‘জমির বিরোধের বলি’ ২৫০ হাঁস

player
‘জমির বিরোধের বলি’ ২৫০ হাঁস

সাভারের এই খামারের ২৫০ হাঁস মরে পড়ে ছিল। ছবি: নিউজবাংলা

খামারমালিক রাশেদ বলেন, ‘জাহাঙ্গীরের সঙ্গে জমি নিয়ে আমার বিরোধ চলছিল। গতকালকেও জাহাঙ্গীর খামারে দুইটা লোক পাঠায় ১০টা হাঁস চেয়েছিল খাওয়ার জন্য। আমি রাজি হইনাই দেখে সে হুমকি দিয়ে চলে যায়। আমি জিডিও করেছিলাম। এ কারণেই সে হাঁসগুলো মেরে ফেলসে।’

ঢাকার সাভারে ২৫০ হাঁস বিষ দিয়ে মেরে ফেলার অভিযোগ তুলেছেন এক খামারি। তিনি জানান, জমির বিরোধের জেরে খামারের ম্যানেজারকে মারধর করে হাঁসগুলোকে বিষ দেয়া হয়েছে।

আশুলিয়ার দরগার পাড় এলাকার রাশেদ ভূঁইয়ার খামারে বৃহস্পতিবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, মরে পড়ে আছে হাঁসগুলো।

রাশেদ নিউজবাংলাকে জানান, চাচাতো ভাইয়ের কাছ থেকে লিজ নেয়া জমিতে এক বছর আগে এই খামার গড়ে তোলেন তিনি। ১০০ বেলজিয়াম ও ১৫০ খাকি ক্যাম্বেল হাঁসের বাচ্চা সংগ্রহ করে লালনপালন শুরু করেন। খামারের দেখভালের জন্য ম্যানেজারও রাখেন।

রাশেদ বলেন, ‘আজ দুপুরে ম্যানেজার ফোন করে জানায় যে জাহাঙ্গীর, ফারুক ও বশিরসহ কয়েকজন এসে শেডের চাবি চায়। চাবি না দেয়ায় তাকে মারধর করা হয়। সে পালিয়ে গিয়ে আমাকে ফোন করে। আমি খামারে গিয়ে দেখি একে একে সব হাঁস মারা যাচ্ছে।

‘জাহাঙ্গীরের সঙ্গে জমি নিয়ে আমার বিরোধ চলছিল। গতকালকেও জাহাঙ্গীর খামারে দুইটা লোক পাঠায় ১০টা হাঁস চেয়েছিল খাওয়ার জন্য। আমি রাজি হইনাই দেখে সে হুমকি দিয়ে চলে যায়। আমি জিডিও করেছিলাম। এ কারণেই সে হাঁসগুলো মেরে ফেলসে।’

অভিযোগের বিষয়ে পাশের গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘জমি নিয়ে মামলা চলছে। দুইপক্ষের উকিল নিয়ে বসার কথা ছিল, কিন্তু রাশেদ আসেন নাই। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত ওনার সঙ্গে আমার কোনো কথা হয় নাই।

‘হাস কীভাবে আমি মারব। তার সঙ্গেতো আমার কোনো যোগাযোগই নেই। ষড়যন্ত্র করেই আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।’

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আসওয়াদুর রহমান জানান, রাশেদ থানায় জিডি করেছেন যে তাকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। তবে হাঁস মারা যাওয়ার কোনো অভিযোগ এখনও পাওয়া যায়নি।

সাভার উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে জানান, খামারমালিক থানায় অভিযোগ করলে পুলিশের মাধ্যমে হাঁসগুলোর ময়নাতদন্ত করা হবে। তারপরই নিশ্চিত করা যাবে, কীভাবে সেগুলো মারা গেল।

আরও পড়ুন:
মা হাঁসের পেছনে ছানারা সারি বেঁধে সাঁতার কাটে কেন
বেড়ার রাস্তায় দুধ ঢালার দিন শেষ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ট্রাক্টর উল্টে চালক-হেলপার নিহত

ট্রাক্টর উল্টে চালক-হেলপার নিহত

ফাইল ছবি

স্থানীয়দের বরাতে নান্দাইল ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা আব্দুল মালেক জানান, আতকাপাড়া গ্রামের কাঁচা সড়ক দিয়ে বালুবোঝাই ট্রাক্টরটি যাচ্ছিল। এলাকার ফরিদ মিয়ার মাছের খামারের কাছে এটি উল্টে পাশের পুকুরে পড়ে যায়। এতে চালক ও হেলপার দুজনই পানিতে ট্রাক্টরের নিচে চাপা পড়েন।

ময়মনসিংহের নান্দাইলে বালুবোঝাই ট্রাক্টর উল্টে পানিতে পড়ে চালকসহ দুজন নিহত হয়েছেন।

উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের আতকাপাড়া গ্রামে সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন আতকাপাড়া গ্রামের ট্রাক্টরচালক ৩২ বছর বয়সী মো. মোস্তফা ও তার হেলপার ২২ বছর বয়সী রাফাত মিয়া।

নান্দাইল ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা আব্দুল মালেক নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়দের বরাতে তিনি জানান, আতকাপাড়া গ্রামের কাঁচা সড়ক দিয়ে বালুবোঝাই ট্রাক্টরটি যাচ্ছিল। এলাকার ফরিদ মিয়ার মাছের খামারের কাছে এটি উল্টে পাশের পুকুরে পড়ে যায়। এতে চালক ও হেলপার দুজনই পানিতে ট্রাক্টরের নিচে চাপা পড়েন।

পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দুজনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নান্দাইল মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘কাঁচা সড়কে দ্রুতগতিতে চালানোর কারণে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিল। নিহতদের পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
মা হাঁসের পেছনে ছানারা সারি বেঁধে সাঁতার কাটে কেন
বেড়ার রাস্তায় দুধ ঢালার দিন শেষ

শেয়ার করুন

আবারও পুড়ল রোহিঙ্গাদের বসতি

আবারও পুড়ল রোহিঙ্গাদের বসতি

ফায়ার সার্ভিসের আড়াই ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ছবি: নিউজবাংলা

১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক এসপি নাঈমুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আগুনে পুড়ে গেছে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দুই ব্লকের ২৯ বসতি। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আগুন লাগার কারণ এখনও জানা যায়নি। পরে বিস্তারিত জানা যাবে।’

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প ৫-এ আবারও ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুড়ে গেছে রোহিঙ্গাদের ২৯টি বসতঘর।

সোমবার রাত দেড়টার দিকে ক্যাম্প-৫-এর ইরানী পাহাড় জি/২ ব্লক থেকে আগুনের সূত্রপাত। ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট আড়াই ঘণ্টা চেষ্টার পর মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ এমদাদুল হক।

১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক এসপি নাঈমুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আগুনে পুড়ে গেছে দুই ব্লকের ২৯ বসতি। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আগুন লাগা কারণ এখনও জানা যায়নি। পরে বিস্তারিত জানা যাবে।’

এর আগে গত ৯ জানুয়ারি উখিয়ার শফিউল্লাহ কাটা নামের একটি শরণার্থী শিবিরে অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৬০০টি ঘর পুড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় হারিয়েছে।

একইভাবে গত ২ জানুয়ারি উখিয়ার বালুখালী ২০ নম্বর ক্যাম্পে জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক সংস্থা (আইওএম) পরিচালিত করোনা হাসপাতালে আগুন লাগে। এতে কেউ হতাহত না হলেও হাসপাতালের আইসোলেশন সেন্টারের ১৬টি কেবিন পুড়ে যায়।

তারও আগে গত বছরের ২২ মার্চ উখিয়ার বালুখালীতে আরেকটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃত্যু হয় অন্তত ১২ জন রোহিঙ্গার। আগুনে পুড়ে যায় ১০ হাজারের বেশি ঘর।

আরও পড়ুন:
মা হাঁসের পেছনে ছানারা সারি বেঁধে সাঁতার কাটে কেন
বেড়ার রাস্তায় দুধ ঢালার দিন শেষ

শেয়ার করুন

‘রসগোল্লা’য় অচেনা স্বাদের রসগোল্লা

‘রসগোল্লা’য় অচেনা স্বাদের রসগোল্লা

রাজশাহীর রসগোল্লা দোকানের মিষ্টি। ছবি: নিউজবাংলা

বিচিত্র ধরনের আর স্বাদের উদ্ভাবনী মিষ্টি এনে রাজশাহী শহরে সাড়া ফেলে দিয়েছে একটি মিষ্টির দোকান। খেজুরের গুড়ের মিষ্টির পাশাপাশি বিভিন্ন আমের রস থেকে বানানো মিষ্টি এবং কাঁচা মরিচ মিষ্টির কথা ছড়িয়ে পড়ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

রাজশাহী শহরের অলিগলিতে রয়েছে অগণিত মিষ্টির দোকান। এর মধ্যে অনেক দোকানেরই বেশ নামডাক। পরিচিত হতে এগুলোর লেগেছে বছরের পর বছর। তবে ভিন্নধর্মী কিছু উদ্যোগ নিয়ে দুই সপ্তাহে আলোচনায় উঠে এসেছে একটি দোকান, যেটির নাম ‘রসগোল্লা’।

শুরুর দিন খেজুর গুড়ের মিষ্টি নিয়ে আলোচনায় আসে তারা। এরপর কাঁচা মরিচের মিষ্টি, আমের স্বাদে মিষ্টি বানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জায়গা করে নিয়েছে দোকানটি। এখন এ মিষ্টির দোকানে ভিড় প্রতিদিনকার। বেশির ভাগ ক্রেতাই ছাত্র-ছাত্রী।

রাজশাহী শহরের ভদ্রা রেলক্রসিংয়ের পাশেই দুই খামারি বন্ধু মিলে চালু করেছেন এই মিষ্টির দোকান। একজন ‘সওদাগর এগ্রো’ নামক একটি খামারের মালিক আরাফাত রুবেল, অন্যজন ‘আবরার ডেইরি ফার্ম’-এর মালিক রবিউল করিম। নিজেদের খামারের দুধ থেকে ছানা করে মিষ্টি বানাচ্ছেন তারা।

গত ১ জানুয়ারি শুরু হয়েছে তাদের এ যাত্রা। প্রথম দিনই আলোচনায় জায়গা করে নেয় খেজুর গুড় দিয়ে বানানো রসগোল্লা। তাদের প্রচারের ধরনেও আছে ভিন্নতা। মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেই তারা প্রচারে কাজে লাগিয়েছেন।

‘রসগোল্লা’য় অচেনা স্বাদের রসগোল্লা

প্রথম দিন বিকেলে চালু হওয়ার পর রাতেই শেষ হয়ে যায় খেজুর গুড়ের মিষ্টি। এরপর গত কয়েক দিনে দোকানে এসেছে কমলার মিষ্টি, কাঁচা মরিচ মিষ্টি, জাফরান মিষ্টি, নারকেল কাশ্মীরি মিষ্টি, ল্যাংচা, রাজকুমার, চাঁদকুমারী, নবাব, জাফরান এবং ফজলি আমের মিষ্টি। ফজলি আম খাওয়ার জন্য যেভাবে আম কাটা হয় মিষ্টির ধরনও করা হয় ঠিক তেমনই। দেখে যে কারো মনে হতে পারে সত্যিকারের আমের ফালি। আমের ফ্লেভারও বেশ টাটকা।

‘রসগোল্লা’য় অচেনা স্বাদের রসগোল্লা

ফজলি মিষ্টি নিয়ে আলোচনার মাঝেই ১২ জানুয়ারি তারা নিয়ে এসেছে হাঁড়িভাঙা মিষ্টি। রংপুরের আলোচিত আম হাঁড়িভাঙা। আমের মিষ্টি বানানোর পরিকল্পনা তাদের কয়েক মাস আগেরই। এই লক্ষ্য নিয়ে তারা আমের মৌসুমে পাকা আম পাল্প করে রেখেছিলেন ফ্রিজে। এখন সেই পাল্পের সঙ্গে দুধ আর মসলা দিয়ে প্রথমে জাল করে শুকানো হচ্ছে। ওদিকে দুধের ছানা, চিনি, কাজুবাদাম, কাঠবাদাম, চেরি, কিশমিশ আর এলাচের সংমিশ্রণে করা হচ্ছে খামির। এই খামির থেকে প্রথমে বানানো হচ্ছে মিষ্টি। মিষ্টির গায়ে লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে মোয়া। তারপর মিষ্টিটা বার্গারের মতো কেটে ভেতরে ঢোকানো হচ্ছে দুধে জাল দেওয়া আমের পাল্প। তার ওপরে সাজিয়ে রাখা হচ্ছে কাঠবাদাম, কিশমিশ আর চেরি।

‘রসগোল্লা’য় অচেনা স্বাদের রসগোল্লা

দোকানের উদ্যোক্তা আরাফাত রুবেল দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। রুবেল জানান, করোনাকালে নিজেদের খামারের দুধ বিক্রি করতে বেগ পাচ্ছিলেন তারা। এই অবস্থায় বিকল্প ভাবনা হিসেবে তাদের মাথায় আসে দুধ থেকে মিষ্টি বানানোর ভাবনা। তারই বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে ১ জানুয়ারি থেকে।

দুই বন্ধু নিজেদের খামারের দুধ থেকে খাঁটি ছানার মিষ্টি বানাচ্ছেন। এর বাইরে মাঠ পর্যায়ের খামার থেকেও প্রতিদিন দুধ আনতে হচ্ছে। প্রতিদিন তারা প্রায় ১৮ থেকে ২০ মণ দুধের ছানা করছেন। বানাচ্ছেন মিষ্টি।

‘রসগোল্লা’য় অচেনা স্বাদের রসগোল্লা

রুবেল জানান, তারা কিছুটা ভিন্ন ভাবনা নিয়েই এটি শুরু করেছেন। গতানুগতিক ধারার মিষ্টির বাইরে এসে তারা মানুষকে নতুন স্বাদ দেয়ার চেষ্টা করছেন। এ জন্য খেজুর গুড়, আম, মরিচের স্বাদের মিষ্টির চাহিদা অনেক। যারা বাইরে থেকে আসছেন তাদের কাছে আমের মিষ্টির চাহিদা বেশ। এ ছাড়া এখন যেহেতু আমের মৌসুম নয়, তাই আমের স্বাদ পেতে অনেকেই কিনছেন।

‘রসগোল্লা’য় অচেনা স্বাদের রসগোল্লা

সব থেকে বেশি চাহিদা খেজুর গুড়ের মিষ্টির। প্রতি কেজি খেজুর গুড়ের মিষ্টি বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকা করে। আর আমের মিষ্টির কেজি ৫৫০ টাকা। এ ছাড়া ল্যাংচা ৩৫০ টাকা, কাঁচা মরিচের মিষ্টি ৩২০ টাকা, টাটকা কমলার ফালি দিয়ে বানানো মিষ্টি ৩২০ টাকা কেজি।

রুবেল জানান, আমের মৌসুম এলে আমের তৈরি মিষ্টির দাম কিছুটা কমবে।

‘রসগোল্লা’য় অচেনা স্বাদের রসগোল্লা

প্রথম দিন থেকেই দোকানে সাড়া মিলছে প্রত্যাশার থেকেও বেশি। মানুষের আগ্রহ দেখে তারা অনেক বেশি আশাবাদী হচ্ছেন। তবে এখানকার বেশির ভাগ ক্রেতা শিক্ষার্থী বা তরুণ। বাসায় নেয়ার জন্য মিষ্টির ক্রেতা তুলনামূলক কম। তারা এখানে বসে দু-একটা মিষ্টি খেয়ে চলে যাচ্ছেন।

রুবেল বললেন, তাদের মূল প্রচার হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। যারা এর পাঠক, তারাই মিষ্টির দোকানে আসছেন বেশি।

আরও পড়ুন:
মা হাঁসের পেছনে ছানারা সারি বেঁধে সাঁতার কাটে কেন
বেড়ার রাস্তায় দুধ ঢালার দিন শেষ

শেয়ার করুন

১০ হাজার তরমুজ গাছ কাটলেন পাউবো কর্মকর্তা

১০ হাজার তরমুজ গাছ কাটলেন পাউবো কর্মকর্তা

কেটে ফেলা তরমুজ গাছ নিয়ে কৃষক দেলোয়ারের আহাজারি। ছবি: নিউজবাংলা

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদুল হক বলেন, ‘বিষয়টি আমি লোকমুখে শুনিছি। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড আর বনবিভাগ আমাকে কিছুই জানায়নি। কেউ লিখিতভাবে কিছু জানালে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

মৌখিক অনুমতি নিয়েই পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধুলারসর এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধের ঢালে তরমুজ চাষ করছিলেন দেলোয়ার-সালমা দম্পতি।

প্রায় আড়াই মাস ধরে পানি দেয়া আর ক্ষেত পরিস্কার করে আসছিলেন তারা। গাছে গাছে ফলও ধরেছিল। আর এক মাস অপেক্ষা করলে আরও ভালো ফলনের আশা ছিল। সেজন্য স্বামী-স্ত্রী মিলে দিন-রাত পরিশ্রমও করছিলেন।

কিন্তু গত রোববার ঘটল বিপত্তি। সেদিন বিকেলেই একে একে সবগুলো তরমুজ গাছই কেটে ও উপড়ে ফেলেছেন পাউবোর স্থানীয় প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম।

দেলোয়ার-সালমা দম্পতি দাবি করেছেন, যিনি গাছগুলো কেটেছেন তার কাছ থেকেও তরমুজ চাষের মৌখিক অনুমোদন নিয়েছিলেন তারা। এ ছাড়া বন বিভাগের এক কর্মকর্তাকে আর্থিকভাবে খুশিও করা হয়েছিল।

পরে কয়েকটি এনজিওর কাছ থেকে ঋণ নিয়ে আগাম তরমুজ চাষ শুরু করেন তারা। কিন্তু অনেক আকুতি মিনতি করেও শেষ রক্ষা হয়নি। অর্থ আর পরিশ্রম বিফলে যাওয়ায় তাদের এখন পথে বসার উপক্রম।

কৃষক দেলোয়ার হোসেন জানান, বনবিভাগ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন বেড়িবাঁধের ওই ঢালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুমতি নিয়েই গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন সবজির চাষ করছেন তিনি। দুই মাস আগে সেখানে রোপন করা তরমুজের গাছগুলো ওই কর্মকর্তারাও এসে মাঝেমধ্যে দেখতেন।

কিন্তু গত রোববার কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই পানি উন্নয়ন বোর্ডের মনিরুল ইসলাম প্রায় ১০ হাজার গাছ উপড়ে ফেলেন। এতে আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন দেলোয়ার।

দেলোয়ার জানান, ওই স্থানের দায়িত্বে থাকা বনবিভাগের মোশাররফ নামে এক কর্মকর্তাকে তিনি ১০ হাজার টাকাও দিয়েছিলেন। কিন্তু গাছগুলো কেটে ফেলার পর এখন তাকে মামলার হুমকিও দেয়া হচ্ছে।

দেলোয়ারের স্ত্রী সালমা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামীর সঙ্গে এই জায়গায় কাজ করেছি। টাকা নাই তাই আমি তিনটি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছি। এখন এই টাকা কিভাবে দেব। আমি ক্ষতিপূরণ চাই, না হয় মরন ছাড়া উপায় নাই।’

প্রতিবেশী নাসির মৃধা বলেন, ‘আমরা গ্রামবাসী সবাই নিষেধ করেছি যে অন্তত একটা মাস সময় দেয়া হোক। তারপর আপনাদের যদি কোনো ক্ষতি হয় দেলোয়ার আপনাদের ক্ষতিপূরণ দেবে। কিন্তু তারা কারো কথা শোনেনি।’

টাকা নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বনবিভাগের কলাপাড়া উপজেলার গঙ্গামতি রেঞ্জ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমি কোনো টাকা পয়সা নেইনি। এগুলো সব মিথ্যা। ওখানে ঘাস নষ্ট হওয়ার কারণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী গাছ উঠাইছে, আমি উঠাইনি।’

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন বেড়িবাঁধ রক্ষা প্রকল্পের প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম দাবি করেছেন, বেড়িবাঁধে তরমুজ গাছ লাগানোর কথা তিনি আগে জানতেন না। রোববারই প্রথম দেখেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের বেড়িবাঁধ রক্ষায় লাগানো ঘাস কেটে উঠিয়ে ফেলার কারণে কিছু জায়গা রেখে বাকি তরমুজ গাছ আমি উঠিয়ে ফেলেছি।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ হোসেন জানান, ওই স্থানে এখন প্রকল্পের কাজ হচ্ছে। তবে তরমুজ চাষ বা গাছ কাটার ব্যাপারে তিনি কিছু শুনেননি। এ ব্যাপারে তিনি খোঁজ নেবেন বলেও জানান।

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদুল হক বলেন, ‘বিষয়টি আমি লোকমুখে শুনিছি। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড আর বনবিভাগ আমাকে কিছুই জানায়নি। কেউ লিখিতভাবে কিছু জানালে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
মা হাঁসের পেছনে ছানারা সারি বেঁধে সাঁতার কাটে কেন
বেড়ার রাস্তায় দুধ ঢালার দিন শেষ

শেয়ার করুন

খুলনার সেরা অফিসার কুষ্টিয়ার এসআই রফিক

খুলনার সেরা অফিসার কুষ্টিয়ার এসআই রফিক

খুলনা রেঞ্জের বিভাগীয় সেরা অফিসারের পুরস্কার নিচ্ছেন কুষ্টিয়া মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা

সেরা অফিসারের পুরস্কার পেয়ে রফিক বলেন, ‘কুষ্টিয়া জেলার পুলিশ সুপার স্যার ও কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি স্যারের সঠিক দিক নির্দেশনায় আজ আমি সফল হতে পেরেছি। তারা বাদে কুষ্টিয়া মডেল থানার কনস্টেবল সেলিম রেজা ও সুমন রেজার সার্বিক সহযোগিতা ছিল।’

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ ভূমিকা রাখায় খুলনা রেঞ্জের বিভাগীয় সেরা অফিসারের পুরস্কার পেয়েছেন কুষ্টিয়া মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম।

খুলনা রেঞ্জের ডিআইজির কার্যালয়ে শনিবার বেলা ১১টার দিকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসের অপরাধ পর্যালোচনা সভায় তাকে এ পুরস্কার দেয়া হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন।

গত ডিসেম্বরের তদন্ত ও অপরাধ দমন কর্মকাণ্ড পর্যালোচনায় খুলনা রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ জেলা খুলনা, শ্রেষ্ঠ সার্কেল ক সার্কেল, শ্রেষ্ঠ থানা যশোর কোতোয়ালি থানা।

সেরা অফিসারের পুরস্কার পেয়ে রফিক বলেন, ‘কুষ্টিয়া জেলার পুলিশ সুপার স্যার ও কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি স্যারের সঠিক দিক নির্দেশনায় আজ আমি সফল হতে পেরেছি। তারা বাদে কুষ্টিয়া মডেল থানার কনস্টেবল সেলিম রেজা ও সুমন রেজার সার্বিক সহযোগিতা ছিল।’

এই সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (অ্যাডমিন অ্যান্ড ফিন্যান্স) এ কে এম নাহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশনস অ্যান্ড ক্রাইম) নজরুল ইসলাম, খুলনা রেঞ্জের ১০ জেলার পুলিশ সুপার।

আরও পড়ুন:
মা হাঁসের পেছনে ছানারা সারি বেঁধে সাঁতার কাটে কেন
বেড়ার রাস্তায় দুধ ঢালার দিন শেষ

শেয়ার করুন

প্রতিবাদ করে পুলিশের মার খেলেন আইনজীবী

প্রতিবাদ করে পুলিশের মার খেলেন আইনজীবী

আহত আইনজীবী আব্দুল্লা হিল বাকী।

চাঁদপুর মডেল থানার ওসি বলেন, ‘মেজাজ হারিয়ে অটোচালককে থাপ্পর দিলে ওই আইনজীবী এগিয়ে এসে এএসআই হিমনকে মারতে বারণ করেন। এ সময় হয়তো তাদের মধ্যে বাক-বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি আসলে দুঃখজনক।’

অটোরিকশা চালককে মারধরের প্রতিবাদ করায় নিজেও পুলিশের মার খেলেন এক আইনজীবী। এএসআই-এর হেলমেটের আঘাতে গুরুতর আহত আব্দুল্লাহ হিল বাকী নামের সেই আইনজীবী পরে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

সোমবার বিকেলে চাঁদপুর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌর মার্কেটের সামনে এই মারধরের ঘটনা ঘটে। আহত আব্দুল্লা হিল বাকী চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সহ-সভাপতি।

তিনি বলেন, ‘সোমবার বিকেল তিনটার দিকে বাসস্ট্যান্ড এলাকা দিয়ে যাওয়ার পথে দেখি এক অটোচালককে মারধর করছে পুলিশের এক সদস্য। এ সময় তাকে মারতে বারণ করলে তিনি আমার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান। এক পর্যায়ে হাতে থাকা হেলমেট দিয়ে তিনি হঠাৎ আমার মাথায় আঘাত করেন। এতে আমার মাথা ফেটে গেলে স্থানীয়দের সহায়তায় হাসপাতালে আসি।’

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত এএসআই হিমন বলেন, ‘ঘটনাটি অনাকাঙ্খিত এবং ভুল বুঝাবুঝি। আমার হেলমেটটি মাথা থেকে খুলতে গেলে ওই আইনজীবীর মাথায় ভুলবশত লেগে যায়। এতে তিনি সামান্য আহত হন। এ ঘটনায় আমি অনুতপ্ত।’

এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুর রশিদ, চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতি ও জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ আহত আইনজীবীকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান।

এ বিষয়ে চাঁদপুর মডেল থানার ওসি মো. আব্দুর রশিদ জানান, এএসআই হিমন রাতে ডিউটি করে দুপুরে ওয়্যারলেস জমা দেয়ার জন্য মোটরসাইকেলে চড়ে থানায় আসছিলেন। কিন্তু বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় হঠাৎ একটি অটোরিকশা ধাক্কা মারলে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান তিনি।

ওসি বলেন, ‘মেজাজ হারিয়ে অটোচালককে থাপ্পর দিলে ওই আইনজীবী এগিয়ে এসে হিমনকে মারতে বারণ করেন। এ সময় হয়তো তাদের মধ্যে বাক-বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি আসলে দুঃখজনক। একটা ভুল বুঝাবুঝির কারণে এমনটা হয়েছে। আমি হাসপাতালে গিয়ে উনাকে দেখে এসেছি এবং খোঁজখবর নিয়েছি।’

আরও পড়ুন:
মা হাঁসের পেছনে ছানারা সারি বেঁধে সাঁতার কাটে কেন
বেড়ার রাস্তায় দুধ ঢালার দিন শেষ

শেয়ার করুন

নির্বাচনি সহিংসতায় কৃষকের মৃত্যু

নির্বাচনি সহিংসতায় কৃষকের মৃত্যু

শৈলেন ভৌমিকের চাচা শ্বশুর প্রদীপ চৌধুরী জানান, সংঘর্ষে শৈলেন ভৌমিক চোখে এবং কপালে মারাত্মক আঘাত পান। চার দিন নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পর তিনি বাড়ি ফিরে যান। এর পর বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। এ অবস্থায় সোমবার দুপুরে অবস্থার অবনতি হয়ে তিনি মারা যান।

নেত্রকোণার খালিয়াজুরী উপজেলার দাউদপুর গ্রামে নির্বাচনি সহিংসতায় আহত হওয়ার তিন সপ্তাহ পর এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার দুপুরে নিজ বাড়িতে মারা যান তিনি।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান।

মৃত শৈলেন ভৌমিক ওই গ্রামের মৃত হরগোবিন্দ ভৌমিকের ছেলে।

স্থানীয়দের বরাতে ওসি জানান, গত ২৭ ডিসেম্বর পঞ্চম ধাপে খালিয়াজুরী উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে চাকুয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার পদে দাউদপুর গ্রামের অজিত মহলানবীশ জয়ী হন। পরাজিত হন একই গ্রামের যতীন্দ্র মহলানবীশ।

নির্বাচনের পরদিন যতীন্দ্র ও অজিতের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে অজিতের সমর্থক শৈলেন ভৌমিক, বিপ্লব, অনিক ও অপুসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। তাদের খালিয়াজুরী, জেলা সদর ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শৈলেন ভৌমিকের চাচা শ্বশুর প্রদীপ চৌধুরী জানান, সংঘর্ষে শৈলেন ভৌমিক চোখে এবং কপালে মারাত্মক আঘাত পান। চার দিন নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পর তিনি বাড়ি ফিরে যান। এর পর বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

এ অবস্থায় সোমবার দুপুরে অবস্থার অবনতি হয়ে তিনি মারা যান। থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে নেত্রকোণা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

ওসি বলেন, ‘সংঘর্ষের পর অজিত মহলানবীশ বাদী হয়ে ২৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেছিলেন। ময়নাতদন্তে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওই মামলাটিই হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মঙ্গলবার নেত্রকোণা সদর হাসপাতালে নিহতের মরদেহের ময়নাতদন্ত হবে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

আরও পড়ুন:
মা হাঁসের পেছনে ছানারা সারি বেঁধে সাঁতার কাটে কেন
বেড়ার রাস্তায় দুধ ঢালার দিন শেষ

শেয়ার করুন