পাহাড়ে শান্তি না ফেরার কারণ কী

player
পাহাড়ে শান্তি না ফেরার কারণ কী

পাহাড়ের বাসিন্দা ও নিরাপত্তা বাহিনী মনে করছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর মধ্যে সংঘাত বাড়ার পেছনে মূল কারণ সংগঠনগুলোর স্বার্থের দ্বন্দ্ব ও চাঁদার ভাগ-বাটোয়ারা।

শান্তি চুক্তির দুই যুগ পেরিয়ে গেলেও এখনও বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে শান্তি ফেরেনি। পাহাড়ে গুম, খুন, চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি। সহিংসতার ভয়ে কেউ কেউ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করছেন।

চুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে সরকার ও পাহাড়ের বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে রয়েছে ভিন্নমত।

সরকার বলছে, পার্বত্য চুক্তির ৭২টি ধারার মধ্যে ৪৮টি সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত ও ১৫টি আংশিক বাস্তবায়িত হয়েছে। এ ছাড়া ৯টি ধারার বাস্তবায়ন কার্যক্রম চলমান।

তবে পাহাড়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতারা বলছেন, এতো দীর্ঘ সময়ে মাত্র ২৫টি ধারা বাস্তবায়িত হয়েছে, ১৮টি আংশিক বাস্তবায়িত হয়েছে। বাকি ২৯টি ধারার কিছুই বাস্তবায়িত হয়নি।

ভূমি সমস্যা সমাধানসহ চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো বাস্তবায়ন না হওয়ায় এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ধীরগতিতে চলায় ক্ষোভ, হতাশা ও অসন্তোষ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন পাহাড়ের নেতারা।

১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর তৎকালীন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাহাড়ে শান্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সঙ্গে চুক্তি করেন, যেটিকে ‘শান্তি চুক্তি’ নামে অভিহিত করা হয়।

চুক্তি স্বাক্ষরের পরও অস্ত্রের ঝনঝনানি থামেনি পাহাড়ে। নতুন নতুন সশস্ত্র গ্রুপের আবির্ভাব এবং সেগুলোর অন্তর্কোন্দলে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেই চলেছে। নিজেদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের কলহে আঞ্চলিক সংগঠনগুলো জড়িয়ে পড়ছে সংঘাতে।


পাহাড়ে শান্তি না ফেরার কারণ কী


দুই যুগে আড়াই হাজার খুন

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, শান্তি চুক্তির পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত সামাজিক অপরাধের বাইরে তিন পার্বত্য জেলায় খুন হয়েছে ২ হাজার ৫৭৩ জন মানুষ। অপহৃত হয়েছে অন্তত ২ হাজার ৬২৬ জন। নিহতদের মধ্যে পাহাড়ি-বাঙালি উভয় সম্প্রদায়ের লোক আছে।

গত চার বছরে শুধুমাত্র রাঙামাটিতেই আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে খুন হয়েছে ১২৪ জন। পার্বত্য তিন জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি হানাহানির ঘটনা ঘটেছে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে। এই দুই জেলায় নিহত হন ১০৫ জন। আর বান্দরবানে নিহত হন ১৯ জন।

পাহাড়ে শান্তি না ফেরার কারণ কী
ইউপি সদস্য সমর বিজয় চাকমাকে পিআইও অফিসে ঢুকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা

নিহতদের মধ্যে ৯২ জন পার্বত্য এলাকার চারটি আঞ্চলিক দলের নেতা-কর্মী। এর মধ্যে ইউপিডিএফের ৩৯ জন, জেএসএসের (লারমা) ৩৮ জন, পিসিজেএসএসের ১৩ জন ও ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিকের ২ জন। অন্যদের মধ্যে ২০ জন সাধারণ নাগরিক, একজন সেনাসদস্য, বিএনপির নেতা ১ জন, আওয়ামী লীগের ১০ জন ও মগ পার্টির ১ জন রয়েছেন।

পাহাড়ের রাজনীতির মারপ্যাঁচ

পাহাড়ে এক সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস) নামে একটিমাত্র আঞ্চলিক দল ছিল। এই দলের সঙ্গেই ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চুক্তি করেছিল সরকার। চুক্তির বিরোধিতা করে প্রথমে একটি অংশ জেএসএস থেকে বেরিয়ে ১৯৯৮ সালে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) নামে নতুন সংগঠন করে। পরে জেএসএস ভেঙে জেএসএস (সংস্কারপন্থি) নামে ২০০৭ সালে আরেকটি সংগঠন হয়েছে। অন্যদিকে ২০১৭ সালে ইউপিডিএফ ভেঙে ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক নামে নতুন সংগঠন হয়।

পার্বত্য চুক্তির এক বছরের মধ্যে চুক্তির পক্ষের জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সঙ্গে ইউপিডিএফের রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হয়। ২০০৭ সালে জনসংহতি সমিতি ভেঙে গঠিত হয় জনসংহতি সমিতি (লারমা) বা জেএসএস (লারমা) নামের নতুন দল। ২০১৭ সালে খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফের মধ্যে ভাঙন সৃষ্টি হয়। ওই বছরের ১৫ নভেম্বর তপনজ্যোতি চাকমার নেতৃত্বে ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক নামের নতুন সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে।

পাহাড়ে শান্তি না ফেরার কারণ কী


পার্বত্য চট্টগ্রামে এই চারটি সংগঠনের বাইরে আরও কয়েকটি সংগঠন সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে আরাকান লিবারেশন পার্টি (এএলপি)। এই দলের সদস্যদের অবস্থান বান্দরবানের গহীনে। ২০১৮ সালে এএলপি ভেঙে গঠিত হয় মগ পার্টি। তাদের অবস্থানও বান্দরবানে। তবে এই দুই দলের অবস্থান শুধু বান্দরবানে; রাঙামাটি কিংবা খাগড়াছড়িতে এদের কোনো তৎপরতা নেই।

কার শক্তি কোথায়?

পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনীতিদে যে চারটি গ্রুপ বা সংগঠন রয়েছে, সেগুলোর একেকটির অবস্থান একেক জায়গায় শক্ত। এর মধ্যে খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফের দুটি অংশের তৎপরতা সবচেয়ে বেশি। খাগড়াছড়ির স্থানীয় বাসিন্দা ও পাহাড়ের নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্রগুলো বলছে, খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফের শক্ত অবস্থান রয়েছে। অন্যদিকে বান্দরবানে জেএসএসের দুইটি অংশের তৎপরতা সবচেয়ে বেশি। সেখানে জেএসএস শক্তিশালী। বান্দরবানের ইউপিডিএফের তৎপরতা নেই বললে চলে। আর রাঙামাটিতে জেএসএস এবং ইউপিডিএফের চার পক্ষই শক্তিশালী।

শান্তি না ফেরার কারণ কী?

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) নেতা ত্রিদিব চাকমা বলেন, ‘চুক্তি বাস্তবায়ন না হলে সমস্যা সমাধান হবে না। দুই যুগেও চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো বাস্তবায়িত হয়নি।’

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস লারমা) কেন্দ্রীয় কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক সুদর্শন চাকমা বলেন, চুক্তি ‘বাস্তবায়নের জন্য আমরা গণতান্ত্রিক আন্দোলন করে যাচ্ছি। আমরাও চাই পাহাড়ে শান্তিপূর্ণ অবস্থা থাকুক। সবাই নিরাপদে শান্তিতে বসবাস করুক।’

ইউপিডিএফের সংগঠক অংগ মারমা বলেন, ‘পাহাড়ে অশান্তির মূল কারণ পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়িত না হওয়া। চুক্তি বাস্তবায়নে যেসব কথা বলা হয়েছে, সেগুলো ন্যূনতম বাস্তবায়ন হয়নি। এ জন্য এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।’

তবে, পাহাড়ের বাসিন্দা ও নিরাপত্তা বাহিনী মনে করছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর মধ্যে সংঘাত, হানাহানি বাড়ার পেছনে মূল কারণ সংগঠনগুলোর স্বার্থের দ্বন্দ্ব ও চাঁদার ভাগ-বাটোয়ারা।

তবে আঞ্চলিক দলগুলোর নেতারা বলছেন, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়িত না হওয়ায় পাহাড়ে বসবাসরত ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষের হতাশা থেকে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তাই পাহাড়ে শান্তি ফেরেনি।

ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিকের সভাপতি শ্যামল কান্তি চাকমা বলেন, ‘প্রসীত খীসার ইউপিডিএফের জন্য আজ পাহাড়ে এত সংঘাত। তারা তখন চুক্তির বিরোধিতা না করলে হয়তো পাহাড়ে আজ চারটি আঞ্চলিক সংগঠন হতো না। পাহাড়ে রক্তপাত বন্ধ হোক, এটা আমরা সব সময় চাই।’

পাহাড়ের সংগঠনগুলো যা বলছে

পার্বত্য চুক্তির যতদিন পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না হবে, ততদিন শান্তি ফিরবে না বলে মনে করছে পাহাড়ের নাগরিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলনরত সংগঠনের কর্মীরা।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জুম্ম শরণার্থী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক সন্তোষিত চাকমা বকুল বলেন, ‘আমরা চাই সরকার অবিলম্বে চুক্তির মৌলিক বিষয়সহ লিখিতভাবে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করুক।’

পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান বলেন, ‘চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো আইন-শৃঙ্খলা, ভূমি সমস্যার সমাধান, আঞ্চলিক পরিষদ আইন সংশোধন ও বিধিমালা তৈরি, ভারত প্রত্যাগত ৮৩ হাজার অভ্যন্তরীণ পাহাড়ি শরণার্থীর পুনর্বাসনসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এখনও বাস্তবায়ন হয়নি।’

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের পার্বত্যাঞ্চল শাখার সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা বলেন, ‘পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন একটি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ফসল। এটি বাস্তবায়ন হলে দেশের তথা পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য মঙ্গল ও শান্তি বয়ে আনবে।’

পার্বত্য চট্টগ্রাম বন ও ভূমি অধিকার আন্দোলন ও সংরক্ষণ কমিটির জেলা সমন্বয়ক জোয়াম লিয়ান আমলাই বলেন, ‘পার্বত্য চুক্তির যতদিন পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না হবে, ততদিন শান্তি তিমিরেই থাকবে।’

যা বলছেন সরকারদলীয় নেতারা

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মংসুইপ্রু চৌধুরী অপু বলেন, শেখ হাসিনার সরকার চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তিন পার্বত্য জেলার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো বেশি ক্ষমতায়িত করেছে।

শরণার্থীবিষয়ক টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান ও পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির অন্যতম সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি বলেন, কিছু সমস্যা থাকলেও চুক্তির অধিকাংশ ধারা বাস্তবায়িত হয়েছে।

রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার বলেন, ‘এখানকার মানুষের মধ্যে সমঝোতা, আত্মবিশ্বাস তৈরি করা এবং চুক্তির পক্ষে সবাই মিলে সম্মিলিতভাবে একটি পরিবেশ সৃষ্টি প্রধান শর্ত। শান্তিপূর্ণভাবে চুক্তি বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’

আরও পড়ুন:
অভিযোগ নয়, আলোচনায় সমাধান: পার্বত্যমন্ত্রী
শান্তিচুক্তি: বাস্তবায়ন নিয়ে পাহাড়ে দুই মত
‘পার্বত্য শান্তিচুক্তি’ শান্তি প্রতিষ্ঠার এক বিরল দৃষ্টান্ত
পার্বত্য শান্তিচুক্তি: মন্ত্রী চান ‘সহযোগিতা’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আগুনে পুড়ল অর্ধশতাধিক ঘর

আগুনে পুড়ল অর্ধশতাধিক ঘর

পুড়ছে এক গ্রামের অর্ধশতাধিক ঘর। ছবি: নিউজবাংলা

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন ঠাকুরগাঁও ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ ফরহাদ হোসেন। তবে আগুনের সূত্রপাত জানাতে পারেননি এই ফায়ার কর্মকর্তা। নিশ্চিত করেছেন এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।

ঠাকুরগাঁওয়ে একটি গ্রামে আগুনে পুড়ে গেছে অর্ধশতাধিক ঘর। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও ১০-১২টি বসতবাড়ি।

সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের পটুয়া পাইকপাড়া গ্রামে বুধবার রাত ১১টার দিকে আগুন লাগে।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন ঠাকুরগাঁও ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ ফরহাদ হোসেন। তবে আগুনের সূত্রপাত জানাতে পারেননি এই ফায়ার কর্মকর্তা। নিশ্চিত করেছেন এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।

স্থানীয় আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘প্রতিবেশী শাহাদাতের ঘরে বৈদ্যুতিক তারে আগুন লাগে। পরে তা ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের ঘরগুলোতে। আমরা আগুন নেভাতে ব্যর্থ হয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দিই। তারা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু এর আগেই পুড়ে যায় ১৩ পরিবারের অন্তত ৫০টি ঘর।’

প্রত্যক্ষদর্শী শামসুল বলেন, ‘আগুনে যাদের ঘর পুড়েছে, সবাই দিনমজুর। কিছুই উদ্ধার করা যায়নি। সব ছাই হয়ে গেছে। কয়েকটা গবাদী পশু দগ্ধ হয়েছে।’

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু তাহের মোহম্মদ সামসুজ্জামান বলেন, ‘ঘটনাটি মর্মান্তিক। সেখানে রাতেই ত্রাণ পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেব। আগুনের কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
অভিযোগ নয়, আলোচনায় সমাধান: পার্বত্যমন্ত্রী
শান্তিচুক্তি: বাস্তবায়ন নিয়ে পাহাড়ে দুই মত
‘পার্বত্য শান্তিচুক্তি’ শান্তি প্রতিষ্ঠার এক বিরল দৃষ্টান্ত
পার্বত্য শান্তিচুক্তি: মন্ত্রী চান ‘সহযোগিতা’

শেয়ার করুন

মিতু হত্যা: পিবিআইকে তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ   

মিতু হত্যা: পিবিআইকে তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ   

চট্টগ্রাম আদালতে মিতু হত্যার প্রধান আসামি সাবেক এসপি বাবুল আকতার। ফাইল ছবি

বাবুল আক্তারের আইনজীবী শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাবুলের করা মামলা তদন্তের দায়িত্বে পিবিআইকেই রেখেছে আদালত। গত বছরের ১৪ নভেম্বর সিআইডিকে তদন্তভার দেয়ার আবেদন করেছিলাম। বুধবার শুনানি শেষে আদালত তা খারিজ করে দেয়।’

সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতু হত্যা মামলার তদন্তে থাকছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। অন্য সংস্থাকে মামলাটি তদন্তের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আদালত।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক আবদুল হালিম বুধবার শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

বাবুল আক্তারের আইনজীবী শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাবুলের করা মামলা তদন্তের দায়িত্বে পিবিআইকে রেখেছে আদালত। গত বছরের ১৪ নভেম্বর সিআইডিকে তদন্তভার দেয়ার আবেদন করেছিলাম। বুধবার শুনানি শেষে আদালত তা খারিজ করে দেয়।’

২০১৬ সালের ৫ জুন ভোরে ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিতে বের হওয়ার পর চট্টগ্রাম শহরের জিইসি মোড়ে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয় মিতুকে।

ঘটনার পর তৎকালীন এসপি বাবুল আক্তার পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, তার জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমের জন্য স্ত্রীকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

তবে বাবুলের শ্বশুর সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন ও শাশুড়ি সাহেদা মোশাররফ এই হত্যার জন্য বাবুলকে দায়ী করে আসছিলেন।

শুরু থেকে চট্টগ্রাম পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) মামলাটির তদন্ত করে। পরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালত মামলাটির তদন্তের ভার পিবিআইকে দেয়।

তবে কিছু দিনের মধ্যে বদলে যেতে থাকে এই চিত্র। মিতু হত্যার প্রায় তিন সপ্তাহ পর ২০১৬ সালের ২৪ জুন খিলগাঁওয়ের শ্বশুরবাড়ি থেকে বাবুল আকতারকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে প্রায় ১৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপরেই ছড়িয়ে পড়ে, বাবুলকে পুলিশ বাহিনী থেকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে।

এর দেড় মাস পর বাবুল আকতার ৯ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারের আবেদন করেন। তবে সেই আবেদন গ্রহণ করা হয়নি। এরপর ৬ সেপ্টেম্বর বাবুলকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বাবুলকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়ার পর মিতুর বাবা-মাও তার দিকে অভিযোগের আঙুল তুলতে শুরু করেন। তবে এ বিষয়ে পুলিশ ছিল প্রায় নিশ্চুপ। এরপর আদালতের নির্দেশনায় গত বছর এ মামলার দায়িত্ব ডিবির কাছ থেকে বুঝে নেয় পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

প্রায় দেড় বছরের চেষ্টায় নতুন ক্লু পেয়ে মামলার মোড় ঘুরিয়ে দেয় পিবিআই। ২০২১ সালের মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে বাবুলকে গ্রেপ্তারের আবেদন করেন তার শ্বশুর মোশাররফ হোসেন। চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় নতুন করে হত্যা মামলা করেন তিনি। এই মামলাতেই গত ১১ মে বাবুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আরও পড়ুন:
অভিযোগ নয়, আলোচনায় সমাধান: পার্বত্যমন্ত্রী
শান্তিচুক্তি: বাস্তবায়ন নিয়ে পাহাড়ে দুই মত
‘পার্বত্য শান্তিচুক্তি’ শান্তি প্রতিষ্ঠার এক বিরল দৃষ্টান্ত
পার্বত্য শান্তিচুক্তি: মন্ত্রী চান ‘সহযোগিতা’

শেয়ার করুন

৬ জেলায় সড়কে ঝরল ৯ প্রাণ

৬ জেলায় সড়কে ঝরল ৯ প্রাণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে পিকআপ ভ্যানচাপায় মোটরসাইকেলে দুই আরোহী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরেক আরোহী।

উপজেলার ইসলামপুর এলাকায় বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে এই দুর্ঘটনা হয়।

নিহতরা হলেন ১৯ বছরের অন্তর মিয়া ও ২০ বছরের রবিউল ইসলাম। তাদের বাড়ি বিজয়নগর উপজেলার বুধন্তি ইউনিয়নে। আহত ২০ বছরের আনন্দর বাড়িও সেখানে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজালাল আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের বরাতে তিনি জানান, সন্ধ্যায় মোটরসাইকেলে করে অন্তর, রবিউল ও আনন্দ হবিগঞ্চের মাধবপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সামনে বিপরীত দিক থেকে আসা পিকআপ মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়।

ঘটনাস্থলেই অন্তর ও রবিউল নিহত হন। আনন্দকে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হলে চিকিৎসক তাকে ঢাকায় রেফার করেন।

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বুধবার দুপুরে লরির ধাক্কায় মিনিবাসের এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১১ জন।

বাউশিয়া শান্তিনগর এলাকায় দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের দলনায়ক আনোয়ার হোসেন।

তিনি জানান, ভবেরচর থেকে বাউশিয়া পাখির মোর এলাকায় যাচ্ছিল মিনিবাসটি। সে সময় আনোয়ার সিমেন্টবোঝাই লরি ধাক্কা দিলে এটি খাদে পড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা গিয়ে সেখান থেকে জিন্নাহার আক্তার নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে।

আহত ১১ জনকে পাঠানো হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

৬ জেলায় সড়কে ঝরল ৯ প্রাণ

এর আগে সকালে নীলফামারীর ডোমারে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় প্রাণ গেছে ৫ বছরের শিশু সায়মা আক্তারের।

উপজেলার পাঙ্গা মটুকপুর ইউনিয়নের পাঙ্গা চৌপতি এলাকায় এ দুর্ঘটনা হয়।

স্থানীয়দের বরাতে ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্ত (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, শিশুটি বাবার সঙ্গে বাড়ির কাছেই একটি দোকানে যায়। সে সময় রাস্তা পার হতে গিয়ে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় সায়মা ছিটকে পড়ে যায়।

তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সকালে যশোর-ঝিনাইদহ সড়কে দুই দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, সকালে যশোর সদরের চুড়ামনকাটি বাজার থেকে ডিজেল কিনে সাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন বিজয়নগর গ্রামের শহিদুল ইসলাম। সে সময় ঝিনাইদহ থেকে আসা ট্রাক তাকে চাপা দেয়। সদর হাসপাতালে নেয়ার কিছুক্ষণ পর তার মৃত্যু হয়।

একই সড়কের সাতমাইল বাজারে বাস ও গরুবোঝোই নসিমনের সংঘর্ষে মেহেরপুর জেলার সদর উপজেলার গরু ব্যবসায়ী আব্দুল জব্বার নিহত হয়েছে।

এছাড়া বুধবার সকালে সড়ক দুর্ঘটনায় খাগড়ছড়িতে বাবা-ছেলে ও হবিগঞ্জে ট্রাকচালক নিহত হয়েছেন।

আরও পড়ুন:
অভিযোগ নয়, আলোচনায় সমাধান: পার্বত্যমন্ত্রী
শান্তিচুক্তি: বাস্তবায়ন নিয়ে পাহাড়ে দুই মত
‘পার্বত্য শান্তিচুক্তি’ শান্তি প্রতিষ্ঠার এক বিরল দৃষ্টান্ত
পার্বত্য শান্তিচুক্তি: মন্ত্রী চান ‘সহযোগিতা’

শেয়ার করুন

প্রধান শিক্ষকের ‘যৌন হয়রানি’তে স্কুলে যাওয়া বন্ধ

প্রধান শিক্ষকের ‘যৌন হয়রানি’তে স্কুলে যাওয়া বন্ধ

প্রধান শিক্ষক ননী গোপালের বিরুদ্ধে কয়েকজন ছাত্রী যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে স্কুলে যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা। ছবি: নিউজবাংলা

ইউএনও জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়ে বিষয়টি দেখার জন্য শিক্ষা কর্মকর্তাকে বলা হয়েছিল। আমাকে ওই কর্মকর্তা জানান, অভিযোগ মিথ্যা ছিল। তাই প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে আমি জানতে পেরেছি যে ঘটনা সত্য। দ্রুতই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।’

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জের একটি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রী দু-তিন দিন ধরে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। মা তাকে মেরেও স্কুলে পাঠাতে পারেননি। পরে জানতে পারেন না যাওয়ার কারণ।

ওই মেয়েটির মা নিউজবাংলাকে বলেন, “আমার মাইয়া ইশকুলে যায় না। দু-তিন দিন ধইরা যায় না। না যাওনে আমি হেরে (তাকে) মারছি। তাও স্বীকার যায় না। আমার ভাগ্নি আইসা কইছে, ‘কী যাইবে? এরম এরম চলতে আছে। ওই আপনারে লজ্জায় কয় না।’ আমরা তার বিচার চাই।”

এমন অভিযোগ শুধু একজন ছাত্রীর নয়। ওই স্কুলের একাধিক ছাত্রী ও তাদের অভিভাবক প্রধান শিক্ষক ননী গোপাল হালদারের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন। স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে বেশ কয়েকজন।

লিখিত অভিযোগের পর চেয়ারম্যান বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন ও স্কুলে যাওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন অভিভাবকরা।

এমন অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বাদশাকে ফোন দিয়ে সাংবাদিক পরিচয় দিলে তিনি কল কেটে দেন। আর ধরেননি।

স্কুলের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ২৬ জন, তাদের মধ্যে ছাত্রী ১৬ জন। কয়েক দিন হলো ক্লাসে আসছে চার থেকে পাঁচ ছাত্রী।

পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রী বলে, ‘স্যার গেলে আমাগো ধরে। আর কত কিছু কয়। হেই জন্য যাই না।’

এক অভিভাবক জানান, যৌন হয়রানির বিষয়টি স্কুলের বাংলা শিক্ষক ময়না রাণী শিকদারকে জানালে তিনি ছাত্রীদের বলেন, ‘ওতে কী হয়? স্যার তো তোমাদের একটু আদর করতেই পারেন।’

তবে ময়না বলেন, ‘আমার কাছে কখনও কোনো ছাত্রী এমন অভিযোগ করেনি।’

গত ৫ জানুয়ারি এক ছাত্রী তার নানা-নানিকে বিষয়টি জানায়। তারা ১১ জানুয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে ননী গোপালের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন। এরপর বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়। সে সময় আরও কয়েকজন ছাত্রী তাদের পরিবারকে একই অভিযোগ জানায়।

ইউএনওর কাছে অভিযোগের পরও কোনো বিচার পাননি বলে অভিযোগ অভিভাবকদের।

এ বিষয়ে ইউএনও জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়ে বিষয়টি দেখার জন্য শিক্ষা কর্মকর্তাকে বলা হয়েছিল। আমাকে ওই কর্মকর্তা জানান, অভিযোগ মিথ্যা ছিল। তাই প্রত্যাহার করা হয়েছে।

‘তবে আমি জানতে পেরেছি যে ঘটনা সত্য। দ্রুতই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।’

একজন অভিযোগে জানান, এর আগে ওই শিক্ষক যে স্কুলে ছিলেন সেখানে এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে স্থানীয়দের কাছে মার খেয়েছেন। ৩০ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে তিনি এখানে বদলি হয়ে এসেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে প্রধান শিক্ষক ননী গোপালকে ফোন দিয়ে পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন:
অভিযোগ নয়, আলোচনায় সমাধান: পার্বত্যমন্ত্রী
শান্তিচুক্তি: বাস্তবায়ন নিয়ে পাহাড়ে দুই মত
‘পার্বত্য শান্তিচুক্তি’ শান্তি প্রতিষ্ঠার এক বিরল দৃষ্টান্ত
পার্বত্য শান্তিচুক্তি: মন্ত্রী চান ‘সহযোগিতা’

শেয়ার করুন

শাবিতে বিক্ষোভ: অনশনরত দুই শিক্ষার্থী হাসপাতালে    

শাবিতে বিক্ষোভ: অনশনরত দুই শিক্ষার্থী হাসপাতালে    

হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে অনশন করে অসুস্থ হয়ে পড়া এক ছাত্রকে। ছবি: নিউজবাংলা

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি ও অনশন চলাকালে রাতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন মোজাম্মেল। এর কিছুক্ষণ পর দীপান্বিতা নামের আরেক ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের দুজনকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অবস্থা স্থিতিশীল।

উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) দুই শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বুধবার রাত ১১টার দিকে বিক্ষোভ কর্মসূচির সময় ওই দুই শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের অ্যাম্বুলেন্সে করে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অসুস্থ শিক্ষার্থীরা হলেন, বাংলা বিভাগের মোজাম্মেল হক ও সমাজকর্ম বিভাগের দীপান্বিতা বৃষ্টি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি ও অনশন চলাকালে রাতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন মোজাম্মেল। এর কিছুক্ষণ পর দীপান্বিতা নামের আরেক ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের দুজনকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অবস্থা স্থিতিশীল।

এদিকে রাত পৌনে নয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষক আন্দোলনরতদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে, প্রতিবাদী স্লোগান দিতে থাকেন শিক্ষার্থীরা।

এই দলে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. তুলসী কুমার দাস, সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মস্তাবুর রহমান, সিনিয়র অধ্যাপক ড. আখতারুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিম, অধ্যাপক ড. কবির হোসেন, অধ্যাপক আমেনা পারভীন, অধ্যাপক ড. রাশেদ তালুকদার, অধ্যাপক ড. হিমাদ্রি শেখর রায়সহ অর্ধশতাধিক শিক্ষক।

এ সময় শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষকদের কাছে জানতে চান, তাদের দাবির সঙ্গে একমত কি না। এর উত্তর দেননি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম।

একপর্যায়ে কয়েকজন শিক্ষক জোড় হাত করে শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করেন অনশন ছেড়ে যাওয়ার। জবাবে একই কায়দায় তাদের সঙ্গে একাত্মতা জানানোর অনুরোধ করেন আন্দোলনকারীরা।

শিক্ষার্থীদের অবস্থান অনড় দেখে রাত ১১টার দিকে ঘটনাস্থল ছেড়ে যান শিক্ষকরা।

আরও পড়ুন:
অভিযোগ নয়, আলোচনায় সমাধান: পার্বত্যমন্ত্রী
শান্তিচুক্তি: বাস্তবায়ন নিয়ে পাহাড়ে দুই মত
‘পার্বত্য শান্তিচুক্তি’ শান্তি প্রতিষ্ঠার এক বিরল দৃষ্টান্ত
পার্বত্য শান্তিচুক্তি: মন্ত্রী চান ‘সহযোগিতা’

শেয়ার করুন

স্টেশন উদ্বোধনে যাওয়া ফায়ার সার্ভিসের গাড়িতে আগুন

স্টেশন উদ্বোধনে যাওয়া ফায়ার সার্ভিসের গাড়িতে আগুন

নতুন স্টেশনের নিচে ফায়ার সার্ভিসের পুড়ে যাওয়া গাড়ি। ছবি: নিউজবাংলা

ইঞ্জিনে ত্রুটির কারণে ওই গাড়িতে আগুন ধরে যায় বলে ধারণা ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তার।

বরগুনার তালতলীতে ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়ি পুড়ে গেছে।

উপজেলার নবনির্মিত ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ভবনের নিচে বুধবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস তালতলী স্টেশন জানায়, গত মাসের শেষ দিকে তালতলীর ওই ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের নির্মাণকাজ শেষ হয়।

সেটির উদ্বোধনের প্রস্তুতি নিতে বিকেলে আমতলী থেকে পানিবাহী তিনটি গাড়ি নিয়ে সেখানে যান ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা। ওই স্টেশনে গাড়িটি ঢোকামাত্রই এতে আগুন লেগে যায়।

অল্প সময়েই সেটি নিভিয়ে ফেলা হয়। তবে পুড়ে যায় গাড়ির পেছনের অংশ ও সেখানে রাখা সরঞ্জাম।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন বরগুনার উপসহকারী পরিচালক জাহাঙ্গীর আহমেদ বলেন, ‘ইঞ্জিনে ত্রুটির কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।’

আরও পড়ুন:
অভিযোগ নয়, আলোচনায় সমাধান: পার্বত্যমন্ত্রী
শান্তিচুক্তি: বাস্তবায়ন নিয়ে পাহাড়ে দুই মত
‘পার্বত্য শান্তিচুক্তি’ শান্তি প্রতিষ্ঠার এক বিরল দৃষ্টান্ত
পার্বত্য শান্তিচুক্তি: মন্ত্রী চান ‘সহযোগিতা’

শেয়ার করুন

অস্ত্র ঠেকিয়ে ধর্ষণের দায়ে যাবজ্জীবন

অস্ত্র ঠেকিয়ে ধর্ষণের দায়ে যাবজ্জীবন

২০১৫ সালের ৩১ মে রাতে বাড়িতে ঢুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে ওই নারীকে ধর্ষণ করে খোকা। সে সময় ঘরে ছিল গৃহবধূর দুই শিশুসন্তান। ধর্ষণের পর মোবাইল ফোন ও সোনার গয়না লুট করে পালিয়ে যায় আসামি।

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে অস্ত্র ঠেকিয়ে গৃহবধূকে ধর্ষণের দায়ে আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

বাগেরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক নূরে আলম বুধবার দুপুরে এ রায় দেন।

কারাদণ্ড পাওয়া আসামি হলো মোরেলগঞ্জের উত্তর ফুলহাতা গ্রামের খোকা হাওলাদার।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রণজিত কুমার মণ্ডল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

২০১৫ সালের ৩১ মে রাতে বাড়িতে ঢুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে ওই নারীকে ধর্ষণ করে খোকা। সে সময় ঘরে ছিল গৃহবধূর দুই শিশুসন্তান। ধর্ষণের পর মোবাইল ফোন ও সোনার গয়না লুট করে পালিয়ে যায় আসামি।

ওই নারীর স্বামী পরদিন খোকার নামে মোরেলগঞ্জ থানায় মামলা করেন।

৯ জনের সাক্ষ্য নেয়ার পর ধর্ষণের দায়ে আদালত খোকাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।

আরও পড়ুন:
অভিযোগ নয়, আলোচনায় সমাধান: পার্বত্যমন্ত্রী
শান্তিচুক্তি: বাস্তবায়ন নিয়ে পাহাড়ে দুই মত
‘পার্বত্য শান্তিচুক্তি’ শান্তি প্রতিষ্ঠার এক বিরল দৃষ্টান্ত
পার্বত্য শান্তিচুক্তি: মন্ত্রী চান ‘সহযোগিতা’

শেয়ার করুন