ডিএসই ফিক্স প্রটোকল সনদ পেল সিটি ব্রোকারেজ

player
ডিএসই ফিক্স প্রটোকল সনদ পেল সিটি ব্রোকারেজ

বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবায়াত-উল-ইসলাম বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে সিটি ব্রোকারেজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিসবাহ উদ্দিন আফফান ইউসুফের হাতে ডিএসই ফিক্স প্রটোকল কানেকশন সনদ তুলে দেন।

ডিএসই ফিক্স প্রটোকল কানেকশন সনদ পেয়েছে সিটি ব্রোকারেজ লিমিটেড।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবায়াত-উল-ইসলাম বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে সিটি ব্রোকারেজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিসবাহ উদ্দিন আফফান ইউসুফের হাতে এ সনদ তুলে দেন।

বিএসইসি ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ, মিজানুর রহমান, আবদুল হালিম, ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারেক আমিন ভূঁইয়া এবং বিএসইসি, ডিএসই ও সিটি ব্রোকারেজের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
চাপ কাটিয়ে পুঁজিবাজারে উত্থানে ‘নতুন আশা’
এবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বিএসইসিকে নিয়ে বসছে মন্ত্রণালয়
বিএসইসির সঙ্গে বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি: বাংলাদেশ ব্যাংক
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে বিএসইসি চেয়ারম্যান বললেন ‘সুপার’
‘ফলপ্রসূ’ বৈঠকের পর পুঁজিবাজারে লাফ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পাঁচ শর্তে ফু-ওয়াং ফুডসের মালিকানা বদল

পাঁচ শর্তে ফু-ওয়াং ফুডসের মালিকানা বদল

ফু-ওয়াং ফুডসের মালিকানা বদলের অনুমোদন দিয়েছে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। ছবি: সংগৃহীত

চিঠিতে বলা হয়, ফু-ওয়াং ফুডসের ৮৪ লাখ ৪২ হাজার ৭২৬টি শেয়ার মিনোরি বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে কমিশন অনুমোদন দিয়েছে। যা মোট শেয়ারের ৭ দশমিক ৬১ শতাংশ। এ পরিমাণ শেয়ার নেয়া হয়েছে ফু-ওয়াং ফুডসের পরিচালক আরিফ আহমেদ চৌধুরী, আফসানা তারান্নুম ও লুবাবা তাবাসসুমের কাছ থেকে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত খাদ্য ও আনুষাঙ্গিক খাতের ফু-ওয়াং ফুডসের মালিকানা বদল হচ্ছে। এর অনুমোদনও দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

কমিশনের নিয়মিত সভায় বৃহস্পতিবার মিনোরি বাংলাদেশকে কোম্পানিটির মালিকানা নিতে অনুমোদন দেয়া হয়।

এর আগে পুঁজিবাজারের একই খাতের এমারেল্ড অয়েল চালু করার মাধ্যমে নিজেদের কর্তৃত্ব দেখিয়েছি মিনোরি বাংলাদেশ। তবে ফু-ওয়াং ফুডসের মালিকানা পেতে পাঁচ শর্ত পূরণ করতে হবে মিনোরিকে।

ফু-ওয়াং ফুডসের ৭ দশমিক ৬১ শতাংশ শেয়ার হস্তান্তরের জন্য কোম্পানিটির তিন পরিচালকসহ মিনোরি বাংলাদেশের সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেয়া হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, ফু-ওয়াং ফুডসের ৮৪ লাখ ৪২ হাজার ৭২৬টি শেয়ার মিনোরি বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে কমিশন অনুমোদন দিয়েছে। যা মোট শেয়ারের ৭ দশমিক ৬১ শতাংশ। এ পরিমাণ শেয়ার নেয়া হয়েছে ফু-ওয়াং ফুডসের পরিচালক আরিফ আহমেদ চৌধুরী, আফসানা তারান্নুম ও লুবাবা তাবাসসুমের কাছ থেকে।

ডিপোজিটার (ব্যবহারিক) প্রবিধান ২০০৩ এর বিধি ৪২ এবং সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) উপ-বিধি ১১.৬ (মিলিত লেনদেন) এর অধীনে শেয়ার ক্রয় চুক্তি (এসপিএ) অনুসারে প্রতিটি শেয়ার ১০ টাকা মূল্যে হস্তান্তর হয়েছে। ফলে হস্তান্তরিত শেয়ারের মূল্য হবে ৮ কোটি ৪৪ লাখ ২৭ হাজার ২৬ টাকা।

এক্সচেঞ্জের ট্রেডিং সিস্টেমের বাইরে এই শেয়ার হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্নের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

শেয়ারের মালিকানা নেয়ার জন্য মিনোরি বাংলাদেশকে দেয়া পাঁচ শর্তের মধ্যে আছে, মালিকানা নেয়ার পর মিনোরি বাংলাদেশকে প্রযোজ্য উৎসে কর জমা দেয়ার জন্য প্রবিধানের বিধি-বিধান অনুযায়ী ঘোষনা দিতে হবে।

শেয়ার হস্তান্তরের পর মিনোরি বাংলাদেশ শেয়ারের বিপরীতে এক বা একাধিক মনোনীত প্রতিনিধি বা পরিচালক নিয়োগ করবে।

ফু-ওয়াং ফুডের দায় দেনা নিয়মিত পরিশোধ ও কোম্পানিটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য কমপক্ষে ২০ কোটি টাকার শেয়ার মানি ডিপোজিট হিসেবে রাখবে।

এই টাকা আলাদা একটি ব্যাংক হিসাবে রাখতে হবে। যা দিয়ে ব্যাংকের দায় দেনা নিয়মিত পরিশোধ, জমি অধিগ্রহণ, কার্যকরি মূলধন ও উৎপাদন সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য ব্যবহার করা যাবে।

৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের শর্ত পূরণের জন্য শেয়ার মানি ডিপোজিটের শেয়ারের অর্থের বিপরীতে মূলধন বাড়ানোর ক্ষেত্রে কমিশনের সম্মতি নিতে হবে।

এ বিষয়ে বিএসইসির কমিশনার অধ্যাপক ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বিএসইসির পক্ষ থেকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। মিনোরি বাংলাদেশের সঙ্গে তারা একটি চুক্তি করেছে। সেখানে ফু-ওয়াং ফুডস তাদের সাড়ে ৮ কোটি টাকা সমপরিমাণের শেয়ার বিক্রি করবে মিনোরি বাংলাদেশের কাছে।

‘এর আগে মিনোরি বাংলাদেশের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে আরেক কোম্পানি এমারেল্ড অয়েল উৎপাদনে ফিরেছে। ফলে তাদের প্রতি আমাদের আস্থা আছে। আর ফু-ওয়াং ফুড পরিচালনার জন্য মিনোরি বাংলাদেশকে বেশ কিছু শর্ত দেয়া হয়েছে, তাদের সেগুলো পরিপালন করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
চাপ কাটিয়ে পুঁজিবাজারে উত্থানে ‘নতুন আশা’
এবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বিএসইসিকে নিয়ে বসছে মন্ত্রণালয়
বিএসইসির সঙ্গে বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি: বাংলাদেশ ব্যাংক
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে বিএসইসি চেয়ারম্যান বললেন ‘সুপার’
‘ফলপ্রসূ’ বৈঠকের পর পুঁজিবাজারে লাফ

শেয়ার করুন

আসছে আরও তিন ব্রোকারেজ হাউস

আসছে আরও তিন ব্রোকারেজ হাউস

ব্রোকারেজ হাউজে লেনদেন দেখছেন বিনিয়োগকারীরা। ছবি: নিউজবাংলা

গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর নতুন ৫৫টি ব্রোকারেজ হাউস বা ট্রেককে (ট্রেডিং রাইট এনটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট) লাইসেন্স দেয় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এদের একটি সাকিব আল হাসানের মোনার্ক। এটি আগামী সপ্তাহে কার্যক্রম শুরু করবে। বাকিগুলো কবে কার্যক্রম শুরু করবে, সে বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়।

পুঁজিবাজারে শেয়ার কেনাবেচায় ব্যবসার জন্য অনুমোদন দেয়া হয়েছে আরও তিনটি ব্রোকারেজ হাউসকে। এগুলো হচ্ছে এসকিউ ওয়্যার অ্যান্ড ক্যাবল কোম্পানি, ফারিহা নিট টেক্স ও গিবসন সিকিউরিটিজ।

সম্প্রতি নতুন ট্রেক বা ব্রোকারেজ হাউসের অনুমোদনসংক্রান্ত চিঠি ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর পাঠানো হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিএসইসি নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানগুলো যেন দ্রুত বাণিজ্যিক কার্যক্রমে আসতে পারে, এ জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।’

গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর নতুন ৫৫টি ব্রোকারেজ হাউস বা ট্রেককে (ট্রেডিং রাইট এনটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট) লাইসেন্স দেয় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এদের একটি সাকিব আল হাসানের মোনার্ক। এটি আগামী সপ্তাহে কার্যক্রম শুরু করবে। বাকিগুলো কবে কার্যক্রম শুরু করবে, সে বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়।

এর আগের নতুন করে ট্রেক বা ব্রোকারেজ হাউসের সার্টিফিকেট পেতে ৬৬টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করে। এখান থেকে ডিএসই ১৫টি প্রতিষ্ঠানের আবেদন বাতিল করে ৫১টি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দিতে বিএসইসির কাছে পাঠায়। পরে আরও ৪টি প্রতিষ্ঠান যুক্ত করে ১৮ মে ৩০টি, ২১ জুন ২৬টি ও ২৬ আগস্ট ৯টি ব্রোকারেজ হাউসকে অনুমোদন দেয়া হয়।

নতুন স্টেকহোল্ডারদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে লাইসেন্স বিতরণ করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম।

নতুন তিনটি অনুমোদন পাওয়ায় এখন এ তালিকা বেড়ে হয়েছে ৫৮টি। এতে ডিএসইর সদস্যভুক্ত ব্রোকারেজ হাউস বা ট্রেকের সংখ্যা দাঁড়াবে ২৮৩টিতে।

আরও পড়ুন:
চাপ কাটিয়ে পুঁজিবাজারে উত্থানে ‘নতুন আশা’
এবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বিএসইসিকে নিয়ে বসছে মন্ত্রণালয়
বিএসইসির সঙ্গে বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি: বাংলাদেশ ব্যাংক
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে বিএসইসি চেয়ারম্যান বললেন ‘সুপার’
‘ফলপ্রসূ’ বৈঠকের পর পুঁজিবাজারে লাফ

শেয়ার করুন

পতন ঠেকাল সংশোধনে থাকা বেক্সিমকো গ্রুপ

পতন ঠেকাল সংশোধনে থাকা বেক্সিমকো গ্রুপ

ব্রোকারেজ হাউসে পুঁজিবাজারের লেনদেন দেখছেন বিনিয়োগকারীরা। ছবি: নিউজবাংলা

১৮৭ টাকা থেকে পড়তে পড়তে ১৪৪ টানায় নেমে আসা বেক্সিমকো লিমিটেড ঘুরে দাঁড়ায় বুধবার। সেদিন শেয়ারদর বাড়ে ৭ টাকা ৬০ পয়সা। পরদিন বাড়ল আরও ৮ টাকা ৭০ পয়সা। অন্যদিকে বেক্সিমকো ফার্মার শেয়ারদর বুধবার বাড়ে ৩ টাকা ৪০ পয়সা, পরের দিন তা বাড়ল আরও ৪ টাকা ৭০ পয়সা।

দুই মাসের বেশি সময় ধরে সংশোধনে থাকা বেক্সিমকো লিমিটেডে ভর করে টানা ‍দুই দিন সূচক বাড়ল পুঁজিবাজারে। ওয়ালটনের দরপতনের ধাক্কা সামলানোর ক্ষেত্রে এ কোম্পানিটির পাশাপাশি বেক্সিমকো ফার্মার ভূমিকাও ছিল।

সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সূচক বাড়ল ১৬ দশমিক ২৬ পয়েন্ট। এর মধ্যে বেক্সিমকো গ্রুপের দুই কোম্পানির মধ্যে বেক্সিমকো লিমিটেড বাড়িয়েছে ১২ দশমিক ২৩ পয়েন্ট আর বেক্সিমকো ফার্মা বাড়িয়েছে ৩ দশমিক ৩৬ পয়েন্ট।

এ নিয়ে চলতি সপ্তাহের পাঁচ দিনই সূচক অল্প অল্প করে বেড়েছে।

গত বছরের শেষ প্রান্তিকে পুঁজিবাজারে ক্রমাগত দরপতন হতে থাকলেও চলতি বছরের শুরুটা হয়েছে ঝলমলে। তিন সপ্তাহের ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে সূচক কমেছে কেবল দুই দিন, বেড়েছে বাকি ১৩ দিন।

সংশোধন কাটিয়ে সূচকে চাঙাভাব ফেরার পর যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, সেটি হলো সূচক লাফ দিচ্ছে না, বাড়ছে অল্প অল্প করে। লেনদেনও বাড়ছে ধীরে ধীরে।

২০২০-এর মাঝামাঝি থেকে ২০২১ সালের অক্টোবর পর্যন্ত পুঁজিবাজারে সূচকের যে ব্যাপক উত্থান হয়েছিল সেখানে বেক্সিমকো গ্রুপের, বিশেষ করে বেক্সিমকো লিমিটেডের উত্থান ছিল সবচেয়ে বেশি।

তবে বেক্সিমকো গ্রুপের কোম্পানিগুলোর অক্টোবর ও নভেম্বর থেকে দর হারাতে শুরু করে। গত এক বছরের সর্বোচ্চ দরের তুলনায় এই কদিনে ২২ শতাংশের বেশি দর হারায় বেক্সিমকো লিমিটেড, বেক্সিমকো ফার্মা দর হারায় প্রায় ২৫ শতাংশ, আইএফআইসি ব্যাংক প্রায় ২০ শতাংশ আর শাইনপুকুর সিরামিকস দর হারায় ৩৫ শতাংশের বেশি।

পতন ঠেকাল সংশোধনে থাকা বেক্সিমকো গ্রুপ
বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেনের চিত্র

১৮৭ টাকা থেকে পড়তে পড়তে ১৪৪ টানায় নেমে আসা বেক্সিমকো লিমিটেড ঘুরে দাঁড়ায় বুধবার। সেদিন শেয়ারদর বাড়ে ৭ টাকা ৬০ পয়সা। পরদিন বাড়ল আরও ৮ টাকা ৭০ পয়সা।

অন্যদিকে বেক্সিমকো ফার্মার শেয়ারদর বুধবার বাড়ে ৩ টাকা ৪০ পয়সা, পরের দিন তা বাড়ল আরও ৪ টাকা ৭০ পয়সা।

এই দুই দিনে গ্রুপের আরেক কোম্পানি শাইনপুকুর সিরামিকসের দরে যোগ হয়েছে ২ টাকা বা ৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ। তবে আইএফআইসি ব্যাংক এখনও ঠায় দাঁড়িয়ে একটি দরে। অন্যদিকে লেনদেন শুরুর পরেই অভিহিত মূল্যের চেয়ে নিচে নেমে যাওয়া বেক্সিমকো গ্রিন সুকুক দর হারিয়েছে সাড়ে ৯ শতাংশ।

কেবল সূচকের উত্থানে নয়, লেনদেনেও বেক্সিমকোর ভূমিকা ছিল প্রধান। এর মধ্যে বেক্সিমকো লিমিটেডে লেনদেন হয়েছে ২৪৬ কোটি ৫৪ লাখ ৮১ হাজার টাকা। এটি মোট লেনদেনের ১৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে সূচক বাড়লেও বেশির ভাগ শেয়ারের দর অবশ্য কমেছে। সব মিলিয়ে বেড়েছে ১৬২টি কোম্পানির দর, কমেছে ১৭৪টির। অপরিবর্তিত ছিল বাকি ৪২টির দর।

লেনদেনও খানিকটা কমেছে। দিন শেষে হাতবদল হয়েছে ১ হাজার ৬০১ কোটি ২০ লাখ ২৬ হাজার টাকা। আগের দিন হাতবদল হয়েছিল ১ হাজার ৭৩৫ কোটি ৫৭ লাখ ৪১ হাজার টাকা।

এদিন বিবিধি খাতের বেক্সিমকো লিমিটেড ছাড়াও লেনদেনে ৫০ শতাংশের বেশি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাতের ৫৮ শতাংশ।

প্রধান খাতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে সাধারণ বিমা খাতের শেয়ারদর। এই খাতের ৬৬ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। ব্যাংক খাতের ৩৪ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে। একই হারে বেড়েছেও। আর্থিক খাতের শেয়ারদর বেড়েছে ৩১ শতাংশ।

খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের ৬০ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে, কমেছে ৩৫ শতাংশের।

সূচক বেড়েছে যেসব কোম্পানির অবদান বেশি

বেক্সিমকো লিমিটেড ও বেক্সিমকো ফার্মা ছাড়া তৃতীয় কোম্পানি হিসেবে সূচকে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে লিন্ডে বিডি। এই কোম্পানিটি যোগ করেছে ২ দশমিক ৪১ পয়েন্ট।

পতন ঠেকাল সংশোধনে থাকা বেক্সিমকো গ্রুপ
সূচক সবচেয়ে বেশি বাড়িয়েছে এই ১০টি কোম্পানি

সূচক বৃদ্ধিতে ইতিবাচক অবদান রেখেছে স্কয়ার ফার্মা, কেয়া কসমেটিকস, এসিআইও। সূচকে এই তিন কোম্পানির অবদান ছিল ৪ দশমিক ৪৫ পয়েন্ট।

এর বাইরে ট্রাস্ট ব্যাংক শূন্য দশমিক ৮২ পয়েন্ট, উত্তরা ব্যাংক শূন্য দশমিক ৬৬ পয়েন্ট, বিকনফার্মা শূন্য দশমিক ৬১ পয়েন্ট ও সোনালী পেপার শূন্য দশমিক ৫৯ পয়েন্ট সূচক বাড়িয়েছে।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচকে যোগ করেছে ২৪ দশমিক ৮১ পয়েন্ট।

অন্যদিকে সূচক সবচেয়ে বেশি কমিয়েছে ওয়ালটন। কোম্পানিটির অর্ধবার্ষিক আয় কমে যাওয়ার পর শেয়ারদর ৩ দশমিক ৭ শতাংশ কমায় সূচক কমে গেছে ২০ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা গ্রামীণফোন ৩ দশমিক ৬৮ পয়েন্ট এবং লাফার্জ হোলসিম সিমেন্ট সূচক কমিয়েছে ৩ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট।

তিতাস গ্যাস, ফরচুন সুজ, বাংলাদেশ সাবমেরিন কেব্‌ল, আইসিবি, ব্র্যাক ব্যাংক, জিপিএইচ ইস্পাত, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকও সূচক কমিয়েছে।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানিই সূচক কমিয়েছে ৩৬ দশমিক ৪৫ পয়েন্ট।

পতন ঠেকাল সংশোধনে থাকা বেক্সিমকো গ্রুপ
এই ১০ টি কোম্পানির সূচক নিচের দিকে টেনে নামিয়েছে

দর বৃদ্ধির শীর্ষে দুর্বল কোম্পানি

যে ১০টি কোম্পানির দর সবচেয়ে বেশি বেড়েছে, তার মধ্যে আটটি ‘বি‘ ক্যাটাগরির কোম্পানি, একটি নতুন তালিকাভুক্ত, একটি জেড ক্যাটাগরির।

যে কোম্পানি লভ্যাংশ দেয় না, সেগুলো জেড ক্যাটাগরিতে থাকে, যে সব কোম্পানি ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেয়, সেগুলো ‘বি’ ক্যাটাগরির কোম্পানি আর যেসব কোম্পানি ১০ শতাংশ বা তার চেয়ে বেশি লভ্যাংশ দেয়, সেটি ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানি।

লেনদেনে সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে কেয়া কসমেটিকসের ১০ শতাংশ। ৭ টাকার শেয়ার বেড়ে হয়েছে ৭ টাকা ৭০ পয়সা। ২০২০ সালের জন্য এক শতাংশ লভ্যাংশ দেয়া এই কোম্পানিটি ২০২১ সালের জন্য এখনও লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি।

পতন ঠেকাল সংশোধনে থাকা বেক্সিমকো গ্রুপ
বৃহস্পতিবার মোট ৫টি খাতে একশ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে

২০২১ সালে শেয়ার প্রতি ৫০ পয়সা লভ্যাংশ দেয়া দেশবন্ধু পলিমারের দর বেড়েছে ৯.৯১ শতাংশ, শেয়ার প্রতি সাড়ে ২৭ পয়সা লভ্যাংশ দেয়া গোল্ডেনসনের দর ৯.৯০ শতাংশ, শেয়ার প্রতি ৫০ পয়সা লভ্যাংশ দেয়া গোল্ডেন হ্যাভি ক্যামিকেলের দর ৯.৮০ শতাংশ আর নতুন তালিকাভুক্ত ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্সের দর বেড়েছে ৯.৫৮ শতাংশ।

সাত শতাংশের বেশি শেয়ার দর বেড়েছে দুটি কোম্পানির। এর মধ্যে শেয়ার প্রতি ৩০ পয়সা লভ্যাংশ দেয়া গোল্ডেন হারভেস্টের ৭.৮২ শতাংশ আর শেয়ার প্রতি এক টাকা লভ্যাংশ ঘোষণা করা পেপার প্রসেসিং অ্যান্ড প্রিন্টিংয়ের ৭.১৯ শতাংশ শেয়ার দর বেড়েছে।

২০২১ সালে শেয়ার প্রতি ৫০ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষণা করা বেঙ্গল উইন্ডসোরের দর ৬.১১ শতাংশ, লোকসানের কারণে লভ্যাংশ না দেয়ার ঘোষণা দেয়া ইয়াকিন পলিমারের দর ৫.৯২ শতাংশ এবং শেয়ার প্রতি এক টাকা লভ্যাংশ ঘোষণা করা মনোস্পোল পেপারের দর বেড়েছে ৫.৬৮ শতাংশ।

দর পতনে ১০ কোম্পানি

লভ্যাংশ সংক্রান্ত ঘোষণার কারণে বৃহস্পতিবার তাল্লু স্পিনিংয়ের শেয়ার দরে কোনো সীমা ছিল না। ফলে স্বাভাবিক দরের চেয়ে বেশি বৃদ্ধি ও কমার সুযোগ ছিল কোম্পানিটির।

গত তিন বছরের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা না করার পর কোম্পানিটির শেয়ার দর এক দিনেই কমেছে ২৫.১৭ শতাংশ। আগের দিন দর ছিল ১৪ টাকা ৩০ পয়সা, সেটি নেমে এসেছে ১০ টাকা ৭০ পয়সায়।

পতন ঠেকাল সংশোধনে থাকা বেক্সিমকো গ্রুপ
বৃহস্পতিবার বেশিরভাগ খাতেই লেনদেন কমেছে পুঁজিবাজারে

দর পতনের দ্বিতীয় তালিকায় ছিল ফুওয়াং ফুড, যার দর কমেছে ৬.৪৩ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা ফারইস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স দর হারিয়েছে ৬.৩২ শতাংশ।

এছাড়া দেশ গার্মেন্টসের দর ৬.০৬ শতাংশ, প্রাইম লাইফের দর ৫.৬২ শতাংশ, ওরিয়ন ইনফিউশনের দর ৫.০৪ শতাংশ, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টসের দর ৪.৯৯ শতাংশ, সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজের দর ৪.৫১ শতাংশ ও ফরচুন সুজের দর ৪.৩৭ শতাংশ কমেছে।

দর পতনের শীর্ষ দশে থাকা অপর কোম্পানিটি হলো অগ্নি সিস্টেমস। ৪.০৩ শতাংশ দর হারিয়ে ২৪ টাকা ৮০ পয়সা দরের শেয়ার নেমেছে ২৩ টাকা ৮০ পয়সায়।

লেনদেনে সেরা ১০

এদিন সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকো লিমিটেডের ২৪৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। শেয়ার হাতবদল হয়েছে ১ কোটি ৫৭ লাখ ২৪ হাজার ২৯৩টি।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের লেনদেন হয়েছে ৭১ কোটি ৪০ লাখ টাকার।

লেনদেনের তৃতীয় স্থানে ছিল ফরচুন সুজ। কোম্পানিটির মোট ৪১ কোটি ৩১ লাখ টাকার ৩২ লাখ ৯৫ হাজার ৭১৬টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

চতুর্থ অবস্থানে থাকা সাইফ পাওয়ারটেকের লেনদেন হয়েছে ৪০ কোটি ৮ লাখ টাকা। এসিআই শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩৪ কোটি ৮১ লাখ টাকার।

ষষ্ঠ স্থানে থাকা জিপিএইচ ইস্পাতে লেনদেন হয়েছে ৩৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। শেয়ার হাতবদল হয়েছে ৫৬ লাখ ৭৫ হাজার ২১৩টি।

এছাড়া পাওয়ারগ্রিডে ২৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, একটিভ ফাইনে ২৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা, লিনডে বিডির ২৫ কোটি ১০ লাখ টাকা, এশিয়া ইন্স্যুরেন্সে ২৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা, প্যারামাউন্ড টেক্সটাইলে ২৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা, লাফার্জ হোলসিম সিমেন্টের লেনদেন হয়েছে ২১ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন:
চাপ কাটিয়ে পুঁজিবাজারে উত্থানে ‘নতুন আশা’
এবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বিএসইসিকে নিয়ে বসছে মন্ত্রণালয়
বিএসইসির সঙ্গে বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি: বাংলাদেশ ব্যাংক
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে বিএসইসি চেয়ারম্যান বললেন ‘সুপার’
‘ফলপ্রসূ’ বৈঠকের পর পুঁজিবাজারে লাফ

শেয়ার করুন

সাকিবের ব্রোকারেজ হাউসের যাত্রা শুরু যেকোনো দিন

সাকিবের ব্রোকারেজ হাউসের যাত্রা শুরু যেকোনো দিন

সাকিব আল হাসানের মালিকানাধীন মোনার্ক হোল্ডিং আগামী সপ্তাহ থেকে বিও হিসাব খোলার ঘোষণা দিয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

গত বছরের ২১ মে পুঁজিবাজারে ব্রোকারেজ হাউসের (অনুমোদিত শেয়ার কেনাবেচা হাউস) ব্যবসা করার অনুমতি পায় ক্রিকেটের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার ও পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির শুভেচ্ছা দূত সাকিব আল হাসান। সাকিবের মালিকানাধীন ব্রোকারেজ হাউসের নাম মোনার্ক হোল্ডিং। মতিঝিলের সিটি সেন্টারে নেয়া হয়েছে করপোরেট অফিস।

ক্রিকেট বিশ্বের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের মালিকানাধীন মোনার্ক হোল্ডিং আগামী সপ্তাহ থেকে বিও হিসাব খোলার ঘোষণা দিয়েছে। এরপরই লেনদেন শুরু হবে।

এমনটি নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন মোনার্ক হোল্ডিংয়ের আইটি প্রধান রাইসুল হাসান।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি যে ৫২টি নতুন ব্রোকারেজ হাউসের অনুমোদন দিয়েছে তার মধ্যে এটি প্রথম, যেটি লেনদেন শুরুর দ্বারপ্রান্তে।

রাইসুল হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আগামী সপ্তাহের সোমবার থেকে আমাদের এখানে বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাব খোলা শুরু হবে। বিও হিসাব খোলা শুরু হওয়ার দ্রুততম সময়ে লেনদেনে যাওয়া যাবে।’

এরই মধ্যে ডিএসই থেকে মোনার্ক হোল্ডিংকে লেনদেন শুরুর অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় লিংকও ডিএসই থেকে সরবরাহ করা হয়েছে।

গত বছরের ২১ মে পুঁজিবাজারে ব্রোকারেজ হাউসের (অনুমোদিত শেয়ার কেনাবেচা হাউস) ব্যবসা করার অনুমতি পায় ক্রিকেটের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার ও পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির শুভেচ্ছা দূত সাকিব আল হাসান।

সাকিবের মালিকানাধীন ব্রোকারেজ হাউসের নাম মোনার্ক হোল্ডিং। মতিঝিলের সিটি সেন্টারে নেয়া হয়েছে করপোরেট অফিস।

নতুন অনুমোদন পাওয়া ব্রোকারেজ হাউসগুলোর বিষয়ে ডিএসই আইসিটি বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুহুল আমিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নতুন যে কয়টি ট্রেক বা ব্রোকারেজ হাউসের অনুমোদন দেয়া হয়েছে, তাদের বেশির ভাগই এখনও লেনদেন পরিচালনা করার অবস্থায় যায়নি।

‘প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামো প্রস্তুত হওয়ার পর ডিএসইকে অবহিত করতে হবে। এরই মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তাদের লেনদেন উপযোগী করেছে বলে জানিয়েছে। ডিএসইর পক্ষ থেকে সেগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘পরিদর্শনের পর যদি মনে হয়, ব্রোকারেজ হাউস পুঁজিবাজারে লেনদেন পরিচালনা করতে সক্ষম, তখন তাকে প্রয়োজনীয় লিংক ও পাসওয়ার্ড দেয়া হবে।’

মোনার্ক হোল্ডিংয়ের পরিশোধিত মূলধন ১০ কোটি টাকা। বিও হিসাব খোলার মাধ্যমে পুঁজিবাজারে শেয়ার ক্রয়-বিক্রির ব্রোকারেজ হাউসের ব্যবসায় সরাসরি সম্পৃক্ত হবেন সাকিব আল হাসান।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে নতুন ৫২টি ব্রোকারেজ হাউস বা ট্রেককে (ট্রেডিং রাইট এনটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট) লাইসেন্স দেয় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।

নিয়ম অনুযায়ী ট্রেক লাইসেন্স পাওয়ার এক বছরের মধ্যে চূড়ান্ত লেনদেনে আসার কথা।

অনুমোদন পাওয়া ব্রোকারেজ হাউসগুলো যাতে দ্রুত লেনদেনে আসে, সে জন্য ডিএসইকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে গত অক্টোবরে চিঠি দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

যেখানে নতুন ব্রোকারেজ হাউসগুলোতে অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ওএমএস) স্থাপনে প্রযুক্তিগত সহায়তাসহ সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক-ডিলার/স্টক-ব্রোকার/অনুমানকৃত) নিয়মমালা, ২০০০ অনুযায়ী নিবন্ধন সার্টিফিকেট গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে বলা হয়।

মোনার্ক হোল্ডিংয়ের রাইসুল হাসান বলেন, ‘এর সব কিছুই নিশ্চিত করা হয়েছে।’

অনুমোদন পাওয়া ব্রোকারেজ হাউসগুলোর কার্যক্রম শুরু করতে দেরির প্রসঙ্গে রুহুল আমিন বলেন, ‘নতুন ৫২টি ব্রোকারেজ হাউসের মধ্যে ১০ থেকে ১২টি প্রতিষ্ঠান স্টক-ডিলার ও স্টক-ব্রোকারের লাইসেন্সের জন্য অবেদন করেছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজস্ব অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যাক অফিস সিস্টেমও চালু করতে হবে। বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান এখনও এগুলো শেষ করতে পারেনি।’

নতুন ব্রোকারেজ হাউসগুলোর আইটি সিস্টেম ডেভেলপ বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন রুহুল আমিন।

নতুন করে ট্রেক বা ব্রোকারেজ হাউসের সার্টিফিকেট পেতে ৬৬টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করে। এখান থেকে ডিএসই ১৫টি প্রতিষ্ঠানের আবেদন বাতিল করে ৫১টি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দিতে বিএসইসির কাছে পাঠায়। পরে আরও ৪টি প্রতিষ্ঠান যুক্ত করে ১৮ মে ৩০টি, ২১ জুন ২৬টি ও ২৬ আগস্ট ৯টি ব্রোকারেজ হাউসকে অনুমোদন দেয়া হয়।

গত ৪ সেপ্টেম্বর ডিএসইর নিকুঞ্জে আনুষ্ঠানিক নতুন স্টেকহোল্ডারদের লাইসেন্স বিতরণ করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম।

আরও পড়ুন:
চাপ কাটিয়ে পুঁজিবাজারে উত্থানে ‘নতুন আশা’
এবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বিএসইসিকে নিয়ে বসছে মন্ত্রণালয়
বিএসইসির সঙ্গে বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি: বাংলাদেশ ব্যাংক
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে বিএসইসি চেয়ারম্যান বললেন ‘সুপার’
‘ফলপ্রসূ’ বৈঠকের পর পুঁজিবাজারে লাফ

শেয়ার করুন

সূচকের উত্থান অব্যাহত, আগ্রহের নতুন ঠিকানা বস্ত্র

সূচকের উত্থান অব্যাহত, আগ্রহের নতুন ঠিকানা বস্ত্র

নতুন বছরে পুঁজিবাজারে নতুন আশা দেখছে বিনিয়োগকারীরা। ছবি: নিউজবাংলা

এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত সূচক বাড়ল ৩৩২ পয়েন্ট। গত বছরের শেষ কর্মদিবসে লেনদেন ছিল ৯২১ কোটি ৮১ লাখ টাকা। সেখান থেকে বেড়ে বুধবার দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৭৩৫ কোটি ৫৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

নতুন বছরে পুঁজিবাজারে চাঙাভাব অব্যাহত আছে। চলতি সপ্তাহে টানা চার দিন আর বছরের ১৪ কর্মদিবসের ১২ দিনই বাড়ল সূচক। ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে লেনদেনও। একেক দিন একেক খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রবণতার মধ্যে এবার আগ্রহ দেখা গেল বস্ত্র খাতে।

বুধবার ৩৩ পয়েন্ট বেড়ে সূচকের যে অবস্থান, সেটি গত ১৮ নভেম্বর অর্থাৎ দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। সেদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সার্বিক সূচক ছিল ৭ হাজার ৯১। ঠিক দুই মাস এক দিন পর সূচক দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৮৯ পয়েন্টে।

এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত সূচক বাড়ল ৩৩২ পয়েন্ট। গত বছরের শেষ কর্মদিবসে লেনদেন ছিল ৯২১ কোটি ৮১ লাখ টাকা। সেখান থেকে বেড়ে বুধবার দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৭৩৫ কোটি ৫৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

২০২১ সালের শেষ দিকে পুঁজিবাজারে লেনদেনের খরা দেখা গেলেও চলতি বছরের দ্বিতীয় কর্মদিবসে লেনদেন এক হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে দেয়ার পর তা এখন দুই হাজার কোটি টাকার দিকে ছুটছে। মাঝে একদিন দুই হাজার কোটি টাকার আশেপাশে লেনদেন হয়েওছিল। তবে পরে সেখান থেকে কমে।

চলতি বছর একেকদিন বিমা খাত, পরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, প্রকৌশল, খাদ্য, ওষুধ ও রসায়নে আগ্রহ দেখা গেছে। প্রতি দিনই বিবিধ খাত হয় লেনদেনের শীর্ষে বা দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল।

সূচকের উত্থান অব্যাহত, আগ্রহের নতুন ঠিকানা বস্ত্র
৩৩ পয়েন্ট উত্থানে সূচকের অবস্থান দাঁড়িয়েছে দুই মাসের সর্বোচ্চ

গত কয়েক দিন ধরে বস্ত্র খাতে আগ্রহ ধীরে ধীরে বাড়ছিল। আজ তা বেড়ে হলো দুইশ কোটি টাকার পাশেপাশে। লেনদেনের পাশাপাশি বেড়েছে বেশিরভাগ কোম্পানির লেনদেনও।

লেনদেনে বস্ত্র খাতের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহে ৬৮ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। কমেছে ২২ শতাংশ কোম্পানির।

সবচেয়ে বেশি কোম্পানির দর অবশ্য বেড়েছে প্রকৌশল এবং ওষুধ ও রসায়ন খাতে। এর মধ্যে প্রকৌশলে ৮৪ শতাংশ এবং ওষুধ খাতের ৮১ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারে অর্থ যোগ হয়েছে।

লেনদেন শেষে ডিএসইতে মোট ১ হাজার ৭৩৫ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৭১২ কোটি টাকা।

দিনের সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া খাত অবশ্য ছিল বিবিধ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ওষুধ ও রসায়নের সঙ্গে বস্ত্রের অবস্থান ছিল কাছাকাছি।

বিবিধ খাতে লেনদেন হয়েছে সবচেয়ে বেশি ২৭৮ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ওষুধ ও রসায়নে হাতবদল হয়েছে ১৯৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। তৃতীয় অবস্থানে থাকা বস্ত্রে হাতবদল হয়েছে ১৯৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।

চামড়া, প্রকৌশল, বিমা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতেও লেনদেন ছাড়িয়েছে একশ কোটি টাকার বেশি।

সূচক বাড়ালো যেসব কোম্পানি

সূচক বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকায় ছিল বেক্সিমকো গ্রুপ। গত দুই থেকে তিন মাস ধরে এই গ্রুপের কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর ক্রমেই কমছিল। এর মধ্যে এক দিনে বাড়ল চারটি কোম্পানির দর। তবে কোম্পানিটির ইসলামি সুকুক বন্ড অভিহিত মূল্যের আরও একটু নিচে নেমে গেছে।

সূচকের উত্থান অব্যাহত, আগ্রহের নতুন ঠিকানা বস্ত্র
সূচক বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকায় ছিল বেক্সিমকো গ্রুপ

সূচক যত পয়েন্ট বেড়েছে, তার অর্ধেকের বেশি বাড়িয়েছে বেক্সিমকো লিমিটেড একাই। টানা দরপতনের মধ্যে থাকা এই কোম্পানিটির শেয়ারদর এক দিনেই বেড়েছে ৫.২৭ পয়েন্ট। এতে সূচক যোগ হয়েছে ১৮.৯ পয়েন্ট।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা এসিআই লিমিটেডের শেয়ারদর ৭.৫৭ শতাংশ বাড়ার কারণে সূচকে যোগ হয়েছে ৪.৫৯ পয়েন্ট।

বেক্সিমকো গ্রুপেরই আরেক কোম্পানি বেক্সিমকো ফার্মার দর ১.৭৬ শতাংশ বাড়ার কারণে সূচকে যোগ হয়েছে ৪.৩ পয়েন্ট।

তিতাস গ্যাস, ব্র্যাক ব্যাংক, গ্রামীণ ফোন, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, ইউনিলিভার, স্কয়ার ফার্মা ও লিনডে বিডিও সূচকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পয়েন্ট যোগ করেছে।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানিই সূচকে যোগ করেছে ৪৬ পয়েন্ট।

বিপরীতে সবচেয়ে বেশি ৭.৪৩ পয়েন্ট সূচক কমিয়েছে রবি। কোম্পানিটির শেয়ারদর কমেছে ১.২৬ পয়েন্ট।

ইউনাইটেড পাওয়ার, লাফার্জ হোলসিম সিমেন্ট, ওয়ালটন, বিএসআরএম স্টিল, ট্রাস্ট ব্যাংক, অলিম্পিক একসেসোরিজ, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্ট, জিপিএইচ ইস্পাত ও ডাচ বাংলা ব্যাংকও সূচক কিছুটা কমিয়েছে।

সূচকের উত্থান অব্যাহত, আগ্রহের নতুন ঠিকানা বস্ত্র
সূচক নিচে টেনে নামিয়েছে এই ১০টি কোম্পানি

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পনি সূচক কমিয়েছে ২২.০১ পয়েন্ট।

দর বৃদ্ধির ১০ কোম্পানি

সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধি পাওয়া ১০টি কোম্পানির ৫টিই বস্ত্র খাতের।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শেয়ার দর বেড়েছে গ্লোবাল হ্যাভি কেমিক্যারের ৯.৮৮ শতাংশ। আগের দিন শেয়ারদর ছিল ৩৩ টাকা ৪০ পয়সা, সেটি বেড়ে হয়েছে ৩৬ টাকা ৭০ পয়সা।

আরও দুটি কোম্পানির শেয়ার দর নয় শতাংশের বেশি বেড়েছে। এর একটি নতুন তালিকাভুক্ত ইউনিয়ন ইন্স্যরেন্স, যার দর বেড়েছে ৯.৭৭ শতাংশ। অপরটি সেন্ট্রাল ফার্মা, যার দর বেড়েছে ৯.৩৫ শতাংশ।

চতুর্থ অবস্থানে থাকা দেশ গার্মেন্টসের দর ১৮৮ টাকা ১০ পয়সা থেকে ৮.৭১ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ২০৪ টাকা ৫০ পয়সা।

সাত শতাংশের বেশি শেয়ার দর বেড়েছে পাঁচটি কোম্পানির। এর মধ্যে বস্ত্র খাতের শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের দর ৭.৭৯ শতাংশ, সোনারগাঁও টেক্সটাইলের দর ৭.৩৫ শতাংশ, মুন্নু ফেব্রিক্সের দর ৭.৫৬ শতাংশ ও তাল্লু স্পিনিংয়ের দর ৭.৫১ শতাংশ দর বেড়েছে। এছাড়া ওষুধ ও রসায়ন খাতের এসিআইয়ের দর ৭.৫৭ শতাংশ।

সূচকের উত্থান অব্যাহত, আগ্রহের নতুন ঠিকানা বস্ত্র
পুঁজিবাজারে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে এই খাতগুলো

দর পতনের ১০ কোম্পানি

দর পতনের শীর্ষে ছিল রেনউইক যজ্ঞেশ্বর, যার দর কমেছে ৫.১৯ শতাংশ। চার শতাংশের বেশি দর কমেছে তিনটি কোম্পানির। এর মধ্যে শমরিতা হসপিটালের ৪.৬১ শতাংশ, প্রাইম লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৪.৩৭ শতাংশ ও পদ্মা লাইফের দর ৪.২৩ শতাংশ কমেছে।

এছাড়া আইসিবি এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দর ৩.৭৫ শতাংশ, বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের দর ৩.৬৪ শতাংশ, আইসিবি এএমসিএল সেকেন্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দর ৩.২৯ শতাংশ, জিলবাংলা সুগার মিলের ৩.১১ শতাংশ শেয়ার দর কমেছে।

নবম অবস্থানে থাকা এম আই সিমেন্ট ২.৯১ শতাংশ আর দশম অবস্থানে থাকা ফাস ফাইনান্স দর হারিয়েছে ২.৮৫ শতাংশ।

লেনদেনে সেরা ১০

সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকো লিমিটেডের ১৭৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। শেয়ার হাতবদল হয়েছে ১ কোটি ১৮ লাখ ৫৬ হাজার ৩৬টি।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ফরচুন সুজের লেনদেন হয়েছে ১৭১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। শেয়ার হাতবদল হয়েছে ১ কোটি ২৯ লাখ ১৮ হাজার ২৯৬টি।

সূচকের উত্থান অব্যাহত, আগ্রহের নতুন ঠিকানা বস্ত্র
বেশিরভাগ খাতেই লেনদেন বেড়েছে বুধবার

তৃতীয় অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনে লেনদেন হয়েছে ৮৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। শেয়ার হাতবদল হয়েছে ৬৩ লাখ ১৭ হাজার ৪৪০টি।

সাইফ পাওয়ারটেকে ৬৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, এসিআইয়ে ৪১ কোটি ৪১ লাখ টাকা, জিপিএইচ ইস্পাতে ৩৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকা, ওরিয়ন ফার্মায় ৩২ কোটি ২৯ লাখ টাকা, ফারইস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্সে ৩০ কোটি ৮ লাখ টাকা, প্যারামাউন্ড টেক্সটাইলে ২৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা এবং পাওয়ারগ্রিডের ২৯ কোটি ৫২ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে।

আরও পড়ুন:
চাপ কাটিয়ে পুঁজিবাজারে উত্থানে ‘নতুন আশা’
এবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বিএসইসিকে নিয়ে বসছে মন্ত্রণালয়
বিএসইসির সঙ্গে বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি: বাংলাদেশ ব্যাংক
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে বিএসইসি চেয়ারম্যান বললেন ‘সুপার’
‘ফলপ্রসূ’ বৈঠকের পর পুঁজিবাজারে লাফ

শেয়ার করুন

চাঙা পুঁজিবাজারেও কদর কমছে বেক্সিমকো গ্রুপের

চাঙা পুঁজিবাজারেও কদর কমছে বেক্সিমকো গ্রুপের

বেক্সিমকো গ্রুপের কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর টানা কমছে।

২০২০ সালের মে থেকে পুঁজিবাজারে যে উত্থান শুরু হয়, এই সময়ে বেক্সিমকো গ্রুপের কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর ক্রমাগত বাড়তে থাকে। তবে গত অক্টোবর ও নভেম্বর থেকে কোম্পানিগুলো দর হারাতে থাকায় বিনিয়োগকারীরা বড় অঙ্কের লোকসানে আছেন।

২০২০ সালের মাঝামাঝি থেকে ২০২১ সালের অক্টোবর পর্যন্ত পুঁজিবাজারে সূচকের ব্যাপক উত্থানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধি পাওয়া বেক্সিমকো লিমিটেডের দর এখন ক্রমাগত কমছে।

দর কমছে একই গ্রুপের আরও তিন কোম্পানি বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, আইএফআইসি ব্যাংক ও শাইনপুকুর সিরামিকসের শেয়ারেরও। সুকুক বন্ড তালিকাভুক্তির পরদিনই নেমে গেছে অভিহিত মূল্যের নিচে।

এর মধ্যে বেক্সিমকো লিমিটেড তার সর্বোচ্চ দরের তুলনায় ২২ শতাংশের বেশি, বেক্সিমকো ফার্মা প্রায় ২৫ শতাংশ, আইএফআইসি ব্যাংক প্রায় ২০ শতাংশ এবং শাইনপুকুর ৩৫ শতাংশের বেশি দর হারিয়েছে। তালিকাভুক্ত হয়েই সুকুক বন্ড দর হারিয়েছে ১৮ শতাংশের বেশি।

২০২০ সালের ১৯ জুলাই বেক্সিমকোর একেকটি শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৩ টাকায়। গত ১৪ নভেম্বর তা সর্বোচ্চ ১৮৭ টাকা ৯০ পয়সায় লেনদেন হয়। কিন্তু সেদিনই দর হারানো শুরু।

নতুন বছরে নতুন আমেজে পুঁজিবাজার। প্রতিদিনই অল্প অল্প করে বাড়ছে সূচক আর লেনদেন। নতুন বছরের প্রথম লেনদেন ৩ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সূচক বেড়েছে ২০২ পয়েন্ট। এ সময়ে স্বল্প মূলধনি কোম্পানির উত্থানের পাশাপাশি বিমা, প্রকৌশল, বস্ত্র খাতকে এগিয়ে আসতে দেখা গেছে। এমন সময়েও বেক্সিমকো গ্রুপের পিছিয়ে পড়া পুঁজিবাজারে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

কোম্পানির শেয়ারদর অস্বাভাবিক হারে বাড়লে স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ সাধারণত কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। তবে কমার ক্ষেত্রে এমন নোটিশ দেয়ার ঘটনা সাধারণত ঘটে না। আর বেক্সিমকো গ্রুপের শেয়ারদর যখন তরতর করে বাড়ছিল, সে সময় কারণ দর্শানোর নোটিশও দেয়া হয়নি। অবশ্য এটাও ঠিক কোম্পানির মূল্য সংবেদনশীল সব তথ্য ছিল প্রকাশিত।

২০২০ সালের মে থেকে পুঁজিবাজারে যে উত্থান শুরু হয়, তাতে বেক্সিমকো গ্রুপের শেয়ারগুলোতে ব্যাপক চাঙাভাব দেখা দেয়। দাম আরও বাড়বে- এমন খবরে বিনিয়োগকারীরাও বাড়তি দাম দিয়েই শেয়ার কিনছিলেন। গত কয়েক মাস ক্রমাগতভাবে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগও বাড়ছিল কয়েকটি কোম্পানিতে।

বেক্সিমকো লিমিটেড করোনার সময় যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা মাস্ক, পিপিইর মতো সরঞ্জাম সরবরাহের কাজ পেয়েছে। এ জন্য তারা পিপিই পার্ক স্থাপন করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এই পার্ক থেকে বছরে পাঁচ হাজার কোটি টাকার পণ্য নেবে।

আবার কোম্পানিটি দুটি সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র করছে। আগামী বছরের শেষ দিকে কেন্দ্র দুটি উৎপাদনে আসবে। এই কেন্দ্রে অর্থায়নের জন্য তিন হাজার কোটি টাকার সুকুক বন্ড ছাড়া হয়েছে। এরই মধ্যে সব টাকা তোলা হয়েছে।

বেক্সিমকো ফার্মার দর বৃদ্ধিতে দুটি মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছিল। ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে করোনার ৩ কোটি ৪০ লাখ টিকা আনতে সরকার যে চুক্তি করে, তাতে বেক্সিমকো ফার্মাকে করা হয় লোকাল এজেন্ট। প্রতি টিকার জন্য তারা এক ডলার করে পাবে সরকারের কাছ থেকে। পাশাপাশি বহুজাতিক কোম্পানি সানোফি এভেনটিসের ৩৫ শতাংশ শেয়ার কোম্পানিটি কিনে নিয়েছে।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের সাবেক প্রধান গবেষণা কর্মকর্তা দেবব্রুত কুমার সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, বেক্সিমকো গ্রুপ পুঁজিবাজারে নানা কারণে আলোচিত। গত দেড় বছরে শেয়ারদর অনেক বেড়েছে। এখন মূল্য সমন্বয় হওয়া উচিত।

আইএফআইসি ব্যাংকের শেয়ারদর বৃদ্ধিতেও কাজ করে একটি সংবাদ। শ্রীলঙ্কান একটি ব্যাংকে এই ব্যাংকটির শেয়ার রয়েছে। সেই শেয়ার তারা বিক্রি করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই শেয়ার বিক্রি হলে বিপুল পরিমাণ মুনাফার আশা করা হচ্ছে।

তবে শাইনপুকুর সিরামিকসের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা আকৃষ্ট হবে- এমন প্রকাশিত কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছিল না।

২০২০ সালের মে থেকে পুঁজিবাজারে যে উত্থান শুরু হয়, তাতে বেক্সিমকো গ্রুপের শেয়ারগুলোতে ব্যাপক চাঙাভাব দেখা দেয়। দাম আরও বাড়বে- এমন খবরে বিনিয়োগকারীরাও বাড়তি দাম দিয়েই শেয়ার কিনছিলেন। গত কয়েক মাস ক্রমাগতভাবে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগও বাড়ছিল কয়েকটি কোম্পানিতে।

গত ৫ অক্টোবর বেক্সিমকো ফার্মার শেয়ারদর বেড়ে হয় ২৫৫ টাকা ৪০ পয়সা। সেদিন থেকেই দরপতন শুরু। বর্তমান দর ১৯২ টাকা ৭০ পয়সা। এই কয় দিনে শেয়ারদর কমেছে ৬২ টাকা ৭০ পয়সা বা ২৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

তবে বেক্সিমকো লিমিটেড নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে, বেক্সিমকো ফার্মা ও শাইনপুকুর সিরামিকস অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে এবং আইএফআইসি ব্যাংক অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে দর হারাতে শুরু করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের সাবেক প্রধান গবেষণা কর্মকর্তা দেবব্রুত কুমার সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বেক্সিমকো গ্রুপ পুঁজিবাজারে নানা কারণে আলোচিত। গত দেড় বছরে শেয়ারদর অনেক বেড়েছে। এখন মূল্য সমন্বয় হওয়া উচিত।’

তিনি বলেন, ‘বেক্সিমকো লিমিটেডের নতুন প্রোডাক্ট সুকুক নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কম। কারণ, এখানে আস্থার জায়গাটি এখনও তৈরি হয়নি। কিন্তু সুকুকে যেসব শর্ত দেয়া হয়েছে সবগুলোই আকর্ষণীয়। বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে অন্তত এক বছর অপেক্ষা করতে হবে বলে মনে হয়। যখন সুযোগ-সুবিধাগুলো দৃশ্যমান হবে তখন বিনিয়োগকারীরাও এটিতে আকৃষ্ট হবেন।’

বেক্সিমকো লিমিটেড

২০২০ সালের ১৯ জুলাই বেক্সিমকোর একেকটি শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৩ টাকায়। গত ১৪ নভেম্বর তা সর্বোচ্চ ১৮৭ টাকা ৯০ পয়সায় লেনদেন হয়। কিন্তু সেদিনই দর হারানো শুরু।

এরপর থেকে মোট ৪৩ কর্মদিবস লেনদেন হয়েছে পুঁজিবাজারে। এর মধ্যে ২৬ দিন দর কমেছে, ১৭ দিন বেড়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বেড়েছে খুবই কম পরিমাণে। কিন্তু দর হারিয়েছে শতকরা হিসাবে।

কোম্পানিটির শেয়ারদর বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ১৪৪ টাকা ১০ পয়সা, যা গত ১৯ অক্টোবরের পর সর্বনিম্ন।

গত ১১ নভেম্বর থেকে কোম্পানিটির একেকটি শেয়ার দর হারিয়েছে ৪০ টাকা ৯০ পয়সা বা ২২ দশমিক ১০ শতাংশ।

এই সময়ে কোম্পানিটির বেশ কয়েকটি ইতিবাচক খবর অবশ্য এসেছে। দুটি সৌর বিদ্যুৎুকেন্দ্র করতে সুকুক বন্ড ছেড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা তারা পেয়েছে। সেই বন্ডের লেনদেনও পুঁজিবাজারে শুরু হয়েছে।

এর মধ্যে কোম্পানিটির ৩ কোটি শেয়ার মালিকপক্ষ পুঁজিবাজার থেকে কিনে নিয়েছে।

বেক্সিমকো ফার্মা

ভারত থেকে করোনার টিকা আনতে মধ্যস্থতা, বহুজাতিক কোম্পানি সানোফি এভেনটিসের শেয়ার কেনার খবরে শেয়ারদর বাড়তে শুরু করে ২০২০ সালের জুন থেকে। সে সময় শেয়ারটি বিক্রি হয়েছে ৬৬ টাকা করে।

গত ৫ অক্টোবর শেয়ারদর বেড়ে হয় ২৫৫ টাকা ৪০ পয়সা। সেদিন থেকেই দরপতন শুরু। বর্তমান দর ১৯২ টাকা ৭০ পয়সা। এই কয় দিনে শেয়ারদর কমেছে ৬২ টাকা ৭০ পয়সা বা ২৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

আইএফআইসি ব্যাংক

ব্যাংকটির শেয়ারদর বাড়তে শুরু করে গত বছরের ৩ মে থেকে। সেদিন শেয়ারপ্রতি দর ছিল ৯ টাকা ৮০ পয়সা।

যেখান থেকে ছয় মাসের যাত্রায় শেয়ারদর ১১৭ শতাংশ বেড়ে গত ১৮ নভেম্বর দাঁড়ায় ২১ টাকা ৭০ পয়সা। এরপর থেকেই কমছে দাম। ১৭ টাকা ৫০ পয়সায়।

সর্বোচ্চ দর থেকে কোম্পানিটির একেকটি শেয়ার হারিয়েছে ৪ টাকা ২০ পয়সা। শতকরা হিসেবে দাম কমেছে ১৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

শাইনপুকুর সিরামিকস

২০২০ সালের ৩ আগস্ট কোম্পানিটির একেকটি শেয়ার বিক্রি হয়েছে ৮ টাকায়। কোম্পানির দৃশ্যত কোনো উন্নতি তা থাকলেও শেয়ারদর ক্রমে বাড়তে বাড়তে গত ৭ অক্টোবর দাম দাঁড়ায় ৪৫ টাকা ৪০ পয়সা।

গত ৭ অক্টোবর থেকে দর হারাচ্ছে কোম্পানিটি। বর্তমান দাম ২৯ টাকা ২০ পয়সা। সর্বোচ্চ দর থেকে দাম কমেছে ১৬ টাকা ২০ পয়সা বা ৩৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

সুকুক বন্ড দ্বিতীয় দিনেই অভিহিত মূল্যের নিচে

এই বন্ডটি নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি বেশ উচ্ছ্বসিত। ইক্যুইটিনির্ভর পুঁজিবাজারে এই বন্ডগুলো লেনদেন ব্যাপকভাবে বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছিল।

এর মধ্যে বেক্সিমকো লিমিটেডের আনা সুকুক বন্ড শুরুতেই হোঁচট খেয়েছে। ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যের বন্ডের প্রতিটি ইউনিট বছর শেষে কমপক্ষে ৯ টাকা লভ্যাংশ দেবে- এটা নিশ্চিত। তবে বেক্সিমকো লিমিটেডের লভ্যাংশ ১০ শতাংশের বেশি হলে যতটুকু বেশি হবে, তার ১০ শতাংশ সুকুকের লভ্যাংশে যোগ হবে।

সুকুক বন্ডের লেনদেন ১১০ টাকায় শুরু হলেও চার কর্মদিবসে তা সেখান থেকে কমে গেছে ১৮ টাকা ৫০ পয়সা। দ্বিতীয় দিনেই তা অভিহিত মূল্যের নিচে নেমে আসে। মঙ্গলবার তা দাঁড়িয়েছে ৯১ টাকা ৫০ পয়সা। সর্বনিম্ন নেমেছিল ৯১ টাকা।

গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরে বেক্সিমকো লিমিটেড লভ্যাংশ দিয়েছে ৩৫ শতাংশ। অর্থাৎ ১০ শতাংশের চেয়ে ২৫ শতাংশ বেশি। আগামী বছরও একই হারে লভ্যাংশ দিলে এই ২৫ শতাংশের ১০ শতাংশ হিসাবে আড়াই শতাংশ সুকুকের লভ্যাংশে যোগ হবে। তখন লভ্যাংশ হবে ১১ দশমিক ৫ শতাংশ।

এর পাশাপাশি বন্ডের ২০ শতাংশ বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নেয়া যাবে। কেউ চাইলে নগদে ফেরত পাবেন, কেউ চাইলে শেয়ার নিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে বেক্সিমকো লিমিটেডের একেকটি শেয়ার পাওয়া যাবে ২৫ শতাংশ কম টাকায়। অর্থাৎ এই শেয়ার বিক্রি করে তার প্রকৃত মুনাফা থাকবে ৩৩ শতাংশ।

সব মিলিয়ে বন্ডটি থেকে বছরে ১৬ থেকে ১৯ শতাংশ মুনাফা করা সম্ভব হতে পারে।

তবে বন্ডের লেনদেন ১১০ টাকায় শুরু হলেও চার কর্মদিবসে তা সেখান থেকে কমে গেছে ১৮ টাকা ৫০ পয়সা। দ্বিতীয় দিনেই তা অভিহিত মূল্যের নিচে নেমে আসে। মঙ্গলবার তা দাঁড়িয়েছে ৯১ টাকা ৫০ পয়সা। সর্বনিম্ন নেমেছিল ৯১ টাকা।

আরও পড়ুন:
চাপ কাটিয়ে পুঁজিবাজারে উত্থানে ‘নতুন আশা’
এবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বিএসইসিকে নিয়ে বসছে মন্ত্রণালয়
বিএসইসির সঙ্গে বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি: বাংলাদেশ ব্যাংক
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে বিএসইসি চেয়ারম্যান বললেন ‘সুপার’
‘ফলপ্রসূ’ বৈঠকের পর পুঁজিবাজারে লাফ

শেয়ার করুন

সূচকের অবস্থান ধরে রাখল বস্ত্র, প্রকৌশল, ওষুধ খাত

সূচকের অবস্থান ধরে রাখল বস্ত্র, প্রকৌশল, ওষুধ খাত

পুঁজিবাজারের লেনদেন দেখছেন বিনিয়োগকারীরা। ছবি: নিউজবাংলা

বস্ত্র খাতে ৭১ শতাংশ বা ৪২টি কোম্পানির, প্রকৌশল খাতে ৬৯ শতাংশ বা ২৯টি কোম্পানির এবং ওষুধ ও রসায়ন খাতের ৭৪ শতাংশ বা ২৩টি কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে।

সপ্তাহের তৃতীয় দিনের লেনদেনে শেয়ার কেনা বেচায় অনেকটা বিভ্রান্তিতে ছিল বিনিয়োগকারীরা। লেনদেনের শুরুতে সূচকের যে উত্থান আর লেনদেনের যে গতি ছিল সেটি শেষের দুই ঘণ্টায় ছন্দ হারিয়েছে।

মঙ্গলবার বেলা ১২ টাকা ৫২ মিনিট পর্যন্ত সূচক আগের দিনের চেয়ে ৪২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছিল ৭ হাজার ৯৭ পয়েন্টে। তবে দিন শেষে বাড়তি সূচকের প্রায় পুরোটাই কমে আসে। আগের দিনের তুলনায় কেবল ০.৪৩ পয়েন্ট যোগ হয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে।

লেনদেনে ১৮৪ কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। কমেছে ১৪৬টি কোম্পানির। দর পাল্টায়নি ৪৮টি কোম্পানির।

সূচক অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছে বস্ত্র, প্রকৌশল, ওষুধ ও রসায়ন খাতের শেয়ারের দর বৃদ্ধির কারণে।

বস্ত্র খাতে এদিন ৭১ শতাংশ বা ৪২টি কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ৯টির। বাকি কোম্পানিগুলোর দর ছিল অপরিবর্তিত।

প্রকৌশল খাতে ৬৯ শতাংশ বা ২৯টি কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। কমেছে ২৩ শতাংশ বা ১০টি কোম্পানির। বাকিগুলোর দর ছিল অপরিবর্তিত।

ওষুধ ও রসায়ন খাতে ৭৪ শতাংশ বা ২৩টি কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে।

অন্যান্য খাতের মধ্যে ব্যাংক খাতের ৫৩ শতাংশ কোম্পানির, আর্থিক খাতের ৪৫ শতাংশ আর মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের ৩৯ শতাংশের দর বেড়েছে।

সূচকের উঠানামা থাকলেও বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় হতে শুরু করার লক্ষণ স্পষ্ট লেনদেনে। দিন শেষে হাতবদল হয়েছে এক হাজার ৭১২ কোটি ৮৭ লাখ ৯৭ হাজার টাকার শেয়ার, যা আগের দিন ছিল ১ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা।

সদ্য সমাপ্ত বছরের শেষ মাসে লেনদেন তলানিতে নেমে আসার পর চলতি বছর এ নিয়ে টানা ১২ ‍কর্মদিবস হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে পুঁজিবাজারে।

দর বৃদ্ধির ১০ কোম্পানি

মঙ্গলবার দিনের সর্বোচ্চ বা নয় শতাংশের বেশি শেয়ার দর বেড়েছে সাতটি কোম্পানির। এরমধ্যে একমাত্র দেশ গার্মেন্টসের শেয়ার দর বেড়েছে ১০ শতাংশ। কোম্পানিটির ১৭১ টাকার শেয়ার পৌঁছেছে ১৮৮ টাকা ১০ পয়সায়। ৪ কোটি ৬ লাখ টাকার ২ লাখ ২৩ হাজার ২১১টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

নতুন তালিকাভুক্ত ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্সের দর বেড়েছে ৯.৯১ শতাংশ। তবে কেবল ৩৮১টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে। সদ্য তালিকাভুক্ত হওয়া বিমা খাতের এই কোম্পানিটি গত বৃহস্পতিবার থেকে লেনদেন শুরু করেছে।

প্রাইম লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দর ৯.৮৫ শতাংশ, শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের দর ৯.৬৬ শতাংশ, এসএস স্টিলের ৯.৬২ শতাংশ, ফারইস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দর ৯.৪৭ শতাংশ, শমরিতা হসপিটালের দর বেড়েছে ৯.৪১ শতাংশ।

এদিন সাত শতাংশের বেশি শেয়ার দর বেড়েছে ছয়টি কোম্পানির। এর মধ্যে অগ্নি সিস্টেমসের দর ৭.৮৬ শতাংশ, মতিন স্পিনিংয়ের শেয়ার দর ৭.৬৬ শতাংশ আর ফার্মা এইডের দর বেড়েছে ৭.৪৯ শতাংশ।

দর পতনের দশ কোম্পানি

সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে অনালিমা ইয়ার্ড ৬.০৯ শতাংশ। দ্বিতীয় প্রান্তিকেও লোকসানের হিসাব প্রকাশের পর ৪১ টাকার শেয়ার নেমেছে ৩৮ টাকা ৫০ পয়সায়। ২ কোটি ২৭ লাখ টাকার ৫ লাখ ৮৯ হাজার ৮৯২টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

এছাড়া আইটি কনসালটেন্টনের শেয়ার দর ৪.৩৮ শতাংশ, আজিজ পাইপের দর ৪.৩১ শতাংশ, তুং হাই নিটিংয়ের দর ৪.২২ শতাংশ ও এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের দর ৪.২২ শতাংশ কমেছে।

তিন শতাংশের বেশি শেয়ার দর কমেছে তিনটি কোম্পানির। এর মধ্যে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের দর ৩.৮২ শতাংশ, জনতা ইন্স্যুরেন্সের দর ৩.৪১ শতাংশ ও তিতাস গ্যাসের দর ৩.০৭ শতাংশ কমেছে।

দুই শতাংশের বেশি শেয়ার দর কমেছে ১৫টি কোম্পানির। আনোয়ার গ্যালভানাইজিংয়ের ২.৯৮ শতাংশ ও ডেসকোর ২.৯১ শতাংশ শেয়ার দর কমেছে।

লেনদেনে সেরা ১০

সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ৯৮ কোটি ৮৪ লাখ টাকার। হাতবদল হয়েছে মোট ৭০ লাখ ২০ হাজার ৩৯১টি শেয়ার।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বেক্সিমকো লিমিটেডের ৯৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। হাতবদল হয়েছে ৬৪ লাখ ৮৮ হাজার ২৪৮টি শেয়ার।

সাইফ পাওয়ারটেকে লেনদেন হয়েছে ৮৩ কোটি ৬০ লাখ টাকার। শেয়ার হাতবদল হয়েছে ১ কোটি ৭৬ লাখ ৩২ হাজার ৪৩৩টি।

জিপিএইচ ইস্পাতে ৭৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা, ফারইস্ট লাইফে ৪৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা, পাওয়ারগ্রিডে ৪৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা, জিএসপি ফাইন্যান্সের ৪৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে।

এছাড়া ফরচুন সুজে ৪১ কোটি ৮১ লাখ টাকা, আর এ কে সিরামিকসে ৪০ কোটি ৬১ লাখ টাকা ও প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলে ৩৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

আরও পড়ুন:
চাপ কাটিয়ে পুঁজিবাজারে উত্থানে ‘নতুন আশা’
এবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বিএসইসিকে নিয়ে বসছে মন্ত্রণালয়
বিএসইসির সঙ্গে বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি: বাংলাদেশ ব্যাংক
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে বিএসইসি চেয়ারম্যান বললেন ‘সুপার’
‘ফলপ্রসূ’ বৈঠকের পর পুঁজিবাজারে লাফ

শেয়ার করুন