শর্ত ভঙ্গ করে ওটিটিতে অনুষ্ঠান প্রচার নয়: তথ্যমন্ত্রী

player
শর্ত ভঙ্গ করে ওটিটিতে অনুষ্ঠান প্রচার নয়: তথ্যমন্ত্রী

ফাইল ছবি

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘ওটিটি প্ল্যাটফর্মের ব্যাপারে মোবাইল অপারেটরদের কাছে জানতে চাওয়া হবে। নিয়ম বহির্ভূতভাবে লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করে কিছু করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

লাইসেন্সের শর্ত ভেঙে ওটিটি (ওভার দ্য টপ) প্লাটফর্মে অনুষ্ঠান প্রচার করলে মোবাইল অপারেটরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

সচিবালয়ে টেলিভিশন মালিকদের সংগঠন এ্যাটকোর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ওটিটি প্ল্যাটফর্মের ব্যাপারে মোবাইল অপারেটরদের কাছে জানতে চাওয়া হবে। নিয়ম বহির্ভূতভাবে লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করে কিছু করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এ সময় আইপি টিভি নিয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আইপি টিভি এখন বাস্তবতা। যাচাই বাছাই করেই লাইসেন্স দেয়া হবে। ১৪টি আইপি টিভির লাইসেন্স দেয়া হয়েছে।

‘আইপিটিভিতে কোন সংবাদ প্রচার করা যাবে না’, যোগ করেন তিনি।

আরও পড়ুন:
নীতিমালার আওতায় আসছে ওটিটি প্লাটফর্ম
সেলিমের কনটেন্টে কাজ করছেন যারা
ঈদে আসছে মিথ্যা ও ক্ষমতার অন্তর্গত গল্পের ‘পঁচিশ’
এক ক্লিকেই দেখুন ‘ঠান্ডা’
পরীমনির স্বামী তারিক আনাম খান!

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আবারও পুড়ল রোহিঙ্গাদের বসতি

আবারও পুড়ল রোহিঙ্গাদের বসতি

ফায়ার সার্ভিসের আড়াই ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ছবি: নিউজবাংলা

১৪ আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক এসপি নাঈমুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আগুনে পুড়ে গেছে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দুই ব্লকের ২৯ বসতি। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আগুন লাগা কারণ এখনও জানা যায়নি। পরে বিস্তারিত জানা যাবে।’

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প ৫ এ আবারও ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুড়ে গেছে রোহিঙ্গাদের ২৯টি বসতঘর।

সোমবার রাত দেড়টার দিকে ক্যাম্প-৫ এর ইরানী পাহাড় জি/২ ব্লক থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট আড়াই ঘণ্টা চেষ্টার পর মঙ্গলবার ভোর চারটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ এমদাদুল হক।

১৪ আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক এসপি নাঈমুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আগুনে পুড়ে গেছে দুই ব্লকের ২৯ বসতি। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আগুন লাগা কারণ এখনও জানা যায়নি। পরে বিস্তারিত জানা যাবে।’

এর আগে, গত ৯ জানুয়ারি উখিয়ার শফিউল্লাহ কাটা নামে একটি শরণার্থী শিবিরে অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৬০০টি ঘর পুড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় হারিয়েছে।

একইভাবে গত ২ জানুয়ারি উখিয়ার বালুখালী ২০ নম্বর ক্যাম্পে জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা (আইওএম) পরিচালিত করোনা হাসপাতালে আগুন লাগে। এতে কেউ হতাহত না হলেও হাসপাতালের আইসোলেশন সেন্টারের ১৬টি কেবিন পুড়ে যায়।

তারও আগে, গত বছরের ২২ মার্চ উখিয়ার বালুখালীতে আরেকটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃত্যু হয় অন্তত ১২ জন রোহিঙ্গার। আগুনে পুড়ে যায় ১০ হাজারের বেশি ঘর।

আরও পড়ুন:
নীতিমালার আওতায় আসছে ওটিটি প্লাটফর্ম
সেলিমের কনটেন্টে কাজ করছেন যারা
ঈদে আসছে মিথ্যা ও ক্ষমতার অন্তর্গত গল্পের ‘পঁচিশ’
এক ক্লিকেই দেখুন ‘ঠান্ডা’
পরীমনির স্বামী তারিক আনাম খান!

শেয়ার করুন

‘রসগোল্লা’য় অচেনা স্বাদের রসগোল্লা

‘রসগোল্লা’য় অচেনা স্বাদের রসগোল্লা

রাজশাহীর রসগোল্লা দোকানের মিষ্টি। ছবি: নিউজবাংলা

বিচিত্র ধরনের আর স্বাদের উদ্ভাবনী মিষ্টি এনে রাজশাহী শহরে সাড়া ফেলে দিয়েছে একটি মিষ্টির দোকান। খেজুরের গুড়ের মিষ্টির পাশাপাশি বিভিন্ন আমের রস থেকে বানানো মিষ্টি এবং কাঁচা মরিচ মিষ্টির কথা ছড়িয়ে পড়ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

রাজশাহী শহরের অলিগলিতে রয়েছে অগণিত মিষ্টির দোকান। এর মধ্যে অনেক দোকানেরই বেশ নামডাক। পরিচিত হতে এগুলোর লেগেছে বছরের পর বছর। তবে ভিন্নধর্মী কিছু উদ্যোগ নিয়ে দুই সপ্তাহে আলোচনায় উঠে এসেছে একটি দোকান, যেটির নাম ‘রসগোল্লা’।

শুরুর দিন খেজুর গুড়ের মিষ্টি নিয়ে আলোচনায় আসে তারা। এরপর কাঁচা মরিচের মিষ্টি, আমের স্বাদে মিষ্টি বানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জায়গা করে নিয়েছে দোকানটি। এখন এ মিষ্টির দোকানে ভিড় প্রতিদিনকার। বেশির ভাগ ক্রেতাই ছাত্র-ছাত্রী।

রাজশাহী শহরের ভদ্রা রেলক্রসিংয়ের পাশেই দুই খামারি বন্ধু মিলে চালু করেছেন এই মিষ্টির দোকান। একজন ‘সওদাগর এগ্রো’ নামক একটি খামারের মালিক আরাফাত রুবেল, অন্যজন ‘আবরার ডেইরি ফার্ম’-এর মালিক রবিউল করিম। নিজেদের খামারের দুধ থেকে ছানা করে মিষ্টি বানাচ্ছেন তারা।

গত ১ জানুয়ারি শুরু হয়েছে তাদের এ যাত্রা। প্রথম দিনই আলোচনায় জায়গা করে নেয় খেজুর গুড় দিয়ে বানানো রসগোল্লা। তাদের প্রচারের ধরনেও আছে ভিন্নতা। মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেই তারা প্রচারে কাজে লাগিয়েছেন।

‘রসগোল্লা’য় অচেনা স্বাদের রসগোল্লা

প্রথম দিন বিকেলে চালু হওয়ার পর রাতেই শেষ হয়ে যায় খেজুর গুড়ের মিষ্টি। এরপর গত কয়েক দিনে দোকানে এসেছে কমলার মিষ্টি, কাঁচা মরিচ মিষ্টি, জাফরান মিষ্টি, নারকেল কাশ্মীরি মিষ্টি, ল্যাংচা, রাজকুমার, চাঁদকুমারী, নবাব, জাফরান এবং ফজলি আমের মিষ্টি। ফজলি আম খাওয়ার জন্য যেভাবে আম কাটা হয় মিষ্টির ধরনও করা হয় ঠিক তেমনই। দেখে যে কারো মনে হতে পারে সত্যিকারের আমের ফালি। আমের ফ্লেভারও বেশ টাটকা।

‘রসগোল্লা’য় অচেনা স্বাদের রসগোল্লা

ফজলি মিষ্টি নিয়ে আলোচনার মাঝেই ১২ জানুয়ারি তারা নিয়ে এসেছে হাঁড়িভাঙা মিষ্টি। রংপুরের আলোচিত আম হাঁড়িভাঙা। আমের মিষ্টি বানানোর পরিকল্পনা তাদের কয়েক মাস আগেরই। এই লক্ষ্য নিয়ে তারা আমের মৌসুমে পাকা আম পাল্প করে রেখেছিলেন ফ্রিজে। এখন সেই পাল্পের সঙ্গে দুধ আর মসলা দিয়ে প্রথমে জাল করে শুকানো হচ্ছে। ওদিকে দুধের ছানা, চিনি, কাজুবাদাম, কাঠবাদাম, চেরি, কিশমিশ আর এলাচের সংমিশ্রণে করা হচ্ছে খামির। এই খামির থেকে প্রথমে বানানো হচ্ছে মিষ্টি। মিষ্টির গায়ে লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে মোয়া। তারপর মিষ্টিটা বার্গারের মতো কেটে ভেতরে ঢোকানো হচ্ছে দুধে জাল দেওয়া আমের পাল্প। তার ওপরে সাজিয়ে রাখা হচ্ছে কাঠবাদাম, কিশমিশ আর চেরি।

‘রসগোল্লা’য় অচেনা স্বাদের রসগোল্লা

দোকানের উদ্যোক্তা আরাফাত রুবেল দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। রুবেল জানান, করোনাকালে নিজেদের খামারের দুধ বিক্রি করতে বেগ পাচ্ছিলেন তারা। এই অবস্থায় বিকল্প ভাবনা হিসেবে তাদের মাথায় আসে দুধ থেকে মিষ্টি বানানোর ভাবনা। তারই বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে ১ জানুয়ারি থেকে।

দুই বন্ধু নিজেদের খামারের দুধ থেকে খাঁটি ছানার মিষ্টি বানাচ্ছেন। এর বাইরে মাঠ পর্যায়ের খামার থেকেও প্রতিদিন দুধ আনতে হচ্ছে। প্রতিদিন তারা প্রায় ১৮ থেকে ২০ মণ দুধের ছানা করছেন। বানাচ্ছেন মিষ্টি।

‘রসগোল্লা’য় অচেনা স্বাদের রসগোল্লা

রুবেল জানান, তারা কিছুটা ভিন্ন ভাবনা নিয়েই এটি শুরু করেছেন। গতানুগতিক ধারার মিষ্টির বাইরে এসে তারা মানুষকে নতুন স্বাদ দেয়ার চেষ্টা করছেন। এ জন্য খেজুর গুড়, আম, মরিচের স্বাদের মিষ্টির চাহিদা অনেক। যারা বাইরে থেকে আসছেন তাদের কাছে আমের মিষ্টির চাহিদা বেশ। এ ছাড়া এখন যেহেতু আমের মৌসুম নয়, তাই আমের স্বাদ পেতে অনেকেই কিনছেন।

‘রসগোল্লা’য় অচেনা স্বাদের রসগোল্লা

সব থেকে বেশি চাহিদা খেজুর গুড়ের মিষ্টির। প্রতি কেজি খেজুর গুড়ের মিষ্টি বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকা করে। আর আমের মিষ্টির কেজি ৫৫০ টাকা। এ ছাড়া ল্যাংচা ৩৫০ টাকা, কাঁচা মরিচের মিষ্টি ৩২০ টাকা, টাটকা কমলার ফালি দিয়ে বানানো মিষ্টি ৩২০ টাকা কেজি।

রুবেল জানান, আমের মৌসুম এলে আমের তৈরি মিষ্টির দাম কিছুটা কমবে।

‘রসগোল্লা’য় অচেনা স্বাদের রসগোল্লা

প্রথম দিন থেকেই দোকানে সাড়া মিলছে প্রত্যাশার থেকেও বেশি। মানুষের আগ্রহ দেখে তারা অনেক বেশি আশাবাদী হচ্ছেন। তবে এখানকার বেশির ভাগ ক্রেতা শিক্ষার্থী বা তরুণ। বাসায় নেয়ার জন্য মিষ্টির ক্রেতা তুলনামূলক কম। তারা এখানে বসে দু-একটা মিষ্টি খেয়ে চলে যাচ্ছেন।

রুবেল বললেন, তাদের মূল প্রচার হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। যারা এর পাঠক, তারাই মিষ্টির দোকানে আসছেন বেশি।

আরও পড়ুন:
নীতিমালার আওতায় আসছে ওটিটি প্লাটফর্ম
সেলিমের কনটেন্টে কাজ করছেন যারা
ঈদে আসছে মিথ্যা ও ক্ষমতার অন্তর্গত গল্পের ‘পঁচিশ’
এক ক্লিকেই দেখুন ‘ঠান্ডা’
পরীমনির স্বামী তারিক আনাম খান!

শেয়ার করুন

যে কারণে আইভী বারবার

যে কারণে আইভী বারবার

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তিন বারের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

সেলিনা হায়াৎ আইভীকেই কেন বারবার বেছে নেয় নারায়ণগঞ্জবাসী? সেটা কী মেয়র হিসেবে তার পারফরম্যান্স, নাকি শামীম ওসমান বিরোধিতা?

উন্নয়ন, সাহসিকতা ও সততা—এই তিন গুণ দিয়ে নবনির্বাচিত মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী নারায়ণগঞ্জবাসীর মন জয়ের পাশাপাশি আস্থা অর্জনে সফল হয়েছেন বলে মনে করেন নগরের বিশিষ্টজনরা।

তারই ধারাবাহিকতায় এই হ্যাটট্রিক জয় এসেছে বলে মনে করেন তারা। কিন্তু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে আইভী ভোটযুদ্ধে পাস করলেও এই জয় নৌকার নয় বলে অভিমত তাদের।

রোববার অনুষ্ঠিত হয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোট। সেই ভোটে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হাতি প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকারকে উড়িয়ে দিয়ে বিজয় ছিনিয়ে নেন আইভী। ব্যবধান ছিল ৬৬ হাজার ৯৩১ ভোট। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট না হলে এই ব্যবধান আরও বড় হতে পারত বলেও বিজয়ের পর নিজের প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন মেয়র আইভী।

আইভীর পথটি অবশ্য মোটেও সহজ ছিল না। তার কারণ নারায়ণগঞ্জের ভোটের সমীকরণ। এখানকার হিসাব-নিকাশ দেশের আর ১০টি এলাকার চেয়ে ভিন্ন। এই জেলার রাজনীতিতে প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের সঙ্গে তার প্রকাশ্য বিরোধ মানুষের মুখে মুখে ফেরে। আর সেই বিরোধ হয়ে ওঠে নির্বাচনে মূল আলোচ্য বিষয়।

২০১৬ সালে সিটি নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহারের অনুমতি এলে আওয়ামী লীগ আস্থা রাখেন আইভীর ওপর। সেই নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপি নেতা সাখাওয়াত হোসেনকে ৭৪ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারান আইভী।

নারায়ণগঞ্জ পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনের মর্যাদা দেয়ার পর প্রথম নির্বাচন হয় ২০১১ সালে। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য হলেও দলের সমর্থন বঞ্চিত হন আইভী। কিন্তু তৎকালীন পৌর মেয়র স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মাঠে থাকেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত হেভিওয়েট প্রার্থী শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে। নির্বাচনের মাঠে পারিবারিক দ্বন্দ্ব হয়ে ওঠে প্রকাশ্য। নির্বাচনে কী হবে না হবে তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ ছিল না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লাখো ভোটের ব্যবধানে শামীম ওসমানকে পরাস্ত করে নারায়ণগঞ্জের ইতিহাসের প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন আইভী।

এমনকি তার আগে যে পৌরসভা ছিল, তারও নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। এখন পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজয়ের স্বাদ নিতে হয়নি আইভীকে। ওই সময়ের জেলা বিএনপির সহসভাপতি নূর ইসলামকে হারিয়ে পৌরসভার নেতৃত্ব নেন তিনি।

সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, ‘সব কটি নির্বাচন ছিল চ্যালেঞ্জিং। এটিও তার চেয়ে কম নয়। একেকটার ধরন একেক রকম। আমি এত চ্যালেঞ্জের কথা বলতে চাই না। নির্বাচন মানেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা-প্রতিযোগিতা।’

কোন জাদুমন্ত্রে তিনি নারায়ণগঞ্জবাসীকে মুগ্ধ করে রেখেছেন, জয় নিশ্চিত হওয়ার পর প্রশ্নটি রাখা হয় সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছে।

মৃদু হেসে নবনির্বাচিত এই মেয়র বলেন, ‘আমার যত কিছু হয়েছে বা অতীতেও যে বিজয় হয়েছে, সব কিছুর মূলে কিন্তু আমার জনশক্তি, জনস্রোত এবং জনসমর্থন। জনসমর্থন যদি না থাকত, তাহলে আমি নারায়ণগঞ্জে দাঁড়িয়ে থাকতে পারতাম না।’

কেন এই জনসমর্থন তার ব্যাখ্যাও দাঁড় করিয়েছেন নৌকা প্রতীকের এই বিজয়ী।

আইভী বলেন, ‘এটা সত্যি যে, জনগণের যে আস্থা আমার প্রতি, তার কারণ মানুষকে কখনও মিথ্যে বলিনি, কখনও অযথা আশ্বাস দিইনি। আমি গতানুগতিকের বাইরে গিয়ে যে আপনাদের সঙ্গে মিশেছি, কাজ করেছি, যেটা পেরেছি সেটা করেছি, যেটা পারিনি সেটা বলিনি। সবচেয়ে বড় কথা হলো নিঃস্বার্থভাবে মানুষকে ভালোবেসেছি, মানুষ প্রতিবারই আমাকে প্রতিদান দিয়েছে।’

আইভীর এই সাফল্যকে উন্নয়ন, সাহসিকতা ও সততার মেলবন্ধন মনে করে নারায়ণগঞ্জে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েল বলেন, ‘এটা খুব সহজ জিনিস। প্রথমত তার কাজ, এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিগত দিনে তিনি মানুষের কল্যাণে অনেক কাজ করেছেন। এটি উন্নয়ন বলি বা অন্য যেভাবেই সংজ্ঞায়িত করি। এটা নগরবাসীর কাছে মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

সাফল্যের দ্বিতীয় কারণ হিসেবে ধীমান সাহা বলছেন, সেলিনা হায়াৎ আইভীর সততার কথা।

তিনি বলেন, ‘এসব কাজের পেছনে তার সততা ছিল। একটা মানুষ শতভাগ সৎ হয় না। তিনি ৯৯ পার্সেন্ট সৎ ছিলেন। এটা নগরবাসী দেখেছে। তার কাজের মধ্যে স্বচ্ছতা ছিল, সততা ছিল। সততার পাশাপাশি জবাবদিহিও ছিল।

‘আমরা দেখেছি, মেয়র আইভীর পেছনে প্রতিপক্ষের অন্তত ১০০টা ক্যামেরা লাগানো ছিল। এখানে আমি আক্ষরিক ক্যামেরার কথা বলছি না, দৃষ্টিকে বুঝিয়েছি। এত কিছুর পরও তিনি তার কাজটি করে গেছেন। তাই সততা ও স্বচ্ছতার বিষয়ে আমার কিছু বলার আছে বলে মনে হয় না।’

আইভীর ‘সাহস’ তাকে অন্য একটি উচ্চতায় নিয়েছে বলেও মত তার।

ধীমান সাহা জুয়েল বলেন, ‘কোনো একটি কাজ করতে গিয়ে যদি একটা বিল্ডিং ভাঙতে হয় বা কারও একটু ক্ষতি হয়ে যায়, তারপরও দশজনের কল্যাণের জন্য কাজটা তিনি করেছেন। এই সাহসটা অন্য কোনো জনপ্রতিনিধির মধ্যে দেখা যায় না।’

নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী শামীম ওসমানের সঙ্গে বিরোধের প্রসঙ্গ টেনে ধীমান সাহা বলেন, ‘সাহস দুই ধরনের। একটি হচ্ছে কাজ করার সাহস। আরেকটি হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের একটি অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করার যে সাহস। সৎ থেকে, কাজ করে, শুভ শক্তির সঙ্গে থেকে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করা। অশুভ শক্তি প্রতিটা জেলায়ই আছে। প্রতিটা জেলায়ই একাধিক অশুভ শক্তি থাকে। পাশাপাশি শুভ শক্তিও থাকে। শুভ শক্তিদের যে সম্মিলন, অশুভ শক্তিকে পরাভূত করার যে সাহস, লড়াই করার যে সাহস, তা আইভীর মধ্যে আছে।’

আর তাই আইভী জনমানুষের হৃদয়ে আছে জানিয়ে ধীমান সাহা জুয়েল বলেন, ‘গতকাল এর প্রতিফলন আমরা দেখেছি, মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে।’

নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল করিম দীপু মনে করেন উন্নয়ন, সন্ত্রাস বিরোধিতা আর তরুণদের কাছে টানতে পারার ক্ষমতার দিক বিবেচনায় নিলে, অন্য যে কোনো প্রার্থীর চেয়ে এগিয়ে সেলিনা হায়াৎ আইভী।

তিনি বলেন, ‘এটা স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এখানে মানুষ উন্নয়ন চায়। এখানে উন্নয়নের জয় হয়েছে। উনি দৃশ্যমান উন্নয়ন অনেক করেছেন, আমরা দেখেছি।’

দীপু বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের বাস্তবতায় সন্ত্রাসবিরোধী যে অবস্থান, সেটা একটা ব্যাপার। তিনি একজন ভিশনারি মেয়র। ছোট করে হলেও ভবিষ্যতে কী কী করবেন তার ঘোষণা দিয়েছেন। তার মধ্যে ছিল সবুজবান্ধব নগরী গড়া, যেটাকে আমরা বলছি গ্রিন কনসেপ্ট।’

গ্রিন কনসেপ্টই তরুণদের কাছে টানার কৌশল বলে মনে করেন এই বিশ্লেষক। তিনি বলেন, ‘আমরা যারা বয়স্ক ভোটার, তারা এতটা বুঝি না। আমরা হয়তো গ্রিন কনসেপ্ট মানে গাছ লাগানো বুঝি। কিন্তু যারা তরুণ ভোটার, তাদের জন্য বিষয়টা জরুরি। তারা এই বিষয়গুলো আমলে নিয়েছে বলে আমি মনে করি।’

আইভীর পারিবারিক পরিচয়কেও বড় করে দেখছেন দীপু। তিনি বলেন, ‘তার পরিবারের ভক্ত যারা আছেন, তারা সংখ্যায় বিশাল, যারা ওনার বাইরে যাবে না।’

বন্দরকে মূল শহরের সঙ্গে সংযুক্ত করতে শীতলক্ষ্যা নদীতে সেতু তৈরি নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রাণের দাবি। অন্তত নির্বাচনের মাঠে মানুষের সঙ্গে কথা বলে তার গুরুত্ব বোঝা গেছে।

জাহিদুল করিম দীপু বলেন, ‘আমাদের ছোটবেলা থেকে একটা দাবি ছিল কদম রসুল ব্রিজ। তিনি এর ব্যাপারে বলেছেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে ব্রিজটির কাজের উদ্বোধন হবে বলে আশা করছেন।’

এ ছাড়া সামাজিক বাস্তবতায় নারীদের অকুণ্ঠ সমর্থন পেয়েছেন সেলিনা হায়াৎ আইভী।

তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তার পাস করাকে নৌকার বিজয় বলতে নারাজ তিনি। বলেন, ‘সাংস্কৃতিক জোট একটা লিফলেট করেছে, যেখানে কোনো মার্কা নেই। বর্তমান যে অবস্থা, সেখানে বিভিন্ন কারণে মানুষের নৌকা প্রতীকের প্রতি অনীহা আছে। কিন্তু আইভী এর ঊর্ধ্বে। লিফলেটেও বলা হয়েছে, আইভীকে সর্বস্তরের মানুষ ভোট দিবে এবং সেভাবেই আইভীর জয় হবে।’

নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি বলেন, ‘মানুষ আইভীকে ভোট দিয়েছে দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে তার সাহসিকতা ও গত ১০ বছরে যে দৃশ্যমান উন্নয়ন করেছেন সে জন্য।’

সব গুণ বাদ রেখে সেলিনা হায়াৎ আইভীর নারায়ণগঞ্জবাসীর উন্নয়নে নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করাকে এগিয়ে রাখলেন নারায়ণগঞ্জ মহিলা পরিষদের সভাপতি লক্ষ্মী চক্রবর্তী।

তিনি বলেন, ‘যেটা দৃশ্যমান দেখি, যেটা অনুভব করি, সেটা হলো কাজ। নিজের কর্মক্ষেত্র দিয়েই তো মানুষের পরিচয়। কাজই তাকে আর সবার চেয়ে এগিয়ে রেখেছে। সিটি করপোরেশন বলি, ইউনিয়ন পরিষদ সবখানেই তো পাবলিক ফাংশন। মানুষ আসলে কাজ দিয়েই মূল্যায়ন করে।’

আরও পড়ুন:
নীতিমালার আওতায় আসছে ওটিটি প্লাটফর্ম
সেলিমের কনটেন্টে কাজ করছেন যারা
ঈদে আসছে মিথ্যা ও ক্ষমতার অন্তর্গত গল্পের ‘পঁচিশ’
এক ক্লিকেই দেখুন ‘ঠান্ডা’
পরীমনির স্বামী তারিক আনাম খান!

শেয়ার করুন

শাবিতে হামলা: ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ

শাবিতে হামলা: ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ

সোমবার রাতে শাবি উপাচার্যের বাসভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। ছবি: নিউজবাংলা

ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভিসি ফরিদ উদ্দিনের পদত্যাগ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে। অন্যথায় ঢাবি, চবি ও রাবিতে ফুঁসে ওঠা শিক্ষার্থীদের নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে।’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় সৃষ্ট বিক্ষোভ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়েছে। শাবির আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে ঢাকা, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সোমবার নিজ নিজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন।

ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবিতে শাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। তারা বর্তমান প্রক্টরিয়াল বডিরও অপসারণ এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও হল বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতেও বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন। বলছেন, কোনো অবস্থায়ই হল ছাড়বেন না তারা।

সোমবার সকাল থেকে শাবি ক্যাম্পাসে বিক্ষোভের পর বিকেলের দিকে আন্দোলনকারীরা ভিসির বাসভবনের দিকে এগোতে থাকেন। ভবনের ফটকে বিপুলসংখ্যক পুলিশের বাধার মুখে তারা সেখানেই অবস্থান নেন।

রাত পৌনে ১টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় শত শত শিক্ষার্থী একই স্থানে বিক্ষোভ করছিলেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

ভিসির বাংলো ঘিরে রেখেছে বিপুলসংখ্যক পুলিশ।

রাতে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ মুহিবুল আলম নিউজবাংলাকে জানান, শিক্ষক সমিতি পুরো পরিস্থিতি এখনও পর্যবেক্ষণ করছে। ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ক্যাম্পাসে নিজ বাসভবনেই আছেন।

তিনি সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্টদের আরও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ভিসিসহ প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষার্থীদের যে আন্দোলন চলছে সোমবার সকালে সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা আরও জোরালো হয়ে ওঠে। দলে দলে এসে আন্দোলনে একাত্মতা জানান সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

তাদের ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। এখানে পুলিশ থাকবে কেন। তাদের এই ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যেতে হবে।

এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বহিরাগতরা নেতৃত্ব দিচ্ছে বলে দুপুরে অভিযোগ করেন ভিসি ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘বহিরাগতদের ইন্ধনে এখন আন্দোলন চলছে। রোববার রাত থেকেই ক্যাম্পাসে বহিরাগতরা প্রবেশ করেছে বলে আমার কাছে তথ্য আছে।’

তবে ভিসির এমন দাবি নাকচ করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, ঘটনা ধামাচাপা দিতে মিথ্যাচার করছেন উপাচার্য। ক্যাম্পাসে পুলিশ ছাড়া বহিরাগত কেউ নেই।

শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় আট সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে গণিত বিভাগের অধ্যাপক ডা. রাশেদ তালুকদারকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য জহির বিন আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রোববারের ঘটনার সূত্রপাত কীভাবে, কারা দোষী- এটা আমরা খুঁজে বের করব। বিশ্ববিদ্যালয় শান্ত ছিল, হঠাৎ কেন এমন অশান্ত হয়ে উঠল তা বের করা হবে।’

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাদের তিন দফা দাবির আন্দোলনে ভিসির নির্দেশেই রোববার সন্ধ্যায় পুলিশ হামলা চালিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। এ কারণে প্রক্টরিয়াল বডিরও পদত্যাগের দাবি আনা হয়েছে।

শাবির উত্তাপ ঢাবিতে

শাবি ভিসি ফরিদ উদ্দিনের অপসারণ দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ করেছে বামপন্থি বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন।

তারা শাবি বন্ধের ঘোষণাকে অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছে।

সংগঠনগুলো ঢাবি ক্যাম্পাসে সোমবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত পৃথক পৃথক কর্মসূচি পালন করে। পরে সব সংগঠন এক সঙ্গে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিল শেষে ডাকসু ক্যাফেটেরিয়া ভবনে সমাবেশ করে তারা।

বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের (গণসংহতি) সভাপতি গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘শাবি শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলন ধামাচাপা দিতে হল ও ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ভিসির অপসারণের দাবি মেনে না নেয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’

শাবিতে হামলা: ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ
শাবি ভিসির অপসারণ দাবিতে ঢাবিতে সোমবার বিক্ষোভ করেছে বামপন্থি বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন। ছবি: নিউজবাংলা

ছাত্র ফেডারেশনের (একাংশের) সভাপতি মিতু সরকার বলেন, ‘শাবি প্রশাসন ছাত্রদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানোর জন্য পুলিশ ডেকে এনেছে। হামলার পরও শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের মাঠ ছেড়ে যায়নি। আমরা শাবি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানাই।’

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সহ-সভাপতি সাইদুল হক নিশান,পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা দীপন চাকমা ও ছাত্র ইউনিয়নের সহ-সভাপতি জহর লাল রায়।

এর আগে একই দাবিতে রাজু ভাস্কর্যের সামনে প্রগতিশীল ছাত্র জোটের ব্যানারে আলাদা মানববন্ধন করে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট।

সেখানে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স বলেন, ‘শাবি উপাচার্যকে উদ্ধারের নামে অ্যাকাডেমিক ভবনে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর শত শত রাউন্ড টিয়ারশেল, রাবার বুলেট, সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়েছে। ৫০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে একটি ন্যক্কারজনক উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে।’

শাবি শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে রাজু ভাস্কর্যের সামনে মানববন্ধন করেছে ছাত্র ইউনিয়ন।

ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক দীপক শীল বলেন, ‘শাবিতে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির আন্দোলনে ছাত্রলীগ হামলা করেছে। পুলিশ ডেকে যেভাবে বেপোয়ারা লাঠিচার্জ করা হয়েছে তা অত্যন্ত লজ্জার। আমরা অবিলম্বে এর বিচার দাবি করছি।

‘সব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চিত্র এটি। যেখানেই সুষ্ঠু আন্দোলন হয়েছে, সেখানেই সরকারের পেটোয়া বাহিনী ব্যবহার করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়ার চেষ্টা হয়েছে। এই সিস্টেম ভেঙে দিতে হবে।’

ছাত্র অধিকারের আলটিমেটাম

শাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সোমবার সন্ধ্যায় তারা ভিসি ফরিদ উদ্দিনের কুশপুতুল দাহ শেষে এ ঘোষণা দেন।

এ সময় ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভিসি ফরিদ উদ্দিনকে পদত্যাগ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে। অন্যথায় ঢাবি, চবি ও রাবিতে ফুঁসে ওঠা শিক্ষার্থীদের নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে।’

ইয়ামিন বলেন, ‘যে ভিসি শিক্ষার্থীদের ওপর এ ধরনের হামলা ঘটাতে পারেন সেই ভিসি কখনো শিক্ষার্থীবান্ধব নন। আমরা এই ভিসির পদত্যাগ দাবি করছি। তার যদি ন্যূনতম আত্মসম্মানবোধ থেকে থাকে তাহলে তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন বলে আমাদের বিশ্বাস।’

ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি আসিফ মাহমুদ বলেন, শাবিতে হামলায় আজ সারাদেশে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে প্রতিবাদের আগুন জ্বলে উঠছে, সে আগুনের উত্তাপ থেকে কোনোভাবেই সাস্টের ভিসিকে রক্ষা করা যাবে না। তাই যত দ্রুত সম্ভব সাস্টের ভিসি ফরিদ উদ্দিনকে অব্যাহতি দিন। অন্যথায় সারাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা চুপ করে বসে থাকবে না।’

ঢাবির ঘৃণাস্তম্ভে শাবি ভিসির কুশপুতুল

রাজাকারদের প্রতি ঘৃণা প্রদর্শনের লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) নির্মিত ঘৃণাস্তম্ভে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের কুশপুতুল টানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (বিসিএল)।

সোমবার সংগঠনটির সভাপতি গৌতম চন্দ্র শীলের নেতৃত্বে ডাকসু ভবনের পাশে ঘৃণাস্তম্ভে এই কুশপুতুল রাখা হয়।

কুশপুতুলে শাবি উপাচার্যের কোনো অবয়ব না থাকলেও সেখানে অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ লেখা আছে। বিসিএল নেতারা সেখানে এক জোড়া জুতাও ঝুলিয়ে দেন।

কুশপুতুলটিতে লেখা হয়, ‘শাবিতে যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ লেলিয়ে দিয়ে নির্মম হামলার হোতা ভিসি ফরিদের পদত্যাগ দাবি করছি ও এহেন জঘন্য আচরণে তার প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করছি।’

শাবিতে হামলা: ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ
ঢাবির রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সোমবার সন্ধ্যায় শাবি ভিসি ফরিদ উদ্দিনের কুশপুতুল দাহ করেন ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা। ছবি: নিউজবাংলা

কুশপুতুল স্থাপন শেষে বিসিএল সভাপতি গৌতম চন্দ্র শীল বলেন, ‘শাবিতে যৌক্তিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যে নির্মম ও পৈশাচিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, তা দুঃখজনক। এই ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অযোগ্যতা ও শিক্ষার্থীবিমুখ আচরণের পরিচায়ক।’

কুশপুতল স্থাপনের সময় বিসিএল সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি নাঈম হাসান হৃদয়, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমানসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ

শাবির আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে। ভিসি ফরিদ উদ্দিনের নির্দেশে এই হামলা হয়েছে- এমন অভিযোগ তুলে তারা এ ঘটনায় বিচার দাবি করেছেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী চত্বরে এই কর্মসূচি হয়।

সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মেহেদী হাসান বলেন, ‘শাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহায়তায় ছাত্রলীগ ও পুলিশের হামলা ন্যক্কারজনক। দ্রুত হামলার ভিডিও ফুটেজ দেখে এই হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবি জানাচ্ছি।’

ইতিহাস বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মো. রিফাত বলেন, ‘ভিসির মদদে যখন পুলিশ বাহিনী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়, তখনই বোঝা যায় সেখানকার অবস্থা।’

মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে শাবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে সোমবার দুপুরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এই মানববন্ধন হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সামশাদ নওশীন ব‌লেন, ‘শা‌বিতে শিক্ষার্থীরা যৌ‌ক্তিক দাবিতে আন্দোলন কর‌ছেন। উপাচা‌র্যের নি‌র্দেশে তা‌দের ওপর পু‌লি‌শের হামলা ও গু‌লিবর্ষণ বর্বরো‌চিত কাণ্ড। এই ঘটনার বিচার চাই আমরা, তা না হ‌লে ব‌রিশাল বিশ্ব‌বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও ক‌ঠোর আন্দোলনে নাম‌বেন।’

শাবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে মানববন্ধন করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে মানববন্ধনে তারা শাবির শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার নিন্দা জানান।

তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ভিসির পদত্যাগের দাবি করেন।

শাবিতে পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষের ঘটনার পর রোববার রাতেই বিক্ষোভ করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। প্রতিবাদ চলে সোমবারও।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ৪৯তম ব্যাচের আয়োজনে মানববন্ধন হয়।

ওই ব্যাচের ছাত্র ইমরান হোসেন শুভ বলেন, ‘বাংলাদেশে যতগুলো বিশ্ববিদ্যালয় আছে তার কোনোটাই ছাত্রবান্ধব নয়। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয় যেন ছাত্রবান্ধব হয়। নিজের অধিকার আদায় করতে শিক্ষার্থীদের যেন আর রক্ত ঝরাতে না হয়।’

মানববন্ধনে একাত্মতা জানায় বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ ও সাংস্কৃতিক জোট।

শাবিতে আন্দোলনের সূত্রপাত

শাবির বেগম সিরাজুন্নেসা হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন লিজার পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে আন্দোলনে নামেন ওই হলের ছাত্রীরা। রোববার আন্দোলনের চতুর্থ দিনে তা সহিংসতায় রূপ নেয়।

রোববার বিকেলে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে ধাওয়া দিয়ে অবরুদ্ধ করেন। এর জেরে সন্ধ্যায় আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ হামলা চালায়। এতে রীতিমতো রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ক্যাম্পাস।

রাতে জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা দেন উপাচার্য। সেই সঙ্গে সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে আবাসিক শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

প্রাধ্যক্ষ জাফরিনের কাছে সম্প্রতি শিক্ষার্থীরা কিছু সমস্যার কথা জানান। অভিযোগ, এ বিষয়ে তিনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণ করেছেন। এর প্রতিবাদে জাফরিনের পদত্যাগসহ শুরু হয় তিন দফা দাবিতে আন্দোলন।

আরও পড়ুন:
নীতিমালার আওতায় আসছে ওটিটি প্লাটফর্ম
সেলিমের কনটেন্টে কাজ করছেন যারা
ঈদে আসছে মিথ্যা ও ক্ষমতার অন্তর্গত গল্পের ‘পঁচিশ’
এক ক্লিকেই দেখুন ‘ঠান্ডা’
পরীমনির স্বামী তারিক আনাম খান!

শেয়ার করুন

আজীবন বাংলাদেশের অলিখিত রাষ্ট্রদূত থাকব: মিলার

আজীবন বাংলাদেশের অলিখিত রাষ্ট্রদূত থাকব: মিলার

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত রবার্ট আর্ল মিলার। ফাইল ছবি

সোমবার এক বিদায়ী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতি এই ভালোবাসার কথা জানান বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত রবার্ট আর্ল মিলার।

স্বেচ্ছায় আন-অফিশিয়ালি আজীবন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করে যাবেন ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত রবার্ট আর্ল মিলার।

সোমবার এক বিদায়ী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতি এই ভালোবাসার কথা জানান রাষ্ট্রদূত মিলার। আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

বিদায়ী অনুষ্ঠানে মিলার সম্ভব হলে আবারও রাষ্ট্রদূত হয়ে বাংলাদেশে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি এটাও জানান, সরকারি চাকরি থেকে অবসরে চলে যাওয়ায় তা আর সম্ভব নয়।

তবে দ্বিতীয় বার এ দেশের রাষ্ট্রদূত হওয়ার সুযোগ না থাকলেও আন-অফিশিয়ালি (অলিখিতভাবে) এ দেশের রাষ্ট্রদূত হয়ে সারা জীবন কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

রাষ্ট্রদূত হিসেবে বাংলাদেশে তিন বছরের বেশি সময় দায়িত্ব পালন শেষে এ মাসেই ঢাকা ছাড়ছেন আর্ল মিলার। ইতিমধ্যে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করতে শুরু করেছেন তিনি। ২০১৮ সালের ১৮ নভেম্বর ঢাকায় রাষ্ট্রদূত হিসেবে যোগ দেন তিনি। তার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিষয়ক কূটনীতিক পিটার হার্স। তিনি ঢাকায় আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

মিলার বলেন, ‘আমার চাকরি জীবনের এই শেষ অ্যাসাইনমেন্টটি ছিল সম্মানের। গত তিন বছর ধরে এ দেশে কাজ করতে পারা আমার জন্য অনেক সম্মানের। দারুণ স্মৃতি নিয়ে দেশে ফিরছি।

'আমি এবং আমার পরিবারের প্রতি এ দেশের মানুষের ভালোবাসায় আমি সম্মানিত, কৃতজ্ঞ।’

ঢাকার প্রতি তার পরিবারের ভালোবাসার কথা জানিয়ে মিলার বলেন, 'দুই মাস আগে ঢাকায় আসা তার ছেলে আলেকজান্ডার এন্ড্রো ঢাকা ছাড়ছে না। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিতে (ডব্লিউএফপি) সে কাজ নিয়েছে। আরও এক বছর ঢাকায় থাকবে সে।

অ্যামচেম সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহম্মেদ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। সংগঠনের সাবেক সভাপতি আফতাব-উল-ইসলাম বলেন, আর্ল মিলারের দায়িত্বকালে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নত হয়েছে। বাণিজ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন বিরোধ নিষ্পত্তি করেছেন তিনি। সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যকার রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানেও ভূমিকা রাখতে নতুন রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। অবশ্য এ বিষয়ে বক্তব্যে কোনো কথা বলেননি আর্ল মিলার।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে অ্যামচেমের সাবেক দুই সভাপতি নুরুল ইসলাম এবং ফরেস্ট কুকসন বক্তব্য দেন।

আরও পড়ুন:
নীতিমালার আওতায় আসছে ওটিটি প্লাটফর্ম
সেলিমের কনটেন্টে কাজ করছেন যারা
ঈদে আসছে মিথ্যা ও ক্ষমতার অন্তর্গত গল্পের ‘পঁচিশ’
এক ক্লিকেই দেখুন ‘ঠান্ডা’
পরীমনির স্বামী তারিক আনাম খান!

শেয়ার করুন

অভিনেত্রী শিমুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার

অভিনেত্রী শিমুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার

চিত্রনায়িকা রাইমা ইসলাম শিমু। ফাইল ছবি

১৯৯৮ সালে কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘বর্তমান’ সিনেমা দিয়ে রুপালি পর্দায় শিমুর অভিষেক হয়। পরে সিনেমার পাশাপাশি অসংখ্য নাটকেও অভিনয় করেছেন।

কেরানীগঞ্জ থেকে চিত্রনায়িকা রাইমা ইসলাম শিমুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ৩৫ বছর বয়সী এই অভিনেত্রীর মরদেহ এখন ঢাকায় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালে মর্গে রাখা হয়েছে।

প্রথমে অজ্ঞাত থাকলেও হাতের আঙ্গুলের ছাপ ও পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

সোমবার দিবাগত রাতে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি আবু সালাম মিয়া এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘সোমবার দুপুরের দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে স্বজনরা এসে তাকে শনাক্ত করেছেন। প্রাথমিকভাবে এটিকে হত্যাকাণ্ড মনে হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে কিভাবে তার মৃত্যু হয়েছে।’

শিমু ছিলেন রাজধানীর গ্রিনরোডের বাসিন্দা। কলাবাগান থানা পুলিশ জানিয়েছে, রোববার অভিনেত্রী শিমুর পরিবার একটি নিখোঁজ সাধারণ ডায়েরি করেন। মরদেহ উদ্ধারের পর অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়।

শিল্পী সমিতি কর্তৃক ১৮৪ জন ভোটাধিকার হারানো শিল্পীর মধ্যে শিমুও ছিলেন। ভোটাধিকার ফিরে পেতে চলমান আন্দোলনের সোচ্ছার ছিলেন তিনি।

১৯৯৮ সালে কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘বর্তমান’ সিনেমা দিয়ে রুপালি পর্দায় শিমুর অভিষেক হয়। পরে সিনেমার পাশাপাশি অসংখ্য নাটকেও অভিনয় করেছেন।

সম্প্রতি ফ্যামিলি ক্রাইসিস নামে একটি ধারাবাহিক নাটকে কাজ করেছেন তিনি।

মরদেহ উদ্ধার বিষয়ে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান সোমবার মধ্যরাতে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাতে শিমুর ভাই আমাকে ফোন করেছিলেন। বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। শিমু চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সহযোগী সদস্য। দীর্ঘ সময় তাকে সিনেমার অভিনয়ে দেখা যায়নি।’

জায়েদ এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার দাবি করেন।

আরও পড়ুন:
নীতিমালার আওতায় আসছে ওটিটি প্লাটফর্ম
সেলিমের কনটেন্টে কাজ করছেন যারা
ঈদে আসছে মিথ্যা ও ক্ষমতার অন্তর্গত গল্পের ‘পঁচিশ’
এক ক্লিকেই দেখুন ‘ঠান্ডা’
পরীমনির স্বামী তারিক আনাম খান!

শেয়ার করুন

অবশেষে সাকিবকে যুক্ত করে লাইসেন্স পাচ্ছে পিপলস ব্যাংক

অবশেষে সাকিবকে যুক্ত করে লাইসেন্স পাচ্ছে পিপলস ব্যাংক

গত ২১ ডিসেম্বর পিপলস ব্যাংকের বিষয়ে আলোচনার জন্য গভর্নর ফজলে কবিরের সঙ্গে দেখা করেন সাবিক আল হাসান। ছবি: সংগৃহীত

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় পিপলস ব্যাংকের এলওআইর মেয়াদ আরও বাড়ানোর আবেদন উত্থাপনের কথা রয়েছে। গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে অনুমতি পেলে সাকিবের বদৌলতেই দেশে আরও একটি ব্যাংকের যাত্রা শুরু হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সম্মতিপত্র দেয়ার তিন বছরেও চূড়ান্ত লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি প্রস্তাবিত পিপলস ব্যাংক।

কয়েক দফা সম্মতিপত্রের (লেটার অব ইনটেন্ট বা এলওআই) মেয়াদ বাড়ানোর পর সবশেষ গত বছরের ডিসেম্বরে তা শেষ হয়।

এখন নতুন করে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ও তার মা শিরিন আক্তারকে যুক্ত করার মাধ্যমে এলওআইর মেয়াদ আরও বাড়ানোর আবেদন করেছে ব্যাংকটি।

আগামী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় পিপলস ব্যাংকের এলওআইর মেয়াদ আরও বাড়ানোর আবেদন উত্থাপনের কথা রয়েছে। গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে অনুমতি পেলে সাকিবের বদৌলতেই দেশে আরও একটি ব্যাংকের যাত্রা শুরু হবে।

আর অনুমতি না মিললে প্রস্তাবিত ব্যাংকটির এলওআই বাতিল বলে গণ্য হবে।

জানা যায়, টাকার অভাবে কার্যক্রম শুরু করতে পারছিল না পিপলস ব্যাংক। জোগাড় হচ্ছিল না পেইড আপ ক্যাপিটালের (পরিশোধিত মূলধন) ৫০০ কোটি টাকা। তাই বাংলাদেশ ব্যাংকের চূড়ান্ত লাইওেসন্সও পাচ্ছে না ব্যাংকটি। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চূড়ান্ত লাইসেন্স পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা পিপলস ব্যাংকের দুটি পরিচালক পদের মালিকানায় আসছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের পোস্টার বয়। ব্যাংকটির মালিকানায় আসছেন সাকিব আল হাসান এবং তার মা শিরিন আক্তার।

ফলে এবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক পিপলস ব্যাংকের চূড়ান্ত অনুমোদন দিতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

এলওআই’র মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য প্রস্তাবিত পিপলস ব্যাংকের মূল উদ্যোক্তা এম এ কাশেম সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করেছেন। এর আগে গত ২১ ডিসেম্বর তিনি ক্রিকেটার সাবিক আল হাসানকে নিয়ে গভর্নর ফজলে কবিরের সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে সাকিব আল হাসান ও তার মা শিরিন আক্তারকে ব্যাংকটির শেয়ারহোল্ডার হিসেবে যুক্ত করার বিষয়টি আলোচনায় আসে। ব্যাংকটিতে সাকিব মোট ২৫ কোটি টাকার মূলধন সরবরাহ করবেন বলে জানা গেছে।

পিপলস ব্যাংকের প্রস্তাবিত চেয়ারম্যান ও প্রধান উদ্যোক্তা এম এ কাশেম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে একটি ব্যাংক পরিচালনার সুযোগ দিয়েছেন। তাই দেরি হলেও আমরা দেশবাসীর কাছে একটি ভালো ব্যাংক উপহার দিতে চাই। কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির কোনো ইচ্ছা আমাদের নেই। পিপলস ব্যাংকের মালিকানায় সাকিব আল হাসান ও তার মা যুক্ত হচ্ছেন। এরই মধ্যে আমরা তাদের ফাইল বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিয়েছি। সাকিবের মতো একজন তারকাকে উদ্যোক্তা হিসেবে পাওয়া আমাদের জন্য গৌরবের।’

তিনি বলেন, ‘পিপলস ব্যাংকের লাইসেন্সের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধন আমরা সংগ্রহ করতে পেরেছি। আমাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। বাংলাদেশ ব্যাংকের চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই শিগগিরই পিপলস ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু হবে।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রস্তাবিত পিপলস ব্যাংকের এলওআই’র মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে। এ বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে পরবর্তী করণীয় নিয়ে। তাছাড়া সাকিব ও তার মায়ের পরিচালক হওয়ার বিষয়টিও একই সঙ্গে বিবেচনাধীন রয়েছে।’

২০১৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক থেকে নতুন করে তিনটি ব্যাংককে এলওআই দেয়ার অনুমতি দেয়া হয়। তিন ব্যাংকের মধ্যে বেঙ্গল গ্রুপের মালিকানার বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক বেশ আগেই চূড়ান্ত লাইসেন্স নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছে। আর আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের দ্য সিটিজেন ব্যাংক চূড়ান্ত লাইসেন্স পেয়েছে।

তবে শর্ত পূরণ করতে না পারা ও বিভিন্ন বিতর্কের কারণে পিপলস ব্যাংক এখনও লাইসেন্স পায়নি।

দেশে বর্তমানে বাণিজ্যিক ব্যাংক রয়েছে ৬১টি। এর মধ্যে সরকারি ও বিদেশি মালিকানায় ৯টি করে ১৮ ব্যাংক রয়েছে। বাকি ৪৩টি বেসরকারি মালিকানায়।

আরও পড়ুন:
নীতিমালার আওতায় আসছে ওটিটি প্লাটফর্ম
সেলিমের কনটেন্টে কাজ করছেন যারা
ঈদে আসছে মিথ্যা ও ক্ষমতার অন্তর্গত গল্পের ‘পঁচিশ’
এক ক্লিকেই দেখুন ‘ঠান্ডা’
পরীমনির স্বামী তারিক আনাম খান!

শেয়ার করুন