পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল, শিক্ষককে অব্যাহতি

player
পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল, শিক্ষককে অব্যাহতি

সাতকানিয়ার ইউএনও বলেন, ‘এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন সকালে কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রম কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে ওই শিক্ষকের কাছে একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন পাওয়া যায়। এ ঘটনায় কেন্দ্র সচিবকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। তিনি ব্যবস্থা নিয়েছেন।’

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় এইচএসসি পরীক্ষা চলার সময় কেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ায় পর্যবেক্ষক নূর উদ্দিনকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বাজালিয়া কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম কলেজে এ ঘটনা ঘটে। অব্যাহতি পাওয়া নূর উদ্দিন ওই কলেজের গণিত বিভাগের শিক্ষক।

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা তুজ জোহরা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথম দিন সকালে কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রম কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে ওই শিক্ষকের কাছে একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন পাওয়া যায়। এ ঘটনায় কেন্দ্র সচিবকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। তিনি ব্যবস্থা নিয়েছেন।’

পরীক্ষা চলার সময় কেন্দ্রে মোবাইল ফোন না নেয়ার নির্দেশনা রয়েছে বলেও জানান ইউএনও।

আরও পড়ুন:
পরীক্ষা দিচ্ছে সড়ক অবরোধ করা সেই শিক্ষার্থীরা
এইচএসসি পরীক্ষা শুরু
এইচএসসির প্রবেশপত্র না পেয়ে সড়ক অবরোধ
দুই বছর পর পরীক্ষায় বসছে এইচএসসির শিক্ষার্থীরা
এইচএসসি: কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

এবার কাফনের কাপড় পরে মিছিলে শাবি শিক্ষার্থীরা

এবার কাফনের কাপড় পরে মিছিলে শাবি শিক্ষার্থীরা

প্রতীকী মরদেহ নিয়ে কাফনের কাপড় পরে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি। ছবি: নিউজবাংলা

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, চলমান আমরণ অনশনের চতুর্থ দিন শনিবার অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৬ জন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মৃত্যুর দিকে গেলেও প্রশাসন এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগ দাবিতে এবার কাফনের কাপড় পরে মিছিল করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

একই দাবিতে চলমান আমরণ অনশনে শিক্ষার্থীদের অনেকেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ অবস্থায় শনিবার বিকেলে কাফন মিছিলটি বের করা হয়।

মিছিলে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের গায়ে ছিল কাফনের কাপড় আর সামনে খাটিয়ায় রাখা ছিল একটি প্রতীকী মরদেহ।

শনিবার বিকেল ৩টার দিকে ক্যাম্পাসের গোলচত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক ঘুরে পুনরায় গোলচত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, চলমান আমরণ অনশনের চতুর্থ দিন শনিবার অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৬ জন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মৃত্যুর দিকে গেলেও প্রশাসন এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। উপাচার্য পদত্যাগ করছেন না।

এ কারণেই তারা বাধ্য হয়ে কাফনের কাপড় পরে মৌন মিছল করেছেন।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী মোহাইমিনুল বাশার বলেন, ‘আমাদের একটাই দাবি ভিসি ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগ। প্রয়োজনে আমরা মারা যাবো, তবু আন্দোলন থেকে পিছপা হব না।’

এদিকে, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের মাধ্যমে শুক্রবার শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপুমনি শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের ঢাকায় গিয়ে আলোচনার প্রস্তাব পাঠান।

শিক্ষার্থীরা মন্ত্রীকে জানান, অসুস্থ ও মুমূর্ষ অবস্থায় সহযোদ্ধাদের ফেলে তাদের ঢাকায় যাওয়া সম্ভব নয়। এ জন্য তারা শিক্ষামন্ত্রীকে ভিডিওকলে আলোচনার প্রস্তাব দেন অথবা শিক্ষামন্ত্রী শাবিতে এসে তাদের অবস্থা দেখার আমন্ত্রণ জানান।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা ঢাকায় না গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিনিধি দল শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করতে শুক্রবার ঢাকায় গেছেন।

শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. তুলসী কুমার দাসের নেতৃত্বে এই কমিটিতে আছেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ মুহিবুল আলম, ফিজিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদেন ডিন ড. মো. রাশেদ তালুকদার, অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আরিফুল ইসলাম, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম রুবেল।

শনিবারই তারা শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে জানা গেছে।

এর আগে গত বুধবার দুপুর আড়াইটা থেকে উপাচার্যের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরণ অনশনে নামেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

তারও আগে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে বেগম সিরাজুন্নেছা চৌধুরী হলের প্রভোস্ট প্রত্যাহারসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনে নামেন ওই হলের ছাত্রীরা। পরে দাবি মেনে নেয়া হবে বলে, উপাচার্যের এমন আশ্বাসে হলে ফেরেন তারা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উপাচার্য তাদের দাবি না মেনে সময়ক্ষেপণের চেষ্টা করেন। পরে সেই আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও যোগ দেন।

এই সময়ের মধ্যে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনাও ঘটে। এক পর্যায়ে পুলিশ গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করলে আহত হন বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। যদিও পুলিশ ৩০০ জনকে অজ্ঞাত দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করে।

আরও পড়ুন:
পরীক্ষা দিচ্ছে সড়ক অবরোধ করা সেই শিক্ষার্থীরা
এইচএসসি পরীক্ষা শুরু
এইচএসসির প্রবেশপত্র না পেয়ে সড়ক অবরোধ
দুই বছর পর পরীক্ষায় বসছে এইচএসসির শিক্ষার্থীরা
এইচএসসি: কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

শেয়ার করুন

কচা নদীতে ডুবোচরে ফেরি চলাচল ব্যাহত

কচা নদীতে ডুবোচরে ফেরি চলাচল ব্যাহত

ডুবোচরে আটকা পড়ে ব্যাহত হচ্ছে ফেরি চালাচল। ছবি: নিউজবাংলা

পিরোজপুর সড়ক বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ফকরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতি বছরই শীত মৌসুম এলে এই নদী ড্রেজিং করা হয়। এ বছরও করা হবে দ্রুতই। নদীর নাব্যসংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

পিরোজপুরের কচা নদীতে নাব্যসংকটে বিভিন্ন স্থানে জেগে ওঠা ডুবোচরের কারণে বরিশাল-খুলনা নৌপথে ফেরি চলাচলে ব্যাহত হচ্ছে।

বছরের অন্যান্য সময় নদীটি পার হতে ২০-২৫ মিনিট সময় লাগলেও নাব্যসংকটের কারণে শীত মৌসুমে এ চিত্র পুরোটাই পাল্টে যায়। এ সময় নদীতে পানি কমে যাওয়ায় প্রায়ই ফেরি আটকা পড়ে ডুবোচরে। আর এ সমস্যা থাকে নদীর প্রায় অর্ধেকটা অংশজুড়েই।

এ নৌপথের টগড়া-চরখালী দিয়ে প্রতিদিন ঢাকাসহ দক্ষিণাঞ্চলের ১২টি রুটের ফেরি চলাচল করে। নাব্যসংকটের কারণে প্রতিদিন এসব রুটের ফেরি নদীতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে। যতক্ষণ জোয়ার না আসে, ততক্ষণ এ অপেক্ষা চলতে থাকে।

কচা নদীতে ডুবোচরে ফেরি চলাচল ব্যাহত

এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় গাড়িচালক ও যাত্রীদের।

নিউজবাংলাকে পিরোজপুর-মঠবাড়িয়া রুটের বাসচালক রহিম মিয়াজী বলেন, ‘নদীতে ফেরি আটকে থাকায় মূল্যবান সময় নষ্টসহ নানাবিধ সমস্যায় পড়তে হয় গাড়ির চালক ও যাত্রীদের। এ ছাড়া ভাটার সময় পন্টুন অনেক নিচে নেমে যাওয়ায় ফেরিতে গাড়ি ওঠাতেও অনেক সমস্যা হয়।’

ভান্ডারিয়া রুটের যাত্রী মিলন হোসেন টিটো বলেন, ‘শীত মৌসুম এলে নদীতে পানি অনেক কমে যায় এবং ব্যাপকভাবে ডুবোচর জেগে ওঠে। এতে প্রায়ই ফেরি আটকে থাকে।’

কচা নদীতে ডুবোচরে ফেরি চলাচল ব্যাহত

ফেরির ইজারাদার মো. জসীম উদ্দীন বলেন, ‘দ্রুত যেন নদীতে ড্রেজিং করে ফেরি চলাচল সচল রাখা হয়, সে ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে উদ্যোগ নিতে হবে। এই ভোগান্তি থেকে মুক্তির পথ নদীতে ড্রেজিং করা জরুরি।’

নিউজবাংলাকে পিরোজপুর সড়ক বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ফকরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতি বছরই শীত মৌসুম এলে এই নদী ড্রেজিং করা হয়। এ বছরও করা হবে দ্রুতই। নদীর নাব্যসংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
পরীক্ষা দিচ্ছে সড়ক অবরোধ করা সেই শিক্ষার্থীরা
এইচএসসি পরীক্ষা শুরু
এইচএসসির প্রবেশপত্র না পেয়ে সড়ক অবরোধ
দুই বছর পর পরীক্ষায় বসছে এইচএসসির শিক্ষার্থীরা
এইচএসসি: কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

শেয়ার করুন

‘চিংড়ির কল্লা কাইট্টা চলে মোগো জীবন’

‘চিংড়ির কল্লা কাইট্টা চলে মোগো জীবন’

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বড় বাইশদিয়া ইউনিয়নের দাঁড়ছিঁড়া নদীর পাড়ে টাইগার চিংড়ির মাথা আলাদা করার কাজে ব্যস্ত নারীরা। ছবি: নিউজবাংলা

ভরদুপুরে খোলা আকাশের নিচে সকাল থেকে দুপুর, আবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা অবধি  ‘টাইগার চিংড়ি’র মাথা আলাদা করার কাজ করেন তুলাতলী গ্রামের চার সন্তানের জননী আসমা। মজুরি কম হওয়া সত্ত্বেও সংসারের চাকা সচল রাখতে অনেকটা বাধ্য হয়েই এই কাজ করতে হয় তার মতো অনেক নারীকে।

‘চিংড়ির কল্লা কাইট্যা মোগো জীবন চলে। কল্লাডা কাইট্টা গিরাস্তোরে (মালিক) দিই, আর গুঁড়াডা মোরা নিই। হেইডা বেইচ্চা দুই-চাইর টাহা পাইয়া পুতোগো (পুত্র) লইয়া খাই। এই রহম কাজকম্ম হরি, কেজিতে ১০ টাহা পাই। আর গুঁড়াডা বেইচ্চা যা পাই হেইয়া লইয়াই জীবন চলে।’

পটুয়াখালীর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাঙ্গাবালী উপজেলার বড় বাইশদিয়া ইউনিয়নের দাঁড়ছিঁড়া নদীর পাড়ে বসে নিউজবাংলাকে এভাবেই সংসার চালানোর সংগ্রামের কথা বলছিলেন আসমা বেগম।

ভরদুপুরে খোলা আকাশের নিচে সকাল থেকে দুপুর, আবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা অবধি ‘টাইগার চিংড়ি’র মাথা আলাদা করার কাজ করেন তুলাতলী গ্রামের চার সন্তানের জননী আসমা। মজুরি কম হওয়া সত্ত্বেও সংসারের চাকা সচল রাখতে অনেকটা বাধ্য হয়েই এই কাজ করতে হয় তার মতো অনেক নারীকে। সাগরপাড়ের দুর্গম চরাঞ্চল হওয়ায় সেখানে কাজের বড় অভাব।

দাঁড়ছিঁড়া নদীর পাড়ে দেখা যায়, প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ৩০ থেকে অন্তত ৪০টি মাছবাহী ট্রলার সাগর থেকে পাড়ে এসে নোঙর করে। পাশেই খোলা আকাশের নিচে কয়েক শ নারী শ্রমিক পাতিল নিয়ে বসেন।

‘চিংড়ির কল্লা কাইট্টা চলে মোগো জীবন’

পুরুষ শ্রমিকরা সেই ট্রলার থেকে মাছ উঠিয়ে তীরে ফেলেন, আর নারীরা তা নিজেদের কাছে নিয়ে বাছাই শুরু করেন। খালি হাতেই চিংড়ির মাথা ছিঁড়ে আলাদা করেন তারা। পরে চিংড়ির মূল অংশ সেখান থেকে খুলনা, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয়। রপ্তানি করা হয় বিদেশেও।

স্থানীয়রা জানান, উপকূল এলাকার পাঁচ হাজারেরও বেশি নারী শ্রমিক মাছ বাছাই ও চিংড়ির মাথা ছেঁড়ার কাজ করে থাকেন। শুধু দাঁড়ছিঁড়া নদীই নয়। বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন মোহনায়, বিশেষ করে রাঙ্গাবালী উপজেলার অনেক স্থানে এই ধরনের টাইগার চিংড়ির মাথা আলাদা করার কাজ চলে।

এ কাজে মজুরি খুব কম, সুযোগ-সুবিধাও নেই। কিন্তু উপায় নেই। চিংড়ির ‘কল্লা আলাদা’ করাই তাদের একমাত্র অবলম্বন। যেসব নারী এ কাজে জড়িত তাদের বেশির ভাগই বিধবা।

কথা হয় বড় বাইশদিয়া ইউনিয়নের তেলীপাড়া গ্রামের ৫৫ বছর বয়সী সাফিয়া বেগমের সঙ্গে। তিনি জানান, দুই বছর আগে তার স্বামী মারা গেছেন। দুই সন্তান নিয়ে সংসার চলে না। তাই এখানে শ্রমিকের কাজ করেন।

সাফিয়ার দাবি, এখানকার নারীরা পুরুষের তুলনায় বেশি সময় ধরে কাজ করে। কাজের মধ্যে পুরুষরা বিশ্রামের সুযোগ পেলেও নারীরা তেমন বিশ্রাম নেয় না, কিন্তু পুরুষ শ্রমিকরা যেই টাকা মজুরি পায়, তারা পায় তার অর্ধেক টাকা।

দাঁড়ছিঁড়া নদীর পাড়ে ভেড়ানো টাইগার চিংড়িবোঝাই একটি ট্রলারের মালিক সবুজ খাঁ। সবেমাত্র সাগর থেকে এখানে এসে পৌঁছাল। কথা হয় সবুজের সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘সাত-আট দিনের জন্য বরফ, তেল, খাবারসহ ট্রলার লইয়া সাগরে যাই। এরপর জাল দিয়া মাছ ধরি। মাছ ধইরা কিনারে আই। হ্যারপর আড়তদারদের ধারে মাছ বিক্রি হরি। হেরাই মহিলাগো দিয়া কল্লা কাইটা খুলনা ঢাহা পাডায়।’

‘চিংড়ির কল্লা কাইট্টা চলে মোগো জীবন’

চিংড়ির মাথা আলগা করায় নারী শ্রমিকদের মজুরি কম দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে সবুজ বলেন, ‘মহিলারা এই কাম ভালোভাবে করতে পারে। টাহাও কম দেয়া লাগে আবার হেরা কামও দ্রুত করে।’

সাগরে প্রতিনিয়ত শত শত ট্রলারে টাইগার চিংড়ি ধরা হয় বলে জানালেন বড় বাইশদিয়া ইউনিয়নের চিংড়ির আড়তদার রেজাউল করিম।

তিনি জানান, এ অঞ্চল থেকে চিংড়ি ক্রয় করে খুলনায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখানকার ফ্যাক্টরিতে সেই চিংড়ি বিক্রি করা হয়। পরে ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন ধরনের প্রসেসিং করে সেই চিংড়ি বিদেশে রপ্তানি করে। বিশেষ করে বেলজিয়ামে সবচেয়ে বেশি যায় দক্ষিণাঞ্চলের এই টাইগার চিংড়ি।

রেজাউল করিম বলেন, সাইজের ওপর এই চিংড়ির দর ওঠানামা করে। সাধারণত ভালো সাইজের টাইগার চিংড়ি প্রতি মণ ৭-১০ হাজার টাকায় এখান থেকে ক্রয় করে খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে ২০-২৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি করা হয়। এই পেশায় জড়িত প্রায় অর্ধশত ব্যবসায়ী।

তবে চিংড়ির মাথা আলাদা করার জন্য নারী শ্রমিকদের কেন পারিশ্রমিক কম দেয়া হয়, তার সরাসরি কোনো জবাব দেননি এই আড়তদার।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ পটুয়াখালী জেলা শাখার সভাপতি শোভা রানী রায় বলেন, ‘মজুরিবৈষম্য দূর করতে সামাজিক আন্দোলন দরকার। এ ছাড়া নারীদের জন্য শ্রমিকবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা দরকার। তাহলে নারী শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি আদায় নিয়ে আর কোনো সমস্যা থাকবে না।’

‘চিংড়ির কল্লা কাইট্টা চলে মোগো জীবন’

সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রকল্পের বরিশাল বিভাগের উপপ্রকল্প পরিচালক মো. কামরুল ইসলাম জানান, যে চিংড়িগুলোর শরীরে বাঘের মতো ডোরাকাটা দাগ, সেগুলো ‘টাইগার চিংড়ি’ নামে পরিচিত। এই মাছের বিদেশে প্রচুর চাহিদা। খুলনা, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণে খরচ বেশি হওয়ায় এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা কম খরচে উপকূলের নারী শ্রমিকদের ব্যবহার করছেন।

তিনি বলেন, টাইগার চিংড়ি ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ ছাড়াও চীন, তাইওয়ান, ফিলিপাইন ও জাপানে রপ্তানি করে প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়ে থাকে। সাগরের ২০-৩০ মিটার গভীরতায় এই চিংড়ির আধিক্য বেশি। বাংলাদেশ মৎস্য অধিদপ্তর এই চিংড়ি সংরক্ষণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

পটুয়াখালী জেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লা এমদাদুল্লাহ জানান, অপরিকল্পিত ও মানসম্পন্ন উপায়ে মাছের প্রক্রিয়াজাতকরণ না হলে বিদেশ থেকে ফেরত পাঠানো হয়। সে ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের উপকূলের এই পদ্ধতি ব্যবহার না করার পরামর্শ তার।

‘চিংড়ির কল্লা কাইট্টা চলে মোগো জীবন’

তিনি বলেন, ‘দেশের মৎস্য খাত থেকে বছরে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ৯০ শতাংশই এই চিংড়ি থেকে। বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা ইতোমধ্যে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী এবং কলাপাড়া উপজেলায় দুটি ল্যান্ডিং স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা করছি।

‘এটি নির্মিত হলে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এবং স্বাস্থ্যসম্মতভাবে এ অঞ্চলের নারী-পুরুষ শ্রমিকরা চিংড়ির প্রক্রিয়াজাতকরণ কাজ করতে পারবেন। তখন আর বিদেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে কোনো ঝুঁকি থাকবে না। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে আমি মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে আবেদনও করেছি। হয়তো আগামী অর্থবছরে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হতে পারে।’

উপকূলীয় এলাকার যেসব স্থানে মাছ বাছাইয়ের কাজ চলছে, সেখানে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে জায়গাগুলোয় পাকা করে শেল্টার, শেড নির্মাণ, পৃথক শৌচাগার, পানির ব্যবস্থার পাশাপাশি নারীদের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টিও গুরুত্ব দেয়া হবে জানান মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লা এমদাদুল্লাহ। তার দাবি, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে নারীদের জন্য শ্রমিকবান্ধব পরিবেশ গড়ে উঠবে।

আরও পড়ুন:
পরীক্ষা দিচ্ছে সড়ক অবরোধ করা সেই শিক্ষার্থীরা
এইচএসসি পরীক্ষা শুরু
এইচএসসির প্রবেশপত্র না পেয়ে সড়ক অবরোধ
দুই বছর পর পরীক্ষায় বসছে এইচএসসির শিক্ষার্থীরা
এইচএসসি: কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

শেয়ার করুন

দারাজের দুই কর্মকর্তার নামে প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ মামলা

দারাজের দুই কর্মকর্তার নামে প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ মামলা

দারাজ বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রধান কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ (প্রশাসন) মো. রাশেদুজ্জামান বলেন, ‘অভিযুক্তরা গত ১ থেকে ১০ জানুয়ারির মধ্যে এসব টাকা আত্মসাৎ করেছেন।’ এ কথা বলার পর ‘একটু পরে ফোন দিচ্ছি’ বলে সংযোগ কেটে দেন তিনি।

অনলাইন মার্কেট প্লেস দারাজ বাংলাদেশ লিমিটিডের নেত্রকোণা হাব অফিসের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রতারণামূলকভাবে ২ কোটি ৭৯ লাখ ৯৬ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ (প্রশাসন) মো. রাশেদুজ্জামান বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে নেত্রকোণা মডেল থানায় মামলা করেছেন।

নেত্রকোণা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রতারণার দায়ে অভিযুক্ত দারাজের দুই কর্মকর্তা হলেন নেত্রকোণা হাব অফিসের ইনচার্জ আবু নাঈম মোহাম্মদ তানীম এবং স্টোর এজেন্ট আকম আজিম উস-শান।

মামলার পর থেকে তারা পলাতক বলে জানিয়েছেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা নেত্রকোণা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হুদা।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্ত তানীম ও আজিম ২০২০ সাল থেকে দারাজ বাংলাদেশ লিমিটেডের নেত্রকোণা হাব অফিসে চাকরি করছেন। সম্প্রতি তারা নিজেরাই ক্রেতা সেজে দারাজ অ্যাপসের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১ হাজার ৫০০ দামি মোবাইল সেটসহ বেশ কিছু দামি পণ্যের অর্ডার করেন।

পরে আবার ওই পণ্যগুলো নিজেরাই গ্রহণ করে ডেলিভারি দেখান। কিন্তু কোম্পানিতে কোনো টাকা পাঠাননি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা না পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সন্দেহ হলে তারা অনুসন্ধান চালিয়ে জানতে পারেন, হাব অফিসের ইনচার্জ তানীম এবং স্টোর এজেন্ট আজিম এসব পণ্য বিক্রি বাবদ প্রতারণার মাধ্যমে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৩ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ ছাড়া হাব অফিসে মজুত থাকা আরও ৬৪ লাখ ৮৩ হাজার টাকাও গায়েব করেছেন তারা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দারাজ বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রধান কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ (প্রশান) মো. রাশেদুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অভিযুক্তরা গত ১ থেকে ১০ জানুয়ারির মধ্যে এসব টাকা আত্মসাৎ করেছেন।’

এ কথা বলার পর ‘একটু পরে ফোন দিচ্ছি’ বলে সংযোগ কেটে দেন তিনি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নাজমুল হুদা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা মামলাটির তদন্ত করছি। পাশাপাশি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি।’

আরও পড়ুন:
পরীক্ষা দিচ্ছে সড়ক অবরোধ করা সেই শিক্ষার্থীরা
এইচএসসি পরীক্ষা শুরু
এইচএসসির প্রবেশপত্র না পেয়ে সড়ক অবরোধ
দুই বছর পর পরীক্ষায় বসছে এইচএসসির শিক্ষার্থীরা
এইচএসসি: কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

শেয়ার করুন

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে পানি নিয়ে খুনাখুনি

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে পানি নিয়ে খুনাখুনি

শ্যামনগর উপজেলার একটি স্থাপত্য। ছবি: সংগৃহীত

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মধুসুদনপুর খালের পানি মাছ চাষের জন্য ভাগাভাগি নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব সম্প্রতি তীব্র আকার ধারণ করে। এ নিয়ে সালিশের আয়োজন করা হলে সেখানেই ঘটে সংঘর্ষ।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ভুরুলিয়া ইউনিয়নের সিরাজপুর হাটখোলায় খালের পানি ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্ব নিরসনে সালিশি বৈঠক চলাকালে দুপক্ষের সংঘর্ষে রহমত মল্লিক নামে ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে ওই সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত সাতজন। পরে পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

সংঘর্ষে আহতদের উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পর চিকিৎসাধীন শনিবার ভোরে রহমত মল্লিকের মৃত্যু হয়।

নিহত রহমত মধুসুদনপুর গ্রামের মৃত দিরাজতুল্লাহ মল্লিকের ছেলে। আহতরা হলেন মদুসুদনপুর গ্রামের মৃত নুরালী গাজীর ছেলে আয়ুব আলী, শফিকুল, রফিকুল, জমাত আলী, রেজাউল আলী, রফিকুল গাজীর ছেলে আলামিন ও মিজানুর মল্লিকের ছেলে মিয়ারাজ।

ভুরুলিয়া ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ জাফরুল আলম বাবু বলেন, ‘মাছ চাষ করার জন্য মধুসুদনপুর খালের পানি নিয়ে ইজারাদার ও স্থানীয়দের মধ্যে বিরোধ ছিল। ইজারাদার খালের পানি ব্যবহার করতে দিতে রাজি ছিলেন না। এ জন্য দুপক্ষকে নিয়ে মীমাংসার জন্য সালিশ ডাকা হয়। শালিসে বক্তব্য শুনানিকালে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন একজনের মৃত্যু হয়েছে।’

ভুরুলিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার হোসেন আলী বলেন, ‘ঘের ও ইরি ধান করার জন্য সমবায় সমিতির খালের পানি ব্যবহার নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত। সালিশে আমি ও চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলাম।’

নিহত রহমত মল্লিক খালের পানি তার জমিতে নিয়ে যাওয়ার পক্ষে ছিলেন বলে জানান হোসেন আলী।

আহত আলামিন বলেন, ‘খালটা নিয়ে বেশ কিছুদিন ঝামেলা চলছিল। চেয়ারম্যান উভয় পক্ষকে ডেকে বিচার করার সময় আমাদের ওপর হামলা হয়। এতে আমার আব্বা, আমিসহ আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছি।’

শ্যামনগর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, সংঘর্ষে নিহত রহমত মল্লিকের ভাই মিজানুর রহমান মল্লিক এরই মধ্যে ২৬ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। এই মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নিহতের মরদেহ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
পরীক্ষা দিচ্ছে সড়ক অবরোধ করা সেই শিক্ষার্থীরা
এইচএসসি পরীক্ষা শুরু
এইচএসসির প্রবেশপত্র না পেয়ে সড়ক অবরোধ
দুই বছর পর পরীক্ষায় বসছে এইচএসসির শিক্ষার্থীরা
এইচএসসি: কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

শেয়ার করুন

লরিচাপায় মোটরসাইকেলের ২ আরোহী নিহত

লরিচাপায় মোটরসাইকেলের ২ আরোহী নিহত

ময়নামতি হাইওয়ে থানার ওসি বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর জানান, চট্টগ্রামমুখী লরির চাপায় মোটরসাইকেল আরোহীদের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। মরদেহ থানায় নেয়া হয়েছে। লরি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ায় চালককে আটক করা যায়নি।

কুমিল্লায় লরিচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই যুবক নিহত হয়েছেন।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার আলেখারচর বিশ্বরোডের আমতলী এলাকায় শনিবার বেলা ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন ২৫ বছর বয়সী রুবেল হোসেন ও ২২ বছর বয়সী শাওন তকি। তাদের বাড়ি আমতলী এলাকায়।

ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ওসি জানান, চট্টগ্রামমুখী লরির চাপায় মোটরসাইকেল আরোহীদের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। মরদেহ থানায় নেয়া হয়েছে। লরি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ায় চালককে আটক করা যায়নি। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

আরও পড়ুন:
পরীক্ষা দিচ্ছে সড়ক অবরোধ করা সেই শিক্ষার্থীরা
এইচএসসি পরীক্ষা শুরু
এইচএসসির প্রবেশপত্র না পেয়ে সড়ক অবরোধ
দুই বছর পর পরীক্ষায় বসছে এইচএসসির শিক্ষার্থীরা
এইচএসসি: কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

শেয়ার করুন

রাস্তা নিয়ে বিরোধ, দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৫০

রাস্তা নিয়ে বিরোধ, দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৫০

বানিয়াচংয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহতদের হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

পুলিশ জানায়, বাড়িতে যাতায়াতের একটি রাস্তা নিয়ে ওই গ্রামের মিজানুর রহমানের সঙ্গে ওয়াহিদ মিয়ার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এরই জের ধরে সকালে দুই পক্ষ কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।

হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে রাস্তা নিয়ে বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার রামগঞ্জ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, বাড়িতে যাতায়াতের একটি রাস্তা নিয়ে ওই গ্রামের মিজানুর রহমানের সঙ্গে ওয়াহিদ মিয়ার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এরই জের ধরে সকালে দুই পক্ষ কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।

একপর্যায় পুলিশ স্থানীয়দের সহযোগিতায় সংঘর্ষ থামায়। আহতদের উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

গুরুতর আহত অবস্থায় শাহিদ মিয়াকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মিয়াধন মিয়া, মোতাহের হোসেন, রুবেল মিয়া, আব্দুল্লাহ, দাইমুদ্দীন, ওয়াহদুজ্জামান ও মনুরা বেগম।

বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরান হোসেন জানান, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

আরও পড়ুন:
পরীক্ষা দিচ্ছে সড়ক অবরোধ করা সেই শিক্ষার্থীরা
এইচএসসি পরীক্ষা শুরু
এইচএসসির প্রবেশপত্র না পেয়ে সড়ক অবরোধ
দুই বছর পর পরীক্ষায় বসছে এইচএসসির শিক্ষার্থীরা
এইচএসসি: কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

শেয়ার করুন