লিভার সিরোসিস লিভার বা যকৃতের ক্রনিক রোগ। এতে লিভারের সেলে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত দেখা দেয়। ‘হেপাটাইটিস সি’ ভাইরাস শরীরে দীর্ঘদিন অবস্থানের কারণে যকৃতের কোষগুলোর কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে রোগীর মৃত্যু ঘটাতে পারে।
প্রাথমিক পর্যায়ে এ রোগ শনাক্ত হলে চিকিৎসা সম্ভব। তাই অবহেলা না করে যথাযথ চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিলেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের হেপাটোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. রোকসানা বেগম। সম্প্রতি নিউজবাংলাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. রোকসানা বেগম বলেন, লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত রোগী দীর্ঘদিন কোনো উপসর্গ ছাড়া স্বাভাবিক চলাফেলা করেন। প্রাথমিক পর্যায়ে কম্পেনসেটেড সিরোসিসে আক্রান্ত ব্যক্তির তেমন কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না। তবে কিছু অভিন্ন লক্ষণ থাকে; যেমন- শারীরিক দুর্বলতা, মাড়ি বা নাক থেকে রক্ত পড়া, ওজন কমে যাওয়া, চামড়া ত্বক ও চোখ হলুদ হওয়া, বমি বমি ভাব। এসব লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পরীক্ষা করাতে হবে।
প্রশ্ন: লিভার সিরোসিস বলতে আমরা কী বুঝি?
ডা. রোকসানা বেগম: শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে আসা রোগীদের একটি বড় অংশ লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত। রোগের ক্ষেত্রে এর পরেই লিভার ক্যান্সারের অবস্থান। লিভার বা যকৃতের যে কোনো ক্রনিক রোগের কারণে লিভারের সেলগুলো নষ্ট হয়ে যায়, লিভারের সেলগুলো ঠিকমতো কাজ করে না। তখন যে অবস্থা তৈরি হয়, তাকে মূলত লিভার সিরোসিস বলা হয়।
প্রশ্ন: লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হওয়ার কারণ কী?
ডা. রোকসানা বেগম: প্রধান কারণ ক্রনিক হেপাটাইটিস বি ভাইরাস। এ ভাইরাস কারও কারও শরীরে ১০-১৫ বছর অবস্থান করে। এই দীর্ঘদিন অবস্থানের কারণে লিভার সিরোসিস দেখা দেয়। ফ্যাটি লিভারের কারণেও এই লিভার সিরোসিস দেখা দেয়। এখন এটি অনেক কমন হয়ে দেখা দিয়েছে। আল্ট্রাসনোগ্রাফি করলেই একটা বড় অংশের ফ্যাটি লিভার ধরে পড়ে। ‘হেপাটাইটিস সি’ ভাইরাসের কারণে লিভার সিরোসিস দেখা দেয়। এ ছাড়া জেনেটিক কারণও লিভার সিরোসিসের জন্য দায়ী। অ্যালকোহলও অনেক ক্ষেত্রে লিভার সিরোসিসের জন্য দায়ী।
মানুষের শরীরে দীর্ঘদিন হেপাটাইটিস সি, হেপাটাইটিস বি’র অবস্থান, অ্যালকোহলিজম, ফ্যাটি লিভার, জেনেটিক ডিজিজ এগুলোর কারণে লিভারের কোষগুলোয় এক ধরনের উপদাহ সৃষ্টি হয়। উপদাহ হতে হতে একসময় কোষগুলো কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। তখন লিভার ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। এ ক্ষেত্রে লিভার প্রতিস্থাপন ছাড়া আর কিছু করার থাকে না।
প্রশ্ন: কীভাবে বুঝবেন আপনি লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত?
ডা. রোকসানা বেগম: লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হয়েছেন কি না দুইভাবে জানা যাবে। লিভার সিরোসিসের দুটি পর্যায় থাকে। একটি হচ্ছে কম্পেনসেটেড সিরোসিস। আর একটি হচ্ছে ডি-কম্পেনসেটেড সিরোসিস। কম্পেনসেটেডকে প্রাথমিক পর্যায় বলা হয়। এ সময় কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না। সাধারণত এ সময় রোগীর শরীরিক দুর্বলতা দেখা যায়। এ ছাড়া লিভার যেখানে থাকে, পেটের ডান পাশে ওপরের দিকে, সেখানে ব্যথা থাকে। অন্য কোনো রোগ শনাক্ত করতে যে পরীক্ষা দেওয়া হয়, তাতে অনেক সময় বি ভাইরাস, সি ভাইরাস বা লিভারের কোনো সেল নষ্ট পাওয়া যায়। এ সময় সাধারণত সঠিক চিকিৎসা নিলে এটি নিরাময় সম্ভব। তবে তখন এই লিভার সিরোসিসের কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না।
প্রশ্ন: রোগীরা হাসপাতালে কোন ধরনের জটিলতা নিয়ে আসেন?
ডা. রোকসানা বেগম: যেহেতু লিভার নিয়ে কাজ করি, তাই আমরা সব ধরনের রোগী পেয়ে থাকি। অবস্থা যখন বেশি গুরুতর, তখন রোগীরা আমাদের কাছে আসেন। পেটে বা পায়ে পানি দেখা দিলে, জন্ডিস, হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি এসব সমস্যা নিয়ে আমাদের কাছে বেশি আসেন। তখন আমরা তাদের লিভার সিরোসিস পরীক্ষা করি। অন্যান্য পরীক্ষার মধ্যেই লিভার সিরোসিস আছে কি না পরীক্ষা করি।
প্রশ্ন: লিভার সিরোসিসের চিকিৎসা কী?
ডা. রোকসানা বেগম: লিভার সিরোসিস চিকিৎসার বিষয়ে কিছু কিছু জিনিস আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। প্রথমে দেখতে হবে রোগীর লিভার সিরোসিস কোন পর্যায়ে আছে। পূর্ণাঙ্গ লিভার সিরোসিস নিরাময় সম্ভব নয়। তাই যে রোগের কারণে লিভার সিরোসিস হয়েছে, আমরা সেই রোগ নিরাময় করার চেষ্টা করি। একজন যদি সম্পূর্ণভাবে এই রোগে আক্রান্ত হন, তা হলে লিভার প্রতিস্থাপন করা ছাড়া নিরাময় করা সম্ভব নয়। এটি শুধু বাংলাদেশে নয়, সব দেশেই এই অবস্থা। যখন কোনো রোগী লিভার প্রতিস্থাপন করতে পারেন না, তখন আমরা সাইড সিম্পটমগুলোর চিকিৎসা করার চেষ্টা করি। যেমন লিভার সিরোসিসের সঙ্গে যাদের জন্ডিস রয়েছে, তাদের জন্ডিসের চিকিৎসা দিই। যার পেটে পানি দেখা দেয়, তার পেটের পানি কমানোর চিকিৎসা দিই। রোগীদের রক্তবমি ও কালো পায়খানা হয়। এটি নিয়ন্ত্রণে আমরা চিকিৎসা দিই। আমরা সেটি কমানোর চেষ্টা করি। রোগী যাতে অজ্ঞান না হয়ে যান, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। শরীরের লবণের মাত্রা কমে যাচ্ছে কি না, নতুন করে কোনো ইনফেকশন দেখা দিচ্ছে কি না- এগুলো লক্ষ্য রাখা হয়।
লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হওয়ার প্রধান কারণ হেপাটাইটিস সি এবং বি ভাইরাস। এ দুটি ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে মুখের খাওয়ার ওষুধ পাওয়া যায়। এ ওষুধ বাংলাদেশে কম মূল্যে পাওয়া যায়। তাই আমরা যখন কোনো রোগীর শরীরে হেপাটাইটিস সি ও বি ভাইরাস দেখি, তা প্রতিরোধে ওষুধ দিয়ে থাকি। আগে থেকে এই দুই ভাইরাসের চিকিৎসা দিলে লিভার সিরোসিসের পর্যায়ে যাওয়ার আশঙ্কা খুবই কম থাকে। ফ্যাটি লিভার থাকলে সেটির চিকিৎসা দিয়ে থাকি।
গুরুতর রোগীকে প্রতিনিয়ত ফলোআপে রাখা হয়। নতুন কোনো সাইড সিম্পটম দেখা দিচ্ছে কি না, সেটি আমরা লক্ষ্য রাখি। সেখান থেকে ক্যান্সারের দিকে ধাবিত হচ্ছে কি না, সেদিকে লক্ষ্য রাখা হয়। এ ধরনের রোগীকে নির্দিষ্ট সময় পরপর ফলোআপে রাখা হয়। এটিও আসলে চিকিৎসার অংশ।
প্রশ্ন: লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত রোগীর কি সার্জারির প্রয়োজন হয়?
ডা. রোকসানা বেগম: লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত ব্যক্তির সম্পূর্ণ চিকিৎসা লিভার প্রতিস্থাপন। তবে লিভার প্রতিস্থাপন দেশের সব হাসপাতালে এখনও সব জায়গায় শুরু হয়নি। শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে লিভার প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও সিঙ্গাপুর থেকে বেশ কয়েকটি দেশে লিভার প্রতিস্থাপনে চিকিৎসা দেয়া হয়। সবচেয়ে কম খরচের কথা যদি বলতে চান, তা হলে অবশ্যই ভারতে চিকিৎসার কথা বলতে হবে। দেশে থেকে চিকিৎসা নিলে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা খরচ হয়ে থাকে। এটি মূলত লিভার প্রতিস্থাপনের খরচ।
লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হলে অনেক সময় রক্তবমি হয়ে থাকে। এটি বন্ধে ব্যান্ড পরানো হয়। এর পেছনে খরচ হয়ে থাকে। এই চিকিৎসার জন্য খরচ হয় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা।
এ ছাড়া স্টেম সেল থেরাপি নামে একটি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা আছে। যারা লিভার প্রতিস্থাপন করতে পারে না, তাদের জন্য স্টেম সেল থেরাপির একটি ট্রিটমেন্ট ব্যবস্থাপনা রয়েছে। স্টেম সেল থেরাপির মাধ্যমে রোগীকে অনেক দিন বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব। অনেক দিন ধরেই বাংলাদেশে এ চিকিৎসা হচ্ছে। দেশে অল্প খরচে এটি সম্ভব হচ্ছে। মাত্র দেড় থেকে ২ লাখ টাকার মধ্যে এই চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। অন্যান্য দেশে ১৫-২০ লাখ টাকা খরচ হয়। এই চিকিৎসা আমরা লিভার সিরোসিস রোগীদের ক্ষেত্রে নিতে পারি। তবে এটি লিভার প্রতিস্থাপনের বিকল্প নয়। সুযোগ থাকলে লিভার প্রতিস্থাপন করতে হবে।
লিভার সিরোসিসে আক্রান্তদের একটি বড় অংশের পেটে পানি জমে। সেই পানি বের করার জন্য আমরা এক ধরনের ইনজেকশন ব্যবহার করি। এই ইনজেকশনের মাধ্যমে পেট থেকে পানি বের করা হয়। এই চিকিৎসা আমরা সরকারিভাবেও দিয়ে থাকি, বিভিন্ন হাসপাতালের বহির্বিভাগে এ সেবা দেয়া হচ্ছে।
প্রশ্ন: কোন ধরনের জীবনাভ্যাস লিভার সিরোসিসের জন্য দায়ী?
ডা. রোকসানা বেগম: লিভার সিরোসিসের মূল কারণ হেপাটাইটিস বি ভাইরাস ও হেপাটাইটিস সি ভাইরাস। তবে অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণের কারণেও এ রোগে কেউ আক্রান্ত হতে পারেন। এ ছাড়া জেনেটিক কারণ ও লিভারে চর্বির কারণে লিভার সিরোসিস হয়। আমরা যদি একটু সচেতন হই, তা হলে অবশ্যই এটি প্রতিরোধ করতে পারি। কোনো ব্যক্তি হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে সন্দেহ হলে তারা সহজে পরীক্ষা করতে পারেন। মাত্র দুটি টেস্ট করলেই হেপাটাইটিস বি ও হেপাটাইটিস সি ভাইরাস আছে কি না তা জানা সম্ভব। এই হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের যদি ট্রিটমেন্ট করা যায়, তা হলে লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেকাংশে কমে যাবে।
প্রশ্ন: লিভার সিরোসিস রুখতে করণীয় কী?
ডা. রোকসানা বেগম: ফ্যাটি লিভারের কারণেও যেহেতু লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে, সে জন্য আমরা যদি নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন করতে পারি, তা হলে ফ্যাটি লিভার থেকে মুক্ত থাকা যায়। জীবনযাপনের বিষয়টি সম্পূর্ণ আমাদের হাতে। আমরা চাইলেই ফাস্টফুড ত্যাগ করতে পারি, গরুর মাংস, খাসির মাংস, চর্বিযুক্ত খাবার নিয়মতান্ত্রিকভাবে খেতে পারি। নিয়মিত শরীরচর্চা করা উচিত। লিভারে চর্বি জমা না হলে লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে যাবে। আমরা সুরক্ষিত থাকব। নিয়মতান্ত্রিকভাবে অ্যালকোহল গ্রহণ করতে হবে। হেপাটাইটিস ভাইরাস প্রতিরোধে অবশ্যই আমরা টিকা গ্রহণ করব। অনেক সময় দেখা যায় হেপাটাইটিস সি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে গর্ভবতী মা। তখন সন্তান প্রসব করলে শিশু হেপাটাইটিস বি আক্রান্ত হয়েছে কি না তা পরীক্ষা করতে হবে। একই সঙ্গে গর্ভবতী মা যদি হেপাটাইটিস বি-তে আক্রান্ত হয়ে থাকেন, তা হলে সন্তান প্রসবের সঙ্গে সঙ্গে সেই সন্তানকে দুটি টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
ফাইল ছবি
ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) হাসপাতালটির নির্বাহী পরিচালক ও স্বত্বাধিকারী শেখ মহিউদ্দীনকে পাঠানো এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পক্ষে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) আদ্-দ্বীন হাসপাতালের স্বত্বাধিকারী শেখ মহিউদ্দীনকে চিঠিটি পাঠিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ)। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, লাইসেন্স বাতিলের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে সরকারের কাছে আপনার আপিল বা পুনর্বিবেচনা করার আইনি সুযোগ রয়েছে।
চিঠিটির বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ‘আদ্-দ্বীন হাসপাতাল, ২ বড় মগবাজার, ঢাকা-এর কারণ দর্শানোর জবাবের পরিপ্রেক্ষিতে প্রদত্ত সিদ্ধান্ত।’ চিঠিতে বলা হয়, গত ২৭ মে ছয় নবজাতকের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় দ্য মেডিক্যাল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অধ্যাদেশ, ১৯৮২-এর ১১(১) ধারা অনুযায়ী গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৪ জুন এই হাসপাতালটির ‘লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না’ মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। ৭ জুন বিকেল পাঁচটার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছিল।
সেই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে ৭ জুন আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কারণ দর্শানোর সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করলে এই সময়সীমা ৯ জুন বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত বাড়ানো হয়।
বিষয়টি উল্লেখ করে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের স্বত্বাধিকারীকে চিঠিতে বলা হয়েছে, ৯ জুন আপনার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে যে জবাব ও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, তা কর্তৃপক্ষের কাছে সন্তোষজনক না হওয়ায় দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অধ্যাদেশ, ১৯৮২-এর ১১(২) (খ) ধারা অনুযায়ী আপনার হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হলো। এই অধ্যাদেশের ১২ ধারা অনুযায়ী লাইসেন্স বাতিলের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে সরকারের কাছে আপনার আপিল বা পুনর্বিবেচনা করার আইনি সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশের চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করল স্কয়ার হসপিটাল। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে ‘রোবোটিক অ্যাসিস্টেড এমআরআই-ইউএসজি ফিউশন প্রোস্টেট বায়োপসি’। গত ৭ জুন ২০২৬ তারিখে স্কয়ার হসপিটালের ইউরোলজি বিভাগের কনসালটেন্ট অধ্যাপক ডা. এন আই ভূঁইয়া এবং তাঁর বিশেষজ্ঞ মেডিকেল টিম এই অত্যাধুনিক চিকিৎসা প্রক্রিয়াটি সফলভাবে পরিচালনা করেন। এই ঐতিহাসিক অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রোস্টেট ক্যান্সার শনাক্তকরণে এক নতুন যুগের সূচনা হলো, যা আধুনিক স্বাস্থ্যসেবায় দেশের সক্ষমতাকে বিশ্বমানে উন্নীত করেছে।
এই বিশেষ পরীক্ষায় বিশ্বখ্যাত 'মোনা লিসা' (Mona Lisa) রোবোটিক বায়োপসি সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে। এটি মূলত একটি উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর রোবোটিক ব্যবস্থা যা সার্জনকে প্রোস্টেটের নমুনা সংগ্রহে সর্বোচ্চ নিখুঁত সহায়তা প্রদান করে। এই প্রযুক্তির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি রোগীর আগের করা এমআরআই এবং পরীক্ষার সময়কার তাৎক্ষণিক আল্ট্রাসাউন্ড ছবিকে একত্রে সমন্বয় বা ফিউশন করে একটি ত্রিমাত্রিক বা থ্রি-ডি ম্যাপ তৈরি করে। এই ম্যাপটি ব্যবহারের ফলে চিকিৎসকরা প্রোস্টেটের ভেতরের যেকোনো অস্বাভাবিকতা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পান এবং রোবোটিক গাইডেন্সের মাধ্যমে সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেন।
প্রথাগত বায়োপসি পদ্ধতিতে অনেক সময় প্রোস্টেটের ভেতরের ছোট টিউমারগুলো শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে অথবা বায়োপসি সুই সঠিক স্থানে পৌঁছাতে পারে না, যার ফলে রোগ নির্ণয়ে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু নতুন এই রোবোটিক সিস্টেমে ঠিক যে জায়গায় ক্যান্সার আক্রান্ত কোষ রয়েছে, সুনির্দিষ্টভাবে সেখান থেকেই নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। এর ফলে রোগ নির্ণয়ের নির্ভুলতা বা একুরেসি প্রায় শতভাগের কাছাকাছি পৌঁছায়। পাশাপাশি এই পদ্ধতিতে শারীরিক জটিলতা ও সংক্রমণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায় এবং রোগীকে বারবার কষ্টদায়ক বায়োপসি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয় না।
এই সাফল্য সম্পর্কে অধ্যাপক ডা. এন আই ভূঁইয়া জানান যে, প্রোস্টেট ক্যান্সার নিখুঁতভাবে শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ হিসেবে স্বীকৃত। দেশের ভেতরেই এখন এমন উন্নত সেবা নিশ্চিত হওয়ায় রোগীদের এই জটিল পরীক্ষার জন্য আর বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। স্কয়ার হসপিটালের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক মানের নিরাপদ ও আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা দেশেই সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছে দেওয়া। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, ইউরোলজি চিকিৎসায় বাংলাদেশ এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং বিশ্বমানের সেবা প্রদানে পুরোপুরি সক্ষম।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতি পালন করেছেন। রবিবার (৭ জুন) সকাল ১১টা থেকে তারা এই কর্মবিরতি শুরু করেন। রামেক হাসপাতালের ইন্টার্ন প্রতিনিধি ডা. তানভীর আহমেদ তৌকির বলেন, “কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে কর্মবিরতি পালন করা হচ্ছে। কেন্দ্র থেকে ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এই কর্মবিরতি চলবে।”রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস বলেন, “হাসপাতালে ২৬২ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক রয়েছেন। আজ সকাল থেকে তারা কর্মবিরতি পালন করছেন।” স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক একটি নোটিশ এবং চিকিৎসকদের বিভিন্ন অনিয়ম ও বৈষম্যের প্রতিবাদে সারাদেশের ইন্টার্ন চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীরা নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। বৃহস্পতিবার (৬ জুন) বাংলাদেশ সম্মিলিত ইন্টার্ন চিকিৎসক ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে এবং চিকিৎসকদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া আদায়ের লক্ষ্যে দেশের সব ইন্টার্ন চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ সমাবেশ পালন করেছেন। সমাবেশে তাদের ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়। তারা দাবি করেন, এর আগে বিএমডিসি প্রকাশিত একটি নোটিশের মাধ্যমে তাদের ছয় দফা দাবির মধ্যে প্রথম দাবির বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হলেও বাকি দাবিগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহল থেকে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে তারা হতাশা প্রকাশ করেন।এ অবস্থায় সংগঠনটি পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- দেশের সব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি, দেশের সব মেডিকেল কলেজের প্রথম থেকে পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন বেলা ১১টার পর থেকে ক্লাস বর্জন, সব মিড-লেভেল চিকিৎসকদের চলমান আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আহ্বান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। কর্মসূচিতে দেশের সব ইন্টার্ন চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
জনগণের দোরগোড়ায় উন্নত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে স্বাস্থ্যসেবা খাতকে শক্তিশালীকরণে দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্যে গত বুধবার (৩ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ এবং পরিদর্শন কার্যক্রমে সহযোগিতা করার নির্দেশনা জারি করেছে। অধিদপ্তরের প্রশাসন বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী আদেশে সই করেন।
আদেশে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীন সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
আদেশে উল্লেখ করা হয়, উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং রোগীদের জন্য অধিকতর সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশের অনেক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শয্যা সংখ্যা সীমিত হওয়ায় রোগীদের চিকিৎসাসেবা গ্রহণে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।
শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে উপজেলা পর্যায়েই অধিকসংখ্যক রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ পাবেন এবং জেলা সদর হাসপাতালের ওপর চাপও কমবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গণপূর্ত অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত পরিদর্শন দল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো পরিদর্শন করবে। এসব পরিদর্শনের মাধ্যমে অবকাঠামোগত সক্ষমতা, বিদ্যমান ভবন, সম্প্রসারণের সম্ভাবনা, প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং অতিরিক্ত শয্যা স্থাপনের উপযোগিতা যাচাই করা হবে।
নির্দেশনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের (ইউএইচএফপিও) পরিদর্শন দলের সঙ্গে সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য বলা হয়েছে।
একই সঙ্গে পরিদর্শন কার্যক্রম নির্বিঘ্নে করতে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত, নথিপত্র এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হলে চিকিৎসাসেবার পরিধি আরও বাড়বে। এতে মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুস্বাস্থ্য, জরুরি চিকিৎসা, মেডিসিন, সার্জারি ও অন্যান্য বিশেষায়িত সেবার ক্ষেত্রে সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি রোগীদের দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করে জেলা বা বিভাগীয় পর্যায়ের হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজনও অনেকাংশে কমে আসবে।
অফিস আদেশটির অনুলিপি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থায় প্রেরণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ই-মেইলের মাধ্যমেও নির্দেশনাটি জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, রুমে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণেই আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সচিবালয়ে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালটি কার্যক্রম পরিচালনার উপযুক্ত নয়। পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন সুবিধা না থাকা, ধারণক্ষমতার তুলনায় বেশি রোগী ভর্তি করা এবং দায়িত্বে চরম অবহেলার বিষয়গুলো তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে শাস্তির বিষয়ে তিনি আরও জানান, এ ধরনের ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া যায়, সে বিষয়ে আগামী রোববার (৭ জুন) সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
এ ধরনের ঘটনা রোধে সরকার আরও কঠোর হতে যাচ্ছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
এর আগে, গত ২৭ মে ভোরে রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৩ ঘণ্টার মধ্যে ৬ নবজাতকের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় অবহেলার অভিযোগ এনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। শিশুর স্বজনের করা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রমনা থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়। সেদিন রাতেই মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন রমনা জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) জাহিদুল ইসলাম।
রাজধানীর আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। বুধবার (৩ জুন) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
গত ২৭ মে ভোরে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে একই ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। ঈদের আগ মুহূর্তে এমন ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনার ঝড় তুলে।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশু মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রীর নিকট জমা দিয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গঠিত কমিটি আজ তাদের রিপোর্ট জমা দেবে।
এছাড়া আগামীকাল দুপুর ৪টায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল গণমাধ্যমের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলবেন বলেও জানানো হয়েছে।
গত ২৭ মে ভোরে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে তিন ঘণ্টার মধ্যে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর মৃত এক নবজাতকের স্বজন রমনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতাল পরিদর্শন করে বিভিন্ন অসঙ্গতি পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান এবং করণীয় নির্ধারণ করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি কমিটি। পরে তারা ৩ জুন পর্যন্ত সময় চান। এ কমিটিতে মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল উইংয়ের উপপরিচালক পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আরেকজন কর্মকর্তা রয়েছেন।
এর আগে গত তিন দিন আগে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে তারা সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। ওই দিন বিকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
দেশে গত সোমবার (০১ জুন) সকাল আটটা থেকে মঙ্গলবার (০২ জুন) সকাল আটটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নতুন করে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩৩৪ জন। মঙ্গলবার (০২ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ১ হাজার ২৯২ জন শিশু সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়েছে। এর বাইরে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হামরোগী শনাক্ত হয়েছে আরও ৪২ জন। সব মিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৩ হাজার ৩৬২ জনে। আর এখন পর্যন্ত ল্যাব পরীক্ষায় মোট নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯ হাজার ১৩৬ জন।
সরকারি তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৯ হাজার ১০৬ জন। একই সময়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৮১২ জন।
বিজ্ঞপ্তিতে মৃত্যুর পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলা হয়, দেশে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৫০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর পাশাপাশি ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামরোগীদের মধ্যে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৯০ জন।
চিকিৎসকেরা জানান, শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ রোধে নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো শিশুর শরীরে হামের লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
মন্তব্য