আশ্বাসে টঙ্গীতে মহাসড়ক ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা

player
আশ্বাসে টঙ্গীতে মহাসড়ক ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা

টঙ্গীতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। ছবি: নিউজবাংলা

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘ঢাকার শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ পাস, অথচ সারা দেশের শিক্ষার্থীরা পূর্ণ ভাড়া দেবে, এটা হতে পারে না। এক দেশে দুই নীতি কেন? ঢাকার মতো সারা দেশেও গণপরিবহনে হাফ ভাড়া কার্যকর করতে হবে।’

সারা দেশে গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া নিশ্চিতের দাবিতে গাজীপুরের টঙ্গীতে মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশের আশ্বাসে সড়ক ছাড়েন তারা।

শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় কলেজ গেইট এলাকায় সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরমুখী সড়ক অবরোধ করেন।

এসময় ওই সড়কে যানচলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে বেলা ১১টার দিকে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেন। তবে শিক্ষার্থীরা মহাসড়কের পাশেই অবস্থান নিয়ে হাফ ভাড়ার দাবিতে বিক্ষোভ করে। দুপুর ১২টার দিকে সেখান থেকেও সরে যায় শিক্ষার্থীরা।

টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা সারা দেশের গণপরিবহনে হাফ ভাড়া নিশ্চিত করার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। আমরা তাদেরকে আশ্বাস দিয়েছি বিষয়টি সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে সমাধান করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়ার পর যানচলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।’

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘ঢাকার শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ পাস, অথচ সারা দেশের শিক্ষার্থীরা পূর্ণ ভাড়া দেবে, এটা হতে পারে না। এক দেশে দুই নীতি কেন? ঢাকার মতো সারা দেশেও গণপরিবহনে হাফ ভাড়া কার্যকর করতে হবে।’

স্কুল-কলেজের ইউনিফর্ম ছাড়াও অনেক কিশোরকে গাড়ি আটকে দিতে দেখা যায়।

জানতে চাইলে আলিফ নামে এক কিশোর নিজেকে সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দেয়। তবে তার কাছে স্কুলের পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে দেখাতে পারেননি।

আসিফ নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। লাইসেন্সবিহীন চালক, ফিটনেসবিহীন গাড়ি এসব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে আমরা স্কুলের সামনে মহাসড়কে ফুটওভার ব্রিজের দাবি করে আসছিলাম। কিন্তু আজও আমাদের সেই দাবি পূরণ করা হয়নি। তাই আমরা আন্দোলনে নেমেছি।’

শিক্ষার্থী সাদাফ বলেন, ‘সারা দেশে গণপরিবহনে হাফ ভাড়ার পাশাপাশি সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে। অন্যথায় শিক্ষার্থীরা লাগাতার আন্দোলনের কর্মসূচি দেবে।’

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (অপরাধ) মোহাম্মদ ইলতুৎমিশ ঘটনাস্থলে আসেন। পরে তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো সরকারের উচ্চপর্যায়ে জানানোর আশ্বাস দিলে বেলা ১টার দিকে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক থেকে চলে যায়।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের টঙ্গী জোনের সহকারী কমিশনার পিযুষ দে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে পুঁজি করে কেউ যেন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সে ব্যাপারে আমরা নজরদারি রাখছি। পরে শিক্ষার্থী পরিচয়ে কেউ আন্দোলনে নামলে আইডি কার্ড বা পরিচয়পত্র যাচাই করা হবে।’

রাজধানী ঢাকায় নিরাপদ সড়ক, গণপরিবহনে হাফ ভাড়ার দাবিতে দীর্ঘদিন থেকেই বিক্ষোভ চলছে। দাবির মুখে সরকার বিটিআরসির সব বাসে হাফ ভাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার কথা জানায়।

পরে বাস মালিক সমিতিও রাজধানীতে বাসে শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র দেখানোসহ কয়েকটি শর্তে হাফ ভাড়া কার্যকর করে। তবে সারা দেশের শিক্ষার্থীদের জন্যই হাফ ভাড়া দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে তারপর থেকেই বিক্ষোভ চলছে।

আরও পড়ুন:
রামপুরায় শিক্ষার্থীদের অবস্থান, লাঞ্ছনার অভিযোগে উত্তেজনা
পুলিশের বাধা ঠেলে আবার বিক্ষোভ
সিলেবাস কমানোর দাবিতে মহাসড়কে বিক্ষোভ
রাস্তা ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা, কর্মসূচি সীমিতের ঘোষণা
রামপুরার শিক্ষার্থীদের ১১ দাবি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

করোনা: বিপর্যয়ের আশঙ্কায় ‘অ্যাকশনে যাচ্ছে’ সরকার

করোনা: বিপর্যয়ের আশঙ্কায় ‘অ্যাকশনে যাচ্ছে’ সরকার

করোনা পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকলেও বিধিনিষেধ মানছে না মানুষ। ফাইল ছবি

‘সর্বশেষ যে স্টাডি, তাতে ৮৭ শতাংশ ছিল ডেল্টা এবং ১৩ শতাংশ ছিল ওমিক্রন। এখন হয়তো ওমিক্রন একটু বেড়ে মোর অর লেস ৮০/২০-এর দিকে আসছে। একটা মেজর পোর্শন কিন্তু আমাদের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। সো ডেল্টা ভেরিয়েন্ট ইজ অলওয়েজ ভেরি রিস্কি এবং আমাদের সে জন্য একটু খেয়াল রাখতে হবে। একটু কেয়ারফুল যদি না থাকি, তাহলে কিন্তু একটা ডিজাস্টার কিন্তু সামনে।’

এখনই সতর্ক না হলে করোনা পরিস্থিতি বিপর্যয় নিয়ে আসবে বলে সতর্ক করেছে সরকার। সংক্রমণ ক্রমেই বেড়ে চললেও স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারের নির্দেশনা মানতে জনগণের মধ্যে অনীহার কারণে এবার কঠোর হওয়ার সিদ্ধান্তও হয়েছে।

পাঁচ দিন ধরে বিধিনিষেধে জীবনযাত্রায় দৃশ্যত কোনো পরিবর্তন না আসার প্রতিক্রিয়ায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন, আর দু-এক দিন দেখে সরকার অ্যাকশনে যাবে।

সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর তিনি বলেন, ‘আগে দু-এক দিন অবজার্ভ (পর্যবেক্ষণ) করব, তারপর আমরা একটু অ্যাকশনে যাব। কারণ প্রথম থেকেই অ্যাকশনে যেতে চাই না। আমরা দেখতে চাচ্ছি ওনারা (জনগণ) মানেন কি না।’

সচিব বলেন, ‘অলরেডি আমরা প্রশাসনকে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ওয়াচ করতে বলেছি। তারপর ইনশাল্লাহ আমরা কাল-পরশুর মধ্যে কিছু একটা চেষ্টা করব।’

দেশে করোনার দুটি ঢেউয়ে মৃত্যু ২৮ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার পর এবার দরজায় কড়া নাড়ছে তৃতীয় ঢেউ। দেশে যে তৃতীয় ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে, সেই লক্ষণ স্পষ্ট। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যে নীতিমালা, সেটি অনুসারে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তে আসতে আর দু-এক দিন সময় লাগবে।

গত ৪ অক্টোবর করোনার দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসার পর প্রথমবারের মতো তা ৫ শতাংশ ছাড়ায় গত ৭ জানুয়ারি। সেদিন থেকে টানা বাড়তে বাড়তে সংক্রমণের হার সোমবার দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ৮৮ শতাংশ। আর তিন দিন সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের বেশি হলেই তৃতীয় ঢেউয়ের বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা যাবে। কারণ নীতিমালা অনুযায়ী টানা দুই সপ্তাহ ৫-এর বেশি সংক্রমণের হার হলে করোনার ঢেউ ধরা হয়।

এই পরিস্থিতিতে সরকার গত ১৩ জানুয়ারি থেকে ১১ দফা বিধিনিষেধ দেয়। তবে এগুলো পালন হচ্ছে না বললেই চলে। আবার এ নিয়ে সরকারের মধ্যেও সমন্বয়হীনতা আছে।

অফিস চলছে পূর্ণ লোকবল দিয়ে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও চালু স্বাভাবিক নিয়মে। এর মধ্যে গণপরিবহনে অর্ধেক যাত্রী তোলার নির্দেশনা আসার পর ভোগান্তির বিষয়টি আলোচনায় আসে। পরে জানানো হয়, বাসে প্রতি আসনেই যাত্রী উঠবে। তবে ট্রেনে আবার প্রতি দুই আসনে একজন যাত্রী তোলা হচ্ছে।

জানানো হয়েছে, সামাজিক বা রাজনৈতিক কোনো সমাবেশ করা যাবে না। এর মধ্যে ভোট হয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ও বেশ কয়েকটি পৌরসভায়। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ষষ্ঠ ধাপের প্রচারও চলছে।

বাণিজ্য মেলাতেও প্রতিদিন ব্যাপক জনসমাগম হচ্ছে। করোনার টিকার সদন ছাড়া রেস্টুরেস্টে যাওয়া যাবে না- এই নির্দেশনা কাগুজে বাঘ হয়ে আছে। টিকা ছাড়া স্কুল নয়, এমন সিদ্ধান্তও রাখা যাচ্ছে না। কারণ সবাইকে টিকার আওতায় আনা যাচ্ছে না।

মাস্ক পরায় মানুষের মধ্যে যে অনীহা আগেও দেখা গেছে, সেখান থেকে কোনো উত্তরণ দেখা যায়নি। সরকার এ বিষয়ে কঠোর হবে ঘোষণা দিলেও প্রশাসনের তৎপরতাও কম। বাসে আসনপ্রতি যাত্রীর বদলে অফিস সময়ে উপচে পড়ছে যাত্রী।

এই অবস্থায় বিধিনিষেধে জনজীবনে আদৌ কোনো প্রভাব পড়েছে কি না, এ নিয়ে কথা উঠেছে।

করোনার সংক্রমণ ক্রমেই বেড়ে চললেও দ্বিতীয় ঢেউয়ের তুলনায় মৃত্যু এবার কম। আর এখন ছড়াচ্ছে ওমিক্রন নামে নতুন একটি ধরন, যার প্রভাবে সারা বিশ্বেই মৃত্যু কম। তবে এখনও দেশে করোনার প্রধান ধরন প্রাণঘাতী ডেল্টা।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আমাদের একটা ভুল ধারণা আছে। আমরা ওমিক্রনকে (করোনার নতুন ধরন) সে রকম বিপজ্জনক মনে করছি না। আমাদের কিন্তু কম বেশি ৮০ শতাংশ কিন্তু ডেল্টা ভেরিয়েন্ট।

‘সর্বশেষ যে স্টাডি, তাতে ৮৭ শতাংশ ছিল ডেল্টা এবং ১৩ শতাংশ ছিল ওমিক্রন। এখন হয়তো ওমিক্রন একটু বেড়ে মোর অর লেস ৮০/২০-এর দিকে আসছে। একটা মেজর পোর্শন কিন্তু আমাদের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। সো ডেল্টা ভেরিয়েন্ট ইজ অলওয়েজ ভেরি রিস্কি এবং আমাদের সে জন্য একটু খেয়াল রাখতে হবে।’

‘একটু কেয়ারফুল যদি না থাকি, তাহলে কিন্তু একটা ডিজাস্টার কিন্তু সামনে’-সতর্ক করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

সচিব বলেন, ‘দেখেন,অলরেডি ১৭ শতাংশের বেশি হয়ে গিয়েছে। আগের বার কিন্তু এক মাসেই ৩০ শতাংশ হয়েছে। এখন ১৫ দিনেই ১৮ শতাংশ হয়ে গিয়েছে।

‘সুতরাং এটা কোনোভাবেই যদি আমরা কমিউনিটি অ্যাওয়ারনেস, কমিউনিটি সেফটি মেজার যদি আমরা না কভার করি,মাস্ক না পড়লে কোনোভাবেই এটা ঠেকানো সম্ভব না। এটা মানুষকে বুঝতে হবে।’

আরও পড়ুন:
রামপুরায় শিক্ষার্থীদের অবস্থান, লাঞ্ছনার অভিযোগে উত্তেজনা
পুলিশের বাধা ঠেলে আবার বিক্ষোভ
সিলেবাস কমানোর দাবিতে মহাসড়কে বিক্ষোভ
রাস্তা ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা, কর্মসূচি সীমিতের ঘোষণা
রামপুরার শিক্ষার্থীদের ১১ দাবি

শেয়ার করুন

শাবিতে হামলা: ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ

শাবিতে হামলা: ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ

সোমবার রাতে শাবি উপাচার্যের বাসভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। ছবি: নিউজবাংলা

ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভিসি ফরিদ উদ্দিনের পদত্যাগ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে। অন্যথায় ঢাবি, চবি ও রাবিতে ফুঁসে ওঠা শিক্ষার্থীদের নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে।’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় সৃষ্ট বিক্ষোভ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়েছে। শাবির আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে ঢাকা, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সোমবার নিজ নিজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন।

ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবিতে শাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। তারা বর্তমান প্রক্টরিয়াল বডিরও অপসারণ এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও হল বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতেও বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন। বলছেন, কোনো অবস্থায়ই হল ছাড়বেন না তারা।

সোমবার সকাল থেকে শাবি ক্যাম্পাসে বিক্ষোভের পর বিকেলের দিকে আন্দোলনকারীরা ভিসির বাসভবনের দিকে এগোতে থাকেন। ভবনের ফটকে বিপুলসংখ্যক পুলিশের বাধার মুখে তারা সেখানেই অবস্থান নেন।

রাত পৌনে ১টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় শত শত শিক্ষার্থী একই স্থানে বিক্ষোভ করছিলেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

ভিসির বাংলো ঘিরে রেখেছে বিপুলসংখ্যক পুলিশ।

রাতে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ মুহিবুল আলম নিউজবাংলাকে জানান, শিক্ষক সমিতি পুরো পরিস্থিতি এখনও পর্যবেক্ষণ করছে। ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ক্যাম্পাসে নিজ বাসভবনেই আছেন।

তিনি সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্টদের আরও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ভিসিসহ প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষার্থীদের যে আন্দোলন চলছে সোমবার সকালে সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা আরও জোরালো হয়ে ওঠে। দলে দলে এসে আন্দোলনে একাত্মতা জানান সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

তাদের ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। এখানে পুলিশ থাকবে কেন। তাদের এই ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যেতে হবে।

এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বহিরাগতরা নেতৃত্ব দিচ্ছে বলে দুপুরে অভিযোগ করেন ভিসি ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘বহিরাগতদের ইন্ধনে এখন আন্দোলন চলছে। রোববার রাত থেকেই ক্যাম্পাসে বহিরাগতরা প্রবেশ করেছে বলে আমার কাছে তথ্য আছে।’

তবে ভিসির এমন দাবি নাকচ করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, ঘটনা ধামাচাপা দিতে মিথ্যাচার করছেন উপাচার্য। ক্যাম্পাসে পুলিশ ছাড়া বহিরাগত কেউ নেই।

শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় আট সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে গণিত বিভাগের অধ্যাপক ডা. রাশেদ তালুকদারকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য জহির বিন আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রোববারের ঘটনার সূত্রপাত কীভাবে, কারা দোষী- এটা আমরা খুঁজে বের করব। বিশ্ববিদ্যালয় শান্ত ছিল, হঠাৎ কেন এমন অশান্ত হয়ে উঠল তা বের করা হবে।’

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাদের তিন দফা দাবির আন্দোলনে ভিসির নির্দেশেই রোববার সন্ধ্যায় পুলিশ হামলা চালিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। এ কারণে প্রক্টরিয়াল বডিরও পদত্যাগের দাবি আনা হয়েছে।

শাবির উত্তাপ ঢাবিতে

শাবি ভিসি ফরিদ উদ্দিনের অপসারণ দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ করেছে বামপন্থি বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন।

তারা শাবি বন্ধের ঘোষণাকে অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছে।

সংগঠনগুলো ঢাবি ক্যাম্পাসে সোমবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত পৃথক পৃথক কর্মসূচি পালন করে। পরে সব সংগঠন এক সঙ্গে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিল শেষে ডাকসু ক্যাফেটেরিয়া ভবনে সমাবেশ করে তারা।

বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের (গণসংহতি) সভাপতি গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘শাবি শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলন ধামাচাপা দিতে হল ও ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ভিসির অপসারণের দাবি মেনে না নেয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’

শাবিতে হামলা: ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ
শাবি ভিসির অপসারণ দাবিতে ঢাবিতে সোমবার বিক্ষোভ করেছে বামপন্থি বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন। ছবি: নিউজবাংলা

ছাত্র ফেডারেশনের (একাংশের) সভাপতি মিতু সরকার বলেন, ‘শাবি প্রশাসন ছাত্রদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানোর জন্য পুলিশ ডেকে এনেছে। হামলার পরও শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের মাঠ ছেড়ে যায়নি। আমরা শাবি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানাই।’

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সহ-সভাপতি সাইদুল হক নিশান,পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা দীপন চাকমা ও ছাত্র ইউনিয়নের সহ-সভাপতি জহর লাল রায়।

এর আগে একই দাবিতে রাজু ভাস্কর্যের সামনে প্রগতিশীল ছাত্র জোটের ব্যানারে আলাদা মানববন্ধন করে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট।

সেখানে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স বলেন, ‘শাবি উপাচার্যকে উদ্ধারের নামে অ্যাকাডেমিক ভবনে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর শত শত রাউন্ড টিয়ারশেল, রাবার বুলেট, সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়েছে। ৫০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে একটি ন্যক্কারজনক উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে।’

শাবি শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে রাজু ভাস্কর্যের সামনে মানববন্ধন করেছে ছাত্র ইউনিয়ন।

ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক দীপক শীল বলেন, ‘শাবিতে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির আন্দোলনে ছাত্রলীগ হামলা করেছে। পুলিশ ডেকে যেভাবে বেপোয়ারা লাঠিচার্জ করা হয়েছে তা অত্যন্ত লজ্জার। আমরা অবিলম্বে এর বিচার দাবি করছি।

‘সব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চিত্র এটি। যেখানেই সুষ্ঠু আন্দোলন হয়েছে, সেখানেই সরকারের পেটোয়া বাহিনী ব্যবহার করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়ার চেষ্টা হয়েছে। এই সিস্টেম ভেঙে দিতে হবে।’

ছাত্র অধিকারের আলটিমেটাম

শাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সোমবার সন্ধ্যায় তারা ভিসি ফরিদ উদ্দিনের কুশপুতুল দাহ শেষে এ ঘোষণা দেন।

এ সময় ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভিসি ফরিদ উদ্দিনকে পদত্যাগ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে। অন্যথায় ঢাবি, চবি ও রাবিতে ফুঁসে ওঠা শিক্ষার্থীদের নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে।’

ইয়ামিন বলেন, ‘যে ভিসি শিক্ষার্থীদের ওপর এ ধরনের হামলা ঘটাতে পারেন সেই ভিসি কখনো শিক্ষার্থীবান্ধব নন। আমরা এই ভিসির পদত্যাগ দাবি করছি। তার যদি ন্যূনতম আত্মসম্মানবোধ থেকে থাকে তাহলে তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন বলে আমাদের বিশ্বাস।’

ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি আসিফ মাহমুদ বলেন, শাবিতে হামলায় আজ সারাদেশে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে প্রতিবাদের আগুন জ্বলে উঠছে, সে আগুনের উত্তাপ থেকে কোনোভাবেই সাস্টের ভিসিকে রক্ষা করা যাবে না। তাই যত দ্রুত সম্ভব সাস্টের ভিসি ফরিদ উদ্দিনকে অব্যাহতি দিন। অন্যথায় সারাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা চুপ করে বসে থাকবে না।’

ঢাবির ঘৃণাস্তম্ভে শাবি ভিসির কুশপুতুল

রাজাকারদের প্রতি ঘৃণা প্রদর্শনের লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) নির্মিত ঘৃণাস্তম্ভে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের কুশপুতুল টানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (বিসিএল)।

সোমবার সংগঠনটির সভাপতি গৌতম চন্দ্র শীলের নেতৃত্বে ডাকসু ভবনের পাশে ঘৃণাস্তম্ভে এই কুশপুতুল রাখা হয়।

কুশপুতুলে শাবি উপাচার্যের কোনো অবয়ব না থাকলেও সেখানে অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ লেখা আছে। বিসিএল নেতারা সেখানে এক জোড়া জুতাও ঝুলিয়ে দেন।

কুশপুতুলটিতে লেখা হয়, ‘শাবিতে যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ লেলিয়ে দিয়ে নির্মম হামলার হোতা ভিসি ফরিদের পদত্যাগ দাবি করছি ও এহেন জঘন্য আচরণে তার প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করছি।’

শাবিতে হামলা: ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ
ঢাবির রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সোমবার সন্ধ্যায় শাবি ভিসি ফরিদ উদ্দিনের কুশপুতুল দাহ করেন ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা। ছবি: নিউজবাংলা

কুশপুতুল স্থাপন শেষে বিসিএল সভাপতি গৌতম চন্দ্র শীল বলেন, ‘শাবিতে যৌক্তিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যে নির্মম ও পৈশাচিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, তা দুঃখজনক। এই ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অযোগ্যতা ও শিক্ষার্থীবিমুখ আচরণের পরিচায়ক।’

কুশপুতল স্থাপনের সময় বিসিএল সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি নাঈম হাসান হৃদয়, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমানসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ

শাবির আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে। ভিসি ফরিদ উদ্দিনের নির্দেশে এই হামলা হয়েছে- এমন অভিযোগ তুলে তারা এ ঘটনায় বিচার দাবি করেছেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী চত্বরে এই কর্মসূচি হয়।

সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মেহেদী হাসান বলেন, ‘শাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহায়তায় ছাত্রলীগ ও পুলিশের হামলা ন্যক্কারজনক। দ্রুত হামলার ভিডিও ফুটেজ দেখে এই হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবি জানাচ্ছি।’

ইতিহাস বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মো. রিফাত বলেন, ‘ভিসির মদদে যখন পুলিশ বাহিনী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়, তখনই বোঝা যায় সেখানকার অবস্থা।’

মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে শাবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে সোমবার দুপুরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এই মানববন্ধন হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সামশাদ নওশীন ব‌লেন, ‘শা‌বিতে শিক্ষার্থীরা যৌ‌ক্তিক দাবিতে আন্দোলন কর‌ছেন। উপাচা‌র্যের নি‌র্দেশে তা‌দের ওপর পু‌লি‌শের হামলা ও গু‌লিবর্ষণ বর্বরো‌চিত কাণ্ড। এই ঘটনার বিচার চাই আমরা, তা না হ‌লে ব‌রিশাল বিশ্ব‌বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও ক‌ঠোর আন্দোলনে নাম‌বেন।’

শাবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে মানববন্ধন করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে মানববন্ধনে তারা শাবির শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার নিন্দা জানান।

তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ভিসির পদত্যাগের দাবি করেন।

শাবিতে পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষের ঘটনার পর রোববার রাতেই বিক্ষোভ করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। প্রতিবাদ চলে সোমবারও।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ৪৯তম ব্যাচের আয়োজনে মানববন্ধন হয়।

ওই ব্যাচের ছাত্র ইমরান হোসেন শুভ বলেন, ‘বাংলাদেশে যতগুলো বিশ্ববিদ্যালয় আছে তার কোনোটাই ছাত্রবান্ধব নয়। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয় যেন ছাত্রবান্ধব হয়। নিজের অধিকার আদায় করতে শিক্ষার্থীদের যেন আর রক্ত ঝরাতে না হয়।’

মানববন্ধনে একাত্মতা জানায় বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ ও সাংস্কৃতিক জোট।

শাবিতে আন্দোলনের সূত্রপাত

শাবির বেগম সিরাজুন্নেসা হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন লিজার পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে আন্দোলনে নামেন ওই হলের ছাত্রীরা। রোববার আন্দোলনের চতুর্থ দিনে তা সহিংসতায় রূপ নেয়।

রোববার বিকেলে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে ধাওয়া দিয়ে অবরুদ্ধ করেন। এর জেরে সন্ধ্যায় আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ হামলা চালায়। এতে রীতিমতো রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ক্যাম্পাস।

রাতে জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা দেন উপাচার্য। সেই সঙ্গে সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে আবাসিক শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

প্রাধ্যক্ষ জাফরিনের কাছে সম্প্রতি শিক্ষার্থীরা কিছু সমস্যার কথা জানান। অভিযোগ, এ বিষয়ে তিনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণ করেছেন। এর প্রতিবাদে জাফরিনের পদত্যাগসহ শুরু হয় তিন দফা দাবিতে আন্দোলন।

আরও পড়ুন:
রামপুরায় শিক্ষার্থীদের অবস্থান, লাঞ্ছনার অভিযোগে উত্তেজনা
পুলিশের বাধা ঠেলে আবার বিক্ষোভ
সিলেবাস কমানোর দাবিতে মহাসড়কে বিক্ষোভ
রাস্তা ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা, কর্মসূচি সীমিতের ঘোষণা
রামপুরার শিক্ষার্থীদের ১১ দাবি

শেয়ার করুন

ওমিক্রন: পোশাক খাতে ‘ধীরে চলো’ নীতি ক্রেতাদের

ওমিক্রন: পোশাক খাতে ‘ধীরে চলো’ নীতি ক্রেতাদের

করোনা মহামারির ধকল কাটিয়ে পুরোদমে সক্রিয় হয়ে উঠেছে দেশের পোশাক কারখানাগুলো। ছবি; নিউজবাংলা

ইউরোপ হচ্ছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের সবচেয়ে বড় বাজার। মোট রপ্তানির ৫৬ শতাংশ যায় ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে। আর একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে যায় ৪১ শতাংশের বেশি। আর এ দুটি গন্তব্যেই ওমিক্রন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। এ কারণে দেশের পোশাক রপ্তানিকারকদের উদ্বেগ বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে গত বছরের সেপ্টেম্বরে ক্রয় আদেশ পায় বাংলাদেশের একটি তৈরি পোশাক কারখানা। ডিসেম্বরের মধ্যে পণ্য সরবরাহের কথা ছিল। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে পণ্য তৈরিও হয়। কিন্তু শিপমেন্টের তারিখ এগিয়ে এলেও ক্রেতা পক্ষের তাগিদ দেখা যাচ্ছে না।

একপর্যায়ে কারখানার মালিক যোগাযোগ করলে ক্রেতা পক্ষ জানায়, করোনা ভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পণ্যের সরবরাহ নিতে ধীরে চলো নীতি নেয়া হয়েছে।

ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে করেনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে আসার পর দেশের তৈরি পোশাক খাত ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। কিন্তু ওমিক্রনের প্রার্দুভাবে দেশের রপ্তানি আয়ের সর্ববৃহৎ খাত তৈরি পোশাক রপ্তানিতে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কারাখানা মালিকদের কপালে পড়েছে দুশ্চিন্তার ভাঁজ।

স্থানীয় পোশাক কারখানার মালিকরা বলছেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে ক্রেতারা। তারা ক্রয় আদেশ বাতিল করেনি। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে পণ্য সরবরাহের তারিখ এক বা দুই মাস পিছিয়ে দিয়েছে।

চলতি অর্থবছরে জুলাই থেকে ডিসেম্বরে পোশাক খাতের রপ্তানি বেড়েছে বা প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫২ শতাংশের বেশি। অর্থবছরের শুরু থেকেই পোশাক খাতের রপ্তানিতে তেজিভাব লক্ষ্য করা গেছে এবং তা অব্যাহত আছে। কিন্তু ওমিক্রনের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হলে আদেশ বাতিলের শঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেশীয় পোশাক রপ্তানিকারকরা।

ইউরোপ হচ্ছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের সবচেয়ে বড় বাজার। মোট রপ্তানির ৫৬ শতাংশ যায় ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে। আর একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে যায় ৪১ শতাংশের বেশি। আর এ দুটি গন্তব্যেই ওমিক্রন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। উদ্বেগটা মূলত এ কারণেই।

ওমিক্রন মোকাবিলায় দেশে দেশে ব্যাপক কড়াকড়ি শুরু হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে পণ্য নিয়ে কী হবে, এখন আমদানির প্রয়োজন আছে কিনা- এমনটা ভাবতে শুরু করেছে ক্রেতারা।

মোট কথা, ওমিক্রনের কারণে পণ্য নেয়ার বিষয়ে ভাটার টান পড়েছে ক্রেতাদের মাঝে।

তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমই’র সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল আলম পারভেজ চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ক্রেতারা পণ্য নেয়ার সময় পেছাচ্ছেন। তারা ধীরে চলো নীতির জানান দিচ্ছেন। ইতোমধ্যে কিছু কিছু ক্রেতা শিপমেন্টের সময় এক থেকে দুই মাস পিছিয়ে দিয়েছে। অবশ্য রপ্তানি আদেশ বাতিল করেনি।

‘জনগণের জীবন স্বাভাবিক না হলে বেচা-কেনা ঠিকমতো হয় না। অনলাইনে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কম বিক্রি হয়। ওমিক্রনে ইউরোপ ও আমেরিকায় স্বাভাবিক জীবন-যাপন কিছুটা ব্যাহত হয়েছে বলে আমাদের কাছে খবর এসেছে। তবে রপ্তানি আদেশ বাতিল না হলেও নতুন আদেশ দেয়ার বিষয়ে ধীরে চলো নীতি নিয়েছে ক্রেতারা।

‘উদ্বেগের বিষয় হলো, ওমিক্রন সংক্রমণ ধীরে ধীরে বাড়ছে। যতক্ষণ পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হচ্ছে, ঝুঁকিটা থেকেই যাবে। ওদিকে ওমিক্রন কখন শেষ হবে তা-ও বলা যাচ্ছে না।’

আনোয়ার-উল আলম পারভেজ আরো বলেন, ‘এখন যেসব ক্রয় আদেশ আছে সেগুলোর শিপমেন্টের সময় মে মাস পর্যন্ত আছে। এর মধ্যে কিছু কিছু আদেশের সময় ২/১ মাস পিছিয়ে দিয়েছে ক্রেতারা। এতে তেমন প্রভাব পড়বে না। তবে লক্ষণ খুব একটা ভালো দেখছি না।’

ইউরোপের বৃহৎ ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর বাংলাদেশ প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওমিক্রনের প্রেক্ষাপটে তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

বাংলাদেশে ইউরোপের বড় একটি পোশাক ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কারখানা মালিকরা সক্ষমতার বেশি ক্রয় আদেশ নিয়েছেন। অতিরিক্ত ক্রয় আদেশের কারণে তাদের তৈরি পণ্য সরবরাহ নিয়ে ‌এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।’

নিট পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইএ’র সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘ওমিক্রনের কারণে এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা হয়নি। তবে ক্রেতা ও রপ্তানিকারক উভয় পক্ষই পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে। ওমিক্রন আরও খারাপের দিকে গেলে সমস্যা হতে পারে।’

আরও পড়ুন:
রামপুরায় শিক্ষার্থীদের অবস্থান, লাঞ্ছনার অভিযোগে উত্তেজনা
পুলিশের বাধা ঠেলে আবার বিক্ষোভ
সিলেবাস কমানোর দাবিতে মহাসড়কে বিক্ষোভ
রাস্তা ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা, কর্মসূচি সীমিতের ঘোষণা
রামপুরার শিক্ষার্থীদের ১১ দাবি

শেয়ার করুন

রাজাকারের তালিকা তৈরির ক্ষমতা পাচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল

রাজাকারের তালিকা তৈরির ক্ষমতা পাচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে খুলনার খানজাহান আলী সড়কে জামায়াত নেতা এ কে এম ইউসুফের নেতৃত্বে রাজাকার বাহিনীর শপথ। ছবি: সংগৃহীত

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এই কাউন্সিলের মূল কার্যালয় থাকবে ঢাকায়। কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হবেন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী হবেন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান আর সচিব হবেন ভাইস চেয়ারম্যান।’

স্বাধীনতাবিরোধী, রাজকার, আল বদর, আল শামসদের তালিকা তৈরির বিধান রেখে তৈরি জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন ২০২২ এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

জাতীয় সংসদ ভবনে সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠক এ অনুমোদন দেয়। সভা শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকেদের ব্রিফ করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এই কাউন্সিলের মূল কার্যালয় থাকবে ঢাকায়। কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হবেন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী হবেন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান আর সচিব হবেন ভাইস চেয়ারম্যান।

‘কাউন্সিলের সদস্য সংখ্যা ছিলেন ৯ জন, এখন হবে ১১ জন। আর মহাপরিচালক যিনি থাকবেন এই কাউন্সিলের তিনি সদস্য সচিব হিসেবে কাজ করবেন। তাদের কাজ হবে অসত্য তথ্যের ভিত্তিতে গেজেটভুক্ত ও সনদপ্রাপ্ত অমুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা।’

তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত মহান মুক্তিযুদ্ধে সময় যারা রাজাকার, আল বদর, আল শামস বাহিনীর সদস্য হিসেবে কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন বা আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য হিসেবে সশস্ত্র যুদ্ধে নিয়োজিত থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন, যারা ধর্ষণ, লুট, অগ্নিসংযাগসহ অন্যান্য অপরাধমূলক ঘৃণ্য কার্যক্রম দিয়ে মানুষ হত্যা বা অত্যাচার করেছেন তাদের তালিকা বা পরোক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন তাদের তালিকা প্রণয়ন ও গেজেট প্রকাশের জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করার ক্ষমতা ও দায়িত্ব সংধোশিত আইনে মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলকে দেওয়া হয়েছে।

‘এই কাউন্সিলের উপদেষ্টা পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা কর্তৃক মনোনীত পাঁচজন সদস্য মনোনয়নের ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের ফোর্স কমান্ডার, সাব সেক্টর কমান্ডার অথবা কমান্ডারদের বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা, এই বিষয়ক কর্মকাণ্ড সংশ্লিষ্ট কোনো বিশিষ্ট ব্যক্তি বা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘সংগঠন নিবন্ধনের ক্ষেত্রে কাউন্সিলের পরিবর্তে নিবন্ধক এবং তত্ত্বাবধায়কের পরিবর্তে প্রশাসক প্রতিস্থাপনের প্রস্তাব, আগে ওখানে ছিল কাউন্সিল এটা রেজিষ্ট্রেশন করবে, কিন্তু এখন এটা আলাদা রেজিষ্ট্রার করে দেওয়া হলো। তারাই এ সংক্রান্ত যেসব প্রতিষ্ঠান তাদের কাছে স্বীকৃতি চাইবে, তাদের রেজিস্ট্রেশন করে দেবে।

‘নতুন আইনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা রাষ্ট্ররোধী কোনো কার্যক্রমে লিপ্ত হলে সে সংগঠন নিবন্ধন পাবে না। কাউন্সিলের একটা তহবিল থাকবে সেটায় সরকার ফান্ড দেবে পাশপাশি তারা সাহায্য বা অন্যভাবেও ফান্ড তৈরি করতে পারবে।’

আরও পড়ুন:
রামপুরায় শিক্ষার্থীদের অবস্থান, লাঞ্ছনার অভিযোগে উত্তেজনা
পুলিশের বাধা ঠেলে আবার বিক্ষোভ
সিলেবাস কমানোর দাবিতে মহাসড়কে বিক্ষোভ
রাস্তা ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা, কর্মসূচি সীমিতের ঘোষণা
রামপুরার শিক্ষার্থীদের ১১ দাবি

শেয়ার করুন

বেড়েছে খাদ্যশস্যের মজুদ, বাড়ছে ওএমএসের আওতা

বেড়েছে খাদ্যশস্যের মজুদ, বাড়ছে ওএমএসের আওতা

বাজারে হরেক রকমের চাল থাকলেও দাম শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষদের নাগালের বাইরে। ফাইল ছবি

বর্তমানে খাদ্যশস্যের মজুদ ২০ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে। এই সুবাদে ওএমএস কার্যক্রমের আওতা বাড়ানো হচ্ছে। এবার আরও ১ হাজার ৫৯টি কেন্দ্রে নতুন করে ওএমএস কার্যক্রম চালু করা হবে।

করোনার বিধি-নিষেধের মধ্যে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি সুলভ মূল্যে খোলাবাজারে চাল-আটা বিক্রি (ওএমএস) কার্যক্রমের আওতা বাড়ানো হচ্ছে। এবার এক লাফে আরও ১ হাজার ৫৯টি কেন্দ্রে নতুন করে ওএমএস কার্যক্রম চালু করা হবে। আগামী ২০ জানুয়ারি থেকে সারা দেশে এই বাড়তি ওএমএস কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

অপরদিকে ওএমএস শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে সরকারের খাদ্যশস্যের সার্বিক মজুদের পরিমাণও। অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ ও আমদানি কার্যক্রম জোরদারের মাধ্যমে বর্তমানে খাদ্যশস্যের মজুদ নিরাপত্তা দেয়াল ডিঙ্গিয়ে ২০ লাখ টনের বাফার মজুদে উন্নীত হয়েছে।

দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি এবং করোনা বিধি-নিষেধের মধ্যে চাপে আছে প্রায় সব শ্রেণিপেশার মানুষ। এ পরিস্থিতিতে শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষদের জন্য ওএমএস-এর আওতা বৃদ্ধি এবং দেশে খাদ্যশস্যের বাফার মজুদ কিছুটা হলেও ক্রেতা-ভোক্তার জন্য স্বস্তিদায়ক হবে বলে মনে করছেন দেশে ভোক্তা সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান।

তিনি বলেন, ‘বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকারি গুদামে নিরাপত্তা মজুদ হিসেবে অন্তত ১০ লাখ টন চাল থাকতে হয়। এর বাড়তি থাকা আরও ভালো। খাদ্যশস্যের বর্তমান মজুদ দিয়ে দেশে চাল ও আটার দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি করোনাকালীন যে কোনো সংকট মোকাবেলা সম্ভব।’

জানা গেছে, খাদ্য মন্ত্রণালয় পরিচালিত এই ওএমএস কার্যক্রম জোরদার করতে ইতোমধ্যে নিয়মিত বাজেটের বাইরে অতিরিক্ত ৩ লাখ টন চাল ও ১ লাখ টন গম বরাদ্দে ব্যয় অনুমোদন দিয়েছে অর্থমন্ত্রণালয়।

বর্তমানে সিটি করপোরেশন, শ্রমঘন চার জেলা, অন্যান্য জেলা সদর ও পৌরসভা মিলিয়ে মোট ৭০৫টি কেন্দ্রে এই ওএমএস কার্যক্রম চালু রয়েছে। তবে ২০ জানুয়ারির পর ওএমএস কেন্দ্রের সংখ্যা বেড়ে মোট ১ হাজার ৭৬৪টিতে উন্নিত হবে।

বেড়েছে খাদ্যশস্যের মজুদ, বাড়ছে ওএমএসের আওতা
আগে ভারত থেকে চাল আমদানি করে সরকার সংকট সামাল দিত। ফাইল ছবি

খাদ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, গত বছর ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত সরকারের গুদামে খাদ্যশস্যের মজুদের পরিমাণ ছিল ৭ লাখ ২১ হাজার টন। এর মধ্যে চালের মজুদ ছিল ৫ লাখ ৩৭ হাজার টন, যা মজুদ হিসেবে ছিল স্মরণকালের মধ্যে তলানীতে।

কিন্তু পরবর্তীতে অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ ও আমদানি কার্যক্রম জোরদারের মাধ্যমে ধীরে ধীরে সেই মজুদ কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে। বর্তমানে চলতি বছর ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত খাদ্যশস্যের মজুদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে মোট ১৯ লাখ ৭৮ হাজার টনে।

এর মধ্যে চালের মোট মজুদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৯ হাজার টন। গমের মজুদ ৩ লাখ ৪৪ হাজার টন। ধানের মজুদ ৩৮ হাজার টন।

সম্প্রতি খাদ্যমন্ত্রণালয়ের ওএমএস কার্যক্রম জোরদার করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ে আধা সরকারি পত্র (ডিও) দেয় খাদ্য মন্ত্রণালয়। ওই চিঠিতে চলতি অর্থবছর বাজেট বরাদ্দের বাইরে অতিরিক্ত ৩ লাখ টন চাল ও ১ লাখ টন গম বরাদ্দের অনুরোধ জানানো হয়।

এ বিষয়ে গত রোববার অর্থ মন্ত্রণালয় এ সম্পর্কিত এক বৈঠকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আবেদনে সাড়া দিয়ে অতিরিক্ত চাল ও গম বাবদ প্রয়োজনীয় ব্যয় অনুমোদন করা হয়।

চলতি অর্থবছরে ওএমএস কার্যক্রমের জন্য বাজেটে ১ লাখ ৭০ হাজার টন চাল এবং ৩ লাখ ৬৪ হাজার টন গম বরাদ্দ দেয়া হয়।

কিন্তু চালের বাজার উর্ধ্বমুখী থাকায় শ্রমজীবী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওএমএসের চাল ও আটার চাহিদা বেড়ে যায়। খাদ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী চলতি অর্থবছরে জুলাই থেকে গত ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত ওএমএসের মাধ্যমে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৯৪৭ টন চাল এবং ২ লাখ ১২ হাজার ১৯১ টন গম বিতরণ করা হয়েছে। আগের ২০২০-২১ অর্থবছরের একই সময়ে বিতরণ করা হয় মাত্র ৭২২ টন চাল এবং ১ লাখ ৬০ হাজার ৫৭৯ টন গম।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে খাদ্য সচিব ড. মোছাম্মাৎ নাজমানারা খানুম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনাকালীন যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় খাদ্য মন্ত্রণালয় সরকারি গুদামগুলোতে ইতোমধ্যে খাদ্যশস্যের বাফার মজুদ গড়ে তুলেছে। এখন আমাদের খাদ্যশস্যের মুজদের পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ টন। এই বাফার মজুদ দেশে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক হবে। এর পাশাপাশি বাজার পর্যায়ে দাম সহনীয় রাখতে আমরা ওএমএস কার্যক্রমও জোরদার করতে যাচ্ছি। উদ্দেশ্য এই করোনা পরিস্থিতিতে যাতে দেশের নিন্ম আয়ের মানুষ কম দামে চাল বা আটা কিনতে পারেন।’

বেড়েছে খাদ্যশস্যের মজুদ, বাড়ছে ওএমএসের আওতা
দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহ করা হয়। ফাইল ছবি

খাদ্যশস্যের দামের উর্ধ্বগতি রোধ করে নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীকে মূল্য সহায়তা প্রদান এবং বাজার স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে ২০১২ সালে ওএমএস ব্যবস্থা চালু করে সরকার। এ ব্যবস্থায় বর্তমানে দেশব্যাপি ডিলারদের দোকান ও খোলা ট্রাকের মাধ্যমে প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা ও আটা ১৮ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। একজন ক্রেতা একবারে সর্বোচ্চ ৫ কেজি করে চাল ও আটা কিনতে পারেন।

গত সাড়ে ছয় মাসে বাজারের তুলনায় কম দামে ৪ লাখ ৫৭ হাজার ১৩৮ টন চাল ও আটা সরবরাহ করা হয়েছে। মুষ্টিমেয় লোক উপকারভোগী হলেও বাজারে পণ্যগুলোর দাম কমেনি, উল্টো বেড়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য মতে, সোমবার রাজধানীর বাজারগুলোতে প্রতি কেজি মোটা চাল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বেচাকেনা হয়েছে। আর খোলা আটা বিক্রি হয়েছে ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা কেজি দরে।

জানতে চাইলে ক্যাব সভাপতি গোলাম রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘খোলা বাজারে চাল-আটা বিক্রি (ওএমএস) কার্যক্রম জোরদার হলে বাজারে ওই পণ্যগুলোর মূল্য নিয়ন্ত্রণে থাকবে। যার সুফল ভোক্তারা পাবে।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যদি এই কার্যক্রম না চালানো হতো, তাহলে এখন পণ্যগুলোর যে দাম আছে, বৈশ্বিক বাস্তবতায় তা আরও বেড়ে যেত। তাই আগামীতেও খোলাবাজার কার্যক্রম নিম্নআয়ের মানুষদের জন্য সহায়কই হবে।’

আরও পড়ুন:
রামপুরায় শিক্ষার্থীদের অবস্থান, লাঞ্ছনার অভিযোগে উত্তেজনা
পুলিশের বাধা ঠেলে আবার বিক্ষোভ
সিলেবাস কমানোর দাবিতে মহাসড়কে বিক্ষোভ
রাস্তা ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা, কর্মসূচি সীমিতের ঘোষণা
রামপুরার শিক্ষার্থীদের ১১ দাবি

শেয়ার করুন

ভেরিফিকেশনে বিলম্ব, শিক্ষক নিয়োগ হবে সুপারিশেও

ভেরিফিকেশনে বিলম্ব, শিক্ষক নিয়োগ হবে সুপারিশেও

অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক-২) ফৌজিয়া জাফরীন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুলিশ ভেরিফিকেশনের পাশাপাশি প্রাথমিক সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়োগের সুপারিশ দেয়া হবে। এক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তিকে নিয়োগের পর তার বিরুদ্ধে পুলিশ ভেরিফিকেশনে আপত্তিকর কিছু এলে নিয়োগ বাতিল হবে।’

প্রাথমিক সুপারিশপ্রাপ্ত ৩২ হাজার শিক্ষকের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হচ্ছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পুলিশ ভেরিফিকেশন চলমান রেখেই বেসরকারি স্কুল-কলেজে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক-২) ফৌজিয়া জাফরীন সোমবার নিউজবাংলাকে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, এখন থেকে পুলিশ ভেরিফিকেশনের পাশাপাশি প্রাথমিক সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়োগের সুপারিশ দেয়া হবে। এক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তিকে নিয়োগের পর তার বিরুদ্ধে পুলিশ ভেরিফিকেশনে আপত্তিকর কিছু এলে নিয়োগ বাতিল হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষকে (এনটিআরসিএ) বলা হয়েছে।

এনটিআরসিএ’র নাম প্রকাশে অনিচ্ছিুক এক কর্মকর্তা জানান, শিক্ষক সংখ্যা বেশি হওয়ায় ভেরিফিকেশনে সময় লাগছে। এ কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ভেরিফিকেশন কার্যক্রম চলমান থাকবে। একইসঙ্গে সুপারিশপত্র দেবে এনটিআরসিএ। শিগগির এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হবে।

গত বছরের ৩০ মার্চ তৃতীয় ধাপে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ৫৪ হাজার ৩০৪ জন শিক্ষক নিয়োগে তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এনটিআরসিএ।

গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৫৪ হাজার ৩০৪টি শূন্যপদের মধ্যে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে ৩১ হাজার ১০১টি পদ রয়েছে। এর মধ্যে এমপিওভুক্ত পদ ২৬ হাজার ৮৩৮টি। মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে শূন্যপদ ২০ হাজার ৯৯৬টি। এর মধ্যে ১৯ হাজার ১৫৪টি এমপিওভুক্ত। আর ২ হাজার ২০৭টি এমপিও পদ রিট মামলায় অংশ নেয়াদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়।

তবে ৫১ হাজার ৭৬১টি পদে সুপারিশ করার কথা থাকলেও গত বছরের ১৫ জুলাই সুপারিশ করা হয়েছে ৩৮ হাজার ২৮৬ জন প্রার্থীকে। তাদের মধ্যে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ৩৪ হাজার ৬১০ জন এবং ননএমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ৩ হাজার ৬৭৬ জন।

আর ৮ হাজার ৪৪৮টি পদে কোনো আবেদন না পাওয়ায় এবং ৬ হাজার ৭৭৭টি নারী কোটায় প্রার্থী না পাওয়ায় ১৫ হাজার ৩২৫টি পদে ফল দেয়নি এনটিআরসি।

এনটিআরসিএ থেকে জানা যায়, ৩৮ হাজারের বেশি শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করা হলেও ভেরিফিকেশন ফরম জমা না দেয়ায় ৩২ হাজার ২৮৩ জন শিক্ষক নিয়োগের পুলিশ ভেরিফিকেশন কার্যক্রম শুরু হয়।

আরও পড়ুন:
রামপুরায় শিক্ষার্থীদের অবস্থান, লাঞ্ছনার অভিযোগে উত্তেজনা
পুলিশের বাধা ঠেলে আবার বিক্ষোভ
সিলেবাস কমানোর দাবিতে মহাসড়কে বিক্ষোভ
রাস্তা ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা, কর্মসূচি সীমিতের ঘোষণা
রামপুরার শিক্ষার্থীদের ১১ দাবি

শেয়ার করুন

ইসি আইন প্রসঙ্গে কাদের: নাথিং ইজ ইম্পসিবল

ইসি আইন প্রসঙ্গে কাদের: নাথিং ইজ ইম্পসিবল

সোমবার বঙ্গভবনে সংলাপ শেষে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ওবায়দুল কাদের। ছবি: নিউজবাংলা

আগামী নির্বাচন কমিশন গঠনের আগেই এ-সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন সম্ভব কি না এমন প্রশ্নে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সংসদের চলমান অধিবেশনেই এটি পাস করার সর্বাত্মক চেষ্টা থাকবে। কাম অ্যান্ড সি, নাথিং ইজ ইম্পসিবল।’

নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে আইনের খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

আগামী নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনের আগেই এ-সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন সম্ভব কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেছেন, ‘সংসদের চলমান অধিবেশনেই এটি পাস করার সর্বাত্মক চেষ্টা থাকবে। কাম অ্যান্ড সি, নাথিং ইজ ইম্পসিবল।’

সোমবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সংলাপ শেষে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

এর আগে সংলাপ করতে বেলা ৩টা ৫৬ মিনিটে বঙ্গভবনে প্রবেশ করে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল সংলাপে অংশ নেয়। বিকেল ৪টা থেকে ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট সংলাপ শেষে বঙ্গভবন থেকে বের হয় আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত মেনে আইন মন্ত্রণালয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন-সংক্রান্ত আইনের খসড়া প্রস্তুত রয়েছে। খসড়াটি আজ মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের পর তা নীতিগতভাবে অনুমোদন পেয়েছে।

‘আইনের খসড়াটি যথাযথ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় (আইন মন্ত্রণালয়) জাতীয় সংসদে পাঠাবে। জাতীয় সংসদ প্রচলিত আইন বিধিবিধান অনুসারে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।’

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে ইসি গঠনে সার্চ কমিটির জন্য কারও নাম প্রস্তাব করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘প্রক্রিয়াটি শুরু হলো। এটি একটি আইনগত প্রক্রিয়ায় এক দিনেই তো সব হয় না। এই প্রস্তাবের পর আইন নিয়ে আলাপ-আলোচনা হবে।

আইন প্রণয়নে বেশ কিছু ধাপ রয়েছে। আইনটির খসড়া নিয়ে মন্ত্রণালয়ের কমিটিতে আলোচনা হবে। এরপর মন্ত্রিসভার বৈঠকে এটি প্রথমে বিবেচনা এবং পরে চূড়ান্ত বিবেচনার জন্য পেশ করা হবে। মন্ত্রিসভায় পূর্ণাঙ্গভাবে পাস হওয়ার পর সেটি চলে যাবে মন্ত্রিসভা বৈঠকে। পরে খসড়াটি আরও আলোচনার জন্য চলে যাবে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে। সেখানে শুধু ক্ষমতাসীন দল নয়, অন্যান্য দলও রয়েছে। এই কমিটিতে আলাপ-আলোচনা শেষ হলে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আইনটি চলে যাবে সংসদে।’

অল্প সময়ের মধ্যেই আইনটি করা সম্ভব কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘কাম অ্যান্ড সি, নাথিং ইজ ইম্পসিবল।’

আগামী নির্বাচন কমিশন গঠনের আগেই আইনটি করা সম্ভব হবে কি না জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগের হাতে ভিন্ন কোনো প্রক্রিয়া নেই। অথবা আইন পাসের ক্ষেত্রে আমাদের কাছে কোনো ম্যাজিক তাস নেই। আইন আইনের গতিতেই হবে। আইনের বিকল্প কোনো বিধান নেই। বাংলাদেশে যে প্রক্রিয়ায় আইন পাস হয়, এ ক্ষেত্রেও তাতে বিন্দু পরিমাণ ব্যত্যয় ঘটার কারণ নেই। বিকল্প ভাবার অবকাশই নেই।’

সংসদের চলমান অধিবেশনে আইনটি পাস করা সম্ভব হবে কি না- এমন প্রশ্নের উত্তরে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যেহেতু এটা জন দাবি, সর্বাত্মক প্রয়াস অব্যাহত থাকবে। জাতীয় স্বার্থে একটা আইন পাস হওয়া দরকার ছিল, আগে হওয়ার কথা ছিল। কেন হবে না, প্রক্রিয়া তো আছে। ৫০ বছরে হয়নি। আমরা প্রথম ও দ্বিতীয়বার পারিনি। তৃতীয়বারের আগেও হয়ে যেতে পারে। আইনটি হলে এবারই হবে।’

আরও পড়ুন:
রামপুরায় শিক্ষার্থীদের অবস্থান, লাঞ্ছনার অভিযোগে উত্তেজনা
পুলিশের বাধা ঠেলে আবার বিক্ষোভ
সিলেবাস কমানোর দাবিতে মহাসড়কে বিক্ষোভ
রাস্তা ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা, কর্মসূচি সীমিতের ঘোষণা
রামপুরার শিক্ষার্থীদের ১১ দাবি

শেয়ার করুন