করোনায় দেশে আরও ৬ মৃত্যু

player
করোনায় দেশে আরও ৬ মৃত্যু

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ছয়জনের মৃত্যু ছাড়াও এ সময়ের মধ্যে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে আরও ১৭৬ জনের শরীরে।

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গত ২৪ ঘণ্টার এ তথ্য জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

ছয়জনের মৃত্যু ছাড়াও এ সময়ের মধ্যে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে আরও ১৭৬ জনের শরীরে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৭৭ হাজার ২৬৪ জনের শরীরে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৯৯৫ জনের।

গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৪৮টি ল্যাবে ১৬ হাজার ৪২৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ১ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ১৬২ জন। এখন পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৪২ হাজার ৪৮ জন। সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো দেশে টানা দুই মাসের বেশি সময় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে সে দেশের করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বলে গণ্য করা হয়। সরকারের লক্ষ্য এই হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা।

তবে করোনাভাইরাসের দক্ষিণ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এ ভাইরাসটি আগে শনাক্ত হওয়া ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের চেয়ে অধিক সংক্রামক বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর বিস্তার রোধে সামাজিক, রাজনৈতিকসহ সব ধরনের জনসমাগমকে নিরুৎসাহিত করতে সরকার ১৫ দফা নির্দেশনা দিয়েছে।

আরও পড়ুন:
নকল বাহুতে টিকা নিতে গিয়ে ধরা
করোনায় আরও ৩ মৃত্যু, শনাক্ত ২৪৩
ভারতে ওমিক্রন আক্রান্তের সংস্পর্শে পাঁচজনের করোনা
নিউ ইয়র্কে ৫ জনের শরীরে ওমিক্রন
অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকায় রক্ত জমাট বাঁধার প্রমাণ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

একাদশ প্রজন্মের তিন ল্যাপটপ আনল ওয়ালটন

একাদশ প্রজন্মের তিন ল্যাপটপ আনল ওয়ালটন

দেশে একাদশ প্রজন্মের ল্যাপটপ এনেছে ওয়ালটন।

মডেলভেদে ল্যাপটপগুলোতে ব্যবহৃত হয়েছে ইন্টেলের একাদশ প্রজন্মের কোরআই থ্রি থেকে কোরআই সেভেন প্রসেসর, ৮ গিগাবাইট র‌্যাম, দ্রুতগতির এসএসডিসহ অত্যাধুনিক সব ফিচার। সঙ্গে গ্রাহক পাচ্ছেন জেনুইন উইন্ডোজ ১১ অপারেটিং সিস্টেম।

একাদশ প্রজন্মের প্রসেসরযুক্ত তিন মডেলের নতুন ল্যাপটপ বাজারে ছেড়েছে দেশীয় প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।

‘ট্যামারিন্ড এমএক্স১১’ সিরিজের ল্যাপটপগুলোতে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন ডিজাইন, অত্যাধুনিক সব ফিচার।

মডেলভেদে ল্যাপটপগুলোতে ব্যবহৃত হয়েছে ইন্টেলের একাদশ প্রজন্মের কোরআই থ্রি থেকে কোরআই সেভেন প্রসেসর, ৮ গিগাবাইট র‌্যাম, দ্রুতগতির এসএসডিসহ অত্যাধুনিক সব ফিচার। সঙ্গে গ্রাহক পাচ্ছেন জেনুইন উইন্ডোজ ১১ অপারেটিং সিস্টেম।

ওয়ালটন জানায়, নতুন আসা কোর আই থ্রি প্রসেসরযুক্ত ট্যামারিন্ড এমএক্স১১ মডেলের ল্যাপটপটির দাম ৫৭ হাজার ৫০০ টাকা। আর কোর আই ফাইভ প্রসেসরযুক্ত মডেলের ল্যাপটপটির মূল্য ৭১ হাজার ৫০০ টাকা।

অন্যদিকে, কোর আই সেভেন প্রসেসরযুক্ত ট্যামারিন্ড এমএক্স১১ মডেলের ল্যাপটপটির দাম পড়ছে ৮৪ হাজার ৫০০ টাকা।

দেশের সব ওয়ালটন প্লাজা, ডিস্ট্রিবিউটর শোরুম, আইটি ডিলার এবং মোবাইল ডিলার শোরুমে নগদ মূল্যের পাশাপাশি এই ল্যাপটপগুলো কিস্তিতে কেনা যাবে।

তাছাড়া ক্রেডিট কার্ডে বিনা ইন্টারেস্টে ইএমআই সুবিধা দিচ্ছে দেশের সব ওয়ালটন প্লাজা। শিক্ষার্থীদের জন্য ওয়ালটন ল্যাপটপ কেনায় রয়েছে বিশেষ সুবিধা।

ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডস্ট্রিজ লিমিটেডের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. লিয়াকত আলী বলেন, ‘ক্রেতাদের চাহিদা ও প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী আমরা প্রতিনিয়ত সর্বাধুনিক প্রযুক্তির উন্নতমানের ডিজিটাল ডিভাইস উৎপাদন এবং সাশ্রয়ী মূল্যে বাজারজাত করছি। এরই ধারাবাহিকতায় ইন্টেলের একাদশ প্রজন্মের প্রসেসরযুক্ত ‘ট্যামারিন্ড এমএক্স১১’ সিরিজের ওই তিন মডেলের ল্যাপটপ বাজারে ছাড়া হয়েছে।

‘মাল্টিটাক্সিং সুবিধা ও উন্নত ফিচারসমৃদ্ধ উচ্চমানের এই ল্যাপটপ প্রয়োজনীয় কাজ, গেম খেলা কিংবা বিনোদনে ব্যবহারকারীদের দেবে আরও বেশি গতিময় অভিজ্ঞতা। মূলত প্রযুক্তিপ্রেমীদের প্রয়োজনীয়তা ও চাহিদার কথা বিবেচনা করেই নতুন এই ল্যাপটপগুলো বাজারে ছাড়া হয়েছে।’

ল্যাপটপগুলোর উচ্চগতি নিশ্চিতে সব মডেলেই ব্যবহার করা হয়েছে ৮ গিগাবাইট ৩২০০ হার্জ ডিডিআরফোর র‌্যাম। দুটি স্লট থাকায় প্রয়োজনে ৩২ গিগাবাইট পর্যন্ত র‌্যাম বাড়ানো যাবে। স্টোরেজ হিসেবে ল্যাপটপগুলোতে ৫১২ জিবির এনভিএমই এসএসডি রয়েছে, যা ১ টেরাবাইট পর্যন্ত বাড়ানো যাবে।

দীর্ঘক্ষণ পাওয়ার ব্যাকআপের নিশ্চয়তায় সব ল্যাপটপে ব্যবহৃত হয়েছে শক্তিশালী ৪ সেলের স্মার্ট লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি প্যাক। যা প্রায় ৮ ঘণ্টা পাওয়ার ব্যাকআপ দেবে। ৬৫ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং এডাপ্টার দেবে দ্রুত ব্যাটারি রিচার্জ করতে।

অন্যান্য ফিচারের মধ্যে রয়েছে হাই ডেফিনেশন অডিও, বিল্ট ইন অ্যারে মাইক্রোফোন, দুইটি ১.৫ ওয়াটের স্পিকার, ডুয়াল ফ্যান ইত্যাদি। কানেকটিভিটি ফিচারের মধ্যে আছে ১টি করে থান্ডারবোল্ট ৪ কম্বো পোর্ট, ইউএসবি ৩.২ টাইপ সি পোর্ট, ২টি ইউএসবি ৩.২ টাইপ এ পোর্ট, সিক্স-ইন ওয়ান মাইক্রো এসডি কার্ড রিডার, ওয়াইফাই ৬.০, ব্লুটুথ ৫.২, ২টি এমটু কার্ড স্লট, এইচডিএমআই, অডিও জ্যাক, ল্যান পোর্ট ইত্যাদি।

আরও পড়ুন:
নকল বাহুতে টিকা নিতে গিয়ে ধরা
করোনায় আরও ৩ মৃত্যু, শনাক্ত ২৪৩
ভারতে ওমিক্রন আক্রান্তের সংস্পর্শে পাঁচজনের করোনা
নিউ ইয়র্কে ৫ জনের শরীরে ওমিক্রন
অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকায় রক্ত জমাট বাঁধার প্রমাণ

শেয়ার করুন

ওমিক্রন বিস্তার নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য কেন

ওমিক্রন বিস্তার নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য কেন

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে জোর দিতে বলেছে সরকার। ফাইল ছবি

দেশে ওমিক্রন ছড়াচ্ছে, কিন্তু এটি কতোটা বিস্তার লাভ করেছে? এ নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী যে তথ্য দিয়েছেন, তার সঙ্গে মিল নেই বিএসএমএমইউ-এর গবেষণার। এদিকে আইইডিসিআর-ও এ বিষয়ে কোনো পরিষ্কার চিত্র দিচ্ছে না। 

দেশে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের সামাজিক সংক্রমণ (কমিউনিটি ট্রান্সমিশন) ছড়িয়ে পড়েছে। বিদেশ ভ্রমণ কিংবা যাতায়াত করেননি এমন ব্যক্তির দেহে এ ধরন শনাক্ত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ওমিক্রন শনাক্ত ৭১ রোগীর নমুনা জার্মানির গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জায় (জিআইএসএআইডি) জমা পড়েছে। এদের অর্ধেকের বেশির দেশের বাইরে যাওয়ার ইতিহাস নেই।

পাশাপাশি সংক্রমণ ঢাকার বাইরেও ছড়িয়েছে। সর্বশেষ শনাক্ত হওয়া আট রোগী চট্টগ্রামের। এর আগে রোববার যশোরে তিনজনের শরীরে ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে।

তবে ওমিক্রন বিস্তার নিয়ে সরকারের কোনো সংস্থা এখনও পরিষ্কার কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। গতবার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের ক্ষেত্রে একাধিক গবেষণা প্রকাশ করে সরকারের সংস্থা রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট। এবার এই সংস্থাটিও অনেকটা নীরব।

এ ছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ), রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) ওমিক্রন নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিচ্ছে।

ওমিক্রন ছড়ানো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক গত সোমবার বলেন, ‘জিনোম সিকোয়েন্সে দেখা গেছে, রাজধানীতে বর্তমানে করোনা আক্রান্তের ৬৯ শতাংশের শরীরে ওমিক্রনের উপস্থিতি রয়েছে। এটা শুধু ঢাকায় করা হয়েছে। তবে ঢাকার বাহিরেও আমরা মনে করি একই হাল হবে। এ কারণেই করোনা সংক্রমণ বেড়েছে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওমিক্রন বিস্তার নিয়ে যে তথ্য দিয়েছেন, সেটির উৎস কী, জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আমল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রী যে তথ্য দিয়েছেন, সেটা রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের। আমাদের হাতে এই তথ্য এসেছে। তবে এখনই বিস্তারিত বলতে পারব না।’

‍তিনি বলেন, এখনও ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের প্রাধান্য রয়েছে। এ ছাড়া ওমিক্রন ২০ শতাংশ ছড়িয়েছে। গ্রামে এই ধরনের তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি।

গবেষণাটির বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে আইইডিসিআর-এর পরিচালক ডা. তাহমিনা শিরিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওমিক্রনে দৈনিক কত জন আক্রান্ত, কত জন মারা গেলেন, সেটা এই মুহূর্তে বলতে পারব না। পুরুষ ও নারী কত জন সে তথ্য দেয়াও সম্ভব নয়। একটা কথা মনে রাখতে হবে, এই মুহূর্তে ওমিক্রন নিয়ে না ভেবে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে গুরুত্ব দিতে হবে।

‘কারণ সংক্রমণ আজ ১০ শতাংশ, কাল বেড়ে ১৫ শতাংশ আবার পরশু তা কমে ৫ শতাংশে আসতে পারে। এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। ডেল্টার ক্ষেত্রেও তাই। এভাবে আলফা, বিটা ধরন এসেছিল, সেটা চলে গেছে, আবার আসতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘ধরনটি দ্রুত পরিবর্তনশীল। সুতরাং এই বিষয়গুলোকে এত বেশি গুরুত্ব না দিয়ে ওমিক্রনের উপস্থিতি যে বাংলাদেশে আছে, সে ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে। ধরনটি তাড়াতাড়ি ছড়ায়। যত বেশি ছড়াবে, তত বেশি মানুষ আক্রান্ত হবে। চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে রোগী বাড়তে পারে। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুও বাড়তে পারে।

‘আরেকটি বিষয় হলো, ডেল্টার চেয়ে ওমিক্রনে মৃত্যুহার কম। কিন্তু যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, যাদের কো-মরবিডিটি আছে, তাদের ক্ষেত্রে জটিল হতে পারে।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশে যাতায়াতের ইতিহাস না থাকা এবং ঢাকার বাইরে রোগী শনাক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয়, ওমিক্রনের সামাজিক সংক্রমণ শুরু হয়েছে। ওমিক্রনের প্রভাবে দৈনিক সংক্রমণ ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। তাই এ বিষয়ে এখনই সর্তক হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।

এদিকে মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) ওমিক্রনের বিস্তার নিয়ে একটি গবেষণা প্রকাশ করে, সেখানে দেখা গেছে দেশে শনাক্ত হওয়া ২০ শতাংশ রোগীই বর্তমানে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনে আক্রান্ত।

প্রকাশিত গবষণার প্রধান গবেষক ডা. লায়লা আনজুমান বানু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এক মাসে ৯৬টি নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিং করা হয়েছে। এখানে ২০ শতাংশ করোনা রোগীর দেহে ওমিক্রনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এই গবেষণাটি ৮ জানুয়ারি শেষ হয়। যেহেতু সংক্রমণ বাড়ছে, ওমিক্রনের বিস্তার বাড়তে পারে, এটা স্বাভাবিক। তবে এ বিষয়ে সরকারের কাছে স্পষ্ট তথ্য থাকা ভালো। ৮ ডিসেম্বর ২০২১ থেকে ৮ জানুয়ারি ২০২২ পর্যন্ত সংগৃহীত নমুনার ২০ শতাংশই ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট ও ৮০ শতাংশ ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যায়। পরবর্তী মাসে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট গুণিতক হারে বৃদ্ধির আশঙ্কা করা যাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, জিনোম সিকোয়েন্স অনেক ব্যয়বহুল। একটি জিনোম সিকোয়েন্স করতে এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগে। যে কারণে সব রোগীর জিনোম সিকোয়েন্স করা সম্ভব হয় না। অনেক প্রসেসিংয়ের মাধ্যমে এই জিনোম সিকোয়েন্স করতে হয়। ভিন্ন ভিন্ন গবেষণায় ভিন্ন ভিন্ন ফল আসতে পারে। এ ছাড়া সময় ও দিনের ব্যবধানে চিত্রের পরিবর্তন হতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবির বলেন, ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রী হয়ত আইইডিসিআরের একটা সোর্স থেকে এ কথা বলেছেন। এগুলো অনুমাননির্ভর জিনিস। ওমিক্রনে বেশির ভাগ আক্রান্ত ব্যক্তির মৃদ উপসর্গ বা আপার রেসপেরিটরি ইনফেকশন দেখা দেয়। ফলে বেশি সংখ্যক নমুনা নিয়ে কাজ না করলে সঠিকভাবে বলা কঠিন কোন ধরণটি বেশি সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। তা ছাড়া জিনোম সিকোয়েন্সিং সময়সাপেক্ষে ও ব্যয়বহুল। এটা নিয়ে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। তবে রোগী শনাক্তে দৈনিক কতটি নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে, কতজনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়, সে ব্যাপারে আইইডিসিআর ভাল বলতে পারবে। তবে আইইডিসিআরের বরাত দিয়ে যেহেতু স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, এটাকে আপাতত ধরে নিতে হবে।’

আরও পড়ুন:
নকল বাহুতে টিকা নিতে গিয়ে ধরা
করোনায় আরও ৩ মৃত্যু, শনাক্ত ২৪৩
ভারতে ওমিক্রন আক্রান্তের সংস্পর্শে পাঁচজনের করোনা
নিউ ইয়র্কে ৫ জনের শরীরে ওমিক্রন
অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকায় রক্ত জমাট বাঁধার প্রমাণ

শেয়ার করুন

পাঁচ শর্তে ফু-ওয়াং ফুডসের মালিকানা বদল

পাঁচ শর্তে ফু-ওয়াং ফুডসের মালিকানা বদল

ফু-ওয়াং ফুডসের মালিকানা বদলের অনুমোদন দিয়েছে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। ছবি: সংগৃহীত

চিঠিতে বলা হয়, ফু-ওয়াং ফুডসের ৮৪ লাখ ৪২ হাজার ৭২৬টি শেয়ার মিনোরি বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে কমিশন অনুমোদন দিয়েছে। যা মোট শেয়ারের ৭ দশমিক ৬১ শতাংশ। এ পরিমাণ শেয়ার নেয়া হয়েছে ফু-ওয়াং ফুডসের পরিচালক আরিফ আহমেদ চৌধুরী, আফসানা তারান্নুম ও লুবাবা তাবাসসুমের কাছ থেকে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত খাদ্য ও আনুষাঙ্গিক খাতের ফু-ওয়াং ফুডসের মালিকানা বদল হচ্ছে। এর অনুমোদনও দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

কমিশনের নিয়মিত সভায় বৃহস্পতিবার মিনোরি বাংলাদেশকে কোম্পানিটির মালিকানা নিতে অনুমোদন দেয়া হয়।

এর আগে পুঁজিবাজারের একই খাতের এমারেল্ড অয়েল চালু করার মাধ্যমে নিজেদের কর্তৃত্ব দেখিয়েছি মিনোরি বাংলাদেশ। তবে ফু-ওয়াং ফুডসের মালিকানা পেতে পাঁচ শর্ত পূরণ করতে হবে মিনোরিকে।

ফু-ওয়াং ফুডসের ৭ দশমিক ৬১ শতাংশ শেয়ার হস্তান্তরের জন্য কোম্পানিটির তিন পরিচালকসহ মিনোরি বাংলাদেশের সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেয়া হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, ফু-ওয়াং ফুডসের ৮৪ লাখ ৪২ হাজার ৭২৬টি শেয়ার মিনোরি বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে কমিশন অনুমোদন দিয়েছে। যা মোট শেয়ারের ৭ দশমিক ৬১ শতাংশ। এ পরিমাণ শেয়ার নেয়া হয়েছে ফু-ওয়াং ফুডসের পরিচালক আরিফ আহমেদ চৌধুরী, আফসানা তারান্নুম ও লুবাবা তাবাসসুমের কাছ থেকে।

ডিপোজিটার (ব্যবহারিক) প্রবিধান ২০০৩ এর বিধি ৪২ এবং সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) উপ-বিধি ১১.৬ (মিলিত লেনদেন) এর অধীনে শেয়ার ক্রয় চুক্তি (এসপিএ) অনুসারে প্রতিটি শেয়ার ১০ টাকা মূল্যে হস্তান্তর হয়েছে। ফলে হস্তান্তরিত শেয়ারের মূল্য হবে ৮ কোটি ৪৪ লাখ ২৭ হাজার ২৬ টাকা।

এক্সচেঞ্জের ট্রেডিং সিস্টেমের বাইরে এই শেয়ার হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্নের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

শেয়ারের মালিকানা নেয়ার জন্য মিনোরি বাংলাদেশকে দেয়া পাঁচ শর্তের মধ্যে আছে, মালিকানা নেয়ার পর মিনোরি বাংলাদেশকে প্রযোজ্য উৎসে কর জমা দেয়ার জন্য প্রবিধানের বিধি-বিধান অনুযায়ী ঘোষনা দিতে হবে।

শেয়ার হস্তান্তরের পর মিনোরি বাংলাদেশ শেয়ারের বিপরীতে এক বা একাধিক মনোনীত প্রতিনিধি বা পরিচালক নিয়োগ করবে।

ফু-ওয়াং ফুডের দায় দেনা নিয়মিত পরিশোধ ও কোম্পানিটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য কমপক্ষে ২০ কোটি টাকার শেয়ার মানি ডিপোজিট হিসেবে রাখবে।

এই টাকা আলাদা একটি ব্যাংক হিসাবে রাখতে হবে। যা দিয়ে ব্যাংকের দায় দেনা নিয়মিত পরিশোধ, জমি অধিগ্রহণ, কার্যকরি মূলধন ও উৎপাদন সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য ব্যবহার করা যাবে।

৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের শর্ত পূরণের জন্য শেয়ার মানি ডিপোজিটের শেয়ারের অর্থের বিপরীতে মূলধন বাড়ানোর ক্ষেত্রে কমিশনের সম্মতি নিতে হবে।

এ বিষয়ে বিএসইসির কমিশনার অধ্যাপক ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বিএসইসির পক্ষ থেকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। মিনোরি বাংলাদেশের সঙ্গে তারা একটি চুক্তি করেছে। সেখানে ফু-ওয়াং ফুডস তাদের সাড়ে ৮ কোটি টাকা সমপরিমাণের শেয়ার বিক্রি করবে মিনোরি বাংলাদেশের কাছে।

‘এর আগে মিনোরি বাংলাদেশের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে আরেক কোম্পানি এমারেল্ড অয়েল উৎপাদনে ফিরেছে। ফলে তাদের প্রতি আমাদের আস্থা আছে। আর ফু-ওয়াং ফুড পরিচালনার জন্য মিনোরি বাংলাদেশকে বেশ কিছু শর্ত দেয়া হয়েছে, তাদের সেগুলো পরিপালন করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
নকল বাহুতে টিকা নিতে গিয়ে ধরা
করোনায় আরও ৩ মৃত্যু, শনাক্ত ২৪৩
ভারতে ওমিক্রন আক্রান্তের সংস্পর্শে পাঁচজনের করোনা
নিউ ইয়র্কে ৫ জনের শরীরে ওমিক্রন
অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকায় রক্ত জমাট বাঁধার প্রমাণ

শেয়ার করুন

রেমিট্যান্সে নগদ সহায়তার আওতা বাড়ল

রেমিট্যান্সে নগদ সহায়তার আওতা বাড়ল

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়, ‘প্রবাসীদের আয় বৈধ উপায়ে দেশে আনাকে উৎসাহিত করতে বিদ্যমান হারে রেমিট্যান্স প্রণোদনা বা নগদ সহায়তা দেয়ার জন্য কয়েকটি খাত যুক্ত করা হয়েছে। এগুলো হলো- পেনশন ফান্ড, প্রভিডেন্ট ফান্ড, লিভ সেলারি, বোনাস ও অন্যান্য গ্র্যাচুইটি এবং অবসর সুবিধা।’

বৈধ পথে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে নগদ সহায়তায় আওতা বাড়িয়েছে সরকার। এখন থেকে বিদেশি সংস্থায় কাজ করেছেন এমন ব্যক্তিদের ওইসব প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত পেনশন ফান্ড, প্রভিডেন্ট ফান্ড, লিভ সেলারি, বোনাস ও অন্যান্য গ্র্যাচুইটি এবং অবসর সুবিধার অর্থ রেমিট্যান্স হিসেবে আড়াই শতাংশ নগদ সহায়তা পাবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করেছে। এই নির্দেশনা দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়, ‘সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রবাসীদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক আয় বৈধ উপায়ে দেশে আনাকে উৎসাহিত করতে বিদ্যমান হারে রেমিট্যান্স প্রণোদনা বা নগদ সহায়তা দেয়ার জন্য কয়েকটি খাত যুক্ত করা হয়েছে। এগুলো হলো- পেনশন ফান্ড, প্রভিডেন্ট ফান্ড, লিভ সেলারি, বোনাস ও অন্যান্য গ্র্যাচুইটি এবং অবসর সুবিধা।

‘রেমিট্যান্সের অর্থের আয়ের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে এবং আহরণের সঙ্গে সঙ্গে আবশ্যিকভাবে তা টাকায় রূপান্তর করতে হবে।’

নির্দেশনাটি সার্কুলার জারির তারিখ থেকে কার্যকর হবে। রেমিট্যান্স পাঠানোর বিপরীতে প্রণোদনা ও নগদ সহায়তা সংক্রান্ত আগের ইস্যু করা নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে বলে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) রেমিট্যান্স এসেছে এক হাজার ২৩ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে তা ছিল এক হাজার ২৯৪ কোটি ডলার। সে হিসাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রেমিট্যান্স কমেছে ২৭০ কোটি ডলার।

আরও পড়ুন:
নকল বাহুতে টিকা নিতে গিয়ে ধরা
করোনায় আরও ৩ মৃত্যু, শনাক্ত ২৪৩
ভারতে ওমিক্রন আক্রান্তের সংস্পর্শে পাঁচজনের করোনা
নিউ ইয়র্কে ৫ জনের শরীরে ওমিক্রন
অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকায় রক্ত জমাট বাঁধার প্রমাণ

শেয়ার করুন

‘আমি হাসপাতালে যাব না, অনশন করব’

‘আমি হাসপাতালে যাব না, অনশন করব’

অনশনে অসুস্থ হয়ে পড়েন শাবি ছাত্রী জান্নাতুল নাইম নিশাত। ছবি: নিউজবাংলা

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নিশাত বলেন, ‘অনেকে হয়ত ভাবতে পারেন অনশন ভেঙে ফেলেছে। আমি অনশন ভাঙিনি.., হাসপাতালেও অনশন চালিয়ে যাচ্ছি।’

উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে বুধবার দুপুর থেকে সহপাঠীদের সঙ্গে অনশনে আছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী জান্নাতুল নাইম নিশাত। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে নেয়া হয় এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

তবে তিনি হাসপাতাল যেতে চাননি। সহপাঠীদের উদ্দেশে বলতে থাকেন, ‘আমি হাসপাতালে যাব না, আমি তো বলেই এলাম, আমরণ অনশন করতে এসেছি। হাসপাতালে কেন যাব? আন্দোলনে এসেছি না?’

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নিশাতের সঙ্গে কথা হয় নিউজবাংলার। তিনি বলেন, ‘অনেকে হয়ত ভাবতে পারেন অনশন ভেঙে ফেলেছে। আমি অনশন ভাঙিনি। অনশন ভাঙব না। হাসপাতালেও অনশন চালিয়ে যাচ্ছি।

‘যতদিন পর্যন্ত এই স্বৈরাচারী ভিসি পদত্যাগ না করে ততক্ষণ পর্যন্ত অনশন থাকব।’

উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে অনশনরত ২৪ শিক্ষার্থীর মধ্যে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত নিশাতসহ ৭ জনকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪ জন আছেন ওসমানী মেডিক্যালে এবং ২ জন জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

বাবা অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর শুনে অনশন থেকে উঠে বাড়িতে যান ওই ২৪ জনের একজন।

অন্যরা তীব্র শীতের মধ্যেও ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে আছেন। তাদের মধ্যে ৮ জনকে দেয়া হচ্ছে স্যালাইন।

অনশনকারীদের মধ্যে বৃহস্পতিবার দুপুরে সবার আগে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় কাজল দাশকে।

হাসপাতালের বেডে শুয়ে কাজলও বলেন, ‘এই অযোগ্য ভিসি যদি পদত্যাগ না করে, তবে আমি মরার আগ পর্যন্ত অনশন ভাঙব না। কোনোভাবেই ভাঙব না। ভিসি পদত্যাগ করলেই ভাঙব।’

একই বক্তব্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মরিয়ম রুবি ও ক্যাম্পাসে থাকা জাহিদুল ইসলাম অপূর্বেরও।

শিক্ষার্থীদের অনশনস্থলে সেবা দিতে দেখা গেছে ওসমানী মেডিক্যালের কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের।

‘আমি হাসপাতালে যাব না, অনশন করব’

এদিকে, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে ক্যাম্পাসে মশাল মিছিল করেন। মিছিলটি উপাচার্যের বাসবভনের সামনে থেকে শুরু হয়ে চেতনা একাত্তর হয়ে আবার উপাচার্যের বাসভভনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

এক হল প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের আন্দোলন গত রোববার থেকে রূপ নেয় উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনে। ওই প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের পর শিক্ষার্থীদের এখন একটাই দাবি, উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগ।

পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষের পর রোববার সন্ধ্যায় জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। হল ছাড়ার নির্দেশও দেয়া হয়। তবে শিক্ষার্থীরা তালা ঝুলিয়ে হলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।

আরও পড়ুন:
নকল বাহুতে টিকা নিতে গিয়ে ধরা
করোনায় আরও ৩ মৃত্যু, শনাক্ত ২৪৩
ভারতে ওমিক্রন আক্রান্তের সংস্পর্শে পাঁচজনের করোনা
নিউ ইয়র্কে ৫ জনের শরীরে ওমিক্রন
অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকায় রক্ত জমাট বাঁধার প্রমাণ

শেয়ার করুন

শিক্ষার্থীদের কাছে টিকার বিনিময়ে ‘টাকা আদায়’

শিক্ষার্থীদের কাছে টিকার বিনিময়ে ‘টাকা আদায়’

প্রতীকী ছবি

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বখতিয়ার আল মামুন বলেন, ‘সরকার টিকা সরবরাহের সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করে। সেখানে টিকা পরিবহনে টাকা তোলার প্রশ্নই ওঠে না। অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে। আশা করি সঠিক সত্যটি বেড়িয়ে আসবে।’

করোনার টিকার জন্য শিক্ষার্থী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় সাত লাখ টাকা তুলে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ না দিলেও স্থানীয়দের দেয়া তথ্যে উপজেলা প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার গঠন করা হয়েছে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুল হাশেম।

যার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তিনি হলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম।

ইউএনও জানান, শিক্ষার্থীদের করোনার টিকা দিতে সার্বিক খরচ বহন করছে সরকার। সেখানে শিক্ষার্থী বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা নেয়ার কোনো নিয়ম নেই।

তিনি আরও জানান, স্থানীয়ভাবে অভিযোগ উঠেছে যে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কিছু প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। অভিযোগের সত্যতা আছে কিনা জানতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৩ কার্যদিবসের মধ্যে কমিটি প্রতিবেদন জমা দেবে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেশ কয়েকটি অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর মধ্যে জেলা সদর থেকে টিকা আনার জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া বাবদ প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৫০ টাকা করে আদায় করার অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, টিকা পরিবহনের জন্য স্কুলপ্রতি ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। এই টাকা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তোলা হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, বরিশাল থেকে আগৈলঝাড়া উপজেলায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া ২২ শ টাকা করে দেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের টিকা আনার জন্য ১৩ দিনে ২২ শ টাকা হিসেবে ২৮ হাজার ৬ শ টাকা এবং আরও দুই দিন টিকা আনার ভাড়া বাবদ চালককে দেয়া হয়েছে ৩ হাজার টাকা। টিকা সরবরাহের জন্য সর্বসাকুল্যে খরচ হয়েছে ৩৪ হাজার ৬ শ টাকা।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বখতিয়ার আল মামুন বলেন, ‘সরকার টিকা সরবরাহের সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করে। সেখানে টিকা পরিবহনে টাকা তোলার প্রশ্নই ওঠে না। শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ শুনেছি। অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে। আশা করি সঠিক সত্যটি বেড়িয়ে আসবে।’

আঞ্চলিক উপপরিচালক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। টিকা দেয়ার জন্য টাকা তোলার নিয়ম নেই। যদি কেউ এমন কাজ করে তার বিরুদ্ধে ব‌্যবস্থা নেয়া হবে।’

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘টিকা আগৈলঝাড়ায় এনে দেয়ার জন্য পাঁচজন শিক্ষক নেতা মিলে বিভিন্ন স্কুল থেকে টাকা তুলেছেন। সেই টাকা জমা রেখেছিলেন শিক্ষা অফিসের অফিস সহায়ক মন্টু বাবুর কাছে। আগামী রোববার টাকার হিসেব দেয়ার কথা, কিন্তু তার আগেই বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

‘এমনভাবে উত্থাপন করা হচ্ছে যেন মনে হচ্ছে টিনের বক্সে একদিকে ৫০ টাকা ফেলেছেন অন্য দিকে টিকা নিয়েছেন। বিষয়টি তেমন নয়। শিক্ষক নেতারা টাকা উত্তোলন করে এখন আমার ওপর দায় দিচ্ছেন। ৭ লাখ টাকা উত্তোলন হাস্যকর বিষয়। সম্ভবত ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা উত্তোলন হতে পারে, কিন্তু এর মধ্যে আমাকে কেন জড়ানো হচ্ছে তা বুঝতে পারছি না।

এর আগে নওগাঁপাবনাতেও করোনাভাইরাসের টিকা বাবদ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

আরও পড়ুন:
নকল বাহুতে টিকা নিতে গিয়ে ধরা
করোনায় আরও ৩ মৃত্যু, শনাক্ত ২৪৩
ভারতে ওমিক্রন আক্রান্তের সংস্পর্শে পাঁচজনের করোনা
নিউ ইয়র্কে ৫ জনের শরীরে ওমিক্রন
অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকায় রক্ত জমাট বাঁধার প্রমাণ

শেয়ার করুন

কোটরে প্যাঁচা গেল ঝোঁপে

কোটরে প্যাঁচা গেল ঝোঁপে

কুমিল্লা নগরীতে দেখা মিলল কোটরে প্যাঁচার। ছবি: নিউজবাংলা

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রইস উদ্দিন জানান, এই প্যাঁচা খুব একটা দেখা যায় না। সাধারণত গাছের কোটরে এরা বাসা বাঁধে বলেই এদের কোটরে বা খুঁড়ুলে প্যাঁচা বলে।

কুমিল্লা শহরের বিসিক শিল্পনগরীতে একটি বাড়িতে ঢুকে পড়া কোটরে প্যাঁচাকে অবমুক্ত করা হয়েছে ঝোঁপে।

ফেসবুকে ভিডিও দেখে প্যাঁচাটিকে ব্রাউন হক বা কোটরে প্যাঁচা বলে শনাক্ত করেছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রইস উদ্দিন। তিনি জানান, এটি দেশে সচারচর দেখা যায় না।

বিসিক শিল্পনগরীর শাহরিয়ার সিদ্দিকী ইভান নামে এক যুবকের বাসায় বুধবার সন্ধ্যায় ঢুকে পড়ে প্যাঁচাটি। অধ্যাপক রইসের উপদেশে বৃহস্পতিবার সেটিকে বাড়ির পাশে ঝোঁপে ছেড়ে দেন ইভান।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘বুধবার সন্ধ্যায় হঠাৎ করে প্যাঁচাটি আমাদের ঘরে ঢোকে। আমার মায়ের রান্নাঘরের দিকে উড়ে যায়। প্যাঁচাটি আলো দেখে খুব ভয় পেয়েছে। আমরা দরজা-জানালা খোলা রাখলেও প্যাঁচাটি বের হয়ে যায়নি। পরে কী করব বুঝতে পারছিলাম না।’

ইভান জানান, তিনি পরামর্শ চেয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিলে সেটি মোশাররফ হোসেন নামের একজনের চোখে পড়ে। তিনি নিজেকে ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার পরিচয় দিয়ে প্যাঁচাটি দেখতে চান। ঠিকানা নিয়ে বুধবারই ইভানের বাসায় যান।

কোটরে প্যাঁচা গেল ঝোঁপে

মোশাররফ নিউজবাংলা বলেন, ‘আমি বন্যপ্রাণীর ছবি তুলি। তাই এসব নিয়ে ঘাঁটাঘাটি করি। প্যাঁচাটি দেখেই আমি বুঝতে পারি এটি ব্রাউন হক আউল বা খুঁড়ুলে প্যাঁচা।’

তিনি ওই প্যাঁচার ভিডিও পাঠান ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যাপক রইস উদ্দিনের কাছে।

অধ্যাপকও নিশ্চিত করেন এটি ব্রাউন হক, স্থাণীয়ভাবে পরিচিত খুঁড়ুলে বা কোটরে প্যাঁচা নামে।

তিনি জানান, এই প্যাঁচা খুব একটা দেখা যায় না। পোকামাকড় ও আবর্জনা খায় এটি। সাধারণত গাছের কোটরে এরা বাসা বাঁধে বলেই এদের কোটরে বা খুঁড়ুলে প্যাঁচা বলে।

তিনি আরও জানান, বিগত কয়েক দশক ধরে এদের সংখ্যা কমে গেছে।

আরও পড়ুন:
নকল বাহুতে টিকা নিতে গিয়ে ধরা
করোনায় আরও ৩ মৃত্যু, শনাক্ত ২৪৩
ভারতে ওমিক্রন আক্রান্তের সংস্পর্শে পাঁচজনের করোনা
নিউ ইয়র্কে ৫ জনের শরীরে ওমিক্রন
অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকায় রক্ত জমাট বাঁধার প্রমাণ

শেয়ার করুন