিকেল চারটায় স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হয় সংসদ অধিবেশন। রীতি অনুযায়ী শুরুতেই আনা হয় শোক প্রস্তাব। শোক প্রস্তাবের পর এক মিনিটের নিরবতা পালন করা হয়। এরপর বক্তব্য দেন রাষ্ট্র প্রধান।

বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস এবং তাদের সকল প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দু জাতীয় সংসদ। জনপ্রতিনিধি হিসাবে জনস্বার্থকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে স্থান দিতে হবে। আমি সরকারি দল ও বিরোধী দলের সকল সংসদ সদস্যদের এ মহান জাতীয় সংসদে যথাযথ ও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাই।

‘নতুন প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সুখী, সুন্দর ও উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ উপহার দেয়া আমাদের পবিত্র কর্তব্য। এ লক্ষ্যে গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং উন্নয়নের মত মৌলিক প্রশ্নে দল-মত, শ্রেণি ও পেশা নির্বিশেষে আপামর জনগণকে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের জন্য আমি উদাত্ত আহ্বান জানাই।’

রাষ্ট্রপতির ভাষণে গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে করোনা প্রসঙ্গও। তিনি বলেন, ‘বৈশ্বিক মহামারি করোনা সংক্রমণের কারণে বিগত দুবছর জনসাধারণের জীবন-জীবিকা হুমকির সম্মুখীন হয়। এ সময়ে জীবন রক্ষার পাশাপাশি আর্থসামাজিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাই ছিল সরকারের অন্যতম চ্যালেঞ্জ। আর্থসামাজিক এ সংকট মোকাবিলায় সরকার নিয়েছে হোল অব দ্যা গভর্নমেন্ট এ্যাপরোচ।

‘করোনা সংক্রমণ রোধে বিভিন্ন প্রকার বিধি-নিষেধ আরোপ ও প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি ১৫৬টি কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়। এছাড়া করোনা পরীক্ষার জন্য ১৫১টি আরটি-পিসিআর ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হয়। স্বাস্থ্যসেবা খাতে গত অর্থবছরের তুলনায় বাজেট বৃদ্ধি করা হয়েছে ১৩ শতাংশ। ইতোমধ্যে প্রায় ৭ কোটির অধিক জনগণকে টিকা দেয়া হয়েছে। শিগগিরই দেশের অধিকাংশ জনগণকে টিকার আওতায় আনা হবে।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে পৃথিবীর অন্যান্য যেকোনো দেশের তুলনায় বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ এবং সংক্রমণজনিত মৃত্যুর হার অপেক্ষাকৃত কম। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাহসী, দূরদর্শী নেতৃত্ব ও অনুপ্রেরণায় আমরা এখন পর্যন্ত করোনা এবং এর অভিঘাত সফলভাবে মোকাবিলা করে যাচ্ছি।

‘তবে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন যাতে আমাদের দেশে সংক্রমণ ছড়াতে না পারে সেজন্য সরকারকে সতর্কতা অবলম্বনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’

করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রণোদনা দেয়ার তথ্য তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘করোনার কারণে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ঝুঁকি বৃদ্ধির পাশাপাশি বেসরকারি খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সংকট মোকাবিলায় বৃহৎ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহে আর্থিক সহায়তাসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকার দেশের আপামর জনসাধারণকে সুখ-স্বাচ্ছন্দে রাখতে সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে।’

‘এ লক্ষ্যে সরকার প্রদত্ত ২৮টি প্রণোদনা প্যাকেজের মাধ্যমে ৬ কোটি ৭৪ লাখ ৬৩ হাজারের অধিক জনগণ এবং ১ লাখ ১৭ হাজারের অধিক প্রতিষ্ঠান উপকৃত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘করোনা সাফল্যের সঙ্গে মোকাবিলা করে ইতিবাচক অর্থনৈতিক অগ্রগতি অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়েছে, যা সামষ্টিক অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামকসমূহ ও সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি বিশ্লেষণে প্রতিফলিত হয়। করোনা মহামারি শুরুর পূর্বে ২০১৫-১৬ অর্থবছর হতে ২০১৮-১৯ অর্থবছর পর্যন্ত জিডিপির গড় প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ৪ শতাংশ, যা করোনাকালীন হ্রাস পায়।

‘তবে সরকারের বিভিন্ন টেকসই এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিতকল্পে নানামুখী আর্থসামাজিক ও বিনিয়োগধর্মী প্রকল্প, কর্মসূচি এবং কার্যক্রম গ্রহণের ফলে ইতোমধ্যে দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বের অধিকাংশ দেশের জিডিপির ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধির তুলনায় সাময়িক হিসাব অনুযায়ী ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক চার-তিন শতাংশে, যা আশাব্যাঞ্জক।’

চিকিৎসাখাতে গবেষণা বৃদ্ধির উদ্দেশে চার বিভাগে চারটি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হচ্ছে বলেও জানান রাষ্ট্রপ্রধান। তিনি বলেন, ‘চিকিৎসা-শিক্ষার সম্প্রসারণ ও গুণগত মান-উন্নয়নে দেশে ৩৭টি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন করা হয়েছে। উচ্চতর চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণার উদ্দেশে ৪টি বিভাগে ৪টি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

‘চিকিৎসা শিক্ষা প্রদানকারীদের মান তদারকি ও নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ চিকিৎসা শিক্ষা অ্যাক্রেডিটেশন আইন, ২০২০’ প্রণয়নের কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর নেয়া গৃহহীনকে ঘর দেয়া কর্মসূচির বিষয়টিও উঠে আসে রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে। তিনি বলেন, ‘মুজিববর্ষে দেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ১ লাখ ৪৮ হাজার ৩৯৭টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে ২ শতক সরকারি খাস জমি বন্দোবস্ত প্রদানপূর্বক দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সেমি-পাকা গৃহ নির্মাণ করে বিনামূল্যে উপকারভোগী স্বামী-স্ত্রীকে এর যৌথ মালিকানা প্রদান করা হয়েছে।

‘সকলের জন্য পরিকল্পিত আবাসন সুনিশ্চিতকরণে সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসাবে বস্তিবাসীদের জন্য ৩০০টি ফ্ল্যাট হস্তান্তর করা হয়েছে। মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য ৫০০টি গৃহনির্মাণে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের অনুকূলে ৮ কোটি ৯৩ হাজার টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘উদ্যাপন উপলক্ষ্যে অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসাবে ৪ হাজার ১২২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০ হাজার বাসস্থান প্রদান করা হবে। এ সকল কার্যক্রমের মাধ্যমে বিশাল একটি জনগোষ্ঠীকে পুনর্বাসন বিশ্বে সর্ববৃহৎ ও সর্বপ্রথম।

‘দেশের ভূমিহীন, গৃহহীন, ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষের দারিদ্র্য বিমোচনের ধারণা মানবিকতার নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ ধারণা ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের শেখ হাসিনা মডেল’ হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে। এজন্য আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি,’ যোগ করেন তিনি।

দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সমুন্নত রাখতে সরকারের নানা পদক্ষেপ তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, ‘নিরবচ্ছিন্ন, নিরাপদ ও সময়-সাশ্রয়ী সড়ক যোগাযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। নিরবচ্ছিন্ন মহাসড়ক নেটওয়ার্ক ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে ২৬টি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

‘২০২০-২১ অর্থবছরে ৯৬২ কিলোমিটারের অধিক মহাসড়ক মজবুতিকরণ, ১ হাজার ১০৭ কিলোমিটার মহাসড়ক প্রশস্তকরণ, ৭৪ কিলোমিটার মহাসড়কে রিজিড পেভমেণ্ট নির্মাণ, ১৯২টি সেতু ও ৭৭৯টি কালভার্ট নির্মাণ এবং প্রায় ৩ হাজার ১৪৫ কিলোমিটার মহাসড়ক সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। সরকার ২০০৯ থেকে এ পর্যন্ত ৪৫৮ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক চার বা তদূর্ধ্ব লেনে উন্নীত করেছে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে সার্ভিস লেনসহ ৭১৯ কিলোমিটার এবং সার্ভিস লেন ব্যতীত ১৬৮ কিলোমিটার মহাসড়ক ৪-লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলমান রয়েছে। ঢাকা মহানগরী ও পার্শ্ববর্তী এলাকার যানজট নিরসন এবং পরিবেশ উন্নয়নে ছয়টি এমআরটি লাইন নির্মাণের লক্ষ্যে সরকার সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা-২০৩০ গ্রহণ করেছে।

‘এর মধ্যে এমআরটি লাইন ছয়-এর নির্মাণকাজ ৭৪ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে এবং দশ সেট মেট্রো ট্রেন বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে প্রথম মেট্রোরেল চলাচল শুরু করবে।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে অন্যান্য অঞ্চলের সুষ্ঠু এবং সমম্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিজস্ব অর্থায়নে ৯ দশমিক আট-তিন কিলোমিটার দীর্ঘ আইকনিক পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে যা ২০২২ সালের জুন নাগাদ সম্পন্ন হবে।

‘হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ জুন ২০২৩ সাল নাগাদ সম্পন্ন হবে। কর্ণফুলী নদীর তলদেশে তিন দশমিক চার কিলোমিটার দীর্ঘ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বহু-লেন টানেলের দ্বিতীয় টানেলের নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে সমাপ্ত হয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সাভার ইপিজেড পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে’ প্রকল্পের নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের সকল জেলাকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। রেলওয়েকে আধুনিক, যুগোপযোগী গণপরিবহন হিসাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বর্তমান অর্থবছরে প্রায় ১৩ হাজার ৩৭১ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে মোট ৩৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে।

‘ঢাকা শহরের চতুর্দিকে সার্কুলার রেললাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে। পদ্মা সেতুর সঙ্গে পদ্মা সেতু রেল লিংকের ভায়াডাক্ট সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের রোলিং-স্টক সংকট নিরসনে ১৪০টি লোকোমোটিভ, ৯০০ যাত্রীবাহী কোচ সংগ্রহ এবং ১০৩টি স্টেশনের সিগন্যালিং ও ইন্টারলকিং ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ করা হয়েছে।’

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, ‘দেশীয় পর্যটন শিল্পের সার্বিক উন্নয়ন ও বিকাশের লক্ষ্যে একটি স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পর্যটন মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দেশের ক্রমবর্ধমান যাত্রী চাহিদা ও পর্যটন শিল্পের উন্নয়নকল্পে প্রায় ২১ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকা ব্যয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।

‘কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করার লক্ষ্যে এর রানওয়ে সম্প্রসারণের পাশাপাশি একটি আন্তর্জাতিক মানের প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। নতুন প্রজন্মের ১৬টি উড়োজাহাজ সংযোজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমানকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
সশস্ত্রবাহিনীর আধুনিক প্রশিক্ষণে গুরুত্ব প্রধানমন্ত্রীর
৫০তম বিজয় দিবস: শপথ পড়াবেন প্রধানমন্ত্রী
উন্নত দেশ গঠনে সশস্ত্র বাহিনীকে অগ্রসেনা হিসেবে চান প্রধানমন্ত্রী
চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত: প্রধানমন্ত্রী
রাস্তায় গাড়ি ভাঙচুর করা ছাত্রদের কাজ না: প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন