‘করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫ কোটি মানুষ’

player
‘করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫ কোটি মানুষ’

বৃহস্পতিবার ব্র্যাকের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির (এসডিপি) আয়োজনে এক আলোচনা সভায় অতিথিরা। ছবি: নিউজবাংলা

ব্র্যাক জানিয়েছে, অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত নারীদের নিয়মিত আয় এবং কাজের সুযোগ যথাক্রমে ৬৬ ও ২৪ শতাংশ কমে গেছে। এ ছাড়া সারা দেশে দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ এবং অর্থনৈতিক মন্দা চলার কারণে স্কুল থেকে নারী শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার ঝুঁকিও আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে, যা সমাজের অন্যান্য বিষয়েও নেতিবাচকভাবে প্রভাব ফেলেছে।

করোনাভাইরাস মহামারি চলার সময় দেশের শ্রমবাজারে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অনানুষ্ঠানিক খাতে যুক্ত পাঁচ কোটিরও বেশি মানুষ। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে কিশোরী ও নারীদের ওপর। এর কারণ, বাংলাদেশের মোট নারী শ্রমশক্তির প্রায় ৯১ দশমিক ৮ শতাংশই অনানুষ্ঠানিক খাতের কাজে নিয়োজিত।

বৃহস্পতিবার ব্র্যাকের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির (এসডিপি) আয়োজনে এক আলোচনা সভায় এমন তথ্য জানিয়েছেন অংশগ্রহণকারীরা।

আলোচনা সভায় তারা জানান, করোনা মহামারি চলার সময় দেশের অনানুষ্ঠানিক খাতে জড়িত প্রায় ৫ কোটি ২০ লাখ মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।

গত বছর ব্র্যাকেরই এক গবেষণায় দেখা গেছে, অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত নারীদের নিয়মিত আয় এবং কাজের সুযোগ যথাক্রমে ৬৬ ও ২৪ শতাংশ কমে গেছে। এ ছাড়া সারা দেশে দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ এবং অর্থনৈতিক মন্দা চলার কারণে স্কুল থেকে নারী শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার ঝুঁকিও আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে, যা সমাজের অন্যান্য বিষয়েও নেতিবাচকভাবে প্রভাব ফেলেছে।

আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, করোনা মহামারির সময় ২০২০ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাল্যবিবাহের হার ২২০ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা ওই সময়ে কর্মসংস্থান এবং শিক্ষা থেকে নারীদের ছিটকে পড়াকে এর প্রধান প্রভাবক হিসেবে দায়ী করেন।

সভায় এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক কেএম তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘সরকার বেশ কিছু শিল্পক্ষেত্র তৈরি করছে, যেখানে নারীরাও কাজ করবে। এত বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘বাংলাদেশে ১ কোটি ৮০ লাখেরও বেশি নারী কর্মরত। কোভিডের ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের প্রাদুর্ভাব ঘটলে এদের বিপর্যয়ের কথাও ভাবতে হবে। কীভাবে তাদের সংকট সামাল দেয়া যাবে, এ নিয়ে আগাম প্রস্তুতি থাকাও দরকার।’

সমাপনী বক্তব্যে ব্র্যাকের ঊর্ধ্বতন পরিচালক কেএএম মোর্শেদ বলেন, ‘সময়ের প্রয়োজনে দক্ষতা উন্নয়ন একটি পরিকল্পিত পছন্দ হওয়া উচিত। ঐতিহ্যগত শিক্ষার পরিবর্তে অনেকে দক্ষতা উন্নয়নের শিক্ষাকে বেছে নিতে পারেন।’ অনুষ্ঠানে কিশোরী এবং নারীদের বর্তমান অবস্থা এবং সমাধান হিসেবে অনানুষ্ঠানিক সেক্টরে শিক্ষানবিশভিত্তিক প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি অ্যান্ড প্রিভেনটিং ভায়োলেন্স অ্যাগেইনস্ট উইমেন ইনিশিয়েটিভ কর্মসূচির পরিচালক নবনিতা চৌধুরী।

আরও পড়ুন:
করোনায় আরও ৩ মৃত্যু
ওমিক্রনে বন্ধ হতে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
এবার যুক্তরাষ্ট্রে ওমিক্রনের হানা
করোনায় আরও ২ মৃত্যু, শনাক্ত ২৮২
আফ্রিকা থেকে আসা যাত্রীদের জন্য নতুন নির্দেশনা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নাইকো মামলায় খালেদার অভিযোগ শুনানি আবার পেছাল

নাইকো মামলায় খালেদার অভিযোগ শুনানি আবার পেছাল

প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী আদেশে দণ্ড স্থগিতের পর ২০২০ সালের ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল থেকে গুলশানের বাসভবনে ফেরেন বেগম খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

মঙ্গলবার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের ২ নম্বর ভবনে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক শেখ হাফিজুর রহমানের আদালতে মামলাটিতে খালেদা জিয়ার অব্যাহতির শুনানির তারিখ ছিল।

নাইকো দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষে অভিযোগ শুনানির তারিখ আবারও পিছিয়ে দিয়েছে আদালত।

আদালত নতুন তারিখ দিয়েছে আগামী ৮ মার্চ।

মঙ্গলবার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের ২ নম্বর ভবনে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক শেখ হাফিজুর রহমানের আদালতে মামলাটিতে খালেদা জিয়ার অব্যাহতির শুনানির তারিখ ছিল।

খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় আদালতে হাজির হতে পারেননি।

আর খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার জন্য জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আইনজীবীদের মহাসমাবেশ রয়েছে জানিয়ে শুনানি পেছানোর জন্য সময় চান তার আইনজীবী মাসুদ আহম্মেদ তালুকদার।

আদালত সময় আবেদন গ্রহণ করে আগামী ৮ মার্চ শুনানির জন্য পরের তারিখ দিয়েছে বলে নিউজবাংলাকে জানান খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী জিয়া উদ্দিন জিয়া।

২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলা তদন্তের পর ২০০৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন মুখ্যসচিব কামাল উদ্দীন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সিএম ইউসুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, বাগেরহাটের সাবেক সংসদ সদস্য এমএএইচ সেলিম, নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।

এর মধ্যে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন মারা যাওয়ায় তাদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

দুদকের করা অন্য দুই মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত খালেদা জিয়াকে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রাখা হয়। সেখান থেকে পরে চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায়ই সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্তি পেয়ে তিনি গুলশানের বাসায় যান।

পরে চিকিৎসার জন্য তাকে নেয়া হয় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে। সেখানেই এখন তার চিকিৎসা চলছে।

২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম তেজগাঁও থানায় খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা করেন। কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠান নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতিসাধনের অভিযোগে এই মামলাটি করা হয়।

আরও পড়ুন:
করোনায় আরও ৩ মৃত্যু
ওমিক্রনে বন্ধ হতে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
এবার যুক্তরাষ্ট্রে ওমিক্রনের হানা
করোনায় আরও ২ মৃত্যু, শনাক্ত ২৮২
আফ্রিকা থেকে আসা যাত্রীদের জন্য নতুন নির্দেশনা

শেয়ার করুন

ফের ভার্চুয়ালে ফিরছে সুপ্রিম কোর্ট

ফের ভার্চুয়ালে ফিরছে সুপ্রিম কোর্ট

প্রধান বিচারপতির নির্দেশক্রমে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন থেকে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বলা হয়েছে, করোনা সংক্রমণজনিত পরিস্থিতিতে বুধবার হতে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সকল বেঞ্চে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। একইভাবে চলবে আপিল বিভাগও।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সশরীরে কার্যক্রমে ফেরার মাস-দুয়েকের মধ্যে আবার ভার্চুয়াল কার্যক্রমে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের সব কাজ ভার্চুয়ালি চলবে।

প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নির্দেশক্রমে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন থেকে মঙ্গলবার বিকেলে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনা সংক্রমণজনিত পরিস্থিতিতে বুধবার হতে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সকল বেঞ্চে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

আপিল বিভাগও ভার্চুয়ালি পরিচালনা করতে পৃথক একটি বিজ্ঞপ্তিতে জারি করা হয়েছে।

এর আগে সকালে আপিল বিভাগে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী জানান, করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় আবার ভার্চুয়ালি আদালত পরিচালনার জন্য ভাবা হচ্ছে।

আগাম জামিনের পথ খোলা রেখে ভার্চুয়ালের পক্ষে বার

করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় উচ্চ আদালতে ফের ভার্চুয়ালি পরিচালনার পক্ষে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতিও। তবে আগাম জামিনের পথ খোলা রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘আমাদের অনেকজন বিচারপতি, অনেক আইনজীবী আক্রান্ত হয়েছেন। এ ছাড়া, অ্যাটর্নি জেনারেল সাহেবও আক্রান্ত হয়েছেন। সমিতির অনেক সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে মাননীয় প্রধান বিচারপতি আজকে বলেছেন, আমাদের ভার্চুয়ালি যেতে হবে। এই ক্ষেত্রে সমিতির সদস্যদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।’

‘আমরা সমতিরি পক্ষ থেকে প্রধান বিচারপতিকে যেটা বলেছি, এই অবস্থায় আদালত কীভাবে খোলা রাখা হবে সেটা সম্পূর্ণ সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসনের বিষয়। সুতরাং এটার সিদ্ধান্ত সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন স্বাধীনভাবে নিবে। আমাদের সহযোগিতার বিষয়ে আমরা যেটা বলেছি, বর্তমানে যেভাবে শারীরিকভাবে উপস্থিতিতে আদালতের বিভিন্ন ক্ষমতা প্রয়োগ করে থাকেন। তার যেন কোনোটাই খর্ব করা না হয়।’

ভার্চুয়াল কোর্টে একটা পর্যায়ে আগাম জামিন শুনানি স্থগিত ছিল। এটা যেন এবার না হয় প্রধান বিচারপতির কাছে সে দাবি করা হয়েছে বলে জানান আইনজীবী নেতা রুহুল কুদ্দুস।

তিনি বলেন, ‘আগাম জামিনসহ বর্তমানে শারীরিক উপস্থিতিতে যেভাবে আদালতের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, সেভাবেই যেন পরিচালিত হয়। দ্বিতীয়ত হচ্ছে আদালতের যে সময়সীমা সেটা অর্থাৎ পূর্ণাঙ্গ সময়সীমা যেন বিচার কাজে ব্যবহার করা হয়। আমরা এটা প্রধান বিচারপতিকে বলেছি।’

আরও পড়ুন:
করোনায় আরও ৩ মৃত্যু
ওমিক্রনে বন্ধ হতে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
এবার যুক্তরাষ্ট্রে ওমিক্রনের হানা
করোনায় আরও ২ মৃত্যু, শনাক্ত ২৮২
আফ্রিকা থেকে আসা যাত্রীদের জন্য নতুন নির্দেশনা

শেয়ার করুন

সরকারি প্রকল্প: ডিসিদের ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকারের ‘না’

সরকারি প্রকল্প: ডিসিদের ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকারের ‘না’

ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শুরু হয়েছে ডিসি সম্মেলন। ছবি: পিআইডি

এই প্রস্তাব নাকচ করে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, এই কমিটি গঠনের প্রয়োজন নেই। সরকারি একটি প্রকল্পের সার্বিক বাস্তবায়ন বিষয়ে পরিবীক্ষণ ক্ষমতা অলরেডি আইনিভাবেই দেয়া আছে। ডিসিরা তাদের সেই আইনি ক্ষমতা প্রয়োগ করতেই পারেন।

স্থানীয়ভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকদের সংযুক্ত করে কমিটি গঠনে জেলা প্রশাসকদের দেয়া প্রস্তাবকে নাকচ করে দিয়েছে সরকার।

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মঙ্গলবার ডিসি সম্মেলনে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত বিষয়াদির আলোচনা পর্বে এই প্রস্তাব নাকচ হয়ে যায়।

স্থানীয়ভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নে নিজেদের সংযুক্ত করে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন জেলা প্রশাসকরা।

এই প্রস্তাব নাকচ করে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, এই কমিটি গঠনের প্রয়োজন নেই। সরকারি একটি প্রকল্পের সার্বিক বাস্তবায়ন বিষয়ে পরিবীক্ষণ ক্ষমতা অলরেডি আইনিভাবেই দেয়া আছে। ডিসিরা তাদের সেই আইনি ক্ষমতা প্রয়োগ করতেই পারেন।

‘তা ছাড়া যে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রশাসকদের সঙ্গে আলোচনা করেই করে থাকেন। কোনো ক্ষেত্রে এর ব্যত্যয় হলে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক মন্ত্রণালয়কে জানালে সে বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে জেলা প্রশাসকদের এম এ মান্নান বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়ন গুণগতমান রক্ষা ও সময়মতো বাস্তবায়নে সরকারের গুরুত্ব সর্বাধিক। এ লক্ষ্যে আগামী দিনে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) দাপ্তরিক কার্যালয় সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়া হবে। প্রাথমিকভাবে বিভাগীয় জেলা শহরগুলোতে আইএমইডি অফিস স্থাপন করা হবে। পর্যায়ক্রমে তা সারা দেশে নিয়ে যাওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান জানান, মাঠপর্যায়ে যারা কাজ করেন তাদের গুরুত্ব আছে। তারা কিছু প্রস্তাব দিয়েছেন। সেগুলো সাধারণভাবে আলোচনা হয়েছে। যেগুলো গ্রহণযোগ্য তা গ্রহণ করা হয়েছে। বাকি প্রস্তাবগুলো সাধারণ আলোচনা হিসেবেই গণ্য হবে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রস্তাবিত কমিটিতে ডিসিদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি প্রত্যাখ্যান বিষয়েও কথা বলেন মসিউর রহমান।

তিনি বলেন, দেশে এমন কোনো প্রকল্প গ্রহণ করা হয় না, যেখানে কোনো জনকল্যাণ নেই। ছোট-বড় সব প্রকল্প গ্রহণ করার আগে স্থানীয়ভাবে মতামত গ্রহণ করা হয়। সেখানে জেলা প্রশাসকসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তাদের মতামত দেন। তাই কমিটি গঠন বিষয়ে আলোচনায় কোনো গুরুত্ব পায়নি। যেহেতু একটি প্রস্তাব উঠেছে, তাই ভবিষ্যতে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমরা আরও বেশি করে স্থানীয় পর্যায়ে সম্পৃক্ত হওয়ার চেষ্টা করব।’

জেলা প্রশাসক সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে অভ্যন্তরীণ সম্পদ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ, অর্থ বিভাগ, পরিসংখ্যান বিভাগ এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত বিষয়াদিকে সামনে রেখে নানা ইস্যুতে আলোচনা হয়।

সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনের ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন।

ডিসি সম্মেলন মোট অধিবেশন হবে ২৫টি। এর মধ্যে কার্য অধিবেশন রয়েছে ২১টি। এতে ৫৫টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থা অংশ নিচ্ছে।

এসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে সম্মেলনে ২৬৩টি প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। বেশিসংখ্যক প্রস্তাব ভূমি মন্ত্রণালয়ের, ১৮টি। এ ছাড়া সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ১৬টি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ১৪টি, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ১২টি এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের ১০টি প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে।

মাঠপর্যায়ের কর্ম সম্পাদনে জেলা প্রশাসকরা যেসব আইনগত, প্রশাসনিক, আর্থিক কিংবা অন্যান্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছেন, সেসবের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জেলায় বিদ্যমান সম্ভাবনা সম্মেলনের মাধ্যমে সরাসরি তুলে ধরা হবে। এরপর সম্মিলিত আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাব্য সুযোগগুলো কাজে লাগানোর উপায় খুঁজে বের করা হবে।

আরও পড়ুন:
করোনায় আরও ৩ মৃত্যু
ওমিক্রনে বন্ধ হতে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
এবার যুক্তরাষ্ট্রে ওমিক্রনের হানা
করোনায় আরও ২ মৃত্যু, শনাক্ত ২৮২
আফ্রিকা থেকে আসা যাত্রীদের জন্য নতুন নির্দেশনা

শেয়ার করুন

উন্নয়নে জনপ্রতিনিধি-আমলার সমন্বয় চান প্রধানমন্ত্রী

উন্নয়নে জনপ্রতিনিধি-আমলার সমন্বয় চান প্রধানমন্ত্রী

ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: নিউজবাংলা

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের কিছু নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি থাকে জনগণের কাছে। এই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন, তবে অবশ্যই আমি এটা বলব, প্রতিশ্রুতি আসলে যথাযথ কি না, সেটা বিবেচনায় নিয়ে সে ধরনের পরিকল্পনা নেয়া।

দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সংসদ সদস্যসহ স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পরিবেশ-প্রতিবেশের ক্ষতি হবে- এমন প্রকল্প গ্রহণ না করার পরামর্শ দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, দুর্নীতি হচ্ছে কি না তা তদারকিতেও ডিসিদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০২২-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। গণভবন প্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন সরকারপ্রধান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি, সংসদ সদস্য, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা মেয়র, সিটি করপোরেশন- সবাইকে নিয়ে সমন্বিতভাবে উন্নয়ন পরিকল্পনা করি, প্রকল্প গ্রহণ করি, বাস্তবায়ন করি এবং বাস্তবায়ন যথাযথভাবে হচ্ছে কি না, সেটা যদি আমরা নজর দিই, আমাদের যে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছি, সেটাও যদি যথাযথভাবে আমরা বাস্তবায়ন করি, তাহলে অবশ্যই খুব বেশি দিন লাগবে না। আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে মর্যাদা পেয়েছি, উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে টিকে থেকে আমরা দেশকে উন্নত করতে পারব।’

চলমান উন্নয়ন প্রকল্প প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের যেসব প্রকল্প চলমান আছে, আমাদের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এসব প্রকল্প গ্রহণ করে এবং সে প্রকল্প বিভিন্ন এলাকায় বাস্তবায়ন হয়। কিন্তু এই প্রকল্পগুলো যথাযথভাবে গ্রহণ করা এবং তার প্রয়োজনীয়তা সাপেক্ষে এবং সেগুলো বাস্তবায়নে কোনো অনিয়ম হচ্ছে কি না, দুর্নীতি হচ্ছে কি না বা মানসম্মত হচ্ছে কি না, সে বিষয়ের ওপর নজরদারির ব্যবস্থা আপনাদের অবশ্যই নিতে হবে।’

জনপ্রতিনিধিরা যেসব নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে আমলাদের আন্তরিক থাকতে হবে বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘তাদের কিছু নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি থাকে জনগণের কাছে। এই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন, তবে অবশ্যই আমি এটা বলব, প্রতিশ্রুতি আসলে যথাযথ কি না, সেটা বিবেচনায় নিয়ে সেই ধরনের পরিকল্পনা নেয়া।

‘অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প পরিহার করতে হবে। আর প্রকল্প যেটা নিতে হবে সেটা যেন যথাযথ ও মানুষের সেবামূলক হয় এবং মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অবদান রাখতে পারে, সেদিকে লক্ষ্য রেখে কিন্তু করতে হবে। একটা কিছু করার জন্য করা, সেটা যেন না হয়। সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে।’

জেলা-উপজেলা পর্যায়ে মাস্টারপ্ল্যান তৈরির ওপর জোর দিয়েছেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ‘যদি আমরা পরিকল্পিতভাবে কাজ করি, তাহলে আমাদের কোনো সমস্যা থাকে না। একটা জেলার অধীন উপজেলা, একেবারে ওয়ার্ড পর্যন্ত উন্নয়নটা- এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক কিন্তু বিরাট অবদান রাখতে পারেন। সে ক্ষেত্রে সংসদ থেকে শুরু করে সব জনপ্রতিনিধিকে নিয়ে বসে আলোচনা করে কাজ করা যায়, সেটা আরও বেশি কার্যকর হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নয়নের নামে পরিবেশ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, প্রতিবেশ যেন নষ্ট না হয়, জীববৈচিত্র্য যেন নষ্ট না হয়, সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।’

জেলা প্রশাসকদের অর্পিত দায়িত্ব পালনে আন্তরিক হওয়ার তাগিদ দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমি সরকারে আসার পর সবার বেতন-ভাতা বাড়িয়ে দিয়েছি, সেটা মনে রেখেই আপনারা আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন- সেটাই আমি আশা করি।’

এ প্রসঙ্গে জাতির পিতার আদর্শকে সামনে এনে শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ ‍মুজিবুর রহমান নিজেকে একজন জনগণের খাদেম বা সেবক হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলেন। আমিও তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে নিজেকে জনগণের একজন সেবক মনে করি। ক্ষমতায় আসা, প্রধানমন্ত্রী হওয়া মানে জনগণের জন্য কাজ করার একটা সুযোগ পাওয়া। যে লক্ষ্য স্থির করেছি, তা বাস্তবায়নে আপনাদের সহযোগিতা একান্তভাবে প্রয়োজন।’

বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হওয়ার বিষয়টি সামনে এনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেছে এবং আমাদের সামনের দিকে অনেক এগিয়ে যেতে হবে। কারণ বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়তে হবে।’

দেশের অগ্রযাত্রায় করোনাভাইরাস মহামারি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিবছর জেলা প্রশাসক সম্মেলন করতাম। কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারি আমাদের এমন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে যে পর পর দুবার জেলা প্রশাসক সম্মেলন করা সম্ভব হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়ন করেছি। এখন আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ২০৪১ বাস্তবায়ন করা।’

সামষ্টিক অর্থনীতির সব সূচকে বাংলাদেশ উন্নতি করেছেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, বাংলাদেশের একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না, দরিদ্র থাকবে না, ভূমিহীন থাকবে না।’

সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে

করোনাভাইরাস মহামারির শঙ্কা নিয়ে জেলা প্রশাসক সম্মেলনেও সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাসের একটা নতুন ভ্যারিয়েন্ট এসে গেছে। এটা আরও বেশি দ্রুত ছড়াচ্ছে। এ বিষয়ে সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।’

ডিসিদের প্রতি নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ‘জেলা প্রশাসকদের বলব, স্ব-স্ব প্রশাসনে নির্দেশ দিয়ে দেবেন, প্রত্যেকে যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে। কারণ এই ভ্যারিয়েন্টটা আসলে এমনি মনে হয় খুব বেশি ক্ষতি করবে না। আসলে এটা অনেক ক্ষতি করতে পারে।’

ইতিমধ্যে মৃতের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা যেন আর না বাড়তে পারে, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।’

বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ ভিক্ষা করবে, এটা লজ্জার

বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ, গণহত্যার শিকার হওয়া কোনো পরিবারের সদস্য ভিক্ষা করে খাবে তা স্বাধীন দেশের জন্য লজ্জার বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সব থেকে আগে এই কাজটি করতে হবে। আমি আর কখনও দেখতে চাই না কোনাে শহীদ পরিবার, জাতির পিতার চিঠি যার হাতে সে ভিক্ষা করে খাবে। এটা যেন না হয়। আমি সবাইকে আহ্বান জানাব- এ বিষয়টি আপনারা ভালোভাবে দেখবেন।’

‘মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ ভিক্ষা করবে, এটা আমাদের জন্য মোটেও সম্মানজনক নয়’ উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘আপনাদের এটাও দেখতে হবে, কোথাও কোনো জায়গায় কোনো মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, শহীদ পরিবার, বা গণহত্যার শিকার পরিবারের কেউ এ ধরনের দুর্ভোগ পোহাচ্ছে কি না। কারণ এটা অন্তত আমার জন্য খুবই লজ্জাজনক, আমি মনে করি। জানি না, অন্যরা কী ভাববে। কিন্তু আমি নিজে মনে করি, এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক।’

ঝরে পড়া ঠেকাতে স্কুল ফিডিং

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঝরে পড়া ঠেকাতে স্কুল ফিডিং ব্যবস্থার ওপরে জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আর এ ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘কারও কাছে হাত পেতে অনুদান আর নিতে চাই না। কিন্তু আমাদের যদি একটু উদ্যোগ নেয়া যায়, স্বতঃপ্রণোদিত স্কুল ফিডিং কর্মসূচি আমরা করতে পারি।’

পরীক্ষামূলকভাবে এ ব্যবস্থায় সফলতা এসেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তবে এটা নির্ভর করে আমাদের প্রশাসনে যারা আছেন, অর্থাৎ জেলা বা উপজেলা বা ইউনিয়নে যারা আছেন, বা আমাদের জনপ্রতিনিধিরা, স্থানীয় বিত্তশালীরা সমন্বিতভাবে কিন্তু কাজটি করা যেতে পারে। এই উদ্যোগ নেয়ার ফলে আমরা দেখেছি, ঝরে পড়াটা কমে যায়।’

উন্নয়নে যোগাযোগের কোনো বিকল্প নেই

অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরকারের নেয়া টেকসই মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে দেশের অর্থনীতিতে যথেষ্ট অবদান রাখবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘যে কোনো উন্নয়নের ক্ষেত্রে যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। আজ আমরা শতভাগ বিদ্যুৎ দিতে সক্ষম হয়েছি। যোগাযোগের ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রকল্প হাতে নিয়েছি। রাজধানী যানজট মুক্ত করতে বেশকিছু প্রকল্প হাতে নিয়েছি। তা ছাড়া কর্ণফুলী টানেল, হয়তো এই অঞ্চলে আমরাই প্রথম তৈরি করছি। কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। আশা করি খুব তাড়াতাড়ি শেষ হবে। পাশাপাশি রাজধানীতে মেট্রোরেল পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে। বাকি কাজগুলোও আমরা করতে পারব।’

উত্তরবঙ্গের সঙ্গে আরও দ্রুত যোগাযোগে আলাদা রেললাইন নির্মাণ করা হচ্ছে বলে জানান সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, ‘আমাদের পদ্মা সেতু নির্মাণও প্রায় শেষ পর্যায়ে। যার ফলে আমাদের দক্ষিণাঞ্চলে যোগাযোগ হবে। রাজধানীর সঙ্গে উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের সংযোগ করা, সেই ব্যবস্থা আমরা করে দিচ্ছি। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। তাই সারা দেশে সেতু ও সড়ক নির্মাণ করে আমরা যোগাযোগব্যবস্থাকে উন্নত করছি।’

বিশ্বব্যাংক অলাভজনক বলায় বিএনপি দেশে রেল বন্ধ করে দিতে চেয়েছিল জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সরকারে এসে আবার রেল নিয়ে আলাদা মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করি। আলাদা মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করে রেলকে আলাদাভাবে গুরুত্ব দিয়ে, বাজেট দিয়ে রেলপথ উন্নয়নের ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি আমরা।’

একই সঙ্গে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে পর দেশে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সংখ্যা আরও বাড়ানো হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন আমরা কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মর্যাদায় করে দেব। আমাদের সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক বিমানবন্দর হিসেবে উন্নত করব।’

গ্রামে নিশ্চিত করতে হবে নাগরিক সেবা

জেলা প্রশাসকদের প্রতি নির্দেশনা দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘আপনারা কাজ করেন মাঠপর্যায়ে। প্রতিটি জেলার দায়িত্ব আপনাদের। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং তাদের স্বাবলম্বী করার জন্য আমাদের যে ব্যাপক পল্লী উন্নয়ন কাজ আমরা নিয়েছি, সেগুলোকে সব থেকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছি। কারণ দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে আমাদের তৃণমূলের মানুষের জীবনমান উন্নত করতে হবে। সেখানে আমাদের সব থেকে বেশি উন্নয়ন করতে হবে। সেটাই হচ্ছে আমি সব সময় বিশ্বাস করি।’

প্রতিটি ইউনিয়নের সঙ্গে ওয়ার্ড, ওয়ার্ড থেকে গ্রাম পর্যায়ে উন্নয়নের জন্য রাস্তা নির্মাণ থেকে শুরু করে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করে দেয়ার কথাও জানান শেখ হাসিনা।

সব ধরনের নাগরিক সুবিধা যেন প্রান্তিক মানুষ পেতে পারে সেজন্য সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই কাজগুলো যাতে সঠিকভাবে চলে, সেটা দেখতে হবে আমাদের জেলা প্রশাসনকে। কারণ পল্লী উন্নয়ন আমরা সব থেকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকি। বাজেট যেটা আমরা করে দিচ্ছি সেখানেও কিন্তু আমরা জেলা ভিত্তিক বাজেট করে দিচ্ছি। প্রতিটি জেলার কী কী চাহিদা, সেটাকে আমরা বিশেষ বিবেচনায় নিয়ে থাকি। তা ছাড়া কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমার জেন্ডারভিত্তিক বাজেটও তৈরি করছি।’

গ্রামে সব নাগরিক ‍সুবিধা পৌঁছে দেয়া সরকারের অঙ্গীকার জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাতে শহরমুখী হওয়ার প্রবণতা কমে যাবে। গ্রামে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। একেকটা জেলার সার্বিক উন্নয়ন করা আপনাদের (জেলা প্রশাসক) কর্তব্য বলে আমি মনে করি।’

সবাইকে ই-টেন্ডারে আসতে হবে

ই-টেন্ডার বাস্তবায়ন করা যুগান্তকারী উদ্যোগ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন আর টেন্ডার বাক্স নিয়ে মারামারি, কাটাকাটি, গোলাগুলি, বোমাবাজি হচ্ছে না- এটাই বড় কথা। এবং এখনও যদি কোনো মন্ত্রণালয় বাকি থাকে, তাদেরকে আমি বলব, এই ই-টেন্ডারিং পদ্ধতি গ্রহণ করতে।’

জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ের সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকদের সক্রিয় ভূমিকা অব্যাহত রাখতে হবে। সরকারি সেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষ যেন কোনোভাবে হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।’

সুশাসন সুসংহত করতে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদেক্ষপ বাস্তবায়ন ও দুর্নীতি প্রতিরোধে জেলা প্রশাসকদের আরও আন্তরিকভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘মানুষের কল্যাণে আপনাদের সব ধরনের ভয়-ভীতি, প্রলোভনের ঊর্ধ্বে থেকে আইনানুগ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
করোনায় আরও ৩ মৃত্যু
ওমিক্রনে বন্ধ হতে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
এবার যুক্তরাষ্ট্রে ওমিক্রনের হানা
করোনায় আরও ২ মৃত্যু, শনাক্ত ২৮২
আফ্রিকা থেকে আসা যাত্রীদের জন্য নতুন নির্দেশনা

শেয়ার করুন

বদির বিরুদ্ধে দুদকের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ

বদির বিরুদ্ধে দুদকের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ

কক্সবাজার-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি। ছবি: সংগৃহীত

খুরশীদ আলম খান বলেন, ‘অভিযোগ গঠনের সময় তিনি (আব্দুর রহমান বদি) অব্যাহতি চেয়েছেন, কিন্তু সে আবেদন খারিজ করেছেন বিচারিক আদালত। পরে সেই খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেন।’

কক্সবাজার-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদকের করা মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

সে সঙ্গে মামলাটিতে জামিন চেয়ে বদির করা আবেদন উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দিয়েছে আদালত।

মঙ্গলবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্টে বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

আদালতে দুদকের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন মো. খুরশীদ আলম খান।

তিনি বলেন, ‘অভিযোগ গঠনের সময় তিনি (আব্দুর রহমান বদি) অব্যাহতি চেয়েছেন, কিন্তু সে আবেদন খারিজ করেছেন বিচারিক আদালত। পরে সেই খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেন।’

আজ আদালতে তার পক্ষের আইনজীবী জানান, তারা এ মামলা চালাবেন না। পরে তাদের আবেদন উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। পাশাপাশি বিচারিক আদালতকে দ্রুত মামলাটি নিষ্পত্তি করতে বলেছে।

মামলা থেকে জানা গেছে, ৫৬ লাখ ১১ হাজার ৫০০ টাকার সম্পদ গোপন ও ৭৯ লাখ ৩৭ হাজার ৭৯৭ টাকা জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০০৭ সালের ১৭ ডিসেম্বর আব্দুর রহমান বদির বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। দীর্ঘদিন স্থগিত থাকার পর ২০১৭ সালে ফের কার্যক্রম সচল হয়।

এ মামলায় ২০২০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর তার অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে অভিযোগ গঠন করে আদেশ দেয় চট্টগ্রামের বিচারিক আদালত।

আরও পড়ুন:
করোনায় আরও ৩ মৃত্যু
ওমিক্রনে বন্ধ হতে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
এবার যুক্তরাষ্ট্রে ওমিক্রনের হানা
করোনায় আরও ২ মৃত্যু, শনাক্ত ২৮২
আফ্রিকা থেকে আসা যাত্রীদের জন্য নতুন নির্দেশনা

শেয়ার করুন

জনসেবায় ডিসিদের প্রধানমন্ত্রীর ২৪ নির্দেশনা

জনসেবায় ডিসিদের প্রধানমন্ত্রীর ২৪ নির্দেশনা

জেলা প্রশাসক সম্মেলনে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: নিউজবাংলা

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ের সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকদের সক্রিয় ভূমিকা অব্যাহত রাখতে হবে। সরকারি সেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষ যেন কোনোভাবে হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।’

সরকারি সেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষ যেন কোনোভাবে হয়রানির শিকার না হয় তা নিশ্চিত করাসহ ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ গঠনে জেলা প্রশাসকদের ২৪ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০২২-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। গণভবন প্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন সরকার প্রধান।

জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ের সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকদের সক্রিয় ভূমিকা অব্যাহত রাখতে হবে। সরকারি সেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষ যেন কোনোভাবে হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।’

মানুষের কল্যাণে ভয়-ভীতি, প্রলোভনের ঊর্ধ্বে থেকে আইনানুগ দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়ন করেছি। এখন আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ২০৪১ বাস্তবায়ন করা।’

‘বাংলাদেশের জেলা প্রশাসন, মানুষের পাশে সর্বক্ষণ’ শীর্ষক এই সম্মেলনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২৪ দফা নির্দেশনা:

১. করোনা ভাইরাসজনিত সংকট মোকাবিলায় সরকার সময়ে সময়ে জারি করা নির্দেশনা মাঠপর্যায়ে প্রতিপালন নিশ্চিত করতে হবে।

২. জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে গৃহীত উন্নয়ন ও সেবামূলক কার্যক্রমগুলো যথাযথ বাস্তবায়ন এবং এর ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে হবে।

৩. খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বাজার মূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

৪. সরকারি অফিসে সাধারণ মানুষ যেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বিঘ্নে যথাযথ সেবা পায় সেটি নিশ্চিত করতে হবে। সেবাপ্রত্যাশীদের সন্তুষ্টি অর্জনই যেন হয় সরকারি কর্মচারীদের ব্রত।

৫. এসডিজি (টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা) স্থানীয়করণের আওতায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাসমূহ অর্জনে তৎপরতা জোরদার করতে হবে।

৬. গৃহহীনদের জন্য গৃহনির্মাণ, ভূমিহীনদের কৃষি খাসজমি বন্দোবস্তসহ সকল সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে যেন প্রকৃত অসহায়, দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত প্রান্তিক শ্রেণির মানুষ সুযোগ পায় তা নিশ্চিত করতে হবে।

৭. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রমের মানোন্নয়নে উদ্যোগী হতে হবে। কোভিড পরিস্থিতিতে বিকল্প ব্যবস্থায় অনলাইনে বা ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে পাঠদান কার্যক্রম যেন অব্যাহত থাকে সে ব্যবস্থা নিতে হবে। অপেক্ষাকৃত দুর্গম এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে।

৮. কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলো যেন কার্যকর থাকে তা প্রতিনিয়ত তত্ত্বাবধান করতে হবে এবং নানাবিধ কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের মাঝে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে হবে।

৯. শিশু-কিশোরদের শারীরিক-মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে তাদের জন্য প্রত্যেক এলাকায় সৃজনশীলতার চর্চা, সাংস্কৃতিক কর্মকা- ও ক্রীড়া সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

১০. নাগরিকদের সুস্থ জীবনাচারের জন্য জেলা ও উপজেলায় পার্ক, খেলার মাঠ প্রভৃতির সংরক্ষণ এবং নতুন পার্ক ও খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে।

১১. পরিবর্তনশীল বিশ্বের সাথে সংগতি রেখে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সর্বোচ্চ সুবিধা নিতে উচ্চ প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ শ্রমশক্তি গড়ে তুলতে কাজ করতে হবে।

১২. জনসাধারণের মাঝে তথ্যপ্রযুক্তি ও ইন্টারনেটের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিতকরণে কাজ করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার, গুজব ইত্যাদি রোধে উদ্যোগ নিতে হবে।

১৩. বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্যকে অক্ষুন্ন রাখার লক্ষ্যে ধর্মীয় উগ্রবাদ ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।

১৪. মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রাখতে হবে। মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করতে হবে।

১৫. নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, নিপীড়ন ও বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, খাদ্যে ভেজাল, নকল পণ্য তৈরি ইত্যাদি অপরাধ রোধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে হবে।

১৬. বাজারে পণ্যের সরবরাহ মসৃণ রাখতে, কৃত্রিম সংকট রোধ ও পণ্যমূল্য স্বাভাবিক রাখতে বাজার মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।

১৭. সরকারি জমি, নদী, বনভূমি, পাহাড়, প্রাকৃতিক জলাশয় প্রভৃতি রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতকরণের উদ্দেশ্যে নতুন সরকারি প্রতিষ্ঠান স্থাপনে ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণকে প্রাধান্য দিতে হবে; পরিকল্পিত নগরায়ন ও বনায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

১৮. পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং রক্ষণাবেক্ষণে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। নতুন নতুন পর্যটন স্পট গড়ে তুলতে হবে।

১৯. জেলার নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রক্ষা এবং জেলাভিত্তিক বিখ্যাত পণ্যসমূহের প্রচার ও বিপণনে উদ্যোগী হতে হবে।

২০. জেলার সকল সরকারি দপ্তরের কার্যক্রমসমূহ যথাযথভাবে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের কাতারে পৌঁছাতে আপনাদের ব্রতী হতে হবে।

২১. জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচিত প্রতিনিধি অর্থাৎ সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে হবে। এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণে যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে কি-না বা বাস্তবায়নও যথযাথভাবে হচ্ছে কি-না সেগুলো সমন্বয় করতে হবে। উন্নয়ন প্রকল্প যত্রতত্র যেন না হয় সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে।

২২. সমাজের অনগ্রসর শ্রেণি বেদে, জেলে, কৃষক, হিজড়া (ট্রান্সজেন্ডার) ও হরিজন ও পরিচ্ছন্নকর্মীসহ যারা একেবারে সমাজের অনগ্রসর শ্রেণি তাদের সার্বিক উন্নয়ন, তাদের বাসস্থান এবং তাদের সুযোগ ‍সুবিধা সৃষ্টি করতে হবে।

২৩. মুক্তিযুদ্ধের যেসব অঞ্চলে গণহত্যার শিকার পরিবারদের বর্তমান অবস্থা জানা ও তাদের যথাযথ সম্মানজনক জীবনযাত্রার ব্যবস্থা করে দিতে হবে।

২৪. গণকবর সংরক্ষণ ও যেসব যুদ্ধক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করে সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে। ইতিহাস জনসমক্ষে তুলে ধরতে হবে।

আরও পড়ুন:
করোনায় আরও ৩ মৃত্যু
ওমিক্রনে বন্ধ হতে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
এবার যুক্তরাষ্ট্রে ওমিক্রনের হানা
করোনায় আরও ২ মৃত্যু, শনাক্ত ২৮২
আফ্রিকা থেকে আসা যাত্রীদের জন্য নতুন নির্দেশনা

শেয়ার করুন

রামপালে সরঞ্জাম পড়ে আছে, লোক নেই সংযোজনের

রামপালে সরঞ্জাম পড়ে আছে, লোক নেই সংযোজনের

সরঞ্জাম সংযোজন না করতে পারায় চালু করা যাচ্ছে না রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র। ফাইল ছবি

বারবার বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর লক্ষ্যে পৌঁছাতে না পারায় হতাশা প্রকাশ করেছেন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এ জন্য তিনি চলমান করোনা মহামারির পরিস্থিতিকে দায়ী করেছেন। বলেছেন, বিদেশি কর্মীরা করোনার কারণে আসতে পারছেন না।

বারবার উৎপাদনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েও তা রাখতে পারছে না বহুল আলোচিত রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বা বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি (প্রা.) লিমিটেড।

প্রথম দফায় উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্য পূরণ না হওয়ায় প্রথম ইউনিটের কমিশনিং তারিখ ঠিক হয় ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর এবং দ্বিতীয় ইউনিটের কমিশনিং চূড়ান্ত করা হয় ২৬ মার্চ। কিন্তু এ দফায়ও সেই লক্ষ্যের কাছে পৌঁছাতে পারেনি দুই দেশের এই যৌথ কোম্পানি।

এখন প্রকল্পের মূল ঠিকাদার ভারতীয় কোম্পানি ভেল আগামী ২৬ মার্চ প্রথম ইউনিটের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এদিকে বারবার বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর লক্ষ্যে পৌঁছাতে না পারায় হতাশা প্রকাশ করেছেন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এ জন্য তিনি চলমান করোনা মহামারির পরিস্থিতিকে দায়ী করেছেন।

প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী কাজী আফসার উদ্দীন আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সংকট হয়ে গেছে কোভিড-১৯ পরিস্থিতির জন্য। লোক ঠিকমতো আসতে পারছে না বা লোক যখন যাচ্ছে তখন তাদের নিজস্ব শিডিউল মতো আসতে দেয়া হচ্ছে না। তারা যখন আসতে চাচ্ছে, তখন তাদের সময়মতো ভারত থেকে আসতে দেয়া হচ্ছে না। শুধু ভারত নয়, ইউরোপের বিভিন্ন দেশও এর সঙ্গে সম্পর্কিত। এর মধ্যে আছে স্পেন, পোল্যান্ড, জার্মানি। সেখান থেকেও বিশেষজ্ঞরা সময়মতো আসছেন না। জার্মানি থেকে লোকবল যা আসার কথা ছিল, তা আসছে না।’

ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, গত ১৬ ডিসেম্বর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট কমিশনিংয়ের তারিখ নির্ধারিত ছিল। এ জন্য গত আগস্ট থেকে প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু লোকবল ঠিকমতো আসতে পারেনি। বাংলাদেশ ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রেখেছিল। কিন্তু বিভিন্ন দেশ তাদের কর্মীদের ভ্রমণের অনুমতি দেয়নি।

তিনি বলেন, ‘এগুলো তো বিশেষজ্ঞদের কাজ। এগুলো আমাদের স্থানীয় লোক দিয়ে করা যায় না। আমাদের লোক হয়তো তাদের হেল্পার হিসেবে কাজ করতে পারবে। কিন্তু কাজের সময় বিদেশি এই বিশেষজ্ঞদের সশরীরে উপস্থিত থাকতে হয়।’

তিনি বলেন, ‘সরঞ্জাম আসছে। কিন্তু তা লোকবলের অভাবে সংযোজন করা যাচ্ছে না। এর মূল কারণ হলো কোভিড-১৯। এখন যখন আমরা সব গুছিয়ে নিয়েছি, তখন আবার এই ওমিক্রন ঝামেলাটা শুরু হলো।

‘ভারতীয়দের ক্ষেত্রে আমরা যখনই আমাদের হাইকশিনকে বলেছি, তখনই তারা ভিসা করে রেখেছে। কিন্তু ওদের ওখানে এন্ট্রি হচ্ছে না। আমরা চিঠি লিখেছি। তারা আমাদের জানিয়েছে, ভারতের সাব কোম্পানিগুলো তাদের মূল কোম্পানি ভেলকে সহায়তা করছে না। এই নিয়ে ভেলের সঙ্গে তাদের দ্বন্দ্ব লেগে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আবার দেখা যাচ্ছে, আমরা আসতে বলছি ১৮ জনকে। তারা আসছে চারজন। আমরা বললাম, বাকিরা কোথায়? তারা বলল, আসবে। পরের সপ্তাহে এলো আরও পাঁচজন। পরের সপ্তাহে হয়তো এলো আরও চারজন। বাকিরা এলো না। এই যে আসা-না আসা, এটাই হলো মহাসংকট।’

তিনি বলেন, ভারতের চেয়ে বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি ভালো। ফলে এখানে বিশেষজ্ঞ কর্মীদের আসতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উপকরণ, যেমন- এফজিডি ও চিমনি এবং কোল লোডার ও শিপ আনলোডার এসে পৌঁছেছে। তেল সরবরাহকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান যমুনার সঙ্গে চুক্তি করে তেল এনে মজুদ করা হয়েছে। কেননা কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র কমিশনিং করতে তেল ও কয়লা দুটিই লাগে। এসব উপকরণ বসিয়ে রাখা হয়েছে।

দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে সুন্দরবনসংলগ্ন বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সাপমারি-কাটাখালী ও কৈর্গদাশকাঠী এলাকায় ১ হাজার ৮৩৪ একর জমির ওপরে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের এই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের মধ্যে এটি একটি। ২০১২ সালের ২৯ জানুয়ারি এই প্রকল্প যৌথভাবে বাস্তবায়নের জন্য চুক্তি করে বাংলাদেশ ও ভারত।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে এই কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ২০১০ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একটি সমঝোতাও সই হয়। দুই দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি বিপিডিবি ও এনটিপিসি যৌথ কোম্পানি গঠন করে। ২০১৩ সালের ১ আগস্ট বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পায়।

২০১৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি দরপত্র আহ্বান করে চুক্তি স্বাক্ষর করা হয় ২০১৬ সালের ১২ জুলাই। ইক্যুইটি বিনিয়োগ সমানভাগে ধরে মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রজেক্ট রামপাল বাস্তবায়নে গঠন করা হয় বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল)।

১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট নিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নির্মাণ প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০১৭ সালের ২৪ এপ্রিল। বাস্তবায়নকারী কোম্পানি বিআইএফপিসিএলের তথ্য অনুযায়ী, কাজ শুরুর তারিখ থেকে ৪১ মাসের মধ্যে প্রকল্প শেষ করতে হবে। সে হিসাবে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরেই রামপালের বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদন সক্ষম হয়ে ওঠার কথা ছিল।

বিদ্যুৎ খাতের সরকারি নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও রামপাল প্রকল্পের তত্ত্বাবধানকারী সংস্থা পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসাইন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রামপালের কাজ চলছে। তবে কয়লার বিষয়টি এখনও সুরাহা ওভাবে হয়নি। আশা করছি, ওটা হয়ে যাবে। আমরা আগেই ঠিক করে রেখেছি ইন্দোনেশিয়া কিংবা অস্ট্রেলিয়া থেকে আমরা কয়লা নেব। আমাদের লক্ষ্য ডিসেম্বরে প্রথম ইউনিট শুরু করা। সে লক্ষ্যে কাজ চলছে।’

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, মূল কাজ শেষ করতে দেরি হলেও ভূমি উন্নয়নকাজ, সীমানা প্রাচীর ও স্লোপ প্রোটেকশন কাজ, মূল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ফেসিং কাজ, নির্মাণকাজের বিদ্যুৎলাইন, নির্মাণকাজের পানিসহ বেশ কিছু কাজের পুরোটাই শেষ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুটি ইউনিট মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৬৮ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তবে একটি ইউনিটের কাজ ৮০ শতাংশ শেষ।

বাংলাদেশ ও ভারত সরকারে যৌথ বিনিয়োগে রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ১৬ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এবং ভারতের ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার করপোরেশন (এনটিপিসি) যৌথ কোম্পানি গঠন করে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

আরও পড়ুন:
করোনায় আরও ৩ মৃত্যু
ওমিক্রনে বন্ধ হতে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
এবার যুক্তরাষ্ট্রে ওমিক্রনের হানা
করোনায় আরও ২ মৃত্যু, শনাক্ত ২৮২
আফ্রিকা থেকে আসা যাত্রীদের জন্য নতুন নির্দেশনা

শেয়ার করুন