মাঠে আসেননি বাংলাদেশি পাকিস্তান সমর্থকরা

player
মাঠে আসেননি বাংলাদেশি পাকিস্তান সমর্থকরা

শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের বাইরে বাংলাদেশি পাকিস্তানি সমর্থক প্রতিহতের ডাক দেয় ‘পাকিস্তানি দালাল রুখবে তারুণ্য’। ছবি: নিউজবাংলা

তবে পাকিস্তানের কোনো নাগরিক তার নিজ দেশের সমর্থনে মাঠে এলে কোনো ধরনের বাধা দেবেন না বলে জানিয়েছে ‘পাকিস্তানি দালাল রুখবে তারুণ্য’।

‘হোম অফ ক্রিকেট’ নামে পরিচিত শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-পাকিস্তান চলমান সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনে দেখা যায়নি কোনো বাংলাদেশি পাকিস্তানি সমর্থককে।

এদিন বাংলাদেশের কেউ পাকিস্তানি পতাকা নিয়ে এলে বা জার্সি পরলে প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়েছিল ‘পাকিস্তানি দালাল রুখবে তারুণ্য’ নামের একটি সংগঠন। এর আগেও তারা ঢাকায় টি-টোয়েন্টি ম্যাচ ও চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে অবস্থান নিয়েছিল।

সংগঠনটির আহ্বায়ক হামজা রহমান অন্তরের নেতৃত্বে শনিবার সকাল ১০টা থেকে জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের বাইরে অবস্থান নেয় তারা। ব্যানার হাতে অবস্থান নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে নারকীয় গণহত্যার জন্য পাকিস্তানকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানায়।

হামজা রহমান অন্তর জানান, তারা বিকেল ৫টা পর্যন্ত মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অবস্থান নিয়ে পাকিস্তানি জার্সি ও পতাকাবাহীদের প্রতিহত করবেন।

অন্তর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ও প্রথম টেস্টে সফল কর্মসূচির পর আজ মিরপুর মাঠে একজন বাংলাদেশি পাকিস্তান সমর্থকও পাকিস্তানের জার্সি-পতাকা নিয়ে আসেনি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, মহান বিজয়ের মাসে এটি একটি অর্জন। যেহেতু আমাদের বার্তাটা তাদের কাছে পৌঁছাতে পেরেছি।’

তাদের আহ্বানে সাড়া দেয়ায় সবার প্রতি শুভেচ্ছাও জানিয়েছে তারা।

তবে পাকিস্তানের কোনো নাগরিক তার নিজ দেশের সমর্থনে মাঠে আসলে কোনো ধরনের বাধা দেবেন না বলে জানিয়েছে ‘পাকিস্তানি দালাল রুখবে তারুণ্য’।

অন্তর বলেন, ‘বাংলাদেশে এসে অবশ্যই তারা তাদের নিজ পতাকা, জার্সি পরতে পারে। আমরা শুধু বাংলাদেশের নাগরিকদের পাকিস্তানের পক্ষাবলম্বনের নামে রাষ্ট্রদ্রোহ অপরাধের বিপক্ষে।’

মাঠের চিত্র দেখে আপাতত কর্মসূচি স্থগিত করেছেন সংগঠনটি। তবে গ্যালারিতে নজর রাখবে তারা।

হামজা বলেন, ‘যদি পাকিস্তানের বাংলাদেশি সমর্থকদের আস্ফালন চোখে পড়ে তবে আমরা আবার মাঠে ফিরে আসব।’

আরও পড়ুন:
ঢাকায় পাকিস্তান ক্রিকেট দল
২৪ বছর পর পাকিস্তান যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া
ভারতের টাকায় টিকে আছে পাকিস্তানের ক্রিকেট: রাজা
‘ভারতের চেয়ে পাকিস্তানে ক্রিকেট প্রতিভা বেশি’
‘ভারতকে বিশ্বকাপে হারাতে পারে পাকিস্তান’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আজমেরী বাস চালাচ্ছিলেন হেলপার, ছিলেন মাদকাসক্ত: র‍্যাব

আজমেরী বাস চালাচ্ছিলেন হেলপার, ছিলেন মাদকাসক্ত: র‍্যাব

র‌্যাব-৩-এর একটি দল মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর পল্টন ও মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর থেকে আজমেরী গ্লোরী পরিবহনের দুই বাসের চালক মো. মনির হোসেন ও ইমরানকে গ্রেপ্তার করে।

রাজধানীর মগবাজারে দুই বাসের রেষারেষির মাঝে চাপা পড়ে নিহতের ঘটনায় আজমেরী গ্লোরী পরিবহনের দুই বাসের চালককে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

তারা প্রতিযোগিতা করতে গিয়েই রাকিবুল হাসান নামে ১৪ বছর বয়সী ওই কিশোরের মৃত্যু হয়।

দুই বাসের একটি চালাচ্ছিলেন মো. ইমরান। তার বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকলেও অন্য বাসে চালাচ্ছিলেন চালকের সহকারী। তার বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বুধবার দুপুরে এসব তথ্য জানান লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি জানান, ২০ জানুয়ারি মগবাজার মোড়ে বিকেল ৫টার দিকে আজমেরী গ্লোরী পরিবহনের দুটি বাসের মাঝে চাপা পড়ে আহত হন রাকিবুল হাসান। ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

দুর্ঘটনার পর চালকরা বাস রেখে পালিয়ে যান। ভুক্তভোগী মাস্ক বিক্রি করছিল। তার মাস্ক বিক্রির আয়ে পরিবারটি চলে।

নিহতের পরিবার সড়ক ও পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৯৮ ও ১০৫ ধারায় সেদিনই রমনা থানায় মামলা করে। র‌্যাব জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে।

র‌্যাব-৩-এর একটি দল মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর পল্টন ও মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর থেকে আজমেরী গ্লোরী পরিবহনের দুই বাসের চালক মো. মনির হোসেন ও ইমরানকে গ্রেপ্তার করে।

মনিরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে র‍্যাব জানায়, তিনি পাঁচ বছর মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত ছিলেন। তিন মাস আগে তিনি দেশে আসেন। ভোলায় বাড়ি মনির প্রায় এক মাস আগে আজমেরী গ্লোরী গাড়ির চালকের সঙ্গে দৈনিক ৪০০-৫০০ টাকা মজুরিতে সহকারীর কাজ শুরু করেন। তিনি মাঝেমধ্যে বাসটি নিজেও চালাতেন।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজনই জানান, মগবাজার মোড়ের সিগন্যাল ছেড়ে দিলে পরের স্টপেজে আগে যেতে তারা একে অন্যের চেয়ে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালাতে শুরু করে। তখন দুই গাড়ির মাঝে পড়ে রাকিবুল মারা যায়।

চালক ইমরান জানান, তিনি তিন বছর আগে বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স পান।

বাসটি তিনি নিজে দৈনিক ভাড়ায় নিয়ে চালাতেন।

কমান্ডার মঈন বলেন, ‘গ্রেপ্তার ইমরান মাদকাসক্ত। তার বিরুদ্ধে মাদকাসক্তির কারণে ২০২১ সালে কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে।’

তাদের দুজনকে থানায় হস্তান্তর করা হবে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
ঢাকায় পাকিস্তান ক্রিকেট দল
২৪ বছর পর পাকিস্তান যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া
ভারতের টাকায় টিকে আছে পাকিস্তানের ক্রিকেট: রাজা
‘ভারতের চেয়ে পাকিস্তানে ক্রিকেট প্রতিভা বেশি’
‘ভারতকে বিশ্বকাপে হারাতে পারে পাকিস্তান’

শেয়ার করুন

ডিএনসিসি কাউন্সিলের নামে মামলা: তদন্ত শেষের নির্দেশ

ডিএনসিসি কাউন্সিলের নামে মামলা: তদন্ত শেষের নির্দেশ

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমিন উদ্দিন মানিক বলেন, ‘আসামিপক্ষের আইনজীবী আদালতে বলেন, তারা এ জামিন আবেদনটি আর চালাতে চান না। এরপর আদালত নন প্রসিকিউশন করে তদন্ত যত দ্রুত সম্ভব বা ৬ মাসের মধ্যে শেষ করতে দুদককে নির্দেশ দেয়।’

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজীবের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলার তদন্ত ছয় মাসের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার এ আদেশ দেয়।

আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শিউলি খানম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শাহীন আহমেদ।

পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমিন উদ্দিন মানিক বলেন, ‘আসামিপক্ষের আইনজীবী আদালতে বলেন, তারা এ জামিন আবেদনটি আর চালাতে চান না। এরপর আদালত নন প্রসিকিউশন করে তদন্ত যত দ্রুত সম্ভব বা ৬ মাসের মধ্যে শেষ করতে দুদককে নির্দেশ দেয়।’

শুদ্ধি অভিযানের সময় ২০১৯ সালের ১৯ অক্টোবর রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার ‘সুলতান’ খ্যাত ডিএনসিসির ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৎকালীন কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজীবকে আটক করে র‌্যাব।

পরে একই বছরের ৬ নভেম্বর দুদকের সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী বাদী হয়ে ২৬ কোটি ১৬ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে রাজীবের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

এজাহারে বলা হয়, কাউন্সিলর রাজীবের নামে স্থাবর-অস্থাবর মিলে ২৬ কোটি ১৬ লাখ ৩৫ হাজার ৯০৫ টাকার সম্পদ পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, কাউন্সিলর থাকাকালে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে ওই পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেছেন। এসব সম্পদের বৈধ উৎস খুঁজে পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন:
ঢাকায় পাকিস্তান ক্রিকেট দল
২৪ বছর পর পাকিস্তান যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া
ভারতের টাকায় টিকে আছে পাকিস্তানের ক্রিকেট: রাজা
‘ভারতের চেয়ে পাকিস্তানে ক্রিকেট প্রতিভা বেশি’
‘ভারতকে বিশ্বকাপে হারাতে পারে পাকিস্তান’

শেয়ার করুন

শাবি উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শাহবাগে গণ-অবস্থান

শাবি উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শাহবাগে গণ-অবস্থান

শাবি ভিসির পদত্যাগ দাবিতে শাহবাগে বামপন্থি ছাত্র সংগঠনগুলোর গণ-অবস্থান। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

মোস্তফা বলেন, ‘‘আমরা শিক্ষাঙ্গনে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে চাই। সে ক্ষেত্রে এ ধরনের একজন ‘স্বৈরাচারী’ ভিসি যদি কোনো ক্যাম্পাসে থাকেন, তাহলে কখনও সে ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ থাকতে পারে না।’’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে ‘স্বৈরাচার’ আখ্যা দিয়ে তার পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন বামপন্থি ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

বুধবার বেলা সোয়া ১টা থেকে ‘শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের সাথে আমরা’ ব্যানারে এ কর্মসূচি শুরু হয়।

আয়োজকরা বলছেন, সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা এই গণ-অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রাখবেন। এর মধ্যে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন তাদের গান পরিবেশন করবে।

কর্মসূচিতে বামপন্থি ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মী ছাড়াও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এসে অবস্থান নিয়েছেন।

এ ছাড়া বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

কর্মসূচির বিষয়ে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘যে দাবিতে শাবির শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেছেন, এখন দাবিটা শুধু তাদের নয়। সারা দেশের মানুষের দাবিতে পরিণত হয়েছে। সে দাবিতেই আমাদের অবস্থান। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আমাদের এ কর্মসূচি চলবে। তার পরও যদি ভিসি অপসারণ না হয়, আমরা লাগাতার বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পালন করব।’

মোস্তফা বলেন, ‘‘আমরা শিক্ষাঙ্গনে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে চাই। সে ক্ষেত্রে এ ধরনের একজন ‘স্বৈরাচারী’ ভিসি যদি কোনো ক্যাম্পাসে থাকেন, তাহলে কখনও সে ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ থাকতে পারে না।’’

শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙাকে সঠিক সিদ্ধান্ত বলেও মনে করেন তিনি। বলেন, ‘দীর্ঘ আট দিন অনশন করার পরও যখন সরকার তাদের দাবির প্রতি তোয়াক্কা করছে না, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাচ্ছে না, সে পরিস্থিতিতে অনশন ভেঙে দেয়া সঠিক সিদ্ধান্ত।’

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের (মার্কসবাদী) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জয়দ্বীপ ভট্টাচার্য বলেন, ‘শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাধ্যক্ষ, শিক্ষক ও উপাচার্য নিয়োগে যে অনিয়ম হয় সেগুলোকে সামনে নিয়ে এসেছে। আন্দোলনকে পণ্ড করে দেয়ার সরকারি চিরাচরিত কৌশলকে শিক্ষার্থীরা ব্যর্থ করে দিয়েছেন। তাদের সঙ্গে সংহতি জানিয়েই আজকে আমাদের এ অবস্থান।’

কর্মসূচিতে অংশ নেয়া গল্পকার মাহমুদুল হক আরিফ বলেন, ‘শাবির শিক্ষার্থীদের যে দাবি সেটির প্রতি এত দিনেও যে সরকার বা প্রশাসন আমলে নিচ্ছে না, সেটির প্রতিবাদেই আমি এখানে অবস্থান নিয়েছি। আমি মনে করি, শিক্ষার্থীদের দাবি যৌক্তিক।’

তিনি বলেন, ‘ফরিদ উদ্দিন একজন অকর্ম এবং অযোগ্য উপাচার্য। উপাচার্যের মতো দায়িত্বশীল পদে এ রকম দায়িত্বহীন কারও থাকার নৈতিক অধিকার নেই। আমরা তার পদত্যাগ দাবি করছি।’

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ১৩ জানুয়ারি শুরু হওয়া আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। প্রথমে হল প্রাধ্যাক্ষের অব্যাহতিসহ তিন দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। ১৬ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার পর তা কেবল উপচার্যের পদত্যাগ দাবির আন্দোলনে রূপ নেয়।

১৯ জানুয়ারি থেকে শিক্ষার্থীরা আমরণ অনশনে বসেন। সপ্তাহ পর আজ বুধবার অনশন ভাঙলেও আন্দোলন অব্যাহত রাখার কথা জানান শিক্ষার্থীরা।

আরও পড়ুন:
ঢাকায় পাকিস্তান ক্রিকেট দল
২৪ বছর পর পাকিস্তান যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া
ভারতের টাকায় টিকে আছে পাকিস্তানের ক্রিকেট: রাজা
‘ভারতের চেয়ে পাকিস্তানে ক্রিকেট প্রতিভা বেশি’
‘ভারতকে বিশ্বকাপে হারাতে পারে পাকিস্তান’

শেয়ার করুন

ঢাকার রাস্তায় ‘ব্যালেরিনা’

ঢাকার রাস্তায় ‘ব্যালেরিনা’

রাজু ভাস্কর্যের সামনে মুবাশ্‌শীরা কামাল ইরা। ছবি: জয়িতা তৃষা

রাজধানীর বুকে এই ব্যালে নাচের সময় এক তরুণীর কিছু ছবি মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে আলোচনার কেন্দ্রে। ফেসবুকে নাচের বিভিন্ন ভঙ্গির ছবিতে মুগ্ধ ফেসবুক ব্যবহারকারীরা। শেয়ার হচ্ছে দেদার।  

পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতাব্দীতে রেনেসাঁর সময়ে নাচের একটি ধরন ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। পরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পরে নাচের এই অনন্য কৌশল।

মূলত এটি একটি নৃত্য ও নৃত্যকলা কৌশলের এক সমন্বিত রূপ। ব্যালেতে নাচ, মূকাভিনয়, অভিনয় ও সংগীতের (কণ্ঠ ও যন্ত্র) সমন্বয়ে সৃষ্টি করা হয় শিল্প। ব্যালে এককভাবে বা অপেরার অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। অভাবনীয় শারীরিক কৌশলের সঙ্গে সংগীতের এক অপূর্ব মিলন দেখা যায় এতে।

রাজধানীর বুকে এই ব্যালে নাচের সময় এক তরুণীর কিছু ছবি মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে আলোচনার কেন্দ্রে। ফেসবুকে নাচের বিভিন্ন ভঙ্গির ছবিতে মুগ্ধ ফেসবুক ব্যবহারকারীরা। শেয়ার হচ্ছে দেদার।

ছবিগুলো নিউজবাংলার নজরে এসেছে। ঘটনাটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে। ওই শিল্পীর নাম মুবাশ্‌শীরা কামাল ইরা। একজন ফটোগ্রাফার তুলেছেন ফেসবুকে শেয়ার হওয়া ছবিগুলো। তার নাম জয়িতা তৃষা।

নিউজবাংলাকে ইরা বলেন, ‘আমি তৃষার মডেল। ২৩ জানুয়ারি ছবিগুলো তোলা। দুই দিন পর ২৫ জানুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড হয়। সেদিন থেকে তৃষার সঙ্গে আমিও আলোচিত।’

ছবির নিচে নেটিজেনরা ব্যাপক কমেন্ট করছেন। প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন ছবির কারিগরকে। বাদ যাচ্ছেন না মডেলও।

ঢাকার রাস্তায় ‘ব্যালেরিনা’

নিউজবাংলার কথা হয় তৃষার সঙ্গে। তার কাছ থেকেই ইরার সন্ধান মেলে।

তৃষা বলেন, ‘আমার জন্ম ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। এসএসসির পর ঢাকায় আসি। বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করে ফটোগ্রাফিতে ডিপ্লোমা ও অ্যাডভান্স ডিপ্লোমা করি। চার বছর ধরে ফটোগ্রাফি করছি। ফ্রিল্যান্সিংয়ের পাশাপাশি নিয়মিত ফ্যাশন হাউসে ফটোশুট করি।

‘আমি মূলত পোর্ট্রেট ছবি তুলি। ভিন্ন কিছুর চিন্তা করতাম। ঢাকার রাস্তায় ব্যালে নাচ পরিবেশনের পরিকল্পনা হঠাৎ মাথায় আসে। নাম দিই ‘ব্যালেরিনা’। ইচ্ছা আছে ঢাকার আইকনিক জায়গাগুলোর সামনে ব্যালে নাচ অবস্থায় শিল্পীর ছবি তুলব।’

ঢাকার রাস্তায় ‘ব্যালেরিনা’

তৃষা আরও বলেন, ‘ইনস্টাগ্রামে অনেক ফটোগ্রাফারদের কাজ ফলো করি। সেখানে দেখি অনেকেই ব্যালে নাচটাকে সুন্দর করে ফুটিয়ে তোলে। ব্যালে চমৎকার একটা নাচের ফর্ম। বিদেশে দেখবেন অনেকেই ব্যালে নাচ শিখছে বা রাস্তায় এই নাচ করছে। বাচ্চারাও করে, দেখতে অনেক সুন্দর লাগে।’

বছরখানেক আগে এই পরিকল্পনা করেন জানিয়ে তৃষা আরও বলেন, ‘এমন কাউকে খুঁজছিলাম যার সাহায্যে কাজটা করতে পারব। ৫-৬ মাস আগে ফেসবুকের একটি গ্রুপে ইরার সঙ্গে পরিচয় হয়। আমার কাজ আর আইডিয়া শেয়ারে সে রাজি হয়ে যায়।’

ঢাকার রাস্তায় ‘ব্যালেরিনা’

তৃষার পর কথা হয় ইরার সঙ্গে। নিউজবাংলাকে ইরা বলেন, ‘পরিবারের সঙ্গে নওগাঁয় থাকি। তৃষার সঙ্গে কাজ করার জন্য ঢাকায় এসেছিলাম। তিন মাস আগে কাজ শুরু হয়। পরীক্ষামূলকভাবে ধানমন্ডির রাস্তায় কিছু ছবি তোলা হয়েছিল।’

এ প্রসঙ্গে তৃষা বলেন, ‘ওই কাজটি করে ভুলগুলো ধরতে পারি। সে কারণে আরও প্রস্তুতি নিই। পরে রাজু ভাস্কর্যের সামনে কাজটা করার সিদ্ধান্ত নিই।’

তৃষা আরও বলেন, ‘পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৩ জানুয়ারি সকালে বের হই আমরা। ব্যস্ত এলাকা হওয়ায় ঠিকমতো কাজটা হচ্ছিল না। এই হর্ন বাজছে, চিৎকার, হাসি চলছেই। কিন্তু উপায় নেই। এসবের মধ্যেই ছবিগুলো তুলেছি। এর জন্য ইরাকে ধন্যবাদ। চারপাশের সবকিছু পাশ কাটিয়ে ও ঠিকই ফোকাস ধরে রেখেছিল।’

ইরাকে নিয়ে আরও কাজ করার ইচ্ছা জানিয়ে তৃষা বলেন, ‘ব্যালেরিনা’ নামের এই প্রজেক্ট চালিয়ে যাব।’

ইরা বলেন, ‘আমার আসলে জিমন্যাস্টিকস ভালো লাগে। আমার ইচ্ছা জিমন্যাস্টিকসের স্ট্রেন্থ এবং ব্যালে নাচের ফ্লেক্সিবিলিটি মিশিয়ে কাজ করা।’

মজার বিষয় হলো, ইরা এসব শিখেছে ঘরে বসেই। ইউটিউব তার শিক্ষক। অনুপ্রেরণা মা। এখন ঢাকায় মাঝেমধ্যে পারফরম্যান্স করেন।

ঢাকার রাস্তায় ‘ব্যালেরিনা’

ইরা বলেন, ‘প্রথম দিকে বাবা রাজি হতেন না। মা আমাকে সাহস জুগিয়েছে। কিছুটা এগোতে পেরেছি দেখে বাবাও তার জায়গা থেকে সরে এসেছেন।’

এমন নানা গল্পের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে তৃষা-ইরার যুগলবন্দি। ভবিষ্যতে তাদের কাছ থেকে দারুণ কিছুর অপেক্ষায় থাকবে সংস্কৃতিমনারা।

তৃষার ক্যামেরা ফ্রেমে ইরার ফ্লেক্সিবল নাচের মুদ্রা তাক লাগিয়ে দিয়েছে নেটদুনিয়ার মানুষদের।

আরও পড়ুন:
ঢাকায় পাকিস্তান ক্রিকেট দল
২৪ বছর পর পাকিস্তান যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া
ভারতের টাকায় টিকে আছে পাকিস্তানের ক্রিকেট: রাজা
‘ভারতের চেয়ে পাকিস্তানে ক্রিকেট প্রতিভা বেশি’
‘ভারতকে বিশ্বকাপে হারাতে পারে পাকিস্তান’

শেয়ার করুন

অসংগতি দূর না হলে নতুন খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধ: আতিকুল

অসংগতি দূর না হলে নতুন খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধ: আতিকুল

বিভিন্ন সেবা সংস্থার সঙ্গে আয়োজিত সমন্বয় সভায় ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা

ডিএনসিসি মেয়র বলেন, ‘বারবার বলার পরেও সংস্থাগুলো তাদের কাজ ঠিকমতো করছে না। তার দায় সিটি করপোরেশনকে নিতে হচ্ছে। মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে। তাই শহরের মানুষের স্বার্থে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

বিভিন্ন সেবা সংস্থার কাজ শেষ হওয়ার পর রাস্তা ঠিক না করলে নতুন করে খোঁড়াখুঁড়ির অনুমতি দেবে না বলে জানিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।

এমনকি যেসব রাস্তায় খোঁড়াখুঁড়ির অনুমতি রয়েছে সেগুলো স্থগিত থাকবে বলে জানিয়েছেন ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম।

আগামী জুনের মধ্যে উত্তর সিটি এলাকায় বিভিন্ন সংস্থার ঝুলে থাকা তার মাটির নিচে স্থানান্তর করার সময়ও বেঁধে দেন তিনি।

মঙ্গলবার বিকেলে বিভিন্ন সেবা সংস্থার সঙ্গে আয়োজিত সমন্বয় সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন।

সভায় উত্তর সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আমিরুল ইসলাম ও বিভিন্ন সেবা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উত্তর সিটির প্রধান প্রকৌশলী আমিরুল ইসলামের উপস্থাপনায় দেখা যায়, বিভিন্ন সেবা সংস্থা রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির পর সেগুলো অসমানভাবে রেখে গেছে। এতে ঘটছে দুর্ঘটনা।

আতিকুল বলেন, ‘বারবার বলার পরেও সংস্থাগুলো তাদের কাজ ঠিকমতো করছে না। তার দায় সিটি করপোরেশনকে নিতে হচ্ছে। মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে। তাই শহরের মানুষের স্বার্থে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

‘কাল থেকে এসব সংস্থা যেসব এলাকায় কাজের কারণে রাস্তা উঁচু-নিচু করে রেখেছে সেগুলো সমান করার আগ পর্যন্ত তাদের কাজ বন্ধ থাকবে। যতদিন তারা কাজের অসংগতি দূর না করবে ততদিন পর্যন্ত উত্তর ঢাকার কোনো রাস্তায় খোঁড়াখুঁড়ি চলবে না। যেসব কাজ চলছে সেগুলো বন্ধ থাকবে। রাস্তা ঠিক করেই তারা কাজে হাত দেবে।’

আরও পড়ুন:
ঢাকায় পাকিস্তান ক্রিকেট দল
২৪ বছর পর পাকিস্তান যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া
ভারতের টাকায় টিকে আছে পাকিস্তানের ক্রিকেট: রাজা
‘ভারতের চেয়ে পাকিস্তানে ক্রিকেট প্রতিভা বেশি’
‘ভারতকে বিশ্বকাপে হারাতে পারে পাকিস্তান’

শেয়ার করুন

প্রশ্নপত্র ফাঁস: ভাইস চেয়ারম্যান রূপাসহ ১০ জন কারাগারে

প্রশ্নপত্র ফাঁস: ভাইস চেয়ারম্যান রূপাসহ ১০ জন কারাগারে

অডিটর নিয়োগে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃতরা। ফাইল ছবি: নিউজবাংলা

প্রতিরক্ষা মহাহিসাব নিরীক্ষকের কার্যালয়ে ডিফেন্স ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্টে ৫৫০ জন অডিটর পদে নিয়োগের জন্য ঢাকার বিভিন্ন কেন্দ্রে গত ২১ জানুয়ারি পরীক্ষা হয়। এই পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে।

প্রতিরক্ষা মহাহিসাব নিরীক্ষকের অধীন অডিটর পদে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে গ্রেপ্তার ইডেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুবা নাসরিন রূপাসহ ১০ জনকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর হাকিম আরাফাতুল রাকিব এই আদেশ দেন।

এই ১০ জনকে গত ২২ জানুয়ারি দুইদিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আসামি নোমান সিদ্দিকী, নাইমুর রহমান তানজির, শহিদুল্লাহকে ও মাহমুদুল হাসান আজাদকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন ডিবির গুলশান বিভাগের ক্যান্টনমেন্ট জোনাল টিমের উপ-পরিদর্শক আব্দুল হান্নান।

আদালতে আসামি পক্ষের আইনজীবী জামিন আবেদন করলে রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে।

অপরদিকে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুবা নাসরিন রূপা, আল আমিন আজাদ রনি, মো. রাকিবুল হাসান, হাসিবুল হাসান, নাহিদ ও রাজু আহম্মেদকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন ডিবির সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ি চুরি প্রতিরোধ টিমের উপ-পরিদর্শক শহিদুর রহমান।

দুটি মামলার শুনানি শেষে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠান।

এই ১০ জনের বিরুদ্ধে ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় কাফরুল ও রমনা থানায় সোমবার রাতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে পৃথক দুটি মামলা হয়। মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়।

আগামী ৩০ জানুয়ারি রিমান্ড আবেদনের বিষয়ে শুনানি হবে বলে নিশ্চিত করেছেন রমনা থানা আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক নিজামুদ্দিন ফকির।

প্রতিরক্ষা মহাহিসাব নিরীক্ষকের কার্যালয়ে ডিফেন্স ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্টে ৫৫০ জন অডিটর পদে নিয়োগের জন্য ঢাকার বিভিন্ন কেন্দ্রে গত ২১ জানুয়ারি ৭০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা হয়। চাকরিপ্রত্যাশীদের অনেকে অভিযোগ তোলেন, এই পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ অভিযোগের সত্যতা পেয়ে রাজধানীর মিরপুর, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ও কাকরাইল এলাকা থেকে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার করা আসামিরা হলেন- নোমান সিদ্দিকী, মাহমুদুল হাসান আজাদ, আল আমিন রনি, নাহিদ হাসান, শহীদ উল্লাহ, তানজির আহমেদ, মাহবুবা নাসরীন রুপা, রাজু আহমেদ, হাসিবুল হাসান ও রাকিবুল হাসান।

তাদের মধ্যে মাহমুদুল হাসান আজাদ হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয় (সিজিএ) অফিসের বরখাস্তকৃত কর্মকর্তা এবং মাহবুবা নাসরীন রুপা বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান।

গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে ইয়ার ডিভাইস ৬টি, মাস্টার কার্ড মোবাইল সিম হোল্ডার ৬টি, ব্যাংকের চেক ৫টি, নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ৭টি, স্মার্ট ফোন ১০টি, বাটন মোবাইল ৬টি, প্রবেশপত্র ১৮টি ও অডিটর নিয়োগ পরীক্ষার ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের তিনটি সেট জব্দ করা হয়।

আরও পড়ুন:
ঢাকায় পাকিস্তান ক্রিকেট দল
২৪ বছর পর পাকিস্তান যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া
ভারতের টাকায় টিকে আছে পাকিস্তানের ক্রিকেট: রাজা
‘ভারতের চেয়ে পাকিস্তানে ক্রিকেট প্রতিভা বেশি’
‘ভারতকে বিশ্বকাপে হারাতে পারে পাকিস্তান’

শেয়ার করুন

ঢাকাকে ভেনিস করার স্বপ্ন মন্ত্রীর

ঢাকাকে ভেনিস করার স্বপ্ন মন্ত্রীর

বসিলা রামচন্দ্রপুর খালে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিদর্শন করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, ‘সব খাল উদ্ধার করে দৃষ্টিনন্দন করা গেলে মানুষ ভেনিস ঘুরতে না গিয়ে ঢাকা শহরে আসবে।’

সব খাল উদ্ধার করে ঢাকাকে ইতালির ভেনিসের মতো দৃষ্টিনন্দন করে গড়ে তোলার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম। বলেন, ‘সব খাল উদ্ধার করে দৃষ্টিনন্দন করা গেলে মানুষ ভেনিস ঘুরতে না গিয়ে ঢাকা শহরে আসবে।’

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মঙ্গলবার বসিলা রামচন্দ্রপুর খালে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিদর্শনে গিয়ে এ কথা বলেন তিনি।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘রাজধানীর সব খালগুলোর একটির সঙ্গে অন্যটির সংযোগ তৈরি করে ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট চালু করা হবে। এ লক্ষ্যে বিদেশি বিনিয়োগ সংস্থার সঙ্গে একাধিক সভা করে প্রকল্প হাতে নেয়া হচ্ছে। খুব শিগগিরই কাজ শুরু হবে। ঢাকা শহরের ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতেই হবে।

‘ঢাকা শহরে এখনও ৫৩টি খালের অস্তিত্ব রয়েছে। এসব খাল উদ্ধার করে নৌ চলাচল ও দুই পাশে ওয়াকওয়ের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি দৃষ্টিনন্দন করা যায় তাহলে মানুষ ভেনিস ঘুরতে না গিয়ে ঢাকা শহরে আসবে।’

তিনি বলেন, ‘জনপ্রতিনিধির হাতে দায়িত্ব দিলে খাল উদ্ধার করা সহজ হবে। কারণ জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে জনগণ থাকে। তাদের ঐক্যবদ্ধ করলে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। সে উদ্দেশ্যেই রাজধানীর কিছু খাল ঢাকা ওয়াসার কাছ থেকে দুই সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

‘দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই দুই সিটি করপোরেশন অভিযান চালিয়ে খাল উদ্ধার কাজ শুরু করেছে। যার ফলাফল এখন দেখা যাচ্ছে।’

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ‘যারা সরকারি জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন তারা স্বাভাবিকভাবেই এখন ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এর ফলে সব জায়গায় একটি বার্তা চলে যাবে যে অবৈধভাবে অবকাঠামো নির্মাণ করে রেহাই পাওয়ার সুযোগ নেই।

‘শুধু এখানকার খাল উদ্ধার হবে আর অন্যগুলো হবে না এমনটা ভাবা উচিত হবে না। ঢাকা শহরের যত জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন বা করার পাঁয়তারা করছেন তারা সতর্ক হবেন। কোনো দখলবাজদের বরদাস্ত করা হবে না। জনগণের কল্যাণ প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সবকিছু করবে সরকার।’

জনগণের আকাঙ্খা পূরণে ঢাকার দুই মেয়রকে পূর্ণ সমর্থনও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কয়েকজন মানুষের জন্য রাজধানীর দুই কোটি মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হতে পারে না। আর এটা কখনই করতে দেয়া হবে না।

‘রাজধানীতে পরিকল্পিতভাবে ট্রাক ও বাসস্ট্যান্ড নির্মাণ করার কাজ চলছে। যেখানে যে পরিমাণ রাস্তার দরকার তা নির্মাণ করতে হবে। আবাসনের জায়গায় আবাসন হবে। সবার জন্য কল্যাণকর ঢাকা গড়তে যা যা দরকার তার সবই করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।’

রাজধানীর অন্য খালগুলোও সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে কি না জানতে চাইলে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘ওয়াটার বোর্ডের অধীনে থাকা খালগুলো হস্তান্তরের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে অনুমোদন নেয়া হয়েছে। এছাড়া গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন খালগুলো হস্তান্তরে প্রক্রিয়া চলছে।

‘পৃথিবীর অনেক সিটি করপোরেশন নিজেদের অর্থায়নে এয়ারপোর্ট, সাবওয়ে, ট্যানেল ও মেট্রোরেল করেছে। আমাদের সিটি করপোরেশনগুলো আগের তুলনায় অনেক সক্ষম। আমি বিশ্বাস করি শিগগির দেশের সব সিটি করপোরেশন আত্মনির্ভরশীল হবে।’

আরও পড়ুন:
ঢাকায় পাকিস্তান ক্রিকেট দল
২৪ বছর পর পাকিস্তান যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া
ভারতের টাকায় টিকে আছে পাকিস্তানের ক্রিকেট: রাজা
‘ভারতের চেয়ে পাকিস্তানে ক্রিকেট প্রতিভা বেশি’
‘ভারতকে বিশ্বকাপে হারাতে পারে পাকিস্তান’

শেয়ার করুন