নভেম্বরে সড়কে ‘নিহত ৪১৩’

player
নভেম্বরে সড়কে ‘নিহত ৪১৩’

নভেম্বরে সড়কে সবচেয়ে বেশি প্রাণ গেছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

গত মাসে সড়কে মোট দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। ১৫৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৮৪ জন, যা মোট নিহতের ৪৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৪১ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

দেশে চলতি বছরের নভেম্বরে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩৭৯টি। এতে প্রাণ গেছে ৪১৩ জনের, আহত ৫৩২ জন। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটেছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়, ৪৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে মাসভিত্তিক প্রতিবেদনে শনিবার এসব তথ্য দেয় রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। তাদের তথ্যসূত্র সাতটি জাতীয় দৈনিক, পাঁচটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানায়, সড়ক দুর্ঘটনায় নভেম্বরে যারা নিহত হয়েছেন তাদের মধ্যে নারী ৬৭ জন, শিশু ৫৮ জন। এ ছাড়া দুর্ঘটনায় ৯৬ জন পথচারী নিহত হয়েছেন।

১৫৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৮৪ জন, যা মোট নিহতের ৪৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৪১ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

সড়ক দুর্ঘটনার ভয়াবহ চিত্র নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রাজধানীতে নিরাপদ সড়কসহ নানা দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের প্রসঙ্গটিও টেনে আনেন রোড সেফটি ফাউন্ডেশন নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘ছাত্ররা যে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন করছে, এটা তো ছাত্রদের করার কথা না। এটার দায়িত্ব তো রাষ্ট্রের এবং সরকারের। ছাত্ররা তো বাধ্য হচ্ছে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন করতে। এই আন্দোলনের প্রতি আমাদের নৈতিক সমর্থন আছে এবং সবারই সমর্থন দেয়া উচিত।

‘তবে আন্দোলনের নামে অরাজকতা হোক, গাড়ি ভাঙচুর-অগ্নি সংযোগ হোক সেটা আমরা চাই না। আমরা চাই মানুষ নিরাপদে সড়কে যাতায়াত করুক। পরিবহন শ্রমিকদের পেশাগত উন্নতির মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করুক। পরিবহন মালিকরা দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে সচেতন হোক। সবশেষে মানুষ সচেতন হোক- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নভেম্বর মাসে সাতটি নৌ-দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত হন, নিখোঁজ ৫ জন। আর রেলপথে ১১টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত হয়েছেন, আহত ২ জন।

দুর্ঘটনায় যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোটরসাইকেলচালক ও আরোহী ১৮৪ জন, বাসযাত্রী ২৩ জন, ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান-ট্রাক্টর-ট্রলি যাত্রী ১২ জন, মাইক্রোবাস-প্রাইভেট কার-অ্যাম্বুলেন্স-জিপ যাত্রী ৯ জন, থ্রি-হুইলার যাত্রী (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-মিশুক-টেম্পু-লেগুনা) ৬৬ জন।

এ ছাড়া স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী (নসিমন-ভটভটি-আলমসাধু-বোরাক-মাহিন্দ্র-টমটম) ১৭ জন এবং প্যাডেল রিকশা-রিকশাভ্যান-বাইসাইকেল আরোহী ৬ জন নিহত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৫৬টি জাতীয় মহাসড়কে, ১৩১টি আঞ্চলিক সড়কে, ৫৩টি গ্রামীণ সড়কে, ৩৫টি শহরের সড়কে এবং অন্যান্য স্থানে ৪টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।

দুর্ঘটনাগুলোর ৮৯টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৩৩টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ৯১টি পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দেয়া, ৫৯টি যানবাহনের পেছনে আঘাত করা এবং ৭টি অন্যান্য কারণে ঘটেছে।

যানবাহন অনুযায়ী দুর্ঘটনার হার

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ ২১ দশমিক ৪২ শতাংশ, ট্রাক্টর-ট্রলি-লরি-ড্রাম ট্রাক ৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ, মাইক্রোবাস-প্রাইভেট কার-অ্যাম্বুলেন্স-জিপ ৫ দশমিক ৩১ শতাংশ, যাত্রীবাহী বাস ১১ দশমিক ৫৩ শতাংশ, মোটরসাইকেল ৩০ দশমিক ৫৮ শতাংশ, থ্রি-হুইলার ১৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং প্যাডেল রিকশা-রিকশাভ্যান-বাইসাইকেল ১ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা

সংস্থাটি বলছে, দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা ৫৪৬টি। এর মধ্যে ট্রাক ৭৮, বাস ৬৩, কাভার্ডভ্যান ১২, পিকআপ ২৭, ট্রলি ৮, লরি ৩, ট্রাক্টর ৬, মাইক্রোবাস ১৩, প্রাইভেট কার ১১, অ্যাম্বুলেন্স ৩, জিপ ২, পুলিশ পিকআপ ২, ড্রাম ট্রাক ৪, মোটরসাইকেল ১৬৭, থ্রি-হুইলার ১০৯, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ২২ এবং প্যাডেল রিকশা-রিকশাভ্যান-বাইসাইকেল ১৬টি।

ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। ৮৩টি দুর্ঘটনায় নিহত ১০৪ জন। সবচেয়ে কম বরিশাল বিভাগে; ২২টি দুর্ঘটনায় নিহত ২৪ জন। একক জেলা হিসেবে চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। ২১টি দুর্ঘটনায় ২৯ জন নিহত। সবচেয়ে কম লালমনিরহাট জেলায়। দুটি দুর্ঘটনা ঘটলেও কেউ হতাহত হয়নি। ঢাকায় ১৪টি দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত হয়েছে।

দেশে সড়ক দুর্ঘটনার কারণ

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে বলছে, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া গতি, চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা, বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল, তরুণ ও যুবদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএর সক্ষমতার ঘাটতি, গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজি।

সুপারিশ

সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে: দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বৃদ্ধি করতে হবে, চালকের বেতন ও কর্মঘণ্ট নির্দিষ্ট করতে হবে, বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে, পরিবহনের মালিক-শ্রমিক, যাত্রী ও পথচারীদের প্রতি ট্রাফিক আইনের বাধাহীন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল বন্ধ করে এগুলোর জন্য আলাদা পার্শ্বরাস্তা (সার্ভিস লেন) তৈরি করতে হবে, পর্যায়ক্রমে সব মহাসড়কে রোড ডিভাইডার নির্মাণ করতে হবে, গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে, রেল ও নৌপথ সংস্কার ও সম্প্রসারণ করে সড়কপথের ওপর চাপ কমাতে হবে, টেকসই পরিবহন কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে এবং সর্বোপরি ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’ বাধাহীনভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

আরও পড়ুন:
ডেমু-বাস-অটোরিকশার সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত কমিটি
ব্যঙ্গচিত্র নিয়ে রোববার রামপুরায় থাকবে শিক্ষার্থীরা
বাস-কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষে চালক নিহত
ডেমু ট্রেন-বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষ, পুলিশসহ নিহত ৩
এবার রাজধানীতে ট্রাকের ধাক্কায় শিক্ষার্থী নিহত

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পুলিশের কাছে প্রত্যাশা আকাশচুম্বী: আইজিপি

পুলিশের কাছে প্রত্যাশা আকাশচুম্বী: আইজিপি

পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের সঙ্গে পুলিশের মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ। ছবি: নিউজবাংলা

আইজিপি বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘যারা পুলিশে পদোন্নতি পেয়ে শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছেছেন, তাদের বাহিনী থেকে তেমন কিছু পাওয়ার নেই। এখন শুধু দেয়ার পালা। আপনারা এখন দেশ, জনগণ এবং পুলিশ বাহিনীর জন্য কাজ করবেন।’

পুলিশের কাছে মানুষের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী বলে মনে করেন বাহিনীপ্রধান ড. বেনজীর আহমেদ। নানা সীমাবদ্ধতায় সে আশার সবকিছু পূরণ সম্ভব না হলেও পুলিশ বাহিনী আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

সদ্য পদোন্নতি পাওয়া সাতজন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের র‍্যাংক ব্যাজ পরিধান অনুষ্ঠানে রোববার তিনি এ কথা বলেন।

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের হল অফ প্রাইডে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মহাপরিদশর্ক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘মানুষের প্রত্যাশা পূরণে নিজেদের অতিক্রম করে সেবা দিতে হবে। পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

‘যারা পুলিশে পদোন্নতি পেয়ে শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছেছেন, তাদের বাহিনী থেকে তেমন কিছু পাওয়ার নেই। এখন শুধু দেয়ার পালা। আপনারা এখন দেশ, জনগণ এবং পুলিশ বাহিনীর জন্য কাজ করবেন।’

পুলিশের কাছে প্রত্যাশা আকাশচুম্বী: আইজিপি
আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ মতবিনিময় করেন পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের সঙ্গে। ছবি: নিউজবাংলা

আইজিপি পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের আন্তরিক অভিনন্দন ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের র‍্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ এবং অতিরিক্ত আইজি (এঅ্যান্ডআই) ড. মো. মইনুর রহমান চৌধুরী।

অতিরিক্ত আইজি হিসেবে সদ্য পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তারা হলেন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের আবু হাসান মুহম্মদ তারিক, পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার, কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের পরিচালক ড. হাসান উল হায়দার, স্পেশাল ব্রাঞ্চের প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান, শিল্পাঞ্চল পুলিশের মো. মাহাবুবর রহমান ও ময়মনসিংহ রেঞ্জের ব্যারিস্টার মো. হারুন অর রশিদ।

অনুষ্ঠানে পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তারা দেশ ও জনগণের কল্যাণে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অঙ্গীকার করেন।

আরও পড়ুন:
ডেমু-বাস-অটোরিকশার সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত কমিটি
ব্যঙ্গচিত্র নিয়ে রোববার রামপুরায় থাকবে শিক্ষার্থীরা
বাস-কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষে চালক নিহত
ডেমু ট্রেন-বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষ, পুলিশসহ নিহত ৩
এবার রাজধানীতে ট্রাকের ধাক্কায় শিক্ষার্থী নিহত

শেয়ার করুন

জেলা পরিষদে প্রশাসক, সংসদে বিল

জেলা পরিষদে প্রশাসক, সংসদে বিল

জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সদস্যরা। ফাইল ছবি

বিলে বলা হয়েছে, পরিষদের মেয়াদ শেষে পরবর্তী পরিষদ গঠনের আগ পর্যন্ত কার্যক্রম সম্পাদনে সরকার একজন উপযুক্ত ব্যক্তি বা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত কোনো কর্মকর্তাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করতে পারবে। প্রশাসকের মেয়াদ ও অব্যাহতি সরকার নির্ধারণ করবে।

জেলা পরিষদের মেয়াদ শেষ হলে প্রশাসক নিয়োগের বিধান রেখে জেলা পরিষদ (সংশোধন) বিল-২০২২ সংসদে উত্থাপন হয়েছে। রোববার সকালে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিলটি উত্থাপন করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

বিলটি পরীক্ষার জন্য স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। স্থায়ী কমিটি সাত দিনের মধ্যে বিলটির ওপর প্রতিবেদন দেয়ার কথা। সে ক্ষেত্রে বর্তমান অধিবেশনেই বিলটি পাস হতে পারে।

বিদ্যমান জেলা পরিষদ আইনে কোনো পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর প্রশাসক নিয়োগের বিধান নেই। নতুন বিলে জেলা পরিষদের মেয়াদ শেষ হলে সরকার কর্তৃক প্রশাসক নিয়োগের বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পরবর্তী পরিষদ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য সরকার একজন উপযুক্ত ব্যক্তি বা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত কোনো কর্মকর্তাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করতে পারবে। প্রশাসকের মেয়াদ ও অব্যাহতি সরকার নির্ধারণ করবে।

জেলা পরিষদে সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন সিনিয়র সহকারী সচিব পদমর্যাদার একজন নির্বাহী কর্মকর্তা।

বিলটিতে জেলা পরিষদ সদস্য সংখ্যায়ও কিছু সংশোধন আনা হয়েছে। বর্তমান আইনে প্রতিটি জেলা পরিষদে ১৫ জন সাধারণ সদস্য এবং পাঁচজন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য থাকার কথা বলা আছে। সংশোধিত বিলে জেলার প্রতিটি উপজেলা পরিষদের একজন সদস্য এবং চেয়ারম্যানসহ মোট সদস্যসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ নারী সদস্য নিয়ে জেলা পরিষদ গঠনের কথা বলা হয়েছে।

বিলটিতে বলা হয়েছে, জেলা পরিষদের সভায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানগণ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর মেয়রগণ অংশ নিতে পারবেন। তবে তারা ভোট দিতে পারবেন না।

জেলা পরিষদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের (যদি থাকে) মেয়র ও কাউন্সিলর, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা ভোট দিতে পারবেন।

বিলে আরও বলা হয়েছে, পরিষদ প্রতি অর্থবছর শেষে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সরকারকে সম্পাদিত কার্যাবলির ওপর একটি বার্ষিক প্রতিবেদন দেবে।

বিলটি উত্থাপন প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘বিদ্যমান আইনে জেলার আয়তন, জনসংখ্যা, উপজেলার সংখ্যা ইত্যাদি নির্বিশেষে সব জেলা পরিষদে সমসংখ্যক মোট ২১ জন সদস্য রয়েছে। কিন্তু বৃহৎ আয়তনের তুলনায় ক্ষুদ্র আয়তনের জেলা পরিষদগুলোর রাজস্ব আয়ের সংস্থান খুবই কম।

‘ফলে ক্ষুদ্র জেলার পরিষদের পক্ষে সদস্যদের সম্মানী পরিশোধ ও অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যয় নির্বাহের পর উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ সম্ভব হয় না। এ সমস্য থেকে উত্তরণে প্রতিটি জেলা পরিষদের সদস্যসংখ্যা যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।’

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘বিদ্যমান আইনে জেলা পরিষদগুলোর মেয়াদ পাঁচ বছর শেষ হওয়া সত্ত্বেও নতুন পরিষদের প্রথম সভায় মিলিত না হওয়া পর্যন্ত আগের পরিষদ দায়িত্ব পালন করতে পারে। এ শর্তটি সংশোধন করে মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা পরিষদের ক্ষেত্রে পরবর্তী নতুন পরিষদ গঠন না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসক নিয়োগ করা প্রয়োজন।’

আরও পড়ুন:
ডেমু-বাস-অটোরিকশার সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত কমিটি
ব্যঙ্গচিত্র নিয়ে রোববার রামপুরায় থাকবে শিক্ষার্থীরা
বাস-কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষে চালক নিহত
ডেমু ট্রেন-বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষ, পুলিশসহ নিহত ৩
এবার রাজধানীতে ট্রাকের ধাক্কায় শিক্ষার্থী নিহত

শেয়ার করুন

করোনা সংক্রমণ এখন শাটডাউনকালের সমান

করোনা সংক্রমণ এখন শাটডাউনকালের সমান

হাসপাতালে করোনা উপসর্গ নিয়ে রোগী নিয়ে এসেছেন স্বজনরা। ছবি: সাইফুল ইসলাম

গত ৭ জানুয়ারি পরীক্ষার বিপরীতে করোনার সংক্রমণ ৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ার পর এ নিয়ে ১৭ দিনে সংক্রমণের হার বেড়ে ৬ গুণ হয়ে গেল। টানা দুই সপ্তাহ সংক্রমণের হার ৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ার পর করোনার তৃতীয় ঢেউ নিশ্চিত হয়ে যায়।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে যখন দেশে শাটডাউন নামে বিধিনিষেধ দেয়া হয়, সে সময় পরীক্ষার বিপরীতে যে সংক্রমণের হার ছিল, বর্তমান অবস্থা ঠিক সে সময়ের মতো।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে যতগুলো নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, তার মধ্যে প্রতি ৩১ দশমিক ২৯ শতাংশের মধ্যে করোনাভাইরাসের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই হার গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

শাটডাউন চলাকালে গত বছরের ২৪ জুলাই এর চেয়ে বেশি সংক্রমণে হার পাওয়া গেছে। সেদিন ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষার বিপরীতে সংক্রমণ ছিল ৩২ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

গত শনিবার সকাল থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত সারা দেশে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৩৪ হাজার ৪৫৪ জনের। এদের মধ্যে রোগী পাওয়া গেছে ১০ হাজার ৯০৬ জন।

রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

আগের ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী পাওয়া যায় ৯ হাজার ৬১৪ জন।

এ নিয়ে ভাইরাসটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হিসাবে শনাক্ত হয়েছেন ১৬ লাখ ৮৫ হাজার ১৩৬ জন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৫৬ হাজার ৮৬১ জন।

শনিবারের তুলনায় রোগী বেশি পাওয়া গেলেও সংখ্যাটি শুক্রবারের তুলনায় কম। সেদিন ২৪ ঘণ্টায় রোগী ছিল ১১ হাজার ৪৩৪ জন।

তবে বরাবর শনিবার তুলনামূলক কম রোগী পাওয়া যায়। এর কারণ, শুক্রবার সাধারণত নমুনা পরীক্ষা কম হয়।

গত ৭ জানুয়ারি পরীক্ষার বিপরীতে করোনার সংক্রমণ ৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ার পর এ নিয়ে ১৭ দিনে সংক্রমণের হার বেড়ে ৬ গুণ হয়ে গেল। টানা দুই সপ্তাহ সংক্রমণের হার ৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ার পর করোনার তৃতীয় ঢেউ নিশ্চিত হয়ে যায়।

তবে প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ের তুলনায় এবার মৃত্যুর হার তুলনামূলক কম। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১৪ জনের মৃত্যুর কথা জানানো হয়েছে, যা আগের ২৪ ঘণ্টায় ছিল ১৭ জন।

এ নিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত ভাইরাসটিতে মারা গেছে ২৮ হাজার ২২৩ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় যারা মারা গেছেন, তাদের ৬ জন পুরুষ, নারী ৮ জন। মৃত্যু সবচেয় বেশি ঢাকা বিভাগে, ৫ জন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে দুইজন করে এবং খুলনা, বরিশাল ও রংপুর বিভাগে একজন করে মারা গেছেন।

আক্রান্তও সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই বিভাগে রোগী পাওয়া গেছে ৬ হাজার ৫৮১ জন।

তৃতীয় ঢেউ ছড়িয়ে পড়ার পর সারা দেশে জারি করা হয়েছে নানা বিধিনিষেধ। এর মধ্যে আছে সামাজিক ও রাজনৈতিক জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা, সামাজিক অনুষ্ঠানে ১০০ জনের বেশি হাজির না হওয়া প্রভৃতি। সশরীরে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও।

গণপরিবহনে অর্ধেক যাত্রী বহনের নিষেধাজ্ঞা নিয়েও তা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে, যদিও ট্রেনে প্রতি দুই আসনে একজন যাত্রী তোলা হচ্ছে।

এবার এখন পর্যন্ত লকডাউনের মতো কঠোর না হওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ডেমু-বাস-অটোরিকশার সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত কমিটি
ব্যঙ্গচিত্র নিয়ে রোববার রামপুরায় থাকবে শিক্ষার্থীরা
বাস-কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষে চালক নিহত
ডেমু ট্রেন-বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষ, পুলিশসহ নিহত ৩
এবার রাজধানীতে ট্রাকের ধাক্কায় শিক্ষার্থী নিহত

শেয়ার করুন

ওমিক্রনের সামাজিক সংক্রমণ চলছে: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

ওমিক্রনের সামাজিক সংক্রমণ চলছে: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

ওমিক্রন আস্তে আস্তে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের জায়গা দখল করে নিচ্ছে। ফাইল ছবি

ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের সামাজিক সংক্রমণ ঘটেছে। আস্তে আস্তে ডেল্টার জায়গাগুলোকে দখল করে ফেলছে ওমিক্রন।’

করোনারভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের সামাজিক সংক্রমণ চলছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে ওমিক্রন আস্তে আস্তে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের জায়গা দখল করে নিচ্ছে।

করোনা পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আয়োজিত রোববার দুপুরে ভার্চুয়াল বুলেটিনে অধিদপ্তরের মুখপাত্র ডা. নাজমুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করে নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের সামাজিক সংক্রমণ ঘটেছে। আস্তে আস্তে ডেল্টার জায়গাগুলোকে দখল করে ফেলছে ওমিক্রন।’

যদিও শুক্রবার বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে এসে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, দেশে করোনা আক্রান্তদের ৭০ শতাংশই ওমিক্রনে আক্রান্ত। এমন পরিস্থিতি গোটা দেশে। এর দুই দিন পর, এমন তথ্য জানাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘৭৩ শতাংশ মানুষের নাক দিয়ে পানি ঝরছে। ৬৮ শতাংশ মানুষের মাথা ব্যথা করছে। ৬৪ শতাংশ রোগী অবসন্ন-ক্লান্তি অনুভব করছেন। ৭ শতাংশ রোগী হাঁচি দিচ্ছেন। গলা ব্যথা হচ্ছে ৭ শতাংশ রোগীর। ৪০ শতাংশ রোগীর কাশি হচ্ছে। এই বিষয়গুলো আমাদের মাথায় রাখতে হবে। এখন সিজনাল যে ফ্লু হচ্ছে তার সঙ্গে কিন্তু ওমিক্রনের মিল রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ডিসেম্বরের শেষ থেকে বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। ২২ জানুয়ারি এসে শনাক্তের হার ২৮ শতাংশের বেশি রয়েছে। সপ্তাহের শুরু ১৬ জানুয়ারি যেটা ছিল ১৭ দশমিক ৮২ শতাংশ। গত বছরের শেষ দিক থেকে এ বছরের শুরু পর্যন্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নেয়ার জন্য আগ্রহী রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ১০০টি নমুনা সংগ্রহের বিপরীতে শনাক্তের হার ২৮ শতাংশের বেশি। আজ পর্যন্ত যে গড় আছে তা ১৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
ডেমু-বাস-অটোরিকশার সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত কমিটি
ব্যঙ্গচিত্র নিয়ে রোববার রামপুরায় থাকবে শিক্ষার্থীরা
বাস-কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষে চালক নিহত
ডেমু ট্রেন-বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষ, পুলিশসহ নিহত ৩
এবার রাজধানীতে ট্রাকের ধাক্কায় শিক্ষার্থী নিহত

শেয়ার করুন

করোনার বাড়বাড়ন্তে সচিবালয়ে প্রবেশে মানা

করোনার বাড়বাড়ন্তে সচিবালয়ে প্রবেশে মানা

সচিবালয়। ফাইল ছবি

সোমবার থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়া অন্য কেউ রাষ্ট্রীয় প্রশাসন পরিচালনার কেন্দ্রে ঢুকতে পারবেন না। আপাতত কোনো দর্শনার্থী পাস ইস্যু করা হবে না।

দেশে করোনাভাইরাসের তৃতীয় ঢেউ ছড়িয়ে পড়ার পর নানা বিধিনিষেধের মধ্যে এবার সচিবালয়ে দর্শনার্থী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

সোমবার থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়া অন্য কেউ রাষ্ট্রীয় প্রশাসন পরিচালনার কেন্দ্রে ঢুকতে পারবেন না। আপাতত কোনো দর্শনার্থী পাস ইস্যু করা হবে না।

রোববার তথ্য অধিদপ্তরের এক বিবরণীতে এ কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, ‘২৪ জানুয়ারি থেকে পুনরাদেশ না দেয়া পর্যন্ত সচিবালয়ে দর্শনার্থী প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।’

টানা ১৫ দিন পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ায় দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউ ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায় ২১ জানুয়ারি।

এর আগে ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনা সংক্রমণ শুরুর পর ২০২১ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তা নিয়ন্ত্রণে আসে। মার্চের শেষে আবার দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানে। সেটি নিয়ন্ত্রণে আসে গত ৪ অক্টোবর।

সংক্রমণ পরিস্থিতি ওঠানামার মধ্যেই চলতি মাসে প্রভাব ফেলতে শুরু করে ভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন। এমন প্রেক্ষাপটে বেশ কিছু বিধিনিষেধ দেয় সরকার। তবে কার্যত করোনার বিধি উপেক্ষিতই রয়ে গেছে।

সর্বশেষ শুক্রবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘আমরা স্বাস্থ্যবিধি মানছি না। যে কারণে করোনা বাড়ছে। করোনা নিয়ন্ত্রণে ১১ দফা স্বাস্থ্যবিধি দেয়া হয়েছে। সে বিধিনিষেধ যদি যথাযথ বাস্তবায়ন হয়, তাহলে কারোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হতো।’

১১ দফা বিধিনিষেধ সবাইকে মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এগুলো কার্যকরের চেষ্টা চলছে। সংক্রমণ যাতে কমে সে জন্য এই সিদ্ধান্ত। পরিবার, দেশে ও নিজের সুরক্ষার জন্য আমাদের নিয়মগুলো মানতে হবে। সরকার বিধিনিষেধ দেন, যাতে আমরা মেনে চলি।’

মন্ত্রী বলেন, ‘যেখানে খেলাধুলা আছে, সেখানে টিকা সনদের পাশাপাশি টেস্টের সনদও লাগবে। এগুলো বইমেলায়ও দেখাতে হবে। সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতিতে বইমেলা পেছানো হয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মতোই আমরাও চলমান পরিস্থিতির বাইরে নই।’

নির্দেশনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব প্রশাসনের জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাইব, তারা যেন আরও নজরদারি বাড়ান। জনগণের দায়িত্ব আরও বেশি। নিজেদের সুরক্ষায় এটি নিজেদেরই পালন করতে হবে। সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়।’

আরও পড়ুন:
ডেমু-বাস-অটোরিকশার সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত কমিটি
ব্যঙ্গচিত্র নিয়ে রোববার রামপুরায় থাকবে শিক্ষার্থীরা
বাস-কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষে চালক নিহত
ডেমু ট্রেন-বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষ, পুলিশসহ নিহত ৩
এবার রাজধানীতে ট্রাকের ধাক্কায় শিক্ষার্থী নিহত

শেয়ার করুন

সড়কে ৮ হাজার নিহতের তথ্য দিল যাত্রী কল্যাণ সমিতি

সড়কে ৮ হাজার নিহতের তথ্য দিল যাত্রী কল্যাণ সমিতি

করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ৮৫ দিন গণপরিবহন বন্ধ থাকার পরও ২০২১ সালে দেশে ৫ হাজার ৬২৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৮০৯ জন নিহত হয়েছেন। সে সময় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ৯ হাজার ৩৯ জন।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ৮৫ দিন গণপরিবহন বন্ধ থাকার পরও ২০২১ সালে দেশে ৫ হাজার ৬২৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৮০৯ জন নিহত হয়েছেন। সে সময় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ৯ হাজার ৩৯ জন।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি রোববার বার্ষিক সড়ক দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরেছে।

সড়ক ছাড়াও ২০২১ সালে রেলপথে ৪০২ দুর্ঘটনায় ৩৯৬ জন নিহত ও ১৩৪ জন আহত, নৌপথে ১৮২টি দুর্ঘটনায় ৩১১ জন নিহত ও ৫৭৮ জন আহত এবং ৫৪৪ জন নিখোঁজ হয়েছেন।

যাত্রী কল্যাণ সমিতি জানায়, ২০২১ সালে দেশের সড়ক, রেল, নৌপথে ৬ হাজার ২১৩টি দুর্ঘটনায় ৮ হাজার ৫১৬ জন নিহত এবং ৯ হাজার ৭৫১ জন আহত হয়েছেন।

রোববার রাজধানীর সেগুনবাগিচার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বার্ষিক এই প্রতিবেদন তুলে ধরেন।

তিনি জানান, দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদপত্রগুলোয় প্রচারিত-প্রকাশিত সড়ক দুর্ঘটনার সংবাদ মনিটর করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

দেখা গেছে এসব দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৩৫০ জন চালক, ১ হাজার ৭১৫ জন পথচারী, ১ হাজার ১৭ জন পরিবহন শ্রমিক, ৪৩০ জন শিক্ষার্থী, ১১১ জন শিক্ষক, ২৩৭ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, ১ হাজার ৭৬ জন নারী, ৬৩৮ জন শিশু, ৪২ জন সাংবাদিক, ১৪ জন আইনজীবী, ১৮ জন প্রকৌশলী এবং ১৬১ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও ১০ জন মুক্তিযোদ্ধার পরিচয় সংবাদপত্রে প্রকাশ করা হয়েছে।

পত্রিকায় প্রাকাশিত প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এসব দুর্ঘটনায় বার্ষিক ক্ষয়ক্ষতি জিডিপির প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ।

এসব হতাহতের ৭৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ ১৫ থেকে ৪৫ বছরের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী।

মোজাম্মেল হক চৌধুরী জানান, পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২১ সালের জানুয়ারিতে ৫৫৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৭১ জন নিহত ও ৯২২ জন আহত হয়েছেন। ফেব্রুয়ারিতে ৪৯৫ সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৫৬ জন নিহত ও ৭৫০ জন আহত হয়েছেন। মার্চে ৫০৬টি দুর্ঘটনায় ৫৪৬ জন নিহত ও ৮৫৬ জন আহত, এপ্রিলে ৪৩২টি দুর্ঘটনায় ৪৬৮ জন নিহত এ ৫০৭ জন আহত হয়েছেন।

মে মাসে ৫৯৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬১৫ জন নিহত, ১ হাজার ৮ জন আহত, জুনে ৪৫২টি দুর্ঘটনায় ৪৬৬ জন নিহত, ৭৬২ জন আহত, জুলাইয়ে ৪১৬টি দুর্ঘটনায় ৪৬৫ জন নিহত, ৬৬৯ জন আহত, আগস্টে ৪০৯টি দুর্ঘটনায় ৪৩২ জন নিহত ও ৬১৬ জন আহত হয়েছেন।

সেপ্টেম্বর এই সংখ্যা ৪০৫টি দুর্ঘটনায় ৪৪১ জন নিহত ও ৭৩৫ জন আহত, অক্টোবরে ৪৭৪টি দুর্ঘটনায় ৫০৬ জন নিহত ও ৭৫৮ জন আহত, নভেম্বরে ৪৩২টি দুর্ঘটনায় ৪৬৩ জন নিহত ও ৭০৫ জন আহত এবং ডিসেম্বরে ৪৫৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৭৩ জন নিহত এবং ৭৫১ জন আহত হয়েছেন।

সংগঠনের মহাসচিব জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৭৩০টি যানবাহনের পরিচয় গণমাধ্যমে পাওয়া গেছে। যার ৩০ দশমিক ৪২ শতাংশ ট্রাক, পিকআপ, লরি ও কাভার্ড ভ্যান; ২৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ মোটরসাইকেল; ১০ দশমিক ৭৬ শতাংশ বাস; ৯ দশমিক ৬৪ শতাংশ নসিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা; ৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা; ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা, রিকশা, ভ্যান ও ইজিবাইক, ৬ দশমিক ১৭ শতাংশ কার ডিপ-মাইক্রোবাস সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে।

সংগঠিত দুর্ঘটনার ৫৪ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ পথচারীকে গাড়ি চাপা দেয়ার ঘটনা, ২২ দশমিক ১৭ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৬ দশমিক ১৩ শতাংশ খাদে পড়ে, ৬ দশমিক ২১ শতাংশ বিবিধ কারণে, শূন্য দশমিক ৫৩ শতাংশ চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে এবং শূন্য দশমিক ৮৭ শতাংশ ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, বেপরোয়া গতি; বিপজ্জনক ওভারটেকিং; রাস্তাঘাটের ত্রুটি; ফিটনেসবিহীন যানবাহন; যাত্রী ও পথচারীদের অসতর্কতা; চালকের অদক্ষতা; চলন্ত অবস্থায় মোবাইল বা হেডফোন ব্যবহার; মাদক সেবন করে যানবাহন চালানো; রেলক্রসিং ও মহাসড়কে হঠাৎ ফিডার রোড থেকে যানবাহন উঠে আসা; রাস্তায় ফুটপাত না থাকা বা ফুটপাত বেদখলে থাকা; ট্রাফিক আইনের দুর্বল প্রয়োগ।

এ ছাড়া রয়েছে ছোট যানবাহন বৃদ্ধি; সড়কে চাঁদাবাজি; রাস্তার পাশে হাট-বাজার; ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন রাস্তায় নামানো এবং দেশব্যাপী নিরাপদ ও আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থার পরিবর্তে ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত রিকশা, মোটরসাইকেল, সিএনজিচোলিত অটোরিকশানির্ভর গণপরিবহনের দিকে ঝুঁকে পড়া।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব বলেন, ‘২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় সংগঠিত যানবাহনের শূন্য দশমিক ৭৯ শতাংশ মোটরসাইকেলে, শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ কার-জিপ মাইক্রোবাসে, শূন্য দশমিক ২১ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পেলেও করোনা সংক্রমণের পরিস্থিতিতে ৮৫ দিন গণপরিবহন থাকায় ২ দশমিক ৩৬ শতাংশ বাস দুর্ঘটনা, ১ শতাংশ নসিমন-মাহিন্দ্রা-লেগুনা দুর্ঘটনা, শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান ইজিবাইকে দুর্ঘটনা কমেছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতি জানায়, ২০১৮ সালে ৫ হাজার ৫১৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ২২১ জন নিহত ও ১৫ হাজার ৪৬৬ জন আহত হয়েছেন। ২০১৯ সালে ৫ হাজার ৫১৬টি দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৮৫৫ জন নিহত এবং ১৩ হাজার ৩৩০ জন আহত হয়েছেন। ২০২০ সালে ৪ হাজার ৮৯১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৬৮৬ জন নিহত ও ৮ হাজার ৬০০ জন আহত হয়েছেন।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সরকারের কাছে ১২ দফা সুপারিশ জানিয়েছে সংগঠনটি।

আরেক সংগঠন বাংলাদেশ রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানায়, দেশে ২০২১ সালে শুধু মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে ২ হাজার ৭৮টি, যাতে মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ২১৪ জনের।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক ড. হাদিউজ্জামান, গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ ও এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক আব্দুল হক, মানবাধিকার কর্মী নুর খান লিটন, নাগরিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ, সাংবাদিক মনজুরুল আলম পান্না, সংগঠনের সহসভাপতি তাওহীদুল হক লিটনসহ অনেকেই।

আরও পড়ুন:
ডেমু-বাস-অটোরিকশার সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত কমিটি
ব্যঙ্গচিত্র নিয়ে রোববার রামপুরায় থাকবে শিক্ষার্থীরা
বাস-কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষে চালক নিহত
ডেমু ট্রেন-বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষ, পুলিশসহ নিহত ৩
এবার রাজধানীতে ট্রাকের ধাক্কায় শিক্ষার্থী নিহত

শেয়ার করুন

স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজির বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ পেছাল

স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজির বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ পেছাল

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক ডিজি অধ্যাপক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ। ফাইল ছবি

পূর্ব নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী রোববার আবুল কালাম আজাদসহ জামিনে থাকা ৫ আসামি আদালতে হাজিরা দেন। তবে রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়নি। ফলে চার্জশিট গ্রহণের তারিখ পিছিয়ে দেন বিচারক।

দুদকের মামলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণের তারিখ পিছিয়ে আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করেছে আদালত।

ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কেএম ইমরুল কায়েশের আদালতে রোববার আসামিদের উপস্থিতিতে মামলাটির চার্জশিট গ্রহণের তারিখ ছিল।

আবুল কালাম আজাদসহ জামিনে থাকা ৫ আসামি আদালতে হাজিরা দেন। তবে রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়নি।

ফলে চার্জশিট গ্রহণের তারিখ পিছিয়ে দেন বিচারক। পরের বার শাহেদকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করারও নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

দুদকের কোর্ট ইন্সপেক্টর আমিনুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, সকল আসামির উপস্থিতিতেই চার্জ গঠনের নিয়ম ও আইন রয়েছে। তাই পাঁচ আসামি হাজির হলেও কারাগারে আটক থাকায় শাহেদকে আদালতে হাজির না করার কারণে চার্জ শুনানি হয়নি।

এ মামলায় স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজি ছাড়াও অপর আসামিরা হলেন রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক আমিনুল হাসান, উপপরিচালক মো. ইউনুস আলী, সহকারী পরিচালক মো. শফিউর রহমান এবং গবেষণা কর্মকর্তা মো. দিদারুল ইসলাম।

আসামিদের মধ্যে সাহেদ কারাগারে আছেন।

গত বছর আবুল কালাম আজাদসহ ছয় জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী।

চার্জশিটে আসামিদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে লাইসেন্স নবায়নবিহীন বন্ধ রিজেন্ট হাসপাতালকে ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতালে রূপান্তর, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর ও সরকারি প্রতিষ্ঠান নিপসমের ল্যাবে ৩ হাজার ৯৩৯ জন কোভিড রোগীর নমুনা বিনামূল্যে পরীক্ষা করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

সেই সঙ্গে কোভিড পরীক্ষার সময় অবৈধ পারিতোষিকবাবদ রোগী প্রতি ৩,৫০০ টাকা হিসেবে মোট ১ কোটি ৩৭ লাখ ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা গ্রহণ করেন করেছেন বলে চার্জশিটে অভিযোগ আনা হয়।

এ ছাড়া রিজেন্ট হাসপাতালের মিরপুর ও উত্তরা শাখার চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ডবয় ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের খাবার খরচ বরাদ্দের বিষয়ে ১ কোটি ৯৬ লাখ ২০ হাজার টাকার মাসিক চাহিদা তুলে ধরাসহ সমঝোতা স্মারকের খসড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর উদ্যোগ নেয়ারও অভিযোগ আনা হয়েছে আসামিদের বিরুদ্ধে।

চার্জশিটে আসামিদের বিরুদ্ধে মোট ৩ কোটি ৩৪ লাখ ৬ হাজার ৫০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

২০২০ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী। সেখানে আবুল কালাম আজাদকে আসামি করা হয়নি। তবে তদন্তে নাম আসায় চার্জশিটে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

আরও পড়ুন:
ডেমু-বাস-অটোরিকশার সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত কমিটি
ব্যঙ্গচিত্র নিয়ে রোববার রামপুরায় থাকবে শিক্ষার্থীরা
বাস-কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষে চালক নিহত
ডেমু ট্রেন-বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষ, পুলিশসহ নিহত ৩
এবার রাজধানীতে ট্রাকের ধাক্কায় শিক্ষার্থী নিহত

শেয়ার করুন